রোববার চতুর্থবার নির্বাচিত হন লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রয়টার্স মঙ্গলবার জানায়, আদালতের নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট জমা না দিয়ে পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো ব্রাজিল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে গেছেন।
রয়টার্স দুটি সূত্রের বরাত দিয়েছে। পাসপোর্টের আদেশটি অর্থ পাচারের তদন্ত নিয়ে; ফ্লাভিও অনিয়ম অস্বীকার করেন। ফেডারেল পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, তিনি নিয়মিত অভিবাসনপথ দিয়ে বের হননি। তাঁর আইনজীবী মন্তব্য করতে চাননি।
সোমবার ফ্লাভিও প্রচারে অনিয়মের অভিযোগে লুলা ও তাঁর রানিংমেটের নির্বাচিত পদে থাকার অধিকার বাতিল চাওয়ার কথা বলেছিলেন। তাঁর প্রচারশিবির সিএনএন ব্রাসিলকে জানায়, ভোট বাতিল চাইবে না। এসব দাবি নির্বাচনী আচরণ নিয়ে; অর্থ পাচারের তদন্ত আলাদা মামলা।
সংক্ষেপে
- রয়টার্সের খবর, ফ্লাভিও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে গেছেন। এটি সূত্রের বরাতে দেওয়া বিবরণ।
- লুলা পেয়েছেন ৬ কোটি ৪২ লাখ ৫৬ হাজার ২৩২ ভোট (৫১.৭৯ শতাংশ), ফ্লাভিও বলসোনারো ৫ কোটি ৯৮ লাখ ২৬ হাজার ৪১ ভোট (৪৮.২১ শতাংশ)। ব্যবধান প্রায় ৪৪ লাখ। প্রথম দফায় লুলা পিছিয়ে ছিলেন ২২ লাখ ভোটে।
- ১৯৮৫ সালের পর প্রথম দফায় হেরে দ্বিতীয় দফায় জেতা প্রথম প্রার্থী তিনি। চারবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া প্রথম ব্যক্তিও তিনি। তাঁর পাওয়া ভোট ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
- রোববার বলসোনারো বলেছিলেন, আদালতের নির্দেশে ভোটের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোয় এই ফল মেনে নেওয়া অসম্ভব। সোমবার তিনি জানান, এর বদলে প্রচারণায় অনিয়মের অভিযোগে লুলা ও তাঁর রানিংমেটের নির্বাচিত পদে থাকার অধিকার বাতিলের আবেদন করবেন; তাঁর প্রচারশিবির বলছে, ভোট বাতিলের আবেদন করা হবে না।
- লুলাকে দেশ চালাতে হবে এমন এক কংগ্রেসের সঙ্গে, যার দুই কক্ষেই বৃহত্তম দল বলসোনারোর লিবারেল পার্টি।
- সোমবার ব্রাজিলের বাজারে বড় ধস নামে। রিয়ালের বিপরীতে ডলারের দাম একপর্যায়ে প্রায় ১২ শতাংশ বাড়ে এবং দিন শেষে প্রতি ডলার প্রায় ৫.৪০ রিয়ালে দাঁড়ায়। ৩০ মিনিট লেনদেন বন্ধ থাকার পর শেয়ারসূচক ইবোভেসপা দিন শেষ করে ১৩.৯ শতাংশ কমে। মঙ্গল ও বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত বন্ড নিলাম বাতিল করেছে দেশটির ট্রেজারি।
| দফা | লুলা | ফ্লাভিও বলসোনারো |
|---|---|---|
| প্রথম দফা, ৪ অক্টোবর (বৈধ ভোটের হার) | ৪৫.১৬% (৫,৩৮,৭৬,৬১৭) | ৪৭.০৩% (৫,৬১,০৪,২৬৮) |
| দ্বিতীয় দফা, ২৫ অক্টোবর (বৈধ ভোটের হার) | ৫১.৭৯% (৬,৪২,৫৬,২৩২) | ৪৮.২১% (৫,৯৮,২৬,০৪১) |
ভোটের রাত
রোববার ১২ কোটি ৮০ লাখের বেশি ব্রাজিলীয় ভোট দিয়েছেন। দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভোটার তালিকা, ১৫ কোটি ৮৭ লাখ মানুষের মধ্যে ভোট পড়েছে ৮০.৭৮ শতাংশ। প্রথম দফায় ২১.১ শতাংশ ভোটার ভোট দেননি, এবার সেই হার কমে ১৯.২ শতাংশে নেমেছে। ব্রাজিলে বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক। আমাজোনাস রাজ্যের ইরানদুবার লাগো দো কাতালাওয়ে নদীতীরের বাসিন্দারা ডিঙি ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে ভোটকেন্দ্রে যান। রিও দি জেনেইরোর রোসিনিয়া বস্তিতে ভোরেই লম্বা সারি তৈরি হয়।
তিন সপ্তাহ আগে প্রথম দফায় বলসোনারো জিতেছিলেন ২২ লাখ ভোটে। ভোটের দিন ৮০ বছর বয়সী লুলা দুই দফার মাঝে এক কোটির বেশি ভোট বাড়িয়েছেন। তাঁর ৬ কোটি ৪৩ লাখ ভোট ব্রাজিলের রেকর্ড, ২০২২ সালের চেয়ে ৩৯ লাখ বেশি। এবারের ব্যবধান ৪৪ লাখ ৩০ হাজার, যা চার বছর আগের ২১ লাখ ৪০ হাজারের দ্বিগুণেরও বেশি। তাঁর সবচেয়ে পুরোনো ঘাঁটি উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকেই তিনি ২০২২ সালের চেয়ে প্রায় ১৯ লাখ ভোট বেশি পেয়েছেন।
রোববার রাতে একবারই এগিয়ে থাকার পালা বদলায়। সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিট থেকে ৩৮ মিনিট এগিয়ে ছিলেন বলসোনারো। এরপর বড় শহরগুলো ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ফল আসতে থাকলে রাত ৮টা ২৪ মিনিটে লুলা আবার এগিয়ে যান। ৯৭.৬৯ শতাংশ কেন্দ্রের গণনা শেষে রাত ৯টা ৮ মিনিটে সুপিরিয়র ইলেকটোরাল কোর্ট (টিএসই) তাঁকে পুনর্নির্বাচিত ঘোষণা করে।
সাও পাওলোর একটি হোটেলে স্ত্রী রোজাঙ্গেলাকে নিয়ে ভোট গণনা দেখেন লুলা। ফল ঘোষণার পর রিওর অ্যাপার্টমেন্ট ভবনগুলো থেকে গাড়ির হর্ন আর উল্লাসধ্বনি ভেসে আসে। লাল পোশাকের এক নারী জাতীয় দলের হলুদ-সবুজ জার্সি পরা চার পুরুষের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন, “তোমরা হেরেছ! আরও কাঁদো!”
দুই দফার মাঝের প্রচারণা
দুই দফার মাঝে লুলার প্রচারশিবির রাস্তায় বড় বড় সমাবেশ করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর প্রচার চালায়। লক্ষ্য ছিল প্রথম দফায় যাঁরা ভোট দিতে যাননি বা যাঁদের ভোট নানা প্রার্থীর মধ্যে ছড়িয়ে গিয়েছিল, তাঁরা।
বার্তা আদান-প্রদানের নেটওয়ার্কও ব্যবহার করে প্রচারশিবির। ফেডারেল ডেপুটি আন্দ্রে জানোনেস “এক্সেরসিতো দে লুলা” বা “লুলার সেনাবাহিনী” নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। ব্রাজিলের দৈনিক গাজেতা দো পোভোর তথ্যমতে, এতে যুক্ত ছিলেন প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ মানুষ।
ভোট নিয়ে বিরোধ ও আইনি কৌশলে বদল
রোববার ভোট নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়, আর তার শুরু বাস থেকে। কয়েকটি রাজ্যে গণপরিবহন চলেনি। বাইয়া রাজ্যের এক নির্বাচনী বিচারক জানান, অন্তত ৭৫টি সিটি বাস গ্যারেজ থেকেই বের হয়নি। তিনি সালভাদর শহরের পরিবহনসচিব পাবলো সুজাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। সুজা তখন প্যারিসে ছিলেন। ভোট শেষ হয়ে যাওয়ায় সোমবার বাইয়ার নির্বাচনী আদালত গ্রেপ্তারের নির্দেশ প্রত্যাহার করে, তবে তদন্ত চলছে। বাইয়ার ভোক্তা অধিকার সংস্থা প্রোকন-বিএর পরিদর্শকেরা রোববার সকালে সালভাদরে বাস কোম্পানিগুলোর ইয়ার্ডে ৯৪৪টি বাস আটকে থাকতে দেখেন। পাঁচ রাজ্যে পরিবহন বিপর্যয়ের ঘটনা তদন্ত করছে ফেডারেল পুলিশ।
এরপর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্রিস্তিয়ানো জানিন যেসব এলাকায় পরিবহন চলেনি, সেখানে ভোটের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর নির্দেশ দেন। বার্তা সংস্থা এপির খবর অনুযায়ী, ভোট শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট আগে এই নির্দেশ আসে। তবে অনেক কেন্দ্রে তা পৌঁছায় বিকেল ৫টার পর, যখন বেশির ভাগ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। বিচারপতি জানিন পরে স্পষ্ট করেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া কেন্দ্র বন্ধই থাকবে। টিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টার পর ভোট পড়েছে ৩৪ হাজার ৩৩০টি। যাঁরা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি, তাঁরা এই হিসাবে নেই।
গণনা শেষ হওয়ার আগেই রোববার রাতে বলসোনারো নিজের অবস্থান জানান। তিনি বলেন, “যে পরিস্থিতিতে এসব ঘটেছে, তাতে এই নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া অসম্ভব।” তিনি নির্বাচন বাতিলের আবেদন করবেন বলেও জানান। ভোটের সময় বাড়ানোকে তিনি “প্রতারণা” ও “অগ্রহণযোগ্য” বলে আখ্যা দেন।
তিনি আরও দুটি অভিযোগ তোলেন। তাঁর ভাষ্য, বিচারপতি জানিন একসময় লুলার আইনজীবী ছিলেন এবং তিনি “খেলার মাঝখানে খেলার নিয়ম বদলে দিয়েছেন”। তিনি আরও দাবি করেন, লিবারেল পার্টির (পিএল) পর্যবেক্ষকদের আদালতের সুরক্ষিত কক্ষে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টিএসই জানায়, এই দাবি মিথ্যা। আদালত বলেছে, সুরক্ষিত কক্ষটি সীমিত প্রবেশাধিকারের। পিএলের দুজন পর্যবেক্ষক ভোট একীভূতকরণ কক্ষ ও অনুমোদিত অন্য এলাকায় গিয়েছিলেন, যার হাজিরা রেকর্ড ও ভিডিও রয়েছে।
আবহাওয়ার কারণ দেখিয়ে বলসোনারোর নিজের প্রচারশিবিরও সাও পাওলো, পারানা ও সান্তা কাতারিনায় ভোটের সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল। যে বর্ধিত সময় মঞ্জুর হয়েছে, তা এসেছে বাইয়ার বাস-সংকট নিয়ে লুলার জোটের আবেদনে। বলসোনারোর শিবিরও ভোটের সময় বাড়াতে চেয়েছিল, কিন্তু পায়নি।
নির্বাচনী আদালতের প্রেসিডেন্ট কাসিও নুনেস মার্কেসকে সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ দিয়েছিলেন জাইর বলসোনারো। তিনি বলেন, আদালতের “পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর পূর্ণ আস্থা” রয়েছে এবং সময় বাড়ানোয় ফলে কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রসিকিউটর জেনারেল পাওলো গোনেত ফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসের (ওএএস) পর্যবেক্ষক দলের প্রধান হোসে মিগেল ইনসুলসা বলেছেন, ব্রাজিলের নির্বাচনব্যবস্থা “খুবই মজবুত”।
আইনি কৌশল বদলের খবর আসার আগে সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইনবিষয়ক অধ্যাপক রুবেন্স বেসা রয়টার্সকে বলেন, নির্বাচন বাতিলের আবেদন সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাঁর ভাষ্য, সম্ভাব্য প্রভাবিত ভোট ফল বদলাতে পারে কি না, তা আদালতকে মূল্যায়ন করতে হবে। ইনফোমানিতে প্রকাশিত রয়টার্সের বিবরণটি সোমবার বিকেলের। ভোট বাতিল চাওয়া থেকে প্রচারশিবিরের সরে আসা নিয়ে সিএনএনের খবরের আগেই তা প্রকাশিত হয়।
ফাটল ধরেছে বলসোনারোর নিজের শিবিরেও। সাও পাওলোর ভাইস গভর্নর ফেলিসিও রামুত, যাঁর গভর্নর বলসোনারোকে সমর্থন দিয়েছিলেন, ফল মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা ব্রাজিলকে এমন একটি পরিবর্তন দিতে কাজ করেছি, যা আমরা প্রয়োজনীয় মনে করেছিলাম। কিন্তু বেশির ভাগ ভোটার অন্য পথ বেছে নিয়েছেন, আর আমি ব্যালটের রায়কে সম্মান করি।” তিনি মনে করিয়ে দেন, লিবারেল পার্টি নিজেও কোথাও কোথাও ভোটের সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল।
সোমবার ফ্লাভিও পথ বদলান। এক ভিডিওতে তিনি লুলার প্রচারশিবিরের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন, যার মধ্যে তাঁর ভাষায় ভুয়া খবরের একটি “শিল্প কারখানা”ও আছে। তিনি বলেন, “তাঁর সব অনিয়মের জন্য আমি লুলা ও তাঁর রানিংমেটের নির্বাচিত পদে থাকার অধিকার বাতিলের আবেদন করব।” তাঁর প্রচারশিবিরের সদস্যরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএনএন ব্রাসিলকে বলেছেন, ভোট বাতিলের কোনো আবেদন করা হবে না। আইনজীবী দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, লুলার নির্বাচিত পদে থাকার অধিকার বাতিলের ২০টি আবেদন এরই মধ্যে দেওয়া হয়েছে, আরও আসবে। এই বিবরণ সিএনএনের প্রতিবেদনের; আদালতে জমা পড়া মামলার স্বাধীনভাবে যাচাই করা হিসাব নয়।
৪ অক্টোবর নির্বাচিত কংগ্রেস
প্রেসিডেন্ট পদের ফয়সালা হয়েছে রোববার। কংগ্রেসের ফয়সালা হয়েছিল তিন সপ্তাহ আগে, প্রথম দফার ভোটে, আর তা গেছে উল্টো দিকে। বলসোনারোর লিবারেল পার্টি চেম্বার অব ডেপুটিজের ৫১৩ আসনের মধ্যে ১২১টিতে জিতেছে, যা ১৯৯৮ সালের পর কোনো একক দলের সবচেয়ে বড় সংসদীয় দল। সিনেটের ৮১ আসনের মধ্যে দলটির ২৮টি পাওয়ার কথা। একটি হিসাবে ডানপন্থী ও মধ্য-ডানপন্থী দলগুলোর হাতে মিলিয়ে সিনেটে ৫১টি ও চেম্বারে ২৯৪টি আসন। এই মতাদর্শগত শ্রেণিবিন্যাস সই করা কোনো সরকার গঠনের জোট নয়। লুলার আমলে প্রতিটি দল কীভাবে ভোট দেবে, তা এই হিসাব প্রতিষ্ঠা করে না। সিনেটের প্রেসিডেন্ট দাভি আলকোলুম্ব্রে ৪০ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানের কথা উল্লেখ করে রোববারই লুলার জয় স্বীকার করেন।
বিজয় ভাষণে লুলা নিজেই সমস্যাটির কথা বলেন। “আমি জাতীয় ঐক্যের কথা বলব না, কারণ এই দেশে শব্দটি সব সময় খাটে না,” বলেন তিনি। “কংগ্রেস আমি বেছে নিইনি। জনগণ বেছে নিয়েছে, আর তাদের সঙ্গেই আমি কাজ করব।”
বিদেশ থেকে অভিনন্দন, দেশে বাজারে ধস
ইনফোমানির সোমবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুলার জয় স্বীকার করা নেতাদের দেশের মধ্যে কানাডা, মেক্সিকো, চিলি ও পেরু রয়েছে। বিদেশি সরকারের ফল স্বীকার করে নেওয়া প্রচারে অনিয়মের অভিযোগের নিষ্পত্তি করে না।
সোমবার বিনিয়োগকারীরা ব্রাজিলের শেয়ার ও মুদ্রা বিক্রি করেন; বিশ্লেষকেরা সরকারের রাজস্বনীতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দুটিই বিবেচনায় নিচ্ছিলেন। রিয়ালের বিপরীতে ডলারের দাম একপর্যায়ে প্রায় ১২ শতাংশ বাড়ে। শুক্রবার প্রতি ডলারের দাম ছিল ৪.৯৯৩ রিয়াল, সোমবার তা প্রায় ৫.৬০ রিয়াল ছোঁয়। ইনফোমানি জানায়, দিন শেষে প্রতি ডলারের বিক্রয়মূল্য ছিল ৫.৪০৩ রিয়াল। শেয়ারসূচক ইবোভেসপা একপর্যায়ে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। ১০ শতাংশ পতনের পর ৩০ মিনিট লেনদেন বন্ধ রাখা হয়, ২০২০ সালের পর যা প্রথম। দিন শেষে সূচক ১৩.৯ শতাংশ কমে। মঙ্গল ও বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত বন্ড নিলাম বাতিল করেছে ব্রাজিলের ট্রেজারি।
বিশ্লেষকেরা প্রথমেই লুলার চতুর্থ মেয়াদে সরকারি ব্যয় অব্যাহত থাকার সম্ভাবনার কথা বলছেন। ডাচ ব্যাংক আইএনজির ক্রিস টার্নার বলেন, বাজারের প্রশ্ন হলো “বলসোনারো কত দ্রুত ফল মেনে নেন”, কারণ দ্রুত মেনে নিলে অনিশ্চয়তার বাড়তি ঝুঁকি কেটে যাবে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের মরিসিও মঙ্গে সরকারের আর্থিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। বিনিয়োগকারীরা এখন তাকিয়ে আছেন লুলা কাকে অর্থমন্ত্রী করেন, সেদিকে।
বলসোনারোর সমর্থক ৫১ বছর বয়সী ব্যবসায়ী রদ্রিগো ভ্যালেন্তিম এপিকে বলেন, “মানুষ কীভাবে লুলাকে ভোট দেয়, বুঝি না। দেশটা ভেঙে পড়ছে।” উইলসন সেন্টারের ব্রাজিল ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক পাওলো সোতেরো সিএনএনকে বলেন, ভোটের সময় বাড়ানো “কোনো অনিয়ম ছিল না”। পুনর্গণনা বা নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনাকে তিনি বলেছেন “খুবই, খুবই ক্ষীণ”।
আইনি নজির ও বর্তমান অভিযোগ
ব্রাজিল এমন পরিস্থিতি আগেও দেখেছে, উল্টো দিক থেকে। ২০২২ সালে লুলার কাছে হেরে জাইর বলসোনারো হার স্বীকার না করে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ভোট গণনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানচেষ্টার দায়ে তিনি এখন ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এবার তাঁর ছেলে মামলা নিয়ে যাচ্ছেন সেই একই নির্বাচনী আদালতে, যে আদালত ২০২২ সালের ফলের বিরুদ্ধে তাঁর বাবার দলের আবেদন খারিজ করেছিল।
প্রচারশিবিরের সরে আসার খবরটি ভোটের বৈধতা নিয়ে। প্রচারের আচরণ নিয়ে তাদের অভিযোগ নির্বাচনী আদালতের মূল্যায়নের বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে। এমন কোনো মামলার সিদ্ধান্ত নিতে আদালতকে নির্দিষ্ট দাবি ও প্রমাণ পরীক্ষা করতে হবে।
এরপর কী
- ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল চূড়ান্তভাবে প্রত্যয়ন করা হবে। লুলার চতুর্থ মেয়াদ শুরু হবে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি।
- প্রচারে অনিয়মের অভিযোগে লুলা ও তাঁর রানিংমেটের নির্বাচিত পদে থাকার অধিকার বাতিল চাইবেন বলে ফ্লাভিও জানিয়েছেন। তাঁর প্রচারশিবির সিএনএনকে বলেছে, ভোট বাতিল চাইবে না। আদালতে আসা দাবির নিষ্পত্তি আদালতকেই করতে হবে।
- ভোটের পর প্রথমবারের মতো ৩ ও ৪ নভেম্বর সুদহার নিয়ে বৈঠকে বসবে ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
- ৪ অক্টোবর নির্বাচিত কংগ্রেস প্রথম অধিবেশনে বসবে ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি।








