বিএনপি

  • বিএনপি নেতার ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, তদন্তে কমিটি করার সিদ্ধান্ত

    বিএনপি নেতার ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, তদন্তে কমিটি করার সিদ্ধান্ত

    জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমানের ‘ইয়াবা সেবনের’ একটি ভিডিও আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা বিএনপি।

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    তবে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে ইয়াবা সেবন করিয়েছে।

    ভাইরাল হওয়া ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গোপীনাথপুর হাট অফিসের একটি কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির উপস্থিতিতে আগুনের তাপে একটি যন্ত্র ব্যবহার করে পাইপের মাধ্যমে কোনো পদার্থ গ্রহণ করছেন এক ব্যক্তি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের অনেকে দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান এবং তিনি ইয়াবা সেবন করছিলেন। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে এবং সেখানে উপস্থিত অন্যদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, সভাপতির ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে শুনেছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা দলের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর হবে। একজন দায়িত্বশীল নেতা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

    তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি নিজেই বলে দাবি করে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে হাট অফিসে নিয়ে যায় এবং ইয়াবা সেবন করায়। তখন তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেননি।’ এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা উল্লেখ করে তিনি নিজের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

    আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভিডিওটি প্রযুক্তিগতভাবে বিকৃত বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি কিনা, সেটিও যাচাই করা হবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না বলেও তিনি জানান।

  • ‘হামে শিশু মৃত্যু, দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বিএনপির

    ‘হামে শিশু মৃত্যু, দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বিএনপির

    বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে মহামারি আকারে হাম ছড়িয়ে পড়ার পর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি সরকার। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।

    সরকারি হিসাব অনুযায়ী, হাম ও এই রোগের উপসর্গে সংক্রমণের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৮৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৬৫২ শিশু। এত মৃত্যুর জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন,‘সরকারের মিস ম্যানেজমেন্টের জন্যই এত মৃত্যু হয়েছে। যদি ম্যানেজমেন্টটা ভালো করা যেত, তাহলে এত মৃত্যু হতো না।’

    তিনি বলেন, ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পরও হামকে মহামারি ঘোষণা করে সারা দেশে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি না করাটা সরকারের একটা ‘বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল’।

    তবে অব্যবস্থাপনার কারণে হামে মৃত্যু বেড়েছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। সেই সঙ্গে দাবি করেছেন, সরকার যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে হামে তুলনামূলক কম শিশু মারা গেছে।

    স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুহিত বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব নেওয়ার ১৫ দিন পরেই হামের এটা শুরু হলো। আমরা যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নিতাম, তাহলে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হতো।’

    হাসপাতালের পরিস্থিতি এখন কেমন?

    সন্তানদের প্রাণ বাঁচাতে গত এক মাস ধরে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি করছেন সালমা বেগম ও আব্দুল গণি দম্পতি। তার পরও বাঁচাতে পারেননি প্রথম সন্তান ইব্রাহীমকে। সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে তিন সপ্তাহ আগে মারা গেছে আড়াই বছর বয়সি শিশুটি।

    শিশুর মা সালমা বেগম বলেন, ‘শুরুতে ওর জ্বর আর ঠান্ডা ছিল। পরে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তখন আমরা প্রথমে একটা ক্লিনিকে নিলাম। শ্বাসকষ্ট না কমায় পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গিয়েছিলাম। তার পরও আমার বড় ছেলেটারে বাঁচাতে পারলাম না।’

    সেই শোক না কাটতেই আরেক ছেলের শরীরেও দেখা দিয়েছে হামের লক্ষণ। তীব্র জ্বর, ঠান্ডা এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা আট মাসের ওই শিশুর প্রাণ বাঁচাতে রাত-দিন এক করে এখন ঢাকার শেরেবাংলা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে পড়ে আছেন এই বাবা-মা।

    সালমা বেগম বলেন, ‘বড় বাচ্চাটা কিছুদিন আগে মারা গেছে, আর ঈদের পর এই বাচ্চাটারও গায়ে হাম, ঠান্ডা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট—এগুলা শুরু হইছে। এখন এক সপ্তাহের মতো হইলো আমরা এই হাসপাতালে ভর্তি করছি।’শিশুটির বাবা পেশায় একজন দিনমজুর। ধার-দেনা করে তিনি ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাচ্ছেন বলে জানা

    ন তিনি।

    শিশুর বাবা আব্দুল গণি বলেন, ‘কাছে টাকা-পয়সা যা ছিল, সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ধার করে ছেলের চিকিৎসা করতেছি। কত দিন পারব, কইতে পারি না। দোয়া কইরেন, আল্লাহ যেন সুস্থ করে দেয় আমার ছেলেটারে।’

    হাসপাতালে তাদের বিছানার সামনেই আরেকটি বিছানায় মেয়ের সঙ্গে খেলছিলেন সাইমা খান। ফরিদপুর থেকে আসা এই মা জানাচ্ছিলেন গত এক সপ্তাহে কী ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চাটা নিঃশ্বাস নিতে পারতেছিল না, শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল খুব। সে কারণে হাসপাতালে আনার পরেই ওরে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে আশপাশের বেডে বাচ্চারা মারা যাচ্ছে, লাইফ সাপোর্টে নিচ্ছে। এগুলো দেখে আমার মনে অনেক ভয় কাজ করতেছিল। একপর্যায়ে এটাও মনে হচ্ছিল না যে, ও সুস্থ হবে।’

    কিন্তু তিন দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখার পর সাইমা খানের মেয়ের শারীরিক অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হয়।

    আমার বাচ্চাটা এখন আল্লার রহমতে ভালোই খাচ্ছে-দাচ্ছে, হাসতেছে-খেলতেছে। মা হিসেবে এই দৃশ্য দেখাটা যে কত শান্তির, বলে বোঝাতে পারবে না’, বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাইমা খান।

    বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ঢাকার আরো বেশ কিছু হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সবখানেই হামের ওয়ার্ডগুলোতে রোগী প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ।

    রোগীর চাপ আরো অনেক বেশি ছিল। গত সপ্তাহ থেকে কিছুটা কমতে শুরু করেছে বলে জানান বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আতিকুল ইসলাম।

    সরকারের দায় কতটা?

    চলতি বছরের মার্চে প্রাদুর্ভাব ঘটার পর গত তিন মাসে হামে ও হাম সন্দেহে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ইতোমধ্যে পৌনে এক লাখে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫০ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে মারা গেছে প্রায় ৩৬ জনের মতো, যাদের বড় অংশই ঢাকার বাইরে থেকে এসেছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    যথা সময়ে চিকিৎসা শুরু করতে না পারায় তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

    বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা ডা. ইসলাম বলেন,‘ঢাকার বাইরে থেকে কিছু কিছু মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আসতেছে। যারা আগে হামে আক্রান্ত হয়েছে, এখন কমপ্লিকেশন ডেভেলপ (জটিলতা তৈরি) করেছে, বিশেষ করে নিউমোনিয়া। এ জন্য আতঙ্ক ও শঙ্কা থেকে ভালো চিকিৎসার জন্য অনেকেই বাচ্চাকে নিয়ে ঢাকায় আসতেছে। কিছু কিছু রোগি এর মধ্য থেকে খারাপ হয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তীতে তাদের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মারা যাচ্ছে।’

    বাংলাদেশ থেকে প্রায় নির্মূল হয়ে যাওয়া হাম পুনরায় কীভাবে ফিরে এলো এবং এর জন্য দায়ী কারা, সেটি নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন মহলে নানান আলোচনা ও বিতর্ক হতে দেখা যাচ্ছে।

    বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চলমান হাম পরিস্থিতির জন্য বিগত আওয়ামী লীগ এবং অর্ন্তবর্তী সরকার দায়ী।

    সম্প্রতি সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এই হাম সংক্রমণের পেছনে বিগত দুই সরকার দায়ী। প্রতি চার বছর পরপর এমআর টিকার ক্যাম্পেইনিং করার কথা ছিল। কিন্তু ২০২০-এর ডিসেম্বরের পরে তারা সেটি করেনি। এর প্রভাব আমাদের ওপরে এসে পড়েছে।’

    হামের প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে আগের দুই সরকারের মধ্যে কে কতটুকু দায়ী, সেবিষয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    সেই সঙ্গে, হাম পরিস্থিতি কীভাবে এবং কেন এমন পর্যায়ে এলো, তা জানতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) একটি ‘স্বাধীন তদন্ত’ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিক অনুরোধও জানানো হয়েছে।

    কিন্তু প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে ভূমিকা না থাকলেও হাম ছড়িয়ে পড়ার পর তিন মাসেও সেটি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারা এবং এর ফলে যত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, সেটার জন্য বর্তমান সরকারের দায় রয়েছে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    বিশেষ করে, হাম ঘিরে জরুরি অবস্থা জারি না করা এবং জেলা পর্যায়ে হামের ভালো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে না পারার কারণে মৃত্যু বেড়েছে বলে মনে করেন তারা।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম এটা মহামারি ঘোষণা করে দেওয়া বা একটা স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা দরকার। সেটা করলে সর্বাত্মক একটা ব্যবস্থা নেওয়া যেত সবগুলো ফ্রন্ট থেকে। আর সবগুলো ফ্রন্ট থেকে যদি হামের বিরুদ্ধে একসঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করা যেত, তাহলে হাম এত দীর্ঘায়িত হতো না।’

    প্রাদুর্ভাবের শুরুতে হামকে মহামারি ঘোষণা করে সরকার সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করলে এত বিপুলসংখ্যক শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হতো না বলেও মনে করেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক এই প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

    ডা. আহমেদ বলেন, ‘শুরুতেই গুরুত্ব দিয়ে সরকার যদি হামকে মহামারি ঘোষণা করতো এবং মিস ম্যানেজমেন্টের বদলে আরো বেশি ফোকাসড ম্যানেজমেন্ট করতে পারতো, আইসিইউ ফ্যাসিলিটিস বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাড়ানো যেত এবং ডাক্তার ও নার্সদের এ বিষয়ে ট্রেনিং দিতে পারতো, তাহলে হাম এত বেশি ছড়াতো না, মৃত্যুও কম হতো।’

    সরকার কী বলছে?

    বিশেষজ্ঞরা অব্যবস্থাপনার যে অভিযোগ তুলেছেন, সেটি অস্বীকার করেছে সরকার।

    কর্মকর্তারা উল্টো দাবি করেছেন, হামের প্রাদুর্ভাবের পরপরও তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

    ‘কিন্তু এত শিশু আক্রান্ত ও মারা যাওয়ার পরও সরকার কেন হামকে মহামারি ঘোষণা করল না কিংবা স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করা কেন হলো না?’ প্রশ্ন তোলেন ডা. আহমেদ।

    বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও দাবি করেছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের চেষ্টার কমতি নেই।

    তবে বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, হাম ঘিরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করার সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনীতি থাকতে পারে।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন,‘এটা ইমার্জেন্সি ঘোষণা করলে সরকারের দিক থেকে সত্যিকার অর্থে কোনো ক্ষতি ছিল না। এটা একটা রাজনৈতিক স্ট্যান্ড বা অবস্থান।’

    বিষয়টি আরেকটু ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘সে অবস্থানটা এরকম যে, আমাদের সময় একটা হেলথ ইমার্জেন্সি বা একটা মহামারি ঘোষণা করা হয়েছে, এটা আমাদের ব্যর্থতা, আমাদের দুর্বলতা। কিন্তু আসলে এটা একটা ভুল ধারণা। কেননা এখন পর্যন্ত কেউই বলছে না যে, এই মহামারিটা হওয়ার দায় এই সরকারের। বলতেছে, এটা পূর্বাতন সরকারের।’

    ডা. আহমেদ বলেন, ‘কাজেই মহামারি যদি ঘোষণা করা হতো, কিন্তু দায় তাদের হতো না- এটা ধরেই নেওয়া যায়। বরং মহামারি ঘোষণা করার পরে যদি এই অল আউট ইফোর্টস গুলো নিতো, তড়িৎ ব্যবস্থা নিতো এবং খুব দ্রুত মহামারিটাকে থামিয়ে আনতো, মৃত্যু হতে দিতো না এত, তাহলে কিন্তু বরঞ্চ সরকার প্রশংসা পেত এবং তাদের এটা ক্রেডিট হিসেবে গণ্য হতো।

    কর্মকর্তারা বলছেন, শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ বলয় বা ‘হার্ড ইমিউনিটি’ গড়ে তোলার মাধ্যমে হাম পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ লক্ষ্য দুই মাস আগে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও এখনও শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

    এর মধ্যে আবার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগির সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। ফলে হাম পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সরকারের জন্য সামনের দিনগুলোতে কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • ৮ নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান, ৭ জনই বিএনপি নেতা

    ৮ নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান, ৭ জনই বিএনপি নেতা

    দেশের আট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তাঁদের মধ্যে সাতজনই বিএনপি নেতা।

    এসব নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বেতনকাঠামোর গ্রেড-২ পদে তাঁদের এক বছরের চুক্তিতে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে।

    আটজনের মধ্যে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবুকে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন। রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদকে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত মোতাহার হোসেন তালুকদার ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

    এ ছাড়া রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সামসুজ্জামান সামুকে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীবকে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান করেছে সরকার।

    এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের স্কুলজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিতে নিয়োজিত মোহাম্মদ সালাউদ্দীন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিতে নিয়োজিত মো. নুরুল করিমের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে।

    রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন যুগ্ম সচিব এস এম তুহিনুর আলম। পরবর্তী পদায়নের জন্য তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।

  • খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

    খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

    খুলনার দক্ষিণ লবনচর এলাকায় গাজী রফিক (৪৫) ওরফে ঢাকাইয়া রফিক নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লবনচরার দশগেট এলাকায় নিজ বাসার অদূরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    নিহত গাজী রফিক দক্ষিণ লবনচরা মাথাভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা ও রতন গাজীর ছেলে। তিনি বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য হিসেবে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত ছিলেন।

    পরিবার ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, রফিকের বড় ছেলে অভিমানে কয়েকদিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। শুক্রবার সকালে ছেলেকে খুঁজতে বের হন রফিক। একপর্যায়ে তাকে না পেয়ে বাড়ির পেছনের একটি ফাঁকা স্থানে বসে ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তার তলপেটে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

    গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। হত্যার কারণ, পূর্বশত্রুতা কিংবা রাজনৈতিক কোনো বিরোধ এ ঘটনার পেছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেএমপির সহকারী কমিশনার (সিটিএসবি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

    বি. এ

  • চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি নেতার ওএমএসের ডিলার পয়েন্ট থেকে পাচারকালে  ২8০ কেজি চাল-আটা জব্দ

    চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি নেতার ওএমএসের ডিলার পয়েন্ট থেকে পাচারকালে  ২8০ কেজি চাল-আটা জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা শহরের ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরকারি ওএমএসের ২১০ কেজি চাল ও ৭০ কেজি আটা জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় ওএমএস ডিলার ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মালিক সুজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকা থেকে একটি আলমসাধু (ভ্যানগাড়ি) ভর্তি সরকারি চাল ও আটা উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তে উদ্ধারকৃত খাদ্যসামগ্রী সরকারি ওএমএস কর্মসূচির পণ্য বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

    জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মালিক সুজন৪৭) তার ওএমএস এর গুদাম চুয়াডাঙ্গা শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম এলাকায় হলেও তিনি আলমসাধুতে করে সাতগাড়ীর দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন , এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আলমসাধু থেকে সরকারি ওএমএসের ৭ বস্তা চাল ও ২ বস্তা আটা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল ২১০ কেজি চাল ও ৭০ কেজি আটা।

    এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকার বাসিন্দা শামসুল হক মালিক এর ছেলে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমেদ মালিক সুজনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

    অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। চাল জব্দ করায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানানো সহ ডিলারের শাস্তি দাবি করেন , সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল ও আটা অধিক মুনাফার আশায় অবৈধভাবে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, “সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল ও আটা কোনোভাবেই অবৈধভাবে বিক্রি বা পাচার করা যাবে না। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”

    অভিযানকালে আরো উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র ও জেলা পুলিশের একটি টিম।

  • বিরোধীদের আসনের তদারকিতে বিএনপির নারী এমপি কেন, ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    বিরোধীদের আসনের তদারকিতে বিএনপির নারী এমপি কেন, ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকির দায়িত্ব কেন সংরক্ষিত আসনের সরকারদলীয় নারী এমপিদের দেওয়া হয়েছে, এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সংসদে তা ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের যে নিয়ম আছে, সে নিয়ম অনুযায়ীই এগোচ্ছেন।

    বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিরোধী দলের সদস্য মীর আহমদ প্রশ্নে বলেন, ‘বহুল প্রচারিত পত্রিকায় জানতে পেরেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকারদলীয় মহিলা এমপিদের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকায় উন্নয়ন তদারকি করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আরও বলা হয়েছে, এসব উন্নয়নে ডিও লেটার ইস্যু করতে পারবেন সরকারদলীয় মহিলা এমপিগণ।’

    গত ৭ জুন সমকালে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হয়েছিল। এতে বলা হয়, এর আগের দিন বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সংরক্ষিত আসনের দলীয় ৩৬ নারী এমপিকে বিরোধী দলের জেতা ৭৯ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    ব্যারিস্টার আরমান নামে পরিচিত মীর আরমান বলেন, ‘এ তথ্য থেকে আমাদের মধ্যে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে যে, এ কাজ কি তাঁদের এ জন্য দেওয়া হচ্ছে যাতে আমরা যারা বিরোধীদলীয় এমপি আছি, আমাদের এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আমাদের কোনো হক থাকবে না? এটা নিশ্চিত করার জন্যই কি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? দয়া করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সামনে পরিষ্কার করবেন।’

    জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি এবং বিরোধী দল থেকে যে সকল নারীকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে তাঁদের কোনো আসন নেই। আপনার বা আমার যে কোনো নির্দিষ্ট আসন আছে, সেরকম নির্দিষ্ট কোনো আসন তাঁদের নেই। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক যে কাঠামো, তার ভিত্তিতে দলীয় অবস্থান থেকে কিছু জায়গা তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, যেখানে তাঁরা কাজ করবেন।

    ব্যারিস্টার আরমানের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, আপনার নির্বাচনী এলাকায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার সম্পূর্ণ হক আছে যে, আপনি আপনার এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে চান। যেহেতু এই সংসদ নারী সদস্যদের নির্বাচিত করেছেন, খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁদেরও একই রকমভাবে হক আছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা সরকারের যে নিয়ম আছে, সেই নিয়ম অনুযায়ী এগোচ্ছি। আপনার এলাকার যদি কোনো উন্নয়নের বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকে, জানাবেন।

  • জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি, সতর্ক করল বিএনপির মিডিয়া সেল

    জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি, সতর্ক করল বিএনপির মিডিয়া সেল

    দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিএনপির মিডিয়া সেল। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিডিয়া সেলের নামে পরিচালিত বিভিন্ন ভুয়া পেজ, গ্রুপ ও কমিউনিটি সম্পর্কে নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকালে বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু জেলায় বিএনপি মিডিয়া সেলের নামে ভুয়া কমিটি ঘোষণা ও প্রচারের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির মিডিয়া সেলের নামে বিভিন্ন ভুয়া পেজ, গ্রুপ, কমিউনিটি সক্রিয় রয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি মিডিয়া সেলের কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সারা দেশে জেলা বা মহানগর পর্যায়ে এ নামে কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের মিডিয়া সেলের অনুমোদিত কমিটি দাবি করছে, তাদের সঙ্গে বিএনপি মিডিয়া সেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

    এতে আরো বলা হয়, অননুমোদিত ও ভুয়া কমিটি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হবে বলে সতর্ক করা যাচ্ছে।

    সাধারণ নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ও তালিকা থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

  • দামুড়হুদার দর্শনায় ধর্ষণের ঘটনার আপোষ মীমাংসা করার অভিযোগ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে

    দামুড়হুদার দর্শনায় ধর্ষণের ঘটনার আপোষ মীমাংসা করার অভিযোগ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক রিয়েল ইসলাম লিওন (৩০) এক নারী সাথে ধর্ষণ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদল উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ আপোষ মীমাংসা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে অভিযোগকারী ওই নারী ও ছাত্রদল নেতা রিয়েল ইসলাম লিওনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

    সোমবার ওই নারী কে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাৎ ও ধারাবাহিক হুমকির অভিযোগ এনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার মাত্র ৪ দিনের মাথায় শুক্রবার রাতে সেই অভিযোগের বিষয়ে আর কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ার আবেদন করেছেন ওই নারী। ঘটনাটি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা ও ঢাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    ১ জুন সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর থানায় জিডি সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা কেরু এলাকার বাসিন্দা রিয়েল ইসলাম লিওন রাসেল ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের আশ্বাস দেন। দীর্ঘদিন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগে অভিযুক্তের মোবাইল নম্বর ও ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান আবেদনকারী।

    তবে ঘটনার নাটকীয় মোড় আসে শুক্রবার ২০২৬ ভুক্তভোগী ওই নারী পুনরায় মোহাম্মদপুর থানায় আরেকটি লিখিত আবেদন করে। তিনি জানান, গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি আপস-মীমাংসা হয়েছে। রিয়েল ইসলাম লিওন রাসেলের বিরুদ্ধে তার আর কোনো অভিযোগ নেই। একইসঙ্গে তিনি ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করবেন না বলেও আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন।

    আরও বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে তিনি পূর্বে দায়ের করা জিডির ভিত্তিতে আর কোনো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নন। ফলে জিডিটি রেকর্ডে থাকলেও পরবর্তী কার্যক্রম থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

    এদিকে রিয়াল ইসলাম লিওনের বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ দায়েরের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করায় স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের পেছনের বাস্তবতা কী, অভিযোগগুলো কতটুকু সত্য ছিল, কিংবা কী পরিস্থিতিতে আপস-মীমাংসা হলো এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাচলছে।

    মোহাম্মদপুর থানার ডিউটি অফিসার শেখ তামিম আহম্মেদ (বিপি নং-৯৩২৩২৪৬২৬৭) জিডি গ্রহণ করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

    এ বিষয়ে ঢাকা মোহাম্মদপুর থানার ওসি তদন্ত রকিবুজ্জামান বলেন, থানায় এই ধরনের জিডি অনেকেই করে। আপনি তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন বলে জানিয়েছেন ।

    বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হলেও অভিযোগ ও পাল্টা অবস্থানের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।

    এ বিষয়ে রিয়েল ইসলাম লিওন বলেন আমার পক্ষে দলের উচ্চ পর্যায়ের দুইটি সিনিয়র গ্রুপ কাজ করেছে। মেয়ের পরিবারের সাথে আপোষ মীমাংসা করা হয়েছে। মেয়ে নিজে জিডি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করে।

    এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী জানান, আমার পারিবারের সাথে বিএনপির নেতৃবৃন্দের বসে এবিষয়টি আপস মীমাংসা করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক আল্লাহ বিচার করবে। আমি আমার অভিযোগের জিডি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছি।

    চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের (পিপি) আইনজীবী মারুফ সরোয়ার বাবু বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ থানায় জিডি অথবা মামলা হলে আপস-মীমাংসার নিষ্পত্তিযোগ্য নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ভিত্তিতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কার্যক্রম চলবে।

    চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাজাহান খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। আপসের বিষয়ে আমি জানিনা।

    এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন বলেন, এ ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে দর্শনা পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ মীমাংসার জন্য পরামর্শ দিলে দিতে পারে। তবে এর সাথে রাজনৈতিক কোন সম্পর্ক নেই।

  • বিএনপিতে হাইব্রিডদের দৌরাত্ম্য

    বিএনপিতে হাইব্রিডদের দৌরাত্ম্য

    সুসময়েও ভালো নেই তৃণমূলের ত্যাগীরা

    ডেক্স নিউজ : ফেনীর মেহেদী হাসান। ২০২২ সাল থেকে জেলার দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের ছাত্রদলের সহ-প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। ছাত্রদলের কমিটিতে নাম থাকায় ওই বছর থেকে পতিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় বাড়িছাড়া হন তিনি। এরপর সপরিবারে আশ্রয় নেন ফেনী শহরে ছোট্ট এক ভাড়া বাসায়। শুরুর দিকে গরুর খামারে কাজ করে কোনোরকমে টিকে থাকার চেষ্টা চালান। বেশ কিছুদিন এভাবেই মানবেতর দিন যাপন করেন তিনি। দুঃখজনক হলেও সত্য, চব্বিশের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরও এলাকায় না যেতে পেরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে তাকে। আবার এখন তার ওপরে অত্যাচার করা সেই আওয়ামী লীগ নেতারাই বিএনপির সঙ্গে মিশে গিয়ে তাকে এলাকায় ফিরতে বাধা দিচ্ছে। ফলে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও নিজের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন মেহেদী। এখনও তার ভরসা সেই অটোরিকশা।মেহেদীর মতো এভাবেই বিএনপির তৃণমূলের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীর মানবেতর জীবন কাটছে। অনেক জায়গায় আবার হামলারও শিকার হচ্ছেন। দল ক্ষমতায় থাকার পরও কেন এমন অবস্থা-এ নিয়ে বিভিন্ন জেলা শাখার নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে যুগান্তর।

    জেলা নেতাদের মতে, মেহেদীর মতো ত্যাগী নেতাদের অনেকেই এখন ভালো নেই। কারণ ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে নতুন করে সুবিধাবাদী আর হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীদের উত্থান হয়েছে। বিগত কোনো আন্দোলনে বা দলের কোনো পদে না থাকলেও অনেকেই এখন বিএনপি সেজেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তারাই এখন সব জায়গায় হর্তাকর্তা হয়ে বসেছেন। কেউ কেউ জড়িয়ে পড়েছেন নানা অপকর্মেও। তাদের কারণে ত্যাগীরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপির দেখা পাওয়া কিংবা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার শীর্ষ নেতারাও আগের মতো আর খোঁজ নেন না।

    জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি তো সারাক্ষণ আমার কর্মীদের মধ্যে থাকি। সুতরাং মন্ত্রীদের বিষয়ে যে অভিযোগ এটা ঠিক না’। দাগনভূঞার ছাত্রদলের নেতার মানবেতর জীবন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওখানকার নেতারা যারা আছেন অবশ্যই সেটা দেখবেন এবং দেখা উচিতও। তার জন্য কি করা যায় আমরা চেষ্টা করে দেখব।

    পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি যুগান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রী হওয়ার আগে বা পরের বিষয় নয়, আমি সব সময়ই নিয়মিত এলাকায় যাই। আমার নেতাকর্মী-সমর্থকদের খোঁজ-খবর নেই। ফোনেও সব সময় তারা আমাকে পান’। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী আছে। এরমধ্যে আমাদের অনেক ছেলে আছে; যাদের আর্থিক উপার্জন অত্যন্ত দুর্বল এবং তারা কেউ কেউ অসহায়। আমাদের অবগত করলে আমরা তাদের সাপোর্ট দেব’ তিনি বলেন, ‘অর্থ বছর মাত্র শুরু হবে। সর্বশেষ পার হওয়া অর্থবছর অল্প সময়ে অসহায় নেতাকর্মীদের কাজে লাগানো সেভাবে সম্ভব হয়নি। আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। অবগত হলেই আমরা তাদেরকে সহযোগিতা দেব।’

    শুক্রবার দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বিগত আন্দোলনে তার রাজপথে থাকার এক ডজনেরও বেশি ছবি ও ভিডিও পাঠান। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘যাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছি তারা কেউ এখন আমাকে চেনেন না। স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের কাছে গিয়েছি, এলাকায় যেতে কেউ সহায়তা করেনি। এক সপ্তাহ আগে আমার অটোরিকশায় জেলা বিএনপি নেতা রতন উঠলে আমাকে চিনতে পারেন। পরে তার কাছে সবকিছু খুলে বলি। বুধবার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। সভাপতিকে বলেছি, আওয়ামী লীগের যারা নির্যাতন করেছে, তারা বিএনপির সঙ্গে মিলেমিশে রয়েছেন। এ সময় রাকিব অভয় দিয়ে বলেছেন, তুমি এলাকায় থাকবে, রাজনীতি করবে।’

    এদিকে মেহেদীর সঙ্গে রাকিবের কথপোকথনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে মেহেদীর সঙ্গে রাকিবের কথা বলার সময় পাশে বসা বিএনপি নেতা রতনকে কাঁদতে দেখা যায়।

    ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ও বর্তমান অন্তত ১৫ জন নেতা যুগান্তরকে জানান, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে অধিকাংশই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করেছেন। তাদের বন্ধু-বান্ধব অনেকেই এখন সরকারি কর্মকর্তা। কিন্তু অনেকেই আবার রাজনীতিতে নেমে চাকরির খোঁজার সময় পাননি। বিগত সরকারের হামলা-মামলায় অনেকে পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। কিন্তু দল ক্ষমতায় এলেও এখন আগের মতো কোনো নেতা আর খোঁজ নেন না। মন্ত্রী-এমপিদের কাছে গেলেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

    তারা আরও বলেন, আন্দোলনের সময় মিছিল করার আগে নেতাকর্মী নিয়ে আসার জন্য যারা অন্তত দিনে ১০ বার ফোন করতেন, ক্ষমতায় আসার পার এখন আর তারা ফোন ধরছেন না। দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবেন-এই আশায় এখনও রাজনীতি করছেন। একটি সেল গঠন করে ত্যাগীদের, বিশেষ করে যারা শিক্ষিত নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগানোর দাবি করেন তারা।

    ছাত্রদলের সাবেক দুইজন সহ-সভাপতি যুগান্তরকে আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাবা-মা মনে করেছিল বিএনপি ক্ষমতায় এলে অন্তত একসঙ্গে ঈদ করা যাবে। কিন্তু দুই ঈদেও বাড়ি যাওয়া হয়নি। বাড়ি যেতে চাইলে খরচের ব্যাপার আছে। নিজেই চলতে পারছি না, বাড়তি খরচ কিভাবে করব।’

    সম্প্রতি রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলামের বক্তব্যেও তৃণমূলের হতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে। বক্তব্যে রাকিব বলেন, ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আন্দোলন এবং পরবর্তীতে সেই জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মী যারা রক্ত দিয়েছে, সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই এই বিএনপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় মঞ্চে ও মঞ্চের সামনে বসা মন্ত্রী-এমপিদের উদ্দেশ্য করে ছাত্রদলের সভাপতি বলেন, ‘অপ্রাসঙ্গিক হলেও নিবেদন রাখছি, আপনারা এই দিনগুলোর কথা কখনো ভুলে যাবেন না। বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বহু নির্যাতিত নেতাকর্মী রয়েছেন; যারা বিগত সাড়ে ১৫ বছর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনীতিকে বুকে ধারণ করে আপনাদের আগলে রেখেছিল। আগামীতেও তারা যেন আপনাদের আগলে রাখে। আত্মীয়-স্বজনকে প্রশ্রয় দেবেন না। আবারও বলে যাচ্ছি, কোনো আত্মীয়-স্বজনকে আপনারা প্রশ্রয় দেবেন না।’

    এছাড়াও সম্প্রতি নাটোরে এক সভায় জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক বাবুল চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপিকে ধ্বংস করতে দেবেন না। দেড় বছর হয়ে গেছে একটি কমিটিও ত্বরান্বিত করতে পারিনি। সব নেতাকর্মী আজকে পদবিহীন বসে আছে। সংগঠন যদি না থাকে, দল চালাবেন কি করে? নিজের আমিত্ব আর ক্ষমতাকে জাহির করতে গিয়ে দলটাকে ধ্বংস করবেন না। এই দলের পেছনে অনেক শ্রম আছে। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেখে পালিয়ে গেছি, তারপরও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করিনি। আপনাদের সঙ্গে ছিলাম দলকে ভালোবেসে, অন্য কিছুর লোভে নয়।’

    জেলা পর্যায়ের বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিককালে সংঘঠিত কিছু ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি রংপুরে থানার ভেতরে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলামকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনা হাইকমান্ডকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার দাবি করেছেন নেতারা। রক্তাক্ত অবস্থায় রাকিবুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, আওয়ামী লীগ আমলেও মামলা ও কারাগারে গিয়েছেন, কিন্তু এভাবে কখনও মারধর করা হয়নি। এছাড়া গত রোববার পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৫ নেতাকর্মীর ওপর হামলা করেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এমন ঘটনা আরও বেশ কয়েক জায়গায় ঘটেছে, যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে দেখছেন না বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, বাস্তবতা হলো সরকারের তিন মাস পার হলেও প্রশাসনে এখনো কোনো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, বিএনপি মধ্যপন্থি একটি দল। সরকার দেশকে একটি স্থিতিশীল জায়গায় নিয়ে যেতে চাইছে। আর সরকারের এই সহনশীল ভূমিকার সুযোগ নিচ্ছেন কিছু আমলা ও পুলিশসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এ ঘটনা ঘটতে থাকলে বিএনপি নেতাকর্মীদের মনোবল আরও ভেঙে যাবে।

    এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখানে কিছুসংখ্যক মানুষ দেশে একটা অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করতে চাইছে। কিছুসংখ্যক রাজনৈতিক দলও এর মধ্যে জড়িত আছে। তারাই এসব ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে।

    এ এম

  • দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপির ৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপির ৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় এক নারীকে (৪৬) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।

    শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুঠিয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এরপর পুলিশ মো. মুরাদ (৩২) নামের এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি উপজেলার ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ফিরোজ (৩৫), জিউপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম (৪০), তাঁর ভাই মো. বুলবুল (২৮) এবং যুবদল কর্মী মো. সুমন (৩২)। মামলায় অজ্ঞাত আরও ১২-১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা মামলাটি মিথ্যা দাবি করছেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গায়। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে আসছেন। তাঁর দুই ছেলে। একজন ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। অন্যজন মায়ের সঙ্গে থাকেন। মামলার পর শনিবার ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এজাহারে ওই নারী দাবি করেন, ১ জুন ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া এলাকায় তিনি একটি বাড়ি ভাড়া নেন এবং ৪ জুন সেই বাড়িতে ওঠেন। সেদিনই রাত ৯টার দিকে ১৬ বছরের এক কিশোরকে ওই নারীর বাড়ির সামনে দেখে আসামিরা তাকে ধরেন। এরপর ওই নারীকে জড়িয়ে তাদের অনৈতিক কাজের অপবাদ দেন। একপর্যায়ে আসামিরা বাড়িতে ঢুকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, ২২ হাজার টাকা মূল্যের রুপার নূপুর ও ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফোন লুট করেন।

    লুটপাটের পর আসামি সাইফুল ওই নারীকে বাড়িতেই ধর্ষণ করেন। এরপর ফিরোজ তাঁকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে উজালপুর গ্রামের একটি নির্জন মাঠে নিয়ে যান। সেখানে ফিরোজ ফোন করে আসামি মুরাদকে ডেকে নেন। রাত ১১টার দিকে মুরাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে মাঠের মধ্যে ধর্ষণ করেন। এরপর আসামি ফিরোজ তাঁকে মোটরসাইকেলে করে বাঁশবাড়ী বাজারে পৌঁছে দেন। পরে ভুক্তভোগী নারী সেখান থেকে ভ্যানে চড়ে নাটোরের নলডাঙ্গায় নিজের গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

    জানতে চাইলে জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ফিরোজ বলেন, ওই নারীর বাড়িতে এক ছেলে অনৈতিক কাজ করতে গিয়েছিল। এলাকাবাসী তাঁদের ধরেছিল। তারপর সিদ্ধান্ত হয় যে ওই রাতেই তাঁকে গ্রাম ছাড়তে হবে। তিনি তাঁকে মোটরসাইকেলে বাজার পর্যন্ত নিয়ে যান। এরপর ওই নারী নলডাঙ্গা চলে যান। এখানে লুটপাট ও ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অনৈতিক কাজের জন্য গ্রামছাড়া করার কারণে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

    পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা মিথ্যা নাকি সত্য, সে বিষয়ে মন্তব্য করার সময় আসেনি। এটা তদন্ত শেষে বলা যাবে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

  • মহাদেবপুরে বিএনপি নেতার ‘স’ মিল থেকে সরকারি গাছ জব্দ

    মহাদেবপুরে বিএনপি নেতার ‘স’ মিল থেকে সরকারি গাছ জব্দ

    নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় সরকারি রাস্তার দুটি নিমগাছ ঝড়ে উপড়ে যাওয়ার পর কেটে নিজ ‘স’ মিলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

    অভিযুক্ত হলেন—উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন। বিষয়টি জানার একদিন পর বন বিভাগ ওই ‘স’ মিল থেকে গাছ দুটি জব্দ করেছে।

    জানা যায়, উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের চাংকুড়ি মোড় থেকে তেজপাইন মোড়ের দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। এ রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য ফলদ ও বনজ গাছ রয়েছে। গত শনিবার রাতে ঝড়ে এ রাস্তার লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকায় দুটি নিমগাছ উপড়ে পড়ে যায়। পরদিন রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে গাছ দুটি কেটে নওহাটা মোড়ে তার ‘স’ মিলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তারপর থেকে বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন চলছে।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি রাস্তার গাছ সরকারি অনুমতি ছাড়াই কীভাবে কেউ কেটে নিয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আমজাদ হোসেন বলেন, ‘গাছ কেটে নিয়ে আসার যে দায় আমার ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বিষয়টি তদন্ত করলে এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশীভূত হয়ে কেউ এমন গুজব রটানোর চেষ্টা করছে।’

    তিনি বলেন, ‘ঝড়ে দুটি গাছ উপড়ে রাস্তায় পড়ে ছিল। গাছের সর্বোচ্চ মূল্য ৩-৪ হাজার টাকা হবে। সেখানকার উপকারভোগীরা (গাছ পরিচর্যা সদস্য) আমার সাথে যোগাযোগ করে শ্রমিক দিতে বলে। পরে তারাই দেড় হাজার টাকা শ্রমিকের মজুরি দিয়ে গাছ কেটে নেয়। ওই দুটি গাছ তারা আরো এক হাজার টাকা পরিবহন খরচ করে আমার ‘স’ মিলে নিয়ে এসে রাখে। পরে বন বিভাগের লোকজন এসে গাছ দুটি নিয়ে যায়।’

    মহাদেবপুর উপজেলার বন বিভাগের কর্মকর্তা মো: খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি রাস্তার গাছ কেউ কেটে নিয়ে যেতে পারবে না। এমনকি কেউ বিক্রিও করতে পারবে না। বিষয়টি জানার পর সোমবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে গাছ দুটি জব্দ করে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া গাছের মোথাও (গোড়া) নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় আমজাদ হোসেনসহ এর সাথে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হবে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

  • ‘জেলা বিএনপির সবাই গুপ্ত জামায়াত’—হারুনুর রশিদের বক্তব্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

    ‘জেলা বিএনপির সবাই গুপ্ত জামায়াত’—হারুনুর রশিদের বক্তব্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জেলা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে দেওয়া তাঁর মন্তব্যকে দলটির নেতারা ‘ভিত্তিহীন, অযৌক্তিক ও কুরুচিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

    শনিবার (৩০ মে) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শহীদ সাটুহল মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হারুনুর রশিদ।

    বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপিতে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা নেতাদের সবাই ‘গুপ্ত জামায়াত’। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের কেউই বিএনপির পক্ষে কাজ করেননি।

    হারুনুর রশিদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কিছু নেতা-কর্মী বিভিন্ন সময়ে শিবগঞ্জে সড়ক অবরোধ ও মশাল মিছিলে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট আসনের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে রেলপথ অবরোধ ও মশাল মিছিলের ঘটনাও উল্লেখ করেন।

    একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে দায়িত্বে যারা ছিল, একজনও বিএনপির পক্ষে ভোট করেনি।’ এ সময় সভাস্থলে উপস্থিত কিছু নেতা-কর্মী ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন বলে জানা যায়।

    অন্যদিকে হারুনুর রশিদের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জেলা বিএনপির নেতারা।

    জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটি তারেক রহমানের নির্দেশনায় গঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে আমরা সক্রিয় ছিলাম। অথচ হারুনুর রশিদ অতীতে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন।’

    তিনি আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হারুনুর রশিদ পুনরায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে গ্রহণ করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়াও হারুনুর রশিদের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘হারুনুর রশিদ অতীতে নিজেই বলেছিলেন, জেলা কমিটি বলে কিছু নেই। এখন সেই কমিটিকেই লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন।’

    গোলাম জাকারিয়া আরও অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে হারুনুর রশিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনৈতিক হতাশা থেকেই এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।

    হারুনুর রশিদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আরও প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

  • সিলেটে বিএনপি নেতার অর্ধকোটি টাকা ছিনতাই, বিকাশ কর্মীসহ গ্রেফতার ৯

    সিলেটে বিএনপি নেতার অর্ধকোটি টাকা ছিনতাই, বিকাশ কর্মীসহ গ্রেফতার ৯

    সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইনের অর্ধকোটি টাকা ছিনতাইয়ের মামলায় বিকাশ কর্মীসহ নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) দুপুরে নিজেদের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পেস্টে এ তথ্য জানায় পুলিশ।

    গ্রেফতার নয়জন হলেন— দক্ষিণ সুরমা শেখপাড়ার শাহেদ আহমদ (৪২), কমলগঞ্জের কামাল হোসেন (৩৫), কানাইঘাটের আদনান (৩৮) ও আবু তাহের (২৬), জকিগঞ্জের রুপায়ন বিশ্বাস (৪০), দক্ষিণ সুরমার রোমান আহমদ (৪৪), রাজনগরের সালমান আহমদ (২৮), বিশ্বনাথের গোলাম শহীদ (২৯) ও কানাইঘাটের জুনায়েদ (২২)।

    এর মধ্যে শাহেদ আহমদ বিকাশের সিলেট অঞ্চলের সুপারভাইজার, আদনান (৩৮), আবু তাহের (২৬) ও রুপায়ন বিশ্বাস (৪০) ডিএসও।

    ভুক্তভোগী সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের সিলেট বিভাগীয় ডিস্ট্রিবিউটর। ব্যাংক বন্ধ থাকায় শুক্রবার (৮ মে) সকালে নিজ কর্মীদের দিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের দিতে ৮১ লাখ ৮২ টাকা নিয়ে প্রাইভেটকারে করে পাঠান নাসিম। এরপর দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকে ছিনতাইকারীরা ৫০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা লুটে নেয় বলে অভিযোগ তার।

    পুলিশ জানায়, শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে লালমাটিয়া এলাকায় পৌঁছালে তিনজন আরোহীর একটি মোটরসাইকেল বিকাশের টাকা বহনকারী গাড়িটিকে থামার সঙ্কেত দেয়। তখন গাড়ির ড্রাইভার গাড়ির গতি কমালে মোটরসাইকেল আরোহীরা গাড়িটি থামিয়ে গাড়িতে থাকা সকলকে ভয়ভীতি, হুমকি প্রদর্শনসহ একজনকে মারপিট করে পাঁচটি ব্যাগে থাকা ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

    সিলেট মহানগর পুলিশের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, অভিযোগ রয়েছে, গাড়িতে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিস্থিতির ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও গাড়ির গতি কমিয়ে টাকা ডাকাতির সুযোগ সৃষ্টি করেন। এছাড়া টাকাবাহী গাড়ির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্কর্ট সদস্য রোমান আহমদ (৪৪), সালমান আহমদ (২৮), গোলাম শহীদ (২৯) ও জুনায়েদ (২২) ঘটনার সময় গাড়ির সাথে উপস্থিত ছিলেন না, যা সন্দেহের সৃষ্টি করে।

    এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোগলাবাজার থানা পুলিশ নয়জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনতাই, বিএনপির ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনতাই, বিএনপির ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে হরিপুর থানায় মামলাটি করেন। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হরিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ।

    আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- হরিপুর উপজেলার বশলগাঁও এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, ভবান্দপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে বিএনপি নেতা মোকলেসুর রহমান, তোররা এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে বিএনপি নেতা এরফান আলী, ভবান্দপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে বিএনপি নেতা মো. ফারুক, ভটা মোহাম্মদের ছেলে মাসুদ রানা এবং মশানগাঁও এলাকার কুদ্দুস আলীর ছেলে মো. উজ্জ্বলসহ আরও কয়েকজন।

    এর আগে শুক্রবার বিকেলে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র যাচাইয়ের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী ইউএনও’র কক্ষে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করেন পরীক্ষার খাতা নিয়ে যায়।

    হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম জানান, সব কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছিল। হঠাৎ করে কয়েকজন এসে তার কক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে মব সৃষ্টি করে নিরীক্ষকদের কাছ থেকে পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীন বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় টাকা লেনদেনের একটা বিষয় নিয়ে ইউএনও সাহেবকে অবগত করতে গিয়েছিলাম। এ সময় ইউএনও আমাদের কথা আমলে না নিলে আমাদের ছেলেরা কাগজপত্র নিয়ে চলে আসেন। পরবর্তীতে আবারো সেগুলো দিয়ে আসা হয়েছে।মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ বলেন, আয়া ও পরিছন্নতাকর্মী পদে আটজন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা শেষে আমরা ইউএনও স্যারের রুমে বসেছিলাম। সেখান থেকে আমাদের সব কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় যাচ্ছি।

    এ বিষয়ে হরিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ রাতে ওই ঘটনায় হরিপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। যারা প্রকৃতপক্ষে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করছে : জামায়াত আমির

    বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করছে : জামায়াত আমির

    বিএনপিকে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশে জুলাই না হলে এই রাজনীতি থাকতো না। আমাদের ভাই বোনদের স্বামী-সন্তানরা জীবন না দিলে ক্ষমতায় বসতে পারতেন না আপনারা। শহীদ পরিবাররা যখন কান্না করছিলেন, তখন শহীদ পরিবারের পাশে যাওয়ার সময় ছিল না বিএনপির। তখন তারা নির্বাচন চেয়েছিল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করে যাচ্ছে, যে আওয়ামী লীগ জাতি ও বিরোধীদলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করত এবং লাঠিয়াল দিয়ে কর্তৃত্ববাদ কায়েম করেছিল। আর বর্তমানে আফসোসের ব্যাপার হলো রাষ্ট্রের যেখানে যেখানে সংস্কার দরকার তার প্রত্যেকটি বিষয়ে বিরোধিতা করছে বিএনপি। এটি জাতির সাথে সুস্পষ্ট প্রতারণা। তিনি শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধা জাতীয় সমাবেশে এসব কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, মহান জাতীয় সংসদে সরকারি দল মুখে ঠিকই জুলাইয়ের কথা বলেন, শহীদ হাদির কথাও বলে; কিন্তু কার্যত আমরা সরকারি দলের কাছ থেকে তার উল্টোটা দেখতে পাই। তারা দুটি ভোটের একটা ৫১% মানেন-যা তাদের নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে, কিন্তু আরেকটি গণভোটের ৭০% মানেন না- যা শাসকগোষ্ঠীকে স্বৈরতন্ত্র হওয়া থেকে রক্ষা করবে, জাতিকে বৈষম্যমুক্ত করবে, সুশাসন কায়েম করবে এবং সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়ার জন্য। তাদের এই দ্বিচারিতা জাতির জন্য লজ্জার, দুঃখের। তিনি বলেন, যেদিন ৭০ শতাংশ ভোটের রায় মানবে, সেদিন বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সেদিন আপামর ছাত্রসমাজ রাস্তায় নেমে এসেছিল। সবাই মাস্টারমাইন্ড। প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবারের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। আমরা কি পারছি আর পারিনি তার জবাবদিহিতিা আছে।

    তিনি আরোও বলেন, যে আইন বাস্তবায়ন হলে, অধ্যাদেশ পাস করলে রাষ্ট্র সংস্কার হবে- সেগুলো বিএনপি বাতিল করে দিচ্ছে। তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করার মধ্যদিয়ে ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করেছে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এমপি মাসুম মোস্তফার উপর হামলা করা হয়েছে। শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের ক্রিস প্রদর্শনী এমন বাংলাদেশ জুলাইযোদ্ধারা চায়নি। এমন বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশ চাই। মা বোনেরা নিরাপত্তার সাথে বের হবে এবং কাজ শেষে নিরাত্তার সাথে ফিরবে।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই আবার ফিরে আসবে। তখন চূড়ান্তভাবে ফ্যাসিবাদ বিদায় হবে। সেই লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে। আমরা সামনের সারিতে থেকে যুদ্ধ চালিয়ে যাবো। জনতার বিজয় হবে। আমরা আশাবাদী এ বাংলাদেশ পাল্টাবে। আমাদের এই যুদ্ধ সংসদে ও রাজপথে চলমান থাকবে। আমরা দেশবাসীকে মাঠে চাই। ব্যক্তিগত কোনো দাবি দাওয়া আমাদের নেই। সব দাবি দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল দেশবাসী। ফলে সংস্কার কমিশন গঠিত হয়। কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা দিয়েছে বিএনপি। সবশেষে গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচনের পর পরই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করছে। মাত্র দুই মাস বয়সে আর কোনো সরকার এত অজনপ্রিয় হয়নি, যা হয়েছে বিএনপি সরকার। আমরা জুলাইযোদ্ধাদের সম্মান আদায়ে রাজপথ ও সংসদে আছি। আমরা জনতার দাবি আদায় করে ছাড়বো।

    এলডিপির চেয়াম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের প্রকৃত অবস্থা তারেক রহমান জানতেন না। তাকে যা বলা হচ্ছে, তাই শুনছেন। জনগণ কৃষক কার্ড চায় না, ফ্যামিলি কার্ড চায় না। তিনি বলেন, সামনে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা রয়েছে, অর্থনীতিকে সামাল দেয়া যাবে না। যার প্রভাব জনগণের ওপর পড়বে। চাঁদাবাজিতে লিপ্ত বিএনপির লোকেরা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনাকে ঘিরে রেখেছে, বেষ্টনী থেকে বের হন। বিরোধীদলীয় নেতার সাথে বসে জাতিকে মুক্তি দিতে সেই পলিসি নির্ধারণেরও পরামর্শ দেন তিনি।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জনগণের ৭০% গণভোটে ‘হ্যাঁ’ তে রায় দিয়েছে। কিন্তু তলে তলে বিএনপি না এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছে। বিএনপি মোনাফিকি করে দ্বিচারিতা করে একবার পার পেয়েছে। ভবিষ্যতে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে তাদের। সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনের মাধ্যমে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, জুলাই আন্দোলন হয়েছিল নতুন বাংলাদেশ গড়তে, আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করতে। আজ সেই আন্দোলনকে অস্বীকার করা হচ্ছে। আজকে দুমাসের মাথায় রাজপথে নামতে হচ্ছে। এটি কারো জন্য সুখকর হবে না। জুলাইয়ে দেশ আবার স্বাধীন হয়েছে। আজকে আবার এক ব্যক্তির শাসনের দিকে নিতে চায় বিএনপি, কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তা মেনে নেবে না। সরকার যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ১১ দল আন্দোলনের ডাক দিলে প্রথম কাতারে থেকে প্রথম শহীদ হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমরা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য জনগণকে সাথে নিয়ে আবার দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। যেসব সাংবিধানিক কাঠামো ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার জন্য দায়ী, তার প্রত্যেকটি সংস্কারের জন্য যে প্রস্তাবনা, তাতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপি।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার কমিশন, গুম সংক্রান্ত কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ ও গণভোট মানেন না। গায়ের জোরে তারা এসব বাতিল করে দিয়েছে। বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার টিকতে পারেনি। জুলাই শহীদ পরিবার, জুলাই আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ও জুলাইযোদ্ধারা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ের দাবি নিয়ে আবার সমাবেশ করতে হবে, তা জুলাইযোদ্ধারা চিন্তা করেনি। সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। জুলাই শহীদ পরিবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বক্তব্য শুনতে চায় না, বরং সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন কবে ডাকবেন- তা শুনতে চায়। আমরা ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে জুলাই সনদের বাস্তবায়নের দাবি আদায় করেই ছাড়বো।

    ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, যারা ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসন করছেন তাদের পরিণতি পলাতক আওয়ামী লীগের মতোই হবে। সরকার যে মসনদে বসে আছে- সেই মসনদ জুলাইযোদ্ধাদের রক্তের মসনদ। জুলাইযোদ্ধাদের সাথে গাদ্দারি করে তাদের পা ভাঙতে আসলে আপনাদের পা ভেঙে যাবে। জুলাইযোদ্ধারা আজ শাহবাগে একত্রিত হয়ে যে আওয়াজ তুলেছে, সেই আওয়াজকে বোঝার চেষ্টা করুন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন।

    এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যা্ডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মুখলেসুর রহমান কাসেমি, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়াম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম, জুলাইয়ের শিশু শহীদ জাবির ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জাকসুর জিএস মাজহরুল ইসলাম।

    সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের নায়েবে আমিরবৃন্দ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলবৃন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর দায়িত্বশীলবৃন্দ, জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলের মাননীয় এমপিবৃন্দ এবং ডাকসু, জাকসু, চাকসু, জকসু, রাকসু নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে সারা দেশ থেকে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা যোগ দেন। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী দুই সহস্রাধিক জুলাইযোদ্ধাসহ কয়েক হাজার জুলাইযোদ্ধা সমাবেশে যোগ দেন।

    সমাবেশের উদ্বোধনীতে বক্তব্য দেন জুলাইযোদ্ধা কামরুল হাসান। সমাবেশে জুলাই শহীদ পরিবার, আহত পঙ্গুত্ববরণকারী এবং জুলাইযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, জুলাই শহীদ যুবায়ের খানের পিতা অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম খান, শহীদ আনাস ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম খান, হাত হারানো জুলাইযোদ্ধা তৌহিদ ফারাজী, জুলাই শহীদের পিতা জাকির হোসেন, শহীদের পিতা শেখ জামাল হোসাইন, শহীদের পিতা গাজিউর রহমান ও হাত হারানো জুলাইযোদ্ধা আতিউর ইসলাম প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ইয়াছিন আরাফাত। সকাল ১০টায় ক্বারী এনায়েত উল্লাহ সাইফি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। কোরআন তেলয়াওয়াতের অনুবাদ করেন শরীফ বায়জীদ মাহমুদ। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মশিউর রহমান।

  • সংরক্ষিত আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ

    সংরক্ষিত আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি জোটের ৩৬টি মনোনয়নপত্রই বৈধ বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে শুরু হয় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। পরে বিএনপি জোটের ৩৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

    এ সময় স্বতন্ত্র জোট মনোনীত সুলতানা জেসমিনের মনোনয়নপত্রও প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করে কমিশন। তবে স্বতন্ত্রভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা তিনজন মাহবুবা রহমান, শারমিন আক্তার এবং মেহেরুন নেছার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

    যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা ২৬ এপ্রিলের মধ্যে আপিল করতে পারবেন বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

    এদিকে বুধবার এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনকে প্রয়োজনীয় নথি প্রদানের জন্য আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ৩৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

    তারা হলেন-সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুন রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, মোছা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মার্মা, সেলিনা সুলতানা এবং রেজেকা সুলতানা।

    ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ২১ এপ্রিল এবং ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়ন যাচাই-বাছাই। ২৬ এপ্রিল বাতিল হওয়া মনোনয়নের বিষয়ে আপিল করা শুরু হয়ে এর নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল।

    ২৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • বিএনপির এমপি হচ্ছেন ‘আওয়ামী লীগ নেত্রী’ সুবর্ণা

    বিএনপির এমপি হচ্ছেন ‘আওয়ামী লীগ নেত্রী’ সুবর্ণা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের এক নেত্রীকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

    আলোচিত সুবর্ণা ঠাকুর গোপালঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দাবি করছেন, আওয়ামী লীগের কমিটিতে অনুমতি না নিয়েই তার নাম রাখা হয়েছিল।

    কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১ জানুয়ারি কমিটির পূর্ণাজ্ঞ তালিকা প্রকাশ করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই তালিকার ২৭ নম্বরে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আছে সুবর্ণা ঠাকুরের নাম।

    আজ সোমবার সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বিএনপি।

    এই তালিকার ২০ নম্বরে রয়েছে সুবর্ণা শিকদারের (ঠাকুর) নাম।

    বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুবর্ণা ঠাকুর বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমার স্বইচ্ছায় নাম ছিল না। অনুমতি ছাড়াই কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছিল।

    আওয়ামী লীগের কোনো রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম না।’

    তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে সুবর্ণা ঠাকুরের উপস্থিতি দেখা গেছে।গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সুবর্ণা ঠাকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের পদে ছিলেন। এখন তিনি অস্বীকার করে থাকলে ঠিক করছেন না। নতুন পদ-পদবি পাওয়ার জন্য তিনি দলের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।সুবর্ণা ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন নারী। তিনি ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও পেশায় শিক্ষক।

  • সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৫ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বিএনপির

    সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৫ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বিএনপির

    সংরক্ষিত নারী ৩৫ আসনের পার্টি তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। সোমবার দুপুরে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ তালিকা প্রকাশ করেন।

    সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীরা হলেন— সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান।

    মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

    সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে বিএনপি। মনোনয়ন ফরম বিক্রির উদ্বোধন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
    শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়। চলবে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত।

    এদিন রুহুল কবির রিজভী জানান, আওয়ামী লীগের শাসনামলে যারা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী বেছে নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলে থাকার কারণে বিএনপির নারী নেত্রীদের কারাবরণসহ নানা ধরনের নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তাই দলীয় মনোনয়ন বোর্ড সবদিক বিবেচনা করে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করবে—এটাই সবার প্রত্যাশা।

    মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও জানান রিজভী। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় সংসদে কার্যকরভাবে কথা বলার সক্ষমতা। আগামী ১২ মে ভোটের দিন রেখে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল।

    আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। জাতীয় সংসদের ৩৫০ আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৫০টি। এর মধ্যে বিএনপির জন্য ৩৬টি এবং জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য একটি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

  • শান্তিগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল-ভাঙচুরের অভিযোগ

    শান্তিগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল-ভাঙচুরের অভিযোগ

    সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মমিনের বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল ও ছাউনি ভেঙে ব্যক্তিগত মার্কেটের রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন পাথারিয়া এলাকার পথচারী, যাত্রীসহ স্থানীয় সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন পাথারিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আঙ্গুর মিয়া।

    অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন,পাথারিয়া এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল মমিন তার বাড়ির সামনের পূর্বদিকে বড় মার্কেটে যাতায়াতের রাস্তার জন্য পাথারিয়া বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার পথচারী ও শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল যাত্রী ছাউনি গত ডিসেম্বর থেকে দখলে নিয়েছেন। ছাউনি দখলের পর পর্যায়ক্রমে ছাউনি ভেঙে তার ব্যক্তিগত মার্কেটের রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পাথারিয়া এলাকার শিক্ষার্থী, পথচারী ও যাত্রীরা। এই ঘটনায় পাথারিয়া বাজারের অনেকেই বাধা আপত্তি দিলেও তার তোয়াক্কা করেননি আব্দুল মমিন। ফলে রোদ-বৃষ্টির সময় আশ্রয় নেওয়া এবং গাড়ীতে উঠার জন্য অপেক্ষা করা যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের বসার জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন পথচারী, যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা।

    এই অবস্থায় ঘটনাস্থল সরজমিন পরিদর্শন করে যাত্রী ছাউনি পুনরুদ্ধার করে সেটি জনগণের জন্য পুনরায় স্থাপনের অনুরোধ জানান অভিযোগকারী আঙ্গুর মিয়া।

    স্থানীয় পাথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য নুর মিয়া বলেন, ‘পাথারিয়া বাসস্ট্যান্ডে সরকারী যাত্রী ছাউনি ছিল। সেখানে এলাকার শিক্ষার্থী, পথচারী, দুরপথের যাত্রী বসে সেখানে বসতেন। কিন্তু মমিন মিয়া সেটি দখল করে ভেঙ্গে শেষ করে দিয়েছেন।

    গাজীনগর গ্রামের জিয়াউদ্দিন তুহিন বলেন, ‘পাথারিয়া বাজারের একমাত্র যাত্রী ছাউনি বাজারের যাত্রী, পথচারী ও সুরমা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনা দখলমুক্ত করে পুনরায় নির্মান করা জরুরী।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুল মমিন। তিনি বলেন, ‘যাত্রী ছাউনি ভাঙার বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। যাত্রী ছাউনি সরকারীভাবে স্থাপন করা হলেও জায়গাটি আমার নিজের। কে বা কারা ছাউনিটি ভেঙেছে তা আমি জানি না। দীর্ঘদিন ধরে এটি পরিত্যক্ত ছিল।’

    এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপি-জামায়াত কে কতটি পাবে?

    সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপি-জামায়াত কে কতটি পাবে?

    জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপির জোট ৩৬ আসন, জামায়াত জোট ১৩টি, আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটি আসন পাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে ১১তম কমিশনের সভা শেষে জানানো হয়, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে।

    ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আজকে মোট পাঁচটি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে বৈঠকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হবে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। এই নির্বাচনের বিস্তারিত শিডিউল পরবর্তীতে জানানো হবে।

    তিনি বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচন করছেন ছয়জন ইন্ডিপেনডেন্ট ক্যান্ডিডেট, যারা একজোট করেছেন। বিএনপির সঙ্গে জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর এবং আন্দালিব রহমান পার্থের দল আছে। আর জামায়াতের সঙ্গে আছে এনসিপি এবং খেলাফত আন্দোলন। আর রুমিন ফারহানা জোটের হয়ে যাবেন না, এটা বলেছেন। এক্ষেত্রে বিএনপির জোট ৩৬ আসন পাবে, জামায়াত জোট ১৩, আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাবেন একটি আসন।

    প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়া ভোট স্থগিত থাকে। এছাড়া বগুড়া-৬ আসন তারেক রহমান ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচন হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনে আইনি জটিলতায় থাকায় ফল প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন।

  • নলিতাবাড়িতে বাজি জেতা মহিষ ফেরত দিলেন বিএনপি সমর্থক

    নলিতাবাড়িতে বাজি জেতা মহিষ ফেরত দিলেন বিএনপি সমর্থক

    শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে কলসপাড় ইউনিয়নের উত্তর নাকশী গ্রামে ঘটে যাওয়া ব্যতিক্রমী ‘মহিষ বাজি’ এবার পেল এক মানবিক পরিণতি। মানবিক বিবেচনায় বাজিতে জেতা মহিষটি শেষ পর্যন্ত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন বিএনপি সমর্থক মো. আব্দুল মান্নান।

    শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিশ্চিত করেন কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ। মহিষের মালিকের কষ্ট দেখে হৃদয়ে আঘাত অনুভূত হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    নির্বাচনের আগে উত্তর নাকশী গ্রামের আব্দুল মান্নান ও বালুঘাটা গ্রামের আমির হোসেনের মধ্যে অভিনব এক বাজি ধরা হয়। শর্ত ছিল দাঁড়িপাল্লা প্রতীক জয়ী হলে আব্দুল মান্নান দেবেন ৬টি মহিষ, আর ধানের শীষ প্রতীক জয়ী হলে আমির হোসেন দেবেন ১টি মহিষ।

    ভোট গণনা শেষে বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হওয়ায় বাজিতে পরাজিত হন আমির হোসেন। পূর্বনির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী শুক্রবার দুপুরে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে মহিষটি বুঝে নেন আব্দুল মান্নান। মহিষ নিয়ে বিজয় মিছিলের আদলে গ্রামে প্রবেশ করলে এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার কৌতূহলী ভিড় জমে সেই দৃশ্য দেখতে। তবে আনন্দের সেই মুহূর্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মহিষটি ছিল আমির হোসেনের পরিবারের অন্যতম আয়ের উৎস। মহিষ হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের আর্থিক কষ্ট ও জীবিকার অনিশ্চয়তার বিষয়টি সামনে আসতেই বদলে যায় পরিস্থিতি।

    এলাকাবাসী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আব্দুল মান্নান ও আমির হোসেন সম্পর্কে ওরা আত্মীয়, নির্বাচনের আগে তারা মহিষ নিয়ে বাজি ধরেছিল। আমির হোসেন বাজিতে হেরে যাওয়ার পর আব্দুল মান্নান বিএনপির সমর্থক লোকজন নিয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে মহিষটি নিয়ে আসেন এরপর তিনি মানবিক বিবেচনা করে ফেরত দিয়ে দেন। এতে করে আমরা এলাকাবাসী ব্যাপক খুশি হয়েছি।

    আব্দুল মান্নান বলেন, বাজি ছিল নিছক আনন্দের জন্য, কিন্তু কারও জীবিকা বিপন্ন হোক তা তিনি চান না। এরপর গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মহিষটি আমির হোসেনের হাতে ফিরিয়ে দেন তিনি। তার এই সিদ্ধান্তে উপস্থিত সবাই সাধুবাদ জানান।

    আমির হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা দুজন মাঠে মহিষ চড়াইতে গিয়ে কথার এক পর্যায়ে বাজি ধরি। নির্বাচনের পর বাজিতে আমি হেরে গেলে আমার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তাকে একটি মহিষ দিয়ে দেই। পরবর্তীতে উনি আমার প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করে, উনার মনোবল বড় বিদায় আমার প্রতি খুব ভালোবেসে মহিষটি ফেরত দেন, এতে করে আমি তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

    উল্লেখ্য, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেও এমন মানবিকতার দৃষ্টান্ত এলাকাবাসীর কাছে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। আনন্দের বাজি শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবতার অনন্য উদাহরণ।

  • জলমহাল নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ

    জলমহাল নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ

    কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে জলমহাল নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেলসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের লাউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। হামলায় আহতরা হলেন— উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেল (৩৫), তাকবীর (২৮), মীর রাফি (২৩) ও রিমন (৩৫)।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিল মাকসা নামক একটি জলমহালের দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে টানাপোড়ন চলছিল। জলমহালের মালিকানা ছিল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন ও ছাত্রদল নেতা তিতুমীরসহ কয়েকজনের। অন্যদিকে বিএনপি সভাপতি সাঈদ আহমেদের নেতৃত্বে মঙ্গলবার বিকেলে তার লোকজন বিল মাকসা নদীর মাছ লুট করে একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার দিয়ে বিক্রি করতে নিয়ে যায়। এ সময় মাছ উদ্ধারের জন্য উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেলসহ কয়েকজন মাছ বহনকারী ট্রলারটি আটক করে। ট্রলার আটকের খবর পেয়ে বিএনপি সভাপতি সাঈদ আহমেদ মুঠোফোনে তার সমর্থক বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মীদের মুঠোফোনে বিষয়টি জানায়।

    পরে বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মুর্শেদী কামাল, সাবেক ইউপি সদস্য রাশেদ মিয়া এবং আক্কাস আলী আকাশসহ ৪০-৫০ জনের একটি দল দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেলের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার সঙ্গে থাকা তিনজনকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। আহতদের আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

    পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় গুরুতর আহতদের কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    আহতদের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে এ ন্যক্কারজনক হামলা চালায়। গত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এই বিএনপি সভাপতি সাঈদ আহমেদ ও তার সহযোগী আকসার মিয়াসহ তার লোকজন বিভিন্ন সময়ে উপজেলার বিভিন্ন জলমহাল, বালুমহাল বেআইনিভাবে দখলসহ চাঁদাবাজি মামলা বাণিজ্য করে আসছে। এসবের প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা, হামলা দিয়ে সাধারণ মানুষদের হয়রানি করে বলেও অভিযোগ তাদের।

    আহত ছাত্রদল আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেল বলেন, বিল মাকসা জলমহাল দখল নিয়ে আমাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদের নেতৃত্বেই এই হামলা হয়েছে। আমরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

    উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে সাঈদ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। তার বাহিনী দিয়েই ছাত্রদল আহ্বায়কসহ কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

    উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদ সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম শাহিনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শহিদুল হকসহ দুজনের ওপর হামলা করে তাদের নৌকার মাছ নিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রদল নেতা তিতুমীর হোসেন সোহেলের সঙ্গে নোয়াগাঁও-নজিরপুর এলাকার গ্রামবাসীর ঝামেলা হয়। এ ঘটনায় আমাকে অযথা জড়ানো হচ্ছে।

    অষ্টগ্রাম থানার ওসি সোহেব খান বলেন, ঘটনার বিষয়ে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

  • মিঠামাইনে আ. লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ৩০

    মিঠামাইনে আ. লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ৩০

    কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

    সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের হেমন্তগঞ্জ এলাকায় এই সংঘর্ষ চলে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেওয়ারজোড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত কাশেমের সমর্থকদের সঙ্গে একই গ্রামের বিএনপির সমর্থক নজিরের অনুসারীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে সোমবার সকালে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    মিঠামইন থানার ওসি লিয়াকত আলী জানান, খবর পেয়ে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ি ও মিঠামইন থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

  • বিএনপি নেতাদের ছবি ভাঙচুরের প্রতিবাদে সমাবেশ

    বিএনপি নেতাদের ছবি ভাঙচুরের প্রতিবাদে সমাবেশ

    নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নিকলী-বাজিতপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুরের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে বিএনপি।

    শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় বাজিতপুরে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিকলী বাজিতপুর আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা।

    এ সময় তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে আওয়ামী লীগের ভোট পেয়ে আমাকে পরাজিত করেছে। তার হুকুমে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে বাজিতপুর-নিকলীর ধানের শীষের কর্মী,সমর্থক ও ভোটারদের হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে।

  • মিঠামাইনে গাছকাণ্ডে সেই বিএনপি নেতার পদ স্থগিত

    মিঠামাইনে গাছকাণ্ডে সেই বিএনপি নেতার পদ স্থগিত

    কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে বেড়িবাঁধে রোপণ করা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ ধাপে ধাপে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় বিভিন্ন প্রত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের জেলা কমিটির এক বজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

  • গোপালগঞ্জে বিএনপির রেকর্ড

    গোপালগঞ্জে বিএনপির রেকর্ড

    সাড়ে পাঁচ দশক ধরে গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য চলে আসলেও সেখানে নতুন রাজনৈতিক ইতিহাসের সূচনা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জের তিনটি ভিআইপি আসনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে বিএনপি রেকর্ড গড়েছে। এ তিনটি আসনে বরাবর আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এ কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি। এ তিনটি আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট, জাতীয় পার্টি, গণফোরাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তিনটি আসনে মোট ৪০ শতাংশ ভোট পড়ে।

    গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) সেলিমুজ্জামান মোল া জয়ী হয়েছেন। তিনি ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা ছয়বার নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মো. ফারুক খান।

    গোপালগঞ্জ-২ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. কে এম বাবর আলী নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়েছেন। এ আসন থেকে টানা নয়বার নির্বাচিত হয়েছেন আরেক হেভিওয়েট নেতা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফজলুল করিম সেলিম।

    গোপালগঞ্জ-৩ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এসএম জিলানী নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়েছেন। এ আসনটিও ছিল ভিভিআইপি আসন। এ আসন থেকে শেখ হাসিনা টানা সাতবার নির্বাচিত হয়েছেন।

    গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হুমায়রা তাবাসুম বলেন, প্রথমবার আমি ভোট দিয়েছি। পছন্দের দল ও প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে আমি খুশি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আবু সালেহ যুগান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গোপালগঞ্জের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের যে আকাক্সক্ষা সৃষ্টি হয়েছে এটি তারই প্রতিফলন।

  • বিএনপি গণতন্ত্র ও জনগণের ক্ষমতায়নকে বিশ্বাস করে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

    বিএনপি গণতন্ত্র ও জনগণের ক্ষমতায়নকে বিশ্বাস করে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

    মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘বিএনপি গণতন্ত্র ও জনগণের ক্ষমতায়নকে বিশ্বাস করে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে খালেদা জিয়া কষ্ট সহ্য করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন। তবু তিনি শেষ পর্যন্ত বলেছেন—প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ কিংবা ধ্বংস নয়; বরং বিএনপির কাজই হচ্ছে মানুষের পাশে থাকা, কষ্টের সময় পাশে দাঁড়িয়ে মানুষকে সাহস জোগানো।’

    বৃহস্পতিবার দুপুরে হাকিমপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য মন্ত্রী এসব কথা বলেন। শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত গরিব-দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যশস্য, ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩৪টি পরিবারকে নগদ অর্থ, ঢেউটিন ও চাল দেওয়া হয়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সরকার ১৮ কোটি মানুষের। এসব মানুষের সেবা করার জন্য আমরা ওয়াদাবদ্ধ। ধর্ম ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের ওপর নয়, এই সরকার সবার। কাজেই আমরা বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করলে বাংলাদেশকে আগামী প্রজন্মের জন্য বসবাসযোগ্য ও সুশাসনের দেশ গড়তে পারব।’

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো অনিয়ম, অত্যাচার, অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে, যাতে কেউ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে না পারে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।’

  • বিএনপি নেতা আবু দাউদ : আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল করা উদ্দেশ্যমূলক

    বিএনপি নেতা আবু দাউদ : আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল করা উদ্দেশ্যমূলক

    পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে দেওয়ার ঘটনার ভাইরাল ভিডিও নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। শুক্রবার রাতে জেলা শহরের মিডিয়া হাউসে তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‌‘একটি গোডাউন ঘরকে ঘিরে আমাকে বিতর্কিত করার জন্য এ ধরনের ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। আমার পাশে থেকে কে কি বক্তব্য দিয়েছেন, জানি না।’

    এর আগে শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধান খুলে দিয়েছেন উল্লেখ করে তার পাশে দাঁড়িয়ে চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেটকে বলতে শোনা যায়, ‘সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান প্রথমে যে কাজটি করেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথা আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রাণের সংগঠন চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে তিনি আজ তালামুক্ত অবমুক্ত করেছেন’। আওয়ামী লীগ নেতার এই ভিডিও বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়লে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন ভাবে মন্তব্যের ঝড় উঠে।

  • সারজিস আলম : জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বিএনপি

    সারজিস আলম : জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বিএনপি

    বিএনপি জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে মেধাবৃত্তি বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিএনপি ভালো বার্তা দিচ্ছে না। জুলাই সনদ অনুযায়ী স্পিকার সরকারি দলের হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে বিএনপির কায়সার কামালকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়িয়েছেন ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রপতি। এর মাধ্যমে বিএনপি স্বৈরাচার সরকারের লেজ ধরে কার্যক্রম শুরু করেছে, যা আমাদের মর্মাহত করেছে।

    বর্তমান সরকারের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, জনগণ ও বিএনপি কর্মীরাও গণভোটে ‘হ্যাঁ’-র পক্ষে রায় দিয়েছে যেন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার ও সংস্কার সম্পন্ন হয়। এসব উপেক্ষা করে জনগণের বিপক্ষে গিয়ে রাজনীতি করলে সংসদ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবে না।

    সারজিস আলম বলেন, আমরা প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতির অভিশংসন চেয়েছি। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার যত দ্রুত হবে, সরকারের জন্য ততই মঙ্গল।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, জাতীয় নির্বাচনে টার্গেটেড কিছু আসনে কারচুপি করা হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের কার্ড নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ফলাফল প্রভাবিত করেছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা এ ধরনের কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং হতে দেব না। ১১ দলীয় জোট এবার যে কোনো ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।

    এর আগে কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ল্যাপটপ, বাইসাইকেল ও সনদ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইন ও ছাত্রশিবির সভাপতি রাশেদ ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • গাইবান্ধায় দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপি নেতা আটক

    গাইবান্ধায় দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপি নেতা আটক

    গাইবান্ধার ফুলছড়িতে যৌথ অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপির এক নেতাকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ফুলছড়ি উপজেলার বালাশীঘাট এলাকার রসুলপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    আটক ব্যক্তি হলেন, মিলন মিয়া (৪৪)। তিনি কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। তিনি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর গ্রামের মৃত মেছের উদ্দিন সরকারের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে যৌথবাহিনীর সদস্যরা মিলন মিয়ার নিজ বসতবাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তাকে আটক করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে চারটি রাম দা, একটি চাইনিজ কুড়াল ও একটি বড় ছুরি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো জব্দ করা হয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা, ভয়ভীতি ও নাশকতা ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনি এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে যৌথ বাহিনী নিয়মিত তল্লাশি ও অভিযান পরিচালনা করছে।

    ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওহিদুল ইসলাম জয় বলেছেন, আটক মিলন মিয়া কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। তার বিরুদ্ধে আমরা দলীয় সিদ্ধান্ত নেবো।

    ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা বলেন, যৌথ অভিযানে উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্রগুলো ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হবে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৪

    ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৪

    ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

    ডেস্ক নিউজঃ

    শুক্রবার রাতে উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের চন্দনচহট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে ওই গ্রামে যুবদলের কয়েকজন নেতা জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের কক্ষ ত্যাগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় নেকমরদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আক্তার হোসেন সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হলে দুই দলের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বিএনপি নেতা মো. আরিফুল, মো. ফারুক, মো. রুবেল এবং জামায়াত নেতা মো. আক্তার হোসেন আহত হন।

    আহতদের উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় আহতদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে একটি এজাহার দেওয়া হয়েছে অপরদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকেও একটি এজাহার পাওয়া গেছে, সেটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ

    ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ

    ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের চন্দনচহট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    সংঘর্ষে আহত চারজন হলেন— বিএনপি নেতা মো. আরিফুল ইসলাম, মো. ফারুক, মো. রুবেল এবং জামায়াত নেতা মো. আক্তার হোসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

  • বিএনপি শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনৈতিক দল: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

    বিএনপি শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনৈতিক দল: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিএনপি শহীদ জিয়ার আদর্শের একটি রাজনৈতিক দল, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে। বেগম খালেদা জিয়া সব সময় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন এবং গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য নির্যাতিতও হয়েছেন। কাজেই বর্তমান সরকারকে যদি আমরা সবাই মিলে সহযোগিতা করি, তাহলে আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য এই বাংলাদেশকে বসবাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে পারব।

    বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের হিলিতে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত গরিব অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যশস্য, ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, সবাইকে যেকোনো অন্যায়, অত্যাচার, অবিচারের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার থাকতে হবে এবং প্রশাসনকে জানাতে হবে। কারণ অনেকেই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য চেষ্টা করবে। সেজন্য বিএনপির নেতা-কর্মীদেরও সোচ্চার থাকতে হবে বলে জানান মন্ত্রী।

    এর আগে মন্ত্রী দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ২নং বোয়ালদাড় ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি-ঘর পরিদর্শন করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক কুমার চাকমা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি ফরিদ খান, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক, হাকিমপুর থানার ওসি জাকির হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাসুদ রানাসহ অনেকেই।

  • অভয়নগরে যৌথবাহিনীর হাতে বিএনপি নেতা গ্রেফতার

    অভয়নগরে যৌথবাহিনীর হাতে বিএনপি নেতা গ্রেফতার

    যশোরের নওয়াপাড়ার আলোচিত বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান জনিকে চার কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নির্মম নির্যাতন ও হত্যার হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

    মঙ্গলবার দিবাগত রাতে খুলনায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম।

    পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জনি পলাতক ছিলেন। গত বছরের জুলাই মাসে নওয়াপাড়ার এক ব্যবসায়ীর স্ত্রী আসমা খাতুন অভিযোগ করেন যে, তার স্বামীকে অপহরণ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। চাঁদা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এরপর তাকে বালুতে বুক পর্যন্ত পুঁতে রেখে কয়েক দফায় চার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এই ঘটনায় আসাদুজ্জামান জনিসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরে চলতি বছরের ৩ আগস্ট আসাদুজ্জামান জনিসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়।

    অভয়নগর থানার ওসি আব্দুল আলিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর একটি দল মঙ্গলবার রাতে খুলনায় অভিযান চালায় এবং জনিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

  • জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বিএনপি: সারজিস আলম

    জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বিএনপি: সারজিস আলম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বিএনপি।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদকে উপেক্ষা করে বিএনপি যদি মনে করে, তারা জনগণের বিপক্ষে গিয়ে রাজনীতি করে টিকে থাকতে পারবে এবং সংসদ স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করবে- তা সম্ভব নয়। কোনো একটা দল যদি তাদের দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করতে চায়, স্বৈরাচারের পথে হাঁটতে চায়, তাহলে জনগণ এবং আমরা বিরোধী দল একসঙ্গে প্রতিরোধ করব।

    তিনি আরও বলেন, আমরা সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই রাষ্ট্রপতির অভিশংসন চেয়েছি, কারণ এ রাষ্ট্রপতির হাত ধরে নতুন সরকার চলতে পারে না।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরের মুক্তমঞ্চে কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আগামীতে বাংলাদেশের মানুষকে বিএনপি ভালো বার্তা দিল না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অনুযায়ী সংসদে স্পিকার সরকারি দল থেকে হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডেপুটি স্পিকার দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থিত এমপি ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে।

  • শেরপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী

    শেরপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী

    জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে বাতিল হওয়া শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বাদশা।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।

    এর আগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন আমিনুল ইসলাম বাদশা। এতে শেরপুর-৩ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের একক প্রার্থীসহ মোট ৪ জন বৈধ প্রার্থী রইলেন।

    বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান। আগামী ১৫ মার্চ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর হতে প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা।

    এর আগে বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম বাদশা বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে ৯ মার্চ আমিনুল ইসলাম বাদশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

    জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ১৫ মার্চ প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা নির্বাচন অফিস।

  • গজারিয়া বিএনপির সদস্য সচিবসহ ২২ নেতাকর্মীর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ

    গজারিয়া বিএনপির সদস্য সচিবসহ ২২ নেতাকর্মীর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ

    মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় তৃণমূল নেতাদের মতামত উপেক্ষা এবং জনপ্রিয় নেতাদের বহিষ্কারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন গজারিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবসহ ২২ জন নেতাকর্মী।

    গত শুক্রবার উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের রসূলপুর খেয়াঘাটসংলগ্ন বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন গজারিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহমান শফিক। তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের (সদর, শহর, গজারিয়া ও মীরকাদিম পৌরসভা) ৭৮ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে ৭৪ জনই মহিউদ্দিন আহমেদকে সমর্থন প্রদান করেন; কিন্তু তৃণমূল নেতাদের সেই মতামত উপেক্ষা করে অন্য একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

    তিনি আরও বলেন, এর পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির একজন গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মুহাম্মদ মজিবুর রহমানসহ ১৩ জন নেতাকে বহিষ্কার করার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমরা স্বেচ্ছায় বিএনপির সব পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এই মুহূর্ত থেকেই আমাদের পদত্যাগ কার্যকর হলো।

    সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী অন্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

  • টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিমকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার

    টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিমকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার

    আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কালিহাতী উপজেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিমকে বিএনপির সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারী) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিমকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা জানানো হয়েছে।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য টাঙ্গাইল জেলাধীন কালিহাতী উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইঞ্জি. আব্দুল হালিমকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। একইসাথে ইঞ্জি. আব্দুল হালিমকে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পদসহ দলের সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম কালিহাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপির হাই কমান্ড এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিনকে মনোনয়ন দেয়। দলের এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন এবং পুরো নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত প্রচারনা চালাচ্ছেন। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নেতা-কর্মীরা বিভক্ত হয়ে পরেছেন।

  • লালমনিরহাটে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০

    লালমনিরহাটে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০

    লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনি প্রচারণা ও গণসংযোগককে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করেছে দুই দল।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেডিকেল মোড়-সংলগ্ন কসাইটারী এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান রাজীব প্রধান। একই আসনে রোববার বিকেলে ওই এলাকায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের পৃথক গণসংযোগ চলাকালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন।জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল ইসলাম রাজু।

    এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু জানান, সংঘর্ষের কারণ এবং আহতদের সংখ্যা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করার অনুরোধ জানান।

    সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে বিএনপির প্রার্থী হাসান রাজীব প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি নির্বাচনি আচরণবিধির আওতায় পড়ায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • টাকা চাওয়ায় ফিলিং স্টেশনের কর্মীকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা, গাড়িমালিক সাবেক বিএনপি নেতা ও চালক আটক

    টাকা চাওয়ায় ফিলিং স্টেশনের কর্মীকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা, গাড়িমালিক সাবেক বিএনপি নেতা ও চালক আটক

    রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে করিম ফিলিং স্টেশনে তেলের টাকা চাইতে যাওয়া শ্রমিককে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিপন সাহা (৩০) রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের সাহাপাড়ার পবিত্র সাহার ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ শুক্রবার বিকেলের দিকে সদর উপজেলার বড় মুরারীপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গাড়ি জব্দসহ মালিক আবুল হাসেমকে (সুজন) (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া পুলিশ গাড়িচালক কামাল হোসেনকেও (৪৩) সদর উপজেলার বানিবহ নিজপাড়া গ্রাম থেকে আটক করেছে।

    আবুল হাসেম সদর উপজেলার বড় মুরারীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি। পেশায় একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার।

    স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখে যায়, ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে কালো রঙের ল্যান্ড ক্রুজার জিপ গাড়ি (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-৩৪৭৬) পাম্পে এসে তেল নেয়। গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে আছেন শ্রমিক রিপন সাহা ও গাড়িমালিক আবুল হাসেম। কিছুক্ষণ অবস্থানের পর আবুল হাসেম গাড়িতে উঠে বসেন। এরপর গাড়িটি টান দিলে সঙ্গে সঙ্গে রিপনও দৌড় দেন। এ সময় তাঁকে চাপা দিয়েই গাড়িটি চলে যায়।

    রাজবাড়ীর আহ্লাদিপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ভোররাতের দিকে গোয়ালন্দ মোড় করিম ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিয়ে টাকা না দিয়ে কালো রঙের গাড়িটি চলে যাচ্ছিল। টাকার জন্য রিপনও পিছু নিয়ে দৌড় দিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক পর্যন্ত যান। পাম্পের আরেক শ্রমিক জাকির হোসেন তাঁদের পেছনে দৌড় দেন। তিনি ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক পর্যন্ত গিয়ে দেখেন, রিপনের মাথা ও মুখ থেতলানো মরদেহ মহাসড়কে পড়ে আছে। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে ভোটের প্রচারণা শুরু বিএনপি নেতার

    শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে ভোটের প্রচারণা শুরু বিএনপি নেতার

    গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রশাসনের অনুমতি না পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধের ভেতরে ঢুকে কবর জিয়ারত করতে পারেননি গোপালগঞ্জ-৩ আসনের (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব। পরে সমাধিসৌধের গেটে দাঁড়িয়ে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করেন। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন এই প্রার্থী।

    বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় শেখ মুজিবের সমাধিসৌধের ৩ নম্বর গেটে এমন ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেই তার নির্বাচনি প্রতীক ফুটবল মার্কার প্রচার শুরু করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিব। পরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ ও পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডে গণসংযোগ এবং প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট ও সমর্থন চান।

    এর আগে গওহরডাঙ্গা খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরীর কবর জিয়ারত করেন হাবিব।

    স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘গোপালগঞ্জ-৩ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই আসনের মাটিতেই শায়িত আছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আলেম সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী। এই দুই মহামানবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই আমি আমার নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছি। আর প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের ভেতরে গিয়ে তার কবর জিয়ারত করতে পারিনি। তাই গেটের বাইরে দাঁড়িয়েই বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করেছি।’

    হাবিব বলেন, ‘একসময় আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। টুঙ্গিপাড়া ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি এবং জেলা বিএনপির সদস্যও ছিলাম। তবে আমি অনেক আগেই বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। ডাক বিভাগের মাধ্যমে বিএনপির মহাসচিব বরাবর আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।’

    দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে হাবিব বলেন, ‘আমাকে এখন বহিষ্কার করার বিষয়টি হাস্যকর, কারণ আমি দলে নেই। ৫ আগস্টের পর থেকে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার মানুষ মামলা ও গ্রেফতারের আতঙ্কে রয়েছেন। হয়রানির শিকার হয়ে অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। যারা রাজনীতি করেন, তাদের অনেকেই সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন না। কেবল নিজের স্বার্থে নির্বাচনে অংশ নেন। আমি এলাকার মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চাই, তাদের কল্যাণের জন্য কাজ করতে চাই।’

  • অস্ত্র কেনা-মজুত নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের আলাপচারিতা ভাইরাল

    অস্ত্র কেনা-মজুত নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের আলাপচারিতা ভাইরাল

    নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র কেনা ও মজুত নিয়ে সোনারগাঁয়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের আলোচনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বজলুর রহমানকে দেখা গেছে।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বজলুর রহমান নামে বিএনপির ওই নেতা তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সোনারগাঁয়ের একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে খাবার খাচ্ছিলেন। এসময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে নির্বাচন সামনে রেখে সোনারগাঁ এলাকায় প্রচুর অবৈধ অস্ত্র মজুত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করতে শোনা যায়। একই ভিডিওতে বজলুর পাশে বসা আরেকজনকে বজলুর কানে কানে বলতে শোনা যায় নির্বাচনের জন্য আমাদের আরও দুটি অস্ত্র দরকার। তাদের এই কথোপকথনে অবৈধ অস্ত্র মজুদের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের সমর্থক হয়ে নির্বাচনে নেমেছেন বজলুর রহমান। আলাপচারিতায় উপস্থিতরা প্রত্যেকে এই প্রার্থীর হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

    এ বিষয়ে জানতে বজলু রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    এ বিষয়ের বক্তব্যের জন্য সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

    এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহিবুল্লাহ জানান, অস্ত্র নিয়ে আলাপচারিতার ভিডিওতে সম্পর্কে আমরা অবগত। এটা নিয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যে এটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে।র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন জাগো নিউজকে জানান, আমরা ভিডিও সম্পর্ক অবগত রয়েছি। এটি নিয়ে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেছেন, আমি ভিডিও সম্পর্কে অবগত নই। খোঁজ নিচ্ছি।

  • সিলেট-৬ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন যিনি

    সিলেট-৬ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন যিনি

    সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত দলীয় চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র হাতে পান তিনি।

    এমরান আহমদ চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, আমাকে চূড়ান্ত মনোয়ন দেওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার এ প্রাপ্তি আমি গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের সম্মানিত ভোটার ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করছি। আমি আমার দলের প্রতি কৃতজ্ঞ। সিলেট-৬ আসনে উন্নয়নে সবাইকে পাশে নিয়ে কাজ করা আমার একমাত্র লক্ষ্য। দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী মতপার্থক্য ভুলে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন।

    তিনি আরও বলেন, সিলেট-৬ আসনে যারা দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, তারা সবাই যোগ্য। তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। দলের জন্য তাদের ত্যাগ, শ্রম ও অবদান কোনো অংশেই কম নয়। তারা মনোনয়ন না পেলেও আমরা সবাই একই মঞ্চের। আজ থেকে সবাই নবোদ্যমে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ব। ইনশাআল্লাহ, ধানের শীষের জয় সুনিশ্চিত করেই ঘরে ফিরব।

  • দক্ষিণ সুরমা‌য় বিএনপি নেতা কোহিনুর বহিষ্কার

    দক্ষিণ সুরমা‌য় বিএনপি নেতা কোহিনুর বহিষ্কার

    দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কোহিনুর আহমেদকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    গত ১১ জুন বিএনপির সহদফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সিলেট জেলাধীন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কোহিনুর আহমেদকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, কোহিনুর আহমেদের বিরুদ্ধে সীমান্তপথে চিনি চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও গ্যাং পরিচালনাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

  • মানিকগঞ্জে বিএনপি নেতাকে আজীবন বহিষ্কার

    মানিকগঞ্জে বিএনপি নেতাকে আজীবন বহিষ্কার

    মানিকগঞ্জের সদর উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কার্যকলাপের সময় হাতেনাতে ধরাপড়া ইউনিয়ন বিএনপি এক নেতাকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

    শনিবার দলীয় প্যাডে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আনিসুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়।

    বহিষ্কৃত ওই নেতার নাম মো. সিরাজুল ইসলাম মুনজেল। তিনি দৌলতপুর উপজেলা ধামশ্বর ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তিনি সদর উপেজেলায় ভাড়ার বাসায় বসবাস করতেন।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা বিরোধী এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মানিকগঞ্জ জেলা, দৌলতপুর উপজেলা ধামশ্বর ইউনিয়ন শাখার দপ্তর সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম মুনজেলকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হলো। উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার রাত ২টার দিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সিরাজুল ইসলাম মনজেলের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এ বিষয় নিয়ে গ্রামবাসী দীর্ঘদিন কানাঘুষা করছিল। গতরাতে যখন সিরাজুল ইসলাম মনজেলকে গ্রামের কয়েকজন লোক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করতে দেখেন। তার কিছুক্ষণ পরে অনৈতিক কাজের সময় তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে গ্রামবাসী। পরে তাকে ঘর থেকে বের করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে।

  • নিলাম চলাকালে বন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে

    নিলাম চলাকালে বন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বন কর্মকর্তাকে মারধর করে চোরাই গাছ ও কাঠ বিক্রির নিলাম বন্ধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বন কর্মকর্তা আজ বুধবার চুনারুঘাট থানায় মামলা করেছেন।

    মামলায় আসামি করা হয়েছে, চুনারুঘাট উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান (৪৫) ও আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. সাইফুল ইসলামকে। সাইফুল হবিগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সহসম্পাদক শাম্মি আক্তারের ছোট ভাই।

    অভিযোগের বিষয়ে শাম্মি আক্তার বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটিয়েছেন চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক এক মেয়রের ভাই। বন কর্মকর্তা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আমার ভাইকে এ ঘটনায়

    মামলার এজাহারে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, কালেঙ্গা ও রঘুনন্দন বন রেঞ্জের জব্দ করা ২৯টি লট গাছ ও কাঠ বিক্রির জন্য নিলাম ডাকা হয়। চুনারুঘাটের সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নিলাম শুরু হয়। এ সময় শ্রমিক দলের নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান ও বিএনপি নেতা মো. সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁরা নিলামের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি রেঞ্জার সৈয়দ আশিক আহমেদকে নিলাম বন্ধ করে তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম চালাতে বলেন। এ নিয়ে বন কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাইফুল ও জাহাঙ্গীর বন কর্মকর্তা সৈয়দ আশিককে মারধর শুরু করেন। তাঁরা বন কর্মকর্তাকে বলেন, ‘তুই কে এ নিলাম ডাকার? লাথি মেরে তোর সব দাঁত ভে

    দিব।’ এ সময় আশপাশে থাকা অন্য বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে এসে সৈয়দ আশিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলম ডেপুটি রেঞ্জারের প্যান্টের পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে যাওয়ার আগে নিলাম কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং মামলা করলে খুন করে ফেলার হুমকিও দেন।

  • নুরের পক্ষে কাজ না করায় বিএনপির দুই উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত

    নুরের পক্ষে কাজ না করায় বিএনপির দুই উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত

    পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের পক্ষে নির্বাচনি কাজ না করায় গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

    শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশ সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনের কাছে এ বিষয়ক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি নিজস্ব কোনো প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেয়। তবে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একটি অংশ দলীয় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করে ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেনি। বরং তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (সদ্য বহিষ্কৃত) স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এ প্রেক্ষাপটে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।

    এর আগে বিএনপির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।

    এ বিষয়ে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও নির্বাচনি কৌশলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

    অন্যদিকে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘যে ব্যক্তি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, সেখানে কর্মীদেরও বহিষ্কৃত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। আমাদের অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই, আমরা হাসান মামুনের সাথেই আছি।’পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান টোটন বলেন, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কমিটির বিলুপ্তির কাগজ পেয়েছি। আপাতত এটুকুই বলতে পারি।

  • পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করায় দলের আহ্বায়ককে অব্যাহতি

    পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করায় দলের আহ্বায়ককে অব্যাহতি

    পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপির দলীয় প্রার্থী সহিদুল আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার মৃধাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়েছে।জেলা বিএনপির সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ আয়োজন করেন আব্দুল জব্বার মৃধা। এসব সভায় তিনি মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা একাধিক লিখিত অভিযোগও করেন। পরে এসব অভিযোগের বিষয়ে গত ১৪ জানুয়ারি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। দুই দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন।

  • রেজা কিবরিয়ার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন বিএনপি নেতা সুজাত

    রেজা কিবরিয়ার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন বিএনপি নেতা সুজাত

    হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা কিবরিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গতকাল সোমবার তাঁরা দুজন মনোনয়নপত্র জমা দেন। তফসিল অনুযায়ী, গতকাল ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।

    রেজা কিবরিয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে। এই আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া, তবে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। গতকাল দুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

    মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর শেখ সুজাত মিয়া বলেন, ৩৬ বছর ধরে তিনি এলাকার মানুষের পাশে কাজ করে আসছেন। এলাকার মানুষ তাঁকে পাশে পাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। সে কারণেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

    তবে শেখ সুজাত মিয়ার প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে রেজা কিবরিয়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    রেজা কিবরিয়ার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জলালশাপ গ্রামে। তিনি ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন।

  • পদ ছাড়লেন বিএনপি প্রার্থী ফারজানা

    পদ ছাড়লেন বিএনপি প্রার্থী ফারজানা

    নির্বাচনের জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের পদ ছেড়েছেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন (পুতুল)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

    গণপ্রতিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি সরকারি কোনো লাভজনক পদে থাকেন, তাহলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

    জানা গেছে, ফারজানা শারমিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা, ক্যাপিটাল ল কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি, গ্রিন ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেড ও ঢাকা ইলেকট্রিক পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) স্বাধীন পরিচালকের পদ ছেড়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে তিনি এসব পদ থেকে সরে এসেছেন।

    ফারজানা শারমিন বলেন, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া তিনি নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে ঠিকমতো সময়ও দিতে পারছিলেন না।

  • ধুনটে বিএনপির অফিস ভাঙচুর মামলায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    ধুনটে বিএনপির অফিস ভাঙচুর মামলায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    বগুড়ার ধুনটে দোয়া মাহফিলে হামলা, বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও ব্যানারে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাহমুদুল হাসান মিথু (৩২) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

    মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মাহমুদুল হাসান মিথু ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য এবং নারায়ণপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৩০ মে ধুনট বাজারে হোটেল আরাফাত ভবনের দোতলায় অবস্থিত বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।

    এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করে দোয়া মাহফিলে হামলা চালায়। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর করা হয় এবং কার্যালয় ভাঙচুর ও ব্যানারে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

    এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর যুবদল নেতা ইমদাদুল হক রনি বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের ৬১ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৬০ জনের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার অজ্ঞাত আসামি হিসেবে মাহমুদুল হাসান মিথুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    ধুনট থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মোস্তাফিজ আলম জানান, মামলার এজাহারে গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম উল্লেখ না থাকলেও তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাকে বগুড়া আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

  • সারিয়াকান্দিতে বিএনপির মনোনয়ন: আ.লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে মিছিল, যুবদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি

    সারিয়াকান্দিতে বিএনপির মনোনয়ন: আ.লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে মিছিল, যুবদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি

    বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যায়িত করে তাঁকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে মিছিল সমাবেশ করার অভিযোগে সোনাতলা উপজেলায় দুই যুবদল নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার বগুড়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    যাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শামিম হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম।

    জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শামিম হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালামকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা দলীয় সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।

    জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান বলেন, ৮ নভেম্বর বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে বিএনপি থেকে ঘোষিত সংসদ সদস্য প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্লোগান ও মিছিল সমাবেশ করা হয় শামিম হোসেন ও আব্দুস সালামের নেতৃত্বে। এ বিষয়ে প্রমাণসহ অভিযোগ উঠলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    জানতে চাইলে অব্যাহতি পাওয়া যুবদল নেতা শামিম হোসেন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, সে বিষয়ে কিছু জানি না। আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার আগে কৈফিয়ত তলব করা হয়নি।’

    শামিম আরও বলেন, ‘আমার নামে ১২ থেকে ১৪টি মামলা। গত বছরের পাঁচ আগস্টের পর বিএনপিতে নতুন নতুন নেতার আবির্ভাব হয়েছে। আমাকে যুবদল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও আমি ইউনিয়ন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদে আছি। এ কারণে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধা নেই।’

  • জয়পুরহাটে বিএনপির গণসংযোগে প্রাণচাঞ্চল্য, নেতৃত্বে আমিনুর ইসলাম

    জয়পুরহাটে বিএনপির গণসংযোগে প্রাণচাঞ্চল্য, নেতৃত্বে আমিনুর ইসলাম

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মাঠে নেমেছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে ব্যাপক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর ইসলাম সিআইপি।

    জয়পুরহাটের কালাই বাসস্ট্যান্ড, নিশ্চিন্তা, বটতলি, ইটাখোলা বাজার, গোপিনাথপুর, জামালগঞ্জ বাজার, মুঞ্জাহার বাজার, পাঁচগ্রাম ও পুনট বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যান তিনি।এ সময় কয়েকশ মোটরসাইকেলের বিশাল শোভাযাত্রা, লিফলেট বিতরণ ও পথসভা আয়োজনের মাধ্যমে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি এবং নির্বাচনপূর্ব প্রতিশ্রুতি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হয়। নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে বাজার ও আশপাশের এলাকা। স্থানীয় জনসাধারণও বিএনপির এই গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া দেয়।

    গণসংযোগ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কালাই থানা বিএনপির আহ্বায়ক জনাব ইব্রাহিম ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজউদ্দীন, সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমান তালুকদার, পুনট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাহীন, কালাই থানা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ কাফি এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনজুমসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    গণসংযোগ চলাকালে ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর ইসলাম সিআইপি বলেন, “বিএনপি জনগণের দল, এ দলের রাজনীতি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। ৩১ দফা কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হলো রাষ্ট্র মেরামত ও মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। দল যাকেই মনোনয়ন দিক, আমি তার পক্ষেই কাজ করব।”

  • নির্বাচনের জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের পদ ছাড়লেন বিএনপি প্রার্থী ফারজানা

    নির্বাচনের জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের পদ ছাড়লেন বিএনপি প্রার্থী ফারজানা

    নির্বাচনের জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের পদ ছেড়েছেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন (পুতুল)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছেন।গণপ্রতিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি সরকারি কোনো লাভজনক পদে থাকেন, তাহলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

    জানা গেছে, ফারজানা শারমিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা, ক্যাপিটাল ল কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি, গ্রিন ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেড ও ঢাকা ইলেকট্রিক পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) স্বাধীন পরিচালকের পদ ছেড়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে তিনি এসব পদ থেকে সরে এসেছেন।

    ফারজানা শারমিন বলেন, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া তিনি নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে ঠিকমতো সময়ও দিতে পারছিলেন না।

  • সুজানগরে বিএনপির সভামঞ্চে হামলা ভাঙচুর, আহত ৫

    সুজানগরে বিএনপির সভামঞ্চে হামলা ভাঙচুর, আহত ৫

    সুজানগরে বিএনপির সভামঞ্চে হামলা ভাঙচুর, আহত
    ডেস্ক নিউজ
    পাবনার সুজানগরে বিএনপির নতুন সদস্য নবায়ন ও সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী সভামঞ্চে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতিসহ কমপক্ষে পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
    বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের পোড়াডাঙ্গা বাজার চত্বরে সভা শুরু হওয়ার ঘণ্টাঘানেক আগে এ ঘটনা ঘটে।
    পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট একেএম সেলিম রেজা হাবিবের সমর্থকরা উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের পোড়াডাঙ্গা বাজার চত্বরে বিএনপির নতুন সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের এ সভামঞ্চ তৈরি করেন। একেএম সেলিম রেজা হাবিব ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন; কিন্তু প্রধান অতিথি আসার প্রায় এক ঘণ্টা আগে সভামঞ্চে হামলার ঘটনা ঘটে।
    হামলাকারীরা সভামঞ্চের টেবিল ও চেয়ার ভাঙচুরসহ সভায় যোগ দিতে আসা কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারপিট করে আহত করে। এতে কমপক্ষে ৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তাঁতীবন্দ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল সালাম মুন্সী, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এরশাদ আলম, ছাত্রদল নেতা তানভীর হাসান মারুফের অবস্থা গুরুতর। তাদের সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
    এদিকে হামলার ঘটনার পরপরই র‌্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও ওই এলাকায় সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।
    সুজানগর থানার ওসি মজিবর রহমান বলেন, হামলার এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব (বহিষ্কৃত) শেখ আব্দুর রউফের ভাতিজা সরোয়ার হোসেন, তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের বোরহান শেখের ছেলে আরিফুল শেখ ও সোলেমান শেখের ছেলে হৃদয়কে আটক করা হয়েছে।

    এদিকে সভা শুরু হলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিম রেজা হাবিব হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

    তাঁতীবন্দ ইউনিয়ন যুবদলের আহŸায়ক হাফিজুর রহমান সরাসরি অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব (বহিষ্কৃত) শেখ আব্দুর রউফের নির্দেশে এ হামলা চালানো হয়েছে।

    এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব (বহিষ্কৃত) শেখ আব্দুর রউফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা মিথ্যা ও প্রতিহিংসামূলক। কারণ আমি তো আহত হয়ে মৃত্যুর ঘর থেকে ফিরে এসে এখন বিছানায় শায়িত। এ সময় তিনি পালটা অভিযোগ করে বলেন, সকালে আমার এলাকায় ইউনিয়ন বিএনপির অফিস ওরা ভাঙচুর করায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এ ঘটনা ঘটাতে পারে।

  • সাংবাদিকদের সাথে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থীর    মতবিনিময় 

    সাংবাদিকদের সাথে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থীর   মতবিনিময় 

    চুয়াডাঙ্গা:

    চুয়াডাঙ্গায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গায় ২ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু।

    সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশের জন্য সঠিক নেতৃত্ব উঠে আসবে। জনগণের রায়ে নির্বাচিত হতে পারলে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দীর্ঘদিনের অবহেলিত জনপদের সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন, সড়ক অবকাঠামো, কৃষি ও ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নয়নের পরিকল্পনা নেয়া হবে।

    মতবিনিময় সভায় দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।

    সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, জনগণের সিদ্ধান্তেই চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত হলে তিনি এ আসনকে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত একটি আদর্শ সংসদীয় আসনে পরিণত করতে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখবেন।

    মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি, সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সরদার আল আমিনসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

  • বিএনপি প্রার্থী   সরকার গঠন করলে আমি যা বলবো তাই আইন, তাই আল্লাহর হুকুম

    বিএনপি প্রার্থী সরকার গঠন করলে আমি যা বলবো তাই আইন, তাই আল্লাহর হুকুম

    ‘দুইদিন পরেতো ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করবে। তখন কথা বলার মানুষই থাকবে না। আমি যা বলবো তাই আইন, আল্লাহর হুকুম’ বলে মন্তব্য করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিল্প-বাণিজ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম।

    মঙ্গলবার বিকেল থেকে তার এই বক্তব্যের ৪২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

    ভাইরাল ওই ৪২ সেকেন্ডের ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা গেছে, ‘এটাকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে, মন মানসিকতা দিয়ে। সবখানে হাজি (আমিনুল ইসলাম) করে দিবে তা না। আপনাদেরও দায়িত্ব আছে। বিল আছে, বিল তো কেউ উঠিয়ে নিয়ে বাইরে চলে যাবে, কারোও ক্ষমতা আছে। ফের আগের নিয়মে চলবে। যা ভাগ করে দিয়েছি তার বাইরে একটা সুচ লড়বে না। ভোটের আগে এগ্লা (এগুলো) লিয়ে (নিয়ে) আর বসবো না। এক দুই মাসের জন্য সমস্যা হবে না। আল্লাহর ওপর ভরসা করেন আগামী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করবে। তখন কথা বলার মানুষই থাকবে না। আমি যা বলবো তাই আইন, আল্লাহর হুকুম। তাই এখন ভয় করতে হবে না।’

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নে কয়েকটি মৌজা নিয়ে ছোট বিল্লা-বড় বিল্লা নামে একটি বিল আছে। যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিরাজমান এবং বিলটির উপর হাইকোর্টে মামলা চলমান আছে। এছাড়া বিলটি থেকে সরকার প্রতি বছর রাজস্বও হারাচ্ছেন। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলামের বাড়িতে রাধারনগর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও কর্মীদের নিয়ে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উঠান বৈঠকে বিএনপির নেতা কর্মীদের মাঝে বিলটি নিয়েই বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বক্তব্যের এক পর্যায়ে এমন বিতর্কিত বক্তব্য
    নাচোল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন বলেন, আমিনুল হাজির এমন বক্তব্যে আমরা চরমভাবে বিব্রত। তিনি দলীয় আদর্শ থেকে এমন বক্তব্য দিতে পারে না। আমরা বিষয়টি কেন্দ্রে জানাবো।

    তবে এ বক্তব্যের বিষয়ে একাধিকবার আমিনুল ইসলামকে কল করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

  • পরশুরামে বিজয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাল বিএনপি

    পরশুরামে বিজয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাল বিএনপি

    মহান বিজয় দিবসে বিলোনিয়া স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন পরশুরাম উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, যুবদল,ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র আহ্বায়ক ও ফেনী-১ নির্বাচনী এলাকার সাংগঠনিক সমন্বয়ক রফিকুল আলম মজনুর নেতৃত্ব মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পরশুরাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু তালেব, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম, বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম খলিল মনি, পৌর বিএনপির আহবায়ক কাজী ইউসুফ মাহফুজ, সদস্য সচিব মাহবুবুল হক মাহবুব, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুল আলম শাকিল,যুগ্ন আহবায়ক জহিরুল ইসলাম জহির, আবুল খায়ের লিটন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতাহার হোসেন চৌধুরী পাপরুল, সদস্য সচিব কামরুল হাসান চৌধুরী বাবু সহ যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র আহ্বায়ক ও ফেনী-১ নির্বাচনী এলাকার সাংগঠনিক সমন্বয়ক রফিকুল আলম মজনু বলেন

    বিজয় দিবসকে যারা কালো দিবস বলছে তারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের সাথে আঁতাত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। সেই পরাজিত শক্তি এখন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় দিবস,স্বাধীনতা দিবসসহ নানা জাতীয় দিবসের বিরোধিতা করছে।

  • যশোরে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নেতা-কর্মীদের শোডাউন, বিএনপি প্রার্থীকে শোকজ

    যশোরে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নেতা-কর্মীদের শোডাউন, বিএনপি প্রার্থীকে শোকজ

    আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নেতা-কর্মীরা শোডাউন করায় যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার টি এস আইয়ুবকে শোকজ করেছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা।

    সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ভুপালী সরকার তাঁকে শোকজ করেন। এতে দুই দিনের মধ্যে লিখিতভাবে শোকজদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার টি এস আইয়ুব কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক।

    উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর বাজারে মিছিল ও শোডাউন করেন ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম সৌদি ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা মিছিল করেন। মিছিলটি বাজার প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত পথসভার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতা-কর্মীরা ধানের শীষ ও টি এস আইয়ুবের নামে স্লোগান দেন। মিছিল ও শোডাউনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ভিডিওটি বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার টি এস আইয়ুব নিজেও তাঁর ব্যবহৃত ফেসবুকে শেয়ার করেছেন।

    বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ভুপালী সরকারের স্বাক্ষরিত শোকজে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে ইসির তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী— ‘কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা কোনো প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের পূর্ববর্তী তিন (৩) সপ্তাহ সময়ের পূর্বে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না।

    ‘কিন্তু জানা যায় যে, আপনি বা আপনার দলের সমর্থকগণ দ্বারা ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকেলে অনুমোদন ব্যতীত বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারের উদ্দেশ্যে মিছিল করেছেন। যা আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

    ‘এমতাবস্থায়, আপনি যেহেতু ৮৮-যশোর-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের সম্ভাব্য প্রার্থী; সুতরাং কেন আপনার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—তার ব্যাখ্যা আগামী দুই (২) দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।’

    এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ভুপালী সরকার বলেন, ‘স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা অভিযানে যাই। কিন্তু তার আগেই কর্মসূচি শেষ করে নেতা-কর্মীরা। নির্বাচনী আচরণবিধিতে রয়েছে ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের পূর্ববর্তী তিন সপ্তাহের পূর্ব সময়ের কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না প্রার্থীরা। বিএনপির প্রার্থী শোডাউনে না থাকলেও তার নেতা-কর্মীরা শোডাউন করেছে। প্রার্থীর পক্ষে শোডাউন করায় আচরণবিধি ভঙ্গ হয়েছে; তাই প্রার্থীকে প্রাথমিক শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলেও নিয়ম অনুযায়ী শান্তির আওতায় আনা হবে।’