বিশ্বকাপ ফুটবল

  • চোট কাটিয়ে অনুশীলনে নেইমার

    চোট কাটিয়ে অনুশীলনে নেইমার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অনুশীলনে নামলেন নেইমার। গত ১৬ জুন নিউজার্সিতে ব্রাজিলের অনুশীলন মাঠে দৌড়াতে দেখা গেছে তাকে। এটি তার সুস্থতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

    ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড মে মাসের শেষ দিকে ডান পায়ের কাফ মাসলে চোট পান। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকেই তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এখনো পূর্ণ অনুশীলনে ফেরেননি তিনি।

    মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে নেইমার মাঠে নামতে পারেননি। সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ধাক্কা ছিল।

    ২০২৩ সালের পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে আর কোনো ম্যাচ খেলেননি নেইমার। এবারের বিশ্বকাপ দলে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। শেষমেশ সব গুঞ্জনকে সত্যি প্রমাণ করে নেইমার জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বকাপের স্কোয়াডে।

    ব্রাজিলের পরের ম্যাচ শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায়, হাইতির বিরুদ্ধে। এরপর ২৪ জুন মায়ামিতে গ্রুপ সি-র শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। নেইমার এর মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন কিনা, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

  • বাবাকে হারিয়েও বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল হুসেইন

    বাবাকে হারিয়েও বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল হুসেইন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    জীবনে বহু ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন গল্প লিখলেন ইরাকের ৩০ বছর বয়সি স্ট্রাইকার আয়মান হুসেইন। বুধবার ভোর ৪টায় বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে শক্তিশালী নরওয়ের কাছে ১-৪ গোলে হারলেও দলের একমাত্র গোলটি তারই পায়ে। দল হেরে গেলেও ফুটবলের বড় মঞ্চে রেখে গেছেন কৃতিত্বের ছাপ। ইরাকের প্রধান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড বলেন, ‘সে এমন একজন খেলোয়াড় যাকে বক্সের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন। আমি তার জন্য খুব খুশি ও গর্বিত।’

    হুসেইন এমন এক ইরাকে বেড়ে উঠেছেন, যেখানে অস্থির সংকটময় পরিস্থিতিতে ফুটবল হয়ে উঠত ঐক্যের সোপান। ইরাকি খেলোয়াড়রা ছিলেন আধা-পেশাদার— দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকটের কারণে তাদের জর্ডানে গিয়ে টুর্নামেন্ট খেলতে হতো। ওই সংকটে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল জয় উদযাপন করতে গিয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কয়েক ডজন মানুষ মারা গিয়েছিল।

    ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত শিয়া-সুন্নি সংঘাতে দেশটিতে গৃহযুদ্ধের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছিল। এই কঠিন সময়েই তরুণ হুসেইন ব্যক্তিজীবনে দুঃখজনক ঘটনার শিকার হন। ২০০৮ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে তার বাবা— ইরাকি সেনাসদস্য— বাড়ি তৈরির সরঞ্জাম কিনতে বের হলে আল-কায়েদার গুলিতে নিহত হন। এর কয়েক বছর পর হুসেইনের বড় ভাইকে অপহরণ করা হয়— যাঁর খোঁজ আজও পাননি তারা।

    এক সাক্ষাৎকারে হুসেইন বলেন, ‘আমি পরিবারের দেখাশোনা করতে ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু আমার মা রাজি হননি।’ মায়ের উৎসাহেই শেষ পর্যন্ত ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো ইরাককে বিশ্বকাপে পৌঁছে দিয়েছেন গোলমেশিন হুসেইন। ২০১৫ সালে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া এই স্ট্রাইকার এ পর্যন্ত দেশের হয়ে ৩৪টি আন্তর্জাতিক গোল করেছেন।

    তবে বিশ্বকাপ প্রস্তুতিও নির্বিঘ্নে কাটেনি। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর শিকাগোর ও’হেয়ার বিমানবন্দরে প্রায় সাত ঘণ্টা আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের শিকার হন তিনি। সেই হেনস্তার জবাব যেন দিলেন মাঠেই— নরওয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত হেডে গোলরক্ষক ওরিয়ান নাইল্যান্ডকে পরাস্ত করে।

    শূন্যে থাকা বলকে গোলে পরিণত করার নিখুঁত কারিগর এই হুসেইন। ইরাকের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিনি ছিলেন দলের সেরা পারফর্মার। আন্তঃ-কনফেডারেশন প্লে-অফের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে পৌঁছানোর পথে তিনি ১২টি গোল করেন— যা তার যেকোনো সতীর্থের করা গোলের দ্বিগুণেরও বেশি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জ্বলে উঠেছিলেন হুসেইন— মার্চ মাসে গুয়াদালুপে বলিভিয়ার বিরুদ্ধে ২-১-এর জয়সূচক গোলটি তারই, যা ইরাকের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা নিশ্চিত করে।

    এই গোলমেশিন যদি বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তবে গ্রুপ-আই থেকে পরের পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন হয়তো এখনো বাঁচিয়ে রাখতে পারবে ইরাক— যদিও এই গ্রুপে ফ্রান্স এবং সেনেগালও রয়েছে।

  • বল দখলে হিরো, গোল করায় বিগ জিরো!

    বল দখলে হিরো, গোল করায় বিগ জিরো!

    সবার আগে একটা পরিসংখ্যান।
    পুরো ম্যাচে ৭৪ শতাংশ বলের দখল। ৭৬৪টি সফল পাস। প্রতিপক্ষের গোলমুখে আটটি শট। এই পরিসংখ্যান দেখে মনে হবে, ম্যাচটি সহজেই জেতার কথা ছিল স্পেনের।
    কিন্তু কী আফসোস! খেলার ফল কেপ ভার্দে ০, স্পেন ০। এই স্কোরশিটে কেপ ভার্দের নাম আগে থাকছে কারণ স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে গোটা ম্যাচে তারা আটকে রাখতে পেরেছে, এটাই বড় কৃতিত্ব। তাই এই সম্মান তাদের প্রাপ্য।
    বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়ে স্পেন আরেকবার জানাল সেই চরম সত্যটা, ফুটবল শুধু বল দখলের খেলা নয়, জায়গা দখলেরও খেলা। আর ঠিক ওইখানেই হেরে গেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
    স্পেনের পয়েন্ট হারানোর কারণ একটাই—অতিরিক্ত বল দখল, কিন্তু রক্ষণ ভাঙার কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই। টিকি-টাকা ছিল, যাকে বলে চোর-পুলিশ খেলা। কিন্তু ছিল না ভার্টিকাল আক্রমণ, গতির পরিবর্তন কিংবা ডিফেন্স চিরে ফেলার মতো পাস। ফলে পুরো ম্যাচে বল ঘুরেছে স্পেনের পায়ে, কিন্তু গোলের হুমকি তৈরি হয়নি।
    সবচেয়ে বিস্ময়কর পরিসংখ্যানটি স্প্যানিশ স্ট্রাইকার মিকেল ওইয়ারজাবালকে ঘিরে। ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে তিনি একবারও বল স্পর্শ করতে পারেননি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে এমন ঘটনা আর ঘটেনি। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, বরং স্পেনের পুরো আক্রমণভাগের ব্যর্থতার প্রতীক।

    ট্যাকটিক্যাল ভুল কোথায়?
    সমস্যার শুরু স্পেনের আক্রমণ তৈরির পরিকল্পনায়। জানাই ছিল স্পেনের শক্তির কথা মাথায় রেখে কেপ ভার্দে শুরু থেকেই লো ব্লকে ডিফেন্স সাজাবে। দুই ডিফেন্স লাইনের মাঝখানে প্রায় কোনো ফাঁকা জায়গাই ছিল না। কিন্তু সেই ব্লক ভাঙার জন্য যে ধরনের দ্রুত ও ডিরেক্ট আক্রমণের ফুটবল দরকার, স্পেন তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি। বরং তারা একের পর এক পাসের পর পাস খেলেছে। বল শুধু নিজেদের কাছেই রেখেছে। দৃশ্যটা এমন, সেন্টার-ব্যাক থেকে মিডফিল্ড, মিডফিল্ড থেকে ফুল-ব্যাক, আবার মাঝমাঠে—বল শুধু একবার উপরে যাচ্ছে আবার নিচে নামছে। কিন্তু প্রতিপক্ষের শেষ ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা তেমন চোখে পড়ল কই।

    প্রমাণ চান?
    জলজ্যান্ত প্রমাণ তো স্ট্রাইকার মিকেল ওইয়ারজাবাল বলে স্পর্শ না করার রেকর্ডেই লেখা! যেন তিনি চলে গিয়েছিলেন বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপে! মাঠে ছিলেন, কিন্তু ম্যাচে ছিলেন না!
    স্পেনের কৌশলগত বিন্যাসই স্ট্রাইকারকে খেলার বাইরে ঠেলে দিয়েছে। এত বলের দখল থাকার পরও তাকে কার্যকরভাবে বল সরবরাহ করতে পারেনি গোটা দল। হয়তো পরের ম্যাচে স্ট্রাইকার পজিশনে না খেলে নিজেকে মিডফিল্ডার হিসেবে খেলানোর দাবি করতে পারেন!

    টিকি-টাকার পুরোনো রোগ
    এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। ২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস ও চিলির বিপক্ষে বলের দখলে এগিয়ে থেকেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল স্পেন। ২০১৮ বিশ্বকাপে স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোয় এক হাজারের বেশি পাস খেলেও টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়। ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে ৭৭ শতাংশ বল দখলে রেখেও একটিও কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ফল, আবারও টাইব্রেকারে বিদায়।
    এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও সেই একই চিত্র। বল আছে, পাস আছে, নিয়ন্ত্রণ আছে—কিন্তু নেই গোল। একসময় যে টিকি-টাকা স্পেনকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল, এখন সেটিই যেন তাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা। বৃহত্তর অর্থে সমস্যা!
    – কী বুঝলেন?
    টিকি-টাকা শুধু বিশ্বকাপ জেতায় না, প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ও করে দেয়!
    বল নয়, দরকার ভাঙন
    আধুনিক ফুটবলে শুধু বলের দখলই সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। প্রয়োজন গতি, দিক পরিবর্তন, শেষ ডিফেন্স লাইন ভাঙা পাস, থার্ড ম্যান রান এবং ডিফেন্সের পেছনের ফাঁকা জায়গায় আক্রমণ। এই মৌলিক বিষয়গুলোই অনুপস্থিত ছিল স্পেনের খেলায়। স্পেনের ৭৬৪টি পাসের বড় অংশই পরিণত হয়েছে অর্থহীন পরিসংখ্যানে।
    কেপ ভার্দে ভালোই জানত, স্পেন বল রাখার কৌশলই নেবে। তাই তারা ধৈর্য ধরে নিজেদের পোস্টে লো ব্লক কষে অপেক্ষা করেছে। স্পেনকে পাশের পাস খেলতে দিয়েছে, কিন্তু বক্সের সামনে এক ইঞ্চি জায়গাও দেয়নি। স্পেন শট নিয়েছে কিন্তু সেগুলো কেপ ভার্দের ডিফেন্সের দেয়ালে লেগে ফেরত এসেছে। আর যে কয়েকটি পোস্টে যায় সেখানে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে সেগুলো ঠেকিয়ে দেন কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনয়া। গোলশূন্য ড্র ম্যাচের নায়ক যে তিনিই।
    ‘ছোট দল’ বলে কিছু নেই
    ম্যাচ শেষে হতাশ হলেও ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে-‘আমাদের এই ম্যাচ জেতা উচিত ছিল। অনেক সুযোগ তৈরি করেছি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সতেজতা এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অভাব ছিল। পরের ম্যাচের আগে আরো উন্নতি করতে হবে’।
    কেপ ভার্দের প্রশংসাও করেন স্প্যানিশ কোচ। বললেন, ‘ওরা খুব লো ব্লকে খেলেছে। শারীরিকভাবেও ভীষণ শক্তিশালী ছিল তারা। ফুটবলে এখন আর কোনো ছোট দল বলে কিছু নেই।’

    স্পেনের জন্য সতর্কবার্তা
    গ্রুপ পর্বে স্পেনের সামনে এখন সৌদি আরব ও উরুগুয়ে। নকআউটে যেতে হলে শুধু বলের দখল নয়, গোল করার পথও খুঁজে বের করতে হবে। নইলে টিকি-টাকার পুরোনো অভিশাপ আবারও স্পেনের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ করে দিতে পারে। এই বিশ্বকাপে টপ ফেভারিটের মর্যাদা নিয়েই এসেছে স্পেন। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই হতাশাজনক পারফরম্যান্সে দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি এখন তারা।
    বিশ্বফুটবল অনেকটাই বদলে গেছে। আধুনিক ফুটবলে আনুভূমিক পাসের চেয়ে ভার্টিকাল পাসের গুরুত্বই বেশি। বল ধরে রাখার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙা। স্পেন যদি পরের ম্যাচে সেই বাস্তবতার পথে না হাঁটে তাহলে…‘অদিওস কোপা দেল মুন্ডো’।
    ওটা স্প্যানিশ শব্দ। বাংলায় বিদায় বিশ্বকাপ!

  • হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের বড় জয়

    হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের বড় জয়

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে দুর্দান্ত শুরু করল নরওয়ে। বস্টনে মঙ্গলবার ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়েছে তারা। জোড়া গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তারকা স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ড। বিশ্বকাপে এটিই তার প্রথম গোল, আর প্রথম ম্যাচেই দুটি গোল করে স্মরণীয় করে রাখলেন অভিষেক।

    ম্যাচের ২৯ মিনিটে আন্তোনিও নুসার চমৎকার পাস থেকে ডেভিড মোলার উলফের বাড়ানো বলে কাছ থেকে জালে বল জড়িয়ে নরওয়েকে এগিয়ে দেন হালান্ড। তবে ১০ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরে ইরাক। আইমেন হুসেইনের হেডে ম্যাচে ফিরে আসে এশিয়ার দলটি।

    প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আবারও এগিয়ে যায় নরওয়ে। ইরাক গোলরক্ষক জালাল হাসানের ভুলে গোলটি হলো। ধীরগতিতে তার দিকে আসা ব্যাকপাস ক্লিয়ার করতে দেরি করেন তিনি। তার ক্লিয়ারেন্স হালান্ডের পায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। সহজ সেই উপহার লুফে নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের গোলসংখ্যা ৫৭-তে নিয়ে যান হালান্ড, মাত্র ৫১ ম্যাচেই।

    দ্বিতীয়ার্ধেও লড়াই চালিয়ে যায় ইরাক। ইব্রাহিম বায়েশের শট শেষ মুহূর্তে ব্লক হয়। আলি আল-হামাদি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। আকাম হাশিমের দুর্দান্ত ভলিও বার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

    এরপর ৭৬ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের কর্নার থেকে হেডে নরওয়ের তৃতীয় গোল করেন বদলি ডিফেন্ডার লিও ওস্টিগার্ড। তাতেই জয়ের পথ অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় স্কান্ডেনেভিয়ান দেশটির।

    হালান্ডের সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগও এসেছিল। কিন্তু এবার জালাল হাসান দারুণ সেভ করে তাকে হ্যাটট্রিক বঞ্চিত করেন।

    অবশ্য ম্যাচের শেষ গোলেও অবদান রাখেন নরওয়েজিয়ান তারকা। তার হেড আইমেন হুসেইনের গায়ে লেগে জালে ঢুকে। রেফারি জানান এটি আত্মঘাতী গোল। এই গোলেই ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে নরওয়ে।
    এই জয়ে গোল ব্যবধানে ‘আই’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে নরওয়ে। সমান তিন পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্স, যারা নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে। ২২ জুন নিউ জার্সিতে গ্রুপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে নরওয়ে ও ফ্রান্স।
    ১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে নরওয়ে।

  • এমবাপ্পের রেকর্ডে ফ্রান্সের উড়ন্ত শুরু

    এমবাপ্পের রেকর্ডে ফ্রান্সের উড়ন্ত শুরু

    ক্রীড়া ডেস্ক

    প্রথমার্ধে ছিল হতাশা, দ্বিতীয়ার্ধে ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নসুলভ জবাব। বিরতির পর দুর্দান্ত ফুটবল খেলেই ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। জোড়া গোল করে ফ্রান্সের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও গড়েছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। সবমিলিয়ে ফ্রান্সের জার্সি গায়ে এই তারকার গোলসংখ্যা এখন ৫৮।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রথম ৪৫ মিনিটে ছন্দহীন ছিল দিদিয়ের দেশমের দল। এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে ও দেজিরে দুয়ে—চার তারকাই বারবার নিচে নেমে বল নিতে বাধ্য হচ্ছিলেন। আক্রমণে ধার ছিল না। পুরো প্রথমার্ধে ফ্রান্সের কাটল যেন গুটিয়ে যাওয়া ফুটবল খেলে।

    অন্যদিকে সেনেগালই ছিল বেশি বিপজ্জনক। নিকোলাস জ্যাকসনের শট পোস্টে লাগে, ইসমাইলা সারও বিরতির আগে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারার মাশুলই দিতে হয়েছে আফ্রিকার দলটিকে।

    দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল বদলান দেশম। অলিসেকে মাঝমাঠে এনে দেম্বেলেকে উইংয়ে পাঠাতেই পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। অলিসের নিখুঁত থ্রু-পাস থেকে এমবাপ্পে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন।

    এরপর বেঞ্চ থেকে নেমে ব্যবধান বাড়ান ব্র্যাডলি বারকোলা। অতিরিক্ত সময়ে ইব্রাহিম এমবায়ে একটি গোল শোধ করলেও শেষ কথা বলেন এমবাপ্পেই। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি।
    এই জোড়া গোলে ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন এমবাপ্পে।
    প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ, দ্বিতীয়ার্ধে অপ্রতিরোধ্য—ফ্রান্স যেন এক ম্যাচেই দেখাল তাদের দুই রূপ। তবে শেষ ৪৫ মিনিটের ফুটবলই জানিয়ে দিল, এবারের বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম বড় দাবিদার কেন তারা।

  • টাকার অভাবে মাকে আনতে পারেনি-ভোজিনিয়া

    টাকার অভাবে মাকে আনতে পারেনি-ভোজিনিয়া

    স্পেনকে রুখে দিয়ে নিজেকে আর সামলে রাখতে পারেননি ভোজিনিয়া। ‘বুড়ো’ বয়সেও আবেগে ভাসলেন তিনি। শেষ বাঁশি বাজতেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন তিনি। এরপর শুরু হলো ফুঁপিয়ে কান্না।

    সেই কান্না আড়াল করতে কিছুক্ষণ পর দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নিলেন। তাকে সান্ত্বনা দিতে চারপাশ থেকে ছুটে এলেন সতীর্থরা। কেউ তাকে জড়িয়ে ধরলেন, কেউ কাঁধে হাত রাখলেন। সবার চোখই তখন ভেজা।

    ভেজিনিয়ার সেই কান্নায় লুকায়িত ছিল অসাধ্য সাধনের তৃপ্তি। কেপ ভার্দের ইতিহাসের অন্যতম সেরা উৎসবের এই মুহূর্ত তো নেমেছে তার হাতে ভর করেই। দারুণ সাতটি সেভ করে দলকে বাঁচিয়েছেন তিনি।

    ৪০ বছর ১২ দিন বয়সে দেশের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে মাঠে নেমে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ের কীর্তি গড়ার পাশাপাশি ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন তিনি।

    এদিকে ম্যাচ শেষে ভোজিনিয়া জানিয়েছেন তার কান্নায় তৃপ্তির পাশাপাশি মিশে ছিল আক্ষেপও। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে জানান, অর্থের অভাবে মাকে বিশ্বকাপে আনতে না পারেননি তিনি।

    বলেন, ‘ম্যাচের পর আমি কেঁদেছিলাম, কারণ ছোটবেলায় আমি আমার দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি। কিন্তু আজ তারা এখানে থাকতে পারেননি। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। তারাই ছিলেন আমার সবকিছু।’

    ‘কিন্তু আমার মাও এখানে থাকতে পারেননি।ভিসার কারণে এখানে আসতে পারেননি। ভিসার জন্য যে টাকা দিতে হয়, সেটা আমরা সময়মতো গুছিয়ে উঠতে পারিনি। আমি চেয়েছিলাম তিনি এখানে থাকুন।’

    ভোজিনিয়ার এই সাফল্যে পৌঁছানোর পথটাও ছিল ভীষণ কণ্টকাকীর্ণ। মাত্র পৌন ছয় লাখ মানুষের বাস কেপ ভার্দে থেকে বিশ্বমঞ্চে উঠে আসা তো সহজ কিছু নয়!

    উল্লেখ্য, সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান ইউরোর চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হয় নবাগত কেপ ভার্দে। যেখানে ভোজিনিয়ার নৈপুণ্যে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়।

  • আত্মঘাতী গোলে জয়ের স্বপ্ন ভাঙল মিশরের

    আত্মঘাতী গোলে জয়ের স্বপ্ন ভাঙল মিশরের

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়া হলো না মিশরের। পুরো ম্যাচজুড়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেও এক আত্মঘাতী গোলের কারণে জয় হাতছাড়া করতে হয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিদের। বেলজিয়ামের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় মাঠ ছাড়তে হয়েছে মোহাম্মদ সালাহদের।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলতে নামে মিশর। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহকে ঘিরে দ্রুতগতির আক্রমণে বারবার বেলজিয়ামের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে তারা। অন্যদিকে তারকা স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুকে শুরুর একাদশে না রেখেই ম্যাচ শুরু করে বেলজিয়াম।প্রথমার্ধে বলের দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বেলজিয়াম তেমন কোনো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বরং আক্রমণে বেশি কার্যকর ছিল মিশর। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে সেই আধিপত্যেরই পুরস্কার পায় আফ্রিকার দলটি। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে বেলজিয়ামের জাল কাঁপান ইমান আশুর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তার প্রথম গোল, আর সেটিই বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে মিশরকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত লিড।গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মিশর। মাঝমাঠ ও রক্ষণে দারুণ সংগঠিত ফুটবল খেলে তারা। বেলজিয়াম বারবার আক্রমণে উঠলেও মিশরীয় ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। ফলে ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় মিশর। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করার কীর্তিও গড়ে তারা।বিরতির পর প্রত্যাশিতভাবেই আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় বেলজিয়াম। সমতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ইউরোপের দলটি। ৫৩তম মিনিটে প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা। ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া তার দারুণ শট পোস্টে আঘাত হানলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মিশর।তবে বেলজিয়ামের চাপ ক্রমেই বাড়ছিল। শেষ পর্যন্ত ৬৬তম মিনিটে আসে সমতার গোল, যদিও সেটি আসে মিশরের জন্য সবচেয়ে হতাশাজনক উপায়ে। বদলি হিসেবে মাঠে নামা রোমেলু লুকাকুকে ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। আত্মঘাতী সেই গোলেই ১-১ সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তৃতীয় আত্মঘাতী গোল। আর এই একটি ভুলেই জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েও দুই মূল্যবান পয়েন্ট হারায় মিশর। অন্যদিকে ম্যাচে ছন্দ খুঁজে পেতে সংগ্রাম করা বেলজিয়াম শেষ পর্যন্ত অন্তত একটি পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ার স্বস্তি পায়।

    শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত উভয় দলই জয়সূচক গোলের খোঁজে চেষ্টা চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও আত্মঘাতী গোলের আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে মিশরকে, আর বেলজিয়ামকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ভাগাভাগি করা এক পয়েন্টে।