জাতীয়

  • জেলে নিলে জেলে যাব, মেরে ফেললে কবরে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জেলে নিলে জেলে যাব, মেরে ফেললে কবরে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, জেলে নিয়ে গেলে জেলে যাব, আর মেরে ফেললে কবরে চলে যাব। মামলা-হামলা দিয়ে আমাদের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না। মানুষ ভয় পায়, আমরাও ভয় পাই। কিন্তু ভয় পেয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেব না।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পদযাত্রা ও সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার পর এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে দায়ের করা অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এনসিপি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। মামলা দিয়ে কিংবা হামলা চালিয়ে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম থামানো সম্ভব নয়।

    দায়ের করা মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মামলায় হামলা, হয়রানি ও ছিনতাইয়ের মতো যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, আমি মামলাগুলো দেখেছি। সেখানে লেখা হয়েছে আমরা হামলা করেছি, হয়রানি করেছি, ছিনতাই করেছি। এসব কতটুকু সত্য, তা দেশবাসী নিজের চোখেই দেখেছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই এসব মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তার ভাষায়, “তাদের নতুন সরকার যদি মামলাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করতে চায়, করুক। কিন্তু একদিন এসবেরও শেষ হবে।”

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে “গ্যাংবাজির সংস্কৃতি” প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে অভিযোগ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, “রাজনীতির নামে গ্যাংবাজি চলছে। যদি গ্যাংবাজিই করতে চান, তাহলে রাজনীতির নামে না করে সরাসরি গ্যাংবাজির ঘোষণা দিন।”

    মামলায় আইফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “তারা বলছে আইফোন ছিনতাই হয়েছে। সেটি কি জি কে গাউসের আইফোন, নাকি তারেক রহমানের আইফোন ছিল? এমন অভিযোগ অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও অভিযোগ করেন, দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “জি কে গাউস, নুরু, সালাউদ্দিনসহ একটি গ্যাং চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে গুলশানের অফিসে জমা দেয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

    পাল্টা মামলা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। সেই ঘটনায় আমরা মামলা করেছি। এরপর তারা পাল্টা একটি মামলা করেছে। ঘটনাটি এতটুকুই।”

    তিনি আবারও বলেন, “মানুষ ভয় পায়, আমরাও ভয় পাই। কিন্তু ভয় পেয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেব না। মামলা-হামলা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।”

    উল্লেখ্য, হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগ নিয়েই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।টওয়ারী।

  • ‘তোমাকে ছাড়া এখনো বেঁচে আছি’—কার অপেক্ষায় দিন গুনছেন প্রভা?

    ‘তোমাকে ছাড়া এখনো বেঁচে আছি’—কার অপেক্ষায় দিন গুনছেন প্রভা?

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিজীবন কিংবা মনের কথা খুব একটা প্রকাশ করেন না অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। তবে মাঝেমধ্যে তার দেওয়া রহস্যময় কিংবা আবেগঘন পোস্ট ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করে। এবারও তেমনই এক বার্তা দিয়ে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী।

    সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছেন প্রভা। ছবিগুলোতে হালকা রঙের পোশাক, সাদামাটা সাজ ও নান্দনিক উপস্থিতিতে দেখা গেছে তাকে। খোলা চুলে গোলাপি ও সাদা রঙের সালোয়ার-কামিজে অভিনেত্রীর সাজও নজর কেড়েছে।

    ছবিগুলোর সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনেই অবশ্য তৈরি হয়েছে রহস্য। প্রভা লিখেছেন, ‘তোমাকে ছাড়া এখনো বেঁচে আছি। আবার দেখা হবে—সেই দিনটির অপেক্ষায় প্রতিটি দিন গুনছি।’

    তবে এই বার্তা কার উদ্দেশে, তা স্পষ্ট করেননি এই অভিনেত্রী। ফলে পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রিয় কোনো মানুষকে উদ্দেশ্য করেই হয়তো এমন আবেগঘন কথা লিখেছেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে প্রভার পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

    প্রকাশিত ছবিগুলোতেও ছিল ভিন্ন আবহ। কোনো ছবিতে পার্কের পাশে বেঞ্চিতে বসে থাকতে দেখা গেছে তাকে। আবার কোথাও ফুল ছোঁয়ার চেষ্টা করছেন অভিনেত্রী। অন্য একটি ছবিতে রাস্তার পাশে ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে ছবিগুলোতে প্রভার স্বাভাবিক ও নান্দনিক উপস্থিতিই ফুটে উঠেছে।

    এদিকে অভিনয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রভা। ফয়েজ আহমেদ রেজার পরিচালনায় ‘লুক আ লাইক’ নামের একটি ফিকশনে অভিনয় করেছেন তিনি। ফিকশনটি বঙ্গতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

  • সরকার নিজেই দাবি করছে দুর্নীতি বেড়েছে: জামায়াত আমির

    সরকার নিজেই দাবি করছে দুর্নীতি বেড়েছে: জামায়াত আমির

    দেশে দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি বর্তমান বিএনপি সরকার নিজেই দাবি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মলনে যোগ দিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল ১ আগস্ট। আর তাদের দেশ ছাড়তে হয়েছে ৫ আগস্ট।’

    চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে শ্রমিক সমাজ সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি প্রাণ এই সমাজই হারিয়েছে। এরা কোটার বিরুদ্ধে নয় বরং বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আন্দোলনে নেমেছিল।’

    বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার চেষ্টা করছে সবাইকে চাকরি দিতে। চাকরি তিনি দিয়েছেন ঠিকই, তবে টেম্পু স্টেশনে৷ এই চাকরি বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করে।’

    দুর্নীতি ইস্যুতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নব নির্বাচিত সরকার নিজেই দাবি করছে দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা দেখি তারেক রহমানের ইশারায় সব চলে, তাহলে তার ইশারায় দুর্নীতি বন্ধ হয় না কেন?’

    নৈতিক দিক থেকে সরকার দেশ চালাতে ব্যার্থ হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজদের কাছে বিভিন্নভাবে পরিবহন শ্রমিকরা হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। সরকারি দল থেকে এগুলো করা হচ্ছে।

    জুলাই যোদ্ধাদের প্রাপ্য সম্মান দেয়ার দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘৭০ শতাংশ মানুষ গনভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। সরকার যদি গণতান্ত্রিক হয় তবে তাদের এই রায় মানতে হবে।’

  • জুলাই সনদের আলোকেই আইন সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে: আইনমন্ত্রী

    জুলাই সনদের আলোকেই আইন সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে: আইনমন্ত্রী

    আইন সংস্কার কমিশনের দেওয়া প্রস্তাবনাগুলো ‘জুলাই সনদের’ আলোকেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আজ শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে আয়োজিত এক বৃক্ষমেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

    মন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইন সংস্কার কমিশন ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। যার প্রায় সবগুলোই আমরা গ্রহণ করেছি।’

    একই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন খাত উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে এনসিপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি এনসিপির বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত’ বলে অভিহিত করেন।

    রাশেদ খান বলেন, ‘আমরা এনসিপিকে পরামর্শ দেব নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বাদ দিয়ে তারা দেশের যেখানেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাক না কেন, বিএনপি তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে।’

    ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

  • যারা ৭১ ভুলে যেতে চায়, তারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল

    যারা ৭১ ভুলে যেতে চায়, তারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল

    বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ হাজার বছর ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে, তাই এখানে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘যারা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে যেতে চায় কিংবা ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা কখনোই বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না।’

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীতে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের মূল দুর্বলতা হলো আমরা এখনও একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারিনি। বিগত ১৫ বছরে দেশের গণতন্ত্রকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। তবে আমরা অতীতের সেই ক্ষত কাটিয়ে এখন নতুন করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।’

    একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে অনেক সমস্যা ও বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জুলাই আন্দোলনকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তবে যারা ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে ফাটল ধরাতে চায়, তাদের যে কোনো মূল্যে রুখে দিতে হবে।

    যে কোনো উপায়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা বিধান এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।

  • ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি’ সার্জিও গোরের কাছে  রোহিঙ্গারা

    ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি’ সার্জিও গোরের কাছে রোহিঙ্গারা

    রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং ক্যাম্পের মানবিক অবস্থা সরেজমিনে দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শনে আসা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সামনে স্বদেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা। শুক্রবার উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় সার্জিও গোরের গাড়িবহরের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন রোহিঙ্গারা। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘You have your home! We miss our home!’ বাংলায় যার অর্থ, ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি।’ প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তারা মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানান।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশেষ দূতের সফরকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাবাসনের দাবি তুলে ধরেন। অনেকেই নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রহিম জানান, রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি তুলে ধরেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান।

    রোহিঙ্গা নেতা মো. জুবায়ের বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে ক্যাম্পে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছি। আমাদের একটাই চাওয়া- নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আমরা আর শরণার্থী হয়ে জীবন কাটাতে চাই না।’

    তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু কোনো মানুষ চিরকাল নিজের দেশ ছেড়ে অন্যের আশ্রয়ে থাকতে চায় না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আমরা নিরাপদে আমাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে পারি।’

    ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফরে সার্জিও গোর রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

    উল্লেখ্য, তিন দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসা মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান অবস্থা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং প্রত্যাবাসন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার অংশ হিসেবে উখিয়ার আশ্রয়শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন।

  • ধর্ম-বর্ণ বিবেচনায় কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

    ধর্ম-বর্ণ বিবেচনায় কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ধর্ম বিশ্বাস, ধর্ম চর্চাকে পূঁজি করে কোনো মহল কাউকে পকেটে নেওয়ার চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষ তাদের চিহ্নিত করবে। বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ বিবেচনায় কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বরিশাল পূজা উদযাপন পরিষদ, বরিশাল জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। অতএব কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ ব্যবহার করতে চায়, রাষ্ট্রকে কোনো ধর্মের মাধ্যমে গ্রাস করবে, এ ধরণের সাম্প্রদায়িকতা ধর্মবিরোধী। যখনই ধর্ম বিশ্বাসকে, চর্চাকে কোনো মহল একটি সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার চেষ্টা করবে, সঙ্গে সঙ্গে ধর্মপ্রাণ মানুষ ওই ধর্ম ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করবেন।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের সমস্ত বক্তব্য জনগণের কল্যাণের জন্য। যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণ তা কল্যাণকর মনে করবে ততক্ষণ পর্যন্ত সেই দল, সেই মার্কা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য থাকবে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল আলম ফরিদ, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে, সাদা মনের মানুষখ্যাত বিজয় কৃষ্ণ দেসহ পূজা উদযাপন কমিটির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মানিক লাল মুখার্জি।

  • ভুল করছি আবার সেই ভুল থেকেই নিজেকে গড়ছি: আইশা খান

    ভুল করছি আবার সেই ভুল থেকেই নিজেকে গড়ছি: আইশা খান

    অভিনয়ের জগতে জনপ্রিয়তা অনেকটা জোয়ারের মতো। কেউ সেই জোয়ারে ভেসে যান, কেউ আবার দাঁড়িয়ে থাকেন নিজের তীরে। আইশা খান যেন দ্বিতীয় দলের মানুষ। আলোচনায় থাকার চেয়ে তিনি বেশি বিশ্বাস করেন নিজেকে প্রস্তুত করে তোলায়। চরিত্রের ভেতর ডুবে যাওয়াকে তিনি মনে করেন অভিনয়ের সবচেয়ে বড় অনুশীলন। তাই কাজের সংখ্যা নয়, প্রতিটি কাজের গভীরতাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    উপস্থাপনা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও খুব অল্প সময়েই অভিনয়ে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন আইশা। ছোট পর্দার নাটক, ওয়েব কনটেন্ট কিংবা বিশেষ প্রযোজনা—প্রতিটি মাধ্যমেই তিনি রেখেছেন সংযত অথচ স্বতন্ত্র উপস্থিতির ছাপ। তাই এখন নাটকের অন্যতম ভরসার নাম আইশা।

    অভিনয়ে কখনও অতিনাটকীয়তা নেই, নেই অকারণ চমক; বরং স্বাভাবিকতা আর পাশের বাড়ির মেয়ের সহজসরল আবহই তাঁকে দর্শকের কাছে আলাদা করে তুলেছে। এবার তাঁর অভিষেক হচ্ছে বড় পর্দায়। যুক্ত হচ্ছে চিত্রনায়িকার পরিচয়। সিনেমার নাম ‘শেকড়’।

    শেকড়ে ফেরার গল্প

    আইশার এই যাত্রায় নতুন সংযোজন প্রসূন রহমান পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘শেকড়’। সিনেমাটিতে তিনি অভিনয় করেছেন ‘ফাল্গুনী’ চরিত্রে। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন এফ এস নাঈম। আরও অভিনয় করেছেন একঝাঁক অভিনয়শিল্পী। তবে মধ্যমণি যে আইশা খানই, তাতে সন্দেহ নেই। কারণ এটি তাঁর প্রথম সিনেমা, প্রথম বড় পর্দা, প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্রের নায়িকা হওয়ার অভিজ্ঞতা। অভিবাসী মানুষের আত্মপরিচয়ের সংকট, শেকড়ের সন্ধান এবং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টার গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘শেকড়’। নির্মাতা প্রসূন রহমানের ভাষায়, এটি মানুষ, মাটি ও স্মৃতির অদৃশ্য বন্ধনের এক আবেগঘন ভাষ্য।

    আজ দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল ‘শেকড়’। এরপর ২ আগস্ট কানাডায় মুক্তি পাবে ছবিটি। আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেও সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশের দর্শকদের জন্য তৈরি হচ্ছে স্প্যানিশ সংস্করণও। তাই প্রথম সিনেমা দিয়েই যেন বিশ্বভ্রমণে বের হচ্ছে আইশার অভিনয়।

    অভিনেত্রী বলেন, শেকড় আমার ক্যারিয়ারের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। অবশেষে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। শেষ হচ্ছে দীর্ঘ অপেক্ষার। দর্শক ছবিটি হলে গিয়ে দেখবেন, এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি বিশ্বাস করি, গল্প আর চরিত্র— দুটিই তাদের ভালো লাগবে।

    তিনি আরও বলেন, প্রতিটি চলচ্চিত্রেরই একটি নিজস্ব যাত্রা থাকে। নির্মাতার হাত ধরে সেই যাত্রা শুরু হলেও দর্শকের কাছে পৌঁছানোর মধ্য দিয়েই তা পূর্ণতা পায়। একজন শিল্পী হিসেবে আমি আন্তরিকতার সঙ্গে একটি গল্প বলার চেষ্টা করেছি। সেই গল্প দর্শকের হৃদয়ে পৌঁছাতে পারছে কিনা, সেটি এবার দর্শকদের কাছ থেকেই জানতে চাই।”

    যেন পরিণত হওয়ার পথ

    অনেক সময় একটি সফল কাজ শিল্পীকে আরও ব্যস্ত করে তোলে। আইশা যেন উল্টো পথে হাঁটছেন। তাঁর কাছে সাফল্য কোনো গন্তব্য নয়; বরং আরও ভালো হওয়ার দায়। তিনি বলেন, শেকড়-এর পর আপাতত নতুন কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা নেই। আমি এখনও শিখছি, ভুল করছি, আবার সেই ভুল থেকেই নিজেকে গড়ে তুলছি। যখন আবার পর্দায় ফিরব, চাই আরও পরিণত একজন অভিনেত্রী হিসেবে ফিরব।”

    এই কথার মধ্যেই যেন ধরা পড়ে তাঁর শিল্পদর্শন। দ্রুত আলোয় আসার চেয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতিতেই তিনি বেশি বিশ্বাসী। শেকড়-কে আপাতত শেখার যাত্রারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে মনে করছেন তিনি। তাই আপাতত নতুন সিনেমা নয়, নিজের প্রস্তুতির দিকেই মনোযোগ দিতে চান।

    আইশা বলেন, আমি থিয়েট্রিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসিনি। তাই প্রতিদিনই শিখছি। প্রতিটি চরিত্র আমাকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। এই শেখার পথটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

  • স্বৈরাচার কোনোভাবেই যেন ফিরে আসতে না পারে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    স্বৈরাচার কোনোভাবেই যেন ফিরে আসতে না পারে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিএনপি সরকার মানবিক সরকার। সরকার প্রতিটি মানুষের পাশে থাকতে চায়, কাছে যেতে চায়। শুধু মাত্র আপনাদের সহযোগিতা দরকার। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিটি গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রায় সবার মাঝেই ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ড পৌঁছে যাবে।

    তিনি আরও বলেন, সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। সেই সঙ্গে মনে রাখতে হবে স্বৈরাচার কোনোভাবেই যেন আবার দেশে ফিরে আসতে না পারে সেই দিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ১১টায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৩ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ ছাড়াও মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উপকারভোগীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

    এ সময় অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুধীজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    ব্যবসায়ী কিংবা প্রবাসীদের মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হতো লাখ থেকে কোটি টাকা চাঁদার জন্য। এরপর বাহকের মাধ্যমে নগদে সংগ্রহ করা হতো চাঁদাবাজির সেই টাকা। চাঁদার টাকা সংগ্রহের জন্য ছিল এলাকাভেদে পৃথক ব্যক্তি। তাঁরা মূলত ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে চাঁদাবাজির সেই টাকা জমা দিতেন। তিনি এসব টাকা হুন্ডি এবং কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিতেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছে।

    পুলিশ ও চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। গত বুধবার সকালে যশোর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইমনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত সোমবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করার পর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এর আগে ১৩ জুলাই ২ কোটি টাকা চাঁদার জন্য নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এই দুটি ঘটনার পর মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ইমনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। যদিও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন ইমন।

    চাঁদা দাবির আগে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ

    পুলিশ জানায়, চাঁদা চাওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির আয়ের উৎস, বর্তমান সম্পদ, নির্মাণাধীন ভবনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন ইমনের লোকজন। পরিবারের সদস্যদের জীবনবৃত্তান্তও সংগ্রহ করা হয়। তথ্য সংগ্রহের জন্য এলাকাভিত্তিক সোর্স রয়েছে ইমনের।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন। নির্ধারিত সময়ে টাকা না পেলে হামলার ঘটনাও ঘটে।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন।

    ইমনকে চলতি মাসের শুরুতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়া এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি নগরের দক্ষিণ পাহাড়তলীর বড় দিঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। ইমন গ্রেপ্তার হলেও এখনো ভয়ে রয়েছেন সেই ব্যবসায়ী।

    গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, জুন মাসের শেষের দিকে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে ডেভিড ইমন তাঁকে ফোন করেন। তাঁর নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ও বিভিন্ন ব্যবসার কথা বলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ইমন। ওই সময় ওই ব্যবসায়ীর ছেলেমেয়েরা কে কোথায় পড়াশোনা করেন, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে ব্যবসায়ীর কলেজপড়ুয়া বড় ছেলেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

    অস্ত্র হাতে ইমনছবি: সংগৃহীত

    ওই ব্যবসায়ী জানান, নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এর মধ্যে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিলেন। কয়েকজনের মাধ্যমে ইমনকে ফোন করা হয়। কিন্তু কারও কথা শুনতে নারাজ ছিলেন ইমন। ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা চালানো হয়। মারধর করা হয় নিরাপত্তা প্রহরীকে।

    ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এরপর আমাকে আবার ফোন করা হয়। চাঁদা দেওয়ার মতো এত টাকা নেই জানিয়ে আমি তাঁকে অনুনয়-বিনয় করে চাঁদা কমানোর অনুরোধ করি। শেষে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা নির্ধারিত হয়। ইমন তখন বলেন, আমার লোকজন নগদে টাকা নেবে। যেখান থেকে বলা হবে, সেখান থেকে নিতে পারবে।’

    ‘তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা দল রয়েছে।’

    কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম

    পরে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি নগরের অক্সিজেন এলাকায় টাকা নিয়ে যেতে বলেন বলে জানান ওই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘আমি যেতে রাজি না হওয়ায় একটি অটোরিকশায় করে দুই যুবক বড় দিঘিরপাড়ে আমার বাসার সামনে আসে। নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তারা আবার একই গাড়িতে করে চলে যায়।’

    এই ব্যবসায়ীর মতো আরও অন্তত পাঁচজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁরা সবাই নগদে বাহকের কাছে চাঁদার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে নাম প্রকাশ করে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে তাঁরা রাজি হননি। কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ইমন জামিনে বেরিয়ে এলে তাঁদের ক্ষতি করতে পারেন। তা ছাড়া ইমনের অনেক সহযোগী এখনো বাইরে রয়েছেন।

    ইউসুফকে খুঁজছে পুলিশ

    পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ইমনের লোকজন চাঁদার নগদ টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে যেতেন নগরের জিইসি মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে। সেখানে ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে জমা দিতেন। পরে তিনি এসব টাকা ইমনের নির্দেশমতো হুন্ডি কিংবা ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন।

    ইমনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য মিলেছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ইউসুফকে ধরার চেষ্টায় রয়েছে পুলিশ। তাঁকে পেলে চাঁদাবাজির টাকা কোথায় যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

    চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে কৌশল হিসেবে নগদে চাঁদার টাকা নিতেন। এসব টাকা যাঁরা সংগ্রহ করতেন, তাঁরা সাধারণত ওই এলাকার নন। অন্য কোনো এলাকা থেকে এসে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করা হতো।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা দল রয়েছে।

    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, রিমান্ডে আনার পর ইমনের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যে পুলিশ তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে। চাঁদাবাজি কিংবা হামলার শিকার ভুক্তভোগী লোকজন পুলিশকে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন।

    ক্রিকেট ছেড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে

    ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা মো. মুসা ওমানপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।

    স্থানীয় লোকজন জানান, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ইমনের। কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে করে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে এসে অনুশীলন করতেন। পরে নগরের অক্সিজেন মোড়ে খালার বাসায় থেকে নিয়মিত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। খেলতেন চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে। অনুশীলন করতেন কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের মাধ্যমে তাঁর দলে যুক্ত হন। সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হয়ে ওঠেন ইমন।

    ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায় আলোচিত হন মোবারক হোসেন ইমন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে অন্তত ১৫টি।

    পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল। পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে দেশে সন্ত্রাসী দলটির নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও রায়হান দলটির নেতৃত্বে আসেন।

    পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন বড় সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন।

    গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল ইমনের কাছে। এ সময় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি টাকা নিই এটা ঠিক, তবে সব বড়লোকদের কাছ থেকে।’ সন্ত্রাসের পথ কেন বেছে নিয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেটার হব, নয়তো বড়লোক হব। বড়লোক হওয়ার জন্য এই পথে আছি।’