আর্ন্তজাতিক

  • ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ হলেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা

    ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ হলেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা

    এবারের মিস ওয়ার্ল্ড হয়েছেন ডমিনিকান রিপাবলিকের প্রতিযোগী জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। ১১১টি দেশের মধ্যে সেরা হিসেবে মুকুট জিতলেন তিনি। বিশ্বসুসন্দরীর খেতাব জেতা জোহেইরি মোলা মিস ওয়ার্ল্ড ডমিনিকার রিপাবলিক ২০২৫ খেতাব জেতেন। সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েই এবার বিশ্ব আসরে আসার সুযোগ পান।

    জোহাইরি মোলা একাধারে শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও মডেল। ‘ভয়েস অব টুমোরো’ নামে তার একটি উদ্যোগ আছে, যার মূল লক্ষ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও তরুণদের ইংরেজি শেখানো এবং তাঁদের আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরিতে সাহায্য করা। প্রথম রানার আপ হয়েছেন স্পেনের এলিসাবেথ রেইনেস এবং দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন মিস মালয়েশিয়া তানুসিয়া চেট্টি।সেরা ৬ প্রতিযোগীকে নিয়ে চলে একাধিক পর্ব।

    শেষে বিচারকেরা তাদের নানা রকম প্রশ্ন করেন। আর এরপর ঘোষণা করা হয় বিজয়ীর নাম। মিস ওয়ার্ল্ড বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতা। ১৯৫১ সালে যুক্তরাজ্যে এর প্রতিষ্ঠা করেন এরিক মর্লে।

    প্রতিযোগিতায় কয়েকটি ধাপে প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে থাকে প্রাথমিক পর্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, রুদ্ধদ্বার সাক্ষাৎকার এবং মঞ্চে সরাসরি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পর্ব। এ বছর মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে ভিয়েতনামে। এবারের আসরে প্রথমবারের মতো ফ্রেঞ্চ গায়ানা, ইরিত্রিয়া, মোজাম্বিক, পাকিস্তান ও মালদ্বীপের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। অন্য দিকে ইকুয়েডরের সামান্থা কুয়েনেদিত, আর্মেনিয়ার মনিকা হারুতজুনজান এবং টোগোর নাদিরাতু আফোলাবি প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান।

    এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ১১১ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তাদের চারটি মহাদেশীয় অঞ্চলে ভাগ করা হয়—আফ্রিকা, আমেরিকা ও ক্যারিবীয়, ইউরোপ এবং এশিয়া ও ওশেনিয়া। বাংলাদেশের প্রতিযোগী সামানজার সাঈদ বিউটি উইথ আ পারপাসে প্রাথমিকভাবে নিজ মহাদেশে সেরা ৬–এ থাকলেও ফাইনালে সেরা চল্লিশে জায়গা করে নিতে পারেননি।

  • মেসিদের লিগে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত সুলিভানের

    মেসিদের লিগে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত সুলিভানের

    মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ফুটবলার কাভান সুলিভান। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই ফরোয়ার্ড এবার এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম টিনেজার হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে গোলে সরাসরি অবদান রাখার কীর্তি গড়েছেন।

    রোববার সিএফ মন্ট্রিলের বিপক্ষে ফিলাডেলফিয়ার ২-০ গোলের জয়ে একটি গোল করেন ১৬ বছর বয়সী কাভান। দলের হয়ে ৫৭ মিনিটে ড্যানলে জিন জ্যাকেস গোল করার পর ৭৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুলিভান। কাভানের গোলটি আসে দারুণ ফিনিশিংয়ে। বক্সের ভেতর সতীর্থের শটের পর বলের গতিপথ বুঝে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি। একাধিক প্রতিপক্ষের বাধা এড়িয়ে এক শটেই বল জালে পাঠান তরুণ ফরোয়ার্ড।

    এই গোলের ফলে চলতি মৌসুমে ফিলাডেলফিয়ার হয়ে কাভানের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটি। এর সঙ্গে রয়েছে সাতটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ মাত্র ১৬ বছর বয়সেই চলতি মৌসুমে ১১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি।

    এমএলএসে ১৬ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে এক মৌসুমে গোলে অবদানের নতুন রেকর্ডও এখন কাভানের। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সাবেক মার্কিন তারকা ফ্রেডি আদুর দখলে। ২০০৫ সালে ১৬ বছর বয়সে চার গোল ও ছয় অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১০টি গোলে অবদান রেখেছিলেন আদু।

    এর আগে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখার সময়ও রেকর্ড গড়েছিলেন কাভান। ১৬ বছর ৩৩৬ দিন বয়সে তিনি এমএলএসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখেন। এবার সেই কীর্তিকে আরও এক ম্যাচ বাড়িয়ে পাঁচে নিয়ে গেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই এমন পারফরম্যান্সে কাভানকে ঘিরে পুরো এমএলএসেই প্রত্যাশা বাড়ছে।

  • সংবাদমাধ্যমকে যাচাই না করে প্রচার না করার অনুরোধ ইশার

    সংবাদমাধ্যমকে যাচাই না করে প্রচার না করার অনুরোধ ইশার

    আলোচিত র‍্যাপার বাদশাহর সঙ্গে বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে ছড়ানো গুঞ্জনে এবার বিরক্তি প্রকাশ করেছেন পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো খবর বিশ্বাস করার আগে তাঁর নিজের বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করতে।

    ইশার এই বক্তব্য এসেছে ‘বিগ বস ২০’–এর একটি প্রচার ঝলক প্রকাশের পর। সেখানে পরিচয় গোপন রাখা এক নারীকে প্রেম, বিশ্বাসভঙ্গ ও সম্পর্কের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর গুঞ্জন ওঠে, ওই নারী হয়তো ইশা রিখি।

    গতকাল শনিবার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ইশা লেখেন, তাঁর বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের খবর ছড়াচ্ছে, যা দেখে তিনি ‘অবাক’। তিনি সংবাদমাধ্যমকে যাচাই না করা তথ্য প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও এসব খবর বিশ্বাস না করার আহ্বান জানান।

    বাদশাহ ও ইশা। ইনস্টাগ্রাম থেকে

    ইশার বক্তব্যের সারকথা, তাঁর বিয়ে বা বিচ্ছেদ নিয়ে কোনো তথ্য সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়, যদি না সেটি সরাসরি তাঁর কাছ থেকে বা তাঁর আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে আসে।

    ‘বিগ বস ২০’–এর প্রচারণায় রহস্য
    ইশার বক্তব্যের ঠিক এক দিন আগে ‘বিগ বস ২০’–এর একটি প্রোমো প্রকাশিত হয়। সেখানে এক নারীকে মুখ ঝাপসা করে দেখানো হয়। তাঁকে বলতে শোনা যায়, তিনি প্রেমে পড়েছিলেন। কিন্তু কোনো এক সম্পর্কে তাঁর বিশ্বাস ভেঙে যায়।
    এই বক্তব্যের পরই দর্শকদের একাংশ ধারণা করেন, রহস্যময় ওই নারী ইশা রিখি। কারণ, সম্প্রতি ইশা ও বাদশাহর সম্পর্কের সমাপ্তির খবর প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইশা কিংবা ‘বিগ বস ২০’–এর নির্মাতারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি যে প্রোমোর ওই নারী ইশাই কি না।

    ইশা রিখি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    মাত্র কয়েক মাসের দাম্পত্য
    বাদশাহ ও ইশা রিখির সম্পর্কের খবর অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। চলতি বছরের মার্চে ঘনিষ্ঠ আয়োজনে তাঁদের বিয়ে হয়। পরে ইশার মা বিয়ের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
    তবে বিয়ের মাত্র কয়েক মাস পরই বাদশাহ ও ইশার আলাদা হয়ে যাওয়ার খবর আসে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে দুজনই নিজেদের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বিচ্ছেদের কথা জানান।
    বাদশাহ তাঁর বিবৃতিতে জানান, তিনি ও ইশা পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয়টি নিয়ে আর কোনো জল্পনা বা অনুমান না করার অনুরোধ করেন তিনি। তাঁদের পক্ষ থেকে সেটিই এ বিষয়ে একমাত্র বক্তব্য হবে বলেও জানানো হয়েছিল।

    এরপরই ‘বিগ বস ২০’–এর রহস্যময় নারীকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ইশার সাম্প্রতিক বিবৃতিতে সেই জল্পনাই আরও তীব্র হয়েছে।

    এর আগে একবার বিয়ে হয়েছিল বাদশাহর
    ইশা রিখির সঙ্গে সম্পর্কের আগে বাদশাহ বিয়ে করেছিলেন জেসমিন মাসিহকে। ২০১২ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তাঁদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়, নাম জেসেমি গ্রেস মাসিহ সিং।
    ২০২০ সালে বাদশাহ ও জেসমিন আলাদা হয়ে যান। এরপর মেয়েকে নিয়ে জেসমিন লন্ডনে চলে যান।

    এদিকে ‘বিগ বস ২০’–এর নতুন মৌসুম ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে। সালমান খান উপস্থাপিত এই রিয়েলিটি শোতে ইশা রিখির নাম নিয়েও এরই মধ্যে জোর আলোচনা চলছে। ক্বাজি তৌকির, গুল্লু, র‍্যাপার ইয়ুং ডিএসএ, মাহি ভিজ, খুশি দুবে, আমান গান্ধীসহ আরও কয়েকজনের নাম প্রতিযোগী হিসেবে সামনে এসেছে।

    ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

  • কিছু আসামির গতিবিধি সন্দেহজনক, নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর

    কিছু আসামির গতিবিধি সন্দেহজনক, নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচারপ্রক্রিয়াকে ঘিরে নাশকতা বা স্যাবোটাজের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। কিছু আসামির গতিবিধি ও তৎপরতা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
    আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছু কিছু আসামির গতিবিধি ও তৎপরতা আমাদের কাছে সন্দেহজনক লেগেছে। আমাদের কাছে কিছু গোপন তথ্য আছে যে, তারা যেকোনো ধরনের স্যাবোটাজ বা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে পারেন।

    এসব বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করে আমরা কাজ করছি। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ও বাইরে প্রতিটি কর্মকাণ্ড নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। কেউ যদি কোনো অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করেন, সেটি তাঁদের জন্য আত্মঘাতী হবে। কারও মনে এ ধরনের দুষ্টুচিন্তা থাকলে কিংবা কোনো অপরাধী অন্য কোনো বিষয়ে চিন্তা করলে, সেটিও তাঁদের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে, বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

    গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। রোববার গুমের শিকার ৫৫টি পরিবারের সদস্য ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসেন। তাদের জবানবন্দি নেওয়ার কথা রয়েছে।
    আমিনুল ইসলাম বলেন, এসব পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হওয়ার পর কিছু অভিযুক্ত ব্যক্তির তৎপরতা বেড়েছে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি গুমের ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

    তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে যাঁদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে, তাঁদের বিষয়ে প্রশাসনের নজর রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুমের ভুক্তভোগী প্রতিটি পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অত্যন্ত শক্তিশালী। বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রসিকিউশন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

  • গাজা যুদ্ধে ইসরাইলকে ১২৫ মিলিয়ন ডলার  সহায়তা করছে মাইক্রোসফট

    গাজা যুদ্ধে ইসরাইলকে ১২৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা করছে মাইক্রোসফট

    গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর প্রথম বছরেই ইসরাইলের সঙ্গে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের চুক্তি করেছিল মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে মাইক্রোসফটের ক্লাউড কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

    মাইক্রোসফটের ‘অ্যাজুর’ ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ইসরাইলি সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে এর আগে একাধিক অনুসন্ধানেও উঠে এসেছে। বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং দ্রুত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    গাজা যুদ্ধের প্রথম বছরে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মাইক্রোসফটের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো গভীর হয়। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ক্লাউড ও এআই-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নেয়।

    মাইক্রোসফটের প্রযুক্তি কীভাবে ইসরাইলি সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোম্পানির কিছু কর্মী ইসরাইলকে প্রযুক্তি সরবরাহ বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ করেছেন। এ নিয়ে কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

    বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, যুদ্ধের সময় ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তি শুধু তথ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে না; বরং সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রম, নজরদারি এবং লক্ষ্য নির্ধারণের মতো কাজেও এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। এ কারণে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর যুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে।

    ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক ফোনকল ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যবহার করেছে। এসব তথ্য সামরিক অভিযানে কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অধিকারকর্মীরা।

    মাইক্রোসফট অবশ্য তাদের প্রযুক্তি ইসরাইলকে সরবরাহের বিষয়টি অস্বীকার করেনি। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে, তারা তাদের প্রযুক্তির অপব্যবহারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। কোনো নির্দিষ্ট সেবা আন্তর্জাতিক আইন বা কোম্পানির নীতিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    এদিকে ইসরাইলের সঙ্গে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক আরো জোরালো হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সরাসরি অস্ত্র তৈরি না করলেও তার ক্লাউড, এআই ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো যদি সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের দায় কতটা—এ বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

    গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত এবং ব্যাপক অবকাঠামো ধ্বংসের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর ভূমিকা নিয়ে এই বিতর্ক আরো তীব্র হয়েছে। ফলে মাইক্রোসফটের ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের চুক্তির তথ্য শুধু একটি ব্যবসায়িক চুক্তির বিষয় নয়; বরং যুদ্ধ, প্রযুক্তি ও করপোরেট দায়বদ্ধতার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

  • এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে হারল রিয়াল

    এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে হারল রিয়াল

    গোলের একের পর এক সুযোগ নষ্ট, তিনবার পোস্টে আঘাত আর শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি মিস; সব মিলিয়ে হতাশার এক রাত কাটল রিয়াল মাদ্রিদের। কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি ব্যর্থতার ম্যাচে রিয়াল বেটিসের কাছে ১-০ গোলে হেরে মৌসুমে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে হোসে মরিনহোর দল।

    সেভিয়ার লা কার্তুহা স্টেডিয়ামে শুক্রবারের ম্যাচটি ৮০ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য ছিল। তবে এরপর ট্রয় প্যারোটের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক বেটিস। শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি রিয়াল।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ছিল মাদ্রিদের দল। ১৪ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট পোস্টে লাগে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এমবাপ্পেও গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে দুইবার চেষ্টা করেও বল জালে পাঠাতে পারেননি।

    বিরতির আগে জুড বেলিংহ্যামের হেড ঠেকান বেটিস গোলরক্ষক আলভারো ভালেস। পরে ডিন হুইজসেনের হেড ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে।

    দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না রিয়াল। শেষ পর্যন্ত ৮১ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে ফিরতি বলে গোল করেন বেটিসের ট্রয় প্যারোট। এরপর রিয়াল একটি গোল করলেও ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।

    যোগ করা সময়ে ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় রিয়াল। দায়িত্ব নেন এমবাপ্পে। তবে তার স্পট কিকের দিক আগে থেকেই বুঝে ফেলেন গোলরক্ষক আলভারো ভালেস। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্বল শটটি ঠেকিয়ে দেন তিনি।

    এর আগে লা লিগার প্রথম দুই ম্যাচে চার গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু বেটিসের বিপক্ষে তিনটি ভালো সুযোগ নষ্ট করার পাশাপাশি পেনাল্টিও মিস করেন ফরাসি তারকা।

    চার ম্যাচ শেষে প্রথম হারের পর ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নেমেছে রিয়াল মাদ্রিদ। সমান পয়েন্ট নিয়ে তিনে বেটিস, আর এক ম্যাচ কম খেলেও ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।

  • ইয়ামালকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় বার্সেলোনা

    ইয়ামালকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় বার্সেলোনা

    ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছে বার্সেলোনা। শনিবার দলের শেষ অনুশীলনে ছিলেন না লামিন ইয়ামাল। ফলে মেস্তায়ায় ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

    ২০২৬-২৭ মৌসুমে লা লিগায় নিজেদের চতুর্থ ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে হানসি ফ্লিকের দল। তবে ম্যাচের আগমুহূর্তে ইয়ামালের অনুপস্থিতি সেই প্রস্তুতিতে ফেলেছে দুশ্চিন্তার ছাপ। স্পোর্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেস্তায়ায় কঠিন অ্যাওয়ে ম্যাচের আগে শনিবার দলের শেষ অনুশীলনে অপ্রত্যাশিতভাবেই ছিলেন না ইয়ামাল।

    রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরই তার অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শনিবার দল ম্যাচের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ইয়ামালের শারীরিক অবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করবেন ক্লাবের চিকিৎসকেরা। এরপর ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন কোচ ফ্লিক।

    ইয়ামালের চোটের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বার্সেলোনা। তবে অনুশীলনে তার অনুপস্থিতির সময়টা তরুণ এই তারকার জন্য হতাশাজনকই। কারণ সতীর্থদের ভোটে নতুন সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হওয়ার সুখবর পাওয়ার দিনই অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকতে হলো তাকে। মুন্দো দেপোর্তিভোর খবর অনুযায়ী, ড্রেসিংরুমের ভোটে ইয়ামালকে বার্সেলোনার নতুন সহ-অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

    ইয়ামালকে না পেলে কৌশলে পরিবর্তন আনতে হতে পারে ফ্লিককে। বার্সেলোনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জার্মান কোচ হাই-প্রেসিং ফুটবল অনুসরণ করছেন। এই কৌশলে ইয়ামাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আক্রমণে তার কার্যকারিতার পাশাপাশি বল দখলের জন্য তার নিরলস পরিশ্রমও দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • আচরণগত সমস্যায় বাদ রিজওয়ান-ইমাম, বাদ পড়তে পারেন আকিবও

    আচরণগত সমস্যায় বাদ রিজওয়ান-ইমাম, বাদ পড়তে পারেন আকিবও

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সাত ক্রিকেটার ও দুই কোচকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্তের পেছনে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আচরণগত বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

    লর্ডস টেস্টের পর বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে ছিলেন সালমান আগা, ইমাম–উল–হক ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তাঁদের কেউ ভালো ফর্মে নেই। রিজওয়ান সিরিজের চার ইনিংসে করেছেন মাত্র ৬১ রান। লর্ডস টেস্টে তাঁর শট নির্বাচন নিয়েও সমালোচনা হয়।

    ইমাম তো চোটের কারণে লর্ডস টেস্টে ব্যাটিংয়ে নামেননি। সেই চোট নিয়েও পিসিবির সন্দেহ আছে। সালমান টেস্টে সর্বশেষ ৫ ইনিংসেই হয়েছেন ব্যর্থ। অথচ এই সালামানই হেডিংলি টেস্টে বাবর আজমের পরিবর্তে অধিনায়কত্ব করেছিলেন। লর্ডসে ছিলেন না একাদশে। এরপর তো স্কোয়াড থেকেই বাদ পড়েছেন।

    পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, রিজওয়ান ও ইমামের ক্ষেত্রে শুধু পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়নি। ড্রেসিংরুমে তাঁদের আচরণও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।

    এমনকি এ দুই ক্রিকেটারকে ডিসিপ্লিনারি কমিটির সামনে আচরণের ব্যাখ্যা দেওয়া লাগতে পারে। পিটিআই জানিয়েছে, রিজওয়ান ও ইমামের সঙ্গে সালমানকেও কমিটির সামনে দাঁড়াতে হতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরেই নাকি তাঁদের আচরণজনিত সমস্যা দেখা গেছে।

    ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফেরত যাওয়া অন্য খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচ মাইক হেসনের সুপারিশে। আগে সাদা বলের দলে যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কয়েকজন ক্রিকেটারকে তিনি পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছেন।

    বোর্ডের একটি সূত্র পিটিআইকে বলেছেন, ‘বাকি যেসব খেলোয়াড়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচ মাইক হেসনের সুপারিশেই পাঠানো হয়েছে। তিনি সাদা বলের ক্যাম্পে যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কিছু খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে চেয়েছেন।’ তৃতীয় টেস্টের জন্য পাকিস্তান দলে এসেছেন আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া, রাজউল্লাহ, সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজল।

    নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদকেও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে এএফপি

    এদিকে এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটিতেও। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করছেন। সেই প্রক্রিয়ায় নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

    এরই মধ্যে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে নির্বাচক মিসবাহ-উল-হক পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। তবে পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ করেছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

    মিসবাহর পদত্যাগের আগে নির্বাচক কমিটিকে শোকজ নোটিশ দিয়েছিল পিসিবি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে ইমাম ও রিজওয়ানকে রাখার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল বোর্ড।

    শুধু নির্বাচক কমিটিই নয়, নির্বাচন ও পরামর্শক কমিটির সদস্যদেরও নোটিশ দিয়েছে পিসিবি। ইংল্যান্ড সফরের দলে ইমাম ও রিজওয়ানকে কেন নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দল নির্বাচনের নীতিতে কী ধরনের মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিও জানতে চেয়েছে বোর্ড।

    পাকিস্তান ওপেনার ইমাম-উল-হক চোটের ইস্যুতে চাপে আছেন এএফপি

    ইংল্যান্ড সফর শেষ হওয়ার পর নতুন নির্বাচক কমিটি গঠন হতে পারে। একটি সূত্রের ভাষায়, ‘ইংল্যান্ড সফরের পর নতুন নির্বাচক কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।’

    এদিকে ইংল্যান্ড সিরিজের পরও দায়িত্বে থাকতে পারেন হেসন। তাঁকে স্থায়ী প্রধান কোচ করার বিষয়ে আগ্রহী পিসিবি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে নিউজিল্যান্ডের এই কোচ দায়িত্ব নিতে রাজি হন কি না, তার ওপর।

  • বাবর কি পাকিস্তানের পরের টার্গেট

    বাবর কি পাকিস্তানের পরের টার্গেট

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ব্যর্থতার পর পাকিস্তানের ক্রিকেটে ব্যাপক রদবদল চলছে। একের পর এক ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফকে সরিয়ে দেওয়ার পর এবার সেই তালিকায় অধিনায়ক বাবর আজমের নামও উঠছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার রশিদ লতিফ।

    টেস্ট সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার পর সাত ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের কয়েকজনকে ছাঁটাই করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলও দায়িত্ব হারিয়েছেন। একই সময়ে নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মিসবাহ উল হক। প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদও পিসিবির পরবর্তী নজরে থাকতে পারেন বলে খবর এসেছে।

    এমন পরিস্থিতিতে বাবরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন রশিদ। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পিসিবির দল পরিচালনার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানতে চেয়েছেন, বাবরই কি হতে যাচ্ছেন পরবর্তী টার্গেট।

    রশিদ লিখেছেন, ‘যদি দলকে রিমোট কন্ট্রোলে চালাতেই হয়, তাহলে সরফরাজ ও উমর গুলকে কেন পাঠানো হলো? গ্যারি কারস্টেন ও জেসন গিলেস্পির কাছ থেকে নির্বাচনের ক্ষমতা কেন কেড়ে নেওয়া হলো? আর অধিনায়ক বাবর আজম যদি কথা না শুনে থাকে, তাহলে অধিনায়ককেই তো বরখাস্ত করা উচিত ছিল—তাহলে সরফরাজ ও উমর গুলকে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো? বাবর আজম কি পরের টার্গেট?’

    এর আগে পিসিবির ছাঁটাইয়ের ঘটনায় বাবরের অধিনায়কত্ব ছাড়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেছিলেন রশিদ। তাঁর মতে, দলের একাধিক ক্রিকেটার ও কোচকে সরিয়ে দেওয়ার পর বাবরের উচিত ছিল তাঁদের পাশে দাঁড়ানো।

    এই প্রসঙ্গে রশিদ বলেন, ‘বাবরের পদত্যাগ করা উচিত ছিল। দলের অর্ধেক ক্রিকেটারকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি যদি তার জায়গায় থাকতাম, তাহলে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিতাম। তুমি একজন পুতুল অধিনায়ক হয়ে গেছ। নেতা আর অধিনায়কের মধ্যে পার্থক্য আছে।’

    বাবরের কড়া সমালোচনা করে রশিদ আরও বলেন, ‘তোমরা সাতজন ক্রিকেটারকে ফেরত পাঠিয়েছ। ইমামের বিষয়টি আমি বুঝতে পারি, সে চোট পেয়েছিল। কিন্তু তারপরও ছয়জন ক্রিকেটারকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তোমরা তোমাদের কোচ, তোমাদের মেন্টরকে ফিরিয়ে দিয়েছ। যে কোচ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতিয়েছিল, তাকেও সরিয়ে দিয়েছ। উমর গুলকেও ফিরিয়ে দিয়েছ। তুমি তোমার দলের হয়ে দাঁড়াচ্ছ না। তোমার কোচকে এক পাশে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর তুমি নীরবে বসে আছ। এতে বোঝা যায়, পিসিবির সবসময় একজন পুতুল অধিনায়কই প্রয়োজন।’

  • মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক রোমেরো?

    মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক রোমেরো?

    লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলার পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে। মেসির উত্তরসূরি হিসেবে স্থায়ী অধিনায়ক হতে যাচ্ছেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। ইএসপিএনের সাংবাদিক এস্তেবান এদুলের বরাতে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে।

    আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তির পর নেতৃত্বের জন্য রোমেরোকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে। যদিও আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেনি।

    মেসি নিয়মিত অধিনায়ক থাকা অবস্থাতেই নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন রোমেরো। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চিলির বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবার আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেন তিনি। শারীরিক অস্বস্তির কারণে সেদিন মেসি বেঞ্চে ছিলেন। রোমেরোর নেতৃত্বে ম্যাচটি ১-০ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা।

    পরবর্তী সময়ে ভেনেজুয়েলা ও মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচেও অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছেন এই ডিফেন্ডার। ফলে মেসি-পরবর্তী সময়ে তাকেই নেতৃত্বে দেখার সম্ভাবনা আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল।

    ২৮ বছর বয়সী রোমেরোর জাতীয় দলে অভিষেক ২০২১ কোপা আমেরিকার আগে চিলির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। এরপর লিওনেল স্কালোনির দলের রক্ষণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন ৫৮ ম্যাচ, গোল করেছেন চারটি।

    রোমেরোর জাতীয় দল অধ্যায়েই আর্জেন্টিনা জিতেছে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ফিনালিসিমা। মেসি, অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া, নিকোলাস ওতামেন্দিদের প্রজন্মের পর এবার নতুন নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারেন রোমেরো।

    ২৮ বছর বয়সে অধিনায়কত্ব পেলে সামনে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকবে তার। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে এই টটেনহাম ডিফেন্ডারের সামনে। তবে আপাতত বিষয়টি নিশ্চিত নয়। এএফএর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে। একাধিক প্রতিবেদনে অবশ্য মেসির পর স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে রোমেরোকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়েছে।