বিশ্বকাপ ফুটবল

  • বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের

    বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের

    ফিফার বাণিজ্যিক কাঠামোয় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের ৫৫টি ফুটবল ফেডারেশন। বৃহস্পতিবার উয়েফার সদস্য দেশগুলোর এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি ও দ্য অ্যাথলেটিকসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দেন। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব ও টুর্নামেন্ট পরিচালনার কার্যক্রম একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যায়নের ওই প্রতিষ্ঠানের একটি অংশের শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে চায় ফিফা। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তালিকায় জশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনাল এর নামও এসেছে।

    শুরু থেকেই এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির দাবি, ফুটবলের পরিচালনা ও ঐতিহ্যকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা উচিত নয়। তাদের মতে, ফুটবলের মূল কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ খেলাটির স্বার্থের পরিপন্থী।

    এই অবস্থান থেকেই বৃহস্পতিবারের সভায় উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশ আসন্ন বিশ্বকাপ বর্জনের পক্ষে ভোট দেয়।

    বর্তমান সূচি অনুযায়ী, আগামী গ্রীষ্মে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নারী বিশ্বকাপ। এরপর ২০৩০ সালে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে বসবে পুরুষদের বিশ্বকাপ। উয়েফার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দুটি আসরই বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

    তবে ফিফার প্রস্তাব এখনো সদস্য দেশগুলোর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দিয়ে ফিফার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে চায় উয়েফা। এর ফলে প্রস্তাবটি নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনায় নতুন মোড় আসতে পারে।

  • মার্কার প্রতিবেদন; ১২৮ দলের বিশ্বকাপ, অসম্ভব নয়

    মার্কার প্রতিবেদন; ১২৮ দলের বিশ্বকাপ, অসম্ভব নয়

    স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। শিরোপার উচ্ছ্বাসে চাপা পড়ে গেছে আসরের আগে আলোচিত অনেক বিষয়। টিকিটের উচ্চ মূল্য, স্বাগতিক শহরগুলোর দীর্ঘ দূরত্ব, ৪৮ দল নিয়ে আয়োজনের ফলে মান কমে যাওয়ার শঙ্কা, ভিসা জটিলতা এবং স্বাগতিক দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ—এসব নিয়ে যে বিতর্ক ছিল, টুর্নামেন্ট শেষে তা অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।

    বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফিফা এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল আসর হিসেবে তুলে ধরবে, এমনটা অনেকের কাছেই প্রত্যাশিত ছিল। সফল আয়োজন, বিপুল আয় এবং দর্শক আগ্রহকে সামনে রেখে এখন ভবিষ্যতের বিশ্বকাপকে আরও বড় করার আলোচনা শুরু হয়েছে।

    বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি ধারণা বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে—যদি ৪৮ দলের বিশ্বকাপ সফল হয়, তাহলে আরও বড় আসর আয়োজনেও আপত্তির কারণ নেই। সেই ভাবনা থেকেই ৬৪ দল কিংবা আরও বড় পরিসরের বিশ্বকাপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    যদিও ৬৪ দলের বিশ্বকাপ এখনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নয়, তবু এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সমর্থকদের আগ্রহ এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া অসম্ভব নয় বলেই মনে করছেন অনেকে।

    অনেকের মতে, অংশগ্রহণকারী দল বাড়লে প্রতিযোগিতার মান কমতে পারে। তবে বিপরীত মতও রয়েছে। তাদের যুক্তি, ফুটবলের সাফল্য এখন শুধু মান দিয়ে নয়, দর্শকসংখ্যা, সম্প্রচারস্বত্ব এবং আয় দিয়েও পরিমাপ করা হয়।

    এই ধারণা আরও এক ধাপ এগিয়ে ১২৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আটটি স্বাগতিক দেশে ১৬টি করে দল নিয়ে আলাদা আটটি পর্ব আয়োজন করা যেতে পারে। প্রতিটি পর্ব থেকে দুটি করে দল পরের ধাপে উঠবে।

    এরপর শেষ ১৬ দলকে নিয়ে নবম একটি দেশে অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত পর্ব। সেখানে চারটি গ্রুপে ভাগ করে খেলা শেষে সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনালের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে চ্যাম্পিয়ন।

    প্রথম দেখায় এমন আয়োজন অসম্ভব মনে হলেও হিসাব বলছে, সময় খুব বেশি বাড়বে না। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে ৩৯ দিনে। প্রস্তাবিত ১২৮ দলের বিশ্বকাপও কয়েকটি ধাপ মিলিয়ে প্রায় ৪১ দিনের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব বলে মত দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণের সময় কিছুটা কমানো গেলে সেটিও ৩৯ দিনের সূচির মধ্যেই রাখা সম্ভব।

    অবশ্য এত বড় আসরের জন্য বাছাইপর্ব আগের মতোই থাকবে। স্বাগতিক দেশগুলো সরাসরি মূল পর্বে খেলবে, আর বাকি দলগুলোকে বাছাইপর্ব পেরিয়ে জায়গা করে নিতে হবে।

    এই পরিকল্পনার সমর্থকদের মতে, এতে ইতালির মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিশ্বকাপে না থাকার সম্ভাবনা কমবে। একই সঙ্গে চীন, ভারতসহ বড় বাজারের দেশগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে। এছাড়া বিভিন্ন দেশ তুলনামূলক কম খরচে বিশ্বকাপের একটি পর্ব আয়োজন করতে পারবে।

    তাদের বিশ্বাস, এতে সম্প্রচারস্বত্বের মূল্য এবং বাণিজ্যিক আয় আরও অনেক বেড়ে যাবে। কারণ ফুটবলের প্রতি সমর্থকদের আগ্রহ কমার কোনো লক্ষণ নেই।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন একটি পরিকল্পনায় অসুবিধার চেয়ে সুবিধাই বেশি। এমনকি ভবিষ্যতে ১২৮ দলের বিশ্বকাপ বাস্তবায়িত হলেও তিনি বিস্মিত হবে না।

  • কোটি কোটি সমর্থক, তবু ফুটবলে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান?

    কোটি কোটি সমর্থক, তবু ফুটবলে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান?

    বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান কিংবা ইন্দোনেশিয়ার রাস্তাঘাটে ফুটবল উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে হাজারো মানুষের ভিড়, মেসির গোলে উল্লাস সবই যেন বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ সেই উল্লাসে নিজের দেশের কোনো দল নেই। প্রশ্ন উঠছে, কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী থাকা সত্ত্বেও কেন বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারছে না এসব দেশ?

    বার্তাসংস্থা বিবিসির এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শুধু জনসংখ্যা নয়; অর্থনৈতিক সক্ষমতা, অবকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ফুটবল সংস্কৃতির ধারাবাহিক বিকাশ এসবই একটি দেশের বিশ্বকাপে সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ঢাকায় মেসির গোলেই উৎসব, কিন্তু মাঠে নেই বাংলাদেশ

    ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচে লিওনেল মেসি গোল করার পর ঢাকার বিভিন্ন খোলা প্রাঙ্গণে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন হাজারো সমর্থক। অনেকের গায়ে ছিল আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি। কিন্তু সেই দর্শকদের একজনও আর্জেন্টিনার নাগরিক ছিলেন না; তারা সবাই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী।

    ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন শহরেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে। নিজেদের দল বিশ্বকাপে না থাকায় অনেক সমর্থক আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল কিংবা অন্যান্য জনপ্রিয় দলকে সমর্থন করেন।

    জনসংখ্যা বড় হলেই সাফল্য আসে না

    তাত্ত্বিকভাবে একটি দেশের জনসংখ্যা যত বেশি, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি। বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলোর বেশিরভাগই জনবহুল যেমন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ইতালি ও স্পেন তার উদাহরণ।

    তবে ব্যতিক্রম উরুগুয়ে। মাত্র সাড়ে ৩৫ লাখ মানুষের দেশটি দুইবার বিশ্বকাপ জিতেছে।

    ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ ও ‘সকারনোমিকস’ বইয়ের সহলেখক স্টেফান সিজমানস্কির মতে, জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি একমাত্র শর্ত নয়।

    তার ভাষায়, ‘একটি দেশের ফুটবলে সফল হতে মানুষের পাশাপাশি অর্থ, অবকাঠামো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রয়োজন।’

    সিজমানস্কি বলেন, যেসব দেশ বিশ্বকাপ জিতেছে, তাদের বেশিরভাগই দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো শত বছরেরও বেশি সময় ধরে উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

    তার গবেষণা অনুযায়ী, সাধারণত বিশ্বকাপ জিততে মাথাপিছু গড় আয় ১৫ হাজার ডলারের বেশি হওয়া দরকার। যদিও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা তুলনামূলক কম আয় নিয়েও সফল হয়েছে, কারণ তাদের ফুটবল ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা অনেক সমৃদ্ধ।

    বাংলাদেশে কাঠামোগত দুর্বলতা

    বাংলাদেশের অভিনেতা, লেখক ও ফুটবল বিশ্লেষক অদিতি করিম বিবিসিকে বলেন, ‘লাখো-কোটি ফুটবল সমর্থক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এত পিছিয়ে থাকবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

    তার মতে, ক্রিকেট জনপ্রিয় হওয়া কোনো অজুহাত নয়।

    তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও ক্রিকেট পরাশক্তি, কিন্তু তারা নিয়মিত বিশ্বকাপে খেলছে। আমাদের সমস্যা জনপ্রিয়তা নয়, বরং প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও কাঠামোর অভাব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবতা বিবেচনায় আমার জীবদ্দশায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখার সম্ভাবনা আমি দেখি না। তবে বাংলাদেশি সমর্থকেরা বিশ্বকাপের আনন্দ থেকে নিজেদের কখনো দূরে রাখবেন না।’

    ভারতের সমস্যা ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা

    ভারতের সাবেক ফুটবলার শ্যাম থাপার মতে, দেশটির অন্যতম বড় সমস্যা ক্রিকেটের বিপুল জনপ্রিয়তা।

    তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আর্থিক সাফল্যের কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সন্তানদের ফুটবলের বদলে ক্রিকেটে উৎসাহিত করছে।

    তবে তার বিশ্বাস, ফুটবলেও সফল ক্যারিয়ার গড়ে ভালো আয় করা সম্ভব এই বার্তাটি পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানো জরুরি।

    চীনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ

    চীন ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপে ফিরতে পারেনি, যদিও গত এক দশকে ফুটবলে বিপুল বিনিয়োগ করেছে।

    বেইজিংভিত্তিক ফুটবল বিশ্লেষক মার্ক ড্রেয়ারের মতে, সমস্যার মূল কারণ অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।

    তার ভাষায়, ‘ফুটবলের সিদ্ধান্ত ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নেওয়া উচিত। কিন্তু চীনে সবকিছুই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে।’

    ইন্দোনেশিয়ার ভিন্ন পথ

    ইন্দোনেশিয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ধাপ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তবে দেশটির অনেক খেলোয়াড়ই ইউরোপে জন্ম নেওয়া ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত।

    বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার জেরোম উইরাওয়ান জানান, অনেক ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার শুরুর একাদশে আট বা নয়জন ইউরোপে জন্ম নেওয়া ফুটবলার খেলেছেন।

    অবকাঠামো সংকটে ইথিওপিয়া

    ইথিওপিয়াও কখনো বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। দেশটির পেশাদার লিগ বর্তমানে উপযুক্ত স্টেডিয়ামের সংকটে ভুগছে।

    ইথিওপিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী কিফলে সাইফে জানান, চলতি মৌসুমে ৩৮০টির বেশি ম্যাচ মাত্র তিনটি অনুমোদিত স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে হয়েছে। এমনকি জাতীয় দলকেও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ‘হোম ম্যাচ’ মরক্কোতে খেলতে হয়েছে।

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের হতাশা

    ২০২৬ বিশ্বকাপের এশিয়ান বাছাইপর্বে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দলই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। ছয় ম্যাচে কোনো জয়ই পায়নি তারা।

    এছাড়া ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রশাসনিক সংকটের কারণে পাকিস্তানকে তিনবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা।

    বিশ্লেষকদের মতে, জনসংখ্যা বা ফুটবলের জনপ্রিয়তা নয়; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী ফুটবল কাঠামো, অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত পরিচালনাই বিশ্বকাপে পৌঁছানোর মূল চাবিকাঠি। আর এসব ক্ষেত্রেই এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে।

  • রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ

    রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ

    ক্রীড়া ডেস্ক :

    ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের শেষটা যেন ধীরে ধীরে সামনে চলে এলো। পর্তুগালের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিশ্চিত করেছেন, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপই হবে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।

    বিশ্বকাপ চলাকালীন এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেন, ‘আমি এই বিশ্বকাপ উপভোগ করছি—সমর্থক, মানুষ, পুরো পরিবেশটাই দারুণ লাগছে। তবে নিশ্চিতভাবে এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। সিদ্ধান্তটা আমি নিয়েই ফেলেছি।’

    রোনালদোর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে ছড়িয়ে থাকা এক স্বর্ণযুগের সমাপ্তির কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল। ২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন তিনি। এরপর টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে পর্তুগালের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ তাঁর ষষ্ঠ এবং শেষ অধ্যায় হতে যাচ্ছে।

    আবেগঘন ঘোষণার পাশাপাশি নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতাও তুলে ধরেন রোনালদো। একটি বিমানের ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘একটি ফ্লাইটে আমি বুঝতে পারলাম একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট আর্জেন্টিনার। ও যেভাবে আমার দিকে তাকিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে নিল, আমি বুঝে গিয়েছিলাম। আমি তাকে বললাম- দেখো, আমি জানি তুমি আর্জেন্টিনার। তুমি আমাকে পছন্দ করো না! তবে চিন্তা কোরো না, আমার স্ত্রী কিন্তু আর্জেন্টিনার।’

    বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল এই ফরোয়ার্ড ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে অসংখ্য রেকর্ডের মালিক। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী রোনালদো দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলেও সর্বাধিক গোলের রেকর্ড তাঁর দখলেই।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে আর দেখা যাবে না রোনালদোকে—এমন ঘোষণা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে আবেগঘন এক মুহূর্ত। তাঁর বিদায়ের সঙ্গে শেষ হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি বড় অধ্যায়।

  • গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমানে মেসি-এমবাপ্পে-হালান্ড,

    গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমানে মেসি-এমবাপ্পে-হালান্ড,

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে গোল্ডেন বুটের লড়াই। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় বর্তমানে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। তিনজনেরই গোলসংখ্যা ৭।

    মেসি এবারের বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন। এছাড়া অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুটি, জর্ডানের বিপক্ষে একটি এবং শেষ ষোলোর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে একটি গোল করে নিজের গোলসংখ্যা সাতে উন্নীত করেন।

    অন্যদিকে এমবাপ্পে সেনেগালের বিপক্ষে দুটি গোল করেন। এছাড়া ইরাক, নরওয়ে ও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে একটি করে এবং সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনিও সাত গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

    নরওয়ের তারকা আর্লিং হালান্ড ইরাকের বিপক্ষে দুটি, সেনেগাল, ফ্রান্স ও জাপানের বিপক্ষে একটি করে এবং শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে যান।

    গোলসংখ্যা সমান হলেও ফিফার টাইব্রেকিং নিয়ম অনুযায়ী আপাতত এগিয়ে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। কারণ গোল সমান হলে প্রথমে বিবেচনায় নেওয়া হয় অ্যাসিস্ট। এমবাপ্পের ঝুলিতে রয়েছে দুটি অ্যাসিস্ট, যেখানে মেসি ও হালান্ড এখনো কোনো অ্যাসিস্ট করতে পারেননি।

    ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গোল ও অ্যাসিস্ট—দুটিই সমান হলে কম সময় মাঠে থেকে বেশি গোল করা ফুটবলারকে এগিয়ে রাখা হবে।

    এদিকে গোল্ডেন বুটের দৌড় থেকে এখনো ছিটকে যাননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও। তার গোলসংখ্যা ৬। কোয়ার্টার ফাইনালসহ সামনে আরও ম্যাচ থাকায় একটি গোল করলেই তিনি আবারও শীর্ষ লড়াইয়ে যোগ দিতে পারবেন।

    বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে এসে গোল্ডেন বুটের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। একদিকে শেষ বিশ্বকাপে খেলতে নামা মেসির সম্ভাব্য রূপকথা, অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় গোল্ডেন বুট জয়ের লক্ষ্যে এমবাপ্পে এবং প্রথম বিশ্বকাপেই ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে হালান্ড। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার কার হাতে উঠবে, তা নির্ধারণ হবে নকআউট পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে।

  • জার্মানকে হারিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর

    জার্মানকে হারিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল জার্মানি। নিউজার্সিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে ২-১ গোলে হেরে বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে হারলেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউটে উঠেছে জার্মানি।

    অন্যদিকে কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্ট।

    বিশ্বকাপে টিকে থাকতে জার্মানির বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না ইকুয়েডরের সামনে। তবে ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় তারা। দ্বিতীয় মিনিটে লেরয় সানের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। প্রথম গোল হজম করেও ভেঙে পড়েনি ইকুয়েডর। মাত্র সাত মিনিট পর, ম্যাচের নবম মিনিটে নিলসন অ্যাঙ্গুলোর গোলে সমতায় ফেরে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

    ম্যাচজুড়ে দুই দলই প্রায় সমানতালে আক্রমণ করলেও প্রত্যাশিত আগ্রাসী ফুটবল খেলতে পারেনি জার্মানি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৭৭ মিনিটে গঞ্জালো প্লাতার নৈপুণ্যে জয়সূচক গোল পেয়ে যায় ইকুয়েডর। যে গোলে জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়ের নয়্যারের কিপিং প্রশ্নের মুখে পড়ে।

    জার্মানির বিপক্ষে এই জয়ে গোল ব্যবধানে উন্নতি করে ৪ পয়েন্ট অর্জন করেছে ইকুয়েডর। তৃতীয় সেরা দলগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে তারা। ২০০৬ বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম শেষ ৩২-এ উঠল ইকুয়েডর।

    অন্যদিকে নিকোলাস পেপের জোড়া গোলে কুরাসাওকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আইভরি কোস্ট। এর আগে টানা তিনটি বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল আফ্রিকার দলটিকে।

  • নকআউটের লড়াইয়ে মরক্কোর সামনে হাইতি

    নকআউটের লড়াইয়ে মরক্কোর সামনে হাইতি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো ও হাইতি। এ ম্যাচে নকআউট পর্বের খেলার সমীকরণ মেলাতে চাইবে মরক্কো। এর আগে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিতেছে তারা (১-০ গোলে)। গ্রুপে দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট চার। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে (ব্রাজিলের কাছে ৩-০ আর স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে) বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশ হাইতির। কোনো কিছু হারানোর নেই বলেই মরক্কোর সামনে নির্ভার থাকবে হাইতি।
    গত বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছিল মরক্কো। এবারের বিশ্বকাপেও ব্রাজিল ম্যাচে যে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে তারা, সেটি বার্তা দিল- আরো শক্তিশালী হয়ে এসেছে তারা। তাই হাইতির জন্য ম্যাচটি কঠিন পরীক্ষারই হতে যাচ্ছে। তাদের রক্ষণভাগের জন্য মরক্কোর ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারি বড় আতঙ্কের নাম হতে পারেন। কেননা ব্রাজিল ম্যাচে ২১ মিনিটে সাইবারির গোলেই এগিয়ে যায় মরক্কো। আর স্কটল্যান্ড ম্যাচে মাত্র ৭০ মিনিটে গোল করে দলকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন এই তরুণ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০১টি পাস আদান-প্রদান করে পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তারের রেকর্ড গড়েছে মরক্কো। হাইতি ম্যাচেও যে তারা দাপট দেখাতে চাইবে, সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে আগের দুই ম্যাচে হারলেও লড়াই করেছে হাইতি। কোনো কিছু না হারানোর মানসিকতা নিয়েই মরক্কোর ম্যাচে ঝাঁপিয়ে পড়ে দলটি। শেষ ম্যাচে পয়েন্ট নিয়ে বাড়ি ফেরার লক্ষ থাকবে তাদের। এর আগে মরক্কো ও হাইতি কোনো ফুটবল ম্যাচ খেলেনি। বিশ্বমঞ্চে এই প্রথম দেখা হচ্ছে দুদলের। দুরন্ত মরক্কোর চেনা ছন্দের জয় নাকি হাইতির শেষ চমক- সেটিই দেখার অপেক্ষা।

  • গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিন সুপারস্টার

    গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিন সুপারস্টার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের গল্প সাধারণত দলকে ঘিরে লেখা হয়। কিন্তু কিছু কিছু বিশ্বকাপ আছে, যেখানে গল্পের কেন্দ্রে চলে আসেন ফুটবলার। কখনো সে গল্পের নায়ক একজন। কখনো দুজন অথবা তিনজন। ২০২৬ বিশ্বকাপ এখন ঠিক সেরকমই চমকপ্রদ এক গল্পের দিকে এগোচ্ছে।
    আগে নামগুলো শুনি। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হ্যালান্ড-তিনজনই গোল করছেন, রেকর্ড ভাঙছেন। আর একে অপরকে তাড়া করছেন। মনে হচ্ছে যেন মাঠে শুধু প্রতিপক্ষের সঙ্গে নয়, নিজেদের মধ্যেও একটি অদৃশ্য প্রতিযোগিতা চলছে।
    ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করলেন মেসি। শুধু ম্যাচ জেতালেন না, ভেঙে দিলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ রেকর্ডগুলোর একটি। মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলকে পেছনে ফেলে পৌঁছে গেলেন ১৮ গোলে। অবাক করার বিষয় হলো, এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত পাঁচ গোল করেছে। পাঁচটিই মেসির। ৩৮ বছর বয়সে এমন আধিপত্য সাধারণ কোনো ফুটবলারের গল্প নয়।
    এটা কিংবদন্তির গল্প। এটা এমন এক মানুষের গল্প, যিনি সময়ের সঙ্গেও প্রতিযোগিতায় জিতছেন। কিন্তু মেসির পেছনে ছায়ার মতো আছেন আরেকজন। ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে নিজের আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির ম্যাচে জোড়া গোল করলেন ফরাসি তারকা। তিন বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা এখন ১৬। একটু জানিয়ে দিই-আগের দুই বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা ছিল ১২। সেই দুই বিশ্বকাপের দুটিতেই তিনি ফাইনালে খেলেছেন। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন। চার বছর আগে ২০২২ সালে রানার্সআপ।
    এবার? সময়েই মিলবে সে প্রশ্নের উত্তর।
    জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সর্বোচ্চ গোলের যে চারটি বিশ্বকাপ খেলেছিলেন, এমবাপ্পে সেখানে পৌঁছে গেছেন অবিশ্বাস্য দ্রুততায় এবং তার বয়স এখনও মাত্র ২৭। আরো অন্তত দুটি বিশ্বকাপ খেলা সম্ভবত তার বাকি রয়েছে।
    ফরাসি ফুটবল বিশ্লেষক জুলিয়েন লরেন্স বলছিলেন, ‘আমার তো মনে হয় এ বিশ্বকাপটি এবার এমবাপ্পের বিশ্বকাপ হতে পারে। কারণ, সে এমন এক রেকর্ডের পেছনে ছুটছে-যা এখন মেসির হাতে।’
    এ কথার মধ্যে লুকিয়ে আছে পুরো বাস্তবতা। মেসি এখন শীর্ষে; কিন্তু শিকারি হয়ে পেছনে আছেন এমবাপ্পে।
    বিশ্বকাপ শুরুর আগে গোল্ডেন বলের লড়াইয়ে মেসি-এমবাপ্পে-রোনালদোর নাম থাকলেও সে সম্ভাবনার তালিকায় আর্লিং হ্যালান্ডের নাম ছিল অনেক পেছনে, খানিকটা অস্পষ্ট আকারে। সম্ভবত এ উপেক্ষা পছন্দ হয়নি নরওয়ের এই স্ট্রাইকারের। তাই নিজের অভিষেক বিশ্বকাপে যা করলেন, সেটা এখন পর্যন্ত নরওয়ের আর কেউ করে দেখাতে পারেননি। টানা দুই ম্যাচে দুটি করে গোল করে চলতি বিশ্বকাপে হ্যালান্ডের গোল এখন চার। এমবাপ্পের সমান। নরওয়ের হয়ে এই গোলমেশিন হ্যালান্ডের পরিসংখ্যান দুর্দান্ত, ৫২ ম্যাচে ৫৯ গোল। আর বিশ্বকাপে নিজের প্রথম দুই ম্যাচে যা করলেন হ্যালান্ড, তা নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে কারো নেই।
    হ্যালান্ডকে নিয়ে স্কটল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার অ্যালি ম্যাককয়েস্টের মন্তব্যটা সত্যিই বাঁধিয়ে রাখার মতোই-‘প্রকৃতিগত প্রতিভার বিচারে মেসি সবার ওপরে। তার পরেই এমবাপ্পে। কিন্তু বল জালে পাঠানোর কথা বললে হ্যালান্ডের সমকক্ষ কেউ নেই।’
    তাহলে এবার অঙ্ক মেলাই।
    মেসি ম্যাচ তৈরি করেন, রেকর্ড গড়েন। এমবাপ্পে সেই রেকর্ড নিজের করার লড়াইয়ে নামেন। আর হ্যালান্ড এ দুইয়ের শ্রেষ্ঠত্বে ভাগ বসাতে ছুটছেন। ফুটবল মাঠে তিনজনের কাজ তিনরকম। তিনজনের ফুটবলও তিনরকম। তবে গন্তব্য কিন্তু ওই একই- গোল।
    আর সেই গোলের পথ ধরেই এখন চলছে গোল্ডেন বুটের দৌড়।
    দুই ম্যাচ শেষে মেসির পাঁচ গোল। এমবাপ্পের চার। হ্যালান্ডের চার। বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটল, যখন প্রথম দুই ম্যাচ শেষে তিন ফুটবলারের গোলসংখ্যা চার বা তারও বেশি। শেষবার এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল ১৯৫৪ সালে। সে বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির সান্দর কচিস করেছিলেন ১১ গোল। চার বছর পর জাস্ট ফন্টেইন করেছিলেন ১৩ গোল। আজও যা এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। এ রেকর্ডটিও কি এবার হুমকির মুখে?
    ফ্রান্সের সাবেক ডিফেন্ডার গায়েল ক্লিশি বলেন, ‘এমবাপ্পেদের প্রজন্মের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তারা ভয় পায় না। তারা বয়স দেখে সম্মান করে না, পারফরম্যান্স দেখে সম্মান করে।’
    এ কথাটি শুধু এমবাপ্পের জন্য নয়। হ্যালান্ডের জন্যও সত্যি। আর আশ্চর্যের বিষয়, ৩৮ বছর বয়সেও মেসি যেন একই মানসিকতা নিয়ে খেলছেন। তিনি এখনো ক্ষুধার্ত। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে তার দ্বিতীয় গোল করতে মেসি যে কসরত এবং প্রচেষ্টা দেখালেন, তাতেই স্পষ্ট গোলক্ষুধা তার এখনো তুমুল। এখনো নতুন রেকর্ডের পেছনে ছুটছেন তারুণ্যের তেজে। এখনো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিচ্ছেন অভিজ্ঞতার আলোকে।
    এ তিনজনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনে হাসতে হাসতে বলেছিলেন-‘মেসি, এমবাপ্পে আর হ্যালান্ডকে দেখে বিরক্ত লাগে। ওরা যেন অবধারিতভাবেই গোল করবে!’
    এ বিশ্বকাপ প্রতি ম্যাচেই এই ত্রয়ীকে নিয়ে নতুন গল্প লিখছে। মেসি, এমবাপ্পে ও হ্যালান্ডের সেই গল্পে এবারের বিশ্বকাপের নায়ক হবেন কে? শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুটের ট্রফি হবে কার?
    সে প্রশ্নের উত্তর পেতে এখনো বাকি বেশ। তবে তার আগে গোটা ফুটবল বিশ্ব মুগ্ধ হয়ে দেখল এই ত্রয়ীর শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের দৌড়।

  • ‘আমাকে তো অবসরপ্রাপ্তই বানিয়ে ফেলেছিল’

    ‘আমাকে তো অবসরপ্রাপ্তই বানিয়ে ফেলেছিল’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের দাপুটে জয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ম্যাচে জোড়া গোল করে শুধু দলকে বড় জয়ই উপহার দেননি, গড়েছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নতুন রেকর্ড। ম্যাচ শেষে নিজের কঠিন সময়, সমালোচনা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পও শোনালেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

    হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচে উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দেয় পর্তুগাল। জোড়া গোল করেন রোনালদো, একটি গোল করেন নুনো মেন্দেস, আর একটি আসে আত্মঘাতী গোলে। শেষ দিকে স্কোরলাইন ৫-০ করেন রাফায়েল লেয়াও।ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, “আমরা জানতাম এই সপ্তাহে এমন কিছু ঘটবে। তবে দল খুব ভালোভাবে কাজ করেছে এবং আমরা অনেক উন্নতি করেছি। একটি প্রবাদ আছে—প্রতিটি কালো মেঘেরই রুপালি দিক থাকে। ব্যক্তিগতভাবে রেকর্ড ভাঙতে সবসময়ই ভালো লাগে, কিন্তু আমার প্রধান লক্ষ্য জাতীয় দলকে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করা। এই পর্যায়ে আমাদের লক্ষ্য ছিল গ্রুপ পর্ব পেরোনো। আমার বিশ্বাস, চার পয়েন্ট নিয়েই আমরা পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছি। আমি খুবই খুশি।”

    ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জানান, কঠিন সময়েও নিজের ওপর বিশ্বাস হারাননি তিনি।“আমি জানতাম এটা হবে। ঈশ্বর তাদেরই সাহায্য করেন, যারা কঠোর পরিশ্রম করে। আমি জানতাম আমার সতীর্থরাও আমাকে সাহায্য করবে। এটি ছিল খুব কঠিন একটি সপ্তাহ, একেবারে অন্ধকার একটি সপ্তাহ। এমনও মনে হচ্ছিল, যেন আমি ইতোমধ্যেই ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছি! কিন্তু আমি টিকে ছিলাম, যেমনটা সবসময় থাকি। কারণ আমি অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে কঠোর পরিশ্রমে বেশি বিশ্বাস করি।”

    এরপর নিজের অনুভূতি লুকাননি রোনালদো, “আমি মিথ্যা বলব না, সময়টা কঠিন ছিল। এটা স্বীকার করতেই হবে। তবে আমরা ফিরে এসেছি।”উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে রোনালদো বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হয়েছেন। সমালোচনার মুখে থাকা এক সপ্তাহের পর এমন পারফরম্যান্স যেন তার পক্ষ থেকে সবচেয়ে জোরালো জবাবই হয়ে উঠল।

  • কঙ্গোকে হারিয়ে নকআউটে কলম্বিয়া

    কঙ্গোকে হারিয়ে নকআউটে কলম্বিয়া

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের ‘কে’ গ্রুপে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার দেখাল কলম্বিয়া। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ে ১-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। একই সঙ্গে গ্রুপের শীর্ষস্থানও দখলে নিয়েছে হামেস রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন দল।

    বুধবার (২৪ জুন) অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চেয়েছিল কলম্বিয়া। তবে প্রথমার্ধে কঙ্গোর রক্ষণভাগ তাদের বেশ কয়েকবার হতাশ করে। বিরতির আগে কোনো দলই জালের দেখা পায়নি।
    দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি বদলে যায়। কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেয়ে এগিয়ে যায় কলম্বিয়া, আর সেই এক গোলের ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দেয় তাদের। কঙ্গোও সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও কলম্বিয়ার সংগঠিত রক্ষণ তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।

    এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল কলম্বিয়া। কঙ্গোর বিপক্ষেও জয় পাওয়ায় দুই ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত হয়েছে শেষ বত্রিশের টিকিট।অন্যদিকে, পর্তুগাল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয় পেলেও প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছিল। ফলে দুই ম্যাচ শেষে কলম্বিয়ার চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে ইউরোপের দলটি। এতে ‘কে’ গ্রুপের শীর্ষস্থান এখন পুরোপুরি কলম্বিয়ার দখলে।

    টানা দুই জয়ে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত কলম্বিয়া এখন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে। আর পর্তুগালকে লড়তে হবে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার এবং নিজেদের নকআউট ভাগ্য নিশ্চিত করার জন্য।