বিশ্বকাপ ফুটবল

  • আর্জেন্টিনার নকআউট প্রতিপক্ষ নিয়ে যত সমীকরণ

    আর্জেন্টিনার নকআউট প্রতিপক্ষ নিয়ে যত সমীকরণ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল আর্জেন্টিনা। পরে জর্ডানের বিপক্ষে আলজেরিয়ার জয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত হয়ে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ফলে শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের।

    এখন প্রশ্ন একটাই—লিওনেল মেসিদের সামনে কে আসছে? স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে নাকি সৌদি আরব?

    ‘এইচ’ গ্রুপে এখনও প্রতিটি দলের একটি করে ম্যাচ বাকি। শেষ রাউন্ডে স্পেন খেলবে উরুগুয়ের বিপক্ষে, আর কেপ ভার্দের প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। এই দুই ম্যাচের ফলই ঠিক করে দেবে আর্জেন্টিনার পরবর্তী প্রতিপক্ষ।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে কেপ ভার্দে। আফ্রিকার ছোট দেশটি যদি সৌদি আরবকে হারাতে পারে এবং স্পেন নিজেদের ম্যাচে উরুগুয়েকে পরাজিত করে, তাহলে স্পেন গ্রুপসেরা হবে আর কেপ ভার্দে রানার্সআপ হয়ে আর্জেন্টিনার সামনে পড়বে।

    অন্যদিকে, স্পেন যদি উরুগুয়ের কাছে হেরে যায়, তখন সমীকরণ বদলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে কেপ ভার্দে-সৌদি ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে রানার্সআপ হতে পারে স্পেনও। তখন নকআউটে মেসিদের প্রতিপক্ষ হবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।

    সৌদি আরবের সামনেও সুযোগ রয়েছে। তারা যদি কেপ ভার্দেকে হারায় এবং একই সঙ্গে স্পেন উরুগুয়েকে পরাজিত করে, তাহলে সৌদিরা রানার্সআপ হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমকে দেওয়া সৌদি আরবের সঙ্গে আবারও দেখা হয়ে যেতে পারে মেসিদের।

    তবে সবচেয়ে জটিল সমীকরণ উরুগুয়েকে ঘিরে। যদি উরুগুয়ে স্পেনকে হারায় এবং একই সময়ে কেপ ভার্দেও সৌদির বিপক্ষে জয় পায়, তাহলে রানার্সআপ নির্ধারণে আসবে গোল ব্যবধান। বর্তমানে দুই দলেরই গোল ব্যবধান সমান। গোল ব্যবধানও সমান থাকলে দেখা হবে কারা বেশি গোল করেছে। সেখানেও সমতা থাকলে ফেয়ার প্লে রেকর্ড বিবেচনায় নেওয়া হবে।

    ফলে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তালিকায় এখনও চারটি দলেরই নাম রয়েছে। তবে বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী কেপ ভার্দেই সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ। যদিও শেষ রাউন্ডের দুটি ম্যাচ একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে পুরো চিত্র।

    গ্রুপ ‘এইচ’-এর শেষ ম্যাচগুলো তাই শুধু ওই চার দলের জন্য নয়, আর্জেন্টিনা শিবিরের জন্যও সমান গুরুত্ব বহন করছে।

  • রোমের অবিশ্বাস্য গোলকিপিং

    রোমের অবিশ্বাস্য গোলকিপিং

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার ক্ষত তখনো দগদগে। ফুটবলের মহাবিশ্বমঞ্চে টিকে থাকার লড়াইয়ে সামনে লাতিন পরাশক্তি ইকুয়েডর। এমন কঠিন সমীকরণের রাতে কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে যেন এক রূপকথার জন্ম দিল পুঁচকে কুরাসাও। আর এই রূপকথার একক নায়ক দলটির গোলরক্ষক এলয় রোম। ইকুয়েডরের একের পর এক আক্রমণের সুনামি বুক চিতিয়ে একাই রুখে দিলেন তিনি। পুরো ম্যাচে অবিশ্বাস্য ১৫টি সেভ করে ইকুয়েডরকে গোলশূন্য ড্রয়ে বাধ্য করেছেন এই ‘মানবদেয়াল’। আর তাতেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম ও ঐতিহাসিক পয়েন্টের দেখা পেল ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটি।

    রোববারের সকালের ম্যাচটি মূলত রূপ নিয়েছিল ‘ইকুয়েডর বনাম এলয় রোম’ লড়াইয়ে। দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরে আসর শুরু করায় ম্যাচটিতে ছিল ছিটকে যাওয়ার চাপ। শুরু থেকেই কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ ভেঙে আক্রমণের পসরা সাজায় ইকুয়েডর। কিন্তু গোলপোস্টের নিচে অতিমানবীয় রূপে হাজির হন রোম। তার অসাধারণ ক্ষিপ্রতা, পজিশনিং ও আত্মবিশ্বাসী গোলকিপিংয়ের সামনে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন ইকুয়েডরের ফরোয়ার্ডরা।

    পুরো ম্যাচে রোম একাই ঠেকিয়েছেন ইকুয়েডরের ১৫টি শট। যা বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল বাঁচানোর রেকর্ডের চেয়ে মাত্র একটি কম। ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ড ১৬টি সেভ করেছিলেন।

    ঐতিহাসিক এই ড্রয়ের পর ‘ই’ গ্রুপে ১ পয়েন্ট করে পেয়েছে ইকুয়েডর ও কুরাসাও। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ইকুয়েডর টেবিলের তিনে এবং কুরাসাও চারে অবস্থান করছে। তবে এই ১ পয়েন্ট দুই দলকেই নকআউটের রেসে টিকিয়ে রাখল। আগামী ২৫ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডর মুখোমুখি হবে শক্তিশালী জার্মানির। আর একই দিনে আইভরিকোস্টের চ্যালেঞ্জ নেবে ইতিহাস গড়া কুরাসাও।

  • দারুণ প্রত্যাবর্তনে নকআউটে জার্মানি

    দারুণ প্রত্যাবর্তনে নকআউটে জার্মানি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল জার্মানি। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে এক গোল হজম করে বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলি ফরোয়ার্ড ডেনিজ উন্দাভের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের ফলে টানা দুই ম্যাচ জিতে সবার আগে নিজেদের গ্রুপ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে জুলিয়ান নাগেলসমানের দল।

    ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল সমানতালে লড়াই করলেও প্রথম ধাক্কা খায় জার্মানি। ৩০তম মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে ফ্রাঙ্ক কেসির গোলে এগিয়ে যায় আইভরি কোস্ট। বাম দিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে ডি-বক্সে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জার্মানদের জাল কাঁপান অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার।

    তবে এর আগেই দুবার বল জালে পাঠিয়েছিল জার্মানি। ২১ মিনিটে আলেকজান্ডার পাভলোভিচের গোল ভিএআরের মাধ্যমে ফাউলের কারণে বাতিল হয়। এরপর বিরতির ঠিক আগে কাই হাভার্টজের গোলটিও অফসাইডের কারণে গণ্য হয়নি। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে আইভরি কোস্ট।

    বিরতির পর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান। ৬১তম মিনিটে একসঙ্গে তিন পরিবর্তন এনে নতুন গতি যোগ করেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

    ৬৮তম মিনিটে নাদিয়েম আমিরির নিখুঁত ক্রস থেকে অসাধারণ ভলিতে সমতা ফেরান বদলি নামা ডেনিজ উন্দাভ। গোল হজমের পর কিছুটা এলোমেলো হয়ে পড়ে আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আবারও আঘাত হানেন উন্দাভ। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের ভুলের সুযোগ নিয়ে জয়সূচক গোলটি করে জার্মানিকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেন তিনি।

    দুই ম্যাচে দুই জয় নিয়ে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে জার্মানি। গ্রুপের শীর্ষে থাকা ইউরোপিয়ান জায়ান্টরা এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট। অন্যদিকে, দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইভরি কোস্ট।

  • অস্ট্রিয়ার জন্য নতুন ছকের

    অস্ট্রিয়ার জন্য নতুন ছকের

    ইঙ্গিত স্কালোনির

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে দারুণ শুরু করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত লিওনেল স্কালোনির দল। তবে সেই ম্যাচে শুরুর একাদশে অন্তত দুটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

    আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের দাবি, প্রথম ম্যাচের একাদশে থাকা কয়েকটি জায়গা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন কোচ স্কালোনি। বিশেষ করে আক্রমণভাগে পরিবর্তনের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে লাউতারো মার্তিনেজ শুরু থেকে খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে নেমে দারুণ প্রভাব ফেলেন হুলিয়ান আলভারেজ। বাঁ গোড়ালির চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠা এই ফরোয়ার্ড এবার শুরুর একাদশে ফেরার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। প্রথম ম্যাচে তাকে বেঞ্চে রাখার কারণ ছিল শারীরিক অবস্থা, পারফরম্যান্স নয়।

    মিডফিল্ডেও রয়েছে বড় প্রশ্ন। এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দে পল ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে খেলেছিলেন থিয়াগো আলমাদা। তবে তিনি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ফলে তার জায়গায় নিকোলাস গনসালেসকে দেখা যেতে পারে। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে গনসালেস আর্জেন্টিনার আক্রমণে বাড়তি গতি ও বৈচিত্র্য যোগ করেছিলেন।

    অন্যদিকে লেফট-ব্যাক পজিশনে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। ফাকুন্দো মেদিনা প্রথম ম্যাচে দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করায় পুরোপুরি ফিট থাকা সত্ত্বেও নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট।

    সব মিলিয়ে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্কালোনির দলকে কিছুটা ভিন্ন রূপে দেখা যেতে পারে। আক্রমণে নতুন গতি আর মিডফিল্ডে ভিন্ন সমীকরণ নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনাই করছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ; নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা; রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, নিকোলাস গনসালেস; লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।

  • ব্রাজিলের জয়ে ফেরা নাকি হাইতির চমক

    ব্রাজিলের জয়ে ফেরা নাকি হাইতির চমক

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ব্রাজিলের সমর্থকরা এখন ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ! কীভাবে—একটু খোলাসা করে বলি, ব্রাজিল ফুটবলের ঘোর সমর্থক দেশের নাম হাইতি। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন খেলতে নামে ব্রাজিলিয়ানরা, তখন আবেগ-উচ্ছ্বাসে একাকার হয় হাইতির মানুষ। এই দৃশ্যই ছিল চিরন্তন। এত দিন ধরে ব্রাজিলেই ফুটবলানন্দ খুঁজত হাইতি। কেননা তখন বিশ্বকাপে দর্শক ছিল তারা। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই প্রিয় দল ব্রাজিলই আজ তাদের প্রতিপক্ষ। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলছে হাইতি। ব্রাজিলের বিপক্ষে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের এই দলটির মাঠে নামার ব্যাপারটি অনেকটাই ‘বন্ধু যখন শত্রু’ মতো অবস্থা দাঁড়িয়েছে।
    ফিফা র‌্যাংকিংয়ে হাইতির অবস্থান ৮২তম। যেখানে ব্রাজিল রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। র‌্যাংকিংয়ে দুদলের ব্যবধান আকাশ-পাতাল। তবে ৯০ মিনিটের খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাবে না। কেননা বিশ্বমঞ্চে মাঠের লড়াইয়ে ছোট-বড় দলের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য থাকে না। বড় দলের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখেই লড়াই করে ছোট দলগুলো। এতে নতুন ইতিহাস আর রূপকথার জন্ম হয়। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ফুটবলের চিরন্তন সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে আছে সেলেসাওরা। এবারের বিশ্বকাপেও ফেভারিট দল তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। পরাশক্তি ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়া মানেই হাইতির জন্য কঠিন এক অগ্নিপরীক্ষার মতো। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও অফুরন্ত প্রাণশক্তি নিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার চেষ্টা করবে লড়াকু এই দলটি। দুদলের ম্যাচটি আগামীকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টা ম্যাচটি শুরু হবে। এ ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ে ফেরা নাকি ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়ে কোনো অঘটনের জন্ম দেয় হাইতি—সেটিই দেখার বিষয়।
    বিশ্বকাপ শুরুর ম্যাচে চেনা ব্রাজিলকে দেখা যায়নি। মরক্কোর হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে তাদের পাসিং ফুটবল ছিল ম্রিয়মাণ। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গোল আর গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের নৈপুণ্যে মরক্কোর বিপক্ষে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা। তবে মরক্কো ম্যাচের ভুলগুলো নিয়ে অনেক কাজ করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। হাইতির বিপক্ষে স্বরূপেই ফিরতে মরিয়া তার দল। এ ম্যাচেও নেইমারের খেলা নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। যদিও দলের সঙ্গে অনুশীলনে করছেন এই সুপারস্টার। তাই আক্রমণভাগে ভিনিসিয়াসকেই দায়িত্ব নিতে হবে। তার সঙ্গে থাকছেন দারুণ ফর্মে থাকা রাফিনহা। তবে ব্রাজিলের শক্তির জায়গা মাঝমাঠ গত ম্যাচে অতটা সৃজনশীল দেখা যায়নি। দুই উইংও শক্ত ছিল না। রক্ষণভাগ আগলে রাখার ক্ষেত্রে ব্রাজিলকে নড়েবড়ে দেখায়। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলে হাইতির বিপক্ষে দুরন্ত ব্রাজিলকেই দেখা যাবে। কৌশলগত দিক বিবেচনা করলে হাইতির বিপক্ষে শুরু থেকেই চড়াও হতে পারে ব্রাজিল। প্রথমার্ধেই গোল আদায় করে নেওয়া এবং পরে গোল ব্যবধান বাড়িয়ে রাখাই হবে সেলেসাওদের মূল লক্ষ্য। কেননা পরের রাউন্ডে খেলার সমীকরণ মেলানোর জন্য হাইতির বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই ব্রাজিলের সামনে।
    অন্যদিকে, শারীরিক সক্ষমতা, গতি আর হারানোর কিছু না থাকার মানসিকতাই হাইতি দলের মূল শক্তি। দলটি ভালো করেই জানে, ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে বল দখল রাখাটা অসম্ভব কাজ। তাই তাদের মূল কৌশল হবে রক্ষণভাগে ‘বাস পার্ক’ করা বা দলগতভাবে ডিফেন্ড করা এবং পাল্টা আক্রমণে ওপরে ওঠা। হাইতির আক্রমণভাগ ব্রাজিলের হাই-লাইন ডিফেন্সের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেট পিস কিংবা কর্নার—উভয় দিক থেকেই গোল করার ক্ষেত্রে বেশ পারদর্শী হাইতি। তাদের একটাই ঘাটতি, বিশ্বমঞ্চে বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতার অভাব। তাই পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডদের ঠেকিয়ে রাখাটা তাদের জন্য কঠিন হবে। তবে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শুরু হওয়া দলটিও জয়ের খোঁজে থাকবে।
    অতীত রেকর্ডের দিকে তাকালে ব্রাজিলের পাল্লা শুধু ভারীই নয়, বরং একচেটিয়া। বড় টুর্নামেন্টে এই দুই দলের দেখা হওয়ার নজির কম। সর্বশেষ ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার মঞ্চে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল দুদল। ওই টুর্নামেন্টে ব্রাজিল ৭-১ গোলে হারায় হাইতিকে। এর আগে ২০০৪ সালে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে তাদের। এর আগে ১৯৭৪ সালে আরেক প্রীতি ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয়ের রেকর্ড রয়েছে ব্রাজিলের। বিশ্বকাপেও এই সাফল্যের ছন্দ ধরে রাখতে চাইবে ব্রাজিল।

  • কানাডার জয়ের ম্যাচে পা ভাঙল ইসমাইল কোনের

    কানাডার জয়ের ম্যাচে পা ভাঙল ইসমাইল কোনের

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    কাতারের বিপক্ষে কানাডার ৬-০ গোলের বড় জয়ের ম্যাচটি ম্লান হয়ে গেছে এক ভয়াবহ ঘটনায়। ম্যাচ চলাকালে কানাডার মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনে মারাত্মক ট্যাকলের ফাঁদে পড়েন। পরে জানা যায়, ট্যাকলে পা ভেঙে গেছে কানাডিয়ান তারকার। এতে কার্যত বিশ্বকাপ স্বপ্নই শেষ হয়ে গেছে তার।

    ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচের ৫২তম মিনিটে ঘটনাটি ঘটে। কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবো বল দখলের লড়াইয়ে কোনের বাম পায়ের পেছনে ট্যাকল করেন। সংঘর্ষের পরপরই পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    সম্প্রচারকারী চ্যানেলগুলো ট্যাকলের ক্লোজ রিপ্লে দেখায়নি। তবে মাঠের পাশে থাকা মাইক্রোফোনে একজন খেলোয়াড়কে বলতে শোনা যায়, “তার পা ঝুলে গেছে।”

    চোট পাওয়ার পর দুই দলের খেলোয়াড়রাই কোনেকে ঘিরে মানবঢাল তৈরি করেন, যাতে দৃশ্যটি দর্শকদের সামনে না আসে। দ্রুত মাঠে প্রবেশ করেন চিকিৎসাকর্মীরা। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের উদ্দেশে হাতও নাড়েন কানাডার এই মিডফিল্ডার।

    ঘটনার পর কাতারের আসিম মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। এর আগে প্রথমার্ধে হোমাম আহমেদ লাল কার্ড দেখায় কাতার তখন ৯ জনের দলে পরিণত হয়।ম্যাচ শেষে কানাডার কোচ জেসি মার্শ জানান, ঘটনাটি তাদের বেঞ্চের সামনেই ঘটেছিল। তিনি বলেন, “ঘটনাটা ঠিক আমাদের সামনেই হয়েছে। আমরা সবাই শব্দটা শুনতে পেয়েছি। সঙ্গে সঙ্গেই বুঝেছিলাম ব্যাপারটা গুরুতর। সবাই হাড় ভাঙার শব্দ শুনতে পেয়েছিল।”

    মার্শ আরও বলেন, “ইসমাইল আমাদের দলের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ধরনের চোটে তাকে হারানো আমাদের জন্য বড় ধাক্কা। গত দুই ম্যাচে সে অসাধারণ খেলেছে।”

    হ্যাটট্রিক করা কানাডিয়ান ফরোয়ার্ড জনাথন ডেভিডও মাদিবোর ট্যাকলের সমালোচনা করেন। ডেভিড বলেন, “যে বল দখলের কোনো সুযোগই নেই, সেখানে এমন ট্যাকলের কোনো প্রয়োজন নেই। এতে শুধু প্রতিপক্ষকে আঘাত করাই উদ্দেশ্য মনে হয়।”ঘটনার সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা কানাডার মিডফিল্ডার স্টিফেন ইউস্তাকিও বলেন, “আমি তার পায়ের দিকে তাকিয়ে বুঝেছিলাম কিছু একটা ভয়াবহ হয়েছে। তখন শুধু চাইছিলাম চিকিৎসাকর্মীরা যত দ্রুত সম্ভব মাঠে আসুক।”

    তিনি আরও বলেন, “কাতারের খেলোয়াড়রা তাদের সতীর্থকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছে, আমরা করেছি আমাদের খেলোয়াড়কে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এটা যে সরাসরি লাল কার্ড, তা নিয়ে কোনো বিতর্ক হতে পারে না। সে কার্যত কোনের পা ভেঙে দিয়েছে। হলুদ কার্ডের দাবি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

    কানাডার জন্য বড় জয় এলেও ইসমাইল কোনের গুরুতর চোট এখন দলটির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • মেসির বাবার মৃত্যু গুজবে সাংবাদিক বরখাস্ত

    মেসির বাবার মৃত্যু গুজবে সাংবাদিক বরখাস্ত

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    একটা ব্রেকিং নিউজ যেমন একজন সাংবাদিককে খ্যাতির চূড়ায় নিয়ে যেতে পারে, তেমনি খ্যাতি তো দূরের কথা, চাকরিও নিয়ে নিতে পারে। আর্জেন্টিনার বিখ্যাত টিভি উপস্থাপিকা ফ্লোরেন্সিয়া পেনিয়ার সঙ্গে তাই হলো। লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর ভুয়া খবর প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এরপরই তিনি তার চাকরি হারিয়েছেন।

    ৫১ বছর বয়সী পেনিয়া আর্জেন্টিনার লুজু টিভির ‘এল শো দেল ভেরানো’ অনুষ্ঠানে হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেন ফ্লোরেন্সিয়া। এরপর মেসির পরিবার যখন বিষয়টি গুজব বলে উড়িয়ে দেয়, তখন তোপের মুখে পড়েন এই সাংবাদিক।

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে জয় পায়। সেই ম্যাচে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেন ৩৮ বছর বয়সী মেসি। একটি গোলের পর তাকে কাঁদতে দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখেই পেনিয়া ভুল তথ্য প্রচার করেন।

    সরাসরি সম্প্রচারে পেনিয়া বলেন, ‘আমি খারাপ খবর দিতে চাই না, কিন্তু মেসির বাবা মাত্র মারা গেছেন। বিশ্বকাপের মাঝখানেই তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে।’

    পরে মেসি পরিবার এক বিবৃতিতে জানায়, পেনিয়ার দাবি সঠিক নয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মেসি পরিবার জানাচ্ছে যে হোর্হে একটি স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন।’

    পরিবার আরও বলে, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় ছড়িয়ে পড়া খবর ও গুজবের কারণে পরিবার গভীরভাবে কষ্ট পেয়েছে। এই বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক, কিন্তু কিছু মানুষ এর প্রতি যথাযথ সংবেদনশীলতা ও সম্মান দেখাননি।’

    এরপর পেনিয়া নিজে এক বিবৃতিতে ক্ষমা চান। পেনিয়া বলেন, ‘মেসি পরিবার যে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। এই কষ্টের কারণ হতে পেরে আমি গভীরভাবে লজ্জিত। সরাসরি সম্প্রচারের সময় অনুষ্ঠানের প্রোডাকশন টিম এই ভুল তথ্য আমাকে যাচাই করা তথ্য হিসেবে দিয়েছিল, আর আমি তা বিশ্বাস করেছিলাম।’

    পেনিয়া শেষে বলেন, ‘তবু আমি এই ভুলের দায় নিচ্ছি। তাই আমি লুজু টিভি থেকে সরে দাঁড়ানোর এবং আমার অংশগ্রহণ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আবারও হৃদয় থেকে ক্ষমা চাইছি, আমি ভুল করেছিলাম।’

    লুজু টিভিও এক বিবৃতি দেয়। তারা বলে, ‘অনুষ্ঠান চলাকালে যে ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য আমরা গভীরভাবে দুঃখিত। যথাযথ যাচাই ছাড়া স্পর্শকাতর তথ্য প্রচার করা আমাদের চ্যানেলের জন্য মেনে নেওয়া যায় না।’

    লুজু টিভি আরও জানায়, ‘তাই চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্লোরেন্সিয়া পেনিয়াও নিজে থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

    চ্যানেল শেষে বলে, ‘আমরা দায়িত্বশীল, শ্রদ্ধাশীল এবং সঠিক সাংবাদিকতার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি আবারও জানাচ্ছি।’

  • মেসি-জাদুতে’ মোহগ্রস্ত ফুটবল

    মেসি-জাদুতে’ মোহগ্রস্ত ফুটবল

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    মেসিকে এতটা অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল কী?’‘মেসিকে এতটা অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল কী?’

    প্রশ্নটা করা হয়েছিল আলজেরিয়ার মিডফিল্ডার ইব্রাহিম মাজাকে। এই প্রশ্ন শুনে মাজা স্বভাবসুলভ হাসিটাই দিলেন। সাধারণ কীভাবে অসাধারণ হয়ে ওঠে সেটাকে না হয় ব্যাখ্যা করা যায় কিন্তু অসাধারণকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবে সে? মেসির পক্ষ-প্রতিপক্ষ যে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে বহুবার। সেই প্রশ্নের উত্তর মাজাও দিলেন একইভাবে, “মেসি-জাদু। এর ব্যাখ্যা দেওয়ার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। ম্যাচটা দেখলেই বুঝবেন ‘মেসি-জাদু’ বলতে কী বোঝায়। আজ যেমন দেখলেন, সে একাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।”

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে কয়েকটি রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। যার মধ্যে একটি হলো- বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ডে ভাগ বসানো। মেসির গোল ১৫টি, আর একটি হলেই এককভাবে বসবেন সিংহাসনে। তবে মেসির এসব নিয়ে আগ্রহ নেই। সেটা জানিয়ে গেলেন ম্যাচ শেষে হাতে ‘সুপিরিয়র প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ ট্রফি নিয়ে, ‘সত্যি বলতে, এই রেকর্ড নিয়ে আমি ভাবছি না। ক্লোসের পাশে নিজের নাম দেখতে পারা সম্মানের। ব্রাজিলের রোনালদোও আছেন সেখানে। এমবাপ্পেও আছে, সে আজ দুটি গোল করেছে। শেষ পর্যন্ত এগুলো কেবল পরিসংখ্যান, এর বেশি কিছু নয়।’

    এ কথা যেন মুহূর্তেই বিস্ময় জাগিয়ে দিল ভরা মজলিসে! বিস্ময়ের সমুদ্রে ডুবে থাকা সাংবাদিকের প্রশ্ন তাই ছুটে গেল মেসির সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলের দিকে, ‘মেসি কি আসলেই এসব রেকর্ড নিয়ে ভাবেন না?’ ডি পল জবাব দিলেন হাস্যরসে, ‘সে এসব নিয়ে মাথাই ঘামায় না। তার সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় এসব মনে করিয়ে দিলেও সে এসব নিয়ে ভাবে না। এটা কীভাবে সম্ভব, আমি জানি না।’

    মেসি বলেই তো সম্ভব। রেকর্ড তো মেসির পায়ে লুটিয়ে পড়েছে যুগ-যুগান্তর। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম যে খুদে জাদুকরের কীর্তিগাথা জেনেছে, তিনি কেন এসব নিয়ে ভাববেন? তিনি তো শুধু উপভোগ করতে চান ফুটবলটাই আর বিস্মিত করতে চান সতীর্থ-প্রতিপক্ষ থেকে শুরু করে পুরো বিশ্বকে। যে কারণে ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময়ও প্রায় ৭০ হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে উল্লাসধ্বনি তোলেন কিংবদন্তির নামে। ভালোবাসায় আপ্লুত মেসির দুই হাতও জবাবী হয়ে ওঠে অভিবাদনে!

    মেসি, যার কীর্তিগাথায় ডুবে থাকেন সাইডলাইনে দাঁড়ানো স্কালোনি। আবেগে ভেসে যায় দুকূল! অবলীলায় স্বীকার করে নেন সাধারণ অথচ অসাধারণত্বের চিরন্তন বাণী, ‘এ নিয়ে বলার মতো কোনো ভাষা নেই। আমি যা-ই বলি, তা কম হয়ে যাবে। সে ২০ বছর ধরে এমনই করে আসছে। ফুটবলপ্রেমীরা ঠিক এটাই দেখতে চায়।’আর কতদিন এ জাদুতে ফুটবলপ্রেমীদের মোহগ্রস্ত করে রাখতে পারবেন মেসি? প্রশ্নের উত্তর তোলা থাক জাদুকরের মহাকাব্যের শেষ উপাখ্যানের জন্যেই।

  • মেসি ‘পারফেক্ট ১০’, বাকিরা কেমন খেললেন

    মেসি ‘পারফেক্ট ১০’, বাকিরা কেমন খেললেন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বমঞ্চে রাজকীয় সূচনা করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক করে কানসাস মাতিয়েছেন লিওনেল মেসি। স্বভাবতই ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘গোল ডটকম’এর ম্যাচ রেটিংয়ে দশে ১০ পেয়েছেন এই জাদুকর।

    চ্যাম্পিয়নদের এমন দাপুটে শুরুর পর সমর্থকদের মনে কৌতুহল, মেসির জাদুকরী রাতে আলবিসেলেস্তেদের বাকি ফুটবলাররা কে কেমন খেললেন? গোল ডটকমের রেটিং অনুযায়ী স্কালোনির শিষ্যদের পারফরম্যান্সের ব্যবচ্ছেদ নিচে তুলে ধরা হলো:

    এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (৭/১০): পুরো ম্যাচে আলজেরিয়ার আক্রমণভাগ আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভাঙতে না পারায় খুব একটা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি ‘দিবু’কে। তবে পাসিং ও ব্যাক-পাস থেকে বল বণ্টনে ছিলেন দারুণ কার্যকর। পুরো ৯০ মিনিটে মাত্র একবার বল ক্লিয়ার করতে হয়েছে তাকে।

    লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (৮/১০): রক্ষণে আজ তিনি ছিলেন অনবদ্য ও চীনের প্রাচীর। আলজেরিয়ার ফরোয়ার্ডদের কোনো সুযোগই দেননি। দুর্দান্ত লড়াই করে চারবার বল ক্লিয়ার করার পাশাপাশি দুটি নিখুঁত ট্যাকল ও একটি ইন্টারসেপশন দিয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রথমাংশেই ভেঙে দেন।

    ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (৭/১০): ম্যাচে আলজেরিয়া অন-টার্গেটে শট নিতে পেরেছে মাত্র একটি। এতেই প্রমাণ হয় রোমেরো-লিসান্দ্রো জুটি কতটা জমাট ছিল। রক্ষণ সামলে প্রতিপক্ষের চারটি বিপজ্জনক আক্রমণ নস্যাৎ করেছেন তিনি। ৭৯ মিনিটে তাকে তুলে ওটামেন্ডিকে নামানো হয়।

    ফাকুন্দো মেদিনা (৭/১০): নিকোলাস টাগলিয়াফিকোর অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়ে প্রতিপক্ষ উইঙ্গারদের বোতলবন্দী করে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। পুরো ম্যাচে দুটি সফল ট্যাকল, একটি ব্লক এবং একবার বল ক্লিয়ার করেছেন এই ডিফেন্ডার।

    গঞ্জালো মন্তিয়েল (৭/১০): প্রথমার্ধে নিজের পজিশন ধরে রেখে রক্ষণে দারুণ অবদান রেখেছেন। তবে আগে থেকে ঠিক করে রাখা কোচের রণপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দ্বিতীয়োর্ধের শুরুতে তাকে তুলে নাহুয়েল মোলিনাকে মাঠে নামানো হয়।

    রদ্রিগো ডি পল (৮/১০): মাঝমাঠে বরাবরের মতোই কড়া প্রহরী ও ইঞ্জিন ছিলেন ডি পল। ৯০ মিনিটে ৬৮ বার বল টাচ করে ৯২ শতাংশ সফল পাস দিয়েছেন। এ ছাড়া লিওনেল মেসির সেই চোখধাঁধানো প্রথম গোলটির অ্যাসিস্টও আসে তার পাস থেকেই।

    আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার (৭/১০): আক্রমণ ও রক্ষণ, উভয় ক্ষেত্রেই বল পায়ে এবং বল ছাড়া দারুণ খেলেছেন। ৯৪ শতাংশ সফল পাসের পাশাপাশি একটি সফল ট্যাকল, ছয়টি রিকভারি ও দুটি বল ক্লিয়ার করেছেন। তার নেওয়া নিচু শট থেকেই মূলত মেসির দ্বিতীয় গোলটি আসে।

    এনজো ফার্নান্দেজ (৭/১০): পাসিংয়ে বরাবরের মতোই নিখুঁত ও ঠান্ডা মাথার ফুটবল খেলেছেন। মাঝমাঠের বল দখলে রাখতে এবং আক্রমণ সচল রাখতে পুরো ম্যাচেই কার্যকর ভূমিকা ছিল তার।

    থিয়াগো আলমাদা (৬/১০): বাম উইং ধরে গতি দিয়ে আলজেরিয়ার বক্সে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। তবে শুরুর দিকে কিছু আক্রমণ শাণানো ছাড়া মাঠের বাকি সময়টায় তেমন বিশেষ কোনো অবদান রাখতে পারেননি এই উইঙ্গার।

    লিওনেল মেসি (১০/১০): পুরো ম্যাচেই ছিল কেবল ‘মেসি ম্যাজিক’। ৫৭ বার বল টাচ করে ৩০টি সফল পাস ও ২টি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছেন। পেনাল্টি বক্সে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত রাখার পাশাপাশি নিয়েছেন ৬টি শট, যার ৪টিই ছিল অন-টার্গেট এবং ৩টিই গোল! এমন পারফরম্যান্সের পর দশে ১০ দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না খোদ সমালোচকদেরও।

    লাউতারো মার্টিনেজ (৫/১০): দলের বড় জয়ের রাতে একমাত্র হতাশার নাম লাউতারো। মাঠে কাটানো ৫৫ মিনিটে একেবারেই চেনা ছন্দে ছিলেন না ইন্টার মিলান ফরোয়ার্ড। শট ও পাসের দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগেছেন বারবার। আক্রমণে দলের জন্য কোনো গোলস্কোরিং সুযোগ বা ফাঁকা জায়গাও তৈরি করতে পারেননি।

  • আর্জেন্টিনার পরের ম্যাচ কবে? প্রতিপক্ষ কারা?

    আর্জেন্টিনার পরের ম্যাচ কবে? প্রতিপক্ষ কারা?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনটা দারুণভাবে শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি করেছেন হ্যাটট্রিক, গড়ে ফেলেছেন অজস্র রেকর্ড। সেই জয়ের পর এবার তাদের সামনে অপেক্ষা করছে গ্রুপ পর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে, আগামী ২২ জুন। গ্রুপ ‘জে’-র এই ম্যাচে মুখোমুখি হবে টুর্নামেন্টের দুই জয়ী দল। প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনা যেমন আলজেরিয়াকে হারিয়েছে, তেমনি অস্ট্রিয়াও জর্ডানকে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে তারা শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল জর্ডানের বিপক্ষে। এরপর সমতা ফেরায় এশিয়ার দলটি। তবে শেষমেশ আর তাদের বাধা দিতে পারেনি একটি আত্মঘাতী গোল ও মার্কো আর্নাতোভিচের লক্ষ্যভেদে তারা সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে। এই দলটির বিপক্ষেই নিজেদের শেষ ম্যাচটি খেলবে আকাশী সাদারা।বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ২৭ জুন, প্রতিপক্ষ জর্ডান। তবে তার আগে সব নজর এখন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচে।