জাতীয়

  • আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে

    আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে

    আজ সন্ধ্যা থেকে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    তিনি বলেছেন, সন্ধ্যা নাগাদ লোডশেডিংও কমে আসবে। তবে জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কবে সমাধান হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

    আজ বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

    প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অন্য একটি টার্মিনালও দুর্ঘটনার কারণে পুরো সক্ষমতায় চালু করা যাচ্ছে না। এতে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে।

    প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বললেন, বিকল্প উপায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

    তিনি জানান, মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার প্রক্রিয়া চলছে। সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের পরামর্শও নেওয়া হচ্ছে।

    প্রতিমন্ত্রী বললেন, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগোচ্ছে মন্ত্রণালয়।

    বর্তমান সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভুল নীতিকে দায়ী করেছেন তিনি। যেকোনো সময় দেশকে এ ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হতো।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেছেন, গ্রীষ্ম মৌসুমে সংকট শুরু হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করে মানুষের কাছে পুনরায় ক্ষমা চেয়েছেন।

    তিনি জানান, একটি এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ এবং অন্যটি সীমিত সক্ষমতায় চলায় গ্যাসের ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে।

  • মন্ত্রিসভা ও বিএনপিতে পরিবর্তনের হাওয়া

    মন্ত্রিসভা ও বিএনপিতে পরিবর্তনের হাওয়া

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষের দিকে। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোট গ্রহণ করা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোট হবে। সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী পরাজয় নিশ্চিত জেনেও জোটের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।

    ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এখনও প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করলেও দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ডেকেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আগামী ২৭ আগস্ট এ অধিবেশন বসবে।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাঁকে দলের মহাসচিবের পদ এবং মন্ত্রিসভা; উভয় স্থান থেকেই পদত্যাগ করতে হবে। ফলে বিএনপি এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী পদে দেখা যেতে পারে বড় ধরনের পরিবর্তন।

    এমন অবস্থায় দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল করার পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছে বিএনপি। ফলে কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রিজভী। তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে ক্ষমতাসীন বিএনপিতে। শুরুতে অনেকের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই সবাই এগিয়ে রাখছেন। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে এ বিষয়ে কেউ কথা বলতে রাজি নন।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য সমকালকে বলেন, দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে দক্ষতা এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবেন এমন একজনকেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করবে বিএনপি। সেই হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই যোগ্য ও আস্থাভাজন হিসেবে সবাই মনে করছেন।

  • আ.লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি গুজব: তথ্যমন্ত্রী

    আ.লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি গুজব: তথ্যমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এটি গুজবের একটি অংশ।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক যুব দিবস অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

    এ সময় মন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান জটিলতা সমাধানযোগ্য। যে কোনো সমস্যা সমাধানে কাজ করবে দুদেশের সরকার।

    প্রতিটি স্তরে যুব সমাজকে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজের উন্নতিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তরুণরাই একটি দেশ ও জাতির মূল শক্তি। তরুণরাই একটি দেশের জন্য আশীর্বাদ। বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। পৃথিবী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করছে।

    তিনি বলেন, তরুণদের শক্তি একটি দেশের উন্নতিতে ইতিবাচক মাত্রা যোগ করে। বিশ্বব্যাপী যুব সমাজ সবচেয়ে বড় শক্তি।

    একই অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানায়, ঘরে বসে যেন যুব ও নারীরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

  • সরোয়ার আলমগীরের এমপি পদ চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত প্রার্থীর লিভ টু আপিল

    সরোয়ার আলমগীরের এমপি পদ চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত প্রার্থীর লিভ টু আপিল

    চট্টগ্রাম-২ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

    নুরুল আমীনের আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লিভ টু আপিলের আবেদনে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীর যাতে সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্যও নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত ৯ জুলাই বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। ওই দিনই তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

    চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করার পর ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

    বিষয়টি নিয়ে শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়। পরে নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর।

    এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের দেওয়া প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ স্থগিত করেন। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত রায়ে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

    হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধেই এবার সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে লিভ টু আপিল করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

  • নানকের নিজের মুখে পালানোর গল্প

    নানকের নিজের মুখে পালানোর গল্প

    জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য। দু’বারের সাবেক মন্ত্রী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি ভারতের আনন্দবাজারের মুখোমুখি হয়েছেন। দলটির পরবর্তী রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারে অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে নানা প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন।

    প্রশ্ন: জাহাঙ্গীর কবির নানক কেমন আছেন আপনি?
    নানক: দেখেন আসলে আমরা রাজনীতি করি। আমরা একটা পরিবার। এই পরিবারটি যখন ভালো না থাকে, তখন আমরা কেউ ভালো থাকি না মানসিকভাবে।

    প্রশ্ন: বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই আপনি আত্মগোপনে রয়েছেন। জীবনে কি এটাই প্রথম আত্মগোপন?
    নানক: অনেক আত্মগোপনের ইতিহাস আছে আমার। আমি স্কুল জীবন থেকে রাজনীতি শুরু করেছি। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন থেকে। ১৯৭১ সালে ভারতে আসা, ট্রেনিং নেয়া। অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢোকা, মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করা, দেশ স্বাধীন করা ইত্যাদি। এরপর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা, সেদিন যে অশুভ শক্তির যাত্রা শুরু হয়েছিল, বাংলাদেশ বা স্বাধীনতা গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি…তখন থেকে কিন্তু আমাদেরকে আত্মগোপনে জীবন কাটাতে হয়েছে। কিন্তু খুব বড় আত্মগোপনে আমাদেরকে যেতে হয়েছে যেমন— খালেদা জিয়ার শাসনামল, অর্থাৎ বিএনপি ও জামায়াতের শাসনামলে। আমরা কাজ করেছি, সংগঠন করেছি, মিটিং করেছি। আবার আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে।

    প্রশ্ন: দীর্ঘ সময় ঘর ছাড়া, দেশের কথা মনে পড়ে? বন্ধু ও পরিজন-পরিবার কাদের কথা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে আপনার?
    নানক:
    সত্যি কথা বলতে কী—আমরা কর্মী পাগল মানুষ তো। কখনো কখনো আমার বুকটা ফেটে যায়। ১৯৭১ সালে আমি একেবারে পাকিস্তানি পাঞ্জাবী বাহিনীর বিরুদ্ধে ফ্রন্ট ফাইট করেছি। একটা আদর্শিক যুদ্ধ করেছি। সংগ্রাম করেছি। লড়াই করেছি। যা ঘটলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আমাদের চোখের সামনে আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেখছি যে, বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু কী অপমানজনকভাবে তারা ভেঙেচুরে চুরমার করেছে। ধানমন্ডি ৩২-কে ভেঙে গুড়িয়ে দিল বুলডোজার দিয়ে। তখন তো প্রশ্ন জাগেই, আমি বেঁচে ছিলাম কেন? বেঁচে আছি কেন বা এই ঘটনা দেখার আগে কেন মৃত্যু হলো না! তারস্বরে আমি চিৎকার করে বলতে পারি যে, এই ঘটনার আগে যদি আমার মৃত্যু হতো, তাহলে সেই মৃত্যু হতো আমার শান্তির মৃত্যু। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের স্বাধীনতা এনেছি। ওরা স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল, সেই পরাজিত শক্তি প্রতিশোধ নিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা, পায়ের জুতা খুলে গালে পিটানো, এগুলো দেখতে হয়েছে আমাদেরকে। গত দু’বছরে কোনো রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি। ভোরবেলা যে আজান দেয়, সেই ফজরের নামাজ পড়ার পরে একটু টায়ার্ড হয়ে শরীর যখন ছেড়ে দেয় তখন ঘুমাতে যাই। এটা মনে পড়ে। আর আরেকটা মনে পড়ে—ছেলেটার কবরের কাছে যেতাম। আমি দুই বছর যাবত যেতে পারছি না। মা-বাবার কবরটার কাছে অনেকদিন যেতে পারি না। এগুলো নিয়ে কোনো দুঃখ নেই। দুঃখ আমার একটি জায়গায়। ৫ আগস্ট যারা ক্ষমতা দখল করেছে—তারা বাংলাদেশবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধী। এরা গণতন্ত্রবিরোধী, এরা মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি। এরা পাকিস্তানের দালাল, পাকিস্তানপন্থী। বাংলাদেশটাকে এখনো মানতে পারেনি। ওরা আবার এটাকে পাকিস্তান বানাতে চায়।

    প্রশ্ন: আপনি কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন, কীভাবে ভারতে এলেন, কারা আপনাকে সাহায্য করলেন?
    নানক:
    ৪ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমি গণভবনে ছিলাম। আমি চলে আসলাম পরের দিন ফিফথ আগস্ট (৫ আগস্ট)। নেত্রী যখন চলে আসলেন। আমি আসলে প্রায় একেবারে পড়েই গিয়েছিলাম আমার শোয়ার জায়গায়। যখন আমার চৈতন্য উদয় হয়, তখন এক ক্লোজ রিলেশন এয়ারফোর্স, ও আমাকে ফোন করল। বলল যে, স্যার অমুকে ফোন করছে। তখন একটু বোধদয় হয়ে আমি ধরলাম। তো বলল যে, চিন্তা করবেন না, উনি বর্ডার ক্রস করেছেন সেফলি। এই আমি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলাম। তারপর তো একের পর শেল্টার চেঞ্জ করছি। ইউজ করার টেলিফোনগুলো ফেলে দিলাম। এরপরে একটি পর্যায়ে বুঝতে পারলাম যে, আমাকে এখন ধরার জন্য তারা মরিয়া হয়ে যাবে। ডিসাইড করে ফেললাম—আই হ্যাভ টু লিভ দ্য কান্ট্রি। আমার জামাই ডাক্তার, ফোন করল যে-বাবা আপনি বেরিয়ে যান। আমি যেভাবে যেভাবে বলব সেভাবে বেরিয়ে যাবেন এবং সেই গাইডটা করেছে মূলত। সে গাইডটা করে নিয়ে এসেছে, বের করে এনেছে। কারণ ৫ আগস্ট তো—আর আমি ১৬ আগস্ট বর্ডার ক্রস করতেছি।

    প্রশ্ন: ১৬ আগস্ট কি কলকাতায় এলেন?
    নানক:
    না না আমি তো ১৬ আগস্ট শিলংয়ে পৌঁছলাম। শিলং থেকে আমি চলে আসলাম মালদাহতে। বিকজ মালদাহতে আমার নাতি-নাতনি, মেয়েরা ওরা গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সেখান থেকে আমি পরের দিনে চলে আসলাম কলকাতায়।

    প্রশ্ন: নেতাকর্মীদের বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে আসার কারণে অনেকেই শেখ হাসিনার সমালোচনা করেন। আপনি একজন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখেন?
    নানক:
    ৫ আগস্ট যদি ৩০ মিনিট দেরি করতেন, তাহলে আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ওইদিন গণভবনে থাকা তার ছোট বোন শেখ রেহনাকে নির্মমভাবেই শুধু হত্যা করত না, নৃশংস নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করত। আজকে বেঁচে আছেন বলেই আজ সারা বিশ্ব বিবেক, ১৮ কোটি মানুষের বিবেক মিলে কিন্তু বলছে যে, শেখ হাসিনা ছাড়া এই দেশ পরিচালনা মতো যোগ্য নেতৃত্ব আর দ্বিতীয় কেউ নেই।

    প্রশ্ন: আচ্ছা ভারত সরকার কি আপনাকে কোনো নির্দিষ্ট রক্ষাকবজ দিয়েছে বা নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যাটাস মানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চাপ এলে আপনার পদক্ষেপ কী হবে?
    নানক:
    আমরা তো বিশ্বাস করি—যেকোনো চাপ বাংলাদেশের এই কচুপাতার পানির মতো যারা টলটলায়মান, সেই সরকারের কতখানি চাপ দেয়ার ক্ষমতা আছে? এবং সে চাপ যতই যাই হোক না কেন—এটা সামাল দেয়ার ক্ষমতা ভারত সরকারের আছে।

    প্রশ্ন: সরকার এবং দলের বিপর্যয়ের নেপথ্যে কী কী কারণ থাকতে পারে। মানে যে ভুল আপনারা আর করবেন না, মানে আপনার মূল্যায়ন কি?
    নানক:
    আমরা একটা গভীর ষড়যন্ত্রের, ডিপ স্টেট ষড়যন্ত্রের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম।

    প্রশ্ন: ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকলেন পরপর টানা। কিছুতেই বুঝতে পারলেন না যে কোথা থেকে এই লিকেজটা হলো?
    নানক:
    না আমরা বুঝতে পারিনি—এ কথা আমি স্বীকার করবো না। আমি যদি কিছুটা টের পেয়ে থাকি, তাহলে আমার নেত্রী—উনিও কিন্তু বুঝতে পেরেছিলেন। উনি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই কিন্তু ৬ মাস আগে থেকে বলা শুরু করেছেন যে, আমাকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে, ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সাদা চামড়াওলারা এভাবে…কোট আনকোট আমি বলছি—‘সাদা চামড়াওয়ালারা আমাকে ক্ষমতা থেকে নামাতে চায়’। ড. ইউনূস আমার বিরুদ্ধে সরকার পতনের জন্য ষড়যন্ত্র করছে। আমি সাগর পাড়ি দিয়েও ওদিকে যাবো না, বাঙালি যাবে না। দেশবাসীকে কিন্তু উনি ওয়েল ইনফর্ম করেছেন। দলকে উনি ওয়েল ইনফর্ম করেছেন। সতর্ক করেছেন। দেখেন, আমি একটা কথা বলে রাখি—আমাদের যে দলীয় ব্যর্থতা বা দলীয় দুর্বলতার প্রশ্ন থাকতেই পারে আপনাদের কাছে। কারণ পৃথিবীতে অনেক জায়গায় আছে ডিপেস্টেট—এ ধরনের কন্সপাইরেসি করেছে। কোথাও কোথাও সফল হয়েছে, কোথাও কোথাও ব্যর্থ হয়েছে। আমি আপনাকে বলছি—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেদিন এই তথাকথিত কোটাওয়ালারা অর্থাৎ মূলত শিবির দখল করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে, সেদিন ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি নেত্রীকে ফোন করেছেন। আমি ফোন করেছি প্রধানমন্ত্রীকে। বলেছেন হল ছেড়ে দাও। ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস ছেড়ে দাও। খবরদার কোনো সংঘাতে যাবা না। আমি চাই না কোনো লাশ পড়ুক। কোট আনকোট করে বললাম—আমি এবং আমি দায়িত্ব নিয়েই বললাম যেটা উনি বলেছেন। ৫০ হাজার লোক নিয়ে আমার গণভবন ঘেরাও করে রাখার ক্ষমতা ছিল না! অবশ্যই ছিল। আমাদের জমায়েতের শক্তিতে ওরা হারিয়ে যেত। উনি যদি আমাদেরকে শুধু চোখের ইশারা দিতেন—তাহলে ঢাকা শহরে আমরা পাঁচ থেকে ১০ লক্ষ লোকের জমায়েত করে ফেলতে পারতাম। আমাদের যে বেজলাইনটা আছে-ফ্রম ঢাকা টু মাওয়া, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট এগুলো তো আমাদের বেজলাইন। গাজীপুর শক্ত ঘাঁটি, গাজীপুরকে বলা হয় এনাদার গোপালগঞ্জ। গাজীপুর থেকে এক লক্ষ লোক ঢুকে যেতে পারতো। ঢাকার বুড়িগঙ্গার পার হলে পরে কেরাণীগঞ্জ। আমাদের শক্ত ঘাঁটি। ঢাকার অদূরেই নারায়ণগঞ্জ আমাদের শক্ত ঘাঁটি। ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথেই শক্ত ঘাঁটি নরসিংদী। আমরা সব ফাঁক-ফোকরগুলো বন্ধ করে দিয়ে কিন্তু দখল নিতে পারতাম। সেখানে কিন্তু আরেকটি সম্ভাবনা থাকতো। সেটা ওদের হাতে অস্ত্রের খবর তো আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে, আমাদের নেত্রীর কাছে ছিল।

    প্রশ্ন: কো-ল্যাটারেল ড্যামেজ অনেক বেশি হতে পারতো?
    নানক:
    অনেক অনেক হয়ে যেত। আমরাও কি ছেড়ে দিতাম? নো, আমি বলছি—আমার এই বয়সেও আমি ছাড়তাম না। একটা লাঠি নিয়ে হলেও আমি দাঁড়িয়ে যেতাম। উনি রক্তপাত চাননি। আমরা কি না পারতাম! দিস ইজ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব না। সম্ভব হয় নাই। আপনি কালকে ভোট দেন, একটা ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট আসুক। একটা একশ পারসেন্ট, ফেয়ার অ্যান্ড ফ্রি ইলেকশন দিক—যদি আমরা টু থার্ড মেজরিটি না পাই…..প্রমাণ হোক জাতিসংঘ বাহিনী আসুক। এসে নির্বাচন করুক। যদি আওয়ামী লীগ টু থার্ড মেজরিটি না পায়—তাহলে আমরা নাকে খত দিয়ে সবাই একসঙ্গে রাজনীতি ছেড়ে দেব।

    প্রশ্ন: কেন ভারত? ওয়াশিংটনে জয় রয়েছেন, শেখ হাসিনার ছেলে রয়েছেন বা উনার লন্ডনেও একবার যাওয়ার কথা হচ্ছিল যে, লন্ডনেও চলে যেতে পারেন। তিনি ভারত কেন ?
    নানক:
    ভারতের ওপর দায়-দায়িত্ব যেটা দিতে চায়—এটি তো সঠিক না। তারা ভারতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তার কারণে, এসএসএফ-এর অফিসার ও বিমান বাহিনীর অফিসার সবাই মিলেই তো তারা দিল্লিতে পৌঁছে দিয়ে গিয়েছেন। কাজেই এখানে ভারতের কী করার ছিল।

    প্রশ্ন: ভারতের তরফ থেকে এই অপারেশনটা লিড কে করেছিল? আপনাদের কাছে কি খবর আছে?
    নানক:
    আমি এটা এখন বলতে পারছি না।

    প্রশ্ন: শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা হয়েছে?
    নানক:
    হ্যাঁ

    প্রশ্ন: কেমন আছেন তিনি?
    নানক:
    আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো আছেন উনি। আমি অনেক কৃতজ্ঞ ভারত সরকারের প্রতি। যে নিরাপত্তা ওনাকে দেয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর প্রোটোকলই দেয়া হচ্ছে। আমরা যখন জিজ্ঞাসা করি—ইভেন এখনো টেলিফোনে যখন জিজ্ঞাসা করি আপা কেমন আছেন, নেত্রী কেমন আছেন? আমি ভালো আছি তোমরা ভালো আছো কিনা তাই বলো। আমার নিয়ে তোমরা চিন্তা করবে না। বিশ্বাস করেন আপনাকে বলছি—আমি এমনটা খুব রিসেন্ট জিজ্ঞাসা করেছিলাম। বলেন জানো না, এই দুই বছরে আমার (হাসিনা) শুধু দু’দিন নাকে সর্দি লেগেছিল! এই দু’দিনের সর্দি লাগা ছাড়া আজ পর্যন্ত আমার একটি ঔষধও খেতে হয় নাই। ইনশাআল্লাহ। দোয়া করো তোমরা সবাই।

    প্রশ্ন: কলকাতায় নাকি আওয়ামী লীগের অফিস রয়েছে। শীর্ষ নেতারা নাকি সেখানে বৈঠক করেন। খবর বেরিয়েছিল। এটা কি সত্য?
    নানক:
    বিভিন্ন খবর বের হয়। এগুলা মুখরোচক।

    প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর?
    নানক:
    না না এর কোনো ভিত্তি নেই। হ্যাঁ আমাদের যদি কেউ একটু জায়গা দেয় যে, এখানে এসে বসেন আপনারা। মাঝে মাঝে আইসেন। আমরা যাব না? আমরা তো যাবই। আমরা তো একটা জায়গা পেলে আমরা তো একটু সময় কাটানোর জন্য, অক্সিজেন নেয়ার জন্য যেতেই পারি। কিন্তু অফিস বলতে কোনো জিনিসের অস্তিত্ব নাই এখানে।

    প্রশ্ন: ঢাকা মহানগর উত্তর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় সংগঠন কীভাবে পরিচালনা করছেন?
    নানক:
    আমি কলকাতায় যে আসলাম—সেদিন থেকেই আমি আমার এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করি। তাদের সুখে-দুঃখে কষ্ট-ক্লেশের আমি ভাগীদার হওয়ার চেষ্টা করি। এটা আমার পুরানো অভ্যাস—সেটা আমি চেষ্টা করেছি। যারা জেলে, গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর রাখা, সুখ-দুঃখের ভাগী হওয়া। এ ক্ষেত্রে আমি না বললে ওর প্রতি অবিচার করা হবে—আমার মেয়েটি, যে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের মা ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক, ও খুব বেশি সময় দেয় আমার নির্বাচনী এলাকায়। জেলে যারা গেল, আমাদের কর্মীদের আর্থিক অবস্থা তো ভালো না। তাদের খোঁজখবর রাখা—এ কাজগুলো করছে। আমি আপনাকে বলতে পারি—আমার নেত্রীর নির্দেশে ইন ঢাকা সিটি, এই ঢাকা-১৩ থেকে উই হ্যাভ স্টার্টেড দ্য পসেশন অ্যান্ড আদার থিংস। অনেক গ্রেপ্তার হয়েছেন। কখনো মিছিল, কখনো ওটাকে বলে মশাল মিছিল। ইউ নো এগুলো করতে গিয়ে অনেককে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

    প্রশ্ন: আমার স্পেসিফিক প্রশ্ন—আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ জুলাই আন্দোলনে মোহাম্মদপুরে হত্যাকাণ্ডে আপনি অভিযুক্ত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আপনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আপনি নিজে একজন আইনজীবী। আত্মসমর্পণ করবেন, নাকি লড়বেন?
    নানক:
    আমি কৌশলগতভাবে লড়ছি, লড়াই করছি আইনগতভাবে।

    প্রশ্ন: এই যে ৯ জনের হত্যার অভিযোগে আপনি অভিযুক্ত এটা কি সত্যি?
    নানক:
    উদর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপড়ানোর চেষ্টা। যে অভিযোগগুলো আমার কাছে, আমার কাছে আছে—টোটাল মামলার নথি। এর সব জায়গায় বলে গেছে তার নির্দেশে… তার নির্দেশে… তার নির্দেশে…। কিন্তু কোথাও কোনো সাক্ষী বলেননি যে, ওনাকে দেখেছি। তো সপ্তম আসমানে বসে কে নির্দেশ দিল তাকে? কীভাবে মারা গেল, কার গুলিতে মারা গেল—সেটা তো আমার জানার কথা না। আমি কি ওখানে অস্ত্র নিয়ে গুলি করতে গিয়েছি? এরকম কোনো প্রমাণ আছে? দেখাতে পারবে? বলুক। আইন ও আদালত, বিচারালয় যদি আইনের গতিতে চলে আমি আপনাকে বলতে পারি—যত হত্যা মামলা দিয়েছে ইনক্লুডিং আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইসিটি আদালত থেকে শুরু করে। কোনো মামলা টিকবে না। কোনো মামলার অস্তিত্ব থাকবে না।

    প্রশ্ন: আমার দুটো প্রশ্ন খুব সংক্ষিপ্ত। কিন্তু খুব প্রয়োজনীয় প্রশ্ন-ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরছেন, আপনি ফিরবেন?
    নানক:
    অবশ্যই আমি, আমরা তো ওনার আগে যাব, পৌঁছবো। পৌঁছাবোই।

    প্রশ্ন: আমার শেষ প্রশ্ন বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি আবারও দেখা যাবে জাহাঙ্গীর কবির নানককে?
    নানক:
    বেঁচে থাকলে দেখা যাবে। আমি যাতে মৃত্যুবরণ না করি, দোয়া করবেন।

  • লাখ টাকা ভাতা নিয়ে ‘খেপ’ খেলা যাবে না

    লাখ টাকা ভাতা নিয়ে ‘খেপ’ খেলা যাবে না

    জাতীয় দলের ফুটবলার হিসেবে সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন খেলোয়াড়রা। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও তারা পেশাদার চুক্তির অধীন।

    এরপরও অনেকে স্থানীয় পর্যায়ের ‘খেপ’ ম্যাচ খেলতে যান। আর এ নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠেছে খেলোয়াড়দের পেশাদার আচরণ ও দায়িত্ববোধ নিয়ে।

    সম্প্রতি জাতীয় দলের কয়েকজন ফুটবলারের বিভিন্ন এলাকার খেপ ম্যাচে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহে গিয়ে এমন ম্যাচে জাতীয় দলের বর্তমান খেলোয়াড়দের দেখেছেন বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

    গতকাল রাতে কালশীতে সাংবাদিকদের একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার।

    যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার প্রশ্নটা হচ্ছে সেই প্লেয়ারদের কাছে এবং আমি বাফুফের কাছেও প্রশ্নটা রাখব, যেখানে আমরা খেলোয়াড়দেরকে পেশাগত স্বীকৃতি বাবদ ক্রীড়াভাতা প্রদান করছি, সরকার তাদের মাসিক ভাতা দিচ্ছে, তো সেই ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের খেপ খেলতে যাওয়াটা কতটুকু সমীচীন হয়েছে এবং দেশের প্রতি যে একটু আগে বলছিলাম যে কমিটমেন্টের অভাব, যে তার নিজের প্রতি যে কমিটমেন্টের অভাব সেটার কিন্তু বহিঃপ্রকাশ ইতিমধ্যে পেয়েছি।’

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি ব্যস্ততার কারণে এখন পর্যন্ত আমাদের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সাথে কথা বলতে পারিনি, তবে আমি দ্রুতই তার সাথে হয়তোবা দু–এক দিনের ভেতরে কথা বলব যে যেই খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে খেপ খেলেছে, সেই বিষয় নজরে এনে তাদেরকে সতর্ক করা, আমরা প্রথম অবস্থায় সতর্ক করতে চাই, তারপর আমরা হয়তোবা ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করব।’

  • ইতিহাস গড়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে ফর্টিস

    ইতিহাস গড়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে ফর্টিস

    ঘরের মাঠে কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ফর্টিস এফসি। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ফর্টিসের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন মো. ইব্রাহীম।

    এএফসি মঞ্চে অভিষেক ম্যাচেই এমন সাফল্য পেল বাংলাদেশ ফুটবল লিগের সর্বশেষ মৌসুমের তৃতীয় হওয়া দলটি। ফলে প্রথমবার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়ল ফর্টিস।

    ২০২৫-২৬ মৌসুমে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের শিরোপা জেতে বসুন্ধরা কিংস। রানার্সআপ হয় ঢাকা আবাহনী। তবে দুই ক্লাবের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকায় এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলার সুযোগ পায় তৃতীয় হওয়া ফর্টিস ও পুলিশ এফসি।

    এরই মধ্যে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে ফর্টিস। রাতে প্রিলিমিনারি রাউন্ডে সিরিয়ার আল ইত্তিহাদের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা রয়েছে তাদের।

    গত মৌসুমের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডেও মুরাস ইউনাইটেডের প্রতিপক্ষ ছিল ঢাকা আবাহনী। সেবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে মারুফুল হকের দলকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরের ধাপে উঠেছিল কিরগিজ ক্লাবটি। এবার অবশ্য বাংলাদেশে এসে জয়ের হাসি নিয়ে ফিরতে পারেনি তারা। ফর্টিসের কাছে হেরে মূল পর্বের টিকিটও হাতছাড়া হয়েছে মুরাসের।

    ম্যাচের ২২ মিনিটে ফর্টিস এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করে। বক্সের বাঁ দিক দিয়ে একক প্রচেষ্টায় আক্রমণে উঠে গোলকিপারকে একা পেয়ে যান পা ওমর বাবু। বাঁ পায়ের শটে মুরাসের গোলরক্ষক কস্তিককে পরাস্ত করলেও বল সাইড পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়।

    বিরতির পর অবশ্য মুরাসই তুলনামূলক বেশি চাপ তৈরি করে। তবে ফর্টিসের শ্রীলঙ্কান গোলরক্ষক সুজন পেরেরা দুই দফায় প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন।

    এরপর ৫২ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে। পা ওমর বাবুর বাড়ানো থ্রু থেকে বল পেয়ে যান ইব্রাহিম। ডান পায়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে মুরাসের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। বল গোলরক্ষকের শরীরের নিচ দিয়ে পোস্টে জড়িয়ে গেলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফর্টিস।

    ৫৬ মিনিটে ফর্টিস ব্যবধান দ্বিগুণ করার কাছাকাছি চলে যায়। তবে মুরাসের গোলরক্ষক ওরেস্ট কস্তিক পরপর দুটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন।

    ৭৪ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরানোর বড় সুযোগ পায় মুরাস। মাদানভ ইসমইলোভিচের শট বক্সের ভেতরে এরিক বিস্তার হাতে লাগায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আতাবায়েভ এরবল। তার ডান পায়ের শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

    শেষ পর্যন্ত মুরাসের সব আক্রমণ সামলে ১-০ গোলের জয় ধরে রাখে ফর্টিস। এই জয়ের মাধ্যমে প্রথমবার এএফসি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েই চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়ল দলটি।

  • বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

    বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।

    অ্যামচেম বাংলাদেশের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল আট সদস্যের এই প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন।

    অ্যামচেম প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, প্রায় দুই মাস আগে সংগঠনটির নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নতুন কমিটি বাংলাদেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করছে।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।

    সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

  • সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু ২৭ আগস্ট

    সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু ২৭ আগস্ট

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে ২৭ আগস্ট থেকে। ওই দিন বেলা ৩টা থেকে অধিবেশন আহ্বান করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট রোজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন গত ১৫ জুলাই শেষ হয়েছিল।

  • শেখ হাসিনার ছায়া পেরিয়ে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক কি নতুন পথে?

    শেখ হাসিনার ছায়া পেরিয়ে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক কি নতুন পথে?

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে আবারও অস্বস্তির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক। গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে হাসিনার দেওয়া বক্তব্য দুদেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

    শেখ হাসিনা, তার ছেলে এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪ সালের আগস্টে হওয়া গণঅভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। উল্লেখ্য যে, ওই গণঅভ্যুত্থানেই হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়।

    তারা দাবি করেন, একটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিজেদের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ইসলামপন্থি উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসীরা অবাধে কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

    প্রত্যাশিতভাবেই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের এসব বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের নয়াদিল্লিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারেরও সমালোচনা করেছে ঢাকা।

    বাংলাদেশ সরকার ভারতকে শেখ হাসিনাকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোরও আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তার প্রত্যর্পণের দাবি সোমবার ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকেও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

    এদিকে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেওয়ার পর নয়াদিল্লির জন্য বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। ভারতের নীতিতে এখন একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। একদিকে পুরোনো মিত্রকে পরিত্যাগ করা যাবে না, অন্যদিকে শেখ হাসিনাকেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর কোনো ধরনের ভেটো দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

    এই ভারসাম্য বজায় রাখা ভারতের জন্য সহজ হবে না। তবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এমন স্পর্শকাতর সময়ে আরও সতর্ক ও কৌশলী কূটনীতি প্রয়োজন।

    শেখ হাসিনার সবচেয়ে কট্টর সমালোচকদের অনেকেই আবার ভারতবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত। তাদের অভিযোগ, শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত নানা অনিয়ম ও দমন-পীড়নের পেছনে ভারত এবং শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের দীর্ঘদিনের সমর্থন দায়ী।

    তাই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবিতে যারা সোচ্চার, তাদের অনেকেই তাকে ভারতের ঘনিষ্ঠ বা ভারতের ‘প্রক্সি’ হিসেবে দেখেন—এ বিষয়টি নয়াদিল্লি ভালোভাবেই জানে। ফলে ভারত তাদের সঙ্গে আপস করতে পারে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তাদের সহজেই ভারতের অংশীদারে পরিণত করা সম্ভব হবে—এমন কোনো ধারণাও ভারতের থাকা উচিত নয়।

    তবে একই সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কও কোনোভাবেই নষ্ট করার সুযোগ নেই।

    আশার বিষয় হলো, গত কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়েছে যে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি পথ রয়েছে। তারেক রহমানের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুদেশের সম্পর্ককে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। এরপর উভয় দেশের সরকারই সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে।

    তবে এখন সেই অগ্রগতি অনেকটাই নির্ভর করছে ঢাকা ও নয়াদিল্লি শেখ হাসিনার দীর্ঘ ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও ভবিষ্যতমুখী করতে পারে কি না, তার ওপর।

    দুদেশ যদি এভাবে এগোতে পারে, তাহলে সীমান্তের দুই পাশের উত্তেজনাও কমতে পারে। এই মুহূর্তে কূটনৈতিক জটিলতা এড়াতে স্পষ্ট অবস্থান, সংযম এবং শান্তিপূর্ণ আলোচনাই সবচেয়ে জরুরি।