বিএনপি

  • চকরিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীর বাড়িতে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ

    চকরিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীর বাড়িতে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ

    কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুকের বাড়িতে গিয়েছেন একই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। ফারুকের পিতা নুরুল কবিরে (৭০) মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানাতে তার চকরিয়ার হারবাংস্থ বাড়িতে যান তিনি।

    গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তার স্ত্রী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক সাংসদ এডভোকেট হাসিনা আহমেদ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের বাড়িতে উপস্থিত হন।

    এর আগে এদিন তিনি কক্সবাজারের চকরিয়ার খুটাখালী, ডুলাহাজারা ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ধানের শীষের পক্ষে নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগে করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

    উল্লেখ্য, সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে আব্দুল্লাহ আল ফারুকের পিতা নুরুল কবির মৃত্যুবরণ করেন। একই দিন বাদে মাগরিব হারবাং উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

  • বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দাগনভূঞায় বিএনপির পরিচ্ছন্নতা অভিযান

    বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দাগনভূঞায় বিএনপির পরিচ্ছন্নতা অভিযান

    ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে দাগনভূঞার জায়লস্কর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গন ও আশপাশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে জায়লস্কর ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। শুক্রবার সকালে ফেনী জেলা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক ও ৮নং জায়লষ্কর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক এমদাদ হোসেন মিলনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জায়লস্কর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা বাবুল মেম্বার, কামরুল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন কিরন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য জাহিদুল ইসলাম জাহেদ, জেলা ছাত্রদলের সদস্য শরিফুল ইসলাম শরিফ, ইউনিয়ন যুবদল সম্মেলন কমিটির সদ্য সাবেক সদস্য মো: হাসান, অনিক, মামুন, এমাম, জুয়েল, অন্তর, খুরশিদ,হান্নানসহ বিএনপি অঙ্গ সংগঠন নেতৃবৃন্দ।এমদাদ হোসেন মিলন বলেন, ফেনী-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেন এর নির্দেশনায় বিপ্লব দিবসে আমাদের এই কার্যক্রম। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন মাটি ও মানুষের নেতা তারই ধারাবাহিকতায় আমরা এটি করেছি।তাছাড়া এখন দাগনভূঞায় ডেঙ্গু উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে তাই ময়লা আবর্জনা মুক্ত রাখতে এটি ভূমিকা রাখবে।

  • সিইসির সাথে বৈঠক নির্বাচন বিলম্বিত হোক বিএনপি চায় না : নজরুল ইসলাম ‘আমরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আছি। খোদা না করুন, অনিবার্য কোনো পরিস্থিতি ছাড়া আমরা এই প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে চাই না।’

    সিইসির সাথে বৈঠক নির্বাচন বিলম্বিত হোক বিএনপি চায় না : নজরুল ইসলাম ‘আমরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আছি। খোদা না করুন, অনিবার্য কোনো পরিস্থিতি ছাড়া আমরা এই প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে চাই না।’

    ডেস্ক নিউজ কোনো পরিস্থিতি ছাড়া বিএনপি জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার পক্ষে নয় বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান

    নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আছি। খোদা না করুন, অনিবার্য কোনো পরিস্থিতি ছাড়া আমরা এই প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে চাই না। আমরা আশা করি, শিগগিরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে।’

    বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে সময়মতো নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা জনগণের অধিকার জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাই। তারা যেন ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে পারে। এই অধিকার বিলম্বিত হোক- এটা বিএনপি চায় না।’

    বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আগামীকাল ভোরে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাবেন। আমরা আশা করি, তিনি খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন এবং এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবেন। সেই বিবেচনায় আজকেও আমরা প্রার্থীদের আরো কয়েকটি নাম ঘোষণা করেছি।’

    তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে এবং ভোটকেন্দ্রে ভোট হবে দুটি ব্যালটে-একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালট, আরেকটি গণভোটের ব্যালট।

    তিনি আরো বলেন, ‘একটা ব্যালটে ভোট দিতেই যথেষ্ট সময় লাগে। এখন দু’টি ব্যালট হলে সময় আরো বেশি লাগবে। ভোটারদের নির্বিঘ্ন ভোটদান নিশ্চিত করতে ভোটকক্ষ বা ভোটকেন্দ্র বাড়ানোর বিষয়ে ইসি চিন্তাভাবনা করছে বলে জানিয়েছে। আগামী রোববার কমিশনের বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় আসবে।’

    নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যালট পেপার ছাপার কাজ বেসরকারি প্রেসে দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে বলে একটি তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান কঠোর।’

    তিনি বলেন, ‘ব্যালট পেপার সবসময় সরকারি প্রিন্টিং প্রেসে ছাপা হয়। আমরা বলেছি কোনো প্রাইভেট প্রেসে যেন ব্যালট পেপার ছাপা না হয়।’

    ইসি তাদের আশ্বস্ত করেছে যে ব্যালট পেপার শুধুই সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছাপানো হবে।

    প্রবাসী ভোটারদের বিষয়েও বিএনপি আলোচনা উত্থাপন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী এনআইডি না থাকায় ভোটার হতে পারছেন না। তারা নিয়মিত আমাদের সাথে যোগাযোগ করছেন। আমরা বলেছি, তাদের বৈধ পাসপোর্টকে যেন এনআইডির পরিবর্তে পরিচয়পত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যাতে তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।’

    বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • মেহেরপুরে বিএনপির মনোনয়ন দ্বন্দ্বে পাল্টাপাল্টি হামলা

    মেহেরপুরে বিএনপির মনোনয়ন দ্বন্দ্বে পাল্টাপাল্টি হামলা

    মেহেরপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেনের মনোনয়ন পাওয়ায় বঞ্চিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।মঙ্গলবার দুপুরে গাংনী বাজারে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টন পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।এ সময় গাংনী উপজেলা বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর করে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টনের সমর্থকরা। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে অন্তত ২০টি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও গাংনী বাজারজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।আমজাদ হোসেনের সমর্থকরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাসস্ট্যান্ড দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা বিএনপির সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টন পক্ষের সমর্থকরা অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে আমজাদ হোসেন তার কার্যালয়ে আশ্রয় নিলে মিল্টনপন্থীরা গাংনী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং কার্যালয়ের সামনে থাকা অন্তত ২০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।এদিকে হামলার খবর পেয়ে হাসপাতাল বাজার থেকে গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলুর নেতৃত্বে আমজাদ হোসেন পক্ষের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে গাংনী বাসস্ট্যান্ড চত্বরে আসে। এ সময় আমজাদ হোসেনপন্থী উত্তেজিত নেতাকর্মীরা জাবেদ মাসুদ মিল্টনের অফিসে হামলা চালায়। অবস্থা বেগতিক দেখে মিল্টনপন্থীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এতে গাংনী বাজারজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপরও আবার হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে; শেষ পর্যন্ত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।চলমান এই ঘটনায় আমজাদ হোসেনের সমর্থকরা দুপুর ৩টার দিকে গাংনী বাজারে অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গাংনী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা।এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনাটি দুঃখজনক। বিষয়টি আমি পরে জেনেছি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বনি ইসরাইল বলেন, গাংনী শহরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

  • ধানের শীষের বাইরে কেন্দ্রে কেউ এজেন্ট দিতে পারবে না, বললেন বিএনপি নেতা

    ধানের শীষের বাইরে কেন্দ্রে কেউ এজেন্ট দিতে পারবে না, বললেন বিএনপি নেতা

    আমরা ধানের শীষের বাইরের কেউ না। ধানের শীষের বাইরে যদি কেউ নির্বাচন করার চিন্তা করে তাহলে ভাঙ্গুড়ার কোনো কেন্দ্রে তারা কেউ এজেন্ট দিতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপন।

    শনিবার সন্ধ্যায় পাবনা- ৩ আসনের (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে বিশাল গণমিছিল শেষে চাটমোহর বালুচর খেলার মাঠে সমাবেশ থেকে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।ভাঙ্গুড়ার বিএনপির আহ্বায়ক স্বপনের এমন বক্তব্যের পর চাটমোহর উপজেলাসহ পাবনা- ৩ এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মুহূর্তে তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।গণমিছিলে হাসান জাফির তুহিন ছাড়াও কেন্দ্রীয় বিএনপি, কৃষক দল, জেলা বিএনপি, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রসঙ্গত, পাবনা-৩ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান জাফির তুহিনকে। তবে তাকে ‘বহিরাগত’ উল্লেখ করে স্থানীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কেএম আনারুল ইসলাম এবং চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাসাদুল ইসলাম হীরার নেতৃত্বে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।

    তুহিনের মনোনয়ন বাতিল করে স্থানীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া না হলে সাবেক এমপি কে এম আনোয়ারুল ইসলাম ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরা তাদের মধ্যে থেকে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন বলে শুক্রবার এক মশাল মিছিল থেকে ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে দলের মধ্যে ও বাইরে চলছে চাপা উত্তেজনা। চলছে পাল্টাপাল্টি সভা সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি।

  • বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

    বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

    বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা।শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় আগৈলঝাড়ার সদরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।এতে নির্বাচনি এলাকার বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা ২০০১ সালের নির্বাচনের পর এ এলাকার হাজার হাজার হিন্দু নারী-পুরুষের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা নবীন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে রবীন্দ্রনাথ গাইন বলেন, বিএনপির ঘোষিত খসড়া তালিকায় যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি বিগত ওয়ান-ইলেভেনের সময় জিয়াউর রহমানের পরিবার ও দলকে নিয়ে বিষোদগার করেন। এছাড়াও তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালীন এ আসনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।এ আসনে যাকে (জহির উদ্দিন স্বপন) মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তা বাতিল করে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি করেন তারা।বিক্ষোভ সমাবেশে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ডা. মাহবুবুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • দাঁড়িপাল্লা টাঙানো নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১৩

    দাঁড়িপাল্লা টাঙানো নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১৩

    চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি স্থানে বিলবোর্ড ও প্রতীক টাঙানো নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের আলমডাঙ্গা উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে নিয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    এতে মহিলা ইউপি সদস্যসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। আহতদের আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

    আহতরা হলেন, আলমডাঙ্গা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম কনক, সদস্য সাজাহান ও আলিম, কুমারী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজেল হোসেন, ১ নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য রোকসানা খাতুন ও তার স্বামী রাশিদুল ইসলাম। জামায়াত পক্ষের আহতরা হলেন হারুনের ছেলে মুরাদ আলী, মাহাতাবের ছেলে আরিফ, পলাশের ছেলে লাল্টু, সাদেক আলীর ছেলে ওল্টু এবং তার মেয়ে ফাতেমা খাতুন।এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রোকন বলেন, জামায়াত পরিচয়ে যুবলীগ কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমাদের ৬জন নেতাকর্মী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।

    অপরদিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমির শফিউল আলম বকুল বলেন, দাঁড়িপাল্লা টাঙাতে গেলে বিএনপির মহিলা ইউপি সদস্য ও তার স্বামী বাধা দেন। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের বাড়িতে হামলা করে। এতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অপরদিকে মঙ্গলবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দর্শনা থানার মদনা-পারকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকালে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষে দুজন আহত হয়েছেন। আহতরা হচ্ছেন জামায়াত সমর্থক খাজা এবং বিএনপি সমর্থক আজিজুল ইসলাম।

    এ বিষয়ে দর্শনা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ বলেন, বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। দুইজন আহত হওয়ার কথা শুনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে

  • চৌগাছায় মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতার শোডাউন

    চৌগাছায় মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতার শোডাউন

    চৌগাছা প্রিতিনিধ

    যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতা চৌগাছা উপেজলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম মোটর সাইকেল শোডাউন করেছেন। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে চৌগাছা ও ঝিকরগাছার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এই শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়।

    স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী মোটরসাইকেল নিয়ে এতে অংশ নেন। শোডাউন চলাকালে নেতাকর্মীরা দলীয় স্লোগান ও ব্যানার-পোস্টার বহন করে জহুরুল ইসলামের প্রতি মনোনয়নের সমর্থন জানান।

    নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সাথে থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সক্রিয় রেখেছেন জহুরুল ইসলাম। তাই যশোর-২ আসনে স্থানীয় যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান তারা।

    এসময় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হুসাইন আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, মতিউর রহমান মন্টু, পৌর বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর শাহিদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সদস্য ও উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান পলেন, ফুলসারা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, বিল্লাল হোসেন, পাশাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ড. জহুরুল হক, স্বরুপদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার শহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক, হাকিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবু ছার, পাতিবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার আলী আকবার, সাধারণ সম্পাদক কবীর উদ্দিন বাবলু, জগদীশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মহিদুল ইসলাম, নারায়নপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কফিল উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সালাম, বিএনপি নেতা মজনুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক সোহেল রানা, কবির হোসেন, কামাল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু বকর সিদ্দিক, যুগ্ম-আহবায়ক আরিফ হোসেন অপু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জামাল উদ্দিন, যুবদল নেতা মাষ্টার কামরুল ইসলাম, এম ইলিয়াস আলী, উজ্জ্বল হোসেন, শিমুল রহমান, নাজমুল ইসলাম, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আজগর আলী, সহ-সভাপতি বিএম ইকলাচ, সাধারণ সম্পাদক শাহানুর রহমান শাহিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, ফারুক হোসেন, সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, জেলা ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক বিএম বাবু, আব্দুল্লাহ আল-মামুন, নারায়নপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুদ রানা পাপ্পু, ছাত্রদল নেতা মাজিদুল ইসলাম, ইমরান নাজির, ইমরান হোসেন, নারায়নপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, পাতিবিলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, মারুফ হোসেন, রোবায়েত সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে একইদিন বিকেলে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপি আয়োজিত তারুন্যের সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন যশোর-২ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী, জেলা বিএনপির সদস্য ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির ৫৩ নেতাকর্মী জামায়াত ইসলামীতে যোগদান

    চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির ৫৩ নেতাকর্মী জামায়াত ইসলামীতে যোগদান

    ওয়ার্ড বিএনপি’র সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ ৫৩ জন নেতাকর্মী সমর্থক আনুষ্ঠানিক ভাবে জামায়াত ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

    চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ রাসেলের কাছ থেকে ফুলের মালা, ফুল নিয়ে ও হাতে হাত রেখে যোগদান করেন।শুক্রবার রাতে জেলা সদরের আলোকদিয়া আকন্দবাড়িয়া গ্রামে একটি স্কুল মাঠে যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের আকন্দবাড়িয়া গ্রামের ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি’র ৫৩ নেতাকর্মী ও সমর্থক আনুষ্ঠানিক ভাবে জামায়াত ইসলামীতে যোগদান করেন।

    • অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ রাসেল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা আমির বিল্লাল হোসাইন, আলোকদিয়া ইউনিয়ন আমির আব্দুল মমিন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড সভাপতি তরিকুল ইসলাম লিটন।
  • সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক

    সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক

    বিএনপির শীর্ষ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গুলশানস্থ চেয়ারপার্সন কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

    বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান।

    সভায় দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়া, দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। বৈঠকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

  • প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তন আনবে না বিএনপি

    প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তন আনবে না বিএনপি

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ৩ নভেম্বর ২৩৭ আসনে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বিএনপি। ঘোষিত এই তালিকা কেন্দ্র করে সীমিত কিছু আসনে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সমর্থকদের বিক্ষোভ দেখা গেছে। এ অবস্থায় দলটি সংশ্লিষ্ট এসব আসনের পরিস্থিতি মনিটরিং করছে। তবে দু-এক জায়গায় কিছু সমস্যা হলেও এটি ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে বলে মনে করছে বিএনপির হাইকমান্ড। তাই ঘোষিত তালিকায় বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না তারা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে কিছু আসনে পরিবর্তন আনা হতে পারে, সেটি খুব বেশি নয়। এদিকে, ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আসন বণ্টন নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি। তবে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী জোট শরিকদের নিজ দলের প্রতীকে ভোট করার বিধান ভাবাচ্ছে বিএনপিকে। তাই মিত্রদের আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থিতার পাশাপাশি এ বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে দলটি। গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গত সোমবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক এবং গত কয়েকদিন স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এমন আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন, অথবা বৈঠকের বিষয়ে অবহিত ছিলেন।

    বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দল ঘোষিত প্রার্থী তালিকার মধ্যে যেসব প্রার্থীকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, সেগুলো বাদে বাকি আসনগুলোতে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর অবস্থান যাচাই করা হচ্ছে নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান দিয়ে। যাচাই-বাছাইয়ের পর পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘোষিত প্রাথমিক প্রার্থী তালিকাতে হয়তো কিছু পরিবর্তন আনতে পারে দলটি, তবে সেটি খুব বেশি নয়। দলটির অবস্থান হচ্ছে, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। ফলে দু-এক জায়গায় কিছু সমস্যা হতে পারে। দলীয় উদ্যোগের কারণে এটি ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাচ্ছে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। প্রার্থিতা নিয়ে দু-এক জায়গায় সমস্যা হতে পারে। দল থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে এগুলো ঠিক হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। তারা আশা করছেন, এর ফলে শিগগির প্রতিটি এলাকায় সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ শুরু করবেন।

    এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদের পাশাপাশি শরিকদের আসন বণ্টন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। শিগগির তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। অবশ্য যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আসন ছাড় নিয়ে বিএনপি এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে না আসায় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এক ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। কারণ, হাতেগোনা কয়েকজন বাদে জোট শরিকের অধিকাংশকেই এখন পর্যন্ত মনোনয়নের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। ফলে অনেকে নির্বাচনী এলাকায় সেভাবে কাজ করতে পারছেন না। তাই বিএনপির প্রার্থিতা ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনের মাঠে পূর্ণ উদ্যোমে কাজ করতে দ্রুত মনোনয়ন নিশ্চয়তা চান তারা।

    জানা গেছে, ফাঁকা রাখা ৬৩ আসনের মধ্যে বিএনপি তাদের দলীয় প্রার্থীদের জন্যও বেশ কিছু আসন রেখেছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে শরিকদের জন্য দলটি ৫৯টি আসন ছাড়লেও এবার তাদের জন্য ২৫-৩০টি আসন ছাড়ার কথা ভাবছে। আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থিতা বিবেচনায় নিয়ে মূলত বিজয়ী হওয়ার মতো শরিকদের ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আসন ছাড়বে বি

    এনপি। আর আসন ছাড়ের সংখ্যা আরও বাড়বে কি না, সেটি নির্ভর করবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের আকার কেমন হয়, তার ওপর। অবশ্য ফাঁকা রাখা আসন ছাড়াও ঘোষিত ২৩৭ আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায়ও জোট শরিকদের জন্য কোথাও কোথাও পরিবর্তন আনতে পারে বিএনপি।

    এদিকে, আসন বণ্টন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিএনপির চাওয়া অনুযায়ী যুগপতের অধিকাংশ মিত্র এরই মধ্যে তাদের প্রার্থী তালিকা জমা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত বিএনপির কাছে ১০৩ জনের প্রার্থী তালিকা জমা দিয়েছে যুগপতের শরিকরা। অন্যদিকে, এখনো প্রার্থী তালিকা জমা না দিলেও এ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের আলোচনা চলছে। বিএনপির সঙ্গে অর্ধশত আসনে ‘সমঝোতা’ চায় ছয় দলীয় এই জোট।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শরিকদের এই প্রার্থী তালিকা থেকে বাস্তবতার নিরিখে দলটি একটি শর্টলিস্ট করেছে। দলের নীতিনির্ধারণী নেতারা সেটা নিয়ে শরিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের প্রার্থিতার বিষয়টি নানাভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করছেন। মিত্রদের আসন চূড়ান্ত করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিগগির লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করবেন। এরপর মিত্রদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করবেন লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা। তবে এ নিয়ে গতকাল বুধবার রাতে অনানুষ্ঠানিকভাবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।

    অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের নিয়ে গঠিত নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গেও আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপির আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সেখানে এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনী জোট বা সমঝোতা নিয়ে বিএনপির অধিকাংশ নেতা তাদের অনীহার কথা জানান। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য কালবেলাকে বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যতগুলো আন্দোলন হয়েছে, সবগুলোর সম্মুখভাগে ছিলেন ছাত্ররা। আন্দোলন শেষে ছাত্ররা পড়াশোনায় ফিরে গেছেন, তারা সরকারের অংশ হননি। কিন্তু চব্বিশের গণআন্দোলনের পর ছাত্রদের বর্তমানে সরকারের অংশ করায় তাদের সম্পর্কে নানা অভিযোগ উঠেছে; এখন যদি বিএনপিও একই কাজ করে, তা ঠিক হবে না।’

    বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা হচ্ছে কি না—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক অনুষ্ঠানে এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাজনীতিতে এসব বিষয়ে শেষ কথা তো বলা যায় না। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিল; এর বাইরে যারা গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ছিল—এমন কিছু ইসলামিক দলসহ আরও কিছু দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে আমরা নির্বাচন করতে চাই।’

    অবশ্য এনসিপির সঙ্গে আলোচনার খবর অস্বীকার করলেও সমঝোতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে চান না সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এনসিপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হব কি হব না, কিংবা তারা আমাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ইলেকশন করবে কি করবে না, সেটার কোনো প্রস্তাব তাদের পক্ষ থেকেও আসেনি, আর আমাদের পক্ষ থেকেও যায়নি। তবে একদম সেই সমঝোতা বা সেই জোট হবে না—এটাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সে জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।’

  • সংঘাত বাড়ছে বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে

    সংঘাত বাড়ছে বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে

    বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে সংঘাত বাড়ছে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে ২৩৭ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, মনোনয়ন নিয়ে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। এমনকি মনোনয়ন ঘিরে সংঘর্ষে নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়িত অনেক নেতা বঞ্চিত হওয়ায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ থেকে এই সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সংঘাত নিরসনে দলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সে সঙ্গে প্রয়োজনে প্রার্থীদের নিয়ে বসে দ্বন্দ্ব নিরসনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে দলের জন্য নির্যাতিত হয়েছেন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক। গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে আগামী নির্বাচন ঘিরে মনোনয়নকে দলের কাছে মূল্যায়িত হওয়ার অংশ হিসেবে দেখেছেন তারা। দীর্ঘদিনের নিপীড়িত-নির্যাতিত এসব নেতাকে ঘিরে স্বপ্ন বুনছেন তাদের কর্মী-সমর্থকরা। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিতর্কিত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত কোথাও কোথাও প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিয়েছে।যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মনোনয়নের মাধ্যমে যে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি সম্ভাব্য।

    বিভিন্ন স্থানে এটির রদবদলও হতে পারে। তবে বিতর্কিত ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই—এমন অনেক প্রার্থীর নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রার্থী পুনর্বিবিবেচনার দাবি উঠেছে তৃণমূল থেকে। বিক্ষোভ, মশাল মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। এ ছাড়া যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি, সেগুলোর কিছু কিছুতে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়নের দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।এর মধ্যে গত রোববার ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় তানজিন আহমেদ আবিদ (৩০) নামে এক ছাত্রদলকর্মী নিহত হন।

    গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।এ ছাড়া বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর মাদারীপুর-১ (শিবচর), মেহেরপুর-২ (গাংনী), কুষ্টিয়া-৩ (সদর), চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড), চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী), কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর), কুষ্টিয়া-৪, কুমিল্লা-৬ (সদর ও সেনানিবাস), কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা), চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ), বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী), ঠাকুরগাঁও-২, জয়পুরহাট-২, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ), ঢাকা-১২, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল), ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা), সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর), দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ), রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর), রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর), চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও নাচোল), কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস), কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ), নাটোর-১ (লালপুর ও বাগাতিপাড়া), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর), গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি), খুলনা-২ (সোনাডাঙ্গা ও খুলনা সদর) আসনে বিদ্রোহ, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা, বান্দরবানসহ বেশ কয়েক স্থানে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।এর মধ্যে ফেনী সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ধানক্ষেতে দাঁড়িয়ে ক্রিকেটারের ভঙ্গিতে ‘রিভিউ আবেদন’ করে আলোচনায় এসেছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল। তার অভিনব এই প্রতিবাদ ইতোমধ্যেই দল ও দলের বাইরে সাড়া ফেলেছে। এ ছাড়া বক্তব্যের শেষে আওয়ামী স্টাইলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মনোনয়ন হারিয়েছেন মাদারীপুর-১ (শিবচর উপজেলা) আসনের কামাল জামান মোল্লা। এ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। একইসঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ৯০ বছর বয়সি সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমানের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনীতি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন। কানাডার নাগরিক সাবেক এই সচিব সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। এ নিয়ে দলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।এদিকে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘোষণা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

    কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষিত হওয়ায় এমন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আসনটিতে এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম ওবায়দুল হক নাসিরকে। এরপর থেকেই লাগাতার আন্দোলন করে যাচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী, চারবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদের কর্মী-সমর্থকরা। বিক্ষোভকারীরা জানান, যে পর্যন্ত এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তন না হবে, সে পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।জানতে চাইলে লুৎফর রহমান খান আজাদ আমার দেশকে বলেন, ৩৭ বছর ধরে দলের সঙ্গে আছি। তবে এই মনোনয়ন নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি নই। মনোনয়নের মাধ্যমে নির্বাচনি এলাকার বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আজাদ বলেন, ‘জনআকাঙ্ক্ষা আদৌ পূরণ হয়নি। তবে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—এটি চূড়ান্ত নয়, সম্ভাব্য তালিকা। প্রয়োজনে অদল-বদল হতে পারে। এখন দলের হাইকমান্ড বিষয়টি বিবেচনা করবে। সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব।’

    সংঘাত নিরসনে এখন দলকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ। বলেন, ‘বিএনপির একটু সহানুভূতিশীল হওয়ার সুযোগ আছে। কারণ, দীর্ঘদিন তারা (নেতাকর্মীরা) নানারকম নির্যাতন-অত্যাচার সহ্য করে রাজনীতি করেছেন। এ কারণে তারা তো মনোনয়ন চাইতেই পারেন। কিন্তু দলের পক্ষে সবাইকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভবও হচ্ছে না। দল অনেক কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করছে। পুরোটাই নির্ভর করবে দলের ওপর।

    ড. সাব্বির বলেন, ‘তারা (বিএনপির হাইকমান্ড) যদি সমঝোতা করে, আলাপ-আলোচনা করে নিবৃত্ত করতে পারে—সেটা বরং দলের জন্য ভালো। অন্য কোনোভাবে দল পুরস্কৃত করে তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করতে পারে। এটা দলকেই করতে হবে।
    এ ক্ষেত্রে মনোনয়নবঞ্চিত এসব নেতার অবদানকে স্বীকার করে, তাদের গুরুত্ব দিয়ে বোঝাতে হবে বলে মনে করেন ড. সাব্বির। তিনি বলেন, ‘সবাইকে তো একসঙ্গে খুশি করা যায় না। কিন্তু তাদের বোঝানোটা মনে হয় দলের জন্য কঠিন কোনো কাজ নয়। তারপরও দলের মধ্যে দু-একজন তো থাকেন, যারা কিছু মানতে চান না। তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন—সেটাও দলকে চূড়ান্তভাবে সহ্য করে নিতে হবে।’

  • বিএনপি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে সরে গেছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

    বিএনপি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে সরে গেছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন,বিএনপি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে সরে গেছে। ৫ আগস্ট পরর্বতী সময়ে দলটি নিজেদের আদর্শ থেকে সরে গেছে। যারা বিএনপির এ পরিবেশে থাকতে অস্বস্তিবোধ করছেন আমরা আপনাদেরকে ওয়েলকাম জানাচ্ছি। আমরা আপনাদের নমিনেশন দেব। আমরা কুমিল্লার ১১টি আসনে সৎ যোগ্য প্রার্থী দেব। আমরা প্রথম ধাপের প্রার্থী নভেম্বরের ৩য় সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করব। আমরা এ প্রার্থী ঘোষণার মাধ্যমে এনসিপির সাংগঠনিক নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করব।

    তিনি আরও বলেন, আমরা একটি প্রতিনিধিত্ব মূলক, ভারতীয় আধিপত্য বিরোধী এবং ফ্যাসিবাদ মুক্ত সংসদ চাচ্ছি। যে সংসদ হবে বাংলাদেশপন্থি সংসদ।

    রোববার (৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টের হলরুমে এনসিপির কুমিল্লা মহনগর, কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলার সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আমরা চাই আগামী সংসদ নির্বাচনে যারা বাংলাদেশপন্থি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে যারা বিশ্বাস করে, যারা ভারতীয় আধিপত্য বিরোধীতায় বিশ্বাস করে, যারা এই গণঅভ্যুত্থান বিশ্বাস করে, সংস্কারে বিশ্বাস করে এবং যারা এই বাংলাদেশে যে জনআকাঙ্খার কারণে এ বিপ্লব হয়েছে, সেটিতে বিশ্বাস করে, তাদেরকে নিয়ে আগামীর সংসদ গঠিত হোক।

    ব্যারিস্টার মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, জয়নাল আবেদীন শিশির। কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক নাভিদ নওরোজ শাহ, কেন্দ্রীয় সদস্য হাফসা জাহান, সালাউদ্দিন জামিল সৌরভ কুমিল্লা মহানগর এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী মো. সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

  • বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রদল কর্মী নিহত

    বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রদল কর্মী নিহত

    ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় তানজিন আহমেদ আবিদ (৩০) নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন।

    রোববার বিকালে গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবিদ ময়মনসিংহ নগরীর কৃষ্টপুর এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি জেলা উত্তর ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন। তার বাবা দক্ষিণ জেলা উলামা দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
    বিজ্ঞাপন

    জানা যায়, সন্ধ্যায় গৌরীপুর সরকারি কলেজ হোস্টেল মাঠে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশের আয়োজন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেন।

    ইকবাল হোসেনের সমর্থকদের অভিযোগ, সমাবেশ শেষে শহরে ফেরার পথে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রদলকর্মী আবিদ গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত সিএনজিযোগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার পর রাতে ইঞ্জিনিয়ার ইকবালের পক্ষে গৌরীপুরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেনÑ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম তালুকদার, উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি শামছুল হক প্রমুখ।

    তাদের দাবি, মনোনয়নবঞ্চিত হিরণপন্থিরা পরিকল্পিতভাবে ইকবাল সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হিরণ সমর্থকদের ধাওয়ায় মাটিতে পড়ে আবিদ গুরুতর আহত হন।

    এদিন বিকালে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ইঞ্জিনিয়ার ইকবালপন্থিরা গৌরীপুর সরকারি কলেজের হোস্টেল মাঠে এবং আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণপন্থিরা শহরের মধ্যবাজার ধানমহাল এলাকায় আলাদা সমাবেশের আয়োজন করে। বিকাল ৪টা থেকে দুপক্ষের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন, যার পরই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

    গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ইসলাম বলেন, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে যতটুকু জানা গেছে, সংঘর্ষের সময় আবিদ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
    বিএ

  • চট্টগ্রামে ফের গোলাগুলি, বিএনপির ৫ নেতা গুলিবিদ্ধ

    চট্টগ্রামে ফের গোলাগুলি, বিএনপির ৫ নেতা গুলিবিদ্ধ

    চট্টগ্রামে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এবার জেলার রাউজানে প্রতিপক্ষের গুলিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৫ নেতা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    বুধবার (৫ নভেম্বর) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের কুইয়াপাড়া চৌধুরী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

    গুলিবিদ্ধরা হলেন- রাউজান উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ সুমন, বাগোয়ান ইউনিয়ন কৃষক দলের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল, বাগোয়ান ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম চৌধুরী, বাগোয়ান ইউনিয়ন যুবদলের সহ সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও বিএনপি কর্মী মোহাম্মদ সোহেলকে গুরুতর জখম করে। তাদের সবার বাড়ি ওই ইউনিয়নে।

    এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ সুমনের বুকে গুলি লাগায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহত ৪ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, আসন্ন ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাউজান উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইস্তিয়াক চৌধুরী অভি প্রকাশ ‘সন্ত্রাসী অভ্যার’ নেতৃত্বে আলতাফ চৌধুরী টুটুল, জনি চৌধুরীসহ ৭/৮ জন অতর্কিত গুলি চালায়।

    স্থানীয়রা জানান, দুর্বৃত্তরা গুলি করে একটি গাড়িতে করে পালিয়ে যায়।

    এ বিষয়ে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তখন কাউকে পাইনি। বর্তমানে আমরা অভিযানে আছি। কি কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে জানার চেষ্টা করছি। ঘটনায় জড়িতের আটকের চেষ্টা চলছে।

    এর আগে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহরের পূর্ব বায়েজিদ এলাকার চাইল্লাতলীতে গণসংযোগের সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন বিএনপির মহানগর আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী) আসনের দলীয় প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা (৪৩)।

  • বিএনপি-জামায়াতের বাইরে নতুন জোট

    বিএনপি-জামায়াতের বাইরে নতুন জোট

    বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি বলয়ের বাইরে তৃতীয় জোট গড়তে চায় ৯ দল। দলগুলো হলো—গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে থাকা ছয় দল, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ ও এবি পার্টি।

    গতকাল বুধবার বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান।

    তিনি বলেন, আমরা অনেক দিন ধরেই ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে নতুন কিছু করার চেষ্টা করছি। ফের এটিকে আমাদের আলোচনার টেবিলে এনেছি। যেহেতু আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা কেউই বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাইনি। তাই তৃতীয় শক্তি বা নতুন জোট হতে পারি কি না- তা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। আমরা এ বিষয়ে আন্তরিক, জনগণও চায় নতুন শক্তির আবির্ভাব হোক। বিএনপি-জামায়াতের বাইরে ৯টি দল ছাড়াও অন্য দলগুলোকে আমরা যুক্ত করব।

    এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করলেও ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এ সংকট নিরসনে কথা হয়েছে। তবে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত সরকারকে নিতে হবে। যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব হারাবে।

    এ সময় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, সরকারের দিক থেকে জুলাই সনদ ও গণভোটের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সাতদিনের সময় দিয়েছে। দলগুলোকেই দায়িত্ব নিতে হবে বলে আমরা মনে করি। সে জায়গা থেকে আমরা বসেছি, কীভাবে সমাধান করা যায়। কিছু বিষয় আমরা কাছাকাছি আসছি। অন্য দলের সঙ্গেও আমরা আলোচনা করব।

    এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন—এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার এবং ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম প্রমুখ।

  • মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বে মেহেরপুরে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা

    মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বে মেহেরপুরে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা

    মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মনোনয়নপ্রাপ্ত সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন সমর্থকদের মধ্যে এ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আমজাদ হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মিল্টন পক্ষের বিরুদ্ধে। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে বিএনপির দুই কার্যালয় ঘিরে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ, অফিস ভাঙচুরের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় দুই পক্ষ অফিসের ভেতরের আসবাবপত্র বের করে আগুন দেয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী। ভাঙচুর করা হয়েছে অন্তত ১২টি মোটরসাইকেল।

    মেহেরপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন বলেছেন, মনোনয়ন বঞ্চিত মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের সমর্থক গাংনী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়ালসহ তার ক্যাডার বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। হামলায় বিএনপির অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

    সাবেক সাবেক এমপি আমজাদ হোসেনের বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুরের পর হামলার পাল্টা জবাবে বিএনপির সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টনের অফিস ভাঙচুর করেন আমজাদ হোসেনের সমর্থকরা। তবে ্দুই গ্রুপের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়।

    আমজাদ হোসেনের সমর্থকরা দাবি করেছেন প্রথমে মিল্টনের সমর্থকরা একতরফাভাবে হামলা করে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।

    এদিকে মিল্টনের সমর্থক গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু জানিয়েছেন আমজাদ হোসেনের লোকজন তাদের অফিস ভাঙচুর করেছে।

    গাংনী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর গাংনীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    উল্লেখ্য, গতকাল রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মেহেরপুর-২ আসনে এমপি প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মিল্টনের সমর্থকরা সোমবার রাতেই শহরে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।

  • বিএনপির কাছে ২২২ আসনই চায় মিত্ররা

    বিএনপির কাছে ২২২ আসনই চায় মিত্ররা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৩৭ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিনের মিত্রদের নাম অনুপস্থিত থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, বাকি ৬৩ আসন জোট ও শরিকদের জন্য খালি রাখা হয়েছে।

    বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, ৬৩ আসনের সবকটি জোটের জন্য নয়; বরং কিছু আসনে একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় সেগুলো অমীমাংসিত রয়েছে। তবে শরিকদের আসন ছাড়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন নেতারা।

    এদিকে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা এবার ধানের শীষ প্রতীক পাবেন না, নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে।

    এ পরিস্থিতিতে চার-পাঁচজন নেতা ছাড়া শরিকদের বেশিরভাগেরই দলগত ও নিজস্ব কোনো ভোটব্যাংক না থাকায় তাদের জয়ের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। ফলে অমীমাংসিত আসনগুলোয় বিএনপির অন্য কারো কপাল খুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে ৫০টির বেশি দল একসঙ্গে যুক্ত ছিল। এসব দলের প্রার্থীদের এলাকায় অবস্থান ও জনপ্রিয়তা যাচাই-বাছাই শেষে তাদের জন্য ২৫ থেকে ৩০টি আসন ছাড়া হতে পারে। পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির সঙ্গে জোট হলে তাদের জন্য আরো প্রায় ১০টি আসন ছাড়া হতে পারে।

    মিত্রদের আসন ছাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে আন্দোলনে থাকা দলগুলোকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে। তাদের কে কোথায় নির্বাচন করবেন, তার আলোচনা চলছে। দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

    তবে বিএনপি এখনো জোটের জন্য কত আসন ছাড়বে তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২৫-৩০টি আসন পেতে পারে বিএনপির আন্দোলনের শরিকরা।

    অন্যদিকে গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ ছয় নেতা কে কোথায় নির্বাচন করবেন, তা জানতে চেয়েছিল বিএনপি। পরে গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে তখন শীর্ষ নেতাদের প্রার্থিতার বিষয়ে বিএনপিকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ১২ নেতাকে ইতোমধ্যে তাদের নির্বাচনি এলাকায় কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। তারা হলেন পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা-১৭ আসনে

    বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। বাকিরা হলেন ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক, কুমিল্লা-৭ আসনে দলটির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, নড়াইল-২ আসনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং ঝিনাইদহ-২ আসনে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।এনসিপির সঙ্গে জোট হলে প্রায় ১০টি আসন ছাড়তে পারে বিএনপি। এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১, সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পঞ্চগড়-১, দক্ষিণের হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা-৪, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-১৮, তাসনিম জারা ঢাকা-৯, সারোয়ার তুষার নরসিংদী-২, হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬, আদিবুল ইসলাম আদীব ঢাকা-১৪ থেকে নির্বাচন করতে পারেন।

  • গণসংযোগকালে গুলিবিদ্ধ বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ

    গণসংযোগকালে গুলিবিদ্ধ বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ

    চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার হামজারবাগ এলাকায় নির্বাচনি প্রচারে বের হয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। তিনি চট্টগ্রাম–৮ (বাকলিয়া–বোয়ালখালী) আসনের প্রার্থী। বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এরশাদ উল্লাহকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এরশাদ উল্লাহ তার নির্বাচনি কার্যালয় থেকে কর্মীদের সঙ্গে প্রচারণায় বের হন। হামজারবাগ এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গুলি চালায়। এতে এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহতের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

    চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (উত্তর) উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ঘটনায় একজন নিহতের খবর শোনা গেছে, তবে এখনো নিশ্চিত নই।

    এভারকেয়ার হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, এরশাদ উল্লাহর বুকের বাঁ পাশে গুলির আঘাত লেগেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় করেন। দলটির পক্ষ থেকে হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হয়েছে।

  • যশোরে পাঁচটি আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা, নতুন মুখ শ্রাবণ

    যশোরে পাঁচটি আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা, নতুন মুখ শ্রাবণ

    যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অপর আসনটি শরীক দলের জন্য ছাড় দেয়া হতে পারে বলে মনে করছেন জেলা বিএনপির নেতারা। নতুন মুখ হিসেবে প্রার্থী তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, যেসব আসনে প্রার্থী দেয়া হয়নি সেগুলো পরে ঘোষণা করা হবে। এর বাইরে কিছু আসন শরিকদের ছাড়া হবে।

    ঘোষণা অনুযায়ী, যশোরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যশোর-৩ সদর আসনে প্রার্থী হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নাম ঘোষণা করা হয়। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য, সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমের সন্তান। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এর আগে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যেহেতু যশোরের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেন প্রয়াত তরিকুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস বেগম ও তার ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ফলে আসনটিতে দলের অন্য কেউ প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেয়নি। ফলে অনেক আগে থেকেই অমিত মনোনয়ন পাবেন সেটা নেতাকর্মীরা অনুমান করেছিলেন।

    এছাড়া যশোর-১ (শার্শা) আসনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তির নাম। তিনি এ আসন থেকে আগেও বিএনপির হয়ে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তৃপ্তি। এই আসনে তৃপ্তি ছাড়া মনোনয়ন দৌঁড়ে ছিলেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি হাসান জহির।

    যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে প্রার্থী হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবিরা নাজমুলের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তার স্বামী প্রয়াত নাজমুল ইসলাম যশোর জেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সময়কালে গুমের পর হত্যা করা হয় তার স্বামীকে। স্বামীর মৃত্যুর পর গৃহিনী থেকে একেবারে নতুন মুখ হিসাবে রাজনীতিতে নামেন। ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেন। যদিও চেয়ারম্যান দায়িত্বপালনকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় তাকে ছয় বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। রায়ে মুন্নির এক কোটি ৭৮ হাজার ১৩৫ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করেন আদালত। ফলে সাবিরা নাজমুলকে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রাণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ। মনোনয়ন দৌড়ে ছিলেন জেলা বিএনপি সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুবকে। তিনি কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি এর আগেও বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মতে, এ আসনটি শরীক দলের প্রার্থীকে ছেড়ে দেয়া হতে পারে। যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে নতুন মুখ হিসেবে প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। তিনি বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণের দীর্ঘ রাজনৈতিক পটভূমি থাকলেও তার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তার পরিবার তাকে তাজ্য ঘোষণা করেছিলেন। এখনও পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। তবে যশোর-৬ আসনে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে।

    যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘ছয়টি আসনে প্রায় ৩৫ জন নেতাকর্মী দলীয় মনোনয়ন পাবার জন্য তৃণমূলে কাজ করেছে। সম্ভাব্য মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। মনোনয়ন নেয়ার দৌঁড়ে প্রার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রতিযোগিতা ছিলো। তবে দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে; তার পক্ষে সবাই কাজ করবেন। দ্বন্দ্ব গ্রুপিং থাকলেও আস্তে আস্তে সেটা সমাধান হবে শুধুমাত্র দলের জন্য।’

  • খুলনায় বিএনপি অফিসে হামলা-গুলি, স্কুল শিক্ষক নিহত

    খুলনায় বিএনপি অফিসে হামলা-গুলি, স্কুল শিক্ষক নিহত

    খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) আইটি গেট সংলগ্ন স্থানীয় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গুলি ও বোমা হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা । এতে গুলিতে স্কুল শিক্ষক ইমাদুল হক (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি বছিতলা নুরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। এর আগে তিনি ইউসুফ স্কুলে শিক্ষকতা করতেন।

    এছাড়া যোগীপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মামুন শেখসহ (৪৫) আরো দুই জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত অন্যরা হলেন—বেল্লাল খান (৫৫) ও মিজানুর রহমান (৫৮)। তাদের চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    জানা যায়, রোববার রাত ৯টার দিকে বিএনপি নেতা মামুন শেখ স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অফিসে বসেছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা হঠাৎ অফিস লক্ষ্য করে পরপর দুটি বোমা ও চার রাউন্ড গুলি ছুড়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। এতে মাদ্রাসার শিক্ষক ইমাদুল হক, মামুন, বিল্লাল ও মিজানুর রহমান গুরুতর আহত হন৷ পরে তাদেরকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমাদুল হক মারা যান। তিনি এশার নামাজের পর ওই বিএনপির অফিসে ওয়াজ মাহফিলের টাকা কালেকশন করার জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    কেএমপির এসি (মিডিয়া) মো. শফিকুল ইসলাম জানান—সন্ত্রাসীদের গুলিতে ও বোমা হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক রয়েছে বলে জানতে পেরেছি ৷ পুলিশ ঘটনাস্থলে আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। অভিযুক্তদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ কাজ করছে।

    সুত্র: দৈনিক আমার দেশ

  • খুলনায় বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষে আহত ৫

    খুলনায় বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষে আহত ৫

    খুলনার রূপসা উপজেলায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) উপজেলার কাজদিয়া বাজারে ওবায়েদ ফার্মেসির সামনে এই সংঘর্ষ হয়। এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন।

    আহতরা হলেন- শান্ত শেখ, শাহজাহান ইমরান (৩৭), শাহাজাদা (৪১), মেহেদী হাসান বুলু (৩৮), জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (৩৫) ও ইমরান শেখ (৩০)। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা-৪ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মল্লিক আলাদা আলাদা গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন। বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারণায় পারভেজ মল্লিকের রূপসা উপজেলার কাজদিয়া বাজারে আসার কথা ছিল। খবর পেয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক ছাত্রনেতা শান্ত শেখের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা বাজারে অবস্থান নেন। এ সময় বিএনপির প্রতিপক্ষ গ্রুপের কয়েকজন সদস্য তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে উভয় গ্রুপের পাঁচজন আহত হন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে

    রূপসা থানার ওসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • চৌগাছার বিএনপি নেতা কুমিল্লায় নিহত

    চৌগাছার বিএনপি নেতা কুমিল্লায় নিহত

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছার বিএনপি নেতা আব্দুল মুজিদ (৫৫) সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছন। ৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে কক্সবাজার থেকে যশোরে ফেরার সময় কুমিল্লায় সড়ক দূর্ঘটনায় তিনি নিহত হন।

    আব্দুল মুজিদ চৌগাছা উপাজেলার ৩ নং সিংহঝুলি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং চৌগাছা বাজারের একজন সিটি ক্যাবল ব্যবসায়ি ছিলেন।

    জানাগেছে, আব্দুল মুজিদসহ কয়েকজন মোটর সাইকেলে কক্সবাজার ভ্রমণে যায়। ভ্রমণ শেষে যশোরের চৌগাছার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তারা। তারা কুমিল্লায় পৌছালে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে আব্দুল মুজিদের মোটর সাইকেল দূর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনা স্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • চৌগাছায় বিএনপির যৌথসভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় বিএনপির যৌথসভা অনুষ্ঠিত

    যশোরের চৌগাছায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় শহরের ডিভাইন সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।

    সভায় আরও বক্তব্য রাখেন যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি, জেলা বিএনপির সদস্য ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য, যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইসাহক আলী, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউনুস আলী দফাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম এ মান্নান, সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম ওয়াসিম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান, সদস্য সচিব আবু বকর সিদ্দিক, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আজগর আলী, সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমন হাসান রকি প্রমুখ।

    এসময় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • নিঝুমদ্বীপে বালু উত্তোলন, বিএনপির ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা

    নিঝুমদ্বীপে বালু উত্তোলন, বিএনপির ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা

    নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের সমুদ্র সৈকত থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বিএনপির ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৪–৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

    শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) জাহাজমারা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

    আসামিরা হলেন, নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাবেক সহ সভাপতি মো. শাহেদ উদ্দিন, নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন, হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য রাসেল, নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী আব্দুর রহিম ও সমর্থক আফছার উদ্দিন।

    এজহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা নিঝুমদ্বীপ নামার বাজারের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে অবস্থিত সরকারি সমুদ্র সৈকত এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে মিলিত হয়। পরবর্তীতে তারা সরকারি সি-বিচ এলাকায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে ড্রেজার মেশিন স্থাপন করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে থাকে।

    এ সময় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বালু উত্তোলনে বাধা দিলে আসামিরা তাকে গালাগাল করে এবং খুন-জখমের হুমকি দেয়। তাদের এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে সরকারের প্রায় ১০ (দশ) লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

    এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেনের বন্দোবস্ত জমিতে চাষাবাদের জন্য বালু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজ পান নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী আব্দুর রহিম। তিনি নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেনের ড্রেজার মেশিন ভাড়া নিয়ে বালু উত্তোলন করেন। বালু উত্তোলনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। তারপর প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধ করেন এবং সরঞ্জাম জব্দ করে মামলা দায়ের করেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, সাবেক বিএনপি সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও আব্দুর রহিম নিঝুম দ্বীপ সী-বীচ এলাকা থেকে অবৈধভাবে ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করেছে। যা দ্বীপের পরিবেশ ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

    এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার বন্দোবস্ত জমিতে ধান হয়। কিন্তু জোয়ারে বালু আসায় ধান চাষ করতে কষ্ট হচ্ছিল। তাই বালু উত্তোলনের জন্য আব্দুর রহিমকে দায়িত্ব দিয়েছি। কে বা কারা গুজব বানিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করেছে এবং প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধ করেছে।

    হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা বলেন, মামলা দায়ের হয়েছে। এজহারভুক্ত আসামি ৬ জন এবং অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

  • শিক্ষকদের আন্দোলন ইস্যুতে বিএনপির হুঁশিয়ারি

    শিক্ষকদের আন্দোলন ইস্যুতে বিএনপির হুঁশিয়ারি

    শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন ও দাবির পক্ষে সমর্থন জানিয়ে অপচেষ্টা প্রতিহতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    তিনি বলেছেন, বিএনপি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত। তবে এই আন্দোলনকে পুঁজি করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে অপচেষ্টা চালালে তা প্রতিহত করা হবে।

    শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. তাইফুর ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত প্রেস বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, দেশের একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত। সহজভাবে শিক্ষকদের জন্য তাদের অঙ্গীকার হলো— মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা, শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সামাজিক মর্যাদা এবং তাদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিএনপি বিশ্বাস করে রাষ্ট্র ও জাতির সাংগঠনিক কিংবা নাগরিক উন্নয়নে আমাদের যত উদ্যোগই গ্রহণ করি না কেন শিক্ষাব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন এবং শিক্ষকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাওয়া যাবে না।

    জনগণের ভোটে বিএনপি আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে রাষ্ট্রের আর্থিক অনুকূলতা শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, চাকরির স্থায়ীকরণ এবং সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার বিষয়ে বিএনপির কোনো দ্বিমত নেই।

    তবে শিক্ষকদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আন্দোলনের ছদ্মবেশে পড়ে কোনো স্বৈরাচারী সহযোগী পরিকাঠামো নিঃস্বার্থভাবে গড়ে তোলার (দেশের) দায়িত্বশীল করে তোলার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক উত্তরণের কোনো প্রয়াস প্রতিহত করার প্রচেষ্টা চালালে সেটি প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি কোনো নমনীয়তা দেখাবে না বলেও জানানো হয়।

  • লক্ষীপুরে অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান

    লক্ষীপুরে অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান

    লক্ষ্মীপুরে অর্ধশতাধিক কর্মী–সমর্থক নিয়ে বিএনপি নেতা হোসেন আহমেদ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাতে সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের নবীগঞ্জ বাজার এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি জামায়াতে যোগ দেন।

    হোসেন আহমেদ চররুহিতা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে চররুহিতা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ওমর ফারুক, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    জামায়াত নেতা ওমর ফারুক বলেন, ‘হোসেন আহমেদ অর্ধশতাধিক কর্মী–সমর্থক নিয়ে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।’

    নতুন সদস্য হোসেন আহমেদ বলেন, ‘শেখ হাসিনার পতনের পরও আমি বিএনপি করতাম। পরে বুঝেছি, বিএনপির সঙ্গে ইসলামী আদর্শের কোনো সম্পর্ক নেই। একজন মুসলিম হিসিবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য জামায়াতে যোগ দিয়েছি।

  • নড়াইলে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে আ’লীগের মামলা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল 

    নড়াইলে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে আ’লীগের মামলা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল 

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের কালিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা ইউসুফ, পৌর কৃষকদলের আহবায়ক গোলাম রসুল মান্দার, পৌর ছাত্রদল নেতা মিকাইল শেখসহ দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল এবং সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    কালিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে বুধবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় কালিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    এর আগে ছোটকালিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ নেতাকর্মীরা। কালিয়া পৌর শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম লিকুর ভাবী রহিমা খানম বাদি গত ৫ আগস্ট কালিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আওয়ামী লীগের দখলকৃত দোকান বুঝে নেয়ায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে এ ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ বিএনপি নেতারা।

    কালিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার আনোয়ার হোসেনসহ ভুক্তভোগীরা বলেন, কালিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা ইউসুফের ফুপাতো ভাই সরফরাজ আহম্মেদ বাদশা ২০১৫ সালে জেলা পরিষদ থেকে তার বাড়ির সামনের জায়গা বন্দোবস্ত নেন। সরকারি নিয়মে বন্দোবস্ত আনার পর উপজেলা শ্রমিকলীগ নেতা আকিজ শেখ ও তার ভাই পৌর শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম লিকু নিজেদের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তৎকালীন সময়ে ওই জায়গাটি দখল করে পাকাঘর নির্মাণ করেন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিএনপি নেতা সেলিম রেজা ইউসুফের ফুপাতো ভাই সরফরাজ আহম্মেদ বাদশা জেলা পরিষদ থেকে বন্দোবস্তকৃত জায়গাটি বুঝে নেয়ার পর প্রায় এক বছর পরে এসে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক চাঁদাবাজি মামলা দেয়া হয়েছে।

    এ মামলা দায়েরের তীব্র প্র্রতিবাদসহ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন-কালিয়া পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, কালিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া মিঠু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক ইকরাম রেজা, জেলা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি এম রেজাউল ইসলাম, জেলা শ্রমিকদলের সিনিয়র যুগ্মআহবায়ক মোল্যা বখতিয়ার হোসেন, পৌর বিএনপির সহসভাপতি শফিকুর রহমান, সালামাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খান খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সরদার শাহিনুল আলম, বড়নাল-ইলিয়াসাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খায়রুজ্জামান, যুবদল নেতা গোলাম মশরুর পল্টু, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাহিনুল ইসলাম মাহি, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জুয়েল সরদার, কালিয়া পৌর যুবদলের যুগ্মআহবায়ক গোবিন্দ বর্মণ, তাঁতীদলের উপজেলা সভাপতি সরদার তৌহিদুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা ওয়ালিউল্লাহ জনি, বিএনপি নেতা কুদ্দুস বিশ্বাসসহ অনেকে।

    কালিয়া থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • চৌগাছায় বিএনপির সমাবেশ ও বিজয় র‌্যালী

    চৌগাছায় বিএনপির সমাবেশ ও বিজয় র‌্যালী

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমাবেশ ও বিজয় র‌্যালী করেছে। জুলাই গণভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৫ আগষ্ট মঙ্গলবার বিকেলে শহরের প্রেসক্লাব মোড়ে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম.এ সালামের সভাপতিত্ত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর জেলার চেম্বার্স অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান।

    উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসানের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বর্ক্তৃতা করেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী দফাদার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলীবুদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তাগ, পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়র, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, প্রভাষক বিএম হাফিজুর রহমান, পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল, স্বরুপদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপিতি জহুরুল ইসলাম বাবু, সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হামিদ কাজী উপজেলা যুবদলের আহবায়ক সালাহউদ্দীন প্রমুখ।

    সমাবেশ শেষে প্রেসক্লাব চত্ত্বর থেকে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, কৃষকদল, ছাত্রদলসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহন করেন।

  • বিএনপি ক্ষমতার যাওয়ার জন্য অস্থির নয়: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি ক্ষমতার যাওয়ার জন্য অস্থির নয়: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি ক্ষমতার যাওয়ার জন্য অস্থির নয় উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণের মালিকানা তাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হলে অনেক সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

    বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১২টি মৌলিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে। বাকীগুলো ঐকমত্যের দিকে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে না, তা বাদ দিয়ে শুধু মৌলিক বিষয়গুলোই সংস্কার করা উচিত।

    গণতন্ত্রে সীমা থাকা উচিত জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রে কাঁদা ছোড়াছুড়ি হলেও সেখানে সীমা থাকা উচিত। এমনটা না হলে ভবিষ্যতে তিক্ততা তৈরি হবে।

    এ সময় জুলাই-আগস্টে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা মনে রেখে সবাইকে দেশ গঠনে ঐকবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।