Uncategorized

  • শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো, চরম আবহাওয়ার সতর্কতা জাতিসংঘের

    শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো, চরম আবহাওয়ার সতর্কতা জাতিসংঘের

    জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এল নিনো শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে যাচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়বে বলে শুক্রবার সতর্ক করেছে জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক সংস্থা।

    বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানায়, এল নিনো ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে এটি দ্রুত শক্তিশালী হবে। তাই সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় দেশগুলোকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এতে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বাতাসের প্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে।

    সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো দেখা দেয়। এর স্থায়িত্ব থাকে প্রায় নয় থেকে ১২ মাস।

    জলবায়ুর এ অবস্থার পরিবর্তন এল নিনো ও এর বিপরীত অবস্থা লা নিনার মধ্যে ওঠানামা করে। মাঝখানে থাকে নিরপেক্ষ পরিস্থিতি।

    ডব্লিউএমওর মাসিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’-এ বলা হয়েছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছাবে।

    জাতিসংঘের সংস্থাটি এল নিনোকে দুর্বল, মাঝারি, শক্তিশালী ও অতি শক্তিশালী- এই চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ অর্থাৎ ‘শক্তিশালী’ পর্যায়ে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    ডব্লিউএমও বলেছে, ‘ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে এটি দ্রুত শক্তিশালী হবে। এর ফলে বিশ্বের বহু অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বাড়বে।’

    জেনেভাভিত্তিক সংস্থাটি জানায়, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জলবায়ু কেন্দ্রগুলোর বিভিন্ন মডেলভিত্তিক পূর্বাভাসে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রের তাপমাত্রা ধারাবাহিক ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

    সংস্থাটি বলেছে, ‘পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে মৌসুমভিত্তিক গড় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হতে পারে।’

    ডব্লিউএমও জানায়, বিভিন্ন মডেলের পূর্বাভাসে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। ফলে এ পূর্বাভাসের বিষয়ে উচ্চমাত্রার আস্থা রয়েছে।

    সংস্থাটি আরো বলেছে, ‘উত্তর গোলার্ধের শরৎকালজুড়ে এল নিনো আরও শক্তিশালী হবে। এর প্রভাব বিশ্বের বহু অঞ্চলে বিস্তৃত হবে।’

    ‘এদিকে নিরক্ষীয় আটলান্টিক মহাসাগরীয় অববাহিকার তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

    সর্বশেষ এল নিনো ২০২৩ সালকে রেকর্ডের দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর এবং ২০২৪ সালকে শিল্পপূর্ব ১৮৫০-১৯০০ সময়ের গড়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রাসহ ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হতে ভূমিকা রাখে।

    সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে এল নিনো সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছায়। তবে এর ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব পরে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, ‘এল নিনো পরিস্থিতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এটি দ্রুত শক্তিশালী ঘটনায় পরিণত হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘এর ফলে অনেক অঞ্চলে খরা, ভারী বৃষ্টিপাত, স্থলভাগে তাপপ্রবাহ এবং সমুদ্রে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।’

    ডব্লিউএমও জানায়, বিশেষ করে কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের মতো জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতে প্রস্তুতি জোরদারে আগাম সতর্কীকরণ সহায়তা আরও বাড়ানো হচ্ছে।

    সাউলো বলেন, ‘জীবন রক্ষা এবং অর্থনীতি ও জনপদের ওপর প্রভাব কমাতে উন্নত মৌসুমি পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কবার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

  • ভেনিজুয়েলায় আটদিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে যুবক উদ্ধার

    ভেনিজুয়েলায় আটদিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে যুবক উদ্ধার

    ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হলো যুবককে। মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখে বেঁচে ফিরলেন ভেনেজুয়েলার যুবক হার্নান আলবার্টো গিল ফ্লোরেস।

    ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে যখন প্রাণের খোঁজ চলছিল, সেই সময়েই গিলের হদিস পান উদ্ধারকারীরা। তবে তাঁকে উদ্ধার করা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না বলে জানিয়েছেন এক উদ্ধারকারী। বহুতলের ভেঙে পড়া কংক্রিটের জঙ্গল সরিয়ে গিলকে উদ্ধার করতে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে।

    কোস্টা রিকার উদ্ধারকারী দলের এক সদস্য মিনইয়ার কোলাডো সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা যখন গিলকে উদ্ধার করলাম, ক্ষীণ কণ্ঠে তিনি আমাদের বারবার একটা কথাই বলছিলেন, আমি বেঁচে আছি এ কথাটা স্ত্রীকে জানাবেন না।’

    কোলাডো জানান, একটা নতুন জীবন পাওয়ার পরও গিলের এ ধরনের অনুরোধ শুনে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন উদ্ধারকারীরা। কেন তিনি এ কথা বলছেন, এটা জানতে চাওয়ায় গিল বলেছিলেন, ‘আমি এখন বেঁচে আছি ঠিকই, কিন্তু কতক্ষণ বাঁচব তারও তো নিশ্চয়তা নেই! তাই স্ত্রীকে না জানানোই ভালো।’ তবে গিলের বেঁচে ফেরার খবর পৌঁছে গিয়েছিল তার স্ত্রী গুসবিমান গোনজালেজের কাছে।

    আট দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে ছিলেন গিল। বাঁচার জন্য মরিয়া চেষ্টা করে গিয়েছেন। গিল বলেন, ‘একটা সময় মনে হয়েছিল, উদ্ধারকারীরা হয়তো আমার কাছে পৌঁছোতেই পারবেন না। আমি যে এখানে আটকে রয়েছি, কেউ জানতেই পারতেন না। ঈশ্বরের কৃপায় বেঁচে ফিরলাম।’

    গত ২৪ জুন দুই দফা ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল ভেনেজুয়েলায়। প্রথমটির কম্পনমাত্রা ছিল ৭.২ এবং দ্বিতীয়টির ৭.৫। এতে মৃত্যু হয়েছে আড়াই হাজারেরেও বেশি মানুষের। এখনও প্রাণের খোঁজ চলছে ধ্বংসস্তূপের নিচে। আর কেউ বেঁচে আছেন কি না, সেই খোঁজ যখন চলছিল, তখনই ১৪০ টন কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপের নীচে থেকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেল গিলকে।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গিল স্থানীয় একটি বহুতল শপিং মলে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন। যে সময়ে ভূমিকম্প হয় সেই সময়ে তিনি শপিং মলের বেসমেন্টে ছিলেন। পুরো শপিং মল কম্পনে ধসে গিয়েছিল।

  • পাক বাহিনীর ওপর ক্ষোভে ফুঁসছে আফগান মুসলিমরা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক

    পাক বাহিনীর ওপর ক্ষোভে ফুঁসছে আফগান মুসলিমরা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক

    চলতি মাসের শুরুতে আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশের সীমান্তবর্তী নিজ গ্রামে ফিরেন বিসমিল্লাহ খান। তার একটাই স্বপ্ন ছিল- উপসাগরীয় দেশগুলোতে ১২ বছর কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থে যে বাড়িটি নির্মাণ করেছেন, জীবনের বাকি সময় সেটিতেই শান্তিতে কাটাবেন।
    পঞ্চাশোর্ধ্ব এই ব্যক্তি বিদেশে কাজ করে উপার্জিত প্রতিটি টাকাই ব্যয় করেছিলেন সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য একটি দুইতলা বাড়ি নির্মাণে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই। সোমবার (২৯ জুন) ভোরের আগে চামকানি জেলার মান্দিখিল গ্রামজুড়ে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়, আর মুহূর্তেই বদলে যায় সবকিছু।

    আফগানিস্তানের দাবি, পাকিস্তান রাতভর সীমান্তবর্তী পাকতিকা, পাকতিয়া ও কুনার প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য বেসামরিক বাড়ির মধ্যে বিসমিল্লাহ খানের বাড়িটিও ছিল।
    আফগান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
    তবে পাকিস্তানের দাবি, তাদের বাহিনী তিনটি আফগান প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আস্তানায় ‘নির্ভুল’ অভিযান চালিয়েছে। দেশটির ভাষ্য, বিমান ও স্থল অভিযানে ২৯ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

    এদিকে কিছুক্ষণ আগেও যে স্থানটি ছিল নিজের বাড়ি, সেই পাথর ও কাদামাটির ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে বিসমিল্লাহ খান এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না, ঠিক কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে তার সবকিছু শেষ হয়ে গেল।
    কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে বিসমিল্লাহ খান বলেন, বাড়ির ভেতরে শুধু নারী ও শিশুরাই ছিল। এই হামলায় তার স্ত্রী ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। এছাড়া পরিবারের আরও প্রায় ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
    তিনি বলেন, আমি জানি না কেন আমাদের বাড়িটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হলো।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রথম হামলার কয়েক ঘণ্টা পর উদ্ধারকাজ চলার সময় আবারও পাক বাহিনী বিমান হামলা চালায়।
    ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে যখন স্থানীয়রা মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছিলেন এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করছিলেন, তখন দ্বিতীয় দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়।
    দ্বিতীয় দফার হামলার বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মারজিয়া খান ওয়ালি বলেন, আমরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া নারী ও শিশুদের খুঁজছিলাম। আহতদের হাসপাতালে নেয়ার জন্য গাড়িতে তোলার সময় আবারও যুদ্ধবিমানের শব্দ শুনতে পাই। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যারা মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছিল, তারাই হামলার শিকার হয়।
    প্রতিবেশী পাকতিকা প্রদেশের জিলান গ্রামের পাঁচ সন্তানের জননী জারমিনা ধ্বংস হয়ে যাওয়া নিজের বাড়ির ধ্বংসস্তূপের পাশে বসে আছেন। হামলায় তিনি তার স্বামী ও ছোট মেয়েকে হারিয়েছেন।

    ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা একটি কম্বল আঁকড়ে ধরে তিনি বলেন, বোমা পড়ার সময় আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছিল না। চোখ খুলতেই দেখি সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।
    তিনি আরও বলেন, রাজনীতি বা সশস্ত্র গোষ্ঠী সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। আমরা শুধু কৃষিকাজ করে জীবন চালাই।

    সীমান্তে আতঙ্ক
    কুনার প্রদেশে নতুন করে হামলার আশঙ্কায় সীমান্তসংলগ্ন গ্রামের কয়েক ডজন পরিবার নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, অনেক বাসিন্দাই এখন ঘরের পরিবর্তে খোলা মাঠে রাত কাটাচ্ছেন অথবা সীমান্ত থেকে আরও দূরের এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছেন।
    স্থানীয় উপজাতীয় প্রবীণ মেরা খান বলেন, “এখানকার মানুষ দুটি ভয়ের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে একটি যুদ্ধের ভয়, অন্যটি নিজের ঘরবাড়ি হারানোর ভয়।”

    আরও পড়ুন:

    ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে আইআরজিসি’র দুই সদস্যকে হত্যা

    কেন বাড়ছে উত্তেজনা?
    আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই সর্বশেষ এই বিমান হামলার ঘটনা ঘটলো। ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তান একাধিকবার সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালিয়েছে।
    ইসলামাবাদের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সদস্যরা আফগান ভূখণ্ডকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালাচ্ছে।
    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে টিটিপির হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এবং সামরিক স্থাপনাগুলো বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

    আরও পড়ুন:

    ইউজারনেম ব্যবহার করেই লগইন করা যাবে হোয়াটসঅ্যাপে

    পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে বলেন, বিদেশি মদদপুষ্ট ও সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের হুমকি সম্পূর্ণরূপে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ‘পূর্ণ গতিতে’ অব্যাহত থাকবে।
    অন্যদিকে তালেবান পরিচালিত আফগান সরকার সর্বশেষ বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে “আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন” এবং “নিরীহ বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা” বলে অভিহিত করেছে।
    দেশটির সরকার আরও জানিয়েছে, তারা ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান তালেবানের মধ্যে স্বাক্ষরিত দোহা চুক্তির প্রতিশ্রুতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।
    ওই চুক্তি অনুযায়ী, আফগান ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।

    শান্তির খোঁজে ফিরে এসে আবার যুদ্ধ
    পাকতিয়ার ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে বিসমিল্লাহ খান এখন শুধু বেঁচে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছেন। তিনি বলেন, একটি ভালো ভবিষ্যতের খোঁজে আমি বহু বছর নিজের দেশ ছেড়ে ছিলাম।
    কিছুক্ষণ নীরব থেকে তিনি আরও বলেন, আমি শান্তিতে বসবাসের আশায় দেশে ফিরেছিলাম। কিন্তু আমি ফেরার আগেই যুদ্ধ আমার দুয়ারে এসে পৌঁছেছে।

  • গড়াই নদী খনন প্রকল্প

    গড়াই নদী খনন প্রকল্প

    ৩৫০ কোটি টাকার বালু গায়েব

    ডেক্স নিউজ :কাগজে-কলমে বিপুল পরিমাণ বালু অপসারণের তথ্য থাকলেও বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। কুষ্টিয়ার গড়াই নদী খনন প্রকল্পের প্রায় ১০ কোটি ঘনমিটার বালুর কোনো হদিস নেই। সরকারি হিসাবে এ বালুর দাম ৩৫০ কোটি টাকা। তবে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি হলে বালুর দাম হতো দ্বিগুণ।

    স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রকাশ্যে এসব বালু লুট করেছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। আওয়ামী লীগ আমল থেকে একই স্টাইলে চলছে বালু লুট। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, সব দপ্তরে চিঠি চালাচালি করেও বালু লুট ঠেকানো যায়নি।

    সূত্রে জানা যায়, চার ধাপে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়ার গড়াই নদী খনন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০১৮ সালে সর্বশেষ ধাপে ৫৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে খননকাজ শেষ করা হয়। এ সময় নদীর তলদেশ থেকে ৪ কোটি ১৭ লাখ ঘনমিটার বালু অপসারণ করে ১০টি মৌজায় সংরক্ষণ করা হয়। বিপুল পরিমাণ এ বালুর মধ্যে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে মাত্র ১৭ লাখ ঘনমিটার বালু। বর্তমানে ছয়টি মৌজায় সংরক্ষিত আছে মাত্র ৬০ লাখ ঘনমিটার। বাকি ৩ কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার বালু কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই।

    কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ে গড়াই খননের সর্বশেষ ধাপে ৫৯০ কোটি টাকা ব্যয়ের নথি সংরক্ষিত আছে। সর্বশেষ ধাপের নথি অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ৩ কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার বালু লুটের তথ্য। কিন্তু আগের তিন ধাপে ১ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়াই খননের কোনো তথ্য কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডে সংরক্ষিত নেই। আবার খোদ কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, আগের তিন ধাপের খননের কোনো বালু বিক্রি করা হয়নি। তাহলে এত বালু কোথায় গেল-এমন প্রশ্ন করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা রসিকতা করে বলেন, ‘বালু বাতাসে উড়ে গেছে।’ গড়াই নদী খনন প্রকল্পের অপসারণ করা প্রায় সাড়ে তিন লাখ ঘনমিটার বালু ওই দুই মৌজায় সংরক্ষণ করে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড।

    ৫ জানুয়ারি জেলা পানিসম্পদ উন্নয়ন কমিটির সভায় সংরক্ষিত ওই বালু টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রির অনুমতি পায় মেসার্স শান্তা অ্যাসোসিয়েট নামে একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু টেন্ডারের কয়েকদিন পরই শান্তা অ্যাসোসিয়েটের প্রোপ্রাইটর শান্তা ইসলাম পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসককে লিখিত চিঠি দিয়ে জানান, ওই দুই মৌজায় খনন প্রকল্পের কোনো বালুই নেই। স্থানীয়রা বলছেন, এক বছর ধরে প্রতিদিন শত শত ডাম্প ট্রাকে এসব বালু পাচার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গড়াই নদী খনন প্রকল্পের বালু লুটে এখানে সবাই মিলেমিশে একাকার। প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের শাসনামলে শুরু হয় বালু লুটের মহোৎসব। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই একই স্টাইলে চলছে বালু লুট। এখানে আ.লীগ-বিএনপি, এনসিপি-সবাই বালু লুটে তারা এখন ‘এক গোয়ালের গরু’। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গড়াই নদীর নাব্য ফেরাতে প্রায় ২ হাজার ২২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড। ১৯৯৭ সাল থেকে চার ধাপে কুষ্টিয়ার ৪০ কিলোমিটারজুড়ে গড়াই নদীর তলদেশ থেকে বালু অপসারণ করা হয়।

    সর্বশেষ ২০১৮ সালে ৫৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন প্রকল্প থেকে প্রায় ৪ কোটি ১৭ লাখ ঘনমিটার বালু অপসারণ করা হয়। সে হিসাবে চার ধাপে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার খননে নদীর তলদেশ থেকে ১৬ কোটি ঘনমিটার বালু অপসারণ করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ এ বালুর মধ্যে ৬ কোটি ২০ লাখ ঘনমিটার বালুর হিসাব মিলেছে। এর মধ্যে খননের ৪০ কিলোমিটারে তীরবর্তী নিচু স্থান ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহার হয়েছে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ঘনমিটার বালু। অপরদিকে পদ্মা-গড়াই মোহনায় বাংলো নির্মাণ ও বনায়নে ব্যবহার হয়েছে সর্বোচ্চ এক কোটি ঘনমিটার বালু। আর বর্তমানে ছয়টি মৌজায় সংরক্ষণ রয়েছে আনুমানিক ৬০ লাখ ঘনমিটার বালু। এছাড়া টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে ১৭ লাখ ঘনমিটার। বালুখেকো আওয়ামী লীগের কয়েকটি গ্রুপ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব বালু লুট করেছে। নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে এক যুগ ধরে বড় বড় ডাম্প ট্রাকে বালু পাচার করা হয়। সেসময় গড়াই খননের বালু লুটের সংবাদ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে কৌশল পরিবর্তন করে বালুখেকোরা। এরপর জেলা প্রশাসনের দপ্তর থেকে নদীর বালুমহালের ইজারার কাগজ নিয়ে শুরু হয় প্রকাশ্যে খননের বালু লুট। এক বছরের জন্য ইজারা নিয়ে নদীর বালু উত্তোলনের পাশাপাশি প্রতিদিন শত শত ডাম্প ট্রাকে পাচার হয়েছে খননের বালু। এভাবে একের পর এক বিভিন্ন মৌজায় সংরক্ষিত লাখ লাখ ঘনমিটার বালু চলে যায় বালুখেকোদের পেটে। এ লুটের সঙ্গেও একজোট থেকে কমিশন নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারাও। যুগান্তরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ১৭ লাখ ঘনমিটার বিক্রির অনুমতি নিয়ে প্রায় ১ কোটি ঘনমিটার বালু নিয়ে গেছেন ইজারাদারের নামে রাজনৈতিক দলের নেতারা। এ স্টাইলে সবচেয়ে বেশি লুটপাট হয়েছে তিনটি মৌজার বালু। এর মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া মৌজা এবং কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া ও জয়নাবাদ মৌজা। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পালটে যায় বালু লুটের স্টাইল। এবার স্থানীয় প্রশাসনের দপ্তর থেকে নদীর তীরে কয়েক মাসের জন্য খাশকালেকননের কাগজ নিয়ে গড়াই খননের বালু লুটে মাঠে নামে এনসিপি ও বিএনপি নেতারা। অন্তত পাঁচটি শক্তিশালী ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে দিনে-রাতে শত শত ট্রাকে বালু বিক্রি করেন দুই দলের নেতারা। অল্পদিনে এ চক্রটিও প্রায় ১০ লাখ ঘনমিটার বালু খেয়ে ফেলেছে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহেদুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্প চলাকালীন আমি এখানে ছিলাম না। ২০২৫ সালের জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গেছে। আমি তারপর এখানে যোগদান করেছি। তখন যারা কর্মরত ছিলেন, তারা বলতে পারবেন ওই প্রকল্পের বালু কখন কোন কাজে ব্যবহার করেছেন।’

    এ এম

  • জার্মান শিবিরে সাপ আতঙ্ক !

    জার্মান শিবিরে সাপ আতঙ্ক !

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে উড়তে থাকা জার্মানির সামনে নতুন আতঙ্ক ভর করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার উইনস্টন-সালেমে নিজেদের বেস ক্যাম্পে বিষধর সাপের দেখা পাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে জার্মানদের। এ নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন জার্মান অধিনায়ক জশুয়া কিমিখ।

    এক সংবাদ সম্মেলনে জার্মান অধিনায়ক বলেন, ‘গতকালই আমরা আমাদের ক্যাম্পের ভেতর একটি সাপ দেখতে পাই। পরে আমাদের জানানো হয় যে সেটি বেশ বিষাক্ত ছিল। এর কামড় খেলে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ছুটতে হবে। এরপর থেকেই সবার মাঝে ভয় কাজ করছে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জার্মানরা তাদের অনুশীলন ক্যাম্পে যে সাপের মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেটি ছিল মূলত ‌‘কপারহেড’। নর্থ ক্যারোলিনায় এই প্রজাতির বিষাক্ত সাপ প্রায়ই দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা রাজ্যটি মূলত বিভিন্ন প্রজাতির সাপের জন্য পরিচিত। এই অঞ্চলে প্রায় ৩৭ প্রজাতির সাপের বসবাস রয়েছে বলে জানা যায়।

    কিমিখ বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে কামড় দিলে মানুষ মারা যাবে। তবে পরিস্থিতি যে অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে তা নিশ্চিত।’

    সাপের উপদ্রব নিয়ে ৩১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে সাধারণত নিজেদের কৌশল, ইনজুরি আর পরবর্তী প্রতিপক্ষ নিয়েই খেলোয়াড়দের ভাবনা থাকে। কিন্তু এখানে এসে মাঠের ঘাসে কী লুকিয়ে আছে, তা নিয়েও বাড়তি দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সাপটি যে বিষাক্ত ছিল তা জানার পর থেকেই পুরো দলের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ফুটবলাররা মাঠে প্রতিটি কদম ফেলার আগে মাটির দিকে তাকিয়ে দেখছে সেখানে সাপ আছে কি না। ঘাসের ওপর অসাবধানতাবশত পা পড়ে গেলেই যে বিপদ হতে পারে, তা সবাই বুঝতে পারছে।’

    বিশ্বকাপে জার্মানির পরের ম্যাচ আইভরি কোস্টের বিপক্ষে। আগামী ২১ জুন আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হবে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ক্যাম্পের বিষাক্ত সাপের উপদ্রব কীভাবে সামলানো যায়, সেটিই এখন জার্মানদের সামনে বড় পরীক্ষা।

  • গণমাধ্যমকে নিখুঁত করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন

    গণমাধ্যমকে নিখুঁত করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম সমাজ ও রাষ্ট্রের আয়না। সে কারণে এটিকে অবশ্যই নিখুঁত হতে হবে। কিন্তু গণমাধ্যমকে নিখুঁত করে গড়ে তোলার দায়িত্বও গণমাধ্যমকেই পালন করতে হবে। এজন্য সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গির ওপর দাঁড়াতে না পারলে ভবিষ্যতেও একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা যাবে না। সোমবার রাজধানীর তথ্য ভবনের ডিএফপি সম্মেলন কক্ষে ‘ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)’ আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় মিডিয়ার ব্যর্থতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ১৬ জুন বাকশালী শাসনে সংবাদপত্র বন্ধের কালো দিবস উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

    এনইসির যুগ্ম আহ্বায়ক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে, যুগান্তর সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদারের পরিচালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান।

    তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার কাছে মনে হয়েছে, গণমাধ্যমকে নিখুঁতভাবে করে গড়ে তোলার এ-সংক্রান্ত যত উদ্যোগ, তা সব সময় কিছুটা ছিল আংশিক। যেহেতু এটি কখনোই পূর্ণাঙ্গতা পায়নি এবং সে কারণেই বাংলাদেশের গণমাধ্যম একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা পারিনি। অবশ্যই বিগত দিনের সব সরকারের এ দায়-দায়িত্ব বহন করা উচিত।

    এজন্য সব পক্ষকে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কারণ আমরা যদি শুরুতেই আমাদের লক্ষ্যের ব্যাপারে ঐকমত্য তৈরি করতে না পারি এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারকে যদি একই মঞ্চে দাঁড় করতে না পারি, তাহলে এই কঠিন কাজটা অতীতে যে কারণে হয়নি, এবারেও কিন্তু সে কারণে আবার ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে।

    গণতন্ত্রকে কাঠামোবদ্ধ না করা পর্যন্ত আমরা গণতন্ত্র চর্চা করতে পারব না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখানে যে সমস্যাটি প্রধানত কারণ হিসেবে কাজ করেছে তাহলে- আমরা ভিন্নমত সম্মিলিতভাবে চর্চা করার জন্য যে সংস্কৃতি এবং তাকে কাঠামোবদ্ধ করার যে কাজ- সেটিকে কখনোই আমরা প্রাতিষ্ঠানিক করতে পারিনি। আমি খুবই আশাবাদী এবারে আপনাদের এই (সেমিনারে দেওয়া) বক্তব্য এবং ইতোমধ্যে অন্য যার যার সঙ্গে আমি কথা বলেছি তাদেরও যে লক্ষ্য এবং কনক্লুশন আমি তার মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য খুঁজে পাইনি।

    তিনি বলেন, বৈচিত্র্যের যে একটা সম্মিলিত অবস্থান- আমরা যদি সেটাকে একবার দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারি এবং সেখানে যদি আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে একটা কমিশন দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারি তাহলেই কিন্তু সব সমস্যার সমাধানের একটা আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে তা আমরা করতে পারব।

    সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস হচ্ছে একনায়কতন্ত্র বাকশালের ইতিহাস। আওয়ামী লীগের ইতিহাস হচ্ছে ফ্যাসিবাদের ইতিহাস, সংবাদপত্র দলনের ইতিহাস। স্বাধীনতার পর থেকেই আমরা এটা দেখে এসেছি এবং আজকের যে বিষয়ে সেমিনার, সেই সংবাদত্রের কালো দিবস হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন। তাই, আওয়ামী লীগের সঙ্গে মানুষের অধিকার ছিন্ন করবার ইতিহাসটা স্বাধীনতার পরবর্তীকাল থেকেই চলছে। আজকের মূল প্রবন্ধে আমাদের বক্তব্য মোটামুটি দেওয়া হয়ে গেছে।

    শেখ রেহানার কন্যা ও ইংল্যান্ডের সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সম্পর্কে একটি মন্তব্য করায় ২০১৭ সালে নিজের নামে ৩৫টি মামলা হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে মাহমুদুর রহমান বলেন, কোনো একটি প্রসঙ্গে আমি বলেছিলাম- সংবাদপত্র বা মিডিয়ার প্রতি অসহিষ্ণুতা শেখ পরিবারের জিনের মধ্যে আছে। কারণ-শেখ সাহেব সরকারপত্র ধ্বংস করেছিলেন, তার কন্যা শেখ হাসিনা সংবাদপত্র নিয়ে কি করেছে, সবাই জানেন এবং টিউলিপও লন্ডনের একটি পত্রিকার সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। সেই প্রসঙ্গেই আমি বলেছিলাম যে শেখ পরিবারে জিনের সমস্যা আছে, তারা মুক্ত গণমাধ্যম সহ্য করতে পারে না। এটা বলার কারণে আগের ১০০ টির সঙ্গে আমার বিরুদ্ধে ৩৫ টি নতুন মামলা হয়েছিল। এই ধরনের একটা মামলায় হাজিরা দিতে গিয়েই কুষ্টিয়াতে আক্রান্ত হয়েছিলাম।

    এই সেমিনার আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, আমরা এই ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। আর এই পরিবর্তন চাইতে গেলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

    তিনি বলেন, আমরা মিডিয়াকে কোটারিমুক্ত করে এটাকে জাতীয় চরিত্র দিতে চাই। এজন্য আমাদের সংগঠনের নাম ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল দিয়েছি এবং এতে প্রথমবারের মত ঢাকার বাইরের সম্পাদকরাও আছেন।

    মাহমুদুর রহমান বলেন, আমরা মিডিয়ার প্রকৃত স্বাধীনতা চাই। অর্থাৎ আমার মতটা যাতে আমি প্রকাশ করতে পারি। আপনার যদি আমার মত পছন্দ না হয়, তাহলে আপনি লিখে আমার মতের প্রতিবাদ করবেন। তবে আমার কণ্ঠরোধ করবেন না। এটাই আমাদের চাওয়া। এটাই মিডিয়ার প্রকৃত স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা করতে হলে আমাদের অন্তত এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

    তিনি বলেন, সম সম্পাদকীয় নীতি এক হবে না। তবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সহ কিছু মৌলিক ইস্যুতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি। ফ্যাসিবাদী আমলে এই জিনিসটাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। যেমন-সে সময় প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল-বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমকে। অথচ শপথ ভঙ্গের কারণে তার ইমপিচমেন্ট হওয়া উচিত ছিল। শেখ হাসিনা সরকার মিডিয়াকে কিভাবে দেখতেন, তিনি বা তার সরকার দেখতো সেটা আমরা এই নিয়োগ থেকে আমরা বুঝতে পারি।

    এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, সরকারের নিয়োগগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নিয়োগগুলো মেসেজ দেয় যে সরকার আসলে কি বলতে চাচ্ছে, কি করতে চাচ্ছে। এই কারণেই নিয়োগের ব্যাপারে তারা যেন সতর্ক থাকে।

    তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের সহযোগীরা আত্মশুদ্ধি করে আমাদের ঐক্যে আসতে চাইলে আপত্তি নেই। তবে যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, বা গণহত্যাকে জায়েজ করেছেন, তাদের এই ঐক্যের মধ্যে নেয়ার সুযোগ নেই। তাদের ক্রিমিনাল আইনে বিচার হতে হবে। আমরা আশাকরি, শেখ হাসিনা মিডিয়ার যে স্বাধীনতা ধ্বংস করেছিল, ড. ইউনূস সরকারের সময় সেটার অনেকাংশে পুনরুদ্ধার করেছেন, বর্তমান সরকারও সেটা অব্যাহত রাখবে।

    সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন- নয়াদিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, বিএফইউজে সাধারণ সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশের খবর সম্পাদক সৈয়দ মেছবাহউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন, পিআইবি চেয়ারম্যান ফারুক ওয়াসিফ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি রাশেদুল ইসলাম এবং নিউ টাইমস সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।

    এ ছাড়া বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদকসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

  • ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

    ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

    ‘প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে মসুর ডাল কেনা হবে। সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার্থে ৫০ কেজির বস্তায় এ ডাল সরবরাহ করা হবে।’

    বাজার দর স্থিতিশীল রাখতে এবং সারাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে মোট ৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

    বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৬তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

    কর্মকর্তারা জানান, প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে মসুর ডাল কেনা হবে। সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার্থে ৫০ কেজির বস্তায় এ ডাল সরবরাহ করা হবে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। একটি উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে রাজশাহীর পবা উপজেলার দাউকান্দির ভেড়াপোড়া বাজারে নাবিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে অবস্থিত নাবিল নাবা ফুডস লিমিটেডকে এ কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।

    কর্মকর্তারা আরো বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা, অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে সরকারের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ ডাল সংগ্রহ করা হচ্ছে।

  • রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে সরকার।

    রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে সরকার।

    এ বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব শবনম মুস্তারী রিক্তা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন উপলক্ষে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠি অনুযায়ী, দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের লক্ষ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

    এ উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, উপজেলা প্রশাসনসহ দেশের প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

    কার্যবিবরণী বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে স্মারক পাঠানো হয়েছে।

    একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, তথ্য অধিদপ্তর এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরকে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বলা হয়েছে।

    জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিশেষ প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও কার্যবিবরণীতে নির্দেশনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    মাঠ প্রশাসনের অংশ হিসেবে দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছেও কার্যবিবরণী পাঠানো হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দিবসটি উদযাপনের জন্য সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    দিবসটি উদযাপনের প্রস্তুতির সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবহন, ধর্ম, সমাজকল্যাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মহিলা ও শিশুবিষয়ক, প্রবাসী কল্যাণ, পরিবেশ, বাণিজ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

    এতে জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন খাতভিত্তিক বিশেষ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    এদিকে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ স্কাউটস, বিএনসিসি এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদকেও কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য অবহিত করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে বলে জানা গেছে। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসকে জাতীয় পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণভাবে পালনের লক্ষ্যে সারাদেশে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা, আলোচনা সভা, দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠান এবং গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

    মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দিবসটির গুরুত্ব জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য বলা হয়েছে।

  • বিদেশর ব্যাপারে দালালের  হাতে টাকা দিয়ে প্রতারিত হবেন না-চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাষক

    বিদেশর ব্যাপারে দালালের  হাতে টাকা দিয়ে প্রতারিত হবেন না-চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাষক

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি বিদেশ যাওয়ার আগে কোনভাবেই দালালের হাতে টাকা দেবেন না। সরকারী অফিসে যোগাযোগ করবেন। প্রশিক্ষন নিবেন। নিজেকে দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলবেন ।তারপর বিদেশ যাবেন। দক্ষ কর্মী বিদেশে গেলে বেশী বেতনে চাকরী করেন। দেশ ও পরিবারের সুনাম বয়ে আনেন। শনিবার (২ আগস্ট) সকালে জেলার সাহিত্যমঞ্চে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মরণে রেমিট্যান্স যোদ্ধা দিবস উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় তিনি আরো বলেন, অদক্ষ কর্মী বিদেশে গেলে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। এক সময় সে পরিবার ও দেশের জন্য দৃর্নাম বয়ে আনে। তাই আপনার কোনভাবেই দালারের মাধ্যমে প্রতারিত হবেন না। সরকারীভাবে বিদেশ যাবেন। জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা বলেন, জেলার সার্বিক আেইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন ভালো আছে। আপনারা যে কোন সমস্যায় নিজেরা আইন হাতে নিবেন না। পুলিশের সহযোগিতা করবেন এবং পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। সভায় রেমিট্যান্স যোদ্ধা আমেরিকা প্রবাসী আনসার আলী ও জর্ডান প্রবাসী পারভীন আক্তারকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এসময় উপজেলার বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।