জাতীয়

  • এক দফার হুঁশিয়ারিতে বিএনপি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না

    এক দফার হুঁশিয়ারিতে বিএনপি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, বিরোধীরা ষড়যন্ত্র করছে। এক দফা কর্মসূচি দিলে বিএনপি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। আওয়ামী লীগের মতো করে প্রতিহত করবে না বিএনপি। গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে সন্ত্রাস প্রতিহত করা কঠিন কিছু নয়।

    সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে দেশবাসী ও বিএনপির সমর্থকেরা ওয়াকিবহাল। সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলো ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্যও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প প্রস্তাব না দিয়ে লংমার্চ করছে বিরোধী দল। যে ভাষায় তারা কথা বলছে, তা সমীচীন নয়। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কাটাতে সরকার জোর চেষ্টা করছে। বিরোধীরা জনগণের কান ভারী করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

    ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে জ্বালানি সংকট নিরসনের চেষ্টা করছে। জনগণের স্বার্থে নেওয়া উদ্যোগকে কেউ কেউ ব্যঙ্গ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

  • জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের

    জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের

    জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই আহবান জানান।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। সংসারের ব্যয় মেটাতে মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনজীবনে নতুন করে সংকট সৃষ্টি করবে এবং তাদের দুর্ভোগকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু মোটরযান ব্যবহারকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। জ্বালানি পরিবহন ও উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান উপাদান হওয়ায় এর দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন, পণ্য পরিবহন, কলকারখানার উৎপাদন ব্যয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ বাড়বে। এর ধারাবাহিকতায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর বোঝা বহন করতে হবে সাধারণ জনগণকেই।”

    জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারের উচিত ছিল জনগণের ক্রয়ক্ষমতা, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার দায় সরাসরি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই জনকল্যাণমূলক নীতি হতে পারে না।

    তিনি আরো বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আগে সরকারকে বিকল্প ব্যবস্থা, ব্যয় সংকোচন, অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। শুধু মূল্য বাড়িয়ে সরকারি সংস্থার আর্থিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়বে।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে বারবার মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সরকারকে জ্বালানি তেলের লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। হঠাৎ করে কোন ঘোষণা ছাড়াই সরকার কর্তৃক জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করবে জামায়াতে ইসলামী। সোমবার বিকাল সাড়ে চারটায় জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

    এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি।

    সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। এছাড়া বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয়-মহানগরী নেতারা বক্তব্য রাখবেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

  • সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে গণবিরোধী কাজ করছে সরকার: গোলাম পরওয়ার

    সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে গণবিরোধী কাজ করছে সরকার: গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে। এজন্য সরকার একের পর এক গণবিরোধী কাজ করছে। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার গণভোটের রায় মেনে নেয়নি। সংসদে জুলাই সনদ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যাদেশ বাতিল করেছে।

    জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্বক বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি জনগণের ওপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ৭ মাসের মধ্যে ৩ বার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করেছে। ফলে দ্রব্যমূল্যসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধি হয়ে জনগণকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন আমরা তাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা করেছিলাম। কিন্তু তখনও সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী টুকু সাহেবের ব্যর্থতায় সরকার বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। এখনও আবার সেই টুকু সাহেবকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে জনগণকে দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। জনগণ এখন আর বলেন না, বিদ্যুৎ যায় আর আসে; জনগণ বলে টুকু যায় আর আসে। এই নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা থেকে দেশকে রক্ষা করতে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণ করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুবা জনগণ যেভাবে লংমার্চে রাজপথে নেমে এসেছে, পরবর্তীতে দেখা যাবে গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষ লংমার্চ নিয়ে ঢাকার দিকে ছুটছে। তখন কিন্তু গতি রক্ষা করা যাবে না বলে তিনি সরকারকে সতর্ক করেন।

    জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, সরকার রাতের অন্ধকারে প্রতি লিটার তেলের দাম ২০ টাকা করে বৃদ্ধি করেছে। ৭ মাসে ৩ বার তেলের দাম বৃদ্ধি করে সরকার জনগণের ঘাড়ে ভোগান্তির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়লেও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। সর্বস্তরে দলীয়করণ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি চলছে। পুলিশকে দলীয় বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতে মানুষ উদ্বিগ্ন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে তারা সংসদের টু-থার্ড আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে গণবিরোধী সরকারে পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে গভীর রাতে তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের ৭ মাসে ৩ বার তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। জ্বালানি তেলের সঙ্গে প্রতি সেক্টর জড়িত হওয়ায় তেলের দাম বৃদ্ধি হলে এর প্রভাব সব সেক্টরে পড়ে থাকে। কিন্তু সরকার জনগণের কথা চিন্তা না করে দুর্নীতিবাজদের স্বার্থে দফায় দফায় তেলের দাম বৃদ্ধি করছে।

    ডাকসু ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী সাদিক কায়েম বলেন, গত সাত মাসে বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার জন্য জনগণকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান করতে না পারলে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রশাসনে দলীয়করণ করে; রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা যায় না। ক্ষমতা হতে হবে জনতার জন্য। নতুবা জনতা যথাসময়ে যথাযথ জবাব দেবে। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সকল প্রতিষ্ঠানে জনগণের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব ভোগান্তি দলীয় প্রশাসক দিয়ে নিরসন সম্ভব নয়। এসব ভোগান্তি নিরসনের জন্য অবিলম্বে স্থানীয় সরকারের সকল প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন দিয়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইনসাফ ও ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিয়ে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

    সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দ্রব্যমূল্য আরও ঊর্ধ্বগতির দিকে যাবে। জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, সরকার মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার কথা বলে তেলের দাম বৃদ্ধি করছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সিন্ডিকেট, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা। সরকার পে-স্কেল দেওয়ার আগেই তেলের দাম বৃদ্ধি করে জনগণের পকেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে নিয়েছে।

    পে-স্কেলে ২৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবীকে সামান্য সুবিধা দেওয়ার নামে সরকার ১৮ কোটি জনগণের পকেট কেটে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তেলের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলসহ সর্বক্ষেত্রে লুটপাট চালাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের বাইরে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের কথা বলে গভীর রাতে তেলের দাম বৃদ্ধি শুধু জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি নয়, বরং এই সিদ্ধান্ত সরকারকেও বিপাকে ফেলবে। গণবিরোধী এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান।

    সমাবেশ শেষে, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিজয়নগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

  • পুলিশের পদকে ৯২ জনের নাম চূড়ান্ত, কারা পাচ্ছেন কোন পদক

    পুলিশের পদকে ৯২ জনের নাম চূড়ান্ত, কারা পাচ্ছেন কোন পদক

    ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পুলিশের পদক দিতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে চার ক্যাটাগরিতে পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব নাসরীন সুলতানা এতে স্বাক্ষর করেছেন।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, সেবা ও প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুলিশ কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বাংলাদেশ পুলিশ পদক-সেবা (বিপিএম-সেবা), রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) ও রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক-সেবা (পিপিএম-সেবা) দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একজনকে মরণোত্তর বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আদেশটি প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুসারে বিপিএম পদকের জন্য ১২ জন, বিপিএম-সেবার জন্য ১৮, পিপিএমের জন্য ১৮, পিপিএম-সেবার জন্য ৪৪ জনসহ মোট ৯২ জনকে পুলিশ পদকের জন্য নাম চূড়ান্ত করেছে সরকার।

    প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার র‍্যাব-৭-এর নায়েব সুবেদার মরহুম মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া (মরণোত্তর), পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ১২ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম); পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল, নৌ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. রেজাউল করিমসহ ১৮ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক-সেবা (বিপিএম-সেবা); সিলেটের র‍্যাব-৯-এর মেজর আসিফ আল-রাজেক, মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশারসহ ১৮ জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) এবং স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের ডিআইজি (সিটিএসবি) মীর আশরাফ আলী, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাইদসহ ৪৪ জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক-সেবা (পিপিএম-সেবা) পদক দেওয়ার জন্য নাম চূড়ান্ত করেছে সরকার।

    বিপিএম পাচ্ছেন যাঁরা

    বিপিএম পাওয়া ১২ জন হলেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গার র‍্যাব-৭-এর নায়েব সুবেদার মরহুম মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া (মরণোত্তর); পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির; ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম; ডিএমপির ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগের যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক জোনের পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মাহমুদ আলম; মুন্সিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আবুল কালাম আজাদ; কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) অর্ণব বড়ুয়া; ডিএমপির গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগের এসআই (নিরস্ত্র) কৃষ্ণ কুমার দাস; ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, টেকনাফের এসআই (নিরস্ত্র) আজিজুল হাকিম; ডিএমপির গুলশান মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. সুমন ইসলাম; ডিএমপির ট্রান্সপোর্ট বিভাগের কনস্টেবল/১৭৫৩১ মো. শাহ আলম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনসের কনস্টেবল/১৪২৮ দিলোয়ার মিঞা।

    বিপিএম-সেবা পাচ্ছেন যাঁরা

    বিপিএম-সেবা পাওয়া ১৮ জন হলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল; নৌ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. রেজাউল করিম; রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ; ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক; ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন; পুলিশ অধিদপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অপারেশনস) শাহজাদা মো. আসাদুজ্জামান; র‍্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী; র‍্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের লে. কর্নেল মোহা. জয়নুল আবেদীন; টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার; নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক; গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ্; ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ; দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন; ডিএমপির গোয়েন্দা-রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মেজবাহ উদ্দিন; ডিএমপির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ-উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) গোলাম ফারুক; পিবিআইয়ের ফরেনসিক, স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন শাখার সার্জেন্ট মো. নাভিদ ইমতিয়াজ; পিবিআই যশোর জেলার এসআই (নিরস্ত্র) রতন মিয়া এবং পিবিআই খুলনা জেলার এসআই (নিরস্ত্র) রেজোয়ান।

    পিপিএম পাচ্ছেন যাঁরা

    পিপিএম পাওয়া ১৮ জন হলেন র‍্যাব-৯, সিলেটের মেজর আসিফ আল-রাজেক; মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার; চট্টগ্রামের হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ; চাঁদপুরের মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসাইন সানীব; হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাক আহম্মদ চৌধুরী; কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া; চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. রোবেল আফ্রাদ; রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মফিজুল ইসলাম; খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের লবণচরা থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আশরাফুল আলম; গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা-উত্তর বিভাগের এসআই (নিরস্ত্র) মো. জাহাঙ্গীর আলম; চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনসের এসআই (নিরস্ত্র) নূপন নাথ; র‍্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জের এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইব্রাহিম মিয়া; চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) অসিত কুমার বসাক; ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মো. তোয়াজ্জুল ইসলাম খান; রাজশাহীর বাঘা থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোহা. সিফাত রেজা; ডিএমপির গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগের এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ তানভীর তুষার; ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৩, চট্টগ্রামের কনস্টেবল/৩৪১৯ আরিফুল আহাম্মদ এবং একই ইউনিটের কনস্টেবল/৮৭ মো. মেরাজুল ইসলাম।

    পিপিএম-সেবা পাচ্ছেন যাঁরা

    পিপিএম-সেবা পাওয়া ৪৪ জন হলেন স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের ডিআইজি (সিটিএসবি) মীর আশরাফ আলী; রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাইদ; রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির; রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মু. মাহবুবুর রশীদ; ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. খালিদুল হক হাওলাদার; মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান; ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মাহমুদ; হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন; পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার; শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান; পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার শটীন চাকমা; কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান; বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার; ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ; পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পিআইও) আবদুল করিম; চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহিম; কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত সরকার; ডিএমপির ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের (উত্তর-বিভাগ) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আমিনুল হক বাপ্পী; ডিএমপির উত্তরা বিভাগের বিমানবন্দর জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জিসানুল হক; ১৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, উত্তরা, ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনিতা রানী সূত্রধর; গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার চৌধুরী মো. তানভীর; ডিএমপির রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাদ্দাম হোসেন; র‍্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহফুজার রহমান; ডিএমপির ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আসলাম সাগর; সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুল হাবিব; পুলিশ অধিদপ্তরের পিআইও শাখার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম; ডিএমপির বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার; পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. সাইদুল ইসলাম; চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির; ডিএমপির মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দীন; চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা-দক্ষিণ বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাবুল আজাদ; সিআইডি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ও জেলার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) নাছির উদ্দিন রাসেল; পিবিআই ঢাকা জেলার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মনজুর রহমান; পুলিশ টেলিকম সংস্থা, রাজারবাগ, ঢাকার টেলিকম টেকনিশিয়ান (এসআই) মো. মাজহারুল হক; লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মাজহারুল হক; পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ সাইদুর রহমান; গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই (নিরস্ত্র) এস এম মেহেদী হাসান; পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার এসআই (নিরস্ত্র) মো. রিয়াজ উদ্দিন রনি; ডিএমপির ট্রাফিক-গুলশান বিভাগের ট্রাফিক-গুলশান জোনের সার্জেন্ট মো. কামাল উদ্দিন; গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই (নিরস্ত্র) সুদীপ চন্দ্র বিশ্বাস; স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের সিটিএসবি শাখার এসআই (নিরস্ত্র) তুহিনা নাসরিন; ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইখলাছুর রহমান; পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখার কনস্টেবল/৫৩৬৪ বাদশা ফাহাদ এবং ডিএমপির গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের (দক্ষিণ বিভাগ) কনস্টেবল/১১৯৮২ মো. শিহাব উদ্দিন।

  • সারে বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা কমিশন চান ডিলাররা, নতুন ডিলার নিয়োগ স্থগিতের দাবি বিএফএর

    সারে বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা কমিশন চান ডিলাররা, নতুন ডিলার নিয়োগ স্থগিতের দাবি বিএফএর

    বস্তাপ্রতি সারের বিক্রয় কমিশন ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা করা এবং নতুন সার ডিলার নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)।

    আজ সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনটির চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৮ বছর ধরে বস্তাপ্রতি সারের বিক্রয় কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। এ সময়ে জ্বালানি তেলের দামসহ পরিবহন ব্যয় এবং দ্রব্যমূল্য কয়েক দফা বেড়েছে। ফলে সার ডিলারদের ব্যবসায়িক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বিএফএর চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, ২০০৮ সালে বস্তাপ্রতি পরিবহন খরচ ও বিক্রয় কমিশন মিলিয়ে ১০০ টাকা থাকায় পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে ডিলাররা বস্তাপ্রতি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা কমিশন পেতেন। বর্তমানে একই ব্যবস্থায় বস্তাপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তিনি বলেন, সরকার বস্তাপ্রতি কমিশন ৫০ টাকা বাড়িয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্ত ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ডিলারদের কমিশন ‘না লাভ, না ক্ষতি’ পর্যায়ে পৌঁছাবে। তাই ডিলারদের টিকে থাকার স্বার্থে বস্তাপ্রতি কমিশন আরও ১০০ টাকা বাড়িয়ে ২০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।

    মোশারফ হোসেন বলেন, কমিশন না বাড়ালে ডিলাররা ধীরে ধীরে এ ব্যবসার প্রতি আগ্রহ হারাতে পারেন। এতে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিনের ডিলারদের ব্যবসায় টিকে থাকার সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৬ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। বিএফএর পক্ষ থেকে বলা হয়, নীতিমালার বিভিন্ন ধারায় অসংলগ্নতা, অসাংবিধানিকতা ও স্ববিরোধিতা রয়েছে। এসব বিষয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।

    বিএফএর দাবি, ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আইনগতভাবে নিষ্পত্তির জন্য ৬০ দিনের রুল জারি করেছেন। তবে আদালতের রুল জারির পরও দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে নতুন ডিলার নিয়োগের কার্যক্রম চলমান বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

    সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, নীতিমালার বিতর্কিত ধারাগুলো স্পষ্ট করার বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় এখনো বিএফএর সঙ্গে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ অবস্থায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়ী থাকতে হবে বলেও বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করা হয়।

  • মহাসড়কের পাশে ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালু হচ্ছে, বদলে যাচ্ছে নাম

    মহাসড়কের পাশে ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালু হচ্ছে, বদলে যাচ্ছে নাম

    দেশের মহাসড়কগুলোর পাশে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃতভাবে পড়ে থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এসব ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে নামকরণ করা হবে। একই সাথে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    দীর্ঘদিন পড়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিকস নিশ্চিত করে ২৪টি কেন্দ্রেই পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে। গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বৈঠকে এসব কেন্দ্র চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    বৈঠকে বিদ্যমান ২৪টি ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে নামকরণ করতে হবে এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সাথে আলোচনা করে সড়ক ও মহাসড়কের পাশে খালি জায়গায় প্রকল্পের মাধ্যমে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধন্ত গ্রহণ করা হয়।

    এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্স ও যন্ত্রপাতির সংস্থান স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অনুমোদিত বাজেট থেকে নির্বাহ করতে হবে বলেও বৈঠকে নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

    সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন সময়ে এই ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালু করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল আহতদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় এনে প্রাণহানি কমানোই। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায়, বছরের পর বছর ধরে এসব সেন্টার অব্যবহৃত পড়ে আছে।

    স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি ও ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে মাত্র দুটিতে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। একটি সংশ্লিষ্ট জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ করে মাথা, বুক, মেরুদণ্ড ও হাড়ে গুরুতর আঘাত পাওয়া রোগীর দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। তিন তলা ভবনে ২০ শয্যার আইসিইউ ও ৪০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

    এমনই একটি কেন্দ্র হলো সিরাজগঞ্জ সদরের মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টার। ঢাকা-রাজশাহী-রংপুর মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে ২০২০ সালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়। ছয় বছর অব্যবহৃত থাকার পর গত কোরবানির ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের সেবা দিতে ২১ মে থেকে ১৪ দিনের জন্য অস্থায়ীভাবে কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। পরে এটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।

    পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, সিরাজগঞ্জ সদর ও উল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা (মধুখালী), মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী ও রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক এবং হবিগঞ্জের বাহুবলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব কেন্দ্র অবস্থিত।

    মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ট্রমা সেন্টারে সাতজন কনসালট্যান্ট, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেটিস্ট ও দুজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ মোট ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা ছিল।

    এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন নার্সের পাশাপাশি ফার্মাসিস্ট, রেডিওগ্রাফার ও অন্যান্য টেকনিশিয়ান থাকার কথা ছিল।

    তবে কোনো কেন্দ্রেই প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বাসস’কে বলেন, ‘মহাসড়কগুলোকে কেন্দ্র করে আমরা চব্বিশটি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। খুব দ্রুতই এগুলোকে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সেন্টার’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।

    ভবিষ্যতে এটিকে আমাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার (হেলথ সিস্টেম) একটি টেকসই অংশ হিসেবে পরিচালনা করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’

  • পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

    আজ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

    বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন–সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে এবং ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, তদন্ত এবং দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশের পর চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এতে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে।

  • প্রতিবেশী দেশে পাচার রোধে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার

    প্রতিবেশী দেশে পাচার রোধে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পেছনের কারণ জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তার ভাষ্য, বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি করা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন মূল্য সমন্বয় না করায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সিদ্ধান্তটি অজনপ্রিয় হলেও সরকারকে তা নিতে হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রহর থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই জ্বালানি তেলের দাম সবচেয়ে কম ছিল। এর ফলে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী ভাইদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা, যা আমাদের রিজার্ভের প্রধানতম খাত—সেই মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে পাচার হওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়েছিলাম আমরা। এমতাবস্থায় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে এবং পাচার বন্ধে সরকারকে এই মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।’

    জ্বালানি খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক মানুষের জন্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হতে পারত বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তার মতে, এতে বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার মতো কর্মসূচিগুলো মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

    বিপিসির লোকসানের তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করায় বিপিসির লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির গড়ে প্রতি মাসে লোকসান হয়েছে ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা।’

    তিনি জানান, বাংলাদেশকে প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ টন। মূল্য সমন্বয়ের আগে ডিজেলে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হচ্ছিল। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও প্রতি লিটারে গড়ে প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বিপিসিকে।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা না হলে শুধু ডিজেলের ক্ষেত্রেই বছরে সরকারের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতো। সব ধরনের জ্বালানি মিলিয়ে বার্ষিক লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাত।’

    আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বিমা প্রিমিয়াম ও জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় মূল্য সমন্বয় না করে সরকারের সামনে বিকল্প ছিল না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর ডিজেলের তৎকালীন বাজারদরের তথ্যও তুলে ধরেন।

    এদিকে, নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব যাতে সর্বনিম্ন রাখা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘এরকম একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। জনগণের জীবনমানের কষ্ট লাঘবের অভিপ্রায়ে রাজনীতিতে এসেছি। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জনগণের যে কষ্ট হবে, এটি আমি উপলব্ধি করি।’

  • জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে বরাদ্দ ১১৯ কোটি টাকা

    জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে বরাদ্দ ১১৯ কোটি টাকা

    জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণের জন্য দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর অনুকূলে এককালীন ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা খাতের বিশেষ বরাদ্দ উপখাত থেকে এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ-২ শাখা থেকে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করা হয়।

    স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ-২ শাখার উপসচিব বিষ্ণুপদ পাল এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশে স্বাক্ষর করেন।

    আদেশে বলা হয়, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদগুলোর অনুকূলে মোট ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা অবমুক্তির সরকারি মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি আদেশ অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ট্রেজারি রুলস (টিআর) ফরম-৩২ অনুযায়ী বিল প্রস্তুত করতে হবে। ওই বিলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিস্বাক্ষর নিয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে।

    বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিলের বিপরীতে অ্যাকাউন্ট পে চেক বা অ্যাডভাইস ইস্যু করা হবে।

    আদেশে বলা হয়েছে, জেলা কার্যালয় থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে চেকের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হবে। আর উপজেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো অ্যাডভাইসের ভিত্তিতে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করবে। এই ব্যয় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটের নির্ধারিত মঞ্জুরি ও সংশ্লিষ্ট হিসাব খাতের বরাদ্দ থেকে মেটানো হবে।

    অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০২১ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন ছাড়া অন্য কোনো কাজে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

    সরকারি আদেশে আরও বলা হয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধকারী আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন। একই সঙ্গে বরাদ্দ থেকে অব্যয়িত অর্থ আগামী ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের এ অর্থ অবমুক্তির বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতিও রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে সম্মতি দেয়।

  • লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়ল প্যাকেটজাত তরল দুধ

    লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়ল প্যাকেটজাত তরল দুধ

    দেশের বাজারে প্রায় সব ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়ানোর কারণ দেখিয়ে দাম সমন্বয় করেছেন দুগ্ধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে বর্তমানে মিল্কভিটার এক লিটার প্যাকেটজাত দুধ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। গত মাসে পণ্যটির দাম ১০ টাকা বাড়ানো হয়। একই সময়ে আধা লিটার প্যাকেটের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

    এদিকে ফার্ম ফ্রেশ, আড়ং ও প্রাণ ডেইরির আধা লিটার প্যাকেটজাত তরল দুধ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। এসব ব্র্যান্ডের এক লিটারের প্যাকেটের দাম ১১০ থেকে ১১৫ টাকা।

    এদিকে দুধের দাম বাড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তাদের মতে, দৈনন্দিন পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হওয়া সত্ত্বেও ধারাবাহিক দাম বাড়ানোর কারণে অনেক পরিবারের জন্য নিয়মিত দুধ কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।

    খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন, দাম বাড়ার পর তরল দুধের বিক্রি কমেছে। তাদের অভিযোগ, একসঙ্গে প্রায় সব ব্র্যান্ডের দুধের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

    তবে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। প্যাকেজিং উপকরণ, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে আগের তুলনায় বেশি ব্যয় হচ্ছে।