বিশ্বকাপ

  • ‘ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই’

    ‘ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই’

    কাতারের আল-বায়ত স্টেডিয়ামের রাতটি মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসে আজও এক গভীর স্মৃতি। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে রূপকথার যাত্রা থেমে গিয়েছিল আটলাস লায়নদের। তবে সেই হার শুধু স্বপ্নভঙ্গই নয়, শিখিয়েছিল বড় মঞ্চে ছোট ছোট ভুলের মূল্য কতটা বড় হতে পারে।

    চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কো এবার নামছে প্রতিশোধের আবেগ সঙ্গী করে অতীতের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নতুন ইতিহাস লেখার প্রত্যয়ে।

    মরক্কোর এই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন মিলেছে মিডফিল্ডার আজদিন উনাহির কথায়। ফিফা প্লাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০২২ সালের সেই সেমিফাইনাল স্মরণ করে তিনি বলেছেন, ‘আমরা জানি আমরা কী কী ভুল করেছিলাম। সেই ম্যাচে আমাদের আরও ভালো ফল পাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু ছোট ছোট কিছু ভুলের খেসারত আমাদের দিতে হয়েছিল।’

    উনাহির এই উপলব্ধি যেন বর্তমান মরক্কোর মানসিকতারই প্রতিচ্ছবি। চার বছর আগের দলটি এখন অনেক বেশি পরিণত। নিজেদের শক্তি-দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে সামনে এগোনোর মানসিকতা গড়ে উঠেছে দলের ভেতরে। সেই সঙ্গে বদলেছে স্কোয়াডও। কাতার বিশ্বকাপের অনেক ফুটবলার এখনো দলে আছেন, আবার নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সংযোজনে বেড়েছে গভীরতা। কোচিং স্টাফেও এসেছে পরিবর্তন।

    উনাহির বিশ্বাস, এই নতুনত্বই মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর ভাষায়, ‘এখন আমাদের দলে নতুন কোচিং স্টাফ এবং নতুন একঝাঁক খেলোয়াড় এসেছে। এই দলটার ভেতর একধরনের সতেজতা আছে, যা যেকোনো প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিতে পারে।’

    তবে সামনে যে প্রতিপক্ষ, তাদের শক্তির কথা মরক্কো ভালো করেই জানে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে গড়ে ওঠা ফ্রান্স এখনো শিরোপার অন্যতম দাবিদার। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাদের অভিজ্ঞতা ও স্কোয়াডের গভীরতা মরক্কোর জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। সেটিও স্বীকার করেছেন উনাহি, ‘যখন আপনি ফ্রান্সের মতো সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবেন, তখন লড়াইটা কতটা কঠিন হতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।’

    এই বিশ্বাসই মরক্কোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপে স্পেন ও পর্তুগালের মতো পরাশক্তিকে বিদায় করে তারা দেখিয়েছিল, সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং অদম্য মানসিকতা থাকলে যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব। এবারও সেই কৌশলই তাদের মূল অস্ত্র হতে পারে। তবে আগেরবারের মতো নয়, এবার সেই পরিকল্পনার সঙ্গে যোগ হয়েছে অভিজ্ঞতার পরিপক্বতা এবং ভুল থেকে শেখার শিক্ষা।

    ফ্রান্সও অবশ্য প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে দেখছে না। এমবাপ্পে ইতিমধ্যেই সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন, মরক্কোকে হারাতে হলে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে। কিন্তু মরক্কোর এখন অন্য সুর। চার বছর আগের আক্ষেপকে আর বয়ে বেড়াতে চায় না তারা। বরং সেই স্মৃতিকেই শক্তিতে রূপান্তর করে বিশ্বকাপের আরেকটি বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের নতুন প্রমাণ দিতে প্রস্তুত।

    আল-বায়তের সেই রাত মরক্কোকে কাঁদিয়েছিল। এবার বোস্টনের কোয়ার্টার ফাইনাল কি তাদের হাসাবে? উত্তর মিলবে মাঠেই। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—এই মরক্কো শুধু অতীতের স্মৃতি নিয়ে খেলতে নামছে না, বরং সেই স্মৃতিকে ইতিহাস বদলে দেওয়ার প্রেরণায় রূপ দিতে চাইছে।

  • মিশরকে ‘পুরস্কৃত’ করছে ফিফা

    মিশরকে ‘পুরস্কৃত’ করছে ফিফা

    টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও এবারের বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স দিয়ে আলাদা করে নজর কেড়েছে মিশর। সেই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফার কাছ থেকে রেকর্ড পরিমাণ আর্থিক প্রণোদনা পাচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। বর্তমান পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ইএফএ) প্রাপ্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    এবারের আসরে একাধিক কীর্তি গড়েছে ‘ফারাও’রা। নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে জায়গা করে নেয় তারা। একই সঙ্গে একটি বিশ্বকাপ আসরে সর্বোচ্চ পাঁচটি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও গড়ে মিশর।

    গোল করার দিক থেকেও নিজেদের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে দলটি। পুরো টুর্নামেন্টে মোট আটবার প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে নিয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়ে তারা। বেলজিয়াম, ইরান ও নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত কঠিন গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে ওঠা মিশর শেষ পর্যন্ত দুটি জয়, দুটি ড্র এবং একটি হার নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছে।

    ফিফার পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ-সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য মিশর পেয়েছে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য যোগ হয়েছে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার। আর শেষ ষোলো নিশ্চিত করায় ফেডারেশনের তহবিলে এসেছে অতিরিক্ত ৬ মিলিয়ন ডলার।

    সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ থেকে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই দেশটির সর্বোচ্চ আর্থিক প্রাপ্তি, যা ভবিষ্যতে মিশরের ফুটবল উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • একদিকে অদম্য জেদ অন্যদিকে বদলার আগুন

    একদিকে অদম্য জেদ অন্যদিকে বদলার আগুন

    এক ঐতিহাসিক এবং বিতর্কিত ফুটবল মহাকাব্যের পর আজ একটি মেগা কোয়ার্টার ফাইনাল দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবল। মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা শক্তি ফ্রান্স এবং দুনিয়াকে চমকে দেয়া দল মরক্কো। তাই ফুটবলপণ্ডিতরা বলছেন, এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সেই ব্লকবাস্টার সেমিফাইনালের মহারণ। যেখানে মরক্কোর স্বপ্ন চুরমার হয়ে গিয়েছিল। আর এটা করেছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের দল। তবে এবার কিন্তু প্রেক্ষাপট ভিন্ন।

    একদিকে ফরাসিদের টানা তৃতীয়বার ফাইনালে পৌঁছানোর অদম্য জেদ, অন্যদিকে মরক্কোর বুকে জ্বলছে বদলার আগুন। আমরা সাধারণত কী দেখি। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এই দুই দলের লড়াই কেবল ট্যাকটিক্স বা গোলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে রাজনীতি, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং সুপারস্টার হওয়ার প্রবল ইচ্ছা। এবার যখন দল দুটো মুখোমুখি হচ্ছে তখন সামনে আসছে ২০২২-এর এক অসম্পূর্ণ রূপকথার গল্প। বরাবরই ফ্রান্সে বসবাসকারী বিশাল মরক্কান ডায়াসপোরা এই ম্যাচটিকে একটি সম্পূর্ণ ভিন্নমাত্রায় নিয়ে যায়। ২০২২ সালের ১৪ই ডিসেম্বর।

    কাতারে আল বাইত স্টেডিয়ামে ২-০ গোলে জয়ী হয়েছিল ফ্রান্স। তখন প্যারিসের রাস্তায় উৎসব আর কান্নার অদ্ভুত মিশ্রণ দেখা গিয়েছিল। মরক্কো প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছিল। চমক সৃষ্টি হয়েছিল ফুটবল দুনিয়ায়। তাদের সেই ঐতিহাসিক দৌড় থামিয়ে দিয়েছিল ফরাসিরা। এ কারণেই বলা হচ্ছে, এই ম্যাচটি কেবল মরক্কোর জন্য কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, এটি অসম্পূর্ণ গল্পের নতুন এক অধ্যায়। যার জন্য চার বছর ধরে অপেক্ষা করছে মরক্কো। সেই রাতে মরক্কান খেলোয়াড়দের চোখে ছিল পানি। বোস্টনের মাঠে সেই পানি রূপান্তরিত হতে চলেছে শক্তিতে। এবারের বিশ্বকাপে এমবাপ্পে অপ্রতিরোধ্য। মরক্কোর পুনরুত্থান থামাতে চান। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাই এই খেলাটিকে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ফরাসিদের জন্য কঠিন পরীক্ষা। রাউন্ড অব ষোলোতে ফ্রান্স অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে প্যারাগুয়ের সঙ্গে। অনেকটা কষ্টে এমবাপ্পের দল ১-০ গোলে জয় পায়।

    কড়া মার্কিংয়ের মধ্যে ছিলেন এমবাপ্পে। অন্যদিকে মরক্কো রাউন্ড অব ষোলোতে কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে এক ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হয়েছে। তারা প্রমাণ করেছে যে, ২০২২ সালের সাফল্য কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। তাদের রক্ষণভাগ আগের মতোই ইস্পাত কঠিন। আক্রমণভাগ এখন আরও বেশি গতিসম্পন্ন। হাকিম জিয়েশ, ইউসেফ এন নেসিরির মতো তারকারা ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন তারা যেকোনো মুহূর্তে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। আর্জেন্টিনা মিশরের ম্যাচের পর মাঠের বাইরে বিশ্বব্যাপী বিতর্ক জারি রয়েছে। এই খেলায় রেফারি ল্যাতেজিয়ারের ভূমিকা ছিল অনেকটাই রহস্যজনক। বিতর্কিত রেফারি খেলাটির গতি বারবার থামিয়ে দেন। ফ্রান্স-মরক্কোর খেলার আগেই নতুন এক বিতর্ক। এই বিতর্ক খেলা ছেড়ে রেফারিদের নিয়েই। ফিফা এই হাইভোল্টেজের কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য সম্পূর্ণ আর্জেন্টিয়ান রেফারিং প্যানেল নিয়োগ করেছে। মূল রেফারি ফাকুন্দো তেলো, সঙ্গে দুই আর্জেন্টাইন সহকারী হুয়ান পাবলো বেলাত্তি এবং গ্যাব্রিয়েল এই ম্যাচ পরিচালনা করবেন।

    এই সিদ্ধান্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্ষরিক অর্থেই আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। ফ্রান্সের সমর্থকরা মনে করছেন- এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। কারণ ফ্রান্স যদি এই ম্যাচ জেতে তবে সেমিফাইনাল পেরিয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে যাওয়ার স্মৃতি ফরাসিরা এখনো ভুলতে পারেনি। মিশর-আর্জেন্টিনার মধ্যকার সামপ্রতিক ম্যাচ নিয়ে বিতর্ক চলছেই। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার পক্ষে একটি স্টপেজ টাইম গোল এবং মিশরের বাতিল হওয়া গোল নিয়ে ফিফা এবং রেফারিকে অভিযুক্ত করছেন ফুটবলভক্তরা। ফ্রান্স-মরক্কোর খেলায় আর্জেন্টাইন রেফারি নিয়োগকে অনেকে ফিফা’র পাল্টা চাল হিসেবে দেখছেন। এসবের মধ্যেও দুই তারকার লড়াই জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    একদিকে এমবাপ্পে অন্যদিকে হাকিমি। পিএসজি’র প্রাক্তন সতীর্থ বাস্তবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মজার ব্যাপার হচ্ছে- দেশের জার্সিতে একে অপরের বিপক্ষে যখন মাঠে নামেন তখন বন্ধুত্বের কোনো জায়গা থাকে না। বলতেই হয়, এমবাপ্পে বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের একজন অবিসংবাদিত সম্রাট। পেলে বা ম্যারাডোনার মতো সর্বকালের সেরাদের তালিকায় পাকাপাকিভাবে নিজের নাম লেখানোর ব্যাপারে তিনি মরিয়া। তার অন্যতম লক্ষ্য টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা। যা ফুটবলের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে সারাক্ষণ ছিলেন মার্কিংয়ে। মরক্কোর বিরুদ্ধে তিনি জ্বলে উঠতে চান- এমনটাই বলছেন সংবাদমাধ্যমকে। অন্যদিকে আশরাফ হাকিমি মরক্কোর রক্ষণভাগে আক্রমণের মূল উৎস।

    হাকিমি যদি এমবাপ্পেকে আটকাতে পারেন তবেই তা হবে মরক্কোর জয়ের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। এই ম্যাচে নতুন কোনো সুপারস্টারের জন্ম হতে পারে। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মরক্কোর তরুণ প্রতিভাদের জন্য সবচেয়ে বড় মঞ্চ। ইয়াসিন বুনু যদি গোলপোস্টের নিচে আরও একবার দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারেন তাহলে এমবাপ্পেকে থামানো সম্ভব।

    অন্যথায় নাটকীয় কিছু ঘটতে পারে। এটা নিছক ৯০ বা ১২০ মিনিটের ফুটবল নয়। ইতিমধ্যেই বলা হচ্ছে, খেলাটি হবে অভিবাসন ও ইতিহাসের এক জটিল ক্যানভাস। আমরা সবাই জানি, ফরাসি দলের অনেক খেলোয়াড়ের শেকড় আফ্রিকায়। যা এই ম্যাচটিকে একটি অদ্ভুত ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বা তীব্র প্রতিযোগিতামূলক রূপ দেবে। মরক্কোর কাছে এটি শুধু আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব নয়। এটা প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এক ঐতিহাসিক সুযোগ।

    ফ্রান্স শিবিরে তাই টানটান উত্তেজনা। যদি কোনো কারণে ফ্রান্স হেরে যায়- তা হবে এক সোনালি প্রজন্মের আধিপত্যের আকস্মিক পতন। মরক্কোর জয় মানে বিশ্ব ফুটবলের চিরাচরিত ইউরোপ, ল্যাতিন আমেরিকার মেরূকরণ ভেঙে নতুন এক বিশ্ব শক্তির চূড়ান্ত উত্থান। বোস্টনের মাঠে যখন রেফারির বাঁশি বাজবে তখন দুই দলের সামনেই থাকবে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। বলুন তো ফরাসি নীল না মরক্কান লাল? কার রঙে বিশ্বকাপের আকাশ রঙিন হবে।

  • মরক্কো ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল ফ্রান্স

    মরক্কো ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল ফ্রান্স

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালের আগে বড় এক ধাক্কা খেল ফ্রান্স। রাউন্ড অব সিক্সটিনে পাওয়া মাইকেল ওলিসের হলুদ কার্ড বাতিলের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

    প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে প্রতিপক্ষের মিডফিল্ডার মাতিয়াস গ্যালারজার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। ঘটনাটির রিপ্লেতে দেখা যায়, ওলিস মূলত গ্যালারজার জার্সি টেনে ধরলেও তিনি মুখে আঘাত পাওয়ার ভঙ্গিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেই ঘটনার জেরেই উজবেকিস্তানের রেফারি ইলগিজ তানতাশেভ ওলিসকে সতর্ক করেন।

    ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপ-এর তথ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে ফিফার কাছে আবেদন করেছিল ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করেনি ফিফা।
    ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আজ (বুধবার) সকালে আমরা ফিফার সিদ্ধান্ত পেয়েছি। ওলিসের ব্যাপারে আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়েছে।”

    ফিফার এই সিদ্ধান্তে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে ওলিসকে। কারণ, কোয়ার্টার-ফাইনালে তিনি আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়বেন। সেক্ষেত্রে ফ্রান্স সেমিফাইনালে উঠতে পারলেও সম্ভাব্য স্পেন বা বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে না।

    এ কারণে মরক্কোর বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে শুধু জয় নয়, ওলিসকে অপ্রয়োজনীয় কার্ড থেকে দূরে রাখাও এখন ফ্রান্সের কোচিং স্টাফের অন্যতম বড় ভাবনার বিষয়।

  • ৩৪ ম্যাচের ‘অবিনাশী’ মরক্কো

    ৩৪ ম্যাচের ‘অবিনাশী’ মরক্কো

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ এলেই নতুন কোনো রূপকথা হাজির হয়। অপরিচিত কোনো দেশ হঠাৎ উদয় হয় হ্যালির ধূমকেতুর মতো, কেউ আবার আলোর রেখা ধরে এগিয়ে আসে আরো উজ্জ্বল হয়ে, আর আমরা বলি—‘সিন্ডারেলার গল্প’। মরক্কোর নামও সেই তালিকায় জুড়ে দিতে চান অনেকে। কিন্তু সত্যি বলতে, মরক্কোর এই যাত্রা রূপকথা নয়। আটলাস পর্বতের পাদদেশে সৃষ্ট লড়াই এখন ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’-এ বিস্ময়কর বাস্তব। বহু বছর ধরে মাটির নিচে শিকড় ছড়িয়ে বেড়ে ওঠা এক বটগাছের গল্প।

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে কানাডার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়টি দেখলে অনেকেই বিভ্রান্ত হতে পারেন। মনে হতে পারে, সহজ এক বিকেলের গল্প। অথচ ম্যাচের প্রথম পনেরো মিনিটে বল যেন শুধু কানাডারই ছিল। মরক্কোর রক্ষণ বারবার পরীক্ষায় পড়েছে, ইয়াসিন বোনুকে দু-দুবার জীবন বাঁচানো সেভ করতে হয়েছে। তবে এটা খুব স্বাভাবিক, অন্তত মরক্কোর কাছে। বড় দলের পরিচয়, তারা ঝড়ের দিকে তাকিয়ে ভয় পায় না, ঝড় কেটে যাওয়ার অপেক্ষা করতে জানে। এই মরক্কো সুন্দর ফুটবলের পূজারি নয়। তারা জানে, বিশ্বকাপে সৌন্দর্যের জন্য ট্রফি দেওয়া হয় না; দেওয়া হয় জয়ীদের। তাই কখনো শিল্পী, কখনো সৈনিক—দুই চরিত্রেই সমান স্বাচ্ছন্দ্য আটলাসের সিংহরা।

    কানাডাকে হারিয়ে মরক্কো টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত রইল। সংখ্যাটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি ধারাবাহিকতার আরেক নাম। ২০২৫ সালের আগস্টে কেনিয়ার কাছে হারের পর থেকে আর কোনো দল তাদের হাঁটু গেড়ে বসাতে পারেনি। বিশ্বকাপ, আফ্রিকান বাছাই, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ; সব জায়গাতেই তারা এক অদ্ভুত স্থিরতায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    একসময় আফ্রিকার দলগুলো বিশ্বকাপে ‘অতিথি’ ছিল। তারা আসত, কিছু স্মৃতি রেখে চলে যেত। মরক্কো সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। ২০২২ সালে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনাল খেলে তারা ইতিহাস লিখেছিল। এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে আবার কোয়ার্টার ফাইনালে। এখন আর তাদের সাফল্যকে বিস্ময় বলা যায় না; বরং ব্যর্থ হলে সেটাই হবে বিস্ময়।

    মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওহাবি ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা আমাদের পরিচয় বদলাইনি। কঠিন মুহূর্ত এসেছে, কিন্তু আমরা ভুলে যাইনি আমরা কার জন্য খেলছি।’ কথাটি শুধু একটি সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য নয়, পুরো মরক্কোর ফুটবল দর্শনের প্রতিচ্ছবি। কারণ এই দল শুধু এগারো জন ফুটবলারের সমষ্টি নয়। তারা একটি জাতির আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।

    এই আত্মবিশ্বাস কিন্তু রাতারাতি জন্ম নেয়নি। ২০০৯ সালে যে ফুটবল একাডেমির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল, ২০১৯ সালে যে আধুনিক প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স তৈরি হয়েছিল, আজকের এই মরক্কো তারই ফল। কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ইউরোপে বেড়ে ওঠা মরক্কান বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা—সবকিছু মিলিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে নতুন শক্তি। আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজদের অনেকে স্পেনে জন্মেছেন, ইউরোপীয় ফুটবলে বড় হয়েছেন। কিন্তু হৃদয়ের টান শেষ পর্যন্ত ফিরিয়ে এনেছে লাল-সবুজ জার্সিতে। তারা শুধু প্রতিভা নয়, দুই সংস্কৃতির সেতুবন্ধও।

    কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে হাকিমি ছিলেন অধিনায়কের মতোই নেতৃত্বের প্রতীক। ব্রাহিম দিয়াজ করলেন দুই অ্যাসিস্ট। আর আজেদিন উনায়ি দেখালেন, বড় ম্যাচে একজন মিডফিল্ডার কীভাবে পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। সুফিয়ান রাহিমি আবার বদলি নেমে গোল করলেন, যেন বেঞ্চও এই দলের আরেকটি অস্ত্র। মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড় নন। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তারা জানে কখন আক্রমণ করতে হয়, কখন অপেক্ষা করতে হয় আর কখন প্রতিপক্ষের ধৈর্য ভেঙে দিতে হয়।

    সামনে ফ্রান্স। আরো কঠিন পরীক্ষা। আরো বড় মঞ্চ। কানাডার বিপক্ষে প্রথমার্ধের খেলাটা খেললে ফ্রান্স ছেড়ে কথা বলবে না। কথাটা সত্যি। কিন্তু এটাও সত্যি, এই মরক্কো প্রতিটি ম্যাচে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে। চার বছর আগে কাতারে তাদের সাফল্যের দিকে পৃথিবী বিস্ময়ের চোখে তাকিয়েছিল। এবার আর বিস্ময় নেই। আছে প্রত্যাশা। এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।

    মরক্কো আর কোনো রূপকথার চরিত্র নয়। তারা এখন এমন এক দল, যাদের সামনে দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাও হিসাব কষে। আফ্রিকার ফুটবল বহুদিন ধরে সূর্যোদয়ের অপেক্ষায় ছিল। সেই সূর্য হয়তো এখনো পুরোপুরি আকাশে ওঠেনি। কিন্তু দিগন্ত লাল হয়ে গেছে অনেক আগেই। আর সেই লাল আভাটির নাম মরক্কো, ‘দ্য আটলাস লায়ন্স’।

  • ফিফার কাছে অভিযোগ করল মিশর

    ফিফার কাছে অভিযোগ করল মিশর

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আর্জেন্টিার বিপক্ষে বিতর্কিত রেফারিংয়ের অভিযোগ তুলে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)।

    একই সঙ্গে ম্যাচ পরিচালনাকারী ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তার অফিশিয়ালদের টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

    গতকাল রাতে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় মিশর। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল দলটি। এবার সেই অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

    মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা ফিফার কাছে পাঠানো চিঠিতে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্তের তদন্ত দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে এবং ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

    মিশরের আপত্তির মূল কেন্দ্র দুটি ঘটনা। প্রথমটি ৬২তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা গোল। ভিএআর পর্যালোচনার পর বিল্ডআপে ফাউলের অভিযোগ তুলে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।

    দ্বিতীয় অভিযোগটি আর্জেন্টিনার জয়সূচক তৃতীয় গোলকে ঘিরে। মিশরের দাবি, গোল হওয়ার আগে হামদি ফাথিকে ফাউল করা হলেও সেটি ভিএআরে যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি। তাদের মতে, ওই সিদ্ধান্তও ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রেফারিং নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তিনি অভিযোগ করেন, ম্যাচের ফল যেন আগেই নির্ধারিত ছিল এবং রেফারির ওপর আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে চাপ ছিল। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

    মিশরের অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ফিফা।

  • আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়, বললেন সুইজারল্যান্ডের কোচ

    আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়, বললেন সুইজারল্যান্ডের কোচ

    মিসরের বিপক্ষে প্রায় হারতে বসা ম্যাচটা আর্জেন্টিনা জিতেছে শেষ মুহূর্তে। এই জয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে শেষ আটে। ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায় কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ডের।

    গতকাল রাতে টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়েছে সুইসরা। ওই ম্যাচের পরই শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনাকে নিয়ে প্রশ্ন গিয়েছিল সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিনের কাছে। তাঁর কথায় প্রতিপক্ষের জন্য সমীহ থাকলেও আর্জেন্টিনাকে হারানো যে অসম্ভব কিছু নয়, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়াটা দারুণ ব্যাপার। আমাদের জন্য এক অনন্য সুযোগ। তবে আর্জেন্টিনা অজেয় নয়। অবশ্যই আমরা তাদের হারানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা লাতিন আমেরিকার দলগুলোর মানসিকতা ভালো করেই জানি।’

    ১৯৫৪ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল সুইজারল্যান্ড। ৭২ বছর পর আবার তারা শেষ আটে জায়গা পেল। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অপরাজিত তারা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় সুইজারল্যান্ড।

    নকআউটে আলজেরিয়ার পর কলম্বিয়াকে হারিয়ে তারা পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। তাদের এই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে আসা রিকার্দো রদ্রিগেজ। তাঁর কণ্ঠে সমীহই ছিল আর্জেন্টিনার জন্য।

    কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের পর তিনি বলেছেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে আসা আর্জেন্টিনা অসাধারণ একটা দল। ওদের দলে দুর্দান্ত কিছু খেলোয়াড় আছে, একজন ভালো কোচও আছে। ওরা কীভাবে খেলে, তা আমাদের জানা। ওদের দলে আছে বিশ্বের সেরা লিওনেল মেসি।’

  • বিশ্বাসে ভর করে এগোচ্ছে স্পেন

    বিশ্বাসে ভর করে এগোচ্ছে স্পেন

    কিছু দল আছে, যারা প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে নয়, বরং সুযোগের অপেক্ষা করে ঠিক সময়ে আঘাত হানার। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেনও এমনই ছিল। ১৬ বছর পর সেই পুরোনো চেহারার আরেকটি ঝলক দেখা গেল ডালাসে। পর্তুগাল শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু বিশ্বাসে ভর করে শেষ হাসিটা হাসল স্পেন। যোগ করা সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসেও গড়ল নতুন রেকর্ড।

    ম্যাচ যত শেষের দিকে এগোচ্ছিল, অতিরিক্ত সময়ের সম্ভাবনাও তত বাড়ছিল। ঠিক তখনই নিজের বেঞ্চের শক্তির পরিচয় দিল স্পেন। বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস যোগ করা সময়ে দারুণ একটি পাস বাড়িয়ে দেন। সেই পাস ধরে দিয়োগো কস্তাকে পরাস্ত করেন আরেক বদলি মিকেল মেরিনো। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে জার্মানির বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নায়ক হওয়ার পর বিশ্বকাপেও স্পেনকে বাঁচালেন তিনি।

    ম্যাচ শেষে মেরিনোকে নিয়ে উচ্ছ্বাস লুকাননি স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে, ‘মিকেল মেরিনো কখনোই আমাদের হতাশ করে না। সে নিশ্চিত ভরসা। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতিয়েছে, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সব সময় সে হাজির থাকে। নিজের পজিশনে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমাদের বেঞ্চে এমন খেলোয়াড় আছে, যারা অন্য যেকোনো জাতীয় দলে শুরুর একাদশে খেলত।’

    কয়েক মাস আগেও বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন মেরিনো। তাই জয়সূচক গোলের পর তাঁর কণ্ঠে ছিল স্বস্তির সুর, ‘কয়েক মাস আগেও এখানে থাকা কল্পনাতীত ছিল। আর এখন আমি বিশ্বের শীর্ষে আছি, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুখের মুহূর্তগুলোর একটি উপভোগ করছি। প্রতিটি পরিশ্রম আর প্রতিটি সন্দেহের মুহূর্ত আজ সার্থক।’

    ডালাসের রাতটি শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গল্প নয়, রেকর্ডের রাতও। পর্তুগালকে গোল করতে না দিয়ে স্পেন টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে ক্লিন শিট রাখার কীর্তি গড়েছে। এর আগে ইতালি (১৯৯০) ও সুইজারল্যান্ড (২০০৬-১০) টানা পাঁচ ম্যাচে গোল না খাওয়ার রেকর্ড গড়েছিল। সেই রেকর্ড এখন স্পেনের একার।

    এই কীর্তির কেন্দ্রে আছেন গোলরক্ষক উনাই সিমোনও। পর্তুগালের বিপক্ষে আরেকটি ক্লিন শিট রেখে তিনি বিশ্বকাপে টানা ৬০৯ মিনিট গোল না খাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তবে এই অর্জয়ের কৃতিত্ব শুধু গোলরক্ষকের নয় বলেই মনে করেন দে লা ফুয়েন্তে, ‘এই রেকর্ড শুধু উনাইয়ের নয়, তার সতীর্থদেরও। তাদের সংহতি, উদারতা, পরিশ্রম আর আত্মত্যাগের ফল এটি। সবাই একে অপরের জন্য দৌড়ায়।’

    এটি ছিল রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। পরাজয়ের হতাশা ছিল, কিন্তু প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতেও দ্বিধা করেননি তিনি, ‘আমরা এমন একটি দলের কাছে হেরেছি, যাদের আমি মনে করি ফাইনালে উঠবে, কিংবা অন্তত তার খুব কাছাকাছি যাবে। আমি খুবই দুঃখ নিয়ে যাচ্ছি। আমরা ভালো একটি ম্যাচ খেলেছি, দুই দলই জিততে পারত। ফুটবল এমনই। এভাবে বিদায় নেওয়া হতাশাজনক, কিন্তু আমি পরিষ্কার বিবেক নিয়েই যাচ্ছি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েছি।’

    রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়ের সমাপ্তির রাতে স্পেন পেল নতুন এক নায়ক। আর টানা ছয় ক্লিন শিটের বিশ্ব রেকর্ড গড়ে দে লা ফুয়েন্তের দল জানিয়ে দিল, এই বিশ্বকাপে শিরোপার দৌড়ে তাদের নামটি এখন আর শুধু সম্ভাবনার নয়, প্রধান দাবিদারেরও। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম।

  • উদ্বোধন-নবীনবরণ ১৮ জুলাই

    উদ্বোধন-নবীনবরণ ১৮ জুলাই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ উপলক্ষে আগামী ১৮ জুলাই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় নওগাঁ উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. সায়েম বিন সোলায়মান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো আইন বিভাগ ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে নতুন এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পথচলা শুরু হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষাসচিব আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহম্মেদ, ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।এ ছাড়া নওগাঁ-১ থেকে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্যরা এবং নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহা. হাছানাত আলী।

  • রেফারিকে ‘জালিম’ বললেন মিশরের ফুটবলার

    রেফারিকে ‘জালিম’ বললেন মিশরের ফুটবলার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। ম্যাচের শেষ দিকে মাত্র ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে তিন গোল করেছে আর্জেন্টিনা। এতেই কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। তবে ম্যাচ শেষে অস্রুসিক্ত চোখে রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন মিশরের ফুটবলার মোস্তফা জিকো।

    আর্জেন্টিনা ও মিশরের হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্রধান রেফারি হিসেবে ছিলেন ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়ায় জিকো বলেন, “রেফারি অন্যায় করেছেন, অন্যায় করেছেন। রেফারি একদমই ফেয়ার ছিলেন না।”

    তিনি আরও বলেন, “তিনি (রেফারি) একজন জালিম। এটি স্পষ্ট ও দিবালোকের মতো পরিষ্কার তিনি অবিচার করেছেন। তিনি একটি দেশের পুরো পরিশ্রমকে এক নিমিষে নষ্ট করে দিলেন। ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন।”

    ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মিশর। বিরতির পর আবারও গোলের দেখা পায় মোহাম্মদ সালহর দল। তবে ফাউলের কারণে ভিএআরে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

  • অবিশ্বাস্য জয়ের পরও কেন রেগে গিয়েছিলেন মেসি?

    অবিশ্বাস্য জয়ের পরও কেন রেগে গিয়েছিলেন মেসি?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় ও অবিশ্বাস্য জয়ের পরও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির মুখে হাসি ছিল না। দল ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে, কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। তবুও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে গভীর হতাশ ছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পেনাল্টি মিস করার কারণে নিজের ওপরই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি।

    আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুটা ভালো হয়নি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ১৫ মিনিটে ইয়াসির ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুত সমতায় ফেরার সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে। ২১ মিনিটে পেনাল্টি পায় তারা। দায়িত্ব নেন মেসি। কিন্তু তার নেওয়া স্পটকিক ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। পেনাল্টি মিসের পর মাঠেই হতাশা প্রকাশ করেন মেসি। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আর্জেন্টাইন তারকা বলেন, পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারায় তিনি খুবই রাগান্বিত ও হতাশ ছিলেন। মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করার কারণে আমি নিজের ওপর খুবই রাগান্বিত ছিলাম, খুব হতাশ ছিলাম। ওই মুহূর্তে যদি গোল করতে পারতাম, তাহলে ম্যাচের চিত্রই বদলে যেত।’

    তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়ায় মেসির নেতৃত্বেই। ৭৯ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্ট থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর ৮৩ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে নিজেই সমতা ফেরান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

    এ বিষয়ে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা যেভাবে জিতেছি এবং পরের পর্বে উঠেছি, সেটাই সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে আসতে পারাটা ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর। আমরা আবারও অনেক কষ্ট করেছি। কিন্তু এটাই বিশ্বকাপ। এখানে সব ম্যাচই প্রায় একই রকম, সব দলই খুব কাছাকাছি মানের। আমি খুবই খুশি।’ ম্যাচ শেষে মেসি জানান, দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অবদান রাখতে পারাটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো খেলছিলাম। পেনাল্টির বাইরে আরও পরিষ্কার কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিলাম। তাদের গোলরক্ষক অসাধারণ কিছু সেভ করেছে। শেষ পর্যন্ত সুযোগ পেয়ে আমি গোল করতে পেরেছি। যা ঘটেছিল, তার পরও এই দলকে সাহায্য করতে পারাটা আমার জন্য খুবই বিশেষ অনুভূতি।’

    মিশরের বিপক্ষে এই ম্যাচে মেসি শুধু গোলই করেননি, একাধিক সুযোগ তৈরি করে দলের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যদিও পেনাল্টি মিসের কারণে বিশ্বকাপে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডেও নাম উঠেছে তার। টাইব্রেকার বাদে এক বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি।

    এ ছাড়া মিশরের বিপক্ষে তার নেওয়া একটি ফ্রি-কিকও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। গোলরক্ষক শোবেইরের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আরও কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া হয় মেসির।

    তবে সবকিছুর পরও মেসির পারফরম্যান্স ছিল অনন্য। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে একই বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করা, পাঁচটির বেশি সফল ড্রিবল করা এবং ওপেন প্লে থেকে পাঁচটির বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করার কীর্তি গড়েছেন তিনি।

    মিশরের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২১টি করেছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে তার মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯-এ, ছাড়িয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।

    চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। মিশরের বিপক্ষে গোলটি ছিল এবারের আসরে তার অষ্টম গোল। এর মাধ্যমে তিনি গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে উঠে গেছেন। একই সঙ্গে ১৯৩০ বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিলের করা এক বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ৮ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি।

    দলের প্রত্যাবর্তনের প্রশংসা করে মেসি বলেন, ‘২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ফিরে আসা সহজ ছিল না। কিন্তু এটাই এই দলের চরিত্র। আমরা কখনো হাল ছাড়ি না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করি। আজকের জয় আমাদের গর্ব করার মতো একটি মুহূর্ত।’ এই

    নাটকীয় জয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা।

    বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

  • ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে এবার মুখ খুললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

    ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে এবার মুখ খুললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ তাদের গুন্ডামি পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিচ্ছবি।

    বুধবার (০৮ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্বকাপ আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ এক প্রকার নিয়ম লঙ্ঘন। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর চাপ সৃষ্টি, বাধা তৈরি এবং প্রতারণাও করছে দেশটি। মূলত এটি ওয়াশিংটনের বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা সব জায়গায় এমন আচরণই করে থাকে।

    পেজেশকিয়ান আরও বলেন, মার্কিন সরকারের আচরণ তাদের তথাকথিত মেগা প্লেবুক-এরই প্রতিফলন। তবে ইরান এই ধরনের খেলা প্রত্যাখ্যান করে ও নিজেদের অধিকারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা এবং তেলের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর এই মন্তব্য করলেন পেজেশকিয়ান।

    সূত্র : আল জাজিরা

  • আর্জেন্টিনাকে ঝড়ের কবল থেকে উদ্ধার করল মেসি

    আর্জেন্টিনাকে ঝড়ের কবল থেকে উদ্ধার করল মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ল্যাতেজিয়ার ছিলেন দুর্বল ও পক্ষপাতদুষ্ট। এটা স্বীকার করতেই হবে- আর্জেন্টিনা ঝড়ের কবলে পড়েছিল। লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল প্রায় সবকিছু। মেসি পেনাল্টিতে গোল করতে ব্যর্থ হন। এই আসরেই অষ্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে পেনাল্টি মিস করেন। খেলায় গোল হয়েছে পাঁচটি। প্রথম গোল করেন মিশরের ইয়াসের ইব্রাহিম। দ্বিতীয় গোলটি করেন মোস্তফা জিকো। এর আগে নাটকীয় ঘটনাও ঘটে বেশ কিছু। মিশরের একটি গোল বাতিল হয়। যা নিয়ে বিশ্বব্যাপী ফুটবলভক্তরা তাজ্জব হয়েছেন। মাঠের মধ্যে উসকানি দেখে ফরাসি তারকা এমবাপ্পে শুধু হাসলেন। সংবাদমাধ্যম এই খবরটাই দিয়েছে। কিন্তু কেন? বোধ করি আপনারাও বুঝতে পেরেছেন। কারণ গোল হওয়ার ২০ সেকেন্ডে একটা ফাউলের অভিযোগে গোল বাতিল হয়। যা ছিল হাস্যকর, কলঙ্কিত। রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক বিতর্ক ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। বাইরের দুনিয়াও একই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বলেছেন, এটা আর্জেন্টিনা নয় ভার্জেন্টিনা। যাই হোক, পাঁচ মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনা দুটো গোল করে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মেসি সরাসরি গোল করেন। আর তার বলে অন্যটি করেন রোমেরো। বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে গোল করলেন মেসি। খেলার ভাগ্য নির্ধারিত হয় ইনজুরি টাইমে। এই গোলটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ মিশরের তারকা সালাহকে স্পষ্ট ফাউল করলেও তা রেফারি এড়িয়ে যান। এমনকি রিভিউতেও পাঠাননি। যেটা অবিশ্বাস্য। অভিযোগ, মিশর হেরে গেল রেফারির ছল-চাতুরিতে। নাহলে হয়তো খেলাটি ঘিরে তেমন একটা বিতর্ক হতো না। মোস্তফা জিকোর গোলটা বাতিলের পর বোঝা গিয়েছিল অন্য কিছু হতে পারে। এর আগের ইতিহাস- রোনালদো নেই, ব্রাজিল নেই বিশ্বকাপে তাহলে থাকলো কী। এবার যদি আর্জেন্টিনাও চলে যায় তাহলে তো বিশ্বকাপের উন্মাদনাই থাকবে না। মিশরের গোলকিপার মোস্তফা শোবেইর আসলেই এক পিরামিড হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই পিরামিড ভাঙলো অদৃশ্য শক্তির খেলায়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি বিতর্কিত অধ্যায়ও লিপিবদ্ধ হলো। বিশ্বকাপে শুধু খেলা নয়, ব্যবসার দিকটাও দেখতে হবে। এবার ফিফা কি সেই ঝুঁকি নেবে। মিশর এর আগে চারবার বিশ্বকাপে এসেছিল। আর এবারই প্রথম নকআউটে আসে। অঙ্কের হিসেবে মিশর হারলেও বিবেকের বিচারে আসল জয়ী তারাই। খেলা শেষে মেসি আবারও আলোচনায়। বলা চলে, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ফুটবলকে শাসন করছেন। তিনি এখন ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে। গত সপ্তাহে দুটি জয়ের মাঝখানে তিনি তার ৩৯তম জন্মদিন পালন করেছেন। তার অগণিত ভক্তরা কীভাবে তাদের প্রিয় তারকার শেষ বিশ্বকাপকে উপভোগ করছেন- এই প্রশ্নের মধ্যেই মিশরের উত্থান দেখে মেসি নিজেই চিন্তায় পড়ে যান। মিশরের প্রথম গোলের পর তিনি উপুড় হয়ে ঘাস দেখছিলেন। এই ঘাস, এই মাঠ ও এই গ্যালারি তার শক্তি, সাহস। বিতর্ক হচ্ছে- এই বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড় হবেন কে। লামিন ইয়ামাল- এক স্প্যনিশ কিশোর? কিলিয়ান এমবাপ্পে- ফুটবলের অতি গতিসম্পন্ন বোগাত্তি গাড়ি! নাকি আর্লিং হালান্দ- নরওয়ের সেই গোলদানব! বৃটেনের হ্যারি কেইন? ১৯শে জুলাই এর উত্তর মিলবে। খেলা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে কুৎসিত কিছু ঘটনাও ঘটে। রেফারি আবোল-তাবোল অনেক সিদ্ধান্ত দেন। লাল কার্ড, হলুদ কার্ড মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও দেখান। যা খেলার সৌন্দর্যে দাগ লাগিয়ে দেয়। জমজমাট প্রশ্নের সৃষ্টি করে।

  • অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

    অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    শেষ বাঁশি বাজালো রেফারি! বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এক অঘটন ঘটিয়েই ফেলেছিল মিশর। কিন্তু তার বদলে ফুটবল বিশ্ব দেখলো আর্জেন্টিনার মহাকাব্যিক এক প্রত্যাবর্তন। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই প্রথম দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতলো আলবিসেলেস্তেরাম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়লেন লিওনেল মেসি। তবে এ কান্না বিষাদের নয়, আনন্দের। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করে যে চাপ তিনি তৈরি করেছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ৪ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে এক অ্যাসিস্ট আর এক গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়ে নিজেই তার প্রায়শ্চিত্ত করলেন। আর্জেন্টিনা শিবির এখন স্বস্তি আর উল্লাসে ভাসছে। টানা দ্বিতীয় এবং চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখনো টিকে রইল তাদের।অন্যদিকে রেফারির শেষ বাঁশির পর শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন মোহাম্মদ সালাহ ও তার দল। পুরো ম্যাচে বীরের মতো লড়াই করেও এমন হার মেনে নেয়া কঠিন। তবে মিশর আজ ম্যাচ হারলেও মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছে, কারণ তারা কোনো ভুল করেনি। তারা স্রেফ হেরে গেছে এক অতিমানবীয় ফুটবল জাদুকরের পায়ের কাছে।এর আগে যোগ করা সময়ে গোল খেয়ে ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় মেজাজ হারায় মিশরীয় শিবির। আর্জেন্টিনার কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল হওয়ার ঠিক আগে নিজেদের বক্সে ম্যাক অ্যালিস্টার মিশরের ফাতিকে টেনে ফেলে দিয়েছিলেন বলে দাবি করে তারা। এই নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করায় গোলকিপার শোবের হলুদ কার্ড দেখেন এবং মিশরের একজন স্টাফ মাঠের ভেতর ঢুকে লাল কার্ড পান। পরে প্রতিবাদ করায় ফাতি এবং ম্যাক অ্যালিস্টারকে ফাউল করায় আতিয়াও হলুদ কার্ড দেখেন। ক্ষোভে ফেটে পড়া মিশরের কোচ হোসাম হাসানও রেফারিকে কিছু বলায় হলুদ কার্ডের তালিকায় নাম লেখান। শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে ওতামেন্দি ও মেদিনা মাঠে নামেন এবং লাউতারো মার্টিনেজ কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে বল ধরে রেখে সময় নষ্ট করতে গিয়ে আতিয়ার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান।গোল! অবিশ্বাস্য এক নাটকীয়তায় লিড নিলো আর্জেন্টিনা! ডান প্রান্ত থেকে আরও একটি চমৎকার ক্রস ভেসে আসে মিশরের বক্সে। সেখানে লাফিয়ে উঠে এনজো ফার্নান্দেজ নিখুঁত এক হেডে বল পাঠিয়ে দেন পোস্টের ডান দিকের উপরের কোণায়। গোলকিপার শোবেরের সাধ্য ছিল না এটি আটকানোর। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত এই গোল করে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ করল আলবিসেলেস্তেরা।

    ৮৩ মিনিট: আর্জেন্টিনা ২-২ মিশর

    গোল! সমতায় ফিরলো আর্জেন্টিনা, লিওনেল মেসি ম্যাজিক! ডান প্রান্ত থেকে মেসির বাড়ানো ক্রসটি মিশরের রক্ষণভাগ ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেনি। বাঁ প্রান্ত থেকে বলটি আবার বক্সের ভেতর ফেরত পাঠান লাউতারো মার্টিনেজ। হুলিয়ান আলভারেজ বুক দিয়ে আলতো ছোঁয়ায় বলের গতি কমিয়ে মেসির সামনে বাড়িয়ে দেন। ড্রপ খাওয়া বলটিতে কোনো সময় নষ্ট না করে নিখুঁত এক শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন মেসি। মিশরীয় গোলকিপারের এবার আর কিছুই করার ছিল না। ৪ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ফিরে এলো আলবিসেলেস্তেরা।

    ৯ মিনিট: আর্জেন্টিনা ১-২ মিশর

    গোল! রোমেরোর হেডে ব্যবধান কমালো আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্ত থেকে নিখুঁত এক ক্রসে বল বক্সে বাড়ান লিওনেল মেসি। সেখানে সম্পূর্ণ অরক্ষিত থাকা ক্রিস্টিয়ান রোমেরো মাত্র ছয় গজ দূর থেকে চমৎকার হেডে বল জালের ডান দিকে পাঠান। মিশরীয় গোলকিপার শোবের ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও বলের গতি রুখতে পারেননি। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে ফেরার দারুণ ইঙ্গিত দিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    ৬৭ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-২ মিশর

    গোল! এবার আর কোনো ভুল নেই। জিকোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করলো মিশর! আর্জেন্টিনার একটি কর্নার থেকে বল পেয়েই কাউন্টার অ্যাটাকে গতি বাড়ান মোহাম্মদ সালাহ। ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে কাটিয়ে তিনি ডান প্রান্তে থাকা হাসানকে পাস দেন। হাসান গতিতে নাহুয়েল মলিনাকে পরাস্ত করে একদম বাইলাইনের কাছ থেকে বক্সে চমৎকার কাট-ব্যাক করেন। সেখানে ওত পেতে থাকা জিকো মাত্র ছয় গজ দূর থেকে বুলেট গতির শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। বিশ্বমঞ্চে এবার সত্যিই বড় এক অঘটনের সুবাস দিচ্ছে মিশর।

    ৫৮ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    গোল বাতিল! ভিএআরের হস্তক্ষেপে বেঁচে গেল আর্জেন্টিনা। পাল্টা আক্রমণ থেকে অসাধারণ এক গোল করে উল্লাসে মেতে উঠেছিল মিশর। তবে গোলটির ঠিক আগের মুহূর্তে, মিশরের নিজেদের অর্ধে আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে জার্সি টেনে ধরে ফাউল করেছিলেন। ভিএআর দেখে রেফারি ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করে আর্জেন্টিনার পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তটি সঠিক হলেও মিশরের জন্য এটি ছিল চরম এক হৃদয়ভঙ্গ।

    হাফটাইম: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    আটলান্টা স্টেডিয়ামে বড়সড় এক অঘটনের আভাস দিয়ে বিরতিতে গেল দুই দল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কোনো ম্যাচ না জেতা মিশরের জন্য এটি স্বপ্নের এক প্রথমার্ধ। অন্যদিকে, তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এক গোলে পিছিয়ে থেকে মাঠ ছাড়লো। আলবিসেলেস্তেরা এখনো প্যানিক না করলেও, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে দ্বিতীয়ার্ধে তাদের কৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে হবে।

    প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে নিজেদের বক্সের সামনে মিশরীয় ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা কেবল অফসাইডই হতে পেরেছেন। অন্যদিকে, গোলকিপার মোস্তফা শোবেরের একের পর এক দুর্দান্ত সেভে মাথায় হাত পড়ে লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেজের। গ্যালারিতে থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ কোচ দিয়েগো সিমিওনেও আলভারেজের শটটি নিশ্চিত গোল ভেবে বসেছিলেন। কিন্তু শোবেরের বিশ্বমানের সেভ সবাইকে স্তব্ধ করে দেয়। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত ৫ মিনিটেও নিজেদের রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা ধরে রাখে মিশর।

    ৪০ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    বাঁ প্রান্ত দিয়ে তাগলিয়াফিকোকে লক্ষ্য করে একটি লম্বা পাস বাড়ানো হয়। তিনি কোনোমতে পা বাড়িয়ে বলটি বক্সের মাঝখানে দেন হুলিয়ান আলভারেজের উদ্দেশ্যে। আলভারেজ শরীরটা ঘুরিয়ে ডান দিকের নিচের কোণ লক্ষ্য করে জোরালো সাইডফুট শট নেন। একদম ছবির মতো সুন্দর এক গোল হতে পারত এটি। কিন্তু পুরো শরীর বাতাসে ভাসিয়ে এক হাতের দারুণ ছোঁয়ায় বল পোস্টের বাইরে ঠেলে দেন মিশরীয় গোলকিপার শোবের। আরও একবার অসাধারণ এক সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করলেন তিনি।

    ২৯ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    আর্জেন্টিনার আক্রমণের গতি বাড়ল। ডান প্রান্ত থেকে রদ্রিগো ডি পল চমৎকার একটি ক্রস বাড়ান বক্সে। গোলপোস্টের মাত্র ছয় গজ দূর থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার হেড করলেও তা মিশরীয় ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। এরপর বক্সের প্রান্ত থেকে এনজো ফার্নান্দেজ ফিরতি বলে জোরালো শট নিলেও সেটিও ব্লক করে দেয় মিশরের রক্ষণভাগ।

    ২১ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    মেসির পেনাল্টি মিস! পেনাল্টি নেয়ার চিরচেনা আনুষ্ঠানিকতা শেষে মেসি শট নিলেও, তা আটকে দেন মিশরের গোলকিপার শোবের। মেসি পোস্টের ডান দিকের নিচের কোণ লক্ষ্য করে মারলেও শটটিতে পর্যাপ্ত গতি ছিল না। গোলকিপারদের জন্য একদম সুবিধাজনক উচ্চতায় থাকা বলটির দিক আগেই অনুমান করে চমৎকারভাবে ফিরিয়ে দেন শোবের। ফলে পেনাল্টি থেকেও সমতায় ফেরা হলো না আর্জেন্টিনার।

    ১৫ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর

    গোল! ইব্রাহিমের চোখধাঁধানো হেডে এগিয়ে গেল মিশর। ডান প্রান্তে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে চাপে ফেলে ম্যাচের প্রথম কর্নার আদায় করে নেন হ্যানি। কর্নার থেকে বল ফেরত পেয়ে উইং দিয়ে ভেতরে ক্রস বাড়ান আতিয়া। সেখানে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাঁকি দিয়ে অনেকটা নিঃশব্দে বক্সে ঢুকে চমৎকার এক হেডে বল জালে জড়ান ইব্রাহিম। পোস্টের ডান দিকের উপরের কোণ দিয়ে বল জালে জড়ানোর সময় গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজের স্রেফ দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না।

    ৭ মিনিট: আর্জেন্টিনা ০-০ মিশর

    ডান প্রান্তে দারুণ খেলে একটি ফ্রি-কিক আদায় করে নিলেন মিশরের হাসান। আতিয়া সেই ফ্রি-কিক থেকে বক্সের ভেতর বল বাড়ালেও আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের সামনে দিয়ে তা পার হয়ে যায়। সেখানে কোনো মিশরীয় ফুটবলার না থাকায় বেঁচে গেল আলবিসেলেস্তেরা।

    কিক অফ

    শুরু মাঠের লড়াই

    ৩ পরিবর্তন আর্জেন্টিনার

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ আটলান্টায় মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। একদিকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে প্রথম জয়ের স্বাদ পাওয়া রূপকথার মিশর, অন্যদিকে শিরোপাপ্রত্যাশী আলবিসেলেস্তেরা। দুই ভিন্ন মেজাজের দলের এই দ্বৈরথকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে

    মিশরের রক্ষণ ভাঙতে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি শুরুর একাদশে তিনটি বড় পরিবর্তন এনেছেন। পেশির টানের কারণে ফাকুন্দো মেদিনার জায়গায় ইনজুরি কাটিয়ে ফিরছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। মাঝমাঠে ধার বাড়াতে থিয়াগো আলমাদার পরিবর্তে শুরু থেকেই খেলবেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ফলে আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার কিছুটা ওপরে উঠে খেলার স্বাধীনতা পাবেন। আক্রমণভাগেও এসেছে বড় বদল। অফফর্মে থাকা লাওতারো মার্তিনেজের জায়গায় গোড়ালির চোট কাটিয়ে ফিরেই মূল একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ হুলিয়ান আলভারেজ।

    লিভারপুলের কিংবদন্তি মোহামেদ সালাহ জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বড় কোনো সাফল্য পাচ্ছিলেন না। তবে এবার সালাহর জাদুকরী নেতৃত্বেই ইতিহাস বদলে দিয়েছে ‘ফারাও’রা। বিশ্বকাপে এর আগে কখনো কোনো ম্যাচ না জেতা মিসর এবার শেষ ১৬তে জায়গা করে নিয়েছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হলেও, জিতলে সালাহর দল পৌঁছে যাবে অনন্য এক উচ্চতায়।আর্জেন্টিনা একাদশ: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ।

    মিশর একাদশ: মোস্তফা শোবেইব, মোহামেদ হানি, রামি রাবিয়া, ইয়াসির ইব্রাহিম, করিম হাফেজ, ইমাম আশুর, মারোয়ান আতিয়া, মোহামেদ লাশিন, হাসান, মোহামেদ সালাহ, জিকো।

  • আজ কাঁদবেন কে, মেসি নাকি সালাহ?

    আজ কাঁদবেন কে, মেসি নাকি সালাহ?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল এবং মিশর জাতীয় ফুটবল দল। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই। ম্যাচটির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন দুই তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি ও মোহামেদ সালাহ।

    ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার অনুশীলন ঘিরে ছিল বাড়তি আগ্রহ। নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে অনুশীলনে যোগ দেন মেসি। এর আগে কোচ লিওনেল স্কালোনি-র সঙ্গে আলাদা বৈঠকে অংশ নেন তিনি। পরে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে প্রাণবন্তভাবেই অংশ নিতে দেখা যায় আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে।

    স্কালোনি বলেন, টানা ম্যাচ, দীর্ঘ বিমানযাত্রা, গরম আবহাওয়া এবং একেক ভেন্যুর ভিন্ন পরিবেশ এবারের বিশ্বকাপকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তার মতে, এ টুর্নামেন্টে কোনো দলকেই স্পষ্ট ফেবারিট বলা যাচ্ছে না এবং সামান্য ভুলও বিদায়ের কারণ হতে পারে।

    অন্যদিকে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, তার দল দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময় পার করছে। আর্জেন্টিনাকে যথেষ্ট সম্মান করলেও ভয় পান না বলে জানান তিনি। নিজেদের স্বাভাবিক খেলাই খেলতে চান এবং সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

    আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশে কয়েকটি পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। চোট কাটিয়ে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। আক্রমণভাগে লাওতারো মার্টিনেজের বদলে শুরু থেকেই খেলতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ। মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের ফেরার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    অতীত পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকলেও নকআউট পর্বে কোনো হিসাবই শেষ কথা নয়। একটি মুহূর্ত বা একজন খেলোয়াড়ের নৈপুণ্যই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। তাই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে দুই দলই নামছে নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে।

  • বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা মওকুফে জরিমানা গুনছে যুক্তরাষ্ট্র

    বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা মওকুফে জরিমানা গুনছে যুক্তরাষ্ট্র

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    লাল কার্ডের কারণে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা থেকে শেষ মুহূর্তে রেহাই পেলেও আর্থিক শাস্তি এড়াতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন। বিশ্বকাপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে বিতর্কিত লাল কার্ডের ঘটনায় তাকে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড) জরিমানা করেছে ফিফা। সেই জরিমানার অর্ধেক বহন করবে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনও।

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর আগে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে। ফলে তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামেন। তবে আর্থিক শাস্তির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।

    ফিফার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ডিসিপ্লিনারি কোডের দুটি পৃথক ধারা ভঙ্গের দায়ে মোট ৪০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এর অর্ধেকের দায় বহন করবে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন।

    বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে বড় বিতর্কের জন্ম হয়েছে। বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং উয়েফা প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছে। এমনকি অভিযোগ ওঠে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার পরই সিদ্ধান্ত বদলানো হয়।এই বিতর্কের জেরে মুখ খুলেছেন ইনফান্তিনোও। তিনি দাবি করেন, ফিফার বিচারিক সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং তাদের সিদ্ধান্তে সভাপতির কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

    ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন পেয়েছিলাম, যেমন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারি কর্মকর্তা ও ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকেও বিভিন্ন বিষয়ে ফোন পাই। আমি শুধু জানিয়েছি যে বিষয়টি স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কমিটি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কখনো আমি ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্তে একমত হই, কখনো হই না। কিন্তু সবসময় তাদের স্বাধীনতাকে সম্মান করি। ব্যক্তিগত মতামত এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়।’বালোগুনের শাস্তি স্থগিত হওয়ার ঘটনায় ফুটবল বিশ্বে আলোচনা এখনো থামেনি। তবে নিষেধাজ্ঞা এড়ালেও বড় অঙ্কের জরিমানা দিয়ে বিতর্কিত এই অধ্যায়ের মূল্য চুকাতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এই ফরোয়ার্ডকে।

  • বর্ণবাদী মন্তব্যে ক্ষুব্ধ এমবাপ্পে

    বর্ণবাদী মন্তব্যে ক্ষুব্ধ এমবাপ্পে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন দলের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে ম্যাচের পর মাঠের লড়াই ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে প্যারাগুয়ের এক সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্য এবং তার জবাবে এমবাপ্পের কঠোর প্রতিক্রিয়া।

    স্পেনের বিপক্ষে প্যারাগুয়ের বিদায়ের পর দেশটির সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এমবাপ্পেকে নিয়ে একাধিক বর্ণবাদী ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন।

    তিনি এমবাপ্পেকে ‘ক্যামেরুনীয় বংশোদ্ভূত, নিজেকে মরিয়া হয়ে ফরাসি হিসেবে পরিচয় দিতে চাওয়া ব্যক্তি’ বলে আখ্যা দেন। পাশাপাশি তাকে ‘বর্বর’ বলেও কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন, প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের উচিত ছিল তাকে চড় মারা।

    এমন মন্তব্যের জবাবে এমবাপ্পে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ভাষায় সিনেটরের সমালোচনা করেন।

    তিনি লেখেন, ম্যাডাম সেলেস্তে আমারিয়া, আপনি একজন ঘৃণ্য নারী এবং আপনার পদে থাকার যোগ্য নন। আপনি প্যারাগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না। এই বিশ্বকাপে যে দেশ আবেগ, সম্মান ও লড়াইয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, আপনি সেই দেশের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করেছেন।

    এমবাপ্পে আরও বলেন, আপনার দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও প্রকাশ্য বর্ণবাদ পুরো বিশ্বের নজর ঘুরিয়ে দিয়েছে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের ঐতিহাসিক অর্জন থেকে। পরিবর্তে এখন আলোচনায় একজন অযোগ্য রাজনীতিক, যিনি নিজের দেশের সবচেয়ে খারাপ চিত্রটি তুলে ধরেছেন।

    সবশেষে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আপনার মতো মানুষদের ঘৃণা ও বর্ণবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার স্বাধীনতা আমি কখনোই মেনে নেব না।

    এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়ার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    এক বিবৃতিতে এফএফএফ জানায়, এ ধরনের মন্তব্য জঘন্য, অগ্রহণযোগ্য এবং আইনত দণ্ডনীয়। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য আসলে পুরো ফ্রান্সকেই অপমান করার শামিল। তাই বিষয়টি আইনি পদক্ষেপের জন্য সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আগামী ১০ জুলাই মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।

  • অদম্য সুইজারল্যান্ডের সামনে দুর্দান্ত ছন্দের কলম্বিয়া

    অদম্য সুইজারল্যান্ডের সামনে দুর্দান্ত ছন্দের কলম্বিয়া

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    চলতি বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে আছে সুইজারল্যান্ড। একই পথে আছে লাতিন আমেরিকার দল কলম্বিয়াও। দুদল এবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে শেষ ষোলোর ম্যাচে। নকআউটের এই ম্যাচে হারলেই বিদায়। দুদলই দারুণ ছন্দে থাকায় জমজমাট এক লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় ভ্যাংকুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়া। রাউন্ড অব ৩২-এ সুইজারল্যান্ড ২-০ গোলে আলজেরিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে এ পর্বে জায়গা করে নিয়েছে কলম্বিয়া।

    বিশ্বকাপের শুরুটা অবশ্য সুইজারল্যান্ডের জন্য খুব সুখকর ছিল না। উদ্বোধনী ম্যাচে কাতারের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে হতাশ করেছিল মুরাত ইয়াকিনের দল। এরপর যেন পুরোপুরি বদলে যায় তাদের চেহারা। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সহ-আয়োজক কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘বি’-এর চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে সুইসরা।

    সাম্প্রতিক সাফল্যের বড় কারণ বদলি খেলোয়াড়দের কার্যকর ভূমিকা। জোহান মানজাম্বি ও রুবেন ভার্গাস দারুণ ছন্দে রয়েছেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মানজাম্বির নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে ব্রিল এমবোলো গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, ততই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে সুইজারল্যান্ড।

    অন্যদিকে কলম্বিয়া বিশ্বকাপে এসেছে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা নিয়ে। শেষ ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্র তাদের আত্মবিশ্বাসকে নিয়ে গেছে অন্য উচ্চতায়। গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারানোর পর পর্তুগালের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপ ‘কে’-এর শীর্ষ দল হিসেবে নকআউটে ওঠে নেস্তর লরেঞ্জোর দল।

    রাউন্ড অব ৩২-এ ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে লস ক্যাফেতেরোসরা। যদিও ম্যাচের শুরুতেই হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ছিটকে যান দলের প্রধান স্ট্রাইকার জন কর্দোবা। তবে তার বদলি হিসেবে নেমে লুইস সুয়ারেজ ম্যাচের একমাত্র গোলের অ্যাসিস্ট করে কোচের আস্থা অর্জন করেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও একাদশে তাকেই দেখা যেতে পারে।

    কলম্বিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগ। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ ছাড়া টানা তিন ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছে তারা। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগও ধারালো। ফলে ম্যাচটি হতে পারে শক্তিশালী রক্ষণ বনাম গতিময় আক্রমণের লড়াই।

    তবে সুইজারল্যান্ডের জন্য কিছু দুশ্চিন্তাও রয়েছে। পেশির চোটের কারণে মিডফিল্ডার মিশেল এবিশার ও ডিফেন্ডার লুকা জাকেজের খেলা অনিশ্চিত। তারা না খেলতে পারলে গ্রানিত জাকা ও রেমো ফ্রয়লার মাঝমাঠের দায়িত্ব সামলাবেন, আর রক্ষণে থাকবেন মানুয়েল আকাঞ্জি ও নিকো এলভেদি।

    দুদলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় কোনো পক্ষই পরিষ্কার ফেভারিট নয়। সুইজারল্যান্ড টানা চার জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে, আর কলম্বিয়া ভরসা করবে নিজেদের সংগঠিত রক্ষণ ও ধারাবাহিক ফর্মের ওপর। ফলে শেষ আটের টিকিটের লড়াইয়ে ভ্যাংকুভারে অপেক্ষা করছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় এক দ্বৈরথ।

  • যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে কোয়ার্টারে বেলজিয়াম

    যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে কোয়ার্টারে বেলজিয়াম

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    এই ম্যাচে আলোচনার নাম ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগান। আগের ম্যাচে লাল খেয়ে এই ম্যাচে তার খেলার কথা না থাকলেও ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্তে মাঠে নামেন বালোগান। তবে এই ফরোয়ার্ডের ফেরাও মাঠে খুব একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বেলজিয়ামের দাপুটে ফুটবলের সামনে উড়ে গেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে চার্লস ডি কেটেলাইরের জোড়া গোলে সহ-স্বাগতিকদের ৪-১ গোলে হারিয়েছে ইউরোপের দলটি।

    বেলজিয়ামের হয়ে প্রথমার্ধে দুই গোল করেন চার্লস ডি কেটেইলার। দ্বিতীয়ার্ধে একটি করে গোল করেন হ্যান্স ভানাকেন ও তারকা খেলোয়াড় রোমেলু লুকাকুু। প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে একটি গোল শোধ করেন মালিক তিলমান।কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ ইউরোপের অন্যতম সেরা দল স্পেন। যারা রাতের অন্য ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। ১১ জুলাই রাত ১টায় সেমিফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বেলজিয়াম। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। নবম মিনিটে চার্লস ডি কেটেলাইরের গোলে এগিয়ে যায় তারা। গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, আর মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারির উচ্ছ্বাস।তবে ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেয়নি মার্কিনরা। ম্যাচের ৩১তম মিনিটে দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে সমতায় ফেরান মালিক তিলমান। গোলের পর নতুন উদ্দীপনায় খেলতে শুরু করে স্বাগতিকরা।

    কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। সমতায় ফেরার মাত্র দুই মিনিট পরই আবারও আঘাত হানে বেলজিয়াম। লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের নিখুঁত ক্রসে হেড করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন চার্লস ডি কেটেলাইরে। তাতেই আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।প্রথমার্ধের বাকি সময় দুই দলই একাধিক আক্রমণ গড়ে তুললেও আর কোনো গোলের দেখা মেলেনি। ফলে ২-১ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

    দ্বিতীয়ার্ধে চাপ ধরে রেখে খেলে যায় বেলজিয়াম। ফল আসে ৫৭তম মিনিটে। আগের দুই গোলের কারিগর কেটেলাইর এবার সহায়তাকারীর ভূমিকায়। তার পাস থেকে ৫৭তম মিনিটে জাল খুঁজে নেন হ্যান্স ভানাকেন।

    এরপর দুদল একের পর এক আক্রমণ করে যায়। বেলজিয়াম রক্ষণ শক্ত করায় জোর দেয়। যুক্তরাষ্ট্র খেলোয়াড় বদলি করেও স্কোরলাইন পাল্টাতে পারেনি। রক্ষণ জমাট করার ফাঁকেই শেষদিকে আরেকবার ভেলকি দেখায় বেলজিয়াম।যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে হঠাৎ করেই বল নিয়ে পাল্টা আক্রমণে ওঠেন তৃতীয় গোলদাতা ভানাকেন। তিনি দুর্দান্ত এক পাস বাড়ান রোমেলু লুকাকুর দিকে। তারকা খেলোয়াড় কোনো ভুল করেননি। শেষ পেরেকটা ঠুকে দেন স্বাগতিকদের কফিনে। ফলে দুর্দান্ত জয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে বেলজিয়াম।

  • রোনালদোর স্বপ্ন ভেঙ্গ শেষ আটে স্পেন

    রোনালদোর স্বপ্ন ভেঙ্গ শেষ আটে স্পেন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    গ্যালারিতে একটা পোস্টার হাতে একজনকে দেখা গেল। রঙিন সেই পোস্টারে এক পাশে রোনালদোর ছবি, আর অন্য পাশে লামিন ইয়ামালের। রোনালদোর ছবির পাশে লেখা ‘দ্য লিজেন্ড’। ইয়ামালের পাশে লেখা লাল হরফে ‘দ্য ফিউচার’।

    ম্যাচের ফলাফল তাই জানাল, ভবিষ্যৎ থাকল আর লিজেন্ড বিদায় নিল। বিশ্বকাপের মাঠ আগের দিন দেখেছিল নেইমারের কান্না। এদিন সাক্ষী হলো রোনালদোর চোখের জলের। আর চোখে নতুন স্বপ্ন নিয়ে হাসতে হাসতে ইয়ামালের স্পেন নাম লেখাল বিশ্বকাপের শেষ আটে। রোনালদোর পর্তুগালের বিশ্বকাপ মিশন রাউন্ড অব সিক্সটিনেই সমাপ্ত।

    ডালাসে ম্যাচের ৯১ মিনিটে গোল করে মিকেল মেরিনো স্পেনকে জয় এনে দিলেন। ফ্রি কিক থেকে ফার্নান্দো তোরেসের পাসে পাওয়া বলে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খালি জায়গা করে নিয়ে গোল করেন মেরিনো।

    ম্যাচ শেষ হতে তখন বাকি কেবল ৬ মিনিট। শেষের এই সময়ে গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালায় পর্তুগাল। গোল প্রায় পেয়েও গিয়েছিল তারা। কিন্তু ব্রুনো ফার্নান্দেজের হেড স্পেনের গোলপোস্টের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়। আর তাতেই ভেসে যায় পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

    আবেগ চেপে রেখে মাঠ ছাড়েন রোনালদো। কিন্তু চোখের জল লুকাতে পারেননি। ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেন। যার প্রত্যেকটিতেই আছে তার গোল। কিন্তু স্বর্ণালী ট্রফির বিশ্বকাপ হাতে নিয়ে উল্লাস করার স্বপ্নটা তার অপূর্ণই রয়ে গেল।

    বাড়ি ফেরার প্লেন ধরছে পর্তুগাল। আর স্পেন কোয়ার্টার ফাইনালে মোকাবিলা করবে বেলজিয়ামকে।

  • আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার

    আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    স্বপ্ন ছিল ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ এনে দেওয়া। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল। নরওয়ের কাছে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর শুধু টুর্নামেন্টকেই নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলকেও বিদায় জানানোর ঘোষণা দিলেন নেইমার জুনিয়র।

    শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিউ জার্সির মাঠে ভেঙে পড়েন ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা। চোখের জল লুকানোর চেষ্টা করেননি। সতীর্থরা ঘিরে ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাতে কমেনি বিদায়ের বেদনা। কারণ, এটি ছিল শুধু একটি ম্যাচের পরাজয় নয়, শেষ হয়ে গেল ব্রাজিলের জার্সিতে তার দীর্ঘ এক অধ্যায়ও।

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে দলের একমাত্র গোলটি করেন নেইমার। কিন্তু সেই গোলও পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

    ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী জিই টিভিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় আবেগঘন কণ্ঠে নেইমার বলেন, “চেষ্টা করেছি, চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখানেই সব শেষ। এখান থেকেই শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ করলাম।”।এরপরই তিনি স্পষ্ট করে জানান, ব্রাজিলের জার্সিতে তার পথচলার সমাপ্তি ঘটেছে।

    বিদায়ের মুহূর্তে স্মৃতির পাতাও উল্টে দেখেন নেইমার। ২০১০ বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্র সফরেই তৎকালীন কোচ মানো মেনেজেসের অধীনে প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। প্রায় ১৬ বছর পর সেই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই শেষ হলো তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পথচলা।

    এটি ছিল নেইমারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬—চারটি আসর খেলেও বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়া হলো না তার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কনফেডারেশনস কাপ ও অলিম্পিকে সোনা জিতলেও অধরাই রয়ে গেল ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এটিই হতে পারে তার শেষ আসর। শেষ পর্যন্ত সেই কথাই বাস্তবে রূপ নিল। তাই নরওয়ের বিপক্ষে শেষ বাঁশির পর নেইমারের কান্না ছিল শুধু একটি ম্যাচ হারের হতাশা নয়; ছিল অপূর্ণ স্বপ্নের, হারিয়ে যাওয়া বিশ্বকাপের এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর বেদনা।

    ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, এক প্রজন্মের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ের নায়ক নেইমার জুনিয়র। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে সেলেসাওদের ফুটবলের এক উজ্জ্বল অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটল।

  • ব্রাজিলের বিদায়!

    ব্রাজিলের বিদায়!

    ক্রীড়া ডেস্ক :

    শেষ বাঁশি বাজতেই মনে হলো, যেন এক বিশাল সাম্রাজ্যের প্রাসাদের শেষ ইটটাও খসে পড়েছে। নিউ জার্সির গ্যালারিতে হাজারো হলুদ জার্সি তখন আর ফুটবল দেখছিল না, তারা দেখছিল এক স্বপ্নের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। কেউ দুই হাতে মুখ ঢেকেছেন, কেউ চোখের জল লুকাতে ব্যর্থ। শূন্য দৃষ্টিতে মাঠের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ব্রাজিলের সমর্থকরা। কষ্টের কান্নায় শেষ হলো তাদের বিশ্বকাপ মিশন। মাঠের মাঝখানে ব্রাজিলের ফুটবলাররা স্থির দাঁড়িয়ে, আর দূরে লাল জার্সিতে উল্লাসে মেতে উঠেছে নরওয়ে। বিশ্বকাপের আগে যাদের নিয়ে খুব বেশি আলোচনা ছিল না, সেই নরওয়েই বিশ্ব ফুটবলের নতুন শক্তি হয়ে উঠে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে। আর হেক্সার স্বপ্ন—সেটি ভেঙে চুরমার হয়ে পড়ে রইল আর্লিং হালান্ডের মাথা আর বাঁ পায়ের নিচে।

    ২-১ গোলের এই হারেই শেষ হলো ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন। ৭৯ মিনিটে হালান্ডের দুর্দান্ত হেডে এগিয়ে যায় নরওয়ে। এরপর বাঁ পায়ের দুর্বার এক ভলিতে দ্বিতীয়বার আলিসনকে পরাস্ত করেন তিনি। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও ততক্ষণে গল্পের শেষ অধ্যায় লেখা হয়ে গেছে। টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ধরে যে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি ব্রাজিল, এবারও সেই গল্পই পুনরাবৃত্তি হলো।

    ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে কথা ছিল, এবার লেখা হবে নতুন গল্প। যে গল্পে থাকবে নরওয়েকে প্রথমবার হারানোর গৌরব। কারণ, এর আগে দুই দলের দেখায় ব্রাজিল কখনোই জিততে পারেনি। কিন্তু ইতিহাসের বইয়ে নতুন অধ্যায় যোগ করার বদলে পুরোনো অভিশাপকেই আরও গাঢ় করল সেলেসাওরা। নরওয়ে আবারও ব্রাজিলের কাছে অজেয় রইল, আর বিদায় নিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

    ব্রাজিলের পতনের বীজ অবশ্য বোনা হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। প্রথমার্ধেই তারা ম্যাচ শেষ করে দিতে পারত। ১৪ মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েস পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। ওরিয়ান নিল্যান্ডের দুর্দান্ত সেভে বেঁচে যায় নরওয়ে। এরপর ভিনিসিয়ুস, মার্তিনেলি—একজনের পর একজন সুযোগ নষ্ট করেছেন। বিরতির আগেই অন্তত দুই গোলের ব্যবধান গড়ে নেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি করেও গোলশূন্য থেকে যায় ব্রাজিল।

    দ্বিতীয়ার্ধে ভুলগুলোর মাশুল আরও স্পষ্টভাবে দিতে হয় সেলেসাওদের। ভিনিসিয়ুসের অসাধারণ দুটি পাস থেকে একা গোলরক্ষকের সামনে গিয়েও এনদ্রিক গোল করতে পারেননি। প্রথমবার দুর্বল শটে, দ্বিতীয়বার ভারী টাচে নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। বড় ম্যাচে এমন ভুলের মূল্য যে কতটা নির্মম হতে পারে, সেটাই পরে বুঝেছে ব্রাজিল।

    কেবল ফিনিশিং নয়, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানোও ডুবিয়েছে সেলেসাওদের। বল দখলে এগিয়ে থেকেও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি তারা। ভুল পাস, ধীর বিল্ড-আপ আর রক্ষণে ট্রানজিশনের সময় বারবার ফাঁকা জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নিয়েছে নরওয়ে। ব্রাজিলের রক্ষণভাগের পেছনে তৈরি হওয়া সেই শূন্যস্থানেই বারবার ছুটে এসেছেন হালান্ড, নুসা ও সোরলোথ। নরওয়ের পরিকল্পনা ছিল সহজ—বল জিতো, দ্রুত সামনে যাও, আর গতির লড়াইয়ে ব্রাজিলকে হারিয়ে দাও। সেই পরিকল্পনাই নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেছে তারা।

    যাকে নিয়ে ম্যাচের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা, শেষ পর্যন্ত তিনিই হয়ে উঠলেন সবচেয়ে বড় পার্থক্য। প্রথমার্ধে অনেকটা বিচ্ছিন্ন থাকা হালান্ড ধৈর্য হারাননি। সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। ৭৯ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রসে গ্যাব্রিয়েলকে হারিয়ে হেডে প্রথম গোল করেন। ঠিক ১১ মিনিট পর সেই শেলদেরুপের আরেকটি নিখুঁত পাসে বাঁ পায়ের ভলিতে দ্বিতীয় গোল করে হালান্ড জানিয়ে দিলেন কেন তিনি বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার। সেই এক ভলিতেই ভেঙে পড়ে ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন।

    এই দুই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়াল সাত। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি এখন সমানতালে আছেন মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে। তিনজনের ঝুলিতেই এখন সাতটি করে গোল। তবে এই রাত শুধু তার ব্যক্তিগত কৃতিত্বের নয়, এটি নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসেরও এক নতুন অধ্যায়।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ব্রাজিল, স্পেন কিংবা ইংল্যান্ড। নরওয়ের নাম সেখানে খুব কমই উচ্চারিত হয়েছে। অথচ মাঠের ফুটবল আবারও মনে করিয়ে দিল, নাম নয়, মাঠের পারফরম্যান্সই ইতিহাস লেখে। শৃঙ্খলা, গতি আর বিশ্বাস—এই তিন অস্ত্র নিয়ে তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে উঠে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে।

    ব্রাজিলের জন্য এই বিদায় শুধু আরেকটি পরাজয় নয়। এটি টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ধরে জমে থাকা অপূর্ণতার আরেকটি দীর্ঘশ্বাস। প্রতিভা ছিল, সুযোগ ছিল, তারকার অভাব ছিল না—অভাব ছিল চাপের মুহূর্তে নির্মম হয়ে ওঠার। ফুটবল বারবার একই শিক্ষা দেয়—ইতিহাসের ভার কাঁধে নিয়ে মাঠে নামা যায়, কিন্তু নতুন ইতিহাস লিখতে হলে সুযোগগুলোকে গোলে পরিণত করতেই হয়। ব্রাজিল সেই পরীক্ষায় আবারও ব্যর্থ হলো।

    আর ভাইকিং রোরের বুক কাঁপানো স্লোগান দিতে দিতে নরওয়ে লিখে ফেলল এমন এক গল্প, যা বিশ্ব ফুটবল বহুদিন মনে রাখবে।

  • রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ

    রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ

    ক্রীড়া ডেস্ক :

    ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের শেষটা যেন ধীরে ধীরে সামনে চলে এলো। পর্তুগালের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিশ্চিত করেছেন, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপই হবে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।

    বিশ্বকাপ চলাকালীন এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেন, ‘আমি এই বিশ্বকাপ উপভোগ করছি—সমর্থক, মানুষ, পুরো পরিবেশটাই দারুণ লাগছে। তবে নিশ্চিতভাবে এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। সিদ্ধান্তটা আমি নিয়েই ফেলেছি।’

    রোনালদোর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে ছড়িয়ে থাকা এক স্বর্ণযুগের সমাপ্তির কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল। ২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন তিনি। এরপর টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে পর্তুগালের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ তাঁর ষষ্ঠ এবং শেষ অধ্যায় হতে যাচ্ছে।

    আবেগঘন ঘোষণার পাশাপাশি নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতাও তুলে ধরেন রোনালদো। একটি বিমানের ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘একটি ফ্লাইটে আমি বুঝতে পারলাম একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট আর্জেন্টিনার। ও যেভাবে আমার দিকে তাকিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে নিল, আমি বুঝে গিয়েছিলাম। আমি তাকে বললাম- দেখো, আমি জানি তুমি আর্জেন্টিনার। তুমি আমাকে পছন্দ করো না! তবে চিন্তা কোরো না, আমার স্ত্রী কিন্তু আর্জেন্টিনার।’

    বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল এই ফরোয়ার্ড ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে অসংখ্য রেকর্ডের মালিক। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী রোনালদো দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলেও সর্বাধিক গোলের রেকর্ড তাঁর দখলেই।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে আর দেখা যাবে না রোনালদোকে—এমন ঘোষণা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে আবেগঘন এক মুহূর্ত। তাঁর বিদায়ের সঙ্গে শেষ হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি বড় অধ্যায়।

  • ব্রাজিলকে ভয় নয়, চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে নরওয়ে

    ব্রাজিলকে ভয় নয়, চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে নরওয়ে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাস্তবতা মেনে নিয়েই আত্মবিশ্বাসী নরওয়ে। দলটির প্রধান কোচ স্টেল সোলবাকেন স্বীকার করেছেন, কাগজে-কলমে ফেবারিট ব্রাজিলই। তবে ফুটবল যে সব সময় হিসাব মেনে চলে না, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

    রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউজার্সিতে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সোলবাকেন বলেন, ব্রাজিলকে হারানো অসম্ভব নয়, তবে তার জন্য নিজেদের শতভাগ উজাড় করে খেলতে হবে।

    ‘ব্রাজিল এখনো ফেবারিট। হয়তো আগের মতো এত বড় ফেবারিট নয়। আমরা জানি, ব্রাজিলকে হারানোর সুযোগ আমাদের আছে। কিন্তু সেটা করতে হলে মাঠে আমাদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে।’—বলেছেন নরওয়ের কোচ।

    গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা নরওয়ের সামনে এবার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ব্রাজিল। আর সেই পরীক্ষায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ব্রাজিলের বহুমাত্রিক আক্রমণভাগকেই দেখছেন সোলবাকেন।

    তার ভাষায়, ‘ওদের আক্রমণভাগে এমন খেলোয়াড় আছে, যারা ভিন্ন ভিন্ন সমন্বয় তৈরি করতে পারে। তারা চারজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নিয়েও খেলতে পারে, যেমন জাপানের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে করেছিল। আমরা সেই চাপ কতটা সামলাতে পারি, সেটাই বড় বিষয়।’

    বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় পেলে সেটি বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন হবে বলেও মনে করেন সোলবাকেন। প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আমারও মনে হয়, সেটা বড় একটি চমক হবে।’

    ম্যাচটির আরেকটি বড় আকর্ষণ হতে পারে আর্লিং হলান্ড ও ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল মাগালাইসের দ্বৈরথ। তবে ব্যক্তিগত লড়াইয়ের চেয়ে দলগত পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন নরওয়ে কোচ।

    ‘ব্রাজিলের রক্ষণজুটি গাব্রিয়েল মাগালাইস ও মার্কিনিওস বিশ্বমানের। কিন্তু এটি কোনো ব্যক্তিগত দ্বৈরথের ম্যাচ নয়। শেষ পর্যন্ত এটি ব্রাজিল বনাম নরওয়ের লড়াই।’—যোগ করেন তিনি।

  • হ্যারি কেইনদের সামনে মেক্সিকোর ‘বন্ধুত্বের দেয়াল’

    হ্যারি কেইনদের সামনে মেক্সিকোর ‘বন্ধুত্বের দেয়াল’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যে কয়েকটি দল তাদের রক্ষণভাগ দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম স্বাগতিক মেক্সিকো। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৪টি ম্যাচ খেললেও তাদের জালে কেউ বল জড়াতে পারেনি। শেষ ষোলোর মঞ্চে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে ‘এল ট্রি’দের এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি। আর মেক্সিকোর এই অপরাজেয় ডিফেন্সের একদম কেন্দ্রে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন দুই সেন্ট্রাল ব্যাক সেসার মন্তেস ও জোহান ভাসকেজ। মাঠে তাদের অসাধারণ বোঝাপড়ার পেছনে লুকিয়ে আছে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের গল্প।

    মন্তেস ও ভাসকেজের পথচলা যেন একই সুতোয় গাঁথা। শৈশব থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চ একসাথেই এসেছেন তারা। ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ করে ভাসকেজ বলেন, ‘আমার বয়স যখন মাত্র ১০ বা ১১ বছর, তখন প্রথম ওকে দেখি। মেক্সিকোর ক্লাব ‘পাচুকা’র হয়ে খেলার সময় আমাদের পরিচয়। সেখানেই আমরা জানতে পারি যে আমরা একই রাজ্যের, একই অঞ্চলের ছেলে। কঠিন সময়ে নিজের এলাকার কাউকে পাশে পাওয়াটা অন্যরকম এক মানসিক শক্তি দেয়।’

    পাচুকার পর সি মারোনেস দে সোনোরা, মন্টেরেই ক্লাব হয়ে আজ মেক্সিকো জাতীয় দল প্রতিটি ধাপেই এই দুই বন্ধু একসাথে বড় হয়েছেন। ভাসকেজ বলেন, ‘একই এলাকার হওয়ায় আমরা সব সময় একে অপরের খেয়াল রাখতাম। আমি যখন নতুন কোনো ক্লাবে যেতাম, কাউকে চিনতাম না, তখন মন্তেসই আমাকে স্বাগত জানাত, নানা বিষয়ে সাহায্য করত। আমরা বহু বছর ধরে একে অপরকে খুব ভালো করে চিনি।’

    এই দুই বন্ধুর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য ছিল টোকিও অলিম্পিকে মেক্সিকোর হয়ে ব্রোঞ্জ পদক জয়। সেই দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলারই এখন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আছেন। ভাসকেজের বিশ্বাস, দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতাই বর্তমান মেক্সিকো দলকে একটি পরিবারের মতো করে তুলেছে।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নামার আগে চার ম্যাচে কোনো গোল হজম না করার রেকর্ড নিয়ে ভাসকেজ অবশ্য কৃতিত্ব দিতে চান পুরো দলকে, ‘দলকে গোল হজম না করার নিরাপত্তা দিতে পারাটা অবশ্যই দারুণ অনুভূতির। তবে গোল খাইনি বলেই যে রক্ষণভাগ নিখুঁত, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় গোলরক্ষক বা অন্য সতীর্থরা আমাদের নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাঁচিয়েছে, অথচ সব কৃতিত্ব দেওয়া হয় ডিফেন্সকে। আসলে এটা আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।’

    ঠে মন্তেস ও ভাসকেজের দিকে তাকালে বোঝা যায়, দুজনের বোঝাপড়াটা কতটা সহজাত। একজন এগিয়ে গেলে অন্যজন জায়গা সামলে নেন, একজনের ভুল অন্যজন ঢেকে দেন। একে অপরের সীমাবদ্ধতা ও শক্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকায় তারা মেক্সিকোর রক্ষণভাগকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দুর্গে পরিণত করেছেন।

    আগামীকাল আজতেকা স্টেডিয়ামে হ্যারি কেইনদের বিশ্বসেরা আক্রমণভাগকে রুখে দিতে মেক্সিকোর মূল ভরসা তাই এই দুই বাল্যবন্ধুর ‘ডিফেন্সিভ পার্টনারশিপ’।

  • ব্রাজিল কখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি

    ব্রাজিল কখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী দল ব্রাজিল। আর এ নিয়ে চারবার বিশ্বকাপ খেলছে নরওয়ে। অথচ বিশ্বকাপে নরওয়েকে কোনো দিন হারাতে পারেনি।

    এই দুই দলের চারবারের দেখায়, দুবার জিতেছে নরওয়ে, বাকি দুই ম্যাচ ড্র। মানে আজ ইতিহাস বদলানোর মিশনেই নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল।

    ১৯৮৮ সালে ওসলোতে দুই দলের প্রীতি ম্যাচ। কার্লোস আলবার্তো সিলভার অধীনে ব্রাজিল তখন নতুন করে দল গোছাচ্ছে। অন্যদিকে নরওয়ে ছিল গড়পড়তা এক দল। প্রথম গোলটা দেয় ব্রাজিলই, গোল করেন রোমারিও। কিন্তু ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র হয়।

    প্রায় এক দশক পর, ১৯৯৭ সাল। জাগালোর অধীনে রোনালদো-রোমারিওদের নিয়ে গড়া তারকাখচিত ব্রাজিল আবার ওসলো সফরে যায়। সবাই ব্রাজিলের একচেটিয়া জয়ের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু সবাইকে স্তব্ধ করে ব্রাজিলকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে দেয় নরওয়ে। টোরে আন্দ্রে ফ্লোর জোড়া গোলের সঙ্গে ইয়াকবসেন ও ওস্টেনস্টাড গোল–উৎসব করেন। ডেনিলসন ও রোমারিও গোল করলেও নড়বড়ে রক্ষণ সেদিন ব্রাজিলকে বাঁচাতে পারেনি।

    ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেই মহানাটক

    ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন। এই দ্বৈরথের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়টি এদিনই লেখা হয়। ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। ভেন্যু ছিল মার্সেইর স্টেড ভেলোড্রম। ব্রাজিল ততক্ষণে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করে ফেলেছে।

    তবু কোচ জাগালো মাঠে নামিয়েছিলেন পূর্ণ শক্তির দল। দলে ছিলেন রোনালদো, রিভালদো ও বেবেতো। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে নরওয়ের দরকার ছিল জয়। ম্যাচের ৭৭ মিনিট পর্যন্ত কোনো গোল হয়নি। এরপর ডেনিলসনের চমৎকার এক ক্রস আসে। দুর্দান্ত হেডে ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন বেবেতো। কিন্তু ব্রাজিলিয়ানদের সেই আনন্দ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৬ মিনিট। টোরে আন্দ্রে ফ্লো সমতা ফেরান।

    ম্যাচের আসল নাটক তখনো বাকি। ৮৯ মিনিটে বক্সের ভেতর জুনিয়র বাইয়ানো ফ্লোর জার্সি টেনে ধরেন। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে কেতিল রেকডাল গোল করেন। নরওয়ে পেয়ে যায় ২-১ ব্যবধানের এক ঐতিহাসিক জয়। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন।

    সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালে। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ দুঙ্গার অধীনে একঝাঁক নতুন মুখ নিয়ে আবার ওসলো সফরে গিয়েছিল সেলেসাওরা। কিন্তু ভাগ্য বদলায়নি।

    ড্যানিয়েল কারভালহো ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন। কিন্তু মর্টেন গ্যামস্ট পেডারসেনের গোলে ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়।এরপর দীর্ঘ ২০ বছর এই দুই দল আর কখনো মুখোমুখি হয়নি। আজ রাতের শেষ ১৬-এর লড়াই কি পারবে ব্রাজিলের এই দুই দশকের ক্ষতে প্রলেপ দিতে? নাকি নরওয়ে ধরে রাখবে তাদের এই ‘অজেয়’ রূপকথা?

  • দুর্বার গতির ফ্রান্সের সামনে প্যারাগুয়ে

    দুর্বার গতির ফ্রান্সের সামনে প্যারাগুয়ে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে ধারাবাহিক ও নিখুঁত দলের নাম ফ্রান্স। শুধু দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই শো করছে না দলটি, মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে কঠোরভাবে শাসন করছেন ফরাসিরা। যে ধারার ফুটবল খেলছে তারা, এই দুর্বার গতির ফ্রান্সকে আটকানোর সাধ্য আছে কার? গ্রুপ পর্বে অপ্রতিরোধ্য আর নকআউটে সুইডেনকে উড়িয়ে দিয়ে দেওয়ার পর ফ্রান্সকে নিয়ে রীতিমতো গবেষণা শুরু হয়েছে। এবার রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচে তাদের সামনে প্যারাগুয়ে। ফিলাডেলফিয়ায় বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায় দুদলের ম্যাচটি শুরু হবে। এই ম্যাচে ‘বুলেট’ গতির ফ্রান্সকে কী থামাতে পারবে প্যারাগুইয়ানরা? সেটি দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
    এবার আরো অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে বিশ্বকাপে এসেছে ফ্রান্স। গতিময় গোছানো ফুটবল আর বিধ্বংসী আক্রমণ ভাগই অন্য দলের চেয়ে নিজেদের আলাদা করে রাখছে দলটি। তাদের দলে চোখে পড়ার মতো অনেক কিছুই আছে। ঐক্যতা, শৃঙ্খলা, বোঝাপড়া, স্পিরিট—সব মিলে দলটি অনন্য। গত আসরের চেয়েও উচ্চগতির ফুটবল খেলছে ফ্রান্স। দলটির প্রাণ এমবাপ্পে। গত বিশ্বকাপেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বড় মঞ্চের তারকা বনেছেন ফ্রান্সের আক্রমণভাগের এই খেলোয়াড়। এবার আরো পরিপক্ব হয়ে এসেছেন তিনি। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একের পর এক ম্যাচে গোল উপহার দিচ্ছেন এমবাপ্পে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টে লিওনেল মেসির সমান সর্বোচ্চ ৬টি গোল তারও। এতে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে বেশ জোড়ালোভাবেই আছেন এই ফরাসি তারকা। তার সামনে মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার হাতছানি। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গোল পেলেই চলমান বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যাবেন এমবাপ্পে। আর দুটি গোল পেলে বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসিকে ছাড়িয়ে নাম লেখাবেন তিনি। এমবাপ্পের পাশাপাশি উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিস, বার্কেলোরাও মাঠে যে নৈপুণ্য দেখিয়ে যাচ্ছেন, তাতে তাদের আটকানো অনেক কঠিন কাজ হবে। ফ্রান্স ম্যাচে কঠিন পরীক্ষা মুখোমুখি হতে হবে প্যারাগুয়েকে। বিশেষ করে তাদের জন্য ফরাসি আক্রমণভাগকে সামলানোটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের হবে। অবশ্য সাবেক চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে শেষ বত্রিশের ম্যাচে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোয় এসেছে প্যারাগুয়ে। ওই ম্যাচে তাদের রক্ষণভাগের সক্ষমতা দেখা গেছে। বল দখলে অনেক পিছিয়ে থাকলেও ফ্রান্সের বিপক্ষে পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার কৌশলই অবলম্বন করবে প্যারাগুয়ে।
    নকআউটে জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ের জয়কে অনাকাঙ্ক্ষিত মনে করছেন না ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম। প্যারাগুয়ের ম্যাচটি খুবই মনোযোগ দিয়েছে দেখেছেন এই কোচ। প্যারাগুয়ে যোগ্যতা প্রদর্শন করেই জিতেছে। ফলে তাদের বিপক্ষে ম্যাচকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ফ্রান্স। দেশমের মতে, প্যারাগুয়ে সাউথ আমেরিকান টিম। খুবই শক্তিশালী তারা। তাদের দলে বেশকিছু উচ্চমানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছেন। শক্তি দেখিয়েই শেষ ষোলোয় ম্যাচ খেলছে প্যারাগুয়ে। তাই এই দলটির বিপক্ষে ফ্রান্সের ম্যাচ সহজ হবে না। অন্যদিকে, অতীতের হিসাব-নিকাশও চুকিয়ে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে প্যারাগুয়ে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে রাউন্ড অব সিক্সটিনে এই ফ্রান্সের কাছে হেরেই বিদায় নিয়েছিল তারা। সেবার প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। ২৮ বছর পর আবার একই মঞ্চে মুখোমুখি দুদল। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকবে কোচ গুস্তাভো আলফারোর দল। আর সেটি তারা পারবে কি না—সময়ই বলে দেবে। এ পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে মোট পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে তিনটিতেই জিতেছে ফ্রান্স। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ফরাসিদের বিপক্ষে জেতার কোনো রেকর্ড না থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন রূপকথার জন্ম দিতে পারবে কি না প্যারাগুয়ে, সেটিই দেখা যাবে মাঠের লড়াইয়ে।

  • ফুটবল নয়, এ যেন রূপকথা

    ফুটবল নয়, এ যেন রূপকথা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    এক আত্মঘাতী গোলে মেসির ভাগ্য বদলে গেল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে যে ক’টি খেলা স্মরণীয় হয়ে থাকবে কেপ ভার্দে-আর্জেন্টিনা ম্যাচ তার একটি। অনেকেই ভেবেছিলেন, পুঁচকে কেপ ভার্দে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই আসতে পারবে না।

    মাত্র পাঁচ লাখ ৩০ হাজার মানুষের এই দ্বীপরাষ্ট্রটি ফুটবলে যে এতোটা এগিয়েছে—তা কল্পনাতীত। আফ্রিকা কাপ অব ন্যাশনসে অনেকবারই এই ব্লু শার্করা ঝড় তুলেছে। আজকের খেলায় দু’বার পেছন থেকে তারা আর্জেন্টিনার সঙ্গে যেভাবে লড়াই করেছে—তা ছিল রোমাঞ্চকর, অবিশ্বাস্য। বিবিসির স্প্যানিশ ফুটবল রাইটার এলিজাবেথ কন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, কেপ ভার্দের লড়াই দেখে তিনি তাদের ফ্যান হয়ে গেছেন। ভাবা যায় এই নীল হাঙর ২৮ মিনিট পর্যন্ত মেসিদের গতিরোধ করেছিল! তবে ২৯ মিনিটের মাথায় মেসির গোলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায়।খেলার ভাগ্যটা তখন অনেকেই মনে করেছিলেন এখানেই বুঝি শেষ। কিন্তু কেপ ভার্দে গোল পরিশোধ করে সব হিসাব পাল্টে দেয়। আর্জেন্টিনা চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। বিশেষ করে মেসি। গোলরক্ষক ভোজিনিয়া আসলেই এক অপ্রতিরোধ্য দেয়াল রচনা করেন। খেলা চলতে থাকে। বলের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা আর্জেন্টিনার কাছে। এর মধ্যেই আবার ৯৩ মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এক জটলা থেকে গোল করে বসেন। গোলটি ছিল অনেকটাই অপ্রত্যাশিত। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন কেপ ভার্দে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। সে কি আর হয়! ঠিক কয়েক মিনিট বাদেই সিডনি লোপেস কাবরালের গোলে কেপ ভার্দে খেলায় ফিরে আসে। নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় । কাবরালের গোলটি ছিল অপূর্ব। যেভাবে তিনি গোলটি করলেন তা রীতিমতো বিস্ময়কর। এ যেন মেসিদের কাছে আকাশ ভেঙে মাথায় পড়ার মতো। কী যে গোল! চলুন আরেকবার দেখে আসি।

    এই গোলের পর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কপালে ভাজ। কোচ স্কালোনির মুখের দিকে তো তাকানোই যাচ্ছিল না। তখন মাঠের অবস্থা যা ছিল তাতে মনে হচ্ছিল— এটা শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি শুটআউটে যাবে। তখনই রোমেরোর হেড থেকে বল কেপ ভার্দের বোর্জেসের হাতে লেগে চলে যায় জালে । অসহায় ভোজিনিয়া শুধু তাকাচ্ছিলেন। আসলে এই লড়াইয়ের সমাপ্তি এভাবে হবে ভাবেননি কেউ। কিন্তু আর্জেন্টিনা সারাক্ষণই বুঝেছে— কত ধানে কত চাল। আজকের লড়াইয়ে ফুটবলের পরাশক্তি আর্জেন্টিনা জয় পেয়েছে বটে। কিন্তু আসল জয়ী কেপ ভার্দে। বিশেষ করে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ফুটবল যেহেতু গোলের খেলা। গোল নেই, ইতিহাসে আপনার নামও নেই। তবে এই খেলাটিকে ঘিরে শুধু মায়ামি স্টেডিয়ামে নয়, ফুটবল বিশ্বে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। কেপ ভার্দে লড়াই করেছে। এই লড়াইয়ের কথা অনেকদিন মনে থাকবে। এরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা সমসাময়িককালে হয়েছে—রেকর্ড এমনটা বলে না। কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে আসলেই এক রূপকথা। ৭ই জুলাই আটলান্টায় আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে মিশর।

  • কেপ ভার্দে চ্যালেঞ্জ উতরিয়ে শেষ ১৬-তে আর্জেন্টিনা

    কেপ ভার্দে চ্যালেঞ্জ উতরিয়ে শেষ ১৬-তে আর্জেন্টিনা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    কি অবিশ্বাস্য, অসাধারণ ম‍্যাচই না দেখলো গোটা বিশ্ব । রাউন্ড অফ ৩২ এই ম্যাচে কখনো গোল করে এগিয়ে যাচ্ছিল আর্জেন্টিনা । পরক্ষণেই সেই গোল শোধ দিয়ে দিচ্ছিলো কেপ ভার্দে । মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। বার বার মেসির সব প্রচেষ্টা প্রতিহত করছিলেন এই নীল হাঙর। দুটি ফ্রি-কিকও আটকে দিয়েছেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা আর হয়নি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে আসা দলটির। শেষ পর্যন্ত দম বন্ধ করা এই ম‍্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপে পথচলা থামে নবাগত কেপ ভার্দের। ম‍্যাচ হারলেও শেষ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে চাপে রেখে অসাধারণ এক ম্যাচ উপহার দিয়েছে আফ্রিকান দেশটি। বিশ্ব মঞ্চে অভিষেকটা স্মরণীয় করে বিদায় নিচ্ছে ভোজিনিয়া বাহিনী। এই ম্যাচেও গোল পেয়েছেন লিওনেল মেসি। তবে কেপ ভার্দে হাল ছাড়েনি। ঘাবড়েও যায়নি। বারবার তারা আর্জেন্টিনার লিড কেড়ে নিয়ে ম্যাচটাকে নিয়ে আসে অতিরিক্ত সময়ে। তবে শেষ পর্যন্ত ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটতে দেয়নি লিওনেল স্কালোনির শীষ্যরা। ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড আর্জেন্টিনাকে নিয়ে যায় শেষ ষোলতে। যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে মিশর। এদিন ম্যাচের ২৮তম মিনিটে আলবিসেলেস্তেদের লিড এনে দেন মেসি। তার উদ্দেশে নিখুঁত এক পাস বাড়িয়ে ছিলেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। মেসির দৌড়ে যাওয়ার লাইনেই ছিল সেই বল। যা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের ভেতর ৭ গজ দূরত্ব থেকে শট নেন তিনি। সেই জোরালো শট কেপ ভার্দে গোলরক্ষক দোসিমার দিয়াজ ভোজিনহার ঠেকানোর সাধ্য ছিল না।

    ৫৯ মিনিটে ডেরয় দুয়ার্তের গোলে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপিয়ে স্কোরলাইন ১-১ পরিণত করেছে কেপ ভার্দে। রায়ান মেন্দেস ডান প্রান্ত দিয়ে বল বাড়ালে দুয়ার্তে ফাঁকা জায়গা দিয়ে দৌড়ে দুর্দান্ত এক শটে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ান। আর্জেন্টিনার লিড নেওয়া গোলে অ্যাসিস্ট করা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ দ্রুত এগিয়ে এলেও দুয়ার্তেকে ঠেকাতে পারেননি।এরপর আবারও লিডে ফিরতে মরিয়া ছিলেন মেসি-আলভারেজরা। কিন্তু বারবার তাদের হতাশ করেছেন ভোজিনিয়া এবং কেপ ভার্দে ডিফেন্ডাররা। ৬৩ মিনিটে গোলরক্ষক একাই ছিলেন, তবে মেসিকে ঠেকাতে এগিয়ে এসে দারুণ ক্ষিপ্রতায় ভোজিনিয়া শরীর এলিয়ে আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন। এরপর একরাশ হতাশা উপহার দেন মিনিট দশেকের মাথায়।আলবিসেলেস্তেদের প্রথম গোলেও বলের যোগান দিয়েছিলেন লিসান্দ্রো। নিজেদের রক্ষণ থেকে তিনি নিঁখুত পাস দিয়েছিলেন। দল যখন লিড পেতে মরিয়া ছিল, আবারও দৃশ্যপটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সেন্টারব্যাক। ৯১ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বল আরেকজনের স্পর্শ পেয়ে একপাশে ফাঁকায় থাকা লিসান্দ্রো পেয়ে যান। হয়তো ধারণা ছিল তিনি ক্রস করবেন, কিন্তু তা না করে দুরূহ কোণ থেকে জোরালো শটে ভোজিনহাকে বোকা বানিয়ে জাল কাঁপিয়েছেন।অবশ্য এর আগপর্যন্ত হালে পানি ছিল না আর্জেন্টিনার। তাদের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে কেপ ভার্দের রক্ষণে। মেসির দুটি ফ্রি-কিক এবং একটি ওয়ান-অন-ওয়ান আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন ভোজিনহা। তার বীরত্বেই ম্যাচ ৯০ মিনিট থেকে ১২০ মিনিটে গিয়ে গড়ায়। সেখানে ৩-২ গোলে জিতে পরের রাউন্ডে উঠে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

  • ‘তোমাকে নিয়ে সবার গর্বিত হওয়া উচিত’, ভোজিনহাকে বলেছেন মেসি

    ‘তোমাকে নিয়ে সবার গর্বিত হওয়া উচিত’, ভোজিনহাকে বলেছেন মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ম্যাচ জুড়ে আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণ একাই নস্যাৎ করে দিয়েছেন ভোজিনহা। লিওনেল মেসির ৫টি শটসহ পুরো ম্যাচে মোট ৮টি দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি। ৩-২ গোলে জয়ের পর মাঠ ছাড়ার আগে এক আবেগঘন মুহূর্তে ভোজিনহাকে বুকে জড়িয়ে নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।মেসির সেই প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়ে ভোজিনহা বলেন, “ম্যাচ শেষে আমি নিজেই মেসির দিকে এগিয়ে গিয়েছিলাম। ও আমাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরলো এবং বললো- ‘তুমি দুর্দান্ত খেলেছ। তোমাদের মানুষদের আজ তোমাকে নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিত।’ লিও মেসির মতো একজন কিংবদন্তির মুখ থেকে এমন কথা শোনা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ও আবেগপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে থাকবে।”মেসির প্রশংসার জবাবে তিনি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ধন্যবাদ লিও, তুমিই সর্বকালের সেরা।’ এরপর কেপ ভার্দের এই গোলকিপার মেসির জার্সিটি বদল করার অনুরোধ জানালে মেসি সানন্দে রাজি হন। জানান, ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকার শেষ করে টানেলের ভেতরেই তিনি নিজের জার্সিটি ভোজিনহাকে দিয়ে দেবেন।বিদায়বেলায় আবেগাপ্লুত ভোজিনহা বলেন, ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে আমরা আজ সমানে সমানে লড়েছি, এমনকি ম্যাচটা জেতার সুযোগও ছিল আমাদের। আমরা আজ গর্বিত। এই স্মৃতি আজীবন আমার হৃদয়ে খোদাই করা থাকবে। আশা করি, আমাদের এই লড়াই দেখে দেশের তরুণ প্রজন্ম আগামীতে বিশ্বের সেরা সেরা লীগে খেলার অনুপ্রেরণা পাবে।’

  • ঘানাকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়া

    ঘানাকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়া

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ঘানাকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়া, প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড

    ২০১৪ সালের সেই স্মৃতি কি মনে আছে? সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে পুরো ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল কলম্বিয়া। মাঝে কিছুটা ছন্দপতন আর কাতার বিশ্বকাপের টিকিট না পাওয়ার হতাশা ভুলে আবারও সেই চেনা রূপেই ফিরছে লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তি। শেষ ৩২ পর্বের ম্যাচে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়ানরা।

    যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে শুরু থেকেই ঘানার ওপর চড়াও হয়ে খেলে কলম্বিয়া। ম্যাচের শুরুতেই, ঠিক ১৪ মিনিটের মাথায় জন আরিয়াসের দুর্দান্ত এক গোলে লিড নেয় দলটি। শেষ পর্যন্ত এই একটি গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

    পুরো ম্যাচেই ছিল কলম্বিয়ার একচেটিয়া আধিপত্য। প্রায় ৬১ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ঘানার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে তারা। পুরো ম্যাচে কলম্বিয়া গোল অভিমুখে শট নেয় ৮টি। তবে ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো যদি স্ট্রাইকাররা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারতেন। বিশেষ করে পুয়ের্তা ও দিয়াজ ম্যাচের অন্তত চারটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন।ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দিয়াজ আরও একবার বল ঘানার জালে জড়ালেও সূক্ষ্ম অফসাইডের কারণে ভিএআর প্রযুক্তিতে সেই গোলটি বাতিল হয়। এর বাইরে মোজিকার একটি নিশ্চিত গোল চমৎকার দক্ষতায় রুখে দেন ঘানার গোলকিপার লরেন্স আতি জিগি। ফলে এক গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় কলম্বিয়াকে।

    অন্যদিকে, পুরো ৯০ মিনিটে কলম্বিয়ার রক্ষণভাগ ভেদ করে একটি শটও নিতে পারেনি ঘানা। মাঠের পারফরম্যান্সে একেবারেই নিষ্প্রভ থাকা ঘানা এই হারের মাধ্যমে আরও একবার দক্ষিণ আমেরিকান কোনো দলের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো।

    ২০১৮ সালে সর্বশেষ শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া কলম্বিয়া এবার আরও বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হবে ইউরোপের শক্তিশালী দল সুইজারল্যান্ডের।

  • হেরেও জয়ী কেপ ভার্দে

    হেরেও জয়ী কেপ ভার্দে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজতেই নীল জার্সির ফুটবলাররা কেউ হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন, কেউ মুখ ঢাকলেন দুই হাতে। চোখের জল থামানোর চেষ্টা করেও পারলেন না। তবে সব চোখের জল শুধু কান্না নয়, অদম্য সাহস এবং গর্বের গল্প গাথাও আছে এই জলে!
    বিশ্বকাপের এই ম্যাচের ফলাফল জানাচ্ছে, কেপ ভার্দে হেরেছে। কিন্তু ফুটবল কি শুধু স্কোর লাইনের গল্প?
    এই ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি সত্য জন্ম নিল- সব পরাজয় পরাজয় নয়।
    কেপ ভার্দে বিদায় নিয়েছে। কিন্তু ম্যাচ শেষে মনে হলো বিশ্বকাপ যেন তাদের বিদায় জানাতে রাজি নয়। ছোট্ট দ্বীপদেশটি প্রমাণ করে গেছে, ফুটবলে অসম্ভব বলে সত্যিই কিছু নেই!
    মাত্র পাঁচ লাখ মানুষের একটি দেশ। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফা র‌্যাঙ্কিং ৬৭। ইতিহাস, অর্থ, তারকা কিংবা পরিকাঠামো, পেছনের পরিসংখ্যান-কোনো দিক থেকেই আর্জেন্টিনার ধারেকাছেও নয়। কিন্তু ১২০ মিনিট শেষে এই দলটিই মাথা উঁচু করে মাঠ ছেড়েছে, তারা দেখিয়ে গেছে সাহসের নিজস্ব একটা ভাষা আছে।
    ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতে তাদের পরিকল্পনা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছিল। নিজেদের অর্ধে ঘন রক্ষণ, হাইলাইন ডিফেন্স করে মাঝমাঠে দূরত্ব কমিয়ে রাখা, মেসির জন্য আলাদা নজরদারি, আর সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। আর্জেন্টিনার প্রতিটি আক্রমণের সামনে যেন নীল দেয়াল উঠে দাঁড়াচ্ছিল কেপ ভার্দের ওটা একাদশ। একবার একজন, পরক্ষণেই আরেকজন। একজনের ভুল আরেকজন ঢেকে দিচ্ছিল। যেন এগারোজন নয়, পুরো একটি জাতি রক্ষণে নেমেছে।
    আর সেই দেয়ালের শেষ প্রহরী ছিলেন গোলকিপার ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক আবারও মনে করিয়ে দিলেন, অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই। একের পর এক সেভে তিনি আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেছেন। স্পেনের বিপক্ষে যেমন করেছিলেন, তেমনি এবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বারবার থামিয়ে দিয়েছেন। তার গ্লাভস যেন বারবার বলছিল—”এত সহজে নয়, এই চত্বর টপকানো।”
    তবু বিপক্ষে যখন লিওনেল মেসি, তখন কখনও কখনও পরিকল্পনারও সীমা থাকে। অসাধারণ এক ফিনিশে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন মেসি। ম্যাচের বয়স তখন ২৯ মিনিট। এমন মুহূর্তে অন্য কোন নবীন দল হয়তো তখন ভেঙে পড়ত। কেপ ভার্দে পড়েনি।
    তারা ফিরে এসেছে একবার নয়, দুবার। তাও দারুণ দাপুটে ভঙ্গিতে।
    মেসির গোলের পর সমতা ফিরিয়েছে। অতিরিক্ত সময়ে আবার পিছিয়ে পড়েও হার মানেনি। কাবরালের দুর্দান্ত গোল আবারও তাদের ফিরিয়ে এনেছে ম্যাচে। কোন প্রশ্ন ছাড়া যে কেউ বলবে কাবরালের এই গোলটা চলতি বিশ্বকাপের সেরা গোল। যে দুরূহ অ্যাঙ্গেল থেকে গোল করলেন, এমন কায়দায় গোল করাটা কেবল স্বপ্নেই চিন্তা করা যায়!
    ম্যাচের প্রতিটি সমতাসূচক গোলের সঙ্গে যেন পুরো ফুটবল বিশ্ব উঠে দাঁড়িয়েছে এই ক্ষুদ্র দেশের পাশে।
    শেষ পর্যন্ত ভাগ্য তাদের সঙ্গ দেয়নি। ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড ডিনেই বোর্জেসের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে ঢুকে যায়। আত্মঘাতী সেই মুহূর্তই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের রূপকথার সমাপ্তি লিখে দেয়।
    কিন্তু সত্যিই কি সমাপ্তি?
    বিশ্বকাপে স্পেনকে গোলশূন্য আটকে রাখা, আর্জেন্টিনাকে ১২০ মিনিট খেলতে বাধ্য করা, দুবার পিছিয়ে থেকেও ফিরে আসা, আর শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কাঁপিয়ে দেওয়া-এসব কোনো ছোট দেশের গল্প নয়। এগুলো বড় সাহসের গল্প।
    স্কটল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার জেমস ম্যাকফ্যাডেন ঠিকই বলেছেন, “কেপ ভার্দে হেরেছে, কিন্তু জিতেছে। তারা সাহস, ঐক্য আর নিজেদের ওপর অবিচল বিশ্বাসের এক অসাধারণ উদাহরণ রেখে গেছে। এই বিশ্বকাপের গল্প যদি একটি দলকে নিয়ে লেখা হয়, তবে সেটি কেপ ভার্দে।”
    ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা গ্যারি নেভিলের চোখেও এটি ছিল ” কোন আন্ডারডগের সেরা পারফরম্যান্সগুলোর একটি।”
    হয়তো কয়েক দিন পর মানুষ মনে রাখবে, আর্জেন্টিনা রাউন্ড অব সিক্সটিনে উঠেছিল।
    কিন্তু বহু বছর পরও মানুষ আরও একটি গল্প বলবে-একটি ছোট্ট দ্বীপদেশের কথা, যারা বিশ্বের সেরা দলের সামনে মাথা নত করেনি।
    তারা আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারেনি। ট্রফি জেতেনি, কিন্তু মানুষের হৃদয় জিতেছে।
    যারা বিশ্বকাপ মঞ্চ থেকে বিদায় নিয়েছে কিন্তু ফুটবলের ইতিহাসে নিজেদের জন্য স্থায়ী একটি ঠিকানা বানিয়ে গেছে।
    ধন্যবাদ, কেপ ভার্দে।
    তোমরা বিদায় নিয়েছ, কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় থেকে কখনও বিদায় নেবে না।
    সুপার্ব শো!

  • বিশ্বকাপে এমবাপ্পের নতুন রেকর্ড

    বিশ্বকাপে এমবাপ্পের নতুন রেকর্ড

    ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয় প্রত্যাশিত ছিল। কিলিয়ান এমবাপ্পের রেকর্ড গড়া ম্যাচে ৩–০ গোলের ব্যবধানে জয় পায় ফ্র্যান্স। জোড়া গোল করে ফরাসি অধিনায়ক দলকে শেষ ষোলোতে তুলেছেন।

    বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুই গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ডে গড়েন ২৭ বছর বয়সী এই অধিনায়ক।

    সুইডেনের বিপক্ষে দুই গোল করায় বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯। এর আগে ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে এই রেকর্ডের শীর্ষে ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও এবং ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি লিওনিদাস। তাদের ছাড়িয়ে এখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বাধিক গোলের একক মালিক এমবাপ্পে।

    শুধু এই রেকর্ডই নয়, চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাও বাড়িয়ে ৬-এ নিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। ফলে এবারের আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি এখন লিওনেল মেসির সমান। দুজনেরই গোলসংখ্যা ৬।

    সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল এখন ১৮। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় লিওনেল মেসির ১৯ গোলের রেকর্ড থেকে তিনি এখন মাত্র এক গোল পিছিয়ে। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে শেষ ষোলোতেই সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলতে পারেন ফরাসি মহাতারকা।

  • বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজার পরেই শুনলেন বাবাও বেঁচে নেই

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজার পরেই শুনলেন বাবাও বেঁচে নেই

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশা কাটিয়ে ওঠার আগেই আরও বড় দুঃসংবাদের মুখোমুখি হলেন ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর সংবাদ সম্মেলনের মাঝপথেই তিনি জানতে পারেন, তার বাবা আর বেঁচে নেই।

    বুধবার (১ জুলাই) রাতে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর ম্যাচে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ডিআর কঙ্গো। ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন ফরাসি কোচ দেসাব্রে। দলীয় পারফরম্যান্স, ম্যাচের বিশ্লেষণ ও বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। কিন্তু আলোচনার এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই সংবাদ সম্মেলন কক্ষের পরিবেশ বদলে যায়। দলের এক মিডিয়া অফিসার ফরাসি ভাষায় উপস্থিত সবাইকে জানান, কোচের বাবা মারা গেছেন। খবরটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই স্তব্ধ হয়ে যান দেসাব্রে। কয়েক মুহূর্তের জন্য তিনি নীরব হয়ে থাকেন, যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যা শুনেছেন। এরপর ধীরস্বরে ‘মার্সি’ বলে চেয়ার ছেড়ে উঠে যান তিনি। মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় সংবাদ সম্মেলন। ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ায় দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা কোচের প্রতি সমবেদনা জানান। অনেকেই এই কঠিন সময়ে তার পাশে থাকার বার্তা দেন।

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কঙ্গো শুরু থেকেই দারুণ লড়াই করে। মাত্র সাত মিনিটে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। দীর্ঘ সময় তারা সেই লিড ধরে রাখলেও শেষ দিকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। ৭৫ মিনিটের পরপরই সমতা ফেরান তিনি এবং ৮৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে দলকে জয় এনে দেন। ফলে প্রথমবার নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় ডিআর কঙ্গোর।

    তবে ফলের হতাশার মধ্যেও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন দেসাব্রে। তিনি বলেন, তার দল বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে সাহসী ফুটবল খেলেছে এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কঙ্গোর ফুটবলকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বিশ্বকাপে এই প্রথম নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া কঙ্গো ইতিহাস গড়লেও শেষ পর্যন্ত আবেগঘন এক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে তাদের যাত্রা শেষ হলো। একই সঙ্গে ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ব্যক্তিগত মুহূর্তও বয়ে আনল কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রের জন্য।

  • বিশ্বকাপে জয়ের উৎসবে  মেক্সিকো সিটিতে প্রাণহানি

    বিশ্বকাপে জয়ের উৎসবে মেক্সিকো সিটিতে প্রাণহানি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পেয়েছে মেক্সিকো। ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার আনন্দে উল্লাসে ফেটে পড়ে দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু সেই আনন্দই মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে। বিজয় উদ্‌যাপনের সময় সৃষ্ট হুড়োহুড়িতে দম বন্ধ হয়ে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

    বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স জানিয়েছে, ম্যাচ শেষে হাজারো সমর্থক রাজধানী মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক ‘অ্যাঞ্জেল অব ইনডিপেনডেন্স’ স্মৃতিস্তম্ভসংলগ্ন হামবুর্গো ও ল্যাঙ্কাস্টার স্ট্রিটে জড়ো হন। অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যেই ঘটে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা।

    মেক্সিকো সিটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও ৪৪ বছর বয়সী এক পুরুষ ও ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে বাঁচাতে পারেননি। তাদের মৃত্যু দম বন্ধ হয়ে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

    তবে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটির দাবি, ওই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মেক্সিকো সিটির পাবলিক হেলথ সেক্রেটারিয়েটের বরাতে তারা জানিয়েছে, কোলোনিয়া জুয়ারেজ এলাকায় তিনজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন ৪৪ বছর বয়সী এক পুরুষ এবং ১৯ ও ৪৮ বছর বয়সী দুই নারী।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচ শেষে ফুটতে থাকা আতশবাজির বিকট শব্দে ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপদে সরে যেতে মানুষ ছোটাছুটি শুরু করলে সরু রাস্তায় প্রচণ্ড হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অনেকে পদদলিত ও শ্বাসরোধের শিকার হন।

    এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মেক্সিকো সিটি সরকারের প্রধান ক্লারা ব্রুগাদা মোলিনা। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকবে প্রশাসন।

  • বিশ্বকাপে ৩০ দেশের চেয়ে একাই বেশি গোল মেসির!

    বিশ্বকাপে ৩০ দেশের চেয়ে একাই বেশি গোল মেসির!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    লিওনেল মেসি যেন রেকর্ড গড়ার মিশন নিয়েই খেলছেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। ২০২৬ আসরে গ্রুপ পর্ব শেষ হতে না হতেই একের পর এক ইতিহাস গড়ে চলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট তো আগেই উঠেছে তার মাথায়, এবার তিনি গড়েছেন আরও একটি অবিশ্বাস্য কীর্তি।

    গ্রুপ পর্ব শেষে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬। অথচ এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের মধ্যে ৩০টি দলই তার সমান গোলও করতে পারেনি। অর্থাৎ, একা মেসির গোলসংখ্যা সেই ৩০ দেশের পুরো দলের চেয়ে বেশি কিংবা সমান।

    এই বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে যাত্রা শুরু করেন মেসি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেন। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে বিশ্রামে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে আরেকটি গোল করেন। সব মিলিয়ে তিন ম্যাচে তার গোল এখন ৬টি।

    এই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার নতুন বিশ্বরেকর্ডও গড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এর আগে টানা ছয় ম্যাচে গোল করে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জাইরজিনহোর (১৯৭০) সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন তিনি। জর্ডানের বিপক্ষে গোল করে সেই রেকর্ড নিজের একার করে নেন।

    চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আট গোলের মধ্যে ছয়টিই এসেছে মেসির পা থেকে। প্রথম দুই ম্যাচে দলের পাঁচ গোলের সবকটিই করেছিলেন তিনি। শেষ ম্যাচে কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে বিশ্রাম দিলেও ৬০ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে আবারও স্কোরশিটে নাম লেখান।

    পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনাকে বাদ দিলে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৭টি দল মেসির চেয়ে বেশি গোল করতে পেরেছে। স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, মিসর, আলজেরিয়া ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা করেছে পাঁচটি করে গোল, যা মেসির চেয়েও কম। এছাড়া চারটি দল করেছে চার গোল, চারটি দল তিন গোল, ১২টি দল করেছে দুটি করে গোল এবং চারটি দল মাত্র একটি গোল করতে পেরেছে। একমাত্র পানামা এখনো গোলের দেখা পায়নি।

    গ্রুপ পর্ব শেষে সর্বোচ্চ ১০টি করে গোল করেছে জার্মানি, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস। কানাডার গোল ৯টি। আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে ও সেনেগাল করেছে আটটি করে গোল। সাতটি করে গোল রয়েছে ব্রাজিল, জাপান, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের। আর ছয়টি করে গোল করেছে পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, মেক্সিকো, মরক্কো, অস্ট্রিয়া ও বেলজিয়াম।

    গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা মেসির সামনে এখন নকআউট পর্বের চ্যালেঞ্জ। বর্তমান ছন্দ ধরে রাখতে পারলে শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

  • দশ বিশ্বকাপের পথিক: তপন চৌধুরীর চোখে ফুটবলের পৃথিবী

    দশ বিশ্বকাপের পথিক: তপন চৌধুরীর চোখে ফুটবলের পৃথিবী

    কিছু মানুষের কাছে বিশ্বকাপ ফুটবল মানে পৃথিবীকে কাছ থেকে দেখা। নিজের জীবনের সঙ্গে কিছু মুহূর্তকে চিরস্থায়ী করে রাখার নাম। তপন চৌধুরীর গল্প তেমনই।

    ব্যবসায়িক পরিচয়ে তিনি দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে রয়েছেন। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও দীর্ঘ পথচলা। গোপীবাগের ব্রাদার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এসবের বাইরে আরেকটি দিক আছে, যা তাকে আলাদা করে। তপন চৌধুরী বিশ্বকাপ ফুটবলের এক নিবেদিত পথিক।

    তার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু ১৯৮৬ সালে, মেক্সিকো থেকে। সেই সময় মেক্সিকো নিয়ে নানা আতঙ্ক ছিল। পরিচিতরা বলেছিলেন, সাবধানে থাকতে, পরিস্থিতি নাকি খুব ভালো নয়। চারদিকে ছিনতাই, নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা। ভয় তাকে আটকে রাখতে পারেনি। বন্ধু ফকির মাহবুব আনামকে (বর্তমানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ) উড়ে গেলেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ দেখতে।

    সেই সময়ের হিসাবেই একেকজনের খরচ হয়েছিল প্রায় ১৮শ মার্কিন ডলার। থাকা, খাওয়া, খেলা দেখা সব মিলিয়ে। তারা দেখেছিলেন সাতটি ম্যাচ। কিন্তু খেলার ফলের চেয়ে বেশি মনে গেঁথে আছে স্টেডিয়ামের বাইরের পৃথিবী।

    তপন চৌধুরী এখনও মনে করতে পারেন সেই দিনটির কথা, যেদিন দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল।

    তিনি বলছিলেন, সেদিন পুরো মেক্সিকো যেন উৎসবে ভেঙে পড়েছিল। রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ। আনন্দ, উচ্ছ্বাস, উদ্‌যাপন। তিনি আর তার বন্ধুও সেই জনসমুদ্রে মিশে গিয়েছিলেন।

    তারপর হোটেলে ফিরে টেলিভিশনে দেখলেন আরেক গল্প, ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত হাতের গোল। মাঠে বসে তারা কেউই বুঝতে পারেননি কী ঘটেছে।

    তারপর শুরু হয় এক দীর্ঘ বিশ্বকাপ যাত্রা। ১৯৯০–এ দেখেছেন রোমের সেই রাত। যেখানে ফুটবলের রাজা ম্যারাডোনা কাঁদলেন, আর জার্মানি ট্রফি তুলল।

    ১৯৯৪–এ দেখেছেন আমেরিকার গরমে বদলে যাওয়া ফুটবলের ভাষা। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টিতে ইতালির স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য।

    ১৯৯৮–এ প্যারিসে দেখেছেন তরুণ এক ফরাসি দলের উত্থান। যখন পুরো স্টেডিয়াম জিদানের নামে কাঁপছিল।

    ২০০২–এ এশিয়ার আকাশের নিচে দেখেছেন ব্রাজিলের পুনর্জন্ম। রোনালদো যেন হারানো সময় ফিরে পেয়েছিলেন।

    ২০০৬–এ দেখেছেন বার্লিনের ফাইনাল। এক মহাতারকার বিদায় ফুটবলকে বিষণ্ন করেছিল।

    ২০১০–এ দক্ষিণ আফ্রিকার রাতজাগা ভুভুজেলা আর স্পেনের ধৈর্যের ফুটবল তাকে নতুন এক সৌন্দর্য চিনিয়েছিল।

    ২০১৪–তে রিওর উৎসব আর তার মাঝেই দেখেছেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ভাঙনের একটি। ব্রাজিল–জার্মানির সেই ম্যাচ। তিনি বলছিলেন, প্রথম গোল খাওয়ার পরই তার মনে হচ্ছিল কিছু একটা ঠিক নেই। ব্রাজিল যেন নিজের ছায়াকেও চিনতে পারছিল না। বিরক্ত হয়ে পাশে বসা মানুষদের বলে ফেলেছিলেন, “আজ ব্রাজিল সাত গোল খাবে।” মিনিটের পর মিনিট যেন সময় থেমে গিয়েছিল। স্কোরবোর্ড বদলাচ্ছিল, মানুষ বদলাচ্ছিল। একসময় আর গোল গোনা হচ্ছিল না, গোনা হচ্ছিল স্তব্ধতা। ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের চোখে পানি, মুখে অবিশ্বাস। কেউ পতাকা দিয়ে মুখ ঢেকেছে, কেউ মাথা নিচু করে বসে আছে।

    তিনি বলছিলেন, জীবনে এত খেলা দেখেও কোনো দেশের ফুটবল হৃদয়কে এভাবে ভেঙে যেতে দেখেননি। যখন সপ্তম গোল হলো, পাশে বসা এক ইতালিয়ান ভদ্রলোক বারবার তার দিকে তাকাচ্ছিলেন। হয়তো ভাবছিলেন, এ মানুষটা কি সত্যিই আগেই জানত।

    তপন চৌধুরী হাসতে হাসতে বলেন, “আমি জ্যোতিষী ছিলাম না। শুধু মনে হয়েছিল ব্রাজিল সেদিন আর মাঠে ছিল না।”

    ২০১৮–তে দেখেছেন নতুন প্রজন্মের উত্থান।

    আর ২০২২–এ কাতারের সেই রাত, যেখানে ফুটবল যেন এক মহাকাব্যের শেষ অধ্যায় লিখেছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে লিওনেল মেসি ট্রফি তুললেন, আর গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে মানুষ শুধু একটা ম্যাচ দেখেনি। দেখেছিল সময়কে পূর্ণ হতে।

    বিশ্বকাপের সঙ্গে তার সম্পর্ক এরপরও থামেনি। এবারও তিনি বিশ্বকাপে যাচ্ছেন। এটা হবে তার দশম বিশ্বকাপ। একসময় প্রায় প্রতি আসরেই তার সঙ্গে ছেলে কিংবা মেয়ে অথবা পরিবারের কেউ না কেউ থাকত। বিশ্বকাপ ছিল পরিবারেরও উৎসব।

    এবার যাত্রার আগে একটি অনুপস্থিতি তাকে অন্যরকমভাবে স্পর্শ করছে। তার ছেলে ড্যানি আর নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন তাকে। কথা বলতে বলতে থেমে যান তপন চৌধুরী। বলেন, ছেলেটাকে খুব মিস করেন।

    হয়তো এবারও যাওয়ার কথা ছিল। বাবা–ছেলে একসঙ্গে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতেন। গোল হলে উঠে দাঁড়াতেন, ছবি তুলতেন, তর্ক করতেন, ফিরে এসে রাতভর আলোচনা করতেন। এখন সেই আসন খালি।

    বিশ্বকাপ থেমে থাকে না। জীবনও না। তপন চৌধুরী আবার যাচ্ছেন আরেকটি বিশ্বকাপ দেখতে। এবার তার ব্যাগে থাকবে শুধু টিকিট আর পাসপোর্ট নয়, থাকবে ১৯৮৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত অসংখ্য ফাইনালের আলো, হাজারো গ্যালারির শব্দ, আর এক না–ফেরা সঙ্গীর জন্য গভীর, নীরব এক অপেক্ষা।

  • প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে আইভরি কোস্ট

    প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে আইভরি কোস্ট

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখল আইভরি কোস্ট। কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। ম্যাচের দুই গোলই করেছেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড নিকোলাস পেপে।

    ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ড্র করলেই শেষ ৩২ নিশ্চিত হতো আইভরি কোস্টের। তবে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে তারা। তারই ফল হিসেবে সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় আফ্রিকান দলটি।

    প্রথম গোলটির সূচনা করেন ১৯ বছর বয়সী ইয়ান দিয়োমান্দে। কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে পেপের কাছে বাড়িয়ে দেন তিনি। সুযোগ নষ্ট করেননি পেপে। সহজ ফিনিশিংয়ে গোলরক্ষক এলয় রুমকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।

    প্রথমার্ধে লিড ধরে রাখার পর দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য বজায় রাখে আইভরি কোস্ট। ৬৪তম মিনিটে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন পেপে। এরপর তিন মিনিট পরই তাকে তুলে নেন কোচ, যাতে ৩০ জুনের নকআউট ম্যাচের আগে বিশ্রাম পান এই ফরোয়ার্ড।এই জয়ে গ্রুপের রানারআপ হয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে আইভরি কোস্ট। আগামী ৩০ জুন নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘আই’ গ্রুপের রানারআপ—ফ্রান্স অথবা নরওয়ে।

    আইভরি কোস্টের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক অর্জন। এর আগে ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪—টানা তিন বিশ্বকাপ খেলেও কখনো গ্রুপপর্বের বাধা পেরোতে পারেনি তারা। দুই আসর পর বিশ্বকাপে ফিরে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাস গড়ল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

    অন্যদিকে, বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কুরাসাও শেষ ম্যাচে জিতলে নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ড্র করে চমক দেখানো ক্যারিবীয় দেশটি শেষ পর্যন্ত আইভরি কোস্টের কাছে হেরে বিদায় নেয়। ফলে বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হওয়ার সুযোগও হাতছাড়া হলো তাদের।গ্রুপপর্বে আইভরি কোস্ট প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে লড়াই করেও ২-১ গোলে হারে। তবে শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে কোনো ভুল করেনি আফ্রিকার দলটি।

  • ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

    ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

    বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতার নাম ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই বহুল প্রতীক্ষিত মহারণের সম্ভাবনা জাগতে শুরু করেছে। নিজ নিজ গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে দুই লাতিন পরাশক্তি। ফলে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

    গ্রুপ ‘জে’ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এ উঠেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে গ্রুপ ‘সি’-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। বর্তমান নকআউট সূচি অনুযায়ী দুই দল রয়েছে টুর্নামেন্টের ভিন্ন অংশে। তাই ফাইনালের আগে তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাব্য মঞ্চ হতে পারে সেমিফাইনাল।

    তবে সেই স্বপ্নের লড়াই দেখতে হলে দুই দলকেই পেরোতে হবে নকআউট পর্বের একাধিক কঠিন ধাপ। শেষ ৩২, শেষ ১৬ ও কোয়ার্টার ফাইনালে জয় পেলে তবেই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল।

    গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে আছে আর্জেন্টিনা। প্রথম দুই ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ এবং অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্সআপ দল।

    অন্যদিকে ব্রাজিল শুরুটা করেছিল মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে। তবে পরবর্তী দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে একই ব্যবধানে ৩-০ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় কার্লো আনচেলত্তির দল। গোল ব্যবধানে মরক্কোকে পেছনে ফেলে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউট নিশ্চিত করে সেলেসাওরা। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ—নেদারল্যান্ডস, সুইডেন কিংবা জাপানের মধ্যে কোনো একটি দল।

    ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ১০৬টি অফিসিয়াল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। পরিসংখ্যানে সামান্য এগিয়ে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেরা জিতেছে ৪১টি ম্যাচ, ব্রাজিলের জয় ৩৯টি, আর ২৬টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। সাম্প্রতিক সময়েও এই ঐতিহ্যবাহী লড়াইয়ে কিছুটা আধিপত্য ধরে রেখেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    এখন ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা, নকআউটের বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি স্মরণীয় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণ উপহার দিতে পারে কি না দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

  • ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে কী ভাবছেন মেসি, জানালেন নিজেই

    ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে কী ভাবছেন মেসি, জানালেন নিজেই

    আড়েবেড়ে বয়স তো অনেক হলো, সব পাওয়াও হলো—কিন্তু ফুটবলকে কবে বিদায় বলবেন লিওনেল মেসি? কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে শুরু হওয়া এ প্রশ্ন এবারও ঘুরে-ফিরে আসছে। মেসি জানিয়েছেন, সব পেয়েছেন। এবার শরীর ঠিক থাকলেই খেলা চালিয়ে যাবেন।

    আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ও ফুটবল কিংবদন্তি বলছেন, ‘আমি আরও কিছুদিন খেলব। যতক্ষণ দলের জন্য কিছু করতে পারব, শারীরিকভাবে ভালো অনুভব করব এবং সতীর্থদের সাহায্য করতে পারব, ততক্ষণ খেলে যাব।’

    তবে ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি এখন সেটা নিয়ে ভাবছি না। ২০৩০ এখনও অনেক দূরের ব্যাপার। আমি বর্তমান নিয়েই ভাবছি এবং একদিন করে এগোচ্ছি।’

    বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। গ্রুপ ‘জে’-তে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে তারা আগেভাগেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেন মেসি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়েও জোড়া গোল করেন।

    গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ইতোমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হওয়ায় ওই ম্যাচে দলকে আরও ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে কোচিং স্টাফ। মেসিদের আরেকটি বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে গা গরমের ম্যাচও বলা যায় সেটিকে!

  • বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ দেখেই আয় ৫০ হাজার ডলার

    বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ দেখেই আয় ৫০ হাজার ডলার

    বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব চলাকালে প্রতিদিন একাধিক ম্যাচ হওয়ায় পুরো টুর্নামেন্ট অনুসরণ করা অনেকের কাছেই সময়সাপেক্ষ ও ক্লান্তিকর। কিন্তু কেভিন আকোতো ও অস্টিন ফ্রাঙ্কলিনের জন্য এটি শুধু বিনোদন নয়, বরং একটি পেশা। বিশ্বকাপের সব ১০৪টি ম্যাচ দেখার দায়িত্ব পালন করে তারা প্রত্যেকে পাচ্ছেন ৫০ হাজার ডলার।

    মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স ওয়ান তাদের ‘চিফ ওয়ার্ল্ড কাপ ওয়াচারস’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তারা এই দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের অভিজ্ঞতা জানতেই সম্প্রতি তাদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি।

    টাইমস স্কয়ারে বিশেষ কাচের ঘরে বিশ্বকাপ দেখা

    নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ কাচঘেরা একটি কক্ষ। পথচারীরা সহজেই তাদের দেখতে পারেন, যা অনেক দর্শকের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

    এই ঘরের ভেতরে রয়েছে আরামদায়ক রিক্লাইনার চেয়ার, চামড়ার সোফা, বড় স্ক্রিনের টেলিভিশন, ফুসবল টেবিল এবং ফুটবলপ্রেমীদের পছন্দের নানা সামগ্রী। পাশাপাশি রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস ও ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সংগ্রহ।

    কেভিনের ভাষায়, একজন ফুটবল ভক্ত তার স্বপ্নের ঘরে যা যা কল্পনা করতে পারেন, তার প্রায় সবকিছুই সেখানে রয়েছে।

    হাজারো আবেদনকারীর মধ্য থেকে নির্বাচন

    ফ্লোরিডায় রাঁধুনির কাজ করা কেভিন এবং ফিলাডেলফিয়ার কনটেন্ট নির্মাতা অস্টিন হাজারো প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এই ব্যতিক্রমী সুযোগ পেয়েছেন। তাদের দায়িত্ব শুধু ম্যাচ দেখা নয়, দর্শকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টও তৈরি করা।

    ‘এটা আসলে দীর্ঘ এক ম্যারাথন’

    বিশ্বকাপের দীর্ঘ সূচির কারণে কাজটি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। কেভিন জানিয়েছেন, টানা ম্যাচ দেখতে দেখতে তারা কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং নতুন রুটিনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    অস্টিনও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, প্রতিদিনের ঘটনাগুলো কখনো কখনো একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়। তার মতে, কাজটি অনেকটা ম্যারাথনের মতো—দেখতে সহজ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে একই মনোযোগ ধরে রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং।

    তবে স্বস্তির বিষয় হলো, তাদের টাইমস স্কয়ারের কাচের ঘরেই রাত কাটাতে হয় না। শিফট শেষে তারা নিজেদের আবাসস্থলে ফিরে বিশ্রাম নিতে পারেন।

    ঐতিহাসিক মুহূর্ত কাছ থেকে দেখার সুযোগ

    এই দায়িত্ব পালনের সময় তারা বিশ্বকাপের বেশ কিছু স্মরণীয় ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। একসময় আর্জেন্টাইন খাবার উপভোগ করতে করতে তারা দেখেছেন লিওনেল মেসি বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলসংখ্যার নতুন রেকর্ড গড়ছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের ম্যাচ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারও পরিবেশন করা হয় তাদের জন্য, যা অভিজ্ঞতাকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে।

    ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ*

    ম্যাচের বিরতিতে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও পাচ্ছেন তারা। ব্রাজিল, নরওয়েসহ নানা দেশের সমর্থকদের সঙ্গে ফুটবল ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা তাদের কাজের অন্যতম আকর্ষণ।

    অস্টিনের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের গল্প শোনা এবং তাদের ফুটবল-উচ্ছ্বাস কাছ থেকে দেখা এই অভিজ্ঞতার সবচেয়ে উপভোগ্য অংশ।

    কারা জিততে পারে বিশ্বকাপ?

    শিরোপা দৌড়ে কেভিনের পছন্দ স্পেন। যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ঘানার সমর্থক।

    অন্যদিকে অস্টিনের সমর্থন নরওয়ের প্রতি। তার বিশ্বাস, আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বে নরওয়ে চমক দেখিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।

    দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন

    এই অদ্ভুত চাকরি নিয়ে মানুষের মতামতও একরকম নয়। কেউ মনে করছেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ছাড়া এতগুলো ম্যাচ দেখা অতিরিক্ত চাপের বিষয়। আবার অনেকে বলছেন, বিশ্বকাপ দেখার জন্য অর্থ পাওয়া নিঃসন্দেহে স্বপ্নের মতো একটি সুযোগ।

    কিছু দর্শকের মতে, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে খেলা দেখার আনন্দ আলাদা। তবে অনেকেই কেভিন ও অস্টিনের এই ব্যতিক্রমী দায়িত্বকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় চাকরি হিসেবে দেখছেন।

  • নির্ভার মেক্সিকোর মুখোমুখি চেক প্রজাতন্ত্র

    নির্ভার মেক্সিকোর মুখোমুখি চেক প্রজাতন্ত্র

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক মেক্সিকো ও চেক প্রজাতন্ত্র। এসতেকা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এরই মধ্যে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সবার আগে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে তারা। পরের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারায় বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা। এ দুই জয়ে সর্বোচ্চ ছয় পয়েন্ট তুলে নকআউটে উঠেছে মেক্সিকো। তাই চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচটি নির্ভার হয়ে খেলবে তারা। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ের আগে ম্যাচটি জিতে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে দলটি।
    অপরদিকে এখনো নকআউটে খেলার আশা জিইয়ে রেখেছে চেক প্রজাতন্ত্র। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হয় তাদের। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট অর্জন করে তারা। নকআউট পর্বে খেলতে হলে মেক্সিকোকে হারানোর পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের। এর আগে ২০০০ মেক্সিকো এবং চেক প্রজাতন্ত্র একটি ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল। ওই ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্র ২-১ গোলে হারায় মেক্সিকোকে। ২৬ বছর পর বিশ্বকাপ মঞ্চে আবার মুখোমুখি হচ্ছে দল দুটি। এবার জয়ের ছন্দ ধরে রাখবে চেক প্রজাতন্ত্র, নাকি প্রতিশোধ নেবে মেক্সিকোÑসেটিই দেখার অপেক্ষা।

  • নকআউটের লড়াইয়ে মরক্কোর সামনে হাইতি

    নকআউটের লড়াইয়ে মরক্কোর সামনে হাইতি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো ও হাইতি। এ ম্যাচে নকআউট পর্বের খেলার সমীকরণ মেলাতে চাইবে মরক্কো। এর আগে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিতেছে তারা (১-০ গোলে)। গ্রুপে দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট চার। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে (ব্রাজিলের কাছে ৩-০ আর স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে) বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশ হাইতির। কোনো কিছু হারানোর নেই বলেই মরক্কোর সামনে নির্ভার থাকবে হাইতি।
    গত বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছিল মরক্কো। এবারের বিশ্বকাপেও ব্রাজিল ম্যাচে যে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে তারা, সেটি বার্তা দিল- আরো শক্তিশালী হয়ে এসেছে তারা। তাই হাইতির জন্য ম্যাচটি কঠিন পরীক্ষারই হতে যাচ্ছে। তাদের রক্ষণভাগের জন্য মরক্কোর ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারি বড় আতঙ্কের নাম হতে পারেন। কেননা ব্রাজিল ম্যাচে ২১ মিনিটে সাইবারির গোলেই এগিয়ে যায় মরক্কো। আর স্কটল্যান্ড ম্যাচে মাত্র ৭০ মিনিটে গোল করে দলকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন এই তরুণ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০১টি পাস আদান-প্রদান করে পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তারের রেকর্ড গড়েছে মরক্কো। হাইতি ম্যাচেও যে তারা দাপট দেখাতে চাইবে, সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে আগের দুই ম্যাচে হারলেও লড়াই করেছে হাইতি। কোনো কিছু না হারানোর মানসিকতা নিয়েই মরক্কোর ম্যাচে ঝাঁপিয়ে পড়ে দলটি। শেষ ম্যাচে পয়েন্ট নিয়ে বাড়ি ফেরার লক্ষ থাকবে তাদের। এর আগে মরক্কো ও হাইতি কোনো ফুটবল ম্যাচ খেলেনি। বিশ্বমঞ্চে এই প্রথম দেখা হচ্ছে দুদলের। দুরন্ত মরক্কোর চেনা ছন্দের জয় নাকি হাইতির শেষ চমক- সেটিই দেখার অপেক্ষা।

  • বিশ্বকাপের দীর্ঘতম ম্যাচ

    বিশ্বকাপের দীর্ঘতম ম্যাচ

    বিশ্বকাপের চলতি আসরে ফ্রান্স বনাম ইরাক ম্যাচে ২ ঘণ্টা ১১ মিনিটের বিরতি! ফিলাডেলফিয়ায় বজ্রপাতের কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত লম্বা সময় খেলা বন্ধ থাকার ঘটনা প্রথম ঘটল।

    খেলোয়াড়, সমর্থকদের নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য খেলা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। যে কারলে ম্যাচ শেষ হতে প্রায় চার ঘণ্টা লেগে যায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই দীর্ঘতম ম্যাচ।

    স্থানীয় সময় ৫টা ৪৯ মিনিটে বিরতি হয়। কিন্তু ১৫ মিনিটের হাফ টাইম ২ ঘণ্টা দীর্ঘায়িত হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত খেলা শুরু হয়নি। বজ্রপাতের পাশাপাশি বৃষ্টিও শুরু হয়। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। যার ফলে খেলা শুরু করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত খেলা শুরু হওয়ার চার ঘণ্টা পরে শেষ হয়। সেই ম্যাচে ৩-০ গোলে জয় পায় ফ্রান্স। জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। একটি গোল করেন উসমানে ডেম্বেলে।

    ফ্রান্স এক গোলে এগিয়ে থাকাকালীন বিরতিতে সাপোর্টারদের গ্যালারি ছেড়ে কভার জায়গায় যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জানানো হয়, ঝড় ধেয়ে আসছে। সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি। ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর আবার ম্যাচ শুরুর ক্লিয়ারেন্স দেয় সংগঠকরা। প্রথমে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত খেলা শুরু হতে ৮টা বেজে যায়।

  • বিশ্বকাপে ভালো খেলার রহস্য কী?

    বিশ্বকাপে ভালো খেলার রহস্য কী?

    বিশ্বকাপে ভালো খেলার জন্য সঙ্গিনীর সঙ্গে যৌনতায় মেতে উঠার জন্য ফুটবলারদের পরামর্শ দিচ্ছেন কুরাসাওয়ের নারী ডাক্তার সুজান হুরমান। ইকুয়েডর ম্যাচের আগে তার এমন পরামর্শে সাফল্য পেয়েছে আফ্রিকার দলটি।

    বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭ গোলে হেরে যায় কুরাসাও। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে কামব্যাক করে তারা। এই বিশ্বকাপের ডার্ক হর্স ইকুয়েডরের সঙ্গে ড্র করেছে কুরাসাও। গোলকিপার এলয় ভিক্টর রুম ১৫টি গোল সেভ করে নজির গড়েছেন। তার নেপথ্যে কি বান্ধবীর সঙ্গে কাটানো ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত?

    দলের নারী ডাক্তার হুরমানের পরামর্শ অনুয়াযী কোচ ডিক অ্যাডভোকেট প্লেয়ারদের সঙ্গে তার বান্ধবী বা স্ত্রীদের থাকার স্বাধীনতা দিয়েছেন। বিশ্বকাপের আগে অনেক দলই স্ত্রী বা বান্ধবীদের সঙ্গে সময় কাটানো নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেয়। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে ইটালির কোচ ফাবিও কাপেলো প্লেয়ারদের উপর রীতিমতো কারফিউ জারি করেছিলেন। আবার অনেক দল ভারসাম্য রাখায় বিশ্বাসী।

    কিন্তু কুরাসাওয়ের দর্শন আলাদা। হুরমানও চান, ম্যাচের আগে ফুটবলাররা সঙ্গিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত কাটান। তাতে দলের পরিবেশ অনেক ফুরফুরে থাকবে।

    হুরমান বলেন, ‘প্লেয়াররা তাদের স্ত্রী, বান্ধবী ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে থাকতে পারেন। যাদের পরিবার আছে, সেই ফুটবলারদের বাড়তি রুম দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত বিশ্বকাপে কোনও দল এরকম পদক্ষেপ নেয় না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, যৌনতা সাহায্য করেছে। শারীরিক প্রভাবের থেকেও এর মানসিক প্রভাব বেশি। এত বড় টুর্নামেন্টে পরিবারের সঙ্গ পাওয়া খুব দরকার। তাতে মনখারাপের জায়গা থাকে না। কুরাসাও ছোট দেশ হতে পারে, কিন্তু তারা খুব প্রাণোচ্ছ্বল। আনন্দ-ফুর্তি করতে ভালোবাসে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চায়। ওদের দেখে আমার নিজের দেশ ব্রাজিলের কথা মনে পড়ে।’

    তবে আরেকটা কারণও আছে। কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা মাত্র দেড় লাখ। সব প্লেয়ারই বিদেশি বংশোদ্ভূত। অনেক প্লেয়ারই বড় ক্লাবে খেলেন না। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন। তাই নিজেদের টাকায় পরিবারকে আমেরিকায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় এগিয়ে এসেছে কুরাসাওয়ের ফুটবল ফেডারেশন। পরিবারকে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে পুরো টাকা দিচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

    হুরমান বলেন, ‘আমাদের প্লেয়ারদের খুব বেশি টাকা নেই। আমেরিকায় সপ্তাহের পর সপ্তাহ পরিবারকে রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ফেডারেশন সেই খরচ বহন করছে। যেখানে প্লেয়ারদের সঙ্গী-সন্তানরা থাকতে পারবে। তাদের কোনও দুশিন্তা থাকবে না।’

    হুরমানের জন্ম ব্রাজিলে। এই বিশ্বকাপের একমাত্র মহিলা মেডিক্যাল স্টাফ তিনি। এর আগে রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসভি আইন্দোভেন, নেদারল্যান্ডস অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সঙ্গে কাজ করেছেন।

    বিশ্বকাপে ‘ই’ গ্রুপে আছে কুরাসাও। এই মুহূর্তে ২ ম্যাচে এক পয়েন্ট সংগ্রহ তাদের। শেষ ম্যাচ আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচ জিতলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় স্থানে শেষ করতে পারবে আফ্রিকার দেশটি। সেক্ষেত্রে তৃতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট হিসেবে রাউন্ড অফ ১৬-এ যাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে গোলপার্থক্যে অনেকটা পিছিয়ে থাকায় তাকিয়ে থাকতে হবে বাকি গ্রুপগুলোর দিকে।

  • বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল জর্ডান

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল জর্ডান

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে দারুণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হলো জর্ডানকে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ২–১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ল তারা। অন্যদিকে এই জয়ে নকআউট পর্বে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখল আলজেরিয়া।

    এবারের বিশ্বকাপ থেকে সবার আগে বিদায় নিয়েছে হাইতি। প্রায় সাত দশক পর বিশ্বকাপ খেলতে আসা হাইতির পর বিদায় নিয়েছে ২৪ বছর পর সুযোগ পাওয়া তুরস্ক। এরপর তৃতীয় দেশ হিসেবে রোববার বিদায় নেয় আরেক মুসলিম দেশ তিউনিশিয়া। এবার তাদের সঙ্গী হলো জর্ডান।

    ৪৮ দলের এই আসরে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেবে ১৬টি দল। ৩২টি দল উঠবে পরের রাউন্ডে। প্রত্যেক গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে ২৪টি দল এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ১২টি দলের মধ্যে পয়েন্ট, গোল ব্যবধান ও ফেয়ার প্লেতে এগিয়ে থাকা ৮টি দল খেলবে রাউন্ড অব থার্টি টুতে।

  • জর্ডানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে রইল আলজেরিয়া

    জর্ডানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে রইল আলজেরিয়া

    কীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তন করে জর্ডানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আলজেরিয়া। সোমবার (২৩ জুন) সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বে ওঠার আশা জিইয়ে রাখল উত্তর আফ্রিকার দলটি।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি আলজেরিয়া। উল্টো ৩৬ মিনিটে মুসা আল-তামারির অ্যাসিস্ট থেকে নিযার আল-রাশদান গোল করে জর্ডানকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

    বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক পরিবর্তন আনেন আলজেরিয়া কোচ। তার ফলও আসে দ্রুত। ৬৮ মিনিটে অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজের কর্নার থেকে নাধির বেনবুয়ালি হেডে সমতা ফেরান।

    গোল শোধ করার পর আরও আক্রমণ বাড়ায় আলজেরিয়া। শেষ পর্যন্ত ৮২ মিনিটে কর্নার থেকে সৃষ্ট জটলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন আমিন গুইরি। তার গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলজেরিয়া।

    শেষ মুহূর্তে জর্ডান সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও আলজেরিয়ার রক্ষণভাগে আটকে যায় তাদের আক্রমণ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াদ মাহরেজদের দল।

    এই জয়ে দুই ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে নিজেদের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখল আলজেরিয়া। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে নকআউট স্বপ্ন আরও কঠিন হয়ে গেল জর্ডানের।

  • অবসরের ঘোষণা থেকে বিশ্বকাপের শিখরে

    অবসরের ঘোষণা থেকে বিশ্বকাপের শিখরে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    এক দশক আগে জাতীয় দলকে বিদায় বলেছিলেন লিওনেল মেসি। ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর হতাশায় আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বদলে ফেরার পরই শুরু হয় তার এবং আর্জেন্টিনার সোনালি অধ্যায়।

    সোমবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন মেসি। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ১৮, যা পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগের বিশ্বকাপ মিলিয়ে সর্বোচ্চ। তিনি পেছনে ফেলেছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে, যার গোলসংখ্যা ১৬। ১৭ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি মার্তা।

    ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মেসির জন্য হতাশার ছিল। অষ্টম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন তিনি। তবে ৩৮ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেন। এরপর যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আরও একটি গোল করে এককভাবে ইতিহাসের শীর্ষে উঠে যান।

    বিশ্বকাপে এটি মেসির ষষ্ঠ আসর। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, তার ১৮ গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে ৩৫ বছর বয়স পার করার পর। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার করা পাঁচ গোলের সবকটিই এসেছে তার পা থেকে।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল করে মেসি আরেকটি বিরল কীর্তিও গড়েছেন। তিনি বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করা মাত্র তৃতীয় ফুটবলার। এর আগে এই কৃতিত্ব ছিল শুধু ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জাইরজিনহোর (১৯৭০)।

    বিবিসির বিশ্লেষণে সাবেক ওয়েলস অধিনায়ক অ্যাশলি উইলিয়ামস প্রশ্ন তুলেছেন, “আমরা কি ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়কে দেখছি?” আর সাবেক ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার ড্যানি মারফির মতে, “মেসির ফুটবল বুদ্ধিমত্তা অন্য এক পর্যায়ে। তিনি সম্ভবত আমার দেখা সেরা ফুটবলার।”

    মজার বিষয় হলো, রেকর্ড গড়ার রাতেও একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড নিজের নামে লিখিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি নেওয়া (৭) এবং সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিস করা (৩) খেলোয়াড়ও এখন তিনি।

    তবে শেষ পর্যন্ত রাতটি ছিল শুধুই মেসির। একসময় জাতীয় দলকে বিদায় জানানো ফুটবলারই এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক। আর সেই সঙ্গে আর্জেন্টিনাকে টানা আরেকটি নকআউট পর্বের টিকিটও এনে দিয়েছেন তিনি।

  • এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ

    এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ

    ফুটবল বিশ্বের নয়া পোস্টার বয় লামিনে ইয়ামাল। নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ারের বিলবোর্ডে তার বিশাল ছবি। ভাবা যায়! মাত্র ১৮ বছর বয়সে টাইম স্কয়ারের মতো স্থানে ইয়ামালের এই উপস্থিতি। বলুনতো এতে কী প্রমাণ হয়। স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল শুধু ইউরোপেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং বিশ্ব ফুটবলে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বিশ্বের তাবৎ মিডিয়া বিস্ময়বালক হিসেবেই তাকে চিহ্নিত করেছে। এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলের এক নম্বর মুকুটহীন সম্রাট। অনেকে তার মধ্যে আরেক মেসির ছায়া স্পষ্ট দেখতে পান। লামিনে ইয়ামালের গায়ে বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি। স্পেনের হয়েই ইউরো ২০২৪ জয় করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গোল করেছেন ৫৩টি। তার ক্যারিয়ার রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যেই বড় হন। মাত্র তিন বছর বয়সেই তার বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। লামিনে’র দাদি এসেছিলেন মরক্কো থেকে। অবৈধ অভিবাসী হিসেবে এখানে-ওখানে থাকতেন। শেষমেশ তার ঠাঁই হয় স্পেনের মাতারো শহরে। মা আসেন ইকুয়েটোরিয়াল গিনি থেকে। মাথাগোঁজার ঠাঁই ছিল না। যাযাবরের মতো থাকতেন। দারিদ্র্যতা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। এখন বিবেচনা করলে মনে হবে, এটা এক রোমাঞ্চকর বাস্তব জীবন। যা কিনা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। আর্থিক কষ্টের মধ্যে মাতারো শহরের দুইজন সহৃদয় ব্যক্তি সাহায্যের হাত বাড়ান। এই মুহূর্তে ইনজুরি সমস্যায় ভুগছেন লামিনে। তবুও কোচ তাকে মাঠে নামাবেনই। কেপ ভার্দের সঙ্গে স্পেন ড্র করে। বিশ মিনিট মাঠে নামেন অবশ্য। সৌদি আরবের সঙ্গে খেলেছেন একটু বেশি সময়। গোলও পেয়ে গেছেন। গোলের পর দুই হাতের আঙ্গুল দিয়ে ৩০৪ চিহ্নটি দেখান। এর পেছনে একটা ইতিহাস রয়েছে। এটা আসলে রোকো ফন্ডা এলাকার পোস্টাল কোড। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে পিছিয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষের পরিচয়কে তুলে ধরতে চান। খ্যাতির চূড়ায় এখন অনেকটা শীর্ষে। এর মধ্যে লামিনের জীবনে যুক্ত হয়েছে নানা চাঞ্চল্যকর বিতর্ক। ইয়ামালের মূল অনুপ্রেরণা কিন্তু ব্যালন ডি’অর বা কোটি টাকার জাঁকজমকপূর্ণ জীবন নয়। তিনি পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চান। ইয়ামালের মা কাজ করতেন ম্যাকডোনাল্ডসে। হাড়ভাঙা খাটুনি। তারকা হয়ে ওঠার পর লামিনে তার মা’র জীবনটা বদলে দিয়েছেন। কিনে দিয়েছেন এক বিলাসবহুল বাড়ি।

    মার সঙ্গে লামিনে ইয়ামাল

    চাচা কাজ করতেন এক বেকারিতে। তার জীবনও পাল্টে গেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে- এখনও তিনি মরক্কো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনিকে স্মরণ করেন। তার বুটে আঁকা থাকে ওই দুটি দেশের পতাকা। এতে তিনি প্রমাণ করতে চান-অতীত যত কুয়াশাছন্নই হোক না কেন- সেটা তিনি ভুলতে চান না। একদিকে মাঠের পারফরম্যান্স ধরে রাখার অবিশ্বাস্য চাপ। অন্যদিকে জীবনের নানামুখী আইনি বিতর্ক। মিডিয়ার নজর তো আছেই। বার্সেলোনার প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিক বলেছেন, লামিনের জীবন এক অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় ভরা। তার মতে, শুধু প্রতিভা নয়, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এসব ধরে রাখতে। অসাধারণ ড্রিবলিং ক্ষমতার পাশাপাশি বর্ণবাদের বিরুদ্ধেও তার অবস্থান স্পষ্ট। রিয়েল মাদ্রিদের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার মিশেল সালগাডো ইয়ামালের প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, আমাদের সামনে এক নতুন মেসিকে দেখা যাচ্ছে। জনপ্রিয় খেলার কাগজ মার্কা বলেছে, এই তরুণ তারকা তার ক্যারিয়ারের সঠিক পথটি বেছে নিয়েছেন। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে পরাজিত করার পর বলা হচ্ছে, স্পেনকে ফাইনালে পৌঁছানো এখন আর কোনো অলীক কল্পনা নয়। একটি বাস্তব সম্ভাবনা। বিশ্বকাপের আসরে লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে অনেকেই অংক মেলাচ্ছেন। বলছেন, এই বিস্ময়বালকের হাতেই কি এবারের বিশ্বকাপ!

  • ২০২৬ বিশ্বকাপের শীর্ষে রোনালদো, মেসি কোথায়?

    ২০২৬ বিশ্বকাপের শীর্ষে রোনালদো, মেসি কোথায়?

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ হলো ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। প্রতি চার বছর পর পর, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা এই খেলার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি জয়ের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

    কিন্তু ২০২৬ সালে, এই প্রতিযোগিতা শুধু গোল, অ্যাসিস্ট এবং ট্রফি নিয়েই নয়। আজকের সেরা ফুটবলাররা হলেন বিশ্বব্যাপী তারকা, যাদের বিশাল অনুসারী রয়েছে। লক্ষ লক্ষ ভক্ত তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণ করে, গেমের সেরা মুহূর্ত ও প্রশিক্ষণ সেশনের ক্লিপ থেকে শুরু করে পারিবারিক পোস্ট এবং নেপথ্যের ছোট ছোট দৃশ্য পর্যন্ত। তাদের প্রভাব সর্বত্র বিদ্যমান।

    সোশ্যাল মিডিয়া মূলত খেলোয়াড় ও ভক্তদের মধ্যকার সম্পর্ক বদলে দিয়েছে। একটিমাত্র পোস্ট অনেক টেলিভিশন সম্প্রচার বা সংবাদ মাধ্যমের চেয়েও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। এই ধরনের অনুরাগ ফুটবলের সবচেয়ে বড় নামগুলোকে পৃষ্ঠপোষক এবং ব্র্যান্ডগুলোর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান করে তুলেছে। আসলে, কয়েকজন খেলোয়াড়ের সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অনুসারী রয়েছে যা পুরো দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, তখন এখানে এমন ১০ জন খেলোয়াড়কে তুলে ধরা হলো, যারা মাঠের প্রতিপক্ষের মতোই সোশ্যাল মিডিয়ার জগতেও আধিপত্য বিস্তার করেন।

    ১০. হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় আনুমানিক অনুসারী: ৪৫ মিলিয়নেরও বেশি (ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে)

    ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ১৮ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৮ মিলিয়ন – ১০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি

    হ্যারি কেইন এখন ইংল্যান্ডের অন্যতম বড় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। যদিও কিছু তরুণ তারকার তুলনায় তার সোশ্যাল মিডিয়ার অনুসারীর সংখ্যা কম, ব্র্যান্ডগুলো তার সাথে কাজ করার মধ্যে বিশাল সম্ভাবনা দেখতে পায়। ইংল্যান্ড অধিনায়কের স্কেচার্স এবং ক্যাডবেরির মতো কোম্পানির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বড় ব্রিটিশ ব্র্যান্ডের সাথে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে।

    ৯. লামিন ইয়ামাল (স্পেন)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৫০ মিলিয়নের বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৩৫ মিলিয়নের বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৮ মিলিয়ন – ১২ মিলিয়ন ডলারের বেশি

    লামিন ইয়ামালের উত্থান এক কথায় অবিশ্বাস্য। কিশোর বয়সেই তার বিশাল ভক্তকুল তৈরি হয়েছে। বার্সেলোনা এবং স্পেনের হয়ে তার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। ভক্তরা তার যাত্রাপথ অনুসরণ করতে আগ্রহী, এবং যদি সে তার খেলার উন্নতি অব্যাহত রাখে, তবে নিশ্চিতভাবেই পরবর্তী বিশ্বকাপের মধ্যে সে এই খেলার অন্যতম বড় বাণিজ্যিক নাম হয়ে উঠতে পারে।

    ৮. আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৭০ মিলিয়নের বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৪০ মিলিয়নের বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ১৫ মিলিয়নের বেশি ডলার

    নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড শুধু গোল করার জন্যই নয়, তার মজাদার ব্যক্তিত্ব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শক্তিশালী উপস্থিতির জন্যও পরিচিত।

    তার জনপ্রিয়তা নাইকি এবং বিটস বাই ড্রে-এর মতো বড় বড় ব্র্যান্ডকে আকৃষ্ট করেছে। তিনি যেমন রেকর্ড ভাঙছেন এবং ট্রফি জয় করছেন, তেমনি বিশ্বজুড়ে তার ভক্তের সংখ্যাও বেড়েই চলেছে।

    ৭. জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় আনুমানিক অনুসারী: ৬০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ৪০ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: $১০ মিলিয়ন – $১৫ মিলিয়নেরও বেশি

    ইংল্যান্ড এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জুড বেলিংহামের পারফরম্যান্স তাকে ভক্তদের মধ্যে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকে তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। তিনি অ্যাডিডাসের সাথে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি করেছেন, যারা তাদের ফুটবল প্রচারাভিযানে তাকে নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত করে।

    মাত্র ২২ বছর বয়সেই তিনি নিজের একটি পরিচিতি তৈরি করেছেন। লিভারপুলের এই ফরোয়ার্ডের অ্যাডিডাস, পেপসি এবং ভোডাফোনের মতো বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে। সবাই তার বিনয়ী স্বভাবের প্রশংসা করে, যা তাকে বিশ্বজুড়ে একনিষ্ঠ ভক্তকুল তৈরি করতে সাহায্য করেছে।

    ৫. ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৮০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৫৫ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ১৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি

    ভিনিসিয়ুস জুনিয়র অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন। তার গতি, দক্ষতা এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সাফল্য তাকে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এনে দিয়েছে। তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নাইকি এবং বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল ব্র্যান্ডসহ বড় স্পনসরদের আকৃষ্ট করেছে। ক্লাব এবং দেশের হয়ে তার উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের সাথে সাথে তার ভক্তকুলও ক্রমাগত বাড়ছে।

    ৪. কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ২০০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ১২৫ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ২৫ মিলিয়ন – ৩০ মিলিয়ন ডলার+

    কিলিয়ান এমবাপে তার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স, গোল এবং ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিকের সুবাদে বিশাল ভক্তকুল তৈরি করেছেন।

    নাইকি, হাবলো এবং ওকলির মতো শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো তার সাথে অংশীদারত্ব করেছে এবং তিনি খেলাধুলার জগতের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত ক্রীড়াবিদ। তার সেরা সময়গুলো এখনও সামনে, এমবাপে যেমন উন্নতি করছেন, তেমনি তার ভক্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

    ৩. নেইমার (ব্রাজিল)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৪৫০ মিলিয়নেরও বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ২৩০ মিলিয়নেরও বেশি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৩০ মিলিয়ন ডলার+

    খুব কম ফুটবলারই নেইমারের তারকাখ্যাতির সমকক্ষ হতে পারেন। মাঝেমধ্যে চোট তার গতি কমিয়ে দিলেও, তা তার জনপ্রিয়তায় তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। এই ব্রাজিলিয়ান তারকা অনলাইনে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে চলেছেন এবং পুমা ও রেড বুলের মতো বড় বড় ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করেন।

    ২. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ৮০ কোটির বেশি

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৫০.৫ কোটি – ৫১.০ কোটি

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৫ কোটি ডলারের বেশি

    লিওনেল মেসি বিশ্বের অন্যতম প্রিয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নশিপে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর তার জনপ্রিয়তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির অ্যাডিডাস, পেপসি, অ্যাপল এবং হার্ড রকের সাথে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে, যা ফুটবলের বাইরে তার আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। যেহেতু অনেকেই আশা করছেন ২০২৬ সালই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ, তাই বিশ্বজুড়ে ভক্তরা তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখবে।

    ১. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)

    আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার: ১.১ বিলিয়ন+

    ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার: ৬৬৫+ মিলিয়ন

    আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: $৬০ মিলিয়ন+

    সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবের ক্ষেত্রে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো স্বাচ্ছন্দ্যে শীর্ষে অবস্থান করছেন। কোনো ক্রীড়াবিদই এর চেয়ে বড় অনলাইন ফলোয়ার তৈরি করতে পারেননি।

    ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে রোনালদোর ফলোয়ার সংখ্যা ১.১ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। শুধুমাত্র তার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যাই অনেক দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।

    নাইকি, বাইন্যান্স, ক্লিয়ার এবং তার নিজস্ব সিআরসেভেন ব্যবসার সঙ্গে অংশীদারত্ব থেকে তিনি ক্রমাগত বিপুল আয় করছেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তার ক্যারিয়ারে, এবার তিনি বিশ্বকাপে কোনো ঝলক দেখাতে পারবেন কিনা, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবু জনপ্রিয়তায় তিনিই সবার ওপরে রয়েছেন, কে অস্বীকার করবে?

  • বিশ্বকাপের ফুটবল বানানো দেশটিই কখনো ফুটবল খেলেনি!

    বিশ্বকাপের ফুটবল বানানো দেশটিই কখনো ফুটবল খেলেনি!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের কাছে ফুটবলের জাদুকরী নান্দনিকতার কথা বললে সবার আগে চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঠের তারকা খেলোয়াড়দের কথা। কিন্তু মাঠের সেই গোলপোস্টের ভেতরে আছড়ে পড়া বলটির জন্ম কোথায়, তা অনেকেরই অজানা। বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে, বিশ্বের ফুটবল উৎপাদনের প্রকৃত প্রাণকেন্দ্র বা ‘ফুটবল ফ্যাক্টরি’ হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের শিয়ালকোট শহর। উত্তর-পূর্ব পাকিস্তানের এই শহরটি এখন বিশ্ব ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

    পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের মোট ফুটবলের প্রায় ৭০ শতাংশই তৈরি হয় শিয়ালকোটের কারখানাগুলোতে। প্রতিদিন প্রায় তিন লাখের বেশি ফুটবল এখান থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে পাড়ি জমায়। আর বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের বছরগুলোতে এই সংখ্যাটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য; বিশ্বকাপের মৌসুমে প্রায় চার কোটি ফুটবল রপ্তানি করে এই শহর।

    মজার বিষয় হলো, পাকিস্তান ফুটবল দল এ পর্যন্ত কখনো ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। অথচ গত ৪৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিটি বিশ্বকাপ আসরের মাঠ কাঁপানো বলগুলোর জন্ম হয়েছে এই শিয়ালকোটে। বিশেষ করে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত শিয়ালকোটের ‘ফরোয়ার্ড স্পোর্টস’ কোম্পানিটি বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০১৪ সালের ব্রাজুকা, ২০১৮ সালের টেলস্টার ১৮, ২০২২ সালের আল রিহলা এবং ২০২৬ সালের আসরের ট্রায়ন্ডা; টানা চারটি বিশ্বকাপে ব্যবহৃত অফিশিয়াল ম্যাচ বল তৈরির দায়িত্ব পালন করেছে এই শহরের কারিগররা। একদিকে, দেশের জাতীয় ফুটবল দলের বৈশ্বিক মঞ্চে না থাকার আক্ষেপ, অন্যদিকে বিশ্বের প্রতিটি বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকা; এই দ্বৈরথই শিয়ালকোটকে দিয়েছে এক অদ্ভুত পরিচয়। খেলার মাঠে হয়তো খেলোয়াড়দের পায়ের জাদুতে গোল আসে, কিন্তু সেই জাদুর কারিগর হিসেবে নেপথ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তানের এই শহর। ফুটবল বিশ্বের অঘোষিত এই ‘কারখানা’ তাই আজ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক অনন্য ও গর্বিত নাম।

  • এক ম্যাচেই বিশ্বকাপের যত রেকর্ড ভাঙলেন মেসি

    এক ম্যাচেই বিশ্বকাপের যত রেকর্ড ভাঙলেন মেসি

    ২০ বছর আগে ঠিক এই দিনটিতেই সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছিল লিওনেল মেসির। দুই দশক পর সেই একই দিনে, কানসাস সিটিতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাকাব্য লিখলেন ৩৯ ছুঁইছুঁই লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে কেবল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযানই দুর্দান্তভাবে শুরু করেননি, একই সাথে ছুঁয়ে ফেলেছেন বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলদাতার রেকর্ডও।

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই এক ম্যাচেই লিওনেল মেসি যেসব বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন এবং গড়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. বিশ্বকাপের ইতিহাসে বয়োবৃদ্ধ হ্যাটট্রিকম্যান: আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি যখন তার প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকটি পূর্ণ করলেন, তখন তার বয়স ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন। এর মাধ্যমে তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ আট বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করার বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিলেন। ২০১৮ সালে স্পেনের বিপক্ষে ৩৩ বছর ১৩০ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করেছিলেন রোনালদো।

    ২. আর্জেন্টিনার ইতিহাসের কনিষ্ঠ ও বয়োবৃদ্ধ গোলদাতা: এই হ্যাটট্রিকের পর মেসি এখন একই সাথে বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা! ২০০৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সার্বিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোল করেছিলেন তিনি, আর আজ ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সে করলেন হ্যাটট্রিক।

    ৩. বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (ক্লোসাকে ছোঁয়া): আলজেরিয়ার জালে ৩ বার বল পাঠিয়ে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গেছেন মেসি। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতা জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডে ভাগ বসালেন। আর ১টি গোল করলেই তিনি এককভাবে চূড়ায় উঠবেন।

    ৪. ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৬টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: মাঠে নামার সাথে সাথেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম এবং একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬) খেলার অনন্য এক কীর্তি গড়লেন এলএমটেন।

    ৫. ৫টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার নজির: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ৫টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে গোল করার গৌরব অর্জন করলেন মেসি। ২০১০ বিশ্বকাপ বাদে ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ সালের আসরে গোল করার নজির গড়লেন তিনি।

    ৬. আন্তর্জাতিক ফুটবলে ম্যাচের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’: আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে মেসির ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচের এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। তার সামনে আছেন কেবল কুয়েতের বাদের আল-মুতাওয়া (২০২ ম্যাচ) এবং পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (২২৮ ম্যাচ)।

  • ৬৮ বছর পর বিশ্বকাপে বিরল ঘটনা!

    ৬৮ বছর পর বিশ্বকাপে বিরল ঘটনা!

    কীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে প্রতিটি দিনই নতুন গল্পের জন্ম হয়। কোথাও গোলের বন্যা, কোথাও অঘটন, আবার কোথাও নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। তবে এবারের আসরের পঞ্চম দিনটা ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে ভিন্ন এক কারণে।

    সূচি অনুযায়ী এক দিনে অনুষ্ঠিত চারটি ম্যাচেই জেতেনি কেই, আবার হারেওনি। চারটি ম্যাচই শেষ হয়েছে ড্রয়ে। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটল মাত্র দ্বিতীয়বার।

    সোমবার দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় স্পেন ও কেপ ভার্দে। শক্তিমত্তা-অভিজ্ঞতায় ব্যাপক পার্থক্য থাকলেও দু’দল গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে। এরপর বেলজিয়াম ও মিসর ম্যাচ শেষ হয় ১-১ ব্যবধানে।

    ভোরের ম্যাচে একই স্কোরলাইনে ড্র করে সৌদি আরব ও উরুগুয়ে। দিনের শেষ ম্যাচে ইরান ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচটাও শেষ হয় রোমাঞ্চকর ড্রয়ে, ২-২ সমতায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে।

    এক দিনে চারটি ম্যাচ, আর চারটিই ড্র- এমন বিরল দৃশ্য শেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে। সেবার একই দিনে সুইডেন-ওয়েলস গোলশূন্য ড্র করেছিল। যুগোস্লাভিয়া-প্যারাগুয়ে ম্যাচে হয়েছিল ৩-৩ গোলের রোমাঞ্চকর সমতা, আর ইংল্যান্ড-অস্ট্রিয়া ২-২ ও নর্দান আয়ারল্যান্ড-জার্মানি ম্যাচও শেষ হয়েছিল ২-২ স্কোরলাইনে।

    অর্থাৎ ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরুর পর প্রায় সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে আর দেখা যায়নি এমন ঘটনা। অবশেষে ৬৮ বছর পর আবারো এক দিনে চারটি ড্রয়ের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব।

    মজার বিষয় হলো, চারটি ম্যাচেই ছিল ভিন্ন ভিন্ন গল্প। কোথাও রক্ষণভাগের দৃঢ়তা, কোথাও শেষ মুহূর্তের লড়াই, আবার কোথাও দু’দলের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ। কিন্তু দিনের শেষে ফলাফল একটাই- সমতা।

    বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রতিটি পয়েন্টের মূল্য অনেক। তাই এই চার ড্র শুধু পরিসংখ্যানের নতুন অধ্যায়ই নয়, গ্রুপ পর্বের সমীকরণও আরো জটিল করে তুলেছে। ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয়া এই দিনটি তাই দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে।

  • বিশ্বকাপে ইয়ামাল কেন ১০ নম্বর জার্সি পরবেন না

    বিশ্বকাপে ইয়ামাল কেন ১০ নম্বর জার্সি পরবেন না

    স্পেনের সবচেয়ে বড় তারকা কে? বেশির ভাগ মানুষই বলবেন লামিনে ইয়ামাল। তাঁকে ঘিরেই তো ২০১০ সালের পর আবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন। বড় তারকা, বড় ফুটবলার, আবার খেলেন আক্রমণভাগে—এমন ফুটবলাদের ১০ নম্বর জার্সিই পরতে দেখা যায় সাধারণত।

    তবে স্পেনের সবচেয়ে বড় ফুটবল তারকা হলেও এবারের বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে উঠছে না ইয়ামালের। বার্সেলোনার হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরলেও, জাতীয় দলে তাঁর এই বিখ্যাত নম্বরটি না পাওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে আছে স্পেন ফুটবলের বহু বছরের এক ঐতিহ্য।

    দলটির নিয়ম অনুযায়ী, যে খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা যত বেশি, জার্সি নম্বর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি তত বেশি অগ্রাধিকার পাবেন। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সম্মান জানাতেই মূলত এই নিয়ম মেনে চলা।

    আর সে কারাণেই এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের ১০ নম্বর জার্সিটি থাকছে দানি ওলমোর কাছে। স্পেনের হয়ে ৫০টি ম্যাচ খেলা ওলমো ইয়ামালের অভিষেকের আগে থেকেই ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলছেন। অন্যদিকে ২০২৩ সালে অভিষেক হওয়া ইয়ামালের ঝুলিতে ২৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা।
    ওলমো অবশ্য বার্সেলোনাতে ইয়ামালের সতীর্থ, সেখানে ইয়ামালাই ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেন। ২০২১ সালে মেসির বিদায়ের পর জার্সিটি প্রথমে আনসু ফাতিকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইনজুরি আর প্রত্যাশার চাপ মিলিয়ে তিনি বার্সাতে থিতু হতে পারেননি।

    পরে ১০ নম্বর জার্সিটি ইয়ামালকে দেওয়া হয়। ঐতিহাসিক জার্সি গায়ে জড়ানোর পর থেকে ইয়ামাল দুর্দান্ত পারফর্মও করছেন। ৪৫ ম্যাচে ২৪টি গোল এবং ১৭টি অ্যাসিস্ট করে ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম পার করেছেন এবার। তবে নিজের বিশ্বকাপ অভিষেকে ১০ নম্বর জার্সিটা পাচ্ছেন না ইয়ামাল।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দলের ভেতরে জার্সি নম্বর নিয়ে কোনো অসন্তোষ নেই। তরুণ ইয়ামাল দলের নিয়মকানুন খুব ভালোভাবেই বোঝেন, বার্সেলোনায় তাঁর সতীর্থ ওলমোর সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক বেশ ভালো।

    এই ছবিটি পোস্ট করেন ইয়ামালইনস্টাগ্রাম

    দলের সবচেয়ে বড় তারকার গায়ে ১০ নম্বর জার্সি থাকলে বাণিজ্যিকভাবে সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বাণিজ্যিক লাভের চেয়ে দলের অভিজ্ঞদের সম্মান জানানো এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

    এবারের বিশ্বকাপে নতুন জার্সি নম্বর হিসেবে ইয়মাল বেছে নিয়েছেন ১৯। সম্প্রতি ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল তাঁর বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন করে সবাইকে চমকে দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়ামাল একটি কোলাজ ছবি শেয়ার করেন, যেটিতে আছে মেসির জার্সিও।

    ছবিটির এক পাশে ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বিশ্বকাপ অভিষেক জার্সির ছবি, অন্য পাশে এবারের বিশ্বকাপে ইয়ামালের জার্সির ছবি। যেহেতু ১০ নম্বর জার্সিটা পাচ্ছেন না, ইয়ামাল তাই খেলবেন তাঁর ছোটবেলার নায়কের অভিষেক বিশ্বকাপের জার্সি নম্বর পরে।

  • বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে বিতর্কে ব্রাজিলের রেফারি

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে বিতর্কে ব্রাজিলের রেফারি

    ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকেই শুরু হলো বিতর্ক। আর এ বিতর্কের জন্ম দিলেন ব্রাজিলের রেফারি উইল্টন সাম্পাইয়ো। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দক্ষিণ আফ্রিকা-মেক্সিকোর মধ্যে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন তিনি।

    ৪৪ বছর বয়সী উইল্টন সাম্পাইয়ো আন্তর্জাতিক ফুটবলে পরিচিত নাম। এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ফিফা রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। লাতিন আমেরিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসাবে বিবেচনা করা হয় তাকে। ২০০৯ সালে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ম্যাচ পরিচালনা শুরু করেন। আর ২০১৩ সালে পান ফিফা ব্যাজ।

    এবার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ পরিচালনার জন্য সাম্পাইয়োকে দায়িত্ব দিয়েছিল ফিফা। গত দুটি বিশ্বকাপেও ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এ ছাড়া কোপা আমেরিকাসহ বেশ কিছু বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব পালন করেছেন। কাতারে ইংল্যান্ড-ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালও পরিচালনা করেছেন তিনি। সেই ম্যাচে তাঁর নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। বেশি কার্ড দেখানোর অভিযোগ রয়েছে সাম্পাইয়োর বিরুদ্ধে। বিতর্ক প্রায় নিত্যসঙ্গী তার।

    গত রাতের ম্যাচে সাম্পাইয়ো প্রথম লাল কার্ড দেখান ৬৫ মিনিটে। সেটি নিয়ে যদিও প্রশ্ন ওঠেনি। মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেজ প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন। তাকে পেছন থেকে ফাউল করেন ইয়াইয়া সিথোলে। পরে তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়।

    এরপর ৮৫ মিনিটে একটি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বু জোয়ানে মেক্সিকোর আরভারাল্দোকে ধাক্কা মারেন। রেফারি প্রথমে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এর পর ভিএআর-এর ডাকে মাঠের ধারে রিপ্লে দেখতে যান। রিপ্লে দেখার পরেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তিনি। থেম্বু জোয়ানেকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার দলের সদস্য আরও একজন কমে নয়জনে দাঁড়ায়।

    ম্যাচের শেষ লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর অধিনায়ক সিজার মন্টেস। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার মুদাউকে ফেলে দেন।

    ২০০৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে এতজন লাল কার্ড দেখলেন।

    লাল কার্ড দেখানো ছাড়াও আলোচনায় উঠে এসেছে সাম্পাইয়োর কড়া চাহনি এবং কঠিন অভিব্যক্তি। ম্যাচ কিছুটা গড়াতেই তার কিছু ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তাকে নিয়ে অনেকেই মিম বানিয়েছেন, করছেন ট্রোল।

  • বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন মার্টিনেজ

    বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন মার্টিনেজ

    আর্জেন্টিনার কাতার বিশ্বকাপজয়ী নায়ক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ আবারও আলোচনায়। এবার মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং আগেভাগেই ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে তার করা এক সাহসী ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে তৈরি হয়েছে রোমাঞ্চ। অ্যাস্টন ভিলার এই ৩৩ বছর বয়সি গোলরক্ষকের দাবি, এই বিশ্বকাপেও শিরোপা যাবে আর্জেন্টিনার ঘরেই, আর ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা যাবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে।

    সম্প্রতি ক্লাবের এক স্পন্সর ইভেন্টে অংশ নিয়ে মার্টিনেজ পুরো টুর্নামেন্টের একটি সম্ভাব্য নকআউট চিত্রও দাঁড় করান। তার অনুমান অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে আলাদা থাকলেও ধাপে ধাপে এগিয়ে দুই লাতিন জায়ান্ট ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা পৌঁছে যাবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে। সেই ম্যাচটি হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের, যা শেষ পর্যন্ত গড়াবে টাইব্রেকারে—আর সেখানেই নাকি জয় ছিনিয়ে নেবে লিওনেল মেসির দল।

    কাতার বিশ্বকাপের আগেও এমনই আত্মবিশ্বাসী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন মার্টিনেজ, যা পরে বাস্তব রূপ নেয়। আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে তার অবদানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাই এবার তার নতুন পূর্বাভাসও ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে।

    ৪৮ দলের আসন্ন বিশ্বকাপে এখনো খুব অল্প কিছু ম্যাচই শেষ হয়েছে। তবে মার্টিনেজ আগেভাগেই নিজের ‘কাল্পনিক কোয়ার্টার ফাইনাল’ লাইনআপ সাজিয়ে ফেলেছেন। তার তালিকায় শেষ আটে জায়গা পেয়েছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও মেক্সিকো।

    তবে তার পূর্বাভাসে সবচেয়ে চমক জাগানো দিক হলো স্পেনের অনুপস্থিতি। অনেকের মতে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হলেও মার্টিনেজ মনে করেন, স্পেন শেষ ষোলোতেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরে বিদায় নেবে।

    তার করা ম্যাচ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফ্রান্স জয় পাবে নরওয়ের বিপক্ষে, জার্মানি হারাবে তুরস্ককে, নেদারল্যান্ডস জিতবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে, ব্রাজিল এগিয়ে যাবে জাপানকে হারিয়ে এবং মেক্সিকো পরাজিত করবে দক্ষিণ কোরিয়াকে। অন্যদিকে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড হারাবে কলম্বিয়াকে। এরপর আর্জেন্টিনা হারাবে ফ্রান্সকে, জার্মানি জিতবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এবং ব্রাজিল বিদায় করবে মেক্সিকোকে।

    সেমিফাইনালে গিয়ে আবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখছেন মার্টিনেজ। তার ধারণা, ১৯৮৬ সালের স্মৃতির মতো এবারও আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারাবে, তবে ম্যাচটি নিষ্পত্তি হবে টাইব্রেকারে। অন্য সেমিফাইনালে ব্রাজিল হারাবে জার্মানিকে।

    সবশেষে তার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা—যেমনটা হয়েছিল কোপা আমেরিকার সেই স্মরণীয় ফাইনালে।

  • বিশ্বকাপ ধরে রাখতে যে অভিশাপ কাটাতে হবে আর্জেন্টিনার!

    বিশ্বকাপ ধরে রাখতে যে অভিশাপ কাটাতে হবে আর্জেন্টিনার!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণীর চেষ্টা নতুন কিছু নয়। আধুনিক সময়ে সুপার কম্পিউটার থেকে শুরু করে বিশ্লেষক, জ্যোতিষী এবং সাধারণ ভক্ত—সবাই নিজেদের মতো করে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নের নাম অনুমান করেন।

    এরই মধ্যে জার্মান অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ইয়োআখিম ক্লেমেন্ট গত তিনটি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন সঠিকভাবে অনুমান করে আলোচনায় উঠে এসেছেন। তার মতে, ফুটবলে জয়-পরাজয়ের বড় একটি অংশ নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর। কোনো ম্যাচে ফর্ম, রেফারির সিদ্ধান্ত বা বলের সামান্য ব্যবধানও ফল বদলে দিতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপে শীর্ষ দলগুলোর মধ্যেও সাফল্যের নিশ্চয়তা নেই, কারণ এখানে অপ্রত্যাশিত ঘটনার ভূমিকা অনেক বড়।

    সীমিত চ্যাম্পিয়ন ক্লাব

    বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত অংশ নিয়েছে ৮৪টি দেশ, কিন্তু ট্রফি জিততে পেরেছে মাত্র ৮টি দেশ— আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন এবং উরুগুয়ে।

    ফাইনালে উঠেছে মোট ১৩টি দেশ। সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলেছে জার্মানি (৮ বার), এরপর ব্রাজিল (৭ বার) এবং আর্জেন্টিনা ও ইতালি (৬ বার করে)।

    ২০১০ সালে স্পেন সর্বশেষ নতুন দল হিসেবে বিশ্বকাপ জেতে, যা দেখায় শিরোপা জেতা ক্লাব কতটা সীমিত ও কঠিন।

    নেদারল্যান্ডসের ব্যর্থতা ও নতুন সম্ভাবনা

    তিনবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি নেদারল্যান্ডস। তবে ক্লেমেন্টের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপে তারা শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার হতে পারে।

    অন্যদিকে আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র দুইবার সেমিফাইনালে পৌঁছেছে—২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২০২২ সালে মরক্কো।

    ভৌগোলিক সুবিধার প্রভাব

    বিশ্বকাপ ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিজ মহাদেশের বাইরে গিয়ে শিরোপা জেতা খুবই কঠিন। এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়বার এমন ঘটনা ঘটেছে—ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৯৪, ২০০২), স্পেন (২০১০), জার্মানি (২০১৪) এবং আর্জেন্টিনা (২০২২)।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশ, আবহাওয়া, ভ্রমণ ক্লান্তি এবং দর্শক সমর্থন—সব মিলিয়ে আয়োজক মহাদেশের দলগুলো বাড়তি সুবিধা পায়।

    বিশ্বকাপ র‍্যাঙ্কিংয়ের ‘অভিশাপ’

    ১৯৯২ সালে ফিফা র‍্যাঙ্কিং চালুর পর থেকে দেখা গেছে, বিশ্বকাপ শুরুর সময় এক নম্বর র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা কোনো দল এখনো ট্রফি জিততে পারেনি।এটি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য উদ্বেগের বিষয় হতে পারে, কারণ তারা বর্তমানে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে।

    ধারাবাহিক চ্যাম্পিয়ন হওয়া কত কঠিন

    বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র দুইবার কোনো দল টানা দুইবার শিরোপা জিতেছে—ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৬২)।

    ২০০২ সালের পর দেখা গেছে, আগের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে বেশিরভাগই পরের আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে।

    বিদেশি কোচদের ব্যর্থতা

    বিশ্বকাপে বিদেশি কোচ নিয়োগ এখন সাধারণ বিষয় হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশি কোচের অধীনে কোনো দল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।

    ২০২৬ আসরে ৪৮ দলের মধ্যে ২৭টির কোচই বিদেশি হতে পারেন। এর মধ্যে ব্রাজিলের দায়িত্বে কার্লো আনচেলত্তি এবং ইংল্যান্ডের দায়িত্বে টমাস টুখেল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ক্লাব সংযোগের অদ্ভুত পরিসংখ্যান

    আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য হলো—গত বহু বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা দলগুলোর মধ্যে প্রায় সবসময়ই জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ অথবা ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানের কোনো না কোনো খেলোয়াড় ছিলেন।

    ১৯৮২ সালের পর খুব কমবারই এমন হয়েছে যেখানে এই দুই ক্লাবের কোনো খেলোয়াড় ছাড়াই কোনো দল বিশ্বকাপ জিতেছে।

    ২০২৬ বিশ্বকাপ: নতুন ইতিহাসের অপেক্ষা

    ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—মিলিয়ে আয়োজন করবে আসরটি। দল সংখ্যা বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৪৮টি।

    নতুন দল হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলবে কুরাসাও, কেপ ভার্দে, জর্ডান ও উজবেকিস্তান।

    সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান বলছে—অতীতের অনেক ধারা ভাঙার সম্ভাবনা থাকলেও, বিশ্বকাপে শিরোপা জেতা এখনো সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।

    বি. এ

  • বিশ্বকাপে দেখা যাবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণ?

    বিশ্বকাপে দেখা যাবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণ?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের পর্দা ইতোমধ্যেই উঠেছে। শিরোপার লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত ফুটবলের পরাশক্তিরা। তবে উপমহাদেশের কোটি সমর্থকের চোখ সবচেয়ে বেশি থাকবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দিকে। বিশ্বমঞ্চে এই দুই দলের সম্ভাব্য লড়াই নিয়ে আগ্রহও তুঙ্গে।

    বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল আগে। মরক্কোর বিপক্ষে সেলেসাওদের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল ভোর ৪টায়। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে ১৭ জুন, আলজেরিয়ার বিপক্ষে। দুই দলই টুর্নামেন্টে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী। ফলে যত দিন তারা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে, ততই বাড়বে সম্ভাব্য এক মহারণের অপেক্ষা।

    প্রশ্ন হলো, এই বিশ্বকাপে কি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মুখোমুখি দেখা হতে পারে?

    টুর্নামেন্টের ড্র অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা রয়েছে জে গ্রুপে এবং ব্রাজিল সি গ্রুপে। দুই দলই যদি নিজ নিজ গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে নকআউট পর্বের সব বাধা পেরোয়, তাহলে সেমিফাইনালে দেখা হতে পারে তাদের। একইভাবে দুই দল যদি গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবেও পরের ধাপে যায় এবং সফলভাবে এগিয়ে আসে, তাহলেও শেষ চারে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।অন্যদিকে একটি দল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং অন্যটি রানার্সআপ হয়, তাহলে তাদের সম্ভাব্য সাক্ষাৎ হতে পারে ফাইনালে। তবে দুই দলই যদি সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল হিসেবে নকআউটে ওঠে, সেক্ষেত্রে তাদের সম্ভাব্য লড়াইয়ের পর্যায় নির্ভর করবে নকআউট ড্রয়ের ওপর।

    গ্রুপ পর্বে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দলের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। অন্যদিকে ব্রাজিলকে খেলতে হবে মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতির বিপক্ষে। বিশেষ করে মরক্কো, যারা সর্বশেষ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলেছিল, তাদের বিপক্ষে শুরুতেই কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের।

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত চারবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে। সেই ম্যাচে ডিয়েগো ম্যারাডোনার অসাধারণ পাস থেকে ক্লাউদিও কানিজিয়ার করা গোলে ব্রাজিলকে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় করেছিল আর্জেন্টিনা।

    দুই দলের প্রথম বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ ১৯৭৪ সালে। জার্মানি বিশ্বকাপে সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পায় ব্রাজিল। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তাদের লড়াই গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়। এরপর ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে ব্রাজিল ৩-১ গোলে জয় তুলে নেয়।

    বিশ্বকাপে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এগিয়ে ব্রাজিল। চার ম্যাচে তাদের জয় দুটি, আর্জেন্টিনার একটি। বাকি একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এবারও ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষায়, বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণ দেখার।

  • বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে এমবাপ্পেদের দাবি মেনে নিল ফ্রান্স

    বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে এমবাপ্পেদের দাবি মেনে নিল ফ্রান্স

    বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে খেলোয়াড়দের বোনাস ও পরিবারের সদস্যদের জন্য টিকিট বরাদ্দ নিয়ে ফ্রান্স এবং ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) মধ্যে চলমান বিরোধের অবসান হয়েছে। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে ফেডারেশনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন।

    উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বকাপ প্রস্তুতির শুরু থেকেই পারফরম্যান্স বোনাস এবং খেলোয়াড়প্রতি টিকিট বরাদ্দ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। প্রথম দফার আলোচনায় কোনো সমাধান না হওয়ায় এমবাপ্পে ও আরও তিনজন খেলোয়াড়ের প্রতিনিধিত্বে ফ্রান্স দলের পক্ষ থেকে এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালোর কাছে একটি পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হয়।

    ফরাসি দৈনিক লে’কিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়দের বোনাস সংক্রান্ত সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন দিয়ালো। যদিও বোনাসের নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে তা গত বিশ্বকাপের তুলনায় কম হবে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়ায় ফ্রান্সের প্রতিটি খেলোয়াড় ৫ লাখ ইউরো করে বোনাস পেয়েছিলেন। এর আগে ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৪ লাখ ইউরো করে পুরস্কার দেয় এফএফএফ।

    লে’কিপ আরও জানিয়েছে, ২৬ সদস্যের দলে থাকা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অনেকেই তাঁদের প্রাপ্ত বোনাসের পুরোটা বা একটি অংশ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে কিংবা কোচিং স্টাফের সদস্যদের মধ্যে দান করে থাকেন।

    টিকিট বরাদ্দের বিষয়েও সমাধান এসেছে। শুরুতে ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে ফেডারেশন ঘোষণা দিয়েছিল, প্রতিটি খেলোয়াড় প্রতি ম্যাচে পরিবারের সদস্যদের জন্য দুটি করে বিনামূল্যের টিকিট পাবেন। পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যে আরও ছয়টি টিকিট কেনার সুযোগ থাকবে। গ্রুপ পর্বে এসব টিকিটের মূল্য ৫০০ ইউরো থেকে শুরু হয়ে ফাইনালের ক্ষেত্রে ৭ হাজার ইউরোরও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছিল।

    ফেডারেশনের এই প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ছিলেন খেলোয়াড়রা। পরে আলোচনার পর সভাপতি দিয়ালো প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য চারটি করে বিনামূল্যের টিকিট বরাদ্দে সম্মত হন। অতিরিক্ত টিকিট কেনার সুযোগও বহাল থাকছে। তবে এই সুবিধা ২০২২ বিশ্বকাপের তুলনায় কিছুটা কম। আগামী ১৭ জুন নিউজার্সি স্টেডিয়ামে সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ফ্রান্স। ‘আই’ গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ নরওয়ে ও ইরাক।

  • দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ শুরু মেক্সিকোর

    দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ শুরু মেক্সিকোর

    পর্দা উঠেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—যৌথভাবে আয়োজন করছে বিশ্বকাপ। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে ‘এ’ গ্রুপে মুখোমুখি হয় সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। যেখানে ম্যাচে দাপট দেখিয়ে ৯ জনের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় তুলে নিয়েছে মেক্সিকো।

    মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৩৯ দিনের এই মহাযজ্ঞ।

    ম্যাচ শুরুর ৯০ মিনিট আগে অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়ান শিল্পী শাকিরা ও বার্না বয়। এছাড়া জে বালভিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার গায়িকা টাইলাও অংশ নেন।

    এদিন টুর্নামেন্টের প্রথম গোলটি আসে মেক্সিকোর হুলিয়ান কিনিয়োনেসের পা থেকে। এই ফরোয়ার্ড ৯ মিনিটে গোলটি করেছেন। এই গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

    বিরতির পর ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে। ৫০ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের মাথায় মেক্সিকোর এক খেলোয়াড়কে আটকাতে গিয়ে ফাউল করার শাস্তি পেলেন সিথোলে।

    খেলার ৬৬ মিনিটে মাঠে নেমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেক্সিকোর সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস গড়েন গিলবার্তো মোরা। পরের মিনিটেই মেক্সিকোকে ২–০ গোলে এগিয়ে দিলেন রাউল হিমিনেজ।

    ম্যাচের ৮৪ মিনিটে আরেকটি লাল কার্ড দেখে ৯ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার আক্রমণ করতে গিয়ে মেক্সিকোর খেলোয়াড়কে ফেলে দিয়ে লাল কার্ড দেখেন মিডফিল্ডার থেম্বা জেওয়ানে।

    ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে পর মেক্সিকোর সেসার মন্তেস লাল কার্ড দেখেন। তবে জয় পেতে কোনো সমস্যা হয়নি স্বাগতিকদের।