সারাদেশ

  • গাংনীতে সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রীর মৃ’ত্যু

    গাংনীতে সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রীর মৃ’ত্যু

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে বিষধর সাপের কামড়ে জুই (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।নিহত জুই সাহারবাটি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার জামাল হোসেনের মেয়ে এবং স্থানীয় ইবাদতখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।


    শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে জুই নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় একটি বিষধর সাপ তাকে কামড় দেয়। অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে সাপের কামড়ের স্পষ্ট আলামত না পাওয়ায় তাকে হাড়িয়াদহ গ্রামের এক কবিরাজের কাছে নেওয়া হয়।
    পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

  • ৮টি নার্সারি উচ্ছেদ

    ৮টি নার্সারি উচ্ছেদ

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকার সৌন্দর্য বর্ধন, উন্মুক্ত স্থান দখলমুক্তকরণ এবং জনসাধারণের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

    রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাছিবা খানের নেতৃত্বে করপোরেশন ১৯নং ওয়ার্ডস্থিত সবজি বাগান এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযানকালে সবজি বাগান এলাকার সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা সকল প্রকার অবৈধ অস্থায়ী দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করে এলাকাটি সম্পূর্ণরূপে খালি ও পরিষ্কার করা হয়। এছাড়া সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে নার্সারি স্থাপন করায় ৮টি নার্সারির মালিককে ৮টি মামলার মাধ্যমে আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে রোববার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট নার্সারিগুলো থেকে সকল গাছ সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরীর পরিবেশ রক্ষা এবং জনসাধারণের চলাচলের পথ সুগম রাখতে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

  • আজানরত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

    আজানরত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

    কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে এশার আজান দেওয়ার সময় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মো. আমিনুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ইমামের মৃত্যু হয়েছে। আজানরত অবস্থায় তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    শনিবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আমিনুল ইসলাম গোপিনাথপুর গ্রামের কাজীবাড়ি এলাকার মৃত শামসুল আলমের ছেলে। তিনি দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি প্রায় এক দশক ধরে কণ্ঠনগর দক্ষিণপাড়া দারুল সুন্নাহ তাহফিজুল কুরআন মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছেন।

    স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও তিনি এশার আজান দিচ্ছিলেন। আজানের একপর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মসজিদের ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত মুসল্লিরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোলাম রব্বানী সোহেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, আমিনুল ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, বিনয়ী ও ধর্মপ্রাণ একজন আলেম। ইমামতি, কোরআনের শিক্ষা এবং নৈতিক আদর্শের মাধ্যমে তিনি এলাকায় বিশেষ সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। তার মৃত্যুতে মসজিদের মুসল্লি, মাদরাসার শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    নিহতের স্ত্রীর ভাই ও বুড়িচং উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাজির মাহমুদ নছির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রোববার (১২ জুলাই) বাদ জোহর গোপিনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

  • আনারকলি ফল চাষে সালেহের বাজিমাত

    আনারকলি ফল চাষে সালেহের বাজিমাত

    বিদেশি ফল ‘প্যাশন ফ্রুট’ বাংলাদেশে ‘আনারকলি’ বা ‘ট্যাং ফল’ নামে পনিচিত। এ ফল চাষ করে দারুণ সফলতা পেয়েছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের চাষি সালেহ আহমদ। জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে কয়েক বছর আগেই ফলটির চাষ শুরু হয়। তবে এই প্রথম সমতলে আনারকলির বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন তিনি। এ কৃষি উদোক্তা কমলগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর কমলগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা।

    জানা গেছে, মুদু টক-মিষ্টি স্বাদের আনারকলি ফলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিন দিন। প্রতি পিস আনারকলি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে আনারকলি ফল চাষ করা যায়। যে কারণে এর উৎপাদন খরচও কম। ফলে নেই কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি। স্বাদে-গন্ধে অনন্য এ ফলের আবাদে জেলায় ফল উৎপাদনে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।

    উদ্যোক্ত সালেহ আহমদ জানান, দর্ঘিদিন ধরে তিনি ধান চাষের পাশাপাশি নিজের জমিতে গড়ে তুলেছেন লেবু, লটকনসহ দেশি-বিদেশি নানা ফলের ক্ষুদ্রায়তন বাগান। ২০২২ সালে নিজের চার শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি চারা রোপণের মাধ্যমে শুরু করেন আনারকলি চাষ। ২০২৪ সালে তার ওই তিনটি গাছের ফল পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করেন ১০ হাজার টাকা। আনারকলি ফল বিক্রির পর চাষে তার উৎসাহ বেড়ে যায়। ওই বছরই আরও বেশ কিছু চারা রোপণ করে বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষাবাদে তিনি সফলতা অর্জন করেন। বর্তমানে তার বাগানের গাছগুলোতে যে ফল এসেছে তাতে সালেহ আহমদ চলতি মৌসুমে লক্ষাধিক টাকার ফল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন।

  • সাঁকোই ভরসা ১০ গ্রামের মানুষের

    সাঁকোই ভরসা ১০ গ্রামের মানুষের

    সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ও সাদীপুর ইউনিয়নের মানুষের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে প্রায় ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুল-কলেজ, হাটবাজার ও কর্মস্থলে যাতায়াত করতে হয় গ্রামবাসীকে। বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি পানিতে তলিয়ে গেলে নৌকাই ওই এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের গুলনগর ও সনমান্দী ইউনিয়নের কুমারচর গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদ। পঞ্চমীঘাট বাজারসংলগ্ন এ নদে কোনো সেতু না থাকায় কুমারচর, জোয়ার, দৌলরদী, ফতেপুর, কুলকান্দি, দড়িকান্দি, সাজালেরকান্দিসহ আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে নদ পারাপার হয়ে থাকে। প্রতিবছর খরা মৌসুমে এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি পানির নিচে তলিয়ে গেলে স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, অসুস্থ রোগী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ সবাইকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হয়। কুমারচর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হক জানান, বাজারের মালামাল ও কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনত সাংবাদিকদের জানান, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় যুবদল নেতা হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন

    চুয়াডাঙ্গায় যুবদল নেতা হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক জাহিন শেখকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় তার বাম হাতের কব্জি শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান এবং দুই পায়ের গোড়ালি মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে।

    শনিবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের হোমিওপ্যাথি কলেজ এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে হোমিওপ্যাথি কলেজ এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ জাহিন শেখের ওপর চড়াও হয়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে তার বাম হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং দুই পায়ের গোড়ালিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। জাহিনের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

    পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে জাহিন শেখের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর/পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর (রেফার্ড) করা হয়েছে।

    এই ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এই হামলার পেছনে কারা জড়িত বা কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

  • সৈয়দপুরে ৩৩টি শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্ত

    সৈয়দপুরে ৩৩টি শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্ত

    নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের জনজীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রেলওয়ের ৩৩টি শতবর্ষী ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়া ও বড় বড় ডাল ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে ভীতি বাড়তে থাকায় বিভাগীয় বন বিভাগ এসব ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বর্ষা মৌসুমে শহরজুড়ে পাঁচ হাজার গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ১৮৭০ সালে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের বৃহৎ কারখানা সৈয়দপুরে প্রতিষ্ঠার পর পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠে রেলওয়ে শহর। ব্রিটিশ কর্মকর্তা ও ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক এলাকায় সড়ক, ড্রেনেজ ও কুপিবাতির স্ট্রিটলাইটের পাশাপাশি ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হয়। ওই সময় রোপণ করা অসংখ্য রেইনট্রি, পাকুড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের অনেকগুলো বয়সের ভারে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অফিসার্স কলোনি, সাহেবপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, মুন্সিপাড়া, হাতিখানা, আতিয়ার কলোনি, গোলাহাট, পুরাতন বাবুপাড়া ও বাঁশবাড়ী এলাকার রেলওয়ে কলোনিগুলোতে প্রায় এক হাজার পুরোনো গাছ রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি গাছকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অধিকাংশ গাছের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অনেকগুলো প্রায় মৃত অবস্থায় রয়েছে।

    চলতি বর্ষা মৌসুমে একের পর এক গাছ উপড়ে পড়া ও ডাল ভেঙে পড়ার ঘটনায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। গত মে ও জুলাই মাসে অফিসার্স কলোনিতে বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়কের (ডিএস) বাসভবনের সামনে দুটি বিশাল গাছ সামান্য বাতাসেই উপড়ে পড়ে। এর আগে পাঁচমাথা মোড়ে একটি রেইনট্রি গাছও উপড়ে পড়ে। গত ৩০ জুন জিআরপি মোড়ে আরেকটি গাছের অর্ধেক ভেঙে পড়ে। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর সড়কে লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে একটি শতবর্ষী পাকুড় গাছের বড় ডাল ভেঙে পড়ে। এসব ঘটনায় প্রাণহানি না ঘটলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    সরকারি গাছ কাটার আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গত ১৮ মে রংপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করে সৈয়দপুর রেলওয়ের পূর্ত বিভাগ। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বন বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করে। পরে ১১ জুন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে ৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়।

    এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো যেকোনো সময় উপড়ে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকায় রেলওয়েকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শহরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় নতুন গাছ রোপণেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    সৈয়দপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম জানান, পথচারী ও গাছের নিচে বসবাসকারীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শহরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় প্রায় পাঁচ হাজার গাছ রোপণেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • পিকআপের ধাক্কায় স্বামী নিহত

    পিকআপের ধাক্কায় স্বামী নিহত

    সিলেটের গোলাপগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় অটোরিকশাযাত্রী আখদ্দছ আলী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তার স্ত্রী ও দুই সন্তান। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের ফুলবাড়ী ইউনিয়নের করমপুর গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আরোহী রিতা আক্তার নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় রিতার স্বামীসহ দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া চার স্থানে সড়কে আরও চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা ও গাজীপুরে দুই মোটরসাইকেল আরোহী, বগুড়ায় চালক এবং চট্টগ্রামে প্রাইভেটকার চালক রয়েছেন। ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

    গোলাপগঞ্জ (সিলেট) : নিহত আখদ্দছ আলী উপজেলার পৌর এলাকার ইয়াগুল গ্রামের মৃত তছির আলীর ছেলে। আহত হয়েছেন আখদ্দছের স্ত্রী রোকসানা বেগম, ছেলে মুসেদ আহমদ এবং মেয়ে হুমায়রা। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    মধুপুর (টাঙ্গাইল) : শুক্রবার সকালে ধনবাড়ী উপজেলার টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রিতা ভুয়াপুর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী। জামালপুরগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে ঢাকাগামী বাসের সংঘর্ষ ঘটে।

    ঢাকা : বন্ধুদের সঙ্গে মাওয়ায় মোটরসাইকেলে ফেরার পথে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন মুদি দোকান কর্মচারী হুমায়ুন কবির। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন সোহেল নামে তার এক বন্ধু। শুক্রবার ভোরে পোস্তগোলা ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হুমায়ুনকে মৃত ঘোষণা করেন।

    কালিয়াকৈর (গাজীপুর) : কালিয়াকৈরে মোটরসাইকেল-অটোরিকশা সংঘর্ষে চালক বাবুল ঘোষ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার লতিপুর এলাকায় তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। মোটরসাইকেলচালক বাবুল ঘোষ মানিকগঞ্জের ঘিউর উপজেলার চককস্তা এলাকার সৃষ্ট কান্ত ঘোষের ছেলে। তিনি উপজেলার কালামপুর এলাকায় সপরিবারে ভাড়া থেকে স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

    সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) : সীতাকুণ্ড উপজেলায় প্রাইভেটকার-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে চালক নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি কারচালক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা অভিমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডিভাইডার অতিক্রম করে বিপরীতমুখী লেনে চলে গেলে চট্টগ্রামমুখী কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে কারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

    বগুড়া : নন্দীগ্রামে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান সংঘর্ষে চালক আবদুস সালামের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার সিংজানি বাজার এলাকায় বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আবদুল সালাম রংপুর সদরের মুন্সীপাড়া এলাকার মৃত রুকু মিয়ার ছেলে।

  • মা-বাবার মারধরে মৃত্যু, বস্তাবন্দী লাশ ফেলে আসেন বাবা

    মা-বাবার মারধরে মৃত্যু, বস্তাবন্দী লাশ ফেলে আসেন বাবা

    খুলনার নিরালা প্রান্তিকা এলাকা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) বাবার লাঠির আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছে বলে জানিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। পুলিশের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, নিহত নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা শুক্রবার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

    যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে নির্জনার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মা তাকে চড় মারেন। ঘরের ভেতরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি একটি কাঠের লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    পরে মা-বাবা মিলে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে মোটরসাইকেলে করে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে আসেন বলে পুলিশের দাবি।

    গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সাততলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দী অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।

    তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহত ছাত্রীর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। সে সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং খুলনা ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে নিহত ছাত্রীর মা আরিফা ইয়াসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তী সময়ে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

    পারিবারিক বিরোধের দাবি পুলিশের

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, নির্জনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই পারিবারিক বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তদন্ত এখনো চলছে।

    মা গ্রেপ্তার, বাবা পলাতক

    পুলিশ জানায়, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এই ঘটনায় তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় খুলনা থানায় আটক নিহত নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, ‘গত ২১ এপ্রিল বাড়ি থেকে পালিয়ে তেরখাদা উপজেলার পালেরহাট আজগরা গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রনিকে বিয়ে করে নির্জনা। এর তিন দিন পর আমাকে ফোন দিয়ে বলে আমি ভালো আছি। পরে আমরা জানতে পারলাম ছেলের চরিত্র ভালনা। তাকে ১৭ দিন পর বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। ওই ছেলে প্রায় মেয়ের সাথে যোগাযোগ রাখত।’

    আরিফা ইয়াসমিন আরও বলেন, এ আগে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় নির্জনা পালিয়ে ফকিরহাট উপজেলার বারইপাড়া এলাকার ইকলাসুরের ছেলে মনিরুজ্জামান মনিকে বিয়ে করে। সেখানে একদিন থাকার পর বাড়িতে ফিরে আসে।

    ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ

    পুলিশের দাবি, পলাতক বাবা আলিম হোসেন আকাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন। তিনি একটি চিঠি প্রকাশ করে দাবি করেন, নির্জনা স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তবে ওই চিঠির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এ ছাড়া যেদিন রাতে নির্জনার মরদেহ উদ্ধার হয়, সেদিনই তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো পরিকল্পনা আছে, সকল কষ্ট এবং দুঃখে আলহামদুলিল্লাহ।’

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলীম হোসেন আকাশের প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি নিয়মিত টিকটকার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বিভিন্ন টিকটক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতেন।

    আলীম হোসেন নিজেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করলেও তার পেশার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, প্রাথমিক তদন্তে তাদের ধারণা নির্জনার বাবা একজন মাদকাসক্ত। বর্তমানে পলাতক বাবাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

  • শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গায় ও মেহেরপুর প্রতিনিধি সম্মেলন

    শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গায় ও মেহেরপুর প্রতিনিধি সম্মেলন

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা বাসটার্মিনালের চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ভবনে এ প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গা জেলা সেক্রেটারি মহাসিন এমদাদুল্লাহ জামেনের উপস্থাপনায় ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ শ্রমিক ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি কাইয়ুম উদ্দিন হিরকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাড. আতিকুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান , চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. রুহুল আমিন এমপি, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল এমপি ও মেহেরপুর বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রউফ মুকুল ।

    প্রতিনিধি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মেহেরপুর জেলা সেক্রেটারি আবুল কাশেম লিটনসহ চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, দেশের জন্য শ্রমিকদের অনেক অবদান রয়েছে। এই দেশ, রাষ্ট্র, সরকার, নেতা, এমপি, মন্ত্রীরা আমাদের সেই শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে আন্তরিক ভাবে ভূমিকা পালন করেছেন; এটা আমরা কখনো দেখিনি। যার জন্য সবার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, কিন্তু শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। তাই আমরা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।

    শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরী ৩০ হাজার টাকা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাড. আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে শিল্পখাতে শ্রমিকদের সর্বনিন্ম মজুরী সাড়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়। কিন্তু এই টাকা দিয়ে একটি পরিবার কিভাবে চলবে।

    বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে শ্রমিকদের সাথে বৈষম্যহীন আচরণ করতে হবে।শ্রমিকদের অসম্মান করা যাবে না তাদের সম্মান করতে হবে। তিনি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য মজুরী, চিকিৎসা সেবা,শ্রম আইন বাস্তবায়নসহ সরকারের উপর গুরুত্বারোপ করেন।