জাতীয়

  • বিএনপি সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে: আখতার হোসেন

    বিএনপি সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে: আখতার হোসেন

    বিএনপি সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির ((এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    দেশের সব জায়গায় দলীয়করণ করা হচ্ছে অভিযোগ করে আখতার হোসেন বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার পর জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংকট পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ না হতে পারলে দেশের মানুষ না খেয়ে মরবে।’

    তিনি বলেন, ‘জনভোগান্তি নিরসনে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ ৬ দফা দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চ করবে এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট।’

    এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল নানাভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিরোধীদলের যারা অংশগ্রহণ করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হয়রানি করছে।’

    ক্ষমতাসীন দল বিরোধীদলের রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা প্রদান করলে তার ফল ভালো হবে না বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।

  • প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও শ্রমিক সমস্যা নিয়ে মালয়েশিয়া হাইকমিশনে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

    প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও শ্রমিক সমস্যা নিয়ে মালয়েশিয়া হাইকমিশনে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

    মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে পাসপোর্ট জটিলতা, শ্রমিক নিয়োগ, অবৈধ অভিবাসন এবং দক্ষ জনশক্তির চাহিদা নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন দেশটিতে সফররত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

    গত বুধবার তিনি হাইকমিশনে পৌঁছলে কমিশনের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) ও হেড অব চ্যান্সারি প্রণব কুমার ভট্টাচার্য হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

    বাংলাদেশ হাইকমিশনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। পাশাপাশি হাইকমিশনের কার্যক্রম ও প্রবাসীদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান।

    আলোচনায় হাইকমিশনার জনাব মঞ্জরুল করিম খান চৌধুরী মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় আনুমানিক ৮ থেকে ১৫ লাখ অভিবাসী রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এ সময় হাইকমিশনার অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে আরো জানান, মালয়েশিয়ায় মোট ৩৭টি কারাগার রয়েছে। এসব কারাগারে বিভিন্ন দেশের আটক ব্যক্তিদের রাখা হয়। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের জন্য দেশটিতে ১৭টি ডিটেনশন ক্যাম্প রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এখানে প্রায় এক হাজার ৯০০ জনের মতো বাংলদেশি বন্দি আছে। তাদের আইনি সহযোগিতা দেওয়ার জন্য বলা হয়।

    বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও হাইকমিশন কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

    আলোচনায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ফ্রি ট্ট্রেড নিয়েও কথা হয়। হাইকমিশনারের উদ্যোগে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্রি ট্রেড -সংক্রান্ত একটি চুক্তি বা সমঝোতা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এটিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটা ভালো উদ্যোগ বলে বর্ণনা করা হয়।

    শ্রমবাজার প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি সরাসরি আলোচনা করা হয় না; বরং রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বেশি আলোচনা হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার ক্ষেত্রে সুযোগ রয়েছে।

    তিনি আরো জানান, মালয়েশিয়ায় প্রায় আড়াই হাজার রিক্রটমেন্ট এজেন্সি রয়েছে। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সেখানকার বাংলাদেশী নারী শ্রমিক ও তাদের আত্বসম্মান নিয়ে জানতে চাইলে হাইকমিশনার জানান, নারীদের জন্য দক্ষ ও অদক্ষ উভয় ধরনের কর্মসংস্থানের ভিসা বর্তমানে সীমিত বা অনুপস্থিত রয়েছে।

    বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে, যার বর্তমান সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত বলে জানানো হয়। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে কীভাবে আরো কার্যকরভাবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

    এমপি মুজিবুর রহমান বলেন, আপনারা এখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন সুতরাং এখানে অবস্থানরত বাংলাদেশের মানুষের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব আপনাদের যে কোনো সহযোগিতা লাগবে আমরা করতে প্রস্তুত। মালয়েশিয়া সংক্রান্ত একটা নির্ভুল তথ্য বাংলাদেশ সরকার এবং বিরোধী দলকে সরবরাহ করার জন্য বলেন তিনি।

    দালালদের দৌরাত্ম্য কমানোর জন্য এবং টাকা-পয়সার সংক্রান্ত ঝামেলা যেন না হয় আর শ্রমিকদের মালয়েশিয়াতে আসার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ সেবা দেওয়ার জন্য হাইকমিশনকে উদ্যোগ নেয়ার জন্য বলা হয়।

    অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার মঞ্জরুল করিম খান চৌধুরী, ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মাদ শাহানারা মনিকা এবং প্রধান চ্যান্সারি প্রণব কুমার ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

    এছাড়া অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়া শাখার সেক্রেটারি জেনারেল ড. খাইরুল ইসলাম, ড. ইউসুফ আলী এবং সাইফুদ্দিন ইয়াহহিয়া উপস্থিত ছিলেন।

  • র্দীঘ পাঁচ মাস পর সংসদে ফিরে আসায় আব্বাসকে স্পিকারের ধন্যবাদ

    র্দীঘ পাঁচ মাস পর সংসদে ফিরে আসায় আব্বাসকে স্পিকারের ধন্যবাদ

    র্দীঘ পাঁচ মাস পর সংসদে ফিরে আসায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

    প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে নিজ অফিসে দাফতরিক কাজ শুরু করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

    উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১০টায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে চিকিৎসা শেষে প্রায় সাড়ে ৫ মাস পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে দেখা করলেন মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার, জামায়াতের ভূমিকার প্রশংসা

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে দেখা করলেন মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার, জামায়াতের ভূমিকার প্রশংসা

    বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন তারা। এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ফায়েয বিন মোহাম্মদ মোখতার এবং হাজওয়ান বিন হাসনল উপস্থিত ছিলেন।

    দলীয় সূত্র জানায়, সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আন্তরিক ও খোলামেলা মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে হাইকমিশনার জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    মতবিনিময়কালে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ, উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিষয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার এবং সব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সাক্ষাৎকালে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

  • রুফটপ সোলার নিয়ে বাড়িওয়ালাদের সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    রুফটপ সোলার নিয়ে বাড়িওয়ালাদের সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন, তাদের গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ১৫ পয়সা দরে কিনবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনিরের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    বাড়িওয়ালাদের সুখবর শুনিয়ে তিনি বলেন, বাল্ক রেটের অতিরিক্ত অর্থ সরকার প্রণোদনা হিসেবে দেবে। এতে গড়ে প্রতি ইউনিট ৬-৭ টাকা উৎপাদন ব্যয়ের বিপরীতে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ সুবিধা পরবর্তী তিন বছরের জন্য প্রযোজ্য হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়াতে বর্তমান সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে ৮ জুন সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য অপরিহার্য পণ্যসমূহ যেমন— সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ইত্যাদির ওপর আরোপণীয় সমুদয় কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং ২ শতাংশ অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর হতে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    রুফটপ সোলার স্থাপনে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সরকারি ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ওই কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থাগুলোকে ইতোমধ্যে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ইতোমধ্যে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।’

    সৌর বিদ্যুতের পাশাপাশি পানি বিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি, ওই কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে।’

  • জ্বালানিসংকট নিরসনে পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    জ্বালানিসংকট নিরসনে পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফলে জ্বালানি পরিস্থিতি দুই বছরের মধ্যে আরো উন্নতি হবে।বুধবার জাতীয় সংসদে দেওয়া জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন ।

    সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবদিয়া এলাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য একটি আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত এই টার্মিনালের মাধ্যমে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির আরো উন্নতি ঘটবে বলে জানান তিনি।

    এদিকে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে এই টার্মিনালগুলো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি গ্যাসের সংকটও অনেকটাই কমে আসবে।

  • ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

    ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

    আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, আগস্টে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে মানুষ যে দুর্ভোগে পড়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে যাতে তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

    বুধবার সংসদে দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিরোধী দলের সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

    বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, নিছক কথামালার আড়ালে প্রকৃত সত্যকে লুকাতে চাই না। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহের কারণে কষ্টে আছে।’

    বর্তমান সংকটকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট নতুন করে চাপ তৈরি করেছে বলেও জানান তিনি।

    গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতিরিক্ত নির্ভরতার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্রের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে বর্তমানে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও গৃহস্থালি—এই তিন খাতে ভারসাম্য রেখে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে।

    বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে কয়েকটি কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকাকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। একই ক্ষমতার মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে।

    ভারতের আদানি গ্রুপ থেকেও চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

    এ ছাড়া আমদানি করা এলএনজি সরবরাহে ব্যবহৃত দুটি ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। গত ২১ জুলাই এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেয় এবং মেরামতে প্রায় ২১ থেকে ২২ দিন সময় লাগে। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। তবে সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

    তিনি বলেন, ‘আগস্ট মাসে বাংলাদেশের মানুষকে যে কষ্ট পোহাতে হয়েছে, অন্তত সেপ্টেম্বর মাসে এই কষ্ট যেন না পোহাতে হয়, সে ব্যাপারে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’

    আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় রুফটপ সোলারসহ দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সরকারের নতুন রুফটপ সোলার নীতির ফলে আগামী গ্রীষ্মে চলতি সময়ের মতো বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    সংসদ সদস্যদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে উদ্বেগকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতিনিধিদের প্রকৃত তথ্য জানানো এবং এ খাত নিয়ে থাকা ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করবে সরকার।

  • গণভোট ও জনদুর্ভোগ নিয়ে সরকারের অনীহার কথা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের জানালেন জামায়াত আমির

    গণভোট ও জনদুর্ভোগ নিয়ে সরকারের অনীহার কথা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের জানালেন জামায়াত আমির

    টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    বুধবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধীদলীয় নেতার সভাপতিত্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের শীর্ষ কর্তাব্যক্তি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এতে অংশ নেন।

    পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণমাধ্যমের প্রত্যাশা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন জনসমস্যা তুলে ধরেছেন জামায়াত আমির।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাজনীতিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা জামায়াতের আমির বৈঠকে তুলে ধরেন। পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরে জামায়াতের আন্তরিক ভূমিকার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

    জুলাই চার্টার অনুযায়ী অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় সরকারি ও বিরোধীদলের মেনে চলার পক্ষে মত দিয়েছেন কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। ভিন্নমত ছাড়াই এই রায় মেনে নেওয়ার জন্য দলগুলোকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়ার তাগিদ দেন তারা।

    বৈঠকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস এবং দলীয়করণের নানা চিত্র তুলে ধরেন জামায়াত আমির।

    জামায়াত আমির বৈঠকে বলেন, ইলেকট্রনিক মিডিয়া কেবল সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় সচেতনতা ও ঐক্য সৃষ্টিতে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, জামায়াতে ইসলামীর ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোও খোলামেলাভাবে তুলে ধরে গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।

  • প্রধানমন্ত্রী আট প্রশ্নের উত্তর দিলেন, সব প্রশ্নই সরকারি দলের, যা বললেন স্পিকার

    প্রধানমন্ত্রী আট প্রশ্নের উত্তর দিলেন, সব প্রশ্নই সরকারি দলের, যা বললেন স্পিকার

    বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য নির্ধারিত তারকা চিহ্নিত সবকটি প্রশ্নই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রীর জন্য যে প্রশ্নোত্তর রাখা হয়েছে, সেখানে আটটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নই সরকারি দলীয় সংসদ সদস্যদের। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও প্রশ্ন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু আগে আপনি (স্পিকার) আমাদের চারটি সুযোগ দিলেও আজকে আটটির সবগুলোই ছিল সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের।’

    সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যত বেশি প্রশ্ন করবেন, জবাবদিহিতার সংস্কৃতি তত বেশি শক্ত হবে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখার জন্য স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

    নাহিদ ইসলামের এই অভিযোগের জবাবে সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকার সবসময়ই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চায় এবং সরকার জবাবদিহিমূলক। তবে প্রশ্ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে নিয়ম ও অগ্রগণ্যতার বিষয়টি প্রাধান্য পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে সরকারি দল বা বিরোধী দল বলে কথা নয়। নিয়ম অনুযায়ী যিনি প্রশ্ন আগে জমা দেবেন, তিনি আগে সুযোগ পাবেন—এটাই হলো পদ্ধতি এবং এটি সিলেক্ট করেন মাননীয় স্পিকার।’

    বিরোধী দলের সদস্যরা পিছিয়ে পড়লে তা তাদের নিজস্ব অসুবিধা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এখন থেকে সবাই সময়মতো প্রশ্ন জমা দেওয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন।

    উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রশ্ন জমার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রশ্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সিরিয়ালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

    পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে স্পিকার বলেন, ‘আমার পরিষ্কার মনে আছে, অতীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বিছানাপত্র নিয়ে আগের রাতেই প্রশ্ন জমা দেওয়ার অফিসের সামনে পজিশন নিতেন। আরও দুই-একজন সদস্য আছেন, যারা আগের রাত সেখানে শুয়ে থাকতেন। এ ছাড়া অনেক সদস্য তাদের প্রাইভেট সেক্রেটারিকে সেখানে পাঠাতেন।’

    সংসদ সদস্যরা আগে থেকেই এসে নিজেদের প্রায়োরিটি নিশ্চিত করেন জানিয়ে স্পিকার বলেন, প্রশ্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের মধ্যে একটি তুমুল প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। তাই বিরোধী দলের সদস্যদেরও এই ঐতিহ্য ও নিয়ম অনুসরণ করে আগে প্রশ্ন জমা দেওয়ার চেষ্টা করার পরামর্শ দেন তিনি। সেই সঙ্গে বিষয়টি ভবিষ্যতে যথাযথভাবে বিবেচনা করার আশ্বাসও দেন স্পিকার।

  • বিচার বিভাগে এআইয়ের ঝুঁকি, সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

    বিচার বিভাগে এআইয়ের ঝুঁকি, সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

    সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো না থাকায় বিচার বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নতুন ধরনের আইনি ও বিচারিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এআই ব্যবহার করে ভুয়া জবানবন্দি ও প্রমাণ তৈরি, বিচারকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং রায় নিয়ে অপপ্রচার চালানোর মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিচারকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    বুধবার এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে ‘বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা জবানবন্দি তৈরি কিংবা ছবি ও অন্যান্য ডিজিটাল উপকরণের মাধ্যমে ভুয়া প্রমাণ বানিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত বিচারপ্রার্থীরা। একই সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও নতুন ধরনের সামাজিক ও আইনি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

    তিনি বলেন, কোনো রায় কারও পছন্দ না হলে এআই ব্যবহার করে বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি কিংবা তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর আশঙ্কাও রয়েছে। তাই সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচারকদেরই সর্বপ্রথম এআইয়ের সম্ভাব্য অপব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

    আইনগত সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ অতীতেও আইনের ব্যাখ্যায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনেছে। স্ত্রী হত্যা মামলায় আসামির ওপর প্রমাণের দায় আরোপের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত এবং নব্বইয়ের দশকে অস্ত্র আইনের মামলায় জব্দ তালিকার সাক্ষীদের ওপর একক নির্ভরতা কমানোর নজিরও তিনি তুলে ধরেন।
    এআইয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আনুষ্ঠানিক আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত বিচার বিভাগকে একইভাবে প্রজ্ঞা, সতর্কতা ও অভিযোজন ক্ষমতার পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইন বিশেষজ্ঞদের এআই নিয়ন্ত্রণে একটি খসড়া আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি খসড়া বিল সংসদে উপস্থাপন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি সহযোগিতা করবেন।

    পাঁচ দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’-এর যৌথ আয়োজন করে সোসাইটি ফর জাস্টিস অ্যান্ড এআই (এসজেএআই) ও লিগ্যালাইজড এডুকেশন বাংলাদেশ লিমিটেড (এলইবিএল)। অংশীদার হিসেবে এতে সার্বিক সহযোগিতা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আয়োজনে সহায়তা করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ একরামুল হক, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনুভা শেলী। সমাপনী সেশনে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, আইনজীবী, শিক্ষক, প্রযুক্তিবিদ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

    সামার স্কুলে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার, অর্থসেবা, স্বাস্থ্য ও জনপ্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে এআই গভর্নেন্সের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে এআই গভর্নেন্স সক্ষমতা বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।