জাতীয়

  • ২১ বছরের সম্পর্ক শেষ, নতুন ঠিকানায় বাংলাদেশের হামজা

    ২১ বছরের সম্পর্ক শেষ, নতুন ঠিকানায় বাংলাদেশের হামজা

    লেস্টার সিটি ছেড়ে স্থায়ীভাবে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। এর মধ্য দিয়ে লেস্টারের সঙ্গে তার ২১ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটল।

    ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার আবার ফিরছেন ব্রামল লেনে। এর আগে ২০২৪-২৫ মৌসুমে ধারে শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলেছিলেন তিনি। সেই সময় ব্লেডসদের হয়ে ১৬টি ম্যাচ খেলেন হামজা।

    লেস্টার সিটি তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘লেস্টার সিটিতে ২১ বছর কাটানোর পর হামজা চৌধুরী স্থায়ী চুক্তিতে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দিতে যাচ্ছেন। এর আগে চৌধুরী ব্লেডসদের হয়ে ধারে খেলেছিলেন, যেখানে তিনি ২০২৪-২৫ মৌসুমে ১৬টি ম্যাচ খেলেন। আমরা তোমার জন্য শুভকামনা জানাই, হামজা।’

    ছোটবেলায় লেস্টারের একাডেমিতে যোগ দিয়েছিলেন হামজা। এরপর ক্লাবটির হয়ে ১৬৫টি ম্যাচ খেলেন তিনি। ২০২১ সালে জেতেন এফএ কাপ, আর ২০২৪ সালে জেতেন চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা।

    তার এই স্থায়ী দলবদল বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় বয়ে আনল। কারণ তার ক্যারিয়ার এখন বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ইংল্যান্ডের লাফবরায় জন্ম নেওয়া হামজার মা বাংলাদেশি। এর আগে তিনি ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলেছিলেন। পরে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশকে বেছে নেন।

    ২০২৫ সালের মার্চে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র হওয়া ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় হামজার। এরপর থেকে তিনি বাংলাদেশের হয়ে ১০টি ম্যাচ খেলেছেন, গোল করেছেন চারটি।

  • সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় যুক্তরাজ্য: সারাহ কুক

    সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় যুক্তরাজ্য: সারাহ কুক

    বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নিতে এবং উভয় দেশের জন্য দৃশ্যমান ও বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    সারাহ কুক বলেন, বৃটেন ও বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের শক্তি ও ব্যপ্তি প্রতিনিয়ত আরও সুদৃঢ় ও মজবুত হচ্ছে। দুই দেশের আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসনবিষয়ক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটে সহায়তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুসহ নানা যৌথ অগ্রাধিকারের বিষয় উঠে এসেছে।

    বৃটিশ হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব রয়েছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক, প্রাণবন্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে নিবিড় সহযোগিতার ওপর এ অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে সারাহ কুক বলেন, শক্তিশালী অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিতে এবং উভয় দেশের জন্যই দৃশ্যমান ও বাস্তব সুফল বয়ে আনতে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশা করছেন।

  • মির্জা ফখরুলের চেয়ারে সালাহউদ্দিনকে বসিয়ে কী বার্তা দিল বিএনপি?

    মির্জা ফখরুলের চেয়ারে সালাহউদ্দিনকে বসিয়ে কী বার্তা দিল বিএনপি?

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদের আসন ছাড়ার পর তার জায়গায় বসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে নতুন আসনবিন্যাসে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনটি পেয়েছেন তিনি। এতদিন ওই আসনে বসতেন মির্জা ফখরুল।

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে, সংসদের প্রথম সারিতে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনটি শুধু বসার জায়গা নয়, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক গুরুত্বের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে ফখরুলের আসনে সালাহউদ্দিন আহমদকে বসানোর বিষয়টি বিএনপির ভেতরে-বাইরে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও এটি সংসদের নিয়মিত আসনবিন্যাসের অংশ, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে এর মধ্যে দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের একটি প্রতীকী বার্তাও দেখছেন।

    এখন সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদের উপনেতা করা হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    তবে সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদের উপনেতা করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি। উপনেতা কে হবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন আসনবিন্যাসকে সরাসরি উপনেতা হওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে তাকে বসানোকে ইঙ্গিতবহ মনে করছেন অনেকেই।

    এত দিন সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনে বসতেন বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার পরের চেয়ারে বসতেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর পরে ছিল সালাহউদ্দিনের সিট।

    মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। একই সঙ্গে তার সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

    নতুন বিন্যাসে মির্জা ফখরুল ইসলামের আসনে উঠে এসেছেন সালাহউদ্দিন। তার পরের আসনে রয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর পরের আসনে বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

    সালাহউদ্দিনের আগের আসনে এখন বসছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ট্রেজারি বেঞ্চের প্রথম সারির ১০টি আসনের নতুন বিন্যাসে পেছনের সারি থেকে সামনে এসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য আমানউল্লাহ আমান।

    সালাহউদ্দিনকে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে বসানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে তার রাজনৈতিক ও সরকারি অবস্থানের কারণেও। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। তা ছাড়া দলের সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে তার নামও আলোচনায় রয়েছে। সরকার ও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা এই নেতাকে সংসদীয় কার্যক্রমে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আনার চিন্তা আছে কিনা, সে আলোচনা জোরালো হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শনিবার গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। এটি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার এখতিয়ার।

    সংসদের উপনেতা পদটি সংসদ নেতার সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। সংসদ নেতার অনুপস্থিতিতে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় উপনেতাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। অতীতেও ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের এ পদে রাখার নজির রয়েছে।

    সালাউদ্দিনকে সংসদ নেতার পাশে বসানো এটি কি কেবল নতুন আসনবিন্যাস, নাকি সংসদে তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি—সেটি স্পষ্ট হবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এলে।

    তবে বিএনপি অন্যান্য সব পদ পূরণ করলেও এখন উপনেতার পদটি শূন্য রেখেছে। এই পদ ঘিরে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা কাজ করে।

    এই প্রতিযোগিতার কারণে একাদশ সংসদে খালেদা জিয়াও সংসদ উপনেতার পদটি শূন্য রাখেন। আবার ২০০৮ সালের পার্লামেন্টে তিনি বিরোধী দলীয় উপনেতার পদটিও শূন্য রেখেছিলেন। তখন তিন সিনিয়র নেতা উপনেতা হওয়ার প্রত্যাশায় ছিলেন। তারা হলেন—ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

  • গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রোমহর্ষক বর্ণনা প্রকাশ্যে

    গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রোমহর্ষক বর্ণনা প্রকাশ্যে

    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জোরপূর্বক গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অন্যতম। সরকারবিরোধী আন্দোলনে দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিনকে ঢাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তার সন্ধান মেলে।

    আজ ৩০ আগস্ট, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ, তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং রাষ্ট্রগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।

    ২০১০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক কনভেনশন কার্যকর হওয়ার পর থেকে দিবসটি পালনের সূচনা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো-‘ভিকটিম ফার্স্ট, অ্যাকশন নাও’ (প্রথমে ভুক্তভোগী, এখনই পদক্ষেপ)।

    ‘গুম প্রতিরোধ’ দিবস পালনের প্রেক্ষাপটে আজ সামনে এসেছে দেশের সবচেয়ে আলোচিত গুমের ঘটনাটি। অনেকেরই জানার আগ্রহ-ঠিক কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে, কোন জায়গা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়েছিল?

    ঢাকার উত্তরায় যার ফ্ল্যাট থেকে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুম হয়েছিলেন তিনি বাসসকে সেই ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।

    দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তির দিন ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ৩ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করা নিয়ে সরকার ও বিএনপি মুখোমুখি অবস্থান নেয়। বিকল্প হিসেবে আওয়ামী লীগ রাজধানীর ১৬ জায়গায় অবস্থান কর্মসূচি এবং বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয়।

    তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে ঢাকায় প্রবেশ করে কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্য রাজধানীর প্রবেশমুখে কড়াকড়ি আরোপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের রাখে কড়া নজরদারিতে। ৪ জানুয়ারি গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান নেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিএনপির প্রায় সব সিনিয়র নেতাকে এক এক করে গ্রেপ্তার করে চলেছে সরকার।

    এরই মধ্যে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ওই অবস্থায় যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদকে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    সেই দায়িত্ব পালনকালে সালাহউদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যায় এবং গুম করে রাখে। ৬২ দিন নিখোঁজ থাকার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় তার সন্ধান মেলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে।

    গুম হওয়ার আগে তিনি কোথায় কীভাবে ছিলেন-সেই নির্মম ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী সালাহউদ্দিন আহমদের একজন ঘনিষ্ঠজন সৈয়দ হাবিব হাসনাত। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ভেল্লাপাড়ার মিয়াবাড়ির কৃতী সন্তান সৈয়দ হাবিব হাসনাত সে সময়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    সৈয়দ হাবিব হাসনাতের বর্ণনায়, ‘সালাহউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে আমার আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারের এজেন্সি, গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাব-পুলিশ তাকেও গ্রেপ্তার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি শুরু করে এবং সন্দেহজনক সব জায়গায় হন্যে হয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। এ অবস্থায় তিনি গুলশানে নানা কায়দায় বিভিন্ন ফ্ল্যাটে অবস্থান করে এবং স্থান বদল করে দলের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, তার গুলশানে অবস্থানের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়ে যায়; যদিও তিনি ঠিক কোন বাড়ি বা কোন ফ্ল্যাটে আছেন, তা তখনও তারা নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে নিশ্চিত হওয়া মাত্রই তাকে ধরে ফেলবে-এমনটাই ছিল পরিস্থিতি।’

    তিনি বলেন, ‘গুলশানকেন্দ্রিক গোয়েন্দা তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পর সালাহউদ্দিন ভাই দলের পরামর্শে দ্রুত এলাকা বদলের সিদ্ধান্ত নেন। আমি তখন একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করি, গুলশানে তিনি যেখানে থাকেন, তার কিছুটা দূরেই ছিল আমার অফিস। দল ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাকে স্থান বদলের জন্য বিকল্প কয়েকটি জায়গার কথা বলা হলে, তিনি আমার উত্তরার ফ্ল্যাটেই যাওয়ার মনস্থির করেন। ফেব্রুয়ারি মাসের সম্ভবত শেষ দিন, দুপুরে লাঞ্চ করতে যাব-এমন সময় সালাহউদ্দিন ভাই ফোন করলেন। তিনি বললেন, দ্রুত গুলশান থেকে সরে পড়তে হবে এবং তিনি আমার উত্তরার ফ্ল্যাটে উঠতে চান। আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, কোনো সমস্যা নেই, আপনাকে আমিই নিয়ে যাব। সন্ধ্যার পরই আসব, প্রস্তুত থাকবেন।’

    ‘কথামতো বিকেল ৫টার দিকে আমি গাড়ি নিয়ে বের হলাম। গুলশানে তিনি যে বাড়িতে ছিলেন, তা আমরা খুব ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাড়া আর কেউ জানত না। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সালাহউদ্দিন ভাইয়ের স্ত্রী এবং দলের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ নেতা শুধু বিষয়টি জানতেন। আমি ওই বাড়ির কিছুটা অদূরে গিয়ে ড্রাইভারকে বললাম, পাশে একটি মিষ্টির দোকান আছে, তুমি গিয়ে মিষ্টি খাও। কারণ, ড্রাইভারকে তো কিছু বুঝতে দেওয়া যাবে না। আমি নিজে ড্রাইভ করে গাড়ি নিয়ে বাড়িটির নিচে গেলাম এবং সালাহউদ্দিন ভাইকে ফোন করলাম। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নেমে এলেন, তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল। তাদের দুজনকে পেছনের সিটে বসিয়ে আমি উত্তরার উদ্দেশে গাড়ি চালাতে শুরু করলাম। উত্তরা যাওয়ার পথে এমন সব রুট বেছে নিলাম, যেদিকে কোনো পুলিশের চেকপোস্ট ছিল না। তাদের নিয়ে গাড়ি চালিয়ে সন্ধ্যার কিছু পর উত্তরার বাড়িতে পৌঁছলাম। সেখানে তো দারোয়ানদের জানতে দেওয়া যাবে না। তাই সেখানে দায়িত্বে থাকা দারোয়ানকে ডেকে বললাম, আমি তো ওপরে যাচ্ছি, তুমি আমার জন্য দুই প্যাকেট সিগারেট নিয়ে এসো, আমি গেটেই দাঁড়াচ্ছি।’

    ‘দারোয়ান বাইরে পা রাখা মাত্রই আমি গাড়ির দরজা খুলে দিলাম-সালাহউদ্দিন ভাই এবং তাবিথ নেমে গেলেন। বললাম, দ্রুত অমুক তলার অত নম্বর ফ্ল্যাটে উঠে যান। সেখানে একজন বাবুর্চি ও সহকারীকে আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম, তাদের বলে দিলাম-‘মেহমান এখানে থাকবেন, সব ধরনের সেবাযত্ন তোমরা করবে।’ এরপর অন্যান্য ব্যবস্থা সম্পন্ন করে আমি সেখান থেকে বেরিয়ে আমার স্ত্রীকে নিয়ে অন্য একটি ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠলাম। তারপর সেই ফ্ল্যাট থেকেই সালাহউদ্দিন ভাই দলের নির্দেশনা অনুযায়ী আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি ও ভিডিও বার্তা পাঠাতে থাকলেন। আন্দোলন চলছিল, সরকারও তাকে খুঁজছিল-এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল।’

    হাবিব হাসনাত বলেন, ‘১০ মার্চ আমি উত্তরায় যাই। সন্ধ্যার পর উত্তরা এলাকার প্রতিদিনের দৃশ্যপট কেমন, তা আমার ভালোভাবেই পরিচিত। সেদিন উত্তরা এলাকায় ঢোকার পর থেকেই একধরনের অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলাম; কিছু সড়কের বাতি নেভানো, কোথাও কোথাও এক গুমোট পরিবেশ এবং আশপাশে কোনো মানুষের দেখা মিলছে না। আবাসিকের দোকানপাটগুলোও বন্ধ। এলাকার ভেতরে কয়েকটি খেলার মাঠ আছে, যেগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকেই তরুণরা খেলাধুলা করে, কিন্তু আজ দেখলাম সেখানেও কেউ নেই! আমার মনে দারুণ এক খটকা লাগল। বাড়ির অদূরে যেতেই দেখা গেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো অবস্থান। আমি সাহস সঞ্চয় করে বাড়ির ভেতরে ঢুকলাম। দারোয়ানটাকে খুব মনমরা দেখলাম, কিন্তু সে কিছু বলল না। ফ্ল্যাটের দরজায় গিয়েই চমকে উঠলাম-দরজা ভাঙা! আমাকে দেখেই ভেতর থেকে হাউমাউ করে কেঁদে সামনে এল বাবুর্চি আর সহকারী। তারা দুজন কাঁদতে কাঁদতে বলল, মেহমানকে তুলে নিয়ে গেছে!’

    ‘আমি ঠিক কী করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না! দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি যদি ধরা পড়ি, আমাকেও গুম করা হবে-সেটা বুঝতে বাকি রইল না। আবার আমি যদি বাইরে না থাকি, তাহলে সালাহউদ্দিন ভাইয়ের আসলে কী ঘটেছে, তা বলারও কেউ থাকবে না। এই চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিলাম, দ্রুত দেশ ছাড়তে হবে। আমার ভিসা করা ছিল; ওপরের আরেকটি ফ্ল্যাটে আমার স্ত্রী থাকত, তাকে সে অবস্থাতেই সঙ্গে নিয়ে এক কাপড়ে এয়ারপোর্টে চলে গেলাম, আমার সহযোগীরা দ্রুত টিকিটের ব্যবস্থা করল। বিমান যখন দুবাই এয়ারপোর্টে, তখনই উত্তরা থানার ওসির ফোন পেলাম-তিনি আমাকে খুঁজছেন!’

    হাবিব হাসনাতের বর্ণনায়, ‘আমেরিকায় বাঙালি কম থাকে-এমন একটি এলাকায় গিয়ে উঠলাম। সেখান থেকে সালাহউদ্দিন ভাইয়ের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ এবং ম্যাডাম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা হতো। এরই মধ্যে সরকারের তরফে সালাহউদ্দিন ভাইকে তুলে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হলো। ভাবী হাসিনা আহমদ নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সালাহউদ্দিন ভাইকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নেয়নি, বরং তিনি ‘আত্মগোপনে গেছেন’-এমন অপপ্রচার চালিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে একদিন ম্যাডাম খালেদা জিয়া অন্য একজনকে দিয়ে ফোন করিয়ে আমাকে বললেন, আমি যেন আমেরিকা বা দুবাইয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করি। সংবাদ সম্মেলন করে বলি যে, সালাহউদ্দিন ভাইকে আমার উত্তরার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে, তিনি আমার ফ্ল্যাটেই ছিলেন এবং সেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। আমিও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম; কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ফোন করে আমাকে বলা হলো-“চুপ! একদম চুপচাপ থাকবেন। যদি একটি কথাও বলেন, তাহলে চিরজীবন আর দেশেও আসতে পারবেন না।’ এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হলো! এই কারণে আর সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি। এভাবেই আমেরিকার মাটিতে কেটেছে আমার অনেক দিন।’

    তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর এ দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছে, জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রাখতে গিয়ে আমি নিজেও সে সময়ে জীবন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে ছিলাম। আল্লাহর রহমতে, তারুণ্যের রক্তে ভেজা অভ্যুত্থানে আমরা সেই জালিমের শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছি। এখন আমাদের সবার উচিত বিভেদ-বিভক্তি এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করা, দেশকে সমৃদ্ধশালী করে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। এ জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে, ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্য ধরে রাখতে হবে। এই ঐক্য বিনষ্ট হলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব-কথাটি আমাদের সব সময়ই মনে রাখতে হবে।’

    ইতিহাসের দিকে ফিরে দেখা

    সালাহউদ্দিন আহমদকে উঠিয়ে নেওয়ার আগে ৭ মার্চ তাঁর দুই চালক শফিক ও খোকন এবং ব্যক্তিগত সহকারী ওসমান গণিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরদিন ৮ মার্চ সালাহউদ্দিনের খোঁজে গুলশানের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে এবং ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় র‌্যাব (উল্লেখ্য, সেই অফিস ও ফ্ল্যাটের মালিক সৈয়দ হাবিব হাসনাত)। এরপর ১০ মার্চ উত্তরার ফ্ল্যাট থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয়। এর মাঝে একাধিকবার তাঁর গুলশানের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং বাসার গেটে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা পাহারা বসানো হয়েছিল।

    ১৮ মার্চ ঢাকার দুটি জাতীয় দৈনিকে (প্রথম আলো ও নিউ এজ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সালাহউদ্দিনকে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই নিয়ে গেছে, এ বিষয়ে ওই এলাকায় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া গেছে। যে বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়, সেই এলাকার নিরাপত্তাকর্মী ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী পত্রিকা দুটির কাছে এর বর্ণনা দিয়েছেন।’

    উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের নিরাপত্তাকর্মী ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ঢাকার কয়েকটি গণমাধ্যম সে সময় প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, সালাহউদ্দিনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার আগে ওই বাসার কাছেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পিকআপ দাঁড়িয়ে ছিল। ওই পিকআপে আসা সদস্যরা সেখানে কর্তব্যরত ৩ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির নিয়োগ করা নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে ১৩-বি নম্বর সড়কটির অবস্থান জানতেও চেয়েছিলেন। ওই বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, অজ্ঞাতপরিচয় অস্ত্রধারীরা সালাহউদ্দিনকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গেছে।

    তবে ঘটনার শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে একধরনের উপহাস করে আসছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা। সে বছর ১৪ মার্চ রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তাকে (সালাহউদ্দিনকে) অ্যারেস্ট করার জন্য খুঁজছি। তিনি কোথায়, তার জবাব খালেদা জিয়ারই দিতে হবে। সালাহউদ্দিন আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে বিবৃতি দিচ্ছিলেন। কিন্তু সবাই জানে, তিনি ওখান থেকেই (গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়) বিবৃতি দিয়েছেন। আট বস্তা ময়লার সঙ্গে তাঁকেও কোথাও পাচার করে দেওয়া হয়েছে কি না, সেই জবাব খালেদা জিয়ারই দিতে হবে।’

    এরপর সরকারের মন্ত্রী-এমপিরাও সালাহউদ্দিন কোথাও লুকিয়ে রয়েছেন-এমন ইঙ্গিত করে বা সরাসরি উল্লেখ করে ঢালাও বক্তব্য দিতে থাকেন। ১৩ মে মেঘালয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সালাহউদ্দিন আহমদের খোঁজ মেলার পরও সেই বক্তব্যের রেশ থামেনি।

    ওইদিনই (১৩ মে) রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা (প্রয়াত) সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সালাহউদ্দিন আহমদ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি গুম, অন্তর্ধান কিংবা নিখোঁজ নয়-এটি আত্মগোপন। আত্মগোপন আর গুম এক জিনিস নয়। এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে-এই আত্মগোপন দলীয় প্রধানের নির্দেশেই করা হয়েছে।’

  • কাউকে গুম করেনি সরকার, ভবিষ্যতেও করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কাউকে গুম করেনি সরকার, ভবিষ্যতেও করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বিএনপি সরকার কাউকে গুম করেনি এবং ভবিষ্যতেও কাউকে গুম করতে দেবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নতুন গুমবিরোধী আইনের মাধ্যমে দেশে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।

    রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। বরং জুলাইয়ের ঘটনাকে ‘জঙ্গি হামলা’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এটিকে তিনি বিশ্বব্যাপী লজ্জাজনক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার নিশ্চিত করা হবে।

    নিজে গুমের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিজে গুমের শিকার হওয়ার পর এই আইন দুর্বল হোক, সেটা কী চাইতে পারি?’ তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কাউকে গুম করেনি এবং ভবিষ্যতেও কাউকে গুম করতে দেবে না।

    বিরোধী দলের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন ও ওয়াকআউটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াকআউট কোনো সমাধান নয়। বরং সব বিষয়ে আলোচনা করা উচিত। কোনো কিছু না বলে বা না শুনে ওয়াকআউট করলে জাতি তাদের বক্তব্য থেকে বঞ্চিত হবে।

    জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগের তুলনায় গুমবিরোধী আইন আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। গুমের শিকার ব্যক্তিরা মামলা করলে সরকার তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি।

  • ঠাকুরগাঁও-১সহ ১১ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ইসির গেজেট প্রকাশ

    ঠাকুরগাঁও-১সহ ১১ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ইসির গেজেট প্রকাশ

    নতুন গঠিত উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ সহ ১১টি সংসদীয় আসনের সীমানা নিয়ে নতুন গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে কাগজে কলমে আসন সীমানায় সংশোধন হলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    আসনগুলো হচ্ছে—ঠাকুরগাঁও-১, বগুড়া-২, পিরোজপুর-১, ময়মনসিংহ-১০, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ ও ৪, কুমিল্লা-৩, লক্ষ্মীপুর-২ ও ৩, চট্টগ্রাম-২ এবং কক্সবাজার-১। আজ রোববার এ গেজেট প্রকাশ করে ইসি।

    ইসির গেজেট অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলামের ছেড়ে দেওয়া আসন ঠাকুরগাঁও-১। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনে রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সদর উপজেলা ভেঙে এ দুটি উপজেলা গঠন করা হয়। গত মে মাসে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ দুটি উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বগুড়া-২ আসনে শিবগঞ্জের পাশাপাশি মোকামতলা উপজেলাকেও যুক্ত করা হয়েছে। মোকামতলা উপজেলা গত মে মাসে নিকার বৈঠকে অনুমোদন পায়।

    ময়মনসিংহ-১০ আসনে গফরগাঁও উপজেলার সঙ্গে নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা যুক্ত করা হয়েছে। এ উপজেলাটি গত জুলাই মাসে নিকার বৈঠকে অনুমোদন পায়।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে আখাউড়া উপজেলার বরিশল ইউনিয়ন পরিষদকে যুক্ত করা হয়েছে। এ ইউনিয়ন পরিষদ বাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন গঠন করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে ৬টি গ্রাম আলাদা করে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করে নতুন এই বরিশল ইউনিয়ন গত মে মাসে অনুমোদন দেওয়া হয়।

    কুমিল্লা-৩ আসনে মুরাদনগর উপজেলার সঙ্গে বাঙ্গরা উপজেলাকে যুক্ত করা হয়েছে। গত জুলাই মাসে নিকার বৈঠকে বাঙ্গরা উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম-২ আসনে ফটিকছড়ি উপজেলার সঙ্গে নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা যুক্ত করা হয়েছে। কক্সবাজার-১ আসনে নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

  • দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব

    দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব

    বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

    রোববার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    দুদকের পরিচালক মো. আবুল হাসনাতের পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ‘বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ’ পেয়েছে দুদক। অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য পরিচালক আবুল হাসনাতকে দলনেতা এবং উপপরিচালক মোজাম্মিল হোসেনকে সদস্য করে দুই সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে শফিউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য শোনা ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। এ কারণে তাকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে নিয়ে নির্ধারিত সময়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

    দুদকের নথি অনুযায়ী, শফিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর।

    জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ২০২১ সালের ২৪ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছ থেকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিন বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৪ সালের ২৩ জুন অবসরে যান শফিউদ্দিন আহমেদ। সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালনকালে তিনি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

  • সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

    সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

    সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। আগামী বুধবার রাত ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

    রোববার বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস এখন অনেকটাই সুস্থ। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরছেন।

    গত ১১ মার্চ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ওই রাতেই তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

    পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তাকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

  • এই বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

    এই বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টায় ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘এই দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে। রাষ্ট্রের আরেকটা পবিত্র দায়িত্ব, গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে আন্তরিকভাবে দাঁড়ানো। আমি বিশ্বাস করি, সরকার এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।’

    রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই গুম, গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ এর দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল। যারাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য যখনই আন্দোলন করেছেন, তখনই তাদের স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, গুম-খুন করা হয়েছে। অথচ ফ্যাসিস্টের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই গুরুতর অপরাধকে সর্বদা অস্বীকার করে গেছে।

    তিনি বলেন, ‘নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে সেই ফ্যাসিবাদ বশংবদ দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

    রাষ্ট্রপতি বলেন, গুম শুধু একটা মানুষকে কেড়ে নেয় না। কেড়ে নেয় প্রিয়জনদের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন, অর্থনৈতিক-সামাজিক স্বস্তি। এ এক জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমাদের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। গুম-খুনের মাধ্যমে কার্যত সেই অধিকারগুলোর সবকয়টিকেই একসঙ্গে ভুলুষ্ঠিত করা হয়।

    দেশে গুম-খুনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে ভয়ানক ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল সেটিকে রাষ্ট্রপতি জাতীয় ইতিহাসের এ এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক, অপমানজনক অধ্যায় বলে উল্লেখ করেন।

    এ সময় তিনি বিগত ফ্যাসিবাদ আমলে গুমের শিকার ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম, সালাহউদ্দিন আহমদ (বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ অসংখ্য ভিন্ন মতাবলম্বী, কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, এমনকি গৃহবধূ ও সাধারণ নাগরিকদের স্মরণ করেন।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের গুম-খুনের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন- একদিন এই গুম, খুন, অত্যাচার, নির্যাতনের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।

    এ সময় তিনি বিএনপি-জামায়াতসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণকে, যাদের অনেকে গুম-খুনের শিকার হয়েছেন তাদের কথা স্মরণ করেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন- আমি বিশ্বাস করি, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। তিনি গুমের শিকার পরিবারগুলোর মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।

    একই সঙ্গে তিনি ফ্যাসিবাদী আমলে গুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা সানজিদা ইসলাম তুলির কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা থাকবে, কিন্তু আইনের নামে মানবাধিকার ও সুবিচার লঙ্ঘনের সুযোগ থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতা থাকবে কিন্তু সেই ক্ষমতার ওপর থাকবে সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ।

    রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী, কতটা ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক এবং তার নাগরিক কতটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করে সেটি একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন ও সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে। আর এমন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

    রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার হওয়া পরিবারের সদস্যরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং গুমের ঘটনাগুলোর যথাযথ বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।

  • মির্জা ফখরুলের আসনে উপনির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

    মির্জা ফখরুলের আসনে উপনির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপনির্বাচনেও দলটির প্রার্থী হিসেবে থাকছেন দেলাওয়ার হোসেন।

    রোববার (৩০ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম এ ঘোষণা দেন।

    দেলাওয়ার হোসেন বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতিও।

    সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, নির্বাচনই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রধান মাধ্যম। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে দলটি সব ধরনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    তিনি বলেন, ১১ দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দেলাওয়ার হোসেনকে ১১ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এবং ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে তাদের প্রার্থী জয়ী হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

    উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

    ওই নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দেলাওয়ার হোসেন। শিগগিরই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।