জাতীয়

  • প্রধানমন্ত্রী সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন রাশেদ খাঁন

    প্রধানমন্ত্রী সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন রাশেদ খাঁন

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহকারী (রাজনৈতিক) হিসেবে নিয়োগ পেলেন মো. রাশেদ খাঁন। গতকাল রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আজ সোমবার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রজ্ঞাপন যোগ করে এক পোস্টে রাশেদ খাঁন নিজেই জানিয়েছেন।

    নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান রাশেদ খাঁন। দায়িত্ব সঠিকভাবে যাতে পালন করতে পারেন সে জন্য সবার সহযোগিতা চান তিনি।

    ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. রাশেদ খাঁনকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠন-এর সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ হতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।

    গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। এরপর ঝিনাইদহ–৪ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হন তিনি।

  • মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দরবার শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একই অপরাধে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুটি পৃথক আইনে বিচার করার সুযোগ নেই। তাই তাকে বেসামরিক বিচার প্রক্রিয়ার পরিবর্তে সেনা আইনের আওতায় বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মেজর অবসরপ্রাপ্ত মোজাফফর ও তার অন্য সহযোগীদের যে বিচার, সেটা তখনকার সময়ে সামরিক আদালতে হয়েছে। সেখানে কিছু ফাইন্ডিংস আছে। তিনি পলাতক ছিলেন, দীর্ঘ দিন ভিন্ন নাম ধারণ করে পার্শ্ববর্তী দেশে পলাতক ছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘দেশে আসার পরে আমরা যখন জানতে পেরেছি। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার ইনফরমেশনের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে সেনা আইনে বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচার সম্পন্ন হবে। আগে একই মামলায় যাদের বিচার ও দণ্ড কার্যকর হয়েছে, সেই রায়ের আলোকে তার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত রয়েছে তা জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনা করবে।’

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • শার্শায় ট্রাক্টর-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১

    শার্শায় ট্রাক্টর-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১

    যশোরের শার্শায় ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরেক যুবক আহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার গোগা ইউনিয়নের সালামের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত নাহিদ ইসলাম (৩৫) যশোর সদর উপজেলার সুজলপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর ভান্ডারীর ছেলে ও উষা রহমান (৩০) বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর গ্রামের জমাত আলীর ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে তিন যুবক মোটরসাইকেলযোগে সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় রুদ্রপুর-গোগাগামী পাকা সড়কের সালামের মোড় নামক এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইটবোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নাহিদ ও উষা নিহত হন। গুরুতর আহত রুবেলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ নাহিদ ও উষার মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ‘স্থানীয় জনতা ট্রাক্টরটি জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলেও চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

  • যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে যাচ্ছে না জমিয়ত

    যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে যাচ্ছে না জমিয়ত

    সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর শরিক দল ও সমমনা জোটের শীর্ষ নেতাদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তবে এই নৈশভোজে অংশ নিচ্ছে না বিএনপির দীর্ঘদিনের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

    ইতোমধ্যে বিএনপির শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের কাছে বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন না দাওয়াত পাওয়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতারা।

    দলটির প্রচার সম্পাদক ইমরানুল বারী সিরাজী আমার দেশকে বলেন, আমরা বিএনপির প্রধান শরিক ছিলাম। দলটি ক্ষমতায় আসার পর আমাদের কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি। এখন শুধু খাওয়ার জন্য গিয়ে কী লাভ হবে?

    দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপির সঙ্গে জমিয়তের সম্পর্ক আগের মতো নেই। নির্বাচনে জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেলেও কোনো আসনে জয় পায়নি দলটি। এরপর সরকার গঠনের পর শরিক দল হিসেবে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে মনে করছেন জমিয়তের নেতারা।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের পর আমাদের সঙ্গে বিএনপির কোনো যোগাযোগ নেই। কুশল বিনিময়ও হয়নি, কোনো বৈঠকও হয়নি। জোটের অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা হলেও আমাদের ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। এটা রহস্যজনক।

  • আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ থেকে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয় দিয়ে দাপট, চাঁদা না দিলেই গুলি, অতপর…

    আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ থেকে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয় দিয়ে দাপট, চাঁদা না দিলেই গুলি, অতপর…

    বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে এক ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়, না দিলে হুমকি দেওয়া হয় প্রাণে মেরে ফেলার। ওই ব্যবসায়ী ছিলেন দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার। টাকা না দেওয়ায় চার দিনের মাথায় তাঁর কার্যালয়ে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা নিয়ে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে রাজধানীর মতিঝিল এলাকার ‘সন্ত্রাসী’ তানিম রেজা ওরফে বাপ্পির নাম।

    পুলিশের দাবি, মতিঝিল, আরামবাগ ও কমলাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধজগতে আলোচিত নাম তানিম রেজা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ও পরিচয় বদলালেও বদলায়নি অপরাধের ধরন। দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন, ফুটপাত, ময়লা, ইন্টারনেট ও কেব্‌ল ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, মতিঝিল, মগবাজার, মালিবাগ, কমলাপুরসহ আশপাশের এলাকায় গুলি, চাঁদাবাজি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে কাজ করার নানা ঘটনায় তানিম রেজার নাম এসেছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।

    পরিচয় বদল, অভিযোগ একই

    পুলিশের দাবি, কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিজস্ব ‘শুটার বাহিনী’ দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ভয় দেখাতেন তানিম রেজা। সাত থেকে নয়জনের একটি অস্ত্রধারী দল সব সময় তাঁর সঙ্গে থাকত। তানিমও নিজেও অস্ত্র রাখতেন।

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তানিম রেজা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতাদের হয়ে দরপত্র নিয়ন্ত্রণে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর কাজ ছিল ঠিকাদারদের অস্ত্রের ভয় দেখানো, চাঁদা আদায় এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের দরপত্র থেকে সরিয়ে দেওয়া।

    পুলিশের দাবি, কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিজস্ব শুটার বাহিনী দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ভয় দেখাতেন তানিম রেজা। সাত থেকে নয়জনের একটি অস্ত্রধারী দল সব সময় তাঁর সঙ্গে থাকত। তানিমও নিয়মিত অস্ত্র বহন করতেন।

    পুলিশের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতার ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন তানিম। এরপর নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন এবং ওই পরিচয়ে মতিঝিল, আরামবাগ ও কমলাপুর এলাকায় নতুন করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন।

    তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ওই সময় থেকে বাস কাউন্টার, ফুটপাত এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন তানিম। কমলাপুরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া এক্সপ্রেস বাস কাউন্টার থেকে নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ঢাকা–কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী রয়েল কোচ পরিবহনের শেয়ারের একটি অংশ দখলে নিয়ে ব্যবসায় নামেন তিনি।

    শুধু ব্যবসায়ী নন, মতিঝিল থানা বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীকেও ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আছে তানিমের বিরুদ্ধে।

    ময়লা থেকে ইন্টারনেট, নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

    তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মতিঝিল এলাকায় ময়লা–বাণিজ্য, ফুটপাত, ফ্ল্যাট, ইন্টারনেট ও ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে সম্পৃক্ত ছিলেন তানিম রেজা। সরকার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পলাতক ব্যক্তির ব্যবসার নিয়ন্ত্রণও তিনি নেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

    মতিঝিল, মগবাজার, মালিবাগ, কমলাপুরসহ আশপাশের এলাকায় গুলি, চাঁদাবাজি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে কাজ করার নানা ঘটনায় তানিম রেজার নাম এসেছে। পাশাপাশি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।

    —মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, উপকমিশনার, মতিঝিল বিভাগ ডিএমপি

    পুলিশের ভাষ্য, মতিঝিল, সবুজবাগ ও কমলাপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, দরপত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অস্ত্রের ব্যবসাও তাঁর নির্দেশে পরিচালিত হতো। এসব কর্মকাণ্ডে মতিঝিলের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইখতিয়ারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। একইভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের নাম আসা বিভিন্ন অপরাধের ঘটনাতেও কোনো না কোনোভাবে তানিম রেজার সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ।

    শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের হাত ধরে অপরাধজগতে

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের সহযোগী হিসেবে ২০০২ সালে মতিঝিল এলাকায় অপরাধজগতে প্রবেশ করেন তানিম রেজা। জিসান দেশ ছেড়ে এখন আছেন দুবাইয়ে।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের সহযোগী হিসেবে ২০০২ সালে মতিঝিল এলাকায় অপরাধজগতে প্রবেশ করেন তানিম রেজা। বর্তমানে জিসান দুবাইয়ে পলাতক।

    জিসানের সহযোগী হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার সঙ্গে দরপত্র নিয়ন্ত্রণে তানিম সহযোগী ছিলেন। দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদারদের তাঁরা অস্ত্রের ভয় দেখাতেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

    তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তানিম রেজাদের এই সশস্ত্র তৎপরতার কারণেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঠিকাদার ও বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা জি কে শামীম এবং খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া দীর্ঘ সময় দরপত্র নিয়ন্ত্রণে নিজেদের রাখতে পেরেছিলেন।

    ডিএমপির কর্মকর্তাদের দাবি, তানিম রেজার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে সাতটি মামলা আছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে রাজধানীর রামপুরা, হাতিরঝিল, খিলগাঁও, শ্যামপুর ও ডেমরা থানায় এসব মামলা হয়েছে।

    তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থানরত জিসান এবং আরেক পলাতক সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদের সঙ্গে এখনো তানিম রেজার যোগাযোগ থাকার তথ্য–প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    ভয় দেখানোর অস্ত্র ছিল ‘শুটার বাহিনী’

    পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সাত থেকে নয়জনের একটি ‘শুটার বাহিনী’ গড়ে তুলেছিলেন তানিম রেজা। বাহিনীর সদস্যদের কাছে অন্তত সাতটি ভারতীয় আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে তদন্তে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ব্যবসায়ী বা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে প্রয়োজন হলে তাঁদের দিয়ে গুলি চালানো হতো।

    তানিমকে গ্রেপ্তারের পর ইস্টার্ন কমলাপুর হাউজিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, একটি ইলেকট্রিক শক গান ও একটি কুড়াল উদ্ধারের কথা এরই মধ্যে জানিয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার তানিমের পাশাপাশি রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫) নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকেও তানিম ও তাঁর সহযোগীরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কমলাপুরে ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে গুলির ঘটনার পর তাঁকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা বাড়ানো হয়। তাঁর অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    —হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী, সহকারী কমিশনার, মতিঝিল অঞ্চল, ডিএমপি

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তানিমের হয়ে মাঠপর্যায়ে চাঁদা আদায় ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতেন রাকিবুল ইসলাম। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেন লিখন ও জাহিদ হাসান নামের দুজন। আদর ও জিতু নামের দুজন শুটার ভয় দেখাতে গুলি চালানোর কাজে অংশ নিতেন।

    লিখন, জাহিদ, আদর ও জিতুকে গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার তানিম রেজা ও তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা দেশি–বিদেশি অস্ত্র ছবি: পুলিশের সৌজন্যে

    ১০ লাখ টাকা না পেয়ে ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে গুলি

    পুলিশের তথ্য বলছে, গত ১৫ মে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার ইসমাইল হোসেনের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না পেয়ে ১৯ মে তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘এআই কার্গো সার্ভিস’–এ একদল সন্ত্রাসী গুলি চালায়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা হওয়ার পর তদন্তে তানিম রেজা ও তাঁর সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

    এরপর ১৮ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, ঘটনার পর তানিম রেজা ও তাঁর সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যান। প্রায় দুই মাসের চেষ্টার পর ১৭ জুলাই সকালে রাজধানীর পূর্বাণী হোটেল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানিম রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাকিবুলসহ তাঁর চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭) ও মানিক কাজী (৫০)। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

    তানিম রেজাকে গ্রেপ্তারের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিএমপির মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকেও তানিম ও তাঁর সহযোগীরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কমলাপুরে ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে গুলির ঘটনার পর তাঁকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা বাড়ানো হয়। তাঁর অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    তানিম রেজা ওরফে বাপ্পী। শনিবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে

    দুই পুলিশ কর্মকর্তা হত্যাসহ সাত মামলা

    ডিএমপির কর্মকর্তারা জানান, তানিম রেজার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে সাতটি মামলা আগে থেকে আছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে রাজধানীর রামপুরা, হাতিরঝিল, খিলগাঁও, শ্যামপুর ও ডেমরা থানায় এসব মামলা হয়।

    এ ছাড়া ২০০৩ সালের ১৫ মে মালিবাগের সানরাইজ আবাসিক হোটেলে অভিযানের সময় গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নুরুল আলম শিকদার ও উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইখতিয়ার ও জিসানের পাশাপাশি তানিম রেজার নামও এসেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনের করা মামলায় তানিম ও রাকিবুলকে সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী, পলাতক সহযোগী, ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং চাঁদাবাজ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

    এদিকে অস্ত্র উদ্ধারের পর তানিম ও রাকিবুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মতিঝিল থানায় আরেকটি মামলা করেছে পুলিশ।

  • খুলনায় নির্জনা হত্যা: আদালতে বাবার দায় স্বীকার, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    খুলনায় নির্জনা হত্যা: আদালতে বাবার দায় স্বীকার, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    খুলনায় কিশোরী নির্জনা হত্যা মামলায় বাবা আকাশ আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ রোববার খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ এর বিচারক মো. আসাদুর জামান তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এর আগে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার বাজারের একটি দোকান থেকে র‌্যাব ও খুলনা সদর থানা পুলিশ আকাশকে গ্রেপ্তার করে। এরও আগে গত ১০ জুলাই নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খুলনা থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারের পর আকাশকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। আজ সকালে স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিতে চাইলে দুপুরের পর তাঁকে আদালতে নেওয়া হয়।

    পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ৮ জুলাই সকাল ১০টার কিছুক্ষণ পর স্বামী রনির সঙ্গে চলে যাওয়ার জন্য নগরীর বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাড়ি থেকে বের হয় নির্জনা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে রাস্তা থেকে তুলে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

    ওই দিন বিকেলে মা সীমার সঙ্গে নির্জনার কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় নির্জনা মায়ের গায়ে হাত তোলে। পরে মায়ের গলা টিপে ধরে নির্জনা। তখন বাবা আকাশ কাঠের চেলা দিয়ে শাসন করতে গেলে সেটি গিয়ে নির্জনার মাথায় লাগে বলে সূত্রটি জানায়। পরে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তাঁরা।

    এরপর লাশ গুম করার জন্য বাবা কালো রঙের লুঙ্গি দিয়ে মেয়ের হাত-পা বেঁধে ফেলেন বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। পরে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মরদেহটি দোতলা থেকে নিচে নামানো হয়। কয়েকবার মোটরসাইকেলে মরদেহ তোলার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তা তুলতে সক্ষম হন তারা।

    পরে মোটরসাইকেলে করে মরদেহ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরেন আকাশ। কোথায় মরদেহ ফেলা হবে, তা ঠিক করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত শহরতলীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নির্জন সড়কে লাশ ফেলে দেওয়া হয়। বাড়ি ফিরে রক্ত মুছে ফেলেন তাঁরা। রাতে উভয়েই কান্নাকাটি করেন এবং সকালে পালিয়ে যান।

    খুলনা সদর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ প্রথমে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পিবিআই ও সিআইডিও প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। ঘটনার দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করা হয়। পরদিন বিকেলে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

    ওসি আরও বলেন, মা-বাবাকে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে নির্জনার মা সীমাকে থানায় আনা হয়। প্রথমদিকে মেয়ে হত্যার বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। পরে বিস্তারিত তথ্য দেন।

    পুলিশ জানায়, ঘটনার ছয় দিন পর আকাশের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ১০ দিন পর ডুমুরিয়া উপজেলার বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে, হাসিনাসহ আসামি ৪১

    তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে, হাসিনাসহ আসামি ৪১

    শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    আজ রোববার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে।

    চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতিবেদনটি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়ে এটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

    মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন- তৎকালীন পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি প্রধান, ডিএমপি কমিশনার এবং একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

    এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, নথিপত্রগুলো বর্তমানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে।তবে তদন্তের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

    এদিকে মামলার অগ্রগতি জানতে আজ সকালে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যান হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধিদল। সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের (মধুপুর পীর) নেতৃত্বে এই দলে ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ ১০-১৫ জন শীর্ষ নেতা।

    উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। ওইদিন গভীর রাতে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে বহু মানুষ হতাহতের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে।

  • শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত

    শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত

    ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আজ রোববার নিজ কার্যালয়ের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরের নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তারা।

    তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনটি এখন চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। যেন একটি সঠিক তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত হয়। প্রকৃত আসামিরা যেন বিচারের সম্মুখীন হন। হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আজ খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছি। শিগগিরই পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে পাবো বলে আশা করছি।’

    এই মামলায় আসামী কারা হচ্ছেন- সে প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক পুলিশ প্রধান ও বিজিবি প্রধানসহ কয়েকজনের নাম প্রতিবেদন এসেছে। এসব আমরা যাচাই-বাছাই করছি। যাচাই-বাছাই শেষে আসামিদের নাম সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে।’

    শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত নিহত ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। কিন্তু ৫৮ জনের পরিচয় এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।’

    আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসা হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অনেকেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  • ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের পরিবেশ দূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ, ইটভাটার দূষণ রোধ এবং অতিরিক্ত হর্ন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াতে বলেছেন তিনি।

    শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশ দেন।

    বৈঠকে বায়ু ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে, ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
    বৈঠকে রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশ দূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    এ ছাড়া রাজধানীতে আরও অন্তত ৫০টি পয়েন্টে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বা অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম চালুর নির্দেশ দেন তিনি।

    সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • গাংনীতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

    গাংনীতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার বিকেলে গাংনী মিনি স্টেডিয়াম (সাহারবাটি) মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।

    গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন এবং যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে তিনি বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামছুল আলম সোনা, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, মেহেরপুর জেলা সমন্বয়কারী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট শাকিল আহমাদ, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আখেরুজ্জামান, গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।

    এছাড়াও কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইন, সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমা তারা, ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মুন্টুসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা উপভোগ করতে স্টেডিয়ামে বিপুলসংখ্যক দর্শকের সমাগম ঘটে। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি, মেডেল ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।