জাতীয়

  • জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

    জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে জাতিসংঘকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচি ছিল। এ সময়ে তিনি ঐতিহাসিক ভাষণসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

    আজ বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর শেষে সার্বিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বা কার্যক্রমে অংশ নেন, ছয়টি বক্তব্য দেন ও একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সদস্যরা চার দিনে প্রায় ৫০টি পৃথক বৈঠকে অংশ নেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করা হয়।

    মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ৩০টি কর্মসূচির মধ্যে আটটি ছিল সরাসরি জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশগ্রহণ ও সাধারণ পরিষদে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের নীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া ব্রেকফাস্ট সেশনেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নেন বলেও জানান মাহদী আমিন।

    জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে জলবায়ু ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। মাহদী আমিন বলেন, ‘হাই লেভেল মিটিং অন ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্ট ট্রানজিশন’ ও ‘হাই লেভেল মিটিং অন সি লেভেল রাইজ’—এই দুই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। জলবায়ু সহনশীলতা তৈরি ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ আরও কার্যকর করা এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    জাতিসংঘের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যসেবা, মিডওয়াইফারি ও মাতৃমৃত্যু কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো, এক লাখ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা ও এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী রাখার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। এর পাশাপাশি জনগণের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও জাতিসংঘের সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। মাহদী আমিন জানান, এ কর্মসূচিতে প্রায় ২০টি দেশের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের বিষয়ে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল সমাধান মিয়ানমারে হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দুটি বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। একদিকে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে, অন্যদিকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার জন্য আন্তর্জাতিক মহল থেকে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণকে সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং নারী, তরুণ, যুবক, শিশু ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের জন্য ‘থ্রি-আর’-রিকভার, রিস্টোর ও রিকনস্ট্রাক্ট নীতির কথা তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড, ইউনিভার্সাল কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির রূপরেখা জাতিসংঘের মঞ্চে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিকস ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বিষয়েও ভাষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

  • প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার নির্দেশ

    প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার নির্দেশ

    উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) পরামর্শক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ে একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এ কথা জানান।

    সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত পরামর্শক ব্যয় পর্যালোচনা করে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন-প্রকল্পের মেয়াদ যৌক্তিক কারণ ছাড়া বাড়ানো যাবে না। যথাযথ কারণ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে বিলম্বের জন্য দায়ী কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে এর সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে এবং এসব কারণ কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।

    তিনি বলেন, অনুমোদিত সময়সীমা ও বাজেটের মধ্যে চলমান ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

    পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সম্ভাব্যতা যাচাই করার বিদ্যমান সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে ভাবার ওপরও জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যাপ্ত গভীরতা ও কারিগরি নির্ভুলতার সঙ্গে করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে নকশা পরিবর্তন, ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন জটিলতা এড়ানো যায়।’

    যশোর, সৈয়দপুর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

    জোনায়েদ সাকি বলেন, ২০২৩ সালে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) যে বাজেট সমন্বয় করেছিল, তা যথাসময়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) প্রতিফলিত হয়নি। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতোমধ্যে আটটি প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছে। আরো চারটি প্রকল্পের প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দেওয়া হবে।

    প্রতিবেদনগুলো প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

    আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি বলেন, রংপুর বিভাগে গ্রামীণ এলাকায় সড়ক, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।

    পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল শাসন ও আর্থিক তদারকি জোরদারে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির অধীনে আটটি গুরুত্বপূর্ণ অটোমেশন উদ্যোগকে সমন্বিত করার কাজও করছে সরকার।

    এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা (আইবাস++), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান নম্বর, ওয়ান ওয়ালেট সংক্রান্ত অটোমেশন ব্যবস্থা।

    তিনি বলেন, এসব ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল সিস্টেমগুলোর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত করা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বিতরণে মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো এবং ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল তদারকি জোরদার করা সম্ভব হবে।

    এ উদ্যোগ খেলাপি ঋণ (এনপিএল) ও আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে তদারকি আরো জোরদার করতেও সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।

  • ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে অবাধ ও সুষ্ঠু, কোনো কলঙ্ক ঘাড়ে নেবে না সরকার’

    ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে অবাধ ও সুষ্ঠু, কোনো কলঙ্ক ঘাড়ে নেবে না সরকার’

    রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার উন্নয়ন সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় নির্বাচন উপহার দিতে চায়। নির্বাচনী কোনো কলঙ্ক বর্তমান সরকার ঘাড়ে নেবে না।

    রংপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার বিকালে জেলা প্রশাসন অডিটোরিয়ামে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবহেলিত রংপুরের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। জেলার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।

    রংপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজকের সভা থেকে আমরা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে যাব। আগামী মাসের সভায় যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সারাদেশে সুষম উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে সুষম উন্নয়নের ধারায় রংপুরেও উন্নয়ন করা হবে। ইতোমধ্যে রংপুর জেলার ছয়টি আসনে ১২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রংপুর বিভাগের জন্য প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব একনেকে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতেও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে রংপুরের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।

    তিস্তা প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, তিস্তা নিয়ে সরকার কাজ করছে। খুব দ্রুতই এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় নির্বাচন উপহার দিতে চায়। নির্বাচনী কোনো কলঙ্ক বর্তমান সরকার ঘাড়ে নেবে না।

    সভায় জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন রংপুর জেলার সংসদ সদস্যবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, পেশাদার সাংবাদিকতার বিকাশ, গণমাধ্যমের মানোন্নয়ন এবং সাংবাদিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


    প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বর্তমানে নামে-বেনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুঁইফোঁড় পেজ ও অনলাইন পোর্টাল খুলে গুজব ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    মূলধারার গণমাধ্যমের বাইরে অনেকেই একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এটি একটি বড় সমস্যা উল্লেখ করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক কারা—তার একটি গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা ও মাপকাঠি নির্ধারণ জরুরি।

    তিনি জানান, এ বিষয়ে বিএফইউজে, ডিইউজে, ডিআরইউসহ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক সংগঠন ও সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও আন্তমন্ত্রণালয় পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধা প্রদান এবং অন্যান্য নীতিমালার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মাপকাঠির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সাংবাদিকদের কল্যাণ, পেশাগত মানোন্নয়ন ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ডিআরইউর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আমরা ডিআরইউর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখব।

    সাংবাদিকদের জন্য সময়োপযোগী ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি অর্জনে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করা হবে।

    সভায় ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের সমস্যাগুলো দেখভালের দায়িত্ব তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের।

    সাংবাদিকদের কল্যাণ ও সমস্যা সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করে আসছে ডিআরইউ এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার গণমাধ্যমবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

    ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, সংগঠনটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পেশাদার সাংবাদিকদের কল্যাণ ও মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

    মতবিনিময় সভায় ডিআরইউ সহ-সভাপতি মেহদী আজাদ মাসুম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী বৈঠক

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী বৈঠক

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ বৈঠক হয়।

    এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেশটির দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউয়িন, কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং, এটাচে মিস লিয়াং শুয়িং এবং পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স অ্যাটাচে ওয়াং ডাউয়েই উপস্থিত ছিলেন।

    জামায়াতের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে আরও বেগবান করতে উভয় দেশ একযোগে কাজ করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    জামায়াতের পক্ষ থেকে দলের আমির ও নেতারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরিতে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলন পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময়ে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন, পারস্পরিক সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টিতে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ইতিবাচক ভূমিকা রাখায় তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করা হয়।

    বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।

  • ‘মানুষ লাথি মেরে যাদের বের করে দেয়, তাদের ফেরার চান্স খুব কম’

    ‘মানুষ লাথি মেরে যাদের বের করে দেয়, তাদের ফেরার চান্স খুব কম’

    জনগণের তোপের মুখে বিতাড়িত কোনো স্বৈরশাসকের দেশের রাজনীতিতে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে ভারতে অবস্থান নেওয়া শেখ হাসিনার দেশের জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বহু ভালো উদ্যোগ আটকে রাখা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ইপিজেডের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু বিএনপির আমলে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেই হাসিনা তা এগিয়ে নেননি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন হীন মানসিকতার কাউকে দেশের মানুষ কীভাবে আবার রাজনীতিতে দেখতে চাইবে?

    তিনি আরো বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে দেশের প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে এবং জনগণের ওপর চরম অত্যাচার ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এর ফলে জনগণ শেষ পর্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে স্বৈরাচারী শাসককে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।

    ভারতে বসে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের এসব বক্তব্য একেবারেই মূল্যহীন ও অর্থহীন। বাস্তবে তাদের রাজনীতি শেষ। পৃথিবীর ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মানুষ লাথি মেরে যাদের একবার বের করে দেয়, তাদের ফিরে আসার চান্স খুব কম—বলতে গেলে একেবারেই নেই’।

    পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি জানান, যেসব অপরাধী পালিয়ে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে আইন অনুযায়ী অবহিত করা হবে। বর্তমানে দেশপ্রেমিকদের দ্বারা দেশ সঠিক পথে পরিচালিত হচ্ছে এবং সরকার জনস্বার্থেই কাজ করে যাবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

  • দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি

    দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি

    এবার দুর্গা পূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সরকারের এক নির্বাহী আদেশে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সরকারি এই আদেশে আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, এ বছর দুর্গা পূজায় পূর্বঘোষিত ছুটি ছিল ২০ ও ২১ অক্টোবর (মঙ্গলবার ও বুধবার)। এবার ২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর সাথে শুক্রবার ও শনিবারের (২৩ ও ২৪ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় এবার দুর্গা পূজায় ছুটি টানা ৫ দিনে উন্নীত হয়েছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং জ্বালানি, অবকাঠামো, এভিয়েশন, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলওয়ে ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
    বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

    রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।

  • সাংবাদিক গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবে একমত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সাংবাদিক গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবে একমত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ কোনো নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম যেন আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলেও তিনি জানান। অংশীজনদের মতামত ও বিস্তৃত আলোচনার মাধ্যমে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক পরামর্শ সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    দেশের উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সম্পাদক, প্রতিনিধি, বিশিষ্ট সাংবাদিক, সংবাদপত্রসংগঠন ও সাংবাদিকদের পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এটি সরকারের দ্বিতীয় বৈঠক বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট সংশোধনের লক্ষ্যে তৈরি খসড়া বিলটি এর আগে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভা সাইবার পরিসরে কর্মরত তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা এবং পরামর্শের নির্দেশ দিয়েছে।

    খসড়া বিলটি যাতে নিপীড়নমূলক হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে জন্য সমাজের সব স্তরের মতামত নিতে এটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

    তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী ও সাইবার পরিসরের ব্যবহারকারীরা ইতিমধ্যে মতামত পাঠিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে সেসব মতামত সংকলন করা হয়েছে।

    ১০ সেপ্টেম্বর সম্পাদকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে পরবর্তী সভায় সুস্পষ্ট লিখিত মতামত দেওয়া বা ওয়েবসাইটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। অনেকে আজকের বৈঠকে মতামতের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছেন এবং লিখিত মতামত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    বৈঠকে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের একটি প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মাহফুজ আনাম গণমাধ্যম ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরও সময় নিয়ে নিবিড় আলোচনার প্রস্তাব দেন, যাতে গণমাধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং আইনে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ধারা নিশ্চিত করা যায়।

    সরকার ওই প্রস্তাব সানন্দে গ্রহণ করেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে এই আইন করতে চাইনি এবং চাই না। কোনো সাংবাদিক যেন এই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। ’

    সাংবাদিকদের সুরক্ষায় সভায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এসেছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে।

    সরকার প্রস্তাবটিকে অত্যন্ত উপযুক্ত ও যুক্তিযুক্ত মনে করেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অংশীজনদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ পাওয়ার পর তা বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    মামলা বা আপিল নিষ্পত্তিতে কাউকে অনির্দিষ্টকাল ঝুলে থাকতে না দিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের বিধান রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    আইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে বিশেষ সমন্বয় কাঠামো গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রধান তথ্য কর্মকর্তাকে সমন্বয় ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করবে। সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম সংগঠনের প্রতিনিধি এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের গঠিত সাইবার বিশেষজ্ঞদের বিশেষ প্যানেল এতে অংশ নেবে।

    সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দেবেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ১৫ দিন পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যরা যৌথভাবে বসে সিদ্ধান্ত নেবেন।

    প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় নেওয়ার আগে আবার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। সাধারণ মানুষ ও অংশীজনেরা তখন আবার মতামত দিতে পারবেন। গ্রহণযোগ্য মতামত খসড়ায় যুক্ত করা হবে।

    আন্তমন্ত্রণালয় সভায় চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর বিলটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হবে।

    সংসদে নেওয়া হলেও তাড়াহুড়ো করে বিলটি পাস করা হবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংসদীয় আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    সরকার দেশ, সমাজ ও বিশেষ করে যুবসমাজকে সাইবার পরিসরের বিভিন্ন অপরাধ এবং সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সুরক্ষা দিতে ভারসাম্যপূর্ণ আইন করতে চায় বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারিবারিক বন্ধন ও দেশীয় সংস্কৃতির সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

  • ভেরিফিকেশনের নামে ফ্যাসিবাদী অপকর্ম পরিত্যাগ করুন।

    ভেরিফিকেশনের নামে ফ্যাসিবাদী অপকর্ম পরিত্যাগ করুন।

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেয়ার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শনিবার বিকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে দেয়া পোস্টে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফেসবুকে পোস্টে তিনি লিখেছেন-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে ভুল রাজনীতির খেলা থেকে সরে আসুন। মেধাকে সম্মান দিন।

    সরকারি চাকরিতে প্রবেশ রাজনৈতিক আনুগত্যের বিষয় নয়। একজন নাগরিক হিসেবে চাকরিপ্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতাই হওয়া উচিত একমাত্র বিবেচ্য বিষয়।

    তিনি বলেন, ভেরিফিকেশনের নামে ফ্যাসিবাদী আমলের এই অপকর্ম পরিত্যাগ করুন। ফ্যাসিবাদ আমলের অনুরূপ যেকোনো কুটতৎপরতা জনগণ সহ্য করবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।

    জামায়াত আমির বলেন, মেধাবী যুবসমাজসহ তরুণদের নিজেদের অধিকার আদায়ে আবারও সোচ্চার হতে হবে। ছাড় দিলে বাংলাদেশ মেধাহীন ফ্যাসিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। ছাড় দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেয়ার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শনিবার বিকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে দেয়া পোস্টে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফেসবুকে পোস্টে তিনি লিখেছেন-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে ভুল রাজনীতির খেলা থেকে সরে আসুন। মেধাকে সম্মান দিন।

    সরকারি চাকরিতে প্রবেশ রাজনৈতিক আনুগত্যের বিষয় নয়। একজন নাগরিক হিসেবে চাকরিপ্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতাই হওয়া উচিত একমাত্র বিবেচ্য বিষয়।

    তিনি বলেন, ভেরিফিকেশনের নামে ফ্যাসিবাদী আমলের এই অপকর্ম পরিত্যাগ করুন। ফ্যাসিবাদ আমলের অনুরূপ যেকোনো কুটতৎপরতা জনগণ সহ্য করবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।

    জামায়াত আমির বলেন, মেধাবী যুবসমাজসহ তরুণদের নিজেদের অধিকার আদায়ে আবারও সোচ্চার হতে হবে। ছাড় দিলে বাংলাদেশ মেধাহীন ফ্যাসিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। ছাড় দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।