রাজনীতি

  • এমপি মনিরুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি চবি ছাত্রী সংস্থার

    এমপি মনিরুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি চবি ছাত্রী সংস্থার

    বোরকা-নিকাব নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে কুমিল্লা-৬ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনাসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রী সংস্থা। সোমবার দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে সংগঠনটির নেত্রীরা এসব দাবি উত্থাপন করেন। মানববন্ধনে ছাত্রী সংস্থার নেতাকর্মীরা বোরকা-নিকাব ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল, ‘আমার পোশাক হিজাব-নিকাব, আমার আভিজাত্য’, ‘ধর্মীয় অবমাননার শেষ কোথায়?’, ‘পর্দা আমার ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার’, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে হেয় করার স্বাধীনতা হতে পারে না’ প্রভৃতি।

    মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চবি শাখা ছাত্রী সংস্থার সেক্রেটারি জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা। তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে দাঁড়িয়ে সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য বোরকা-নিকাবকে বউ বদলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বিরোধী দলীয় নারী সংসদ সদস্যদেরও কটাক্ষ করেছেন। দেশের সাধারণ মানুষ একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশা করে না।”

    তিনি আরও বলেন, “একজন সংসদ সদস্য যখন জাতীয় সংসদের মতো মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দাঁড়িয়ে এ ধরনের মন্তব্য করেন, তখন দেশের নারী সমাজ ব্যথিত হয়। আমরা তার এই বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং দেশের নারী সমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানাচ্ছি।”

    মানববন্ধন শেষে সংগঠনের প্রচার সম্পাদিকা তাওফিকা রহমান আট দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— জাতীয় সংসদে নারীদের ধর্মীয় পোশাক নিয়ে দেওয়া অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা; জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে নারীর ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা; ধর্মীয় পরিচয় ও পোশাকের কারণে নারীদের প্রতি বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন; দেশে সংঘটিত সকল ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।

    এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা দূর করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও জনপরিসরে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

    সংগঠনটির নেত্রীরা বলেন, নারীর ধর্মীয় পরিচয়, পোশাক ও মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে একটি নিরাপদ, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

  • সাঁথিয়ায় ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার যুবদল নেতা বহিষ্কার

    সাঁথিয়ায় ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার যুবদল নেতা বহিষ্কার

    পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবদল নেতা আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার ভোরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আবুল কাশেম সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানা এলাকার আড়িয়াডাংগী গ্রামের নিজামুদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি আর-আতাইকুলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি।

    গত ১১ জুন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরদিন শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে কাশেম শেখকে অভিযুক্ত করে আতাইকুলা থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীকে গ্রেপ্তার দাবিতে রোববার অভিযুক্তের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে স্থানীয়রা।

    এদিকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দল থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়। রোববার রাতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি একতাশামুল হক রাজিব এবং সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল সরদারের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

    আতাইকুলা থানার ওসি মজিবর রহমান জানান, ভোরে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর এলাকা থেকে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • রক্তদান শুধু সেবা নয়, ইবাদতও: সেলিম উদ্দিন

    রক্তদান শুধু সেবা নয়, ইবাদতও: সেলিম উদ্দিন

    বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে সাইকেল র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে এই র‍্যালির আয়োজন করে লাইফ সাইকেল বিডি।

    জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ পাশের মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল ও মধুবাগ এলাকা ঘুরে পুনরায় মানিক মিয়া এভিনিউতে এসে শেষ হয়। এতে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

    র‍্যালির আগে স্বাগত বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, এবারের বাজেটে জুলাইয়ের গণ-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নেই, বরং এটি পুরোনো ধারার বাজেট। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ঋণখেলাপিদের সুবিধা দেওয়ার পথ উন্মুক্ত করেছে।

    তিনি আরও বলেন, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক নয়।

    সেলিম উদ্দিন দাবি করেন, শিক্ষা খাতে যে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, তার মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ব্যয় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক খরচ যুক্ত রয়েছে। এগুলো বাদ দিলে প্রকৃত শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির দেড় শতাংশেরও নিচে নেমে আসবে।

    তিনি তরুণদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান এবং একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার জন্য জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন।

    রক্তদাতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এক ব্যাগ রক্ত একটি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। রক্তদান মানবসেবার পাশাপাশি একটি ইবাদতও।

    তিনি আরও বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে আধুনিকভাবে রক্ত সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এ সমস্যা সমাধানে ডিজিটাল ব্লাড ডোনার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লাইফ সাইকেল বিডির পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম রিয়াজ, উপদেষ্টা মাহফুজুর রহমান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত, হেমায়েত হোসেন এবং সহকারী পরিচালক আব্দুল মোতালেব।

  • ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির

    ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির

    বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার দুপুর ১২টা ৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ ব্যাখ্যা চান।

    ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী শুক্রবার সকালে পেট্রাপোল-বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে জামায়াত আমীর বলেন, “গতকাল বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী পৌঁছানোর পর তার একটি বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, আমাদের সরকারের উচিত হবে তার কাছ থেকে তা জেনে নেয়া। ভারত যেমন একটি স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশও তেমনি একটি স্বাধীন দেশ। তার এ বক্তব্য স্পষ্ট না হলে জনমনে অবশ্যই বিভ্রান্তি তৈরি হবে।”তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের সরকারের কাছে এ বিষয়টির সুরাহা চাই। যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার।”

  • রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল নেতাকে হত্যা

    রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল নেতাকে হত্যা

    চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে দিনদুপুরে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদের (৪৫) বাড়ি পাশের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে। তিনি ওই এলাকার প্রয়াত খালেদ চৌধুরীর সন্তান এবং আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনীতে অবস্থানকালে মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এলাকাবাসীর ধারণা, বালুর ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

    হত্যাকাণ্ডের খবর রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানে ছড়িয়ে পড়লে দুই উপজেলার যুবদল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে কাপ্তাই সড়কের ইছাখালী (রাঙ্গুনিয়া) ও পাহাড়তলি (রাউজান) এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা। দুপুর ১টার পর থেকে কাপ্তাই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    বিক্ষুব্ধ জনতা জানিয়েছেন, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তবে মানবিক কারণে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনগুলো ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

    এদিকে খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

    শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাপ্তাই সড়কের দুই উপজেলার সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী

    শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী

    চব্বিশের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে পেকুয়া উপজেলায় মেহেরনামা বাজারপাড়া এলাকায় শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী।

    কবর জিয়ারতের সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    পরে প্রধানমন্ত্রী ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন এবং ওয়াসিমের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র।

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ১৬ জুলাই (২০২৪) চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত হন চট্টগ্রাম কলেজের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের স্নাতক চুতর্থ বর্ষের ছাত্র ওয়াসিম শহীদ হন। তিনি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন।

    ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম। ৫ সন্তানের মধ্যে ওয়াসিম ছিলো দ্বিতীয়।

  • স্বল্পোন্নত থেকে উন্নত দেশে উত্তরণের পথে চূড়ান্ত বাধা এই বাজেট: গোলাম পরওয়ার

    স্বল্পোন্নত থেকে উন্নত দেশে উত্তরণের পথে চূড়ান্ত বাধা এই বাজেট: গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশে উত্তরণের পথে চূড়ান্ত বাধা হয়ে যাবে। তিনি সরকারের প্রতি বাজেট সংশোধনের আহ্বান জানান।

    আজ শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাজেট প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।

    জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ঘাটতি বাজেট নতুন কিছু নয়, তবে এবারের বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট —এটা কোথা থেকে পূরণ করা হবে?

    তিনি আরও বলেন, ‘এত বড় ঘাটতি বাজেটের ব্যয় সংকুলানে ব্যাংক লোন করা হবে, তাতে আমাদের বিনিয়োগ, বেসরকারি বিনিয়োগ তো অটোমেটিক্যালি কমে যাবে।’

    এর ফলে কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    রাজস্ব আদায়ের বাস্তবসম্মত কোনো কাঠামো সরকার দেখাতে পারেনি—এমন অভিযোগ করেন জামায়াত সেক্রেটারি। তিনি বলেন, প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট —কোথা থেকে ঘাটতি পূরণ করা হবে? যে সোর্সগুলো দেখানো হয়েছে তাতে রাজস্ব আয় করতে গেলে যে কর কাঠামো লাগে, দুর্নীতিমুক্ত কর প্রশাসন লাগে, সেগুলো কিছুই নাই।

    কর বৃদ্ধির সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ভাষার ছলচাতুরীতে উনারা বলেছেন যে আমরা করের উৎস বাড়াচ্ছি। বাস্তবে করের জাল তৈরি করে নাগরিক জীবনে এটার যে চাপ, সেটাকে উনারা শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমেই চালাকি করে কর বৃদ্ধির জায়গাগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

    জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশের নিচে রেখেছে। সেখানে সরকারের ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যকে তিনি ‘ফাঁকা বুলি’ ও ‘চটকদার সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘এডিপির নামে দুর্নীতি ও লুটপাটের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা।’

    তিনি অভিযোগ করেন, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগাভাগি হয়ে যায় এবং প্রকৃত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারঘোষিত মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।

    সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রস্তাবিত ছায়া বাজেটের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি জানান, জামায়াত ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব করেছে, যেখানে বাজেট ঘাটতি ও বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতা তুলনামূলক কম রাখা হয়েছে।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ক্যালেন্ডার ইয়ারভিত্তিক অর্থবছর চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

    ব্যাংকিং খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংক রেজুলেশন আইন করে লুটপাট করে কালো টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে।’ ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

    সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক বাজেট সংশোধন করে বিনিয়োগবান্ধব, জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়ন’ করতে হবে। একই সঙ্গে সংসদে গঠনমূলক আলোচনা ও বিরোধী দলের প্রস্তাব গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, আব্দুল হালিম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম।

  • বাবা-মায়ের পর ছেলের নেতৃত্বে দেশের বাজেট

    বাবা-মায়ের পর ছেলের নেতৃত্বে দেশের বাজেট

    বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের ৫৫তম বাজেট ঘোষিত হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর আগে তার বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেও দেশের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নেতৃত্বের পাশাপাশি জিয়াউর রহমান নিজে বাজেট পেশও করেছেন। তাদের নেতৃত্বে বিএনপির শাসনামলে এ পর্যন্ত ১৭ বার বাজেট পেশ করা হয়েছে।

    বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ছয়টি বাজেট ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে সরকারপ্রধান হিসাবে তিনি নিজে তিনটি বাজেট পেশ করেছেন। বাকি তিনটি বাজেট তার নেতৃত্বে পেশ করা হয়। ১৯৭৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন জিয়াউর রহমান। ওই বছরের ২৬ জুন তিনি বাজেট পেশ করেন। ওই সময়ে বাজেটের আকার ছিল ১ হাজার ৮৬৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে আয় ছিল ৯৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ঘাটতি ছিল ৯০১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। রাষ্ট্রপতি হিসাবে জিয়াউর রহমানের আমলে যে তিনটি বাজেট পেশ করা হয় তার প্রথমটি অর্থমন্ত্রী মির্জা নুরুল হুদার হাত ধরে ও পরের দুটি এম সাইফুর রহমানের হাত ধরে ঘোষণা করা হয়।

    জিয়াউর রহমানের স্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে দুই দফায় অর্থমন্ত্রী হিসাবে এম সাইফুর রহমান আরও ১০টি বাজেট পেশ করেছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট গতকাল ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

  • বিদেশি বিনিয়োগ আনলে ১.৫% কমিশন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    বিদেশি বিনিয়োগ আনলে ১.৫% কমিশন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশে আনতে পারলে বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ পরামর্শক ফি বা কমিশন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এটার ফলে বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও বিনিয়োগ করবেন দেশে, এর বাইরেও মেধা ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে সক্ষম হবেন। দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সদস্য জহরত আদীব চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগে একটি বিষয় ছিল—তার লভ্যাংশ নিতে না পারলে কেন এখানে বিনিয়োগ করবে? এ সমস্যাটা আইনের মাধ্যমে সমাধান করেছি। তিন-চার দিন আগে হওয়া মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি—বিদেশ থেকে যদি কোনো বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক বিদেশি বিনিয়োগ দেশে নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে তাঁদের বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ পরামর্শক ফি বা কমিশন দেব, প্রণোদনা তাঁদের দেব।’

    বিএনপির সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগপ্রক্রিয়া সহজীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর হতে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধনপ্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুততর সময়ের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে।

    তারেক রহমান জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য রপ্তানি নীতি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬- ২৯ হালনাগাদকরণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। রপ্তানির উদ্দেশ্যে আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক বাধা দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমদানি সহজীকরণের লক্ষ্যে মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করা হচ্ছে এবং সব আমদানিকারকের জন্য মূল্যসীমা-নির্বিশেষ L/C ছাড়া চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে।

    সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের কার্যোপদেষ্টা বৈঠকে কিছু কিছু বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা ঈদের আগে দেওয়া বরাদ্দ পাননি বলে বিরোধী দলীয় নেতা আমাকে জানিয়েছিলেন। যেটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছিল। আমি বৈঠক থেকে বের হয়ে এসে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, যে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য কেউ না পেয়ে থাকলে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটার মাধ্যমে বোঝাতে চাইছি বর্তমান সরকার দেশের সম উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে। তাদের এলাকায়ও আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।

    আনিসুর রহমান তাঁর প্রশ্নে রাজপথে বিরোধী দলের ‘অপপ্রচার’ বন্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান।

    এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমানের প্রশ্নটি সঠিকভাবে বোধগম্য হয়নি। সঠিকভাবে বোধ্যগম্য হয়নি উনি কি বোঝাতে চেয়েছেন।’

    পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাননীয় সদস্য আনিসুর রহমান জানতে চাচ্ছেন যে–এসব উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়ার পরেও সরকারি দলের বিরুদ্ধে যেসব প্রচারণা হয়, তা বন্ধ হবে কি না? এ ব্যাপারে হুইপদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করবেন কি না? আমার মনে হয় আরও অপেক্ষা করতে হবে। সংসদ সবে মাত্র শুরু হলো!

    জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সরকার। এটি জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার। যদি গঠনমূলক কোনো সমালোচনা থাকে তা গ্রহণ করব এবং সেইভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

    জামায়াতের এমপি মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী সংসদ সদস্যদের সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে কোনো আসন নেই। স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক যে কাঠামো, তার ভিত্তিতে তাদেরকে দলীয় অবস্থান থেকে কিছু জায়গা তাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, তারা কোথায় কাজ করবেন। নির্বাচনী এলাকায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার সম্পূর্ণ হক আছে। নারী সংসদ সদস্যদেরও একই রকমভাবে হক আছে। স্বাভাবিকভাবেই যেটি নিয়ম আছে, সরকারের সেই নিয়ম অনুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার কোনো উন্নয়নের বিষয় যদি থাকে, সেখানে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকে, জানাবেন। আমি সরাসরি আপনাকে সহযোগিতার চেষ্টা করব।

    বিএনপির সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।

    তারেক রহমান জানান, এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৪৮ জনকে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে। শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার/প্যাগোডা এবং ৩৯৬টি গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ চারা রোপণ করা হবে। আগামী অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্কুলে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

    সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত দলীয় এমপি সাবিকুন্নাহার মুন্নীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচারের সময় এই দেশে কী হয়েছে তা সবাই জানেন। অর্থনীতি এমন একটি বিষয়, যার ফল একদিনে পাওয়া যায় না। খারাপ পলিসির প্রভাব যেমন ধীরে ধীরে আমাদের কাঁধে এসে পড়েছে, ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর সুফল পেতেও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।’

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে যাদের ক্রেডিবিলিটি বা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাদের এই তহবিল থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ সহযোগিতা দেওয়া হবে।

  • নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ইইউ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক

    নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ইইউ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

    প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। মঙ্গলবার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় এনসিপির দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। বৈঠকে সাম্প্রতিক গণভোটে অনুমোদিত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন টিমের নির্দেশনা পর্যালোচনা করা হয়। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।আলোচনার শেষে উভয় পক্ষই চলমান সংলাপ অব্যাহত রাখা এবং গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।বৈঠক শেষে এনসিপি নেতারা ইইউ প্রতিনিধি দলকে ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতি পরিদর্শন করান। সেখানে বিপ্লবের সময় তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও চেতনার প্রতিফলন তুলে ধরা হয়।বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—এনসিপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। ইইউ প্রতিনিধি দলে ছিলেন ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা এবং ফার্স্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) সেবাস্তিয়ান রিগার ব্রাউন।