জাতীয়

  • নিখোঁজ ২ হাজার শিশু ফেরেনি এখনো

    নিখোঁজ ২ হাজার শিশু ফেরেনি এখনো

    দেশের থানাগুলোয় ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এই হিসাব সাত মাসের, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ের। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে গেছে। কিন্তু এখনো সন্ধান মেলেনি ২ হাজার ৩৮ শিশুর। অর্থাৎ নিখোঁজ হওয়া শিশুদের প্রায় ১৩ শতাংশ এখনো ফেরেনি পরিবারের কাছে গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয় এসব তথ্য।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী ৪৭৪ শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জন উদ্ধার হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছে ৬৮ জন। একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী নিখোঁজ হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩ জন। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জন উদ্ধার হয়েছে, এখনো নিখোঁজ ১ হাজার ৯৭০ জন। নিখোঁজের কারণ হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ছোট শিশুরা সাধারণত পরিবারের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারিয়ে, ঠিকানা বলতে না পারায় কিংবা একা বাড়ি ফেরার পথে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়। কিশোর -কিশোরীদের ক্ষেত্রে কারণ কিছুটা ভিন্ন। অভিমান, পড়াশোনার চাপ, পারিবারিক কলহ, স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব এবং পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা তাদের বাড়ি ছাড়ার বড় কারণ।

    পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৪১৪টিতে। তবে ২০২৫ সালে আবার বেড়ে হয় ২২ হাজার ৫৫০টি।

  • ‘গত ১৫ বছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রে অতিরিক্ত বিনিয়োগ হওয়ায় আর্থিক চাপে সরকার’

    ‘গত ১৫ বছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রে অতিরিক্ত বিনিয়োগ হওয়ায় আর্থিক চাপে সরকার’

    বিগত সরকার প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করায় বর্তমান সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর এফডিসিতে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্কে এ কথা বলেন তিনি। ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ এ বিতর্কের আয়োজন করে।

    বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘১৯৯৬ সালের পর নতুন করে কার্যকর জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানেও পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং আমদানিনির্ভরতার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।’

    জালাল আহমেদ বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করায় বাড়তি বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকারকে বাড়তি খরচও বহন করতে হচ্ছে। ভুল নীতি ও অনিয়মের কারণেও দীর্ঘদিনে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।’

    তবে সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না হলেও সৌরবিদ্যুতে বাংলাদেশের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান বিইআরসি চেয়ারম্যান। বায়ুশক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও দেশে এর সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, সুষম জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করে অতীতের ভুল, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ থেকে বেরিয়ে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে। এতে শিল্পকারখানা সচল করার পাশাপাশি রপ্তানি ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব হবে।

    অনুষ্ঠানে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

  • সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে

    সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং এ দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। আমাদের সবার প্রধান ও প্রথম পরিচিতি হওয়া উচিত ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’।

    আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার পলাশী মোড়ে অবস্থিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষ্যে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী তার বক্তব্যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—“সবার আগে বাংলাদেশ”। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা প্রত্যেকেই “সবার আগে বাংলাদেশি”। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।’

    অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে যারা মনে করত এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল যে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’; এ দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন।’

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত ছয় মাসে দেশের সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আচার সুনিশ্চিত করা হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘জনগণই বিচারক, আপনারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন। আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা থাকবে।’

    সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাবে না।’

    তিনি বলেন, ‘সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সরকার কেবল সংবিধানে এটি কিতাবী রূপে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বাস্তবেও এই সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’

    ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা সচরাচর “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি” শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি “সাম্প্রদায়িক” শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। আজ থেকে আমাদের বলতে হবে—আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।’

    মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ এর সভাপতিত্বে সমাবেশ ও মিছিলে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

    অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ‘হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।

    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

    উল্লেখ্য, জন্মাষ্টমীর মিছিলটি পলাশী মোড় (ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন) থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

  • রাজপথে হুমকি নয়, সংসদে গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন: রিজভী

    রাজপথে হুমকি নয়, সংসদে গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন: রিজভী

    গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে রাজপথে আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে সমস্যা সমস্যা সমাধানে জাতীয় সংসদে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আজ শুক্রবার বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

    বিরোধী দলের উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা গ্যাস, বিদ্যুতের জন্য লংমার্চ করবেন, কর্মসূচি দেবেন- ঠিক আছে। কিন্তু আপনারা একটা অল্টারনেটিভ বলুন, আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ কীভাবে সরবরাহ করব, কোথা থেকে পাব, কীভাবে পাব।”

    তিনি বলেন, ‘কী কী পদক্ষেপ নিলে বর্তমান সংকট মোকাবিলা সম্ভব, সে বিষয়ে বিরোধী দলের একটি পরিকল্পনা দেওয়া উচিত। সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে। সরকারের সমালোচনা ও সংসদের বাইরে কর্মসূচি পালন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা হলেও সংকট মোকাবিলায় পরামর্শ দেওয়াও প্রয়োজন।’

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘একটা পরিকল্পিত অচলাবস্থা তৈরি করা আমার মনে হয় ঠিক হবে না। বরং কীভাবে এই সংকট নিবারণ করা যায়, সেই বিষয়ে পরিকল্পনা দিতে হবে। অতীতের পুনরাবৃত্তি হলে পরিস্থিতি আরও অন্ধকারের দিকে যাবে।’

    গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে সংকট দেখা দিয়েছে। এটি সরকারের নিজস্ব কোনো কারণে হয়নি।

    জুলাই আন্দোলনে গান ও নৃত্যের ভূমিকা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আন্দোলনকারীদের মধ্যে উদ্দীপনা ও সাহস তৈরি করেছিল।

    বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি ফারহানা বেবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন, নায়ক হেলাল খান, জাকির হোসেন রুকন প্রমুখ। পরে সংস্থাটির নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।

  • লংমার্চে বাধা দিলে জনরোষের মুখে পড়তে পারে সরকার: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    লংমার্চে বাধা দিলে জনরোষের মুখে পড়তে পারে সরকার: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারি দল, তাদের সহযোগী সংগঠন কিংবা প্রশাসনের কোনো অংশ বিরোধী দলের লংমার্চে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করলে সরকার জনআস্থা আরও হারাবে। জনরোষের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হবে।

    তবে সরকারি দল সে পথে হাঁটবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা।

    আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক।

    আগামীকাল শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ। কর্মসূচির সর্বশেষ প্রস্তুতি জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক আন্দোলন করছে। লংমার্চও হবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি। সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন বিরোধী দল করছে না।

    সরকারের উদ্দেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে জনগণের আস্থা বজায় রাখা উচিত।

    জামায়াতের এই নেতা বলেন, আগামীকাল (শনিবার) সকাল সাতটা থেকে আটটার মধ্যে শাপলা চত্বরে প্রথম সমাবেশ হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সভা হবে। সর্বশেষ সমাবেশ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে।

    যানজট বা অন্য কোনো সমস্যা না হলে সন্ধ্যা সাতটার দিকে লংমার্চের বহর লালদীঘি ময়দানে পৌঁছানোর কথা। তবে এ ধরনের কর্মসূচির সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, তাই সে প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    পথে মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং পথসভার সময় সংক্ষিপ্ত রাখতে সব সভায় ১১ দলের সব নেতা বক্তব্য দেবেন না বলে জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, পথসভার আয়োজন করবে স্থানীয় শাখাগুলো এবং স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। তবে গাড়িবহরে থাকা নেতা-কর্মীরা পথসভায় নামবেন না। শুধু যাঁদের বক্তব্য দেওয়ার কথা, তাঁরাই নামবেন।

    পথে পথে আরও গাড়ি বহরে যুক্ত হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন যুক্ত হওয়া গাড়িগুলো বহরের শেষ দিকে থাকবে।

    লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক বলেন, লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ডেলিগেট কার্ড দেওয়া হবে। বাসগুলোতে থাকবে স্টিকার। নিরাপত্তা, অ্যাম্বুলেন্স, দলের সাংস্কৃতিক ও আইটি বিভাগ এবং মেডিক্যাল টিমের গাড়ি কীভাবে চলবে, সে বিষয়েও পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সব সমস্যার সমাধানে ছয় মাস যথেষ্ট সময় নয়। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়নের সময়সীমার যে ‘ট্রেন’, সেটি স্টেশন ছেড়ে চলে গেছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া এবং ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা ছিল। সরকার তা করেনি। এসব বাস্তবায়নে কত সময় লাগবে, সরকার তা সংসদেই বলুক।

    দেশে অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, তবে নৃশংসতা, বর্বরতা, লুটপাট ও দলীয়করণ আগের সরকারের তুলনায় কমিয়ে আনা যেত। কিন্তু সরকার তা না করে একই পথে হাঁটছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ফ্যাসিবাদীরা’ এখন যে আস্ফালন করছে এবং আধিপত্যবাদী শক্তির প্রশ্রয়ে বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে উসকানি দিচ্ছে, তা ছয় মাসের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল না।

    সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এখন পর্যন্ত লংমার্চ ঘিরে নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার কোনো আশঙ্কা তাঁরা করছেন না। ১১ দল ঐক্যবদ্ধ আছে। সবাই একসঙ্গে লংমার্চে গেলে দুষ্কৃতিকারীরাও ভয় পাবে।

    তবে ন্যূনতম কোনো বিশৃঙ্খলা বা হামলা হলে এর দায় সরকারি দলকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এমন ঘটনার ‘শক্ত জবাব’ দেওয়া হবে।

    পাটওয়ারী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ‘ফ্যামিলি ব্যবসা’ শুরু করেছেন। এই ব্যবসা আগে গোপালগঞ্জে ছিল, এখন বগুড়ায় শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলের দুর্নীতির খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হতে দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    এর আগে বেলা ১১টার দিকে লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ ও মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

  • নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

    নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

    নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

    জুমার নামাজ শেষে বিকেল ৩টার দিকে চকবাজার চক মসজিদ থেকে শাহবাগের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা হন আন্দোলনকারীরা। প্রায় ৪৫ মিনিট পর তারা শাহবাগে পৌঁছে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন।

    এ সময় নোয়াখালীকে দ্রুত পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করে নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

    আন্দোলনকারীরা বলেন, নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণা করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বৃহত্তর এলাকার মানুষের নাগরিক সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

    উল্লেখ্য, এ আন্দোলনে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদকে দেখা গেছে।

    এদিকে আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধের কারণে শাহবাগ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে আশপাশের সড়কগুলোতেও। ফলে ওই এলাকায় যানজট তৈরি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

    পুলিশের সঙ্গে কথা হলে সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কথা বলবেন।

  • ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সেল গঠন

    ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সেল গঠন

    রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ–নদীর দখল–দূষণ রোধ করে নদীর স্বাভাবিক নাব্য রক্ষা ও দখল হয়ে যাওয়া নদ–নদী পুনরুদ্ধার করতে কেন্দ্রীয় সেল গঠন করেছে সরকার।

    গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ সেল গঠনের কথা জানানো হয়।

    ৩৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় এ সেলের আহ্বায়ক হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। এ সেলের অধীনে থাকবে তিনটি সাব–কমিটি। প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় সেল ও এসব সাব–কমিটির কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু, ধলেশ্বরীসহ খাল, নালার দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নদ-নদী পুনরুদ্ধারে এ সেল কাজ করবে।

    কেন্দ্রীয় এ সেলের উপদেষ্টা করা হয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের। এ সেলের সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকবে নৌবাহিনী।

    ৩৭ সদস্যের এ সেলের সদস্য করা হয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগের সচিব, নৌবাহিনীর প্রতিনিধি (রিয়ার এডমিরাল পদমর্যাদার কর্মকর্তা), পুলিশের মহাপরিদর্শক, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজউক চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান, ঢাকার বিভাগী কমিশনার, নৌপুলিশের এআইজি, ঢাকা ওয়াসার এমডি, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা, অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতিনিধি, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ট্যানারি মালিক সমিতি ও ডক ইয়ার্ড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, এনজিও (পরিবেশ অধিদপ্তর মনোনীত)

    দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা অপসারণ, নদ-নদী পুনরুদ্ধার ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিতে তিনটি সাব কমিটি গঠন করে তাদের কাজ পরিধি ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সাব–কমিটি ১ শিল্পবর্জ্যসহ সকল বর্জ্যের উৎসমুখ নিয়ন্ত্রণ, সাব–কমিটি ২ খাল ও ড্রেনের বর্জ্য অপসারণ, নদী পুনরুদ্ধার ও পানির প্রবাহ সচল রাখা এবং সাব–কমিটি ৩ নদীর তলদেশে জমে থাকা স্থায়ী বর্জ্য অপসারণসহ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের কাজ করবে।

    প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় সেল তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবে। বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত চলমান প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা ও সমন্বয় করবে কেন্দ্রীয় সেল।

  • ৮ মাস আগেই শুরু বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্টের টিকিট বিক্রি

    ৮ মাস আগেই শুরু বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্টের টিকিট বিক্রি

    ২০২৭ সালের মে মাসে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এক ম্যাচের সেই সিরিজটি হবে লর্ডসে। ম্যাচ শুরুর ৮ মাস আগেই শুরু হয়ে গেছে এই টেস্টের টিকিট বিক্রি!

    আগামী বছরের ২৮ মে শুরু হবে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড লর্ডস টেস্ট। এই ম্যাচের এখনো বাকি প্রায় ৮ মাস। তবে এরই মধ্যে টেস্টের টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

    লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এই টিকিট বিক্রির খবরটি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ‘লর্ডসে ২০২৭ সালের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর জন্য সাধারণ দর্শক ব্যালট এখন উন্মুক্ত। এর মাধ্যমে সমর্থকরা ‘হোম অব ক্রিকেটে’ হতে যাওয়া গ্রীষ্মকালীন ম্যাচগুলোর টিকিট পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।’

    লর্ডস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৬ অক্টোবর সাধারণ দর্শকের জন্য বরাদ্দ ব্যালট বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই বছরের নভেম্বরের শুরুতে সফল আবেদনকারীদের প্রথম ধাপের তালিকাভুক্তদের ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে। প্রথম ধাপের সফল আবেদনকারীদের জন্য টিকিট কেনার নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে ১৭ নভেম্বর। ১০ ডিসেম্বর সাধারণ টিকিট বিক্রি শুরু করবে লর্ডস।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ২০১৬ সালে মিরপুরে সাদা পোশাকে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে ২০১০ সালে। ওই সফরেও লর্ডসে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ঐতিহাসিক এক সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তামিম ইকবাল।

  • এ্যানিকে নতুন দায়িত্ব দিলো বিএনপি

    এ্যানিকে নতুন দায়িত্ব দিলো বিএনপি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষ্যে গ্র্যাজুয়েটদের তালিকাভুক্তকরণ এবং জাতীয়তাবাদী ঐক্য পরিষদের নির্বাচন পর্যালোচনায় ৮ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে বিএনপি।

    ওই কমিটিতে বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য (এমপি) মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    কমিটির অপর সদস্যদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

    > অধ্যাপক ড. মোঃ মোর্শেদ হাসান খান, সিন্ডিকেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্যসচিব

    > ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, সদস্য

    > অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, ডিন, কলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, সদস্য

  • হয়রানি-মিথ্যা মামলা বন্ধে পুলিশ বাহিনীর প্রতি রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা

    হয়রানি-মিথ্যা মামলা বন্ধে পুলিশ বাহিনীর প্রতি রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আলী হোসেন ফকির সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

    এ সময় বর্তমান সরকার মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যা, জনগণকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখতে পুলিশ বাহিনীর প্রতি নির্দেশনা দেন।

    সাক্ষাৎকালে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

    রাষ্ট্রপতির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পুলিশকে দুষ্টের দমনে অত্যন্ত কঠোর ও শিষ্টের পালনে ন্যায়সংগত ও মানবিক আচরণ করতে হবে।

    তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া অপ তথ্য, মিথ্যা তথ্য, গুজব প্রচারসহ সাইবার অপরাধ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার দমন এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশপ্রধানকে নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি। এ ব্যাপারে জনগণকে নিয়মিত অবহিত রাখা ও ব্যাপক প্রচারণার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

    সাক্ষাৎকালে আইজিপি রাষ্ট্রপতিকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল দৃঢ় রাখতে এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।