জাতীয়

  • পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি– মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন

    পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি– মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন

    প্রায় ৩৫ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। এ নির্বাচনে ২৫৫টি ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব ও সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

    তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি’র চেয়ারম্যান অলি আহমদ। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনের সময় দলটির মনোনয়নে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার মেয়াদের দেড় বছরের মতো সময় বাকি থাকতেই পদত্যাগ করেন গত ২৪শে জুলাই।

    চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

    আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পর আগামী পাঁচ বছরের জন্য বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খবর বিবিসি বাংলার।

    তৃণমূল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসতে বিএনপির কঠিন সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং ‘ক্লিন ইমেজ’র রাজনীতিক বলে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ এক পথ।

    ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতি, সেখান থেকে শিক্ষকতা, সে পেশা ছেড়ে ফের রাজনীতির মাঠ।রাজনীতিতে নেমেই নির্বাচিত হয়েছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান।

    খালেদা জিয়া কারাবন্দি ও তারেক রহমানের নির্বাসিত অবস্থায় মামলা-নির্যাতনে যখন বিএনপি অনেকটা টালমাটাল অবস্থায় ছিল তখন দেশের ভেতর দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    দলের রাজনীতিতে তার দায়িত্বশীল ভূমিকা আর পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে বিশেষ কৃতিত্বই তাকে রাষ্ট্রপতির পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার যখন কারা অন্তরীণ, রাজনীতিতে বেশ টালমাটাল অবস্থায় বিএনপি, তখন মির্জা ফখরুলের দৃঢ় অবস্থান আমরা দেখেছি। বারবার গ্রেফতার হয়েছেন, লাঞ্ছিত হয়েছেন, তারপরও তিনি মাটি কামড়ে পড়েছিলেন’।

    শিক্ষকতা পেশা থেকে রাজনীতির মাঠ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৬০ এর দশকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

    ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন তিনি। তাকে সে সময় কারাগারেও যেতে হয়েছিল।

    শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। এরপর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকতা করেন তিনি।

    পরে তিনি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে সে সময়ের উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর পিএস পদে যোগ দেন।

    কয়েক বছর পর ১৯৮৬ সালে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল। দুই বছরের মাথায় ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন তিনি।

    এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ১৯৯০ সালে তিনি যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত’।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত’।

    ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচন করেন। তবে সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার জয়ের দেখা পাননি তিনি। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

    ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

    ওই বছরই চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় মির্জা ফখরুল প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

    এরপর মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন আনা হলে তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ওই পদেই বহাল ছিলেন।

    বিএনপির নেতৃত্বে আসার আগে আগে মির্জা ফখরুল জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।

    গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মেয়র, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী- সবই ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের অনেক ধরনের নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়, তবে মির্জা ফখরুল এসব অভিযোগ থেকে মুক্ত ছিলেন’।

    রাজনীতির কঠিন সময়ের নেতৃত্ব

    ২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল– এ সময়কালে রাজনীতিতে কঠিন একটা সময় পার করেছে বিএনপি।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আটক ও কারাবরণ, কখনো দল ভাঙনের মুখে পড়েছে।

    আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রায় পুরোটা সময় বিএনপি রাজনীতিতে অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থানে ছিল। চ্যালেঞ্জিং সেই সময়ে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মির্জা ফখরুল।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয় বিএনপির। সে নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন পেলেও জিততে পারেননি তিনি।

    এরপর ২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যান। তার মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন খালেদা জিয়া।

    ওই বছরই আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়।

    দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রতিবাদে ২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনে নামে বিএনপি।

    বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্ব গ্রেফতার, মামলা ও দমন-পীড়নের মুখে পড়ে। এর প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৩০শে মার্চ বিএনপির পুর্নাঙ্গ মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারারুদ্ধ হন। ওই বছরের শেষে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ও নানা মামলা জটিলতায় পড়ে বিএনপি।

    একদিকে খালেদা জিয়ার বন্দি জীবন, অন্যদিকে দলটির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তখন লন্ডনে নির্বাসিত। সেই কঠিন সময়ে দেশের ভেতরে দলকে নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এত ঝড় ঝাপ্টার মধ্যেও বিএনপিকে ভাঙা যায়নি, কারণ তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো একজন মহাসচিব ছিলেন যিনি দেশের ভেতরে থেকে দলটাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

    দেশের ভেতর দলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কয়েক দফায় কারাগারে যেতে হয়েছে তাকে বিভিন্ন মামলায়। বিভিন্ন সময় হামলা ও নির্যাতনের মুখেও পড়েন তিনি।

    ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে কথার লড়াই ছিল সব সময়ই। সভা সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে একে অপরকে আক্রমনাত্নক ভাষার ব্যবহারও চলে হরহামেশাই।

    কিন্তু এদিক দিয়ে অনেকটাই ব্যতিক্রম মির্জা ফখরুল।

    অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, তার রাজনীতির যে বৈশিষ্ট্য আমরা লক্ষ করেছি, তা ছিল অত্যন্ত নম্র, বিনয়ী এবং সদালাপী উনি। অন্য দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি কখনো কটূক্তি করতেন না। সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলতেন এবং শ্রদ্ধার সাথে দেখতেন।

    যে কারণে শুধু বিএনপিতেই না, অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিংবা সাধারণ মানুষের কাছেও মির্জা ফখরুলের অন্য ধরনের সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি গড়ে উঠেছে।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি পদটি একটা সম্মানজনক পদ। এ পদটি মির্জা ফখরুলের প্রাপ্যই ছিল। আমরা চাইবো তিনি যেন দলীয় দৃষ্টির বাইরে এসে রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়ে উঠতে পারেন।

    জন্ম, বেড়ে ওঠা, পরিবার

    ১৯৪৮ সালের ২৬শে জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন পেশায় একজন আইনজীবী। মা মির্জা ফাতেমা আমিন ছিলেন গৃহিনী।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা মির্জা রুহুল আমিন দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তিনি এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন।

    ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, তিনি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊধর্বতন কর্মকর্তা হিসেবে অবসরে গেছেন।

    এ দম্পতির দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।

    বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন।

    ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে এখন একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। বড় ভাই মির্জা ফখরুলের মতো তিনিও ছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র।

    ছাত্রজীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাট্যচর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন। এছাড়া আবৃত্তিসহ নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিতেন।

  • বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই মর্মে সকলের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭। খ)৬) ধারা অনুযায়ী বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এই মনোনয়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্থলাভিষিক্ত হলেন রুহুল কবির রিজভী। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে মহাসিচব ও দলীয় সব ধরনের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রুহুল কবির রিজভী বর্তমানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটি হওয়ার আগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এ পদে থেকে তিনি মূলত দলের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

    রুহুল কবির রিজভীর পৈত্রিক নিবাস কুড়িগ্রামে। তিনি ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি

    বগুড়া জিলা স্কুল, কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বগুড়া বাংলা স্কুল, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন।

    রাজনীতি জীবনের শুরুতে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর রুহুল কবির রিজভী বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন নামের একটি বামপন্থী সংগঠনের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর সংগঠনটিতে যোগ দেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান রুহুল কবির রিজভী। পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রুহুল কবির রিজভী ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচনে এর সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন।

    রুহুল কবির রিজভী ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। গত ১৫ আগস্ট তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।

  • মেসিদের বিপক্ষে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের লাল কার্ড, কী হয়েছিল?

    মেসিদের বিপক্ষে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের লাল কার্ড, কী হয়েছিল?

    বাবার মৃত্যুর পর প্রথমবার গোল করে আবেগে আকাশের দিকে তাকিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। তার গোলে ইন্টার মায়ামি এগিয়েও গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মায়ামিকে। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তের ঘটনায় আলোচনায় উঠে এসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলার কাভান সুলিভান।

    বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে সুবারু পার্কে ম্যাচের ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হয় ১২ মিনিট। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষদিকে ফিলাডেলফিয়ার কুইন সুলিভান ও মায়ামির ইয়ান ফ্রের মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। কুইনকে ফাউল করা হয়েছে, এমন অভিযোগ থেকেই দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।

    ভাইয়ের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেন কাভান। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট ও ফিলাডেলফিয়ার কাভানের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর রেফারি ফিলিপ দুজিচ দুজনকেই সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ঘটনার শুরুতে জড়িয়ে পড়া কুইন সুলিভান অবশ্য লাল কার্ড দেখেননি। তাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

    ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন কাভান। পুরো ম্যাচ খেললেও আক্রমণে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি তিনি। ৩৫ মিনিটে বাঁ পায়ের শটে মায়ামির গোলমুখে একটি চেষ্টা করেছিলেন কাভান, তবে সেটি রুখে দেন গোলরক্ষক ডেইন সেইন্ট ক্লেয়ার। কুইন অবশ্য শুরু থেকে একাদশে ছিলেন না। ৬৮ মিনিটে ইন্ডিয়ানা ভাসিলেভের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। ম্যাচের ১১ মিনিটে এই ভাসিলেভই ফিলাডেলফিয়ার হয়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন।

    এদিকে ম্যাচে লিওনেল মেসির সঙ্গে কুইনের কিছুটা বাক্যবিনিময় হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কুইনের মাথার পেছনে হালকা চাপড় দিতে দেখা যায় মেসিকে। বিষয়টি বড় কোনো সংঘর্ষে রূপ নেয়নি।

    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান পরিবারের ফুটবল গল্প অবশ্য এখানেই শেষ নয়। কাভান ও কুইনের দুই ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভান বাংলাদেশের হয়ে এ বছর অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। ডেকলান টুর্নামেন্টে বেশি সময় মাঠে থাকার সুযোগ না পেলেও রোনান ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়। পাকিস্তানের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করেছিলেন রোনান। পরে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে পেনাল্টিতে পানেনকা শটে গোল করে তাঁ জার্সি খুলে উদ্‌যাপনের দৃশ্যও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নেয়।

    এদিকে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ড্র করেও এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্টার মায়ামি। ২০ ম্যাচে ১১ জয়, ৬ ড্র ও ৩ হারে তাদের পয়েন্ট ৩৯। ২০ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ন্যাশভিল।

  • রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু, বেতন–ভাতাসহ যেসব সুবিধা পান

    রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু, বেতন–ভাতাসহ যেসব সুবিধা পান

    বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে। তবে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হলেও সরকারপ্রধান নন। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।

    তাই রাষ্ট্রপতির পদটি মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক গুরুত্বের দিক থেকে সর্বোচ্চ হলেও বাস্তব নির্বাহী ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। এর বাইরে অধিকাংশ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়।

    এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ৬ সংসদ সদস্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য প্রার্থী দেওয়ায় এবার ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোটগ্রহণ হয়েছে। আর ভোটগ্রহণ শেষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে। তার নামেই রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত রাষ্ট্রপ্রধানের, সরকারপ্রধানের নয়। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটির মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব যতটা, নির্বাহী ক্ষমতা ততটা নয়। এখন অনেকের কৌতূহল, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু এবং তিনি কী কী সুবিধা পান?

    সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। এর বাইরে রাষ্ট্রপতিকে প্রায় সব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তবে রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে বঙ্গভবনের মতো বিশাল সরকারি বাসভবন, বেতন-ভাতা, পরিবহন, চিকিৎসা, আপ্যায়নসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। পদ ছাড়ার পরও সাবেক রাষ্ট্রপতিরা কিছু সুবিধা পান।

    দুটি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির স্বাধীন ক্ষমতা

    সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বাধ্য নন। একটি হলো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং অন্যটি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সাধারণত সেই দলের সংসদীয় দলের নেতাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কে সরকার গঠন করতে পারবেন, তা নির্ধারণে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির স্বাধীন সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখেন। রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয় মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য পাঠাতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করেন।

    তবে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না বা দিয়ে থাকলে কী পরামর্শ দিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো আদালত তদন্ত করতে পারে না।

    দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা

    রাষ্ট্রপতির অন্যতম উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা হলো দণ্ড মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করার ক্ষমতা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে এ ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে মার্জনা বা কমাতে পারেন।

    রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি

    দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি রয়েছে। তার কার্যকাল চলাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। তাকে গ্রেফতার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে পরোয়ানাও জারি করা যায় না।

    তবে রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণভাবে অপসারণের বাইরে নন। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাকে অভিশংসন করা যায়। শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও তাকে অপসারণের বিধান রয়েছে।

    অভিশংসনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। রাষ্ট্রপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হলে তার পদ শূন্য হয়।

    শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় এবং চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার বিধান রয়েছে। বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঘটনা। ২০০২ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি পদত্যাগ করেন।

    মেয়াদ পাঁচ বছর

    রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আবদুল হামিদ পরপর দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

    রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য থাকেন না। কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায়। একইভাবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর হতে হয় এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়। তবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

    আগে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর রাষ্ট্রপতি হতে পারেন না।

    কীভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন

    বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদের সদস্যরা তাকে নির্বাচিত করেন।

    একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেন এবং অন্য একজন তা সমর্থন করেন। একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে সর্বাধিক ভোট পাওয়া ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সমান ভোট হলে সংবিধান অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনি কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা

    রাষ্ট্রপতির আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্ট-এ। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ বেতন আয়করমুক্ত। সর্বশেষ ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতির বেতন বাড়ানো হয়। এর আগে মাসিক বেতন ছিল ৬১ হাজার ২০০ টাকা।

    প্রধানমন্ত্রীর মাসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তবে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অবসর নিলে সাধারণভাবে তিনি রাষ্ট্রপতির মতো সরকারি সুবিধা পান না। রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার পরও সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য কিছু সরকারি সুবিধা বহাল থাকে।

    রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন বা এন্টারটেইনমেন্টের জন্য বার্ষিক ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে এবং এই ব্যয়ের নিরীক্ষা করা হয় না।

    বঙ্গভবন, গাড়ি ও সরকারি সুবিধা

    রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। ভবনটির সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে গাড়ি ও প্রয়োজনীয় পরিবহনসুবিধা দেওয়া হয়। সরকারি কাজে বিদেশ সফরের সময় সরকার নির্ধারিত হারে ভাতাও তিনি পান।

    বছরে ২ কোটি টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল

    রাষ্ট্রপতির জন্য স্বেচ্ছাধীন তহবিল রয়েছে। বছরে এই তহবিলের পরিমাণ ২ কোটি টাকা। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ অর্থ ব্যয় করা যায়।

    রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্যও বিশেষ সুবিধা রয়েছে। দেশের যেকোনো হাসপাতালে তারা বিনা খরচে চিকিৎসা নিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও সরকার বহন করে।

    রাষ্ট্রপতির বিমানভ্রমণের জন্য বিমাসুবিধা রয়েছে, যার বর্তমান পরিমাণ বছরে ২৭ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের আগে এই সুবিধার পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ টাকা।

    অর্থাৎ বেতনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির বাসভবন, গাড়ি, চিকিৎসা, বিদেশ সফরের ভাতা, আপ্যায়ন এবং বিমানভ্রমণসহ দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা রয়েছে।

    রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান নন

    রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ব্যক্তি হলেও সরকারের প্রধান নন। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে।

    সংসদে কোনো দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। কিন্তু কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রধানের পদটির সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদটি মর্যাদা ও সাংবিধানিক গুরুত্বের দিক থেকে সর্বোচ্চ হলেও সংসদীয় ব্যবস্থায় তার নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত। রাষ্ট্রপতির প্রধান ভূমিকা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা; আর সরকারের কার্যকর নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে।

  • নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন বিরোধী দলীয় নেতার

    নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন বিরোধী দলীয় নেতার

    বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

    কালবেলার পাঠকদের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টটি নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হোল-

    আজ ২০ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এই নির্বাচনে জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।

    আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে ইনসাফ কায়েম, গণতন্ত্রকে সমুন্নতকরণ এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি তার সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাবেন বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করতে চাই।

    আমি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

  • ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৩৫ বছর পর সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে। বিরোধী দলেরও প্রার্থী আছে। এভাবেই নির্বাচন হওয়া উচিত।

    তিনি আরও বলেন, মানুষ প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক চর্চা দেখতে পাবে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত কমিটিতে বিরোধী দল এখনো যোগ দেয়নি।

    তিনি বলেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংশোধিত ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হবে।

  • ৩০ বছর পর প্রথমবার বেদে পল্লীতে ডিসি ফরিদা

    ৩০ বছর পর প্রথমবার বেদে পল্লীতে ডিসি ফরিদা

    প্রায় তিন দশক ধরে ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের রুপনগরে বেদে পল্লী থাকলেও এতদিন সেখানে কোনো জেলা প্রশাসক যাননি। দীর্ঘ ৩০ বছর পর প্রথমবারের মতো ওই বেদে পল্লীতে গিয়ে বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম। শুনেছেন তাদের জীবনযাপন, সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা। পাশাপাশি দিয়েছেন নানা সহায়তার আশ্বাস।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রুপনগরের বেদে পল্লীতে যান জেলা প্রশাসক। এ সময় পল্লীর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে পল্লীর ৬৩টি পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়া ১২ জনকে ঢেউটিন দেওয়া হয়। প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা করে মোট ৭২ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। পল্লীর ১১৩ জনের মধ্যে শাড়ি ও থ্রিপিস এবং ২০০ শিশুর মধ্যে খেলনা বিতরণ করা হয়।

    দীর্ঘদিন ধরে বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ ওই এলাকায় বসবাস করলেও তাদের জীবনমান ও সমস্যাগুলো সরেজমিনে দেখার সুযোগ হয়নি জেলা প্রশাসনের। প্রথমবার সেখানে গিয়ে তাদের কথা শোনেন ফরিদা খানম। একই সঙ্গে বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

    এ সময় উপজেলা পরিষদ থেকে বেদে পল্লীর জন্য ৫ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া, খাসজমি বরাদ্দ এবং ২৫টি সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন জেলা প্রশাসক।

    জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম বলেন, সমাজের কোনো মানুষ যেন উন্নয়ন ও সরকারি সেবার বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

    এদিন ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতেও অংশ নেন জেলা প্রশাসক। শিক্ষার মানোন্নয়নে উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় এ-প্লাস পাওয়া ১৮৬ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

    এছাড়া ৪২ জন প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা বিতরণ করা হয়। উদ্যোক্তা ও আত্মকর্মীদের মধ্যে ঋণ বিতরণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্পোর্টস ক্লাবে ক্রীড়া সামগ্রী, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পরিচালিত স্কুলে শিক্ষা উপকরণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। তিনটি প্রতিবন্ধী স্কুলেও দেওয়া হয় শিক্ষা উপকরণ।

    ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জন দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তির মধ্যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি গ্রাম পুলিশদের মধ্যে পোশাক ও সরঞ্জাম এবং আব্দুস সোবহান মডেল স্কুলের ৭০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

  • সম্প্রসারণ হচ্ছে মন্ত্রিসভা, যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন

    সম্প্রসারণ হচ্ছে মন্ত্রিসভা, যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন

    • সাচিং প্রু জেরী হচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী, ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন শামীম কায়সার লিংকন
    • প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে যেকোনো সময়

    সরকারের সার্বিক কার্যক্রমে আরও গতি আনতে মন্ত্রিসভায় রদবদল-সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সরকার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রমতে, বিদ্যমান মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন। এর মধ্যে বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে যেকোনো সময় প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, এই দুইজনের বাইরে আরও কমপক্ষে দুজনকে যুক্ত করা হতে পারে মন্ত্রিসভায়।

    নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে রদবদলও হতে পারে। বিশেষ করে বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাওয়ায় তার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হবে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে পরিবর্তন আনার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসে বিএনপি।

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বর্তমানে তার সরকারে ২৪ জন মন্ত্রী, ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন।

    এখন পর্যন্ত তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় কোনো রদবদল হয়নি, তবে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। এ মন্ত্রণালয়ের ভার সামলাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ভোট দেননি চার এমপি

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ভোট দেননি চার এমপি

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শুরুর দুই ঘণ্টার মধ্যেই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন অধিকাংশ সংসদ সদস্য।

    তবে, বিএনপির মির্জা আব্বাস, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহকে ভোট দিতে দেখা যায়নি।

    বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস অসুস্থ থাকায় দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন। অসুস্থজনিত কারণে ভোট দিতে আসেননি তিনি। আর নৈতিক স্খলনজনিত কারণে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত। এরপর আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি এ সংসদ সদস্যকে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্জন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে ভোট দেননি মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। অপর সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার ভোট না দেওয়ার বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

    এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোটগ্রহণ শুরু হলে প্রথমে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। তারপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেন।

  • ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

    ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোট পেয়েছেন ২৫৫টি।

    বিস্তারিত আসছে…