চৌগাছায় এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্কের মাঠ দিবস 

প্রতিবেদন:

·

, ,

চৌগাছা প্রতিনিধি

যশোরের চৌগাছায় এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের আয়োজনে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ১৫ জুন সোমবার বিকেলে উপজেলার মাড়ুয়া গ্রামে এই মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে নিরাপদ ও পুষ্টিকর ধান উৎপাদনের জন্য থ্রি এফ ফোর ডি প্লাস এম ডি পদ্ধতিতে ধান চাষ ও আর্সেনিকের মারাত্মক ক্ষতি সম্পর্কে স্বচেতন করা হয়।
অনুষ্ঠানে এলাকার শতাধিক প্রান্তিক জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন। প্রধান বক্তার বক্তৃতা করেন প্রকল্পের গবেষক টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. তাকেহিরো কামিয়া।

অনুষ্ঠানে প্রকল্পের গবেষক টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. তাকেহিরো কামিয়া বলেন, পানীয় জল থেকে শরীরে আর্সেনিক আসে ১৩% কিন্তু রান্না করা ভাত থেকে আর্সেনিক আসে ৫৬%।

তিনি আরও বলেন, আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত একটি পরিবার ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানি পান করলেও আর্সেনিকজনিত গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা লক্ষ্য করা গেছে। এর কারণ হলো তারা যে চাল দৈনন্দিন খাবার হিসেবে ব্যবহার করে, তা আর্সেনিকযুক্ত সেচের পানিতে উৎপাদিত হয়েছে। ভাত বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য হওয়ায়, ভাতের মাধ্যমেও শরীরে আর্সেনিক সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, আর্সেনিক যুক্ত পানি দিয়ে ধান উৎপাদ করলে সেই ধানেও আর্সেনিক থাকবে। আর্সেনিক যুক্ত পানি দিয়ে (3F4D+MD) থ্রিএফ ফোর ডি পদ্ধতিতে সেচ কাজ চালিয়ে উৎপাদিত খাদ্য শস্যে আর্সেনিকের মাত্রা কমানো সম্ভব।

থ্রিএফফোরডি (3F4D+MD) হলো ধানের জমিতে পানি সাশ্রয়ের একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব সেচ পদ্ধতি, যার পূর্ণরূপ হলো “তিন দিন ভেজানো ও চার দিন শুকনো” (3 Days Flooded and 4 Days Dry)|

এই পদ্ধতিতে ধানক্ষেতে একটানা পানি জমিয়ে না রেখে পর্যায় ক্রমে ৩ দিন ভেজানো এবং ৪ দিন শুকনো রাখা হয় যে কারনে মাটিতে ক্রমাগত জলাবদ্ধতা না থাকায় চালে অজৈব আর্সেনিকের মাত্রা প্রায় ৪০% পর্যন্ত কমে যায়।
তিনি বলেন, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এতে ৬৫% থেকে ৮০% পর্যন্ত সেচের পানি কম লাগে, যা কৃষকের উৎপাদন খরচ ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমায়। অন্যদিকে পানি কম লাগলেও ধানের ফলন ১৩ % বৃদ্ধি পায়।
এসিয়া অর্সেনিক নেটওয়র্কের মাঠ সমন্বয়ক আবু হাসান বলেন, চৌগাছা উপজেলার কৃষিসমৃদ্ধ এ গ্রামে গত দুই দশকে আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানি ঘটেছে ৩০ জনের। অঙ্গহানি হয়েছে অনেকের। এ রোগে এখনো আক্রান্ত গ্রামটির বহু মানুষ। এ পরিস্থিতিতে খাওয়ার পানির মাধ্যমে আর্সেনিক সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও সেচের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে ধানসহ অন্যান্য ফসলেও। মাড়ুয়া গ্রামের মানুষের মধ্যে আর্সেনিক আক্রান্তের সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্য থ্রিএফফোরডি (3F4D+MD) পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
মাঠ দিবসে বিনামূল্য এলাকার টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ