মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তপন হত্যা মামলার পলাতক আসামি মন্টু শাহকে গ্রেফতার করেছে গাংনী থানা পুলিশ।
গাংনীর ভবানিপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম একই উপজেলার করমদি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতরাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
মন্টু শাহ গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামের পুরাতনপাড়া এলাকার ফজল আলীর ছেলে।
আজ রবিবার (২১ জুন) সকাল ১১ টার দিকে তাকে আদালতের মাধ্যমে মেহেরপুর জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাদ্দিদ মোর্শেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত বছরের ২০ ডিসেম্বর গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা ও সাহেবনগর মাঠের মধ্যে একটি পেঁপে বাগান থেকে তপন হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ৷
ওই ঘটনায় তপনের স্ত্রী আশিকা ইয়াসমিন রুপা বাদি হয়ে গাংনী থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন৷ যার মামলা নং ২২, তারিখ ২২/১২/২০২৫ ইং, ধারা ৩০২/৩৪।
মামলায় আসামি হিসেবে সাতজনকে সাসপেক্ট করেন পুলিশ। পুলিশের সেই তালিকার ৬ নং আসামি সে।
ওসি মোহাদ্দিদ মোর্শেদ আরও জানান,
মামলার পর থেকেই মিন্টু শাহসহ অন্যান্য আসামীরা পলাতক ছিল৷ গ্রেফতারকৃত মন্টুকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগার প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সারাদেশ
-

গাংনীতে তপন হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার
-

নড়াইলে ১৪৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান
মেধাবৃত্তি বাচ্চাদের মধ্যে পড়ালেখার আগ্রহ সৃষ্টি করে, তারা চৌকস হয়-অতিরিক্ত আইজিপি জিল্লুর রহমান
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলে ১৪৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন ঐক্য পরিষদের আয়োজনে শনিবার (২০ জুন) দুপুরে শহরের রূপগঞ্জ এলাকায় বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান।

নড়াইল পুলিশ লাইন্স স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন-নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ হায়দার আলী দেওয়ান, ব্যবসায়ী সৈয়দ আহাদ আলী, হলি চাইল্ড কেয়ার হোম প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ আসলাম খানসহ অনেকে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন-নাসমুস সাকিব ব্রাইট ও প্রবীর চক্রবর্তী।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান বলেন, বেসরকারি পর্যায়ে এই মেধাবৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান একটি ভালো উদ্যোগ। বৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকলে বাচ্চাদের মধ্যে পড়ালেখার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এতে মা-বাবার মধ্যেও আগ্রহ সৃষ্টি হয়। তারা চৌকস হয়। এই বৃত্তি প্রতিযোগিতায় নড়াইল জেলার ১৯টি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ৪৪৮ জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করেছে বলে জেনেছি। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৫৬ জন। সাধারণ গ্রেডে ৮৭ জন বৃত্তি পেয়েছে। দুই গ্রেড মিলে ১৪৩ জন বৃত্তি পেয়েছে। যারা বৃত্তি পায়নি তারা যে খারাপ এটা বলা যাবে না। কারণ, তারাও চেষ্টা করেছে। এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।
-

জেলা বিএনপি সভাপতির নাম ভাঙিয়ে জমি দখল; সংবাদ সম্মেলন
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে জেলা বিএনপির সভাপতির নাম ভাঙিয়ে জমি দখল, চাঁদাবাজি, বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে সাজ্জাদ হোসেন পলাশের বিরুদ্ধে। পলাশ এর আগেও সড়কে মাইক্রোবাস চাপায় তিনজন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি এবং এলাকায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন স্থানীয় বিএনপি কর্মী মজিদুল ইসলাম ও তার ভাই মহিরুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে তারা অভিযোগ করেন, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের নাম ব্যবহার করে সাজ্জাদ হোসেন পলাশ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল, চাঁদা দাবি, হামলা-মামলার হুমকি এবং সালিশের নামে অর্থ আদায়ের মতো বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে জেলা জামায়াতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমানের কাছ থেকে সাড়ে ১৬ শতক জমি ক্রয় করে সেখানে বসতঘর নির্মাণ এবং বিভিন্ন গাছপালা রোপণ করেন তারা। জমির বৈধ কাগজপত্র ও রেকর্ড থাকার পরও সাজ্জাদ হোসেন পলাশ তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিপক্ষ মকলেছুর রহমান, আবুল কালাম ও তাদের সহযোগীদের নিয়ে ওই জমিতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তারা। এতে তাদের প্রায় পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।
এ ঘটনায় মেহেরপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা করার পর তা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। বর্তমানে তারা ও তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাজ্জাদ হোসেন পলাশ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জেলা বিএনপির সভাপতির নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, “কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অন্যায় কাজ করলে তার দায় দল নেবে না; দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।”
এদিকে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ভাংচুর লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে গাংনী থানা পুলিশ। মামলার শীর্ষ আসামি ওই গ্রামের আবু তালেবের ছেলে মকলেছুর রহমান ও একই গ্রামের ছ্যান ভিশ্বাসের ছেলে আবুল কালাম। তারা দুজনেই জেল হাজতে রয়েছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
মুহাদ্দিদ মোর্শেদ বলেন, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে উভয় পক্ষকে আইন মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। -

নড়াইলে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সমাবেশ, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, গাছের চারা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
নড়াইল প্রতিনিধি
সবার হাতে হাতে গাছের চারা ও শিক্ষা উপকরণ। মুখে নির্মল হাসি। আনন্দ-আবেগে ভরপুর পুরো স্কুল আঙিনা। পড়ন্ত বিকেলে সুন্দর প্রকৃতির মাঝে এ এক অন্যরকম আনন্দ উৎসব। এ যেন এক টকুরা ‘সবুজ বাংলাদেশ’। স্কুল আঙিনায় সবুজ বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। এ দৃশ্যের দেখা মেলে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বড়দিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় চত্বরে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে ওই বিদ্যালয় মিলনায়তনে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ, ফুটবল, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা এবং গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষে বুধবার বিকেলে কালিয়া উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) উদ্যোগে এসব অনুষ্ঠানে ওই বিদ্যালয়ের ২৫০ জন ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন।
ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে মুগ্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এই অনুষ্ঠানে ২৫০ জন ছাত্রীর মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ২৫০টি গাছের চারা, বাল্যবিয়ে রোধে আলোচনা, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, সঞ্চয়কৃত টাকার চেক প্রদান, খাতা, কলম, ইংরেজি অভিধানসহ শিক্ষা উপকরণ পেয়ে মহাখুশি শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেহরীন চৌধুরী বলে, গাছের চারা পেয়ে যেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার পেয়েছি। ডিসি স্যার ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) কর্মকর্তারা আমাদের সুন্দর উপহার দিয়েছেন।
দশম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী আফরিন রহমান মৌ বলে, ডিসি স্যার অনেক মূল্যবান কথা বলেছেন। ওনার (ডিসি) কথা হৃদয়ে এতোটা গেঁথে গেছে যে, অন্যায়ের পথে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কালিয়া উপজেলা কর্মকর্তা সুজন কুমার চন্দ্র বলেন, শিক্ষা জীবন থেকেই সঞ্চয়ের মানসিকতা গড়ে তুলতে ‘সঞ্চয় সেবা’, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও সচেনতামূলক প্রশিক্ষণসহ নানা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছি। ভালো সাড়া পেয়েছি।

বিআরডিবি নড়াইলের উপ-পরিচালক গোলাম রসুল জানান, একজন শিক্ষার্থী যদি প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে বছরে ২ হাজার ৪০০ টাকা সঞ্চয় জমা করে তাহলে সরকারি প্রণোদনা পাবে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। ফলে বছর শেষে একজন শিক্ষার্থী সঞ্চয় ও প্রণোদনাসহ পাচ্ছে ৭ হাজার ২০০ টাকা। এতে তার পড়ালেখার খরচ চালিয়ে নেয়াসহ আর্থিক সুবিধা হচ্ছে। নড়াইলে ছয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দরিদ্র মেধাবী ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী এ প্রকল্পের সুফল পাচ্ছে। তবে, ১৮ বছরের আগে অর্থাৎ বাল্যবিয়ে হলে ওই শিক্ষার্থী সরকারি প্রণোদনার টাকা পাবে না। শুধু তার জমাকৃত টাকা পাবে। এর প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাল্যবিয়ে রোধ করে ছাত্রীদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দেয়া।
সার্থকি দাস বলেন, আমি এখন উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছি। ডিসি ও বিআরডিবি স্যারদের হাত থেকে আজ ২০ হাজার ৭০০ টাকা চেক পেয়েছি। বড়দিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে সঞ্চয় করে আজ এই টাকা (২০ হাজার ৭০০) পেলাম। আমি খুব আনন্দিত।
এদিকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, একজন সন্তানকে ভালো ভাবে মানুষ করতে এবং পড়ালেখা শেখাতে তার বাবা-মাকে অনেক কষ্ট করতে হয়। বাবা হয়ত রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে অনেক পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করেন। মা সংসারে অনেক কষ্ট করেন। তবু বাবা-মা সন্তানকে পড়ালেখা শেখান। ভালো ভাবে মানুষ করতে চান। তাই বাবা-মাকে সম্মান করতে হবে। পারিবারিক বন্ধন এবং শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ‘ভালো মানুষ’ হতে হবে। তাহলে জীবন সার্থক হবে। দেশ ও জনকল্যাণে কাজ হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, একটি ভালো চিন্তা, আরেকটি ভলো চিন্তার জন্ম দেয়। তাই শিক্ষার্থীসহ সবাইকে সবসময় ভালো চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। পড়ালেখায় মনোযোগী হতে হবে। কোনো ধরণের অন্যায়-অপকর্মকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-কালিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবণী বিশ^াস, কালিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসমা চৌধুরীসহ অনেকে।
-

চুয়াডাঙ্গা জেলার সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ফ্যাক্ট-চেক গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা জেলার সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ফ্যাক্ট-চেক গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের আয়োজনে ও চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সহযোগীতায় পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপন।
প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাশাসক লুৎফুন নাহার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন,চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, সাংবাদকর্মী সরদার আল আমিন, বিপুল আশরাফ, হুসাইন মালিক ও রাজীব হাসান কচি।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণ সাংবাদকর্মীদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখন এমন একটি অবস্হা দাঁড়িয়েছে, আমরা কোনটা বিশ্বাস করবো, কোনটা করবো না তা বুঝতে পারিনা। সে কারনে এই বিষয়গুলো বোঝানোর জন্যই এ প্রশিক্ষণ অনেক গুরুত্ববহন করে’।
-

গাংনীতে আবারও হাতবোমা ও হুমকির চিরকুট উদ্ধার, বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে একটি হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৮টার দিকে গাংনী উপজেলার নওদা মটমুড়া গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে লাল কসটেপে মোড়ানো একটি হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধার করে গাংনী থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে কোনো এক সময় নওদা মটমুড়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের চায়ের দোকানের সামনে বেঞ্চের উপর বোমা ও চিরকুটটি রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে দোকান খুলে পরিষ্কার করার সময় শরিফুল ইসলাম হাতবোমা ও চিরকুটটি দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি উদ্ধার করে নিরাপদে পানি ভর্তি পাত্রে সংরক্ষণ করেন।

উদ্ধার হওয়া চিরকুটে লেখা ছিল, “এই দোকানে বিএনপির কোনো লোক বসবে না। যারা বসবে তাদের সমস্যা আছে। এই গ্রামে বিএনপির নামগন্ধ রাখব না।”
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজাদ্দিদ মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খুঁজে বের করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
এর আগে চলতি মাসে মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় অন্তত ২৫/৩০ টি স্থানে হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এছাড়া গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের বিএনপি নেতা মুকুল হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্য গুলি বর্ষণ করে। মুকুল হোসেন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এসব ঘটনায় রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
-

চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স’ এর উদ্যোগে স্বাবলম্বীকরণ কর্মসূচি ও সেলাই মেশিন বিতরণ
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা জেলার সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে সামাজিক সংগঠন ‘চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স’। ১৬ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে ‘স্বাবলম্বীকরণ কর্মসূচি’র আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো: আসলাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারী) রনি বিশ্বাস উপস্থিত থেকে কর্মক্ষম ও অসচ্ছল নারীর হাতে নতুন সিঙ্গার সেলাই মেশিন তুলে দেন। এর মাধ্যমে ওই পরিবারটির জন্য স্থায়ীভাবে জীবিকা নির্বাহ এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের একটি টেকসই পথ তৈরি করে দেওয়া হয়।
সেলাই মেশিন বিতরণকালে চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো: আসলাম হোসেন বলেন, “আমরা শুধু সাময়িক ত্রাণ বা সাহায্য বিতরণে বিশ্বাসী নই; বরং একজন মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই সেলাই মেশিনটি একটি পরিবারের অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।”
সংগঠনের সেক্রেটারী রনি বিশ্বাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, “চুয়াডাঙ্গার পিছিয়ে পড়া মানুষদের কল্যাণে আমাদের এই ধরনের স্বাবলম্বীকরণ ও মানবিক উদ্যোগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। যুবসমাজকে সাথে নিয়ে চুয়াডাঙ্গাকে একটি আদর্শ ও স্বাবলম্বী জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স আরও পাঁচটি বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এগুলো হল ডিবেট ক্লাব, আইটি টিম, ব্লাড সেন্টার, মানষিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন সহ আগামীর নেতৃত্ব তৈরির জন্য লিডারশিপ প্রোগ্রাম।
-

শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩
যশোরের শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন।
গতকাল ১৪ জুন পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে শার্শা থানায় মামলা করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের চান্দুড়িয়া ঘোপ গ্রামের হাসিব আল হাসান (১৯), ছোট বসন্তপুর গ্রামের আব্দুর রহমান ইমন (২৪) ও মেহেদি হাসান টুটুল (২৫)। অপর দুই আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৬) ও ইমন (২৪)। তাঁরা পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১২ জুন দিবাগত রাতে প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হলে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। পরে তাঁকে ধর্ষণ করেন। এ সময় কাউকে না বলতে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
পরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানিয়ে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা নিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
-

গাংনী শহরে পাগলা কুকুরের তাণ্ডব, দেড় ঘণ্টায় ১৪ জন আহত
মেহেরপুরের গাংনী পৌর শহরে একটি পাগলা কুকুরের আক্রমণে শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা পরিষদ গেট এলাকা থেকে শুরু হওয়া কুকুরটির তাণ্ডব বাসস্ট্যান্ড, আমিন মিষ্টির গলি ও রাজলক্ষ্মী থানা মোড়সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুকুরটি হঠাৎ উন্মত্ত আচরণ শুরু করে পথচারীদের ওপর হামলা চালাতে থাকে। যে-ই সামনে পড়েছে, তাকেই ধাওয়া করে কামড়ে দেয়। অল্প সময়ের মধ্যে শহরের একাধিক স্থানে অন্তত ১৪ জন আহত হন। স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দোকান ও বাসাবাড়িতে ছুটে যান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা কলেজ পাড়ার নুহু (৯), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল মজিদ (৬৩), গাংনী উত্তরপাড়ার মাহাবুর রহমান (১২), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফারিয়া আক্তার (১২), চৌগাছা গ্রামের হাজি আব্দুল মান্নান (৭০), পশ্চিম মালসাদহ গ্রামের সাদিয়া (১৬), হারদি গ্রামের কাদব আলী (৫৬), গাংনী বাজারপাড়ার মুকুল মিয়া (৪৫), গাংনী বাগানপাড়ার হাবিবুর রহমান (২২), ধানখোলা গ্রামের রফিক (৫৫), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাফিজুর রহমান (৬০) এবং পূর্ব মালসাদহ গ্রামের হযরত আলী (৫০)সহ আরও কয়েকজন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সামিয়া সুলতানা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কুকুরের কামড়ে আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধে দ্রুত ভ্যাকসিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শহরে ভবঘুরে কুকুরের সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরেই বেড়ে চলেছে। তবে এ ধরনের ভয়াবহ হামলার ঘটনা আগে খুব একটা দেখা যায়নি। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল ভবঘুরে কুকুর নিয়ন্ত্রণে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
-

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি
প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি।
আজ রবিবার (১৪ জুন) ভোর চারটার দিকে দর্শনা-গেঁদে সীমান্তের ৭৬-৭৭ নম্বর মেইন পিলারের কাছ দিয়ে ১১ জনকে পুশইন করে বিএসএফ। এদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী।
ভোরে বিজিবির টহলদল এদেরকে নিয়ে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে রেখে আসে। পরবর্তীতে তারা কোথায় আছে তা জানা যায়নি।
বিজিবি চুয়াডাঙ্গা ৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, পুশইনসহ সীমান্তের অপতৎপরতা রুখে দিতে বিজিবির টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, অপারেশনাল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা ৬ ব্যাটালিয়নের অধীনে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলাজুড়ে ১১৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে।