ব্রাজিল

  • ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

    ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

    বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতার নাম ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই বহুল প্রতীক্ষিত মহারণের সম্ভাবনা জাগতে শুরু করেছে। নিজ নিজ গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে দুই লাতিন পরাশক্তি। ফলে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

    গ্রুপ ‘জে’ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এ উঠেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে গ্রুপ ‘সি’-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। বর্তমান নকআউট সূচি অনুযায়ী দুই দল রয়েছে টুর্নামেন্টের ভিন্ন অংশে। তাই ফাইনালের আগে তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাব্য মঞ্চ হতে পারে সেমিফাইনাল।

    তবে সেই স্বপ্নের লড়াই দেখতে হলে দুই দলকেই পেরোতে হবে নকআউট পর্বের একাধিক কঠিন ধাপ। শেষ ৩২, শেষ ১৬ ও কোয়ার্টার ফাইনালে জয় পেলে তবেই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল।

    গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে আছে আর্জেন্টিনা। প্রথম দুই ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ এবং অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্সআপ দল।

    অন্যদিকে ব্রাজিল শুরুটা করেছিল মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে। তবে পরবর্তী দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে একই ব্যবধানে ৩-০ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় কার্লো আনচেলত্তির দল। গোল ব্যবধানে মরক্কোকে পেছনে ফেলে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউট নিশ্চিত করে সেলেসাওরা। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ—নেদারল্যান্ডস, সুইডেন কিংবা জাপানের মধ্যে কোনো একটি দল।

    ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ১০৬টি অফিসিয়াল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। পরিসংখ্যানে সামান্য এগিয়ে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেরা জিতেছে ৪১টি ম্যাচ, ব্রাজিলের জয় ৩৯টি, আর ২৬টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। সাম্প্রতিক সময়েও এই ঐতিহ্যবাহী লড়াইয়ে কিছুটা আধিপত্য ধরে রেখেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    এখন ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা, নকআউটের বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি স্মরণীয় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণ উপহার দিতে পারে কি না দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

  • ব্রাজিলের সিংহাসন কি আজ রাতেই জার্মানির দখলে

    ব্রাজিলের সিংহাসন কি আজ রাতেই জার্মানির দখলে

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে চলছে রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের মধ্যে জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের প্রতিযোগিতা। শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যেই নয়, দলগুলোর মধ্যেও চলছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিশেষ করে ব্রাজিল-জার্মানির মধ্যে চলছে ‘টম অ্যান্ড জেরি’র মতো খেলা। কখনো এগিয়ে যাচ্ছে ব্রাজিল, কখনোবা জার্মানি।

    মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় ভোরে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড। এই ম্যাচ শুরুর আগে বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ডে যৌথভাবে শীর্ষে ছিল ব্রাজিল-জার্মানি। দুই দলেরই ছিল ২৪১ গোল। আজ স্কটিশদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিল ব্রাজিল। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ এবার তাদের গোলসংখ্যা ২৪৪। তবে এই রেকর্ড কতক্ষণ টিকে থাকে সেটাই দেখার। কারণ, বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় নিউইয়র্কে শুরু হবে জার্মানি-ইকুয়েডর ম্যাচ। বিশ্বকাপ এলেই যে জার্মানকে দেখা যায় ভয়ংকর রূপে, তাতে হয়তো রাতেই সর্বোচ্চ গোলের সিংহাসনটা ব্রাজিলের কাছ থেকে কেড়ে নেবে জার্মানরা।

    জার্মানি-ব্রাজিলের লড়াইটা শুরু ১৪ জুন থেকেই। সেদিন ভোরে নিউজার্সিতে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল ব্রাজিল। ২৩৮ গোল নিয়ে তখনো বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ব্রাজিলেরই। কিন্তু সেই রাতে এক ঝটকায় সব ওলটপালট করে দিল জার্মানরা। হিউস্টনে নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে গোলসংখ্যা ২৩৯ করে ফেলল জার্মানি।

    ২৩৯ গোল করে রেকর্ডটা এক সপ্তাহ টিকিয়ে রাখতে পারেনি জার্মানি। ২০ জুন ভোরে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ফের নিজের দখলে নেয় ব্রাজিল। এই তিন গোলের পর সেলেসাওদের গোলসংখ্যা হয়েছে ২৪১। কাকতালীয়ভাবে একই রাতে পড়ে যায় জার্মানদের ম্যাচ। তবে এবার আর জার্মানরা টপকে যেতে পারেনি ব্রাজিলকে। টরন্টোতে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতে জার্মানি। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তার এই জয়ে ১২ বছর পর নকআউট পর্বের টিকিট কেটেছে জার্মানরা।

    আজ সকালেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে জার্মানিকে ছাড়িয়ে গেছে ব্রাজিল। তাতে করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে চলে এসেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তিন গোলের দুটি করেছেন ভিনি এবং মাথিয়াস কুনিয়া করেন এক গোল। ৫ গোল করে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি। চারটি করে গোল করে যৌথভাবে দুইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড এবং ভিনি।

    অবস্থানদলগোল
    ১ব্রাজিল২৪৪
    ২জার্মানি২৪১
    ৩আর্জেন্টিনা১৫৭
    ৪ফ্রান্স১৪২
    ৫ইতালি১২৮
  • ভিনির জাদুতে নকআউটে গ্রুপ সেরা ব্রাজিল 

    ভিনির জাদুতে নকআউটে গ্রুপ সেরা ব্রাজিল 

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ব্রাজিলের জার্সিতে প্রায় তিন বছর পর মাঠে ফিরেছেন নেইমার জুনিয়র। তবে ব্রাজিলিয়ান নাম্বার টেন মাঠে প্রবেশের আগে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন ভিনিসিয়ুস ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রথম দুই ম্যাচে গোল পাওয়া এই তরুণ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে করেছেন জোড়া গোল। তার দাপটে ৩-০ গোলে জিতেছে সেলেসাওরা। গ্রুপ ‘সি’ সেরা দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে।

    ব্রাজিলের ‘সি’ গ্রুপের অপরসঙ্গী মরক্কো ৪-২ গোলে হাইতির বিপক্ষে জয় পেয়েছে। তিন ম্যাচ থেকে ব্রাজিলের সমান ৭ পয়েন্ট তুলেছে আফ্রিকার দলটিও। তবে ব্রাজিলের চেয়ে ৩ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা দলটি।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোরে মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতে লিড নেয় ব্রাজিল। ম্যাচের ৭ মিনিটে জালে বল পাঠিয়ে দেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। রাফিনিয়ার ইনজুরিতে শুরুতে একাদশে জায়গা পাওয়া রায়ান তাকে গোলে সহায়তা দেন। বক্সের মুখে স্কটিশ ডিফেন্ডারের নড়বড়ে নিয়ন্ত্রণের সুযোগে পা থেকে বল কেড়ে ভিনিকে দিলে সহজে জালে পাঠান তিনি।

    প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ভিনি দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন। দলকে নির্ভার রেখে প্রথমার্ধ শেষ করেন। তার এবারের গোলটি পাওয়া হেড থেকে। গোলের একেবারেই মুখে ব্রুনো গিমারেজ ফাঁকায় থাকা ভিনিকে লম্বা করে বল পাঠান। তিনি হেড দিয়ে জালে বল পাঠিয়ে দেন।দলের তৃতীয় গোলটিকেও দারুণ এক সহায়তা দিয়েছেন ব্রাজিলের মাঝমাঠের প্রাণভ্রোমরা গিমারেজ। তিনি ম্যাচের ৬০ মিনিটে স্কটল্যান্ডের বক্সের ঠিক বাহির থেকে ছোট্ট নিঁখুত পাসে ম্যাথিউস কুনিয়াকে ফাঁকায় বল পাঠান। বাঁ পায়ের শটে গোল করেন ম্যানইউ স্ট্রাইকার। টুর্নামেন্টে ভিনির চার গোলের পাশাপাশি তিন গোল করেছেন এই নাম্বার নাইন। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার জুনিয়র। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবরের পর ব্রাজিলের জার্সি গায়ে পরে খেলছেন এই তারকা।

  • ব্রাজিলের জয়ে ফেরা নাকি হাইতির চমক

    ব্রাজিলের জয়ে ফেরা নাকি হাইতির চমক

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ব্রাজিলের সমর্থকরা এখন ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ! কীভাবে—একটু খোলাসা করে বলি, ব্রাজিল ফুটবলের ঘোর সমর্থক দেশের নাম হাইতি। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন খেলতে নামে ব্রাজিলিয়ানরা, তখন আবেগ-উচ্ছ্বাসে একাকার হয় হাইতির মানুষ। এই দৃশ্যই ছিল চিরন্তন। এত দিন ধরে ব্রাজিলেই ফুটবলানন্দ খুঁজত হাইতি। কেননা তখন বিশ্বকাপে দর্শক ছিল তারা। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই প্রিয় দল ব্রাজিলই আজ তাদের প্রতিপক্ষ। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলছে হাইতি। ব্রাজিলের বিপক্ষে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের এই দলটির মাঠে নামার ব্যাপারটি অনেকটাই ‘বন্ধু যখন শত্রু’ মতো অবস্থা দাঁড়িয়েছে।
    ফিফা র‌্যাংকিংয়ে হাইতির অবস্থান ৮২তম। যেখানে ব্রাজিল রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। র‌্যাংকিংয়ে দুদলের ব্যবধান আকাশ-পাতাল। তবে ৯০ মিনিটের খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাবে না। কেননা বিশ্বমঞ্চে মাঠের লড়াইয়ে ছোট-বড় দলের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য থাকে না। বড় দলের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখেই লড়াই করে ছোট দলগুলো। এতে নতুন ইতিহাস আর রূপকথার জন্ম হয়। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ফুটবলের চিরন্তন সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে আছে সেলেসাওরা। এবারের বিশ্বকাপেও ফেভারিট দল তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। পরাশক্তি ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়া মানেই হাইতির জন্য কঠিন এক অগ্নিপরীক্ষার মতো। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও অফুরন্ত প্রাণশক্তি নিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার চেষ্টা করবে লড়াকু এই দলটি। দুদলের ম্যাচটি আগামীকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টা ম্যাচটি শুরু হবে। এ ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ে ফেরা নাকি ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়ে কোনো অঘটনের জন্ম দেয় হাইতি—সেটিই দেখার বিষয়।
    বিশ্বকাপ শুরুর ম্যাচে চেনা ব্রাজিলকে দেখা যায়নি। মরক্কোর হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে তাদের পাসিং ফুটবল ছিল ম্রিয়মাণ। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গোল আর গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের নৈপুণ্যে মরক্কোর বিপক্ষে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা। তবে মরক্কো ম্যাচের ভুলগুলো নিয়ে অনেক কাজ করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। হাইতির বিপক্ষে স্বরূপেই ফিরতে মরিয়া তার দল। এ ম্যাচেও নেইমারের খেলা নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। যদিও দলের সঙ্গে অনুশীলনে করছেন এই সুপারস্টার। তাই আক্রমণভাগে ভিনিসিয়াসকেই দায়িত্ব নিতে হবে। তার সঙ্গে থাকছেন দারুণ ফর্মে থাকা রাফিনহা। তবে ব্রাজিলের শক্তির জায়গা মাঝমাঠ গত ম্যাচে অতটা সৃজনশীল দেখা যায়নি। দুই উইংও শক্ত ছিল না। রক্ষণভাগ আগলে রাখার ক্ষেত্রে ব্রাজিলকে নড়েবড়ে দেখায়। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলে হাইতির বিপক্ষে দুরন্ত ব্রাজিলকেই দেখা যাবে। কৌশলগত দিক বিবেচনা করলে হাইতির বিপক্ষে শুরু থেকেই চড়াও হতে পারে ব্রাজিল। প্রথমার্ধেই গোল আদায় করে নেওয়া এবং পরে গোল ব্যবধান বাড়িয়ে রাখাই হবে সেলেসাওদের মূল লক্ষ্য। কেননা পরের রাউন্ডে খেলার সমীকরণ মেলানোর জন্য হাইতির বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই ব্রাজিলের সামনে।
    অন্যদিকে, শারীরিক সক্ষমতা, গতি আর হারানোর কিছু না থাকার মানসিকতাই হাইতি দলের মূল শক্তি। দলটি ভালো করেই জানে, ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে বল দখল রাখাটা অসম্ভব কাজ। তাই তাদের মূল কৌশল হবে রক্ষণভাগে ‘বাস পার্ক’ করা বা দলগতভাবে ডিফেন্ড করা এবং পাল্টা আক্রমণে ওপরে ওঠা। হাইতির আক্রমণভাগ ব্রাজিলের হাই-লাইন ডিফেন্সের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেট পিস কিংবা কর্নার—উভয় দিক থেকেই গোল করার ক্ষেত্রে বেশ পারদর্শী হাইতি। তাদের একটাই ঘাটতি, বিশ্বমঞ্চে বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতার অভাব। তাই পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডদের ঠেকিয়ে রাখাটা তাদের জন্য কঠিন হবে। তবে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শুরু হওয়া দলটিও জয়ের খোঁজে থাকবে।
    অতীত রেকর্ডের দিকে তাকালে ব্রাজিলের পাল্লা শুধু ভারীই নয়, বরং একচেটিয়া। বড় টুর্নামেন্টে এই দুই দলের দেখা হওয়ার নজির কম। সর্বশেষ ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার মঞ্চে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল দুদল। ওই টুর্নামেন্টে ব্রাজিল ৭-১ গোলে হারায় হাইতিকে। এর আগে ২০০৪ সালে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে তাদের। এর আগে ১৯৭৪ সালে আরেক প্রীতি ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয়ের রেকর্ড রয়েছে ব্রাজিলের। বিশ্বকাপেও এই সাফল্যের ছন্দ ধরে রাখতে চাইবে ব্রাজিল।

  • চোট কাটিয়ে অনুশীলনে নেইমার

    চোট কাটিয়ে অনুশীলনে নেইমার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অনুশীলনে নামলেন নেইমার। গত ১৬ জুন নিউজার্সিতে ব্রাজিলের অনুশীলন মাঠে দৌড়াতে দেখা গেছে তাকে। এটি তার সুস্থতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

    ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড মে মাসের শেষ দিকে ডান পায়ের কাফ মাসলে চোট পান। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকেই তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এখনো পূর্ণ অনুশীলনে ফেরেননি তিনি।

    মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে নেইমার মাঠে নামতে পারেননি। সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ধাক্কা ছিল।

    ২০২৩ সালের পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে আর কোনো ম্যাচ খেলেননি নেইমার। এবারের বিশ্বকাপ দলে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। শেষমেশ সব গুঞ্জনকে সত্যি প্রমাণ করে নেইমার জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বকাপের স্কোয়াডে।

    ব্রাজিলের পরের ম্যাচ শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায়, হাইতির বিরুদ্ধে। এরপর ২৪ জুন মায়ামিতে গ্রুপ সি-র শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। নেইমার এর মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন কিনা, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

  • দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপানের কাছে হারবে ব্রাজিল!

    দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপানের কাছে হারবে ব্রাজিল!

    তিনটি বিশ্বকাপে সঠিক বলা জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট এবারের বিশ্বকাপ নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।

    ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা ফিফা বিশ্বকাপে জার্মানির সব ম্যাচের ফলাফল সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল পল দ্য অক্টোপাস।বিশ্বজুড়ে তখন তিনি ভবিষ্যৎ বক্তা হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিলেন।

    এরপর জোয়াকিম ক্লেমেন্ট একটি জটিল পূর্বাভাস মডেলের মাধ্যমে পলকেও ছাড়িয়ে গেছেন, যা ২০১৪ সাল থেকে শতভাগ ক্ষেত্রে বিশ্বকাপের বিজয়ী সঠিকভাবে পূর্বাভাস দিয়েছে।

    এই মডেল অনুসারে, এবারের বিশ্বকাপে ট্রফি জিততে পারলে নেদারল্যান্ডস হবে ক্লেমেন্টের পরিসংখ্যানভিত্তিক ভবিষ্যদ্বাণীর চতুর্থ সাফল্য।

    শুধু বিজয়ী দল নয়, ৪৮ দলের পুরো বিশ্বকাপের গতিপথও তার মডেল বর্ণনা করছে।

    এতে দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জাপানের একটি চমকপ্রদ জয় এবং একই পর্যায়ে স্কটল্যান্ডের দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বিদায়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়াও, তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে পৌঁছাবে এবং ২০০৬ সালের দুই দশক পর পর্তুগাল আবারও ইংল্যান্ডকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দেবে।

    ক্লেমেন্ট, যিনি নিজেকে একজন নিরাশাবাদী’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং এক দশক ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন, তার কাজের উদ্দেশ্য কখনোই হতাশা এড়ানো বা জুয়া খেলে অর্থ উপার্জন করা ছিল না।

    বরং, তিনি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন যে, ফলাফল ভবিষ্যদ্বাণী করার চেষ্টা করাটা কতটা অযৌক্তিক হতে পারে।

    তার প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হওয়ার পর, যখন তার নিজ দেশ জার্মানি ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ জিতেছিল, ক্লেমেন্ট ভেবেছিলেন, ২০১৮ সালে হিসাবটি পুনরাবৃত্তি করলে প্রমাণিত হবে যে পুরোটাই ছিল নিছক কাকতালীয়।

    কিন্তু ২০১৮ সালে ফ্রান্সের ক্ষেত্রে এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও তিনি আবারও সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছিলেন।

  • বিশ্বকাপের আগে পানামাকে ৬-২ গোলে হারিয়ে ছন্দে ফিরল ব্রাজিল

    বিশ্বকাপের আগে পানামাকে ৬-২ গোলে হারিয়ে ছন্দে ফিরল ব্রাজিল

    বিশ্বকাপ শুরুর আগেই সমর্থকদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিল। মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলে পরাজিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। দলের হয়ে ছয়টি গোলই করেছেন ছয় ভিন্ন খেলোয়াড়- ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কাসেমিরো, রায়ান, লুকাস পাকেতা, ইগর থিয়াগো ও দানিলো।

    ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই ভিনিসিয়ুসের গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। তবে ১৪তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে আসা বল ম্যাথিউস কুনহার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলে সমতায় ফেরে পানামা।

    প্রথমার্ধে চার রক্ষণভাগ, দুই মধ্যমাঠ ও চার আক্রমণভাগের বিন্যাসে দলকে খেলান আনচেলত্তি। তবে এ সময়ে মধ্যমাঠে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারাইসকে বেশ চাপে পড়তে হয়। আক্রমণে প্রত্যাশিত ধারও দেখা যায়নি।

    দ্বিতীয়ার্ধে একসঙ্গে ১০ জন খেলোয়াড় পরিবর্তনের পর ব্রাজিলের খেলায় নতুন গতি দেখা যায়। এ সময় রায়ান, পাকেতা, থিয়াগো ও দানিলো গোল করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন। পানামার হয়ে কার্লোস হার্ভি একটি গোল শোধ করলেও তা কেবল ব্যবধান কমাতেই সাহায্য করে। শেষ পর্যন্ত ৬-২ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    তবে বড় জয়ের পরও দলের প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন কোচ আনচেলত্তি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, দ্বিতীয়ার্ধের খেলা তার মনে কিছু ইতিবাচক সংশয়ের জন্ম দিয়েছে। তবে তার মতে, দলের ভেতরে সুস্থ প্রতিযোগিতা ও নিজেদের জায়গা ধরে রাখার লড়াই থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশ্বকাপে ব্রাজিল কোন কৌশল বা বিন্যাসে খেলবে এমন প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি হাস্যরসের সুরে বলেন, তিনি বিশ্বকাপ শুরুর আগে কিছু রহস্য বজায় রাখতে চান। এতে সমর্থক ও গণমাধ্যমের আগ্রহও বজায় থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে ম্যাচের আগে ও পরে মাঠে উপস্থিত ছিলেন নেইমার। পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানায়। শারীরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় তিনি প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে অংশ নিচ্ছেন না।

    ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের স্বল্প সময়ের জন্য পরিবারের সঙ্গে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পরে পুরো দল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেবে। সেখানে তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন সাম্প্রতিক মহাদেশীয় ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনালে অংশ নেওয়া মারকিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি।

    বিশ্বকাপের আগে এই বড় জয় ব্রাজিল শিবিরে আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও দলকে আরও পরিপূর্ণ করতে কিছু জায়গায় কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন কোচ আনচেলত্তি।