ফরিদপুরের হাট-বাজারে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কুমড়ো ফুল। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরা ক্ষেত থেকে তাজা ফুল তুলে নিয়ে আসছেন বাজারে। প্রতি পিস ফুল বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে। পাশাপাশি কুমড়োও বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০–৬০ টাকায়। ফলে একই গাছ থেকে সবজি ও ফুল—দুইভাবেই আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে কৃষক পরিবারের জন্য।
কুমড়ো ফুল সাধারণত উষ্ণ ও অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো হয়। বাংলাদেশে শীতের শেষভাগ থেকে গ্রীষ্ম ও বর্ষার শুরুর দিক পর্যন্ত কুমড়োর ফুলের উৎপাদন ভালো দেখা যায়।
কুমড়ো ফুলের স্থায়িত্ব কম হলেও এর চাহিদা বেশি। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ফুল সতেজ থাকে, আর এই সময়েই বাজারজাত করলে ভালো দাম পাওয়া যায়। শুধু আয়ের উৎস নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ এই ফুলে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্য আঁশ। গ্রামীণ রান্নায় ভাজি, বড়া কিংবা চচ্চড়ি—সবখানেই কুমড়ো ফুলের ব্যবহার জনপ্রিয়।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার গ্রামগুলোতে দেখা গেছে—বাড়ির আঙিনা, খেতের আইল কিংবা ফাঁকা জমিতে কুমড়ো চাষ হচ্ছে। কেউ পারিবারিক প্রয়োজন মেটাচ্ছেন, আবার কেউ ফুল বিক্রি করে বাড়তি আয়ের পথ খুলছেন।
স্থানীয় কৃষক হালিম মোল্লা বলেন, “সকালে ফুল তুলে বাজারে নিয়ে আসি। এখন প্রতি ফুল ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অল্প সময়ের শ্রমে কিছু বাড়তি টাকা পাওয়া যায়, যা সংসারের কাজে বেশ উপকার করে।” আরেক বিক্রেতা বিল্লাহ সেক জানান, “একই গাছ থেকে কুমড়ো বিক্রি হয়, আবার ফুলও বিক্রি করা যায়। তাই একই জমি থেকে দ্বিগুণ আয় হচ্ছে।”
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী মনে করেন, আগে কুমড়ো শুধু সবজি হিসেবে উৎপাদন করা হলেও এখন ফুল বিক্রি করে কৃষকেরা বাড়তি আয় করছেন। তার মতে, এটি ছোট হলেও কার্যকর একটি আয়ের উৎস, যা দিন দিন গ্রামীণ পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
কুমড়ো ফুলের বাজারজাতকরণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। কম খরচে চাষ, দ্রুত বিক্রি এবং ভালো দাম—সব মিলিয়ে কুমড়ো ফুল এখন কৃষকের কাছে শুধু রান্নার উপকরণ নয়, বরং আয়ের একটি কার্যকর মাধ্যম।
