রাজনীতি

  • এমপিও শিক্ষকরা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন কি না, সিদ্ধান্ত ইসির

    এমপিও শিক্ষকরা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন কি না, সিদ্ধান্ত ইসির

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করে। তাই আইন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত কমিশনই নেবে।

    তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

    এর আগে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ আইনে আছে, তিনি (প্রার্থী) প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে যদি অধিষ্ঠিত থাকেন, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এটা হচ্ছে নির্বাচনি আইন।’

    তিনি বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ব্যাপারে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কুল ও কলেজ জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এর বিধি ১১.১৭-এর ‘ক’ ও বিধি ১১.১৭-এর ‘খ’-তে বলা হয়েছে যে এই পদটি লাভজনক। মানে শিক্ষকদের পদটি লাভজনক। তাহলে আইনের সঙ্গে এখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালাটা কাছাকাছি মিলে যাচ্ছে।’

    প্রতিমন্ত্রী জানান, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক একই সঙ্গে একাধিক পদ বা চাকরিতে কিংবা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। এমপিও নীতিমালার বিধি ১১.১৭-এর ‘খ’-তে আর্থিক লাভজনক পদের সংজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ওই সংজ্ঞা অনুযায়ী আর্থিক লাভজনক পদ বলতে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত যেকোনো ধরনের বেতন-ভাতা, সম্মানী এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, আইন পেশাসহ কর্মের বিনিময়ে দেওয়া বেতন-ভাতা ও সম্মানীকে বোঝায়।

    মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনি বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনই সিদ্ধান্ত নেবে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না।

    তবে নির্বাচন কমিশনের কোনো আইনগত মতামত, বিস্তারিত তথ্য বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সে ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে।

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে আইন করছে বলে জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই বিধান রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালাতেও শিক্ষকদের আর্থিক লাভজনক পদের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আইন তো করাই আছে যে লাভজনক পদে থাকলে উনি নির্বাচন করতে পারবেন না। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় কি আছে আমি ওটাও আপনাদের কাছে পরিষ্কার করেছি আজ। বাকিটা তখন নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে বিধিমালা এবং যোগ্যতা-অযোগ্যতা। এখন জামায়াত যদি সরকারের ওপর কোনো দায় চাপায়, এটা চাপালে তো হবে না। কারণ এই বিলগুলো পার্লামেন্টে পাস করার সময় তারা তো সংসদে উপস্থিত ছিল। আমরা সবাই মিলেই তো বিলগুলো পাস করেছি।’

    Advertisement

  • পুতুলের ওই পদে দায়িত্ব পালনের মতো যোগ্যতা ছিল না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    পুতুলের ওই পদে দায়িত্ব পালনের মতো যোগ্যতা ছিল না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ওই পদে দায়িত্ব পালনের মতো প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পুতুলের ছিল না। নিয়োগ প্রক্রিয়াটিও ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং সেখান থেকে দুর্নীতির দুর্গন্ধ বের হয়ে এসেছে।

    একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর পরবর্তী নিয়োগে মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

    এই সফরের বিভিন্ন তথ্য ও সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, নিউইয়র্ক সফরকালে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাইডলাইন মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হবে।

    ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে একটি নতুন ও কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করতে চায় ঢাকা। সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ ও এ-সংক্রান্ত জটিলতার সুরাহা কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনার মাধ্যমেই করা হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশেষ সাইডলাইন মিটিং আয়োজনের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুটি বড় গুরুত্ব পাবে।

    এ ছাড়া বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার করা টাকা ফেরত আনতে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • শহীদ মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

    শহীদ মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

    বগুড়ায় শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত ও শহীদ আব্দুল মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান । পরে তিনি শহীদ আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।

    শনিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী সাংগঠনিক সফরের অংশ হিসেবে বগুড়ায় অবস্থান করছেন শফিকুর রহমান।

    শহীদ আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডা. শফিকুর রহমান তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং শহীদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি শহীদ পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    সফরকালে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালক এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

    ছাত্রনেতা শহীদ আব্দুল মালেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন পাকিস্তানে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে দুই দলের মধ্যে চলা সংঘর্ষে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন ও ১৫ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার হত্যাকাণ্ডের দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতি বছরের ১৫ আগস্টকে ‘ইসলামী শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করে।

  • ছাত্রশক্তির সভাপতি হচ্ছেন বাকের, সম্পাদক তাহমীদ

    ছাত্রশক্তির সভাপতি হচ্ছেন বাকের, সম্পাদক তাহমীদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি হচ্ছেন আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরী। প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বছরে প্রথম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ শনিবার। এতে বাকের-তাহমীদের হাতে উঠতে পারে ছাত্রশক্তির দায়িত্ব। বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

    আবু বাকের মজুমদার ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সাবেক নাম বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) আহ্বায়ক ছিলেন। তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রশক্তির শীর্ষ দুই পদে তারা সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এবং তাদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    এর আগে ছাত্রশক্তির নির্বাচন কমিশন গত ৯ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। তালিকা অনুযায়ী সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবু বাকের মজুমদার ও মাহফুজ খান। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরী, লিমন হাছান ও মাহফুজুর রহমান। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবু তৌহিদ মো. সিয়াম, শ্যামলী সুলতানা জেদনী ও জহিরুল ইসলাম।

    ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন হাসিব আল ইসলাম ও সাকিবুল ইসলাম; সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ সাকিব ও রায়হান ফেরদৌস। ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখার প্রথম কাউন্সিল ঘিরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে সাংগঠনিক কাঠামো আরো শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

    ছাত্রশক্তির প্রেস ও মিডিয়া সম্পাদক যাবের বিন নূর জানিয়েছেন, কাউন্সিলের বিভিন্ন পর্বে কাউন্সিলরদের ভোটগ্রহণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‍্যালি এবং অন্যান্য কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে আজ। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখারও প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এছাড়া এনসিপির সব সংসদ সদস্য ও শীর্ষনেতারা উপস্থিত থাকবেন অনুষ্ঠানে।

    অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী সকাল ৯টায় রেজিস্ট্রেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। কাউন্সিলরদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। দুই কমিটির কাউন্সিলে দুই শতাধিক ডেলিগেট ভোটের মাধ্যমে নিজ নিজ শাখার নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতির পর দুপুর ২টার দিকে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ৫টায় র‍্যালি এবং সন্ধ্যা ৭টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নতুন দল এনসিপির ছাত্র সংগঠনটি প্রথমে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) নামে যাত্রা শুরু করে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের একটি অংশের উদ্যোগে গঠিত সংগঠনটি প্রত্যাশিত সাড়া ফেলতে পারেনি। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনেও ভরাডুবি হয় তাদের। এরপর সংগঠনটিকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    আট মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে জাতীয় ছাত্রশক্তি করা হয়, সভাপতি করা হয় জাহিদ আহসানকে। গত ২ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করলে সিনিয়র সহসভাপতি আহসান লাবীবকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

  • শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার

    শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ভোলার লালমোহন উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    স্পিকার বলেন, শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে তাদের স্ত্রী সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতেন। পক্ষান্তরে তার ভেতরেই লুকিয়ে থাকতো গুমে সম্পৃক্ত থাকার হিংস্র মনোভাব। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের শেখ হাসিনা আশ্বস্ত করতেন তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়ার। কিন্তু তিনি নিজেই জানতেন আসলে গুম হওয়া ব্যক্তিরা কোথায় আছেন। তার এসব আচরণ ও অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের সেরা অভিনেত্রীর অভিনয় করেছেন। জনগণ তখন বুঝতে পারেনি। এখন জনগণের কাছে সব পরিষ্কার হয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে গুম ব্যক্তিদের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এখন জনগণের কাছে প্রমাণ হয়ে গেছে শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী ও নিজেই ছিলেন গুমের নির্দেশ দাতা। একজন ব্যারিষ্টারকে আট বছর হাত করা লাগিয়ে আয়না ঘরে বন্দি করে রেখেছেন। কতবড় মির্মম ও জঘন্যতম কাজ করা হয়েছে তার সাথে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি মুক্ত হয়ে এখন সংসদ সদস্য হয়েছেন।

    বিগত সরকারের লুটপাট প্রসঙ্গে ভোলা-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। একটি পর্দার দাম ধরেছে ৪২ হাজার টাকা। তখনকার এক ভূমি প্রতিমন্ত্রী যার লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে। সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রকল্পগুলো কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

    লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সরকারের এখানকার স্থানীয় এমপি ছিলেন একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও খুনি। ২০১০ সালের উপ-নির্বাচনে ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী এনে দিনে দুপুরে আমার নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করেছেন।

  • গণভোটের রায় অবমাননা ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে লংমার্চ অব্যাহত থাকবে: জামায়াত আমির

    গণভোটের রায় অবমাননা ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে লংমার্চ অব্যাহত থাকবে: জামায়াত আমির

    চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকসহ পুরো শিল্প খাত মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে অবিলম্বে কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শনিবার সকালে বগুড়া সার্কিট হাউজে স্থানীয় ও জাতীয় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

    দিনব্যাপী রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়া সফরে এসে তিনি সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

    শিল্প খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা জানান, আমাদের প্রধান রপ্তানি খাত হচ্ছে গার্মেন্টস। বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে জানিয়েছেন, চাহিদামতো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ার কারণে তাদের উৎপাদন শতকরা ৫০ ভাগের নিচে নেমে এসেছে। উৎপাদন কমলে তারা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না, শ্রমিক ছাঁটাই করতে বাধ্য হবে এবং আন্তর্জাতিক বায়ারদের অর্ডার ক্যানসেল হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে চলে যাবে।

    আন্তর্জাতিক সংকট সত্ত্বেও সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান জানান, বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইনের ক্রাইসিস ৬ মাস পার হলেও সরকার বিকল্প ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় দেশে-বিদেশে অভিজ্ঞ আমাদের একটি টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিম রয়েছে, যা আমরা বিনামূল্যে সরকারকে উপহার দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁতারা করছে।

    সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের প্রস্তাব ও সাধারণ মানুষের দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সংসদের ভেতরে কাজ না হওয়ায় আমরা গণতন্ত্রের রায় বাস্তবায়ন, বৈষম্য দূরীকরণ, বেপরোয়া দলীয়করণ বন্ধ, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি প্রতিরোধ, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও কৃষকের সার সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো ৬ দফা দাবিতে কর্মসূচি পালন করছি। প্রথম ধাপের সফলতা শেষে আমরা এখন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে দ্বিতীয় ধাপের লংমার্চ কর্মসূচি পরিচালনা করছি।

    বিগত সরকারের আমলের ফ্যাসিবাদী শাসন এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গে টেনে তিনি জানান, সাড়ে ১৫ বছর স্বৈরাচারের কবলে থেকে দেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু নেতৃত্ব হারিয়েছি, গুম হওয়া মানুষের পরিবারের কান্না আজও থামেনি। চব্বিশের বিপ্লব সফল হওয়ার পর শাসনতন্ত্রের বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশের ৯২ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু সংসদে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে ওয়াদা বরখেলাপ করা হয়েছে, যা সত্তরের আমলের মতো জনগণের রায়কে অবমাননা করার শামিল।

    উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র বগুড়া জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য ও অবহেলার চিত্র তুলে ধরে বিরোধীদলীয় প্রধান জানান, বগুড়া উত্তরবঙ্গের নাভি এবং সাতটি সংযোগ সড়কের কেন্দ্রবিন্দু। একসময় এটি মিনি শিল্পনগরী ও এডুকেশন হাব থাকলেও স্বাধীনতার পরবর্তী ৫৪-৫৫ বছরে এর কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তিন দফায় দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ বগুড়াকে অবহেলিত রেখেছে, এমনকি সাধারণ সড়ক মেরামতের ক্ষেত্রেও চরম বাস্তবতা দেখা গেছে। প্রধান বিরোধী দলের নেতা হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অংশ থেকে আমি বগুড়ার ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়নের জন্য সংসদে জোরালো আওয়াজ তুলব।

    কর্মসূচির শুরুতেই জামায়াতের আমির সকাল ৬টায় ধুনট উপজেলায় ১৯৬৯ সালে শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন। সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় শেষে তিনি দুপুর ১২টায় টিএমএসএস মমইন কনভেনশন সেন্টার ও স্থানীয় টিটু মিলনায়তনে বগুড়া মহানগর ও জেলা জামায়াত আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জামায়াতের বগুড়া মহানগর ও জেলা শাখা এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সভায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘বিদ্যুৎ নিয়ে বারবার কারিগরি ত্রুটি নাশকতা নাকি ষড়যন্ত্র—ভাবতে হবে’ বিএনপি মহাসচিব

    ‘বিদ্যুৎ নিয়ে বারবার কারিগরি ত্রুটি নাশকতা নাকি ষড়যন্ত্র—ভাবতে হবে’ বিএনপি মহাসচিব

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি বন্ধ রয়েছে। সেটি ঠিক করার চেষ্টা চলছে এবং শিগগির স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ায় সেখান থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।’

    শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, ‘একর পর এক কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে, কোথাও একটা ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এটা কেন হচ্ছে? মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটা কি কোনো ঘটনা, কোনো রহস্য, নাশকতা বা ষড়যন্ত্র কি না—সেটিও ভাবতে হবে।’

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা পরিশোধ করছে। ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় তাদের পাওনাও দেওয়া হচ্ছে। এর পরও কেন একের পর এক সমস্যা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন মানুষের মনে তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

  • মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্বোধন হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্বোধন হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা ব্যারেজ একটি মাস্টারমাইন্ড প্রকল্প, যার সুবিধা পাবে দেশের ২৪টি জেলার অন্তত ৭ কোটি মানুষ। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মধ্যে একটি নির্ধারিত তারিখে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকুড়ি এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ, নদীর প্রবাহ পুনরুজ্জীবন, নাব্যতা রক্ষা, মানবসম্পদ ও দক্ষিণ-পঞ্চিমাঞ্চলের পানির নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার।

    শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘এ ব্যারেজটির স্বপ্ন দীর্ঘদিন থেকে। বাংলাদেশের ২৪টি জেলার ৭ কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে আমরা এ স্বপ্নের বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ করছি। এ এলাকার মানুষের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একটা মেঘা প্রকল্প পদ্মা ব্যারেজ অর্থনৈতিক রুপান্তর, বিপ্লবের জন্য ২৪টি জেলার অর্থনৈতিক রুপান্তর, বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি উৎপাদন, মৎস্য উৎপাদনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে। এটা আধুনিক প্রকল্প। ২০০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খলেজা জিয়া পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা করেন। আর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে একটি স্ব-নির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চাই। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে দেশের পানি, বিদুৎ, মৎস্য, কৃষি উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে।’

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থে পানির চুক্তি নিশ্চিত করেছিলেন। একই কায়দায় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সময় পানি ব্যবস্থাপনায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্ত আনতে সচেষ্ট তিনি ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে সারা বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার বৈল্পবিক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে সরকার। সেই সঙ্গে সারাদেশের প্রাণ-প্রকৃতি ফিরিয়ে আনতে খাল খনন করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্যের যে ক্ষতি হচ্ছিল, তা কাটিয়ে উঠতেই এই ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে. প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বর্ষাকালে পদ্মা নদীর উদ্বৃত্ত পানি সংরক্ষণ করা এবং শুষ্ক মৌসুমে তা নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ করা।

    পরে হাবাসপুর কেরাজ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেন অতিথিরা। পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিতি ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি আসলাম মিয়া, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বাবু, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।

    এর আগে গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক কমটির সভায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, ২টি ফিশপাস এবং নেভিগেশন লক সমৃদ্ধ এই ব্যারেজটিতে ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। থাকবে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা। ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজটি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। যার সম্পন্ন অর্থায়ন করবে সরকার।

  • ‘হু ইজ হি হেয়ার?’ এবার অ্যাটর্নি জেনারেলকে তোপ খোকনের

    ‘হু ইজ হি হেয়ার?’ এবার অ্যাটর্নি জেনারেলকে তোপ খোকনের

    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পুরো বেঞ্চ এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি (এসসিবিএ) মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি ওই বক্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে বিচার বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বস্তি উচ্ছেদে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের এই নেতা।

    অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বার সভাপতি বলেন, হু ইজ হি হেয়ার, অ্যাটর্নি জেনারেল তিনি কে? তার বক্তব্যই অপ্রাসঙ্গিক। তিনি আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আপনারা জানেন সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীরা আমাকে ১১ বার নির্বাচিত করেছেন। আমিই তো আইনজীবীদের কথা বলব, বিচারপ্রার্থীদের কথা বলব। অ্যাটর্নি জেনারেলের কোনো কাজ আছে এখানে? তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সেক্রেটারি ছিলেন, তিনি কীভাবে আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নেন!

    তিনি আরো বলেন, হাইকোর্টে এখনো অনেক বিচারপতি আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেন। প্রধান বিচারপতিকে সেসব বিচারকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনে নামবেন আইনজীবীরা। এক মাসের মধ্যে দাবি না মানলে আইনজীবীদের নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সবারই একটা উদ্বেগ বিচার বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে। প্রধান বিচারপতির কাছে এসব বিষয় তুলে ধরা আমার দায়িত্ব। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির কাছে দাবিÑআপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগসহ সারা দেশের প্রত্যেকটি কোর্টকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে এবং তা আগামী এক মাসের মধ্যেই।

    তিনি আরো বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বস্তি থাকবে কেন? আগামী এক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বস্তি উচ্ছেদ করতে হবে এবং আইনজীবীদের বসার জন্য, কর্মপরিবেশ তৈরির জন্য আপাতত টেম্পরারি পর্যায়ের শেড হলেও করে দিতে হবে। পরিকল্পনা নিতে হবে, এই বস্তি উচ্ছেদ করে এখানে আইনজীবীদের বসার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের জন্য চেম্বার করতে হবে, হলরুম করতে হবে।

    গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনের বাদানুবাদে তার আপিল বিভাগের এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) আইনজীবীদের কল্যাণে ও স্বার্থে কিছু কথা প্রধান বিচারপতির কাছে বলেছেন বলে দাবি করেছেন। আসলে এমন কোনো কথা মামলার প্রসিডিংয়ে হয়নি।

  • সরকারি টাকা নষ্ট হবে, তাই প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন: চিফ হুইপ

    সরকারি টাকা নষ্ট হবে, তাই প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন: চিফ হুইপ

    সরকারি অর্থ ব্যয়ে অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই দৃষ্টান্ত তৈরি করছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি জানিয়েছেন, জনগণের করের টাকা কোনোভাবেই যেন অপচয় না হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন। এ ছাড়া সরকারি গাড়ি, খাবার খরচ ও লোকবহরের ব্যবহারেও ব্যয় কমাচ্ছেন তারেক রহমান।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা খেয়েছে এক বছরে ৩৫ কোটি টাকা, উনার (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) ১৫০ টাকা বিল। যে লোন (ঋণ) করে গেছে শেখ হাসিনা এবং তার সরকার, সেই টাকা থেকে ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছি এই গত পাঁচ মাসে।’

    তিনি বলেন, ‘এটা আপনাদের ট্যাক্সের টাকা, এক্সচেকারের (রাজকোষ) টাকা, আপনাদের টাকা সে (শেখ হাসিনা) নিয়ে চলে গেছে। সেই টাকা এখন এই সরকারকে দিতে হচ্ছে। যে কারণে সরকার বলেছে, এমপি-মন্ত্রী যদি কোনো জায়গায় বাইরে যান এবং এসে বলেন যে আমার এত টাকা বিল হয়েছে, তা হবে না। কাগজ দিতে হবে, যাতে এক টাকাও নষ্ট না হয়। এটি হলেন তারেক রহমান।’

    নুরুল ইসলাম মনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মনে করেন—রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে কোনো অবস্থাতেই একটি টাকাও অপচয় করা যাবে না। এ কারণেই তিনি ব্যক্তিগত জীবনযাপনেও ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছেন।

    তিনি বলেন, ‘সরকারের এক্সচেকার থেকে ১০ টাকা—তারেক রহমান সাহেব মনে করেন, কোনো অবস্থাতেই একটা টাকা নষ্ট হতে পারবে না। তার জন্য নিজে সাদা কাপড় পরেন, মোটা কাপড় পরেন।’

    প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কার্যক্রমেও ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, ‘তার জন্য এয়ারপোর্টে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন, তার জন্য নিজের গাড়ি-লোকবহর নেই। তার জন্য উনি উনার অফিসে খান।’

    আগের সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অফিসের খাবারের ব্যয়ের তুলনা তুলে ধরে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা খেয়েছে এক বছরে ৩৫ কোটি টাকা। উনার ১৫০ টাকা বিল, একজনের। উনার অফিসে ১৫০ টাকা দিয়ে আমি টাকা খেতে পারি না—সত্যি কথা।’

    প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের খাবার বিলের বিষয়টি তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, ‘বিরোধী নেতা বলেছেন, যেটা সম্ভব। কিন্তু তারপর খাইতে পারি না।’ ‘এই কাজটা ভদ্রলোক (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) করেন, আর এটা তো দেখাবার জন্য করে না, এটা বাস্তবেই করে,’ যোগ করেন তিনি।