ক্রিকেট

  • সাদমানকে ১রানের জন্য সেঞ্চুরির অপেক্ষায় রেখে দিন শেষ বাংলাদেশের

    সাদমানকে ১রানের জন্য সেঞ্চুরির অপেক্ষায় রেখে দিন শেষ বাংলাদেশের

    ঢাকায় মিরপুর টেস্টের প্রথমদিনের শেষদিকে সবাই অপেক্ষায় ছিলো সাদমানের সেঞ্চুরির জন্য। তিন অঙ্ক থেকে মাত্র চার রান দূরে ছিলেন তিনি। ঠিক তখনই আলোকস্বল্পতায় বন্ধ হয়ে গেল খেলা। পরে আবার শুরু হলেও ৪ ওভারের বেশি খেলা হয়নি। ফলে অপেক্ষা বেড়ে গেল ৩১ বছর বয়সী ওপেনারের শতকের।

    আলোকস্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে গেছে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের খেলা। নিজের সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৯৯ রানে অপরাজিত সাদমান। বাংলাদেশ দিনের খেলা শেষ করেছে ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে।

    দিনের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে দলীয় ৯ রানে তানজিদ হাসানকে হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। এরপর সাদমান ও মুমিনুল হকের ৫৯ রানের জুটি প্রাথমিক চাপ সামাল দেয়। মুমিনুল ২৮ রান করে ফিরলে সাদমানের সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

    দ্বিতীয় উইকেটে সাদমান ও শান্তর জুটি বড় হয়নি। ৪২ বলে ১৯ রান করে জোমেল ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজ রিভিউ নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়। এরপর সাদমানের সঙ্গে জুটি গড়েন তাওহিদ হৃদয়।

    ধীরে ধীরে ইনিংস বড় করেন সাদমান। তুলে নেন ক্যারিয়ারের দশম টেস্ট অর্ধশতক। অন্য প্রান্তে তুলনামূলক দ্রুত রান তুলছিলেন হৃদয়। তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটিতে আসে ৬৭ রান। চা বিরতির সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৭৭ রান। সাদমান ৭৯ ও হৃদয় ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।

    চা বিরতির পরও রান বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখেন দুজন। তবে ক্র্যাম্পের কারণে বিপাকে পড়েন হৃদয়। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ব্যাটিংয়ে ফিরলেও জশুয়া বিশপের ওভারে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে আবারও ব্যথায় কাবু হয়ে পড়েন তিনি। ৮৪ বলে ৪২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটার। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। হৃদয়ের জায়গায় ব্যাট করতে নামেন লিটন দাস। পরে আলোকস্বল্পতার জন্য খেলা বন্ধ রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত আর খেলা মাঠে গড়ায়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ওয়ারিকান দুইটি এবং সিলস একটি উইকেট পেয়েছেন।

  • অভিষেকের ব্যাটের রেকর্ডে সিরিজ জিতল ভারত

    অভিষেকের ব্যাটের রেকর্ডে সিরিজ জিতল ভারত

    ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যেন নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালালেন ভারতের অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩৮ বলে ১১৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে একের পর এক রেকর্ড গড়লেন বাঁহাতি ওপেনার। তার সঙ্গে বৈভব সূর্যবংশীর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৪০ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের জয় পেয়েছে ভারত।

    এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৯৮ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।

    শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন অভিষেক। চার-ছক্কার বৃষ্টিতে কিউই বোলারদের দিশেহারা করে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯টি চার ও ১১টি ছক্কায় ৩৮ বলে ১১৩ রান করে আউট হন এই ওপেনার। অভিষেকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলেছেন ১৯ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীও। মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

    ভারতের ইনিংসের শুরুটা ছিল রেকর্ডময়। মাত্র ২.২ ওভারে ৫০ রান তুলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম দলীয় অর্ধশতকের যৌথ রেকর্ড গড়ে তারা। এরপর মাত্র পাঁচ ওভারেই একশ রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলে ভারত। পাওয়ারপ্লে শেষে বিনা উইকেটে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১৮ রান। যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পূর্ণ সদস্য দেশের সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে সংগ্রহ।

    অভিষেকের সেঞ্চুরিও রেকর্ডের তালিকায় নতুন সংযোজন। ৩৫ বলে শতক পূর্ণ করে ভারতের হয়ে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেন তিনি। এর আগে গত মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ভারতের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায়ও রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে আছেন তিনি।

    আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি অভিষেকের চতুর্থ সেঞ্চুরি। এই সংস্করণে তার চেয়ে বেশি শতক আছে শুধু রোহিত শর্মা ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের, দুজনেরই পাঁচটি করে। আর সব ধরনের স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে অভিষেকের সেঞ্চুরি এখন ১১টি। এ তালিকায় তার ওপরে আছেন বাবর আজমের ১৩টি ও ক্রিস গেইলের ২২টি সেঞ্চুরি।

    এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ এনে দেন ড্যারিল মিচেল। ৫২ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ফিন অ্যালেন ১৯ বলে ৪০ এবং বেভন জ্যাকবস ২৩ বলে ৩৯ রান করেন। তবে তাদের গড়া ১৯৮ রানের পুঁজি ভারতের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ের সামনে যথেষ্ট হয়নি।

  • বিশ্বকাপ জয়ে আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তান তারকা ফখর জামান

    বিশ্বকাপ জয়ে আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তান তারকা ফখর জামান

    পাকিস্তানের তারকা ওপেনার ফখর জামান আগামী বছরে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বকাপ খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। নিজেদের সেরাটা দেব। আশা করি ট্রফি আবার পাকিস্তানে ফেরত আনতে পারব।’

    ২০১৭ সালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। এরপর আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কোনো শিরোপা জিততে পারেনি পাকিস্তান। তবে আগামী বছর বিশ্বকাপ জয়ে আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তান।

    বিশ্বকাপ জয়ের জন্য নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছেন জানিয়ে পাকিস্তানের তারকা ওপেনার ফখর জামান বলেন ‘আইসিসি ট্রফি জেতার জন্য আমাদের উপরে চাপ রয়েছে। বড় আন্তর্জাতিক ট্রফির খরা কাটানোর ব্যাপারে আমরা নিজেদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।’

    তারকা এই ওপেনার আরও জানান, ‘দীর্ঘ দিন আইসিসি ট্রফি না জেতার কারণে মানুষ হতাশ হবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা দেখেছি যে, ভালো খেললে সমর্থকদের ভালোবাসা এবং সমীহ পাই। তবে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ওঠার চেয়ে ট্রফি জিতলে গোটা দেশ যে ভাবে উদ্বেল হয়ে ওঠে, তা পুরো আলাদা অনুভূতির।’

    বর্তমানে ইংল্যান্ড ও শ্রীলংকার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির লক্ষ্যে এই সিরিজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়ে এই তারকা ওপেনিং ব্যাটার বলেন, ‘বিশ্বকাপে দল গঠনের প্রক্রিয়া এখন থেকেই শুরু করতে হবে। সবচেয়ে ভালো ব্যাপার, বেশির ভাগ ক্রিকেটারই ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে নামছে।’

  • বাবার মতোই বিধ্বংসী শেবাগের ছেলে, ৮ ছক্কা ও ১৯ চারে ১৭৩

    বাবার মতোই বিধ্বংসী শেবাগের ছেলে, ৮ ছক্কা ও ১৯ চারে ১৭৩

    বীরেন্দর শেবাগের ব্যাটিংয়ের কথা মনে আছে? বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিতেন ভারতের সাবেক এই ওপেনার। বল বাউন্ডারিতে পাঠানোই যেন ছিল তাঁর সবচেয়ে প্রিয় কাজ। এবার বাবার সেই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখালেন ছেলে আর্যবীর শেবাগ। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৪৩ বলে ১৭৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন ১৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

    ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক আর্যবীর। আজ চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে খেলা তাঁর ইনিংসে ১৯টি চার ও ৮টি ছক্কা। তাঁর ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৮৯ রান করেছে দিল্লি।

    ৮ অক্টোবর বিশাখাপট্টনমে শুরু হয়েছে ভিনু মানকড় ট্রফির এলিট পর্ব। এই টুর্নামেন্টে দিল্লি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আর্যবীর। গত সেপ্টেম্বরে রাজকোটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অভিষেক হয়েছে তাঁর। এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের দায়িত্বও পেয়েছেন।

    তবে অধিনায়ক হিসেবে টুর্নামেন্টে তাঁর অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না। আগের ম্যাচেই কর্ণাটক তাঁর দলের বিপক্ষে তুলেছিল ৪১৮ রান। জবাবে দিল্লি অলআউট হয়েছিল ২২০ রানে। সেই ম্যাচে আর্যবীর করেছিলেন ৩২ রান। ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে সেই আক্ষেপ যেন সুদে-আসলে মিটিয়ে দিলেন শেবাগপুত্র।

    আজ টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দিল্লিকে দারুণ শুরু এনে দেন আর্যবীর ও অর্নব বুগ্গা। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন যোগ করেন ৯৮ রান। ৪৭ রান করে রূপেশ যাদবের বলে আউট হন অর্নব। এরপর ১০৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় দিল্লি।

    ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক আর্যবীর।ইনস্টাগ্রাম

    তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন আর্যবীর। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান অভিরাজ সিংয়ের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ৪৮ রান। অভিরাজ করেন ১৮ রান। একপর্যায়ে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৭৯।

    সেখান থেকে শান্তনু যাদবকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে আরও ৮৯ রান যোগ করেন আর্যবীর। শান্তনুর ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ৪৬তম ওভারে শ্রেষ্ঠ দুগ্গলের বলে আউট হন আর্যবীর। ততক্ষণে তাঁর নামের পাশে ১৭৩ রান। চণ্ডীগড়ের বোলারদের মধ্যে রূপেশ নেন ২ উইকেট। আর্যবীরের ব্যাটিংয়ের ঝড়টা বিশেষভাবে গেছে পার্থ গুপ্তার ওপর দিয়ে।

    বাবা বীরেন্দর শেবাগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত ছিলেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য। টেস্ট ক্রিকেটেও ওয়ানডের মেজাজে ব্যাট চালাতেন। আর্যবীরের এই ইনিংসেও যেন সেই মানসিকতারই ছাপ। ১৪৩ বলের ইনিংসে শুধু চার ও ছক্কা থেকেই তুলেছেন ১২৪ রান।

    অবশ্য আর্যবীরের প্রতিভার পরিচয় এবারই প্রথম পাওয়া গেল, তা নয়। গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের যুব ওয়ানডে সিরিজে ভারতের হয়ে ১০৯ রান করেছিলেন তিনি। বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ম্যাচটি ভারত জিতেছিল ৭ রানে।

    দ্বিতীয় ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে আর্যবীরের ব্যাট থেকে। রানআউট না হলে পেতে পারতেন ফিফটিও। শেষ ম্যাচে করেন ৩৪ রান। তিন ম্যাচেই রান পেয়ে নিজের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছিলেন তরুণ এই ওপেনার।

    দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে আর্যবীরের। সেখানে তিনি প্রতিনিধিত্ব করেছেন ওয়েস্ট দিল্লি লায়নসের।

  • পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে এশিয়ান গেমসের সোনা জিতল ভারত

    পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে এশিয়ান গেমসের সোনা জিতল ভারত

    শেষ পর্যন্ত একা লড়াই চালিয়ে গেলেন হাসান নাওয়াজ। তবে অন্যরা তাঁকে সঙ্গ দিতে না পারায় চিন্তা করতে হয়নি ভারতকে। এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনালে পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে সোনা জিতে নিল শ্রেয়াশ আইয়ারের দল।

    নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কে আগে ব্যাট করে ২১১ রানের পুঁজি পায় ভারত। লক্ষ্য তাড়ায় ১৯২ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান। তাদের ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখেন নাওয়াজ। শিবম দুবের করা ইনিংসের শেষ বলে উইকেটের পেছনে সঞ্জু স্যামসনের গ্লাভসবন্দী হওয়ার আগে খেলেন ৯৬ রানের ইনিংস।

    ৫১ বলে ৫ চার ও ৭ ছক্কা মারেন নাওয়াজ। ফাইনালে পাকিস্তানের সুখস্মৃতি হয়ে থাকল কেবল তাঁর সেঞ্চুরি ছোঁয়া ইনিংস। দলীয় ৩৬ রানে উসমান খানের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন নাওয়াজ। চতুর্থ উইকেটে সাইম আইয়ুবকে নিয়ে ৮৭ রান যোগ করেন। ২২ বলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান করে সাইম বিদায় নেন।

    সাইম ফিরলেও নাওয়াজের ব্যাটিং ঝড় অব্যাহত ছিল। আব্দুল সামাদ ও শান মাসুদকে নিয়ে কঠিন সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। কিন্তু তাঁর ঝড় কেবল দলের হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের হয়ে ২৩ রান করেন মাজ সাদাকাত। অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর ও দুবে দুটি করে উইকেট নেন।

    জোড়া ফিফটিতে বড় পুঁজি পেয়েছিল ভারত। ২৮ বলে অভিষেক শর্মার অবদান ৬১ রান। ৫১ রান করেন তিলক ভর্মা; ২২ বল খেলেন তিনি। শেষ ৪ ওভারে তিলক ও দুবে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৬৯ রান তোলে ভারতকে ২০০ পার করা সংগ্রহ এনে দেন। দুবে ২৭ ও আইয়ারের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান। পাকিস্তানের হয়ে আহমেদ দানিয়েল ও মিনহাজ দুটি করে উইকেট নেন। ৩ ওভারে মিনহাজ ২৫ রান দিলেও দানিয়েলের খরচ ৪৩ রান। সবচেয়ে বেশি ৪৭ রান দিয়েছেন সাইম আইয়ুব।

  • ‘তুই সেখানে বুট বেচতে গেছিস?’, বাবরের ওপর কেনো ক্ষেপলেন ওয়াসিম আকরাম

    ‘তুই সেখানে বুট বেচতে গেছিস?’, বাবরের ওপর কেনো ক্ষেপলেন ওয়াসিম আকরাম

    ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তানের শোচনীয় ৩-০ টেস্ট হার এবং দল নিয়ে নাটকীয় সিদ্ধান্তের পর দেশটির ক্রিকেট অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় বইছে। এবার সেই আগুনে ঘি ঢাললেন দেশটির কিংবদন্তি পেসার ও সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম। ম্যানচেস্টারে এক দাতব্য অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের বর্তমান অধিনায়ক বাবর আজমের নেতৃত্ব এবং তার ‘অজ্ঞতা’ নিয়ে কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তুই সেখানে বুট বেচতে গেছিস?

    বাবার আজমের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য ঘিরেই মূলত আকরামের এই ক্ষোভের সূত্রপাত। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টের টসের সময় বাবরকে জিজ্ঞাসা করা হয়, দল থেকে হঠাৎ সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফিরিয়ে দেয়া এবং কোচ বরখাস্তের মতো বড় সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে তার কি মতামত। উত্তরে বাবর জানান, এই পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না এবং বিষয়টি তার কাছেও সম্পূর্ণ নতুন।

    আর এই কথাটিকেই একহাত নিয়েছেন আকরাম। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “টসের সময় বাবরের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ‘আপনার সাতজন ক্রিকেটারকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, কোচ ও বোলিং কোচকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আপনি কি মনে করেন?’ সে তখন বলেছে, ‘আমার কোনো ধারণা নেই।’ তাহলে তুই সেখানে বুট বেচতে গেছিস?”

    আকরাম আরও বলেন, দলের নেতা যদি নিজের জায়গা থেকে শক্ত না থাকেন এবং বোর্ডের এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্তে কোণঠাসা হয়ে পড়েন, তবে পুরো দলের পারফরম্যান্সের ওপর তার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তার মতে, পরিস্থিতি যখন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছিল, তখন দ্বিতীয় টেস্টের পরেই বাবরের উচিত ছিল টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে শুধু একজন খেলোয়াড় হিসেবে খেলা চালিয়ে যাওয়া।

    ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করায় সাবেক ক্রিকেটাররা সাধারণত বোর্ডের চেয়ে অধিনায়কের ওপরই দায় বেশি চাপাচ্ছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, বোর্ডের সঙ্গে অধিনায়কের এই চরম যোগাযোগহীনতা পাকিস্তান ক্রিকেটকে কোথায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাবে?

  • আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টকে সামনে রেখে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই স্কোয়াড ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড- বিসিবি।

    আফগানিস্তান আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয় বলে এই ম্যাচও আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত নয়। তা সত্ত্বেও মূল দল নিয়েই আফগানদের বিরুদ্ধে লড়বে টাইগাররা।

    আগামী ৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট, যা আফগানদের হোম টেস্ট।

    নাহিদ রানা এই ম্যাচে খেলবেন না, তিনি মাঠে ফিরবেন ১০ অক্টোবর। সে হিসেবে এই টেস্ট খেলা হচ্ছে না। মূলত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলোতে তাকে ফিট পেতেই কোনো ঝুঁকি নিচ্ছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলার কথা রয়েছে নাহিদের।

    বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে আরেক পেসার তাসকিন আহমেদকেও। অমিত হাসান এই সিরিজের দলে নেই। তবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে জাকের আলী অনিককে।

    এশিয়ান গেমসের স্কোয়াডে থাকা ৬ ক্রিকেটার রয়েছেন টেস্ট দলে। সে কথা ভেবে ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসেবে আরব আমিরাতে টেস্ট দলের সাথে যাবেন নাঈম হাসান, মুশফিক হাসান ও ইকবাল হোসেন ইমন।

    একনজরে বাংলাদেশের স্কোয়াড

    নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম।

  • ইমরানের মুক্তির দাবিতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

    ইমরানের মুক্তির দাবিতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

    পাকিস্তানে বন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের কাছে চিঠি দিয়েছেন দেশটির সাত সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর ও স্টিভ ওয়াহ।

    তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো কূটনীতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে নয়, সাবেক অধিনায়ক হিসেবে ইমরান খানের বিষয়ে কথা বলার প্রয়োজন অনুভব করেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

    চিঠিতে তারা আরও জানিয়েছেন, ইমরান খানের বিরুদ্ধে চলমান আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে তারা কোনো অবস্থান নিচ্ছেন না। সেটি পাকিস্তানের নিজস্ব বিষয় বলেই মনে করেন তারা। তবে কারও আটক অবস্থায় তার সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, সেটি নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মতে, ‘রাজনৈতিক অবস্থান যা-ই হোক, আটক থাকা যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে মানবিক আচরণ করা মৌলিক মানবিকতার বিষয়।’

    ইমরান খানের পক্ষে বিশ্ব ক্রিকেটের সাবেক তারকাদের এটাই সর্বশেষ উদ্যোগ। এর আগে গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়ে ইমরানের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাদের দাবি ছিল, বর্তমানে ইমরানের চিকিৎসা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার মান পূরণ করছে না।

    ওই চিঠিতে তিনটি নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছিল। প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত চিকিৎসক বোর্ডকে ইমরানের নিজস্ব চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করে তার স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন মূল্যায়নের সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে খবর এসেছে, সেটি গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আদালতের নির্দেশে পুনর্বহাল করা সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎ যেন কোনো বাধা বা প্রশাসনিক বিলম্ব ছাড়াই চালু রাখা হয়। তৃতীয়ত, চিকিৎসা পরীক্ষার ফল যা-ই হোক না কেন, চিকিৎসকদের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।

    এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক ইমরানের পক্ষে প্রথম চিঠি দিয়েছিলেন। এরপর পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম ও মইন খানও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। বর্তমান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও ইমরানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

    সর্বশেষ চিঠিতে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়করা উল্লেখ করেছেন, ইমরানের ছেলে ও বোনেরা কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে তার স্বাস্থ্য ও কারাগারে তার সঙ্গে আচরণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সীমিত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা এবং আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ কম থাকা।

    ইমরানের বিষয়টি নিয়ে গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতেরও অনুরোধ করেছিলেন গ্রেগ চ্যাপেল। তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব পাননি।

  • আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ

    আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ

    সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।বিশ্বকাপ না খেলার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এমনটি ফুটে উঠেছে।

    গত মার্চে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় আজ মঙ্গলবার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. একে এম ওলি উল্যার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর ও সাবেক জাতীয় অধিনায়ক, জাতীয় দলের বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল বলেন, তদন্তে যা উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সবকিছু মিলিয়ে যা বলা যায়, বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার জন্য যে মানুষটি দায়ী তিনি হলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপেদষ্টা আসিফ নজরুল। সেই সময়ের সরকার ও তিনি দায়ী।

    তদন্ত কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে ফয়সাল বলেন, বাংলাদেশের অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত ছিল।

    ২২ পৃষ্ঠার যে তদন্ত প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হয়, সেখানে ১২ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি এবং তাদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়।

    সেখানে ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন- বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিকেট আঙিনা থেকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খান, বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদ সৈয়দ আশরাফুল হক, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি, বিসিবির কোচ ও ওই সময়ে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং ওই সময়ের বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীনের।

    যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমের সঙ্গেও কথা বলে কমিটি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে এই কমিটি সাক্ষাৎকার নেয় বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক এসএম সুমন এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেদুয়ানুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমেদের।

    তবে বিতর্কের কেন্দ্রে যে দুজন, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও সেই সময়ের বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল, তাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি বলে জানায় তদন্ত কমিটি।

    উল্লেখ্য, আইপিএলে রেকর্ড মূ্ল্যে কলকাতা নাইট রাইডার্সে সুযোগ পাওয়ার পরও উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের কারণে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়ে দেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। নিরাপত্তা ইস্যুতে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়।

    ঠিক একই কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত সফরে যায়নি। চেয়েছিল পাকিস্তানের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে। কিন্তু আইসিসি এতে রাজি হয়নি। যে কারণে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেয় আইসিসি।

  • ‘জ্যোতি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি’

    ‘জ্যোতি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি’

    বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতান জ্যোতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রিকেটার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় দলের এক ক্রিকেটার জ্যোতির আচরণকে ‘স্বৈরাচারী’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘সে তো অধিনায়ক না, স্বৈরাচার। তার কথার বাইরে গেলে বা বিপরীত মত দিলেই রোষানলে পড়তে হয়।’

    আরেক ক্রিকেটারের অভিযোগ, জ্যোতির অতিরিক্ত চিৎকার ও আচরণের কারণে তিনি নিজেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘এক ম্যাচে বল আমার কাছে আসার আগেই চিল্লানো শুরু করেন অধিনায়ক। এরপর ঘাবড়ে গিয়ে মিস করি আমি। তখন উনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন। শুধু তাই নয়, মাঠের বাইরেও উনি যেভাবে মানসিক নিপীড়ন করেন, আমি মাঝেমাঝে আল্লাহর কাছে বিচার দিই। বলি, অভিশাপ লাগে যেন।’

    অভিযোগ রয়েছে, জ্যোতির কঠোর আচরণে দলের কয়েকজন ক্রিকেটার এতটাই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন যে তারা স্রষ্টার কাছে তার বিরুদ্ধে মোনাজাত করে অভিশাপও চেয়েছেন।

    জ্যোতি ২০২১ সালে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক হন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দায়িত্ব পাওয়ার এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই নিজের প্রভাববলয় তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সরিয়ে একের পর এক নতুন মুখকে দলে আনা এবং তাদের একটি নির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে রাখার অভিযোগও রয়েছে।

    এরপর ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ক্রমেই বিষাক্ত হয়ে ওঠে। এমন দাবি করেছেন দলসংশ্লিষ্টরা। এমনকি মারামারি ও গালাগালির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে বিচার-সালিশ পর্যন্ত হয়েছে বলেও জানা যায়।

    গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্পিনার জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনার বাদ পড়া নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। দল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র তখন দাবি করেছিলেন, অফ-স্পিনার সুমনাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে না রাখার পেছনে জ্যোতির ভূমিকা ছিল।

    পারফরম্যান্স ও স্মার্টনেস দিয়ে সুমনা দীর্ঘদিন ধরেই নজর কাড়ছিলেন। অভিযোগকারীদের মতে, তাকে নিজের জন্য সম্ভাব্য হুমকি মনে করেই দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

    সাম্প্রতিক সময়েও দলের এক তরুণ অলরাউন্ডারকে জ্যোতি হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি, ওই ক্রিকেটারের সঙ্গে অধিনায়কের সাম্প্রতিক সময়ে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

    এর আগে জ্যোতির একচ্ছত্র আধিপত্য ও মানসিক চাপের মুখে নিজের আত্মসম্মান রক্ষায় পেসার জাহানারা আলম একপর্যায়ে দেশ ছাড়তেও বাধ্য হন। এমন দাবিও রয়েছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় দলের সাবেক এক অধিনায়ক বলেছেন, ‘মাঠের অধিনায়কত্ব আর বাইরের অধিনায়কত্ব আবার ভিন্ন। এখানে ওর কিছু জিনিস আছে, যেগুলো না করলেও পারতো। সেই জিনিসটা হচ্ছে, অধিনায়ক হয়েই তখনকার নির্বাচক কাম ম্যানেজার মঞ্জু (বর্তমানে নিষিদ্ধ মঞ্জুরুল ইসলাম) ভাইকে নিয়ে একটা সিন্ডিকেট তৈরি করা। এই জিনিসটা আসলে আমার মতে ও ঠিক করেনি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘একটানা সিনিয়রদের সবাইকে বসিয়ে দিয়ে জুনিয়র যারা ওর কথা শুনছে বা ওর কথা মান্য করছে, সেই ধরনের জুনিয়রদের নিয়েছে। এমনও আছে, যারা অভিষেক পর্যন্ত করেনি, সেই নতুনদেরও ওর কথা অনুযায়ী দলে ঢুকিয়েছে। দল তো এভাবে করে কোনোদিন ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে না। একটা সময় এর প্রতিফলন ঘটবেই। এখন যেটা ঘটছে, সেটাই তার প্রতিফলন। সে যেভাবে চেয়েছিল, সবাইকে ভয় দেখিয়ে চলবে বা সবাই ওর কথা শুনবে, জিনিসগুলো সেরকমই হচ্ছে; কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সটা আর পাওয়া যাচ্ছে না। সেই আগের ক্রিকেটটা আর নেই।’