জাতীয়

  • ঢাকায় ২০০ ইভি বাস কিনছে সরকার, নারীর জন্য ১০০: সড়কমন্ত্রী

    ঢাকায় ২০০ ইভি বাস কিনছে সরকার, নারীর জন্য ১০০: সড়কমন্ত্রী

    ঢাকার গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব করতে ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস (ইভি বাস) কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১০০ বাস নারীর জন্য বিভিন্ন রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি আয়োজিত ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    সড়কমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব বাস সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে বাস কেনার ক্ষেত্রে অনুমোদন, টেন্ডারসহ আন্তর্জাতিক ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত দেড় বছর সময় লাগতে পারে। দ্রুত পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ চালুর লক্ষ্যেই সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় মোট ১৩টি রুটে ১৪টি নতুন বাস চালু করা হচ্ছে। ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি বাস, চট্টগ্রামে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস চলবে। ভবিষ্যতে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি রুটের পরিধিও আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, ফসিল ফুয়েলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইভি বাস এখন অত্যন্ত জরুরি। ঢাকায় মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও এসব বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    শেখ রবিউল আলম বলেন, নারী যাত্রীদের শুধু বাসে ওঠার পর নয়, অপেক্ষার সময় এবং বাস থেকে নামার সময়ও নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ দিতে হবে। বাসে ওঠা-নামার সময় হয়রানি, অস্বস্তি কিংবা অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি হলে নারীদের গণপরিবহণ ব্যবহারে আগ্রহ কমে যায়। তাই নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

    তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও অর্থনীতিতে নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নারীরা যাতে তাদের সক্ষমতা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারেন, সে জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    বিআরটিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে ৫০০টির বেশি বাস পরিচালনা করছে এবং মোট বাসের সংখ্যা এক হাজার ২০০-এর কাছাকাছি বা তারও বেশি। বর্তমানে বিআরটিসি লোকসানে নেই, বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থায় রয়েছে। তবে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা, অপারেশন ও সেবার মানে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

    নারীদের জন্য চালু করা বাসসেবা যাতে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের মতো কয়েক মাস পর বন্ধ হয়ে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলেন মন্ত্রী।

    তিনি বলেন, আজ যে সেবা চালু হচ্ছে, দুই মাস পর এর মান আরও বাড়াতে হবে। প্রতিদিন ব্যবস্থাপনার উন্নতি করে সেবাকে আরও নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। এই উদ্যোগকে শুধু উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সেবাটি ধরে রাখা, টেকসই করা, সমৃদ্ধ করা এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তুত রয়েছেন।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল লতিফ মোল্লা।

  • মহাসড়কে কোনো ধরনের থ্রি হুইলার চলতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    মহাসড়কে কোনো ধরনের থ্রি হুইলার চলতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ দেশের সব মহাসড়কে কোনো ধরনের থ্রি হুইলার যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় অতিরিক্ত গতি, অবৈধ পার্কিং, উলটোপথে চলাচলসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় এআই ক্যামেরার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্থাপন করা এআই ক্যামেরায় কোনো ভুল বা ত্রুটি ধরা পড়লে তা সংশোধন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

    তিনি বলেন, মহাসড়কে যে চাঁদাবাজি হয়, সেটি মালিকপক্ষ থেকে হোক বা শ্রমিকপক্ষ থেকে সবকিছু ক্যামেরায় রেকর্ড থাকবে। এতে চাঁদাবাজির প্রবণতা কমে আসবে।

    থ্রি হুইলার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ দেশের কোনো মহাসড়কেই থ্রি হুইলার চলতে দেওয়া হবে না। কোনো অবস্থাতেই তারা মহাসড়কে উঠতে পারবে না। মহাসড়কে উঠলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    নতুন চালু হওয়া অটো ফাইন সিস্টেমে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, অবৈধ পার্কিং, উলটোপথে চলাচলসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করবে এআই ক্যামেরা। আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য ও জরিমানার নোটিশ পাঠানো হবে।

    এতে অপরাধের ধরন ও জরিমানার পরিমাণও জানিয়ে দেওয়া হবে। নির্ধারিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে ঘরে বসেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

    হাইওয়ে পুলিশের প্রত্যাশা, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা ট্রাফিক আইন প্রয়োগকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর করবে। একই সঙ্গে মহাসড়কে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং আইন মানার প্রবণতা বাড়বে।

    সড়ক দুর্ঘটনা কমাতেও এ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে হাইওয়ে পুলিশ। বিশেষ করে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চলাচল ও উল্টোপথে গাড়ি চালানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এতদিন মহাসড়কে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে পুলিশের সরাসরি নজরদারি ও মামলা করার ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জবাবদিহিতা ও নজরদারি আরও বাড়বে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

  • প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় সংসদের দেয়ালে কালেমা তাইয়্যেবা

    প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় সংসদের দেয়ালে কালেমা তাইয়্যেবা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে জাতীয় সংসদে স্পিকারের আসনের ঠিক পেছনের দেয়ালে কালেমা তাইয়্যেবা স্থাপন করা হয়।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের ১৩তম অধিবেশন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে স্পিকারের আসনের ঠিক পেছনের দেয়ালে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ স্থাপন করা হয়।

    পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জাতীয় সংসদের প্রবেশদ্বারগুলোতে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’—এই মূলনীতি খোদাই করে সংযোজন করা হয়েছে।

  • পদত্যাগ করলেন পিএসসির চেয়ারম্যান

    পদত্যাগ করলেন পিএসসির চেয়ারম্যান

    শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান বলেন, স্যার পদত্যাগ করেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি পদত্যাগ করেন।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের অক্টোবরে পিএসসির চেয়ারম্যান পদে অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম নিয়োগ পান।

    চেয়ারম্যানের অবস্থান ও পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মো. শাহরিয়ার রহমান বলেন, স্যার (চেয়ারম্যান) এখন রেস্টে আছেন।

    ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ পিএসসির ১২ জন সদস্য পদত্যাগ করেন।

    এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক-প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

  • অস্ট্রেলিয়া দল থেকে কে বাদ পড়লেন, কে এলেন

    অস্ট্রেলিয়া দল থেকে কে বাদ পড়লেন, কে এলেন

    ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড। ম্যাট রেনশ ডাক পেয়েছেন তাঁর জায়গায়। ডারউইনে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের জন্য দলে এই একটি পরিবর্তনই এনেছে অস্ট্রেলিয়া।

    ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দুই ইনিংসে ২৩ ও ০ রানে আউট হন ওয়েদারাল্ড। তখন থেকেই দলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেকরা। গত মৌসুমে অ্যাশেজসহ ছয়টি ম্যাচ খেলে ২০.৩৮ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ছিল ২২৪ রান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে তাঁর ব্যাটিং কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার সময় ব্যাটিং কৌশলে এ পরিবর্তন আনলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো ইনিংসেই থিতু হতে পারেননি ওয়েদারাল্ড।

    ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দুই লাইনের বিবৃতিতে ওয়েদারাল্ডের বাদ পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সিরিজের আগে দুই টেস্টের জন্যই অস্ট্রেলিয়ার ১৩ জনের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়।

    জেক ওয়েদারাল্ড এএফপি

    ডারউইনে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টের জন্য দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড ওয়েদারাল্ডের ব্যাটিং কৌশলে পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করেন, ‘জেকের শরীরের অবস্থান ও নড়াচড়ার ধরনে কিছু পরিবর্তন এসেছে। ছোট পরিসরের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সমালোচনা করা বা তা কতটা টেকসই হবে, সেটি বিচার করা সব সময়ই কঠিন।’

    বাংলাদেশের সিরিজের আগে, চলতি বছরের শুরুতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আসেন ৩১ বছর বয়সী ওয়েদারাল্ড। এই সিরিজের আগে দুটি টেস্টই খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এই ওপেনার, ‘দুটি ম্যাচ খেলার এবং রান করার ভালো সুযোগ সামনে, চার ইনিংসে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। না পারলে ভাগ্য অন্যের হাতে তুলে দিতে হবে।’

    ম্যাট রেনশ এএফপি

    ২০২৩ সালের পর প্রথম টেস্ট খেলার অপেক্ষায় আছেন রেনশ। ব্রিসবেনে দলের সঙ্গে অনুশীলনের পর এ সিরিজের জন্য স্ট্যান্ডবাই হিসেবে ছিলেন। গত শেফিল্ড শিল্ড মৌসুমে তিনটি সেঞ্চুরিসহ তাঁর গড় ছিল ৪৯.৯০ এবং অস্ট্রেলিয়ার সীমিত ওভারের দলে সুযোগ পেয়ে প্রতিভার ছাপ রাখেন।

    টেস্টে ৩০ বছর বয়সী রেনশর ব্যাটিং গড় ২৯.৩১। এই সংস্করণে তাঁর সর্বোচ্চ স্কোর ১৮৪, পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৭ সালে। চলতি সিরিজে দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুটি সেঞ্চুরি আছে রেনশর।

    এ পরিবর্তনের ফলে ২০২৪ সালের শুরুতে ডেভিড ওয়ার্নার অবসর নেওয়ার পর মোট সাতজন ওপেনার ব্যবহার করল অস্ট্রেলিয়া। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়া উসমান খাজাকে বাইরে রেখে এ হিসাব করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া দলে থিতু ছিলেন খাজা।

    দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড
    ট্রাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মারনাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জশ হ্যাজলউড, জস ইংলিশ ও স্কট বোল্যান্ড।

    সর্বশেষ অ্যাশেজে সফল হওয়ায় ট্রাভিস হেড ওপেনারের ভূমিকায় খেলছেন। সেই সিরিজে পার্থ টেস্টে খাজার চোটের পর হেডকে ওপেনিংয়ে নামানো হয়। স্টিভেন স্মিথ, নাথান ম্যাকসুয়ানি, স্যাম কনস্টাস, মারনাস লাবুশেন ও ওয়েদারাল্ডকে ওপেনিংয়ে নামিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

    আগামী শনিবার শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। দুই ম্যাচের সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ।

  • মসজিদে গিয়ে বিয়ে করলেন গানের দুই শিল্পী

    মসজিদে গিয়ে বিয়ে করলেন গানের দুই শিল্পী

    বিয়ে করলেন সংগীতবিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘চ্যানেল আই বাংলার গান ২০১৬’র চ্যাম্পিয়ন শারমিন আক্তার ও সংগীতশিল্পী সাব্বির কোরাইশী। গতকাল সোমবার রাজধানীর গাউসুল আজম মসজিদে গিয়ে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের সুখবরটি দিলেন শারমিন আক্তার নিজেই।

    জানান, দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

    গায়িকা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু করলাম। দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আমাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আমরা সুখে-শান্তিতে সংসার করতে পারি।’

    শারমিন আরও বলেন, ‘বিয়ে জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। নতুন দায়িত্ব, নতুন সম্পর্ক- সব মিলিয়ে অনুভূতিটা অন্যরকম। পরিবার ও কাছের মানুষদের ভালোবাসা এবং দোয়া নিয়ে নতুন পথচলা শুরু করেছি। সবার কাছে আমাদের জন্য দোয়া চাই।’

  • ‘তারা বাংলার শেষ নবাবের বংশধর!’

    ‘তারা বাংলার শেষ নবাবের বংশধর!’

    শোবিজের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও বেশ সক্রিয়। ব্যক্তিজীবন, ক্যারিয়ার ও সমসাময়িক নানা ইস্যুতে নিয়মিতই মত প্রকাশ করে থাকেন এই মাধ্যমে।

    গতকাল মোটরচালিত/ব্যাটারি চালিত রিকশা দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী মারা গেছেন। বিষয়টি স্মরণ করে প্রধান সড়কে মোটরচালিত/ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন শবনম ফারিয়া।

    আজ মঙ্গলবার এক ফেসবুক পোস্টে ফারিয়া লিখেছেন, ‘গতকাল ঠিক যে সময়ে আমি আইইউবি থেকে মাস্টার্স শেষ করার আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিলাম, ঠিক সেই সময়ই আইইউবি-এর আরেকজন ছাত্র ওলি নুর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছিলেন। আমাদের সরকার, আইনপ্রণেতা আর প্রশাসনের চেয়ে কি মোটরচালিত রিকশা চালকেরা বেশি শক্তিশালী যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায় না? আমাদের এই চাওয়াটা তো বহুদিনের, ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে মোটরচালিত/ব্যাটারি চালিত রিকশা দেখতে চাই না। এটা কি খুব বড় কোনো দাবি?’

    কয়েক দিন আগের একটি ঘটনা বর্ণনা করে এই অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘কিছুদিন আগে ৩০০ ফিটের একটা ভিডিও দেখছিলাম। এআই ক্যামেরা বসানোর পর রাস্তা ফাঁকা থাকলেও গাড়িচালকেরা সিগন্যাল মেনে থামছেন। ভাবছিলাম, প্রযুক্তি এই কয়েকদিনের মধ্যে মানুষের আচরণ কি চমৎকারভাবে বদলে দিতে পারে, আর তখনই চোখে পড়ে আমাদের “বিশেষ” কিছু মোটররিকশা চালক। গাড়ি থেমে আছে, সিগন্যাল লাল, কিন্তু তারা দিব্যি চলে যাচ্ছে। তাদের আবার কিসের সিগন্যাল? তারা বাংলার শেষ নবাবের বংশধর! বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সিগন্যালে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে পারেন, কিন্তু তারা পারেন না!’

    বহুদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা হচ্ছে অথচ বাস্তবায়ন নেই। একগুচ্ছ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে শবনম ফারিয়া লিখেছেন, ‘ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়ে নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধন, লাইসেন্সিং ও রুট নির্ধারণের কথা বহুদিন ধরেই হচ্ছে। কিন্তু পরিকল্পনা আর বাস্তবায়নের মধ্যে যে বিশাল ফারাক, তার মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। প্রশ্ন হলো, নুরের মতো আর কতজনের মৃত্যুর পর একটা দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে? আর কত পরিবার তাদের সন্তান, স্বামী, বাবা কিংবা ভাইকে হারানোর পর আমরা বলব, “দুঃখজনক দুর্ঘটনা?” না কি শাহবাগে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন শুরু হলে তবেই আমাদের পলিসি মেকারদের মনে হবে, এবার কিছু একটা করা দরকার?’

    মোটরচালিত/ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধ করে কারো জীবিকা কেড়ে নেওয়ার কথা বলছেন না শবনম ফারিয়া। বরং আইনসম্মত-নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার পক্ষে তার মত। তিনি বলেন, ‘কারো জীবিকা কেড়ে নেওয়ার কথা বলছি না। আমরা চাই- নিয়ন্ত্রিত, নিরাপদ ও আইনসম্মত ব্যবস্থা। কিন্তু মানুষের জীবনের চেয়ে কোনো গোষ্ঠীর রাস্তার ওপর প্রভাব যদি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে প্রশ্নটা শুধু সড়ক নিরাপত্তার থাকে না, প্রশ্নটা হয়ে যায়, এই শহরের রাস্তায় আসলে কার অধিকার বেশি? আর কত মৃত্যু লাগবে উত্তরটা পাওয়ার জন্য?’

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি কেউ, ভোট বৃহস্পতিবার

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি কেউ, ভোট বৃহস্পতিবার

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুজন প্রার্থীর কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি। ফলে আগামী ২০ আগস্ট (বৃহম্পতিবার) প্রায় ৩৫ বছর পরে দেশে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হতে যাচ্ছে।

    আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হয়।

    বিকেল চারটার পরে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে ভোটের প্রক্রিয়া তুলে ধরেন।

    ভোটে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ প্রতদ্বিন্দ্বিতা করছেন।

    ইসি সচিব বলেন, আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে এই ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগ্রহণের শুরুতে নির্বাচন কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের (ভোটার) ভোটগ্রহণের পদ্ধতিটা সম্পর্কে জানাবেন।

    ইসি সচিব জানান, আজই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপার তৈরি করা হবে। ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে—মুড়ি অংশ ও মূল ব্যালট পেপার। মুড়ি অংশে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম ও বিভক্তি নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে। নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর করে সংসদ সদস্য ব্যালট গ্রহণ করবেন।

    ইসি সচিব বলেন, ‘একটা স্পেসে সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালটটা গ্রহণ করবেন। ডান পাশের অংশে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী সাজানো হবে। সেই অনুযায়ী তাঁদের নাম প্রিন্ট করা থাকবে এবং প্রিন্টের পাশে ডানদিকে স্পেস থাকবে যেখানে তাঁরা সংসদ সদস্যরা তাঁদের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপরে নির্ধারিত ব্যালট বক্সে তাঁরা ব্যালট পেপারটা জমা দিবেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে। ৫টার পরে ব্যালট কাউন্ট করা হবে। ব্যালটের রঙটা হচ্ছে সাদার ওপর কালো প্রিন্ট।’

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার ৩৪৯ জন এমপি। ভোট গ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই গণনা করা হবে। পরে সেখানে ফলাফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। পরে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

  • মনিরুলের তথ্য প্রকাশ; ২০২৩ সালেই হাসিনাকে জানিয়েছিলাম ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের তৎপরতা চলছে

    মনিরুলের তথ্য প্রকাশ; ২০২৩ সালেই হাসিনাকে জানিয়েছিলাম ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের তৎপরতা চলছে

    ২০২৩ সালেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের তৎপরতা চলছে—এমটিই দাবি করেছেন
    সেই সময়ে দায়িত্বে থাকা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম। সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির ইউটিউব চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা।

    ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আপনি একটি রিপোর্ট দিয়েছিলেন, যেখানে ২০২৪ সালে একটি সরকার গঠিত হতে পারে। তার একটি রূপরেখা আপনি দিয়েছিলেন। কারা কারা থাকতে পারে তাও কি দিয়েছিলেন—মনিরুল ইসলামের কাছে এমন প্রশ্ন রাখেন মাসুদা ভাট্টি।

    জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ এবং যাদের নাম ওখানে উল্লেখ ছিল, তারা অনেকেই উপদেষ্টা হয়েছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন কমিশনের চেয়ারম্যান হয়েছেন। চেয়ারপার্সন, চেয়ারম্যান হয়েছেন বা সদস্য হয়েছেন। বাকিরা না হলেও যেমন দুই একটা পত্রিকার সম্পাদকেরও নাম ছিল। পরবর্তীতে যদিও তারা শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাননি। তারাও এই কলঙ্কিত সরকারের, মানে এই করাপটিং এজেন্টদের হামলার শিকার হয়েছেন তাদের নামও ওখানে ছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘২৩ সালে যখন বিভিন্ন জনের নামে ভিসা স্যাংশন হলো। ভিসা স্যাংশন দেবে যারা এইরকম একটা, মে মাসের শেষ দিকে ইউএস গভর্মেন্ট ইস্যু করে বা ইউএস অ্যাম্বাসি, ঢাকা ইস্যু করে। সেটার দুই একদিন আগে আমি আরেকটা রিপোর্ট দিই যে, একটা কিছু আসছে। এই বিষয়টা আমরা অবহিত ছিলাম এবং কোন কোন দেশ এটার সঙ্গে অংশগ্রহণ করতে পারে। এই রিপোর্টটা যেকোনোভাবে মনে হয়, আমার কোনো ডিভাইসে থেকে গিয়েছিল। রিপোর্টটা আমি পরে মিলিয়ে দেখলাম। যেহেতু ২০২৩ সালের ঘটনা, মানে এটা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসের দিকে আমি রিপোর্টটা রিট্রিভ করতে পারি। রিপোর্টের কপিটা যেহেতু ড্রাফট, কপিটা দেখলাম, বলা যায় যে, কম বেশি ৯০ ভাগ মিলে গেছে।’

    সরকারের রেসপন্স কী ছিল সেই রিপোর্টের পরে—এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন যেহেতু আর আমি সরকারি চাকরিতে নেই, এখন তো বলাই যায়। আমি প্রথম যে রিপোর্টের কথা বললাম মার্চ মাসে, সেটি আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) হাতে দিয়েছিলাম। সরাসরি হস্তান্তর করার পর উনি ওটা পড়েছিলেন। এখানে ইন্টারেস্টিং বিষয় যেটা শেয়ার করা যায় সেটি হলো—রিপোর্টে উল্লেখ ছিল যে, ড. ইউনূস বয়সজনিত কারণে, তখন আমার বক্তব্য ছিল জাতীয় সরকার। কিন্তু হয়েছে ইন্টেরিম সরকার বাদবাকি সব মিলে গেছে। তিনি হয়তো বয়সজনিত কারণে সরাসরি নিজে থাকবেন না। তার প্রতিনিধি হিসেবে দুই তিনজনের নাম ছিল। যে এদের কাউকে এই জাতীয় সরকারের প্রধান করতে পারেন ডি পলিটিসাইজেশন যেটা আর কি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) পুরো রিপোর্টটা পড়েছিলেন, বোধহয় সাত আট পৃষ্ঠার একটা রিপোর্ট। এটা একটা গবেষণা পত্রের মতো বলতে পারেন। তো উনি পুরোটা পড়লেন। পড়ে ওই জায়গায় এসে উনি আমাকে বললেন—তুমি জানো না ইউনূসের মতো লোভী লোক, ক্ষমতালোভী। উনি নিজেই হয়ে থাকবেন, উনি নিজেই হতে চাইবেন। তখন আমার একটু খটকা লেগেছিল। কারণ আমি ড. ইউনূসকে কখনো সামনাসামনি দেখিনি। তার সাথে কখনো আমার কথা হয়নি। তার কোনো সভা সেমিনারে আমার যাওয়ার সুযোগ হয়নি। আমি দূর থেকে দেখেছি। কিন্তু আমি আসলে তাকে ওই সময়ও চিনতে পারিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও ওই সময় আমাকে বলেছিলেন যে, তুমি চিনো না ওনারে, ওনার মতো লোভী লোক, উনি মরার আগের দিন পর্যন্ত ক্ষমতার লোভ ছাড়বেন না। ওই এটা মূল হবে দেখবা, যদি এরকম একটা কিছু হয়। সেই কথাটা পরবর্তীতে আমার বারবার মনে হয়েছে যে, আসলে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ড. ইউনূসকে চিনতে পেরেছিলেন। যে এরকম একটা প্যাথোলজিক্যাল লায়ার।’

    উনি (শেখ হাসিনা) জানতে পারলেন, আপনারা রিপোর্ট দিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল? জবাবে তিনি বলেন, ‘তখন উনি (হাসিনা) পুরোপুরি রিপোর্টটা এনডোর্স করেছিলেন এবং একনলেজও করছিলেন বেশিরভাগ পয়েন্টসের সঙ্গে। এটা প্রেডিকশন ছিল যে, ইলেকশনটাই হতে দেবে না ২০২৪-এর। এই ইলেকশনের আগে বা পরে এটা হবে। ইলেকশনটা তো আসলে হয়ে গেল শেষ পর্যন্ত এবং ইলেকশনের আগে এই ধরনের একটা প্রচেষ্টা হয়েছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পরবর্তীতে যেটা মিলিয়ে দেখেছি সেটা হল—২৮শে অক্টোবর ২০২৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের সমাবেশ। ওইটাকে টার্গেট করে, যেহেতু ওটা কন্ট্রোল করা সম্ভব হয়। কন্ট্রোল করে ফেলার কারণে ওই ছকটা, ওই ব্লু-প্রিন্টটা বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু একটা সমস্যা হয়েছে ইলেকশন পর্যন্ত সরকার এবং মানে সরকারি দল এবং মানে গভর্মেন্ট মেশিনারি যারা ছিল গোয়েন্দা সংস্থাসহ সবাই, কিন্তু ইলেকশনটা হয়ে গেল। নতুন সরকার হয়ে যাওয়ার কারণে তখন কিছুটা কমপ্লেসেন্ট হয়ে গিয়েছিল।’

    গা ছেড়ে দিয়েছিল? প্রশ্ন রাখেন মাসুদা ভাট্টি। তিনি বলেন, ‘গা ছেড়ে দিয়েছিল সেটা বললেই বোধহয় ভালো হয়। আন্দোলন হইলেও তিন বছর পরে চতুর্থ বছর বা শেষ বছরে গিয়ে আন্দোলন হবে। এটাই তো আসলে আমরা রেওয়াজ দেখেছি। ওই রকম একটা গা ছাড়া ভাব আসলে চলে এসেছিল। এই কমপ্লেসেন্সির কারণেই তখন অনেকে বলেছে যে, এই সরকার টিকবে। কিন্তু আমরা মিলাতে পারিনি। পরবর্তীতে মিলাতে গিয়ে আমরা যেটা দেখেছি, আসলে এই প্রক্রিয়াটা শুরু হয় ২০১৯ সাল থেকে। এই যে ডিপ স্টেট যেটা বলা হয়, এই কথিত ডিপ স্টেট এইটা তো অফিশিয়াল কিছু না, অফিশিয়াল না, আবার অফিশিয়ালও। এই প্রসেসটা তো শুরু হয়েছে ২০২৬ থেকে। আমরা দেখেছি সাত আটে এটা ফেল করল। ফেল করার পর তারা দেখেছে এবং তারা চিন্তা করেছে যে, যেহেতু আওয়ামী লীগ সরকারের পরিবর্তন করতে হবে। তারা মনে করেছিল ২০১৮ তে এই সরকার পরিবর্তন হয়ে যাবে। ইলেকশনের মাধ্যমে ২০১৮ সরকার দেখলো যে, এই সরকারকে ইলেকশনের মাধ্যমে আউট করা সম্ভব নয়।’

    সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ডিপ স্টেট তাদের গবেষণায় এবং তাদের পর্যবেক্ষণে দেখেছিল এবং তাদের লোক তো নানা স্তরে ছড়ানো ছিটানো ছিলই। দেখেছিল যে রাজনৈতিক দলের পক্ষে সরকারের পতন ঘটানো অর্থাৎ কনভেনশনাল সরকারের পতন ঘটানো ও কনভেনশনাল মুভমেন্ট এর মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব না। সেই কারণেই দুটো আন্দোলনকে তারা আসলে টেস্ট কেস হিসেবে নিয়েছিল। একটা হলো নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, যখন সরকারকে বেশ বেকায়দায় ফেলে দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন। তখনই এই ডিপ স্টেট এবং যারা তাদের এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে আছে তারা একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, যদি কোনো কিছু করতে হয়, পরিবর্তন ঘটাতে হলে, এটা ছাত্রদেরকে, তরুণদেরকে কাজে লাগাতে হবে।’

    ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের আগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘২৬ বা ২৭ তারিখের দিকে যতদূর মনে পড়ে মির্জা ফখরুল সাহেব যখন ঘোষণা দিলেন যে, সরকার পতনের এক দফার আন্দোলন। তখন আসলে এই আন্দোলনটা ছাত্র আন্দোলনে ছিল না। তখন সেনাবাহিনী অনেকটা ইনক্টিভ হয়ে গিয়েছে।’

    এসবি আসলে সরকার পতনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত আগে থেকেই পেয়ে গেল, তাহলে ৫ আগস্ট রাষ্ট্র এত দ্রুত ভেঙে পড়লো কী করে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি আসলে বলতে হবে যে, এটি ডিপ স্টেটের একটা ইনফ্লুয়েন্স। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতরেও ছিল। সেনাবাহিনীতে একটা ডিপ স্টেট, যেহেতু সেনাবাহিনী বাংলাদেশে মানে এডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস বা পুলিশ বা অন্যান্য জুডিশিয়ারি সবার চাইতে ওখানে তারা অপেক্ষাকৃত একটা ইনস্টিটিউশনালাইজড অর্গানাইজেশন। শক্তিশালী অর্গানাইজেশন। পাঁচ তারিখের পরে ইভেন স্কুলের হেডমাস্টার পর্যন্ত বদল হয়ে গেছে। কিন্তু তিন বাহিনীর প্রধান কিন্তু রয়ে গেছে। বিজেবির যে ডিজি, এই আন্দোলন দমন করার জন্য যার আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি এবং সবচেয়ে বেশি যিনি তৎপর ছিলেন তিনিও থেকে গেছে নঅর্থাৎ এখানে রিটায়ার্ড এবং সার্ভিং গ্রুপের ভেতরে ডিপ স্টেট কাজ করে। তাদের একটা মিনি ডিপ স্টেট আছে। যেটা সবসময় সরকারের পক্ষে কাজ করে তা নয়, সরকারের বিপক্ষেও কাজ করে। তারা মূল ডিপ স্টেটের সঙ্গে মিলে মিশে কাজ করেন।’

    তিনি বলেন, ‘এখানে আমরা দেখেছি যে, সেনাবাহিনীর একটা অংশ আসলে বলা যায় যে, এই সরকারের যে একটা পরিকল্পনা ছিল যে কীভাবে এই আন্দোলনটা থামিয়ে দেওয়া যাবে। সেটার পেছনে ছুরিকাঘাত করেছে।’

  • সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট খারিজ

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট খারিজ

    জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার বিধানসংবলিত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ গত ১৩ আগস্ট রিটটি দায়ের করেন। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

    দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য গত ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    রিটে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের গত ৬ আগস্টের তফসিল কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়।