জাতীয়

  • কিছু দুষ্কৃতকারী সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে: কৃষিমন্ত্রী

    কিছু দুষ্কৃতকারী সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে: কৃষিমন্ত্রী

    কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই, কিছু দুষ্কৃতকারী সংকট তৈরি করছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কেউ কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। এরকম সারের কৃত্রিম সংকট যারা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আজ শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার হলরুমে ফরিদপুরের পেঁয়াজ ও পাটচাষিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। এ ছাড়া ফরিদপুর অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত ভালো।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণে অন্যান্য অনেক এলাকার তুলনায় এখানে চাষাবাদে তুলনামূলক কম পরিমাণে সার ব্যবহার করেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। আর এসব কারণে এ অঞ্চলে পেঁয়াজ ও পাট চাষাবাদ খুব ভালো হয়। আগামী দিনে পেঁয়াজ এবং পাট বীজ উৎপাদন করে দেশকে স্বাবলম্বী করার সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    ফরিদপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলার পেঁয়াজ ও পাটচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম।

    মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. ইলিয়াস হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর ফরিদপুরের পেঁয়াজ ও পাটচাষি, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

  • আশপাশের দেশ থেকে মাদক ঢুকিয়ে দেশকে মেধাশূন্য করার চক্রান্ত চলছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    আশপাশের দেশ থেকে মাদক ঢুকিয়ে দেশকে মেধাশূন্য করার চক্রান্ত চলছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    তরুণদের মাদক থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করার জন্য আমরা (সরকার) শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমাদের দেশকে মেধাশূন্য করার জন্য আশপাশের দেশ থেকে মাদকটাকে ঢুকিয়ে দিয়েছে। তারা আমাদের ভাবমূর্তি, অর্জন ও মেধাকে ধ্বংস করে দিতে চক্রান্তে লিপ্ত। এজন্য আমরা চাই তরুণ সমাজকে সতর্ক এবং সজাগ থাকতে হবে। শিক্ষাকে যদি অগ্রাধিকার দিতে পারি তাহলে সমাজের অবক্ষয় থেকে মুক্তি হতে পারবো।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের সদর ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় এসএসসিসহ সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। লক্ষ্মীপুর সোসাইটির ব্যানারে শহরের টাউন হল মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

    শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, অভাব অনটনে আমরা এই বাংলাদেশ পরিচালনা করছি। একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের পর আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা-স্বাস্থ্য এদিকে যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করছেন। একটি নকলমুক্ত পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম যেন চলে, সেটা আমাদের চ্যালেঞ্জের অংশ।

    লক্ষ্মীপুর সোসাইটির সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপির সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হানিফ মুরাদ, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু ও লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইউছুফ প্রমুখ।

  • আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে, আশা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

    আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে, আশা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

    আগামী গ্রীষ্মে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটা কমে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সরকার। ফলে আগামী গ্রীষ্মের আগেই ন্যূনতম তিন হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে দেশ।

    আজ শনিবার যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব তো তেলের ওপর ভাসছে। সেখানে কেন তেলের দাম বাড়লো? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেন তেল-গ্যাসের দাম বাড়লো? বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে। সেখানে আমাদের মতো একটি দেশে সরকার কতদিন সমন্বয় না করে থাকবে?

    তিনি আরও বলেন, তারপরও সরকার জনগণের কথা ভেবে সমন্বয় করছে। এ জন্য নিজেদের মধ্যে পরিমিতিবোধ তৈরি করার পাশাপাশি বাচ্চাদেরও পরিমিত ব্যবহার শেখাতে হবে।

    শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নৈতিক শিক্ষার ভিত গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ও মানসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করতে হবে। অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে তার দায়িত্ব নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দলের কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো প্রভাব বিস্তার কিংবা অরাজকতা সৃষ্টি করলে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ যদি করতে চায়, তার বিরুদ্ধে প্রথমে সাংগঠনিক, পরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি খান মাসুম বিল্লাহ, জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবির, যশোর বিএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন মেজবাহ উদ্দিনসহ শিক্ষকরা।

  • অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করতে বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসব অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

    শনিবার রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ সদর দপ্তর আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এপ্রিল-জুন ২০২৬ সময়ের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করে এর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

    অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের পুরস্কারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভারী অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। পিস্তল, রিভলভার ও শটগানের মতো অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

    এ ছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুট হওয়া টিয়ার গ্যাসের শেল ও অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতাকারীদের ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে।

    তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিল করা অস্ত্রের লাইসেন্স জমা না দেওয়া হলে সেগুলোকে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এ ধরনের অস্ত্রের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    অপরাধ দমনে পুলিশের জবাবদিহির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কর্মকর্তা প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনসহ বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর এলাকার পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।

  • নারীদের উন্নয়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    নারীদের উন্নয়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারীদের উন্নয়ন ও অগ্রগতি হলে দেশ এগিয়ে যাবে। একটি পরিবারের মেয়েরা শিক্ষিত ও কর্মক্ষম হলে ওই পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিনাজপুর ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ হলরুমে দুঃস্থ, অসহায়, মেধাবী শিক্ষার্থী, নির্যাতিত নারী ও শিশুদের কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদানের চেক ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, একটি পরিবারের মেয়েরা যদি শিক্ষিত ও কর্মক্ষম হয়, তাহলে ওই পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ে। সেই লক্ষ্যেই আমরা মা ও মেয়েদের বিভিন্নভাবে আর্থিক সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। এসব নারী ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের যদি আমরা সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারি, তাহলে আগামী দিনে বদলে যাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

    তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে সবাই ভালো থাকবে। মনের মধ্যে ক্রোধ না রেখে, সবাই মিলে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা থাকবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অন্তর্ভুক্তি মূলক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

    মন্ত্রী বলেন, সরকার বিভিন্ন স্তরে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে যেসব অনুদান দিচ্ছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। অনুদানের অর্থ দিয়ে সবজি চাষ, বাগান, হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজে বিনিয়োগ করলে, ধীরে ধীরে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। এতে সন্তানদের পড়াশোনা, খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত ও চিকিৎসার খরচ বহন করা সহজ হবে। আমরা দেশের সকল পরিবারের মেয়েদের এসব সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। যাতে সরকারি সহযোগিতায় প্রত্যেক পরিবারের স্বচ্ছলতা বাড়ে। একটি নারীকে স্বাবলম্বী করা মানে, পুরো পরিবারকে স্বাবলম্বী করার পথ তৈরি ও অগ্রগামী করার বাস্তবতা স্থাপন হয়।

    ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিনের সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম শামীম হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমেদ ও পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মিলন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

    অনুষ্ঠানে ঘোড়াঘাট এবং হাকিমপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হারেজ উদ্দিন, মন্ত্রীর পিএস ডা. জাবেদ হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাছুদ রানা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    মন্ত্রী অনুষ্ঠানে ঘোড়াঘাট উপজেলার ৬০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে প্রত্যেককে একটি করে বাইসাইকেল বিতরণ করেন। এছাড়া ক্যান্সার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ১১ জন, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, দুস্থ ১০৬ জন ব্যক্তি ও আদিবাসী ৬৪ জনসহ ১৮টি মসজিদ ও ৬টি মন্দিরে উন্নয়ন কাজের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

  • দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা

    দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা

    বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার

    ভারতের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ‘করিডর’ হতে গিয়ে নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিতে চায় না বাংলাদেশ। আসামের বরনগর থেকে বিহারের কাটিহার পর্যন্ত ৭৬৫ কেভি হাইভোল্টেজ লাইন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নিতে ভারতের নতুন তাগাদার পর চার শর্ত সামনে আনছে ঢাকা। ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ এ লাইনে যাবে কিনা, নেপাল-ভুটান থেকে সস্তা জলবিদ্যুৎ আনার সুযোগ মিলবে কিনা এবং বাংলাদেশের প্রকৃত লাভ কত— এসবের উত্তর না মিললে করিডর দেওয়ার সিদ্ধান্তে যেতে চাইছে না সরকার।

    ভারত সরকারের তাগাদার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ এ ব্যাপারে বেশকিছু কাগজপত্র তৈরি করেছে।

    সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ভারতকে চারটি শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে। এগুলো পালন করলে ওই হাইভোল্টেজ সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো— ভারতকে জানাতে হবে ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ওই হাইভোল্টেজ লাইন দিয়ে প্রবাহিত করা হবে কিনা। কারণ, এতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    দ্বিতীয় শর্ত হলো- নেপাল ও ভুটান থেকে সস্তায় জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য আলাদা গ্রিড লাইন তৈরির সুযোগ বাংলাদেশকে দিতে হবে। তৃতীয়টি হলো— ওই লাইন দিয়ে বাংলাদেশ কী পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। চতুর্থ শর্ত হলো— বাংলাদেশের ওপর দিয়ে লাইন টানার আগে অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি হিসাব করতে হবে।

    ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ৬ আগস্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় তিনি ৭৬৫ কেভি গ্রিড লাইন নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন। সাক্ষাৎ শেষে ইকবাল হাসান মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘ভারত যেভাবে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে গ্রিড লাইন নিয়ে যেতে চাচ্ছে, সেভাবে আমরা চিন্তা করছি না। নেপাল, ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশ-এই চার দেশ মিলে যৌথ গ্রিড লাইনের কথা ভাবছে ঢাকা। আর এটি নিয়েই আলোচনা করতে চাচ্ছি আমরা।’

    জানা যায়, এর আগে জুলাইয়ের শেষে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ দিল্লি সফর করে বিদ্যুৎ ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন সে দেশের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে। সেখানেও বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম সম্প্রতি যুগান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বিশেষ করে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ভারত-নেপাল-ভুটানের সঙ্গে একটি গ্রিড লাইন নির্মাণ জরুরি। এর মধ্যে বাংলাদেশ যার কাছ থেকে সস্তায় বিদ্যুৎ পাবে, তার থেকে আমদানি করতে পারে।’

  • অন্য দেশের চেয়ে বেশি দামে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ

    অন্য দেশের চেয়ে বেশি দামে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ

    রাজধানীর আমিনবাজারে চীনা বিনিয়োগে বর্জ্য থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৮ সালের আগস্টে এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। তবে প্রকল্পের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরকার কিনবে ২৫ টাকায়। চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের প্রকল্পে সরকার তুলনামূলক কম দামে বিদ্যুৎ কিনছে।

    দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নতুন নয়। এক দশকের বেশি সময় ধরে নেওয়া এ ধরনের প্রকল্পের কোনোটিই উৎপাদনে যেতে পারেনি। এমন বাস্তবতায় গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার আমিনবাজার ও মাতুয়াইলের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।

    দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় সাধারণত ১২-১৪ টাকা এবং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুতের গড় ব্যয় ২২-২৪ টাকার মতো। আন্তর্জাতিকভাবে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম প্রকল্পভেদে ভিন্ন হলেও ভারতের সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রকল্পে তা ইউনিটপ্রতি ৬-৮ রুপির মধ্যে; বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮-১১ টাকা। চীনে প্রতি ইউনিট বর্জ্য বিদ্যুৎ সরকার কেনে (বেঞ্চমার্ক ট্যারিফ) শূন্য দশমিক ৬৫ ইউয়ানে, যা ১১-১২ টাকা।

    এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ট্যারিফ দিয়ে বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা বাদ পড়ে যায়। এখানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মূল বিষয়। বিদ্যুৎ বাইপ্রডাক্ট। তাই দামটা বেশি মনে হলেও পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তুলনা করলে তা সহনীয়।

    আমিনবাজারে বড় বিনিয়োগ
    আমিনবাজার প্রকল্পে চীনের সিএমইসি গ্রুপ বিনিয়োগ করবে। প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকাঠামো রেখে ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রকল্পের আগের হিসাব অনুযায়ী ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। সরকারের সরাসরি বিনিয়োগ না থাকলেও উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনতে হবে দীর্ঘ মেয়াদে।
    কেন্দ্রটি নির্মাণে আওয়ামী লীগ সরকার দরপত্র আহ্বান করে। তাতে ১৭টি কোম্পানি অংশ নেয়, কাজ পায় চীনা কোম্পানি সিএমইসি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চুক্তি হয়েছিল। বিদ্যুৎ আসার কথা ছিল ২০২৫ সালে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছিল ২১ সেন্ট, যা তখনকার মুদ্রার দামে ২১.২৯৫ টাকা পড়ে। এখন তা ২৫ টাকা ।

    বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য সিএমইসি বাংলাদেশের জয়েন্ট স্টকে একটি কোম্পানি নিবন্ধনও করেছে, এর নাম ডব্লিউটিই পাওয়ার প্লান্ট নর্থ ঢাকা প্রাইভেট লিমিটেড।

    এ প্রকল্পের বিরোধিতা করছে বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতিসহ কয়েকটি সংগঠন। তাদের অভিযোগ, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুতের দাম অস্বাভাবিক বেশি।

    সংগঠনগুলোর মতে, কেন্দ্রটি ৮৫ শতাংশ সক্ষমতায় চললে ইউনিটপ্রতি দাম পড়বে ২৬ টাকা ৭৯ পয়সা। সক্ষমতা ৪০ শতাংশে নেমে এলে তা ৪৭ টাকা এবং ২০ শতাংশে নামলে ৭৫ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কম সক্ষমতায় চললে বছরে প্রায় ৫৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার বা ৭০০ কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জের ঝুঁকিও রয়েছে।
    এ ছাড়া ডিএনসিসিকে প্রতিদিন ৩ হাজার টন বর্জ্য সরবরাহের শর্ত দেওয়া হয়েছে। ঘাটতি হলে প্রতি টন বর্জ্যের জন্য ৫০ ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, এতে বর্জ্য কমানোর বদলে নির্দিষ্ট পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদনের চাপ তৈরি হতে পারে।

    পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, বর্জ্য পোড়ানোর কারণে ডাইঅক্সিন, ফিউরান, ভারী ধাতু ও সূক্ষ্ম কণার মতো দূষিত পদার্থ তৈরি হতে পারে। তাদের হিসাবে, আমিনবাজার প্রকল্প পূর্ণ সক্ষমতায় চললে বছরে প্রায় ৪ লাখ ১১ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হতে পারে। তাদের প্রস্তাব, মিশ্র বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বদলে বর্জ্য আলাদা করে পুনর্ব্যবহার, কম্পোস্টিং ও বায়োগ্যাস উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আব্দুল মঈন খানের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাক্ষাতের পর প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে চূড়ান্ত ত্রিপক্ষীয় ও অর্থায়ন চুক্তি হওয়ার কথা। তিনি স্বীকার করেন, ইউনিটপ্রতি ২৫ টাকা দাম বেশি; তবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত সুবিধা বিবেচনায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ল্যান্ডফিল ব্যবহারের জন্য সিটি করপোরেশনকে ভাড়া দেবে এবং সরকারের সরাসরি বিনিয়োগ লাগবে না।

    মাতুয়াইলে উৎপাদন হতে পারে ৪০-৫০ মেগাওয়াট
    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইলেও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ চলছে। চীনের পাওয়ার চায়না এ প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এখানে ৪০-৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিঅ্যান্ডএফ গ্রুপ মাতুয়াইলে বর্জ্য থেকে মিথেন গ্যাস উৎপাদনের প্রকল্পে কাজ করছে।

    চুক্তি করেও আটকে নারায়ণগঞ্জ
    নারায়ণগঞ্জের জালকুড়িতে ৬ মেগাওয়াটের বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পে পিডিবি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও চীনের ইউঅ্যান্ডডি এনভায়রনমেন্টাল টেকনোলজির মধ্যে চুক্তি হয় ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর।

    প্রতিদিন ৬০০ টন বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা। সরকার ইউনিটপ্রতি প্রায় ২০ টাকা ৯১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করেছে। ৪৫৫ দিনের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার কথা থাকলেও এখনও কাজ শুরু হয়নি। জালকুড়ির নির্ধারিত স্থান এখনও মূলত ময়লার ভাগাড় হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। অর্থায়ন ও বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে ধীরগতিকে প্রকল্প আটকে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতি ইউনিটে খরচ ২১ টাকা
    ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরেও ১১ মেগাওয়াটের বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পের দরপ্রস্তাব ও ট্যারিফ অনুমোদন করে।
    ২৫ বছর মেয়াদে ইউনিটপ্রতি ২১ টাকা ১১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। মোট প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি এখনও পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের ১২ জুন।

    চট্টগ্রামে একাধিক প্রস্তাব, বাস্তবায়ন নেই
    চট্টগ্রামে গত এক দশকে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একাধিক প্রস্তাব এসেছে। এর কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। সর্বশেষ জাপানের জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিদিন ১ হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ১২-১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখিয়েছে।

    জমির সংকট, অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা এবং পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার অভাবকে প্রকল্প বাস্তবায়নের বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    খুলনায় ছোট প্রকল্প
    খুলনার শলুয়ায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে বর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। প্রায় ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পে প্রতিদিন ৩৭৫ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ১৫ টন জৈব সার, ৩০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ এবং প্রায় ৫ হাজার লিটার ডিজেল উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি, অগ্রগতিও ধীর।

    অন্যান্য দেশের তুলনায় কতটা বেশি
    বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারতের কয়েকটি সাম্প্রতিক প্রকল্পে ইউনিটপ্রতি প্রায় ৬ দশমিক ২ থেকে ৭ দশমিক ৯৫ রুপি ট্যারিফ দেখা যায়। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ৮-১১ টাকা। চীনের বেঞ্চমার্ক ট্যারিফ ০.৬৫ ইউয়ান বা প্রায় ১১-১২ টাকা। শ্রীলঙ্কায় নতুন কাঠামোয় পৌর বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুতের সর্বোচ্চ হার প্রায় ৪১ দশমিক ৭২ রুপি, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৪ টাকা।

  • সেমিতে উঠলো বাংলাদেশ এইচপি

    সেমিতে উঠলো বাংলাদেশ এইচপি

    আব্দুল গাফফার সাকলাইন সোজা অফ ড্রাইভে মারলেন চার। সাকলাইনের এই চারটা কেবল চারই নয়। ডারউইনে আজ এই চারে এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন তিনি। নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইককে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটল বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) একাদশ।

    ডারউইনে আজ নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইকের বিপক্ষে ১০ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ এইচপি। তাতে করে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল এইপি। ৬ ম্যাচে ৫ জয় ও ১ হারে এইচপি ১০ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে এখন এইচপি। দুই ও তিনে থাকা অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমি ও ভিক্টোরিয়া সিএ উভয়েরই পয়েন্ট ৮।

    চার ও পাঁচে থাকা নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইক ও হায়দরাবাদ কিংসমেন একাডেমিরও পয়েন্ট ৬। শুধু অ্যাডিলেড ও ভিক্টোরিয়ার ১০ পয়েন্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু এই দুই দলই ৬ ম্যাচের মধ্যে ৫ ম্যাচ খেলেছে। ৯ দলের মধ্যে সবার নিচে হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমি। ৫ ম্যাচ খেলে প্রত্যেকটিতেই হেরেছে তারা। দুই পয়েন্ট নিয়ে আটে অস্ট্রেলিয়া ক্যাপিটাল টেরিটরি। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয় ও সাতে অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ড এ ও নেপাল।

    ১৪৪ রানের লক্ষ্যে নেমে বাংলাদেশ এইচপি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকে। তাতে উইকেটও হারিয়েছে। ৪.৫ ওভারে ২ উইকেটে ৪১ রানে পরিণত হয় এইচপি। আরিফুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান সোহান ১০ ও ২২ রান করেছেন। তৃতীয় উইকেটে এরপর শামীম হোসেন পাটোয়ারী ও সাব্বির রহমান ৩৪ রানের জুটি গড়েন।

    দশম ওভারের তৃতীয় বলে শামীমকে (১১) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রেলি মার্ক। চতুর্থ উইকেটে এরপর সাব্বির ও অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর গড়েন ৩৫ রানের জুটি। ১৫তম ওভারের প্রথম বলে সাব্বিরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন টম মেনেজিস। ৩৭ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৪৭ রান করেন সাব্বির।

    সাব্বির ফেরার পর সাময়িক ধস নামে এইচপির ইনিংসে। ৩ উইকেটে ১১০ রান থেকে মুহূর্তেই ১৬.৫ ওভারে ৬ উইকেটে ১২৩ রানে পরিণত হয় শুক্কুরের দল। শুক্কুর ও এসএম মেহেরব ১৭ ও ৮ রান করে বিদায় নেন। জিততে যখন চার রান বাকি, সেই মুহূর্তে আউট হন সামিউন বাশির রাতুল। ৮ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় করেন ১৪ রান। ১৮তম ওভারের শেষ বলে রাতুলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মেনেজিস।

    এমন অবস্থায় ম্যাচ শেষ করতে বাংলাদেশ এইচপির লেগেছে কেবল এক বল। ১৯তম ওভার করতে আসা ওয়েস অ্যাগারকে প্রথম বলে ডট দেন সাকলাইন। দ্বিতীয় বলে চার মেরে এইচপির ৩ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন সাকলাইন। সাব্বিরের ৪৭ রানই বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ। মার্ক, মেনেজিস দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।

    এর আগে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নর্দার্ন টেরিটরি অধিনায়ক হামিশ মার্টিন। আগে ব্যাটিং করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪৩ রান করে দলটি। ইনিংস সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন জর্ডান সিল্ক। এইচপির মোহাম্মদ রুবেল ৪ ওভারে ২৪ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন রাতুল, রাকিবুল হাসান, মেহেরব ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।

  • মন্ত্রী-এমপিদের যে ৩ বিষয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

    মন্ত্রী-এমপিদের যে ৩ বিষয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

    বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। এতে প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী-চিফ হুইপ-হুইপ ও এমপিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় মোটা দাগে তিনটি বিষয়ে মন্ত্রী-এমপিদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন (বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ) উপলক্ষ্যে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া এবং দলের ভেতর যেন কোনো ধরনের কোন্দল তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীকে জয়ী করতে সংসদ-সদস্যদের ভূমিকা রাখার নির্দেশনাও দেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে এবং ‘সৎ ও যোগ্য’ প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

    একাধিক সংসদ-সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সতর্ক করে বলেছেন, যেহেতু আগামী নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকছে না, সেক্ষেত্রে ত্যাগীদের বাদ দেওয়া ঠিক হবে না। অনেক এমপি তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তরুণদের সামনে আনছেন, এটা যেন তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হয়। যাতে তৃণমূল পর্যায়ে কোনো ক্ষোভ বা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে না হয়। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো ধরনের দূরত্ব বা বিরোধ তৈরি করা যাবে না বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।

    দ্বিতীয়ত: প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে সিরিয়াস বিএনপি।সভা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সব সংসদ-সদস্য ও মন্ত্রীকে নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থেকে কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেন। সরকারের বিরুদ্ধে যেসব প্রচার, অপপ্রচার বা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং এর জবাব দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তৃতীয়ত: প্রধানমন্ত্রী সরকারের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার জন্য মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, বিদ্যমান সংকট নিয়ে মন্ত্রীরা যে ব্রিফ করেছেন, তার সঠিক বার্তা যেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। যাতে সরকার সম্পর্কে মানুষ ভুল না বোঝে। স্থানীয় সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ-জ্বালানি, সার ও গ্যাস সংকটের বিষয়ে মানুষকে অবহিত করার জন্য দলীয় সংসদ-সদস্যদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    সভায় জানানো হয়, সারের সংকট কাটাতে আগামী দু-একদিনের মধ্যেই নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টরা কাজ শুরু করেছেন। সার সরবরাহ ও বিতরণ যাতে যথাযথভাবে হয় সেদিকেও সরকার কড়া নজর রাখছে। এ বিষয়ে কেউ যাতে অপপ্রচার চালাতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

  • বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদক হলেন কাদের গনি চৌধুরী

    বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদক হলেন কাদের গনি চৌধুরী

    বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী। তিনি কামাল উদ্দিন সবুজের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

    ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার কাদের গনিকে এ পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে।

    বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা আইন, ২০১৮-এর ধারা ১০(১) অনুযায়ী এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর মেয়াদে তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

    নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, কাদের গনি চৌধুরীকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। তার নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

    কাদের গনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব।

    এর আগে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন কামাল উদ্দিন সবুজ।