ব্রাজিলে নজিরবিহীনভাবে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা। প্রথম দফায় ২২ লাখ ভোটে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয় দফায় জিতেছেন তিনি। ১৯৮৫ সালে দেশটিতে গণতন্ত্র ফেরার পর কোনো প্রার্থী এমন ব্যবধান ঘুচিয়ে জিততে পারেননি। রোববার রাতে পরাজিত প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো বলেছিলেন, তিনি নির্বাচন বাতিলের আবেদন করবেন। সোমবার তিনি পথ বদলান: এক ভিডিওতে বলেন, প্রচারণায় অনিয়মের অভিযোগে লুলার প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করবেন তিনি। তাঁর প্রচারশিবিরের সদস্যরা সিএনএন ব্রাসিলকে জানিয়েছেন, ভোট বাতিলের কোনো আবেদন করা হবে না।
সংক্ষেপে
- লুলা পেয়েছেন ৬ কোটি ৪২ লাখ ৫৬ হাজার ২৩২ ভোট (৫১.৭৯ শতাংশ), ফ্লাভিও বলসোনারো ৫ কোটি ৯৮ লাখ ২৬ হাজার ৪১ ভোট (৪৮.২১ শতাংশ)। ব্যবধান প্রায় ৪৪ লাখ। প্রথম দফায় লুলা পিছিয়ে ছিলেন ২২ লাখ ভোটে।
- ১৯৮৫ সালের পর প্রথম দফায় হেরে দ্বিতীয় দফায় জেতা প্রথম প্রার্থী তিনি। চারবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া প্রথম ব্যক্তিও তিনি। তাঁর পাওয়া ভোট ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
- রোববার বলসোনারো বলেছিলেন, আদালতের নির্দেশে ভোটের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোয় এই ফল মেনে নেওয়া অসম্ভব। সোমবার তিনি জানান, এর বদলে প্রচারণায় অনিয়মের অভিযোগে লুলার প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করবেন; তাঁর প্রচারশিবির বলছে, ভোট বাতিলের আবেদন করা হবে না।
- লুলাকে দেশ চালাতে হবে এমন এক কংগ্রেসের সঙ্গে, যার দুই কক্ষেই বৃহত্তম দল বলসোনারোর লিবারেল পার্টি।
- সোমবার ব্রাজিলের বাজারে বড় ধস নামে। রিয়ালের বিপরীতে ডলারের দাম একপর্যায়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে, দিন শেষে ৮.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ডলার ৫.৪০ রিয়ালে দাঁড়ায়। ৩০ মিনিট লেনদেন বন্ধ থাকার পর শেয়ারসূচক ইবোভেসপা দিন শেষ করে ১৩.৯ শতাংশ কমে। মঙ্গল ও বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত বন্ড নিলাম বাতিল করেছে দেশটির ট্রেজারি।
| দফা | লুলা | ফ্লাভিও বলসোনারো |
|---|---|---|
| প্রথম দফা, ৪ অক্টোবর (বৈধ ভোটের হার) | ৪৫.১৬% (৫,৩৮,৭৬,৬১৭) | ৪৭.০৩% (৫,৬১,০৪,২৬৮) |
| দ্বিতীয় দফা, ২৫ অক্টোবর (বৈধ ভোটের হার) | ৫১.৭৯% (৬,৪২,৫৬,২৩২) | ৪৮.২১% (৫,৯৮,২৬,০৪১) |
ভোটের রাত
রোববার ১২ কোটি ৮০ লাখের বেশি ব্রাজিলীয় ভোট দিয়েছেন। দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভোটার তালিকা, ১৫ কোটি ৮৭ লাখ মানুষের মধ্যে ভোট পড়েছে ৮০.৭৮ শতাংশ। প্রথম দফায় ২১.১ শতাংশ ভোটার ভোট দেননি, এবার সেই হার কমে ১৯.২ শতাংশে নেমেছে। ব্রাজিলে বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক। আমাজোনাস রাজ্যের ইরানদুবার লাগো দো কাতালাওয়ে নদীতীরের বাসিন্দারা ডিঙি ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে ভোটকেন্দ্রে যান। রিও দি জেনেইরোর রোসিনিয়া বস্তিতে ভোরেই লম্বা সারি তৈরি হয়।
তিন সপ্তাহ আগে প্রথম দফায় বলসোনারো জিতেছিলেন ২২ লাখ ভোটে। ৮০ বছর বয়সী লুলা দুই দফার মাঝে এক কোটির বেশি ভোট বাড়িয়েছেন। তাঁর ৬ কোটি ৪৩ লাখ ভোট ব্রাজিলের রেকর্ড, ২০২২ সালের চেয়ে ৩৯ লাখ বেশি। এবারের ব্যবধান ৪৪ লাখ ৩০ হাজার, যা চার বছর আগের ২১ লাখ ৪০ হাজারের দ্বিগুণেরও বেশি। তাঁর সবচেয়ে পুরোনো ঘাঁটি উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকেই তিনি ২০২২ সালের চেয়ে প্রায় ১৯ লাখ ভোট বেশি পেয়েছেন।
রোববার রাতে একবারই এগিয়ে থাকার পালা বদলায়। সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিট থেকে ৩৮ মিনিট এগিয়ে ছিলেন বলসোনারো। এরপর বড় শহরগুলো ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ফল আসতে থাকলে রাত ৮টা ২৪ মিনিটে লুলা আবার এগিয়ে যান। ৯৭.৬৯ শতাংশ কেন্দ্রের গণনা শেষে রাত ৯টা ৮ মিনিটে সুপিরিয়র ইলেকটোরাল কোর্ট (টিএসই) তাঁকে পুনর্নির্বাচিত ঘোষণা করে।
সাও পাওলোর একটি হোটেলে স্ত্রী রোজাঙ্গেলাকে নিয়ে ভোট গণনা দেখেন লুলা। ফল ঘোষণার পর রিওর অ্যাপার্টমেন্ট ভবনগুলো থেকে গাড়ির হর্ন আর উল্লাসধ্বনি ভেসে আসে। লাল পোশাকের এক নারী জাতীয় দলের হলুদ-সবুজ জার্সি পরা চার পুরুষের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন, “তোমরা হেরেছ! আরও কাঁদো!”
দুই দফার মাঝের প্রচারণা
দুই দফার মাঝে লুলার প্রচারশিবির রাস্তায় বড় বড় সমাবেশ করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর প্রচার চালায়। লক্ষ্য ছিল প্রথম দফায় যাঁরা ভোট দিতে যাননি বা যাঁদের ভোট নানা প্রার্থীর মধ্যে ছড়িয়ে গিয়েছিল, তাঁরা। তিন সপ্তাহে এই ব্যবধান ঘোচানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে অনেক পর্যবেক্ষক সন্দিহান ছিলেন।
সমাবেশের আড়ালে চলছিল আরেকটি তৎপরতা। ফেডারেল ডেপুটি আন্দ্রে জানোনেস “এক্সেরসিতো দে লুলা” বা “লুলার সেনাবাহিনী” নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। ব্রাজিলের দৈনিক গাজেতা দো পোভোর তথ্যমতে, এতে যুক্ত ছিলেন প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ মানুষ।
ভোট নিয়ে বিরোধ ও আইনি কৌশলে বদল
রোববার ভোট নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়, আর তার শুরু বাস থেকে। কয়েকটি রাজ্যে গণপরিবহন চলেনি। বাইয়া রাজ্যের এক নির্বাচনী বিচারক জানান, অন্তত ৭৫টি সিটি বাস গ্যারেজ থেকেই বের হয়নি। তিনি সালভাদর শহরের পরিবহনসচিব পাবলো সুজাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। সুজা তখন প্যারিসে ছিলেন। ভোট শেষ হয়ে যাওয়ায় সোমবার বাইয়ার নির্বাচনী আদালত গ্রেপ্তারের নির্দেশ প্রত্যাহার করে, তবে তদন্ত চলছে। বাইয়ার ভোক্তা অধিকার সংস্থা প্রোকন-বিএর পরিদর্শকেরা রোববার সকালে সালভাদরে বাস কোম্পানিগুলোর ইয়ার্ডে ৯৪৪টি বাস আটকে থাকতে দেখেন। পাঁচ রাজ্যে পরিবহন বিপর্যয়ের ঘটনা তদন্ত করছে ফেডারেল পুলিশ।
এরপর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্রিস্তিয়ানো জানিন যেসব এলাকায় পরিবহন চলেনি, সেখানে ভোটের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর নির্দেশ দেন। বার্তা সংস্থা এপির খবর অনুযায়ী, ভোট শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট আগে এই নির্দেশ আসে। তবে অনেক কেন্দ্রে তা পৌঁছায় বিকেল ৫টার পর, যখন বেশির ভাগ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। বিচারপতি জানিন পরে স্পষ্ট করেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া কেন্দ্র বন্ধই থাকবে। টিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টার পর ভোট পড়েছে ৩৪ হাজার ৩৩০টি। যাঁরা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি, তাঁরা এই হিসাবে নেই।
গণনা শেষ হওয়ার আগেই রোববার রাতে বলসোনারো নিজের অবস্থান জানান। তিনি বলেন, “যে পরিস্থিতিতে এসব ঘটেছে, তাতে এই নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া অসম্ভব।” তিনি নির্বাচন বাতিলের আবেদন করবেন বলেও জানান। ভোটের সময় বাড়ানোকে তিনি “প্রতারণা” ও “অগ্রহণযোগ্য” বলে আখ্যা দেন।
একই রাতে তিনি আরও দুটি অভিযোগ তোলেন। তাঁর ভাষ্য, বিচারপতি জানিন একসময় লুলার আইনজীবী ছিলেন এবং তিনি “খেলার মাঝখানে খেলার নিয়ম বদলে দিয়েছেন”। তিনি আরও দাবি করেন, লিবারেল পার্টির (পিএল) পর্যবেক্ষকদের আদালতের সুরক্ষিত কক্ষে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টিএসই জানায়, এই দাবি মিথ্যা। পিএলের দুজন পর্যবেক্ষক পুরো সময় ভোট একীভূতকরণ কক্ষে ছিলেন, যার হাজিরা রেকর্ড ও ভিডিও রয়েছে।
বলসোনারোর নিজের প্রচারশিবিরও বৃষ্টি, বন্যা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ দেখিয়ে সাও পাওলো, পারানা ও সান্তা কাতারিনাসহ কয়েকটি রাজ্যে ভোটের সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল। যে বর্ধিত সময় মঞ্জুর হয়েছে, তা এসেছে বাইয়ার বাস-সংকট নিয়ে লুলার জোটের আবেদনে। বলসোনারোর শিবিরও ভোটের সময় বাড়াতে চেয়েছিল, কিন্তু পায়নি।
নির্বাচনী আদালতের প্রেসিডেন্ট কাসিও নুনেস মার্কেসকে সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ দিয়েছিলেন জাইর বলসোনারো। তিনি বলেন, আদালতের “পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর পূর্ণ আস্থা” রয়েছে এবং সময় বাড়ানোয় ফলে কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রসিকিউটর জেনারেল পাওলো গোনেত ফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসের (ওএএস) পর্যবেক্ষক দলের প্রধান হোসে মিগেল ইনসুলসা বলেছেন, ব্রাজিলের নির্বাচনব্যবস্থা “খুবই মজবুত”।
নির্বাচনী আইনের বিশেষজ্ঞরা গাজেতা দো পোভো ও বিবিসি নিউজ ব্রাসিলকে বলেছেন, নির্বাচন বাতিলের সম্ভাবনা খুবই কম। তাঁরা তিনটি কারণ দেখাচ্ছেন: ৪৪ লাখ ভোটের ব্যবধান, দুই পক্ষই সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল, আর সংবিধানে নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট করা আছে, ফলে ত্রুটি পেলেও নতুন করে ভোটের নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ আদালতের সামান্যই।
ফাটল ধরেছে বলসোনারোর নিজের শিবিরেও। সাও পাওলোর ভাইস গভর্নর ফেলিসিও রামুত, যাঁর গভর্নর বলসোনারোকে সমর্থন দিয়েছিলেন, ফল মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা ব্রাজিলকে এমন একটি পরিবর্তন দিতে কাজ করেছি, যা আমরা প্রয়োজনীয় মনে করেছিলাম। কিন্তু বেশির ভাগ ভোটার অন্য পথ বেছে নিয়েছেন, আর আমি ব্যালটের রায়কে সম্মান করি।” তিনি মনে করিয়ে দেন, লিবারেল পার্টি নিজেও কোথাও কোথাও ভোটের সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল।
সোমবার ফ্লাভিও পথ বদলান। এক ভিডিওতে তিনি লুলার প্রচারশিবিরের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন, যার মধ্যে তাঁর ভাষায় ভুয়া খবরের একটি “শিল্প কারখানা”ও আছে। তিনি বলেন, “তাঁর সব অনিয়মের জন্য আমি লুলার প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করব।” তাঁর প্রচারশিবিরের সদস্যরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএনএন ব্রাসিলকে বলেছেন, ভোট বাতিলের কোনো আবেদন করা হবে না। আইনজীবী দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, এমন ২০টি আবেদন এরই মধ্যে জমা পড়েছে, আরও আসবে। এসব মামলাও যাবে নির্বাচনী আদালতে।
৪ অক্টোবর নির্বাচিত কংগ্রেস
প্রেসিডেন্ট পদের ফয়সালা হয়েছে রোববার। কংগ্রেসের ফয়সালা হয়েছিল তিন সপ্তাহ আগে, প্রথম দফার ভোটে, আর তা গেছে উল্টো দিকে। বলসোনারোর লিবারেল পার্টি চেম্বার অব ডেপুটিজের ৫১৩ আসনের মধ্যে ১২১টিতে জিতেছে, যা ১৯৯৮ সালের পর কোনো একক দলের সবচেয়ে বড় সংসদীয় দল। সিনেটের ৮১ আসনের মধ্যে দলটির ২৮টি পাওয়ার কথা। একটি হিসাবে ডানপন্থী ও মধ্য-ডানপন্থী দলগুলোর হাতে মিলিয়ে সিনেটে ৫১টি ও চেম্বারে ২৯৪টি আসন; অন্য হিসাবে সংখ্যাটি কিছুটা কম। সিনেটের প্রেসিডেন্ট দাভি আলকোলুম্ব্রে ৪০ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানের কথা উল্লেখ করে রোববারই লুলার জয় স্বীকার করেন।
বলসোনারো পরিবারের চার সদস্য কংগ্রেসে আসন পেয়েছেন। মিশেল বলসোনারো ও কার্লোস বলসোনারো সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন, আর জাইর রেনান ও রেনাতো বলসোনারো নির্বাচিত হয়েছেন ডেপুটি। তাঁরা দায়িত্ব নেবেন ফেব্রুয়ারিতে।
বিজয় ভাষণে লুলা নিজেই সমস্যাটির কথা বলেন। “আমি জাতীয় ঐক্যের কথা বলব না, কারণ এই দেশে শব্দটি সব সময় খাটে না,” বলেন তিনি। “কংগ্রেস আমি বেছে নিইনি। জনগণ বেছে নিয়েছে, আর তাদের সঙ্গেই আমি কাজ করব।”
বিদেশ থেকে অভিনন্দন, দেশে বাজারে ধস
বিদেশ থেকে অভিনন্দন এসেছে। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, তিনি লুলার সঙ্গে মিলে “বাণিজ্যের বড় নতুন সুযোগ তৈরি, পরিবেশ রক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের জন্য আরও সমৃদ্ধি গড়তে” কাজ করতে চান। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম লিখেছেন, “গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক, ব্রাজিলের জনগণ জিতেছে।” ডানপন্থী নেতারাও অভিনন্দন জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন চিলির হোসে আন্তোনিও কাস্ত, যিনি লুলাকে ফোন করেন, এবং পেরুর কেইকো ফুজিমোরি।
সোমবার বিনিয়োগকারীরা ব্রাজিলের শেয়ার ও মুদ্রা বিক্রি করেন; বিশ্লেষকেরা সরকারের রাজস্বনীতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দুটিই বিবেচনায় নিচ্ছিলেন। রিয়ালের বিপরীতে ডলারের দাম একপর্যায়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। শুক্রবার প্রতি ডলারের দাম ছিল ৪.৯৯৩ রিয়াল, সোমবার তা প্রায় ৫.৬০ রিয়াল ছোঁয়। দিন শেষে ডলারের দাম দাঁড়ায় ৫.৪০ রিয়াল, এক দিনে ৮.২ শতাংশ বেশি। শেয়ারসূচক ইবোভেসপা একপর্যায়ে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। ১০ শতাংশ পতনের পর ৩০ মিনিট লেনদেন বন্ধ রাখা হয়, ২০২০ সালের পর যা প্রথম। দিন শেষে সূচক ১৩.৯ শতাংশ কমে। পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার ক্যালশিতে শুক্রবারও বলসোনারোর জয়ের সম্ভাবনা ধরা হচ্ছিল ৭৫ শতাংশের বেশি। মঙ্গল ও বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত বন্ড নিলাম বাতিল করেছে ব্রাজিলের ট্রেজারি।
বিশ্লেষকেরা প্রথমেই লুলার চতুর্থ মেয়াদে সরকারি ব্যয় অব্যাহত থাকার সম্ভাবনার কথা বলছেন। ডাচ ব্যাংক আইএনজির ক্রিস টার্নার বলেন, বাজারের প্রশ্ন হলো “বলসোনারো কত দ্রুত ফল মেনে নেন”, কারণ দ্রুত মেনে নিলে অনিশ্চয়তার বাড়তি ঝুঁকি কেটে যাবে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের মরিসিও মঙ্গে সরকারের আর্থিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। বিনিয়োগকারীরা এখন তাকিয়ে আছেন লুলা কাকে অর্থমন্ত্রী করেন, সেদিকে।
বলসোনারোর সমর্থক ৫১ বছর বয়সী ব্যবসায়ী রদ্রিগো ভ্যালেন্তিম এপিকে বলেন, “মানুষ কীভাবে লুলাকে ভোট দেয়, বুঝি না। দেশটা ভেঙে পড়ছে।” উইলসন সেন্টারের ব্রাজিল ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক পাওলো সোতেরো সিএনএনকে বলেন, ভোটের সময় বাড়ানো “কোনো অনিয়ম ছিল না”। পুনর্গণনা বা নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনাকে তিনি বলেছেন “খুবই, খুবই ক্ষীণ”।
২০২২ সালের নজির
ব্রাজিল এমন পরিস্থিতি আগেও দেখেছে, উল্টো দিক থেকে। ২০২২ সালে লুলার কাছে হেরে জাইর বলসোনারো হার স্বীকার না করে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ভোট গণনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানচেষ্টার দায়ে তিনি এখন ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এবার তাঁর ছেলে মামলা নিয়ে যাচ্ছেন সেই একই নির্বাচনী আদালতে, যে আদালত ২০২২ সালের ফলের বিরুদ্ধে তাঁর বাবার দলের আবেদন খারিজ করেছিল।
জানুয়ারিতে লুলা দায়িত্ব নেবেন এমন এক কংগ্রেসের সামনে, যার দুই কক্ষেই বৃহত্তম দল তাঁর বিরোধীরা। যাঁকে তিনি হারিয়েছেন, তাঁর প্রচারশিবিরের ভাষ্যে তিনি ভোট বাতিলের আবেদন থেকে সরে এসেছেন, এখন আদালতে লুলার প্রার্থিতা বাতিলের চেষ্টা করছেন। আর সাও পাওলোতে পরাজিত শিবিরের নেতারাই ফল মেনে নিতে শুরু করেছেন।
এরপর কী
- ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল চূড়ান্তভাবে প্রত্যয়ন করা হবে। লুলার চতুর্থ মেয়াদ শুরু হবে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি।
- ফ্লাভিও বলসোনারোর আইনজীবীরা নির্বাচনী আদালতে লুলার প্রার্থিতা বাতিলের মামলা করছেন। তাঁর প্রচারশিবির বলছে, ভোট বাতিলের আবেদন করা হবে না।
- ভোটের পর প্রথমবারের মতো ৩ ও ৪ নভেম্বর সুদহার নিয়ে বৈঠকে বসবে ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
- ৪ অক্টোবর নির্বাচিত কংগ্রেস প্রথম অধিবেশনে বসবে ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
