ক্যাটাগরি বিএনপি

  • এ্যানিকে নতুন দায়িত্ব দিলো বিএনপি

    এ্যানিকে নতুন দায়িত্ব দিলো বিএনপি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষ্যে গ্র্যাজুয়েটদের তালিকাভুক্তকরণ এবং জাতীয়তাবাদী ঐক্য পরিষদের নির্বাচন পর্যালোচনায় ৮ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে বিএনপি।

    ওই কমিটিতে বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য (এমপি) মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    কমিটির অপর সদস্যদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

    > অধ্যাপক ড. মোঃ মোর্শেদ হাসান খান, সিন্ডিকেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্যসচিব

    > ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, সদস্য

    > অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, ডিন, কলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য

    > মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, সদস্য

  • সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও বর্তমানে কেউ গুম হচ্ছেন না: রিজভী

    সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও বর্তমানে কেউ গুম হচ্ছেন না: রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমানে বিরোধী দলের অনেকেই সরকারের বা শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন। কিন্তু কাউকে গুম হতে হচ্ছে না। মূলত এটাই বাকস্বাধীনতা ও প্রকৃত গণতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

    রিজভী বলেন, তারেক রহমান তখন রাজনীতিতে নবীন। তাকে বন্দি করার মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয়তাবাদী রাজনীতি যেন আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে না পারে। এটি কোনো ছোটখাটো বা কেবল দেশীয় ষড়যন্ত্র ছিল না; বরং এটি ছিল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের যৌথ বহিঃপ্রকাশ।

    তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের কৃতিত্ব, সততা, নিষ্ঠা, উৎপাদন, উন্নয়ন, পররাষ্ট্রনীতি, অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা এবং একটি জাতিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার ঐতিহাসিক অর্জনের সফলতার পতাকাই বহন করছেন তারেক রহমান।

    অতীতের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের দুর্ভিক্ষ, লুটপাট, সহিংসতা, বিরোধী দল দমন, রক্তপাত, পত্রিকা ও রাজনৈতিক দল বন্ধ করে মানুষকে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের অবারিত দ্বার উন্মুক্ত করেছিলেন। সেখানে মানুষ নির্ভয়ে কথা বলার ও মুক্তকণ্ঠে আওয়াজ তোলার স্বাধীনতা পেয়েছিল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সেই গণতন্ত্রের অর্জনেরই নিশ্চয়তা।

    তিনি বলেন, আল্লাহ যার সহায় এবং জনগণ যার পাশে থাকে, কোনো চক্রান্তই তাদের পরাস্ত করতে পারে না। সেদিন তারেক রহমানের ওপর শুধু মানসিক বা কারাবন্দিত্বের অত্যাচারই চালানো হয়নি, তাকে শারীরিকভাবেও নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। সেই শারীরিক আঘাতের ক্ষত তিনি আজও বহন করে চলেছেন।

    তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, ২০১৮ সাল থেকে তিনি গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও উদ্বুদ্ধ করেছেন। শেখ হাসিনার ভয়ংকর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের দরজা খোলার আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তৃণমূলের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনের মাধ্যমে কিংবা অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছে নিয়মিত সহানুভূতি ও সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে অনেক অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং এখনো চলছে। কিন্তু জনগণ দেখছে, তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী হয়ে দিন-রাত শুধু ঘরে বসে বা ঘুমিয়ে থাকেননি। দেশের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পূরণ করে যাচ্ছেন।

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রুখে দিতে দেশীয় নানা চক্রান্ত সক্রিয় ছিল। কিন্তু জনগণ এবং মহান আল্লাহ সঙ্গে থাকলে কেউ যে ক্ষতি করতে পারে না, তা আজ প্রমাণিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ২০১৮ সাল থেকে তারেক রহমান দেশের গ্রাম থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত প্রতিটি অঞ্চলে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের হাতে অত্যাচারিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন এবং দেশ রক্ষার কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন।

    হাসিনা মেগা প্রকল্পের নামে কিছু দৃশ্যমান কাজ দেখালেও বাকি অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন, যা তার দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটে গেছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। অন্যদিকে, তারেক রহমান জনগণের টাকা জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছেন বলে দাবি করেন তিনি। এর প্রমাণ হিসেবে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং দেশব্যাপী ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

    রিজভী বলেন, বর্তমানে বিরোধী দলের অনেকেই সরকারের বা শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন। কিন্তু কাউকে গুম হতে হচ্ছে না। মূলত এটাই বাকস্বাধীনতা ও প্রকৃত গণতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।

    তিনি বলেন, তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরের জন্য যে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা ছাত্রসমাজসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে।

    রিজভী আরও বলেন, তারেক রহমানের শ্রদ্ধেয় বাবা ও মা যে দেশ গড়ার দূরদর্শী অঙ্গীকার নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন, তারেক রহমান আজ সেই আদর্শিক পথই অনুসরণ করে এগিয়ে চলেছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর হেলাল। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের নেতাকর্মীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

  • প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাবা-মায়ের সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাবা-মায়ের সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি শ্রদ্ধা জানান।

    ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটির এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এসেছে ভিন্ন এক রাজনৈতিক পরিবেশে। দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার ছেলে তারেক রহমান এখন বিএনপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে। তার নেতৃত্বেই দলটি বর্তমানে সরকার পরিচালনা করছে।

    ৪৮ বছরে নানা রাজনৈতিক উত্থান-পতন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও ক্ষমতার পালাবদলের মধ্য দিয়ে পথচলা বিএনপি এবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দীর্ঘদিনের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি এখন নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সারা দেশে জেলা, মহানগর ও দলীয় ইউনিটগুলোও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছেÑদলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে

    শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ, মৎস্য অবমুক্তকরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও খেলাধুলার অনুষ্ঠান।

    আজ সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের সিনিয়র নেতা ও দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরাও এতে অংশ নেবেন।এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। সারা দেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর ইউনিটগুলো সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভা ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    বাণীতে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার মতে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

    তারেক রহমান প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

    ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন একটি রাজনৈতিক ধারার সূচনা হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রত্যয় সামনে রেখে তিনি বিএনপিকে সংগঠিত করেন। পরবর্তী সময়ে দলটি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।

    ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপি নেতৃত্বের সংকটে পড়ে। পরে ১৯৮৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দলের হাল ধরেন তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়ে একাধিকবার সরকার গঠন করেন এবং দেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

    তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তিনি মুক্তি পান। চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানের পর দেশে ফিরে ২০২৫ সালের শেষদিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে বিএনপি। দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর সরকারে ফিরে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন দলটির জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীকে দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করতে হবে। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি সরকার। বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে যতবার গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে, ততবারই দলটির নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গণতন্ত্র ও সুশাসনের আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে তাদেরও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে।

  • আ.লীগ আমলে শেয়ারবাজার ছাড়েন ৫০ হাজার বিনিয়োগকারী

    আ.লীগ আমলে শেয়ারবাজার ছাড়েন ৫০ হাজার বিনিয়োগকারী

    ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার গঠিত হওয়ার প্রথম ৬ মাসে প্রায় ৫০ হাজার বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রায় ১৭ হাজার বিনিয়োগকারী বাজারে যুক্ত হয়েছেন। অপরদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিজয়ী বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ার পর যুক্ত হওয়া বিনিয়োগকারীর সংখ্যা সাড়ে আট হাজারের মতো। এ হিসাবে প্রথম ছয় মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বিএনপি সরকারের আমলে যুক্ত হওয়া বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ কম।

    শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আবশ্যকীয় বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্টের তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ও শেয়ারের তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সেন্ট্রাল ডিপোজেটরি পার্টিসিপেন্ট অব বাংলাদেশ (সিডিবিএল)।

    সিডিবিএলের তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি বিও অ্যাকাউন্টধারী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ৫১৮ জন। প্রথম ছয় মাস শেষে ৬ জুলাই এ সংখ্যা কমে গিয়ে দাঁড়ায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৮৩৮-তে। এ হিসাবে আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত হওয়ার প্রথম ৬ মাসে শেয়ারবাজার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ৪৯ হাজার ৬৮০ জন বিনিয়োগকারী। এ সময়ে নতুন বিও হিসাব খোলার সংখ্যা হচ্ছে ১ লাখ ৪১ হাজার ১৫৮টি। পক্ষান্তরে বিও হিসাব বন্ধ হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৮টি।

    অপরদিকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন ও ভারতে পলায়নের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রথম ৬ মাসে ১৬ হাজার ৯৬০ জন বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণের দিন শেয়ারবাজারে বিও হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৬৮ হাজার ৮৯৫ জন। প্রথম ৬ মাস শেষে ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিও হিসাবধারীর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫৫-তে। এ সময় নতুন বিও হিসাব খোলা হয়েছে ৩৯ হাজার ১৭২টি এবং বন্ধ হয়েছে ২২ হাজার ২১২টি। এ হিসাবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিও হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৬০-এ।

    অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি সরকার। সরকার গঠনের দিন দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৬ জন। ৬ মাসের ব্যবধানে ১৬ আগস্ট এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৬তে। এ সময়ে নতুন বিও হিসাব খোলার পরিমাণ ৫৫ হাজার ৮১৪টি। বিপরীতে হিসাব বন্ধ হয়েছে ৪৭ হাজার ২৪৪টি। এ হিসাবে বিএনপি সরকারের প্রথম ৬ মাসে নতুন করে শেয়ারবাজারে যুক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৫৭০ জন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ৬ মাসের তুলনায় বিএনপি সরকারের একই সময়ে বিও হিসাবের বৃদ্ধির সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ।

    বাজার-সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার গঠনের সঙ্গে শেয়ারবাজারে বিও হিসাব খোলার মধ্যে একটা সম্পর্ক থাকতে পারে। কিন্তু এটি এককভাবে সরকার গঠনের উপর নির্ভর করে না। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের আর্থিক নীতি, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতি, নতুন আইপিও অনুমোদন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্বে কারা রয়েছেনÑএসব কিছু ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করে। আবার প্রতি বছর জুন মাসে বিও হিসাব নবায়ন করতে হয়। এজন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু ফি পরিশোধ না করলে বিও হিসাব স্থগিত করে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরকারের প্রথম ৬ মাস সময়কালে জুন-ক্লোজিংয়ের ইস্যু জড়িত রয়েছে। ফলে জুন ক্লোজিংয়ের কারণেও বিও অ্যাকাউন্ট একটা প্রভাব থাকতে পারে।

    এদিকে বিএনপি সরকার গঠন করলেও বিএসইসির নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে প্রায় চার মাস পর। করপোরেট ব্যক্তিত্ব মাসুদ খানকে গত ৪ জুন বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি তিন কমিশনারকেও নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকার গঠনের পর বিএসইসির নেতৃত্বে পরিবর্তনের বিষয়ে সময় ক্ষেপনেরও প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট বিভাগের শিক্ষক ও পুঁজিবাজার সংস্কারে গঠিত টাস্কফোর্সের সাবেক সদস্য অধ্যাপক আল-আমিন আমার দেশকে বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আসা-যাওয়ার চেয়ে মার্কেট কতটা স্ট্যাবল সেটা গুরুত্বপূর্ণ। আইপিওতে লটারি পদ্ধতির কারণে বিও হিসাবের সংখ্যা বাড়ে। যত বেশি আবেদন আইপিওর লটারি জেতার সম্ভাবনা তত বেশিÑএমন প্রত্যাশায়ও অনেকে বিও অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। তাদের সে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার কারণে কিংবা অন্য আরো অনেক কারণে যেমন অনেকে বাজার ছেড়ে গেছেন আবার নতুন প্রত্যাশায় অনেকেই শেয়ারবাজারে আসছেন।

    ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ আমলে দেশের শেয়ারবাজারে নজিরবিহীন কেলেংকারির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েক লাখ বিনিয়োগকারী তাদের পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। কিন্তু কারসাজি চক্রের হোতাদের কোনো ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসার পর শেয়ারবাজারে সেই দুঃসহ স্মৃতি ফিরে আসে সাধারণ বিনিয়োগকারীর মানসপটে। বাজার সংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করছেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী আমলে শেয়ারবাজারে কেলেংকারির ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ২০০৯ সালের প্রথম দিকে বাজার ছেড়ে চলে যান প্রায় ৫০ হাজার বিনিয়োগকারী।

    প্রথম ৬ মাসে বিও হিসাবের সংখ্যা কমলেও এরপর ধীরে ধীরে তা বাড়তে শুরু করে। ব্যাংকের সুদের হার কমানো, ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সীমা বৃদ্ধি, ১৯৯৬ সালের পুনরাবৃত্তি না ঘটার আশ্বাসসহ নানাভাবে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করা হয়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০১০ সালে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩২ লাখ ৮০ হাজারে। বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারীর আগমনের সুযোগে কারসাজির চক্রের হোতারা শেয়ারবাজারকে অর্থ লুটপাটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ১৯৯৬ সালের চেয়ে আরো বড় ধরনের কেলেংকারি ও বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে ২০১০ সালে। ধসের কারণে পুঁজি হারিয়ে কয়েকজন বিনিয়োগকারী আত্মহত্যাও করেছেন। এখনো সেই বিপর্যয়ের ধকল থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না বাজার। বিশেষ করে মার্জিন লোনের কারণে শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীই নয়, প্রতিষ্ঠানগুলোও বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

    শেয়ারবাজার থেকে আওয়ামী লীগের আমলে এক লাখ কোটি টাকা লুটপাট বা আত্মসাত হওয়ার তথ্য অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে তৈরি বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা সম্পর্কিত শ্বেতপত্র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জুলাই অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা ও পূর্ববর্তী সরকারের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি তুলে ধরার জন্য ‘বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক অবস্থার শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছিল।

  • প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর সফলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রিজভী

    প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর সফলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রিজভী

    জাতিসংঘের ৮১ তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইর্য়কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। যুক্তরাষ্ট্র সফর সর্বাত্মকভাবে সফল করতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীকের ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    যুক্তরাষ্ট্র আগমন উপলক্ষে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় সময় গতকাল রোববার যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক নেতৃবৃন্দ, কানাডা বিএনপি ও নিউইয়র্কসহ ১৮টি স্টেট ও মহানগর কমিটি, যুক্তরাষ্ট্র যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জাসাসসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ভার্চুয়ালি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। যৌথ প্রস্তুতি সভার সমন্বয়ক ও সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিউইয়র্কে আসবেন। তার আগমনকে সফল করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি।

    রিজভী নেতাকর্মীদের খুবই সহনশীলতার সাথে সবকিছু দেখভাল করার জোর তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সময় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজকর্ম করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই সফরকে আমরা কোনো বিভেদ বা সংঘাতের উপলক্ষ বানাবো না বরং ঐক্য, শৃঙ্খলা, সৌন্দর্য ও বাংলাদেশের মর্যাদা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করব।

    সভার আরো বক্তব্য রাখেন— বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, গিয়াস আহমদ, মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক নেতাদের মধ্যে শরাফত হোসেন বাবু, নেওয়াজ আহমেদ জুয়েল, আনোয়ার হোসেন, কামাল পাশা বাবুল, গিয়াস উদ্দিন, আখতার হোসেন বাদল, আব্দুস সবুর, মোশাররফ হোসেন সবুজ, কাজী আজম, ফিরোজ আহমেদ, জসিম ভুইয়া, মুশফিকুর রহমান খসরু, একে আজাদ, সালেহ আহমেদ মানিক, শফিকুর রহমান দুলাল, গোলাম ফারুক শাহীন, ডিউক খান, জগলুল হায়দার, মুকুল (জাবি) প্রমুখ।

    সভায় কানাডা পূর্ব ও কানাডা পশ্চিম বিএনপি, যুক্তরাষ্ট্রের সকল স্টেট, মহানগর উওর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক, অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানান ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে: বিএনপির সংসদ সদস্য

    আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে: বিএনপির সংসদ সদস্য

    আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম।

    গতকাল রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে মানুষের ভোগান্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমার স্পষ্ট মনে হচ্ছে, প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ এই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখনই যদি এই দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়,তবে সামনে আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার অপরাধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

    গত শুক্রবার রাত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত টানা ৩২ ঘণ্টা তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। দীর্ঘ যানজটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে এক রোগীর মৃত্যু এবং সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পেরে কয়েকজন প্রবাসীর নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করার ঘটনাও ঘটে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।

    দুর্ভোগের কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের নিয়ে জুমে এ বৈঠক হয়।

    শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, তিনি হুইপের পাশে বসে পুরো বৈঠকটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এত বড় জনদুর্ভোগের পরও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতা দেখতে পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

    তার ভাষ্য, সেতু সংস্কারকাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার কিংবা কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে আগাম কোনো তথ্য ছিল না। কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতার অভাব উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    শাহাদাত হোসেন সেলিমের দাবি, পরিস্থিতি দেখে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। সেতু সংস্কারের আগে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা প্রয়োজন ছিল। সংবাদপত্র, টেলিভিশনের স্ক্রল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম প্রচার চালানো হলে যাত্রীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারতেন এবং এমন দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    পরে হুইপ সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেন। সেখানেও দায়িত্বশীলতার ইতিবাচক মনোভাব দেখা যায়নি বলে পোস্টে দাবি করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।

    শেষে তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

    পরে সাংবাদিকদের কাছে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ দেখে তিনি মর্মাহত। সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। কিন্তু তাতেও কোনো সুফল না পাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পোস্ট দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ দেখে আমি কষ্ট পাচ্ছি। কাজটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছি। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত মনের কষ্ট থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই স্ট্যাটাস দিয়েছি।’

    শাহাদাত হোসেন সেলিম বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।

  • মির্জা ফখরুলের চেয়ারে সালাহউদ্দিনকে বসিয়ে কী বার্তা দিল বিএনপি?

    মির্জা ফখরুলের চেয়ারে সালাহউদ্দিনকে বসিয়ে কী বার্তা দিল বিএনপি?

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদের আসন ছাড়ার পর তার জায়গায় বসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে নতুন আসনবিন্যাসে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনটি পেয়েছেন তিনি। এতদিন ওই আসনে বসতেন মির্জা ফখরুল।

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে, সংসদের প্রথম সারিতে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনটি শুধু বসার জায়গা নয়, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক গুরুত্বের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে ফখরুলের আসনে সালাহউদ্দিন আহমদকে বসানোর বিষয়টি বিএনপির ভেতরে-বাইরে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও এটি সংসদের নিয়মিত আসনবিন্যাসের অংশ, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে এর মধ্যে দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের একটি প্রতীকী বার্তাও দেখছেন।

    এখন সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদের উপনেতা করা হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    তবে সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদের উপনেতা করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি। উপনেতা কে হবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন আসনবিন্যাসকে সরাসরি উপনেতা হওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে তাকে বসানোকে ইঙ্গিতবহ মনে করছেন অনেকেই।

    এত দিন সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনে বসতেন বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার পরের চেয়ারে বসতেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর পরে ছিল সালাহউদ্দিনের সিট।

    মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। একই সঙ্গে তার সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

    নতুন বিন্যাসে মির্জা ফখরুল ইসলামের আসনে উঠে এসেছেন সালাহউদ্দিন। তার পরের আসনে রয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর পরের আসনে বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

    সালাহউদ্দিনের আগের আসনে এখন বসছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ট্রেজারি বেঞ্চের প্রথম সারির ১০টি আসনের নতুন বিন্যাসে পেছনের সারি থেকে সামনে এসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য আমানউল্লাহ আমান।

    সালাহউদ্দিনকে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে বসানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে তার রাজনৈতিক ও সরকারি অবস্থানের কারণেও। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। তা ছাড়া দলের সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে তার নামও আলোচনায় রয়েছে। সরকার ও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা এই নেতাকে সংসদীয় কার্যক্রমে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আনার চিন্তা আছে কিনা, সে আলোচনা জোরালো হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শনিবার গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। এটি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার এখতিয়ার।

    সংসদের উপনেতা পদটি সংসদ নেতার সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। সংসদ নেতার অনুপস্থিতিতে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় উপনেতাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। অতীতেও ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের এ পদে রাখার নজির রয়েছে।

    সালাউদ্দিনকে সংসদ নেতার পাশে বসানো এটি কি কেবল নতুন আসনবিন্যাস, নাকি সংসদে তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি—সেটি স্পষ্ট হবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এলে।

    তবে বিএনপি অন্যান্য সব পদ পূরণ করলেও এখন উপনেতার পদটি শূন্য রেখেছে। এই পদ ঘিরে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা কাজ করে।

    এই প্রতিযোগিতার কারণে একাদশ সংসদে খালেদা জিয়াও সংসদ উপনেতার পদটি শূন্য রাখেন। আবার ২০০৮ সালের পার্লামেন্টে তিনি বিরোধী দলীয় উপনেতার পদটিও শূন্য রেখেছিলেন। তখন তিন সিনিয়র নেতা উপনেতা হওয়ার প্রত্যাশায় ছিলেন। তারা হলেন—ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

  • সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

    সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

    সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। আগামী বুধবার রাত ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

    রোববার বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস এখন অনেকটাই সুস্থ। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরছেন।

    গত ১১ মার্চ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ওই রাতেই তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

    পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তাকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

  • চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় নিজ দলীয় কর্মীর হাতে যুবদল নেতা খুন!

    চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় নিজ দলীয় কর্মীর হাতে যুবদল নেতা খুন!

    চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে সড়কে ভাসমান ভ্যান বসানো ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ফজলুল আমিন নামে এক যুবদল নেতাকে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে চান্দগাঁও থানার ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্বজনদের অভিযোগ, ভ্যান বসানো চাঁদা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় নিজ দলের কর্মী হিসেবে পরিচিত শাহজাহান ও তার ছেলে সিফাতের সঙ্গে ফজলুল আমিনের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা ও ঘুষি মারা হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত ফজলুল আমিন ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। অভিযুক্ত শাহাজাহান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক সদস্যের অনুসারী এবং কৃষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।

    এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. শাহজাহান (৪৫) ও তার ছেলে সিফাতকে (২০) আসামি করে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেছেন নিহতের পরিবার।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় ভাসমান ভ্যান বসানো নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। স্থানীয়দের বৈঠকে নির্দিষ্ট স্থানে ভ্যান না বসানোর সিদ্ধান্ত হলেও শুক্রবার সেখানে আবার ভ্যান বসানো হলে ফজলুল আমিন বাধা দেন। এ নিয়ে শাহজাহানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনার আগের দিন ভ্যান সরিয়ে দেওয়া হলেও পরে আবার তা বসানো হয়। ভ্যান বসানোর পেছনে প্রভাবশালী এক নেতার নির্দেশের কথা বলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক বলেন, ‘চলাচলের রাস্তায় ভ্যান না বসাতে বলেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাকে ঘুষি মারা হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। আমরা তাকে হাসপাতালে পাঠাই। মারামারি বেশি হয়নি, তবে ঘুষির আঘাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জানতে পারি, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

    ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘ভাসমান ভ্যান থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি নিয়ে ফজল আমিন শাহজাহানের কাছে জানতে চেয়েছিল বলে শুনেছি। গরিব মানুষ ভাসমান দোকান বসিয়ে জীবিকা চালায়, তাদের কাছ থেকে কেন চাঁদা নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের পর তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে শাহজাহান ফজল আমিনকে ধাক্কা ও ঘুষি মারে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এরপর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

    নিহতের ছেলে বলেন, ‘আমার বাবা সারাজীবন এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমরা চাই, তার মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং যারা জড়িত তাদের বিচার হোক। ৫ আগস্টের পর এলাকায় নতুন করে নেতৃত্বে আসা কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।’

    চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় আরও ৫ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং বিরোধের প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্ত করা হচ্ছে।’

    এদিকে, ফজলুল আমিনের মরদেহ এলাকায় আনার পর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিজ দলের কর্মীর হাতে তার মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজন ও স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

  • বুধবার যৌথসভা ডেকেছে বিএনপি

    বুধবার যৌথসভা ডেকেছে বিএনপি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আসন্ন ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যৌথসভা আহ্বান করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

    আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় করণীয় নির্ধারণের জন্যই মূলত এই যৌথসভার আয়োজন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।