বিএনপি

  • মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল- সেই বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

    মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল- সেই বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

    জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামের মাদক সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় দলীয় পদ থেকে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    একই সঙ্গে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার রাতে (গত রাতে) আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামের মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাতেই তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

    শনিবার রাতে (গতরাতে) তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল হওয়া বিএনপি নেতা সাইদুল ইসলামকে সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিও বিলুপ্ত করে এসএম কায়কোবাদকে আহ্বায়ক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

    ওই অব্যাহতি পত্রে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাইদুল ইসলামকে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো। তার সঙ্গে দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত হলে সেটি তার ব্যক্তিগত দায় হিসেবে গণ্য করা হবে।

    এ ব্যাপারে সাইদুল ইসলাম জানান, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি পরিকল্পিত। শনিবার বিকালে তদন্ত হয়েছে। আমার পক্ষে বেশির ভাগ লোকজন কথা বলেছেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা চলে যাওয়ার পর আমাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চিঠি পেয়েছি। ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়টিও আমি জেনেছি।

    এ বিষয়ে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল জানান, মাদক সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সাইদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • জনগণের হক তছরুপ করলে কোনো ছাড় নেই: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

    জনগণের হক তছরুপ করলে কোনো ছাড় নেই: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

    সাধারণ মানুষের অধিকার ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি। তিনি বলেছেন, জনগণের হক আদায় না করে যদি কেউ দুর্নীতি করেন কিংবা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য তছরুপ করার চেষ্টা করেন, তবে অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা ১২টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে জনগণের হক নিয়ে কোনো প্রকার ছিনিমিনি বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দল-মত নির্বিশেষে সবার সরকার। প্রধানমন্ত্রী দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তিনি ছুটে চলছেন। আপনারা সরকারের পাশে থাকুন, আমাদের সহযোগিতা করুন; এই সরকার সুশাসন নিশ্চিত করলে তার সুফল দেশের প্রতিটি নাগরিক ভোগ করবে।

    মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম (পিপিএম) এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফছা নাদিয়া। এছাড়াও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এলাকার স্থানীয় অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করেন। এর আগে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী গজারিয়ায় এসে পৌঁছালে জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং এক বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থলে বরণ করে নেন।

  • সাঁথিয়ায় ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার যুবদল নেতা বহিষ্কার

    সাঁথিয়ায় ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার যুবদল নেতা বহিষ্কার

    পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবদল নেতা আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার ভোরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আবুল কাশেম সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানা এলাকার আড়িয়াডাংগী গ্রামের নিজামুদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি আর-আতাইকুলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি।

    গত ১১ জুন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরদিন শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে কাশেম শেখকে অভিযুক্ত করে আতাইকুলা থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীকে গ্রেপ্তার দাবিতে রোববার অভিযুক্তের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে স্থানীয়রা।

    এদিকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দল থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়। রোববার রাতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি একতাশামুল হক রাজিব এবং সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল সরদারের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

    আতাইকুলা থানার ওসি মজিবর রহমান জানান, ভোরে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর এলাকা থেকে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ‘হামে শিশু মৃত্যু, দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বিএনপির

    ‘হামে শিশু মৃত্যু, দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বিএনপির

    বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে মহামারি আকারে হাম ছড়িয়ে পড়ার পর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি সরকার। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।

    সরকারি হিসাব অনুযায়ী, হাম ও এই রোগের উপসর্গে সংক্রমণের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৮৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৬৫২ শিশু। এত মৃত্যুর জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন,‘সরকারের মিস ম্যানেজমেন্টের জন্যই এত মৃত্যু হয়েছে। যদি ম্যানেজমেন্টটা ভালো করা যেত, তাহলে এত মৃত্যু হতো না।’

    তিনি বলেন, ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পরও হামকে মহামারি ঘোষণা করে সারা দেশে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি না করাটা সরকারের একটা ‘বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল’।

    তবে অব্যবস্থাপনার কারণে হামে মৃত্যু বেড়েছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। সেই সঙ্গে দাবি করেছেন, সরকার যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে হামে তুলনামূলক কম শিশু মারা গেছে।

    স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুহিত বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব নেওয়ার ১৫ দিন পরেই হামের এটা শুরু হলো। আমরা যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নিতাম, তাহলে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হতো।’

    হাসপাতালের পরিস্থিতি এখন কেমন?

    সন্তানদের প্রাণ বাঁচাতে গত এক মাস ধরে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি করছেন সালমা বেগম ও আব্দুল গণি দম্পতি। তার পরও বাঁচাতে পারেননি প্রথম সন্তান ইব্রাহীমকে। সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে তিন সপ্তাহ আগে মারা গেছে আড়াই বছর বয়সি শিশুটি।

    শিশুর মা সালমা বেগম বলেন, ‘শুরুতে ওর জ্বর আর ঠান্ডা ছিল। পরে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তখন আমরা প্রথমে একটা ক্লিনিকে নিলাম। শ্বাসকষ্ট না কমায় পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গিয়েছিলাম। তার পরও আমার বড় ছেলেটারে বাঁচাতে পারলাম না।’

    সেই শোক না কাটতেই আরেক ছেলের শরীরেও দেখা দিয়েছে হামের লক্ষণ। তীব্র জ্বর, ঠান্ডা এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা আট মাসের ওই শিশুর প্রাণ বাঁচাতে রাত-দিন এক করে এখন ঢাকার শেরেবাংলা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে পড়ে আছেন এই বাবা-মা।

    সালমা বেগম বলেন, ‘বড় বাচ্চাটা কিছুদিন আগে মারা গেছে, আর ঈদের পর এই বাচ্চাটারও গায়ে হাম, ঠান্ডা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট—এগুলা শুরু হইছে। এখন এক সপ্তাহের মতো হইলো আমরা এই হাসপাতালে ভর্তি করছি।’শিশুটির বাবা পেশায় একজন দিনমজুর। ধার-দেনা করে তিনি ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাচ্ছেন বলে জানা

    ন তিনি।

    শিশুর বাবা আব্দুল গণি বলেন, ‘কাছে টাকা-পয়সা যা ছিল, সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ধার করে ছেলের চিকিৎসা করতেছি। কত দিন পারব, কইতে পারি না। দোয়া কইরেন, আল্লাহ যেন সুস্থ করে দেয় আমার ছেলেটারে।’

    হাসপাতালে তাদের বিছানার সামনেই আরেকটি বিছানায় মেয়ের সঙ্গে খেলছিলেন সাইমা খান। ফরিদপুর থেকে আসা এই মা জানাচ্ছিলেন গত এক সপ্তাহে কী ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চাটা নিঃশ্বাস নিতে পারতেছিল না, শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল খুব। সে কারণে হাসপাতালে আনার পরেই ওরে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে আশপাশের বেডে বাচ্চারা মারা যাচ্ছে, লাইফ সাপোর্টে নিচ্ছে। এগুলো দেখে আমার মনে অনেক ভয় কাজ করতেছিল। একপর্যায়ে এটাও মনে হচ্ছিল না যে, ও সুস্থ হবে।’

    কিন্তু তিন দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখার পর সাইমা খানের মেয়ের শারীরিক অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হয়।

    আমার বাচ্চাটা এখন আল্লার রহমতে ভালোই খাচ্ছে-দাচ্ছে, হাসতেছে-খেলতেছে। মা হিসেবে এই দৃশ্য দেখাটা যে কত শান্তির, বলে বোঝাতে পারবে না’, বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাইমা খান।

    বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ঢাকার আরো বেশ কিছু হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সবখানেই হামের ওয়ার্ডগুলোতে রোগী প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ।

    রোগীর চাপ আরো অনেক বেশি ছিল। গত সপ্তাহ থেকে কিছুটা কমতে শুরু করেছে বলে জানান বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আতিকুল ইসলাম।

    সরকারের দায় কতটা?

    চলতি বছরের মার্চে প্রাদুর্ভাব ঘটার পর গত তিন মাসে হামে ও হাম সন্দেহে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ইতোমধ্যে পৌনে এক লাখে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫০ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে মারা গেছে প্রায় ৩৬ জনের মতো, যাদের বড় অংশই ঢাকার বাইরে থেকে এসেছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    যথা সময়ে চিকিৎসা শুরু করতে না পারায় তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

    বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা ডা. ইসলাম বলেন,‘ঢাকার বাইরে থেকে কিছু কিছু মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আসতেছে। যারা আগে হামে আক্রান্ত হয়েছে, এখন কমপ্লিকেশন ডেভেলপ (জটিলতা তৈরি) করেছে, বিশেষ করে নিউমোনিয়া। এ জন্য আতঙ্ক ও শঙ্কা থেকে ভালো চিকিৎসার জন্য অনেকেই বাচ্চাকে নিয়ে ঢাকায় আসতেছে। কিছু কিছু রোগি এর মধ্য থেকে খারাপ হয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তীতে তাদের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মারা যাচ্ছে।’

    বাংলাদেশ থেকে প্রায় নির্মূল হয়ে যাওয়া হাম পুনরায় কীভাবে ফিরে এলো এবং এর জন্য দায়ী কারা, সেটি নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন মহলে নানান আলোচনা ও বিতর্ক হতে দেখা যাচ্ছে।

    বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চলমান হাম পরিস্থিতির জন্য বিগত আওয়ামী লীগ এবং অর্ন্তবর্তী সরকার দায়ী।

    সম্প্রতি সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এই হাম সংক্রমণের পেছনে বিগত দুই সরকার দায়ী। প্রতি চার বছর পরপর এমআর টিকার ক্যাম্পেইনিং করার কথা ছিল। কিন্তু ২০২০-এর ডিসেম্বরের পরে তারা সেটি করেনি। এর প্রভাব আমাদের ওপরে এসে পড়েছে।’

    হামের প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে আগের দুই সরকারের মধ্যে কে কতটুকু দায়ী, সেবিষয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    সেই সঙ্গে, হাম পরিস্থিতি কীভাবে এবং কেন এমন পর্যায়ে এলো, তা জানতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) একটি ‘স্বাধীন তদন্ত’ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিক অনুরোধও জানানো হয়েছে।

    কিন্তু প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে ভূমিকা না থাকলেও হাম ছড়িয়ে পড়ার পর তিন মাসেও সেটি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারা এবং এর ফলে যত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, সেটার জন্য বর্তমান সরকারের দায় রয়েছে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    বিশেষ করে, হাম ঘিরে জরুরি অবস্থা জারি না করা এবং জেলা পর্যায়ে হামের ভালো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে না পারার কারণে মৃত্যু বেড়েছে বলে মনে করেন তারা।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম এটা মহামারি ঘোষণা করে দেওয়া বা একটা স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা দরকার। সেটা করলে সর্বাত্মক একটা ব্যবস্থা নেওয়া যেত সবগুলো ফ্রন্ট থেকে। আর সবগুলো ফ্রন্ট থেকে যদি হামের বিরুদ্ধে একসঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করা যেত, তাহলে হাম এত দীর্ঘায়িত হতো না।’

    প্রাদুর্ভাবের শুরুতে হামকে মহামারি ঘোষণা করে সরকার সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করলে এত বিপুলসংখ্যক শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হতো না বলেও মনে করেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক এই প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

    ডা. আহমেদ বলেন, ‘শুরুতেই গুরুত্ব দিয়ে সরকার যদি হামকে মহামারি ঘোষণা করতো এবং মিস ম্যানেজমেন্টের বদলে আরো বেশি ফোকাসড ম্যানেজমেন্ট করতে পারতো, আইসিইউ ফ্যাসিলিটিস বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাড়ানো যেত এবং ডাক্তার ও নার্সদের এ বিষয়ে ট্রেনিং দিতে পারতো, তাহলে হাম এত বেশি ছড়াতো না, মৃত্যুও কম হতো।’

    সরকার কী বলছে?

    বিশেষজ্ঞরা অব্যবস্থাপনার যে অভিযোগ তুলেছেন, সেটি অস্বীকার করেছে সরকার।

    কর্মকর্তারা উল্টো দাবি করেছেন, হামের প্রাদুর্ভাবের পরপরও তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

    ‘কিন্তু এত শিশু আক্রান্ত ও মারা যাওয়ার পরও সরকার কেন হামকে মহামারি ঘোষণা করল না কিংবা স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করা কেন হলো না?’ প্রশ্ন তোলেন ডা. আহমেদ।

    বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও দাবি করেছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের চেষ্টার কমতি নেই।

    তবে বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, হাম ঘিরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করার সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনীতি থাকতে পারে।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন,‘এটা ইমার্জেন্সি ঘোষণা করলে সরকারের দিক থেকে সত্যিকার অর্থে কোনো ক্ষতি ছিল না। এটা একটা রাজনৈতিক স্ট্যান্ড বা অবস্থান।’

    বিষয়টি আরেকটু ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘সে অবস্থানটা এরকম যে, আমাদের সময় একটা হেলথ ইমার্জেন্সি বা একটা মহামারি ঘোষণা করা হয়েছে, এটা আমাদের ব্যর্থতা, আমাদের দুর্বলতা। কিন্তু আসলে এটা একটা ভুল ধারণা। কেননা এখন পর্যন্ত কেউই বলছে না যে, এই মহামারিটা হওয়ার দায় এই সরকারের। বলতেছে, এটা পূর্বাতন সরকারের।’

    ডা. আহমেদ বলেন, ‘কাজেই মহামারি যদি ঘোষণা করা হতো, কিন্তু দায় তাদের হতো না- এটা ধরেই নেওয়া যায়। বরং মহামারি ঘোষণা করার পরে যদি এই অল আউট ইফোর্টস গুলো নিতো, তড়িৎ ব্যবস্থা নিতো এবং খুব দ্রুত মহামারিটাকে থামিয়ে আনতো, মৃত্যু হতে দিতো না এত, তাহলে কিন্তু বরঞ্চ সরকার প্রশংসা পেত এবং তাদের এটা ক্রেডিট হিসেবে গণ্য হতো।

    কর্মকর্তারা বলছেন, শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ বলয় বা ‘হার্ড ইমিউনিটি’ গড়ে তোলার মাধ্যমে হাম পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ লক্ষ্য দুই মাস আগে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও এখনও শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

    এর মধ্যে আবার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগির সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। ফলে হাম পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সরকারের জন্য সামনের দিনগুলোতে কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী

    শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী

    চব্বিশের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে পেকুয়া উপজেলায় মেহেরনামা বাজারপাড়া এলাকায় শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী।

    কবর জিয়ারতের সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    পরে প্রধানমন্ত্রী ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন এবং ওয়াসিমের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র।

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ১৬ জুলাই (২০২৪) চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত হন চট্টগ্রাম কলেজের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের স্নাতক চুতর্থ বর্ষের ছাত্র ওয়াসিম শহীদ হন। তিনি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন।

    ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম। ৫ সন্তানের মধ্যে ওয়াসিম ছিলো দ্বিতীয়।

  • বাবা-মায়ের পর ছেলের নেতৃত্বে দেশের বাজেট

    বাবা-মায়ের পর ছেলের নেতৃত্বে দেশের বাজেট

    বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের ৫৫তম বাজেট ঘোষিত হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর আগে তার বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেও দেশের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নেতৃত্বের পাশাপাশি জিয়াউর রহমান নিজে বাজেট পেশও করেছেন। তাদের নেতৃত্বে বিএনপির শাসনামলে এ পর্যন্ত ১৭ বার বাজেট পেশ করা হয়েছে।

    বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ছয়টি বাজেট ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে সরকারপ্রধান হিসাবে তিনি নিজে তিনটি বাজেট পেশ করেছেন। বাকি তিনটি বাজেট তার নেতৃত্বে পেশ করা হয়। ১৯৭৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন জিয়াউর রহমান। ওই বছরের ২৬ জুন তিনি বাজেট পেশ করেন। ওই সময়ে বাজেটের আকার ছিল ১ হাজার ৮৬৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে আয় ছিল ৯৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ঘাটতি ছিল ৯০১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। রাষ্ট্রপতি হিসাবে জিয়াউর রহমানের আমলে যে তিনটি বাজেট পেশ করা হয় তার প্রথমটি অর্থমন্ত্রী মির্জা নুরুল হুদার হাত ধরে ও পরের দুটি এম সাইফুর রহমানের হাত ধরে ঘোষণা করা হয়।

    জিয়াউর রহমানের স্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে দুই দফায় অর্থমন্ত্রী হিসাবে এম সাইফুর রহমান আরও ১০টি বাজেট পেশ করেছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট গতকাল ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

  • খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

    খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

    খুলনার দক্ষিণ লবনচর এলাকায় গাজী রফিক (৪৫) ওরফে ঢাকাইয়া রফিক নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লবনচরার দশগেট এলাকায় নিজ বাসার অদূরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    নিহত গাজী রফিক দক্ষিণ লবনচরা মাথাভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা ও রতন গাজীর ছেলে। তিনি বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য হিসেবে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত ছিলেন।

    পরিবার ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, রফিকের বড় ছেলে অভিমানে কয়েকদিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। শুক্রবার সকালে ছেলেকে খুঁজতে বের হন রফিক। একপর্যায়ে তাকে না পেয়ে বাড়ির পেছনের একটি ফাঁকা স্থানে বসে ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তার তলপেটে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

    গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। হত্যার কারণ, পূর্বশত্রুতা কিংবা রাজনৈতিক কোনো বিরোধ এ ঘটনার পেছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেএমপির সহকারী কমিশনার (সিটিএসবি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

    বি. এ

  • বিদেশি বিনিয়োগ আনলে ১.৫% কমিশন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    বিদেশি বিনিয়োগ আনলে ১.৫% কমিশন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশে আনতে পারলে বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ পরামর্শক ফি বা কমিশন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এটার ফলে বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও বিনিয়োগ করবেন দেশে, এর বাইরেও মেধা ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে সক্ষম হবেন। দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সদস্য জহরত আদীব চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগে একটি বিষয় ছিল—তার লভ্যাংশ নিতে না পারলে কেন এখানে বিনিয়োগ করবে? এ সমস্যাটা আইনের মাধ্যমে সমাধান করেছি। তিন-চার দিন আগে হওয়া মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি—বিদেশ থেকে যদি কোনো বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক বিদেশি বিনিয়োগ দেশে নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে তাঁদের বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ পরামর্শক ফি বা কমিশন দেব, প্রণোদনা তাঁদের দেব।’

    বিএনপির সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগপ্রক্রিয়া সহজীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর হতে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধনপ্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুততর সময়ের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে।

    তারেক রহমান জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য রপ্তানি নীতি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬- ২৯ হালনাগাদকরণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। রপ্তানির উদ্দেশ্যে আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক বাধা দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমদানি সহজীকরণের লক্ষ্যে মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করা হচ্ছে এবং সব আমদানিকারকের জন্য মূল্যসীমা-নির্বিশেষ L/C ছাড়া চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে।

    সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের কার্যোপদেষ্টা বৈঠকে কিছু কিছু বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা ঈদের আগে দেওয়া বরাদ্দ পাননি বলে বিরোধী দলীয় নেতা আমাকে জানিয়েছিলেন। যেটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছিল। আমি বৈঠক থেকে বের হয়ে এসে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, যে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য কেউ না পেয়ে থাকলে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটার মাধ্যমে বোঝাতে চাইছি বর্তমান সরকার দেশের সম উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে। তাদের এলাকায়ও আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।

    আনিসুর রহমান তাঁর প্রশ্নে রাজপথে বিরোধী দলের ‘অপপ্রচার’ বন্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান।

    এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমানের প্রশ্নটি সঠিকভাবে বোধগম্য হয়নি। সঠিকভাবে বোধ্যগম্য হয়নি উনি কি বোঝাতে চেয়েছেন।’

    পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাননীয় সদস্য আনিসুর রহমান জানতে চাচ্ছেন যে–এসব উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়ার পরেও সরকারি দলের বিরুদ্ধে যেসব প্রচারণা হয়, তা বন্ধ হবে কি না? এ ব্যাপারে হুইপদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করবেন কি না? আমার মনে হয় আরও অপেক্ষা করতে হবে। সংসদ সবে মাত্র শুরু হলো!

    জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সরকার। এটি জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার। যদি গঠনমূলক কোনো সমালোচনা থাকে তা গ্রহণ করব এবং সেইভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

    জামায়াতের এমপি মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী সংসদ সদস্যদের সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে কোনো আসন নেই। স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক যে কাঠামো, তার ভিত্তিতে তাদেরকে দলীয় অবস্থান থেকে কিছু জায়গা তাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, তারা কোথায় কাজ করবেন। নির্বাচনী এলাকায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার সম্পূর্ণ হক আছে। নারী সংসদ সদস্যদেরও একই রকমভাবে হক আছে। স্বাভাবিকভাবেই যেটি নিয়ম আছে, সরকারের সেই নিয়ম অনুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার কোনো উন্নয়নের বিষয় যদি থাকে, সেখানে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকে, জানাবেন। আমি সরাসরি আপনাকে সহযোগিতার চেষ্টা করব।

    বিএনপির সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।

    তারেক রহমান জানান, এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৪৮ জনকে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে। শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার/প্যাগোডা এবং ৩৯৬টি গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ চারা রোপণ করা হবে। আগামী অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্কুলে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

    সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত দলীয় এমপি সাবিকুন্নাহার মুন্নীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচারের সময় এই দেশে কী হয়েছে তা সবাই জানেন। অর্থনীতি এমন একটি বিষয়, যার ফল একদিনে পাওয়া যায় না। খারাপ পলিসির প্রভাব যেমন ধীরে ধীরে আমাদের কাঁধে এসে পড়েছে, ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর সুফল পেতেও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।’

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে যাদের ক্রেডিবিলিটি বা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাদের এই তহবিল থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ সহযোগিতা দেওয়া হবে।

  • ঋতুপর্ণা চাকমাকে বাড়ি নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

    ঋতুপর্ণা চাকমাকে বাড়ি নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

    বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অন্যতম তারকা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহ নির্মাণে প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অধিবেশনের এক ফাঁকে নিজ কার্যালয়ে ঋতুপর্ণা চাকমার হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অতীতেও ঋতুপর্ণা চাকমা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল। ২০২৫ সালে তার ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তার প্রয়োজন হলে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ঋতুপর্ণার বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

    বাংলাদেশ ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ঋতুপর্ণা চাকমা দেশের নারী ফুটবলের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা।

    এছাড়া ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার অভিযানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

  • জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি, সতর্ক করল বিএনপির মিডিয়া সেল

    জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি, সতর্ক করল বিএনপির মিডিয়া সেল

    দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিএনপির মিডিয়া সেল। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিডিয়া সেলের নামে পরিচালিত বিভিন্ন ভুয়া পেজ, গ্রুপ ও কমিউনিটি সম্পর্কে নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকালে বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু জেলায় বিএনপি মিডিয়া সেলের নামে ভুয়া কমিটি ঘোষণা ও প্রচারের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির মিডিয়া সেলের নামে বিভিন্ন ভুয়া পেজ, গ্রুপ, কমিউনিটি সক্রিয় রয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি মিডিয়া সেলের কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সারা দেশে জেলা বা মহানগর পর্যায়ে এ নামে কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের মিডিয়া সেলের অনুমোদিত কমিটি দাবি করছে, তাদের সঙ্গে বিএনপি মিডিয়া সেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

    এতে আরো বলা হয়, অননুমোদিত ও ভুয়া কমিটি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হবে বলে সতর্ক করা যাচ্ছে।

    সাধারণ নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ও তালিকা থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।