ট্যাগ বিএনপি

  • পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

    পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

    পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে রংপুরে পাঠানো হয়েছে। রোববার রাত ১০টার দিকে শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হওয়া একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টার দিকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমিরের সমর্থকেরা তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

    এ সময় দুই পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা হাতে মহাসড়কে অবস্থান নেন। সংঘর্ষের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। রাত ১২টার পর দুই পক্ষই ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

    পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে আহত ১৫ জন হলেন, রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), আব্দুল বাতেন (৪০), শামীম (২৮), জীবন (২২), সাফাত কবির (২১), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী চৌধুরী (৩৮)। তারা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।

    পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, মোট ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে রংপুরে রেফার করা হয়েছে। আহতদের অনেকে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। আমরা জেনেছি, রাজনৈতিক সংঘর্ষে তারা আহত হয়েছেন।

    জানা গেছে, রোববার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়। ওই ঘটনার জের ধরেই রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন।

    পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • রাজপথে হুমকি নয়, সংসদে গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন: রিজভী

    রাজপথে হুমকি নয়, সংসদে গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন: রিজভী

    গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে রাজপথে আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে সমস্যা সমস্যা সমাধানে জাতীয় সংসদে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আজ শুক্রবার বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

    বিরোধী দলের উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা গ্যাস, বিদ্যুতের জন্য লংমার্চ করবেন, কর্মসূচি দেবেন- ঠিক আছে। কিন্তু আপনারা একটা অল্টারনেটিভ বলুন, আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ কীভাবে সরবরাহ করব, কোথা থেকে পাব, কীভাবে পাব।”

    তিনি বলেন, ‘কী কী পদক্ষেপ নিলে বর্তমান সংকট মোকাবিলা সম্ভব, সে বিষয়ে বিরোধী দলের একটি পরিকল্পনা দেওয়া উচিত। সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে। সরকারের সমালোচনা ও সংসদের বাইরে কর্মসূচি পালন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা হলেও সংকট মোকাবিলায় পরামর্শ দেওয়াও প্রয়োজন।’

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘একটা পরিকল্পিত অচলাবস্থা তৈরি করা আমার মনে হয় ঠিক হবে না। বরং কীভাবে এই সংকট নিবারণ করা যায়, সেই বিষয়ে পরিকল্পনা দিতে হবে। অতীতের পুনরাবৃত্তি হলে পরিস্থিতি আরও অন্ধকারের দিকে যাবে।’

    গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে সংকট দেখা দিয়েছে। এটি সরকারের নিজস্ব কোনো কারণে হয়নি।

    জুলাই আন্দোলনে গান ও নৃত্যের ভূমিকা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আন্দোলনকারীদের মধ্যে উদ্দীপনা ও সাহস তৈরি করেছিল।

    বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি ফারহানা বেবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন, নায়ক হেলাল খান, জাকির হোসেন রুকন প্রমুখ। পরে সংস্থাটির নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।

  • এ্যানিকে নতুন দায়িত্ব দিলো বিএনপি

    এ্যানিকে নতুন দায়িত্ব দিলো বিএনপি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষ্যে গ্র্যাজুয়েটদের তালিকাভুক্তকরণ এবং জাতীয়তাবাদী ঐক্য পরিষদের নির্বাচন পর্যালোচনায় ৮ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে বিএনপি।

    ওই কমিটিতে বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য (এমপি) মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    কমিটির অপর সদস্যদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

    > অধ্যাপক ড. মোঃ মোর্শেদ হাসান খান, সিন্ডিকেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্যসচিব

    > ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, সদস্য

    > অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, ডিন, কলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, সদস্য

  • প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ক্রিসেন্ট লেকে মৎস্য অবমুক্তকরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ক্রিসেন্ট লেকে মৎস্য অবমুক্তকরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

    বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শেরে বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে বৃক্ষরোপন এবং ক্রিসেন্ট লেকে মৎস্য অবমুক্তকরণ করলেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই দলের চেয়ারম্যান জিয়া উদ্যানে প্রথমে বৃক্ষরোপ করেন । পরে ক্রিসেন্ট লেকে মৎস্য অবমুক্ত করেন।


    এসময়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু প্রমুখ ছিলেন।

    মঙ্গলবার ভোরে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচির মধ্যে আছে বৃক্ষরোপন ও মৎস্য অবমুক্তকরণ এবং আলোচনা সভা।

    বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব এর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাস্পের উদ্বোধন করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময়ে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ এবং মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল উপস্থিত ছিলেন।


    ১৯৭৮ সালেল ১লা সেপ্টেম্বর বিএনপি গঠিত হয়। দলের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন জিয়াউর রহমান।

  • খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্ণ করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তবে এবারের দিনটি বিএনপির জন্য অন্যবারের চেয়ে ভিন্ন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবার দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে দলটির সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া। গত ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর পর এটিই বিএনপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ফলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এবার সামনে এসেছে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং তার অনুপস্থিতিতে দলের ভবিষ্যৎ পথচলার প্রশ্ন।

    ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর চার দশকের বেশি সময় ধরে নানা রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে দলটি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে থাকা, আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক সংকট- সব পর্যায়েই বিএনপির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

    তবে দলটির এই দীর্ঘ পথচলায় সবচেয়ে দীর্ঘ সময় নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া। স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর আশির দশকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি। ১৯৮৪ সালের ১০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। এরপর প্রায় চার দশক দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে থেকে বিএনপিকে পরিচালনা করেন তিনি।

    সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে। রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে এরশাদ সরকারের পতনের পর দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হয়।

    ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের রাজনৈতিক পালাবদলেও বিএনপির নেতৃত্ব তার হাতেই ছিল। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বিজয়ী হলে আবারও সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেন তিনি।

    তবে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন শুধু ক্ষমতা ও নির্বাচনি সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। দীর্ঘ সময় বিরোধী রাজনীতি, আন্দোলন এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তাকে যেতে হয়েছে। ২০০৭ সালের পর দেশের রাজনৈতিক সংকটের সময় থেকে মামলা ও কারাবাসের মুখোমুখি হন তিনি। ২০১৮ সালে ‘দুর্নীতির মামলায়’ সাজা হওয়ার পর তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সীমিত হয়ে পড়ে। এসব মামলা ছিল তার বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে পলায়নের পর মুক্তি পেলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতিতে আর ফিরতে পারেননি খালেদা জিয়া। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটে।

    খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আবহে তাই স্বাভাবিকভাবেই এসেছে আবেগের ছোঁয়া। দলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন শুধু চেয়ারপারসন নন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন ও সাংগঠনিক ঐক্যের অন্যতম প্রধান প্রতীক। ফলে তার অনুপস্থিতিতে দলের ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে নতুন করে।

    এ অবস্থায় বিএনপির রাজনীতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার পর তার দেশে ফেরাকে ঘিরে দলটির মধ্যে নতুন রাজনৈতিক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে বিএনপিকে সামনে এগিয়ে নেওয়া, সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা এবং নেতাকর্মীদের ঐক্য ধরে রাখাই এখন তার সামনে বড় দায়িত্ব বলে মনে করছেন দলটির সংশ্লিষ্টরা।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিএনপির জন্য একই সঙ্গে স্মরণ ও পুনর্গঠনের বার্তা দেওয়ার সুযোগ। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির দর্শন এবং খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামকে ভিত্তি করে নতুন নেতৃত্বে দলটি কীভাবে এগিয়ে যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের অবর্তমানে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন ভারসাম্য তৈরি করা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের মাতা ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখিয়ে দেওয়া গণতন্ত্রের পথেই বিএনপির পথচলা। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, জাতীয়তাবাদ থাকবে, তত দিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’

    প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলে থেকেও বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দলটি দেশের রাজনীতিতে একটি স্থায়ী অবস্থান তৈরি করেছে। সেই দীর্ঘ পথচলায় জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠাকালীন ভূমিকার পর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অধ্যায়গুলোর একটি তৈরি হয়েছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে।

    এবার সেই নেত্রী নেই। আছে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। আর সেই উত্তরাধিকার সামনে রেখে ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপি এখন নতুন অধ্যায়ের দিকে তাকিয়ে। প্রতিষ্ঠার দিনটি তাই দলটির জন্য শুধু অতীতের গৌরব স্মরণের নয়, বরং খালেদা জিয়ার পরবর্তী বিএনপির রাজনৈতিক পথচলার দিকনির্দেশনা দেওয়ারও গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

  • প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাবা-মায়ের সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাবা-মায়ের সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি শ্রদ্ধা জানান।

    ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটির এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এসেছে ভিন্ন এক রাজনৈতিক পরিবেশে। দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার ছেলে তারেক রহমান এখন বিএনপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে। তার নেতৃত্বেই দলটি বর্তমানে সরকার পরিচালনা করছে।

    ৪৮ বছরে নানা রাজনৈতিক উত্থান-পতন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও ক্ষমতার পালাবদলের মধ্য দিয়ে পথচলা বিএনপি এবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দীর্ঘদিনের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি এখন নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সারা দেশে জেলা, মহানগর ও দলীয় ইউনিটগুলোও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছেÑদলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে

    শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ, মৎস্য অবমুক্তকরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও খেলাধুলার অনুষ্ঠান।

    আজ সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের সিনিয়র নেতা ও দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরাও এতে অংশ নেবেন।এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। সারা দেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর ইউনিটগুলো সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভা ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    বাণীতে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার মতে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

    তারেক রহমান প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

    ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন একটি রাজনৈতিক ধারার সূচনা হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রত্যয় সামনে রেখে তিনি বিএনপিকে সংগঠিত করেন। পরবর্তী সময়ে দলটি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।

    ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপি নেতৃত্বের সংকটে পড়ে। পরে ১৯৮৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দলের হাল ধরেন তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়ে একাধিকবার সরকার গঠন করেন এবং দেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

    তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তিনি মুক্তি পান। চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানের পর দেশে ফিরে ২০২৫ সালের শেষদিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে বিএনপি। দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর সরকারে ফিরে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন দলটির জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীকে দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করতে হবে। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি সরকার। বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে যতবার গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে, ততবারই দলটির নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গণতন্ত্র ও সুশাসনের আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে তাদেরও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে।

  • ‘জনবান্ধব কাজ করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর’- বিমানমন্ত্রী

    ‘জনবান্ধব কাজ করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর’- বিমানমন্ত্রী

    বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, জনগণের উন্নয়ন ও জনবান্ধব কাজ করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা যারা জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছি তাদের কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। যার যার পরিধি থেকে জনকল্যাণে কাজ করতে হবে।

    সোমবার সকালে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ময়মনসিংহ জেলার আইনশৃঙ্খলা মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।

    মন্ত্রী বিভিন্ন দপ্তরপ্রধান এবং জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, ময়মনসিংহ জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রম সফল করাই এ সমন্বয় সভার অন্যতম লক্ষ্য। আর এজন্য প্রয়োজন প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত চেষ্টা। এছাড়া আমরা যদি আমাদের নির্বাচন ইশতেহার পূরণ করতে পারি তাহলে জনগণ তাদের প্রাপ্যতা বুঝে পাবে। একই সঙ্গে সরকারের প্রতি জনগণের যে আশা আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তা পূর্ণতা পাবে। যদি আমরা আমাদের কাজগুলো সঠিকভাবে না করতে পারি তাহলে জনগণ আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

    তিনি আরও বলেন, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের স্বচ্ছতা ও সুশাসনের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে আপনাদের আন্তরিকতা অত্যন্ত প্রয়োজন। আশা করব আপনারা আন্তরিকতা ও সততার মাধ্যমে আপনাদের দায়িত্বটুকু পালন করবেন। বিশেষ করে মাদক ও চোরাচালানের ক্ষেত্রে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, এ জেলার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন প্রকল্পসমূহের স্বচ্ছতা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলার সব দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একত্রে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে কাজের শক্তি আরও প্রবল করে জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান তিনি।

    এছাড়াও সভায় জেলা উন্নয়ন কমিটির সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিগত নির্বাচনগুলোতে ডিসি-ইউএনও-ওসিকে ঘুস দেওয়া হতো- স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    বিগত নির্বাচনগুলোতে ডিসি-ইউএনও-ওসিকে ঘুস দেওয়া হতো- স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অর্থ দেওয়ার পুরোনো সংস্কৃতি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তার দাবি, বিগত আমলে নির্বাচনের সময় থানার পরিধি অনুযায়ী ইউএনওকে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা, ওসিকে ১ কোটি টাকা এবং ডিসিকেও বিপুল অঙ্কের অর্থ দেওয়া হতো। তবে এবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কাউকে ১০ টাকাও দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের সেই ‘ঘুস-দুর্নীতির মহারণ্য’ থেকে দেশ বেরিয়ে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সোমবার দুপুর ১২টায় মানিকগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, বিগত আমলে ইলেকশন হয়েছে। আমি ফ্র্যাংকলি একটা কথা বলি- নির্বাচন এলে ইউএনও সাহেব পেতেন ন্যূনতম ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা, থানার পরিধি ভেদে। ওসি সাহেব পেতেন ১ কোটি, ডিসি সাহেবও পেতেন। সব ছিল ঘুসের দুর্নীতির মহারণ্য। এবার একটা ইলেকশন হয়েছে, ১০ টাকা কেউ পেয়েছেন? আমি দেই নাই কাউকে ১০ টাকা, চায়ও নাই।

    মন্ত্রী বলেন, আগের তুলনায় এবার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বেশি কাজ করেছেন। কোনো আর্থিক সুবিধা ছাড়াই জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা রেখেছেন। অতীতে কর্মকর্তাদের একদিকে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হতো, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে খুশি রাখতে অনৈতিক সুবিধা নিতে বাধ্য করা হতো।

    মন্ত্রী বলেন, নিতে হবে, নেন; চুরি করতে হবে, নেন- এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। সেই দিনগুলো এখন চলে গেছে। সবাইকে বুঝতে হবে, ইমান ও পবিত্রতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী অতীতের প্রশাসনিক দুর্নীতির আরেকটি চিত্র তুলে ধরে বলেন, আগে ঠিকাদাররা মন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশের জন্য পিয়নদেরও টাকা দিতেন। নার্স ও চিকিৎসকদের বদলির ক্ষেত্রেও ঘুসের নির্দিষ্ট অঙ্ক ছিল। নার্সের ট্রান্সফার ও ডাক্তারের ট্রান্সফার ৩ লাখ, ৫ লাখ। ডাইরেক্টর হলে ২ কোটি। এরকম ঘুস খেয়েছে।

    তিনি বলেন, টোটাল সিনারি ওয়াজ ফুল অব করাপশন। এগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা বেরিয়ে আসছি, ইনশাআল্লাহ। কাজেই এই কাজটা কিন্তু একার না, সমন্বিত।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জুয়া, অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন ধরনের জুয়ার কারণে সমাজে অপরাধ বাড়ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকের বিস্তার বন্ধ করতে হবে। মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

    তিনি বলেন, কোনো মাদকসেবী কিংবা মাদক ব্যবসায়ীকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

    দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ না থাকলে আমাদের কারও অস্তিত্ব থাকবে না। অনেক রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে। দেশের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগের মূল্য রক্ষা করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও ২৪ এর গণতন্ত্র রক্ষায় যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নারীর বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

    স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্যখাতে নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। বেসিক সরকার সরঞ্জাম এর নামে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে।

    তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হবে। রোগীদের খাবারের মান উন্নয়ন করা হবে। ডায়ালাইসিস রোগী ও শিশুদের জন্য পৃথক বেডসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হবে।

    তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে নতুনভাবে সাজিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। ইউনিয়ন পর্যায়েও স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক সেবা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল দায়িত্ব।

    সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতা বলেন, মানিকগঞ্জ জেলাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজ খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম প্রমুখ।

    এছাড়া জেলার সব সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর সফলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রিজভী

    প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর সফলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রিজভী

    জাতিসংঘের ৮১ তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইর্য়কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। যুক্তরাষ্ট্র সফর সর্বাত্মকভাবে সফল করতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীকের ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    যুক্তরাষ্ট্র আগমন উপলক্ষে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় সময় গতকাল রোববার যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক নেতৃবৃন্দ, কানাডা বিএনপি ও নিউইয়র্কসহ ১৮টি স্টেট ও মহানগর কমিটি, যুক্তরাষ্ট্র যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জাসাসসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ভার্চুয়ালি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। যৌথ প্রস্তুতি সভার সমন্বয়ক ও সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিউইয়র্কে আসবেন। তার আগমনকে সফল করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি।

    রিজভী নেতাকর্মীদের খুবই সহনশীলতার সাথে সবকিছু দেখভাল করার জোর তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সময় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজকর্ম করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই সফরকে আমরা কোনো বিভেদ বা সংঘাতের উপলক্ষ বানাবো না বরং ঐক্য, শৃঙ্খলা, সৌন্দর্য ও বাংলাদেশের মর্যাদা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করব।

    সভার আরো বক্তব্য রাখেন— বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, গিয়াস আহমদ, মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক নেতাদের মধ্যে শরাফত হোসেন বাবু, নেওয়াজ আহমেদ জুয়েল, আনোয়ার হোসেন, কামাল পাশা বাবুল, গিয়াস উদ্দিন, আখতার হোসেন বাদল, আব্দুস সবুর, মোশাররফ হোসেন সবুজ, কাজী আজম, ফিরোজ আহমেদ, জসিম ভুইয়া, মুশফিকুর রহমান খসরু, একে আজাদ, সালেহ আহমেদ মানিক, শফিকুর রহমান দুলাল, গোলাম ফারুক শাহীন, ডিউক খান, জগলুল হায়দার, মুকুল (জাবি) প্রমুখ।

    সভায় কানাডা পূর্ব ও কানাডা পশ্চিম বিএনপি, যুক্তরাষ্ট্রের সকল স্টেট, মহানগর উওর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক, অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানান ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে: বিএনপির সংসদ সদস্য

    আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে: বিএনপির সংসদ সদস্য

    আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম।

    গতকাল রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে মানুষের ভোগান্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমার স্পষ্ট মনে হচ্ছে, প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ এই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখনই যদি এই দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়,তবে সামনে আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার অপরাধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

    গত শুক্রবার রাত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত টানা ৩২ ঘণ্টা তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। দীর্ঘ যানজটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে এক রোগীর মৃত্যু এবং সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পেরে কয়েকজন প্রবাসীর নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করার ঘটনাও ঘটে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।

    দুর্ভোগের কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের নিয়ে জুমে এ বৈঠক হয়।

    শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, তিনি হুইপের পাশে বসে পুরো বৈঠকটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এত বড় জনদুর্ভোগের পরও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতা দেখতে পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

    তার ভাষ্য, সেতু সংস্কারকাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার কিংবা কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে আগাম কোনো তথ্য ছিল না। কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতার অভাব উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    শাহাদাত হোসেন সেলিমের দাবি, পরিস্থিতি দেখে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। সেতু সংস্কারের আগে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা প্রয়োজন ছিল। সংবাদপত্র, টেলিভিশনের স্ক্রল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম প্রচার চালানো হলে যাত্রীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারতেন এবং এমন দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    পরে হুইপ সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেন। সেখানেও দায়িত্বশীলতার ইতিবাচক মনোভাব দেখা যায়নি বলে পোস্টে দাবি করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।

    শেষে তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

    পরে সাংবাদিকদের কাছে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ দেখে তিনি মর্মাহত। সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। কিন্তু তাতেও কোনো সুফল না পাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পোস্ট দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ দেখে আমি কষ্ট পাচ্ছি। কাজটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছি। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত মনের কষ্ট থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই স্ট্যাটাস দিয়েছি।’

    শাহাদাত হোসেন সেলিম বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।