জামায়াত

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত মি. নিকোলাস উইকস বৈঠক করেছেন।

    সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি মিস ম্যাটিল্ডা সভেনসন, সেকেন্ড সেক্রেটারি এবং বাণিজ্য, রাজনীতি ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান ওলে লুন্দিন। সাক্ষাৎটি অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উষ্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে তারা বাংলাদেশে নির্বাচন-পরবর্তী বিরাজমান সার্বিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশ ও সুইডেনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতি সুইডেনের দৃঢ় সমর্থন থাকার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে সুইডেনের বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    বৈঠকে জুলাই সনদ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও আলোচিত অর্ডিন্যান্সগুলোর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত বাজেট, কর কাঠামো সংস্কার, রোহিঙ্গা সমস্যার কার্যকর সমাধান এবং বাংলাদেশে সুইডেনের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে দুই পক্ষ পরস্পরের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    সাক্ষাতে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

  • সরকার একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করছে: ডা. শফিকুর রহমান

    সরকার একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করছে: ডা. শফিকুর রহমান

    দেশের ব্যাংক খাত, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশাসনিক পদে নিজেদের দলীয় লোক বসিয়ে বর্তমান সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সচেতন দেশবাসী সরকারের এই একদলীয় মনোভাব কখনোই মেনে নেবে না।

    শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এই কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে সংসদে বিরোধী দলকে চরম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলতো আওয়ামী লীগ। তারা সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করতো বিএনপিকে, তারপর জামায়াতে ইসলামীকে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বর্তমান সরকারও সেই একই পথ অবলম্বন করে বিরোধী দলকে বিভিন্ন নেতিবাচক ট্যাগ দিয়ে কথা বলছে। কিন্তু দেশের জনগণ এখন সচেতন, তারা এসব রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা আর বিশ্বাস করে না।”

    সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, “আপনারা তরুণ সমাজের মনের ভাষা ও তাদের দাবি বুঝার চেষ্টা করেন। অনতিবিলম্বে আওয়ামী লীগের সেই পুরনো ও স্বৈরাচারী পথে হাঁটা বন্ধ করুন।”

    নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মী সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতাকর্মীবৃন্দ।

  • উত্তরায় ‘মানবতার বক্স’ উদ্বোধন করলেন সেলিম উদ্দিন

    উত্তরায় ‘মানবতার বক্স’ উদ্বোধন করলেন সেলিম উদ্দিন

    সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উত্তরা পশ্চিম থানার উদ্যোগে “মানবতার বক্স” নামের একটি ব্যতিক্রমী মানবিক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উত্তরা ১১ নং সেক্টরের কাঁচা বাজারে এই মানবিক উদ্যোগের উদ্বোধন করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। উদ্বোধন শেষে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন নিজেই কাঁচা বাজারের ভেতরে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন দোকানদার ও বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে যান। এ সময় তিনি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ‘মানবতার বক্সে’ সামর্থ্য অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, বস্ত্র বা আর্থিক সহায়তা রাখার জন্য সবাইকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেন। তার এই স্বতঃস্ফূর্ত আহ্বান বাজারে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।

    এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- উত্তরা পশ্চিম থানা জামায়াতের নায়েবে আমির মকবুল আহমেদ, তুরাগ মধ্য থানার নায়েবে আমির কামরুল হাসান, ১১ নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ও ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল প্রার্থী অধ্যক্ষ সালাহউদ্দিন ভূইয়া, ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল প্রার্থী মাহফুজুর রহমান, উত্তরা পশ্চিম থানা সেক্রেটারি ফিরোজ আলম, যুব নেতা তারিক হাসান, মোতালেব হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা।

  • জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের বৈঠক

    জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের বৈঠক

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ছাড়াও তার রাজনৈতিক পরামর্শক কামরান ধাঙ্গাল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান ও পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর অংশ নেন।

    বৈঠকের বিষয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনার জানান, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চান।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়েছে। সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের একাধিক সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করেছে এবং পাকিস্তানের উন্নত শিক্ষা কাঠামো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

    বৈঠকে গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা মেলার সাফল্য সম্পর্কেও বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করা হয়। হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তান আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের ৫০০ জন ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ প্রদান করবে। এর মধ্যে ৭৪ জন ইতোমধ্যে পাকিস্তানে গমন করেছেন। আগামীতে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আরও বেশি মেধা বিনিময়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। চলমান ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্প সামনের দিনগুলোতে আরও সংহত করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

    পাকিস্তানের হাইকমিশনার একটি সংসদীয় গ্রুপ গঠন এবং সংসদীয় পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

    আলোচনার এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা হাইকমিশনারের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

  • বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, ইন্টারপোলের কৃতিত্ব: জামায়াত আমির

    বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, ইন্টারপোলের কৃতিত্ব: জামায়াত আমির

    বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, ইন্টারপোলের কৃতিত্ব, বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। রোববার (১৪ জুন) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ব্যবস্থার কারণেই তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উদ্যোগও বর্তমান সরকারের সময় যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, বেনজীরের গ্রেপ্তার বাংলাদেশের জন্য একটি অর্জন হলেও বিষয়টি নিয়ে অতি উৎসাহ দেখানোর সুযোগ নেই। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এ সময় নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি অর্থবহ নির্বাচনের প্রত্যাশা থাকলেও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তারা নির্বাচন মেনে নিয়েছেন।

    তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারত।সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

  • শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ

    শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ

    পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগ।

    সোমবার সকালে উপজেলার ৮৪ নম্বর কেওয়া পূর্বখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ড. মো. হারুন অর রশিদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হোসাইন, পৌরসভার অফিস ও বায়তুল মাল সম্পাদক মাছউদুল হাসান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগের সেক্রেটারি আক্তারুজ্জামান মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।

    বক্তারা আরও বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, রোপণকৃত গাছের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি এবং বৃক্ষরোপণের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খোঁজখবর নেন এবং তাদের মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় আয়োজকরা শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিদ্যালয়ভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং এলাকার সবুজায়ন বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

  • জাকসু জিএসের আবেগঘন পোস্ট

    জাকসু জিএসের আবেগঘন পোস্ট

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাস্টার্স পরীক্ষা শেষে হলের সিট ছেড়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন এক পোস্টে হল জীবনের স্মৃতিচারণ করেছেন।

    সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নিজের ব্যক্তিগত প্রোফাইলে এক পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর যথাসময়ে হল ত্যাগের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্টে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের একটি স্মৃতিময় অধ্যায়। করোনা-পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম নান্দনিক আবাসিক হল মওলানা ভাসানী হলে ওঠেন এবং সেখানেই পড়াশোনা, খেলাধুলা, ক্লাবিংসহ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিবাহিত করেন।

    তিনি জানান, হলের করিডোর, খেলার মাঠ, কমনরুম, মসজিদ, ক্যান্টিন ও রিডিং রুমের প্রতিটি কোণায় তার অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে। হলের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি হল প্রাঙ্গণের পরিচিত বিড়ালগুলোর সঙ্গেও গড়ে উঠেছে আন্তরিক সম্পর্ক।

    স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোমুগ্ধকর বৃষ্টি, শীতের সকালের রৌদ্রোজ্জ্বল সৌন্দর্য এবং গ্রীষ্মের বিকেলের কালবৈশাখির রূপ তিনি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছেন এই হল থেকেই। হলের প্রতিটি মুহূর্ত ও পরিবেশ তার কাছে বিশেষ নান্দনিকতার প্রতীক হয়ে থাকবে।

    মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সিট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমি আমার হলের সিট ছেড়ে দিচ্ছি। শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার নিকটতম সময়ের মধ্যেই সবার উচিত হল ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ নবীনদের জন্য আবাসন সংকট নিরসনে সহায়ক হবে এবং এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি থেকে মুক্ত একটি সুস্থ ও সুষ্ঠু একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, আবাসিক হলগুলোতে নিয়মিত সিট হস্তান্তর ও সময়মতো হল ত্যাগের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে নতুন শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে এবং ক্যাম্পাসে আরও মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।

  • এমপি মনিরুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি চবি ছাত্রী সংস্থার

    এমপি মনিরুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি চবি ছাত্রী সংস্থার

    বোরকা-নিকাব নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে কুমিল্লা-৬ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনাসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রী সংস্থা। সোমবার দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে সংগঠনটির নেত্রীরা এসব দাবি উত্থাপন করেন। মানববন্ধনে ছাত্রী সংস্থার নেতাকর্মীরা বোরকা-নিকাব ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল, ‘আমার পোশাক হিজাব-নিকাব, আমার আভিজাত্য’, ‘ধর্মীয় অবমাননার শেষ কোথায়?’, ‘পর্দা আমার ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার’, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে হেয় করার স্বাধীনতা হতে পারে না’ প্রভৃতি।

    মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চবি শাখা ছাত্রী সংস্থার সেক্রেটারি জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা। তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে দাঁড়িয়ে সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য বোরকা-নিকাবকে বউ বদলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বিরোধী দলীয় নারী সংসদ সদস্যদেরও কটাক্ষ করেছেন। দেশের সাধারণ মানুষ একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশা করে না।”

    তিনি আরও বলেন, “একজন সংসদ সদস্য যখন জাতীয় সংসদের মতো মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দাঁড়িয়ে এ ধরনের মন্তব্য করেন, তখন দেশের নারী সমাজ ব্যথিত হয়। আমরা তার এই বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং দেশের নারী সমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানাচ্ছি।”

    মানববন্ধন শেষে সংগঠনের প্রচার সম্পাদিকা তাওফিকা রহমান আট দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— জাতীয় সংসদে নারীদের ধর্মীয় পোশাক নিয়ে দেওয়া অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা; জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে নারীর ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা; ধর্মীয় পরিচয় ও পোশাকের কারণে নারীদের প্রতি বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন; দেশে সংঘটিত সকল ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।

    এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা দূর করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও জনপরিসরে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

    সংগঠনটির নেত্রীরা বলেন, নারীর ধর্মীয় পরিচয়, পোশাক ও মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে একটি নিরাপদ, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

  • রক্তদান শুধু সেবা নয়, ইবাদতও: সেলিম উদ্দিন

    রক্তদান শুধু সেবা নয়, ইবাদতও: সেলিম উদ্দিন

    বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে সাইকেল র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে এই র‍্যালির আয়োজন করে লাইফ সাইকেল বিডি।

    জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ পাশের মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল ও মধুবাগ এলাকা ঘুরে পুনরায় মানিক মিয়া এভিনিউতে এসে শেষ হয়। এতে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

    র‍্যালির আগে স্বাগত বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, এবারের বাজেটে জুলাইয়ের গণ-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নেই, বরং এটি পুরোনো ধারার বাজেট। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ঋণখেলাপিদের সুবিধা দেওয়ার পথ উন্মুক্ত করেছে।

    তিনি আরও বলেন, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক নয়।

    সেলিম উদ্দিন দাবি করেন, শিক্ষা খাতে যে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, তার মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ব্যয় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক খরচ যুক্ত রয়েছে। এগুলো বাদ দিলে প্রকৃত শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির দেড় শতাংশেরও নিচে নেমে আসবে।

    তিনি তরুণদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান এবং একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার জন্য জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন।

    রক্তদাতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এক ব্যাগ রক্ত একটি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। রক্তদান মানবসেবার পাশাপাশি একটি ইবাদতও।

    তিনি আরও বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে আধুনিকভাবে রক্ত সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এ সমস্যা সমাধানে ডিজিটাল ব্লাড ডোনার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লাইফ সাইকেল বিডির পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম রিয়াজ, উপদেষ্টা মাহফুজুর রহমান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত, হেমায়েত হোসেন এবং সহকারী পরিচালক আব্দুল মোতালেব।

  • ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির

    ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির

    বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার দুপুর ১২টা ৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ ব্যাখ্যা চান।

    ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী শুক্রবার সকালে পেট্রাপোল-বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে জামায়াত আমীর বলেন, “গতকাল বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী পৌঁছানোর পর তার একটি বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, আমাদের সরকারের উচিত হবে তার কাছ থেকে তা জেনে নেয়া। ভারত যেমন একটি স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশও তেমনি একটি স্বাধীন দেশ। তার এ বক্তব্য স্পষ্ট না হলে জনমনে অবশ্যই বিভ্রান্তি তৈরি হবে।”তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের সরকারের কাছে এ বিষয়টির সুরাহা চাই। যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার।”