সারাদেশ

  • লালমোহনে কারেন্ট জাল জব্দ

    লালমোহনে কারেন্ট জাল জব্দ

    ভোলার লালমোহনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ কোটি ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

    বুধবার (৮ জুলাই) রাত ৩টার দিকে লালমোহন কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বদরপুর ধুমকেতু আবাসনসংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানে সন্দেহভাজন তিনটি গুদামে তল্লাশি চালিয়ে ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ১৪২ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

    কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে জালের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    পরে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সমন্বয়ে জব্দ করা কারেন্ট জাল ধ্বংস করা হয়।

    বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. সালমান বিন শওকত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • ধর্ম

    ধর্ম

    মৌলভীবাজার জেলা মডেল মসজিদ উদ্বোধন

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় এর উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান।

    অনুষ্ঠাননে গেস্ট অব অনার ছিলেন চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুমিনুল হক।

    মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মনিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়সাল রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মামুন আল ফারুক, মডেল মসজিদ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মাদ ফেরদৌস-উজ-জামান।

  • আবারও খোলা হলো শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স

    আবারও খোলা হলো শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স

    হযরত শাহ জালাল (রহ.) মাজারের ৭০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু হয়েছে। এবার বাক্সগুলো থেকে ৪ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।

    শনিবার (১১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

    জানা গেছে, বাক্সগুলো থেকে পাওয়া ৪ বস্তার মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে লাল রঙের নোটের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। টাকা গণনার এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। গণনা কার্যক্রমের সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং নবগঠিত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত আছেন।

    এর আগে গত ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম শাহজালালের মাজার পরিদর্শনে যান এবং মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তার উদ্যোগে গত ১৮ জুন নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন ও ঐতিহাসিক তিনটি ডেক সিলগালা করা হয়েছিল। এরপর ২২ জুন প্রথম দফায় ৪ দিনে সংগৃহীত ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা গণনা করে সোনালী ব্যাংকের বিশেষ অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়, যেখানে প্রথমবার ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোটের আধিক্য বেশি ছিল।

    সাবেক জেলা প্রশাসক এরপর মাজারে আনসার সদস্যদের মোতায়েন করেন এবং তখন থেকে আনসার সদস্যরা মাজারের দানবাক্স ও ডেক পাহারায় রয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে মাজারের ডেক ও দানবাক্সে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, প্রথমবার দানবাক্স খোলার পর জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ নিয়ে সিলেটে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয় এবং এর মধ্যেই সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে গত ২৬ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে সরকার। এ কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক কাঠামোর জন্য আধুনিক সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেটের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, মাজারের মতোয়াল্লি পরিবারের দুই সদস্য, মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি। এই কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন জেলা প্রশাসক।

  • ট্রান্সফরমার চুরি মিল মালিককে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

    ট্রান্সফরমার চুরি মিল মালিককে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

    বগুড়ার শিবগঞ্জে রাইস মিলের ট্রান্সফরমার চুরি করতে এসে মিল মালিক মোহাম্মদ আলী সরকারকে (৫০) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার তিন দিনের মাথায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের পুটখোর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৩) এবং একই ইউনিয়নের কাঠগড়া গ্রামের আব্দুল বারিক সাকিদারের ছেলে আব্দুল আলিম (৪০)।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোহাম্মদ আলী সরকার নিজ বাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে স্থানীয় ফুলতলা ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন তার রাইস মিলে পাহারা দিতে যান। রাত দেড়টার দিকে ৫ থেকে ৬ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র বা ডাকাত দল মিলের ট্রান্সফরমার চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে প্রবেশ করে।

    এ সময় বিষয়টি টের পেয়ে মোহাম্মদ আলী সরকার বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে তিনি হামলাকারীদের কয়েকজনকে চিনে ফেললে, পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তারা হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।

    ঘটনার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

    শিবগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহিনুজ্জামান শাহিন জানান, গ্রেপ্তার হওয়া শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাঁচটি এবং আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে দস্যুতা, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • গ্রেফতার হওয়া সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    গ্রেফতার হওয়া সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে এক যুবককে আটকে রেখে চাঁদা দাবি ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় গ্রেফতার হওয়া সেই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কেএম ইলিয়াসকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, পিরোজপুর জেলা শাখা।

    শুক্রবার (৯ জুলাই) জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) খালিদ হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কেএম ইলিয়াসকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি মঠবাড়িয়ায় এক যুবককে আটকে রেখে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কেএম ইলিয়াসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই জেলা ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

  • চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা 

    চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা 

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় পলান উদ্দীন নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার গোবিন্দপুর তামালতলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত পলান উদ্দীন (৮০) ওই গ্রামের মৃত ছয়রদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে পলানের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল।

    বৃহস্পতিবার সকালে ওই বিরোধপূর্ণ জমির জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাইল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে।

    ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

  • আঁশফল চাষাবাদে সম্ভাবনার নতুন দ্বার

    আঁশফল চাষাবাদে সম্ভাবনার নতুন দ্বার

    গ্রীষ্ম ও বর্ষার সন্ধিক্ষণে প্রকৃতিতে এখন মৌসুমি ফলের সমারোহ। আম, জাম ও কাঠালের মৌসুম শেষের দিকে। ঠিক এমন সময় মাগুরার শালিখার স্থানীয় বাজারগুলোতে দৃষ্টি কাড়ছে আরেকটি পরিচিত ও পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল কাঠলিচু। অঞ্চলভেদে এটি ‘আশফল’ বা ‘পিচফল’ নামেও পরিচিত।

    বর্তমানে শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ হাট-বাজারে কাঠ লিচুর ব্যাপক সরবরাহ দেখা যাচ্ছে। লিচুর মতোই খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের সাদা শাঁস খেতে হয়। স্বাদে মিষ্টি ও রসালো হলেও এর আঁটি তুলনামূলক বড়। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কাছে ফলটি বেশ জনপ্রিয়।

    একসময় রাস্তার ধারে, বাড়ির আঙিনায় কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে অযত্ন-অবহেলায় জন্মানো এই ফলের তেমন কোনো বাণিজ্যিক মূল্য ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। এখন কাঠ লিচুর চাহিদা ও বাজারমূল্য বাড়ায় অনেকেই পুরোনো গাছের পরিচর্যায় মনোযোগ দিচ্ছেন। পাশাপাশি নতুন করে চারা রোপণেও আগ্রহ বাড়ছে।

    ফল পাকার মৌসুমে বাদুড় ও বিভিন্ন পাখির আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে অনেক চাষিকে গাছ মশারির জাল দিয়ে ঢেকে রাখতে দেখা যায়। শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে এটি এখন পরিচিত এক দৃশ্য।

    উপজেলা সদর আড়পাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কাঠ লিচুর ক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে কাঠ লিচু এতটা জনপ্রিয় ছিল না। তবে গত কয়েক বছরে এর চাহিদা অনেক বেড়েছে। আমার বাচ্চারা এই ফল খুব পছন্দ করে। লিচুর তুলনায় দামও কম। তাই অনেকেই এখন এই গাছ লাগাতে আগ্রহী হচ্ছেন।

    একই ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামের মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী রোস্তম কাজী বলেন, লিচুর মৌসুম শেষ হওয়ার পর থেকেই কাঠ লিচুর বিক্রি বেড়ে যায়। বাণিজ্যিকভাবে বড় আকারে চাষ না হলেও স্থানীয় বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। আকার ও মানভেদে প্রতি আঁটি বা ছড়া ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আরও প্রায় এক মাস বাজারে এই ফল পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।

    আঁশফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে চাইলে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইমুন নিসা বলেন, কাঠ লিচু শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, খনিজ উপাদান ও ভিটামিন ‘সিথ রয়েছে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে এই ফল খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি সিজোনাল অনেক রোগের প্রষেধক হিসেবে কাজ করে।

    একসময় অবহেলিত ফল হিসেবে পরিচিত কাঠ লিচু এখন শালিখার গ্রামীণ অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় মৌসুমি ফলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এই ফল কৃষকদের জন্য লাভজনক আয়েরএকটি অন্যতম উৎস হতে পারে খুলে যেতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

  • পদ্মার বালুচরে সবুজের সমারোহ, চিনাবাদামে স্বপ্ন দেখছেন কৃষক

    পদ্মার বালুচরে সবুজের সমারোহ, চিনাবাদামে স্বপ্ন দেখছেন কৃষক

    নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীর পাড়ে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ বালুচরে এখন সোনালি স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। একসময় খরস্রোতা পদ্মার বুকে জমে থাকা পলিতে তৈরি হওয়া এসব চরে বর্তমানে ব্যাপকভাবে চিনাবাদাম চাষ হচ্ছে। যতদূর চোখ যায়, সবুজ বাদামের খেতে ভরে উঠেছে চরাঞ্চল। মৌসুমের এ সময়ে বাদাম তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

    কম খরচে অধিক উৎপাদন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় চিনাবাদাম চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে দিন দিন এ ফসলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে।

    তিলোকপুর, নিমতলী, গৌরীপুর, চর জাজিরা, মোহরকয়া, বিলমাড়ীয়া ও নওশারা চর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। কোথাও কৃষকরা মাঠ থেকে বাদাম তুলছেন, আবার কেউ বাড়িতে এনে গাছ থেকে বাদাম আলাদা করছেন।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী, লালপুর, সদর ও বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের পাঁচটি কৃষি ব্লকের প্রায় ৩ হাজার ৭৫৪ হেক্টর চরাঞ্চলের মধ্যে ৪৬৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের চিনাবাদাম চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে বারি চিনাবাদাম-৮ ও ৯, ঢাকা চিনাবাদাম-১ এবং বিনা চিনাবাদাম-৮ উল্লেখযোগ্য। প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১ মেট্রিক টন ফলন হয়েছে।

    ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কৃষক রবি হোসেন জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় বাজারদর ঠিক থাকলে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার বাদাম বিক্রির আশা করছেন।

    আরেক কৃষক আব্বাস উদ্দিন বলেন, পদ্মার বালুচরে অন্য ফসল ভালো না হলেও চিনাবাদাম বেশ ভালো হয়। এতে সার, কীটনাশক ও সেচের তেমন প্রয়োজন হয় না। পাইকাররা সরাসরি জমি থেকেই বাদাম কিনে নেওয়ায় পরিবহন খরচও কমে যায়। তিনি প্রতি বিঘায় ১৩ থেকে ১৪ মণ পর্যন্ত ফলন পেয়েছেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের চিনাবাদাম চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হওয়ায় আগামী বছর এ অঞ্চলে এ ফসলের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ১০ কার্যদিবসে রায়, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড। ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা

    ১০ কার্যদিবসে রায়, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড। ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা

    ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলার চার আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর এক অপ্রাপ্তবয়স্ক (শিশু) আসামিকে সাড়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ঘটনার মাত্র ২৪ দিনের মাথায় এবং ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করা হলো।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পৃথকভাবে এই রায় ঘোষণা করেন।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আরিফ, রাকিব ও সায়েমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯-এর ৩ ধারা মোতাবেক মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগী শিশুর (বাদী) পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় প্রদান করেন।

    অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারা মোতাবেক আরও আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় অনুযায়ী, দুটি দণ্ডই একসাথে কার্যকর হবে। মারুফ যতদিন অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকবে, ততদিন তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে তাকে সাধারণ কারাগারে স্থানান্তর করা হবে।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিজ্ঞ আদালত রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবী নিযুক্ত করে দেন। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মোট ১০ কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করার পর আদালত এই চূড়ান্ত রায় দেন।

    উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে স্থানীয় বাজার থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফেরার পথে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে কংস নদের পাড়ে একটি জঙ্গলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে চার তরুণ। এরপর তাকে জীবিত অবস্থায় নদীতে ফেলে এবং পানির নিচে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ তলদেশে পুঁতে রাখে। ঘটনার দিন রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ ৯ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে এত দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট। আমরা আশা করি এই দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে কাজ করবে।’

  • মহেশপুরে দৈনিক দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি

    মহেশপুরে দৈনিক দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর বাজার। বছর পাঁচেক আগেও এটি ছিল কেবল প্রান্তিক বাজার। ড্রাগন ফলের বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে বাজারটি এখন যেন ড্রাগন ফলের রাজধানী। এই ফলের বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শতাধিক পাইকারি আড়ত। এসব আড়ত থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয় সুস্বাদু ড্রাগন ফল। বাজারে দিনে গড়ে ১ থেকে দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বেচাকেনা হয়। আড়ত গড়ে ওঠায় কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
    জানা গেছে, জেলাজুড়ে বিদেশি ড্রাগন ফলের ব্যাপক চাষাবাদ শুরু হয়েছে। দিনদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ফলের চাহিদাও বাড়ছে। সরেজমিনে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকেরা উৎপাদিত ফল গৌরীনাথপুর বাজারে নিয়ে আসেন। আড়তগুলোতে চলে বেচাকেনা। আড়তের চালার নিচে সাজিয়ে রাখা হয় লাল টুকটুকে ড্রাগন ফল। বাজারজুড়ে প্রতিদিন প্রায় একই চিত্র দেখা যায়। দিনভর চলে দরদামের হাকডাক।
    স্থানীয় কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ বিঘা জমিতে ড্রাগনের আবাদ করেছি। জমি থেকে ফল তুলে সহজেই এই বাজারে বিক্রি করতে পারি। এতে পরিবহন খরচ ও ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমেছে। ব্যাটারিচালিত ভ্যান, বাইসাইকেল ও বস্তায় ভরে ফল নিয়ে বাজারে এসে বিক্রি করি।’
    একটি আড়তের হিসাবরক্ষক জাকির হোসেন বলেন, ‘এ বাজার গড়ে ওঠায় অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি আমি আড়তে কাজ করে মাসে ১৫-১৮ হাজার টাকা বেতন পাই। এ ছাড়া আড়তগুলোতে ফলের পরিমাপ করা ও প্যাকেজিং করার জন্য আলাদা লোক কাজ করে। সবাই প্রতি মাসে গড়ে ১২-১৫ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।’
    নাটোর থেকে আসা পাইকারি ফল ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ বলেন, ‘বাজারে আমার মতো অনেকেই ফল কিনতে আসেন। ব্যবসার পরিবেশ ও নিরাপত্তা সন্তোষজনক। বিভিন্ন এলাকায় ড্রাগন ফল পাওয়া গেলেও গৌরীনাথপুর বাজারের ফলের মান ভালো। দামও নাগালের মধ্যে। প্রতি সপ্তাহে এ বাজারে এসে ফল কিনে ট্রেনে করে নাটোরে ফিরে যাই।’
    পাইকারি ও খুচরা আড়তদার সাঈদ সরকার বলেন, ‘বাইরের জেলার ব্যবসায়ীরা এখানে সহজেই ব্যবসা করতে পারেন। এই বাজারে প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বেচাকেনা হয়। এসব ফল সরবরাহ করা হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন বড় বড় শহরে। ফলের আকার ও মান ভেদে দাম কমবেশি হয়ে থাকে।’