সুতাকাটা ঘুড়ি খুঁজতে গিয়ে প্রাণ গেলো স্কুলছাত্র হুসাইনের। ঘটনাটি ঘটেছে, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নোয়াগ্রাম দক্ষিণপাড়ার বিলে। হুসাইন ওই গ্রামের সাবু শেখের ছেলে এবং স্থানীয় শাহবাগ ইউনাইটেড একাডেমির সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। এদিকে, ছেলের মৃত্যুর খবরে প্রবাস থেকে ছুটে এসেছেন তার বাবা।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার বিকেলে হুসাইনসহ সমবয়সী চারজন মিলে বাড়ির পাশে ফুটবল খেলছিল। এর মধ্যে হুসাইন স্থানীয় দোকান থেকে চকলেট ও কেক নিয়ে বিলের দিকে ঘুড়ি ওড়াতে যায়। হঠাৎ করে সুতা কেটে গেলে ঘুড়ির পেছনে ছুটতে থাকে হুসাইন। এদিকে, ফুটবল খেলা শেষে হুসাইনের সমবয়সী তিনজন বিলের দিকে শাপলা তুলতে যায়। এ সময় তারা দেখতে পায়, বিলের নরম মাটিতে হুসাইন মাথা উপুড় হয়ে পড়ে আছে। এ দৃশ্য দেখে ভয় ও আতঙ্কে তারা চিৎকার করে আশেপাশের লোকজনকে ডাকার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হুসাইনের মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।
কালিয়া থানার এসআই দিবাকর সরকার জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হুসাইনের গলায় ঘুড়ির সুতা পেচানো ছিল। এছাড়া শরীরে আঘাতের তেমন কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। হুসাইনের মৃত্যুর খবর শুনে তার মালয়েশিয়া প্রবাসী বাবা বাড়িতে এসেছেন। আজ রোববার বিকেলে হুসাইনের দাফন হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে গ্রামবাসীদের অনেকের মন্তব্য, বিকেলবেলা ফাঁকা বিলের মধ্যে ঘুড়ি খুঁজতে যাওয়ার পর হুসাইনকে জি¦নে মেরে ফেলেছে। মাথা মাটির দিকে দিয়ে হুসাইনকে জি¦নে মেরেছে। এ ধরণের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। এ মৃত্যুর ঘটনায় হুসাইনের পরিবার, সহপাঠীসহ গ্রামবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ ব্যাপারে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী জানান, হুসাইনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার থেকে কোনো ধরণের অভিযোগ করা হয়নি।
মেহেরপুরের গাংনীতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের উদ্যোগে শিক্ষক কর্মশালা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) গাংনী উপজেলার চৌগাছা দারুল ইয়াতিম মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন গাংনী উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আবুল হাশেম।
প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক রবিউল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গাংনী উপজেলা আমির মোঃ রবিউল ইসলাম।
বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি আল আমিন ইসলাম (বকুল), সেক্রেটারি মোঃ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাংনী পৌর শাখার আমির আহসানুল হক।
কর্মশালায় বক্তারা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকতার দায়িত্বশীলতা এবং নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার উত্তর শুক্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে প্রথমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন-কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী।
মাদকবিরোধী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ইয়ার আলী মোল্যা, ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার রহমান খান, আব্দুল্লাহ সরদার, এনায়েত মোল্যা, মন্টু শেখ, তারা মিয়া সরদার, ফাহাদ সরদারসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, নড়াইলের শুক্তগ্রামে মাদকের থাবা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই গ্রামের অনেকেই মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত। মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে গ্রামটি। এদের আবার অনেকে চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। শুক্তগ্রাম হয়ে নড়াইলের লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক প্রবেশ করছে। যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। এজন্য পুলিশ প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, মাদক দমনের ব্যাপারে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। তবে মাদক কারবারিদের দমন করতে হলে গ্রামবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক কারবারিদের ব্যাপারে পুলিশকে সঠিক তথ্য দিতে হবে।
তিনি কঠোর হুশিয়ারি করে বলেন, আমাদের কোনো পুলিশ সদস্য মাদক কারবারে জড়িত নেই। তারপরও পুলিশ সদস্যদের ব্যাপারে যদি আপনাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ তাকে, তাহলে আমাকে বা পুলিশ সুপার স্যারকে অবগত করলে; অভিযোগের সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো পুলিশ সদস্য অন্যায়-অপকর্মে জড়িয়ে পড়লে তাদেরকে চাকরি হারাতে হচ্ছে। অনেকের বাড়ি চলে যেতে হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এলাকায় অন্যায়-অপকর্ম বন্ধে অভিভাবকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই প্রতিটি সন্তানকে ভালো ভাবে দেখভাল করতে হবে। সন্ধ্যার পর সন্তান পড়ার টেবিলে আছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্লাস করছে কিনা খোঁজখবর রাখতে হবে। বিলাসিতা না করে সাধারণ ভাবে জীবনযাপন করতে হবে। সুনাগরিক হিসেবে সন্তানদের গড়ে তুলতে হবে।
এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শুক্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কালিয়া-লোহাগড়া সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মাদক কারবারিদের হামলায় আহত শুক্তগ্রামের গোলাম ফারুকের আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
আয়োজকরা জানান, গত ৯ জুন সকাল ৬টার দিকে শুক্তগ্রামের গোলাম ফারুক বাড়ির পাশের মাঠে গরু বাঁধতে গেলে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে ওই গ্রামের আলমগীর সরদার (৫০), মিজান সরদার (৪৫) বিল্লাল সরদার (৪০), মুন্না সরদার (২৫) জিন্নাহ সরদার (২০), সাগর সরদার (২২), জামাল সরদারসহ (৩০) অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে (ফারুক) রক্তাক্ত করে। এ হামলায় ফারুকের বাম হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে।
মাদক বেচাকেনায় বাধা দেয়ায় গোলাম ফারুককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারসহ গ্রামবাসী। ফারুক বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গোলাম ফারুক নিজেই বাদী হয়ে গত ১৪ জুন মামলা দায়ের করেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি।
এ ব্যাপারে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, আসামিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদেরকে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বন্ধুসভার সহযোগিতায় প্রথম আলো ট্রাস্ট শুক্রবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। ’
এতে শিক্ষাবিদ, ক্রীড়াবিদ, রাজনীতিক , নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি ,সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক-ছড়াকার , সুশীল সমাজের প্রতিনিধি , নারী উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
প্রথম আলোর চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি শাহ আলম সনির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা বন্ধুসভার সভাপতি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. দেলোয়ার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. সিদ্দিকুর রহমান , মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক হামিদুল হক মুন্সী , কৃষক জোটের সাধারণ সম্পাদক চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বিশ্বাস , চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ , জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এমএম আলাউদ্দিন , বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক ও নারী উদ্যোক্তা জাহানারা খাতুন ।
প্রথম আলো ট্রাস্টের এই আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করতে অন্যান্যের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি রফিক রহমান, বিশিষ্ট ছড়াকার আহাদ আলী মোল্লা , ক্রীড়া সংগঠক ও সাংবাদিক ইসলাম রকিব , ক্রীড়াবিদ রোকন উদ্দিন , জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তে একের পর এক অবৈধভাবে বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একই সীমান্ত এলাকায় নতুন করে আরও পাঁচজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সীমান্তবাসীর তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে গাংনী উপজেলার ধলা ও সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে পৃথক দুটি ঘটনায় এক নারীসহ পাঁচজনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি জানতে পেরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং পুশ-ইনের তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরে সকাল ৭টার দিকে বিএসএফ ওই পাঁচজনকেই ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, ভারতের নদীয়া জেলার মুরটিয়া থানার রংপুর গ্রামের দিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৩৫ নম্বর মেইন পিলারের ৭এস সাব-পিলারের কাছে এক নারীসহ তিনজনকে শূন্যরেখায় এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি বিজিবিকে জানালে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ সময় ওই তিনজনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় রাখার পর বিএসএফ তাদের আবার ভারতীয় অংশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
একই সময় মুরটিয়া থানার বিজয়নগর সীমান্ত এলাকায় আরও দুইজনকে জড়ো করে সহড়াতলা সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১৪৪ নম্বর মেইন পিলারের ৫এস সাব-পিলার এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। সেখানেও বিজিবি ও স্থানীয়দের কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
জানা গেছে, এদিন পুশ-ইনের চেষ্টা করা পাঁচজনের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন।
এ বিষয়ে ৪৭ বিজিবির কাথুলী কোম্পানি কমান্ডার ওছিকুর রহমান বলেন, “বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হয়নি। সীমান্তে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।”
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার দিবাগত ভোররাতে একই সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে এক নারীসহ সাতজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। সেদিনও বিজিবির বাধার মুখে তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একই সীমান্ত এলাকায় দুই দফায় মোট ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি জুন মাসে গাংনী র সীমান্তে অন্তত চার দফা পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। গত ৬ জুন তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন, ১৯ জুন বুড়িপোতা ইউনিয়নের খালপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৪ জন, ২৫ জুন সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে ৭ জন এবং সর্বশেষ ২৬ জুন ধলা ও সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে আরও ৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রতিটি ঘটনাতেই বিজিবির কঠোর অবস্থান এবং সীমান্তবাসীর প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। মেহেরপুরের গাংনীর সীমান্তে বিএসএফের ধারাবাহিক পুশ-ইনের চেষ্টায় সীমান্তজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হলেও, বিজিবির কঠোর নজরদারি ও সীমান্তবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণে এখন পর্যন্ত প্রতিটি অপচেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তিন মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিলে তিনিও মারা গেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত আশংকাজনক অবস্থায় থাকা সবাই একে একে মারা যান।
নিহতরা হলেন মা শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এ ছাড়া গণপিটুনিতে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারও মারা গেছেন। অন্তর নোয়াখালী সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। তিনি রায়পুরের ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন।
এদিকে ঘটনাস্থলে অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়ার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইট-পাটকেলে পুলিশের ৬-৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহীনুরদের বাড়ি কুমিল্লায় জেলায়। প্রায় ১২-১৪ বছর ধরে রায়পুরে ভাড়া বাসায় থাকেন। দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে আমির হোসেন মাস্টারের বাসায় ভাড়া থাকেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন।
আজ সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত অন্তরকে গণপিটুনি দেয়।
অন্যদিকে, আহত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে চিকিৎসকরা শাহীনুর, তার মেয়ে সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণ করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মেজো মেয়ে ইকরাও বিকেলে মারা যায়।
ঘটনায় অভিযুক্ত অন্তরকে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিলে আশঙ্কা অবস্থায় সদর হাসপাতাল নিলে সেও মারা যায়৷ এদিকে ঘটনাস্থলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সময় উত্তেজিত জনতা ইট-পাটকেল ছুঁড়লে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
শাহীনুরের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মুরাদ বলেন, সিফাতের মা ও ৩ বোনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সকালে সে কাজে আসায় সেও (সিফাত) কিছুই জানতো না। ঘটনাটি জানার পর থেকে সেও আতঙ্কগ্রস্ত। সে কারও সাথে কথা বলার অবস্থাতে নেই।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এরমধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে সেও মারা যায়। এ ছাড়া অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সদর হাসপাতালে সেও মারা গেছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিতরা ইট-পাটকেল ছুঁড়লে আমাদের ৬-৭ জন সদস্য আহত হন।’
বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের বরাতে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, ঘাতক অন্তর তার স্ত্রীসহ প্রায় দেড় বছর ঘটনাস্থলে বাসা ভাড়া থাকতেন। প্রায় ৭-৮ মাস আগে সে বাসা ছেড়ে চলে যায়। হয়তো পূর্বপরিচিত হওয়ায় সকালে অন্তর এ বাসায় আসেন। এরপর সে ঘটনাটি ঘটায়। রাণী নামে এক প্রতিবেশী অন্তরকে ওই বাসায় দেখে এখানে আসার কারণ জানতে চায়ন। তখন অন্তর বলেন, তিনি পানির পাইপ ঠিক করতে এসেছেন। রাণী এটা বিশ্বাস না করে কলাপসিবল গেট আটকে দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের খবর দেয়। তিনি পদক্ষেপটি না নিলে ঘটনাটি হয়তো উদ্ঘাটন করাই সম্ভব হতো না। এরপরও ঘটনাটি তদন্ত চলছে। তবে কী কারণে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে তা বলতে পারেনি পুলিশ।
বাংলাদেশ থেকে অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব নির্মূল, অপুষ্টিজনিত শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতিমূলক সংবাদ সম্মেলন ও ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবা(২৫জুন) বেলা ১২ টায় চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই ওরিয়েন্টেশন সভার আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন জেলাব্যাপী জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন পালিত হতে যাচ্ছে। জেলায় এবার ১লক্ষ ৪৫ হাজার ৮৪৫ জনকে ভিটামিনের প্লাস ক্যাম্পেইন খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ১৭ হাজার ৫৪১ জন শিশুকে ১ টি লাল রঙ্গের ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও ১-৫ বছর বয়সী ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৪ জন শিশুকে নীল রঙ্গের এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৮টি স্থায়ী কেন্দ্র ও ৮৯৬ টি টিকাদান কেন্দ্র থেকে এসব টিকা খাওয়ানো হবে।
এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ। এ সময় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রেজেনটেশন উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওসিএস ডা. সাজিদ হাসান। সভায় চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন উপস্থিত সাংবাদিকদের ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জেলার কোনো শিশু যেন এই ক্যাম্পেইন থেকে বাদ না পড়ে, সে লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা হবে বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারন সম্পাদক শাহ আলম সনিসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।
আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও যন্ত্র সহায়তা প্রদান
গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা:
মেহেরপুরের গাংনীতে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, মাঠ পর্যায়ে কৃষি জ্ঞান সম্প্রসারণ এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) গাংনী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোর অঞ্চল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সঞ্জীব মৃধা, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মেহেরপুর।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষিবিদ শেখ সাজ্জাদ হোসেন, সিনিয়র মনিটরিং অফিসার, ডিএই পার্টনার, যশোর।
অনুষ্ঠানে কৃষকদের কৃষিকাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চারজন কৃষকের মাঝে চারটি ভারমিকম্পোজট সেপারেটর মেশিন বিতরণ করা হয়। এসব যন্ত্র কৃষি উৎপাদন কার্যক্রমকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল, কাজীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম, গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা এবং উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
বক্তারা বলেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব।
অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, ফিল্ড স্কুলের সদস্য ও স্থানীয় কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন।
গাংনী( মেহেরপুর) সংবাদদাতা জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ এবং গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা-২০২৫ উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা পর্যায়ের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে মেহেরপুর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রহীম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী রানী রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও (শিক্ষা ও আইসিটি)
এসময় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ জীবন’-এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের কলেজ রোড ঘুরে জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এখানে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান।
পরে জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুরুতে পবিত্র কুরআন ও গীতা পাঠ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকারি ট্রেজারি ফান্ড এর মাধ্যমে জাতীয় পেনশনের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। অনেকেই মনে করতে পারেন এই টাকা অরক্ষিত কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ড অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে আপনার আমানত গচ্ছিত রাখবেন। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি মানুষেরা ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয় করবেন এবং ৬০ বছর বয়সে গিয়ে সেটি পেনশন আকারে পাবেন। যখন আপনার আর্থিক সাপোর্ট খুবই প্রয়োজন তখন এই পেনশনের টাকাটি আপনাদেরকে দেওয়া হবে। যদি কেউ ৬০ বছরের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন তাহলে তার নমিনিকে গস্তিত টাকার সুদ সমেত ফেরত দেওয়া হবে। আপনারা যারা মাসিক চাঁদা জমা দিবেন তাদের যদি আয়ের কোন ত্রুটি বিচ্যুতি ঘটে তবে চাঁদা ও কমবেশি করা যেতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের গচ্ছিত এই টাকা আপনাদেরকেই ফেরত দেওয়া হবে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এরকম পেনশন ব্যবস্থা চালু আছে। ২০৩০ সালের মধ্যেই আমরা অন্তত চার কোটি মানুষকে এই পেনশন সেবার আওতায় আনতে চাই। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ইতোমধ্যেই ১০০ মিলিয়ন ডলার বা ১২৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আপনাদের শেষ বয়সের অবলম্বন হিসেবে এই পেনশনটি আপনাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা চাইবো প্রত্যেকটি পরিবারে অন্তত একজন করে হলেও এই পেনশন সেবার আওতায় আসুক।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক শারমিন আক্তার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, সিভিল সার্জন ডা হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অর্থ ও প্রশাসন সদস্য শেখ কামরুল হাসান।
বক্তারা বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে একটি সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারের গৃহীত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দুই দিনের এ মেলা।
মেলায় আগত দর্শনার্থীরা সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি নিবন্ধন, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগও থাকবে। জেলা প্রশাসন চুয়াডাঙ্গার পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণকে সর্বজনীন পেনশন মেলায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ৪ টি স্কিম রয়েছে।
মেলায় সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এন আর বি সি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, সমাজসেবা কার্যালয় , মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর , যুব উন্নয়ন, হর্টিকালচার, বিকাশ ও নগদ এর স্টল দেওয়া হয়েছে।
আলোচনা অনুষ্ঠানের মাঝে- মাঝে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।