জাতীয়

  • জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক, আ.লীগের শতাধিক নেতাকর্মী আটক

    জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক, আ.লীগের শতাধিক নেতাকর্মী আটক

    রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে অবস্থিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয় থেকে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

    শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের আটক করা হয়।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম বলেন, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাই যে, জাসদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে গোপন বৈঠক করছেন। সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এখান থেকে তাদের আটক করা হয়। তারা যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারেন, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    অভিযান সম্পূর্ণ শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

  • শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়াদের আপিলের সুযোগ চান ডাকসু ভিপি

    শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়াদের আপিলের সুযোগ চান ডাকসু ভিপি

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ভেরিফিকেশনের নামে বাদ পড়া পরীক্ষার্থীদের কারণ জানানো এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপিলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

    শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ভেরিফিকেশনের নামে উত্তীর্ণ তরুণদের বাদ দেওয়া চরম বৈষম্যমূলক, অন্যায্য ও অন্যায় সিদ্ধান্ত।

    সাদিক কায়েম বলেন, যে তরুণকে বাদ দেওয়া হয়েছে তিনি নিজেই জানেন না কেন তাকে বাদ দেওয়া হলো। বাদ পড়াদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা, কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ার রেকর্ড বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। অথচ কোনো সুস্পষ্ট কারণ না দেখিয়েই শত শত মেধাবী তরুণের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে।

    সাদিক কায়েমের অভিযোগ, সরকারি চাকরিতে দলীয়করণ এবং ভেরিফিকেশনের নামে নিয়োগ বাতিলের এই প্যাটার্ন বর্তমান সরকার ‘ফ্যাসিবাদী আমল’ থেকে ধার করেছে। তার মতে, এটি সেই কাঠামোরই পুনরাবৃত্তি, যেখানে মেধা ও যোগ্যতার চেয়ে পরিচয়, আনুগত্য ও রাজনৈতিক বিবেচনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    তিনি বলেন, আজ একজন তরুণকে তার যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, ভেরিফিকেশনের মতো অস্পষ্ট প্রক্রিয়ায় চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। কাল একই ভয় দেখিয়ে একটি পুরো প্রজন্মকে নতজানু করে রাখার চেষ্টা করা হতে পারে। বাদ পড়া প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর বিষয়ে পুনঃসিদ্ধান্ত নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

    দেশের অধিকাংশ শিক্ষিত তরুণ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসে উল্লেখ করে সাদিক বলেন, উচ্চশিক্ষা শেষ করে একটি চাকরি পাওয়া তাদের কাছে শুধু ক্যারিয়ার গড়ার বিষয় নয়; পরিবারের পাশে দাঁড়ানো ও একটু ভালোভাবে বাঁচার একমাত্র উপায়। ভেরিফিকেশনের নামে সেই স্বপ্নকে জিম্মি করে সরকার দেশের শিক্ষিত প্রজন্মকে দলীয় আজ্ঞাবহ প্রজন্মে পরিণত করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বিবৃতিতে সরকারের কাছে ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন ডাকসুর ভিপি। একই সঙ্গে ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি ও অনিশ্চয়তা বন্ধ করে অন্যায্যভাবে বাদ পড়া প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর বিষয়ে পুনঃসিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    কোনো পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকলে তা ওই পরীক্ষার্থীকে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপিলের সুযোগ রাখার দাবি জানান সাদিক কায়েম।

    তিনি বলেন, সরকারি চাকরির প্রতিটি নিয়োগ হতে হবে সম্পূর্ণ পক্ষপাতমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন। মেধা ও যোগ্যতাই নিয়োগের একমাত্র মাপকাঠি হতে হবে।

    সাদিক কায়েম আরও বলেন, সহস্রাধিক শহীদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বিএনপি সরকারের এ সিদ্ধান্ত বৈষম্যবিরোধী জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা।

  • স্বাস্থ্যসেবা উন্নত না হলে প্রকৃত সমৃদ্ধি সম্ভব নয়: রিজভী

    স্বাস্থ্যসেবা উন্নত না হলে প্রকৃত সমৃদ্ধি সম্ভব নয়: রিজভী

    স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত না হলে একটি দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

    ওয়ার্ল্ড ফার্মাসিস্ট ডে-২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    রুহুল কবীর রিজভী বলেন, দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অর্থ বা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও জাতীয় সমৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

    ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ডের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একটি ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একজন রোগীর চিকিৎসার অধিকার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, এ ধরনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে দেশের হাসপাতাল, ক্লিনিক, ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। চিকিৎসকের দায়িত্বের পাশাপাশি রোগীর প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

    দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, দেশে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়। এর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের ওষুধশিল্পকে আরও শক্তিশালী ও মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সমাজের ঝুঁকিপূর্ণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনেকেই সহজে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন না। তাদের জন্য ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ডের মতো উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

    রিজভী আরও বলেন, শান্তি ও সমৃদ্ধির যে লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছে, তা অর্জনের জন্য জাতীয় ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ। আর সমৃদ্ধি বলতে শুধু মানুষের আয় বা খাদ্য কেনার সক্ষমতা বোঝায় না; একজন মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সক্ষমতাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    তিনি আরও বলেন, যে দেশ তার নাগরিকদের উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে না, সেই দেশের সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নও পূর্ণতা পায় না। তাই জাতীয় সমৃদ্ধির সূচকগুলো মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবার অবস্থান ও মানকে গুরুত্ব দিতে হবে।

    দেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে পেশাজীবীদের জ্ঞান, দক্ষতা, চিন্তা, উদ্ভাবন ও নতুন ধারণাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, অতীতে বিভিন্ন সেক্টরে দলীয়করণ ও দখলদারিত্বের মাধ্যমে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভবিষ্যতে এসব খাতকে উন্নত করতে পেশাজীবীদের চিন্তা, উদ্ভাবন ও দক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাংলাদেশকে শান্তিময় ও সমৃদ্ধিশালী করতে স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

    সোসাইটি অফ বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টের আহ্বায়ক মো. জাকারিয়া হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, ইউজিসির সদস্য ড. আসলাম হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর ড. মামুনুর রশিদ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর ড. শফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. মো. সোহেল রানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ডিন প্রফেসর সেলিম রেজা, একই বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. শাহ আরমান প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. মো. আব্দুর রশিদ।

  • কারাগারের চার দেয়ালে ৬২ শিশুর শৈশব

    কারাগারের চার দেয়ালে ৬২ শিশুর শৈশব

    কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার দেশের একমাত্র বিশেষায়িত ও প্রথম পূর্ণাঙ্গ নারী কারাগার। সাধারণ বন্দিদের পাশাপাশি বন্দি মায়েরা তাদের ছোট সন্তানদের সঙ্গে রাখতে পারেন।

    বর্তমানে ওই কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে বেড়ে উঠছে ৬২ শিশু। এর মধ্যে ২৭ জন ছেলে শিশু ও ৩৫ জন মেয়ে শিশু। এসব শিশুর জন্য রয়েছে পরিচর্যা কেন্দ্র ও শ্রেণিকক্ষ।

    কারাসূত্রে জানা যায়, মোট ৬৩ শিশু ছিল কারাগারে। তবে গত মঙ্গলবার ফেনীর সোনাগাজীতে আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মায়ের সঙ্গে সাত বছর কারাবন্দি জীবন কাটিয়ে মুক্তি পেয়েছে মোবাশ্বেরা খানম রাথী। ফলে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে ৬২ জন শিশু।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ২০১৯ সালে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন কামরুন্নাহার মনি। কারাগারেই মোবাশ্বেরা খানম রাথী নামে কন্যাসন্তান জন্ম দেন তিনি। মায়ের পেটে থেকেই কারাবন্দি জীবন শুরু তার। দীর্ঘ সাত বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি মিলেছে তাদের।

    মুক্তিপ্রাপ্ত কামরুন্নাহার মনি বলেন, আমার বাচ্চাকে ক্লাস টুয়ের বই পড়াচ্ছি। কুরআন পড়ানো শিখাইছি। আমার মেয়েকে কুরআনের শেষের এক পাড়া মুখস্থ করাইছি। মা হিসেবে আমার দায়িত্ব কারাগারের ভেতর থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। পায়ের মোজা দিয়ে মেয়েকে পুতুল বানিয়ে দিয়েছি। কারণ কোনো কিছু দেওয়ার সামর্থ্য আমার ছিল না। সেই পুতুল দিয়ে মেয়ে খেলা করত। জামা কেটে স্কুলব্যাগ বানিয়ে দিয়েছি। সেই ব্যাগ নিয়ে সে স্কুলে যেত।

    কাশিমপুর মহিলা কারাসূত্রে জানা যায়, কাশিমপুর মহিলা কারাগারে ধারণক্ষমতা ২১২ জনের। বর্তমানে সাড়ে ৭শ জনের বেশি বন্দি রয়েছেন। বন্দি নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যা মামলার আসামি। মাদক মামলা ও সাধারণ মামলার বন্দিরাও রয়েছেন। এছাড়াও মৃত্যুদণ্ডের কয়েদি রয়েছেন।

    কলমিলতা ভবনে সাধারণ বন্দি ও মাধবীলতা ভবনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরা থাকেন। এসব বন্দির মধ্যে অর্ধশতাধিক মায়েদের সঙ্গে চার দেয়ালে শৈশব কাটছে ৬২ জন শিশুর। তবে ধারণক্ষমতার থেকে বেশি বন্দি থাকায় শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    শিশুদের পরিচর্যা ও সুস্থ বিকাশের জন্য রয়েছে একতলা একটি ডে কেয়ার সেন্টার। এই কেন্দ্রটিতে একটি ছোট খেলার মাঠ, শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি এবং খেলাধুলার নানা সরঞ্জাম রয়েছে। এখানে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়। ডে কেয়ার সেন্টারের জন্য শিক্ষক রয়েছেন। তিন বছরের বেশি বয়সি শিশুদের অক্ষরজ্ঞান ও প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। পড়াশোনার পাশাপাশি নৃত্য, গান ও চিত্রাঙ্কনও শেখানো হয়।

    কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেলার মোছা. আলিভা শারমিন বলেন, আমাদের কারাগারে শিশু রয়েছে ৬২ জন। এসব শিশুর জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। সেখানে শিক্ষক, আয়া সবাই রয়েছেন। তাদের খুবই যত্নসহকারে লালন-পালন করা হয়ে থাকে।

    কাশিমপুর কারাগারের অতিরিক্ত জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকা শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের কথা বিবেচনা করে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। শিশুদের থাকা-খাওয়া, লেখাপড়া ও বিনোদনের পাশাপাশি ডে-কেয়ার ও স্কুলের ব্যবস্থাও রয়েছে। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে যেন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়, সেই বিষয়েও কারা কর্তৃপক্ষ নজর রাখে।

  • সৌরবিদ্যুতের পালে জোর হাওয়া

    সৌরবিদ্যুতের পালে জোর হাওয়া

    গ্যাসের সংকট, জ্বালানি আমদানির চাপ আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাড়তি ব্যয়ের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে সৌরবিদ্যুৎ। দেশের কারখানা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি ও হাটবাজারের ছাদে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সৌর প্যানেল। ইতোমধ্যে ২৩৯টি বড় শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসক্ষমতা ৬৬৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। এবার অব্যবহৃত সরকারি ছাদ কাজে লাগিয়ে আরও প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, সরকারি হাসপাতাল থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান-বাদ যাচ্ছে না গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থাপনাই। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসক্ষমতা ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট এবং অফ-গ্রিড ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করা।

    নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে আগামী ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর গুলশানের বাসায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু করবেন বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও গ্রোথ সেন্টারের ছাদে সৌর প্যানেল বসানোর কর্মসূচিতে প্রাথমিকভাবে ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এলজিইডি, সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, ওয়াসা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ ৬ হাজার ৫৪৪টি স্থাপনা এ কর্মসূচির আওতায় আসবে। উৎপাদিত বিদ্যুতের একাংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করবে, আর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা।

    শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, শিল্পকারখানায়ও সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটছে দ্রুত। আইইইএফএ-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩৯টি বড় শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ৬৬৭ মেগাওয়াট। ছোটবড় স্থাপনা মিলিয়ে দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট। আকিজ, প্রাণ-আরএফএল, আবুল খায়ের, ডিবিএল, বিএসআরএম, কাজী ফার্মসসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে রুফটপ সোলারে গেছে। গ্যাসসংকটে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও সৌরবিদ্যুৎ তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুৎ জোগাচ্ছে। গ্রাহকের বাড়ির ছাদও এবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র হতে যাচ্ছে। ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সায় কিনবে সরকার। ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকারী গ্রাহক এ সুবিধা পাবেন। সুপারস্টার রিনিউয়েবল এনার্জি গত ৫-৭ বছরে ১৫০টি কারখানায় ১০০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার রুফটপ স্থাপন করেছে। এ চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ডিজেল জেনারেটরে শিল্পকারখানায় প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় বিদ্যুতে যে উৎপাদন খরচ হয় তার থেকে রুফটপ সোলারে খরচ অনেক কম।

    এদিকে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য মানসম্মত সরঞ্জাম আমদানিতে নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিম্নমানের প্যানেল ঠেকানোর পাশাপাশি দক্ষ কারিগরি সেবা নিশ্চিত করা না গেলে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হবে। তবে জ্বালানি আমদানির চাপ ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকায় দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে।

  • স্থানীয় সরকার বিভাগের জরুরি নির্দেশনা, সব উপজেলায় চিঠি

    স্থানীয় সরকার বিভাগের জরুরি নির্দেশনা, সব উপজেলায় চিঠি

    স্থানীয় সরকারের আওতাধীন সব স্থাপনা, হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি দেশের উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়।

    টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিটি হাট ও বাজারের স্থায়ী শেড এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভিন্ন বাজারে নির্মিত চার-পাঁচতলা ভবনের ছাদের আয়তন বিবেচনায় নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যমান দাপ্তরিক মূল ভবন ও আওতাধীন ভবনগুলোতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকারের ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এতে সরকার ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

    এসব প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপন করে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকারের আওতাধীন পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডির দপ্তরসমূহ, ওয়াসা, জনস্বাস্থ্য এবং সারা দেশের যত হাট-বাজার বা গ্রোথ সেন্টার আছে, এটার সংখ্যা ৬ হাজার ৫৪৪টি। তিনি বলেন ‘এসব প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যাচ্ছি।’

    তিনি বলেন, ‘আলাদা আলাদা চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ কাজে মোট ৩৭০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।’

  • বিশ্ববাজারে কমলে দেশেও তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী

    বিশ্ববাজারে কমলে দেশেও তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী

    বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    শুক্রবার যশোর জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যোগ দিয়ে তিনি এ কথা জানান।

    জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধির কোনো চিন্তা নেই সরকারের। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে জনগণকে স্বস্তি দিতে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের চেষ্টা করবে সরকার।

    অন্যদিকে, দেশে গ্যাস নিয়ে সাময়িক যে সমস্যা ছিল, তা কেটে গেছে। এখন গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক বলে এ সময় উল্লেখ করেন।

  • ইউপি নির্বাচন নিয়ে দোটানায় ইসি

    ইউপি নির্বাচন নিয়ে দোটানায় ইসি

    স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার মধ্যে নভেম্বর-ডিসেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, জানুয়ারিতে ভোট শুরুর চিন্তা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ৪০-৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। নভেম্বরে হতে পারে তফসিল। গতকাল নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচন কমিশন-ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনায় পরীক্ষার ফাঁকে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ-ইউপির ভোটের জন্য সম্ভাব্য সময় ছিল- প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ আগামী বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ ২৭ মে। কিন্তু আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সরকারের তরফে পরীক্ষার কারণে নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট না করার পরামর্শ আসে। এমন পরিস্থিতিতে ইসির নির্বাচনি পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসছে।

    সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি সরকারের কোনো ধরনের চাপের মধ্যে নেই দাবি করে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বাস্তবতার নিরিখে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখে ভোটের সম্ভাব্য সময় পেছাচ্ছে।

    তিনি বলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা ও অন্যান্য বিষয়গুলো রয়েছে, এখানে আর ভোটের সুযোগ দেখছি না আমরা। সাধারণত বার্ষিক পরীক্ষা নভেম্বর-ডিসেম্বরে হয়। আশা করি, পাবলিক পরীক্ষাগুলো ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গেলে জানুয়ারির দিকে ইনশা আল্লাহ ভোট করতে পারব। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের পর ৬ জুনের মধ্যে ইউপি ভোট শেষ করার বিষয়ে সবাই সম্মত হয়েছে। কিন্তু জানুয়ারিতে ভোট শুরু করে সাড়ে চার হাজার ইউপির ভোট শেষ করা সম্ভব কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, রোজা, এসএসসি, পরীক্ষা, এইচএসসি পরীক্ষা সব দিক বিবেচনা করে ইসি সিদ্ধান্ত নেবে। আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সম্ভাব্য সময়ের কথা বলেছি, কোনো কিছু চূড়ান্ত নয়। এটা একটা টাইমলাইন, আমরা চিন্তা ভাবনা করেছি; স্পেসিফিক ডেট হবে তফসিল ঘোষণার পর।’ সরকারের চাপে ইউপি ভোট নিয়ে ইসি পরিকল্পনা থেকে পিছিয়েছে কি না জানতে চাইলে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, অনেকে অনেক কথা বলবে। মোটেই না। বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর লেখাপড়া যাতে বিঘ্ন না হয় সেটা বিবেচনা করে আমাদের পরিকল্পনা একটু পরিবর্তন হয়েছে। তিনি জানান, পাবলিক পরীক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যুক্ত থাকেন, তাই এই সময়টাতে নির্বাচন করা কঠিন। বাস্তবতার নিরিখে ইসির ঘোষিত সময়ে পরিবর্তন করা হয়েছে।

  • ‘বুকে পাথর চাপা দিয়ে’ নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি: গোলাম পরওয়ার

    ‘বুকে পাথর চাপা দিয়ে’ নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি: গোলাম পরওয়ার

    দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ‘বুকে পাথর চাপা দিয়ে’ গত জাতীয় নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে ওই নির্বাচনের ফল ম্যানিপুলেট করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহে খুলনা বিভাগীয় জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করে তারা গত জাতীয় নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বক্তব্য থেকে তারা জানতে পেরেছেন, নির্বাচনের ফল ম্যানিপুলেট করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথ থেকে সরে গেছে। জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সহযোগিতা করে এলেও তাদের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও আচরণ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ‘সরকারকে সহযোগিতা করে আসছে জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু সরকার এটিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখছে এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিচ্ছে।’

    অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার জামায়াতের সংসদ সদস্যসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিরোধী দল ৫ আগস্টের বিজয়কে কলঙ্কিত করছে: রিজভী

    বিরোধী দল ৫ আগস্টের বিজয়কে কলঙ্কিত করছে: রিজভী

    বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আজকে আপনারা যে পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, আপনাদের পেটুয়া বাহিনী দিয়ে, গুপ্ত-সুপ্ত দিয়ে যে ধরনের কথা বলছেন, সেই কথার মধ্যে দিয়ে আজকে পরাজিত শক্তি সাহস পাচ্ছে, তারা উৎসাহিত হচ্ছে। কোন সাহসের উপর ছাত্রদলের ছেলেদেরকে বলছে, কুকুরের মত তাদেরকে আপনারা মারবেন? ৫ আগস্টের বিজয়, আপনারা সেই বিজয়কে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছেন।’

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে ‘সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে’র বিরুদ্ধে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার যে গণতন্ত্রের পরিবেশ তৈরি করছে, এইখানে আপনারা লং মার্চ করছেন, আপনারা বিক্ষোভ সভা করছেন, আপনারা মঞ্চে উঠে হুংকার দিচ্ছেন—কাউকে কুকুরের মত মারবেন বলছেন, কাউকে আপনারা ধাওয়া করছেন এবং সরকারি সম্পত্তি আপনারা ধ্বংস করছেন। যেমন রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ধ্বংস করেছে এই গুপ্ত এবং সুপ্তের লোকজনরা।’

    বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের যে ঘটনা ঘটছে, মিছিল করছে পরাজিত ফ্যাসিস্টরা। এইটার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে বিএনপি বলে আপনারা প্রচার করছেন, আরে ভাই তাহলে আপনারা কোন সুযোগে রেলওয়ে স্টেশন ভাঙছেন? আপনারা কোন সাহসের উপর ছাত্রদলের ছেলেদেরকে বলছে কুকুরের মত তাদেরকে আপনারা মারবেন? এটা কোন সুযোগের উপরে বলছে? আপনারা কাদের কথা বলছেন? আজকে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশে গাড়িতে আগুন লাগাচ্ছে কে? সিএনজিতে আগুন লাগাচ্ছে কে? ট্রেনে আগুন লাগাচ্ছে কে? আজকে আপনারাই সেই সুযোগ তৈরি করেছেন। আজকে আপনারা যে পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, আপনাদের পেটুয়া বাহিনী দিয়ে, গুপ্ত-সুপ্ত দিয়ে যে ধরনের কথা বলছেন, সেই কথার মধ্যে দিয়ে আজকে পরাজিত শক্তি সাহস পাচ্ছে, তারা উৎসাহিত হচ্ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতির জন্য ৫ আগস্ট এবং এই পরিস্থিতির জন্য ওয়াসিম আকরাম, আবু সাঈদ, আহনাফ, ফাইয়াজ, মুগ্ধ—অসংখ্য তরুণ যারা নিজের জীবন দিয়েছে, যারা গুলি খেয়ে তার বন্ধুকে পানি আগিয়ে দিয়েছে, এই যে এক মহান আত্মদানের দৃষ্টান্ত, জুলাই বিপ্লব যে মহান আত্মদানের দৃষ্টান্ত, ৫ই আগস্টের বিজয়—আপনারা সেই বিজয়কে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছেন। গণতন্ত্রকে পদদলিত করে।’