ক্রিকেট

  • বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনলেন বিরাট-আনুশকা, কী আছে এতে

    বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনলেন বিরাট-আনুশকা, কী আছে এতে

    ভারতের তারকা দম্পতি বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মা আবারও রিয়েল এস্টেটে বড় বিনিয়োগ করেছেন। মুম্বাইয়ের ভারসোভা এলাকায় একটি বিলাসবহুল আবাসনে প্রায় ১৮ কোটি ২৯ লাখ রুপি মূল্যের নতুন ফ্ল্যাট কিনেছেন তারা।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ফ্ল্যাটটির আয়তন ২ হাজার ৬৪৪ বর্গফুট। বহুতল ভবনের ওপরের দিকের একটি তলায় অবস্থিত এই ফ্ল্যাটের সঙ্গে রয়েছে অতিরিক্ত ৩১৬ বর্গফুট ব্যবহারযোগ্য জায়গা। এছাড়া তিনটি গাড়ি রাখার জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং সুবিধাও রয়েছে।

    এর আগে ২০১৬ সালে মুম্বাইয়ের ওরলি এলাকার সমুদ্রঘেঁষা একটি আবাসনের ৩৫তম তলায় ৭ হাজার ১৭১ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট প্রায় ৩৪ কোটি রুপিতে বুক করেছিলেন বিরাট। চার শয়নকক্ষের সেই ফ্ল্যাটের বুকিং পরে বাতিল করা হয়। ফলে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয়নি।

    নতুন এই ফ্ল্যাটের মাধ্যমে বিরাট-আনুশকার সম্পত্তির তালিকায় আরও একটি সংযোজন হলো। এরই মধ্যে মুম্বাই, গুরুগাঁও ও আলিবাগে তাদের একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি ও জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করে আসছেন এই তারকা দম্পতি।

    পশ্চিম দিল্লিতে বেড়ে ওঠা বিরাটের গুরুগ্রামের ডিএলএফ ফেজ-১ এলাকায় প্রায় ১০ হাজার বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল বাড়িও রয়েছে। শহরের অন্যতম অভিজাত এলাকায় অবস্থিত বাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮০ কোটি রুপি। সেখানে ব্যক্তিগত সুইমিং পুল, আধুনিক জিমসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আলিবাগের আওয়াস সমুদ্রসৈকতের কাছে জিরাড গ্রামে পাঁচ একরের বেশি জমি কেনেন বিরাট ও আনুশকা। জমিটির মূল্য ছিল প্রায় ৩৭ কোটি ৮৬ লাখ রুপি।

    এর আগে ২০২২ সালে আলিবাগেই প্রায় আট একর জমি ১৯ কোটি রুপিতে কিনেছিলেন তারা। পরে সেখানে একটি বিলাসবহুল ভিলা নির্মাণ করেন। সেই ভিলায় রয়েছে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত সুইমিং পুল, বিশেষ নকশার রান্নাঘর, চারটি বাথরুম, জাকুজি, বড় ল্যান্ডস্কেপ বাগান, ছাউনি দেওয়া পার্কিং এবং কর্মীদের থাকার জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

  • সিরিজ রক্ষার ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

    সিরিজ রক্ষার ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

    টি-টোয়েন্টি সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। আজ একই ভেন্যু বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। টসে জিতে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    বাংলাদেশ একাদশ
    তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন, তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), নুরুল হাসান (উইকেটরক্ষক), ইয়াসির আলী, মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা।

  • ১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

    ১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

    অ্যাশেজ শুরুর আগে ইংল্যান্ড নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে। ম্যাচটি আগামী বছরের মে মাসের শেষ দিকে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাংলাদেশ শেষবার ২০১০ সালে ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলেছিল। তাই প্রায় ১৭ বছর পর আবার ইংলিশ কন্ডিশনে সাদা পোশাকে মাঠে নামবে টাইগাররা। তবে এই ম্যাচটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়।

    ম্যাচের ভেন্যু এখনো নিশ্চিত হয়নি। এটি নির্ভর করছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল কোথায় হবে তার ওপর। যদি ফাইনাল লর্ডসে না হয়, তাহলে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্টটি লর্ডসে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর যদি লর্ডসেই ফাইনাল হয়, তাহলে ম্যাচটি ওভালে আয়োজন করা হতে পারে।

    সম্প্রতি লর্ডসের উইকেট নিয়ে সমালোচনা হয়েছে, কারণ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্ট খুব কম ওভারে শেষ হয়েছিল এবং বোলারদের জন্য বেশ সহায়ক কন্ডিশন ছিল। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল লর্ডস থেকে সরিয়ে ওভালে নেওয়ার কথাও ভাবছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড।

    ২০২৭ সালের সূচিতে ইংল্যান্ড বাংলাদেশের বিপক্ষে সফর করবে এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি বিশেষ টেস্ট খেলবে। এরপর মে মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে একমাত্র টেস্ট খেলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এই সিরিজগুলো ইংল্যান্ডের জন্য অ্যাশেজের আগে প্রস্তুতির বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, আর বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘ বিরতির পর ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হবে।

  • লড়াই করেও হেরে গেল বাংলাদেশ

    লড়াই করেও হেরে গেল বাংলাদেশ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    দারুণ লড়াই করলো বটে, তবে সিরিজ বাঁচাতে পারলো না টাইগাররা। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিলো অস্ট্রেলিয়া। টানা দুই টি-টোয়েন্টি জিতে আশাহত করলো স্বাগতিকদের।

    বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ দলীয় রানের সংগ্রহ পায় অজিরা। চট্টগ্রামে শুক্রবার আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান তারা। রান তাড়ায় খুব কাছে গিয়েও ৭ রানে হেরে যায় টাইগাররা।

    জিততে হলে বাংলাদেশকে রেকর্ড গড়তে হতো। এতো রান তাড়া করে ঘরের মাঠে আগে কখনো জেতেনি টাইগাররা। পারেনি আজও, তবে চেষ্টার কমতি ছিল না। ছিল ভালো সম্ভাবনা।

    ১২ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১২২ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ। শেষ ৮ ওভারে ৭৫ রান প্রয়োজন তখন টাইগারদের। মাঠে ছিলেন থিতু হয়ে যাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান।

    তবে ৪ বলের মাঝে এই দু’জনকে তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরে অজিরা। ১২.৪ ওভারে অ্যারন হার্ডি ফেরান ২২ বলে ৩৬ রান করা ইমনকে। পরের ওভারে ৩৩ বলে ৪২ রান নিয়ে আউট হন সাইফ।

    এরপর অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় চেষ্টা করেন সমীকরণ মেলানোর। তবে সঙ্গ পাননি। শামিম পাটোয়ারী ৮ বলে ৭ করে ফিরলে আব্দুল গাফফার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ১১ বলে মাত্র ১৩ রান করেন।

    শেষ ওভারে ২৩ রান প্রয়োজন ছিল জয়ের জন্য। তবে ১৫ রান তুলতে পারেন হৃদয়। শেষ বলে এসে তিনি আউট হয়ে যান ২২ বলে ৩৫ করে। ৬ উইকেটে ১৮৯ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

    এর আগে জয়ের জন্য ভালো ভিত গড়ে দেন তানজিদ তামিম। ৩.৪ ওভারে ফেরার আগে ৪ চার ১ ছক্কায় ১৫ বলে ৩০ করে আউট হন তিনি। তবে তিনে নেমে সৌম্য সরকার ৯ বলে ১৫ রানে আউট হন।

    এরপর ইমনকে নিয়ে ইনিংস টানেন সাইফ হাসান। তবে তারা ফিরলে পথ হারায় বাংলাদেশ।

    অজিরা এতো বড় সংগ্রহ পাবার পেছনে বড় অবদান ম্যাট রেনশর। টি-টোয়েন্টিতে নিজের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন ৫২ বলে ৮৯ রান করে। এছাড়া ২৬ বলে ৪৫ রান করেন টিম ডেভিড।

    অবশ্য বড় অবদান আছে বাংলাদেশের ফিল্ডারদেরও। নাহির রানার বলে দুবার জীবন পান রেনশ। একবার নিজের বলে ক‍্যাচ নিতে পারেননি, আরেকবার ক্যাচ মিস করেন নাসুম।

    অবশ্য বল হাতে নাসুম আহমেদ ছাড়া সবাই ছিলেন কমবেশি খরুচে, নাসুম ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। আব্দুল গাফফার ৫৩ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট, রিশাদ হোসেন দেন ৪৬ রান।

    দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শুক্রবার টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় ওভারে ফেরেন জশ ইংলিস। ৬ বলে ১১ রান করে আউট হন তিনি। এরপর নাহিদ ফেরান কোপার কনোলিকে।

    তৃতীয় ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির পর প্রথম টি-টোয়েন্টিতে করেছিলেন ৪৭ রান। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ১ রানে নাহিদ রানার বলে স্লিপে ক্যাচ দেন কনোলি। ৩৪ রানে ২ উইকেট হারায় অজিরা।

    পরের উইকেট নেন মোস্তাফিজ। ১৯ বলে ২০ রান করা অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মিচেল মার্শকে ফেরান তিনি। পাওয়ার প্লেতে ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারায় অজিরা। এরপরই রেনশ ও টিম ডেভিড হাল ধরেন।

    দু’জনের জুটিতে ৫০ বলে আসে ৯৭ রান। ডেভিডকে ফিরিয়ে সাকলায়েন জুটি ভাঙলেও অপরাজিত থাকেন রেনশ। শেষ দিকে ১৩ রান করেন জুয়েল ডেভিস।

  • এসআইসহ ২ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

    এসআইসহ ২ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

    জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধরের অভিযোগে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

    শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে ক্রিকেটার নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

    নাঈম হাসানের বাসা চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁওয়ের ফরিদারপাড়া এলাকায়। তাকে মারধরের ঘটনার বিষয়ে জানতে ও দুঃখ প্রকাশ করতে সেখানে যান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    হাসান মো. শওকত আলী বলেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় মামলাও প্রক্রিয়াধীন। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, কারও ব্যক্তিগত অপরাধের দায় পুলিশ নেবে না। যার দায় তাকেই নিতে হবে। জড়িতদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

    ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে বাসায় ফেরার পথে গতকাল শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নাঈমকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরে তাকে থানায় নিয়ে গিয়েও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

    নাঈম হাসান সাংবাদিকদের জানান, রাতের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে সিএনজিতে করে বাসার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ সিএনজি থামার সংকেত দেয়। এরপর চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেয় পুলিশ। পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাঈম হাসানকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল। একপর্যায়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নাঈমকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানেও তাকে হেনস্তা করা হয়। পরে বিসিবি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান নাঈম।

    এ ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন- খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী।

    এর আগে গতকাল রাতেই তাদের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে বলে জানান সিএমপি কমিশনার।

  • অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

    রাইলি মেরেডিথের শর্ট বল পুল করলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বল যখন আকাশে, তখনই মিরপুর শেরেবাংলার ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে শামীম আশরাফ চৌধুরীর কণ্ঠে বোঝা গেছে উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত বলটা পৌঁছাল সীমানার ওপারে। মিরাজের এই ছক্কায় লেখা হয়ে গেল ইতিহাস। প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।

    ছয়বারের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের পর আইসিসি ইভেন্টে নেই সফলতা। এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ অস্ট্রেলিয়া খেলছে ট্রাভিস হেড, মিচেল মার্শ, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউডদের মতো তারকাদের ছাড়াই। আজ মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে ৫ উইকেটে হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। এখন শুধু বাংলাওয়াশ করার অপেক্ষা। ১৪ জুন শেরেবাংলায় তৃতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া।

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর বাকি রইল ইংল্যান্ড। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া—টেস্ট খেলুড়ে এই ১০ দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।

    বৃষ্টির কারণে ডাকওয়ার্থ লুইস ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য হয়েছে বাংলাদেশের সামনে। একাদশে এক পরিবর্তনও আনা হয়েছে। সাইফ হাসানের পরিবর্তে ওপেনিং করেছেন সৌম্য সরকার। তবে তাঁর সঙ্গী তানজিদ হাসান তামিম রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে তানজিদ তামিমকে কট এন্ড বোল্ড করেন জ্যাভিয়ের বার্টলেট।

    ০ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ব্যাটিংয়ে নামেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সৌম্য-শান্ত সাবলীলভাবে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মোকাবেলা করেন। ভালো বলকে সমীহ করেছেন। বাজে বল পেলে সেটাকে বাউন্ডারিতে পরিণত করেছেন তাঁরা (সৌম্য-শান্ত)। দ্বিতীয় উইকেটে ৯৩ বলে ৮৬ রানের জুটি গড়েন সৌম্য-শান্ত।

    সৌম্যকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ম্যাট রেনশ। তাতে সৌম্যর দায়ই বেশি। ১৬তম ওভারের পঞ্চম বলে রেনশকে রিভার্স সুইপ করতে যান সৌম্য। এজ হওয়া বল স্লিপে ক্যাচ ধরেন বার্টলেট। কিছুক্ষণ পর বিদায় নেন শান্তও। এই বাঁহাতি ব্যাটারকে ফিরিয়েছেন মেরেডিথ। সৌম্য, শান্ত দুজনেই করেন ৪৩ রান।

    দুই বাঁহাতি ব্যাটার সৌম্য, শান্তর বিদায়ে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ১৮.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৮ রান। এরপর মিডল অর্ডারে লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২১ রান করা লিটনকে ফিরিয়েছেন ক্যামেরন গ্রিন। আর সৈকতের উইকেট নিয়েছেন অ্যাডাম জাম্পা। বাংলাদেশের এই মিডল অর্ডার ব্যাটার করেন ১৫ রান।

    লিটন, সৈকতের বিদায়ে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ২৭ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৪ রান। বাকি পথটুকু নিরাপদে পাড়ি দিয়েছেন মিরাজ ও তাওহীদ হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেটে ৪৯ বলে ৫১ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েন তাঁরা (মিরাজ-হৃদয়)। তুলির শেষ আঁচড় মিরাজ দিয়েছেন ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা মেরে।

    দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং নেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক জশ ইংলিস। ২ ওভারে ৩ উইকেটে ০ রানে পরিণত হয় অস্ট্রেলিয়া। দুই ওপেনার ম্যাথু শর্ট ও কুপার কনোলি এবং ম্যাট রেনশ—এই তিন ব্যাটার মেরেছেন ডাক। ওপেনার শর্টকে বোল্ড করে তাসকিন আহমেদের শুরু। কনোলি, রেনশকে ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। উইকেটের পেছনে ক্যাচ ধরেছেন লিটন দাস।

    ১০০ থেকে ১৫০-এর ভেতরে অস্ট্রেলিয়ার গুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা হয়নি। ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রানে আটকে যায় অজিরা। বেলা ২টা ৩৪ মিনিটে বৃষ্টি নামার পর আড়াই ঘণ্টা খেলা হয়নি। ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন মারনাস লাবুশেন। ৮৫ বলে ৩ চারে ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন অজি এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। বাংলাদেশের মোস্তাফিজ, তাসকিন নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। ৭ ওভারে ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন মোস্তাফিজ। দুই ওভার মেডেনও দিয়েছেন তিনি। তানভীর ইসলাম পেয়েছেন ২ উইকেট।

  • বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া

    বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া

    নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৭ পুনঃনির্ধারণ হওয়ায় অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ নারী দলের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাতিল করতে হয়েছে। ওই সময়সীমায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে নিউজিল্যান্ড, এরপর মার্চে ক্যানবেরা ও মেলবোর্নে আরও তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলতে আবারও অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে তারা।

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৭ সালের উদ্বোধনী নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, যা শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, জুন–জুলাই থেকে সরিয়ে ফেব্রুয়ারিতে দুই সপ্তাহের মধ্যে আয়োজিত হবে। এই পরিবর্তনের কারণে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাদের নারী দলের ঘরোয়া সূচি পুনর্বিন্যাস করেছে।

    বাংলাদেশ নারী দল আগে অক্টোবরের ৯ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত ব্রিসবেন ও সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি একদিনের ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। তবে একদিনের ম্যাচগুলো বহাল থাকলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজটি বাতিল করা হয়েছে।

    অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড নারী দলের অস্ট্রেলিয়া সফরও নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। আগে ফেব্রুয়ারি–মার্চে সিরিজ হওয়ার কথা থাকলেও এখন তারা অক্টোবরের ১৮, ২০ ও ২২ তারিখে সিডনিতে তিনটি টি–টোয়েন্টি খেলবে—যে তারিখগুলো আগে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ছিল। এরপর তারা মার্চের ৬, ৮ ও ১০ তারিখে ক্যানবেরা ও মেলবোর্নে তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলবে।

    মার্চের ৮ তারিখের ম্যাচটি হবে জাংশন ওভালে আলোতে খেলা প্রথম আন্তর্জাতিক নারী ম্যাচ, যেখানে সম্প্রতি ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হয়েছে। একই দিনটি মেলবোর্নে সরকারি ছুটির দিন এবং আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবেও পালিত হবে। এই দুই ম্যাচ ১১ থেকে ১৫ মার্চ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য পুরুষদের দেড়শতম বার্ষিক টেস্টের আগে অনুষ্ঠিত হবে।

    একদিনের ম্যাচগুলোর আগের সূচি (১, ৫ ও ৭ মার্চ) পরিবর্তন করে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরার পর দলগুলো পর্যাপ্ত সময় পায়। আগের পরিকল্পনায় ম্যাচগুলো অ্যাডিলেড ও মেলবোর্নে হওয়ার কথা ছিল।

    ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সূচি ও ক্রিকেট কার্যক্রম বিভাগের প্রধান পিটার রোচ বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সাম্প্রতিক সূচি পরিবর্তনের পর তারা নতুন পরিকল্পনা করেছে, যা খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য সর্বোত্তম হবে। তিনি আরও জানান, নারীদের ক্রিকেট দেড়শতম বার্ষিক টেস্টের আগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং জাংশন ওভালে আলোতে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে।

    তিনি বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বিশেষভাবে নিউজিল্যান্ডকে দুইবার অস্ট্রেলিয়া সফরে সম্মতি দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    নারী বিগ ব্যাশ লিগ অক্টোবরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত চলার কারণে এবং ভারতীয় নারী প্রিমিয়ার লিগ জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি দখল করে রাখায় অস্ট্রেলিয়ার নারী দল এখন ঘরের মাঠে মূলত গ্রীষ্মের শুরু ও শেষ অংশে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে।

  • এবার নির্বাচনে জিতে বিসিবি সভাপতি তামিম

    এবার নির্বাচনে জিতে বিসিবি সভাপতি তামিম

    অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনে জিতে সভাপতি হলেন তামিম ইকবাল।

    আজ রোববার (৭ জুন) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়ে প্রথমে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়ে পরিচালক হন তামিম। এরপর পরিচালকদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।

    সভাপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন হয়নি, তামিমই একমাত্র সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। যে কারণে তিনিই বিসিবির ১৮তম এবং নির্বাচিত ষষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। সহ-সভাপতি হয়েছেন ফাহিম সিনহা।

    বিসিবি পরিচালক হলেন যারা

    ক্যাটাগরি-১

    ঢাকা বিভাগ: সাইদ বিন জামান, এস এম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ

    চট্টগ্রাম বিভাগ: মিনহাজুল আবেদীন, মঈন উদ্দিন চৌধুরী

    খুলনা বিভাগ: শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম

    রাজশাহী বিভাগ: মীর শাকরুল আলম

    রংপুর বিভাগ: মির্জা ফয়সল আমীন

    সিলেট বিভাগ: আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী

    বরিশাল বিভাগ: মিজানুর রহমান

    ক্যাটাগরি – ২

    তামিম ইকবাল, মাসদুজ্জামান, ফাহিম সিনহা, আসিফ রব্বানী, ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, রফিকুল ইসলাম, সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, শানিয়ান তানিম, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, সাকিফ আহমেদ

    ক্যাটাগরি – ৩

    সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।

  • আইপিএলের এক মৌসুমেই যত রেকর্ড ভাঙ্গলেন সূর্যবংশী

    আইপিএলের এক মৌসুমেই যত রেকর্ড ভাঙ্গলেন সূর্যবংশী

    বৈভব সূর্যবংশী ২০২৬ সালের সদ্য শেষ হওয়া ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মৌসুমে এমন এক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, যা ক্রিকেটবিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে নিজের প্রথম পূর্ণাঙ্গ আইপিএল মৌসুম খেলেই তিনি একের পর এক রেকর্ড গড়ে নজর কেড়েছেন।

    রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ১৬ ম্যাচে ৭৭৬ রান সংগ্রহ করে তিনি জিতেছেন অরেঞ্জ ক্যাপ। তার ব্যাটিং গড় ছিল ৪৮.৫০ এবং স্ট্রাইক রেট ছিল ২৩৭.৩১। পুরো আসরে তিনি ৭২টি ছক্কা হাঁকিয়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন।

    অরেঞ্জ ক্যাপের পাশাপাশি তিনি এমভিপি, সুপার স্ট্রাইকার, ইমার্জিং প্লেয়ার এবং সর্বোচ্চ ছক্কার পুরস্কারও নিজের করে নেন। ২০২৫ সালে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতির পর ২০২৬ মৌসুম শেষে তার আইপিএল ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান দাঁড়িয়েছে ২৩ ম্যাচে ১,০২৮ রান। সেখানে তার গড় ৪৪.৬৯ এবং স্ট্রাইক রেট ২২৮.৯৫। এছাড়া রয়েছে দুটি সেঞ্চুরি ও ছয়টি অর্ধশতক।

    এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই আইপিএলের কিংবদন্তি ব্যাটারদের সঙ্গে তার তুলনা শুরু হয়েছে। পরিসংখ্যানের বিচারে অনেক ক্ষেত্রেই তিনি এগিয়ে আছেন। ক্রিস গেইল প্রথম পূর্ণাঙ্গ আইপিএল পর্যায়ে ২৮ ম্যাচে ১,০৭১ রান করেছিলেন। যদিও মোট রানে গেইল সামান্য এগিয়ে, বৈভব পাঁচ ম্যাচ কম খেলে প্রায় সমান রান করেছেন এবং তার স্ট্রাইক রেট গেইলের তুলনায় অনেক বেশি।

    অন্যদিকে এবি ডি ভিলিয়ার্স, ডেভিড ওয়ার্নার, সুরেশ রায়না, মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং রোহিত শর্মার প্রথম দিকের আইপিএল পরিসংখ্যানও বৈভবের বর্তমান অর্জনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। এমনকি বিরাট কোহলির শুরুর পরিসংখ্যানও ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক সাধারণ।

    ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বৈভবের সাফল্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু রান সংগ্রহ নয়; তিনি ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতাও দেখিয়েছেন। পাওয়ারপ্লে থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে তিনি বারবার দলকে শক্ত ভিত গড়ে দিয়েছেন।

    তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাকে এখনই আইপিএলের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের তালিকায় রাখা ঠিক হবে না। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করা এবং সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ এখনো সামনে রয়েছে।

    তারপরও একটি বিষয়ে প্রায় সবাই একমত—প্রথম পূর্ণাঙ্গ আইপিএল মৌসুমের বিচারে বৈভব সূর্যবংশীর মতো এত দ্রুত, ধারাবাহিক এবং বিস্ফোরক সূচনা আইপিএলের ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি।

  • আইসিসির সভায় বদলে গেল ক্রিকেটের যেসব নিয়ম

    আইসিসির সভায় বদলে গেল ক্রিকেটের যেসব নিয়ম

    আলোকস্বল্পতা থাকলে দিনের আলোতেও এখন টেস্ট ক্রিকেটে গোলাপি বল ব্যবহার করা যাবে। তবে এ জন্য দুই দলেরই সম্মতি থাকতে হবে। প্রধান নির্বাহীদের কমিটির সুপারিশে আজ ভারতের আহমেদাবাদে হওয়া বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছে আইসিসি।

    টেস্ট ক্রিকেটে যেন আলোকস্বল্পতার কারণে সময় নষ্ট না হয়, এ জন্য গবেষণারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। ফ্লাডলাইট, আলো পরিমাপের ব্যবস্থা, সেন্সর এবং অন্যান্য আধুনিক আলোকসজ্জাপ্রযুক্তি নিয়ে আইসিসি ও মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব একসঙ্গে অর্থায়ন করবে।

    আইসিসির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে প্রধান কোচ পানি পানের বিরতির সময় খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে পারবেন। টি-টুয়েন্টি ম্যাচে দুই ইনিংসের বিরতি ১৫ মিনিটে নামিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া এমসিসির নেওয়া সর্বশেষ সিদ্ধান্তগুলো, যেমন দিনের শেষ ওভারে কেউ আউট হলে খেলা সেখানেই না থামিয়ে ওই ওভার শেষ করা, বানি হপ ক্যাচ—এসব কার্যকর করা হবে।

    নারী ক্রিকেট নিয়েও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে আইসিসির সর্বশেষ বোর্ড সভায়। ২০২৭ সালের নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জুন-জুলাই থেকে এগিয়ে এখন ওই বছরেরই ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    ২০২৮ সালের নারী বিশ্বকাপের দল ১০টি থেকে বাড়িয়ে ১২টি করা হচ্ছে। র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৮ দল ও স্বাগতিক দেশ সরাসরি বিশ্বকাপ খেলবে। স্বাগতিক দেশ আগেই কোয়ালিফাই করে ফেললে র‌্যাঙ্কংয়ে পরের শীর্ষ দলগুলো বিশ্বকাপে জায়গা পাবে। বাকি দুটি দল আসবে ১০ দলের বাছাইপর্ব খেলে।

    বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনে প্রতিনিধি পাঠানোর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে আইসিসি। এই প্রতিনিধিরা হলেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার ড. মোহাম্মদ মোসাজে ও জিম্বাবুয়ের তেবাঙ্গা মুকুলআনি।

    তাঁরা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলবেন। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে যাবেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা ও দেবজিৎ সাইকিয়া।

    আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বৈশ্বিক বাছাইপর্ব কীভাবে হবে, সেটিও চূড়ান্ত করেছে আইসিসি। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইসিসি। বর্তমান কাঠামোর মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচির সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে কীভাবে আরও সমন্বয় করা যায়, তা মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে আহমেদাবাদের বোর্ড সভায়।