খেলা

  • ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পর কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তবে ফেডারেশনের পরিকল্পনা, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দে লা ফুয়েন্তেকেই জাতীয় দলের দায়িত্বে রাখা।

    আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে আয়োজন করবে। এরই মধ্যে দে লা ফুয়েন্তের চুক্তি বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে আরএফইএফ। ফেডারেশন সভাপতি রাফায়েল লুজান জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে দে লা ফুয়েন্তেকে পাওয়া তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘আমার মনে হয় লুইস এটা পাওয়ার যোগ্য এবং আমরা এটা নিয়েই কাজ করছি। তার চুক্তিটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত আছে, তবে আমরা এখন থেকেই কাজ শুরু করেছি যেন এটি ২০৩০ সাল বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া যায়। ২০৩০-এর বিশ্বমঞ্চে তার থাকাটা অত্যন্ত জরুরি,’ বলেন লুজান।

    দে লা ফুয়েন্তের প্রশংসা করে আরএফইএফ সভাপতি আরও বলেন, ‘তার বিনয়ী আচরণ এবং কঠোর পরিশ্রমের ক্ষমতাই আমাদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের মুখে দাঁড় করিয়েছে, যার পেছনে ছিল স্প্যানিশ জাতীয় দলের এক অবিস্মরণীয় খেলোয়াড়েরা।’

    নিজেদের মাটিতে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনেরও জোর চেষ্টা চালাচ্ছে স্পেন। ফাইনাল নিয়ে আশাবাদী লুজানও। তার ভাষায়, ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন হবে যে ওই মহান বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনে অনুষ্ঠিত হবে না।’

    বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার শিরোপা ধরে রাখার নতুন অভিযানে নামবে স্পেন। দে লা ফুয়েন্তেকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখলে দলের কৌশলগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

    সামনেই অবশ্য দে লা ফুয়েন্তের দলের জন্য রয়েছে নতুন পরীক্ষা। আগামী মাসে উয়েফা নেশন্স লিগে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপ জয়ের পর নতুন চক্রের শুরুতেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে স্পেনকে।

  • জর্জিয়ান তারকার হাতেই ব্যালন ডি’অর দেখতে চান ক্রুস

    জর্জিয়ান তারকার হাতেই ব্যালন ডি’অর দেখতে চান ক্রুস

    ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও জার্মানির সাবেক তারকা মিডফিল্ডার টনি ক্রুস। ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি তিনি দেখতে চান পিএসজির জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড খিচা কাভারৎস্খেলিয়ার হাতে।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফুট মার্কাতো’র বরাত দিয়ে জানা গেছে, ক্রুসের চোখে এবারের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কাভারৎস্খেলিয়াই এক নম্বর পছন্দ। নিজের পছন্দের কথা জানিয়ে সাবেক এই জার্মান তারকা বলেন, ‘আমার কাছে সে এখন এক নম্বর খেলোয়াড়।’

    ক্রুসের এই পছন্দে অবশ্য অনেকেই অবাক হতে পারেন। কারণ ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় থাকা রদ্রি, লিওনেল মেসি, জুড বেলিংহ্যাম কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের তিনি এগিয়ে রাখেননি। তার মতে, ক্লাবের হয়ে এমন অসাধারণ মৌসুম কাটাতে পারেননি তারা, যা দিয়ে এই পুরস্কারের জন্য শক্তিশালী দাবি তোলা যায়।

    অন্যদিকে কাভারৎস্খেলিয়ার গত মৌসুমের পারফরম্যান্স ক্রুসকে মুগ্ধ করেছে। তিনি জর্জিয়ান উইঙ্গারকে ‘গত মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়’ হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি ‘বিশ্বের সেরা ফুটবল দলের বর্তমান সেরা খেলোয়াড়’ বলেও প্রশংসা করেছেন।

    পরিসংখ্যানও কাভারৎস্খেলিয়ার পক্ষে কথা বলছে। পিএসজির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৮ ম্যাচে ১৯ গোল করার পাশাপাশি ১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার পারফরম্যান্স ছিল আরও নজরকাড়া। ১৬ ম্যাচে ১০ গোলের সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে ৭টি গোল করিয়েছেন ২৫ বছর বয়সি এই তারকা।

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বেও কাভারৎস্খেলিয়ার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। মোনাকো, চেলসি, লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দলের হয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পিএসজির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পথেও তার পারফরম্যান্স ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

    এমন পারফরম্যান্সের পর কাভারৎস্খেলিয়াকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার মনে করছেন ক্রুস। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকার মতো একজন তারকা তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় জর্জিয়ান এই ফুটবলারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

    তবে বিশ্বকাপজয়ী ইয়ামাল, রদ্রি কিংবা রানার্সআপ মেসির মতো তারকাদের পেছনে ফেলে কাভারৎস্খেলিয়ার ব্যালন ডি’অর জেতা নিঃসন্দেহে বড় চমক হবে। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ম্যাগাজিন।

  • ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন কার্লোস

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন কার্লোস

    ব্রাজিলের সাবেক তারকা ফুটবলার রবার্তো কার্লোস এবার মুখ খুললেন। মরক্কোর নাগরিক সুহাইলা আল-তাহিরিকে বিয়ে করার পর তার ইসলাম গ্রহণ নিয়ে অনেক গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এই গুজবের জবাব দিলেন তিনি নিজেই। সেই খবরকে সরাসরি নাকচ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি এই ফুটবলার। একই সঙ্গে ইসলামের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিচিত ব্যক্তি শেখ জিহাদ হামাদার কাছে শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস। তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সংসদ সদস্য আলী শাহিনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

    আলী শাহিন জানিয়েছিলেন, সাও পাওলোতে শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে সাক্ষাতের পর কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এর সঙ্গে ইসলামি রীতিতে বিয়ের কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ায় গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।

    তবে সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘ওকাজ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্লোস পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তার ইসলাম গ্রহণের খবর সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘ইসলামের প্রতি আমার সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। আমার স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখা দারুণ এক অভিজ্ঞতা, তবে আমার ধর্মান্তরিত হওয়ার যে খবর ছড়িয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য।’

    বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়েও তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক এই লেফটব্যাক। তার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক হওয়ায় তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী একটি আয়োজন ছিল। একই সঙ্গে তার মরক্কান স্ত্রী ও মুসলিম বন্ধুদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইসলামি রীতিতেও আয়োজন করা হয়।

    কার্লোস বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক। তাদের বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে যেমন আয়োজন ছিল, তেমনই আমার মরোক্কান স্ত্রী ও তার মুসলিম বন্ধুদের ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা মাথায় রেখে সেই ধর্মীয় রীতিও রাখা হয়েছিল।’ কার্লোস স্পষ্ট করেছেন, স্ত্রীর ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অর্থ এটা নয় যে তিনি নিজে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।

    সোহাইলা আল তাহিরির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের শুরু নিয়েও কথা বলেছেন কার্লোস। ফুটবল-সংক্রান্ত একটি ব্যবসায়িক বৈঠকে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। সোহাইলাকে সফল নারী ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে কার্লোস জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তাদের সম্পর্ক। এই সময়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত—দুই ক্ষেত্রেই তাদের বোঝাপড়া আরও গভীর হয়েছে।

    কার্লোসের জন্য এটি তৃতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী আলেকজান্দ্রা পিনহেইরোর সঙ্গে ২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তার তিন সন্তান। এরপর ২০০৯ সালের জুনে মারিয়ানা লুকনের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। ১৫ বছরের বেশি সময় সংসারের পর ২০২৫ সালের শুরুতে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এই সংসারে কার্লোসের ২টি কন্যাসন্তান রয়েছে। সব মিলিয়ে ৭ জন নারীর গর্ভে কার্লোসের ১১ সন্তান।

    ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী কার্লোস ক্লাব ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে ১১ মৌসুমে পাঁচ শতাধিক ম্যাচ খেলে জিতেছেন তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও চারটি লা লিগা শিরোপা। ১৯৯৭ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার অবিশ্বাস্য বাঁকানো ফ্রি-কিক গোলও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় গোল।

  • বিশ্বকাপ ফাইনালের ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুলল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালের ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুলল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে যে নানা প্রশ্ন ও ষড়যন্ত্রের গল্প ছড়িয়েছিল, এবার তার জবাব দিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে প্রকাশিত এক ভিডিওতে কথা বলেছেন এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাঠে কোনো রহস্যজনক ঘটনা ঘটেনি, বরং শিরোপার জন্য সর্বোচ্চটা দিয়েই লড়েছিল দল।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গত মাসে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্পেন। ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের আচরণ ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। সেখান থেকেই জন্ম নেয় ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে মূল ধারার অনেক সংবাদ মাধ্যমই প্রচার করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা দলে ‘কিছু একটা ঘটেছিল’।

    ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে এএফএ। সেখানে পুরো বিশ্বকাপ অভিযানের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের লড়াইয়ের প্রশংসা করা হয়। ভিডিওর ধারাভাষ্যে বলা হয়, ‘এক মাস আগে কিছু একটা ঘটেছিল। অনেকেই চায়নি সেটা ঘটুক, কিন্তু সেটাই ঘটল। আর্জেন্টিনা আরেকটি ফাইনালে খেলল। যদিও অনেকে এটা এড়িয়ে যেতে চান। আমরা প্রতিটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছি। ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে বিদায় করে ইতিহাস গড়েছি।’

    ফাইনালের পর ওঠা ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব নিয়ে এএফএর অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব ধরনের আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা সত্ত্বেও আমরা ঠিকই ফাইনালে পৌঁছেছিলাম। তাই কেউ যখন বলবে, কিছু একটা ঘটেছিল, শুধু বলবেন, হ্যাঁ। আসলে যা ঘটেছিল তা হলো, একটি দল জেতার জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল। তারা শেষ পর্যন্ত লড়েছে, কখনো হাল ছাড়েনি। সবকিছু জেতার পরও এই দফায় তাদের হেরে যেতে হয়েছে।’

    ভিডিওর শেষ দিকে দেখানো হয় ফাইনাল শেষে রানার্সআপের পদক নেওয়ার সময় আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির আবেগঘন মুহূর্ত। এরপর নেপথ্য ধারাভাষ্যকার ভিডিও শেষ করেন এভাবে, ‘আমাদের অধিনায়কের কান্না আমাদের আরেকবার শিখিয়ে দিয়েছে যে আপনি হারতে বা জিততে পারেন; কিন্তু যা-ই ঘটুক না কেন, কখনোই হাল ছাড়া যাবে না।’

    এএফএর এই বার্তার পাশাপাশি সরব হয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তিনি ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে ছড়ানো অভিযোগকে ‘নিকৃষ্ট প্রচারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

    তাপিয়ার অভিযোগ, ফাইনালের পর কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিত্ব এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলেন, যেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছিলেন। তার দাবি, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল শেষ হওয়ার পর থেকেই দলটির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা শুরু হয়।

    সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ তাপিয়া এ কারণে যে, ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও যারা এসব অভিযোগ তুলেছিলেন, তাদের কেউ নিজেদের ভুল স্বীকার করেননি। তার ভাষায়, এখনো কেউ প্রকাশ্যে বলেনি, ‘আমরা ভুল ছিলাম।’

    তাপিয়া আরও বলেন, খেলোয়াড়েরা যখন মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছিলেন, তখন তাদের বিরুদ্ধে বাইরে থেকে ঘৃণা ও বিভাজন ছড়ানো হচ্ছিল। জাতীয় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তার। এএফএ সভাপতি মনে করেন, এমন অভিযোগকে নীরবে মেনে নেওয়া উচিত নয়। সময়ের সঙ্গে বিষয়টি চাপা পড়ে যাবে, এমন অপেক্ষাও করতে রাজি নন তিনি। বিশেষ করে কোনো প্রমাণ ছাড়াই জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলার বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না বলে স্পষ্ট করেছেন তাপিয়া।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার মতো অভিযোগের পর বিষয়টি আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। যারা এমন অভিযোগ তুলেছেন, তাদেরই এখন নিজেদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে।

    সবশেষে কোচিং স্টাফ, সাপোর্ট স্টাফ ও খেলোয়াড়দের পাশে থাকার কথা জানিয়ে তাপিয়া বলেন, যারা মাঠে নিজেদের সবটুকু দিয়ে লড়েছেন, তাদের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যাখ্যা দিতে হবে তাদের, যারা প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়েছেন।

  • ঐতিহাসিক জয়ের পর সুখবর পেলেন শান্ত-হাসানরা

    ঐতিহাসিক জয়ের পর সুখবর পেলেন শান্ত-হাসানরা

    প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। ডারউইনে ৯ উইকেটে জয়ের পথে অজিদের পাত্তা না দিয়ে রীতিমতো দাপুটে ক্রিকেট খেলেছে সফরকারীরা। সেটার প্রভাব পড়েছে ব্যক্তিগত র‍্যাঙ্কিংয়ে। আইসিসি হালনাগাদকৃত সবশেষ র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদরা।

    মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সাড়ে তিন দিনই অস্ট্রেলিয়ার ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অতিথিদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। অস্ট্রেলিয়াকে হাতের নাগালে আটকে রাখতে বড় ভূমিকা রাখেন হাসান; ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফল বোলার তিনি।

    দ্বিতীয় ইনিংসেও সুবিধা করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। এ যাত্রায় ২৮৪ রানে অলআউট হয় তারা। এই ইনিংসে হাসানের শিকার ৩ উইকেট। সবমিলে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন এই পেসার। ঐতিহাসিক এই জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় এবার বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়েও বড় সুখবর পেলেন হাসান।

    ২৬ ধাপ উন্নতি করেছেন হাসান। ৫০৩ রেটিং নিয়ে ৩৮ নম্বরে আছেন তিনি। ৩ ধাপ এগিয়ে ৩৪-এ উঠে এসেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই অলরাউন্ডারের নামের পাশে শোভা পাচ্ছে ৬৫২ রেটিং। প্রথম ইনিংসে উইকেটশূন্য থাকার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। মূলত তাঁর স্পিন ঘূর্ণিতেই বাংলাদেশকে বড় লক্ষ্য দিতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। র‍্যাঙ্কিংয়ে সেটারই সুফল পেলেন মিরাজ।

    প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার করা ১৯৮ রানের জবাবে ৪২৬ রান তোলে বাংলাদেশ। সফরকারীদের এই বড় ইনিংসের ভীত গড়ে দেন তানজিদ হাসান তামিম। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করার পথে ১০১ রান এনে দেন এই ওপেনার। ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে বেশি ৮৪ ধাপ এগিয়েছেন তিনি। বর্তমানে ৮৮ নম্বরে আছেন তানজিদ। সে ইনিংসে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ৮৪ রানে আউট হন শান্ত। ৯ ধাপ উন্নতি করে ২০তম স্থানে উঠে এসেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

    ডারউইন টেস্টের দুই ইনিংসে মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে আসে ৪৯ ও ৩০* রান। ৫ ধাপ এগিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক। বর্তমানে ৩১ নম্বরে আছেন তিনি। বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও উন্নতি করেছেন মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৫ রানের মহাগুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে ৫ ধাপ এগিয়ে ৫৯ নম্বরে আছেন তিনি। ৩ ধাপ উন্নতি করা সাদমান ইসলাম আছেন মিরাজের ওপরেই।

    অবনতি হয়েছেন লিটন দাসের। ৫ ধাপ পিছিয়ে ২৮ নম্বরে নেমে গেছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।

  • অস্ট্রেলিয়া দল থেকে কে বাদ পড়লেন, কে এলেন

    অস্ট্রেলিয়া দল থেকে কে বাদ পড়লেন, কে এলেন

    ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড। ম্যাট রেনশ ডাক পেয়েছেন তাঁর জায়গায়। ডারউইনে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের জন্য দলে এই একটি পরিবর্তনই এনেছে অস্ট্রেলিয়া।

    ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দুই ইনিংসে ২৩ ও ০ রানে আউট হন ওয়েদারাল্ড। তখন থেকেই দলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেকরা। গত মৌসুমে অ্যাশেজসহ ছয়টি ম্যাচ খেলে ২০.৩৮ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ছিল ২২৪ রান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে তাঁর ব্যাটিং কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার সময় ব্যাটিং কৌশলে এ পরিবর্তন আনলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো ইনিংসেই থিতু হতে পারেননি ওয়েদারাল্ড।

    ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দুই লাইনের বিবৃতিতে ওয়েদারাল্ডের বাদ পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সিরিজের আগে দুই টেস্টের জন্যই অস্ট্রেলিয়ার ১৩ জনের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়।

    জেক ওয়েদারাল্ড এএফপি

    ডারউইনে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টের জন্য দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড ওয়েদারাল্ডের ব্যাটিং কৌশলে পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করেন, ‘জেকের শরীরের অবস্থান ও নড়াচড়ার ধরনে কিছু পরিবর্তন এসেছে। ছোট পরিসরের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সমালোচনা করা বা তা কতটা টেকসই হবে, সেটি বিচার করা সব সময়ই কঠিন।’

    বাংলাদেশের সিরিজের আগে, চলতি বছরের শুরুতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আসেন ৩১ বছর বয়সী ওয়েদারাল্ড। এই সিরিজের আগে দুটি টেস্টই খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এই ওপেনার, ‘দুটি ম্যাচ খেলার এবং রান করার ভালো সুযোগ সামনে, চার ইনিংসে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। না পারলে ভাগ্য অন্যের হাতে তুলে দিতে হবে।’

    ম্যাট রেনশ এএফপি

    ২০২৩ সালের পর প্রথম টেস্ট খেলার অপেক্ষায় আছেন রেনশ। ব্রিসবেনে দলের সঙ্গে অনুশীলনের পর এ সিরিজের জন্য স্ট্যান্ডবাই হিসেবে ছিলেন। গত শেফিল্ড শিল্ড মৌসুমে তিনটি সেঞ্চুরিসহ তাঁর গড় ছিল ৪৯.৯০ এবং অস্ট্রেলিয়ার সীমিত ওভারের দলে সুযোগ পেয়ে প্রতিভার ছাপ রাখেন।

    টেস্টে ৩০ বছর বয়সী রেনশর ব্যাটিং গড় ২৯.৩১। এই সংস্করণে তাঁর সর্বোচ্চ স্কোর ১৮৪, পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৭ সালে। চলতি সিরিজে দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুটি সেঞ্চুরি আছে রেনশর।

    এ পরিবর্তনের ফলে ২০২৪ সালের শুরুতে ডেভিড ওয়ার্নার অবসর নেওয়ার পর মোট সাতজন ওপেনার ব্যবহার করল অস্ট্রেলিয়া। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়া উসমান খাজাকে বাইরে রেখে এ হিসাব করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া দলে থিতু ছিলেন খাজা।

    দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড
    ট্রাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মারনাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জশ হ্যাজলউড, জস ইংলিশ ও স্কট বোল্যান্ড।

    সর্বশেষ অ্যাশেজে সফল হওয়ায় ট্রাভিস হেড ওপেনারের ভূমিকায় খেলছেন। সেই সিরিজে পার্থ টেস্টে খাজার চোটের পর হেডকে ওপেনিংয়ে নামানো হয়। স্টিভেন স্মিথ, নাথান ম্যাকসুয়ানি, স্যাম কনস্টাস, মারনাস লাবুশেন ও ওয়েদারাল্ডকে ওপেনিংয়ে নামিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

    আগামী শনিবার শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। দুই ম্যাচের সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ।

  • ম্যাচ চলাকালে মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন মুসিয়ালা

    ম্যাচ চলাকালে মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন মুসিয়ালা

    আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে মাঠেই ঢলে পড়েন বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মানির আক্রমণভাগের খেলোয়াড় জামাল মুসিয়ালা। এতে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান সবাই। তেইশ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার গোল করার কিছুক্ষণ পরই এই ঘটনা ঘটে। তবে বায়ার্ন জানিয়েছে, তাদের এই তারকা খেলোয়াড় এখন ভালো আছেন।

    বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন মুসিয়ালা। ম্যাচের ৮১ মিনিটে গোল করেন তিনি। এই ম্যাচে ৩-১ গোলে জয় পায় বায়ার্ন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মুসিয়ালাকে নিয়ে উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেন বায়ার্নের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ম্যাক্স এবারল।

    এবারল বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে ভালো আছে। এর বাইরে আর কিছু বলার নেই।’ তবে মুসিয়ালা কেন মাঠে ঢলে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

    মাঠে নামার প্রায় পনেরো মিনিট পরই ঢলে পড়েন মুসিয়ালা। এরপর দুই দলের চিকিৎসক দলই তার শুশ্রূষায় এগিয়ে আসেন। পরে নিজে থেকেই উঠে দাঁড়ান তিনি এবং হেঁটে টানেলের দিকে চলে যান। তবে তাকে বেশ ভীত দেখাচ্ছিল। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে তাকে তুলে নেওয়া হয় মাঠ থেকে।

    জার্মানির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হঠাৎ মাথা ঘোরার কারণে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সেসময় মিউনিখের তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। তবে এই ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি বায়ার্ন। তার শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখবে ক্লাবটি।

    এই ঘটনার সময় নিয়েই স্বাভাবিকভাবে নতুন করে আলোচনায় আসে মুসিয়ালার সাম্প্রতিক ইনজুরি সমস্যার কথা। গত গ্রীষ্মে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের বিপক্ষে ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচে গুরুতর পায়ের চোট পান তিনি। এতে তার ফিবুলা হাড় ভেঙে যায়। এরপর বেশ কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে।

    জানুয়ারিতে মাঠে ফেরেন মুসিয়ালা এবং এরপর থেকে নিজের সেরা ফর্মে ফেরার চেষ্টা করছেন তিনি। জার্মানির ২০২৬ বিশ্বকাপ দলেও ছিলেন তিনি। তার রিকভারি নিয়ে যেভাবে সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করা হচ্ছিল, তাতে এই সাম্প্রতিক ঘটনা সবাইকে বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

    ব্যক্তিগত পুনর্বাসন কর্মসূচি অনুসরণের পর সম্প্রতি দলগত অনুশীলনে ফেরেন তেইশ বছর বয়সী এই ফুটবলার। তার খেলার চাপ নিয়েও সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করছিল বায়ার্ন। পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার জন্য গ্রীষ্মের ছুটিও কমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

    তবে আপাতত প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইতিবাচক। বায়ার্ন আশা করছে, গরম বা মাথা ঘোরার কারণে সাময়িক এই প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, এই মৌসুমে যাকে নিয়ে বড় প্রত্যাশা রয়েছে সেই খেলোয়াড়ের জন্য এটি নতুন কোনো ধাক্কা নয়।

  • টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালের দৌড়ে বাংলাদেশ, বাদ পাকিস্তান

    টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালের দৌড়ে বাংলাদেশ, বাদ পাকিস্তান

    বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াই থেকে ছিটকে গেছে পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আছে বাংলাদেশসহ ৭টি দল। তবে প্রত্যেকের সামনে আলাদা সমীকরণ।

    পয়েন্টের শতাংশ অনুযায়ী শীর্ষে থাকা দুটি দল টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে। কার সামনে কী অঙ্ক তা দেখে নেওয়া যাক।

    ১) অস্ট্রেলিয়া (পয়েন্ট ৮৪, পয়েন্টের শতাংশ ৭৭.৭৮)

    সবচেয়ে ভাল জায়গায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের বাকি আর ন’টি ম্যাচ। তার মধ্যে পাঁচটি জিতলেই ফাইনালে ওঠার পাকা প্যাট কামিন্সদের।

    ২) দক্ষিণ আফ্রিকা (পয়েন্ট ৩৬, পয়েন্টের শতাংশ ৭৫.০০)

    দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকারও বাকি রয়েছে ন’টি টেস্ট। তার মধ্যে ছ’টি জিততে হবে টেম্বা বাভুমাদের।

    ৩) নিউজিল্যান্ড (পয়েন্ট ৫২, পয়েন্টের শতাংশ ৭২.২২)

    প্রথম বার চ্যাম্পিয়ন নিউ জ়িল্যান্ডের সামনে রয়েছে আটটি ম্যাচ। তার মধ্যে পাঁচটি জিতলে আরও এক বার ফাইনালে উঠবে তারা।

    বাংলাদেশ (পয়েন্ট ৪০, পয়েন্টের শতাংশ ৬৬.৬৭)

    অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টেস্টে হারিয়ে নিজেদের সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। বাকি ন’টি টেস্টের মধ্যে সাতটি জিততে হবে তাদের।

    ৪) বাংলাদেশ (পয়েন্ট ৪০, পয়েন্টের শতাংশ ৬৬.৬৭)

    অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টেস্টে হারিয়ে নিজেদের সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। বাকি ন’টি টেস্টের মধ্যে সাতটি জিততে হবে তাদের।

    ৫) ভারত (পয়েন্ট ৫২, পয়েন্টের শতাংশ ৪৮.১৫)

    শুভমন গিলদের বাকি রয়েছে ন’টি টেস্ট। তাঁদেরও অন্তত সাতটি টেস্ট জিততে হবে। নইলে আরও এক বার ব্যর্থ হতে হবে ভারতকে।

    ৬) শ্রীলংকা (পয়েন্ট ২০, পয়েন্টের শতাংশ ৪১.৬৭)

    বাকি আটটি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি জিততে হবে তাদের। ড্র করতে হবে দু’টি। একটির বেশি টেস্ট হারলেই শ্রীলঙ্কার সুযোগ শেষ।

    ৭) ইংল্যান্ড (পয়েন্ট ৩৮, পয়েন্টের শতাংশ ২৪.৩৬)

    বাকি সব টেস্ট জিততে হবে ইংল্যান্ডকে। তবেই তাদের ফাইনাল খেলার সুযোগ থাকবে।

    এই সাত দেশের নিজেদের মধ্যে খেলা রয়েছে। ফলে এক দল জিতলে অপর দল হারবে। তাই পরিসংখ্যান প্রতি ম্যাচের পরেই বদলে যাবে।

  • এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়…

    এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়…

    সেই কবে ১৮৮২ সালের ওভালে গিয়ে প্রথমবার ব্রিটিশ সিংহকে খাঁচায় পুরেছিল অসিরা, আর বুক চাপড়ে দ্য স্পোর্টিং টাইমস লিখেছিল ইংরেজ ক্রিকেটের ‘মৃত্যুসংবাদ’। কল্পনায় সেই মৃতদেহ দাহ করে ছাই অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গিয়েছে বলেও ব্যঙ্গ করেছিলেন সাংবাদিক রেজিনাল্ড শার্লি ব্রুকস। সেই থেকেই তো ছাই-ভস্মের সেই অ্যাশেজ সিরিজ। দেড় শতাব্দী পর ডারউইনের বাইশ গজে আজ কি তবে ক্যাঙারু-বধের পর অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াও নিজেদের ক্রিকেটের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করবে?

    ডেভিড হুকস (ইনি সেই ভদ্রলোক, যিনি কিনা ২০০৩ সালে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে গেলে সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে লিখেছিলেন– এক দিনের টেস্টের জন্য সবাই প্রস্তুত হও) বেঁচে থাকলে আজ হয়তো ঠিক এই হাহাকারটাই করতেন। অথচ কী আশ্চর্য, মাররা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কোনো শোরগোল হলো না, কোনো আগাম দামামা বাজল না; অথচ টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ মহাকাব্যে ঘটে গেল এক নিঃশব্দ রূপান্তর-পর্ব!

    কোনো সমঝদার বাংলাদেশি চাইলে ডারউইনের এই পুণ্যমাটি মুঠোভরে দেশে নিয়ে আসতেই পারেন। দলের সঙ্গে থাকা নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের কাছে সেই প্রত্যাশার কথা রাখতেই হাসিতে সম্মতি দিয়েছেন। এই শতাব্দীর পাকিস্তান যা পারেনি, আধুনিক ক্রিকেটের কোনো শ্রীলঙ্কান মায়াজাল যা করতে পারেনি, দীর্ঘ ২৩ বছর পর অসি মুলুকে ব্রাত্য ও উপেক্ষিত থাকার পর মাত্র এক সপ্তাহের আমন্ত্রণে এসে নাজমুল হোসেন শান্তর বাংলাদেশ সেটাই করে দেখাল! অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকেই টেস্টে হারাল। পরাশক্তির অহংকার চূর্ণ করে বাঘেদের এই জিগীষা দেখে আজ ডারউইনের গ্যালারি ছাড়িয়ে গোটা ক্রিকেটবিশ্ব থমকে দাঁড়িয়েছে।

    সুকান্তের সেই লাইনগুলো খুব মনে পড়ছে– ‘সাবাস বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়: জ্বলে-পুড়ে মর ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়।’ ডারউইনের সবুজগালিচায় আজ লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা যেন সেই অবিনাশী স্পর্ধার এক মহিমান্বিত উপাখ্যানই লিখে গেল!

    কোথায় টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের মগজে বসে থাকা ক্রিকেটের এক নম্বর রাজাধিরাজ অস্ট্রেলিয়া, আর কোথায় তলানির নবমতম স্থানে ধুঁকতে থাকা এক লড়াকু বাংলাদেশ! বোদ্ধাদের ক্রিকেটীয় খেরোখাতায় এই ম্যাচের ফলাফল তো টসের আগেই একতরফা লিখে রাখা হয়েছিল। অসম, অসমঞ্জস্য এবং অসমাপ্ত এক দ্বৈরথ। হয়েছেও অবশ্য তাই– অসম লড়াইয়েই জিতেছে বাংলাদেশ, প্রথমে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে; অসমঞ্জস্যও হয়েছে– সেখানে তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি আর মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংসে ভর দিয়ে চার শতাধিক(৪২৬) রান তুলেছে বাংলাদেশ। এবং শেষ পর্যন্ত সাড়ে তিন দিনের অসমাপ্ত এক দ্বৈরথ– অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসেও ২৮৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছে হাসান মাহমুদ-মেহেদী হাসানরা। যদিও এই জয়টিকে কেউ কেউ ‘আপসেট’ বলছেন। কিন্তু যেভাবে পুরো টেস্টের এগারো সেশনে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছেন শান্তরা, তাতে আপসেট বলাটা অসম্মানের মতোই।

    টেস্টটি শুরু হওয়ার আগেও অসি মিডিয়া দুদিন, না তিন দিনে তা শেষ হবে– প্যাট কামিন্সের কাছে জানতে চেয়েছিল। অতিথিদের নিয়ে একটা অবজ্ঞা ছিল তাদের মধ্যে। সেই জেদেই কিনা ট্রাভিস হেড-স্টিভ স্মিথদের অস্ট্রেলিয়াকেই কিনা সাড়ে তিন দিনে স্রেফ মুড়ি-মুড়কির মতো শাসন করল শান্তর বাংলাদেশ! হাসান মাহমুদের সেই সুইং আর মিরাজের ঘূর্ণিজালে যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ক্যাঙারুদের দর্প, ডারউইনের আকাশ-বাতাস তখন সাক্ষী থাকল এক নতুন মহাজাগরণের। কোনো অলৌকিক মোজেজা বা ফ্লুক নয়; সাড়ে তিন দিন ধরে ক্রিকেটের কুলীন রাজাদের এভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া– তা তো আসলে বাঘেদের এক পঞ্জরীভূত লড়াকু মানসিকতা এবং ক্রিকেট ইতিহাসের তীব্রতম এক বৈপ্লবিক বিবর্তনের নাম! তা ছাড়া এটি অস্ট্রেলিয়ার ‘এ’, ‘বি’ কিংবা ‘সি’ দল খেলেছে বলেও জয়ের মাহাত্ম্য হালকা করা যাবে না। ট্রাভিস হেড, লাবুশেন, স্মিথ, গ্রিন, ক্যারি, কামিন্স, স্টার্ক, হ্যাজেলউড, লায়ন– রীতিমতো অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ জয়ী দল এটা।

    ম্যাচের মাঝে অসি পেসার হ্যাজেলউড অসহায়ের মতো স্বিকারক্তি দিয়েছিলেন এই বলে যে বাংলাদেশের এই দলের অনেক ক্রিকেটারের ভিডিও তাদের কাছে ছিল না। তারা অনেকটা অচেনা ছিল ! টেস্টের এক নম্বর দলের কেউ যখন এই কথা বলে তখন তার পেশাদারিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলা যায়। নয়তো তারা যে বাংলাদেশকে নিয়ে উদাসীন ছিলেন সেটা বোঝা যায়। তাদের নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচ ছিল এটি। অথচ তারা ডারউইনে এসেই ছিল দুই দিন আগে। ব্রিজবেনে দলের কেউ কেউ একসঙ্গে হলেও ক্যাম্পটি বেশি দিনের ছিল না। হয়ত তারা বাংলাদেশের নাম ভেবেই ধরে নিয়েছিল অত পড়ালেখার দরকার নেই। এমনও হতে পারে তারা পড়ে এসেছিল মুশফিক, তাসকিনদের মতো ক্রিকেটারদের, কিন্তু টেস্টের পরীক্ষায় এসেগেছে হাসান মাহমুদ, তানজিদ তামিম, মেহেদী হাসান মিরাজরা। যারা কিনা প্রায় দুই বছর ধরে এই সিরিজের জন্যই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। হাসান মাহমুদ ইংল্যান্ডের কেন্টে গিয়ে ট্রায়াল দিয়ে তাদের দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কাউন্ট খেলার সেই অভিজ্ঞতাটা তিনি কাজে লাগিয়েছেন এই ম্যাচে।

    ১৯৯৭ সালের কুয়াশাচ্ছন্ন কুয়ালালামপুরে আইসিসি ট্রফি জিতে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার সেই যে বাঁধভাঙা কান্না, কিংবা ২০০৭-এর ত্রিনিদাদে তারুণ্যের ঔদ্ধত্যে পরাক্রমশালী ভারতকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেওয়ার সেই অবিশ্বাস্য কীর্তি—বাঙালির আবেগের মণিকোঠায় এদের স্থান চিরন্তন। এর ঠিক দুই বছর পর, ২০০৯ সালে খোদ ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে গিয়ে উইন্ডিজদের হোয়াইটওয়াশ করার সেই মহাকাব্য, কিংবা ঘরের মাঠে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের অহংকার গুঁড়িয়ে দেওয়ার সেই রোমাঞ্চকর টেস্ট জয়—সময়ের নিক্তিতে মেপে দেখুন, সেগুলোর কোনটির মূল্য কিন্তু এক রত্তি কম নয়! প্রতিটি জয়ই ছিল তৎকালীন প্রেক্ষাপটে, তখনকার চড়াই-উতরাইয়ের বাস্তবতায় আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের একেকটি ‘সেরা’ বিজ্ঞাপন।

    মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের ২০২২ সালে সেই বিখ্যাত টেস্ট জয় কিংবা ২০২৪ রাওয়ালপিন্ডির বুক চিরে ইতিহাস ছিনিয়ে আনা—সবকিছুকে এক লহমায় ম্লান করে দিল ডারউইনের এই ৯ উইকেটের জয়। একে স্রেফ একটা ক্রিকেট ম্যাচ জেতা বললে ক্রিকেটের ব্যাকরণকে অপমান করা হয়; এটি আসলে বাইশ গজের এক নিঃশব্দ, নির্মম সাম্রাজ্য-খর্বতার উপাখ্যান! দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে যে ক্রিকেটীয় অস্পৃশ্যতার দেয়াল তুলে লাল-সবুজকে নিজেদের আঙিনায় ঢুকতে দেয়নি অজিরা, সিডনি–মেলবোর্নের মতো স্টেডিয়ামে আমন্ত্রন না জানিয়ে ডারউইনের মতো পার্কে খেলতে ডাকার মতো অবজ্ঞাকে পায়ে মারিয়ে এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে শান্তরা।

    ডারউইনের এই মহাকাব্যিক বিজয়ের পর বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে বাংলাদেশের দিকে তাকানোর দৃষ্টিভঙ্গিটাই চিরতরে বদলে গেল; এখন থেকে লাল-সবুজের এই দলটিকে সবাই সমীহ আর পরম সম্মানের চোখে দেখবে। এতকাল যারা বাংলাদেশকে কেবলই ‘কন্ডিশনের সুবিধা নেওয়া’ হোম-টিম কিংবা অঘটন ঘটানো কোনো ক্ষণস্থায়ী দল হিসেবে ভাবত, তাদের সেই পুরনো চশমাটা আজ ভেঙে চুরমার। বিশ্ব ক্রিকেটের কুলীন প্রধানদের ডেরায় গিয়ে, তাদেরই পাতা ফাঁদে তাদের ধুলিসাৎ করে শান্তর দল প্রমাণ করল—বাংলাদেশ এখন আর কোনো ব্রাত্য বা করুণাপ্রার্থী দল নয়, বরং বাইশ গজের এক নতুন পরাশক্তি। ডারউইনের সবুজ গালিচায় আজ যে সম্মানের রাজমুকুট বাঘেরা মাথায় পরল, তা ক্রিকেট বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে এনে দিল এক পরম স্বীকৃতি ও চিরস্থায়ী কৌলিন্য।

  • ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ’, মিরাজকে গিলক্রিস্ট

    ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ’, মিরাজকে গিলক্রিস্ট

    ঐতিহাসিক জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটারদের কাছ থেকে প্রশংসা পাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্টের প্রশংসা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

    মিরাজ বলেন, ‘যেটা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে, এখানে সব কিংবদন্তি খেলোয়াড়কে দেখেছি। আজ আমি পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর অ্যাডাম গিলক্রিস্ট আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, বিষয়টি আমার খুব ভালো লেগেছে।’

    গিলক্রিস্ট বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশংসা করেছেন বলেও জানান মিরাজ। ‘তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বলেছেন, বাংলাদেশ খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে।’

    গিলক্রিস্ট বলেন, ‘তোমরা আমাদের অবাক করে দিয়েছ। আমরা কখনো ভাবিনি তোমরা এভাবে ক্রিকেট খেলতে পারো।’

    মিরাজের মত গিলক্রিস্টের এমন মন্তব্য বাংলাদেশের জন্য বিশেষ। ‘এমন একজন কিংবদন্তি যখন আমাদের দল সম্পর্কে এত ভালো কথা বলেন, তখন নিজের কাছেও খুব ভালো লাগে।’