নোয়াখালী

Noakhali district

  • দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর যুবক নিহত

    দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর যুবক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো: রুবেল (৩৯) নামে নোয়াখালীর এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

    নিহত রুবেল নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের চুন বেপারী বাড়ির মরহুম শাহ আলমের বড় ছেলে।

    নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ২০২৩ সালে জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান রুবেল। সেখানে ফুফাতো ভাইয়ের দোকানে চাকরি করতেন তিনি। শনিবার রাতে দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাস্থলেই রুবেল মারা যান।

    রুবেলের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন।

    সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নেবেন। লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে আলোচনা করে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এ,আর

  • শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা সাড়ে ৯ হাজার লিটার পামওয়েল জব্দ

    শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা সাড়ে ৯ হাজার লিটার পামওয়েল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর হাতিয়ায় অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা সাড়ে নয় হাজার লিটার পামওয়েল জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    এক প্রেস রিলিজে তিনি বলেন, হাতিয়া থানাধীন নলচিরা ঘাট সংলগ্ন এলাকায় আজ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিসিজি স্টেশন হাতিয়া একটি বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকা থেকে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা নয় হাজার ৫০০ লিটার অবৈধ ও অপরিশোধিত পামওয়েল জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা।

    এ সময় চোরাচালান কাজে ব্যবহৃত একটি কাঠের বোটও জব্দ করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    বিসিজি স্টেশন দক্ষিণ জোন মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, জব্দকৃত পামওয়েল ও বোটের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ,আর

  • নোয়াখালীতে গ্যারেজ থেকে ইয়াবা, পাইপগান ও কার্তুজসহ গ্রেফতার ৩

    নোয়াখালীতে গ্যারেজ থেকে ইয়াবা, পাইপগান ও কার্তুজসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানা এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, দেশীয় অস্ত্র, কার্তুজ ও সিসি ক্যামেরাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ এক প্রেস রিলিজে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    এর আগে একই দিন সকাল ৯টায় পরিচালিত এক এসআরবি-১১, ডিএনসি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন পূর্ব এওয়াজবালিয়া গ্রামের মরহুম ইউছুপ মিয়ার ছেলে মামুন উর রশিদ (৩৭), চাড়ুবানু গ্রামের মো: আব্দুল হানিফের ছেলে আব্দুল মন্নান (২৭) এবং বারাইপুর গ্রামের মাফিজুর রহমানের ছেলে মানজুর রহমান সাকিল (৩৮)।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মো: হাবিবুর রহমান, এসআরবি-১১ সিপিসি-৩ ক্যাম্পের ডিএডি অমলেশ বাইন এবং সুধারাম মডেল থানার উপপরিদর্শক সুমন বণিকের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী ৮নম্বর এওয়াজবালিয়া ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব এওয়াজবালিয়া গ্রামে মামুন উর রশিদের অটোরিকশার গ্যারেজে অভিযান চালায়।

    অভিযানকালে গ্যারেজের ভেতরের একটি বিশ্রামকক্ষ থেকে ৪৪ পিস ইয়াবা, ১টি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান, ১টি সতেজ সিসা কার্তুজ, ৩টি মোবাইল ফোন, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে ব্যবহৃত ৩টি সিসি/আইপি ক্যামেরা জব্দ করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে গ্যারেজের ভেতরের কক্ষটিতে ক্যামেরা বসিয়ে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির আখড়া হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে পাইপগান ও কার্তুজ মজুত রাখা হয়েছিল।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ আরো জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং অস্ত্র আইন, ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় সুধারাম মডেল থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ,আর

  • ‘ঝাক্কাস’ মদপানে যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪

    ‘ঝাক্কাস’ মদপানে যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাছের বারবিকিউ পার্টিতে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মিশিয়ে তৈরি ‘ঝাক্কাস’ নামের একটি পানীয় সেবনের পর মোহাম্মদ সাকিব (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় আরো চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

    রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান। এর আগে, ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামে।

    নিহত সাকিব উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের মুসলিম কলোনির মরহুম এফরান মিয়ার ছেল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাদিরহানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কলেজের পূর্ব পাশে খালপাড় এলাকায় এক প্রবাসী বন্ধু বিদেশ থেকে আসায় স্থানীয় বাসিন্দা মিলনের বাড়িতে কয়েকজন যুবক শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে মাছের বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেন। পার্টিতে তারা মদের সাথে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ নামে একটি পানীয় তৈরি করে সেবন করেন। পরে রাতের খাবার ও আড্ডা শেষে তারা নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান।

    পরদিন শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে সাকিবসহ পাঁচজন শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাকিব ও মো: টিপুর (২৫) শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বেলা ১১টার দিকে তাদের নোয়াখালীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অন্যদিকে, অসুস্থ হয়ে পড়া সাইফুল ইসলাম পাখিকে (২২) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর যুবক মো: টিপু, মনির হোসেন শান্ত (২৩) ও মোহাম্মদ রাসেলকে (২৩) নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, বিষাক্ত মদপানে অসুস্থ হয়ে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ,আর

  • নোয়াখালীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু

    নোয়াখালীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নির্মাণাধীন সড়কে কংক্রিট পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাকের ধাক্কায়
    মনিজা খাতুন (৮০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।
    রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের হাবিবপুর গ্রামের
    ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রহিম উদ্দিন জামে মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মনিজা খাতুন ওই এলাকার মৃত সায়েদুল হকের স্ত্রী।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সকালে মনিজা খাতুন হাবিবপুর বাজার থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় গ্রাম্য সড়কে সংস্কারকাজের জন্য কংক্রিট পরিবহনে নিয়োজিত একটি ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে অবহিত করে।
    কোম্পনীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নুরুল হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর

  • নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬৭

    নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬৭

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী ২৫টি অভিযান চালিয়ে ৬৭ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। পরে তাদের মধ্যে ৬২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি পাঁচজনের মধ্যে একজনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতার, একজনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার এবং তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ সুপার এন এম নাসির উদ্দিনের নির্দেশনায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার বিভিন্ন থানায় অভিযানগুলো চালানো হয়।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানা, কোম্পানীগঞ্জ, বেগমগঞ্জ মডেল থানা, সেনবাগ, চাটখিল ও চরজব্বর থানায় আটক কিশোরদের মধ্যে যথাক্রমে ৭, ৭, ১৩, ১১, ১১ ও ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোনাইমুড়ী থানায় একজনকে ১৫১ ধারায় এবং একজনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া দুজনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কবিরহাট থানায় তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধপ্রবণতা রোধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।এ,আর

  • সরকারি শৌচাগার ভেঙে বিএনপি কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগ

    সরকারি শৌচাগার ভেঙে বিএনপি কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগ

    নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরবাগ্যা গ্রামের দীঘি বাজারে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি শৌচাগার ভেঙে বিএনপির দলীয় কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এতে বাজারে আগত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীঘি বাজারের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এলজিএসপি প্রকল্পের আনুমানিক ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সাধারণ জনগণের ব্যবহারের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট শৌচাগারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি সেটি ভেঙে দুটি কক্ষ তৈরি করে নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানের ছবি সংবলিত বিএনপির কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। বর্তমানে ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

    এ ঘটনার জন্য স্থানীয়রা ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. কামাল ও বিএনপি নেতা মো. রাজিবকে অভিযুক্ত করেছেন। এ বিষয়ে বিএনপি নেতা রাজিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শৌচাগারটি কামাল ভেঙেছে, পরে আমি সেখানে ঘর তৈরি করি। তবে সাইনবোর্ড কে টাঙিয়েছে তা আমার জানা নেই এবং সেখানে এখনো দলীয় কোনো কার্যক্রম চালানো হয়নি।”

    সরকারি খাস জায়গা ও জনগণের ব্যবহারের স্থাপনা দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয় বানানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীরা। তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    অন্যদিকে, বিষয়টিকে দলীয় ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে চরজুবিলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

  • নোয়াখালীতে অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃত্যু

    নোয়াখালীতে অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালী সদরে অটোরিকশায় চার্জ দেয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: বোরহান উদ্দিন ওরফে রিপন (২৮) নামের এক চালকের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব চর উরিয়া গ্রামের খলিল মিয়ার দরজার হোরন মিয়ার রিকশা গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে।

    রিপন ওই গ্রামের মো: মিলনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন।

    পুলিশ জানায়, সারাদিন অটোরিকশা চালানোর পর রাতে গ্যারেজে ফিরে রিপন নিজের অটোরিকশায় চার্জ দিচ্ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাউচারউজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ এ,আর

  • নোয়াখালীতে এক বিদ্যালয়ের ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, তদন্ত কমিটি গঠন

    নোয়াখালীতে এক বিদ্যালয়ের ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, তদন্ত কমিটি গঠন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর হাতিয়ার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এক সপ্তাহে তিন দফায় ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন।

    সিভিল সার্জন বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানসী রানি সরকারকে প্রধান করা করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও হাতিয়া থানার ওসি। সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

    জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার পেছনে ম্যাস হিস্টিরিয়া কাজ করতে পারে। তবে এটিই চূড়ান্ত কারণ নয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত কমিটি কাজ করবে।

    এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আরো ২১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। সর্বশেষ বুধবার ১৩ জন অসুস্থ হলে অসুস্থের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০ জনে।

  • হাতিয়ার জোড়খালী স্কুলে ফের ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ

    হাতিয়ার জোড়খালী স্কুলে ফের ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর হাতিয়ার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে আবারও একসঙ্গে ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে একই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটল তিনবার।

    বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আরও কয়েকজন অসুস্থ হলে বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে ছুটে যান হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল।

    এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে ঝাঁজালো গন্ধে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে আরও ২১ শিক্ষার্থী। তাদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    ওই ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তখন শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়ার বিষয়টি জানা যায়। পরপর তিনবার শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন বলেন, ৫-৬ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি অভিভাবকেরা জানিয়েছেন। প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

    হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ৯ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসন কাজ করছে।

  • নোয়াখালীতে মেঘনায় মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে কৃষকের মৃত্যু

    নোয়াখালীতে মেঘনায় মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে কৃষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে মো: এরশাদ (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সন্দ্বীপের জাহাজমারা এলাকার মেঘনা নদীর তীরে তার লাশ ভেসে ওঠে। পরে স্থানীয় লোকজন লাশটি উদ্ধার করেন।

    নিহত এরশাদ উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরক্লার্ক গ্রামের আবদুস সোবহানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক এবং চার সন্তানের জনক।

    নিহতের ভগ্নিপতি (বোনের স্বামী) মো: নুর উদ্দিন বলেন, এরশাদ কৃষি কাজ করত। পাশাপাশি মেঘনা নদীতে জাল দিয়ে চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ ধরত। মঙ্গলবার এরশাদ মাছ ধরার জন্য জাল নিয়ে সন্দ্বীপের জাহাজমারা এলাকার মেঘনা নদীতে যায়। এরপর থেকে তার সাথে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ ছিল না। স্থানীয় লোকজন নদীর তীরে জালসহ তার লাশ ভাসতে দেখেন।

    নুর উদ্দিনের ভাষ্য, এরশাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। মাছ ধরার সময় জোয়ারের শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, নিহতের স্বজনদের সাথে কথা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তারা লাশ নিয়ে ঘাটে আসছে। সেখানে লাশ দেখে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া না গেলে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেয়া হবে।

  • বিছানার নিচ থেকে পাইপগান-কার্তুজ উদ্ধার, গ্রেপ্তার যুবক

    বিছানার নিচ থেকে পাইপগান-কার্তুজ উদ্ধার, গ্রেপ্তার যুবক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সেনবাগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান, একটি কার্তুজ ও দুটি চাপাতি উদ্ধার করেছে। অবৈধ অস্ত্র নিজ হেফাজতে রাখার দায়ে মো. জাবেদ হোসেন (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার।

    এর আগে, গতকাল রোববার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণুপুর এলাকার কালা মিয়ার বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার জাবেদ হোসেন ওই গ্রামের মো. সিরাজ উদ্দিন মিন্টুর ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সেনবাগ থানা-পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাবেদের বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার শয়নকক্ষের বিছানার নিচ থেকে একটি দেশীয় তৈরি লোহা ও কাঠ সংযুক্ত পাইপগান, একটি কার্তুজ এবং দুটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে অবৈধ অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার আরো জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে সেনবাগ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • নোয়াখালীতে পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় আসামির মৃত্যু

    নোয়াখালীতে পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় আসামির মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে মো: সোহাগ চৌধুরী (৩৫) নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান।

    তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, তার বিরুদ্ধে থানায় ৬টি মামলা রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশকে মামলার বাদীর সাথে কথা বলতে দেখে তিনি দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী ইদ্রিস মিয়া বাজার ওরফে নবীর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মো: সোহাগ চৌধুরী একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চর উরিয়া গ্রামের নূর নবী চৌধুরীর ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চরজব্বর থানা পুলিশের একটি দল ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সোহাগকে গ্রেফতারের জন্য ইদ্রিস মিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পড়ে গিয়ে নিহত হন।

  • ডিবি পরিচয়ে গাড়িতে তোলা হয় ব্যবসায়ীকে, ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের পর রাস্তায় নিক্ষেপ

    ডিবি পরিচয়ে গাড়িতে তোলা হয় ব্যবসায়ীকে, ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের পর রাস্তায় নিক্ষেপ

    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে এক ব্যাংক এজেন্টের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার দুপুরের দিকে চরহাজারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের এম মজিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা এ সময় ওই ব্যাংক এজেন্টকে অস্ত্রের মুখে হাতকড়া পরিয়ে ছিনতাই করে।

    ভুক্তভোগী ব্যাংক এজেন্টের নাম আবদুর রহমান। তিনি ইসলামী ব্যাংক আবু মদিনা আউটলেট এজেন্ট শাখার ইনচার্জ ও এজেন্ট ব্যবসায়ী। আবদুর রহমান অভিযোগ করেন, আজ বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার দিকে তিনি ব্যাংক শাখা থেকে ক্যাশ ১২ লাখ টাকা তুলে মোটরসাইকেলে নিজ গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। চরহাজারী ১ নম্বর ওয়ার্ডের এম মজিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একটি প্রাইভেট কারে পাঁচজনের একদল দুর্বৃত্ত তাঁর গতিরোধ করে।

    আবদুর রহমানের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দেয়। এরপর তাঁর কাছে মাদক রয়েছে বলে দাবি করে তারা। একপর্যায়ে তাঁর গায়ে পিস্তল ঠেকিয়ে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে জোর করে গাড়িতে তোলে। গাড়ির ভেতর তাঁর চোখ-মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। এরপর অস্ত্রের মুখে ১২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। টাকা ছিনতাইয়ের পর কবিরহাট উপজেলার নবীর দোকানের পাশে একটি স্থানে তাঁকে হাত-চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

    ‍স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবদুর রহমান সাদা রঙের পাঞ্জাবি পরা অবস্থায় মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় কালো জ্যাকেট ও সাধারণ পোশাক পরা পাঁচজন তাঁকে ঘিরে ধরে অস্ত্র দেখিয়ে প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তাঁরা জানতে পারেন, আবদুর রহমান ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এবং তাঁর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল হাকিম প্রথম আলোকে বলেন, সংবাদ পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত ও অর্থ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে তখনো পর্যন্ত লিখিত এজাহার বা আনুষ্ঠানিক মামলা করা হয়নি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

    নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও তৎপর রয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘাতের ঘটনা ঘটে। গতকাল মধ্যরাতের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলমান সংঘর্ষে এক সাংবাদিকসহ অন্তত ৯ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে এক বহিরাগতকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

    অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তবে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের পকেট গেট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। কঠোরভাবে শিক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করার পরই হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে প্রক্টরিয়াল বডি সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যৌথ নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

  • নোয়াখালীতে নিখোঁজের ১ দিন পর কলেজশিক্ষকের লাশ উদ্ধার

    নোয়াখালীতে নিখোঁজের ১ দিন পর কলেজশিক্ষকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নিখোঁজের এক দিন পর মাহমুদুন নবী ওরফে সম্রাট (৩৯) নামে এক কলেজশিক্ষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা আলী আহাম্মদের বাড়ির সামনের মসজিদের পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত মাহমুদুন নবী ওরফে সম্রাট ওই এলাকার মইনুল হক রতনের ছেলে। তিনি স্থানীয় ওয়েস্ট ব্যাংক কলেজের শিক্ষক ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে সম্রাট বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। সোমবার বাড়ির পাশে মসজিদের পুকুরে তার লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে লাশ শনাক্ত করেন।

    কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করি। এরপর ঘটনাস্থলেই লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।

    তিনি আরো বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

  • নোয়াখালীতে জোড়া খুনের মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

    নোয়াখালীতে জোড়া খুনের মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে গুলিতে দুজন নিহতের ঘটনায় করা জোড়া খুনের মামলায় প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলার অপর দুই আসামি পারুল ও ফরহাদকে খালাস দেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে নোয়াখালীর অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক তৌহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল বেগমগঞ্জ উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মনু মিঝি বাড়িতে পুকুরের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সবুজের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে সেতারা বেগম ও খলিল নিহত হন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। ঘটনার পর আবদুস সহিদ বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির জিআর নম্বর ৪৯৯/১৩। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি জসিম উদ্দিন বাদল বলেন, প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুই আসামি পারুল ও ফরহাদকে খালাস দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামছুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

  • ছাত্রদল নেতার অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল,থানায় অভিযোগ

    ছাত্রদল নেতার অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল,থানায় অভিযোগ

    নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা ছাত্রদল নেতা এ এইচ সৌরভকে নিয়ে একটি অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

    এটি এ আই দিয়ে বানানো ভুয়া ভিডিও দাবি করে চাটখিল থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, ছাত্রদল নেতা এ এইচ সৌরভ বলেন, আমার সুনাম নষ্ট করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এ আই দিয়ে ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

    এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় অভিযোগ করছেন বলে তিনি জানান।

  • নোয়াখালী থেকে প্রতিদিন মিলতে পারে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

    নোয়াখালী থেকে প্রতিদিন মিলতে পারে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

    নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান মিলেছে। ৪৫ দিন খনন ও ১৫ দিন ডিএসটি টেস্ট শেষে জানা যাবে মজুদকৃত গ্যাসের পরিমাণ। তবে কূপটি সফলভাবে খনন ও ডিএসটি পরীক্ষা সম্পন্ন হলে প্রতিদিন এখান থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) এই নতুন কূপটির খননকাজ শুরু করে। আজ বুধবার সকাল থেকে পুরোদমে চলছে খননের কাজ। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্প’।

    বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে কূপটি মাটির নিচে ১ হাজার ৫৫০ মিটার খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান জানান, ৪৫ দিনের মধ্যে খননকাজ ও ১৫ দিনের ডিএসটি টেস্ট শেষে এখানে মজুদ করা গ্যাসের পরিমাণ জানা যাবে। গতকাল মঙ্গলবার খননকাজ শুরু হয়েছে এবং এটি একনাগাড়ে চলবে। ১ হাজার ৫৫০ মিটার খননের জন্য প্রাথমিকভাবে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন সোহেল বলেন, ‘গ্যাসপ্রাপ্তির খবরে আমরা আনন্দিত। আমরা চাই গ্যাস জাতীয় সম্পদ জাতীয় গ্রীডের পাশাপাশি এটি সেনবাগ এবং নোয়াখালীর জনগণের মাঝে যাতে দেওয়া হয়। সেজন্য মাননীয় সংসদ সদস্য ও বাপেক্স কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাই।’

  • চোরাই মোটরসাইকেলসহ দুই চোর  গ্রেপ্তার

    চোরাই মোটরসাইকেলসহ দুই চোর গ্রেপ্তার

    নোয়াখালীতে বিডিনিউজের জেলা প্রতিনিধি আবু নাছের মঞ্জুর চুরি হওয়া মোটরসাইকেলসহ দুটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তাররা হলেন হাতিয়া উপজেলার শূণ্যের চর এলাকার মিরাজ উদ্দিনের ছেলে মো. ফয়সাল (৩৫) এবং সুবর্ণচর উপজেলার চর আলাউদ্দিন এলাকার রফিক উল্লাহর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩২)।

    সুধারাম মডেল থানার পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কাঞ্চন মেম্বারের পুল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই রাতে নোয়াখালী জেলা শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিডিনিউজ ও ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আবু নাছের মঞ্জুর মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরদিন তিনি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

    এদিকে, প্রায় দুই মাস আগে সোনাপুর এলাকা থেকে জয়দেব নামে এক যুবকের মোটরসাইকেল চুরি হয়। শুক্রবার গ্রেপ্তার ফয়সাল মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার কথা বলে জয়দেবের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেন। পরে মোটরসাইকেল ফেরত দিতে গড়িমসি করলে জয়দেব ও তার বন্ধুরা কৌশলে ফয়সাল ও জাহাঙ্গীরকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে পুলিশকে খবর দেন।

    খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানার এসআই ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে প্রথমে আবু নাছের মঞ্জুর মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। পরে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই জয়দেবের চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়।

    সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ফয়সাল ও জাহাঙ্গীর আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এক জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে অন্য জেলায় পাচার করে আসছিল। সম্প্রতি নোয়াখালী থেকেও তারা আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরি করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • নোয়াখালীতে আলোচিত শিবলু হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

    নোয়াখালীতে আলোচিত শিবলু হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

    নোয়াখালীর চাটখিল থানার বহুল আলোচিত আতিকুর রহমান শিবলু (২৯) হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি শাহপরান ওরফে রুদ্রকে (২৭) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। পরে তাকে চাটখিল থানায় সোপর্দ করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক প্রেস রিলিজে এই তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১১-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিথুন কুমার কুন্ড। এর আগে, বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে সোনাইমুড়ী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার শাহপরান নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের সাহাপাড়া এলাকার মো: রবিউল আলম চৌধুরীর ছেলে।

    র‌্যাব-১১, নোয়াখালী ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে সোনাইমুড়ী থানাধীন আমিশাপাড়া বারাহীনগর এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের সামনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আসামি শাহপরান ওরফে রুদ্রকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

    মামলার এজাহার ও প্রাথমিক পর্যালোচনা থেকে জানা যায়, চাটখিল উপজেলার মোস্তাফিজুর রহমানের (৫৬) ছেলে কাতারপ্রবাসী আতিকুর রহমান শিবলু ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ২টার দিকে শিবলুর মোবাইল থেকে তার বাবাকে ফোন করে জানানো হয়, তার ছেলে আহত অবস্থায় হিটারলাইনের দোকানের পশ্চিমে রাস্তার উপর পড়ে আছে।

    শিবলুর বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে না পেয়ে ওই নম্বরে পাল্টা ফোন করলে ১ নম্বর আসামি বলেন, শিবলুকে নিয়ে আসছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ১ নম্বর আসামি আহত শিবলুকে টেনেহিঁচড়ে তার বাবার সামনে নিয়ে এসে দ্রুত পালিয়ে যান। রক্তাক্ত শিবলু চিৎকার করে জানান, আসামিরা তার বাম হাত ভেঙে ফেলেছে।

    মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিবলুকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পরে চাটখিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।

    অবশেষে র‌্যাব-১১ এর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এক বছরেরও বেশি সময় পর এই মামলার অন্যতম আসামি শাহপরানকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলো।

  • নোয়াখালীতে ৮০ হাজার ইয়াবা পাচারকালে আটক ২

    নোয়াখালীতে ৮০ হাজার ইয়াবা পাচারকালে আটক ২

    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ৮০ হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি জিপ গাড়িও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন।

    এর আগে একই দিন ভোরে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর এলাকার রূপসা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় বেহুলা ইউনিয়নের ইটমুনি হেতালিয়া পাড়ার মৃত মোজাফফর আহমদ সিকদারের ছেলে মো. পারভেজ (৪২) এবং একই গ্রামের শেখ চাঁন মিয়ার ছেলে মো. বিপ্লব (৪৮)।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এএনএম ইমরান খান ও বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন কালো রঙের একটি হার্ডজিপে তল্লাশি চালিয়ে পেছনের ডান পাশের দরজার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ইয়াবার চালান উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাদা স্কচটেপে মোড়ানো ৪১টি প্যাকেটের মধ্যে থাকা ১৯৬টি নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিব্যাগে মোট ৮০ হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবা রাখা ছিল।

    পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার পারভেজের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে নয়টি মামলা রয়েছে।

  • নোয়াখালীর চাটখিলে শিশু ধর্ষণ-হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

    নোয়াখালীর চাটখিলে শিশু ধর্ষণ-হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

    নোয়াখালীর চাটখিলে পাঁচ বছরের শিশু আসমা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

    সোমবার সকালে নোয়াখালীর বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তারের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ চার বছরের বিচারিক কার্যক্রম শেষে অবশেষে সর্বোচ্চ শাস্তির রায় পেলো ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এর আগে তিন দফা রায়ের তারিখ পরিবর্তনের পর ৬ জুলাই রায় ঘোষণার চূড়ান্ত দিন ধার্য করা হয়েছিল।

    মামলার নথি সূত্রে জানা যায়— আসমা আক্তার চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের মেয়ে। সাজাপ্রাপ্ত একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেন একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং নিহত শিশুটির সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

    ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু আসমা। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ৯ দিন পর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আসামি শাহাদাতের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আসমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই শাহাদাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • হাতিয়ায় বাসের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত

    হাতিয়ায় বাসের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত

    নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাসের ধাক্কায় মো: সোহেল মাহমুদ (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হরণী ইউনিয়নের সুবর্ণচর-চেয়ারম্যানঘাট সড়কের বয়ারচর মানিক কাউন্টারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, হরনী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সোহেল মাহামুদ মেঘনা নদীর ভাঙনের কারণে পরিবার নিয়ে বর্তমানে সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের ফরেস্ট সিরাজের বাড়িতে বসবাস করছেন।

    বুধবার সকালে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে চানন্দী ইউনিয়নের নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। যাত্রাপথে হরণী ইউনিয়নের বয়ারচর মানিক কাউন্টার এলাকায় পৌঁছালে একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে যান।

    দুর্ঘটনায় তিনি পেট, হাত ও পায়ে আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে দুপুর সোয়া ১২দিকে তার মৃত্যু হয়।

    হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কবির হোসেন জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি।

  • ৫৪ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন জাহাজডুবিতে, যখন ফিরলেন বয়স ৮০ পেরিয়েছে

    ৫৪ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন জাহাজডুবিতে, যখন ফিরলেন বয়স ৮০ পেরিয়েছে

    বাড়ির আঙিনায় বৃদ্ধ এক মানুষকে দেখে ভিড় জমে যায়। বৃদ্ধ মানুষটি নিজের পরিচয় দিয়ে বলছিলেন, তিনি এ বাড়িরই সন্তান। স্ত্রী-সন্তান সবাইকে ফেলে গেছেন এখানে। হিন্দি আর ভাঙা বাংলা মিশিয়ে বলা তাঁর কথাগুলো সবার কাছে খুব বিস্ময়কর ঠেকছিল। স্ত্রী, মা–বাবাসহ যাঁদের নাম বলেছেন, তাঁদের কেউই আর বেঁচে নেই। সব বিবরণ দেখে একজন তাঁকে চিনতে পারেন। চিনতে পারলেও বিশ্বাস হচ্ছিল না তাঁরও। এমন গল্প যে রূপকথাকেও হার মানায়। বাড়ির লোকজন জানতে পারে, ৫৪ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া ছৈয়দ আহম্মদ নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছেন।

    ছৈয়দ আহম্মদের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীদিয়া গ্রামে। ৫ মে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়ির লোকজন তাঁকে মৃত বলেই জানত। স্ত্রী, মা–বাবা তাঁর অপেক্ষায় থেকেই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন। জাহাজের চাকরির জন্য যখন বাড়ি ছাড়েন, তখন তরুণ ছিলেন তিনি। বাড়িতে স্ত্রী আর চার মাস বয়সী ছেলেকে ফেলে গিয়েছিলেন। এখন ৮৩ বছর চলছে তাঁর। বয়সবের ভারে ন্যুব্জ। ছেলে নূর হোসেনও ৫৫ বছরে পা দিয়েছে। বাবা দেখতে কেমন, তা তাঁর স্মৃতিতে থাকার কথা নয়। সে হিসেবে তিনি প্রথমবারের মতো বাবাকে দেখলেন।

    চট্টগ্রামের একটি কার্গো জাহাজে শ্রমিকের কাজ করতেন ছৈয়দ আহম্মদ। ৫৪ বছর আগের এক ঝড়ে জাহাজটি কক্সবাজারের উপকূলের কাছাকাছি কোথাও ডুবে যায়। এর পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। স্বজনেরাও ধরে নিয়েছিলেন তিনি আর বেঁচে নেই। তবে সেই ধারণা ভেঙে তিনি ফিরেছেন। ছৈয়দ আহমদকে দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষজন ছুটে আসেন। অনেকেই তাঁর কাছে হারিয়ে যাওয়া ও ফিরে আসার গল্প শুনতে চাইছেন।

    ছৈয়দ আহম্মদের এক সৎভাই আবুল খায়ের তাঁকে চিনতে পেরেছেন। বর্তমানে তিনি সেই ভাইয়ের বাসায় রয়েছেন। সেখান থেকেই মুঠোফোনে তিনি শনিবার বিকেলে বলেন, যখন ঝড় শুরু হয়, তখন তাঁদের কার্গো জাহাজটি কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকায় ছিল। এরপর জাহাজটি ডুবে যায়। জাহাজে অন্যদের কী পরিণতি হয়েছিল, সেসব তাঁর মনে নেই। শুধু মনে আছে, তিনি দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে ছিলেন। এরপর ভারতীয় নৌবাহিনী তাঁকে উদ্ধার করে। ভারতেই তাঁর চিকিৎসা হয়। এরপর সেখান থেকে ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রার তাজমহল এলাকায় চলে যান। দেশে ফেরা পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন।

    ছৈয়দ আহম্মদের দাবি, তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট পেয়েছিলেন। হঠাৎ তিনি স্বপ্নে ছেলেকে দেখতে পান। এরপর তিনি দেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়েই তিনি দেশের আসার চেষ্টা করছিলেন। তবে তাঁর এসব কাগজপত্র চুরি হয়েছে। পরে যশোর সীমান্তে এসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে নিজের পরিস্থিতির কথা জানালে তারা বাংলাদেশে আসতে সহায়তা করে। এরপর ঢাকা হয়ে নোয়াখালী ও পরে সেখান থেকে হাতিয়ায় পৌঁছে মানুষজনকে জিজ্ঞেস করে নিজের বাড়ি খুঁজে বের করেন।

    ছৈয়দ আহম্মদ জানান, যশোর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর তিনি বিজিবির সহায়তা নেন। তিনি বিজিবিকে প্রথমে ঢাকায় যাওয়ার কথা বলেন। তখন বিজিবি তাঁকে যশোর থেকে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে তাঁকে ট্রেনে তুলে দেয়। ট্রেন থেকে তিনি কমলাপুরে নামেন। কমলাপুর স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীদের নোয়াখালীর সোনাপুর যাওয়ার কথা বললে তাঁরা তাঁকে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার জন্য একটি রিকশায় তুলে দেন। সেখানে গিয়ে তিনি সোনাপুরের বাসে উঠে নোয়াখালী আসেন। সোনাপুর থেকে সিএনজি অটোরিকশায় আসেন হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট। চেয়ারম্যানঘাট থেকে নদী পার হয়ে নলচিরা ঘাটে যান।

    নলচিরা ঘাটে যাওয়ার পর ছৈয়দ আহম্মদ নিজের এলাকা লক্ষ্মীদিয়ার কথা বলে একটি রিকশা নেন। রিকশা থেকে নামার পর তিনি স্থানীয় লোকজনকে তাঁর ছেলে ও ভাইয়ের পরিচয় দেন। সেই সঙ্গে নিজের পরিচয়ও দেন। শুরুতে ছেলেসহ স্থানীয় লোকজন তাঁকে চিনতে পারছিলেন না। পরে তাঁর ভাই আবু বকরের ছেলে আক্তার হোসেন তাঁর বাবার কাছে শোনা কাহিনির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় ছৈয়দ আহম্মদকে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যান।

    দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ভারতে অবস্থানের কারণে ছৈয়দ আহম্মদ নিজের মাতৃভাষাও অনেকখানি ভুলে গেছেন। বেশির ভাগ কথাই বলেন হিন্দিতে। তিনি জানান, দীর্ঘ ৫৪ বছরের মধ্যে বেশির ভাগ সময়ই তাঁর কেটেছে আজমির শরিফে।

    ছৈয়দ আহম্মদের সৎভাই আবুল খায়ের বলেন, ‘ভাই নিখোঁজ হওয়ার সময় আমার বয়স ছিল ১০ থেকে ১১ বছর। তখন তাঁর ছেলে নূর হোসেনের বয়স মাত্র কয়েক মাস। দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় আমরা ধরে নিয়েছিলাম, তিনি আর বেঁচে নেই। এত বছর পর ভাইকে ফিরে পাব, কখনো ভাবিনি। তাঁর মুখও প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম। এখন তাঁর কথা শুনে পুরোনো অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে।’

    এদিকে জীবনে প্রথমবার বাবাকে কাছে পেয়ে খুশি ছেলে নূর হোসেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জন্মের পর কখনো বাবাকে দেখিনি। এখন তিনি ফিরে এসেছেন, এটা বিশ্বাসই হচ্ছে না।’

    তবে বাবাকে নিজের বাড়িতে রাখতে না পারার অভিযোগও করেছেন তিনি। নূর হোসেনের দাবি, তাঁর চাচাতো ভাইয়েরা ছৈয়দ আহম্মদকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। তাঁর কাছে আসতে দিচ্ছেন না। এ ঘটনায় তিনি হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

    হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন বলেন, ৫৪ বছর পর ফিরে আসা ছৈয়দ আহম্মদকে নিয়ে তাঁর ছেলে একটি জিডি করেছেন। বিষয়টি পারিবারিক। পরিবার চাইলে পুলিশ আইনগত সহায়তা দেবে।

  • সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাৎ

    সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাৎ

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে কম্পিউটার টাইপিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনার পর অভিযুক্তকে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অফিসে বদলি করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শাহাদাত ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করতেন। পরে তিনি ব্যাংকে টাকা জমা না দিয়ে নিজের কাছে থাকা একটি নকল সিল শিক্ষার্থীদের রসিদে ব্যবহার করতেন। শিক্ষার্থীরা ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর দেখে আশ্বস্ত হলেও প্রকৃতপক্ষে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে জমা হতো শাহাদাতের পকেটে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ধরনের জালিয়াতিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি রসিদ শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে নকল সিল ব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে এই জালিয়াতি চললেও গত ১৪ এপ্রিল শাহাদাতের সিলের বানানে একটি অসংগতিতে সব রহস্য ফাঁস হয়ে যায়।

    জানা গেছে, অগ্রণী ব্যাংক নোবিপ্রবি শাখার আসল সিলে ইংরেজি অক্ষরে ‘Cash Receive’ লেখা রয়েছে। কিন্তু শাহাদাতের তৈরিকৃত নকল সিলে লেখা ছিল ‘Cash Received’। রসিদে ইংরেজি শব্দের এই অসংগতি একই দপ্তরের অন্য কর্মকর্তাদের নজরে এলে অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

    সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অল্প সময়ে তার এই জালিয়াতি ধরা পড়ায় টাকার অঙ্ক বড় হয়নি। এছাড়া কেবল শাহাদাতের একার পক্ষে এত বড় জালিয়াতি করা সম্ভব নয়। এর পেছনে দপ্তরের ভেতরে বা বাইরে কোনো প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশও থাকতে পারে।

    জানা গেছে, ঘটনা তদন্তে গত ৩০ এপ্রিল তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে। এছাড়া রেজিস্ট্রার দপ্তরের কাউন্সিল শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং হিসাব পরিচালক দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হুমায়ুন কবিরকে সদস্য করা হয়েছে।

    ব্যাংকের সিল জালিয়াতির বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংক নোবিপ্রবি শাখার ম্যানেজার জুলফিকার হায়দার বলেন, এক কর্মকর্তা আমাদের ব্যাংকের অফিসারকে মোবাইলে কয়েকটি রসিদের ছবি দেখাতে এসেছিলেন। তখন আমরা সেটি আমাদের সিল নয় বলে শনাক্ত করি।

    তিনি আরো বলেন, ব্যাংকের সিল অত্যন্ত নিরাপত্তার সঙ্গে করা হয়। কারো পক্ষে সেটি নকল করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে স্বাক্ষরগুলো চেক করলে জালিয়াতি করা হয়েছে কি না, সেটি সহজেই ধরা যায়। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখছি।

    এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ডেপুটি কন্ট্রোলার শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার পর দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট আসার পর প্রশাসন পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত। ইতোমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, এই মুহূর্তে পুরো ঘটনা সম্পর্কে বলতে পারছি না। তবে আমরা তদন্ত কমিটির সদস্যরা বসেছিলাম।

    তদন্তের জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কাছে বিভিন্ন ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছে। ডকুমেন্টগুলো পর্যালোচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাক্ষাৎকার শেষে পূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

    তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে একজনের নাম এসেছে। এখন শাহাদাত কতটুকু দোষী বা আর কেউ জড়িত আছে কি না, সেটা তদন্ত পুরোপুরি শেষ হলে জানা যাবে।

    এ বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু বিচারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শাহাদাতকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি অনলাইনে মেসেজ দিয়েও কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া যায়নি।

  • চিরকুট লিখে আ.লীগ নেতার আত্মহত্যা

    চিরকুট লিখে আ.লীগ নেতার আত্মহত্যা

    নোয়াখালীর সেনবাগে ঋণের চাপে গলায় ফাঁস দিয়ে কামাল উদ্দিন মজুমদার নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা আত্মহত্যা করেছেন।

    মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ‌১২টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লুধুয়া দিঘির পাড় এলাকার নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন তিনি।

    নিহত কামাল উদ্দিন মজুমদার উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লুধুয়া দিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

    কেশারপাড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলেক হোসেন বলেন, ঋণের চাপে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ছিলেন। চিরকুটে তিনি ঋণের বিষয়টি উল্লেখ করে গেছেন।

    কেশারপাড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. বেলাল ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গেছি। মূলত তার পিছনে তার পরিবারে হাল ধরার মতো আর কেউ ছিল না। তার আয়-রোজগারে সংসার চলত। ঋণের চাপে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

    সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কামাল মজুমদার পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিল। সোমবার দিবাগত রাতে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘরের সামনে কাঁঠাল গাছের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

    তিনি বলেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার স্বজনদের কাছে ৬ পৃষ্ঠার একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। তাতে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ঋণের চাপ ও অভাব অনটনকে দায়ী করা হয়েছে। তবে চিরকুট নিহত কৃষকের হাতের লেখা কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। আজকে তার এক লাখ টাকারও বেশি ঋণের টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল।

    এসআই আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হবে।

  • নোয়াখালীর পরিষ্কার বাজার আসলেই কি পরিষ্কার, কেন এমন নাম

    নোয়াখালীর পরিষ্কার বাজার আসলেই কি পরিষ্কার, কেন এমন নাম

    চারপাশে সবুজে ঘেরা গ্রাম। গ্রামের চারদিক থেকে চারটি পাকা সড়ক এসে মিলেছে এক জায়গায়, একটি বাজারে। সেই বাজারটির নাম পরিষ্কার বাজার। নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের উত্তর চরজব্বর গ্রামের এই বাজারের নাম শুনলেই যে কারওই মনে কৌতূহল জাগতে পারে, বাজারটি আসলেই কি পরিষ্কার? কেনই–বা বাজারের এমন নাম হলো?

    এসব জানতে সম্প্রতি গিয়েছিলাম সুবর্ণচরের চরজব্বর এলাকায়। সেখানে পরিষ্কার বাজার ঘুরে রাস্তা-দোকানপাট বেশ পরিচ্ছন্নই দেখা গেছে। কিন্তু এমন নামকরণের পেছনে কেবল বাজারের পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতাই নয়, আছে আরও এক কাহিনি। বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর মুখে শোনা সে গল্প বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। আজ থেকে অর্ধশতাব্দীর বেশি বছর আগের কথা। আক্তারুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি ছিলেন এই এলাকার বাসিন্দা। ব্যক্তিজীবনে লেনদেন থেকে সবকিছুতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেন। যাঁকে, যে কথা দিতেন, সেটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করতেন। গ্রামবাসীর কথায় ‘ওয়াদার বরখেলাপ’ তিনি কখনোই করতেন না। পোশাক–পরিচ্ছদেও তিনি সব সময় থাকতেন পরিচ্ছন্ন। এসব কারণে গ্রামের সবাই ‘পরিষ্কার’ নামে ডাকতেন।

    সত্তরের দশকে আক্তারুজ্জামান তাঁর বাড়ির পাশের সড়কের মোড়ে একটি মুদিপণ্যের দোকান নিয়ে বসা শুরু করেন। তাঁর দোকান ঘিরেই গভীর রাত অবধি চলত আশপাশের এলাকার মানুষজনের আড্ডা। পরে সেখানে আরও কয়েকটি দোকান হয়। পরে দোকানগুলো ঘিরে সেখানে হাট মেলান আক্তারুজ্জামান ওরফে পরিষ্কার। প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার হাট বসতো। গ্রামের লোকজন তাঁর নাম অনুসারে বাজারের নাম দেন পরিষ্কার বাজার। এর পর থেকে ওই বাজারটি সবার কাছে পরিষ্কার বাজার নামে পরিচিতি পায়। বর্তমানে সরকারিভাবেও এই এলাকার নাম পরিষ্কার বাজার।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিজের নামে বাজার প্রতিষ্ঠার পর ব্যক্তি জীবনের মতো বাজার পরিচালনাসহ সবকিছুতেই স্বচ্ছতা বজায় রাখতেন আক্তারুজ্জামান। বাজারটিকেও সব সময় পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে তিনিসহ সব ব্যবসায়ী সজাগ থাকতেন। প্রায় দুই দশক আগে ৮০ বছর বয়সে আক্তারুজ্জামানের মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর দেখানো পথে এখনো চলছে পরিষ্কার বাজার।

  • থানার পুকুরে মিলল ৫ আগস্ট লুট হওয়া রাইফেল

    থানার পুকুরে মিলল ৫ আগস্ট লুট হওয়া রাইফেল

    নোয়াখালীর চাটখিল থানার পুকুর থেকে লুট হওয়া একটি চায়নিজ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাইফেলটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ৫ আগস্ট চাটখিল থানায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করে ওই রাইফেল লুট করা হয়। তবে আগ্নেয়াস্ত্রটি কে বা কারা থানার পুকুরে ফেলে গেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ।

    চাটখিল থানা-সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে থানার পুকুরে লুট হওয়া একটি চায়নিজ রাইফেল রয়েছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে থনার দুজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নেমে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাইফেলটি উদ্ধার করেন। তবে রাইফেলে কোনো গুলি ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, ৫ আগস্ট থানায় হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় লুট করে নেওয়া ওই অস্ত্র দুর্বৃত্তদের কেউ থানার পুকুরে ফেলে গেছে।

    ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন চাটখিল থানা থেকে আটটি এবং খিলপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে তিনটি অস্ত্র ও বিপুলসংখ্যক গুলি লুট হয়। এর মধ্যে থানার তিনটি চায়নিজ রাইফেল রয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে এ পর্যন্ত একটি চায়নিজ রাইফেল এবং চায়নিজ রাইফেলের ৩১২টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। লুট হওয়া বাকি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে থানা-পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া একটি চায়নিজ রাইফেল আজ বিকেলে থানার পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। তবে রাইফেলের ভেতর কোনো গুলি ছিল না। ওসি জানান, এ নিয়ে থানা থেকে লুট হওয়া ১১টি অস্ত্রের মধ্যে একটি উদ্ধার হলো। এর আগে উদ্ধার হয়েছিল চায়নিজ রাইফেলের ৩১২টি গুলি।

  • মিলনের ধোঁয়া ওঠা পিঠা মায়ের কথা মনে করায়

    মিলনের ধোঁয়া ওঠা পিঠা মায়ের কথা মনে করায়

    নোয়াখালী শহরে কর্মসূত্রে অনেকেই পরিবার ছাড়া একা থাকেন। কালেভদ্রে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পান তাঁরা। স্বজনদের সঙ্গ-সংস্পর্শের পাশাপাশি বাড়ির খাবারদাবারের স্বাদ থেকেও বঞ্চিত হতে হয় তাঁদের। এ ধরনের মানুষজনের অনেকেই মো. মিলনের কাছে আসেন পিঠা খেতে। গরম ধোঁয়া ওঠা পিঠা খেতে খেতে তাঁদের মায়ের কথা মনে পড়ে কি না, জানা যায় না। তবে মিলনের পিঠার স্বাদ যে কাউকে স্মৃতিকাতর করতেই পারে।

    রাত তখন ১০টার মতো বাজে। ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে পথঘাট। শহরের রাস্তায় লোকজন কমে এসেছে। তবে কলেজ রোডের কাশেম উকিল মোড়ে মো. মিলনের পিঠা বিক্রির ভ্যানগাড়ি ঘিরে অনেক মানুষের জটলা। কাছে যেতেই দেখা গেল, সারি সারি পাতিলে গরম ভাপা পিঠা, আর খোলায় চিতই পিঠা তৈরি হচ্ছে। গুড়, নারকেল, ভর্তা আর কাসুন্দির ঘ্রাণে ভরে আছে জায়গাটা। চুলা থেকে নামতেই গরম পিঠা হাতে তুলে নিচ্ছেন সামনে দাঁড়ানো লোকজন। এত রাতেও ভিড় বাড়ছিল। বিক্রেতা মিলন সেদিনকার মতো দোকান বন্ধ করতে চাইছিলেন। পরদিন একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে পিঠা সরবরাহের বায়না নিয়েছেন, তাই দোকান বন্ধ করতে হবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা।

    নোয়াখালী জেলার মাইজদীর লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী মিলন কখনো শহরের রাস্তার ধারে, কখনো শাখা সড়কের ব্যস্ততম মোড়ে, কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে কিংবা কারও কোনো অনুষ্ঠানে পিঠা বিক্রি করেন। পিঠা বিক্রি করেই চলে সংসার। চলছে সন্তানদের পড়ালেখা। দুই ছেলে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে এখন কলেজে। দূরদূরান্ত থেকেও অনেক আসেন তাঁর হাতে বানানো নানা ধরনের পিঠা খেতে।

    আট বছর ধরে পিঠা বিক্রি করছেন বলে জানালেন মিলন। ভাপা পিঠা, স্পেশাল ভাপা পিঠা, ঝাল চিতই, মিষ্টি চিতই, ডিম চিতই, রস চিতই, দুধ চিতই, হাঁস ও সাদা রুটি, মিষ্টি পুলি, নারকেল পুলি, পাটিসাপটা, ছাইয়া পিঠা, পানতোয়া পিঠা বিক্রি করেন তিনি। ঝাল চিতই, ডিম চিতই, ভাপা পিঠা ছাড়া বাকি পিঠাগুলো অর্ডার পেলে তৈরি করে সরবরাহ করেন। শহরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বাসাবাড়িতে প্রায় সময় তাঁর পিঠা সরবরাহের অর্ডার থাকে।

    মিলন জানান, ঝাল চিতইয়ের সঙ্গে মুখরোচক ভর্তা, যেমন ইলিশভর্তা, শর্ষেভর্তা, রসুনভর্তা, শিমভর্তা, ধনেভর্তা, চিংড়িভর্তা, কালিজিরাভর্তাও বিক্রি করেন তিনি। পিঠা বিক্রির টাকায় তাঁর সংসার চলে।

    একসময় মুদিপণ্যের দোকান করতেন মিলন। অনেক লোকসান গুনেছেন। ঋণের দায়ে পড়েছেন। এখন বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পিঠা বিক্রির টাকায় তাঁর সুখের সংসার।

    মিলনের দোকানের সামনে আলাপ হয় মো. সোহেলের সঙ্গে। গরম-গরম ভাপা পিঠা খেতে খেতে তিনি বলেন, চাকরির কারণে পরিবার ছেড়ে এখানে থাকছেন। ঠিকমতো বাড়ি যাওয়া হয় না। তা ছাড়া বাড়িতে মা–ও নেই। মা মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। শৈশবে শীতের রাতে কিংবা কুয়াশা মোড়ানো সকালে মা মাটির চুলায় ভাপা পিঠা তৈরি করতেন। মিলনের পিঠা মায়ের স্মৃতি এনে দিচ্ছে মনে।

    উৎসবের আয়োজন করেছে। এই অনুষ্ঠানে ভাপা পিঠা সরবরাহের অর্ডার নিয়েছেন তিনি। সে জন্য ভোরে এসে হাজির হয়েছেন। গরম-গরম পিঠা তৈরি করে সরবরাহ করছেন। কারও কম মিষ্টি পছন্দ, কারও বেশি মিষ্টি। যে যেভাবে চাইছেন, তাঁকে সেভাবেই পিঠা তৈরি করে দিচ্ছেন।

    মিলনের পিঠা খেতে ১০ বছরের নাতিকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন জয়নাল আবদিন (৬০)। দুজনে মিলে বেশ কয়েকটা ভাপা পিঠা শেষ করলেন। খেতে খেতে জয়নাল আবদিন প্রথম আলোকে বলেন, এখন শহরের জীবনে নানা ব্যস্ততা। বাচ্চাদের পড়ালেখা, সংসারের নানা কাজকর্মের চাপের কারণে বাসাবাড়িতে নারীরা আগের মতো পিঠা বানানোর সময়ও পান না। মিলনের পিঠার স্বাদ একেবারে বাসাবাড়ির মতো।

  • নোয়াখালীতে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

    নোয়াখালীতে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

    নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের আড়াইশ হত-দরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে আইএফএসডি ফাউন্ডেশন। প্রতি বছরের মতো এবার অসহায়, শীতার্ত অসহায়, বাক-বিধবা ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে খুশি আয়োজকরা।

    বিকেলে পূর্ব চরবাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে কম্বলগুলো বিতরণের করা হয়।

    আয়োজকরা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইএফএসডি ফাউন্ডেশন দেশের শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে হতদরিদ্রদের উন্নয়ন ও জীবনযাপনে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। নোয়াখালীর উপকূলবর্তী এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অসহায় মানুষের জীবনযাপন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই আইএফএসডি ফাউন্ডেশন শীতকালীন কার্যক্রম ‘ঊষ্ণতার হাসি’ এই সকল অসহায় দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করে উষ্ণতার হাসি ফোটাতে উদ্যোগ গ্রহণ করে।

    কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— পূর্ব চরবাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল মো. সালেহ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন— আইএফএসডি ফাউন্ডেশন সভাপতি মো. মেহেদী হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব হোসেন শুভ, সাংবাদিক মিজানুর রহমান রিয়াদ, আবদুল বারী বাবলু, মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল, আরিফুর রহমানসহ আরও অনেকে।

  • ট্যাপের পানি বোতলজাত করে বিক্রি,  তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    ট্যাপের পানি বোতলজাত করে বিক্রি, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মিনারেল ওয়াটারের নামে সরাসরি লাইনের পানি বোতলে ভরে বিক্রি করায় তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পানি বোতলজাতকরণ, প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি না থাকায় ওই তিন প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    সোমবার বিকেলে জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার পৃথক স্থানে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসির আরাফাত।

    অভিযানে র‌্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

    পুকুর, খাল ও মাটির নিচ থেকে মটরের সাহায্যে ভর্তি করা হয় পানির ট্যাঙ্ক। তারপর সেই ট্যাঙ্ক থেকে ট্যাপের মাধ্যমে বোতলজাত করে মিনারেল ওয়াটার বলে তা বিক্রি হয় গ্রাহকের কাছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে নোয়াখালীতে তিনটি পানির কারখানায় যৌথ অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব ও উপজেলা প্রশাসন।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কারখানার কাগজপত্র হালনাগাদ না থাকা এবং কারখানার লাইসেন্স না থাকায় এশিয়া ড্রিংকিং ওয়াটারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ দাউদ হোসেন ফাইসালকে ৫০ হাজার টাকা, পিপাসা ড্রিংকিং ওয়াটারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ৫০ হাজার টাকা এবং এবি পিউর ড্রিংকিং ওয়াটারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরিফকে ৩০ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    লে. কমান্ডার মাহমুদুল হাসান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জরিমানা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ট্যাপের পানি বোতলজাত করে সুপেয় পানি বলে বাজারজাত করে আসছিল। র‌্যাব-১১ এর আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ পূর্বক উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় যৌথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উপরোক্ত কারখানা মালিকদের আর্থিকভাবে জরিমানা করে।

  • নোবিপ্রবিতে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘রান ফর ইউনিটি,’ ম্যারাথন

    নোবিপ্রবিতে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘রান ফর ইউনিটি,’ ম্যারাথন

    কনকনে ঠান্ডায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ৮ শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশ গ্রহণে ‘রান ফর ইউনিটি’ ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে এ ম্যারাথন দৌড় শুরু হয়ে বাংলাবাজার প্রদক্ষিণ করে ফটকেই শেষ হয়।

    নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অনলাইনে নিবন্ধন করেন প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী। নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। প্রতিযোগিতা শেষে ২০ জন বিজয়ীর মধ্যে পুরস্কার ও অংশগ্রহণকারীদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

    দৌড়ে প্রথম স্থান অর্জন করা শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, তরুণদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমি প্রথম হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই দৌড়েছি। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, সুস্থ, ইতিবাচক ক্যাম্পাস গড়তেই আমাদের এই প্রচেষ্টা। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন চলবে।

    এ সময় নোবিপ্রবি ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান সৈকত, ছাত্র অধিকার সম্পাদক বনি ইয়ামিন, অর্থ ও প্রচার সম্পাদক আবদুর রহমান, অফিস সম্পাদক মেহেদী হাসান, আইন সম্পাদক মাহবুবুল আলম তারেকসহ ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মাস্টার্স পাস সুমনের দিনে কৃষিকাজ রাতে ঝালমুড়ি বিক্রি করে চলে সংসার

    মাস্টার্স পাস সুমনের দিনে কৃষিকাজ রাতে ঝালমুড়ি বিক্রি করে চলে সংসার

    ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন- উদ্যোক্তা উন্নয়ন (প্রভাষক) পদে উত্তীর্ণ হয়ে ও জাতীয় মেরিট লিস্টে ৬৫তম আসীন হয়েও সনদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে চাকরি হয়নি। এখন দিনে কৃষিকাজ আর রাতে ঝালমুড়ি বিক্রি করে ৮ সদস্যের পরিবারের সংসার চালান। এ নিয়ে কোনো অসম্মান বোধ কিংবা আক্ষেপ নেই। বরং গর্ব করে বলেন, বেকার না থেকে কাজের মধ্যেই সময় যাচ্ছে, তৌফিক হলে খাবারের হোটেল ব্যবসা করব।

    বলছিলাম অনার্স মাস্টার্স (ব্যবস্থাপনা) শেষ করা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার স্বপ্ন ভাঙা যুবক আবুল কালাম সুমনের কথা। ২০১১ সালে নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে অনার্স (ব্যবস্থাপনা) এবং ২০১২ সালে একই কলেজ থেকে মাস্টার্স (ব্যবস্থাপনা) শেষ করেন। চেয়েছিলেন ভালো কোনো চাকরি অথবা শিক্ষকতা করবেন। এনটিআরসিএ কর্তৃক উদ্যোক্তা উন্নয়ন ‘প্রভাষক’ (ব্যবস্থাপনা থেকে যারা অনার্স শেষ করে তাদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয় থাকে) সনদপ্রাপ্ত হয়েও সে চাওয়া পূরণ হলো না।

    তিনি বলেন, ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন সিরিয়াল অনুযায়ী আমার চাকরি হওয়ার কথা। কিন্তু, আমার আগে যাদের চাকরি হয়েছে, তাদের চাকরি প্রথমবার স্থায়ী না হওয়ার কারণে, তারা দ্বিতীয় বার চাকরির আবেদনে সুযোগ পায়। যার ফলে আমার চাকরি হয়নি।

    পরে সিডিএসপি-৪ এর আওতায় ফিশারিজ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেছিলেন এবং প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েন। এসময় বাবার সঙ্গে কৃষি কাজ শুরু করেন। কৃষি ক্ষেত্রে তার সহযোগিতার জন্য হাতিয়া পৌরসভা কৃষি উপ-সহকারী মো. হাসান সার-বীজ প্রণোদনা প্রদান করেন বলে জানান তিনি।
    তিনি বলেন, বাবা-মা, ভাই-বোন ও স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারে তাদের ৮ সদস্য। সংসারে বাপের বড় ছেলে তিনি। নিজের এবং বর্গা মিলিয়ে প্রায় দুই একর জমি চাষ করেন। দিনে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করেন আর রাতে ঝালমুড়ি বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালান।

    নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ড- চরলটিয়া গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে আবুল কালাম সুমন। উদ্যোক্তা ও উদ্যমী মনোভাবের শিক্ষিত এ যুবক এখন প্রতি সন্ধ্যায় হাতিয়া কোর্টের উত্তর কোণে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন। যা গত কয়েকমাস ধরে চলছে।

    সম্প্রতি তার ঝালমুড়ির দোকানের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ঝালমুড়ি খাওয়ার জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাসহ নানান শ্রেণি পেশার মানুষ সেখানে ভিড় জমান।

    ঝালমুড়ি খাওয়া অবস্থায় হাতিয়া শহর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল বলেন, আবুল কালাম সুমন বেকার ও অলস যুবকদের কর্মমুখী হওয়ার জন্য একটি উদাহরণ। সুমন একজন ভালো মানুষ এবং উদ্যমী। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের উচিত এমন শিক্ষিত বেকারদের সহযোগিতা করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

    ঝালমুড়ি বিক্রি এবং ভবিষ্যৎ ইচ্ছা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার টাকার মতো ঝালমুড়ি বিক্রি করি। এতে খরচপাতি গিয়ে মোটামুটি কিছু টাকা থাকে। পুঁজি হলে খাবার হোটেল ব্যবসা করব।

    তার এ উদ্যমী কাজে সহযোগিতা করার বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) খোরশেদ আলম জানান, তার ডিপার্টমেন্টের কিছু ক্রাইটেরিয়া আছে। এ ক্রাইটেরিয়ার ভেতর কিংবা অন্য কোনোভাবে হলেও পর্যালোচনা করে একটা ব্যবস্থা নেব।

  • নোয়াখালী-৫ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে লড়বেন হুমায়রা নূর

    নোয়াখালী-৫ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে লড়বেন হুমায়রা নূর

    নোয়াখালী-৫ (কবিরহাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে শাপলা কলি প্রতীকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচন করবেন দলের যুগ্ম সদস্য সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হুমায়রা নূর।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

    বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে প্রথম ধাপের ১২৫ জন দলীয় মনোনীত প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করে এনসিপি। এতে নোয়াখালীর ৬টি আসনের মধ্যে ৩টি আসনে শাপলা কলি প্রতীকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    এগুলো হলো—নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনে ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ।

    নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী), নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) ও নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের প্রার্থী এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
    এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে হুমায়রা নূর বলেন, আপনাদের ভালোবাসা আর দোয়ায় দল আমাকে নোয়াখালী-৫ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে। এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়—এটি আপনাদের আস্থা ও সমর্থনের ফসল। আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে, আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে সামনে অগ্রসর হতে চাই। এলাকার উন্নয়ন, অধিকার ও জনগণের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করাই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য।

  • নিঝুমদ্বীপে বালু উত্তোলন, বিএনপির ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা

    নিঝুমদ্বীপে বালু উত্তোলন, বিএনপির ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা

    নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের সমুদ্র সৈকত থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বিএনপির ৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৪–৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

    শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) জাহাজমারা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

    আসামিরা হলেন, নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাবেক সহ সভাপতি মো. শাহেদ উদ্দিন, নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন, হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য রাসেল, নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী আব্দুর রহিম ও সমর্থক আফছার উদ্দিন।

    এজহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা নিঝুমদ্বীপ নামার বাজারের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে অবস্থিত সরকারি সমুদ্র সৈকত এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে মিলিত হয়। পরবর্তীতে তারা সরকারি সি-বিচ এলাকায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে ড্রেজার মেশিন স্থাপন করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে থাকে।

    এ সময় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বালু উত্তোলনে বাধা দিলে আসামিরা তাকে গালাগাল করে এবং খুন-জখমের হুমকি দেয়। তাদের এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে সরকারের প্রায় ১০ (দশ) লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

    এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেনের বন্দোবস্ত জমিতে চাষাবাদের জন্য বালু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজ পান নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী আব্দুর রহিম। তিনি নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেনের ড্রেজার মেশিন ভাড়া নিয়ে বালু উত্তোলন করেন। বালু উত্তোলনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। তারপর প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধ করেন এবং সরঞ্জাম জব্দ করে মামলা দায়ের করেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, সাবেক বিএনপি সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও আব্দুর রহিম নিঝুম দ্বীপ সী-বীচ এলাকা থেকে অবৈধভাবে ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করেছে। যা দ্বীপের পরিবেশ ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

    এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার বন্দোবস্ত জমিতে ধান হয়। কিন্তু জোয়ারে বালু আসায় ধান চাষ করতে কষ্ট হচ্ছিল। তাই বালু উত্তোলনের জন্য আব্দুর রহিমকে দায়িত্ব দিয়েছি। কে বা কারা গুজব বানিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করেছে এবং প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধ করেছে।

    হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা বলেন, মামলা দায়ের হয়েছে। এজহারভুক্ত আসামি ৬ জন এবং অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।