Uncategorized

  • হানিমুনে থেকে মন্ত্রীসভায়!

    হানিমুনে থেকে মন্ত্রীসভায়!

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিকের ক্যারিয়ার ছেড়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন হ্যামিশ ফল্কনার। তার অন্যতম শেষ কাজ ছিল তালেবানের হাত থেকে ছয়জন জিম্মিকে মুক্ত করার আলোচনা পরিচালনা করা।

    ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লিংকন আসন থেকে এমপি হওয়ার পর তিনি ভাবেননি যে এত দ্রুত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুরোনো অফিসে তাকে ফিরতে হবে। নির্বাচনে বিজয়ের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় তাকে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এর দুই বছর পর, নিজের প্রজন্মের প্রথম তিন এমপির একজন হিসেবে তিনি মন্ত্রীসভায় জায়গা করে নিয়েছেন। এবার তার আলোচনার টেবিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

    ছুটি বাতিল করতে জরুরি আহ্বান: অ্যান্ডি বার্নহ্যামের চিফ হুইপ অ্যানেলিস মিডগ্লে ফল্কনারের পুরনো বন্ধু। তিনি ভেবেছিলেন মন্ত্রীসভার রদবদল নিয়ে মিডগ্লে তাকে আগেই আভাস দেবেন। কিন্তু গোপনীয়তার কারণে তিনি বিষয়টি জানানো হয়নি। ফলে গ্রিসে বিয়ের ছুটিতে থাকার সময় এই পদোন্নতির খবর পেয়ে তিনি চমকে যান। ফল্কনার জানান, জুন মাসে বিয়ে করলেও তারা ভেবেছিলেন গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময়ে ঘুরতে যাওয়া নিরাপদ হবে। কিন্তু ছুটি শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার কাছে জরুরি ফোন আসে এবং প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে যোগ দিতে দ্রুত তাকে দেশে ফিরতে হয়। ৫টার ফ্লাইটে সম্ভবত তিনিই একমাত্র যাত্রী ছিলেন যিনি স্যুট পরে ভ্রমণ করছিলেন।

    ইউরোপীয় সম্পর্কের নতুন লক্ষ্য: মন্ত্রীসভায় তিনি ইউরোপী সম্পর্কের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে পরবর্তী শীর্ষ সম্মেলনের আলোচনা পরিচালনা করবেন। সাবেক মন্ত্রী নিক থমাস-সিমন্ডসের প্রশংসা করে ফল্কনার বলেন, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চান। এটি সরকারের জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানি নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তার বাবা চার্লি ফল্কনার সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের বিচার বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। ফলে পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্ম হিসেবে ফল্কনার ক্যাবিনেটে যোগ দিলেন। গত দুই বছর ধরে ইসরাইল, গাজা, ইরান, সুদান ও চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে পার্লামেন্টে রেকর্ড সংখ্যক জরুরি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি।

    গাজা পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ ভাবনা: গাজা সংকট প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফল্কনার জানান, প্রথম মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে পেরে তিনি গর্বিত। গাজা থেকে উদ্ধার করা শিশু ও যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা শুরু করা শিক্ষার্থীদের কথা তিনি কখনও ভুলবেন না। তিনি স্বীকার করেন, বিগত দুই বছরের মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ছিল এবং সেই কষ্টের অভিজ্ঞতা তিনি সবসময় বয়ে বেড়াবেন। নিজের নির্বাচনী এলাকা লিংকনের অফিসে বসে তিনি জানান, রিফর্ম ইউকে এবং কনজারভেটিভদের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লেবার পার্টি জনগণের জন্য কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউরোপের সাথে বাণিজ্য সহজ করে স্থানীয় ব্যবসার বিকাশ ঘটানোই তার মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

  • নাইজারে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ সেনা সদস্যসহ অন্তত ২২ জনের মৃত্যু

    নাইজারে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ সেনা সদস্যসহ অন্তত ২২ জনের মৃত্যু

    নাইজারে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৭ জন সেনা সদস্যসহ অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, এই দুর্ঘটনায় আরও ৩৭ জন আহত হয়েছেন। এ খবর বার্তা সংস্থা এএফপি।

    মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মাদাউয়া শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা এএনপি জানায়, বাস দুটির একটিতে সেনা সদস্যরা ভ্রমণ করছিলেন এবং এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত শুরু হয়েছ

    সাহেল অঞ্চলের বিশাল এই দেশটির সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা একটি নিয়মিত ঘটনা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। নাইজেরিয়ান এজেন্সি ফর রোড সেফটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নাইজারে সাত হাজারের বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল।

    এতে ১২শ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং ৪৪ শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হন। অতিরিক্ত গতি, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং রাস্তাঘাট ও গাড়ির বেহাল দশাই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

  • ইতালির-স্পেন বিরোধ তুঙ্গে, সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ মাদ্রিদের

    ইতালির-স্পেন বিরোধ তুঙ্গে, সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ মাদ্রিদের

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই দেশ স্পেন ও ইতালির মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠার জেরে এবার ইতালি থেকে আকাশ ও সমুদ্রপথে সব ধরনের যাত্রার ওপর সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে স্পেন।

    স্থানীয় সময় গতকাল গ্রিনিচ মান সময় মধ্যরাত থেকে ওই সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হয়েছে, যা আগামী এক মাস জারি থাকবে।

    ইতালি তাদের স্পেন সীমান্তের ওপর একই ধরনের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার এক সপ্তাহ পর মাদ্রিদ পাল্টা এ ব্যবস্থা নিল।

    সম্প্রতি মরক্কো থেকে প্রায় ৭৮ হাজার অভিবাসী স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় প্রবেশ করার পর ইতালি তাদের স্পেন সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে গত ৩০ জুলাই সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৫০ হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন।

    ইতালির সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত স্পেনকে ক্ষুব্ধ করে। গতকাল শুক্রবার মাদ্রিদ রোমকে রোববারের (আগামীকাল) মধ্যে তাদের আরোপিত সীমান্ত তল্লাশি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবি জানায়।

    জবাবে রোম জানায়, অন্তত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এসব ব্যবস্থা বহাল থাকবে। ইতালির আশঙ্কা, ওই সময় স্পেনের সেউতায় অভিবাসীদের নতুন একটি ঢল আসতে পারে।

    সেউতায় অভিবাসী–সংকট স্পেনের সমাজতান্ত্রিক নেতা পেদ্রো সানচেজ এবং ইতালির রক্ষণশীল নেতা জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে বিরোধকে সামনে নিয়ে এসেছে। মেলোনি দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন-সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।

    মরক্কোর দিক থেকে সাঁতরে সীমান্ত বেড়া পেরিয়ে স্পেনের ছিটমহল সেউতায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা

    ইতালির সঙ্গে স্পেনের কোনো স্থলসীমান্ত নেই। ইতালির সরকার গত সপ্তাহে ঘোষণা দেয়, তারা সাময়িকভাবে শেনজেন অঞ্চলের অবাধ যাতায়াতব্যবস্থা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের কেউ ইতালিতে যেতে না পারেন।

    ইতালীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, সীমান্ত তল্লাশি পরিচালনাকারী স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্পেন ও ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে স্পেন হয়ে ইতালিতে আসা যাত্রীদের জন্য সর্বোচ্চ স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ‘সম্ভব সবকিছুই’ করছে।

    ইতালিতে প্রবেশের সময় স্পেনের নাগরিকেরা অতিরিক্ত তল্লাশি থেকে ছাড় পাবেন। এই অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের বাসিন্দাদের জন্য প্রযোজ্য বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে রোম।

    তবে স্পেনের দৈনিক ‘এল পাইস’–এর খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কয়েকটি বিমানবন্দরের টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। স্পেন থেকে আসা যাত্রীদের তল্লাশির জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ লাইনে দাঁড়াতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

    স্পেন সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার মাদ্রিদ যে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার মধ্যে ইতালি থেকে আসা ইতালীয় যাত্রী এবং অন্যান্য দেশের দর্শনার্থীদের পাসপোর্ট, জাতীয়তা ও ভিসা পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটি বর্তমানে অব্যাহত অনিয়মিত অভিবাসন চাপে পড়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই তল্লাশি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে, তবে যে পরিস্থিতির কারণে এটি চালু করা হয়েছে, তাতে পরিবর্তন এলে এই সময়সীমা সংশোধন করা হতে পারে।

    শেনজেন চুক্তির প্রয়োগ সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘটনা নতুন নয়। ইতালি এরই মধ্যে স্লোভেনিয়ার সঙ্গে তার সীমান্তে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বজায় রেখেছে।

    ইতালি এক মাসের জন্য শেনজেন ব্যবস্থা স্থগিতের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটিকে ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক সমর্থন করেছে। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্র স্পেনের শেনজেন সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

    কেন হাজারো অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন কমিশনার ম্যাগনুস ব্রুনার বলেছেন, এ ঘটনার পেছনে ভুয়া তথ্য ছড়ানো বিভিন্ন অপরাধী চক্র দায়ী হতে পারে। স্পেন সরকারও এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত হয়েছে।

    মরক্কো থেকে স্পেনের শহর সেউতায় পৌঁছেছেন বিপুলসংখ্যক অভিবাসী। স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের পর সেউতায় অভিবাসী প্রবেশের এ ঘটনা ঘটে। ওই রায়ে বলা হয়েছে, সেউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছানোর চেষ্টার সময় সমুদ্রে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না।

    অন্যদিকে মরক্কো এই সংকটের জন্য আদালতের রায়কেই দায়ী করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশটির সরকারের একটি সূত্র স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছে, ‘অপরাধী চক্রের চাপে নয়, বরং আদালতের একটি রায়ের ফলে অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর প্রতিরোধব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং অভিবাসীদের ঢল নেমেছে।’

    একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ সাঁতার কেটে সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করায় প্রশ্ন উঠেছে, মরক্কোর সীমান্তরক্ষীরা কেন তাদের থামানোর চেষ্টা করেনি।

    স্পেনের এই দুটি ছিটমহল (সেউতা ও মেলিয়া) দীর্ঘদিন ধরেই স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধের অন্যতম কারণ হয়ে আছে। মরক্কো এসব অঞ্চলের ওপর স্পেনের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয় না।

  • এসপ্রিয়েলা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট !

    এসপ্রিয়েলা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট !

    কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডানপন্থি আইনজীবী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, সরকারি ব্যয় সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ কমানো এবং দেশের তেল ও গ্যাস শিল্প পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।

    ৪৮ বছর বয়সি দে লা এসপ্রিয়েলা শুক্রবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে প্রথা ভেঙে শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান রাজধানী বোগোতায় না করে আয়োজন করা হয় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর ক্যালিতে। দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সরকারের সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এই শহর।

    শপথগ্রহণের স্থান হিসেবে ক্যালিকে বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিদায়ী বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার কৌশল থেকে স্পষ্টতই সরে আসার বার্তা দিয়েছেন দে লা এসপ্রিয়েলা। দে লা এসপ্রিয়েলা শুরু থেকেই পেত্রোর নীতিকে ব্যর্থ বলে সমালোচনা করে আসছেন।

    শুক্রবার শপথ নেওয়ার পর দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, ‘দেশের স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো কৌশল বা তৎপরতার সুযোগ দেওয়া হবে না।’ মাদক-সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

    এসপ্রিয়েলা আরো বলেন, ‘সংলাপের পথ পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।’

    কলম্বিয়ার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, ‘তার সরকার কলম্বিয়ায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আপনাদের অংশীদার হবে।’

    তিনি জানান, তার সরকার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি ইকোপেত্রোলের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে কাজ করবে।

  • বৃষ্টির পর কমতে শুরু করেছে সবজির দাম

    বৃষ্টির পর কমতে শুরু করেছে সবজির দাম

    টানা বৃষ্টির কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চড়া ছিল রাজধানীর সবজির বাজার। বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও এখন সেই তুলনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

    রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শুক্রবার (৭ আগস্ট) দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে টমেটো, কাঁচা মরিচ, বেগুন, গাজর ও করলার মতো কয়েকটি সবজির দাম এখনো ১০০ টাকা বা তার বেশি রয়েছে।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে। গেল কিছুদিন কাঁচা মরিচের কেজি ৪০০ টাকা ছুঁয়ে গেলেও বর্তমানে দাম কমে ৩২০ টাকায় নেমে এসেছে।

    আজকের বাজারে প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, ঝিঙা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ধন্দুল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া, প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, মুলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ টাকা, বেগুন (গোল) প্রতি কেজি ১০০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১০০ টাকা, কঁচু প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৩২০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মালিবাগ বাজারে কেনাকাটা করতে এসেছেন সরকারি চাকরিজীবী রইস উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে সবজির যে বাড়তি দাম ছিল, সেই তুলনায় আজ কিছুটা কম মনে হচ্ছে। তারপরেও সবজির দাম এখনো ১০০ টাকা বা ১০০ টাকার উপরে রয়ে গেছে। তবে অনেক সবজি ৬০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০ টাকায় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও আগের চেয়ে কমে এখন ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সবমিলিয়ে বলা যায়, গেল কয়েক সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমেছে।’

    সবজির দামের বিষয়ে রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা এনামুল হক বলেন, ‘মূলত টানা বৃষ্টির কারণে ফসলের খেতে সবজিগুলো নষ্ট হয়েছিল, এজন্য বাজারের সরবরাহ অনেক কম ছিল। সব মিলিয়ে গেল কয়েক সপ্তাহে সবজির দাম বাড়তি ছিল, সেই তুলনায় আজ সবজির দাম কিছুটা কমে এসেছে। টানা বৃষ্টি আবার না হলে, সবজির দাম এমন কমের পথেই থাকবে। বর্তমান বাজারে ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বেশিরভাগ সবজি পাওয়া যাচ্ছে। তবে মৌসুম না হওয়া এবং সরবরাহ কম থাকার কারণে কিছু সবজি ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে সবজির দাম এখন কমের পথেই থাকবে।’

  • সামাজিকমাধ্যমে ‘কারফিউ’ মানবেনা কিশোর-কিশোরীরা

    সামাজিকমাধ্যমে ‘কারফিউ’ মানবেনা কিশোর-কিশোরীরা

    যুক্তরাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারে রাতের নিষেধাজ্ঞা মানতে চান না বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরী। শুক্রবার প্রকাশিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    যুক্তরাজ্য সরকার জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী কিশোর কিশোরীদের জন্য রাতের বেলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ‘কারফিউ’ চালুর পরিকল্পনা প্রকাশ করে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের সময় এ পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।

    প্রস্তাবিত এই কারফিউ ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। গত জুনে স্টারমার ঘোষিত ওই নিষেধাজ্ঞায় স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকসহ জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ডিফল্ট সেটিংস হিসেবে রাতের সময়সীমা চালু থাকবে। এর ফলে মধ্যরাত থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত তারা এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবে না। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে এই সুবিধা বন্ধ করতে পারবেন।

    পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সেন্সাসওয়াইডের করা জরিপে দেখা গেছে, ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ৮৫ শতাংশ এই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করার কথা জানিয়েছে।

    জরিপে অংশ নেওয়া কিশোর-কিশোরীদের প্রায় অর্ধেক জানিয়েছে, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য তারা এই ফিচারটি বন্ধ করে দেবে। অন্যদিকে ৩৭ শতাংশ জানিয়েছে, অনলাইন কনটেন্ট দেখার জন্য তারা কারফিউ থেকে বেরিয়ে আসবে।

    জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে অনলাইন রেসপনসিবিলিটি নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রক বিভাগের প্রধান লিয়ান প্রোক্টর বলেন, শুধু কারফিউ চালু করলেই অনলাইনের ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকানো সম্ভব হবে— এমন সম্ভাবনা কম। অনলাইন ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য শুধু কারফিউ যথেষ্ট হবে না।

    জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার কিশোরের ২ শতাংশ বলেছে, তারা স্কুল চলাকালীন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বা স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও দেখা থেকে বিরত থাকে।

    অন্যদিকে, ১৮ শতাংশের বেশি কিশোর- কিশোরী জানিয়েছে, তারা রাত ১টা বা তার পর পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট দেখে।

    শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন বলেন, প্রস্তাবিত কারফিউ ব্যবস্থার ডিফল্ট সেটিংস যদি বিপুলসংখ্যক কিশোর বন্ধ করে দেয়, তাহলে এর ঐচ্ছিক বা স্বেচ্ছামূলক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

    যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, তাদের এই পরিকল্পনা অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা থেকে অনুপ্রাণিত। অস্ট্রেলিয়ায় গত ডিসেম্বরে ওই নিষেধাজ্ঞা চালু হয়, তবে সেখানে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের জন্য কোনো কারফিউ নেই।

    অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা চালু করে। তবে এখন পর্যন্ত এর ফলাফল মিশ্র বলে বিবেচিত হচ্ছে।

  • নতুন ঠিকানায় আরবের উট

    নতুন ঠিকানায় আরবের উট

    আরব মরুভূমির আদি নিবাস থেকে বহু দূরে অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত মরু ও তৃণভূমি অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছে লাখ লাখ উট। এসব উট দিয়ে বুনো উটের দৌড় প্রতিযোগিতা, বিকল্প দুধ উৎপাদন, এমনকি বিয়ার তৈরির মতো কাজও করা হচ্ছে।

    উনিশ শতকে ব্রিটিশ উপনিবেশকারীরা পরিবহনের কাজে অস্ট্রেলিয়ায় উট নিয়ে এসেছিল। পরে গাড়ির ব্যবহার শুরু হলে উটের প্রয়োজন কমে যায় এবং অনেক উটকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় উটের সংখ্যা আনুমানিক ৩ লাখ থেকে ১০ লাখের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়।

    এর মধ্যে অনেক উটই বন্য হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এসব উট মরুভূমি অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়ে নানা সমস্যা তৈরি করে; গবাদিপশুর সঙ্গে খাবারের জন্য প্রতিযোগিতা করে, বেড়া নষ্ট করে, পানির উৎস নোংরা করে এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলোর ক্ষতি করে।

    তবে প্রশিক্ষিত ও গৃহপালিত উট অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি সীমিত রপ্তানি বাজার তৈরি করেছে। দেশটির খামারিরা উটের দুধ বিক্রির পাশাপাশি কখনো কখনো জীবিত উটও রপ্তানি করেন। ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ৬৮টি উট মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানি করা হয়েছে।

    বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার উটের মাংস রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৯ লাখ ডলারের বেশি।

    দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রোব শহরের হাম্পালিশিয়াস খামারের মালিক ও সাবেক নৌ-ক্যাপ্টেন ওয়ারউইক হিল তার উটগুলোর গুণের প্রশংসা করেন।

    উটকে আদর করতে করতে তিনি বলেন, ‘এদের সঙ্গে কাজ করা খুবই ভালো। খুব সহজেই এদের পোষ মানানো যায়।’

    তিনি বলেন, ‘আপনি যদি তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেন, তারাও সাধারণত একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।’

    হিল জানান, উটের দুধে নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদের জন্য। তিনি প্রতি লিটার দুধ ২০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে বিক্রি করেন।

    হিল জোর দিয়ে বলেন, ‘অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত’ প্রচলিত দুধের তুলনায় উটের দুধ অনেক বেশি উন্নত ও গুণগত মানসম্পন্ন। আমরা এখনো এমন কাউকে পাইনি, যে উটের দুধ খেতে পারে না।

    তবে ব্যবসার পরিমাণ এখনো বড় নয়। খামারটি উট থেকে আয়ের পাশাপাশি পর্যটন ও হোমস্টে কার্যক্রম থেকেও আয় করে।

    হিলের মতে, উটের দুধের বাজারের সম্ভাবনা ব্যাপক হলেও এর উচ্চ মূল্য বড় প্রতিবন্ধকতা। শ্রমের মজুরি এবং উটের তুলনামূলক কম দুধ উৎপাদনের কারণে দাম বেশি পড়ে যাচ্ছে।

    তার মতে, উটের দুধের বিশেষ গুণ রয়েছে। একবার উটের দুধের স্বাদ পেলে সবাই অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে এটিই পান করতে বেশি পছন্দ করবে।

    অস্ট্রেলিয়ার আরও উত্তরে উটকে ব্যবহার করা হচ্ছে আরও রোমাঞ্চকর কাজে। অ্যাডিলেড থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার উত্তরে প্রত্যন্ত শহর মারিতে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় মারি ক্যামেল কাপ—উট দৌড় প্রতিযোগিতা।

    ১৮৬০-এর দশকে আফগানিস্তানসহ মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু মুসলিম উটচালককে অস্ট্রেলিয়ায় আনা হয়। দেশটির মরুপ্রধান অভ্যন্তরীণ এলাকায় পরিবহনের কাজে উট পরিচালনার জন্য তাদের ব্যবহার করা হতো।

  • ইন্দোনেশিয়ায় আতঙ্ক ছড়ানো বন্য বানর আটক, আহত ১৭

    ইন্দোনেশিয়ায় আতঙ্ক ছড়ানো বন্য বানর আটক, আহত ১৭

    ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ প্রদেশে কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলা চালিয়ে অন্তত ১৭ জনকে আহত করার অভিযোগে একটি বন্য বানর আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

    বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্দ্রাগিরি হিলির রিজেন্সির তেম্বিলাহান শহরে পুলিশ, সামরিক বাহিনী, দমকলকর্মী ও বন্যপ্রাণী কর্মকর্তাদের যৌথ অভিযানে বানরটিকে আটক করা হয়। এ জন্য ওই এলাকায় ফাঁদ পাতা হয়েছিল।

    ইন্দ্রাগিরি হিলির পুলিশ প্রধান দনি একো লিস্তিয়ান্তো জানান, রিয়াউয়ের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংস্থা (বিকেএসডে) বানরটির সম্ভাব্য লুকানোর জায়গায় তিনটি ফাঁদ বসায়। এর মধ্যে একটি ফাঁদে সেটি ধরা পড়ে।

    কর্তৃপক্ষের ধারণা, ২৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলার জন্য আটক করা বানরটিই দায়ী। তেম্বিলাহান এলাকায় লম্বা লেজের ম্যাকাক-এর একটি দল দেখা দেওয়ার পর এসব হামলা শুরু হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন—শিশু ও বয়স্ক লোক—বানরের হামলার শিকার হয়েছেন। বড় আকৃতির একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বানরকেই হামলাগুলোর জন্য সন্দেহ করা হচ্ছিল। সড়কে, বাড়ির বাইরে এমনকি কয়েকটি বাড়ির ভেতরেও এসব হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের কয়েকজনকে সেলাই দিতে হয়েছে।

    নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তেম্বিলাহান জেলার সব স্কুলে তিন দিনের জন্য সরাসরি ক্লাস বন্ধ করে বুধবার থেকে অনলাইনভিত্তিক পাঠদান চালুর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

    জেপিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আটক বানরটির আকার, আক্রমণাত্মক আচরণ এবং মুখের একটি বিশেষ দাগ—ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে মিলে গেছে। ফলে এটিকেই হামলাকারী বানর বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

  • সিএনজি স্টেশনে গ্যাস-সংকট, ভোগান্তি অব্যাহত

    সিএনজি স্টেশনে গ্যাস-সংকট, ভোগান্তি অব্যাহত

    রাজধানীতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখনও দীর্ঘ যানবাহনের সারি কাটেনি। পর্যাপ্ত চাপের অভাব এবং নির্ধারিত সময়ে গ্যাস না পাওয়ায় দিন-রাত ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সিএনজি অটোরিকশা, বাস ও প্রাইভেট কার চালকদের।

    ফলে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নাগরিক জীবনে মারাত্মক চাপ তৈরি করেছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও, কল্যাণপুর, শ্যামলী ও গাবতলী এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সংকট অব্যাহত রয়েছে। মাঝেমধ্যে গ্যাস আসলে স্টেশনগুলো যানবাহনে দিচ্ছেন, আবার চলে গেলে বসে থাকতে হচ্ছে। গতরাতে আসা গ্যাস প্রায় সকাল পর্যন্ত ছিল। কিন্তু সকালের পর অনেক স্টেশনে গ্যাস নেই।

    গত কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা এ গ্যাসের সংকট চলছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই গ্যাসের লাইনে এসে দাঁড়ান চালকরা, যা অনেক সময় দুপুর কিংবা বিকাল পর্যন্ত গড়ায়। চালকদের অভিযোগ, স্টেশনে গ্যাসের প্রেসার বা চাপ এতই কম যে, একটি গাড়িতে গ্যাস নিতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগছে। এতে করে সারাদিনের সিংহভাগ সময় লাইনেই কেটে যায়, যা তাদের দৈনিক আয়ে বড় ধরনের ধস নামিয়েছে।

    তেজগাঁও আকিজ সিএনজি পাম্পের বিক্রয়কর্মী তারেক বলেন, ‘‘রাত সাড়ে ৯ টার দিকে গ্যাসের সরবরাহ আসে। তখন আমরা গ্যাস দেওয়া শুরু করি। কিন্তু ভোর থেকে লাইনে আর কোনও গ্যাস নেই।’’

    চলমান এমন পরিস্থিতি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস ও সিএনজি অটোরিকশা আটকে থাকায় রাস্তায় গণপরিবহনের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অফিস খোলা দিনগুলোতে যাওয়া-আসা এবং জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও যানবাহন না পেয়ে অনেকে হেঁটে বা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

    এদিকে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় এবং লাইনে স্বল্প চাপ থাকায় গ্রাহকদের দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রেসার না থাকলে পাম্পের কমপ্রেসর চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যার ফলে স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ গাড়িতে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হতো, এখন তার অর্ধেক গাড়িতেও দেওয়া যাচ্ছে না।

    জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও পকেটে। চালক ও মালিক উভয় পক্ষই অতি দ্রুত সিএনজি স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত চাপসহ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

  • দাবানলে বেরিয়ে এল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শত শত গোলাবারুদ

    দাবানলে বেরিয়ে এল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শত শত গোলাবারুদ

    ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের পর মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রায় ৪০০টি পুরোনো গোলা ও গোলাবারুদের সন্ধান পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের তাপে এসব বিস্ফোরক সক্রিয় হয়ে বিস্ফোরিত হয়ে থাকতে পারে।

    দাবানলের শুরুর দিকে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে ধারণা করা হয়েছিল, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে এমনটি ঘটছে। তবে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের এক কমান্ডার জানিয়েছেন, বিস্ফোরণগুলোর পেছনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ফেলে যাওয়া গোলাবারুদগুলো থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

    ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ইনফোকে লে পোরজ গ্রামের মেয়র মার্শাল জানিনেত্তি জানান, দাবানলের দ্বিতীয় রাতে ১০০ টিরও বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তিনি বলেন, শব্দগুলো ছিল ‘যুদ্ধের সময়ের মতো’।

    দাবানলের পর শুরু হওয়া মাইন অপসারণ ও নিরাপত্তা অভিযান এখন অনেকটাই শেষ হয়েছে। ফলে অধিকাংশ বাসিন্দা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পেরেছেন। তবে কিছু এলাকা এখনো সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। আগুনে ওই এলাকায় ১৮০ টিরও বেশি বাড়ি পুড়ে ধ্বংস হয়েছে।

    মেয়র জানিনেত্তি বলেন, তাদের পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে মাটির নিচে গোলাবারুদের গুদাম ছিল, কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে কিছুই জানত না। দাবানলের তাপে সেগুলো বিস্ফোরিত হয়। তিনি জানান, বিস্ফোরণের সময় গোলাগুলো বিভিন্ন দিকে ছিটকে পড়ে। এমনকি একটি গোলা একটি বাড়ির ভেতর দিয়েও চলে যায়।

    সোমবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে মেয়র জানান, সমুদ্রসৈকত, একটি ক্যাম্পসাইট এবং লা জেনি গ্রামে প্রবেশে এখনো নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

    ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ঐতিহাসিক অস্ত্রগুলোর মধ্যে জার্মান ও ফরাসি উভয় পক্ষের ব্যবহৃত গোলাবারুদ ছিল। এগুলোর মধ্যে মর্টার শেল ও ট্যাংকবিধ্বংসী গোলাও রয়েছে।

    এদিকে, প্রায় ১০ দিন ধরে তাণ্ডব চালানোর পর জিরন্দ অঞ্চলের ভয়াবহ দাবানল এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সোমবার লে পোরজের বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে পুড়ে যাওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে নিজেদের সম্পদ খুঁজতে দেখা গেছে।

    ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু দাবানল মোকাবিলায় নিয়োজিত দমকলকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘নজিরবিহীন এই সংকটের মুখে ফ্রান্স দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।’ তিনি জানান, জিরন্দ অঞ্চলে আগুন মোকাবিলার কার্যক্রম এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং সরিয়ে নেওয়া মানুষ ধীরে ধীরে নিজেদের বাড়িতে ফিরছেন।

    গত দুই সপ্তাহে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। দুই দেশ মিলিয়ে ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। এটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির সবচেয়ে বড় বন দাবানলগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।

  • স্পেনের একই দিনে দু’বার হবে ‘সূর্যাস্ত’

    স্পেনের একই দিনে দু’বার হবে ‘সূর্যাস্ত’

    স্পেনের উত্তরাঞ্চলের বুরগোস প্রদেশের ছোট্ট গ্রাম আভেলানোসা দে মুনিও। স্থায়ী বাসিন্দা মাত্র হাতেগোণা কয়েকজন। নেই কোনো রেস্তোরাঁ, নেই দোকানপাট। একটি বার আছে। কিন্তু তা কখনো খোলে না। পুরোনো একটি ওয়াইন সেলারও বহু আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। সপ্তাহে মাত্র একবার পাশের এলাকার একটি বেকারির সাদা ভ্যান রুটি পৌঁছে দিতে আসে। বাকি সময় পুরো গ্রাম যেন নিস্তব্ধতায় ডুবে থাকে। তবে চলতি গ্রীষ্মে সেই নির্জন গ্রামই কয়েক ঘণ্টার জন্য বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় জায়গায় পরিণত হতে যাচ্ছে। এ খবর দিয়েছে

    এক রাতে দু’বার সন্ধ্যা হবে: আগামী ১২ আগস্ট ২০২৬। আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে ইউরোপের ওপর দিয়ে একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ অতিক্রম করবে। ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। আর স্পেনে ১৯১২ সালের পর এটিই হবে মূল ভূখণ্ড থেকে দৃশ্যমান প্রথম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। সৌভাগ্যক্রমে আভেলানোসা দে মুনিও সেই সরু পথের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। সেখানে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

    ২০০ জন থেকে মাত্র ১০ জন: ১৯৩৭ সালে এই গ্রামেই জন্ম নেয়া সারা আলভারেজ রদ্রিগেজ জীবনে কখনো অন্য কোথাও থাকেননি। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৫০-এর দশকে গ্রামটিতে প্রায় ২০০ জন মানুষ বাস করতেন। ছিল ছোট ছোট দোকান। এখানকার মাছ বিক্রেতারা সাইকেলে করে আশপাশের গ্রামে মাছ বিক্রি করতে যেতেন। ৭৩ বছর বয়সী রাউল গ্রান্দে রেভিয়া ছোটবেলায় মাদ্রিদে চলে যান। তিনি মনে করেন সেই সময় ডাকপিয়ন গাধায় চড়ে চিঠি ও সংবাদপত্র পৌঁছে দিতেন। এমনকি আধোঘুমের মধ্যেও গাধাটি নিজেই জানত কোথায় থামতে হবে।

    কৃষির বদলে জনশূন্যতা: প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই গ্রামের মানুষ বৃষ্টিনির্ভর কৃষি, আঙুর চাষ, সবজি উৎপাদন এবং পশুপালনের ওপর নির্ভর করে জীবন কাটিয়েছেন। কিন্তু কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ শুরু হওয়ার পর কর্মসংস্থান কমে যায়। ফলে মানুষ একে একে মাদ্রিদ, বিলবাও, বার্সেলোনা এবং অন্যান্য শহরে চলে যেতে শুরু করেন।

    এক রাতের জন্য জনসংখ্যা দ্বিগুণ: পূর্ণ সূর্যগ্রহণ উপলক্ষে বহু প্রবাসী গ্রামবাসী আবার ফিরে আসছেন। রাউল গ্রান্দে তার সঙ্গী, ছেলে, নাতি-নাতনি এবং বন্ধুদের নিয়ে ফিরবেন। তার ভাইও সন্তান-সন্ততি নিয়ে আসবেন। শুধু তাদের পরিবারই প্রায় ২০ জনের একটি দল নিয়ে গ্রামে আসছে। সারা আলভারেজ জানান, আরও অনেক প্রতিবেশী তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বৃটেন, ফ্রান্স এবং ভেনেজুয়েলা থেকেও অতিথিরা আসবেন।

    হোটেল বুকিং শেষ বহু আগেই: কাছের ঐতিহাসিক প্যারাডর দে লেরমা হোটেলটি ২০২২ সাল থেকেই ওই দিনের জন্য সম্পূর্ণ বুকড। কাস্তিয়া ই লেওনের পর্যটন বোর্ডের কর্মকর্তা আলবের্তো বস্কে কোয়েলো বলেন, পুরো অঞ্চলের অধিকাংশ আবাসনই অনেক আগেই পূর্ণ হয়ে গেছে। তার ভাষায়, সূর্যগ্রহণ দেখতে আসা বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে পরিচিত জায়গা নয়, বরং সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা খুঁজছেন।
    ক্যালিফোর্নিয়া থেকেও আসছেন দর্শনার্থী: রাউল গ্রান্দে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে একটি পরিবার সূর্যগ্রহণ দেখতে স্পেনে আসছে। মাদ্রিদে থেকে যাতে তারা পূর্ণ সূর্যগ্রহণ মিস না করেন, সে জন্য তিনি গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন, কেউ তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে পারবেন কি না।

    গ্রামের গুহাই হবে সেরা দর্শনস্থল: গ্রামের ওপরে ছোট ছোট গুহাগুলোকেই সবচেয়ে ভালো দর্শনস্থল হিসেবে মনে করা হচ্ছে। পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় সূর্য দিগন্ত থেকে মাত্র আট ডিগ্রি ওপরে থাকবে। তাই পশ্চিম দিগন্তের বাধাহীন দৃশ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গুহাগুলো শুধু পর্যবেক্ষণের স্থান নয়; বহু প্রজন্ম ধরে গ্রামের মানুষ এখানেই একসঙ্গে সূর্যাস্ত উপভোগ করেছেন। এমনকি গ্রামের এক সাবেক বাসিন্দার অস্থিও এখানেই ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

    কয়েক মিনিটের জন্য বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু: সূর্যগ্রহণের দিন আভেলানোসা দে মুনিও আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। গ্রিল করা ভেড়ার মাংসের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়বে, শিশুদের হাসিতে মুখর হবে বহু আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলের চত্বর। তারপর কয়েকটি অবিস্মরণীয় মিনিটের জন্য নেমে আসবে অন্ধকার- এক রাতে দু’বার। আর ভৌগোলিক অবস্থানের এক বিস্ময়কর সৌভাগ্যের কারণে স্পেনের এই প্রায় বিস্মৃত ছোট্ট গ্রামটি সাময়িকভাবে হয়ে উঠবে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান।

  • মেসওয়াকের তাৎপর্য ও ফজিলত

    মেসওয়াকের তাৎপর্য ও ফজিলত

    বহু টুথপেস্টে অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা দাঁত পরিষ্কার ও পলিশ করার কাজে ব্যবহার করা হয়। সম্প্রতি পরিবেশবাদী সংস্থা Environment and Social Development Organization (ESDO) পরিচালিত এক গবেষণায় ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ টুথপেস্টে এই প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এই সংবাদ দেশজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কোনটা রেখে কোন টুথপেস্ট ব্যবহার করবেন জনমনে সেই প্রশ্ন। অথচ আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগেই আমাদের প্রিয়নবী (সা.) মেসওয়াকের মতো একটি চমৎকার সুন্নত শিখিয়ে গেছেন। মেসওয়াক শুধু দাঁত এবং মুখ পরিষ্কারের মাধ্যম নয়; বরং তাতে রয়েছে বহু উপকারিতা। একজন ঈমানদার সেই উপকারগুলো অর্জন করেন নিয়মিত মেসওয়াক করার মাধ্যমে।

    হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের জন্য যদি কষ্টকর মনে না করতাম, তবে তাদের প্রত্যেক নামাজের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ (নাসায়ি : ৭) এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, মেসওয়াক একটি সুন্নত হলেও এই সুন্নত আমলটি মূলত ফরজ এবং ওয়াজিব হওয়ার মতো একটি আমল। রাসুল (সা.) শুধু আমাদের দিক বিবেচনা করে তা ফরজ এবং ওয়াজিব হওয়ার নির্দেশ জারি করেননি।মেসওয়াক করার মাধ্যমে অগণিত উপকার লাভ করা যায়। যার মধ্য থেকে কিছু উপকারিতা নিম্নে উল্লেখ করা হলো—

    এক. মেসওয়াক করলে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি হাসিল হয়।

    দুই. মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়, দাঁত মজবুত হয়।

    তিন. মাথার ব্যথা উপশম হয়, কাশি দূর হয়, পাকস্থলী ঠিক থাকে এবং শরীর শক্তিশালী হয়।

    চার. দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়, স্মরণশক্তি ও জ্ঞান বাড়ে।

    পাঁচ. অন্তর পবিত্র হয়, সৌন্দর্য বাড়ে।

    ছয়. ফেরেশতারা তার সঙ্গে মুসাফাহা করেন, নামাজের জন্য বের হলে তাকে সম্মান করেন, নামাজ আদায় করে বের হলে আরশ বহনকারী ফেরেশতারা তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেন।

    সাত. শয়তান অসন্তুষ্ট হয়, বিজলির মতো পুলসিরাত পার হবে, আমলনামা ডান হাতে পাবে।

    আট. ইবাদতে শক্তি পাবে, মৃত্যুর সময় কালিমা নসিব হবে, তার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হবে, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং পূত-পবিত্র হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেবে। (মারাকিউল ফালাহ : পৃষ্ঠা : ৫৪)

    এসব ছাড়াও হাদিস শরিফে মেসওয়াকের আরো বহু ফজিলত রয়েছে। আধুনিক চিকিৎসাবিদরা এ সুন্নাহ থেকে বেশ কিছু তথ্য বের করেছেন। সাধারণত দাঁতের ভয়ংকর কয়েকটি রোগ হয়ে থাকে যেমন : জিঞ্জিভাইটিস (Gingivitis), এ রোগ হলে দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে থাকে এবং দাঁতে পচন ধরে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। কেরিস টিথ, এ রোগ হলে দাঁতের ক্ষয় শুরু হয়। পাইয়োরিয়া (Pyorrhoea) এতে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়, রক্ত ঝরে। শুধু মেসওয়াক এই রোগগুলো দূর করতে সক্ষম হয়।

    গাছের ডাল দ্বারা মেসওয়াক করা সুন্নাহ, ব্রাশ দ্বারা নয়। দেখা যায়, পায়োরিয়া হলে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়, তখন ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়ে থাকেন, মাড়িতে শক্ত কিছু দিয়ে হালকা হালকা করে চাপ দেওয়ার জন্য। মেসওয়াক এই ক্ষেত্রে অনেক সহায়তা করে, যা ব্রাশে হয় না। তাছাড়া মেসওয়াকের চাপটা একটু শক্ত হওয়ায় দাঁত পরিষ্কার বেশি হয়। তাই আসুন আমরা বেশি বেশি মেসওয়াক করে রাসুলের এ সুন্নাহকে জীবিত করি।

  • দাবদাহে ইতালির ২৫ শহরে রেড অ্যালার্ট

    দাবদাহে ইতালির ২৫ শহরে রেড অ্যালার্ট

    গ্রীষ্ম মৌসুমের চতুর্থ তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইতালি। সোমবার দেশটির ২৫টি শহরে সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে, যা চলতি গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ সংখ্যক শহরে একসঙ্গে জারি হওয়া তাপপ্রবাহ সতর্কতা।

    ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোববারের ২৩টি শহর থেকে সতর্কতার সংখ্যা বাড়িয়ে সোমবার ২৫টিতে উন্নীত করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়েরে দেলা সেরা।

    রেড অ্যালার্টের বাইরে রয়েছে শুধু রেজ্জিও কালাব্রিয়া ও মেসিনা। তবে এই দুই শহরেও ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ বহাল রয়েছে।

    দেশটির পো উপত্যকা এবং মধ্যাঞ্চল সবচেয়ে বেশি তাপপ্রবাহে আক্রান্ত। এছাড়া অভ্যন্তরীণ অঞ্চল ও সার্ডিনিয়া দ্বীপেও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। মধ্য ও উত্তর ইতালির কিছু এলাকায় রাতের তাপমাত্রাও ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকবে, যাকে আবহাওয়াবিদরা ‘সুপার-ট্রপিক্যাল নাইট’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। রোববার মধ্য ইতালির টের্নি প্রদেশে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকান অ্যান্টিসাইক্লোনের প্রভাব এবং ভূমধ্যসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা এই তীব্র দাবদাহের প্রধান কারণ। বর্তমানে ভূমধ্যসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি।

    আবহাওয়াবিষয়ক ওয়েবসাইট iLMeteo.it-এর আবহাওয়াবিদ লরেঞ্জো তেদিচি বলেন, অতিরিক্ত তাপ বায়ুমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে, যার ফলে আল্পস ও অ্যাপেনাইন পর্বতমালাজুড়ে বিকেলের দিকে শক্তিশালী বজ্রঝড় হতে পারে।

    এদিকে ইতালির সিভিল প্রোটেকশন বিভাগ উমব্রিয়া থেকে কালাব্রিয়া পর্যন্ত অ্যাপেনাইন অঞ্চল এবং সিসিলির অভ্যন্তরীণ এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি করেছে।

    লরেঞ্জো তেদিচি আরও বলেন, ‘২০২৬ সালের গ্রীষ্মের সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে প্রকৃত স্বস্তি পেতে অন্তত আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

    দাবদাহের পাশাপাশি দাবানলের ঝুঁকিও বেড়েছে। এ কারণে সিসিলি ও এমিলিয়া-রোমানিয়া অঞ্চলে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

  • দাবদাহে কোরিয়ায় ১২২ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গ

    দাবদাহে কোরিয়ায় ১২২ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গ

    দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। সোমবারও দেশটির অধিকাংশ এলাকায় তীব্র গরমের সতর্কতা বহাল ছিল। তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় এবং তাপজনিত অসুস্থতা বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। খবর আনাদোলুর।

    দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া প্রশাসন (কেএমএ) জানিয়েছে, ২৯ জুলাই দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডেগুতে ১৯৪২ সালের আগস্টের পর প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে।

    এদিকে ডেগুর কাছের ইয়াংসান শহরে আগের দিন সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৯০৪ সালে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ।

    চলমান তাপপ্রবাহে দেশজুড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ইনচনে ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস শরীরের তাপমাত্রা নিয়ে মারা যান। এছাড়া সপ্তাহান্তে দক্ষিণ চুংচিয়ং প্রদেশে ৬০ ও ৮০ বছর বয়সী দুই কৃষকও মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছেন।

    কোরিয়া আবহাওয়া প্রশাসনের মতে, কোরীয় উপদ্বীপের ওপর একাধিক উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাব এবং পরিষ্কার আকাশে তীব্র সূর্যকিরণের কারণে দীর্ঘস্থায়ী এই তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে।

  • ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্নে মিলবে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর ছাড়

    ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্নে মিলবে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর ছাড়

    চলতি করবর্ষের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত কর ছাড় মিলবে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (এইচইউএফ) সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাবে।

    রোববার (২ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর এ তথ্য জানিয়েছে। করদাতাদের উৎসাহিত করতে আয়কর আইন, ২০২৩-এর নতুন বিধান অনুযায়ী এই কর প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, (চলতি বছরের) ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার করদাতারা আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭৩ অনুযায়ী রিটার্নের সাথে পরিশোধযোগ্য করের পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত কর ছাড় পাবে। তবে এই ছাড়ের সর্বোচ্চ সীমা হবে ২৫ হাজার টাকা।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে কোনো কর প্রণোদনা দেয়া হবে না।

    এদিকে, (২০২৭ সালের) ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭৩(২) অনুযায়ী পরিশোধযোগ্য করের দুই শতাংশ অথবা তিন হাজার টাকা (যেটি বেশি, সেই পরিমাণ) অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

    এছাড়া (২০২৭ সালের) ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে পরিশোধযোগ্য করের পাঁচ শতাংশ অথবা পাঁচ হাজার টাকা (যেটি বেশি, সেই পরিমাণ) অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হবে।

    এনবিআরের মতে, নির্ধারিত সময়ের শুরুতেই কর ছাড় দেয়ার ফলে অধিক সংখ্যক করদাতা সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত হবেন। এতে কর পরিপালনের সংস্কৃতি আরো শক্তিশালী হবে এবং কর প্রশাসনের কার্যক্রম আরো দক্ষ ও সুশৃঙ্খল হবে।

    সংস্থাটি জানায়, গত ২২ জুলাই থেকে ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের ই-রিটার্ন সেবা চালু করা হয়েছে। করদাতারা www.etaxnbr.gov.bd-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। একইসাথে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।

    সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন দাখিল করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ পাওয়া যাবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

    অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে কোনো সমস্যা হলে সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অফিস চলাকালে এনবিআরের কল সেন্টার (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাবে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর ৩০ সেপ্টেম্বরের পর দাখিল করা রিটার্নের ক্ষেত্রে কর প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না উল্লেখ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করে কর ছাড়ের সুবিধা গ্রহণের জন্য করদাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

  • ১৫০ বছর পর লাইব্রেরিতে ফিরল ধার নেওয়া বই, প্রায় ১৯ লাখ টাকা জরিমানা!

    ১৫০ বছর পর লাইব্রেরিতে ফিরল ধার নেওয়া বই, প্রায় ১৯ লাখ টাকা জরিমানা!

    অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী শহর কিয়ামার একটি পাবলিক লাইব্রেরি থেকে প্রায় ১৫০ আগে ধার নেওয়া একটি বই ফেরত এসেছে। ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত অ্যান্টি-কুইটিজ অব অ্যাথেন্স নামের বইটি বাড়ি সংস্কারের সময় খুঁজে পাওয়া যায়। হিসাব অনুযায়ী, বইটি সময়মতো ফেরত না দেওয়ার জরিমানা প্রায় ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা হতে পারত।

    লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ জানায়, বইটি এক ব্যক্তি তার বাড়ি সংস্কারের সময় খুঁজে পান। বইটি একটি ইট দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া ফায়ারপ্লেসের ভেতরে রাখা চায়ের কাঠের বাক্সে লুকানো ছিল।

    লাইব্রেরির প্রাথমিক প্রায় এক হাজার বইয়ের সংগ্রহে ৫০৬ নম্বর বই ছিল এটি। দীর্ঘদিন চিমনির পাশে থাকায় বইটি পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, লাইব্রেরি ১৮৭২ সালে চালু হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই এটি হারিয়ে যায়।

    কিয়ামা লাইব্রেরির ব্যবস্থাপক মিশেল হাডসন জানান, লাইব্রেরির পুরনো নিয়ম অনুযায়ী বইটি এতদিন ধরে ফেরত না দেওয়ায় জরিমানার পরিমাণ মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করে প্রায় ২৮ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার দাঁড়িয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

    তিনি বলেন, ‘এত পুরনো কোনো বই আমাদের কাছে আগে কখনও ফেরত আসেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি যেসব লাইব্রেরিকে অনুসরণ করি, সেখানে সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর পর বই ফেরত আসার ঘটনা দেখা যায়।’

    তবে বইটি কে ধার নিয়েছিলেন, তা আর জানা সম্ভব নয়। কারণ, ১৮৭০-এর দশকের ধার নেওয়ার রেজিস্টার, যেখানে কোন ব্যক্তি কখন কোন বই নিয়েছিলেন তার তথ্য ছিল, সেটি হারিয়ে গেছে।

    হাডসন বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের কাছে সেই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগটি নেই। বইটির ভেতরেও শেষবার কে এটি নিয়েছিলেন, তার কোনো তথ্য নেই।’

    লাইব্রেরির তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী, ধার নেওয়া বই ফেরত দিয়ে বকেয়া পরিশোধ না করলে নতুন কোনো বই নেওয়া যেত না। এছাড়া, কোনো পরিবারে অন্তত ছয়জন পড়তে জানলে তারা সর্বোচ্চ ৩টি বই ধার নিতে পারতেন। এমনকি মাতাল অবস্থায় কেউ এলে তাকেও বই দেওয়া হতো না।

    ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় বইটি এখন কিয়ামা লাইব্রেরির স্থানীয় ইতিহাস সংগ্রহে প্রদর্শন করা হবে।

    মিশেল হাডসন মজা করে বলেন, ‘এবার আর বইটি কাউকে ধার দেওয়া হবে না। আবার এটি ফেরত পেতে আরও ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে চাই না।’

  • কি ঘটেছিল সেই দাসীর ভাগ্যে

    কি ঘটেছিল সেই দাসীর ভাগ্যে

    ইংল্যান্ডের একজন গৃহপরিচারিকা এলিজাবেথ বার্টন। ষোড়শ শতকে নানা ভবিষ্যদ্বাণী করে সাধারণ মানুষের চোখে তিনি সাধ্বীর মর্যাদা পেয়েছিলেন। ওই সময়ের অনেক ধর্মীয় নেতাও তাঁর পরামর্শ নিতেন, এমনকি রাজা অষ্টম হেনরিও তাঁর সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু রাজাকে নিয়ে করা একটি ভবিষ্যদ্বাণীই শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ফাঁসি দিয়ে তাঁর শিরশ্ছেদ করা হয়। ইতিহাসে তিনি পরিচিত ‘হোলি মেইড অব কেন্ট’ বা ‘কেন্টের পবিত্র দাসী’ নামে।

    ১৫২৫ সালে ইংল্যান্ডের কেন্টের একটি ছোট গ্রামে এলিজাবেথ বার্টন হঠাৎ একদিন অসুস্থ হয়ে পড়লেন। অসুস্থতার ঘোরে তিনি বাইবেলের বিভিন্ন অংশ আবৃত্তি করতেন। কখনো কখনো অচেতন হয়ে যেতেন। জ্ঞান ফিরে বিভিন্নরকম ভবিষ্যদ্বাণী করতেন। আশপাশে এমন কথা রটে যায় যে, বার্টন যা বলেন তাই সত্য হয়। দ্রুত তাঁর এই অলৌকিক ক্ষমতার কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁকে দেখতে মানুষের ঢল নামে।

    ইতিহাসবিদেরা বলেন, একদিন টানা কয়েক ঘণ্টা অচেতন অবস্থায় থাকার পর হঠাৎ বার্টন সুস্থ হয়ে ওঠেন বার্টন। ওই ঘটনার পর তাঁকে ‘ঈশ্বরপ্রেরিত দৈবদ্রষ্টা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিভিন্ন নথিতে প্রত্যক্ষদর্শীর মুখে তাঁর চেহারা বর্ণনা পাওয়া যায়। জানা যায়, সুস্থ হওয়ার পর বার্টনের মুখমণ্ডল অস্বাভাবিকভাবে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল, জিহ্বা বাইরে বেরিয়ে ছিল এবং চোখ দুটি যেন কোটর থেকে বেরিয়ে আসছিল।

    এরপর বার্টন ক্যান্টারবারির একটি আশ্রমে যোগ দেন। নানান ভবিষ্যদ্বাণীর মাধ্যমে ধীরে ধীরে তিনি টিউডর আমলের ইংল্যান্ডে ব্যাপক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। উচ্চপদস্থ ধর্মীয় নেতা, অভিজাত ব্যক্তি এবং রাজা অষ্টম হেনরিও তাঁর পরামর্শ নিতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী রাজনৈতিক রূপ নিতে শুরু করে এবং সেটিই শেষ পর্যন্ত তাঁর পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    বার্টনের উত্থান এমন এক সময়ে ঘটে, যখন ইউরোপজুড়ে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের প্রভাব ইংল্যান্ডেও ছড়িয়ে পড়ছিল। প্রোটেস্ট্যান্ট মতবাদের বিস্তার ক্যাথলিক চার্চের সম্পদ ও পোপের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিল। এতে ক্যাথলিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকেই বার্টনকে ঈশ্বরের বাণীবাহক মনে করে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী মুখে মুখে ও লিখিত আকারে ছড়িয়ে দিতে থাকেন।

    ‘হিরোইনস অব দ্য টিউডর ওয়ার্ল্ড’ বইয়ের লেখক শ্যারন বেনেট কনোলি বলেন, বার্টনের ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা বাস্তব ছিল কি না, সেটি বড় বিষয় না। মানুষ তাঁর কথাকে বিশ্বাস করত।

    সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তিনি বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিরও আস্থা অর্জন করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাজা অষ্টম হেনরির প্রধান উপদেষ্টা কার্ডিনাল উলসি এবং ক্যান্টারবারির যাজক। পরে তাঁর কথা পৌঁছে যায় রাজদরবারের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি স্যার টমাস মোরের কাছেও। মোর তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেন, বহু বছর ধরে তাঁর অসাধারণ গুণের কথা শুনে এসেছেন এবং তা নিজের চোখে দেখতে চেয়েছিলেন।

    তবে পরে টমাস মোর তাঁকে চিঠি লিখে সতর্ক করেন, যেন তিনি কখনো রাজা বা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বলেন।

    রাজা হেনরিও শুরুতে বার্টনের প্রতি অনুকূল ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একাধিকবার সাক্ষাৎ হয় এবং ক্যাথলিক ধর্মবিশ্বাস নিয়ে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। কিন্তু পরে রাজা যখন স্ত্রী ক্যাথরিন অব অ্যারাগনকে তালাক দিয়ে নতুন বিয়ে করেন (উত্তরাধিকারীর আশায়), তখন পরিস্থিতি বদলে যায়।

    ক্যাথলিক ধর্মমতে বিবাহবিচ্ছেদ গ্রহণযোগ্য ছিল না। বার্টনও এই বিবাহবিচ্ছেদের বিরোধিতা করেন এবং ক্যাথরিনের প্রতি সমর্থন জানান। এমনকি তিনি পোপ ক্লেমেন্টকে চিঠি লিখে সতর্ক করেন, ক্যাথরিনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে মহামারি দেখা দেবে।

    ইতিহাসবিদদের মতে, ক্যাথলিক চার্চের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিশ্বাস করতেন, বার্টন রাজাকে প্রভাবিত করতে পারবেন এবং তাঁকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হবেন। এ কারণে অনেকে মনে করেন, বার্টনকে ক্যাথলিক চার্চ রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করেছিল।

    ইউনিভার্সিটি অব সারির অধ্যাপক ডায়ান ওয়াট বলেন, তাঁকে প্রতারক বা অন্যের হাতের পুতুল হিসেবে দেখানোর ধারণা মূলত তাঁর বিরোধীরাই তৈরি করেছিলেন। তাঁর মতে, বার্টন ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাবান ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব।

    ওয়াট আরও বলেন, মধ্যযুগীয় ইউরোপে এমন বহু নারী ছিলেন, যাঁরা ধর্মীয় দর্শন বা অলৌকিক ক্ষমতার কারণে রাজা ও পোপের মতো ক্ষমতাবানদের সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছিলেন। তবে বার্টনের বিশেষত্ব ছিল, তিনি ধর্মীয় নয়, সরাসরি রাজনৈতিক বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতেন।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তাঁর সামাজিক অবস্থান। তিনি ছিলেন একজন গৃহপরিচারিকা। সে সময় সাধারণ নারীদের রাজনৈতিক মত প্রকাশের সুযোগ ছিল না। কিন্তু অলৌকিক ভবিষ্যদ্বাণীর ক্ষমতা তাঁকে সেই সুযোগ এনে দিয়েছিল।

    এরপরই তিনি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণীটি করেন। বার্টন বলেছিলেন, ঈশ্বর তাঁকে জানিয়েছেন—রাজা যদি আবার বিয়ে করেন, তাহলে সাত মাসের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হবে। পরে তিনি আরও বলেন, রাজা বিয়ে করলে এক মাসের মধ্যেই তাঁর রাজত্ব হারাবেন।

    এ ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী সে সময় রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে বিবেচিত হতো। ১৩৫১ সালের ট্রিজন অ্যাক্ট রাষ্ট্রদ্রোহ আইন অনুযায়ী, রাজার মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করাও গুরুতর অপরাধ ছিল।

    ১৫৩২ সালের অক্টোবরে রাজা হেনরি ও অ্যান বোলিন ক্যালেতে (রাজার দ্বিতীয় স্ত্রী) যাওয়ার পথে ক্যান্টারবারিতে বার্টনের সঙ্গে দেখা করেন। রাজা তাঁকে একটি আশ্রমের প্রধান করার প্রস্তাব দেন, যদি তিনি তাঁর বিয়ে নিয়ে আর কিছু না বলেন। অ্যান বোলিনও তাঁকে নিজের বাড়িতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু বার্টন দুই প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করেন।

    এরপর ১৫৩৩ সালের জানুয়ারিতে রাজা অ্যান বোলিনকে বিয়ে করেন। এক সময় বোঝা যায়, বার্টনের ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়িত হয়নি।

    পরে তাঁকে লন্ডন টাওয়ারে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন রাজার নতুন প্রধান উপদেষ্টা থমাস ক্রমওয়েল। সেখানে বার্টন স্বীকার করেন, তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী ঈশ্বরপ্রদত্ত ছিল না।

    তবে ইতিহাসবিদদের মতে, এই স্বীকারোক্তি তিনি স্বেচ্ছায় করেছিলেন, নাকি চাপের মুখে—তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। একইভাবে তিনি সত্যিই ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা পেয়েছিলেন, নাকি সবই অভিনয় ছিল, সেটি আজও অমীমাংসিত।

    ১৫৩৪ সালের ২০ এপ্রিল বার্টন ও তাঁর ছয়জন অনুসারীকে টাইবার্নে ফাঁসি দিয়ে পরে শিরশ্ছেদ করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৮ বছর।

    এরপর তাঁর কাটা মাথা লন্ডন ব্রিজের দক্ষিণ প্রবেশপথে খুঁটির মাথায় ঝুলিয়ে রাখা হয়, যা সে সময় রাষ্ট্রদ্রোহীদের জন্য প্রচলিত শাস্তি ছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, এলিজাবেথ বার্টনই একমাত্র নারী, যার মাথা এভাবে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হয়েছিল।

    তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর নিজের লেখা কিংবা তাঁর অনুসারীদের কোনো তথ্য সংরক্ষিত হয়নি। থমাস ক্রমওয়েল তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে লেখা প্রায় ৭০০ কপি বই জব্দ করে ধ্বংস করে দেন। পরবর্তী সময়ে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত আরেকটি পুস্তিকাও নষ্ট করা হয়।

    ফলে আজ ইতিহাসে বার্টনকে নিয়ে যে তথ্য পাওয়া যায়, তার বেশির ভাগই সরকারি নথি এবং তাঁর বিরোধীদের লেখা থেকে। এ কারণে তাঁকে প্রতারক হিসেবে দেখানোর প্রবণতাই দীর্ঘদিন ইতিহাসে প্রাধান্য পেয়েছে।

    তবে আধুনিক গবেষকেরা মনে করেন, এলিজাবেথ বার্টনের প্রকৃত কাহিনি এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। একদিন যদি তাঁর হারিয়ে যাওয়া ভবিষ্যদ্বাণীর পাণ্ডুলিপি উদ্ধার হয়, তাহলে হয়তো ইতিহাস তাঁকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করবে।

  • স্পেনে ঢুকে পড়া অভিবাসীরা আবারও মরক্কো ফিরে যাচ্ছে

    স্পেনে ঢুকে পড়া অভিবাসীরা আবারও মরক্কো ফিরে যাচ্ছে

    স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় (Ceuta) অভিবাসীদের নজিরবিহীন ঢলের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। বৃহস্পতিবার থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে সীমান্ত পেরিয়ে সেউতায় প্রবেশ করা ৫০ হাজারের বেশি মানুষের অধিকাংশই শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্বেচ্ছায় মরক্কোয় ফিরে যেতে শুরু করেছেন। তবে এই ব্যাপক অনুপ্রবেশের সময় অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মরদেহ স্পেনের সীমান্ত এলাকার দিক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মরক্কোর দিকেও আরও প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    সেউতার সরকারি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নিহতদের কেউ পানিতে ডুবে এবং কেউ সীমান্ত বেড়া রক্ষাকারী বাঁধে ওঠার সময় পদদলিত হয়ে মারা গেছেন। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তাদের মধ্যে প্রায় ৪৮ হাজার ৩০০ জন ইতিমধ্যে মরক্কোয় ফিরে গেছেন। তবে সেউতার স্থানীয় সরকারের প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাসের দাবি, গত দুই দিনে সীমান্ত পাড়ি দেওয়া মানুষের সংখ্যা ৬০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

    সীমান্তে আরও মানুষের প্রবেশ ঠেকাতে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। জলকামানও মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষের পর একটি বাস ও সাতটি গাড়ির পোড়া ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। সীমান্তের স্প্যানিশ অংশে সামরিক যানও মোতায়েন করা হয়।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক শ মানুষ সীমান্তের বিভিন্ন ফাঁক ও প্রবেশপথ দিয়ে মরক্কোয় ফিরে যাচ্ছিলেন। তাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, সেউতায় প্রবেশের পর খাবার ও আশ্রয়ের সংকটে পড়েছিলেন। তানজিয়ার এক তরুণ মরক্কান বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কেন এসেছিলাম তা-ই জানি না। এখন ফিরে যাচ্ছি।’

    স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার সেউতা সফর করে ঘটনাটিকে দেশের ‘ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেন। অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    সেউতা ও মেলিয়া—উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহর—আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত। অভিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে এসব সীমান্ত ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করে আসছেন। তবে এবারের ঢলের ব্যাপকতা নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে।

    ঘটনাটি ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছে। ইতালি স্পেনের সঙ্গে ইউরোপের সীমান্তমুক্ত শেনজেন ব্যবস্থার কার্যকারিতা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। মাদ্রিদ অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির পরিপন্থী বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে। ফ্রান্সও স্পেন সীমান্তে পুলিশ ও নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে, মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর তৎপরতায় নতুন করে সীমান্ত পেরোনোর বেশির ভাগ চেষ্টা ব্যর্থ হলেও, সীমান্তের আশপাশে এখনো অভিবাসীদের ছোট ছোট দল ইউরোপে প্রবেশের পথ খুঁজছে।

  • মরক্কো থেকে স্পেনে ঢুকে পড়েছেন ৫০হাজার মানুষ, বিশৃঙ্খলায় নিহত ১৮

    মরক্কো থেকে স্পেনে ঢুকে পড়েছেন ৫০হাজার মানুষ, বিশৃঙ্খলায় নিহত ১৮

    উত্তর আফ্রিকার স্পেন-শাসিত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউটা-তে নতুন করে সীমান্ত সংকট দেখা দিয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসী সমুদ্রে সাঁতরে, জলপথে এবং সীমান্তের বেড়া টপকে সেউটায় ঢুকে পড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন সরকার অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করেছে। এই গণ অনুপ্রবেশের ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ঢুকে পড়েছেন প্রায় ৪৯ হাজার মানুষ।

    বৃহস্পতিবার বিপুল সংখ্যক মানুষ সীমান্ত বেড়া ভেঙে ফেলায় সীমান্ত সংকট চরমে ওঠে। তা সামাল দিতে সিউটার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অতিরিক্ত সেনা চেয়ে আবেদন করে। এর পরই স্পেন সরকার আরও সশস্ত্র বাহিনী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।

    সিউটাতে সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী স্পেনের সিভিল গার্ড সমিতির প্রধান রশিদ সবিহি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কত শরণার্থী এর মধ্যে এসেছেন তার সঠিক সংখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়, তবে হাজার হাজার শরণার্থী সীমান্ত পার হচ্ছে।’ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

    শরণার্থীদের ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত টপকে সমুদ্রপথে ঢুকেছেন স্পেনে। সমুদ্র সৈকত ও তার আশপাশের রাস্তায় হেঁটে বেড়াচ্ছেন বহু শরণার্থী। বহু মহিলা-শিশুও রয়েছে তাদের মধ্যে।

    স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি সিউটায় সবচেয়ে বড় অভিবাসী অনুপ্রবেশের ঘটনা। হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে সীমান্তে পৌঁছে যাওয়ায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কার্যত চাপে পড়ে যায়। বহু মানুষ সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন, আবার অনেকে সীমান্তের উঁচু বেড়া টপকে ভিতরে ঢুকে পড়েন। এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় তীব্র বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

    সিউটাতে অবস্থিত স্পেনের সরকারি প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের বিশৃঙ্খলার সময়ে অন্তত নয়জন মারা গেছেন। এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে পানিতে অনেকের মৃতদেহ ভাসতে দেখা গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, এ বছর সিউটাতে পৌঁছনোর চেষ্টা করতে গিয়ে কয়েক ডজন মানুষ মারা গেছেন।

    পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে স্পেন সরকার সেনাবাহিনী, অতিরিক্ত পুলিশ এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। সিউটার অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলো এরইমধ্যে উপচে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এত বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে সামাল দেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এদিকে স্পেন ও মরক্কো দ্রুত বৈঠকে বসে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছেছে। মরক্কোও সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। দুই দেশ যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিউটা আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত হলেও এটি স্পেনের অংশ এবং সেই সূত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও অংশ। ফলে মরক্কো বা আফ্রিকার অন্যান্য দেশ থেকে বহু মানুষ ইউরোপে প্রবেশের প্রবেশদ্বার হিসেবে সিউটাকে বেছে নেন। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, সামাজিক অস্থিরতা এবং সীমান্ত নীতিতে পরিবর্তনের গুজব এই অভিবাসী ঢলের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, শরণার্থী সংকট গোটা বিশ্বের জন্য মাথা ব্যথার কারণ। ২০২১ সালেও সিউটায় একই ধরনের শরণার্থী সংকট দেখা দিয়েছিল। এবারও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় ইউরোপে অভিবাসন নীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মানবিক সংকট নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা স্পেন সরকারের সমালোচনা শুরু করেছে, অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলি শরণার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে।

    পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কার সিউটা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, সিউটার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি সেনা মোতায়েনও প্রয়োজন।

  • মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

    মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

    মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের দেশ থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। গৃহযুদ্ধ চলা দেশটির পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, ‘মানুষ প্রশ্ন করে, আমরা কেন রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাচ্ছি না। ফেরত পাঠাব কোথায়? মিয়ানমার এতদিন তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল।’

    এরপরই আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘এখন সুসম্পর্কের কারণে মিয়ানমার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে।’ বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী বসবাস করছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা।

    আনোয়ার ইব্রাহিম প্রত্যাবাসনের এই ঘোষণা দেওয়ার কয়েকদিন আগে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার দপ্তরের সামনে থেকে ১০০ জনের বেশি রোহিঙ্গাকে আটক করে। তাদের অধিকার রক্ষা বিষয়ক একটি সংগঠন জানায়, পেনাং রাজ্যের বস্তি থেকে উচ্ছেদের হুমকির মুখে এসব ব্যক্তি শরণার্থী সংস্থার দপ্তরে গিয়ে আশ্রয় চেয়েছিলেন।

  • জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা

    জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা

    জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মঙ্গলবার ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের হাজারো পরিবার বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

    জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে কিউশু দ্বীপে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাপানের নিজস্ব শিন্দো কম্পনমাত্রা স্কেলে এর তীব্রতা সর্বোচ্চ ৭ মাত্রায় পৌঁছায়। টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    সংস্থাটি জানায়, সুনামির ঢেউ সর্বোচ্চ এক মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে।

    রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানায়, এই উচ্চতার ঢেউ ইতোমধ্যে আঘাত হেনে থাকতে পারে।

    জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানায়, কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়েনি।

    স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার জানায়, কুমামোতো অঞ্চলে প্রায় ৪৫ হাজার পরিবার ও স্থাপনায় বিদ্যুৎ নেই।

    প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ভূমিকম্পের সময় এ অঞ্চলে চালু থাকা তিনটি পারমাণবিক চুল্লি স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।

    ভূমিকম্পের প্রায় আধা ঘণ্টা পর হেলমেট পরা এনএইচকের এক স্থানীয় সংবাদকর্মী সরাসরি সম্প্রচারে জানান, কম্পন তখনো চলছিল। সংবাদকক্ষ এতটাই কাঁপছিল যে দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

    তিনি বলেন, ‘আমি কথা বলার সময়ও কম্পন চলছে। আমার মতো অনেকেরই হয়তো বুক ধড়ফড় করছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ভূমিকম্প আঘাত হানার সময় কম্পন এতটাই প্রবল ছিল যে আমি দাঁড়াতে পারিনি। তাই এর পরও আবার কম্পন হতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।’

  • খন্দকের যুদ্ধে নেপথ্য নায়ক নুয়াইম ইবনু মাসউদ (রা.)

    খন্দকের যুদ্ধে নেপথ্য নায়ক নুয়াইম ইবনু মাসউদ (রা.)

    ইতিহাসের পালাবদল কিংবা ভাগ্য-পরিবর্তনকারী প্রত্যেকটি প্রেক্ষাপটে কিছু মহামানবের গল্প থাকে, যারা বরাবরই অপঠিত থেকে যান। ঘটনাগুলো সম্পর্কে সবাই ওয়াকিবহাল থাকলেও সেই মহান ব্যক্তিদের সম্পর্কে খুব কমসংখ্যক মানুষই অবগত থাকে। তেমনই একজন ব্যক্তির নাম নুয়াইম ইবনু মাসউদ (রা.)।

    হিজরি পঞ্চম সাল। খন্দকের যুদ্ধ (Battle of the Trench) শুরু হয়ে গেছে। মক্কার কুরাইশদের সঙ্গে গাতফান এবং তাদের মিত্র আরব গোত্রগুলোর পাশাপাশি বনু নাজিরের ইহুদিরা সম্মিলিতভাবে মদিনা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে বনু নাজিরের নেতা হুয়াই ইবন আখতাবের চক্রান্তে মদিনার অভ্যন্তরে বসবাসকারী বনু কুরাইজাও মুশরিকদের মিত্রশক্তিতে পরিণত হয়। বনু কুরাইজা মদিনার অভ্যন্তরে অবস্থান করায় এবং মদিনা সনদ অনুযায়ী মুসলিমদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকায় ওই দিকে কোনো পরিখা খনন করা হয়নি। কুরাইজাদের এই গোপন বিশ্বাসঘাতকতার খবর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পৌঁছে যায়। তাদের এই কর্মকাণ্ডের ফলে মুসলিম বাহিনীর মধ্যে ভীতি ও বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তাছাড়া কুরাইজাদের অধিকারে ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ তলোয়ার, দুই হাজার বর্শা, ৩০০ বর্ম ও ৫০০ ঢাল। তারা পেছন থেকে আক্রমণ করলে যুদ্ধের গতিপথ বদলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল।এমন সংকটময় মুহূর্তে একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে হেঁটে আসতে দেখা গেল গাতফান গোত্রের নুয়াইম ইবনু মাসউদ (রা.)-কে। তিনি এসে বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি; কিন্তু আমার গোত্র এখনো সে খবর জানে না। আপনি অনুমতি দিলে আমি একটি কৌশল বাস্তবায়ন করতে চাই।’

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আপনি তো আমাদের মধ্যে একজন মাত্র ব্যক্তি। আপনি যদি কৌশলের মাধ্যমে শত্রুদের দুর্বল করতে পারেন, তবে সেটাই উত্তম। আপনি যান, যা ইচ্ছা করুন। কারণ যুদ্ধ কৌশলেরই নাম।’ (আল-বুখারি : ৩০৩০)

    রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুমতি পেয়ে নুয়াইম (রা.) এক অসাধারণ কৌশল অবলম্বন করে এগিয়ে গেলেন। প্রথমে তিনি বনু কুরাইজার কাছে গিয়ে তাদের অন্য মিত্রদের দুরভিসন্ধি সম্পর্কে সতর্ক করলেন। তিনি বললেন, যদি অবরোধ ব্যর্থ হয়, তাহলে কুরাইশ ও তাদের মিত্ররা নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে তোমাদের মুহাম্মদের হাতে ছেড়ে দিতেও দ্বিধা করবে না। তাই তোমাদের উচিত, যুদ্ধ শুরুর আগে কুরাইশদের কয়েকজন নেতাকে জিম্মি হিসেবে নিজেদের কাছে রাখার দাবি করা। নুয়াইমের এ পরামর্শ বনু কুরাইজার মনে গভীর প্রভাব ফেলল। তারা ভাবতে শুরু করল, সত্যিই তো—যদি কুরাইশরা পালিয়ে যায়, তবে তাদের পরিণতি কী হবে? ফলে কুরাইশদের প্রতি তাদের মনে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি হলো।

    এরপর নুয়াইম ইবনু মাসউদ (রা.) গেলেন মিত্রবাহিনীর নেতা আবু সুফিয়ান ইবন হারবের কাছে। তিনি বললেন, ‘আপনি কি জানেন, বনু কুরাইজা মুহাম্মদের সঙ্গে আবার সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে? আমি জানতে পেরেছি, তারা আপনাদের কয়েকজন নেতাকে জামিন বা জিম্মি হিসেবে নিজেদের কাছে চাইবে। এরপর সুযোগ পেলে তাদের মুহাম্মদের হাতে তুলে দেবে, যাতে তারা তার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে। তাই সাবধান! তারা যদি আপনাদের কাছে কাউকে জিম্মি হিসেবে চায়, তাহলে কোনো অবস্থাতেই তাদের হাতে কাউকে তুলে দেবেন না।’

    ফলে কুরাইশ ও গাতফানের নেতারা ইকরিমা ইবনে আবু জাহলসহ একটি প্রতিনিধিদল বনু কুরাইজার কাছে পাঠালেন। তারা জানালেন, অবরোধ দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে; ঘোড়া-উট মারা যাচ্ছে। তাই এখন প্রয়োজন সবাই মিলে একযোগে মুসলিমদের ওপর চূড়ান্ত আক্রমণ চালানো। বনু কুরাইজা জবাবে বললেন, ‘আজ শনিবার। আমরা এদিন যুদ্ধ করতে পারব না। আর তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের কয়েকজন নেতাকে জিম্মি হিসেবে আমাদের কাছে না দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরাও যুদ্ধে অংশ নেব না।’

    প্রতিনিধিদল ফিরে গিয়ে এ কথা আবু সুফিয়ানকে জানালে তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, ‘আল্লাহর শপথ! নুয়াইম আমাদের সত্য কথাই বলেছিল।’ অন্যদিকে কুরাইশদের প্রত্যাখ্যানের খবর বনু কুরাইজার কাছে পৌঁছালে তারাও বলল, ‘আল্লাহর শপথ! নুয়াইম আমাদের কাছেও সত্য কথাই বলেছিল।’

    এভাবেই নুয়াইম ইবনু মাসউদের অসাধারণ বিচক্ষণতায় উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস সৃষ্টি হলো। মিত্রবাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়ল, আর তাদের সম্মিলিত শক্তিতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিল। নুয়াইম ইবনু মাসউদ (রা.) তার পরিকল্পনায় সম্পূর্ণ সফল হলেন। অথচ তার গোত্র তখনো জানত না, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি কুরাইশ ও বনু কুরাইজার মধ্যে এমন সন্দেহ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছিলেন, যা তাদের সম্মিলিত যুদ্ধপরিকল্পনাকে কার্যত ভেঙে দিয়েছিল।

    এরপর আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের জন্য চূড়ান্ত সাহায্য পাঠালেন। তিনি রণক্ষেত্রে প্রবল ঝঞ্ঝাবায়ু পাঠালেন, যা মুশরিকদের তাঁবু উপড়ে ফেলল, আগুন নিভিয়ে দিল, রান্নার হাঁড়ি উল্টে দিল এবং পুরো যুদ্ধের চিত্রই পাল্টে দিল। আল্লাহর অদৃশ্য সাহায্যে মিত্রবাহিনী পরাজিত ও ছত্রভঙ্গ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হলো।

    এই মহাযুদ্ধে কাফিরদের সম্মিলিত আক্রমণ থেকে মুসলিমদের রক্ষা করার ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে অত্যন্ত কৌশলী ভূমিকা পালন করেছিলেন এই মহান সাহাবি। তার অনন্য যুদ্ধকৌশলের ফলে চতুর্মুখী শত্রুর আক্রমণ থেকে মুসলিম উম্মাহ রক্ষা পায়। ইয়াওমুল আহজাব তথা খন্দকের সেই চূড়ান্ত অভিযানে ব্যর্থ হওয়ার পর কুরাইশ ও তাদের মিত্ররা আর কখনো মদিনার বিরুদ্ধে এমন বৃহৎ সম্মিলিত আক্রমণ চালানোর সাহস করেনি। ইসলামের ইতিহাসে নুয়াইম ইবনু মাসউদ (রা.)-এর নাম আজও স্বর্ণাক্ষরে লিখিত রয়েছে।

  • ফিরে দেখা

    ফিরে দেখা

    নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে লুইস ব্রাউন অনুপ্রেরণা হয়েই রইলেন

    বিয়ের পর ১০ বছর পেরিয়েছে। কোলজুড়ে সন্তান আসেনি লেসলি ও জন ব্রাউন দম্পতির। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কমতি ছিল না। এরই মধ্যে চিকিৎসকদের একটি কথায় তাঁদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। লেসলি নাকি স্বাভাবিকভাবে কখনোই মা হতে পারবেন না। এরপর কত চিকিৎসকের কাছে ছোটাছুটি, কত চেষ্টা–তদবির। কিন্তু রাতের আঁধার পেরিয়ে ভোরের আলো যেন ফুটছিল না।

    এই দম্পতির বাড়ি ছিল যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল শহরে। তাঁদের এ ঘটনা প্রায় ৫০ বছর আগের। শেষ পর্যন্ত লেসলি মা হয়েছিলেন, ঘর আলো করে এসেছিল ফুটফুটে এক মেয়েশিশু—নাম লুইস ব্রাউন। কীভাবে লুইসের জন্ম হলো? সে এক আশ্চর্য ঘটনা। এর পেছনে অবদান পুরোপুরি বিজ্ঞানের। তবে এ নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। অনেকে তো লুইসকে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের শিশু’ নাম দিয়েছিলেন।

    আসলে যে পদ্ধতিতে লুইসের জন্ম হয়েছিল, তা তখন মানুষের কাছে ছিল একেবারেই অজানা। পদ্ধতিটি হলো ‘ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন’ বা ‘আইভিএফ’। এতে মানবভ্রূণ সৃষ্টি করা হয় মাতৃগর্ভের বাইরে। তারপর সেই ভ্রূণ গর্ভের ভেতরে প্রতিস্থাপন করা হয়। সেখানে ভ্রূণটি পরিণত আকার পেয়ে স্বাভাবিকভাবে জন্ম হয় শিশুর। এ পদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া শিশুকে ‘টেস্টটিউব বেবি’–ও বলা হয়।

    আজ থেকে ঠিক ৪৮ বছর আগে ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই জন্ম হয়েছিল বিশ্বের প্রথম টেস্টটিউব বেবি লুইস ব্রাউনের। সেই সময়ে এই অসাধ্য সাধন কীভাবে হয়েছিল, কারা এই দুরূহ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, বর্তমান সময়ে আইভিএফ পদ্ধতি সন্তানহীন দম্পতিদের কতটা কাজে আসছে, আর ৪৮ বছর বয়সে এসে সেই লুইস এখন কেমন আছেন—চলুন জেনে নেওয়া যাক একে একে।

    দিন বদলের শুরু

    লুইস ব্রাউনের জন্মের পর ডেইলি মেইলের প্রথম পাতায় সংবাদছবি: ডেইলি মেইলের সৌজন্যে

    মানুষের শরীরের বাইরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু নিষিক্ত করার চেষ্টা বহু আগে থেকেই করছিলেন বিজ্ঞানীরা। তবে এভাবে যে ভ্রূণ তৈরি করা সম্ভব, তা খুব কম মানুষই বিশ্বাস করতেন। তাঁদের মধ্যে দুজন হলেন ব্রিটিশ ফিজিওলজিস্ট রবার্ট এডওয়ার্ডস ও গাইনোকোলজিস্ট প্যাট্রিক স্টেপটো। আইভিএফ নিয়ে গত শতকের ষাটের দশক থেকে কাজ করছিলেন তাঁরা। তবে সফলতা ছিল অধরা।

    এডওয়ার্ডস একা ১৯৬৯ সালে প্রথমবারের মতো নারীর শরীরের বাইরে ডিম্বাণু নিষিক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে বিষয়টি আর সামনে এগোয়নি। পরে স্টোপটোর সঙ্গে মিলে তিনি এক দশক ধরে ২৮২ জন নারীর শরীরে ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন। পাশে ছিলেন বিশ্বের প্রথম ভ্রূণবিদ জেন পারডি। ওই ২৮২ জনের মধ্যে ৫ জন গর্ভবতী হলেও কেউই জীবিত শিশুর জন্ম দিতে পারেননি।

    এ গবেষণা অনেক গোপনে করতে হয়েছিল তিনজনকে। বাধা এসেছিল ধর্মীয় বিভিন্ন গোষ্ঠী থেকে। একে ‘সৃষ্টিকর্তার ওপর হস্তক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন অনেকে। এমনকি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত উপন্যাস ‘ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’–এর সঙ্গে আইভিএফকে তুলনা করেছিলেন সাধারণ অনেক মানুষ। ওই উপন্যাসে মানুষের স্বাভাবিক প্রজনন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মানুষ তৈরি করা হচ্ছিল পরীক্ষাগারে।

    প্রথম দিকে এডওয়ার্ডস ও স্টেপটো মূলত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবে গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো করতেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেখানে গবেষণা করার সুযোগ হারান তাঁরা। গতি হয় ওল্ডহ্যাম জেনারেল হাসপাতালের একটি ছোট ল্যাবে। হাসপাতালটি মূল শহর থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় সমালোচকদের চোখ এড়ানো সম্ভব ছিল। এখানেই লুইস ব্রাউনের ভ্রূণ সৃষ্টি করা হয়েছিল।

    পৃথিবীতে লুইস

    এডওয়ার্ডস ও স্টেপটোর খোঁজ লেসলি ও জন ব্রাউনকে দিয়েছিলেন ব্রিস্টলের একজন চিকিৎসক। এরপর এই দম্পতি ওল্ডহ্যামে গিয়ে দুজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে লেসলির ডিম্বাণু ও ব্রাউনের শুক্রাণু একটি পাত্রে নিষিক্ত করা হয়। যদিও পাত্রটি টেস্টটিউব নয়; বরং ছিল একটি পেট্রিডিশ। ল্যাবটেরিতে এ ধরনের পাত্র ব্যবহার করা হয়। লন্ডনের সায়েন্স মিউজিয়ামে এখনো ওই পাত্র রাখা আছে।

    পেট্রিডিশে ভ্রূণ সৃষ্টি হলে তা লেসলির গর্ভে স্থাপন করা হয়। এরপর শঙ্কা, আদৌ কি সফল হবে এডওয়ার্ডস ও স্টেপটোর চেষ্টা। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৭ সালের বড়দিনের আগে লেসলি একটি চিঠি পান এডওয়ার্ডসের কাছ থেকে। তিনি লেখেন, ‘আপনার রক্ত ও মূত্র পরীক্ষার ফলে ইঙ্গিত পাচ্ছি, আপনি সম্ভবত প্রাথমিক গর্ভাবস্থায় আছেন।’ লেসলি আমৃত্যু সেই চিঠিটি আগলে রেখেছিলেন।

    লেসলির গর্ভধারণের খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গবেষকেরা অনাগত শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় পড়েন। স্টেপটো তখন লেসলিকে নিজ গাড়িতে করে নিয়ে যান এবং লুকিয়ে রাখেন। ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই, ওল্ডহ্যাম জেনারেল হাসপাতালে ঠিক রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম হয় লুইস ব্রাউনের। এর আগপর্যন্ত সাংবাদিকেরা লেসলির খবর জানতে পারেননি।

    সিজারিয়ান অপারেশনের পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে রেখেছিলেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা চাচ্ছিলেন, আইভিএফ নিয়ে এডওয়ার্ডস ও স্টেপটোর দাবি যে মিথ্যা নয়, তা প্রমাণ করা। লুইসের জন্ম সেদিন এতই চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল যে হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের তাঁবু পড়ে গিয়েছিল। লুইসের জন্মের রাতেই স্টেপটো তাঁর নাম রেখেছিলেন ‘জয়’। ইংরেজি শব্দটির বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘আনন্দ’।

    আইভিএফ পদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া দুই শিশু কোলে লুইস ব্রাউনছবি: রয়টার্স

    কঠিন এক যাত্রা

    আইভিএফে সফলতা পেতে এডওয়ার্ডস ও স্টেপটোর যেমন দীর্ঘ সময় লেগেছিল, তেমনই এ পদ্ধতিতে সন্তান জন্মদানে একজন নারীকেও সে সময় কম কষ্ট করতে হতো না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের কাছে সে কথা বলেছিলেন ভিভিয়ান কলিন্স। লুইসের জন্মের পর কেমব্রিজের কাছে বোর্ন এলাকায় একটি ক্লিনিক খুলেছিলেন এডওয়ার্ডস ও স্টেপটো। ওই ক্লিনিকে কাজ করতেন কলিন্স।

    কলিন্সের কথায়, আইভিএফ করতে চাওয়া নারীদের ক্লিনিকের কেবিনে দুই–তিন সপ্তাহ থাকতে হতো। পুরো সময়টাতে তাঁদের নিজেদের মূত্র জমিয়ে রাখতে হতো। তিন–চার ঘণ্টা পরপর তা সংগ্রহ করতে আসতেন ক্লিনিকের কর্মীরা। কারণ, সে সময় শরীরের হরমোনের মাত্রা পর্যবেক্ষণের একমাত্র উপায় ছিল মূত্র পরীক্ষা। এই হরমোন থেকে বোঝা যেত, কোনো নারীর ডিম্বাণু নিঃসরণ হয়েছে কি না।

    লুইস ব্রাউনের আত্মজীবনীছবি: লু্ইস ব্রাউনের ওয়েবসাইট

    আশির দশকে এডওয়ার্ডস ও স্টেপটোর কাছে আটবার চিকিৎসা নিয়ে আইভিএফ পদ্ধতিতে সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন লুসি ড্যানিয়েল রুবি। তাঁর ভাষ্যমতে, একেকটি কেবিনে তাঁরা ছয়জন করে থাকতেন। মূত্র সংগ্রহের জন্য মাঝরাতে এসেও তাঁদের ঘুম ভাঙানো হতো। তবে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকতে গিয়ে কেবিনের সবার মধ্যে আন্তরিকতার সম্পর্ক গড়ে উঠত। এতে ধকল অনেকটা কমত।

    হরমোন পরীক্ষার মাধ্যমে নারীর শরীরে ডিম্বাণু নিঃসরণের সংকেত পাওয়া গেলে শুরু হতো নতুন যাত্রা। এর ঠিক ২৬ ঘণ্টার পর ডিম্বাণু সংগ্রহ করতে হতো। ফলে কোনো কোনো সময় গভীর রাতেও ডিম্বাণু সংগ্রহের অস্ত্রপচার করতে হতো। এ ছাড়া গর্ভে ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের পর নারীদের এক বা দুই ঘণ্টা সামনের দিকে ঝুঁকে উপুড় হয়ে বসে থাকতে হতো, যেন জরায়ুতে ভ্রূণটি আটকে না যায়।

    আজকের দিনে আইভিএফ বেশ সহজ একটি প্রক্রিয়া। নারীদের এখন আর দুই–তিন সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হয় না। চিকিৎসা নিয়ে দিনে দিনেই তাঁরা বাড়িতে ফিরতে পারেন। ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা উপুড় হয়ে বসে থাকতেও হয় না। আর একসময় আইভিএফের একটি ঝুঁকি ছিল যমজ সন্তানের জন্ম। বর্তমানে সেই ঝুঁকিও অনেক কমে এসেছে।

    কতটা এগিয়েছে আইভিএফ

    আইভিএফে লুইসের জন্মের পর ৪৮ বছর পেরিয়েছে। এত বছর পরে এসে আইভিএফকে কতটা গ্রহণ করেছেন মানুষ? গত বছরের জুলাইয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করেছিল ফার্টিলিটি অ্যান্ড স্টেরিলিটি নামের একটি সাময়িকী। ওই গবেষণা অনুযায়ী, লুইসের জন্মসাল ১৯৭৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আইভিএফের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা আনুমানিক ১ কোটি থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ।

    ওই গবেষণাপত্রে প্রধান লেখক ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের অধ্যাপক জর্জিনা চেম্বার্স। তাঁর হিসাবে, ২০১৮ সালের পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আইভিএফ পদ্ধতিতে আরও ৩০ থেকে ৪০ লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে। ফলে ২০২৪ সাল নাগাদ ওই হারে হিসাব করলে আইভিএফে জন্ম নেওয়া মোট শিশুর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ৩০ লাখ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ।

    লুইস ব্রাউনের আত্মজীবনী নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্র জয়ছবি: সংগৃহীত

    এখন যে দেশে লুইসের জন্ম হয়েছিল, সেই যুক্তরাজ্যের চিত্রটা কী, তা দেখে নেওয়া যাক। দেশটির সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সেখানে আইভিএফ পদ্ধতিতে প্রায় ২০ হাজার ৭০০ শিশুর জন্ম হয়েছে। এই সংখ্যা সে বছর দেশটিতে জন্ম নেওয়া মোট শিশুর ৩ শতাংশের বেশি। ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যে আইভিএফের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৭০০টি।

    বাংলাদেশে ২০০১ সালে একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রথম আইভিএফ পদ্ধতিতে শিশুর জন্ম হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রথম আইভিএফ পদ্ধতিতে শিশুর জন্ম হয় ২০২৩ সালে। তবে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কত শিশু আইভিএফ পদ্ধতিতে জন্ম নিয়েছে, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই।

    আজ কে কোথায়

    যে তিনজনের হাত ধরে আইভিএফ পদ্ধতিতে সফলতা এসেছিল—তাঁদের কেউই আজ বেঁচে নেই। ১৯৭৮ সালে লুইস ব্রাউনের জন্মের কয়েক বছর পর ১৯৮৫ সালে মৃত্যু হয় জিন পারডির। এর তিন বছর পর ১৯৮৮ সালে প্যাট্রিক স্টেপটোও মারা যান। রবার্ট এডওয়ার্ডস ২০১৩ সাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তবে কাজের স্বীকৃতি তিনি পান ২০১০ সালে। সে বছর তাঁকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল দেওয়া হয়।

    লুইস বর্তমানে স্বামী ও দুই ছেলেকে নিয়ে সাধারণ জীবন যাপন করছেন। তিনি বোর্ন হল আইভিএফ ক্লিনিকের অ্যাম্বাসেডর। লুইসের জন্মের পর স্টেপটো, এডওয়ার্ডস ও জিন পারডি এই ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এ ছাড়া বিশ্বে সবার জন্য প্রজনন-স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফার্টিলিটি সোসাইটিজের হয়েও কাজ করেন লুইস।

    লুইস ব্রাউনের জন্মের পর টাইম সাময়িকীর প্রথম পাতায় সংবাদছবি: ডেইলি মেইলের সৌজন্যে

    লুইসের একটি আত্মজীবনী রয়েছে, শিরোনাম—‘লুইস ব্রাউন: বিশ্বের প্রথম টেস্টটিউব শিশু হিসেবে আমার জীবন’। ওই জীবনীর ওপর ২০২৪ সালে নেটফ্লিক্সে ‘জয়’ নামে একটি সিনেমা মুক্তি পায়। তাতে এডওয়ার্ডের চরিত্রে অভিনয় করেন জেমস নর্টন। সিনেমায় তাঁর একটি জনপ্রিয় সংলাপ রয়েছে—‘আমি একজন বিজ্ঞানী। প্রতিদিন ব্যর্থ হই এই আশায় যে ২০ বছরে অন্তত একবার সফল হব।’

    এই সংলাপ স্বপ্ন দেখতে শেখায়। আইভিএফের দ্বারস্থ হতে চাওয়া দম্পতিদেরও আশার বার্তা শুনিয়েছেন লুইস। এ বছরই সংবাদমাধ্যম মুন্দোআমেরিকার সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেছিলেন, ‘সাহস নিয়ে এগিয়ে যান। আইভিএফের ছোঁয়ায় পৃথিবীর আলো দেখেছে দেড় কোটির বেশি মানুষ। তাই আশা হারাবেন না। আপনার চিকিৎসকের ওপর বিশ্বাস রাখুন। যে পথ একদিন মা–বাবার কোলে আমাকে এনে দিয়েছিল, সেই পথই হয়তো আরও অগণিত পরিবারের জীবনে নতুন প্রাণের বার্তা বয়ে আনবে।’

  • জার্মানিতে সমকামীদের মিছিলে গাড়ি চালিয়ে দিলেন যুবক:হতাহত

    জার্মানিতে সমকামীদের মিছিলে গাড়ি চালিয়ে দিলেন যুবক:হতাহত

    জার্মানির রাজধানী বার্লিনে সমকামীদের বার্ষিক শোভাযাত্রায় গাড়ি দুর্ঘটনার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার নাম আব্দুল বি। তাকে গ্রেপ্তারে ব্যাপক তল্লাশি চলছে।

    পুলিশের তথ্যমতে, বার্লিনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সমকামীদের সমাবেশ চলাকালে একটি ভ্যান জনতার মধ্যে ঢুকে পড়ে। এ ঘটনায় একজন নিহত হন এবং অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    পুলিশের মুখপাত্র ফ্লোরিয়ান নাথ সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে জানান, সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা গেলেও এখনো তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তাকে খুঁজে বের করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলে সন্দেহভাজনের সম্পূর্ণ ভূমিকা কী ছিল সেসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে, সাধারণ মানুষকে তার মুখোমুখি না হয়ে কোনো তথ্য থাকলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ করেছে পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১০টার দিকে তিয়ারগার্টেন পার্কের আহোরেনস্টেইগ সড়কে এ ঘটনা ঘটে । ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সমকামীদের নির্ধারিত শোভাযাত্রাও বাতিল করা হয়।

  • গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, চালকদের ক্ষোভ

    গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, চালকদের ক্ষোভ

    রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি পাচ্ছেন না চালকরা। কোথাও কোথাও দিনের বেশিরভাগ সময়ই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে ট্রিপ কমে যাওয়ায় আয় কমেছে, বেড়েছে যাত্রীভোগান্তিও। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতেও তীব্র গ্যাস সংকটে রান্না করতে না পেরে অনেক পরিবার বাধ্য হচ্ছে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করতে।

    রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়িতে খোঁজ নিয়ে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

    রাজধানীর হাতিরঝিল-বাড্ডা সংলগ্ন জামান সিএনজি স্টেশনে গত কয়েক দিনের মতো শনিবারও গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ ছিল। মাঝে মধ্যে গ্যাস এলে অপেক্ষমাণ কয়েকটি গাড়িতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। বাকি সময় কখন গ্যাস আসবে, সেই অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে চালকদের।

    মূল সড়কের পাশে হওয়ায় স্টেশনের সামনে গাড়ি রাখতে দিচ্ছে না ট্রাফিক পুলিশ। ফলে চালকদের হাতিরঝিলের ভেতরে কিংবা আশপাশের গলিতে গাড়ি রাখতে হচ্ছে। গ্যাস না থাকায় গাড়ি চালিয়ে অন্যত্রও যেতে পারছেন না তারা। বাধ্য হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনেই অপেক্ষা করছেন। স্টেশনটির সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যাই বেশি।

    কাওসার নামের এক সিএনজিচালক বলেন, ‘শনিবার ভোর থেকে অপেক্ষা করছি। এখন সকাল সাড়ে ১০টা বাজে, গ্যাস পাওয়ার কোনও খবর নেই। কখন আসবে সেটাও কেউ বলতে পারছে না। গাড়িতে গ্যাস নেই, তাই অন্য কোথাও যেতে পারছি না। যতক্ষণই লাগুক, এখান থেকেই গ্যাস নিতে হবে।’

    মধ্য বাড্ডার মা সিএনজি স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে চালকরা গ্যাসের অপেক্ষা করছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর প্রায় সব সিএনজি স্টেশনেই একই অবস্থা। গ্যাস এলে সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় ঘণ্টা সরবরাহ থাকে, এরপর আবার বন্ধ হয়ে যায়।

    ভাড়ায় চালিত সিএনজি ও প্রাইভেট গাড়ির চালকরা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে তাদের পরিবারে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। পর্যাপ্ত ট্রিপ দিতে না পারায় আয় কমে গেছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধানের দাবি জানান তারা।

    গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে যাত্রী পরিবহনেও। রাস্তায় সিএনজির সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেড়েছে ভাড়া।

    বনশ্রী থেকে পান্থপথগামী এক যাত্রী বলেন, বনশ্রী থেকে আগে সিএনজিতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ভাড়া লাগলেও এখন ৩০০ টাকা দিতে হচ্ছে। কখনও কখনও ৩৫০ টাকাও চাওয়া হচ্ছে। চালকদের ভাষ্য, গ্যাস পেতে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার গ্যাসের চাপ কম থাকায় অল্প পরিমাণ গ্যাস ওঠে, যা এক-দুইটি ট্রিপের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।

    অন্যদিকে সিএনজি স্টেশনের মতো বাসাবাড়িতেও চলছে গ্যাসের সংকট। গ্যাস না থাকায় রান্না করতে পারছেন না গৃহিণীরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন। আবার কেউ কেউ গ্যাসের চাপ বাড়ানোর মেশিন কিনছেন।

    রাজধানীর বনশ্রীর বাসিন্দা কানিজ ফাতিমা বলেন, ‘দিন-রাত কোনও সময়ই ঠিকমতো গ্যাস পাওয়া যায় না। যে পরিমাণ গ্যাস আসে, তা দিয়ে কিছু গরম করাও অসম্ভব।’

    তিনি বলেন, বাধ্য হয়ে তারা ইলেকট্রিক চুলা কিনেছেন। এখন সেই চুলাতেই রান্না করতে হচ্ছে। তবে ইলেকট্রিক চুলায় সব ধরনের রান্না করা যায় না।

    একই এলাকার আফরোজা বেগম বলেন, ‘গ্যাসের ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে। কোনও রান্নাবান্নাই করা যাচ্ছে না। সকালের নাস্তা হোটেল থেকে আনতে হচ্ছে। দুপুরে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করতে হয়। গ্যাস দিয়ে বাসায় রান্না করার কোনও উপায় নেই।’

    সোহেল নামের এক ব্যবসায়ী জানান, গ্যাস সংকটের কারণে ইলেকট্রিক চুলা ও গ্যাসের প্রেসার বাড়ানোর মেশিনের চাহিদা বেড়েছে।

    তিনি বলেন, ‘সঠিকভাবে গ্যাস না পাওয়ায় ক্রেতারা এগুলো কিনছেন।’

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর, ধানমন্ডি থেকে শুরু করে পুরান ঢাকা; রাজধানীর প্রায় সব এলাকাতেই বাসাবাড়িতে গ্যাসের জন্য হাহাকার চলছে।

    এদিকে এলএনজির ভাসমান টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি। সিএনজি স্টেশনের সংকট খুবই সাময়িক, এটি থাকবে না।’

    মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, একটি এফএসআরইউতে (এলএনজির ভাসমান টার্মিনাল) যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। এ কারণেই সিএনজি স্টেশনগুলোতে কিছুটা লাইন দেখা গেছে।

    তিনি বলেন, দেশে প্রতিদিন প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে প্রতিদিন সরবরাহ করা যায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই কিছুটা ঘাটতি রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিন কাজ হয়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

  • ৩০০ ছাড়ালো কাঁচামরিচের কেজি

    ৩০০ ছাড়ালো কাঁচামরিচের কেজি

    টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় শাক-সবজির পাশাপাশি হুহু করে বাড়ছে কাঁচামরিচের দাম। বেশ কিছুদিন ধরে ২০০ টাকার ওপরে থাকলেও তা এখন ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কোথাও ৩২০ টাকা, কোথাও ৩১০ কিংবা ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ। বিক্রেতাদের দাবি, বৃষ্টির কারণে মরিচ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য সবজির সরবরাহ অনেক কম। এতে করে বেকায়দায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

    শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।

    বিক্রেতাদের মতে, বাজারে নতুন কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি, আর পুরোনো কাঁচামরিচের দাম উঠেছে ৩২০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে।

    তারা বলেন, এক সপ্তাহ আগেও কাঁচামরিচের দাম ছিল ১২০-১৩০ টাকা। টানা বৃষ্টিতে মরিচের দাম বেড়ে গেছে বলে তারা দাবি করেন।

    শুক্রবাদ বাজারের সবজি বিক্রেতা আনোয়ার জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুধু সবজি না অনেক কিছুরই দাম ঊর্ধ্বমুখী। ক্রেতাদের সঙ্গে দাম দিয়ে মাঝেমধ্যে বিবাদে জড়াতে হচ্ছে।

    তিনি বলেন, আমাদের কিনে আনতে হচ্ছে বেশি দামে, কমে কীভাবে বিক্রি করবো। বৃষ্টি কমলে হয়তো দাম কমে আসতে পারে।

    বাজার করতে আসা একজন গৃহিণী তামান্না বলেন, দাম আসলে নাকালের বাইরে। কাঁচামরিচের দাম ক্রমাগত বাড়ছে, এখন রান্নাতে তো প্রয়োজনীয় জিনিস এটা। কাঁচামরিচ ছাড়া রান্না করবো কীভাবে। অন্যান্য সবজির দামও বেশি। দুই-তিন রকমের সবজি অল্প করে কিনতে গিয়েও ২০০ টাকার মতো চলে যাচ্ছে।

  • অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে

    অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে

    রাজধানীসহ সারা দেশে বাজারে জিনিসপত্রের দাম হুহু করে বাড়ছে। সবজির দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্তও বেড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দাম বাড়ার অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে প্রায় প্রতিটি সবজিই এখন নাগালের বাইরে। কোনো কোনো সবজির দাম ছুঁয়েছে তিনগুণ উচ্চতায়। মেঘের গর্ভ থেকে ঝরে পড়া বৃষ্টির পানি যেন সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে তৈরি করেছে এক চরম হাহাকার।

    রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ১০০ টাকার নিচে সবজি পাওয়া এখন বিরল এক সৌভাগ্য। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, করলা ও ঢ্যাঁড়শ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ও ঝিঙা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, আর শসার দাম ঠেকেছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। টমেটো ১২০ থেকে ১৬০ টাকা এবং লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। গাজর ১৬০ টাকা ও পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় কিছুটা স্বস্তি দিলেও, পেঁয়াজের ঝাঁজও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে খুচরায় ৬০ টাকায় ঠেকেছে।

    তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রান্নাঘরের অবিচ্ছেদ্য অংশ কাঁচা মরিচে। মাত্র এক মাস আগেও যে ভালো মানের মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ বেড়ে খুচরা বাজারে ২০০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারে একটু কমে ২০০ টাকায় পাওয়া গেলেও অভিজাত এলাকার খুচরা বাজারে তা ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী এম এম আকাশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টির অজুহাতে প্রতিদিনই নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। এক সপ্তাহ আগে যে মরিচ ৪০ টাকায় ২৫০ গ্রাম কিনেছি, আজ তা ৬০ টাকা দিয়ে কিনতে হলো। সব সবজির দাম এখন আকাশে ঠেকেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এভাবে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে, কেরাণীগঞ্জ মডেল টাউনের সবজি বিক্রেতা আজিজুর রহমান আজিজ আমার দেশকে বলেন, বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত সবজি আসছে না। খেতে পানি জমে যাওয়ায় অনেক ফসল পচে নষ্ট হয়েছে এবং কৃষকেরা মাঠ থেকে সবজি তুলতে পারছেন না। সরবরাহ কম এবং চাহিদা বেশি থাকায় বাধ্য হয়েই আমাদের বেশি দামে কিনে কিছুটা লাভে বিক্রি করতে হচ্ছে।

    কৃষিবিদ ড. জামাল উদ্দিনের মতে, আবহাওয়ার এই বৈরী আচরণ চলতে থাকলে স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খল আরও ভেঙে পড়তে পারে। তবে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, মেঘ কেটে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং ক্ষেতের নতুন ফসল বাজারে আসা শুরু করলে দাম কিছুটা নামতে পারে। তত দিন পর্যন্ত শ্রাবণের এই অবিরাম বর্ষণ রাজধানী ও আশপাশের কোটি মানুষের মনে তৈরি করে রাখবে নিত্যপণ্যের চড়া দামের এক দীর্ঘ ও ভারী ছায়া।

  • ব্যক্তিশ্রেণি করদাতারা আজ থেকে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন

    ব্যক্তিশ্রেণি করদাতারা আজ থেকে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন

    ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য আজ থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবীব আনুষ্ঠানিকভাবে ই-রিটার্ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

    চলতি করবর্ষ থেকে আগাম রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করেছে এনবিআর। ২০২৬-২৭ করবর্ষে জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা নীট প্রদেয় করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পাবেন। তবে নির্ধারিত সময়ের পর জমা দেওয়া রিটার্নের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া ডিসেম্বরের পর রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত অর্থ বা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিটার্ন দাখিলের আহ্বান জানিয়েছে এনবিআর।

    এনবিআর ২০২১ সালে অনলাইন আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালু করে। পরে গত করবর্ষ থেকে এটি বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার প্রতিনিধিরা এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা কাগজে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

    এনবিআর জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ফলে করদাতারা এখন ঘরে বসেই বার্ষিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত, দাখিল এবং প্রয়োজনীয় সনদ সংগ্রহ করতে পারছেন।

    সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন নিয়ে কাগজে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

    এনবিআরের ই-ট্যাক্স প্ল্যাটফর্মে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন দাখিল করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করা যাবে।

    অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে কোনো সমস্যা হলে সরকারি ছুটি ছাড়া অফিস চলাকালীন সময়ে এনবিআরের কল সেন্টার (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া যাবে।

  • তীব্র গরমে অফিসে শর্টস পরছেন জাপানি পুরুষেরা

    তীব্র গরমে অফিসে শর্টস পরছেন জাপানি পুরুষেরা

    তীব্র গরমে জাপানি পুরুষেরা অফিসে স্যুট-টাইয়ের বদলে আরও আরামদায়ক পোশাক হিসেবে টি-শার্ট, স্নিকার্স এবং শর্টস পরছেন। সম্প্রতি টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার এই নিয়ম চালু করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সব মহলে একরকম প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। নারী কর্মীদের একটি অংশ পুরুষদের খালি পায়ে অফিসে আসা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে, যাকে অনেকে ‘লেগ হেয়ার হ্যারাসমেন্ট’ বা পায়ের লোমজনিত অস্বস্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে টোকিওর গভর্নর ইউরিকো কোইকে গরমের হাত থেকে বাঁচতে ‘টোকিও কুল বিজ’ ক্যাম্পেইন চালু করেন। প্রায় চার মাস ধরে চলা এই নিয়মের পক্ষে-বিপক্ষে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেক পুরুষ কর্মী আরামদায়ক পোশাক পরে স্বস্তিতে কাজ করতে পারলেও, নারীদের অনেকে একে বৈষম্যমূলক বলছেন। কারণ, জাপানের প্রচলিত অফিস সংস্কৃতিতে নারীদের পা ঢাকা রাখতে এখনো অদৃশ্য সামাজিক চাপ রয়েছে। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে নেই।

    এর ফলে জন্ম নিয়েছে ‘লেগ হেয়ার হ্যারাসমেন্ট’ বিতর্ক। নারী কর্মীদের ভাষায়, সহকর্মী পুরুষদের খোলা পায়ের লোম দেখতে বাধ্য হওয়াও এক ধরনের ‘হয়রানি’।

    গত জুনে জাপানের গরিলা ক্লিনিকের করা এক জরিপে দেখা যায়, ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ অফিসে শর্টস পরার বিপক্ষে এবং ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ পক্ষে মত দিয়েছেন। শর্টস বিরোধিতাকারীদের মূল আপত্তি ছিল শরীর ও পায়ের লোম নিয়ে। ক্লিনিকটি জানিয়েছে, পুরুষদের তুলনায় নারীরা এই বিষয়ে অনেক বেশি আপত্তি জানিয়েছেন। গরিলা ক্লিনিকের পরিচালক আকিফুমি ফুনাতসু জানান, শর্টস পরার কারণে অনেক পুরুষ এখন লেজার হেয়ার রিমুভাল করাচ্ছেন, যাতে সহকর্মীদের সামনে বিব্রত হতে না হয়।

    ২০০৫ সালে তৎকালীন পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে ইউরিকো কোইক প্রথম ‘কুল বিজ’ ক্যাম্পেইন চালু করেছিলেন। সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমিসহ সরকারের বড় কর্তারা টাই ও জ্যাকেট ছাড়াই অফিসে এসে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়েছিলেন। এরপর ২০১১ সালে তোহোকু ভূমিকম্প ও সুনামির পর সরকার জ্বালানি সাশ্রয় বাড়াতে ‘সুপার কুল বিজ’ চালু করে।

    বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো জাপানও রেকর্ড গরমের মুখোমুখি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিনগুলোকে ‘কোকুশো-বি’ বা চরম গরমের দিন হিসেবে ঘোষণা করেছে।

    দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ থেকে ১২ জুলাইয়ের এক সপ্তাহেই গরমে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪ হাজার ৫৫০ জনের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    এই গরমে সাধারণ মানুষ এসির পাশাপাশি ফ্যান লাগানো বিশেষ পোশাক, ভেজা তোয়ালে, রোদ ও তাপ রোধকারী ছাতা এবং ছোট হাতপাখার মতো নানা জিনিস ব্যবহার করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র গরমের সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নিতে বর্ষাকালের মধ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, কারণ জাপানের বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ঘাম সহজে শুকায় না এবং শরীর দ্রুত ঠান্ডা হতে পারে না।

  • আলজেরিয়ায় দাবানলে ৬ জনের মৃত্যু

    আলজেরিয়ায় দাবানলে ৬ জনের মৃত্যু

    আলজেরিয়ায় দাবানলে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে এখনো কয়েকটি এলাকায় আগুন জ্বলছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে ।

    মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশের কয়েকটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।’ আলজিয়ার্স থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব পালনে সরকারি কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে সব প্রদেশকে ‘নিবন্ধিত সব ক্ষয়ক্ষতির জরিপ ও তালিকা তৈরির জন্য একটি সার্বিক কার্যক্রম’ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এখনো জ্বলতে থাকা আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।

    আলজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকা তীব্র তাপপ্রবাহে আক্রান্ত। এর ফলে কয়েক শত দাবানলের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব দাবানলে দেশটিতে বেশ কজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

  • ‘তেলাপোকা’র বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লির ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা

    ‘তেলাপোকা’র বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লির ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা

    নয়াদিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় দিল্লির ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্রেনের রুট পরিবর্তন ও বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

    বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) জানায়, ব্লু, ইয়েলো এবং ভায়োলেট লাইনসহ বিভিন্ন রুটের ১৬টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ (গেট) নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    বন্ধ হওয়া স্টেশনগুলো হলো: লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারখামবা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ ও শিবাজি স্টেডিয়াম।

    রাজীব চক, মান্ডি হাউস ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটে ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা চালু থাকবে। তবে কবে নাগাদ সব স্টেশন খুলবে, তা জানায়নি ডিএমআরসি।

    সকাল সাড়ে ১১টার পর এই বন্ধের কারণে যাত্রীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। অনেক স্টেশনে ট্রেন থামলেও বাইরে বেরোনো যাচ্ছে না—পুলিশি ব্যারিকেড আটকে দিচ্ছে। মান্ডি হাউসে দীর্ঘ লাইন ও পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে।

    এক যাত্রী জানান, মান্ডি হাউস ও পাশের পাঁচটি স্টেশন বন্ধ থাকায় বাইক ট্যাক্সি বুক করে অফিসে যেতে হয়েছে তাঁকে। নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • নিকারাগুয়ায় আর কোনো নির্বাচন হবে না: প্রেসিডেন্ট ওর্তেগার

    নিকারাগুয়ায় আর কোনো নির্বাচন হবে না: প্রেসিডেন্ট ওর্তেগার

    নিকারাগুয়ার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল ওর্তেগা বলেছেন, বিরোধী দলের ক্ষমতায় আসা আটকাতে দেশটিতে আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না।

    মধ্য আমেরিকার দেশ নিকারাগুয়ায় ২০০৭ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন ৮০ বছর বয়সী কর্তৃত্ববাদী নেতা ওর্তেগা। তিনি আরও বলেন, নতুন আইন পাস করার মাধ্যমে বিরোধীদের ঠেকাতে তিনি নিজ দলের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশটির কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করছেন, যাতে বিরোধীদের সামনে ‘একটি প্রাচীর গড়ে তোলা যায়’।

    ১৯৭৯ সালের সান্দিনিস্তা বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে গত রোববার আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দানিয়েল ওর্তেগা এই ঘোষণা দেন। ওই বিপ্লবের সময় তিনি ‘আনাস্তাসিও সোমোসার’ নৃশংস স্বৈরশাসন উৎখাতে ভূমিকা রেখেছিলেন।

    যদিও দানিয়েল ওর্তেগা এবং তাঁর স্ত্রী কো–প্রেসিডেন্ট রোজারিও মুরিলোর শাসনামলে নিকারাগুয়ায় গণতন্ত্র ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবু অনেকেই তাঁর সর্বশেষ ঘোষণাকে বিরোধীদের দমনে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

    রোববার কয়েক হাজার সরকারি কর্মীর সামনে দেওয়া এক ভাষণে ওর্তেগা বলেন, ‘এখানে আর কোনো নির্বাচন হবে না। তারা [বিরোধী দলগুলো] যাতে সরকার দখল করার বা ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে না পারে, সে জন্য এই ব্যবস্থা।’ স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সরকারি কর্মীদের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল।

    ৬১ দিন ধরে জনসমক্ষে না আসা এই প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা জাতীয় পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করে নতুন আইন তৈরি করব। কারণ, আমাদের এমন আইন দরকার, যা অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রকারী এবং দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি প্রাচীর বা বাধা তৈরি করবে।’

    নিকারাগুয়ার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল ওর্তেগা এবং তাঁর স্ত্রী ও কো–প্রেসিডেন্ট রোজারিও মুরিলো

    আগামী বছর নিকারাগুয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই নির্বাচন বাতিল করা হবে, নাকি বিরোধীদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে, তা নিয়ে ওর্তেগা বিস্তারিত কিছু জানাননি।

    যদিও বাস্তবে এরই মধ্যে এমনটি ঘটেছে। ২০২১ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁর সরকার কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে এবং বিরোধী দলের সব প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে কারাগারে পাঠায়।

    ক্ষমতা ধরে রাখতে গত বছর ওর্তেগা সংবিধানের একাধিক সংস্কারের প্রস্তাব করেছেন এবং কংগ্রেসে তা পাস করিয়েছেন। এসব সংস্কারের মধ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ছয় বছর করা এবং তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট, তাঁর স্ত্রী রোজারিও মুরিলোকে কো-প্রেসিডেন্ট পদে উন্নীত করা।

  • মালিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় ৫০ সেনা নিহত, আরও ২৪ সেনা বন্দী

    মালিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় ৫০ সেনা নিহত, আরও ২৪ সেনা বন্দী

    আর্ন্তর্জাতিক ডেস্ক:

    পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির উত্তরাঞ্চলে সশস্ত্র তুয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৫০ সেনা নিহত হয়েছেন। আরও অন্তত ২৪ সেনাকে বন্দী করা হয়েছে বলে স্থানীয় ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    এএফপিকে আজ রোববার সূত্রগুলো জানায়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাঞ্চলীয় শহর আনেফিস থেকে সেনারা সরে যাওয়ার সময় তাঁদের বহরে হামলা চালানো হয়।

    ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তার ঘনিষ্ঠ এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘হামলায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি। ৫০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। অন্তত ২৪ জনকে বন্দী করা হয়েছে।’

    স্থানীয় সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মালির সেনাবাহিনীর ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি এটি।

  • নরওয়েতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক বাড়ি ভস্মীভূত

    নরওয়েতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক বাড়ি ভস্মীভূত

    নরওয়েতে স্মরণকালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় শতাধিক বাড়ি পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

    দক্ষিণ নরওয়ের ড্রামেন শহরের একটি টাউনহাউসে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। ড্রামেন শহরটি নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার (২১ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।

    কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন আশপাশের এলাকায় এবং কাছের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে যা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে দমকলকর্মীদের। শনিবার সকালেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।

    নরওয়ের বেসামরিক সুরক্ষা অধিদফতর জানিয়েছে, আধুনিক সময়ে এ ধরনের সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ড এটি। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে শত শত মানুষকে একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো বাসিন্দা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

  • তীব্র গরমে বেলজিয়ামে ১৫ দিনে ২০০০ মানুষের মৃত্যু

    তীব্র গরমে বেলজিয়ামে ১৫ দিনে ২০০০ মানুষের মৃত্যু

    চলতি গ্রীষ্মকালে ইউরোপজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এই তাপপ্রবাহের কারণে জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত মাত্র ১৫ দিনে বেলজিয়ামে প্রায় ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বেলজিয়ামের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সিয়েনসানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    সিয়েনসানোর তথ্যমতে, গত ১৮ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত ১৫ দিনে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বেলজিয়ামের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ওয়ালোনিয়াতে। মৃত্যুসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে রাজধানী ব্রাসেলস এবং উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ ফ্ল্যান্ডার্স।

    বিবৃতিতে সিয়েনসানো জানিয়েছে, ২০০০ সাল থেকে তারা দেশে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর রেকর্ড রাখছে। সংস্থাটির গত ২৬ বছরের রেকর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরই প্রথম তাপপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট হিটস্ট্রোক ও নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় বেলজিয়ামে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হলো।

    এর আগে বেলজিয়ামে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের কারণে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছিল ২০২০ সালে। ওই বছর দেশটিতে ১ হাজার ৫৫৭ জনের প্রাণহানি হয়েছিল।

  • তীব্র গরমে বেলজিয়ামে ১৫ দিনে ২০০০ মানুষের মৃত্যু

    তীব্র গরমে বেলজিয়ামে ১৫ দিনে ২০০০ মানুষের মৃত্যু

    চলতি গ্রীষ্মকালে ইউরোপজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এই তাপপ্রবাহের কারণে জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত মাত্র ১৫ দিনে বেলজিয়ামে প্রায় ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বেলজিয়ামের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সিয়েনসানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    সিয়েনসানোর তথ্যমতে, গত ১৮ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত ১৫ দিনে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বেলজিয়ামের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ওয়ালোনিয়াতে। মৃত্যুসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে রাজধানী ব্রাসেলস এবং উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ ফ্ল্যান্ডার্স। বিবৃতিতে সিয়েনসানো জানিয়েছে, ২০০০ সাল থেকে তারা দেশে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর রেকর্ড রাখছে।

    সংস্থাটির গত ২৬ বছরের রেকর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরই প্রথম তাপপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট হিটস্ট্রোক ও নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় বেলজিয়ামে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হলো। এর আগে বেলজিয়ামে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের কারণে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছিল ২০২০ সালে। ওই বছর দেশটিতে ১ হাজার ৫৫৭ জনের প্রাণহানি হয়েছিল।

  • কাঁঠালের উপকারিতা ও অপকারিতা

    কাঁঠালের উপকারিতা ও অপকারিতা

    কাঁঠালের উপকারিতা ও অপকারিতা

    যেসকল পুষ্টি মানুষের দেহে প্রয়োজন তার প্রায় সবই কাঁঠালের মধ্যে আছে। এজন্যই বাঙালিরা পুষ্টির অভাব পূরণ করার জন্য কাঁঠাল খেয়ে থাকেন। শুধু তাইনয় কাঁঠাল পুষ্টির রাজা এবং গরিবের খাদ্য হিসেবে পরিচিত। কাঁঠাল কাঁচা, পাকা, খোসা, বীজ, শিকড় সবভাবেই খাওয়া যায় এবং প্রতিটি স্তরই পুষ্টির চমৎকারউৎস।কাঁচাকাঁঠালওকাঁঠালেরবিচিরান্নাকরেতরকারিবাহালুয়াওভর্তাহিসেবেখাওয়াহয়।আবারকাঁঠালের যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমনিঅপকারিতাও রয়েছে। নিম্নেকাঁঠালের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন।

    কাঁঠালের যত গুণ –

    কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম Artocarpus heterophyllus এবং ইংরেজিতে Jackfruit. কাঁঠাল বাংলাদেশে জন্মানো এমন একটি ফল যার প্রতিটি অংশই গুরুত্বপূর্ণ।

    কাঁঠালের উপকারিতা

    আসুন জেনে নিন কাঁচা ও পাকা কাঁঠালের স্বাস্থ্য উপকারিতা-

    পুষ্টিবিদরা বলছেন, কাঁঠাল পুষ্টিগুণে ভরপুর। এবংমানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান যেমন- বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, বি-১, বি-২, থায়ামিন,রিবোফ্লাভিন,পটাশিয়াম,ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম,ফাইবার, প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট,ম্যাংগানিজ,কপার আয়রনসহ নানা রকমের পুষ্টি ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। এ ছাড়া আমিষ, শর্করা ও বিভিন্ন রকম ভিটামিনের ভাণ্ডার হচ্ছে এই কাঁঠাল । যেমনঃ-

    ♥উপাদান: প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে শক্তি ৩৯৭ কিলোক্যালরি, খাদ্য-আঁশ ২.০০ গ্রাম, চিনি ১৯.০৮ গ্রাম, স্নেহ- ০৬৪ গ্রাম, প্রোটিন ১.৭২ গ্রাম, ভিটামিন এ ৫ মাইক্রোগ্রাম, ভিটা ক্যারোটিন ৬১ মাইক্রোগ্রাম, লুটিন জিয়াক্সানথিন ১৫৭ মাইক্রোগ্রাম, থায়ামিন (বি১) ০.১০৫ মিঃগ্রাম, রিবোফ্লাবিন (বি২) ০.৫৫ মিঃগ্রাম, নায়াসিন (বি৩) ০.৯২ মিঃগ্রাম, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড (বি৫) ০.২৩৫ মিঃগ্রাম, ভিটামিন (বি৬) ০.৩২৯ মিঃগ্রাম, ফোলেট (বি৯) ২৪ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন সি ১৩.৮ মিঃগ্রাম, ভিটামিন ই ০.৩৪ মিঃগ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৪ মিঃগ্রাম, লৌহ ০.২৩ মিঃগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ২৯ মিঃগ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ ০.০৪৩ মিঃগ্রাম, ফসফরাস ২১ মিঃগ্রাম, পটাসিয়াম ৪৪৮ মিঃগ্রাম, সোডিয়াম ২ মিঃগ্রাম, জিংক ০.১৩ মিঃগ্রাম ও অন্যান্য।

    ♥কাঁঠালে থাকা প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে।

    ♥কাঁঠালে থাকা ভিটামিন সি চুল,দাঁত ও দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়া ক্যান্সার ও টিউমারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

    কাঁঠালে থাকা ভিটামিন এ রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

    ♥কাঁঠালে বিদ্যমান ফাইটো-নিউট্রিয়েন্টস আলসার, পাইলস ও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় এবং বার্ধক্য ও উচ্চ রক্তচাপপ্রতিরোধে সহায়তা করে।

    ♥কাঁঠালে রয়েছে পটাশিয়াম, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

    ♥কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন, যা চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।

    ♥কাঁঠালে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে ও বলিরেখা কমিয়ে তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। মুখে বলিরেখা পড়তে বাধা দেয়। এছাড়াও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে সৃষ্টিকারী ফ্রি রেডিক্যাল প্রতিরোধ করতে লড়াই করে। যা ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী।

    ♥কাঁঠালে থাকা সোডিয়াম ও পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্সকে ঠিক রাখে, যা উচ্চরক্তচাপ ও হার্টও ভালো রাখে।

    ♥কাঁঠালে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালোরি। এজন্যই কাঁঠাল খেলে তাৎক্ষণিকশক্তিপাওয়াযায়।

    ♥কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকায় হজমের সমস্যা দূর করে। যা হজমশক্তি বাড়ায়, পেট পরিষ্কার রাখে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

    ♥কাঁঠালে থাকা ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হাড় মজবুত করে ও অস্টিওপোরসিস রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

    কাঁঠালে আয়রন থাকে, যা রক্তে লোহিতকণিকার পরিমাণ বাড়ায়। রক্তাল্পতায় রোগীদের জন্য কাঁঠাল খুবই উপকারী যা দেহের রক্তস্বল্পতা দূর করে।

    ♥কাঁঠালে কোনো ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নেই এবং ক্ষতিকারক ফ্যাটের পরিমাণ কম হওয়ায় ওজন বাড়ার খুব একটা আশঙ্কা থাকে না

    ♥টেনশন, নার্ভাসনেস ও বদ হজম কমাতে কাঁঠালে ভূমিকা অনেক।

    ♥দুগ্ধদানকারী মা তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

    ♥কাঁঠালে থাকা ম্যাঙ্গানিজ ও খনিজ উপাদান যা রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

    ♥কাঁঠালে থাকা ভিটামিন বি-৬ হৃদরোগের ঝুঁঁকি কমায়।

    ♥মায়ের পুষ্টিতে: প্রতিদিন ২০০ গ্রাম পাকা কাঁঠাল খেলে গর্ভবতী মা ও তার গর্ভধারণকৃত শিশুর সব ধরনের পুষ্টির অভাব দূর হয়ে যায়।

    কাঁঠালের বিচির উপকারিতা :

    কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে ভিটামিন বি-১ ও বি-১২ এর ভালো উৎস।এছাড়াআছেভিটামিনএ, ও সি, থায়ামিন, নায়াসিন, লিগন্যান, আইসোফ্ল্যাভোন এবং স্যাপোনিনের মতো ফাইটো ক্যামিক্যালস। যা মানব দেহের জন্য উপকারী।

    ♦কাঁঠালের বিচিতে প্রতি ১০০ গ্রামে শক্তি পাওয়া যায় ৯৮ ক্যালরি। এ ছাড়া প্রতি ১০০ গ্রামে থাকে কার্বোহাইড্রেট ৩৮.৪ গ্রাম, প্রোটিন ৬.৬ গ্রাম, ফাইবার ১.৫ গ্রাম, চর্বি ০.৪ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ০.০৫ থেকে ০.৫৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ০.১৩ থেকে ০.২৩ মিলিগ্রাম, আয়রন ১.২ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ২ মিলিগ্রাম ও পটাশিয়াম ৪.০৭ মিলিগ্রাম।

    ♦কাঁঠালের বিচিতে আছে শর্করা যা শক্তির উৎকৃষ্টউৎস।

    ♦বিচিতে প্রোটিনও আছে যা কি না মাংসপেশি গঠনে ভূমিকা রাখে।

    ♦ফাইবার ও কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটের কারণে এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। ফলে এটি ওজন নাবাড়িয়েই যোগাতে পারে অনেক এনার্জি।

    ♦যে সমস্ত মানুষ মাছ, মাংস কম খায় তাদের জন্য আমিষের চাহিদা মেটাতে কাঁঠাল বিচি উৎকৃষ্টখাবার।

    ♦কাঁঠালবিচির জীবানুনাশক গুণও রয়েছে। এটি Escherichia coli I Bacillus megaterium ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর এবং এতে থাকা বিশেষ উপাদান Jacalin এইডস রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নয়নে সফল বলে প্রমাণিত হয়েছে।

    ♦এটি বলিরেখা দূর করে এবং ত্বকের বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

    ♦কাঁঠালের বিচি খেলে চুলের আগা ফাটা সমস্যা রোধ করে ও চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।

    ♦এতে বিদ্যমান ক্যালসিয়াম কেবল হাড়ের জন্য উপকারী নয় রক্ত সঙ্কোচন প্রক্রিয়া সমাধানেও ভূমিকা রাখে।

    ♦কাঁঠালের বিচিতেও রয়েছে প্রোটিন। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় কাঁঠালের বিচি খেতে পারেন। ফলে শরীরের রক্ত সরবরাহ বাড়বে। এ ছাড়া কাঁঠালে থাকা কপার থাইরয়েডগ্রন্থি ভালো রাখে।

    ♦কাঁঠালের বিচিতে থাকা এন্টি অক্সিডেন্টগুলো ক্যান্সার প্রতিরোধী এবং বার্ধক্যের প্রভাব সৃষ্টিকারি উপাদানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

    কাঁঠালের খোসার উপকারিতা :

    ♣ কাঁঠালের খোসা দিয়ে তৈরি করা যায় জেলি। কারণ এতে ভিটামিন সি ও প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় উপাদান পাওয়া যায়।

    ♣কাঁঠালের খোসা দিয়ে তৈরি জেলিতেক্যালশিয়ামের ও পটাশিয়াম মতো খনিজ উপাদানগুলো শরীরে সোডিয়ামের প্রভাব নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন ঠিক রাখতে অনেকটা সাহায্য করে থাকে।

    ♣এছাড়াও এই জেলিতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন যা সেল ড্যামেজ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে থাকে।

    কাঁঠালের শিকড়ের উপকারিতা :

    ♠যাদের হাঁপানি সমস্যা রয়েছে তারা কাঁঠালের শিকড় সিদ্ধ করে তা গ্রহণ করলে হাঁপানি সমস্যা সহজে নিরাময় করতে সহায়তা করে।

    ♠কাঁঠালের শিকড় জ্বর ও ডায়রিয়া নিরাময়ে খুব ভালো উপকার করে।

    ♠তাছাড়াও চর্মরোগ সমস্যার সমাধানে খুবই কার্যকরী ।

    কাঁঠালেরঅপকারিতাঃ

    কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল। কাঁঠালের যেমনউপকারিতা রয়েছে তেমনি কাঁঠালের উপকারিতা রয়েছে এখানে আলোচনা করব কাঁঠালেরঅপকারিতা সম্পর্কে। কাঁঠালের অপকারিতা নিচে উল্লেখ্য করা হলো জেনে নিনঃ

    যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের কাঁঠাল খাওয়ায় কিছুটা বিধিনিষেধ আছে। কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি, তাদের কাঁঠাল না খাওয়াই ভালো। তাছাড়াও অধিক পরিমাণে কাঠাল খেলে তা বদহজম হতে পারে।

    √√চলুন তাহলে দেখে নেই কাঁঠাল খাওয়ার পর কি কি ফল খাওয়া যাবে নাঃ

    ♥দুধঃ কাঁঠাল খাওয়ার পর দুধ খেলে পেট ফুলে যেতে পারে এবংত্বকে ফুসকুড়ি আবার সাদা সাদা দাগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    ♥পেঁপেঃ কাঁঠাল খাওয়ার পরে আপনি যদি পেঁপে খেতে যান তাহলে মুখে বা শরীরে এলার্জি চুলকানির সমস্যা

    দেখা দিতে পারে।

    ♥ঢেঁড়সঃ কাঁঠাল খাওয়ার পর যদি ঢেঁড়স খেয়ে থাকেন তাহলে এসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    ♥পানিঃ কাঁঠাল খাওয়ার পর পানি খেলে আপনার মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • চূড়ান্ত অ্যান্ডি বার্নহ্যামের মন্ত্রিসভা

    চূড়ান্ত অ্যান্ডি বার্নহ্যামের মন্ত্রিসভা

    সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী সোমবার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তাঁর নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে জোর জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে গেছে। যদিও মন্ত্রিসভা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

    কেন বার্নহ্যাম এখনো তাঁর মন্ত্রিসভা ঘোষণা করছেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে লেবার পার্টির নতুন এই নেতা বলেন, ‘আপনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই যদি মন্ত্রিসভায় রদবদল শুরু করে দেন, তাহলে তা কিছুটা অগ্রিম হয়ে যাবে এবং আমার মনে হয়, এতে পুরোপুরি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।’

    বার্নহ্যাম এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও তাঁর মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাবেন, তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, র‍্যাচেল রিভসের স্থলাভিষিক্ত হয়ে অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর) হওয়ার দৌড়ে এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড ও শাবানা মাহমুদ এগিয়ে রয়েছেন।

    দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর দেওয়া এক ভাষণে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তাঁর সরকারের রূপরেখা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি সমাজসেবা (সোশ্যাল কেয়ার) ব্যবস্থার সংস্কারসহ বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা বলেন।

    এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী রাজনীতিক নাইজেল ফারাজ বলেছেন, ‘অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কোনো ধরনের গণরায় (ম্যান্ডেট) ছাড়াই ক্ষমতায় আসছেন।’ ডানপন্থী এই রাজনীতিক ভাবি প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামকে ‘দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য অবিলম্বে একটি সাধারণ নির্বাচন’ আয়োজনের আহ্বান জানান।

    অন্যদিকে লিবারেল ডেমোক্র্যাটের নেতা এডওয়ার্ড ডেভি যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বার্নহ্যামকে স্বাগত জানিয়ে তাঁকে আরও সহযোগিতামূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমার দরজা খোলা আছে।’

    এডওয়ার্ড ডেভি আরও বলেন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা বিশেষ করে পানি খাতে সংস্কার, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) খাতে আরও সহায়তা ও সমাজসেবা ব্যবস্থায় পরিবর্তন দেখতে চায়। এর মধ্যে পরিবারে যাঁরা স্বজনদের সেবাযত্ন করেন (ফ্যামিলি কেয়ারার), তাঁদের জন্য আরও বেশি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।

    এক মাস আগে উপনির্বাচনে বিপুল ভোট পেয়ে আবারও পার্লামেন্টে ফেরেন বার্নহ্যাম। এ সপ্তাহের শুরুতে লেবার পার্টির ৩৭৯ পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) ও দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১১টি ট্রেড ইউনিয়নের সমর্থন পেয়ে দলীয় নেতৃত্বের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছেন।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর রাজা বার্নহ্যামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। তিনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন এবং ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে যাত্রা শুরু করবেন।

    বার্নহ্যামের মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এ–সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত করছি। খুব শিগগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাব এবং সোমবার সেগুলো ঘোষণা করব।’

  • এতিমখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১১

    এতিমখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত ১১

    আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সের উপকণ্ঠে একটি এতিমখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।

    বৃহস্পতিবার ভোরের আগে স্থানীয় সময় রাত ৩টার দিকে আলজিয়ার্সের পূর্বাঞ্চলের মোহাম্মাদিয়া জেলার একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে আগুন লাগে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে দমকল বাহিনী।

    কয়েক ঘণ্টা পরও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন দমকলকর্মীরা। তবে আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। উদ্ধারকারীরা অভিযান চলাকালে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পাঁচ শিশুকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন।

    নিহতদের বয়স বা পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী সিফি গরিব হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নিয়েছেন।

    এদিকে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত আলজেরিয়ায় গত এক সপ্তাহে প্রায় এক হাজার দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আগে থেকেই চাপে থাকা জরুরি সেবা কার্যক্রম আরও সংকটের মুখে পড়েছে।

  • জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তিও কত ভয়াবহ!

    জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তিও কত ভয়াবহ!

    আল্লাহ তাআলা মানুষকে জান্নাতের সুসংবাদ যেমন দিয়েছেন, তেমনি জাহান্নামের কঠিন শাস্তির ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন। একজন মুমিনের জন্য জাহান্নামের শাস্তির বর্ণনা ভয় প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নয়; বরং তাকে গুনাহ থেকে বিরত রাখা, তওবার দিকে আহ্বান করা এবং আল্লাহর আনুগত্যে দৃঢ় করা। বিস্ময়কর বিষয় হলো, যে শাস্তিকে জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তি বলা হয়েছে, সেটিও মানুষের কল্পনার অতীত ভয়াবহ। এই হাদিস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জাহান্নাম থেকে মুক্তিই প্রকৃত সফলতা।কুরআনের সতর্কবার্তা

    আল্লাহ তাআলা বলেন—

    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ

    ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।’ (সুরা আত-তাহরীম: আয়াত ৬)

    আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—

    فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ

    ‘যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই-ই প্রকৃত সফলকাম।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৮৫)

    জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তি

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    إِنَّ أَهْوَنَ أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا رَجُلٌ تُوضَعُ فِي أَخْمَصِ قَدَمَيْهِ جَمْرَتَانِ يَغْلِي مِنْهُمَا دِمَاغُهُ، كَمَا يَغْلِي الْمِرْجَلُ وَالْقُمْقُمُ، مَا يَرَى أَنَّ أَحَدًا أَشَدُّ مِنْهُ عَذَابًا، وَإِنَّهُ لَأَهْوَنُهُمْ عَذَابًا

    ‘জাহান্নামবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি হবে সেই ব্যক্তি, যার পায়ের তলায় দুটি আগুনের অঙ্গার রাখা হবে। এর তাপে তার মস্তিষ্ক এমনভাবে ফুটতে থাকবে, যেমন হাঁড়ি ফুটতে থাকে। সে মনে করবে, তার চেয়ে কঠিন শাস্তি আর কারো নেই; অথচ সে-ই হবে জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি।’ (মুসলিম ২১৩)

    এই হাদিস আমাদের কী শিক্ষা দেয়?

    • জাহান্নামের সামান্যতম শাস্তিও মানুষের সহ্যের বাইরে।
    • দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী আনন্দের জন্য আখিরাতকে বিসর্জন দেওয়া চরম ক্ষতির কারণ।
    • আল্লাহর রহমত লাভ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য আন্তরিক তওবা, নেক আমল ও তাকওয়া অর্জনের বিকল্প নেই।
    • একজন মুমিনের উচিত প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করা এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়া।

    জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

    উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আঝিরনি মিনান নার।’

    অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।’

    রাসুলুল্লাহ (সা.) শিক্ষা দিয়েছেন, এই দোয়া বেশি বেশি পড়তে এবং আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাইতে। (আবু দাউদ ৫০৭৯)

    জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তির এই বর্ণনাই প্রমাণ করে যে, আখিরাতের শাস্তি কোনো সাধারণ বিষয় নয়। তাই একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, নিয়মিত তওবা করা এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত করুন, জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন এবং ইমানের ওপর অবিচল রেখে মৃত্যু দান করুন। আমিন।

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন

    চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ ২৭ আগস্ট

    ডেস্ক নিউজ : স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে আগামী ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

    বুধবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব রশিদ মিয়ার সই করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠি থেকে জানা যায়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১০ আগস্ট ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকার ওপর দাবি ও আপত্তি জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ আগস্ট। এরপর প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির কাজ শেষ করতে হবে ২৩ আগস্টের মধ্যে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে ২৭ আগস্ট সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে ইসি।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রণীত ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী ভোটগ্রহণের অন্তত ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করে গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে।

    চিঠিতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভোটকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্থায়ী ভবনের ভেতরে ভোটকক্ষ স্থাপনের সুযোগ থাকলে অস্থায়ী ভোটকক্ষ নির্মাণের প্রস্তাব এড়িয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    চিঠিতে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন সহায়তা-৩ শাখায় পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তপশিল ঘোষণার সাতদিনের মধ্যে তালিকার হার্ড কপি ও সফট কপিও জমা দিতে হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • বিমানের জানালা ভেঙে বাইরে ঝুলেপড়া স্বামীকে বাঁচালেন স্ত্রী

    বিমানের জানালা ভেঙে বাইরে ঝুলেপড়া স্বামীকে বাঁচালেন স্ত্রী

    গ্রিস থেকে জার্মানিগামী রায়ানএয়ারের একটি উড়োজাহাজে মাঝআকাশে জানালা ভেঙে এক যাত্রী আংশিকভাবে বাইরে ছিটকে পড়েন। মুহূর্তেই তাকে ধরে ফেলেন পাশের সিটে বসে থাকা স্ত্রী। তৎক্ষণাৎ স্ত্রীর এমন চেষ্টায় প্রাণে বেঁচে যান স্বামী। ওই নারী বলেছেন, স্বামীর পা শক্ত করে ধরে রাখার সময় তার মনে একটাই কথা এসেছিল—যদি মরতে হয়, তাহলে একসঙ্গেই মরব।

    সার্বিয়ার সংবাদমাধ্যম নোভাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সভেতলানা গ্রকোভিচ জানান, তার স্বামী লিউবিশা কারোভিচ ইঞ্জিন বিকলের পর জানালার অ্যাক্রিলিক অংশ ভেঙে গেলে মাথার দিক থেকে বাইরে ছিটকে পড়েন। তখন তার শরীরের অর্ধেক অংশ বিমানের বাইরে ঝুলছিল।

    তিনি বলেন, আমি সঙ্গে সঙ্গে তার দুই পা ধরে ফেলি। প্রায় দুই মিনিট তার বুক পর্যন্ত অংশ বিমানের বাইরে ছিল।’ পরে আরও দুই যাত্রীর সহায়তায় অচেতন হয়ে পড়া স্বামীকে টেনে বিমানের ভেতরে আনতে সক্ষম হন তিনি।

    ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনগামী মাল্টা এয়ারের পরিচালিত রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইটে। উড্ডয়নের প্রায় ১০ মিনিট পর বিমানটি হঠাৎ প্রায় ৯ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। কেবিনের চাপ কমে গেলে অক্সিজেন মাস্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেমে আসে এবং আতঙ্কে অনেক যাত্রী নিজেদের আসন ছেড়ে বিমানের অন্য অংশে চলে যান।

    সহযাত্রীরা জানান, ৬১ বছর বয়সি কারোভিচ সিটবেল্ট বাঁধা থাকায় সম্পূর্ণ বাইরে ছিটকে পড়েননি। তবে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারান।

    সভেতলানা বলেন, তার স্বামী এখনো গ্রিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার হাত গুরুতরভাবে আহত হয়েছে, শরীরে দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি এখনো পুরো ঘটনার কিছুই মনে করতে পারছেন না।

    তিনি আরও জানান, এক নারী ও এক পুরুষ যাত্রী তাকে সাহায্য করেছিলেন। বিশেষ করে একজন আলবেনীয় বংশোদ্ভূত যাত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।

    ঘটনার পর রায়ানএয়ার জানায়, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি যাত্রীর পাশের জানালার অংশ খুলে গেলে বিমানটি নিরাপদে থেসালোনিকি বিমানবন্দরে ফিরে আসে। পরে যাত্রীদের জন্য বিকল্প উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করা হয় এবং তারা একই দিন জার্মানির উদ্দেশে যাত্রা সম্পন্ন করেন।

    এ ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে গ্রিসের হেলেনিক এয়ার অ্যান্ড রেল সেফটি ইনভেস্টিগেশন অথরিটি।

  • উগান্ডান নারী বর্জ্যকে বদলে দিলেন পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে

    উগান্ডান নারী বর্জ্যকে বদলে দিলেন পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে

    ছয় বছর দক্ষিণ সুদানের শরণার্থী শিবিরে শিশু অধিকার কর্মী হিসেবে কাজ করেন লুসি এভারলিন আতিম। এরপর যখন নিজের দেশে ফিরে আসেন, তখন দেখতে পান তাঁর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত শিয়া গাছটি আর নেই। স্থানীয়ভাবে ‘ময়াও’ নামে পরিচিত এই গাছটি আতিমের শৈশবকে রাঙিয়ে তুলেছিল, যার মিষ্টি ও ক্রিমি ফল খেয়ে তিনি ও তাঁর বন্ধুরা স্কুলে যেতেন। তবে কেবল তাঁর প্রিয় গাছটিই নয়, কাঠকয়লা তৈরির জন্য পুরো উত্তর উগান্ডাজুড়েই এমন অসংখ্য শিয়া গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

    ত্রিশোর্ধ্ব এই জলবায়ু কর্মী আল জাজিরাকে বলেন, শিয়া গাছের এই ধ্বংসযজ্ঞ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই গাছগুলোকে রক্ষা করা জরুরি, তবে মানুষের জন্য জ্বালানির বিকল্প উৎসও প্রয়োজন। উগান্ডায় প্রতি বছর কয়লা উৎপাদন ও গাছ কাটার ফলে আনুমানিক ১ লাখ ২২ হাজার হেক্টর বনভূমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রায় ৯০ ভাগ পরিবার রান্নার জন্য কাঠকয়লার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় শিয়া এবং আফজেলিয়া আফ্রিকার মতো আদিম প্রজাতির গাছগুলো দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।

    মেকেরের ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৮ সালে যেখানে পতিত জমিতে পরিণত শিয়া গাছের সংখ্যা ছিল ২০টি, ২০১৭ সালের মধ্যে তা কমে ১০ থেকে ১৫টিতে নেমে এসেছে। শিয়ার এই হ্রাস পাওয়ার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন, কারণ কয়লা উৎপাদনকারীরা গাছ কাটার সময় শিকড়সহ উপড়ে ফেলে, যার ফলে গণনার জন্য কোনো গুঁড়ি অবশিষ্ট থাকে না।

    দক্ষিণ সুদানে কাজ করার সময় আতিম এক নারীর দেখা পেয়েছিলেন যিনি ফেলে দেয়া শিয়ার খোসা বা ভুসি থেকে জ্বালানি ব্রিকেট (এক ধরণের জ্বালানি পিণ্ড) তৈরি করতেন। সেই ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২৩ সালে তিনি ‘ময়াও আফ্রিকা ইনিশিয়েটিভ’ নামে একটি সামাজিক উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানটি শিয়ার বর্জ্যকে জ্বালানি ব্রিকেটে রূপান্তর করার পাশাপাশি নারীদের শিয়া বাটার বা মাখন তৈরি করে জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করে।

    শুকনো শিয়ার খোসা গুঁড়ো করে, কাদা মাটি ও কাসাভা ময়দার মণ্ড তৈরি করে রোদে শুকিয়ে এই ব্রিকেট প্রস্তুত করা হয়। ৪৭ বছর বয়সী ৫ সন্তানের জননী ক্যাথরিন আকেলো জানান, আগে তিনি কেবল শিয়ার বীজ দিয়ে মাখন তৈরি করতেন এবং খোসাগুলো ফেলে দিতেন। এখন তিনি নিজেই এই খোসা দিয়ে ব্রিকেট তৈরি করছেন, যার ফলে রান্নার জন্য কাঠকয়লা কেনার চিন্তা থেকে তিনি মুক্ত হয়েছেন এবং তাদের দল বিক্রয়লব্ধ অর্থ সঞ্চয় করে জরুরি সময়ে পরিবারকে সহায়তা করতে পারছে।

    বর্তমানে এই জ্বালানির চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়লেও শিয়ার মৌসুমী ফলনের কারণে উৎপাদন সীমিত রয়ে গেছে। এই সমস্যা সমাধানে আতিম প্রায় ৫৩০ ডলার মূল্যের ক্রাশার ও ব্রিকেট তৈরির মেশিন কেনার জন্য অর্থ জমাচ্ছেন, যা দিয়ে সারা বছর উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বস্কো ওডয়েক আল জাজিরাকে বলেন, শিয়ার খোসাকে ব্রিকেটে রূপান্তর করা বর্জ্যের চমৎকার ব্যবহার এবং এটি কাঠকয়লার একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প।

    তবে মানবিক ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ পল ম্যুরিশিয়া মনে করেন, গ্রামীণ পরিবারগুলোর জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এখনও নাগালের বাইরে, তাই সরকারের উচিত আতিমের মতো স্থানীয় সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করা। কেবল জ্বালানি উৎপাদনই নয়, আতিমের এই প্রতিষ্ঠানটি ২০টি স্কুলে পরিবেশ ক্লাব পরিচালনা করছে এবং চারা বিতরণ করে প্রকৃতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।

  • বৃটেনে ১৬-১৭ বছর বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ‘কারফিউ’

    বৃটেনে ১৬-১৭ বছর বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ‘কারফিউ’

    ব্রিটেন সরকার দেশটির ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য রাতের বেলায় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, মধ্যরাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবের মতো জনপ্রিয়

    যদিও ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজেদের অ্যাকাউন্টের সেটিংস পরিবর্তন করে এই সীমাবদ্ধতা তুলে দিতে পারবেন। সরকারের দাবি, রাতের কারফিউর পাশাপাশি অটো-প্লে এবং ইনফিনিট স্ক্রলের মতো আসক্তিকর ফিচারও ডিফল্টভাবে বন্ধ রাখা হবে। এতে কিশোর-কিশোরীদের ঘুমের মান উন্নত হবে, পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়বে এবং পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হবে।
    তবে দেশটির শিশু নিরাপত্তা কর্মীরা সরকারের এই পরিকল্পনাকে যথেষ্ট কঠোর মনে করছেন না। ২০২২ সালে একটি অনলাইন চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে ১৪ বছর বয়সী ছেলে জুলস সুইনির মৃত্যুর জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দায়ী করে প্রচারণা চালিয়ে আসা এলেন রুম বলেছেন, কিশোররা যেহেতু সহজেই সেটিংস পরিবর্তন করে কারফিউ তুলে দিতে পারবে, তাই এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে না।

    বিবিসি রেডিও ফোরের টুডে অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এটা এমন যেন ১৭ বছরের একজনের হাতে মদের বোতল দিয়ে সেটিকে শুধু একটু দূরে সরিয়ে রাখা হলো। সে তো আবার হাত বাড়িয়ে সেটি নিয়ে নিতে পারবে। সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল।
    ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
    গত জুনে বৃটেন সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হবে। নতুন এই কারফিউ সেই নীতিরই সম্প্রসারণ।

    একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপদ রাখতে সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের বিভিন্ন উদ্যোগ বর্তমানে একসঙ্গে কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, শিশুদের ডিভাইসে অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ, ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মের শিশুদের জন্য আলাদা সংস্করণ, বয়স যাচাইয়ের নতুন ব্যবস্থা। শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা বৃটিশ আইনপ্রণেতা ব্যারোনেস কিডরন সরকারের পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেন, লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশুদের প্রযুক্তি থেকে দূরে রাখা নয়, বরং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যেন শিশুদের হাতে ক্ষতিকর পণ্য তুলে দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।


    দেশটির অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী কানিশকা নারায়ণ বলেছেন, রাতের কারফিউ এবং অটো-প্লে সীমিত করার মতো পদক্ষেপের ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে বৃটেন বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর দেশগুলোর একটি হয়ে উঠবে। প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেন, এই উদ্যোগ তরুণদের প্রয়োজনীয় ঘুম নিশ্চিত করবে, স্কুল-কলেজে মনোযোগ বাড়াবে এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে সহায়তা করবে, যা সুস্থ ও সফল প্রাপ্তবয়স্ক জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।


    বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির শিক্ষা বিষয়ক মুখপাত্র লরা ট্রট সরকারের পরিকল্পনাকে “এলোমেলো ও অসংগত” বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষায়, সরকারকে ঠিক করতে হবে তারা ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় রাখতে চায় কিনা। এমন কারফিউ, যা তারা নিজেরাই বন্ধ করে দিতে পারে, কোনো বাস্তব ফল দেবে না। বৃটেন সরকার জানিয়েছে, শিশুদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট নিরাপদভাবে ব্যবহারের জন্যও নতুন বিধিমালা আনা হবে।

    এর মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য এআই সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট সময় পরপর বাধ্যতামূলক বিরতির ব্যবস্থা রাখতে হবে।
    দেশটির সরকার ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এসব প্রস্তাব পার্লামেন্টে উত্থাপন করতে চায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বসন্তে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নতুন নিয়মগুলোও কার্যকর হবে।
    শিশু নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু মধ্যরাতের কারফিউ শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়।

    মলি রোজ ফাউন্ডেশন-এর প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি বারোজ বলেন, এই উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও এটি বিচ্ছিন্ন কিছু ঘোষণার অংশ মাত্র। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার জন্য আরও বিস্তৃত ও সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

    তার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিলেও বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা দিয়ে যেতে পারেননি। ফলে সম্ভাব্য উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অসমাপ্ত অনেক কাজের দায়িত্ব নিতে হবে।
    রাতের কারফিউ ক্ষতিকরও হতে পারে
    লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের শিশুদের ডিজিটাল অধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সোনিয়া লিভিংস্টোন সতর্ক করে বলেছেন, রাতের কারফিউ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    তার মতে, যদি কারফিউর উদ্দেশ্য হয় রাতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যেন অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন পাঠিয়ে শিশুদের জাগিয়ে না রাখে, তাহলে সেটি ভালো উদ্যোগ।
    কিন্তু যদি কোনো শিশু গভীর রাতে সাহায্য, পরামর্শ বা মানসিক সহায়তার জন্য বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে, তাহলে সেটি উদ্বেগজনক হতে পারে। ইংল্যান্ডের শিশু কমিশনার ডেম র্যাচেল ডি সুজা বলেছেন, তরুণদের মতামত গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

    তার ভাষায়, তারা সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করতে চায় না, তবে ইনফিনিট স্ক্রলের মতো আসক্তিকর ফিচার থেকে সুরক্ষা চায়। তিনি আরও বলেন, রাতের কারফিউ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং কতটা কার্যকর হবে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক অফকমকে তাদের ক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করার আহ্বান জানান।

  • টাইফুন বাভিকে ঘিরে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

    টাইফুন বাভিকে ঘিরে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

    টাইফুন বাভি উত্তর কোরিয়ার দিকে এগিয়ে আসায় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে পিয়ংইয়ং। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দেশটির নেতা কিম জং উন ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন।

    দুর্বল অবকাঠামো ও ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব উত্তর কোরিয়ায় তুলনামূলক বেশি পড়ে। সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় দৈনিক রোডং সিনমুন জানায়, টাইফুনটি মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে পীত সাগর হয়ে দেশের মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করার আগে দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

    পত্রিকাটি জানায়, দেশটির আবহাওয়া সংস্থা ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে।

    কিম জং উনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ‘সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার’ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    রোডং সিনমুন জানায়, মঙ্গলবার দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ৮০ থেকে ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বর্ষণেরও পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

    এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলসহ কয়েকটি এলাকায় ১৫০ থেকে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। পশ্চিম উপকূল ও কিছু অভ্যন্তরীণ এলাকায় প্রতি সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ মিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে।

    গত সপ্তাহে কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ অ্যাজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, উত্তর কোরিয়া দুর্যোগ প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করেছে। এদিকে, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়াতেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    মধ্যাঞ্চলের চুংচিয়ং প্রদেশে কয়েক শত বাসিন্দাকে এলাকা ছেড়ে যেতে হয়েছে। অনেকে বন্যার পানিতে আটকা পড়েন। সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের গিয়ংসাং অঞ্চলে ফুলে-ফেঁপে ওঠা নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়ার পর, সত্তরের কোঠার এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন।

    সিউলের আবহাওয়া সংস্থা মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত সারাদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণের জিওল্লা প্রদেশে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

    বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়া এখন আরো ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হচ্ছে। গত গ্রীষ্ম ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ। একইভাবে দুই কোরিয়াতেই এবার জুন মাস ছিল রেকর্ড উষ্ণ।

    এ বছর এল নিনোর ফিরে আসাও ঝুঁকি বাড়িয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের এ প্রাকৃতিক উষ্ণায়ন প্রবণতা এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা ও ভারী বৃষ্টিপাতের সাথে সম্পর্কিত। উত্তর কোরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ সঙ্কট রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটির অধিকাংশ বাসিন্দার ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রও নেই।

  • হৃদয়ের আলো তাহাজ্জুদ

    হৃদয়ের আলো তাহাজ্জুদ

    তাহাজ্জুদ শব্দটি গভীর রাতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রাখে। রাত গভীর হলেই তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত হয়। হৃদয়ের আবেগ ঢেলে প্রেমপেয়ালা পরিপূর্ণ করার সময় হলো তাহাজ্জুদ। সেজদায় রবের কাছে গিয়ে প্রেমালাপের উত্তম তরিকা তাহাজ্জুদ। মনের ভাষাগুলো চোখ দিয়ে বের করে হাতে ও মুখে শান্তি মাখানোর নাম-ই তাহাজ্জুদ।

    তাহাজ্জুদের ওয়াক্তে রব বান্দার খুব কাছাকাছি চলে আসেন। বান্দারও সুযোগ থাকে রবকে কাছে পেয়ে সব হাজত তুলে ধরার। দুনিয়াবাসী এ সময় ঘুমের কোলে পরম আরামে থাকে। আরশ থেকে নামা রবের বিশেষ রহমত পেতে বান্দার আরাম বিসর্জন দেওয়া জরুরি। ইবাদত যত ত্যাগ ও মেহনতময় হবে, তত লাভজনক হবে এর ফল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ নামাজ হলো রাতের নামাজ।’ (মুসলিম : ১১৬৩)গোনাহ মাফ, নৈকট্যলাভ ও মন ভালো রেখে মন্দ থেকে দূরে থাকার অন্যতম পথ হলো রাতের নামাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কিয়ামুল লাইল বা রাতের নামাজ আদায় করা উচিত। কারণ, রাতে ইবাদত করা তোমাদের পূর্ববর্তী নেক লোকদের রীতি। এটি তোমাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের পথ, গোনাহ মাফের উপায় এবং অপরাধ-অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার মাধ্যম।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা : ১১৩৫)

    পৃথিবীর প্রাসাদ মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। আর মাটিও ইসরাফিল (আ.)-এর ফুঁতকারের অপেক্ষায়। আকাশ-মাটি সব ধ্বংস হবে। দুনিয়ার প্রাসাদ তো দুনিয়ার চোখে নামমাত্র সুন্দর, কিন্তু রাতজাগা ইবাদতকারীদের জন্য রয়েছে, অবর্ণনীয় সুন্দরের জান্নাতি চিরস্থায়ী প্রাসাদ। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতের মধ্যে প্রাসাদগুলো এমন হবে যে, এর ভেতর থেকে বাইরের সবকিছু দেখা যাবে এবং এর বাইরে থেকে ভেতরের সবকিছু দেখা যাবে।’ এক বেদুইন দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসুল! এসব কাদের জন্য? তিনি বললেন, ‘যারা মানুষের সঙ্গে নরম কথা বলে, ক্ষুধার্তকে খাবার দেয়, সিয়াম পালন করে এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন নামাজ আদায় করে ।’ (তিরমিজি : ২৫২৭)

    আমরা মানুষ। আল্লাহর বান্দা। তিনি জানেন আমরা অপরাধ করতে পারি! তাই তো, তিনিই ক্ষমার অপার সুযোগ রেখে তাহাজ্জুদের সময় নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে আমাদের ডাকতে থাকেন। সাহাবি আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের পরওয়ারদিগার আমাদের নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনÑকেউ আছে কি! যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কেউ আছে কি! যে আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে তা দিয়ে দেব। কেউ আছে কি! যে আমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’ (বুখারি : ৬৩২১)

    বিশ্বজুড়ে এখন ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাপ্রেমিকরা শেষরাতে প্রিয় দলের লড়াই দেখার জন্য জেগে ওঠে। (কপালপোড়া সেই মুসলিমরা আল্লাহর সব নিয়ামত ভোগ করেও তাঁর হুকুমে একটু পর ফজর পড়তে পারে না।) তেমনি প্রকৃত মুমিনরা শেষ রাতে আল্লাহর সান্নিধ্যের টানে ঘুমিয়ে থাকতে পারে না। তাহাজ্জুদকে সেতু বানিয়ে সেজদার বাহনে চড়ে চলে যায় মহান রবের দরবারে। আল্লাহর দরবারের চেয়ে উত্তম গন্তব্য মুমিমের আর কী হতে পারে! রব আমাদের সবাইকে কবুল করুন।

  • আধুনিক কাতারের স্থপতি সাবেক আমির শেখ হামাদ আর নেই

    আধুনিক কাতারের স্থপতি সাবেক আমির শেখ হামাদ আর নেই

    কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। রোববার দেশটির আমিরের দপ্তর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

    বিবৃতিতে জানানো হয়, রোববার সকালে শেখ হামাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে আমিরের কার্যালয় বলেছে, জাতি একজন দূরদর্শী নেতাকে হারাল।

    ১৯৯৫ সালে কাতারের ক্ষমতায় আসেন শেখ হামাদ এবং ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা ১৮ বছর দেশ পরিচালনা করেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রাকৃতিক গ্যাসসমৃদ্ধ কাতার অর্থনীতি, অবকাঠামো, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করে। এই কারণে তাঁকে আধুনিক কাতারের অন্যতম প্রধান নির্মাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির বাবা।

    শেখ হামাদের আমলে কাতার বিশ্বের অন্যতম ধনী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন কূটনৈতিক ইস্যুতেও দেশটির সক্রিয় ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

    ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে কাতার বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে আলোচনায় আসে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত শেখ হামাদ দর্শকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও করতালি লাভ করেছিলেন।

    ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরল নজির স্থাপন করে তিনি আমিরের দায়িত্ব ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে তুলে দেন। সে সময় শেখ তামিমের বয়স ছিল মাত্র ৩৩ বছর।

  • জন্মহার বাড়াতে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে ভুটান

    জন্মহার বাড়াতে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে ভুটান

    দ্রুত কমে যাওয়া জন্মহার ও উন্নত সুযোগের খোঁজে তরুণদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতার মধ্যে জনসংখ্যা সঙ্কট মোকাবেলায় পরিবারগুলোকে আরো সন্তান নিতে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে হিমালয়ের ছোট্ট দেশ ভুটান।

    গত এক দশকে দেশটিতে বার্ষিক জন্মহার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি কমে গেছে। একই সময়ে দেশ ছেড়ে তরুণদের বিদেশে চলে যাওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে।

    রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ভুটান ব্রডকাস্টিং সার্ভিস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে জনসংখ্যা হ্রাসকে বারবার ‘অস্তিত্বের সঙ্কট’ বলে উল্লেখ করেছেন। সরকার গত জুনে ‘থার্ড চাইল্ড প্লাস’ কর্মসূচির চালু করে।

    কর্মসূচির ভূমিকায় তোবগে লিখেছেন, ‘তথ্য-প্রমাণ স্পষ্ট যে ভুটানে প্রজনন হার এখন জনসংখ্যা ধরে রাখার প্রয়োজনীয় মাত্রার কাছাকাছি বা তারও নিচে নেমে গেছে।’ এই কর্মসূচির আওতায় তৃতীয় বা পরবর্তী প্রতিটি সন্তানের জন্য তিন বছর বয়স পর্যন্ত মাসে ১০৫ মার্কিন ডলার করে দেয়া হবে।

    ৩৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা খান্দু ওয়াংমো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও শুধু নগদ অর্থ দিয়ে পরিবারগুলোকে আরো সন্তান নিতে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে কি-না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

    তিনি বলেন, ‘এটি একটি ভালো উদ্যোগ। কারণ এটি পরিবারগুলোকে তিন বা তার বেশি সন্তান নিতে উৎসাহিত করবে।’

    তবে খান্দু ওয়াংমো বলেন, ‘সন্তান লালন-পালন, বাসস্থান ও শিশুর দেখাশোনার ব্যয় বেশি হলে, শুধু নগদ বেশি প্রভাব ফেলবে না।’ ভারত ও চীনের মাঝখানে অবস্থিত স্থলবেষ্টিত এই দেশের জনসংখ্যা আট লাখেরও কম। তাই বিষয়টি দেশটির জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

    জাতিসঙ্ঘের হিসাব অনুযায়ী, ভুটানে প্রতি নারীর সন্তান জন্মদানের হার কমে প্রায় ১ দশমিক ৮-এ নেমে এসেছে। এটি জনসংখ্যা ধরে রাখার প্রয়োজনীয় মাত্রার নিচে। একইসাথে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের অনুপাত বর্তমানে প্রায় ৬ শতাংশ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে ১৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

  • উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতা চাইল দক্ষিণ কোরিয়া

    উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতা চাইল দক্ষিণ কোরিয়া

    নিখোঁজ এক নৌসেনাকে খুঁজে বের করে ফিরিয়ে আনতে উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। রোববার (১২ জুলাই) সকালে দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে নর্দার্ন লিমিট লাইন (এনএলএল) সংলগ্ন এলাকায় টহলরত একটি নৌযান থেকে ওই নৌসেনা নিখোঁজ হওয়ার খবরের পর এই অনুরোধ জানানো হয়।

    উত্তর কোরিয়ার সাথে সম্পর্ক পরিচালনাকারী দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয় (মিনিস্ট্রি অব ইউনিফিকেশন) সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে জানায়, ‘পূর্ব সাগরে নিরাপত্তা মিশনে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীর একটি জাহাজের এক নাবিক ১২ জুলাই সকালে নিখোঁজ হন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি এনএলএলের উত্তর দিকে ভেসে গেছেন।’ পূর্ব সাগরটি জাপান সাগর নামেও পরিচিত।

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী বর্তমানে নিখোঁজ নাবিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। মানবিক বিবেচনায় অনুসন্ধান কার্যক্রম এবং ওই ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনতে আমরা উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতা কামনা করছি।’ বার্তাসংস্থা ইয়োনহাপ জানায়, নিখোঁজ নৌসেনার পদমর্যাদা ‘সিমান অ্যাপ্রেন্টিস।’

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহন গ্যু-ব্যাকও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, ‘নিখোঁজ সেনাসদস্যকে যত দ্রুত এবং নিরাপদে সম্ভব উদ্ধার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে।’

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের পর সংলাপ ও আস্থা তৈরির পদক্ষেপের মাধ্যমে পরমাণু অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার সাথে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছেন। এই প্রেক্ষাপটেই সর্বশেষ এ আহ্বান জানানো হলো।

    ২০২৫ সালের জুনে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে তুলনামূলক নমনীয় নীতি অনুসরণ করে আসছেন লি, যা তার পূর্বসূরির কঠোর অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত।

  • জ্বালানিসংকটে কিউবা, এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার ব্ল্যাকআউট

    জ্বালানিসংকটে কিউবা, এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার ব্ল্যাকআউট

    এক সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কিউবা। এতে সন্ধ্যার ঠিক আগমুহূর্তে পুরো দ্বীপরাষ্ট্রটি অন্ধকারে তলিয়ে যায়।

    আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইউনিয়ন ইলেকট্রিকা দে কিউবা জানায়, স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে চারটায় (গ্রিনিচ মান সময় ২০:৩০) এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় শুরু হয়।

    এই ব্ল্যাকআউটের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি দেশটি। তবে গত সোমবারের একই ধরনের একটি বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর চলতি বছরে এ নিয়ে মোট চারবার দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউটের ঘটনা ঘটল। এর আগে গত মার্চ মাসে আরও দুবার পুরো দেশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল।

    আর কিউবায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় নতুন কিছু নয়, কারণ দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামো দিন দিন আরও পুরোনো ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে। এই ব্যবস্থার বড় অংশই তৈরি হয়েছিল ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যবর্তী স্নায়ুযুদ্ধের আমলে।

    চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্যত কিউবার বিদেশি তেল সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেন। সে সময় থেকে এই সমস্যা আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।

    আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কিউবা আগে থেকেই রয়েছে। ১৯৬০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূল থেকে মাত্র ১৪০ কিলোমিটার (বা ৯০ মাইল) দূরের এই দ্বীপরাষ্ট্রটির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য প্রায় বন্ধ করে রেখেছে ওয়াশিংটন।

    তবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ট্রাম্প এই কমিউনিস্ট-শাসিত দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা জোরদার করেছেন। সমালোচকেরা অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই হাভানা সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত সহিংসভাবে দমনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছেন।

    গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট ও কিউবা সরকারের মিত্র নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে এক সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেন ট্রাম্প। ওই অভিযানের মাধ্যমে মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। মাদক ও অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগে এখনো সেখানেই কারাবন্দী রয়েছেন তিনি।

    মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরপরই ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলা আর কিউবায় কোনো তেল বা অর্থ পাঠাতে পারবে না। এরপর থেকেই ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

    এরপর গত ২৯ জানুয়ারি ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যেখানে কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘অস্বাভাবিক ও মারাত্মক হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ওই আদেশের অংশ হিসেবে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যেসব দেশ কিউবাকে জ্বালানি সরবরাহ করবে, তাদের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করা হবে।

    এরপর থেকে গত মার্চ মাসে কেবল রাশিয়ার একটিমাত্র তেলের ট্যাঙ্কার কিউবার উপকূলে পৌঁছাতে পেরেছিল।

    মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এভাবে জ্বালানি সংকট চলতে থাকলে তা কিউবার সাধারণ জনগণের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে, যার ফলে গণপরিবহনের মতো জনসেবামূলক খাতগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

    গত জুনে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এক পরিসংখ্যানে দেখান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটিতে শিশুমৃত্যুর হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

    এক বিবৃতিতে ভলকার তুর্ক বলেন, ‘২০২৬ সালের শুরুর দিক থেকে আরোপিত জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা এবং সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক সীমার বাইরে গিয়ে কঠোরতর করা নিষেধাজ্ঞাগুলো যৌথভাবে কিউবার সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে চরম ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের অভাবে চিকিৎসকেরা সেবা দিতে পারছেন না, যার ফলে শিশুরা মারা যাচ্ছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

    এদিকে এই ব্ল্যাকআউটের জন্য কিউবা সরকারের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

    জ্বালানি অবরোধের আগে কিউবা তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বড় অংশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরিয়ে সৌর ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের কাছ থেকে সৌরপ্রযুক্তি আমদানির মাধ্যমে কিউবা বর্তমানে সেই রূপান্তর প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করেছে।

    তা সত্ত্বেও, ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী কিউবার মোট জ্বালানি ব্যবহারের মাত্র ১৮ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিজেদের মোট জ্বালানির প্রায় এক-চতুর্থাংশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কিউবা।

  • মশা কেন কিছু মানুষকে  বেশি বেশি কামড়ায়?

    মশা কেন কিছু মানুষকে বেশি বেশি কামড়ায়?

    অনেক দূর থেকেই মশা মানুষের শরীর থেকে বের হওয়া বিভিন্ন সংকেত পড়তে পারে। তারপরই তারা ঠিক করে কাকে কামড়াবে। তাহলে কি আপনিও মশার ‘হিট লিস্টে’ আছেন?
    আমি যেন মশার সবচেয়ে প্রিয় শিকার।
    গ্রীষ্মের ছুটিতে পৃথিবীর যেখানেই যাই না কেন, একটি বিষয় প্রায় নিশ্চিত। মশা আমাকে অবশ্যই কামড়াবে। আর সেই কামড়ে বড় বড় চুলকানিযুক্ত ফোলা দাগ হয়। তা সপ্তাহের পর সপ্তাহ থাকে। অথচ আমার সঙ্গে থাকা অনেকের গায়ে একটি মশাও বসে না। আর যাদের কামড়ায়ও, তাদের শরীরে থাকে শুধু ছোট্ট একটি লাল দাগ। বন্ধুরা প্রায়ই মজা করে বলে, আমার রক্ত নাকি ‘অস্বাভাবিক মিষ্টি’। আসলে বিষয়টি পুরোপুরি ভুলও নয়।
    বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের শরীর থেকে নির্গত বিভিন্ন জৈবিক সংকেত- যেমন শ্বাস-প্রশ্বাস ও শরীরের গন্ধ নির্ধারণ করে কে মশার কাছে কতটা আকর্ষণীয়। কারও ক্ষেত্রে এসব সংকেত এতটাই শক্তিশালী হয় যে মশা সহজেই তার দিকে ছুটে আসে। নিচে তুলে ধরা হলো, মশা কীভাবে তাদের শিকার খুঁজে বের করে।

    কার্বন ডাই-অক্সাইড জানিয়ে দেয় আপনি কোথায়
    শুধু স্ত্রী মশাই মানুষকে কামড়ায়। কারণ ডিম উৎপাদনের জন্য তাদের রক্তের প্রোটিন দরকার হয়। প্রায় ১০ মিটার দূর থেকেই তারা চোখ ও ঘ্রাণশক্তির মাধ্যমে মানুষকে শনাক্ত করতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হলো মানুষের নিঃশ্বাস ও ত্বক থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড। মানুষের নিঃশ্বাসে থাকা এই গ্যাস মশার ঘ্রাণেন্দ্রিয়কে সক্রিয় করে এবং শিকার খোঁজার আচরণ শুরু করায়। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ শিশুদের তুলনায় বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। তাই শিশুদের তুলনায় বড়দের প্রতি মশার আকর্ষণ বেশি। এই কারণেই শুকনো বরফ বা বোতলজাত কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে মশার ফাঁদ তৈরি করা হয়।

    শরীর যত গরম, আকর্ষণ তত বেশি
    গবেষণায় দেখা গেছে, মশা শুধু কার্বন ডাই-অক্সাইড নয়, শরীরের তাপ ও আর্দ্রতার প্রতিও আকৃষ্ট হয়। এ কারণেই গর্ভবতী নারীরা অন্য নারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেশি মশার আকর্ষণের কেন্দ্র হন। গর্ভাবস্থায় শরীরের বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়, ফলে বেশি তাপ উৎপন্ন হয় এবং বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃশ্বাসের সঙ্গে বের হয়। বৃটেনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য কীটতত্ত্বের অধ্যাপক স্টিভ লিন্ডসে বলেন, গর্ভবতী নারীর শরীর যেন একটি ছোট চুল্লির মতো। তাদের শরীর বেশি গরম থাকে। ব্যায়াম করার সময় বা ঠিক পরে মানুষও সাময়িকভাবে মশার কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কারণ তখন শরীর বেশি গরম থাকে, ঘাম হয় এবং বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হয়। যাদের শরীরের আকার বড়, তাদের প্রতিও মশার আকর্ষণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

    ত্বকের গন্ধই আসল রহস্য
    মশা যখন মানুষের খুব কাছাকাছি আসে, তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ত্বকের গন্ধ। স্টিভ লিন্ডসে বলেন, মূল বিষয়টি হলো গন্ধ। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উড়ে যাওয়া রাসায়নিক পদার্থই পার্থক্য তৈরি করে। মশা আসলে রাসায়নিক সংকেতের জগতেই বাস করে। তিনি ও তার সহকর্মীরা যাদের রক্ত মিষ্টি, তাদের বেশি মশা কামড়ায়- এই প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, আসল বিষয় হলো মানুষের ত্বকের নিজস্ব গন্ধ। আমাদের ত্বকে থাকা অণুজীব বা স্কিন মাইক্রোবায়োম ত্বকের কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাটি অ্যাসিড ও প্রোটিন ভেঙে শত শত উড়ে যাওয়া রাসায়নিক যৌগ তৈরি করে। এই যৌগগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং মশা সহজেই সেগুলো শনাক্ত করতে পারে। মানুষের ত্বকে এমন ৫০০টিরও বেশি রাসায়নিক যৌগ রয়েছে। এর মধ্যে অ্যামোনিয়া, ল্যাকটিক অ্যাসিড এবং বিশেষ করে কার্বক্সিলিক অ্যাসিড মশাকে আরও বেশি আকর্ষণ করে।

    যুক্তরাষ্ট্রের রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় ৬৪ জন মানুষের ত্বকের গন্ধ সংগ্রহ করে মশার সামনে উপস্থাপন করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, যাদের ত্বকে কার্বক্সিলিক অ্যাসিড বেশি ছিল, মশা তাদের প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হয়েছে। গবেষকরা আরও দেখেছেন, সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তির প্রতি মশার আকর্ষণ সবচেয়ে কম আকর্ষণীয় ব্যক্তির তুলনায় ১০০ গুণ বেশি ছিল। স্টিভ লিন্ডসে বলেন, মশার কাছে আপনি কতটা আকর্ষণীয়, তা অনেকটাই জন্মগত এবং দীর্ঘ সময় একই রকম থাকে।

    মশার কামড় থেকে কীভাবে বাঁচবেন?
    স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল কীটতত্ত্বের অধ্যাপক হিদার ফার্গুসন বলেন, রসুন খাওয়া বা ভিটামিন বি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে মশা দূরে থাকে- এমন দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তিনি পরামর্শ দেন, ডিট (ডিইইট), পিকারিডিন বা পিএমডি সমৃদ্ধ কার্যকর মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করুন। কীটনাশকযুক্ত লম্বা হাতার পোশাক ও লম্বা প্যান্ট পরুন। ঘাম হলে বা অনেক সময় পেরিয়ে গেলে পুনরায় রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন।

    ত্বকের ব্যাকটেরিয়াও গুরুত্বপূর্ণ
    নেদারল্যান্ডসের ওয়াগেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের প্রতি ম্যালেরিয়াবাহী মশা বেশি আকৃষ্ট হয়, তাদের ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার ধরন অন্যদের তুলনায় আলাদা। এই ব্যাকটেরিয়াই মূলত শরীরের গন্ধ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এমনকি যমজদের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, অভিন্ন যমজদের প্রতি মশার আকর্ষণ প্রায় একই হলেও ভিন্ন যমজদের ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ মশার কাছে আকর্ষণীয় হওয়ার বৈশিষ্ট্যের একটি অংশ বংশগতও হতে পারে।

    সবাই একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না
    সব মানুষের শরীর মশার কামড়ে একভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জিন নির্ধারণ করে মশার কামড়ে কার শরীরে কতটা ফোলা, লালচে ভাব বা চুলকানি হবে। হিদার ফার্গুসন বলেন, অনেকেই মনে করেন তারা বেশি কামড় খাচ্ছেন, কিন্তু আসলে তাদের শরীরের প্রতিক্রিয়া বেশি তীব্র। আবার কেউ হয়তো অনেকবার কামড় খেলেও প্রায় কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখান না। অর্থাৎ কেউ কেউ জৈবিকভাবে মশার কাছে বেশি আকর্ষণীয় হলেও, মশার দৃষ্টি থেকে পুরোপুরি নিরাপদ কেউই নন। তাই ফার্গুসনের পরামর্শ, আপনি যদি মনে করেন মশা আপনাকে কামড়ায় না, তবুও অবশ্যই নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন।

  • সঙ্গী খুঁজুন-সন্তান নিন: দেশ বাঁচান

    সঙ্গী খুঁজুন-সন্তান নিন: দেশ বাঁচান

    কমলা-রঙের বৌদ্ধ ভিক্ষুর পোশাক পরা এক সন্ন্যাসী সারিবদ্ধভাবে বসে থাকা তরুণ-তরুণীদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, তাদের এখানে আসার একটি বিশেষ মিশন রয়েছে। তাহলো দেশকে বাঁচানো। আর সেই কাজের শুরু হবে একজন জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া এবং ভবিষ্যতে সন্তান নেয়ার মাধ্যমে। কথাটি শুনে অংশগ্রহণকারীরা নার্ভাস। তবে হাসিতে ফেটে পড়েন। কেউ কেউ লাজুক চোখে সম্ভাব্য সঙ্গীর দিকে তাকান। এটি কোনো নতুন রিয়েলিটি শোর দৃশ্য নয়। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার পালগংসান পর্বতের সবুজে ঘেরা অষ্টম শতাব্দীর ডংহওয়াসা বৌদ্ধ মন্দিরে আয়োজিত বাস্তব একটি ডেটিং রিট্রিট। ৩০ ঘণ্টার এই আয়োজনে একের পর এক কার্যক্রম, অস্বস্তিকর মুহূর্ত আর বরফ গলানোর নানা প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রেমের মানুষ খুঁজে নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    আয়োজক ইউ চেওল-জু বলেন, দেশ যখনই সংকটে পড়েছে, তখন বৌদ্ধরাই সবার আগে এগিয়ে এসেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৫০০-এর দশকে জাপানি আগ্রাসনের সময় ডংহওয়াসা মন্দির বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের প্রতিরোধ বাহিনীর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে এবার সংকট বাইরের কোনো শত্রুর নয়। তার ভাষায়, কম জন্মহার এখন জাতীয় সংকট। তাই আমাদের কিছু একটা করতেই হয়েছে।

    বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের মতো দক্ষিণ কোরিয়াতেও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে জন্মহার দ্রুত কমেছে। ২০২৩ সালে দেশটিতে একজন নারীর গড় সন্তানসংখ্যা নেমে আসে মাত্র ০.৭২-এ, যেখানে জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজন অন্তত ২.১। অনেকে এর জন্য গৃহায়ণে উচ্চমূল্য ও শিশু লালন-পালনে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার অভাবকে দায়ী করেন। আবার কেউ বলেন, অনেক নারী এখন ক্যারিয়ারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন অথবা সন্তান না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিজেই নিচ্ছেন। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ-তরুণীরা আগের তুলনায় কম মেলামেশা করছেন এবং কম ডেট করছেন। ফলে অনেকেই বিয়ে করতে চাইলেও উপযুক্ত সঙ্গী খুঁজে পাচ্ছেন না।

    এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘ মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি, নবজাতকের জন্য নগদ প্রণোদনা এবং নবদম্পতিদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা করেছে। এর পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন রাষ্ট্রের সহায়তায় এমন ম্যাচমেকিং বা পাত্র-পাত্রী পরিচয় অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করছে।

    কঠিন বাছাই পেরিয়ে মন্দিরে
    ২৮ বছর বয়সী কিম আহ-কিয়ং, যার বৌদ্ধ নাম সুনহিয়েজি, সবার আগে এসে পৌঁছান। তিনি জানান, সিউল ছেড়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চাকরি নেয়ার পর উপযুক্ত সঙ্গী খুঁজে পাওয়া তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বলেন, পুরুষদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার কোনো সুযোগই নেই। তার ভাষায়, আমি শুধু অফিস আর বাসার মধ্যে যাতায়াত করি। কোনো শখ নেই। নতুন কিছু শুরু করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সবই একা করার মতো কাজ ছিল।

    অন্যদিকে ৩০ বছর বয়সী কওন সেউং-ওহ, যার বৌদ্ধ নাম এনিও, তিনি জানান তিনি কখনো অনলাইনে অচেনা কারও সঙ্গে পরিচিত হতে স্বস্তি বোধ করেননি। বন্ধুরা তাকে প্রায় ১০ বার ব্লাইন্ড ডেটে পাঠিয়েছিল, কিন্তু কোনো সম্পর্কই এগোয়নি। তিনি যে দুগ্ধজাত পণ্য তৈরির কারখানায় কাজ করেন, সেখানে ৯৭ শতাংশ কর্মীই পুরুষ। তাই শেষ পর্যন্ত তিনিও এই রিট্রিটে যোগ দেন।

    প্রেমের শুরু ছোট ছোট আচরণে
    নারীরা মন্দিরে পৌঁছাতেই সম্ভাব্য পুরুষ সঙ্গীরা এগিয়ে এসে তাদের লাগেজ বহনে সাহায্য করেন। প্রথম পরিচয়পর্বে এনিও নিজের হাতে বানানো ফরাসি পেস্ট্রি সবার মধ্যে বিতরণ করেন, যা উপস্থিতদের মুগ্ধ করে। এরপর শুরু হয় প্রথম ডেট। সুনহিয়েজির সঙ্গী হন ৩২ বছর বয়সী শান্ত স্বভাবের সরকারি কর্মকর্তা মিনহো। দু’জন মন্দিরঘেরা বনপথে হাঁটতে হাঁটতে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন। পরে মধ্যাহ্নভোজের সঙ্গী বেছে নিতে পুরুষদের হাতে একটি করে প্লাস্টিকের গোলাপ দেয়া হয়। মিনহো গোলাপটি দেন ২৮ বছর বয়সী ডিজাইনার রুবিকে। খাবার টেবিলে সবাই নিজেদের শখ, পেশা এবং প্রিয় অনুষ্ঠান নিয়ে গল্প করেন। খাওয়া শেষে একসঙ্গে থালা-বাসন ধোয়ার সময় দেখা যায়, শুরুতে যে দূরত্ব ছিল, তা অনেকটাই কমে এসেছে।

    সবচেয়ে বিব্রতকর পর্ব: প্রতিভা প্রদর্শন
    দিনের সবচেয়ে অস্বস্তিকর মুহূর্ত আসে ট্যালেন্ট শোতে। মিনহো জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড টুপিএম-এর ভাইরাল গান মাই হাউস-এর নাচ পরিবেশন করেন। সুনহিয়েজি নাচেন নতুন পপ গান ক্যাচ ক্যাচ-এর তালে। এনিও গেয়ে শোনান একটি ব্যালাড। রুবি স্প্যানিশ ভাষায় নিজের পরিচয় দিয়ে মিনহোকে মুগ্ধ করেন। আরেক নারী বাঁশিতে বাজান জনপ্রিয় কে-পপ ডেমন হান্টার্স-এর একটি গান।

    রাতভর গল্প, শেষ পর্যন্ত আট জুটি
    সারাদিনের ব্যস্ততার পরও রাতে ছিল আরেক দফা পরিচয়ের সুযোগ। যদিও নির্ধারিত শোয়ার সময় ছিল রাত ১০টা, আয়োজক ইউ বলেন, এটা শুধু পরামর্শ। রাত এখনও অনেক চমক নিয়ে আসতে পারে। পরদিন সকালে সবাই এসএমএসে নিজেদের চূড়ান্ত পছন্দ জানায়। শেষ পর্যন্ত ২৪ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৮টি জুটি গড়ে ওঠে। এর মধ্যে দুটি জুটি ছিল অনুষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট কর্মী ও অংশগ্রহণকারীর মধ্যে। এনিও কোনো সঙ্গী পাননি।

    তবুও তিনি হতাশ হয়ে থেমে যেতে রাজি নন। তিনি বলেন, সুযোগ দিলে আমি অবশ্যই আবার আসব। অন্যদিকে সুনহিয়েজি বলেন, তিনি রাত ৩টা পর্যন্ত অন্য নারীদের সঙ্গে গল্প করেছেন। হেসে বলেন, আমি অনেক নতুন বন্ধু পেয়েছি। আমরা ইতিমধ্যেই একসঙ্গে ব্রাঞ্চ করার পরিকল্পনা করেছি। তার কাছে পুরো অভিজ্ঞতাটি ছিল কিশোর বয়সের মতো আনন্দময় এক স্লিপওভার- যেখানে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়, সাহসী সিদ্ধান্ত আর স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

    সবাই জীবনসঙ্গী নিয়ে বাড়ি ফেরেননি। তবে প্রায় সবাই ফিরে গেছেন এমন কিছু নিয়ে, যা আগে তাদের ছিল না- নতুন বন্ধু এবং নতুন আত্মবিশ্বাস।

  • ফিলিপাইনে ভূমিধস, নিহত ১০

    ফিলিপাইনে ভূমিধস, নিহত ১০

    টাইফুন বাভির কারণে সৃষ্ট ভারী বৃষ্টিতে শুক্রবার (১০ জুলাই) দক্ষিণ ফিলিপাইনে ভূমিধসে ১০ জন নিহত হয়েছেন। এতে ঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

    আঞ্চলিক বেসামরিক প্রতিরক্ষা পরিচালক রদ্রিগো সোসমেনা বলেন, ‘কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে মিন্দানাওয়ের সারাঙ্গানি প্রদেশে এ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জন চাপা পড়ে নিহত হন।’

    এর আগে, দিনের শুরুতে দ্বীপটিতে আরেকটি ভূমিধসে কমপক্ষে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। আরো ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন।

  • শ্রীলঙ্কার কারাগারে মানবাধিকার কমিশনের প্রবেশাধিকার চাই জাতিসঙ্ঘ

    শ্রীলঙ্কার কারাগারে মানবাধিকার কমিশনের প্রবেশাধিকার চাই জাতিসঙ্ঘ

    শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে প্রাণঘাতী সহিংসতার ঘটনার পর দেশটির সব কারাগারে মানবাধিকার কমিশনকে ‘অবাধ প্রবেশাধিকার’ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ।

    শ্রীলঙ্কা জানায়, রাজধানী কলম্বোর উত্তরে নেগোম্বো কারাগারে গত রোববার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই বন্দী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন বন্দী ও আটজন কারারক্ষী নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক দফতরের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি তদন্তের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তদন্ত অবশ্যই ‘দ্রুত, স্বাধীন ও স্বচ্ছ’ হতে হবে।

    তিনি নেগোম্বো কারাগারের সহিংসতা ও অন্যান্য কারাগারে কারারক্ষীদের হাতে বন্দীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণের’ খবরকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেন।

    শামদাসানি বলেন, ‘নিহত ও আহত বেশ কয়েকজন বন্দী ও কারারক্ষীর পরিবারের সত্য জানার এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।’

    তিনি শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নেগোম্বো কারাগারসহ দেশের সব কারাগার ও যেসব আটককেন্দ্রে বন্দীদের স্থানান্তর করা হয়েছে এবং যেখানে তাদের নির্যাতন ও অন্যান্য দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে, সেখানে শ্রীলঙ্কার মানবাধিকার কমিশনকে অবাধ প্রবেশাধিকার দিতে হবে।’

    তিনি বলেন, নেগোম্বো কারাগারের সহিংসতা শ্রীলঙ্কার আটক ব্যবস্থা-সংক্রান্ত কাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

    তিনি বিশেষ করে বিচার শুরুর আগেই দীর্ঘ সময় আটক রাখা, কারাগারে অতিরিক্ত বন্দী এবং অপর্যাপ্ত বন্দী-সুবিধার বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। শামদাসানি আরো বলেন, ‘এছাড়া মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে অস্বাভাবিক সংখ্যক মানুষকে কারাগারে রাখা হয়েছে। তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই কারাবন্দী করার পরিবর্তে স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক ব্যবস্থার সুফল পাওয়া উচিত।’

  • হরমুজে হামলার শিকার থাই নাবিকদের মামলা

    হরমুজে হামলার শিকার থাই নাবিকদের মামলা

    চলতি বছরের মার্চ মাসে হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার একটি থাই মালবাহী জাহাজের তিন সাবেক ক্রু সদস্য শ্রম অধিকার লঙ্ঘন এবং অন্যায্য বরখাস্তের অভিযোগে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আজ শুক্রবার ব্যাংককের সেন্ট্রাল লেবার কোর্টে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, গত ১১ই মার্চ ওমানের উত্তরাঞ্চলে ‘ময়ূরী নারি’ নামক থাই জাহাজটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলে ৩ জন

    পরবর্তীতে অবশিষ্ট ২০ জন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করে থাইল্যান্ডে ফিরিয়ে আনা হয়। অক্ষত ফিরে আসা তিন নাবিক পানিতি তুমকাউ, নোপ্পাদোন ওংজুভান এবং সুরাদেস মানপুয়েন আজ ‘প্রেশাস শিপিং কোম্পানি’ এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং জাহাজের ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি করেন। নাবিকদের আইনজীবী কুনপাত সিংহাথং জানান, তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালির মতো বিপজ্জনক জলপথ দিয়ে জাহাজটি পরিচালনা করে আসামিরা নাবিকদের জীবন চরম ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন।

    এছাড়া হামলার পর জাহাজটি অকেজো হয়ে পড়লে তাদের ৯ মাসের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ক্ষতিপূরণ হিসেবে মাত্র দুই মাসের বেতন দেওয়া হলেও তা একেবারেই অপ্রতুল। কারণ, এই ভয়াবহ হামলার পর থেকে তিন নাবিকই ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে’ আক্রান্ত হয়েছেন, যার ফলে অদূর ভবিষ্যতে তাদের আর জাহাজে কাজ করার কোনো মানসিক বা শারীরিক সক্ষমতা নেই।

    তারা প্রত্যেকেই ১০ লাখ বাথের (প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার) বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। আক্রান্ত নাবিক পানিতি, যিনি দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই কোম্পানিতে কাজ করছিলেন, তিনি বলেন, যেকোনো জোরে শব্দ হলেই আমি এখন প্রচণ্ড চমকে উঠি। আমি এখন কোনো কাজই করতে পারছি না, নিয়মিত ওষুধ খেতে হচ্ছে। তবে এই মামলার বিষয়ে প্রেশাস শিপিং কোম্পানির পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে এশিয়াজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত, ফিলিপাইন এবং থাইল্যান্ডের মতো এশীয় দেশগুলোর হাজার হাজার নাবিক ও তাদের পরিবার এই যুদ্ধের মানবিক মূল্য চড়াভাবে দিচ্ছে। গত বুধবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের সেক্রেটারি-জেনারেল আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি কেবল শিপিংয়ের কোনো পরিসংখ্যানের বিষয় নয়। এই সংখ্যার পেছনে লুকিয়ে আছেন জীবন্ত কিছু নাবিক এবং তাদের পরিবার, যারা এই সংঘাতের নির্মম শিকার হচ্ছেন।

  • যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পেলেন ১৭২ জন কর্মকর্তা

    যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পেলেন ১৭২ জন কর্মকর্তা

    উপসচিব পদ থেকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ১৭২ জন কর্মকর্তা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত এক আদেশ জারি করা হয়েছে।

    আদেশে বলা হয়েছে, সরকারের যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ করা হলো।

    এতে আরও বলা হয়, পদোন্নতির আদেশে উল্লিখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হয়ে থাকলে কর্মরত দপ্তরের নাম/ঠিকানা উল্লেখ করে তিনি যোগদানপত্র দাখিল করবেন।

    পরবর্তীতে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে তাঁর ক্ষেত্রে এ আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।

    সরকারের যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাঁদের যোগদানপত্র সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর অথবা অনলাইনে ই-মেইল ঠিকানায় (sal@mopa.gov.bd) দাখিল করতে পারবেন।

    এর আগে সকালে পদোন্নতির সার-সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর পদোন্নতি দেওয়া হলো।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২৪ ও ২৫তম ব্যাচের বাদ পড়া কর্মকর্তাদের যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।

    ২৪তম ব্যাচের প্রায় ১৯০ জনের বেশি কর্মকর্তাকে উপসচিব থেকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁদের পরবর্তী ধাপে (অতিরিক্ত সচিব) পদোন্নতির বিষয়টিও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।

    এর আগে ২৪তম ব্যাচের ৮০ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। আর ১৩৮ জন বাকি ছিলেন। পদোন্নতির জন্য বিবেচনায় নেওয়া হয় ১৯০ জনকে (প্রশাসনসহ অন্যান্য ক্যাডার)।

    অন্যদিকে, ২৫তম ব্যাচের মোট ১৭০ জনের মধ্যে ৮০ জনকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। বাকিদের পরবর্তীতে পদোন্নতি দেওয়া হবে।

  • ৮৪ বছর বয়সে মিশরীয় নারীর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন

    ৮৪ বছর বয়সে মিশরীয় নারীর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন

    জীবনের প্রতিটি অধ্যায় যেন নতুন করে লেখা যায়, যদি ইচ্ছাশক্তি বেঁচে থাকে। সেই সত্যের এক অনন্য উদাহরণ মিশরের আমাল ইসমাইল।

    মিশরের এক অজপাড়াগাঁয়ে জন্ম তার। যে বয়সে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, সে বয়সেই কেড়ে নেওয়া হয় বিদ্যালয়ের বেঞ্চ। শৈশবের স্বপ্নগুলোকে বিদায় জানিয়ে অল্প বয়সেই পা রাখতে হয় সংসারের কঠিন বাস্তবতায়।

    বিয়ে, পরিবার, সন্তানের দায়িত্ব একসময় চার সন্তানের জননী হিসেবে জীবন যেন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে রান্নাঘর, সংসার আর নীরব আত্মত্যাগের অদৃশ্য গণ্ডিতে।

    তবু স্বপ্ন কখনো সম্পূর্ণ নিভে যায়নি। ৩৮ বছর বয়সে একদিন তিনি নিজের ভেতরের সেই সুপ্ত আকাঙ্ক্ষাকে আবার জাগিয়ে তুললেন। বহু বছরের বিরতির পর হাতে তুলে নিলেন বই। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। কিন্তু জীবন আবারও তার পথ রুদ্ধ করল। সংসারের দায়িত্ব তাকে পুনরায় পড়াশোনা থেকে দূরে সরিয়ে দিল।

    এরপর আসে আরও কঠিন সময়। দু’দুবার ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি তার শরীরে আঘাত হানে। কিন্তু প্রতিবারই তিনি অসুস্থতাকে পরাজিত করে ফিরে আসেন। যেন জীবনকে নীরবে বলে দেন ‘আমার পথচলা এখনো শেষ হয়নি।’

    সময় গড়ায়। বয়স ছুঁয়ে ফেলে ৭০। যখন অধিকাংশ মানুষ জীবনকে বিশ্রামের দিকে নিয়ে যান, তখন তার মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা নতুন করে তার স্বপ্নকে জাগিয়ে তোলেন। তাদের অনুপ্রেরণায় তিনি আবারও শিক্ষার পথে ফিরে আসেন।

    উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর ভর্তি হন মানসুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস অনুষদে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তারপর শুরু হয় গবেষণার দীর্ঘ যাত্রা।

    অবশেষে ৮৪ বছর বয়সে, যে বয়সে অনেকের হাত কলম ধরতেও কাঁপে, সেই বয়সেই তিনি গবেষণার দীর্ঘ সাধনা শেষে প্রথম শ্রেণির সম্মানসহ ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

    মিশরের নীল বদ্বীপ অঞ্চলের মানসুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে অনুষ্ঠিত এক গবেষণা (পিএইচডি) পত্রের চূড়ান্ত উপস্থাপনা (থিসিস ডিফেন্স) অংশ নিয়ে তিনি সফলভাবে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এটি শুধু একটি একাডেমিক অর্জন নয়, বরং অধ্যবসায়, সাহস ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অসাধারণ মানবিক গল্প।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের বিচারক প্যানেল তার গবেষণার বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে ডক্টরেট প্রদান করেন। পাশাপাশি গবেষণাপত্রটি প্রকাশ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিনিময়েরও সুপারিশ করা হয়। আমাল ইসমাইলের গবেষণার শিরোনাম ছিল ‘সক্রিয় বার্ধক্য এবং কিছু সমাজতাত্ত্বিক চলকের সঙ্গে এর সম্পর্ক: মানসুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত কিছু কেস স্টাডি’।

    গবেষণার বিষয়টি ছিল তার নিজের জীবনের প্রতিফলন। তিনি মিশরের দাকাহলিয়া গভর্নরেটের বিভিন্ন গ্রামের ২০ জন নারীর ওপর গবেষণা পরিচালনা করেন। তার লক্ষ্য ছিল প্রবীণদের জীবন, তাদের সামাজিক চ্যালেঞ্জ এবং সক্রিয় বার্ধক্য নিয়ে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

    জীবনের নির্মম পরিহাস এখানেই, যে জীবন বারবার তাকে থামিয়ে দিতে চেয়েছে, আমাল ইসমাইল প্রতিবারই নতুন দরজা খুলে এগিয়ে গেছেন। একটি পথ বন্ধ হয়েছে, তিনি আরেকটি পথ তৈরি করেছেন। পরাজয়কে তিনি কখনো সমাপ্তি নয়, বরং নতুন সূচনার আহ্বান হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

    এই কাহিনি শুধু একজন নারীর ব্যক্তিগত সাফল্যের ইতিহাস নয়, এটি সমাজের প্রচলিত সেই ধারণার বিরুদ্ধে এক নীরব অথচ শক্তিশালী প্রতিবাদ, যেখানে মনে করা হয় নির্দিষ্ট বয়সের পর শিক্ষা, স্বপ্ন কিংবা আত্মগঠনের আর কোনো প্রয়োজন নেই।

    মিশরের শিক্ষার ইতিহাসও একইভাবে সংগ্রামের সাক্ষী। একসময় দেশটিতে নারীদের সাক্ষরতার হার পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, সামাজিক সচেতনতা ও শিক্ষানীতির ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলে প্রাথমিক শিক্ষায় সেই বৈষম্য অনেকটাই কমে এসেছে। উচ্চশিক্ষায় এখনও কিছু ব্যবধান থাকলেও তা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

    বাংলাদেশের নারীদের জন্য আমাল ইসমাইলের জীবন এক গভীর প্রেরণার নাম। বিয়ে শিক্ষা-জীবনের সমাপ্তি নয়, মাতৃত্ব স্বপ্নের সমাধি নয়, আর বয়স কখনো জ্ঞান অর্জনের অন্তরায় হতে পারে না। ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং পরিবারের আন্তরিক সহযোগিতা থাকলে জীবনের যেকোনো প্রান্ত থেকেই নতুন পথচলা শুরু করা সম্ভব।

    আমাল ইসমাইল প্রমাণ করে দিয়েছেন, স্বপ্নের ক্যালেন্ডারে বয়সের কোনো সংখ্যা লেখা থাকে না। মানুষ যতদিন শেখে, ততদিনই সে নতুন করে বেঁচে থাকে।

  • ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সব দলের কাছে আয়-ব্যয়ের তথ্য চেয়েছে ইসি

    ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সব দলের কাছে আয়-ব্যয়ের তথ্য চেয়েছে ইসি

    রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ২০২৫ পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের তথ্য চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ইসিতে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে দলগুলোকে।

    মঙ্গলবার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টি জানান।

    ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩১ জুলাই শুক্রবার। এক্ষেত্রে পরবর্তী প্রথম কার্যদিবস পর্যন্ত সময় পাবে দলগুলো। আইন অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের তথ্য দিতে হয়।

    নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, দলগুলোকে আইনের বিষয়টি উল্লেখ করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ৫৯টি দলকেই হিসাব দিতে হবে।

  • ফ্রান্স প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্যেই সিরিয়ায় জোড়া বিস্ফোরণ

    ফ্রান্স প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্যেই সিরিয়ায় জোড়া বিস্ফোরণ

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সিরিয়া সফরের মধ্যেই দেশটির রাজধানী দামেস্কের কেন্দ্রীয় এলাকায় জোড়া বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

    ফরাসি প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) সকালে এই বিস্ফোরণ হলেও প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ নিরাপদ আছেন।

    বর্তমানে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনার জন্য দামেস্কে অবস্থান করছেন। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তাদের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।

    একটি নিরাপত্তা সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, দুটি পৃথক স্থানে বিস্ফোরণে ১৮ জন আহত হয়েছেন।

    সিরিয়া সফর শেষে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যাবেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্রাসাদের তথ্য অনুযায়ী, তার সফরসূচি পরিকল্পনা অনুযায়ীই চলছে এবং এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

    বিস্ফোরণের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, দামেস্কের একটি হোটেলের কাছে একটি গাড়ি থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা বের হচ্ছে।

    এদিকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁকে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে স্বাগত জানিয়েছেন।

    বিবিসি ভেরিফাই বিস্ফোরণের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখেছে, রাজধানীর অন্যতম প্রধান সড়ক শুকরি আল-কুয়াতলি স্ট্রিটের ফুটপাথে বিস্ফোরণগুলো ঘটেছে। স্থানটি দামেস্কের ফোর সিজনস হোটেল থেকে প্রায় ১২৫ মিটার দূরে।

    ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে যাওয়ার পথে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাননি।

    সোমবার সন্ধ্যায় সিরিয়ায় পৌঁছানো ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, বাশার আল-আসাদের ২৪ বছরের শাসনের অবসানের পর সিরিয়া সফরকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান।

  • সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনছে এনসিপি, ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কাউন্সিল

    সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনছে এনসিপি, ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কাউন্সিল

    ডেস্ক নিউজ : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী বছরের শুরুর দিকে। গত বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দলটি যাত্রা শুরু করে এক বছরের কম সময়ের ব্যবধানে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন লাভ করে। নিবন্ধন পাওয়ার পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিয়ে জোটগতভাবে ছয়টি আসন লাভ করে। সংরক্ষিত নারী আসনে রয়েছে দলটির আরও দুই নারী প্রতিনিধি। সব মিলে জাতীয় সংসদেও ৩৫০ আসনের মধ্যে নতুন এই দলটির রয়েছে ৮টি আসন। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায় প্রথম কাউন্সিল করতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে তার আগেই দলের কাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হতে পারে। বর্তমানে সাংগঠনিক কাঠামোতে এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবং মুখ্য সমন্বয়ক, মুখ্য সংগঠক (২ জন), মুখপাত্র, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক (২ জন), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব (২ জন) ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এই ১১টি শীর্ষ পদ রয়েছে। যদিও দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামে এই পদগুলো নয়, দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামে বর্তমানে ১৮ জন সদস্য রয়েছেন। দলটি এই ফোরামের নাম রেখেছে ‘পলিটিক্যাল কাউন্সিল’ বা পিসি। কেন্দ্রীয় কাঠামোতে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ পদ থাকলেও মূলত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয় পিসিতে। নতুন কাউন্সিলের আগে দলটির কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আর এই পরিবর্তনের ফলে গুরুত্বপূর্ণ পদ ১১টির স্থলে ৬টিতে দাঁড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক (২ জন) ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব (২ জন) এই ছয়টি পদ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে দলটির নীতিনির্ধারকরা এসব পদকে গুরুত্বপূর্ণ পদ বলতে নারাজ। তারা বলছেন, সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসছে এটা ঠিক, তবে দল চলবে পলিটিক্যাল কাউন্সিলে গৃহিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক।

    পলিটিক্যাল কাউন্সিল কী, কারা আছেন এ ফোরামে
    এনসিপির ‘পলিটিক্যাল কাউন্সিল’ বা রাজনৈতিক পর্ষদ হচ্ছে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। এই ফোরামেই দলের সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গৃহিত হয়। এই ফোরামের বাইরের এককভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। দলটির সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ এই ফোরামে এখন ১৮ জন সদস্য রয়েছেন। এরা হচ্ছেন দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারওয়ার নিভা ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ দলটির পলিটিক্যাল কাউন্সিল সদস্য। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুই ধাপে আরও আট জন নেতা। প্রথম ধাপে যুক্ত হয়েছে, সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ ও আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল আমিন। এরপর গত ১১ জুন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসাইন সিএফ ও সালেহ উদ্দিন সিফাত, এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুকেও পলিটিক্যাল কাউন্সিলে যুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন এই দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য সংখ্যা এখন ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

    কবে হচ্ছে প্রথম কাউন্সিল
    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ওই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের একটি অংশের উদ্যোগেই গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এনসিপি। চলতি বছরের ‘২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপির এক বছর পূর্তি উৎসব পালিত হয়।’ আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দলটির দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি হতে যাচ্ছে। ওই সময়টাতে দলটির কাউন্সিল আয়োজনের চিন্তা করছে শীর্ষনেতারা। যদিও এসব বিষয় এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলটি চাচ্ছে কাউন্সিল করার আগে দলের গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করতে, সেটি এখনও সম্ভব হয়নি। দল পরিচালনায় গঠনতন্ত্রের একটি খসড়া ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে বলে দলটির সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন। সেই খসড়া সম্ভাব্য প্রথম কাউন্সিলে পাশ করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন নেতারা। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ দলটির দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিকে ঘিরে কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনার কথা নেতারা জানালেও তা এখনও কেউ নিশ্চিত করে বলছেন না।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পলিটিক্যাল কাউন্সিল সদস্য সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, এনসিপি এখন যে কাঠামোতে চলছে সেই কাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন আসবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো দলে আহ্বায়ক কমিটি থাকলে আহ্বায়ক, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক থাকে। সদস্য সচিব পদের পর যেভাবে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ও যুগ্ম সদস্য সচিব থাকে সেভাবেই পদগুলো থাকবে। এখন যেমন মুখ্য সংগঠক পদ রয়েছে, এ পদ থাকছে না।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দলের একটি নীতিনির্ধারণী ফোরাম রয়েছে। এনসিপির এই ফোরামের নাম হচ্ছে পলিটিক্যাল কাউন্সিল বা পিসি। এই কাউন্সিলেই গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত হয়। এর বাইরে সিদ্ধান্তগ্রহণকারী কোনো নীতিনির্ধারণী ফোরাম নেই এনসিপিতে। তবে দলের বর্তমান কাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন আসার কথা জানিয়ে জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, এনসিপির পরিচালনায় গঠনতন্ত্র এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী কাউন্সিলে খসড়া তৈরি হওয়া গঠনতন্ত্র পাশ হওয়ার কথা রয়েছে।