জাতীয়

  • চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ কার্ড পাবে বলে জানান তিনি।

    আজ রোববার দুপুরে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও গৃহহীন ১০০ পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন। সরকারের দায়িত্ব আপনাদের পাশে থাকা। আমরা বলেছিলাম, সরকার গঠন করতে পারলে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করব। এক মাসের মধ্যে করেছি। নারীদের স্বাবলম্বী করতে এই উদ্যোগ।’

    তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ কার্ড পাবে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। এর উদ্দেশ্য হলো পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীরাও যাতে পরিবারের হাল ধরতে পারেন এবং মায়েদের হাত শক্তিশালী করা যায়।

    পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঁশখালীর লবণচাষিরাও কৃষক কার্ড পাবেন। আলোচনা করে লবণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

    মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বাংলাদেশের বড় সম্পদ। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব। মাতারবাড়ী থেকে মীরসরাই পর্যন্ত শিল্প-কারখানা স্থাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আনোয়ারায় চীনের জন্য জায়গা দেওয়া হয়েছে। সেখানে কয়েক শ শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। এতে চট্টগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বেকারত্ব কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল-কারখানা না থাকলে কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা শিল্পায়ন ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম পূর্বশর্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বাঁশখালী হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা

    বাঁশখালীর হাসপাতাল আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

    দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। আগামী ১০ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা না করে কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা উচিত।

    ‘পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই’

    দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এখন জনগণের জন্য কাজ করার এবং দেশ গঠনের সময়। অনেক দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হয়েও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে গেছে। তাই আর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।

    জনগণের জীবনমান ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির কাছে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণ সাথে থাকলে সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত শ্রমিকের হাতে পরিণত করে কর্মসংস্থান করা হবে। প্রত্যেক মানুষ কাজের মাধ্যমে নিজের পরিবারের ভাগ্য উন্নয়ন করতে পারবে। সেই বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই।’

    অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১৩ (চন্দনাইশ) আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, আনোয়ারার সংসদ সদস্য সাওয়াব জামান নিজাম, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরিসহ বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • দেশে ভোটার ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫

    দেশে ভোটার ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫

    দেশে মোট ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ জনে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে ভোটার বেড়েছে তিন লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জন। একই সময়ে স্থানীয় সরকারের ৫টি প্রতিষ্ঠানের সংশোধিত আচরণ বিধিমালা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

    তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের ৫টি প্রতিষ্ঠানের সংশোধিত আচরণ বিধিমালা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    স্থানীয় সরকারের ৫টি প্রতিষ্ঠান হলো- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ। ইসির সিনিয়র এই সচিব জানান, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ জন।

    তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটার নিবন্ধন চলেছে। এই তারিখ পরিবর্তন হলে পরবর্তীসময়ে জানানো হবে। আর সেগুলো সম্পূরক তালিকা হিসেবে প্রকাশ করা হবে। সচিব জানান, ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে ভোটার বেড়েছে তিন লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জন।

  • দেরিতে আদালতে এসে পরীমণি বললেন ‘এগুলো মেন্টাল টর্চার’

    দেরিতে আদালতে এসে পরীমণি বললেন ‘এগুলো মেন্টাল টর্চার’

    ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলায় জেরার মুখোমুখি হতে আদালতে যাওয়ার পথে যানজটে আটকে পড়েন চিত্রনায়িকা পরীমণি। ফলে নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছাতে না পারায় রোববার তার জেরা হয়নি। আগামী ৩০ নভেম্বর জেরার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।

    পরে দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পরীমণি। এ সময় মামলার শুনানির তারিখগুলোকে নিজের জন্য ‘মেন্টাল টর্চার’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    পরীমণি বলেন, ‘যার সঙ্গে ঘটে, সেই আসলে জানে কিসের মধ্য দিয়ে যায়। এই ডেটগুলো পড়লে অনেক মেন্টাল ট্রমার মধ্য দিয়ে যাই। আবার সেই ঘটনাগুলো আমাকে রিকল করে। এগুলো আমার জন্য এক ধরনের মেন্টাল টর্চার।’

    মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে তিনি বলেন, ‘পাঁচটা বছর হয়ে গেছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জেরা শেষ হোক, একটা সুরাহা হোক। একটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, খুব তাড়াতাড়ি এটা শেষ হয়ে যাক।’

    নিজের মানসিক চাপের কথা জানিয়ে পরীমণি আরও বলেন, ‘এটা আমার জন্য অনেক হ্যাসেল। বাচ্চাদের সময় দেওয়া, সবকিছু ম্যানেজ করে আদালতের এই মানসিক চাপ নিতে হয়। আমি আর এই হ্যাসেলটা নিতে চাই না।’

    পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জানান, যানজটের কারণে দুপুর ১২টায় আদালতে পৌঁছাতে পারেননি পরীমনি। এ কারণে জেরা হয়নি। পরবর্তী শুনানির তারিখ ৩০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মামলায় আসামি নাসির উদ্দিন, তুহিন সিদ্দিকী অমি ও শহীদুল আলম। তারা জামিনে রয়েছেন। এদিন নাসির ও অমি আদালতে হাজিরা দিলেও শহীদুল আলম সময়ের আবেদন করেন।

    ২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের বিরুলিয়ায় তুরাগ নদীর তীরে বোট ক্লাবে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন পরীমনি। পরে ওই বছরের ১৪ জুন ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন তিনি। মামলার বিচার চলছে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে রুদ্ধদ্বার কক্ষে।

    ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন পরীমণি। তবে এখনো তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়নি।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।

    রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে থেকে প্রধান নির্বাচনি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ মনোনয়ন সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

    ইসি সচিব জানান, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’-এর ৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ভবন ও জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সার্বিক নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

    তিনি জানান, তফশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত (নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে)। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট রোববার) সকাল ১০টা থেকে (ইসি ভবনে)। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণের তারিখ ও সময় ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে)।

    সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সময়সূচি ঘোষণার পর কমিশনের পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। আপাতত কেবল নির্বাচনের তফসিলই প্রকাশ করা হলো, পরবর্তীতে হালনাগাদ তথ্য ও অগ্রগতি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান সচিব।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, শেষ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় চার জ্যেষ্ঠ নেতা

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, শেষ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় চার জ্যেষ্ঠ নেতা

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে চার জ্যেষ্ঠ নেতার নাম নিয়েই জোর আলোচনা চলছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, দলের প্রতি আনুগত্য এবং সংকটকালে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে এই চারজনের মধ্যে একজনের নাম এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জোরারো আলোচনায় থাকা বাকি তিন জন হলেন— ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। তাদের প্রথম দুজন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। পরের জন স্পীকার ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। এই চারজনই বিএনপিতে পোড় খাওয়া নেতা হিসেবে সমাদৃত। তাদের রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার।

    নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    মির্জা ফখরুল, ড. মোশাররফ, ড. মঈন ও হাফিজ উদ্দিন নিজ নিজ গুণে দেশবাসীর কাছে পরিচিত। শুধু দলের গণ্ডির মধ্যেই সমাদৃত নন; বিরোধী রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ব্যক্তিত্ব, সদাচার, মার্জিত আচরণ, অহিংস, গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অগ্রসেনানী ও দেশপ্রেমিক হিসেবে তাদের আলাদা কদর আছে।

    বিএনপির পাশাপাশি দেশের রাজনীতিতে কার কী অবদান, তা নিয়ে চলছে মূল্যায়নও। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসব মূল্যায়ন বিবেচনায় নিয়েই রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়ন ঠিক করবেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা তারেক রহমান। ফলে সবার নজর এখন তারেক রহমানের দিকে। ১ আগস্ট বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম চূড়ান্ত করার দায়িত্ব চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর দিয়েছেন দলটির নেতারা।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাজনীতির পাশাপাশি একজন ভূতত্ত্ববিদ, শিক্ষাবিদ ও লেখক হিসাবেও পরিচিত। ১৯৭৯ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সারা দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং বিএনপির প্রথম ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার সংসদ-সদস্য এবং তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে। দল পুনর্গঠন ও সংকটের সময় তার অবদান অনস্বীকার্র্য। প্রবীণ এই নেতা সংকটকালে কখনো দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এবং ওয়ান-ইলেভেনসহ বিভিন্ন সময়ে প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন। হাসিনা সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা হয়।

    রাজনীতির বাইরেও তার রয়েছে সমৃদ্ধ একাডেমিক জীবন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে আরেকটি ডিগ্রি নেন। ১৯৭৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্বে পিএইচডি এবং ১৯৭৪ সালে ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে ডিআইসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে জুনিয়র লেকচারার হিসাবে শিক্ষকতা শুরু করে সহকারী অধ্যাপক ও অধ্যাপক হন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন।

    মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে তিনি প্রবাসীদের সংগঠিত করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসাবেও নেতৃত্ব দেন।

    ২০০১ সালের চারদলীয় জোট সরকারের ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। দলের প্রবীণ নেতা হিসাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ফলে দলের ভেতরে ও বাইরে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এই নেতার নাম রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় আসা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। তবে বর্তমানে শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থতা থাকার কারণে তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নানা দিক থেকে চিন্তা করতে হচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ও আন্দোলনে তার ভূমিকা সর্বজনবিদিত। বিশেষ করে গত ১৭ বছরের কঠিন সময়ে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তার সক্রিয় ভূমিকার কথা সর্বস্তরে প্রশংসিত। মহাসচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করে দলের ভেতরে-বাইরে সমান গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন তিনি।

    একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসাবেও মির্জা ফখরুলের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। দলীয় প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গেও তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক আলোচনায় রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ারও অত্যন্ত পছন্দ ও স্নেহভাজন ছিলেন তিনি। মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

    তিনবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপির এই মহাসচিব বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। নানা প্রোপাগান্ডায় এক-এগারোর আগে ও পরে বিএনপি কিছুটা ভাবমূর্তির সংকটে পড়লে স্বচ্ছ ইমেজের নেতা হিসাবে মির্জা ফখরুলকে সামনে আনা হয়। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী দলের মুখপাত্র হিসাবে গণমাধ্যমে তার পরিচিতি আরও বাড়ে।

    ২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলাওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন।

    ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে তার বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা হয়েছে এবং ১১ বার তিনি কারাবরণ করেছেন। হাসিনা সরকার দল ভাঙতে মির্জা ফখরুলকে চাপের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় নানা প্রলোভনও দিয়েছেন বলে দেশের রাজনীতিতে আলোচনা আছে। কিন্তু তাকে টলাতে পারেননি। অনেকের মতে, নির্লোভ ফখরুল দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। তারেক রহমান লন্ডনে এবং বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার সময় দেশে দল ও আন্দোলনের দৃশ্যমান নেতৃত্বের অন্যতম মুখ ছিলেন মির্জা ফখরুল। এসব কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তার নামই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

    এ দুজনের বাইরে ড. আবদুল মঈন খানের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির পাশাপাশি দেশ-বিদেশে তার রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও একাডেমিক পরিচিতি। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অত্যন্ত পছন্দের লোক হিসাবে পরিচিত তিনি। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তার বাসায় প্রায় বিদেশি কূটনীতিকরা বৈঠকে বসতেন। একজন সৎ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসাবেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সুনাম রয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী ছাত্র ড. খান একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি ইংল্যান্ডের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও ফেলোশিপও পেয়েছেন।

    ইংল্যান্ডে পিএইচডি গবেষণার সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তার বৃত্তি ও নাগরিকত্ব বাতিল করে। পরে ব্রিটিশ সরকারের বৃত্তির সহায়তায় তিনি উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ফিরে পান। রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার সংসদ-সদস্য এবং তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।

    বিএনপির আন্দোলনের সময় পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল। দীর্ঘদিন দলের প্রতি আনুগত্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে অন্যতম দাবিদার হিসাবে তার নামও বিবেচনা করা হচ্ছে।

    এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কর্মময় জীবন যেন সাফল্যের এক বিশাল ক্যানভাস। তিনি একাধারে ফিফা-স্বীকৃত ফুটবলার, বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক কর্মকর্তা, সাতবারের নির্বাচিত সংসদ-সদস্য এবং একাধিকবারের অভিজ্ঞ মন্ত্রী।

    ছয় দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে তিনি রাজনীতি, সামরিক বাহিনী, ক্রীড়া ও জনপ্রশাসনে গুরুপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সর্বশেষ তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় নানা চাপ ও প্রলোভন সত্ত্বেও শেষ পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথমে সংসদ-সদস্য পদে মনোনয়ন, পরে মন্ত্রী এবং সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। অনেকের মতে, রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে সংসদের স্পিকার হিসাবে হাফিজ উদ্দিনকে বেছে নিয়েছেন সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকায় রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় আছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, রাষ্ট্রের মর্যাদা যেন দেশে এবং বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন-এমন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষকেই রাষ্ট্রপতি করা উচিত হবে। এখানে বিএনপিকেই চিন্তা করতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপির যে চিন্তা, আদর্শ এবং প্রধানমন্ত্রী যে কমিটমেন্ট করে ক্ষমতায় এসেছেন, সেগুলোকে বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কার্যালয়েরও একটা সহযোগিতা তারেক রহমানের লাগবে। তাছাড়া যিনি জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবেন, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত হবে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, আলোচনায় থাকা সবারই অবদান রয়েছে। প্রত্যেক মানুষই একজন আরেকজন থেকে আলাদা। তাদের চিন্তাচেতনা, মূল্যবোধ, অভিজ্ঞতা, শিক্ষাদীক্ষা-সবদিক থেকেই ভিন্ন। তাই ব্যক্তির মধ্যে তুলনা করা প্রায় অসম্ভব। তিনি বলেন, আলোচনায় থাকা চারজনের প্রত্যেকেই অভিজ্ঞ, যোগ্য, উচ্চশিক্ষিত এবং তাদের রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা আছে। আমি যতটুকু শুনেছি, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দলের প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার সর্বোচ্চ বিবেচনা শক্তি ব্যবহার করে তাদের মধ্য থেকেই বেছে নিয়ে একজনের নাম রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত করবেন।

  • রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলের প্রার্থী কর্নেল অলি

    রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলের প্রার্থী কর্নেল অলি

    আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য থেকে মনোনয়ন পেলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

    রোববার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামী আমীরের বাসায় অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এই ঘোষণা দেন।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার। ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ।

    বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—এমডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাগপার রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী।

    এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

  • সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

    সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

    বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ প্রথমে ডন হককে আটক করে। পরে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর একটি দল তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়। বর্তমানে মামলাটি সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে।

    উল্লেখ্য, সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর গত বছর আদালত এই ঘটনায় হত্যা মামলা হিসেবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগরের ষষ্ঠ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দেন।

    পূর্বের বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, একাধিক সংস্থার তদন্তের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত বলে উল্লেখ করে। তবে এ সিদ্ধান্ত তার পরিবার ও ভক্তদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং তারা তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।

    দীর্ঘদিন ধরে এই মৃত্যুকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা চললেও কার্যকর তদন্তের অভাব নিয়ে সমালোচনা ছিল। বর্তমানে মামলাটির তদন্তভার সিআইডির কাছে রয়েছে এবং নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    মামলার অগ্রগতি এবং ডন হকের গ্রেফতার ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বহুল আলোচিত এই মৃত্যু রহস্য।

  • মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না, সামনের দিকে এগিয়ে যাবে :প্রধানমন্ত্রী

    মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না, সামনের দিকে এগিয়ে যাবে :প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না, সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং নিজেদের ভাগ্যের পাশাপাশি দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এখন জনগণের জন্য কাজ করার সময়, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সময়। এ জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে, পরিশ্রম করতে হবে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।

    রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রপাড়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে, বন্যায় গৃহহীন হওয়া ১০০টি পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে দেওয়া বক্তব্যে দেশের স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক খাতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    দেশকে আর পিছিয়ে রাখা যাবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বহু দেশ একসময় বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে ছিল। কিন্তু কাজ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা নিজেদের দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশকেও সেই পথে এগিয়ে যেতে হবে। এখন একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য—জনগণের জীবনমান উন্নত করা, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।

    মিরসরাই-মাতারবাড়ী পর্যন্ত শিল্পায়নের পরিকল্পনা

    চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূলকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বড় সম্ভাবনা হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমুদ্রকে কীভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষের জীবনব্যবস্থা উন্নত করা যায়, মিরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত কীভাবে বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরি স্থাপনের মাধ্যমে এই দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারি, এই দেশের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যবস্থা করতে পারি—সেই পরিকল্পনা গ্রহণের জন্যই আজ আমি মাতারবাড়ী গিয়েছিলাম।

    চীনা বিনিয়োগের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন সফরে তিনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখানে কয়েকশ মিল-কারখানা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এই মিল-কারখানাগুলোর মাধ্যমে সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষ কাজ করার সুযোগ পাবে। এর ফলে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    পাঁচ বছরে উপজেলা হাসপাতাল ১০০ শয্যায়

    স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হবে।

    কর্মসংস্থানই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য

    সরকারের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় বিএনপি জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠনের পর সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। তরুণ ও যুবসমাজের কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

    দেশের উন্নয়নে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু অপেক্ষা করে বসে থাকলে চলবে না। কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প-কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের কাজ করতে হবে। আমাদের ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।

    দেশের প্রতিটি মানুষকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করার লক্ষ্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষের হাত শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে। যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ নিজের হাতের পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।’

    ৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড

    নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছিল এবং সেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। এই মাসের ১৬ তারিখ থেকে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করছি। ইনশাআল্লাহ সমগ্র বাংলাদেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আমরা প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব।’

    বাঁশখালী এলাকাতেও ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী চার বছর এ কার্যক্রম চলবে এবং আরও অনেক মা-বোন এর আওতায় আসবেন।

    লবণ চাষিদের জন্যও সহায়তা

    বাঁশখালীর লবণ চাষিদের বিষয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু ধান, শাক-সবজি বা অন্যান্য ফসল চাষিরাই কৃষক কার্ড পাবেন না; লবণ চাষিরাও এর আওতায় আসবেন বলে জানান তিনি।

    লবণের মূল্য নির্ধারণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লবণ চাষিরা যাতে স্বাবলম্বী ও সচ্ছল হতে পারেন, সে জন্য আলোচনা করে একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে সেই মূল্য সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা থাকতে হবে

    কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের জন্য দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে মিল-ফ্যাক্টরি স্থাপন করতে হলে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা থাকতে হবে। বিশৃঙ্খলা থাকলে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হবে।

    ব্যবসা-বাণিজ্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো এলাকায় গন্ডগোল হলে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। কারণ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার ক্ষতি চান না। একইভাবে বিনিয়োগকারীরাও চান তাদের কারখানার উৎপাদিত পণ্য নিরাপদে বন্দরে যেতে এবং কাঁচামাল সঠিকভাবে কারখানায় আসতে।

    বন্যার্তদের পুনর্বাসন

    বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। এদিন ১০০ দুঃস্থ পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও অনেক দুঃস্থ মানুষকে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা এবং কিছু দুঃস্থ নারীকে চাল দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।

    বক্তব্য বাঁশখালীর উপকূলীয় মানুষের সুরক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বেড়িবাঁধ আমাদের পরিকল্পনার একটি অংশ। ইনশাআল্লাহ বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হবে।’

    বাশঁখালীর কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহর সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

  • প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম বিতরণ শুরু ১৬ আগস্ট

    প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম বিতরণ শুরু ১৬ আগস্ট

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়ার কর্মসূচি আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো উদ্বোধন করা হবে।

    রোববার (৯ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ তথ্য জানিয়েছেন।

    এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ইউনিফর্মের মডেল উপস্থাপন করেছিল সরকার। মেয়েদের জন্য ফ্রক এবং ছেলেদের জন্য হাফশার্ট ও শর্টসের নকশা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউনিফর্ম তৈরিতে আরাম, ব্যবহারিক সুবিধা ও একরূপতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    ববি হাজ্জাজ বলেন, বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।

    এর আগে গত ২৯ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন ইউনিফর্মের মডেল উপস্থাপন করা হয়। সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, আগামী জুলাই থেকে প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে বিদ্যালয়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এসব ইউনিফর্ম বিনামূল্যে বিতরণ শুরু হবে।

    মন্ত্রী তখন বলেছিলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তারা নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী অনুদান দেবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য স্কুলব্যাগ, ড্রেস ও জুতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    সভায় আরও জানানো হয়েছিল, শিক্ষার্থীদের জন্য সমন্বিত সহায়তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও জুতা প্রদান বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সমান সুযোগভিত্তিক শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এদিকে, মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যেসব ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি পাইলট প্রকল্পের সফলতা শুধু কতজনের কাছে পৌঁছেছে তা দিয়ে নয়, বরং বাস্তবায়নের সময় কী কী সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে এবং সেগুলোর কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করা গেছে, তার ভিত্তিতেও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

    প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং তাদের জন্য একটি সহায়ক ও সমান সুযোগভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, জুতা ও মিড-ডে মিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

  • সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

    সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

    বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা ডন হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার।

    তিনি বলেন, বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর সিআইডির একটি টিম এসে ডনকে নিয়ে যায়। সিআইডিতে একটি মামলা চলমান। তারা তদন্ত করছেন।

    সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালত হত্যা মামলা পরিচালনার নির্দেশ দেন গত বছর। ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দেন।

    পুরোনো নথি থেকে দেখা যায়, একাধিক তদন্ত সংস্থার হাত ঘুরে সালমান শাহের মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি প্রতিবেদন দেয়, সালমান শাহের মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত। তবে তার পরিবার ও ভক্তরা তা মানতে পারেননি।

    এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে জল্পনা চললেও তদন্তের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।