বিএনপি

  • বায়ু-শব্দদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    বায়ু-শব্দদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ইটভাটাজনিত দূষণ রোধ, রাজধানী থেকে ফিটনেসবিহীন ও পরিবেশ দূষণকারী যানবাহন অপসারণ এবং অতিরিক্ত হর্নের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

    শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে দেশের বায়ু ও শব্দদূষণের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তা নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    সভায় ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

    রাজধানীতে যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারের কারণে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এ বিষয়ে আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    বৈঠকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরার আদলে হর্ন নিয়ন্ত্রণেও এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও পরিবেশ দূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

    নগরীর যানজট কমানো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ঢাকার আরও অন্তত ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম চালুর নির্দেশ দেন তিনি।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • ইশতেহার ও জুলাই জাতীয় সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে

    ইশতেহার ও জুলাই জাতীয় সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে

    ‘নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করছে সরকার। একই সঙ্গে যেভাবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর হয়েছে, তাও বাস্তবায়ন হচ্ছে।’

    আজ শনিবার বর্তমান সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

    প্রেস সচিব বললেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় উন্নয়নের গালগল্প হয়েছে অনেক। কিন্তু কোথায় সেই উন্নয়ন? অনেক স্থানে অবনতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধে।’

    ‘যতক্ষণ মানসিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের উন্নয়ন না হবে, ততক্ষণ কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

    তিনি বললেন, ‘কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে দেশের গুণগত পরিবর্তনে নিজেই কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। যে দলেরই হোক, যে মতের হোক, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন। মতের পার্থক্য ব্যালটে হতে পারে, কিন্তু দেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে হতে হবে।’

    আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ জানালেন, প্রধানমন্ত্রী অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসেছেন। কোথাও কারো বন্দনা করেন না। আগে যা অহরহ দেখা যেত। প্রধানমন্ত্রী জনবিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না। মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করছেন। প্রতি মাসেই জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ঢাকার বাইরে কোনো না কোনো জেলায় যাচ্ছেন।’

    ‘এবারের বাজেট সরকারের একটা অর্জন। এবার বাজেট পাস হওয়ার পর কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি, জনজীবনে অস্থিরতা বাড়েনি। এটা একটা জীবনবান্ধব বাজেট’, যোগ করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের অন্য সদস্যরা ছিলেন।

    চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার।

  • ঠান্ডা মাথায় রাষ্ট্রপতি জিয়াকে প্রথম গুলিটি করেন মোজাফফর!

    ঠান্ডা মাথায় রাষ্ট্রপতি জিয়াকে প্রথম গুলিটি করেন মোজাফফর!

    ঠান্ডা মাথায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে লক্ষ্য করে প্রথম গুলিটি করেছিলেন মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন—মামলার নথিতে এমনটাই উল্লেখ রয়েছে। প্রায় সাড়ে চার দশক ছদ্মবেশে পলাতক থাকার পর রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে ডিবি।

    গোয়েন্দাদের দাবি, মেয়ের কর্মস্থল ও নাকের নিচের একটি তিলকে সূত্র ধরে পরিচালিত অভিযানে ধরা পড়েন জিয়া হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন ১৯৮১ সালের ৩১ মে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি ছিলেন কিলিং স্কোয়াডের সক্রিয় সদস্য। ১৯৮১ সালের ৩০ মে গভীর রাতে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের সামরিক তদন্তের পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় যে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, মোজাফফর হোসেন ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। ঘটনার পর থেকেই তিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ফেরারি ছিলেন।

    মামলার নথি, তদন্তের বিবরণী থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সেই কালরাতে মেজর মোজাফফরের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর। আক্রমণের সময় সার্কিট হাউজে হানা দিয়ে মেজর মোজাফফর ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন সরাসরি রাষ্ট্রপতির কক্ষের দিকে অগ্রসর হন। মোজাফফরই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি সশরীরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কক্ষের বাইরে এনে শনাক্ত করেন। শুধু শনাক্ত করাই নয়, ঠান্ডা মাথায় তিনি রাষ্ট্রপতিকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পরপরই মোজাফফর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ফোনে ইংরেজিতে একটি ঐতিহাসিক বার্তা দেন, ‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড’। ১৯৮১ সালের ৩১ মে যখন সরকারি বাহিনী পুনরায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়, তখন বিদ্রোহের মূল হোতা মেজর জেনারেল মঞ্জুরসহ অনেকেই গ্রেফতার হন এবং পরে মঞ্জুর নিহত হন। তবে মেজর মোজাফফর হোসেন এবং মেজর এসএম খালেদ কৌশলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

    এতদিন পর কীভাবে ধরা পড়ল ইতিহাসের এই খলনায়ক, জানতে চাইলে অভিযানে থাকা ডিবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অপরাধীরা কত ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে পারে, তার অন্যতম উদাহরণ এই মোজাফফর। নিজের অবয়ব, চালচলন, এমনকি পেশা ও বাসস্থান পরিবর্তন করে সে দীর্ঘদিন একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয়ে ছদ্মবেশে অবস্থান করছিল। এ কারণে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ক্লু ছিল না। তবে অপরাধ যতই নিখুঁত হোক না কেন, অপরাধীর কোনো না কোনো চিহ্ন বা সূত্র থেকেই যায়। এটাই নির্মম নিয়তি। আর সেই সূত্র ধরেই এত বছর পর তাকে ডিবি গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

    গ্রেফতারের সূত্র জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, ডিবির বিশ্বস্ত টিম জানতে পারে, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে তার মেয়ের কর্মস্থলের সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করেন। জানা যায়, তার মেয়ে একটি বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে (এয়ারটেল) চাকরি করেন। কয়েক মাস ধরে মেয়ের কর্মস্থল এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে গোয়েন্দারা একটি সম্ভাব্য বাড়ির ঠিকানা চিহ্নিত করেন। বাড়িটি চিহ্নিত করার পর ডিবি কর্মকর্তারা বেশ কিছুদিন ধরে দূর থেকে লক্ষ্য রাখেন এবং ছদ্মবেশে সার্বিক পরিবেশ ও মোজাফফরের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। গোয়েন্দাদের কাছে মোজাফফরের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের একটি ক্লু আগে থেকেই নথিবদ্ধ ছিল। তার নাকের ঠিক নিচে একটি আঁচিল বা তিল সদৃশ কালো দাগ রয়েছে। চেহারা পরিবর্তন করলেও এই জন্ম চিহ্নটি পরিবর্তনের সুযোগ তার ছিল না। অভিযানে যাওয়ার আগে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই চিহ্নটিকে তাদের প্রধান শনাক্তকরণ সূত্র হিসাবে নির্ধারণ করেন।

    বুধবার গভীর রাতে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। করা হয় অভিযানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা। গোয়েন্দা দল ছদ্মবেশে বাসার দরজায় কড়া নাড়ে। ভেতর থেকে দরজা খোলার পর অত্যন্ত নাটকীয় ও সুকৌশলে এগোয় পুরো প্রক্রিয়া। দরজা খেলার পর গোয়েন্দারা সরাসরি কোনো অভিযান বা গ্রেফতারবিষয়ক কোনো ভয়ভীতি না দেখিয়ে অতিথির মতো স্বাভাবিক আচরণ করেন। মেয়ের নাম ধরে জানতে চান অমুক (তার মেয়ে, যিনি এয়ারটেলে কাজ করেন) বাসায় আছেন কিনা। এ সময় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিজেদের ‘এয়ারটেল অফিস’ থেকে আসা কর্মী হিসাবে পরিচয় দেন।

    তবে এত রাতে অফিসের লোক বাসায় আসায় স্বাভাবিকভাবেই ঘরের ভেতর থেকে কৌতূহল ও কিছুটা সন্দেহ তৈরি হয়। এজন্য বাসার ভেতর থেকে একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি দরজা খুলে এগিয়ে এসে জানতে চান, ‘এত রাতে অফিসের কাজ কেন? আমাকে বলুন কী বিষয়। গোয়েন্দারা তখন কৌশলগতভাবে বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটির চেহারা পর্যবেক্ষণ করেন। বাড়ির অল্প আলোতেও কর্মকর্তাদের চোখ এড়ায়নি তার নাকের নিচে থাকা সেই পরিচিত তিল বা আঁচিলটি। এ সময় কর্মকর্তারা বলেন, ‘মুরব্বি, আমরা তো আপনাকে চিনি না, আপনি কে? আমরা যার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি, তার সঙ্গে দেখা করতে দিন।’ সরল বিশ্বাসে এবং কিছুটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই ব্যক্তি উত্তর দেন ‘আমি মোজাফফর। মেয়ের বাবা’। মুখ থেকে একথা শোনার পর আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করেনি ডিবির চৌকশ দল। পলকের মধ্যে পকেট থেকে বের হয়ে আসে হ্যান্ডকাফ। অতঃপর মোজাফফরের দুই হাত বন্দি হয়ে যায় ডিবির শিকলে। চোখের পলকে দীর্ঘদিনের ছদ্মবেশী ও সুচতুর পলাতক আসামির হাতজোড়া অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে আইনের খাঁচায়। এরপর হতভম্ব চাহনি আর অপ্রস্তুত আত্মসমর্পণ বুঝিয়ে দেয়, ডিবির এই নিখুঁত অপারেশন কতটা নিঁখুত ও পরিপক্ব ছিল।

    গোয়েন্দা সূত্রে মোজাফফরের সাড়ে চার দশকের পলাতক জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে। গ্রেফতার এড়াতে মোজাফফর দীর্ঘদিন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ছদ্মনামে আত্মগোপন করেছিলেন। নিজেকে আড়াল করতে তিনি নিজের আসল পরিচয় সম্পূর্ণ মুছে ফেলেন। বছরের পর বছর ধরে তিনি ভুয়া নাম, পরিচয় এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে চলতেন। এতদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ বনানী ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

    ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘তিনি একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিলেন। তাই প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে সেনাবাহিনীর নিজস্ব জুডিশিয়াল প্রসেস বা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

    ১৯৮১ সালের ৩১ মে যখন সামরিক অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয় এবং সেনাবাহিনীর তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর নিহত হন, তখন মোজাফফর বুঝতে পারেন তার বাঁচার কোনো পথ নেই। তাই তিনি তার আরেক সহযোগী মেজর এসএম খালেদ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কৌশলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রবেশ করেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে তিনি দীর্ঘ সময় কাটান। ১৯৯৭-১৯৯৮ সালের দিকে তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকেই পরবর্তী জীবনের ছক আঁকেন।

    মোজাফফর হোসেন তার নিজস্ব আসল পরিচয় পুরোপুরি মুছে ফেলেছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ নতুন একটি ছদ্মনাম ধারণ করেন এবং নিজের চেহারা ও বেশভূষায় পরিবর্তন আনেন। দীর্ঘ ৪৫ বছরে তার পারিবারিক যোগাযোগ এবং পুরোনো চেনা পরিমণ্ডলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন, যাতে কোনোভাবেই কল ট্র্যাকিং বা নজরদারির মাধ্যমে তার সন্ধান না মেলে। জীবনের শেষভাগে এসে তিনি অত্যন্ত গোপনে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বসবাস শুরু করেন রাজধানীর সবচেয়ে সুরক্ষিত ও অভিজাত এলাকাগুলোর একটি বনানী ডিওএইচএসে। একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসাবে ডিওএইচএস এলাকাটি তার চেনা পরিবেশ হলেও, সেখানে তিনি নিজেকে একজন সাধারণ, বয়োবৃদ্ধ এবং রাজনীতিবিমুখ নাগরিক হিসাবে পরিচিত করে তুলেছিলেন। আশপাশের মানুষ বা প্রতিবেশীরা কেউই কল্পনাও করতে পারেনি যে, তাদের পাশে বসবাসকারী এই বৃদ্ধই আসলে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম চাঞ্চল্যকর রাষ্ট্রপতি হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান ঘাতক।

    পলাতক অবস্থায় তিনি কেবল ভারতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। ভারতের ভুয়া নাগরিকত্ব বা জাল নথির সাহায্যে তিনি পাসপোর্ট তৈরি করেছিলেন। এই ভুয়া আন্তর্জাতিক নথির ওপর ভর করে তিনি বিশ্বের একাধিক দেশ সফর করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) বা বাংলাদেশের গোয়েন্দারা তার আসল নামে খোঁজ করেও দীর্ঘদিন কোনো হদিস পাননি।

  • জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব

    জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব

    জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব

    জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর সরকারই বাস্তবায়ন করবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    তিনি বলেন, বিরোধীদল শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাইকে ব্যবহার করতে চায়। আমরা চাই না জুলাই শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার আরেকটি হাতিয়ারে পরিণত হোক।

    শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্মরণসভাটির আয়োজন করে প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টার।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিরোধীদল থেকে বলা হচ্ছে, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি, সংস্কার আদায় না হলে রাজপথে ফায়সালা হবে’। অথচ জুলাই সনদে আমরা একসাথেই স্বাক্ষর করেছি। যে দলগুলো আন্দোলন করেছি, সবাই মিলেই স্বাক্ষর করেছি। আমরা বারবার বলছি, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব।

    গণভোটের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, গণভোটের একটা অংশ নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই হয়নি। উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমরা কখনোই একমত হইনি। সেখানেই এখন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সংস্কার কমিশন আমাদের সম্মতি ছাড়াই সেদিন বিষয়গুলো যেভাবে নিয়ে এসেছিল, তা নিয়ে আমি নিজেই স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম যে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

    তিনি আরো বলেন, জুলাই সনদের বইটা পড়লে দেখবেন, সেখানে বলা আছে—যে ম্যানিফেস্টো দিয়ে দলগুলো নির্বাচিত হবে, প্রতিটি দল তাদের সেই ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়ন করবে। আমরা ৩১ দফাতে যেমন কমিটেড, তেমনিভাবে জুলাই সনদেও কমিটেড। কিন্তু সেটা আমরা যেভাবে চেয়েছি সেভাবে। এখানে সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে যে আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই না।

    বিরোধীদল সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন বিরোধী দলের অনেকে বিভিন্ন মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন। জনগণ কিন্তু সবচেয়ে ভালো বোঝেন। তারাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা বরাবরই বলে এসেছি যে আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই, সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের যে ম্যানিফেস্টোকে জয়ী করেছে, সেই টু-থার্ড মেজরিটি নিয়ে বিএনপি আজকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। ওই জায়গায় কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।

    মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন শুধু জুলাই মাসেরই আন্দোলন নয়। জুলাই আন্দোলন হলো দীর্ঘকাল ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৮ বছর ধরে চলা লড়াইয়ের পরিণতি।

    স্মরণসভায় মরহুম অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘মরহুম এমাজউদ্দীন স্যার ছিলেন আমাদের লিবারেল ডেমোক্রেসির বাতিঘর। কোনো প্রাপ্তির আশা ছাড়াই তিনি আজীবন গণতন্ত্র ও স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ে পথ দেখিয়েছেন। ১৯৭১ ও ২০২৪-এর চেতনা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই হবে তার প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।’

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, জাবি উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের সভাপতি ও আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক আবুল কাশেম হায়দার প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক আবদুল লতিফ মাসুম।

  • আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের রক্তপাত থেমে নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের রক্তপাত থেমে নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের অস্ত্রের ঝনঝনানী ও রক্তপাত থেমে নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃস্পতিবার এক শোকবার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের অস্ত্রের ঝনঝনানী ও রক্তপাত থেমে নেই। গতকাল জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা সেটিরই ধারাবাহিকতা। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করতে তাদের প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু এভাবে খুন-জখমের মাধ্যমে আওয়ামী লুটপাটের রাজত্ব আবারও ফিরে আসবে না।

    তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর নীতি ও আদর্শ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনে গভীরভাবে আস্থাশীল ছিলেন জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। তিনি মিঠামইন উপজেলা বিএনপিকে শক্তিশালী, গতিশীল ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি ছিল তার অবিচল আস্থা। তাদের নেতৃত্বে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে মরহুম জাহাঙ্গীর সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করি তিনি যেন জাহাঙ্গীরকে জান্নাত নসীব এবং শোকাহত পরিবারবর্গকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন।


    বিএনপি মহাসচিব জাহাঙ্গীরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গ, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে জাহাঙ্গীরকে হত্যাকারী দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।

  • কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল ও প্রশ্নের মান নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশের প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে চায়।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি, এই আন্দোলনে অনেক অছাত্রও এসেছিল। তাই এখন পর্যন্ত বিষয়টিকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি না। সরকারকে বিব্রত করতে চায় কিছু মহল। তারা মূলত ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এমন আন্দোলনের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছে, সরকারকে জানিয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে যে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় তাদের আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞানের দুটি প্রশ্ন ভুল হয়েছিল, সে জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত পরিচালনা করবে। দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবে। তবে ওই দুটি প্রশ্নের নম্বর যুক্ত করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যারা পরীক্ষার্থী তারা সন্তুষ্ট। এর পরেও যদি কেউ তার পরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে থাকে বা না করতে পারে, তাদের পরবর্তীতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা চলার সময় সুযোগ দেওয়া হবে। এখানে তো সমস্যার সমাধান হয়ে গেল।

    এসময় তিনি বলেন, একটা মন্তব্যের কারণে অনেকে দুঃখ পেয়েছেন, আর সে জন্য শিক্ষামন্ত্রী সংসদে তার বক্তৃতায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

    যারা সরকারকে বিব্রত করতে চাচ্ছে তাদের জন্য কী বার্তা, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো আমরা খুব একটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি না। আমরা দু-একটি জেলায় ও ঢাকার দু-একটি স্পটে দেখেছি, তাদের সংখ্যা বেশি না যারা এগুলো নিয়ে কথা-বার্তা বলছে। হয়তো মিডিয়াতে এসেছে, এ জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। এগুলোতে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি না।

  • সিটি করপোরেশনগুলো নগর সরকারে রূপান্তরের চিন্তাভাবনা চলছে: মির্জা ফখরুল

    সিটি করপোরেশনগুলো নগর সরকারে রূপান্তরের চিন্তাভাবনা চলছে: মির্জা ফখরুল

    ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সিটি করপোরেশনগুলোক সিটি গভর্নমেন্ট বা নগর সরকারে রূপান্তর করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    তিনি বলেন, ‘নগর পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনগুলোকে আরও কার্যকর করতে এগুলোকে নগর সরকার বা সিটি গভর্নমেন্টে রূপান্তর করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।’

    আজ বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আয়োজনে গুলশান নগর ভবনে ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমার আপনার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘সিটি গভর্নমেন্ট করার বিষয়ে সরকারপ্রধানেরও এমন একটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের সদিচ্ছা রয়েছে। এর ফলে নগর পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশন আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে।’

    রাজনৈতিক মতবিরোধের ঊর্ধ্বে গিয়ে নাগরিক হিসেবে ঢাকাকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদী দখলমুক্ত করে ঠিক করার বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। এই নদীগুলোকে না বাঁচাতে পারলে ঢাকা শহরকে বাঁচানো সম্ভব নয় বলে সতর্ক করেন তিনি।

    ঢাকাকে বাসযোগ্য করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর জন্য নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

    সেমিনারে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা ওয়াসা ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

  • শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত “গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন এবং ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় ও অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    জুলাই বিপ্লবের প্রথমদিকের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার’ এবং ‘কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল এই আন্দোলনের সাথে।’

    দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ, কিন্তু রক্ষা করা কঠিন। স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো এ দেশের গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সেজন্য আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রণীত ৩১ দফার আলোকেই নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী সংবিধান ও অন্যান্য আইন-কানুনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা আমাদের অঙ্গীকার।’

    বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি— শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।’

    তিনি বলেন, ‘বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে এবং এরই প্রেক্ষিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

    আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ বা বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর এই সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠন হিসেবেও বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে।’

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে নিষিদ্ধ ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আসমান থেকে গুলি করে শিশু ও গৃহিণী হত্যার মতো যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এত বড় ম্যাসাকার বা হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রীর মনে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার বালাই নেই, উল্টো তারা জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার ঘৃণ্য স্বপ্ন দেখছে।’

    তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, ধর্ষণের সেঞ্চুরি, একদলীয় বাকশাল কায়েম এবং ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার ইতিহাস।’

    জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার বা ব্যবসা না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব কারো একার নয়। এ দেশের সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কৃতিত্ব কেবলই তাদের। স্বৈরাচারের পরিণতি কেমন হয় তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর শিক্ষা নেওয়ার জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে।’

    মন্ত্রী ‘৭১ ও ‘২৪-এর শহীদদের স্বপ্নের একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য দেন ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।

    অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

  • ‘পরিচয় সংকটে’ বিএনপিতে যোগ দেওয়া হেভিওয়েটরা!

    ‘পরিচয় সংকটে’ বিএনপিতে যোগ দেওয়া হেভিওয়েটরা!

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে রাজনীতির মাঠে বড় চমক ছিল বেশ কয়েকজন ‘হেভিওয়েট’ নেতার বিএনপিতে যোগদান। কেউ ছিলেন নিজ দলের প্রধান, কেউ দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা, আবার কেউ বা ছিলেন দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্ব। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকা এই নেতারা ধানের শীষ মার্কায় নির্বাচন করতে নিজ দল বিলুপ্ত করে কিংবা পদত্যাগ করে নাম লেখান বিএনপিতে। উদ্দেশ্য ছিল-‘সহজেই’ নির্বাচনি বৈতরণি পার হওয়া এবং রাজপথে ত্যাগের মূল্যায়ন পাওয়া।তবে নির্বাচন-পরবর্তী তাদের অনেকেই এখন এক ধরনের ‘পরিচয় সংকটে’ ভুগছেন। কেউ কেউ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলেও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি, আবার কেউ প্রতিমন্ত্রী হয়েও পাননি দলীয় কোনো পদ। অন্যদিকে যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, তারা এখন তাকিয়ে আছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে। নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে দলটির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলছেন নেতারা। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, ৫ মাসের বেশি সময় ধরে বিএনপিতে আছেন। সাধারণ সদস্য হওয়ায় এলাকায় গুরুত্ব পাচ্ছেন না তারা। এমনকি স্থানীয় বিএনপির সঙ্গেও তাদের এক ধরনের বৈরিতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপিতে বড় পদের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্ব চান তারা। আবার দু-একজনের প্রত্যাশা, বিএনপি হাইকমান্ড ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুবিধামতো সময়ে তাদের মূল্যায়ন করবেন।

    বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকা ২ জন সদস্য যুগান্তরকে জানান, নতুন যোগদানকারীদের বিষয়ে দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আছে। সময়মতো সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে। আগামীতে দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমেই এই নেতাদের স্থায়ী পদ-পদবি ও রাজনৈতিক মর্যাদা নির্ধারণ করা হবে।

    চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। তার আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রাথমিক সদস্য ফরম পূরণ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন ৮ জন নেতা। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন সাতজন। তারা হলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সাবেক মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদ, গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, বাংলাদেশ এলডিপির সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, এনডিএম’র সাবেক চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, এনপিপি’র চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। এছাড়া সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আবু সাইয়িদ নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দিলেও নির্বাচনে অংশ নেননি।

    বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষে নির্বাচন করা ৭ জনের মধ্যে ৩ জন সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া বিভিন্ন দল ঘুরে বিএনপিতে যোগ দিয়েই হবিগঞ্জ-১ থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩ আসন ও শাহাদাত হোসেন সেলিম লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ববি হাজ্জাজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ড. রেদোয়ান আহমদ, সৈয়দ এহসানুল হুদা, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এবং রাশেদ খান ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলেও জয়ের মুখ দেখতে পারেননি।

    এদিকে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে অনেকেই নিজ দলের রাজনীতি বিএনপির সঙ্গে বিলীন করে দিয়েছেন এমন আলোচনা আছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ তাদের বর্তমান পরিচয় বিএনপির সাধারণ সদস্য। এ নিয়ে তাদের অনুসারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলেছেন, দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিলে তাদের নেতাকর্মীরাও বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এমনটা ধরে নিতে হবে। কিন্তু গত কয়েক মাসে ওই নেতাকর্মীরা বিএনপি বা সরকারে তেমন কোনো গুরুত্ব পাচ্ছেন না।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে যোগদানকারী দলের একজন সংসদ-সদস্য বলেন, তিনজন ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হলেও একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। অন্য দুজনও সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। তার মতে, সংসদ-সদস্যের পাশাপাশি দলীয় পদ-পদবি থাকলে এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে। শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে থাকার আগ্রহ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, রাজনীতি করার জন্যই একটা রাজনৈতিক পরিচয় প্রয়োজন।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, আমরা যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলাম, পরে আমাদের দল বিলুপ্ত করতে হয়েছে মূলত কিছু কৌশলগত কারণে। বিশেষ করে আরপিও’র বিভিন্ন ধারা পরিবর্তনের ফলে আমাদের দল বিলুপ্ত করে নির্বাচনে অংশ নিতে হয়েছিল। তবে বিএনপিও আমাদের সেখানে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করেছে। তিনি বলেন, আমি বিএনপিতে আছি এবং শেষদিন পর্যন্ত থাকব। আশা করি, দল খুব শিগগিরই আমাদের একটি রাজনৈতিক পরিচয় দেবে।

    রাশেদ খান বলেন, ২০২২ সাল থেকে যখন বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন শুরু হয়, সেই সময় থেকেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুসম্পর্কের সুবাদে আমরা একসঙ্গে অনেক কাজ করেছি। বিশেষ করে গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিএনপির নেতৃত্বে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। আমরা যেহেতু আন্দোলন-সংগ্রাম করে এসেছি এবং গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি, তাই আমি আশাবাদী যে বিএনপি অবশ্যই আমাদের মতো যারা আছে, তাদের মূল্যায়ন করবে।

  • স্থানীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি

    স্থানীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি

    আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলের জন্য একটি বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি। একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষদিকে দলের জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষেও মত দিয়েছেন স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জাতীয় কাউন্সিল, সাংগঠনিক কার্যক্রম, অর্থনীতি, নেতাকর্মীদের স্বাবলম্বী করা এবং সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন—এ বিষয়গুলো কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    দলীয় সূত্র জানায়, রাত ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৈঠক শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা চলে। রাত ১০টার দিকে বৈঠক শেষ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকের শুরুতে মালয়েশিয়া ও চীন সফর সফলভাবে সম্পন্ন করায় তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ সময় তার হাতে একটি ক্রেস্টও তুলে দেওয়া হয়।

    বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সূত্রের ভাষ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কয়েকজন সদস্য চলতি বছরের শেষদিকে নির্বাচন শুরুর পক্ষে মত দেন। যদিও নির্দিষ্ট কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। আলোচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনা এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. জাহিদ হোসেনের সেপ্টেম্বরে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যও উঠে আসে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    অধিকাংশ সদস্যের অভিমত ছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এখন থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার, স্থানীয় পর্যায়ে দলের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনের উপযোগী সংগঠন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। কয়েকজন সদস্য এ প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে তারেক রহমান বলেন, দলের কাউন্সিল অবশ্যই হবে।

    সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে যেসব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো দ্রুত পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির কথা বিবেচনায় রেখে তৃণমূলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি ও সাংগঠনিক কাঠামো আরো শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন নেতারা।

    দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থানের বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, বেকারত্ব কমানো, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি যেসব প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলোর বাস্তবায়ন কৌশল নিয়েও মতবিনিময় করে

    ন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

    বৈঠকে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে থাকা নেতাকর্মীদের আর্থিক অবস্থার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। দুজন সদস্য বলেন, গত ১৭ বছরে অনেক নেতাকর্মী চাকরি, ব্যবসা কিংবা জীবিকার সুযোগ হারিয়েছেন। তাদের পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    সদস্যদের মতে, আওয়ামী লীগের মতো শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করে বিএনপি চাকরি দেবে না। কারণ এমন নীতি অনুসরণ করলে অতীতের মতো অনেকের চাকরি হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিও বৈঠকের আলোচনায় স্থান পায়। বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলের ত্রাণ কার্যক্রম আরো জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন,

    সরকার গঠনের পর নানা ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘদিন পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের কার্যক্রম এবং দলের সাংগঠনিক বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক। এর আগে গত ৪ এপ্রিল ও ১৭ মে দলটির স্থায়ী কমিটির দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।