ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং সদস্য (মেম্বার) পদে এসএসসি সনদের মূল কপি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া। নির্বাচন কমিশন এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপন জারি করেনি।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবের বরাতে একটি দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ’ শিরোনামে একটি কথিত পত্রিকার কাটিংও প্রচার করা হয়, যা বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে তোলে।
‘Md Mohiuddin’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২৮ জুলাই প্রকাশিত একটি পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টটিতে হাজারো প্রতিক্রিয়া, শতাধিক মন্তব্য ও শেয়ার দেখা যায়। অনেক ব্যবহারকারী দাবিটিকে সমর্থন করলেও অনেকে এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের এমন কোনো সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশিত হয়নি। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও ইউপি চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রার্থিতার জন্য এসএসসি বা এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক করার কোনো প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনা নেই।
এছাড়া ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন পর্যালোচনায়ও এমন কোনো বিধান পাওয়া যায়নি। আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী, ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।
তবে গত ২২ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য অন্তত স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না—এ মর্মে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত স্থানীয় সরকারসচিব, আইনসচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দিতে নির্দেশ দেন।
রিটকারীদের দাবি, ইউপি চেয়ারম্যানরা গ্রাম আদালত আইনের অধীনে বিচারিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। তাই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, ইউপি চেয়ারম্যান পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে এখনো নির্বাচন কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। হাইকোর্টের রুল, বিদ্যমান আইন, পার্শ্ববর্তী দেশের আইন এবং আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বর্তমানে কার্যকর আইন অনুযায়ী ইউপি চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি বা স্নাতক পাস এবং সদস্য পদে এসএসসি সনদের মূল কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ফলে সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নামে প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
