জাতীয় সংবাদ

  • বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তার নামে শরিয়াহকে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই: মামুনুল হক

    বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তার নামে শরিয়াহকে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই: মামুনুল হক

    সম্পদ হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সংসদে দ্রুত পাস করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তার কথা বলে শরিয়াহ ফরজ বিধানকে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই বলে, উল্লেখ করেন তিনি। মামুনুল হক, আইনটির ১২২এ ও ১২২বি ধারা পুনর্বিবেচনা করে আলেম-উলামা, মুফতি, ফকীহ ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন।

    সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আইনটি রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সংসদে পাস হয়েছে। জীবনকালীন ভোগাধিকার রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন বিধানটি শরিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।

    মামুনুল হক বলেন, বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে সেই নিরাপত্তার নামে এমন কোনো বিধান করা উচিত নয়, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা নির্ধারিত হেবা, ওয়াসিয়ত ও ফারায়েজের বিধান পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়। তার ভাষায়, জীবিত অবস্থায় হেবা এবং মৃত্যুর পর ফারায়েজ অনুযায়ী উত্তরাধিকার—দুটি সম্পূর্ণ পৃথক বিষয়। নতুন আইন কোনো ওয়ারিশকে তার শরিয়াহ নির্ধারিত অধিকার থেকে বঞ্চিত করার হাতিয়ার হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, ইসলামে হেবা কেবল কাগজে-কলমে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার বিষয় নয়; এর একটি নির্দিষ্ট শরয়ী কাঠামো রয়েছে। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী ইজাব, কবুল ও কবয হেবার মৌলিক বিষয়। বিশেষ করে গ্রহীতার বাস্তব দখল ও কর্তৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ। অথচ নতুন আইনে মালিকানা হস্তান্তরের পাশাপাশি দাতার জীবদ্দশা পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগ ও ব্যবহার তাঁর কাছেই রাখার সুযোগ রয়েছে। এতে প্রকৃত হস্তান্তর ও কবয কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    মামুনুল হক হেবা বণ্টনে সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচারের বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি সহিহ বুখারিতে বর্ণিত নু‘মান ইবনে বশীর (রা.)-এর হাদিসের উল্লেখ করে বলেন, তার পিতা তাকে বিশেষ একটি দান করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানতে চান, অন্য সন্তানদেরও অনুরূপ দেওয়া হয়েছে কি না। নেতিবাচক উত্তর পেয়ে তিনি বলেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার করো। পরে তার পিতা ওই দান ফিরিয়ে নেন।

    এ ছাড়া হেবা সম্পন্ন হওয়ার পর তা ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কঠোর সতর্কতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ বুখারির আরেকটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে মামুনুল হক বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার হেবা ফিরিয়ে নেয়, সে ওই কুকুরের মতো, যে নিজের বমি পুনরায় খায়।’

    তিনি বলেন, হেবা ইসলামী শরিয়াহর একটি স্বতন্ত্র বিধান। এর মালিকানা, কবয, দখল ও প্রত্যাহার সম্পর্কে শরিয়াহতে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। তার অভিযোগ, নতুন আইনটিতে ইসলামের হেবা ও ফারায়েজের বিধানের প্রতি অবজ্ঞার দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে।

    আইনটির পক্ষে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, এতে ইসলামী বিধান সম্পর্কে তার অজ্ঞতা কিংবা অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে। হেবা, ওয়াসিয়ত ও ফারায়েজের মৌলিক পার্থক্য যথাযথভাবে অনুধাবন না করে মুসলিম পারিবারিক আইনসংক্রান্ত বিধান প্রণয়ন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সরকারের পক্ষ থেকে নতুন বিধান সাধারণ হেবা বা মুসলিম আইনের হেবাকে প্রভাবিত করবে না বলা হলেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, বাস্তবে এই আইন হেবার শরয়ী কাঠামো পাশ কাটিয়ে সম্পত্তির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের নতুন ব্যবস্থা তৈরি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    বিশেষ করে দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় সম্পত্তির ভোগ ও নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রেখে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে তা হস্তান্তর করলে প্রকৃত কবয, পূর্ণ মালিকানা ও হস্তান্তরের চূড়ান্ততা নিয়ে শরয়ী প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

    মামুনুল হক আরো বলেন, হেবার মাধ্যমে যেন আল্লাহ নির্ধারিত ফারায়েজকে পাশ কাটিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ওয়ারিশকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পথ তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। জীবদ্দশায় কোনো ব্যক্তি এমনভাবে নির্দিষ্ট উত্তরাধিকারীর নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করলে, যাতে তাঁর মৃত্যুর পর অন্য ওয়ারিশরা কার্যত বঞ্চিত হন, তাহলে তা ইসলামের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার ন্যায়বিচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সংসদে বিলটি পাসের আগে শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার দাবি ওঠার পরও এটি দ্রুত পাস করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে জনমনে প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। হেবা, ওয়াসিয়ত ও ফারায়েজের মতো গুরুত্বপূর্ণ শরয়ী বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়নের আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, মুফতি, ফকীহ ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল।

    বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ তুলে মামুনুল হক বলেন, দলটি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সমুন্নত রাখা এবং মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামবিরোধী কোনো আইন না করার অঙ্গীকারও করা হয়েছে। তাহলে ইসলামের হেবা ও ফারায়েজের মতো সুস্পষ্ট শরিয়াহ বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন এত দ্রুত পাস করা হলো কেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    মামুনুল হক ‘সম্পদ হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর ১২২এ ও ১২২বি ধারা পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হলেও এর নামে হেবার শরয়ী বিধান ও আল্লাহ নির্ধারিত ফারায়েজকে দুর্বল করা যাবে না।

    মানুষের তৈরি কোনো আইনকে আল্লাহর নির্ধারিত বিধানের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করানোর যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ ধর্মপ্রাণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • শুধু সংযোগ নয়, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী কানেকটিভিটিই লক্ষ্য: আইসিটি মন্ত্রী

    শুধু সংযোগ নয়, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী কানেকটিভিটিই লক্ষ্য: আইসিটি মন্ত্রী

    ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, সংযোগ নয়, গুণগত ও অর্থবহ কানেকটিভিটিই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে এআই, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও ৫ জিসহ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে দেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    আজ সোমবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটির (এপিটি) ওয়্যারলেস গ্রুপের ৩৭ তম সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ফকির মাহবুব আনাম বলেন, গত জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১৯১ মিলিয়ন মোবাইল সাবস্ক্রিপশন রয়েছে এবং ১০৮ মিলিয়নের বেশি গ্রাহক ৪জি সেবা ব্যবহার করছেন। দেশে ৪৯ হাজারের বেশি ৪জি সাইট, প্রায় ৪৬ হাজার টাওয়ার এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। এখন শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ কানেকটিভিটি নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য।

    এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মোবাইল যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন) এডব্লিউজি-৩৭ সভা আয়োজন করেছে। এপিটির তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই সভা চলবে ৭-১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সভায় এপিটি সদস্যভুক্ত বিভিন্ন দেশের মোট ৩৯৫ জন (সরাসরি ১৬৮ জন এবং ভার্চুয়ালি ২২৭ জন) প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। পাঁচ দিনে দুইটি প্লানারি সভাসহ মোট ৫২টি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এ সেশনগুলোতে ৫জি সম্প্রসারণ,৬জি ব্যবস্থা, স্পেকট্রাম পরিকল্পনা, স্পেকট্রাম শেয়ারিং, স্যাটেলাইট ও নিম্ন-কক্ষপথের স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ, রেলওয়ে বেতার যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হবে।

    ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, টেলিযোগাযোগ খাত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী নীতি, আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এপিটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আশা করি, এই সভার মাধ্যমে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. মো. এমদাদ উল বারী। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতেও আমরা আগ্রহী।

    এপিটির ওয়্যারলেস গ্রুপ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেতার যোগাযোগ সংক্রান্ত আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কারিগরি সমন্বয়ের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম। এটি সদস্য দেশগুলোর শিল্প খাত, একাডেমিয়া, বেতার যোগাযোগ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ এবং উদীয়মান প্রযুক্তি বিষয়ে কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, গবেষণা এবং আঞ্চলিক সমন্বয়ে কাজ করে। এ প্ল্যাটফর্মে রয়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশ বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপাইন, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। দেশগুলো বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কার্যকর রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্পেকট্রামের দক্ষ ব্যবহার এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করে।

    অনুষ্ঠানে এপিটি মহাসচিব মাসানোরি কোন্দো বলেন, এডব্লিউজি-৩৭ সভা এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য এই প্রযুক্তিগুলোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়, বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান এবং আলোচনা করার সুযোগ সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নসংক্রান্ত কাজেও এডব্লিউজি সম্প্রদায়ের সদস্যদের অবদান রাখার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

    এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপের সভাপতি দায়েজুং কিম বলেন, বেতার যোগাযোগ একটি গভীর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একক দেশ বা প্রতিষ্ঠান একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। এডব্লিউজির মাধ্যমে আমরা আমাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে একত্র, পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী এবং বিশ্বব্যাপী ও আঞ্চলিকভাবে প্রাসঙ্গিক সমাধান উন্নয়নে অবদান রাখতে পারি।

  • ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা,

    ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা,

    কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নে সার বিতরণে দেরি হওয়ায় এক ডিলারের গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা সার নিয়ে গেছেন। আজ সোমবার সকালে বন্দবেড় বাজারের মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামে এ ঘটনা ঘটে।

    ডিলারের দাবি, গুদাম থেকে এক–দেড় শ বস্তা ইউরিয়া সার নেওয়া হয়েছে। তবে সার নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া। তিনি বলেন, সার লুট হয়ে যাওয়ার ভিডিওটি ভুয়া। বন্দবেড় ইউনিয়নে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। রৌমারী উপজেলায় ৪২ হাজার কৃষক আছেন এবং তাঁরা সবাই সঠিকভাবে সার পাচ্ছেন।একই দিন ভূরুঙ্গামারীতে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকেরা। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা।

    স্থানীয় একাধিক কৃষক বলেন, আজ বন্দবেড় বাজারে সার বিতরণের কথা ছিল। কৃষকেরা রাত দুইটা থেকে গুদামের সামনে এসে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন। কিন্তু সকাল হলেও সার বিতরণ শুরু না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সকাল ৯টা থেকে ১০টার দিকে একপর্যায়ে কয়েকজন কৃষক গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার নিয়ে যান।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কৃষক গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে সার বের করছেন। কেউ মাথায় করে, আবার কেউ ভ্যানে করে বস্তা নিয়ে যাচ্ছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে নিয়ে যাওয়া সার ফেরত পাওয়া যায়নি।গুদামে ৭৫০ বস্তা সার ছিল জানিয়ে মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সকালে প্রায় এক হাজার কৃষক সার নিতে লাইনে দাঁড়ান। কে আগে সার নেবেন, তা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁরা থানায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যান। এ সুযোগে কৃষকেরা গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে এক থেকে দেড় শ বস্তা সার নিয়ে যান।

    পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় গুদামে থাকা বাকি সার বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান সাইফুল ইসলাম। বিতরণের হিসাব শেষ হলে কত বস্তা সার নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, সকালে সার বিতরণের সময় পুলিশকে জানানো হয়নি। এ সময় কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক বস্তা সার নিয়ে যান বলে কৃষি বিভাগ থেকে জানানো হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।ভূরুঙ্গামারীতে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ

    আজ সকালে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট এলাকায় সার বিতরণ শুরু হলে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করেন কৃষকেরা। একপর্যায়ে তাঁরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

    ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, উপজেলার কোনো না কোনো ইউনিয়নে প্রতিদিন সার নিয়ে কৃষকেরা বিক্ষোভ করছেন। কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধও করছেন তাঁরা। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে প্রতিদিনই যেতে হচ্ছে।

    ওসি বলেন, কৃষি বিভাগে কী পরিমাণ সার মজুত আছে এবং কৃষকদের চাহিদা কত, তা পরিষ্কারভাবে জানানো হলে এ ধরনের সমস্যা কমত। কৃষি বিভাগ পর্যাপ্ত সার থাকার কথা বলছে, অথচ কৃষকেরা সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করছেন। এতে পুলিশের অন্য কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

  • এক উপজেলার সব ইউপির ভোট একসঙ্গে হবে

    এক উপজেলার সব ইউপির ভোট একসঙ্গে হবে

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোট উপজেলাভিত্তিক হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এ ক্ষেত্রে একটি উপজেলার সব ইউনিয়নে একই সঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

    আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

    আখতার আহমেদ বলেন, ‘ইউপি নির্বাচন একাধিক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। তবে কত ধাপে নির্বাচন হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পাঁচ বা ছয় ধাপসহ বিভিন্ন সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

    ইসি সচিব বলেন, ‘একটি উপজেলায় যতগুলো ইউনিয়ন রয়েছে, সেগুলো একই ধাপে নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ, একই উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে এক ধাপে এবং বাকি ইউনিয়নে অন্য ধাপে ভোট হলে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকি কমাতেই উপজেলাভিত্তিকভাবে সব ইউনিয়নে একই সময়ে ভোট নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।’

    তবে এটি এখনো নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনই নেবে। একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়েও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান ইসি সচিব।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ জানান, সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি পর্যালোচনার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ উইংয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে ফাইল ফেরত এসেছে। এখন কোনো পর্যবেক্ষণ বা পরিবর্তন এসেছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে।

    স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টারের ব্যবহার না রাখার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যেসব বিষয় কার্যকর বা ভালো ফল দিয়েছে, সেগুলোর কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও কাজ চলছে।

    এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহে ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তবে তিনি এটিকে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    এর আগে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনে আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ভোটিংয়ের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। আশা রাখি, আমরা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা শিডিউলটা ডিক্লেয়ার করতে পারব। নির্বাচন পূজা, পরীক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

    গত ২২ আগস্ট জাতীয় সংসদ সচিবালয় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করায় সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ওই দিন থেকেই তাঁর সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়।

    সংবিধানের ১২৩(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে কোনো সংসদীয় আসন শূন্য হলে সাধারণভাবে শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ওই আসনে নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।

    সে অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে ভোটের দিনক্ষণ ও পূর্ণাঙ্গ তফসিল নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে।

  • অনিয়ম আর দুর্নীতি দেশটাকে খেয়ে ফেলছে: এটিএম আজহার

    অনিয়ম আর দুর্নীতি দেশটাকে খেয়ে ফেলছে: এটিএম আজহার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতা দেশটাকে খেয়ে ফেলছে।

    সোমবার দুপুরে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিবন্ধীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে বের হতে না পারার কারণে সুন্দর এই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। কারণ নেতারা ওয়াদা করে তা রাখছেন না এবং দেশের মানুষের কথা কেউ চিন্তা করছেন না। সমন্বয়হীনতা এবং জনগণকে উপেক্ষা করে নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখার কারণে দেশে অরাজকতা বেড়েই চলছে।

    ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের বিষয়ে এটিএম আজহার বলেন, ১১ দলীয় জোট গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে লংমার্চ করেছে। ১১ দলীয় জোট যে দাবিগুলো নিয়ে পথে নেমেছে, তা জনগণের দাবি; জোটের কোনো ব্যক্তিগত দাবি নয়। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মানুষ গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তেল নিয়ে তেলেসমাতির পাশাপাশি দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে। সময়মতো গ্যাস সরবরাহ করতে না পারায় শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আবার সার সরবরাহ করতে না পারায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং বেশি দাম দিলেও সার পাওয়া যাচ্ছে না।

    তাদের এই অব্যবস্থাপনা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং দুর্নীতি সবার কাছে পরিস্ফুটিত হয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনকে ধারণ করে নির্বাচনের সময় আমাদের ভোট হয়েছিল দুটি। কিন্তু সরকার বারবার কথা দিয়েও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সংসদে নানা কথা বললেও বাস্তবে উল্টো কাজ করছে। সংসদে তিন-তিনটি অধিবেশন হয়ে গেছে। দাবি না মানায় ১১ দলীয় জোট সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার পরও তারা নিজেদের ইচ্ছামতো কয়েকটি বিল পাস করেছে। সাধারণ মানুষ এই সরকারের অপকৌশল এবং কার্যকলাপ বুঝতে পেরে বিরোধীদের মাঠে নামতে বাধ্য করেছে।

    এটিএম আজহার বলেন, লংমার্চে ১১ দলীয় জোট জনগণের ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। পথে-প্রান্তরে, মাঠে-ময়দানে লক্ষ লক্ষ মানুষ ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে তাদের দাবির পক্ষে সর্বাত্মক সমর্থন এবং আন্দোলনের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এ কারণে আমরা সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নেমেছি।

    তিনি বলেন, তবে মাঠে নামার আগে এই বিষয়গুলো সমাধানের জন্য আমাদের দলের আমির ও ১১ দলীয় জোটের নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে আলোচনা করে সমাধানের জন্য স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল, প্রয়োজনে জরুরি সংসদ অধিবেশন ডেকে দাবিদাওয়াগুলো নিয়ে উভয়পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার। কিন্তু তারা সেই আহ্বানে সাড়া দেননি এবং আমাদের কথাগুলো শোনেননি। এ কারণে জনগণের সেই দাবিগুলো বাস্তবায়নে এবং মানুষের চাওয়াগুলো পরিপূর্ণ করতে আমরা মাঠে নেমে পড়েছি।

    তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে দুটি ভোট হয়েছিল। একটি হচ্ছে মার্কায় দেওয়া ভোট, যা নির্ধারণ করে কে ক্ষমতায় যাবে আর কে যাবে না। আরেকটি ছিল জুলাই আন্দোলনের সপক্ষে ভোট। ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে জুলাইয়ের পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর তারা সেই রায় ভুলে গেছে। অথচ এর আগে তারা ঐক্যমত কমিশনে জুলাইয়ের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নের জন্য স্বাক্ষর করেছিল।

    সংবিধানের বিষয়ে এটিএম আজহার বলেন, জনগণের রায়ে সংবিধান তৈরি হয়, তাই সংবিধানের আগে জনগণ। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংবিধানের কথা যদি বলেন, তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে, তা কি সংবিধানসম্মত হয়েছে? তাই এ ধরনের কথা বলে সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোট এবং জুলাইয়ের দাবিগুলো অবজ্ঞা করা, জুলাই যোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তামাশা করা—যা জনগণ কখনো মেনে নেবে না।

    তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট লংমার্চ শুরু করেছে। এর পরে আমরা ১৯ তারিখে ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ করব। এর পরেও সরকার জনগণের দাবিগুলো মেনে না নিলে সব বিভাগীয় শহরে লংমার্চ শেষে ঢাকায় একটি সমাবেশ করে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে।

    এর আগে সকালে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বদরগঞ্জ উপজেলা চত্বরের পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্য চাষিদের মাঝে মাছের পোনা বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পরিমল চক্রবর্তী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনজুমান সুলতানা, উপজেলা জামায়াতের আমির কামরুজ্জামান, নায়েবে আমির রুস্তম আলী, টিএইচও ডা. আরেফিন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আবু মুসাসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

  • শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই, জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

    শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই, জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আর সুযোগ নেই ক্ষমতাচ্যুৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আজ সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানালেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের আইনের সেকশন ২১ এর ৩ এ পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে। যদি ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করা না যায়, তাহলে পরবর্তীতে আর কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না। সেটা যে কারো আপিলই হোক। সেটা হোক শেখ হাসিনার, সেটা হোক মাওলানা আবুল কালাম আযাদের।’

    তিনি বলেন, ‘যেকোনো পলাতক আসামি অথবা যারা জেলে আছে, তাকে অবশ্যই আপিল ফাইল করতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে। কেউ যদি কেউ পলাতক কিংবা অন্য যেকোনো কারণে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল ফাইল না করেন, তাহলে ওই আসামির পক্ষে আর আপিল দায়েরের সুযোগ থাকবে না।’

    ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আযাদ দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে আপিল দায়ের করেছেন। তার দায়ের করা আপিল আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি শুরু হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে তার রায় স্থগিত ঘোষণা করেছে। রায় স্থগিত থাকা অবস্থায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে কি না এবং দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার এত বছর পর আপিল করা যাবে কি না, এসব পয়েন্টে আমরা শুনানি করব।’

    তিনি জানান, রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মূল আপিলের ওপর এখনো শুনানি শুরু হয়নি। বরং আযাদের আপিল গ্রহণযোগ্য কি না তার ওপর শুনানি চলছে।

    ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি পলাতক অবস্থায় আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটিই ছিল প্রথম রায়।

    বেসরকারি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলাম ধর্মবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

    দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। এর আগে রাষ্ট্রপতি তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেন। আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্তে তার সাজা স্থগিত করা হয়েছিল।

    আবুল কালাম আযাদের পক্ষে আইনজীবী মশিউল আলম জানান, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। পরে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল করার শর্তে তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

    গত ২২ অক্টোবর এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার আত্মসমর্পণ গ্রহণ করেন এবং আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।

    আবুল কালাম আজাদ জামায়াতে ইসলামীর রোকন বা সদস্য ছিলেন। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্যও ছিলেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার জামায়াতের সব সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছিল।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আপিল বিভাগে যখন মাওলানা আবুল কালাম আযাদের মামলাটি শুনানি হয়, আমি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার আইনগুলো দেখিয়েছি। ইতোমধ্যে আব্দুল কাদের মোল্লার কেসে আপিল বিভাগ বিষয়টি সেটেল করে দিয়েছেন। আপিলের ব্যাপারে যেখানে স্ট্যাটিউটরি প্রোভিশন আছে, ক্লিয়ার প্রোভিশন আছে, সেই ক্লিয়ার প্রোভিশন থাকলে সেখানে আর্টিকেল ১০৪ এর কোনো অ্যাপ্লিকেশন থাকে না।’

  • বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

    বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

    বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং বাণিজ্য পরিবেশ আরও সহজ করার প্রত্যয় নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।

    সোমবার রাজধানীতে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতের অংশীদারত্ব এবং সাম্প্রতিক নীতি সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠকে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বড় অবকাঠামো উদ্যোগে একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা গেলে বিদেশি উদ্যোক্তাদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

    জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মার্কিন বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ে এফএসআরইউ সরবরাহের সক্ষমতা দেখাতে পারলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। স্বল্প সময়ে কার্যকর সরবরাহ পরিকল্পনা উপস্থাপন তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

    আমদানি নীতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, নতুন নীতিতে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা প্রশংসনীয়। তবে কিছু ধারা আরও ব্যবসাবান্ধব করা সম্ভব। এর জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, আমদানি নীতি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বাজার ও অর্থনীতির বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

    কৌশলগত সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগের পুরনো বাধ্যবাধকতা বাতিলের বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, সরাসরি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার পথ তৈরি হওয়ায় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরেছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়েছে।

    জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গানভর’-এর সঙ্গে চুক্তিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে।

    বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান এবং মার্কিন দূতাবাসের ইকোনমিক চিফ এঞ্জেলো পালাজ্জেলো উপস্থিত ছিলেন।

    উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নিয়মিত এমন আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগামী দিনে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

  • আমার অনুপস্থিতিতে আ. লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

    আমার অনুপস্থিতিতে আ. লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ভারতের দ্য ওয়ালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’ ছোটবোন শেখ রেহানা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নয়।’ দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনে তার দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। এই সাক্ষাৎকারেও তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ফিরলে এয়ারপোর্টেই তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকের জীবনের ঝুঁকি আছে। আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না।’

    ভারতকেও খেসারত দিতে হবে

    তার অভিযোগ, দেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে। এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে।’ তার বক্তব্য, প্রতিবেশী বাংলাদেশের অস্থিরতা এবং মৌলবাদী শক্তির বিস্তার ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই দুই দেশের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভারত সরকার কী ভেবে বাংলাদেশের নির্বাচন সমর্থন করল, (প্রধানমন্ত্রী) তারেককে ফিরিয়ে আনল—সেটা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।’

    দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি

    বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে ভারতের অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনার এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তবে তিনি এও বুঝিয়েছেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি। তার কথায়, কোনও সামরিক জোটের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। এ সময় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করেন। বলেন, তিনি বিদেশে অবস্থান করে রাজনীতি করেছেন। (আমি তো) বাধা দিইনি। আমি দিল্লি থেকে কথা বললেই দোষ? তিনি বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দর কষাকষি আসলে নিজের দেশকেই খাটো করা।

    বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। দেশের পরিস্থিতি তাকে ব্যক্তিগতভাবে কতটা ব্যথিত করছে, তা বোঝাতে তিনি বলেন, আমার তো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখছি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে অন্য কারও জীবন যাতে বিপন্ন না হয়, সেই আশঙ্কাও বারবার উঠে এসেছে তার বক্তব্যে।

    দেশটা আমার

    সরকার যদি আপনাকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট না দেয়, তাহলে আপনার কিভাবে দেশে ফেরা সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, দেশটা আমার। আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছে। আমরা এই দেশেই ছোটবেলা থেকে মানুষ হয়েছি। আর রাজনীতিতো স্কুল জীবন থেকেই আমি শুরু করেছি। সেখানে আমার দেশে কেন আমাকে ফিরতে দেবে না, সেটাই আমার প্রশ্ন। বিএনপি গভর্নমেন্ট কি বলছে? তারা ভারত সরকারের কাছে চাচ্ছে আমাকে ফেরত দেয়ার জন্য। যখন ফেরত দেয়ার কথা বলছে তখন ফেরত কেন, আমি নিজেই যাব। সেজন্যই বলেছি, আমি চলে যাব। এখন আবার বাধা দেবে কেন আর পারমিশনই বা লাগবে কেন? দেশে ফেরার অনুমতি না দিলে কী করবেন, অন্যকোনোভাবে কি প্রবেশ করবেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে এখন যে অবস্থা তাতে অনুকূল অবস্থা হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে। এটা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। এ সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন। বলেন, এটা ছিল মেটিকুলাস ডিজাইন। তিনি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে কথা বলেন।

    আমি দেশের মানুষের কাছে যাব

    শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেশের মানুষের কাছে যাব। কারণ, মানুষ এখন কষ্ট পাচ্ছে। তাদের পাশে আমাকে দাঁড়াতে হবে। তাতে যদি আমার জীবনও যায় যাবে। কিন্তু আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।

    ভেবেছিলাম টুঙ্গিপাড়ায় গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে

    ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট গণভবন থেকে ভারতে যান শেখ হাসিনা। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি যে এসেছি দেশ ছেড়ে, আমি তো দেশ ছেড়ে আসতে কখনো চাইনি। আমি জানতামও না। একটা পরিস্থিতিতে আমি চলে আসতে বাধ্য হয়েছি। সেটাও আমি জেনেছি অনেক পরে। যখন হেলিকপ্টারে বর্ডার ক্রস করি তখন আমাকে বলা হলো যে আমরা এখানে (ভারত) আসছি। তার আগে পর্যন্ত আমি জানতাম আমি আমার গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। আমি তো মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে কাজ করেছি। তাদের লাশ ফেলার মাধ্যমে আমাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে কেন! এ অবস্থায় আমি বললাম, আমার থাকার দরকার নেই। আমি চলে যাব। আমি যাব কোথায়? আমি বললাম যে, আমি যাব টুঙ্গিপাড়া গ্রামের বাড়িতে। যখন আমি এয়ারক্রাফটে তখন আমি জানলাম আমি এখানে (ভারত) চলে এসেছি।

    তিনি বলেন, আমার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬ লক্ষ মামলা দেয়া হয়েছে। যত জঙ্গী, সন্ত্রাসী ছিল তাদেরকে তারা ছেড়ে দিয়েছে। আমার সময় তো একটামাত্র (সন্ত্রাসী) ঘটনা ঘটেছিল। ৪৬০টি থানা লুট হলো। পোড়ালো। পা বেঁধে বেঁধে ফ্লাইওভারের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখল। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ সহ বিভিন্ন সংগঠন ও পুলিশের সঙ্গে বীভৎস ঘটনা তারা ঘটিয়েছে।

    তৃণমূলের সঙ্গে কথা বলছি

    ডিসেম্বরের আগেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দেশে ফিরবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসটা আমি বেছে নিয়েছি, আসলে এটা আমাদের বিজয়ের মাস। তাছাড়া এখন আমি আমার তৃণমূলের মানুষদের সঙ্গে কথা বলছি। তাদেরকে কোপায়, মারে, অত্যাচার করে, নির্যাতন করে। এগুলি চলছে। তারপরও এই অবস্থায় মানুষ আমাদের সঙ্গে কথা বলে। আগে না, ডিসেম্বর মাসেই যাবো আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেভাবেই আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি।

  • সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদের তথ্য পাঠিয়েছে এফবিআই

    সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদের তথ্য পাঠিয়েছে এফবিআই

    সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুক্ষ্মীলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবৈধ সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসার রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। পারস্পরিক আইনি সহায়তার আবেদন বা মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্টের (এমএলএআর) মাধ্যমে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। একই বিজ্ঞপ্তিতে সাবেক মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস, সাবেক সংসদ সদস্য আলিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম এবং নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে বড় ধরনের পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে কমিশন।

    দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুক্ষ্মীলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধলব্ধ সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল অথরিটির অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের (ওআইএ) কাছে পারস্পরিক আইনি সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ইতোমধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড দুদকে পাঠিয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সাবেক মুখ্য সচিব এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগটি বর্তমানে চলমান ‘আদানি পাওয়ার লিমিটেড ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ’ সংক্রান্ত অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে তদন্ত করার সুপারিশ করেছে কমিশন।

    পাশাপাশি, ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জমি দখল, নিয়োগ ও দলীয় পদ বাণিজ্য এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক। তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের এই অভিযোগটি দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তদন্তাধীন একটি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে তদন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

    এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ওয়াকিটকি ক্রয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগের বিষয়ে নতুন করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। এই তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে অনুসন্ধানকারী ও তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে ওয়াকিটকি ক্রয়ের কাজ দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তারা একটি চীনা কোম্পানির সনদ ব্যবহার করেছে। অন্যান্য সরকারি সংস্থার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে ওয়াকিটকি কিনে সরকারি কর্মচারীরা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, এই অনিয়মের প্রেক্ষিতে গত ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।

    অর্থ পাচার রোধে দুদকের আরেকটি বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, নাসরিন ইসলাম এবং ওয়ান প্রোপার্টি লিমিটেডের বিরুদ্ধে আইল অব ম্যানে পাঠানো পারস্পরিক আইনি সহায়তার আবেদনটির সব কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষ দুদকের পাঠানো আবেদনটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করেছে এবং অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সব সম্পত্তি সেখানে ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলে কমিশনকে নিশ্চিত করেছে।

  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপান সরকারের মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশনবিষয়ক বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ইয়োহেই সাসাকাওয়ার কাছে এ কথা বলেন।

    বৈঠকে সাসাকাওয়া বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার দায়িত্বের কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

    রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে সাসাকাওয়া বলেন, তিনি এ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার বিষয়ও তিনি তুলে ধরেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য সাসাকাওয়াকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য তার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট। এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

    রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে সাসাকাওয়ার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। এ কারণে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

    সাসাকাওয়া বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।

    তার ধারণা, মিয়ানমার সরকার এ সংকট সমাধানে আন্তরিক। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি হতে সময় লাগছে।

    জাপানের বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন, তার অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

    বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার জন্য সাসাকাওয়ার প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানান।

    এ ছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।

    বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

  • সখীপুরে ৫০ একর টক বরইয়ের বাগানে মিষ্টি আয়

    সখীপুরে ৫০ একর টক বরইয়ের বাগানে মিষ্টি আয়

    চারদিকে যতদূর চোখ যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে অসংখ্য টক বরই। বাগানের ভেতর ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। কেউ গাছ থেকে বরই পাড়ছেন, কেউ ঝুড়িতে তুলছেন, আবার কেউ বস্তায় ভরছেন। এরপর এসব বরই চলে যাচ্ছে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে।

    টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ইন্দারজানি-ঘাটাইল সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৫০ একর জমিজুড়ে এমনই বরইয়ের বাগান গড়ে তুলেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মোসলেম উদ্দিন।

    প্রায় এক যুগ ধরে দেশীয় আগাম জাতের টক বরই চাষ করছেন তিনি। তার বাড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামে।

    কৃষিকাজের সঙ্গে মোসলেম উদ্দিনের সম্পর্ক প্রায় ৩০ বছরের। লেবু, মাল্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তবে আগাম টক বরই চাষে এসে তিনি পেয়েছেন আলাদা সাফল্য। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বড় পরিসরে গড়ে তুলেছেন এই বাগান।

    আগস্টের শুরু থেকেই তার বাগানের আগাম টক বরই বাজারজাত শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন বাগানে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। ভরা মৌসুমে শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ থেকে ৬০ জনে। এতে বাগানকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।বাগান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৮ থেকে ২০ বস্তা বরই ঢাকার কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারে সরবরাহ করা হয়। প্রতিটি বস্তায় থাকে প্রায় ৬০ কেজি বড়ই। বর্তমানে আগাম টক বরই প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে ১ লাখ ৯২ হাজার টাকার বরই বিক্রি হচ্ছে।

    মৌসুমের ভরা সময়ে বড়ইয়ের দাম কিছুটা কমে গেলেও তখন উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে এক মৌসুমে প্রায় এক কোটি টাকার বরই বিক্রি হয় বলে জানান মোসলেম উদ্দিন।

    তার বাগানের টক বরইয়ের চাহিদা রয়েছে বিভিন্ন কোম্পানির কাছেও। বিশেষ করে প্যাকেটজাত আচার তৈরির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ টক বরই কিনে থাকে। ফলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেও এ ফলের ভালো চাহিদা রয়েছে।

    নিজে সফল হওয়ার পাশাপাশি মোসলেম উদ্দিন এখন এলাকার অন্য কৃষকদের কাছেও অনুপ্রেরণার নাম। তার বরইয়ের বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে উপজেলার অনেক কৃষক বড়ই চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে নতুন করে বাগানও গড়ে তুলেছেন।

    মোসলেম উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশের বেকার তরুণ-তরুণীরা বরই চাষ করে সফলতা অর্জন করতে পারেন। বাংলাদেশের মাটি বরই চাষের জন্য খুবই উর্বর। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে অবশ্যই এই পেশায় সফলতা অর্জন করা সম্ভব।”

    ৩০ বছরের কৃষিজীবনে নানা ফসল চাষ করলেও আগাম টক বড়ই মোসলেম উদ্দিনকে এনে দিয়েছে নতুন পরিচিতি ও সাফল্য। তার প্রায় ৫০ একরের বাগান এখন শুধু ফল উৎপাদনের জায়গা নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিরও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

    সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন বলেন, “দেশি জাতের টক বরই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে মোসলেম উদ্দিন সফলতা অর্জন করেছেন। সখীপুরের মাটি বিভিন্ন ধরনের ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এবং তাদের চাষাবাদে সহযোগিতা করতে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের সহায়তা সবসময়ই চলমান রয়েছে।”

  • আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশ

    আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশ

    দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমেছে। আগস্টে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি কমেছে ০ দশমিক ৭২ শতাংশীয় পয়েন্ট।

    সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত হিসাবে এ তথ্য জানা গেছে।

    জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম। এ সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।

    অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। জুলাইয়ে ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ থাকা এ হার আগস্টে হয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।

    আগস্ট মাসে জাতীয় গড় মজুরির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। আগের মাস জুলাইয়ে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ।

  • নেপালে বন্যায় মৃতদের স্মরণে জাতীয় শোক পালিত

    নেপালে বন্যায় মৃতদের স্মরণে জাতীয় শোক পালিত

    নেপালে ভয়াবহ হিমবাহজনিত বন্যায় মৃতদের স্মরণে সোমবার জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে।

    এদিকে নিখোঁজ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকদের স্বজনেরা আশা করছেন, গভীর সুড়ঙ্গে আটকে থাকা তাদের প্রিয়জনদের হয়তো এখনো জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব।

    গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ও পাহাড় ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১ হাজার ৩৯৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এখনো ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক।

    জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। দিনের শেষভাগে বিভিন্ন স্থানে মোমবাতি প্রজ্বলন করে মৃতদের স্মরণ করার কর্মসূচিও রয়েছে।

    হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর ১৩তম দিনে শোক পালনের অংশ হিসেবেই এসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

    নিখোঁজদের মধ্যে শত শত জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিক রয়েছেন। তবে সম্প্রতি গভীর সুড়ঙ্গ থেকে তিন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার দুই নেপালি শ্রমিক ও শনিবার একজন চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। তাদের উদ্ধারের ঘটনায় অন্য নিখোঁজ শ্রমিকদেরও জীবিত পাওয়ার আশা বেড়েছে।

    নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট সোমবার এএফপিকে বলেন, প্রথম দিনের মতো একই গতিতে উদ্ধার অভিযান চলছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য তিনভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো— স্থলপথে, আকাশপথে এবং সুড়ঙ্গের ভেতরে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, কেউ এখনো কোথাও আটকে থাকলে যেন তাকে উদ্ধার করা যায়।’

    বন্যা ও পাহাড়ধসে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে অনেক জনপদ। ধ্বংস হয়েছে সড়ক, ভেঙে পড়েছে অসংখ্য বাড়িঘর।

    তবে নিখোঁজ শ্রমিকদের কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে জড়ো হয়ে অভিযোগ করেন, সরকারকে উদ্ধার অভিযান আরও দ্রুত করতে হবে।

    নিখোঁজ ভাইয়ের সন্ধানে থাকা রীনা আমাত্য শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘আমাদের অনেক আশা আছে।’

    তারা বলছে উদ্ধার অভিযান চলছে। যদি সত্যিই উদ্ধার অভিযান চলে, তাহলে তার ফল কোথায়? আমরা ফলাফল দেখতে চাই।’

    নেপালি উদ্ধারকারী দলকে পরামর্শ দেওয়া অস্ট্রেলীয় সুড়ঙ্গ উদ্ধার বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্স বলেন, এই উদ্ধার অভিযান তার দেখা সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিগুলোর একটি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, যা আগে কখনো দেখিনি।’

  • একীভূত পাঁচ ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    একীভূত পাঁচ ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে অর্থ ফেরত নেওয়ার জন্য গত ছয় দিনে ৭৫ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে গ্রাহকদের দাবির পরিমাণ ৩,৯২৫ কোটি টাকা। পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের জন্য গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫,০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের আজ সোমবার থেকে টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে।

    আলোচ্য পাঁচ ব্যাংক হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি চারটি ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় জামানত ছাড়াই ব্যাংকগুলোতে ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নামে হাতিয়ে নেওয়া হয়। এতে আর্থিক সংকট সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের অর্থও ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার শরিয়াহভিত্তিক এ পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে।

    ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এর বাইরে আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পুরো অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্কিম ঘোষণা করেছে।

    গত ২৫ আগস্ট সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানতের ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকছে না এমন ঘোষণা দেন গভর্নর। একই সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী আমানতের মূল অর্থ তুলতে পারবেন বলেও জানানো হয়। এরপর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ১ সেপ্টেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত গ্রাহকদের আবেদন নেন।

    ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আমানত ফেরতের আবেদন নেওয়া হয়। গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট শাখা বা উপশাখায় গিয়ে আবেদন করতে হয়েছে। আবেদন যাচাইয়ের করেই তাদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তহবিল পাওয়া গেছে।

    মূল টাকা তোলা যাবে, মুনাফা নয়

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা ও মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধার আওতায় আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা পাওয়া যাবে না।

    কোনো গ্রাহক মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। হস্তান্তরকারী ব্যাংকের কাছে ওই গ্রাহকের কোনো ঋণ বা দায় থাকলে টাকা ফেরতের আগে তা আমানতের অর্থ থেকে সমন্বয় করা হবে।

    যেসব গ্রাহক এখনই আমানত তুলবেন না, তারা হিসাব চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে মেয়াদি আমানত মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙলে মূল টাকা পাওয়া গেলেও ওই অর্থের ওপর মুনাফা পাওয়া যাবে না। আংশিক টাকা তুললে অবশিষ্ট অর্থের ওপর প্রযোজ্য নিয়মে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাংক শাখাগুলোতে যেন অতিরিক্ত ভিড় বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আমানতকারীদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে যাদের তাৎক্ষণিকভাবে অর্থের প্রয়োজন নেই, তাদের প্রথম দিনেই ব্যাংকে না এসে পরবর্তী দিনগুলোতে আসার অনুরোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, সবাই যদি একই সময়ে টাকা তুলতে ব্যাংক শাখায় উপস্থিত হন, তাহলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে পর্যায়ক্রমে টাকা উত্তোলনের জন্য আমানতকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা, সংসদে অর্থমন্ত্রী

    রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা, সংসদে অর্থমন্ত্রী

    রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। গত ৩০ জুনের হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

    সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এবং ব্যাংকভিত্তিক হিসাব জানতে চান।

    জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তিক হিসাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংক—অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি ও সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

    ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসিতে খেলাপি ঋণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

    বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিতে ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংক পিএলসিতে ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ টাকা, জনতা ব্যাংক পিএলসিতে ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংক পিএলসিতে ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।

    রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের মধ্যে জনতা ব্যাংক পিএলসিতেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

  • মুয়াজ্জিনদের দক্ষতা উন্নয়নে আস-সুন্নাহর প্রশিক্ষণ

    মুয়াজ্জিনদের দক্ষতা উন্নয়নে আস-সুন্নাহর প্রশিক্ষণ

    মুয়াজ্জিনদের আজান ও ইকামাতের বিশুদ্ধ উচ্চারণ, সুর ও কণ্ঠের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, দ্বীনি জ্ঞান এবং আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতে দ্বিতীয় দফায় ১০ দিনব্যাপী ‘মুয়াজ্জিন প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম’ আয়োজন করতে যাচ্ছে আস-সুন্নাহ দাওয়াহ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এতে মুয়াজ্জিনদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আদর্শ মুয়াজ্জিন হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশিক্ষণে আজান ও ইকামাতের প্রতিটি শব্দের নির্ভুল ও বিশুদ্ধ উচ্চারণ, সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল এবং পবিত্র মদিনা ও মিসরীয় ঐতিহ্যবাহী সুরের অনুশীলন করানো হবে।

    এ ছাড়া কণ্ঠের যত্ন, দীর্ঘ শ্বাস নিয়ন্ত্রণ ও স্কেল ঠিক রাখার বিশেষ ব্যায়াম, তারবিয়াহ, ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, আদর্শ মুয়াযযিনের গুণাবলি, যোগাযোগ ও সমঝোতা দক্ষতা এবং আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম পরিচালনার কারিগরি বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি রুকইয়াহ সেশন ও প্যারেন্টিং বিষয়েও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকছে।

    প্রশিক্ষণটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য মানসম্মত আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি যাতায়াত খরচ প্রদান, প্রশিক্ষণ শেষে সনদ এবং দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও পরিচর্যার সুযোগ থাকছে।

    আগ্রহীদের আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের ফোনের মাধ্যমে জানিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নেওয়ার জন্য ডাকা হবে।

    প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। আবাসিক ও অনাবাসিক—উভয় ধরনের সুবিধা থাকলেও আসন সংখ্যা সীমিত বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।

    বর্তমানে মুয়াজ্জিন হিসেবে কর্মরত ব্যক্তিরা এ প্রশিক্ষণে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হবে।

    এ ছাড়া আবেদনকারীকে কুরআনের হাফেজ অথবা নাহবেমীর কিংবা আলিয়া থেকে দাখিল পাস হতে হবে। কণ্ঠে সুর এবং তা আয়ত্ত করার সক্ষমতা থাকা বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।

    আগ্রহীরা নির্ধারিত গুগল ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য আস-সুন্নাহ দাওয়াহ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, সাতারকুল, কাজীবাড়ি ক্যাম্পাস (কবরস্থানের পাশে), উত্তর বাড্ডা, ঢাকায় যোগাযোগ করা যাবে। প্রয়োজনে ০১৮০৫৪৩৭৯১০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

  • দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা

    দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা

    বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকারও বেশি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ‘বর্তমানে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ কত, ২০২৬ সালে কত ছিল এবং ঋণের বোঝা কমাতে সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?’

    জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা।

    সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করার ওপর জোর দিচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

    এদিকে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ হাজার টাকা।

    এ বিষয়ে গত ৩০ জুনের হিসাব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিএর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ১৩১ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ হাজার কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ হাজার টাকা।

  • ঢাকার যানজট নিরসনে ৪ টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

    ঢাকার যানজট নিরসনে ৪ টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

    সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান—এ চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া ও বিদ্যমান ডিপো ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, এর পাশাপাশি গাবতলী টার্মিনালের বিকল্প টার্মিনাল সম্প্রসারণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সিটি করপোরেশনের টার্মিনাল উন্নয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    রোববার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বৃহত্তর ঢাকার যানজট নিরসনের জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে বাসসকে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে যে নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন কতদূর এগিয়েছে এবং কোন কোন কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, সভায় মূলত এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, যানজট নিরসনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সড়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে শহরের ভেতরে বাস ও গণপরিবহনের অতিরিক্ত চাপ। এ চাপ কমাতে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প স্থানে টার্মিনাল ও ডিপো ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘যানজট নিরসনের জন্য আমাদের যে টার্মিনালগুলো রয়েছে, সেগুলোর কিছু অংশ আপাতত আমাদের যে ডিপোগুলো রয়েছে, সেগুলোতে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা কাচপুর, এরপর পূর্বাচল— এসব জায়গা ব্যবহার করার বিষয়টি দেখছি।’

    প্রতিমন্ত্রী জানান, এছাড়া গাবতলী বাস টার্মিনালকে আরো সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। গাবতলীর পাশের নতুন জায়গাগুলো কীভাবে দ্রুত কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথে গণপরিবহনের চাপ কমাতে এসব বিকল্প অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ঢাকার আশপাশের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলোও যানজটের অন্যতম কারণ। এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে সড়কগুলো যান চলাচলের উপযোগী করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, শুধু রাজধানীর ভেতরে যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিলে হবে না। বৃহত্তর ঢাকার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং গণপরিবহনের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সভায় মূলত চারটি বাস টার্মিনালকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব টার্মিনালের বর্তমান ব্যবস্থাপনা, বিকল্প জায়গায় স্থানান্তরের সম্ভাবনা, ডিপো ব্যবহারের সুযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় থাকা টার্মিনালগুলোও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব টার্মিনালে বাস পরিচালনার জন্য কাউন্টার স্থাপন, যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    বিশেষ করে এসি বাসগুলোকে নির্দিষ্ট টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। বাস কাউন্টার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা কোথায় এবং কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে শুধু সড়ক প্রশস্ত করা বা নতুন সড়ক নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। গণপরিবহনের টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, বাসের চলাচল, পার্কিং, কাউন্টার ব্যবস্থাপনা এবং রাজধানীর প্রবেশ ও বহির্গমনপথে যানবাহনের চাপ, সবগুলো বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।

    সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে কাজ ধীরগতিতে চলছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসকবৃন্দ এবং সড়ক মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • ৪৩৪১ হাজি ফেরত পাচ্ছেন প্রায় ৫ কোটি টাকা

    ৪৩৪১ হাজি ফেরত পাচ্ছেন প্রায় ৫ কোটি টাকা

    চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দিচ্ছে সরকার। বাড়িভাড়া ও সার্ভিস চার্জের খরচ কম হওয়ায় তাঁদের এই টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। একজন হাজি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা ফেরত পাবেন।

    আজ রোববার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। এই অনুষ্ঠানে ১০ জন হাজির হাতে রিফান্ডের চেক তুলে দেওয়া হয়। অন্য হাজিদের টাকা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে তাঁদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হজ প্যাকেজে সৌদি আরবে বাড়িভাড়ার জন্য নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে কমে ভাড়া নেওয়া এবং সার্ভিস চার্জ কমানোয় এই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি মাধ্যমের ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজি ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাবেন। ২৩ জন হাজির চিকিৎসা ব্যয় তাঁদের স্বাস্থ্যবিমার চেয়ে বেশি হওয়ায় তাঁরা এই অর্থ ফেরত পাবেন না।

    ২০২৭ সালে হজের বিমানভাড়া আরও কমছে

    ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের বিমানভাড়া আগের বছরের থেকে ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছিল। ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া আরও কমিয়ে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রিফান্ড পাঠাতে হাজিদের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন ও ওটিপির প্রয়োজন নেই। এসব চেয়ে কেউ ফোন করলে কেউ যাতে প্রতারিত না হন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  • বহুমুখী কূটনৈতিক কৌশলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব: শামা ওবায়েদ

    বহুমুখী কূটনৈতিক কৌশলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব: শামা ওবায়েদ

    মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, জাতিসংঘের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা, আসিয়ানসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতা এবং রাখাইনে আন্তর্জাতিক মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিজ বাসভূমিতে প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

    তিনি বললেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাখাইনে নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। লক্ষ্য একটাই—রোহিঙ্গারা যেন নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের ঘরে ফিরতে পারেন।

    আজ রবিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    শামা ওবায়েদ স্পষ্ট করেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক মনোযোগ বজায় রাখা, মানবিক সহায়তা জোরদার করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে প্রত্যাবাসনের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা।’

    মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বললেন, প্রত্যাবাসনের দিকে এগোতে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না। বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে এটি দ্রুত শেষ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

    মানবিক সহায়তার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য, বাংলাদেশ তার মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাবে। তবে আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় এই সহায়তা অব্যাহত রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। জীবন রক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখতে দাতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    একই সঙ্গে শিবিরে সহায়তার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বললেন, মানবিক সহায়তা এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে আরও মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার প্রবণতা তৈরি না হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাবাসন জটিল না হয়ে পড়ে।

    তিনি দাবি করেন, টেকসই প্রত্যাবাসনের চাবিকাঠি রয়েছে রাখাইন রাজ্যে। সেখানে নিরাপত্তা, পরিচয় ও অধিকারের প্রতি সম্মান এবং রোহিঙ্গাদের আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবিকার সুযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা প্রয়োজন। প্রত্যাবাসনের পর যেন রোহিঙ্গাদের আবারও বাস্তুচ্যুত হতে না হয়, সেই আস্থাও তৈরি করতে হবে।

    রাখাইনে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মত দেন, জাতিসংঘ, আসিয়ান, উন্নয়ন অংশীদার ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সেখানে বাস্তবভিত্তিক আস্থা তৈরির উদ্যোগ এবং মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। এতে প্রত্যাবাসনের পথ সহজ হওয়ার পাশাপাশি ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী—উভয়ই উপকৃত হবে।

    রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বিচার ও জবাবদিহিতার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। শামা ওবায়েদ বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার মামলাসহ আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতার বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। ন্যায়বিচার ও প্রত্যাবাসনকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। জবাবদিহিতা এবং টেকসই প্রত্যাবাসন একে অপরকে শক্তিশালী করে।

    তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে যে তারা মানবিকতার সঙ্গে সংকট মোকাবিলা করতে পারে। বাংলাদেশ ধৈর্য দেখিয়েছে এবং কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছে। ইতিহাসও প্রমাণ করে, প্রত্যাবাসন সম্ভব।

    এখন দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা, অন্তর্বর্তী মানবিক সহায়তা এবং প্রত্যাবাসনের বাস্তব পদক্ষেপগুলোকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

    তিনি জানালেন, আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত থাকবেন।

    শামা ওবায়েদ বললেন, দৃঢ় কূটনীতি, শক্তিশালী জাতীয় সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে টেকসই সহযোগিতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। দীর্ঘায়িত বাস্তুচ্যুতির পরিবর্তে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং সংকট ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে সংকট সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

  • সংসদে পাঠানো হচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল-২০২৬

    সংসদে পাঠানো হচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল-২০২৬

    ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর সহকারী পরিচালক তানজীনা তানীন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ পরীক্ষাপূর্বক রিপোর্ট প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে বিলটি সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বৈঠকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাদের মূল্যবান মতামত প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতার জন্য সভাপতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সেইসাথে বিলের কাজে সম্পৃক্ত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নূরুল ইসলাম, ও মো. আব্দুল বাতেন।

    বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • শপথ নিলেন পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া

    শপথ নিলেন পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া

    বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া শপথ গ্রহণ করেছেন। রোববার বিকালে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

    এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পিএসসির অন্যান্য সদস্য, কমিশন সচিবালয়ের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে, গত বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে পিএসসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে জনস্বার্থে পিএসসির সভাপতি পদে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন।

    এতে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে ৫ বছর অথবা তার ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া–এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত এ পদে বহাল থাকবেন।

  • শেয়ারবাজারে সূচকের পতন, লেনদেন ৫৪৫ কোটি টাকা

    শেয়ারবাজারে সূচকের পতন, লেনদেন ৫৪৫ কোটি টাকা

    সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। একই সাথে লেনদেনের পরিমাণ কমে ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৮ হাজার ৩০৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

    আজ রোববার ডিএসইতে ১ লাখ ৭৮ হাজার ১০৩টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৮৯টি কোম্পানির মোট ২০ কোটি ৪৩ লাখ ৪১ হাজার ৮৬৯টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৩৪৮টির কমেছে এবং ২১টি কোম্পানির অপরিবর্তিত রয়েছে।

    ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১০৩ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫৮ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই-৩০ সূচক ২৪ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৬ দশমিক ২০ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ২২ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১৫ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    ডিএসইতে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ডোমেক স্পিনিং, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, সায়হাম কটন, টেক্সম্যাকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ডরিন পাওয়ার, এভয় টেক্সটাইলস, তৌফিকা ফুডস এবং জেনেক্স ইন্স্যুরেন্স।

    শেয়ারদর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো এনএলআই ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস, এক্সেল ইন্স্যুরেন্স, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, এসআইবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, ফনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, অ্যাডভেন্ট ফার্মা, সাউথইস্ট ব্যাংক এবং এভয় টেক্সটাইলস।

    অন্যদিকে, শেয়ারদর কমার শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, ডরিন পাওয়ার, সায়হাম টেক্সটাইল, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সিকদার পলিটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, আলিফ টেকনোলজিস, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক।

  • সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

    সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

    সুপ্রিম কোর্টসহ বিচার বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত ও যৌক্তিক বাজেট বরাদ্দ, বিচারক নিয়োগ এবং দ্রুত ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী।

    জনস্বার্থে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সাধারণ নাগরিক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার রেজিস্টার্ড ডাক ও ই-মেইলের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠান।

    নোটিশে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিবাদী করা হয়েছে।

    নোটিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল বিভাগে প্রায় ৩১ হাজার ১২০টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন ছিল।

    বর্তমানে আপিল বিভাগে ৬ জন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০৩ জন বিচারপতি কর্মরত রয়েছেন। বিপুলসংখ্যক মামলার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা অপর্যাপ্ত বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

    এতে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশন অধস্তন আদালতে বিচারকের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৬ হাজার করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি আপিল বিভাগে ন্যূনতম ৭ জন বিচারপতি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি প্রায় ৯৪ হাজার ৪৪৪ জন মানুষের বিপরীতে একজন বিচারক রয়েছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এ অনুপাতও কম বলে দাবি করা হয়েছে।

    হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বেঞ্চ বাড়ানোর দাবি

    হাইকোর্ট বিভাগে বাণিজ্যিক মামলা নিষ্পত্তির জন্য বর্তমানে মাত্র দুটি বেঞ্চ কার্যকর রয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে বিপুল অঙ্কের বাণিজ্যিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলে দাবি করেছেন আইনজীবীরা।

    অন্যদিকে, ২০০৯ সালে আপিল বিভাগে সর্বোচ্চ ১১ জন বিচারপতি থাকলেও বর্তমানে বিচারপতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে একাধিক বেঞ্চ পরিচালনা ও বিপুলসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে নোটিশে বলা হয়েছে।

    ২০২৪ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের হওয়া মামলার মাত্র ৩৫ শতাংশ এবং আপিল বিভাগে ১৮ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি

    নোটিশে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত চেম্বার, বসার জায়গা, শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি, লাইব্রেরি এবং ডিজিটাল সুবিধার ঘাটতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    এতে বলা হয়, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় আদালতের করিডোরে অপেক্ষা করতে হয়। একই সঙ্গে এজলাস সংকট ও ডিজিটাল মামলা ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে বিচার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

    নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, বিচার বিভাগের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর অভাবের কারণে বিচারিক কার্যক্রমে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

    বাকি দাবিগুলো হচ্ছে

    – আইনজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা;

    – প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে বিচার বিভাগের জন্য একটি যৌক্তিক বাজেট কাঠামো প্রণয়ন;

    – আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় বেঞ্চ গঠন;

    – মামলার সংখ্যা, নিষ্পত্তির হার ও নতুন মামলা দায়েরের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় বিচারক ও বেঞ্চের সংখ্যা নির্ধারণ;

    – এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ;

    – বিচার বিভাগের মাধ্যমে সংগৃহীত রাজস্বের পৃথক ও স্বচ্ছ বার্ষিক হিসাব প্রকাশ।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিক হিসেবে সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের কর্মকর্তা হিসেবে আইনজীবীদের সংবিধান লঙ্ঘন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক রাখার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও পর্যাপ্ত অর্থ ও অবকাঠামোগত সহায়তা ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করা সম্ভব নয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আইনজীবীদের দাবি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ ছিল ২৭০ কোটি টাকা। দেশের সামগ্রিক বাজেটের তুলনায় সুপ্রিম কোর্টের জন্য এ বরাদ্দ অত্যন্ত কম বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

    নোটিশে বিচার বিভাগের সামগ্রিক বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, পুরো বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। অথচ বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রয়েছে।

    আইনজীবীদের মতে, বিপুলসংখ্যক নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা বিচার বিভাগের জন্য এ ধরনের বরাদ্দ রাষ্ট্রের অবহেলার বিষয়টি তুলে ধরে।

    নোটিশে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের প্রতি অপ্রতুল বরাদ্দের বিষয়টি নতুন নয়। গত দুই দশকে জাতীয় বাজেটের গড়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। কোনো কোনো বছর সুপ্রিম কোর্টের উন্নয়ন খাতেও বরাদ্দ ছিল না বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আইনজীবীদের দাবি, উচ্চ ও অধস্তন আদালতে বিপুলসংখ্যক মামলা বিচারাধীন থাকার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ও অবকাঠামো বাড়ানো হয়নি। এর ফলে বিচারক ও মামলার সংখ্যার মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক মামলা ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিও রয়েছে।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের জন্য শুধু ব্যয়ের খাত নয়। কোর্ট ফি, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প শুল্ক, প্রসেস ফি ও জরিমানার মাধ্যমে বিচার বিভাগ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে উল্লেখযোগ্য রাজস্বও যোগ করে। তবে বিচার বিভাগের মাধ্যমে সংগৃহীত মোট রাজস্বের পৃথক ও স্বচ্ছ সরকারি হিসাব প্রকাশ করা হয় না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়েছে, এটি পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা লিখিতভাবে জানাতে হবে।

    অন্যথায় সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগে জনস্বার্থে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকে চালু হচ্ছে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা

    বাংলাদেশ ব্যাংকে চালু হচ্ছে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা

    গ্রাহকের ধর্মীয় ও আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত ও শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেয়ার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আরো সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডুয়াল ব্যাংকিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে।

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ঢাকা-৪ আসনের বিরোধী দলের জামায়াতে (ইসলামী) সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের ধর্মীয় ও আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত এবং শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছে। একইসাথে আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে অধিকতর সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    তিনি জানান, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোকে মোট ১ হাজার ৬৯৯টি শাখার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ১ হাজার ৭৪টি এবং গ্রামাঞ্চলে ৬২৫টি শাখা রয়েছে।

    এসব শাখার মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৪০০টি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২২৬টি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৪১টি, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৩৮টি এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখা রয়েছে।

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখার মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২০৬টি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৮১টি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসির ১৫৫টি, ইউনিয়ন ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১১৪টি এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১০৫টি শাখা রয়েছে। এছাড়া আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৩৩টি শাখাও এর আওতায় রয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে ৩৫টি প্রচলিত (কনভেনশনাল) ব্যাংকে মোট ৭৫টি ইসলামী ব্যাংকিং শাখা এবং ১ হাজার ১০২টি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া আরো দু’টি কনভেনশনাল ব্যাংককে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিধি আরো বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

  • মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

    মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

    মা-বাবার কবর জিয়ারত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ে দুই দিনের সরকারি সফরের প্রথম দিনে পৌর শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করেন তিনি।

    বাবা-মায়ের কবরের পাশে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। কবর জিয়ারতের সময় পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই সেনুয়া কবরস্থান এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। কবরস্থান ও আশপাশের এলাকায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি ও অন্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

    এর আগে দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে দুই দিনের সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণ করেন তিনি।

  • জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১%

    জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১%

    চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৪.৬৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.৫০ শতাংশ কম। এছাড়া শুধু জুলাই মাসেই দেশটিকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। বাংলাদেশের বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির এই পরিসংখ্যান পোশাকশিল্পের জন্য এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানি মূল্য ছিল ৭.৭৪ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ২০ শতাংশের বেশি।

    মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্যমতে, বছরের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ কমে ৪১.৮৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। একই সময়ে দেশটির আমদানির পরিমাণ কমেছে ৯.৪১ শতাংশ। তবে গড় ইউনিট মূল্য বেড়েছে ০.৮৪ শতাংশ।

    ওটেক্সার তথ্যমতে, বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ৪.৬৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ, যা গত বছরে ছিল ৪.৯৮ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে গত বছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশ যেখানে ১.৫৯ বিলিয়ন এসএমই (স্কয়ার মিটার ইকুইভ্যালেন্ট) পোশাক রপ্তানি করেছিল, ২০২৬ সালের একই সময়ে সেটি ৪.৩৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১.৫২ বিলিয়ন এসএমইতে। আর ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে প্রতি ইউনিট পোশাকের গড় দাম ছিল ৩.১২ মার্কিন ডলার, যা ২০২৬ সালের একই সময়ে ২.২৬ শতাংশ কমে ৩.০৫ মার্কিন ডলারে নেমেছে।

    এই সময়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চীনের রপ্তানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ভারতের ২৫.৭৭ শতাংশ। এছাড়া পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের যথাক্রমে ৫.৬০ শতাংশ ও ১.০৩ শতাংশ কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার পোশাক রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ২.৭৬ শতাংশ ও ১০.৪৮ শতাংশ।

    এই সময়ে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা গেছে পোশাকের ইউনিট মূল্যে। বাংলাদেশের রপ্তানি কমে যাওয়ার পেছনে ইউনিট মূল্য কমারও প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন রপ্তানিকারকরা। চলমান গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে আগামী কয়েক মাসে বাংলাদেশের রপ্তানির গতি কেমন থাকবে সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তারা। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ক্রেতাদের অর্ডার, পণ্যের মূল্য এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর সরবরাহ সক্ষমতার পরিবর্তন বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমার দেশকে বলেন, রপ্তানি কম হওয়ার প্রথম কারণ হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারেই এখন অর্ডার কম, রপ্তানিও কমেছে। বিশেষ করে আমেরিকার বাজারটা আমাদের জন্য প্রায় এক বছর ধরেই একটা অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে ছিল। এর অন্যতম কারণ, ট্রাম্পের ট্যারিফ এবং এরপর নতুন করে যে সিদ্ধান্তগুলো এসেছে সেগুলো। এসব কারণে একটা অননুমেয় ও অনিশ্চিত সময় যাচ্ছিল। এ কারণেই ইউএস মার্কেটে মোট রপ্তানি কমেছে।

    মোহাম্মদ হাতেম আরো বলেন, তবে সামনের দিনগুলোতে রপ্তানি নিয়ে আশার জায়গা হলোÑযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের যে নতুন চুক্তির সেখানে একটা ক্লজ আছেÑইউএসের মেটারিয়াল দ্বারা তৈরি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ‘ডিউটি ফ্রি এক্সেস’ পাবে। এই সুযোগটা যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি তাহলে সেখানে আমাদের রপ্তানিটা বেড়ে যাবে।

  • অর্থ সংকটে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল

    অর্থ সংকটে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল

    অর্থের অভাবে দেশের বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নকাজ ধীরগতিতে চলছে। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রাথমিকভাবে ৫,০০০ কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল এবং পরবর্তী সময়ে চাহিদা ও প্রকল্পের অগ্রগতি বিবেচনায় এর আকার ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে প্রাইভেট ইকোনমিক জোনস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পিইজেডএবি)। সম্প্রতি অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই বিশেষ তহবিল চালুর দাবি জানান পিইজেডএবির প্রেসিডেন্ট এএসএম মাঈনুদ্দিন মোনেম। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে শুরুতেই বিশাল অঙ্কের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়, অথচ কারখানা চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে নগদ প্রবাহ তৈরি হয়। উচ্চ সুদের স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক ঋণের ওপর নির্ভর করায় অবকাঠামোর ব্যয় অতিরিক্ত বেড়ে যায় এবং কাজ শেষ করতে বিলম্ব হয়। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন।

    প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, যোগ্য ডেভেলপারদের জন্য ঋণে সুদের হার সর্বোচ্চ ৪.৫০ শতাংশে সীমিত রাখা এবং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ বছর (বড় ও দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ২০ বছর পর্যন্ত বিবেচনাযোগ্য) এবং রেয়াতকাল ৪ বছর ধরা হয়েছে।

    পিইজেডএবি জানিয়েছে, সরকারি প্রকল্পগুলো নানা ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও বাজেট বরাদ্দ পেলেও বেসরকারি উদ্যোক্তারা মূলত নিজস্ব মূলধন ও বাণিজ্যিক ঋণের ওপর ভর করে এসব অবকাঠামো গড়ে তোলেন। প্রস্তাবিত কাঠামোতে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ঋণ এবং কমপক্ষে ৩০ শতাংশ ডেভেলপারের নিজস্ব মূলধন রাখার কথা বলা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত তহবিল থেকে ভূমি উন্নয়ন, সংযোগ সড়ক, ড্রেনেজ, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, এসটিপি, সিইটিপি, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অগ্নিনিরাপত্তা এবং আইটি লজিস্টিকস খাতের উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করা যাবে।

    তহবিলের অপব্যবহার রোধে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে কঠোর মূল্যায়ন, তদারকি এবং ভৌত অগ্রগতির ভিত্তিতে কিস্তিতে অর্থ ছাড় করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। যেসব প্রকল্পে ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের নিজস্ব মূলধন বিনিয়োগ হয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    পিইজেডএবি আশাবাদী, এই উদ্যোগ সরকারের ওপর কোনো বাড়তি বাণিজ্যিক ঝুঁকি তৈরি করবে না, বরং এটি দ্রুত শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিষয়টি চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে দ্রুত একটি বৈঠকের আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।

    প্রাইভেট ইকোনমিক জোনস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (পিইজেডএবি) উপদেষ্টা মো. আব্দুল কাদের খান আমার দেশকে বলেন, ‘বাংলাদেশের বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো দেশের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বর্তমানে ১৩টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল লাইসেন্স পেয়েছে এবং আরো কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব অঞ্চলে ইতোমধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। আগামীতে আরো প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে এসব অঞ্চলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পরিকল্পিত শিল্প ও অবকাঠামো পুরোপুরি চালু হলে ৭ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    জানা গেছে, বর্তমানে আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল, মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল, বে অর্থনৈতিক অঞ্চল, সিটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন, কর্ণফুলী ড্রাই ডক স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড, কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইস্ট-ওয়েস্ট স্পেশাল ইকোনমিক জোন এবং হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প ও উৎপাদন কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে চালু রয়েছে। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেড, কিশোরগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেড এবং পূর্বগাঁও অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নাধীন রয়েছে। আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ চালু থাকা কয়েকটি অঞ্চলেও পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। সিটিগ্রুপসহ বেশ কয়েকটি শিল্প গ্রুপ বেসরকারি ইকোনমিক জোনে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে এখন অর্থ সংকটে পড়েছে।

    সরকারি এবং বেসরকারি খাতের অর্থনৈতিক অঞ্চল, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) ও হাই-টেক পার্কগুলোর মূল লক্ষ্য এক হলেও অর্থায়ন মডেলে রয়েছে বড় ধরনের বৈষম্য। সরকারি প্রকল্পগুলো রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ, বাজেট বরাদ্দ ও সহজ শর্তের ঋণ সুবিধা পেলেও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো গড়ে তুলতে হয় নিজস্ব মূলধন ও চড়া সুদের বাণিজ্যিক ঋণের মাধ্যমে। ফলে একই জাতীয় অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে কাজ করেও বেসরকারি ডেভেলপাররা কাঠামোগত অর্থায়নে মারাত্মক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রাইভেট ইকোনমিক জোনস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (পিইজেডএবি) প্রেসিডেন্ট এএসএম মাঈনুদ্দিন মোনেম। এজন্য এই তহবিলের আবেদন করেছে সংগঠনটি।

  • আন্দোলনে দণ্ডপ্রাপ্ত এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

    আন্দোলনে দণ্ডপ্রাপ্ত এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভাজন ইস্যুতে আন্দোলনের কারণে সাময়িক বরখাস্তের পর লঘুদণ্ড পাওয়া ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করেছে সরকার।

    গত ২ সেপ্টেম্বর এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    রোববার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ওয়েবসাইটে এসব প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।

    শাস্তি মওকুফ পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—উপকমিশনার মো. শাহাদাত জামিল, রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল বাশার, রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া, উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল আলম, কমিশনার জাকির হোসেন, যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির, অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত কমিশনার আ আ ম আমীমুল ইহসান, অতিরিক্ত কমিশনার সিফাত-ই-মরিয়ম, অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহাম্মদ তারেক রিকবদার, উপকর কমিশনার নো. জিল্লুর রহমান, উপকর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল, অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, যুগ্ম কর কমিশনার মামুন মিয়া, অতিরিক্ত কর কমিশনার মিজ চাঁদ সুলতানা, অতিরিক্ত কর কমিশনার সুলতানা হাবীব, অতিরিক্ত কর কমিশনার মুরাদ আহমেদ, যুগ্ম কর কমিশনার মিজ মাসুমা খাতুন ও যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দীন।

    প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়, এসব কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় রাজস্ব ভবনের প্রবেশপথে অবস্থান করে ওই বছরের ২২ জুন জারি করা বদলির আদেশ আইনসংগত কারণ ছাড়া অবজ্ঞাপূর্বক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলেন। এর মাধ্যমে তারা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং বদলি আদেশ অমান্যকারীকে সমর্থন করেন।

    প্রজ্ঞাপনগুলোতে আরও বলা হয়, এ ধরনের আচরণ চাকরির শৃঙ্খলার জন্য হানিকর, শিষ্টাচারবহির্ভূত ও সরকারি আদেশ অবজ্ঞার শামিল। এটি ‘সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর ৩০৩ বিধির লঙ্ঘন এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর পর্যায়ভুক্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

    বিভাগীয় মামলায় আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারও বেতন কয়েক ধাপ এবং কারও বেতন কয়েক বছরের জন্য অবনমিত করা হয়েছিল।

    এতে আরও বলা হয়, এসব কর্মকর্তা দণ্ডাদেশ মার্জনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গত ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি বরাবর আপিল আবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি আপিল আবেদন মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেন।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তাদের মূল বেতনে অবনমিতকরণ সূচক লঘুদণ্ড বাতিল করে তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত ১৮ আগস্ট রাজস্ব সম্মেলনে এনবিআর কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তি তুলে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানান। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন।

    ২০২৫ সালে এনবিআরকে দুই ভাগ করে ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ ও ‘রাজস্ব নীতি’ নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ করার বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে ওই অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে কলমবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    ওই বছরের ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কাঠামোতেই এনবিআরের সব কার্যক্রম চলবে।

    এর মধ্যে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলনে নামেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।

    দাবি আদায়ে ২৮ জুন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের আন্দোলনে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। পরদিনও কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে সংস্থাটির সেবাকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

    পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।

    এরপর নতুন সরকার গঠনের আগেই একের পর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত আসতে থাকে। এর মধ্যে অনেক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। কারও বিরুদ্ধে নেওয়া হয় লঘুদণ্ড।

  • বিদেশ ভ্রমণে বছরে সর্বোচ্চ ব্যয় করা যাবে ১৮ হাজার ডলার

    বিদেশ ভ্রমণে বছরে সর্বোচ্চ ব্যয় করা যাবে ১৮ হাজার ডলার

    বিদেশ ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা ১২ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন থেকে একজন বাংলাদেশি নাগরিক এক বছরে বিদেশ ভ্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে পারবেন।

    রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রকৃত ভ্রমণসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিবর্তিত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ভ্রমণ কোটার সীমা বাড়ানো হয়েছে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, ১২ বছরের কম বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনুমোদিত সীমার ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুবিধা আগের মতোই বহাল থাকবে।

    এদিকে নগদ মার্কিন ডলার নোট নেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ভ্রমণ কোটার আওতায় একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার নগদ নিতে পারবেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পর্যটন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং অন্যান্য অনুমোদিত বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারে বাড়তি সুযোগ তৈরি হলো।

  • দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    রোববার সচিবালয়ে রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা নিশ্চিতকরণ এবং বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং তৎসংলগ্ন খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ঢাকার চারপাশে বিদ্যমান বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

    এ পর্যন্ত গৃহীত পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করে কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে।

    সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ-আল-মাকসুসসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • কিছু আসামির গতিবিধি সন্দেহজনক, নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর

    কিছু আসামির গতিবিধি সন্দেহজনক, নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচারপ্রক্রিয়াকে ঘিরে নাশকতা বা স্যাবোটাজের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। কিছু আসামির গতিবিধি ও তৎপরতা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
    আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছু কিছু আসামির গতিবিধি ও তৎপরতা আমাদের কাছে সন্দেহজনক লেগেছে। আমাদের কাছে কিছু গোপন তথ্য আছে যে, তারা যেকোনো ধরনের স্যাবোটাজ বা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে পারেন।

    এসব বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করে আমরা কাজ করছি। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ও বাইরে প্রতিটি কর্মকাণ্ড নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। কেউ যদি কোনো অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করেন, সেটি তাঁদের জন্য আত্মঘাতী হবে। কারও মনে এ ধরনের দুষ্টুচিন্তা থাকলে কিংবা কোনো অপরাধী অন্য কোনো বিষয়ে চিন্তা করলে, সেটিও তাঁদের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে, বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

    গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। রোববার গুমের শিকার ৫৫টি পরিবারের সদস্য ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসেন। তাদের জবানবন্দি নেওয়ার কথা রয়েছে।
    আমিনুল ইসলাম বলেন, এসব পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হওয়ার পর কিছু অভিযুক্ত ব্যক্তির তৎপরতা বেড়েছে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি গুমের ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

    তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে যাঁদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে, তাঁদের বিষয়ে প্রশাসনের নজর রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুমের ভুক্তভোগী প্রতিটি পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অত্যন্ত শক্তিশালী। বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রসিকিউশন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

  • এনবিআরের আন্দোলনকারী ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

    এনবিআরের আন্দোলনকারী ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

    এক বছর আগে অন্তর্বর্তী সরকার আমলে আন্দোলনে নামার পর শাস্তিপ্রাপ্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বোর্ডের ২০ কর্মকর্তা এবার রেহাই পেয়েছেন।

    প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরে লঘুদণ্ড পাওয়া এই কর্মকর্তাদের শাস্তি মওকুফ করে আজ রবিবার প্রজ্ঞাপন হয়েছে। আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহসান হাবিব।

    যাদের শাস্তি মওকুফ করা হয়েছে, তারা হলেন উপ-কমিশনার শাহাদাত জামিল, রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল বাশার, রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া, উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল আলম, কমিশনার জাকির হোসেন, যুগ্ম কমিশনার সানোয়ারুল কবির, অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত কমিশনার আ আ ম আমীমুল ইহসান, অতিরিক্ত কমিশনার সিফাত-ই-মরিয়ম, অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহাম্মদ তারেক রিকবদার, উপকর কমিশনার জিল্লুর রহমান, উপকর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল, অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, যুগ্ম কর কমিশনার মামুন মিয়া, অতিরিক্ত কর কমিশনার চাঁদ সুলতানা, অতিরিক্ত কর কমিশনার সুলতানা হাবীব, অতিরিক্ত কর কমিশনার মুরাদ আহমেদ, যুগ্ম কর কমিশনার মাসুমা খাতুন ও যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দীন।

    এনবিআর কর্মকর্তারা গত ১৮ আগস্ট রাজস্ব সম্মেলনে তাদের শাস্তি প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। তা বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন তারেক রহমান। এখন সেটি বাস্তবায়িত হলো।

    আন্দোলন ও শাস্তি

    কর প্রশাসন সংস্কারে এনবিআর দুই ভাগ করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৫ সালে তার অধ্যাদেশ জারি হলে তার বিরোধিতায় কলম বিরতিসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    ওই বছরের ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাদেশে ‘প্রয়োজনীয় সংশোধনী’ আনা হবে। আর সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কাঠামোতেই চলবে এনবিআরের সব কাজ।

    কিন্তু এর মধ্যে সংস্থাটির কর্মীরা নানা অভিযোগ তুলে তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলনে নামেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।

    এরপর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের কাউকে কাউকে বদলি করা হলে ২৪ জুন এক কর্মসূচি থেকে তারা বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান।

    দাবি আদায়ে ২৮ জুন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়ে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের কার্যক্রম। পরদিনও কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে সংস্থাটির সেবাকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

    ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ শাটডাউন কর্মসূচি তুলে নেয়।

    এরপর একের পর এক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত আসতে থাকে। অনেক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। কারও বিরুদ্ধে নেওয়া হয় লঘুদণ্ড।

    শাস্তি মওকুফের প্রজ্ঞাপনে যা রয়েছে

    প্রজ্ঞাপনে শাস্তি মওকুফ করলেও এই কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণগুলো তুলে ধরা হয়।

    এতে বলা হয়, এসব কর্মকর্তারা ২০২৫ সালের ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় রাজস্ব ভবনের প্রবেশ পথে অবস্থান করে ওই বছরের ২২ জুন জারি করা বদলির আদেশ আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে অবজ্ঞাপূর্বক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার মাধ্যমে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং এর মাধ্যমে বদলি আদেশ অমান্যকারীকে সমর্থন করেন।

    এ ধরনের আচরণ চাকরি শৃঙ্খলার জন্য হানিকর, শিষ্টাচারবহির্ভূত ও সরকারি আদেশ অবজ্ঞার শামিল হওয়ায় কারও বেতন কয়েক ধাপ অবনমিত করা, কারও বেতন কয়েক বছরের জন্য অবনমিত করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।

    এখন তাদের আবেদনের ভিত্তিতে শাস্তি মওকুফের কথা জানিয়ে বলা হয়, এসব কর্মকর্তা দণ্ডাদেশ মার্জনা করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গত ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি বরাবর আপিল আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি আপিল আবেদন মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেন।

  • কচুর লতিতে কৃষকের ভাগ্যবদল

    কচুর লতিতে কৃষকের ভাগ্যবদল

    সবজি চাষে খ্যাত যশোরে বাণিজ্যিকভাবে কচুর লতি চাষ বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি কচুর লতির আবাদও ছড়িয়ে পড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর মাটি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে কম খরচে ভালো লাভ পাওয়ায় এ ফসলে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।

    উৎপাদিত লতি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পাইকারদের মাধ্যমে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় তুলনামূলক ভালো দাম ও দীর্ঘ সময় ধরে ফলন পাওয়ার সুযোগ থাকায় অনেক কৃষক লতি চাষকে লাভজনক বিকল্প হিসেবে দেখছেন।

    চৌগাছা উপজেলার ফুলসারা, পাশাপোল ও সিংহঝুলি; বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা, জহুরপুর ও রায়পুর; শার্শার ডিহি, কায়বা ও নাভারণ; ঝিকরগাছার বাঁকড়া ও মাগুরা; মনিরামপুরের নেহালপুর, হরিহরনগর ও মনোহরপুর; কেশবপুরের পাঁজিয়া ও সুফলাকাঁটি; যশোর সদরের চুরামনকাটি, কাশিপুর, ইচালি, দেয়াড়া, লেবুতলা ও সাতমাইল এবং অভয়নগরের সিদ্দিরপাশা ও প্রেমবাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে এখন কচুর লতির আবাদ দেখা যাচ্ছে।
    একসময় এসব জমির বড় অংশে ধান চাষ হলেও এখন কিছু জমিতে জায়গা করে নিয়েছে কচুর লতি। কৃষকদের মতে, নিয়মিত পরিচর্যা করলে দীর্ঘ সময় ধরে এ ফসল থেকে ফলন পাওয়া যায়।

    যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান বলেন, ‘যশোরে সবজি চাষ বরাবরই সমৃদ্ধ। চলতি মৌসুমে আগাম সবজি খরিপ-২-এর আওতায় জেলায় মোট ৬ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কচুর লতি চাষ হয়েছে। মাটি উর্বর হওয়া এবং কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার কারণে লতির ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সঠিক সময়ে সুষম সার ব্যবহারের পাশাপাশি কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

    যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পুলের হাট বাজারে প্রতিদিন কচুর লতির বেচাকেনা হয়। সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার হাটের নির্ধারিত দিন হলেও অন্যান্য দিনও সেখানে লতির কেনাবেচা চলে।
    বাঘারপাড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে কৃষকরা ভোরে ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনে লতি নিয়ে আসেন। পুলের হাটের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন বাজারেও চলে এর বেচাকেনা।

    পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিদিন পুলের হাট থেকে কয়েক হাজার মণ কচুর লতি বেচাকেনা হয়। ভোর থেকে শুরু হওয়া কেনাবেচায় শ্রমিকরা লতি বস্তাবন্দী করে ট্রাকে তোলেন। চুরামনকাটি, সাতমাইল, আব্দুলপুর, চৌগাছা কাঁচাবাজার ও বাঁকড়ার হাট থেকেও দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা লতি সংগ্রহ করেন। পরে এসব লতি পাঠানো হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন বড় পাইকারি বাজারে।
    লতি চাষে কৃষকদের আগ্রহের অন্যতম কারণ লাভজনকতা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ও ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক কৃষক বিকল্প ফসল হিসেবে লতি চাষ বেছে নিচ্ছেন।
    চৌগাছার ফুলসারা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগে জমিতে নিয়মিত ধান চাষ করতাম। কিন্তু একবার টানা বর্ষায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়। এরপর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে কচুর লতি চাষ শুরু করি। প্রথম বছরেই প্রত্যাশার চেয়ে ভালো লাভ পাই। এরপর থেকে ধান ছেড়ে পুরোদমে লতি চাষেই মন দিয়েছি। বাজারে অন্য যেকোনো সবজির চেয়ে লতির দাম বেশি ও স্থিতিশীল থাকে, তাই ঝুঁকি অনেক কম।’


    একই এলাকার কৃষক প্রদীপ কুমার রায় বলেন, ধান চাষের তুলনায় লতি চাষে শারীরিক পরিশ্রম কিছুটা বেশি হলেও আর্থিকভাবে এটি লাভজনক।
    তিনি বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ৪৫ শতক জমিতে কচুর লতি চাষে সার, চারা ও পরিচর্যা বাবদ প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ টাকার লতি বিক্রি করেছি। সব খরচ বাদ দিয়েও নিট লাভ থাকছে ৬০ হাজার টাকা। কম সময়ে এত অল্প খরচে অন্য কোনো ফসল থেকে এত টাকা আয় করা সম্ভব নয়।’

    কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মতে, যশোরের মাটি ও আবহাওয়ায় উৎপাদিত কচুর লতির মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর আলাদা চাহিদা তৈরি হয়েছে।
    পুলের হাটের পাইকারি ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা যশোরের লতির জন্য মুখিয়ে থাকেন। এখানকার লতি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। ফলে ঢাকা বা অন্যান্য অঞ্চলের বাজারে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি বিক্রি হয়ে যায়। পণ্যের চাহিদা ও গুণগত মান ভালো বলেই আমরা কৃষকদের ভালো দাম দিতে পারি।’

    বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইয়েদা নাসরিন জাহান বলেন, ‘আগে এই অঞ্চলের বন্দবিলায় হাতেগোনা চার-পাঁচজন কৃষক লতি কচু চাষ করতেন। কিন্তু মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগিতা প্রমাণ হওয়ার পর এখন প্রায় শতভাগ উপযুক্ত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লতি কচুর চারা যাচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কৃষকদের সুষম সার প্রয়োগ, সময়মতো ওষুধ প্রয়োগ এবং আধুনিক পরিচর্যা বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।’

    কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, যশোরে কচুর লতি চাষ ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক রূপ পাচ্ছে। বাজারে চাহিদা ও ভালো দাম ধরে রাখা গেলে ভবিষ্যতে এ আবাদ আরও বাড়তে পারে।

  • যশোরের মাটিতে জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন 

    যশোরের মাটিতে জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন 

    যশোরের চৌগাছা উপজেলার হিজলী গ্রাম। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে গাছে ধরে আছে আপেল কিংবা পাকা গাব। তবে কাছে গেলেই ধারণা বদলে গেলো।
    দেখতে আপেলের মতো, রঙে কমলার আভা। খেতে মিষ্টি, পুষ্টিগুণে ভরপুর। এ যেন একসাথে আপেল-গাব আর খেজুরের স্বাদ। জাপানের এই জাতীয় ফল পার্সিমনের চাষ হচ্ছে উপজেলার হিজলী গ্রামে। আর এর নেপথ্যের কারিগর হিজলী গ্রামের কৃষক জুলফিকার সিদ্দীক। যিনি ইতিমধ্যে লাভবানও হয়েছেন ।

    আলাপচারিতায় জুলফিকার সিদ্দীক জানালেন, ২০২১ সালে নাটোর থেকে পার্সিমনের চারা কিনে ৫ কাঠা জমিতে লাগান ৩০টি গাছ। প্রায় তিন বছর ধরে নিয়মিত পরিচর্যার পর গাছে ফল আসতে শুরু করে। চলতি মৌসুমে এসব গাছে প্রচুর পার্সিমন ধরেছে । গাছের ডালে ডালে ঝুলছে ফল, দেখেই বোঝা যায় বাম্পার ফলন হয়েছে।

    তিনি আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, ‘এমন একদিন আসবে, যখন পার্সিমন কাঁচাতেই মিষ্টি পাবেন। এগুলো ফল দু-একটা করে ধরতে শুরু করেছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ও টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারা তৈরি করে আমাদের দেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।’

    জুলফিকার সিদ্দীক নিজেও চারা উৎপাদন করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই আমার মাধ্যমে আরও ১০০ জন কৃষক এই চাষে আসুক। সরকার যদি প্রশিক্ষণ ও চারা সহায়তা দেয়, তাহলে ৩ বছরের মধ্যে যশোরে পার্সিমনের বড় বাগান হবে।’

    জুলফিকারের বাগানে ফল ধরার খবর ছড়িয়েছে আশপাশের গ্রামে। প্রতিদিনই পার্সিমন দেখতে আসছেন অনেকে। আপেলের মতো দেখতে আকর্ষণীয় এই ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
    দর্শনার্থী মনিরুজ্জামান উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, ‘আমি জীবনে অনেক ফল দেখেছি কিন্তু এই ফল অনেক মজা ও সুস্বাদু। গাছে কুলের মতো ফল ধরে যেটা দেখে হৃদয় জুড়িয়ে যায়। জাপানের জাতীয় ফল এ দেশে খেতে পেরে আমরা গর্বিত।’

    অনেকেই বাগান থেকে ঘুরে গিয়ে চারা সংগ্রহের কথা ভাবছেন। কৃষকদের মধ্যে নতুন এই ফল নিয়ে কৌতূহল ও আগ্রহ দুটোই বাড়ছে।
    শুধু হিজলী নয়, যশোরের বিভিন্ন এলাকাতেও পরীক্ষামূলকভাবে পার্সিমনের চাষ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। মানভেদে প্রতি কেজি পার্সিমন বিক্রি হচ্ছে আটশ থেকে ১ হাজার টাকায়।
    দাম বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এটি এখনো দুর্লভ ফল। চাহিদা আছে কিন্তু সরবরাহ কম। তাছাড়া ফলটির স্বাদ ও পুষ্টিগুণ শহরের ক্রেতাদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

    চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন বলেন, ‘একজনই চাষ করেছেন। তিনি মোটামুটি সফল। আমাদের যে গবেষণা এবং লিংকেজ ওয়ার্কশপ, সেখানে আমরা এটা উপস্থাপন করেছি। সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে যদি আমাদের অ্যাপ্রুভ করা হয়, তাহলে আমরা এটি নিয়ে আরও বিস্তারিতভাবে কাজ করতে সক্ষম হবো।’
    তিনি আরও বলেন, ‘এটার নতুন করে বাজার সৃষ্টি করতে পারলে, কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারলে স্ট্রবেরি বা ড্রাগনের মতো বিপ্লব ঘটবে। যশোরের মাটি সবজির জন্য বিখ্যাত। এখানে ফল চাষেও ভালো সম্ভাবনা আছে।’

    কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পার্সিমন চাষের জন্য আলাদা কোনো কঠিন প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই। সাধারণ ফল বাগানের মতোই পরিচর্যা করলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। তবে জাত নির্বাচন ও সঠিক সময়ে ছাঁটাই খুব জরুরি।

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তানভীর ইসলাম বলেন, ‘পার্সিমন জাপানের জাতীয় ফল। এটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, আয়রণ, পটাশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। নিয়মিত পার্সিমন খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। চোখ ও ত্বকের জন্য ভালো। ফাইবার বেশি থাকায় হজমেও সাহায্য করে। জাপান, কোরিয়া ও চীনে এটি খুবই জনপ্রিয় একটি ফল। আমাদের দেশের মানুষও ধীরে ধীরে এটি গ্রহণ করবে।’

    ড. তানভীর আরও জানান, পার্সিমনের দুই ধরনের জাত আছে। একটি পাকলে নরম হয়ে যায়, আরেকটি কচকচে অবস্থায়ও খাওয়া যায়। বাংলাদেশে এখন যে জাতটি চাষ হচ্ছে সেটি পাকলে নরম ও রসালো হয়।’
    কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পার্সিমন গাছ খরা সহনশীল। বেশি পানি জমে থাকা পছন্দ করে না। যশোরের উঁচু ও পানি নিষ্কাশন ভালো এমন জমিতে এটি ভালো হবে। তাছাড়া গাছে রোগ-বালাই কম। কীটনাশকের ব্যবহারও তুলনামূলক কম লাগে।

    কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফ্রুট, অ্যাভোকাডোর মতো পার্সিমনও হতে পারে যশোরের নতুন অর্থকরী ফসল। একবার গাছ লাগালে ২০-২৫ বছর ফল দেয়। রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম।

  • আওয়ামী লীগ আমলের ২৫১ গুমের তদন্ত শেষে এ বছরই বিচার শুরু

    আওয়ামী লীগ আমলের ২৫১ গুমের তদন্ত শেষে এ বছরই বিচার শুরু

    প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর

    আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২৫১ গুমের ঘটনার তদন্ত শেষে চলতি বছরেই বিচার শুরুর লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

    রোববার ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২৫১ জন যারা গুমের শিকার তাদের প্রত্যেককেই একই পদ্ধতিতে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে তুলে নিয়ে যায়। প্রত্যেক ঘটনা প্রায় একই রকম। এই কারণে আমরা এ ঘটনাটাকে ওয়াইডস্প্রেড এবং সিস্টেমেটিক অপরাধ হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে আমরা মনে করি। আজকে ৫৫ গুম পরিবারের সদস্যরা এখানে এসেছেন, তাদের জবানবন্দি নিচ্ছেন আমাদের তদন্ত সংস্থার ১৮ জন তদন্ত কর্মকর্তা। এভাবেই ক্রমান্বয়ে সব পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি নেওয়া হবে। তাদের কাছে থাকা যাবতীয় নথিপত্র জব্দ করা হবে।

    আমিনুল বলেন, আমরা অপরাধীদেরকে অনেকাংশে চিহ্নিত করতে পেরেছি। কারা কীভাবে তাদেরকে তুলে নিয়ে গেছিল এবং সেই জায়গাগুলো অলমোস্ট আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। তবে তদন্তের স্বার্থেই পুরোটাই ডিসক্লোজ করতে চাই না। অন্য মামলায় গ্রেপ্তার যারা আছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে। কর্মরত আছেন এমন কেউ কেউ থাকতে পারে। অলরেডি রিটায়ারমেন্টে গেছেন এরকম কেউ কেউ থাকতে পারে। আমরা এই পর্যায়ে ইনভেস্টিগেশনটা দ্রুততার সঙ্গে শেষ করে চলতি বছরের মধ্যে বিচার শুরু লক্ষ্যে নিয়েই কাজ করছি।

    তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সিকিউরিটি বৃদ্ধির জন্য, এমনকি যে সব আসামিদের আমরা চিহ্নিত করছি, তাদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখছি। আমাদের ট্রাইবুনালের ভিতরে-বাইরে আসামিদের আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুম পরিবারের কোন সদস্য যারা সাক্ষ্য দিচ্ছেন বা দিবেন তাদের যাতে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় সেই কারণে আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

    তিনি আরো বলেন, গুম পরিবারের সদস্যরা কোনো টার্গেটের শিকার হতে পারেন এরকম শঙ্কাও রয়েছে। আমরা মনে করি অপরাধীকে বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নাই, তারা তাদের মত করে কিন্তু যেকোনো সময় আমাদেরকে ছোবল মারতে পারে। একইভাবে আমাদের ভিকটিম পরিবার যারা আছে তাদেরকেও আমরা নিজেদেরকে সতর্ক থাকতে বলছি, বিশেষ করে আমাদের এই ইনভেস্টিগেশনটা যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, কোনোভাবে যাতে কোনো সেবোটাইজ করে যাতে আমাদের এই ইনভেস্টিগেশনের কার্যক্রমে কোনো ধরনের কোনো বাধা সৃষ্টি করতে না পারে।

    গুমের শিকার পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাকের’

    পক্ষ থেকে ২৫১ জন গুমের অভিযোগ দেওয়া হয় ট্রাইব্যুনালে। সংগঠনের তুলির নেতৃত্ব আজ গুম পরিবারের ৫৫ জন ট্রাইব্যুনালে আসেন। তাদের জবানবন্দি নিচ্ছেন ১৮ জন তদন্ত কর্মকর্তা।

  • ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদে ইসরাইলি প্রচেষ্টার নিন্দা ৮ মুসলিম দেশের

    ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদে ইসরাইলি প্রচেষ্টার নিন্দা ৮ মুসলিম দেশের

    গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার বিষয়ে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তানসহ আটটি মুসলিম দেশ।

    পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফিলিস্তিনি জনগণকে যেকোনো অজুহাতে বাস্তুচ্যুত করার লক্ষ্যে নেওয়া সব ধরনের প্রচেষ্টা বা পরিকল্পনা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানান। বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর।

    এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ইসরাইলি মন্ত্রীদের এসব উসকানিমূলক বক্তব্য ও প্রস্তাব আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালা, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনকে সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে। একই সঙ্গে এসব বক্তব্য ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ ও অবিচ্ছেদ্য অধিকারের জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করছে।

  • ইউপি নির্বাচনের তফসিল এ মাসেই, ভোট হবে ধাপে ধাপে

    ইউপি নির্বাচনের তফসিল এ মাসেই, ভোট হবে ধাপে ধাপে

    চলতি মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বহুল প্রতীক্ষিত তফসিল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে ব্যয় সংকোচন নীতি বজায় রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে এই নির্বাচন একসঙ্গে না হয়ে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।

    রোববার আগারগাঁওয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এসব তথ্য জানান।

    তিনি জানান, দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে আবহ তৈরি হয়েছে, তার অংশ হিসেবে চলতি মাসের শেষেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। দেশের সব ইউনিয়নে একসঙ্গে নির্বাচন আয়োজন অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সব ইউপিতে ভোটগ্রহণ করা হবে।

    আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং শিক্ষকরাই প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে পরীক্ষার সময় বাদ দিয়ে হয় তার আগে, না হয় পরে ইউপি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, রাজনীতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের বিষয়ে কমিশন থেকে সরাসরি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

  • জামায়াতের দাবি নাকচ, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে ইসির ‘না’

    জামায়াতের দাবি নাকচ, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে ইসির ‘না’

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশের জন্য বড় অন্তরায়—এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই শিক্ষকদের সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার দাবি জানানো হলেও কমিশন এ বিষয়ে সরাসরি নেতিবাচক অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

    রোববার আগারগাঁওয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ অবস্থানের কথা জানান।

    নির্বাচন কমিশনার জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষার সার্বিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয় উল্লেখ করে ইসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শিক্ষাঙ্গনের গঠনমূলক পরিবেশ বজায় রাখতে এই অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।

    জামায়াতের পক্ষ থেকে ইসির ওপর সরকারি চাপের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের চাপে আছে—এমন ভিত্তিহীন দাবি তোলা মূলত কমিশনকে উল্টো চাপে রাখার একটি রাজনৈতিক কৌশল।

    সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আসন্ন নির্বাচনগুলোর প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে জানান, উপ-নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের প্রক্রিয়া সহজ করতে আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার বড় ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারচুপি রোধে সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বডি ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা বহুগুণ বাড়ানোর পাশাপাশি যেকোনো বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন এবং ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত সমস্যা দূর করার মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর।

  • রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের গেলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বেলা ১টার দিকে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান।

    দুদিনের সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ লক্ষ করা গেছে। জেলা প্রশাসন ও নাগরিক কমিটি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রস্তুতি সভা করেছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে।

    নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মোহাম্মদ খায়রুল কবির জানান, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল আলমগীরকে ঠাকুরগাঁওয়ে সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। সেখান থেকে তিনি শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করার পর নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন।

    বিকালে তিনি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পরদিন সকালে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সেখান থেকে সার্কিট হাউসে ফিরে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

    ঠাকুরগাঁও নাগরিক কমিটি জেলা স্কুল মাঠে রাষ্ট্রপতিকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠান সফল করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও এসএসএফসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। ফেস্টুন ব্যানারসহ বর্ণিল সাজে সেজেছে ঠাকুরগাঁও।

    ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর ইসরাফিল শাহিন জানান, সফরের দ্বিতীয় দিন দুপুরে জামালপুর ইউনিয়নের মহেশখালীতে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সেখানে গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

    জেলা প্রশাসক রফিকুল হক জানান, প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন রাষ্ট্রপতি। তার সফর ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

  • ছয় দফা না মানলে সরকার পতনে এক দফার আন্দোলন

    ছয় দফা না মানলে সরকার পতনে এক দফার আন্দোলন

    গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে সরকার দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে অপমান ও প্রতারিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের কবর রচনা করে সংসদের ভেতরেই সবকিছুর ফয়সালা করতে। আমরা রাজপথে আসতে চাইনি; কিন্তু আপনারাই আমাদের বাধ্য করেছেন এখানে আসতে। তিনি বলেন, জনগণের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এটা আমরা আদায় করেই ছাড়ব।

    গতকাল শনিবার রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সমাবেশ ঘিরে লালদীঘি ময়দান ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক জনস্রোত দেখা যায়।

    এর আগে গতকাল সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াত আমির বলেন, আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি, জনগণের অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ।

    অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি মানতে সরকারকে কঠোর বার্তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে গতকাল ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী এই লংমার্চ কর্মসূচি পালন করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এসব দাবি না মানলে আরো তিন বিভাগে লংমার্চ শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জোটটি।

    গতকাল রাতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে লালদীঘির জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেন, ছয় দফা ১১ দলের কোনো ব্যক্তিগত দফা নয়, এগুলো দেশের জনগণের দফা। অনির্বাচিত সরকার তাদের জান্নাতে পাঠায়নি উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা সে সময় যেমন ছিলেন, এখনো তেমনই আছেন, নেই?

    তিনি বলেন, সরকারি দলের লোকেরা এখন চুরি-চামারি ও সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়েছে। যখন তাদের ধরা হয়, তখন তারা নিজেদের আওয়ামী লীগের লোক বলে পরিচয় দেয়। এরা গুপ্ত হয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকে আমরা যখন লংমার্চের ডাক দিলাম, বিভিন্ন জায়গায় চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। আমাদের এই আন্দোলন ঈদের পরের আন্দোলন নয়; এটি জনগণের দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন। কেউ যদি বিদায় নেওয়ার রাস্তায় হাঁটে, তাহলে তারা কী দোয়া পড়বেন—এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আগের সরকার যে রাস্তায় বিদায় নিয়েছে, বিএনপিও সেই রাস্তায় হাঁটতে চায় কি না, তা দেখতে হবে।

    চট্টগ্রামের মেয়র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই মেয়র মেয়াদোত্তীর্ণ। এর নাম কী? এটা হচ্ছে ফ্যাসিবাদ। তিনি বলেন, বিএনপি ওয়াদা করেছিল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এই দেশ চালাবেন। এখন যাদের প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে, তারা কি নির্বাচিত?

    শফিকুর রহমান বলেন, আজকের লংমার্চ সরকারকে সতর্ক করার জন্য। পরেরগুলো এরকম হবে না। কতগুলো মানুষ মারা গেছে, গুম হয়েছে, তাদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা নেই—এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। বিরোধী দলকে লোভ বা টোপ দিয়ে কেনা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে। এই লড়াইয়ে ফ্যাসিবাদ, অপরাধী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ এবং আধিপত্যবাদীরা নিশ্চিতভাবে হেরে যাবে।

    বিগত আন্দোলনের শহীদ ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, বিগত আন্দোলনে বিপুল মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকেই গুম হয়েছেন এবং আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে ছয় মাস ক্ষমতায় থাকার পর নিজেদের শিশু সরকার বলে দাবি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ জনগণ কোনো শিশুকে ভোট দেয়নি, বরং প্রাপ্তবয়স্ক বিবেচনা করে তাদের ওয়াদা শুনে ভোট দিয়েছে।

    সরকারের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াত আমির বলেন, সরকার একের পর এক উল্টাপাল্টা কাজ করবে আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে—তা হতে দেওয়া হবে না। এখন পর্যন্ত তাদের আঙুল সোজা রয়েছে, তবে প্রয়োজনে তা বাঁকা করতে দ্বিধা করা হবে না।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সংকটের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই দায়ী। তিনি যদি সংসদকে কার্যকর করতেন; তাহলে আমরা সেখানেই থাকতাম। তিনি যদি সংবিধান সংস্কার কমিশনের শপথ নিতেন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতেন; তাহলে আমাদেরকে রাজপথে নামতে হতো না। তিনি সংসদকে অকার্যকর করে রাখায় আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি।

    তিনি আরো বলেন, তারেক রহমান আপনিতো কথা বলা বন্ধ রেখেছেন। মাঝেমধ্যে বললেও আপনি ভুল বলে ফেলেন। তাই সালাহউদ্দিন সাহেবকে কথা বলার জন্য রেখেছেন। কিন্তু দেশের জনগণ তার কথা ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাকে দেশের জনগণ বয়কট করেছে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, যেই সংসদে সালাহউদ্দিন সাহেব একাই সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে পেরেছেন, যিনি একাই সব দায়িত্ব পালন করেন, তিনি নিশ্চয়ই বিরোধী দলের দায়িত্বও পালন করতে পারবেন। তাই আপনারা সংসদে থাকুন, আমরা জনগণের সঙ্গে রাজপথে থাকি।

    দেশের মানুষ ভালো নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট। সরকার সবদিক থেকে ব্যর্থ হয়েছে। আমি সরকারকে বলতে চাই; সময় থাকতে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করবেন সেই উদ্যোগ নেন। জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করুন। নয়তো শেখ হাসিনার দুঃশাসন থামাতে মানুষ ১৬ বছর অপেক্ষা করেছে, আমরা আপনার জন্য পাঁচ বছরও অপেক্ষা করব না।

    সভাপতির বক্তব্যে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, বিএনপি সরকারের পরিবর্তন চান দেশের মানুষ। এই সরকার পরিবর্তন হয়ে চিরদিনের জন্য চলে যাক। সব জায়গায় দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের সঙ্গে বাকশালের কোনো পার্থক্য নেই।

    তিনি বলেন, তারা বলেছিল ক্ষমতায় গেলে এক লাখ লোকের চাকরি দেবে। এখন এক লাখ লোকের চাকরি গেছে। মৌলবাদী মানে যারা মূল মন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা তো উগ্রবাদী নই।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামনুল হল বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি গণভোটের পক্ষে ভোট চেয়েছিল। কিন্তু এখন তাদের মুখ থেকে শুনতে হচ্ছে তারা নাকি নির্বাচন হওয়ার জন্য এসব কথা বলেছিল। এতেই বুঝা যায়, জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপি এখন আত্মস্বীকৃত মুনাফেক দল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে, সংবিধান সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেবে।

    সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, শাহজাহান চৌধুরী এমপি, জহিরুল ইসলাম এমপি, মহানগর আমির নজরুল ইসলাম, সাবেক এমপি আ ন ম শামসুল ইসলাম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুছা বিন ইজহার, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ সিবগাতুল্লাহ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

    এর আগে গতকাল দুপুর থেকেই চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা লালদীঘির ময়দানে আসতে থাকেন। বিকাল তিনটার আগেই সমাস্থল কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়। সমাবেশে নেতাকর্মীরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে সরকারকে আহ্বান জানিয়ে নানারকম প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সমাবেশকে ঘিরে লালদীঘি ও আশেপাশে এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাত সাড়ে ৯টায় সমাবেশটি শেষ হয়।

    এর আগে গতকাল সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ যাত্রা শুরে করে। প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। যাত্রাপথে বন্দরনগরী নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে এসব পথসভা জনসভায় রূপ নেয়।

    এসব জনসভায় বিরোধীদলীয় নেতারা বলেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জাতির সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। তারা গত ছয় মাসে তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও গণহত্যার বিচারে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। জনগণের এসব সমস্যার সমাধানে বিরোধী দল সংসদে ও রাজপথে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।

    এদিকে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ বহর চট্টগ্রামের লালদীঘিতে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে শুভেচ্ছা জানান জোটভুক্ত দলগুলোর স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন স্থানে লংমার্চের যাত্রীদের জন্য খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়। কর্মসূচি ঘিরে জোটের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ উৎসুক জনতার মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীরাও গাড়ি নিয়ে লংমার্চ বহরে যুক্ত হন। সমাবেশে বক্তব্য ছাড়াও নানা ধরনের সংগীত পরিবেশন করে বিভিন্ন শিল্পী গোষ্ঠী।

    বর্তমান বিরোধী দলের প্রথম সর্ববৃহৎ কর্মসূচি হিসেবে লংমার্চ বাস্তবায়নে বেশ কয়েকদিন ধরে প্রস্তুতি নেয় ১১ দল। লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নে পথে পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ও তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চটি শেষ হলেও পথে বহরের দুয়েকটি গাড়ি ছোটখাটো দুর্ঘটনার মুখে পড়ে বলে জানা গেছে।

    এর আগে গত ৬ আগস্ট বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১ দলের অবস্থান কর্মসূচি থেকে ছয় দফা দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশসহ চার বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    ঢাকা-চট্টগ্রাম এই লংমার্চের পর ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে পর্যায়ক্রমে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ৩১ অক্টোবর খুলনা-কুষ্টিয়া এবং ২১ নভেম্বর ট্রেনযোগে সিলেট মহানগর অভিমুখে লংমার্চ পালিত হবে। সবশেষে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

    ছয় দফা দাবির মধ্যে আরো রয়েছে—জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

    শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ

    ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে সমান্তরালভাবে সংসদ ও রাজপথে আন্দোলন চলতে থাকবে।

    জামায়াত আমির বলেন, ছয় দফার সঙ্গে সপ্তম দফা হবে—কোনো চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বাংলাদেশে আমরা বরদাস্ত করব না। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের জ্বালায় জনগণ অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত। গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই কিন্তু গ্যাসের বিলও যথারীতি আছে; বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল আছে। অতিষ্ঠ হয়ে, সিফাত নামের একজন তরুণ কী বলেছিল, তাতে বাংলাদেশ ওলটপালট হয়ে যাওয়ার মতো। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় গিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, যে বিষয়ে সিফাত প্রতিবাদ করেছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জন করবে। ভালোয় ভালোয় ওকে ছেড়ে দিন। যদি না ছাড়েন তাহলে মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডা. মিলন অনেকের গদি একদম ওলটপালট করে দিয়েছিল।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের অধিকার আদায়ে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই অঙ্গীকার পূরণ করতেই আমরা এই কর্মসূচি শুরু করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের কর্মসূচির কৌশল ইতোমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    সমাবেশের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, গণভোটের রায়সহ ছয় দফা দাবি পূরণ না করলে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে চাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের এই লংমার্চ। যারা গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি এই লংমার্চ তাদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, লংমার্চে বাধা আসলে ছয় দফা থেকে একদফা দাবিতে আন্দোলন দুর্বার গতিতে শুরু হবে।

    এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, চাঁদাবাজ-মস্তানদের ভোট দিলে দেশ ভালো চলবে না, তার দৃষ্টান্ত বর্তমান সরকার। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মিনিট না যেতেই জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ পালনের মাধ্যমে যে বার্তা দিতে চাচ্ছি, সরকার যদি সেটি বুঝতে না পারে তবে পরিণতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।

    জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গণভোটের গণরায় মেনে নিয়ে সংসদ অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করবে কিন্তু সরকার সেটি করেনি। সেই ট্রেন সরকার মিস করে ফেলেছে। ১৮০ দিনের মধ্যে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ট্রেনও সেপ্টেম্বরের পর মিস হয়ে যাবে। তাই সেপ্টেম্বরের মধ্যেই গণভোটের গণরায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, সরকারের অবস্থা এমন হয়েছে তারা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে ৭০ শতাংশ জনগণের বিপক্ষে গিয়েছে। সংসদে টু-থার্ডের ক্ষমতা দেখিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা যাবে না। জনগণ ভোট দিতে পারে আবার ক্ষমতাও কেড়ে নিতে পারে।

    এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার বন্ধু ও শত্রু চিনতে পারে না বলেই তাল হারিয়ে ফেলছে। গত ছয় মাসে সরকারের ১৫০ টাকা লাঞ্চ আর ৫০ হাজার ফ্যামিলি কার্ডের গল্প ছাড়া আর কোনো গল্প নেই, কোনো অর্জন নেই।

    সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন নেজামে ইসলাম পার্টির আমির আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। সমাবেশ শেষে সাড়ে ৮টায় লংমার্চের যাত্রা শুরু হয়।

    বৃষ্টিমুখর নারায়ণগঞ্জে পথসভা

    লংমার্চ শুরু হওয়ার পর প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায়। সেখানে বৃষ্টি উপেক্ষা করে অংশগ্রহণ করেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। এতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জনগণের সঙ্গে আছি, আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব। আমরা সফল হব। আজকের লংমার্চ শেষ নয়, শুরু।

    জামায়াতের নারায়ণগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা আবদুল জাব্বারের সভাপতিত্বে পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হকসহ শীর্ষ নেতারা। এদিকে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে লংমার্চ বহরকে শুভেচ্ছা জানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

    নিমসারে অনির্ধারিত পথসভা

    নারায়ণগঞ্জের পর অনির্ধারিত পথসভা হয় কুমিল্লার নিমসার এলাকায়। সেখানে ব্যাপক লোকজনের উপস্থিতিতে রাস্তায় নিজ গাড়িতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আমরা আপনাদের জন্য রাস্তায় নেমেছি, আপনাদের দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ।

    পদুয়ার বাজারে পথসভায় জনতার ঢল

    লংমার্চের অন্যতম বড় পথসভা অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বাসস্ট্যান্ড বিশ্ব রোড এলাকায়। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পথসভাটি সমাবেশে রূপ নেয়। আধাঘণ্টা স্থায়ী এ পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান ছয় দফার পাশাপাশি আরো বলেন, কুমিল্লা বিভাগের দাবি উঠেছিল ১৯৯৪ সালে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। সরকারের উদ্দেশে বলছি, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে দ্রুত বাস্তবায়ন করুন।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ১৮০ দিনে দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। তারা কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, দেশ চাঁদাবাজি, খুন রাহাজানিতে ভরে গিয়ে জাহান্নামে পরিণত হয়েছে। পথসভায় আরো বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।

    চৌদ্দগ্রামে পথসভা

    চৌদ্দগ্রামে পথসভাতেও ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া পথসভায় আরো বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রমুখ।

    ফেনীর পথসভা জনসমাবেশে পরিণত

    লংমার্চের গাড়িবহর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ফেনী মহিপালে পৌঁছায়। উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের শুরু থেকে বিশ্বাসঘাতকতা করে আসছে। তিনি বলেন, সরকার নির্লজ্জ দলীয়করণ করবে, আর আমরা চুপ করে বসে থাকব—তা হবে না। আমরা প্রতিবাদ করব। চূড়ান্ত ডাক এলে জনগণকে নেমে আসার আহ্বান জানান তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। দেশ উল্টোপথে চলছে।

    জুলাই গণহত্যার বিচার পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদ-বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।

    মিরসরাইয়ে শেষ পথসভা বিকালে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অনুষ্ঠিত হয় শেষ পথসভা। সেখানে অনেক আগেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু নেতাকর্মী জমায়েত হন। এতে জামায়াত আমিরসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। লংমার্চ সফলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি বাস্তবায়ন কমিটি দফায় দফায় বৈঠকসহ নানা প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। এতে ১১ দলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর ছাড়াও সংশ্লিষ্ট ৯টি শাখার নেতারা যুক্ত ছিলেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও এসপিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জোটটি। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিটি শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

  • বেসরকারি খাতে জ্বালানির আমদানি-বিপণন ঝুঁকিপূর্ণ

    বেসরকারি খাতে জ্বালানির আমদানি-বিপণন ঝুঁকিপূর্ণ

    বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের নীতিমালা তৈরির আগেই সরকারকে সতর্ক করে প্রতিবেদন দিয়েছে বিপিসি। সব বিপণন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা বিপিসির বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ১১ সদস্যের বিশেষ কমিটির মতামতের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করে সংস্থাটি। প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, বেসরকারি খাতে দেশের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিপণন ছেড়ে দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারির ৯ ধরনের ঝুঁকি হতে পারে।বিপিসি সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা ২০২৬ তৈরির কাজ শুরু করেছে সরকার। ফলে বিপিসির এই প্রতিবেদন নতুন নীতিমালায় গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এই গোপনীয় প্রতিবেদনের একটি কপি আমার দেশ পেয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (বিওজিসিএল) গত ২৪ মে এবং বখতিয়ার আহমেদ জেনারেল ট্রেডিং ও পি সি গত বছরের ১১ নভেম্বর পরিশোধিত জ্বালানি তেল (ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও ফার্নেস অয়েল) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আমদানি করে বিক্রয় ও বিপণন ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার জন্য জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে আবেদন করে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী বিপিসি ও কোম্পানিগুলোর দায়িত্বশীল শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়। বিপিসির পরিচালক (অপারেশন্স) এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসানকে আহ্বায়ক ও ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মো. ইশতিয়াক হোসেনকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেনÑবিপিসির পরিচালক (অর্থ) নাজনীন পারভীন, পরিচালক (পরিকল্পনা) মুহাম্মদ আসাদুল হক, ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এ টি এম সেলিম, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ, মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) ফেরদৌসী মাসুম হিমেল, মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন, যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া, পদ্মা অয়েলের এমডি মো. মফিজুর রহমান এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এমডি মো. শাহীরুল ইসলাম। গত ১৯ জুলাই প্রতিবেদনটি তৈরির পর পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে।

    এতে উল্লেখ করা হয়, দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা ৬৮-৭০ লাখ টন। বিপিসির আওতাধীন একমাত্র পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রেডের প্রায় ১৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল পাওয়া যায়। এর বাইরে স্থানীয় কনডেনসেট এবং নাফথা নির্ভর সরকারি ও বেসরকারি মিনি রিফাইনারিগুলো থেকে বছরে প্রায় ছয় লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরকার নির্ধারিত দরে সংগ্রহ করা হয়। অবশিষ্ট বিপুল পরিশোধিত জ্বালানি তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে দেশের চাহিদা মেটানো হয়।

    দেশে মোট চাহিদার প্রায় ৬৫ শতাংশ চাহিদা ডিজেলের। সেই হিসেবে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪৫ দশমিক ৫০ লাখ টন। প্রতিবছর এ চাহিদা ন্যূনতম পাঁচ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে বছরে প্রায় ছয় দশমিক ৫০ লাখ টন ডিজেল ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে, এক লাখ টন বেসরকারি মিনি রিফাইনারি বা ফ্রাকশনেশন প্লান্টগুলো থেকে এবং অবশিষ্ট ৩৮ লাখ টন ডিজেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

    তবে ৩০ লাখ টন প্রসেস করার ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন রিফাইনারি ‘ইআরএল-টু’ স্থাপন শেষ হলে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রয়োজনীয়তা কমবে। এছাড়াও বিশ্বব্যাপী জ্বালানির ওপর চাপ কমানোর জন্য বর্তমানে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) এবং হাইব্রিড গাড়ির উৎপাদন ও চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার পরিবর্তে কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আইন অনুযায়ী দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণনের এখতিয়ার একচ্ছত্র সরকারের তথা বিপিসির। বেসরকারি এক বা একাধিক প্রতিষ্ঠানকে এ সংক্রান্ত অনুমতি দেওয়া হলে এটি নজির হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি দিতে হতে পারে। বেসরকারি অংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সঙ্গে যুক্ত হলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাবে। জ্বালানি তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এসব প্রতিষ্ঠান রুগ্ণ হয়ে পড়লে সরকার এলপিজি সিন্ডিকেটের মতো পরিশোধিত জ্বালানি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়লে এবং মার্কিন ডলারের সরবরাহ সংকট হলে বেসরকারি অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি বন্ধ রাখবে। ফলে দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র হবে। চলমান ইরান-আমেরিকা-ইসরাইল যুদ্ধে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তে বিপিসি ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ সমুন্নত রেখেছে। কিন্তু বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি বিক্রি করতে রাজি হবে না।

    এর বাইরে বেশকিছু কৌশলগত-অর্থনৈতিক জটিলতা এবং চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে মত দিয়েছে বিপিসির কমিটি। তারা বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়বে। বিপরীতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে নাও কমতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানিকারকরা আমদানি হ্রাস বা বিলম্বিত করতে পারে। ওভার ইনভয়েস ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে মুদ্রা পাচারের আশঙ্কা থাকে। কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করে জ্বালানির দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনকল্যাণের চেয়ে ব্যবসায়িক মুনাফাকে বেশি প্রাধান্য দেয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি খাতে ছাড়ার পর শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বিপিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়ে বিপাকে পড়েছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে জ্বলন্ত উদাহরণ শ্রীলঙ্কা। দেশটি তাদের জ্বালানি বাজার আংশিক বেসরকারিকরণ করে লঙ্কা আইওসি (এলআইওসি) এবং অন্য বিদেশি ও বেসরকারি সংস্থাকে যুক্ত করে। ফলে ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময় বেসরকারি আমদানিকারকরা ডলার সংকটের কারণে তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। সরকারি সিলন পেট্রোলিয়াম করপোরেশন একাই চাপ সামলাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়, যার ফলে দেশটিতে মাইলের পর মাইল তেলের লাইন, গণপরিবহন বন্ধ হওয়া এবং ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।

    পাকিস্তানে জ্বালানি আমদানির বড় অংশ বেসরকারি অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলোর হাতে ন্যস্ত। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে বা ডলারের রেট পরিবর্তন হলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো বেশি মুনাফার আশায় তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। সেখানে পেট্রোল পাম্পগুলোতে নিয়মিত ‘নো পেট্রোল’ বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যা সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে।

    ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে যুক্তরাজ্য তাদের সম্পূর্ণ জ্বালানি ও ইউটিলিটি খাত বেসরকারিতে ছেড়ে দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার পর বহু বেসরকারি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল এক বছরেই দ্বিগুণ-তিনগুণ হয়ে যায় এবং লাখ লাখ পরিবার ‘জ্বালানি দরিদ্রতা’র শিকার হয়।

    বেসরকারি খাতে জ্বালানি আমদানি ও বিপণন ছেড়ে দিলে কৃত্রিম সংকট এবং মজুতদারির ৯ ধরনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ ১. সরকারের সঙ্গে নীতিগতভাবে মতদ্বৈততার উদ্ভব হলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে। ২. আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার আভাস পেলে অধিক মুনাফার আশায় তেল মজুতের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। ৩. দুর্গম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে তেল পাঠানো ব্যয়বহুল হওয়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে সরবরাহ কমাতে বা বন্ধ করতে পারে। শুধু লাভজনক ও বড় শিল্পাঞ্চলগুলোতে সরবরাহ সচল রাখার প্রবণতা দেখা যাবে। ফলে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। ৪. জ্বালানি একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এর নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি হাতে গেলে সংকটের সময় সরকার অসহায় হয়ে পড়তে পারে। ৫. সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করতে জ্বালানিতে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা বাড়তে পারে। ৬. বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেলের বিপণন ও ব্যবস্থাপনা ছেড়ে দিলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। ৭. বেসরকারি খাতের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও কয়েক দফা বাড়ানো হতে পারে। ওয়াসা বা পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাম্প চালাতে খরচ বাড়বে, যা পানির বিল বাড়িয়ে দেবে। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ব্যয় বাড়বে। গরিব জনগোষ্ঠী সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে। ৮. জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে। ৯. জ্বালানির দাম একবার বাড়লে তার প্রভাবে বাজারের সবকিছুর দাম এমনভাবে বাড়ে যা সহজে আর কমে না।

    প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (পিওসিএল), যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (জেওসিএল) ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (এমপিএল) দেশব্যাপী নির্ধারিত মূল্যে বিভিন্ন গ্রেডের জ্বালানি পণ্য বিপণন করে আসছে। এসব কোম্পানির দেশব্যাপী জ্বালানি তেল মজুত, পরিবহন, সংগ্রহ ও বিপণনের ব্যাপক অবকাঠামো ও নেটওয়ার্ক রয়েছে। জ্বালানি তেল মজুতে বিপণন কোম্পানির নৌভিত্তিক, রেলহেডভিত্তিক এবং সড়কপথ ভিত্তিক সর্বমোট ২৭টি ডিপো রয়েছে। ভোক্তা প্রান্তে জ্বালানি সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে বিপিসির দেশব্যাপী ২৩৭৯টি ফিলিং স্টেশন, ৬৬৭টি প্যাকড পয়েন্ট ডিলার, ২৬৪০টি এজেন্সি, ১২৯টি মেরিন ডিলার, ৩১১১টি এলপিজি গ্যাস ডিলার এবং ১৭টি বাঙ্কার ডিলার রয়েছে। নৌপথ, রেলপথ ও সড়কপথে জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা রয়েছে। বিভিন্ন দুর্যোগে বিপিসি দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ সমুন্নত রেখেছে। চলমান ইরান-আমেরিকা ও ইসরাইল যুদ্ধে বিশ্বের অন্যান্য দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা গেলেও বিপিসি ও সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা ও জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উচ্চহারে ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ অটুট রেখেছে, যা বেসরকারি কোম্পানির পক্ষে সম্ভব হবে না। সংবেদনশীল ও কৌশলগত পণ্য বিবেচনায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, বিপণন ও সরবরাহের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বা ক্ষমতা বিপিসির কাছে থাকা নিরাপদ।

    বিপিসি গত পাঁচ বছরে ৭১ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে সরকারকে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্বের পরিমাণ ১৪ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে সরকারকে। বেসরকারি অংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি পেলে সরকারের রাজস্ব উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমবে।

    উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি মনে করে জনস্বার্থ রক্ষা, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা সমুন্নত রাখা এবং চলমান ইরান-আমেরিকা ও ইসরাইল যুদ্ধে অর্জিত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে কৌশলগত পণ্য হিসেবে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণনের একক ক্ষমতা সরকারের কাছে সংরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩-এর আলোকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনে রিফাইনারি স্থাপন ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

  • সরকার জনগণের সঙ্গে  বিশ্বাসঘাতকতা করছে: জামায়াত আমির,

    সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে: জামায়াত আমির,

    বিএনপি সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমাদের মতো বিএনপিও ওয়াদা করেছিল জনগণের জনরায় মেনে নেওয়ার। অথচ ক্ষমতায় আসার পর দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের চরম সংকট থাকলেও সরকার দলের মন্ত্রী ও এমপিরা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করছেন।

    ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে পরিচালিত লংমার্চের অংশ হিসেবে শনিবার বিকেলে ফেনীর মহিপালে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, আমাদের কোনো পিসির বাড়ি নেই। যারা সামান্য কালো মেঘ দেখলেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়—তারা কারা, তা আপনারা সবাই চেনেন। এখন যারা আমাদের চোখ রাঙায়, বিগত সাড়ে ১৫ বছর কোথায় ছিল তাদের ক্ষমতা? কেবল কালো মেঘ নয়, বজ্রপাত আসলেও ১১ দলীয় জোট জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথেই থাকবে।

    সরকারকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, দ্রুত ৬ দফা দাবি মেনে নিয়ে সোজা পথে আসুন। গণভোটের জনরায় মেনে নিন এবং দ্রুত জুলাই গণহত্যা ও পিলখানায় ৫৭ জন সেনাকর্মকর্তা হত্যার বিচার নিশ্চিত করুন।

    দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা সতর্ক করে বলেন, এখনও সংশোধনের সময় আছে। সময় পার হয়ে গেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।

    লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। ইনশাআল্লাহ প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আমাদের লংমার্চ যাবে এবং পরবর্তীতে ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেই মহাসমাবেশ কি কেবল চিড়া-মুড়ি খাওয়ার জন্য হবে, নাকি দাবি আদায়ের জন্য হবে? ফেনীসহ বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষকে বলব—আপনারা প্রয়োজনে চিড়া-মুড়ি সঙ্গে নিয়েই সে সমাবেশে যোগ দেবেন।

    উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চূড়ান্ত ডাক যখন আসবে, তখন সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে এবং দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরতে হবে। আপনারা প্রস্তুতি নিন; আমরা আশাবাদী, জনতার বিজয় হবেই ইনশাআল্লাহ।

    জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে পথসভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, এনসিপি নেতা আকতার হোসেন এমপি, নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

  • ভূমি প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল, ৩৬ এসিল্যান্ডকে বদলি

    ভূমি প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল, ৩৬ এসিল্যান্ডকে বদলি

    ভূমি প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩৬ জন সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বদলিপূর্বক পদায়নের জন্য বিভিন্ন বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে গত ২ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জনস্বার্থে জারি করা এ সংক্রান্ত আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে জসিম উদ্দিনকে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, তৌহিদ রেজাকে ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মো. মাসুদ রানাকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    এছাড়া মো. আশরাফুল ইসলামকে বরগুনার আমতলী থেকে ঢাকা বিভাগে, সোহাগ মিলুকে পটুয়াখালীর বাউফল থেকে খুলনা বিভাগে, মো. সাইফুল ইসলামকে পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং প্রত্যয় হাশেমকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    মহেশ্বর মন্ডলকে বরিশালের উজিরপুর থেকে খুলনা বিভাগে, রওশান কবিরকে নীলফামারীর ডিমলা থেকে রাজশাহী বিভাগে, রাফিউর রহমানকে কুড়িগ্রামের রৌমারী থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মো. শাহরুখ আলম শান্তুতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    দ্বিতীয় দফায় বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—মাহামুদ হুসাইন রাজু। তাকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। নুসরাত জাহান অনন্যাকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং এস এম আকাশকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    এস এম নাজমুস সালেহীনকে ময়মনসিংহের তারাকান্দা থেকে রংপুর বিভাগে, আব্দুল আহাদকে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থেকে খুলনা বিভাগে এবং তানভীর আহম্মেদকে রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    এছাড়া ওমর শরীফ খানকে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে খুলনা বিভাগে, আসিফ রায়হানকে পাবনার সাঁথিয়া থেকে ঢাকা বিভাগে, চৌধুরী আল মামুনকে সাতক্ষীরার দেবহাটা থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং সামিউর রহমানকে কুড়িগ্রামের রাজারহাট থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    মীর আল মনসুর শোয়াইবকে লালমনিরহাট সদর থেকে রাজশাহী বিভাগে, মো. শামীম রেজা সজীবকে ঝালকাঠির রাজাপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, মজিবুর রহমানকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং জাকারিয়া হোসেনকে সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    সৈকত মন্ডলকে বরগুনার তালতলী থেকে খুলনা বিভাগে এবং রিজভী আহমেদ সবুজকে ঝালকাঠির নলছিটি থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনের আরেক অংশে আরও ৯ জন সহকারী কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. ইফতেখার আহমেদকে নীলফামারীর জলঢাকা থেকে খুলনা বিভাগে, আব্দুল্লাহ বিন জিয়াকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মাহমুদুর রহমানকে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    পলাশ উদ্দিনকে নওগাঁর বদলগাছী থেকে ঢাকা বিভাগে, শপথ বৈরাগীকে পিরোজপুরের নাজিরপুর থেকে খুলনা বিভাগে এবং মো. বদরুজ্জামান রিশাদকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থেকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    এ ছাড়া আসমাউল হুসনা পিংকিকে মাগুরার শ্রীপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, আমিনুল হক তারেককে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পটুয়াখালীর দশমিনা থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন), সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    মাঠ প্রশাসনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন দায়িত্ব মাঠপর্যায়ে পালন করেন এসব কর্মকর্তা।

    ফলে একসঙ্গে ৩৬ জন সহকারী কমিশনারের বদলির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভূমি প্রশাসনে দায়িত্বের পুনর্বিন্যাস হলো।

    সরকারি আদেশ অনুযায়ী, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করা হবে।

  • একটি গোষ্ঠী ৫ আগস্টের কৃতিত্ব দিতে অস্বস্তিতে ভোগে: শিশির মনির

    একটি গোষ্ঠী ৫ আগস্টের কৃতিত্ব দিতে অস্বস্তিতে ভোগে: শিশির মনির

    একটি গোষ্ঠী ৫ আগস্টের কৃতিত্ব দিতে অস্বস্তিতে ভোগে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘গণভোটসংক্রান্ত জাতীয় সংলাপ’-এ এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে দেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

    শিশির মনির বলেন, ‘৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী অস্বস্তিতে ভোগে। কারণ, গণঅভ্যুত্থানের ওই সময়ে আন্দোলনের যে বার্তা বা বক্তব্য তৈরি হয়েছিল, তা তাদের পক্ষ থেকে দেয়া ছিল না। অথচ যারা ওই বার্তা দিয়েছে, তাদের কোনো ক্রেডিট বা কৃতিত্ব দিতেও দলটি নারাজ।’

    ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে শিশির মনির বলেন, ‘কোনো দল বা ব্যক্তির ইগো ও অহংকারের কাছে একটি জাতিকে হারিয়ে যেতে দেওয়া ঠিক নয়।’

    বিএনপিকে একটি ‘জনগণের দল’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিএনপির উচিত জনগণের পছন্দ ও চাওয়া-পাওয়াকে সানন্দে মেনে নেয়া। তারা আন্দোলনের স্লোগানকেও নিজেদের পছন্দমতো নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু দুই-একজনের অহংবোধের কারণে দেশের জাতীয় ঐক্য ও ভবিষ্যৎ বিপন্ন হওয়া কোনো ভালো লক্ষণ নয়।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে শিশির মনির বলেন, ‘বর্তমান সরকার প্রধানের সামনে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এক অনন্য সুযোগ এসেছে। তিনি প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক হবেন নাকি সাধারণ রাজনীতিকের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকবেন-সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষার, এবি পার্টির ব্যারিস্টার ফুয়াদ, ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন, বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী রুবি আমাতুল্লাহ এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

  • ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন কারাবন্দিরা

    ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন কারাবন্দিরা

    কারাগারের চার দেয়ালের বন্দিজীবনে স্বজনদের কাছাকাছি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দিতে চালু করা হচ্ছে ভিডিও কল সুবিধা। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ সেবা চালু হয়েছে। শিগগিরই পর্যায়ক্রমে দেশের সব কারাগারে এ সুবিধা চালু করা হবে বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

    নতুন এ ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা সপ্তাহে একবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন। প্রতিবার সর্বোচ্চ ১০ মিনিট কথা বলার সুযোগ থাকবে।

    কারা অধিদপ্তরের ঢাকা কার্যালয়ের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল বলেন, শিগগিরই সারা দেশের কারাবন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন। এ সময় নির্ধারিত নিয়ম মেনে যোগাযোগের পাশাপাশি গোপনীয়তাও নিশ্চিত করা হবে।

    এদিকে কারাগারে বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন কারাগারে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও অন্যান্য মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

    মাসুদ হাসান জুয়েল জানান, কারাগারে বন্দিদের উৎপাদনশীল কাজে প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য দক্ষ করে তোলার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উৎপাদিত সাবান বন্দি ও স্টাফদের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বন্দিদের প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিনি বলেন, বন্দিদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য প্যাথলজি ল্যাব চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সের সুপারিশ পাওয়া গেছে। তাদের পদায়নের মাধ্যমে কারাগারের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

    কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে এবং পানি সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    কারাগারের মৌলিক সেবাগুলোর মান উন্নয়নের বিষয়টি ভবিষ্যতেও অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া একটি আধুনিক কারা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রশিক্ষিত জনবল অপরিহার্য বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

    কারা অধিদপ্তর আরও জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর, ডেপুটি জেলার, জেলার ও জেল সুপারদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

    এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ঢাকা জেলে রুটি তৈরির কার্যক্রমকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে চীন থেকে আমদানি করা রুটি মেকার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক বন্দির জন্য কম সময়ে একই মানের রুটি স্বাস্থ্যসম্মত ও দক্ষতার সঙ্গে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমছে।

    তিনি বলেন, কারাগারে বিশেষ দিবসে খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা আছে। বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার জন্য বিভিন্ন কারাগারে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়াও বন্দিদের বিভিন্ন পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল তৈরি ও বেকারির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের খেলাধুলার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কারাগারে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

    কারা অধিদপ্তর জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের একটি যৌক্তিক প্রত্যাশা ছিল অবসর-পরবর্তী কল্যাণ। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    এছাড়াও কারাগারের নিরাপত্তা রক্ষা, বন্দি পালানো প্রতিরোধ, অনিয়ম প্রতিরোধ, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সেবা এবং দায়িত্ব পালনে অসাধারণ অবদান রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ যথাযথভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যোগ্য সদস্যদের পদক, প্রশংসাপত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারে মাদক প্রবেশ ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে ড্রাগ পরীক্ষার মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে।

    কারাগারকে আরও স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে ব্যাপক সবুজায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট-১, কিশোরগঞ্জ-১ ও খুলনা নতুন কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

    যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ, ভালো কাজের যথাযথ স্বীকৃতি, পরিবেশবান্ধব কারা ব্যবস্থাপনা এবং একটি আধুনিক ও পেশাদার সংশোধনমূলক পরিষেবা সৃষ্টির কাজ করা হচ্ছে।

    এ বিষয়ে কারা অধিদপ্তর জানায়, কারাগার সম্পর্কে মানুষের প্রচলিত ধারণায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কারাগার হবে নিরাপদ ও মানবিক। কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হবেন দক্ষ, সৎ ও মর্যাদাবান। বন্দিরা পাবেন সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ। আর পুরো প্রতিষ্ঠানটি হবে স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক।

  • বিচারের স্বার্থে শেখ হাসিনার ফিরে আসা উচিত: নূরুল কবীর

    বিচারের স্বার্থে শেখ হাসিনার ফিরে আসা উচিত: নূরুল কবীর

    বিচারের স্বার্থে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফিরে আসা উচিত বলে মনে করেন নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর। গত বৃহস্পতিবার ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ ইউটিউব চ্যানেলে ‘মুখোমুখি নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর’ শিরোনামে এক টকশোতে এ কথা বলেন তিনি।

    সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার কথা বলেছেন—সে প্রসঙ্গে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, ‘আমরা চাই আসুক। কারণ তাদের অপরাধের বিচার হচ্ছে, সেই বিচার এখন তারা দেশে না থাকার কারণে একতরফা হচ্ছে। সুষ্ঠু বিচারের জন্য, তাদেরকে ডিফেন্ড করার জন্য, তারা আসুক। আসা দরকার। আসা উচিত বিচারের স্বার্থে। তাদের নিজেদের স্বচ্ছতা যদি কিছু থাকে, অন্যায় যদি না করে থাকেন—সেগুলো পরিষ্কার করার স্বার্থে আসতে হবে।’

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তিন সপ্তাহে ১ হাজার মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে— অনুশোচনা এখনো পর্যন্ত কোনো পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা-নেত্রীর চোখে-মুখে বাক্যে উচ্চারিত হয়নি। উনারা গালি দিতে পারবেন যতক্ষণ পর্যন্ত না এটা তারা অনুধাবন করবেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা এটা বুঝতে পারবেন যে, মানুষ তাদেরকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। তাদেরই ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এই দেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না।’

    নিউ এজ সম্পাদক আরও বলেন, আমার খুব দুঃখ লাগে আওয়ামী লীগ নেতাদের যে একটা বিরাট অংশ, এখান থেকে অনেক বৃত্ত এবং বৈভবের মালিক হয়ে অনেকের সহযোগিতায় দেশ পাড়ি দিয়ে তারা যে বিভিন্ন দেশে পলাতক আছেন । তাদের কেউ কেউ এই বক্তৃতা দেয়া শুরু করেছেন, তারা আসছেন, তারা আসবেন ইত্যাদি ইত্যাদি। আওয়ামী লীগ নেতাদের এটা হচ্ছে সর্বশেষ পাপ এই মিথ্যাচার—তারা আসবেন না। এই যে এইটা কেন পাপ?’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রসঙ্গে নূরুল কবীর বলেন, ‘ওনার (প্রধানমন্ত্রী) আলাপ, আচরণ ও উচ্চারণ বেশ নম্র। মানুষ সেটা পছন্দ করেন। কিন্তু ইতিমধ্যেই তার অনেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি এবং দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, হচ্ছে। বাংলাদেশের যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে—রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান, সেটা আওয়ামী লীগ যেভাবে রাষ্ট্র চালিয়েছে, যেভাবে বিরোধী দলের মত দমন করেছে, সেই পদ্ধতিতে যদি তার মন্ত্রীরা এগোন, আর যদি একই ধরনের দুর্নীতির রাস্তায় তারা হাঁটেন, তাহলে সামান্য ইতিহাসবোধ যেটুকু আমার আছে সেই অনুসারে বলতে পারি—আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ১৫ বছর লেগেছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান মানুষের ভেতর যে শক্তির জন্ম দিয়েছে, তাতে যে ক্ষমতায়ন হয়েছে নিজের, সেই ক্ষমতায়নের জোরে এই সরকারকে কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত হতে বেশি সময় লাগবে না। রাস্তায় কিন্তু মানুষ নামবে।’

    তিনি বলেন, ‘কিছু মন্ত্রীর যে প্রবণতা ইতিমধ্যে সমাজ দেখতে পাচ্ছে-তারা যাতে গণঅভ্যুত্থানকে বোঝার চেষ্টা করেন। না বুঝতে পারলে এই মন্ত্রীরা তো ডুববেন, প্রধানমন্ত্রী ডুববেন এবং বাংলাদেশকে আবার একটা কঠিন অবস্থার মধ্যে ফেলে দেবেন। আমি আশা করব যে, তিনি(প্রধানমন্ত্রী) সমালোচনা সহ্য করার তৌফিক অর্জন করবেন।’

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইতিমধ্যে চিঠি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সেই প্রসঙ্গ তুলে প্রবীণ এই সাংবাদিক বলেন, ‘পৃথিবীর দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে আমরা একটা। আমরা যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে প্রথমে ১৩ টা, পরে আরও ১৪ টা, না ১৯টা বোয়িং কিনতে গেলাম—আমি মনে করি বাংলাদেশের যে ফ্লিটে আরও এয়ারক্রাফট বাড়ানো দরকার, কিন্তু সেটা কি আমার প্রয়োজনে আমরা স্বাধীন দেশ হিসেবে এসেস করবো। প্রায়োরিটি কোনটা—এই যে ১৪ আর ১৩ এইটার লিজ নেয়া ও কেনার এবং সেই ক্ষেত্রে কোন রুটে চলবে তার টিকিটিংয়ে অবস্থা কী হবে? আমি কিন্তু মনে করি দরকার। কতগুলো দরকার আমি জানি না।’

    ‘ধরুন আমরা হজের সময় দেখি—যত পরিমাণ হজ ফ্লাইট যায় এবং আমরা বাইরে থেকে ভাড়া করে আনি। অন্যগুলো সৌদিসহ অন্যান্য মিডল ইস্টের কোম্পানিগুলো যে পরিমাণ লাভ করে, এই এয়ারক্রাফটগুলো যদি বাংলাদেশে থাকতো, তাহলে এই পয়সাটা বাংলাদেশ পেতো। এখন আমরা কি সেই এসেস করতে দেখেছি। মানুষকে কি সরকার বলেছে যে, এই কারণে এই এইভাবে এত টাকা দিয়ে আমরা এতটা কিনছি এই রুটে চালাবো।’—উল্লেখ করেন এই সম্পাদক।

    তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক রুট খুলে কিন্তু লিস্ট নিতে হয়। অনেক আইন কানুন আছে। আপনি চাইলেই এক দেশে থেকে আরেক দেশে এক এয়ারপোর্ট থেকে আরেক দেশের এয়ারপোর্টে যেতে পারবেন না। অনেক শর্ত ও চুক্তি করতে হয় এয়ারপোর্টগুলোর সঙ্গে। এগুলো না করেই যখন কেনা হচ্ছে এবং স্বয়ং মন্ত্রী যখন বলছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুরোধে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এগুলো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটার মধ্য দিয়ে দুটো জিনিস হয়—অর্থ একটা হল হাস্যকর প্রথমটা, দ্বিতীয়টা সাবসারভিয়েন্স (আনুগত্য প্রকাশ করা)। হাস্যকর হল এইখানে যে, ট্রাম্পের অর্থনীতি বিপদে পড়ে গেছে সেইটা রক্ষা করর জন্য তাকে সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশ এমন এক বিত্তবান রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে যে তাকে আমরা এখন সাহায্য করতে পারি। এটা তো কেউ বিশ্বাস করবে না। এটা হাস্যকার দ্বিতীয় হচ্ছে যে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজের স্বার্থে তার পণ্য কিনে আমরা তাকে তার অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চাই।’

    তথ্যমন্ত্রী বদলের প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী বদলের ক্ষেত্রে আমাদের সম্পাদক পরিষদের কোনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য একটু উদ্বিগ্ন। এই কারণেই উদ্বিগ্ন প্রাক্তন মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে বহু বছর ধরে সাংবাদিকদের যে এক ধরনের যোগাযোগ তৈরি হচ্ছিলো। সরকারের সঙ্গে আমাদের কিছু পেন্ডিং ইস্যুজ আছে, যেটা সম্পাদক পরিষদ হিসেবে সম্মানিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা আলাপ করেছি। আমাদের কতগুলো সমঝোতা হয়েছে। সেটা হলো—আইন-কানুন ও মিডিয়া কমিশন সম্পর্কিত।’

    নূরুল কবীর বলেন, ‘জহিরউদ্দিন স্বপনের সঙ্গে আমাদের একটা পুরনো সম্পর্কের কারণে অনেকেরই তার সঙ্গে কিন্তু ঝগড়াঝাটি করার সম্পর্ক ছিল। নতুন যিনি আমরা ঠিক জানি না, ওনার সঙ্গে আমার ভালো পরিচয় নেই বা অন্য অনেকের সঙ্গে। আমরাও কিন্তু উদ্বিগ্ন।’

  • জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিকল্প ও বহুমুখী জ্বালানি উৎস খুঁজছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

    আজ শনিবার রাজধানীতে ‘আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    শামা ওবায়েদ বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকটের সময় অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে জ্বালানি খাতে বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি উৎস নিয়ে কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এলএনজির নতুন উৎস এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে।’

    প্রধানমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভবনকে শতভাগ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও স্থাপনায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

    বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এ খাতে চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রেও একাধিক উৎস নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে সরকার।’

    তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমাতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ ব্যবস্থার আদলে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ডিজিটাল সেবার পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে।

    বাংলাদেশকে শুধু বন্যা, অবৈধ অভিবাসন বা বিভিন্ন সংকটের দেশ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায় না সরকার। বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে চায়’, যোগ করেন শামা ওবায়েদ।

    আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার পর এই অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষা বিশ্বদরবারে তুলে ধরার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    তিনি বলেন, এবারের অধিবেশনে উন্নয়নের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি প্রতিরোধ, পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে বাংলাদেশ।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়। তবে সরকার বিভিন্ন খাতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে এবং বাংলাদেশকে একটি আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায়।’

    অনুষ্ঠানটি সেন্টার ফর নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারপারসন এম এস সেকিল চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ, গুম সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন, ব্র‍্যাক ব্যাংকের সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান।

  • ষড়যন্ত্রকারী পুলিশের ভেতরেও আছে: আইজিপি

    ষড়যন্ত্রকারী পুলিশের ভেতরেও আছে: আইজিপি

    বাহিনীর ক্ষুদ্র অংশের অনিয়ম-দুর্নীতির দায় গোটা পুলিশ বাহিনী নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা জানেন আমরা যখন কোনো বড় ধরনের অন্যায়-অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করি তখন আমাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হয়, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতার কারণে… আমি বলছি যারা ভালো সাংবাদিক, ৯৯ শতাংশ তাদের বলব আপনারা রুখে দাঁড়ান। আমাদের পুলিশেও আছে খারাপ লোক। আমি একবার বলেছিলাম, আমাদের পুলিশের এক শতাংশ লোকও খারাপ না। এটা নিয়ে মিডিয়াতে বলা শুরু হলো তিনি পুলিশের অনিয়মকে জায়েজ করার চেষ্টা করছেন। না, আমি বিভিন্নভাবে তথ্য নিয়েছি আমাদের মধ্যে অপরাধে জড়িত শূন্য দশমিক সত্তর শতাংশ। এক পার্সেন্টও হয় না। ওই অল্প সংখ্যক করাপটেড সদস্যের জন্য আমার গোটা পুলিশ বাহিনী কেন দায় নেবে?’

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদেরকে বলব আমি যদি অপরাধ করে থাকি আপনারা সেটাই লেখেন। কিন্তু অপবাদ দিয়ে একজনের মনোবল নষ্ট করা…এটার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র আছে। আপনারা জানেন, বিগত ১৭ বছর অনিয়ম দুর্নীতির কারণে ব্যাংকগুলো শূন্য হয়ে গেছে। আপনার জমা রাখা টাকা ফেরত পেতে ব্যাংকে আবেদন করতে হচ্ছে। সুতরাং কোনো ষড়যন্ত্র নয়। আসুন ষড়যন্ত্রকারীদের আমরা চিহ্নিত করি। আপনাদের ভেতরেও কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী আছে। আমার (পুলিশ বাহিনী) ভেতরেও আছে। সারা বাংলাদেশেই আছে। আমরা সবাই মিলে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।

    আইজিপি শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের মাঝে বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স‌‌‌ রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে এ মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

    অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন।স্বাগত বক্তব্য দেন এআইজি ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ, অভিভাবকগণ এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পরে আমাদের নতুন প্রজন্ম ট্রাফিক পুলিশ কিংবা আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে বাহাসে লিপ্ত হয়। উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলে। আইনশৃংখলা যদি ঠিক না থাকে। আপনার আমার নিরাপত্তা যদি ঠিক না থাকে। আপনার সম্পদ-বাড়ি-গাড়ি আছে কিন্তু বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি ফেরার নিশ্চয়তা না থাকে তবে দেশটা অকার্যকর হয়ে যাবে।

    এই অনুষ্ঠানে আইজিপি আরও বলেন, আইনের ফাঁকফোকরের কারণে মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারীসহ অন্যান্য অপরাধীদের বেশি দিন কারাগারে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

    তিনি বলেন, মাদক ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অনেক অপরাধীকে একাধিকবার আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘদিন আটক রাখা সম্ভব হয় না। পরে তারা আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

    মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। প্রত্যেক মাদক কারবারি ও প্রত্যেক ছিনতাইকারী একাধিকবার আইনের আওতায় এসেছে। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকরের কারণে তাদের ওইভাবে আটকে রাখতে পারিনি। তারা আবার বের হয়ে একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’

    মাদক ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান আইজিপি।

    তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা খুবই কম। প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য মাত্র একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

    মাদক নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নানা নামে তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় এসব মাদককে ‘এনার্জি ট্যাবলেট’ বা আকর্ষণীয় অন্য কোনো নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সন্তানদের সচেতন করতে হবে।

    পুলিশ প্রধান শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলেন, সাময়িক কৌতূহল বা কোনো প্ররোচনায় মাদকের ভয়াল থাবা যেন তোমাদেরকে স্পর্শ করতে না পারে সেজন্য সবসময় সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, মাদক একটি মরণফাঁদ। একই সাথে মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেট গেমে অতিরিক্ত আসক্তি, অন্যান্য নেশাজাত দ্রব্যের আসক্তির মতোই ক্ষতিকর।

    তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে তোমরা ব্যবহার করবে, প্রযুক্তি যেন তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। দেশের নাগরিক হিসেবে দেশের আইন মেনে চলবে ও অন্যদের আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করবে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৮০১ জন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ২৭২ জন এবং ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৮৪৫ জন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ১৯৫ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি লাভ করেছে। ২০২৪ ও ২০২৫ এ দুই বছরে বাংলাদেশ পুলিশের মেধাবৃত্তি পেয়েছে সর্বমোট ২ হাজার ১১৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকাস্থ ৩৬০ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। অন্যান্যদের সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মাধ্যমে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হবে।

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত ইসি, মাঠে গড়াচ্ছে ভোট

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত ইসি, মাঠে গড়াচ্ছে ভোট

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী নভেম্বরে ছয় বা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোটের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে নির্বাচন উৎসব। এরপর ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকারের বাকি চার প্রতিষ্ঠান পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থাটির।

    ইসি সূত্র বলছে, এরই মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতিও প্রায় শেষ করেছে ইসি। ১৫ সেপ্টেম্বর তপশিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আর নভেম্বরের শেষভাগে প্রথম ধাপের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। সব ধাপের ভোট গ্রহণ আগামী বছরের শেষ নাগাদ শেষ হতে পারে।
    এর আগে গত ২ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তরফে ইসিতে পাঠানো চিঠিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সরকারের এমন নির্দেশনা পেয়ে

    নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করে ইসি।

    দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ সংখ্যা চার হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে চলতি বছর তিন হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ বা নির্বাচন উপযোগী হবে। যেগুলোর নির্বাচন ২০২১ ও ২০২২ সালে হয়েছিল। আর বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে। ধাপে ধাপে নির্বাচন উপযোগী সব ইউনিয়নে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আইনে আছে, ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।

    ইসি কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সাত ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অনুরূপ পরিকল্পনা করছে ইসি। ২০২১ সালের ২১ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বর দুই ভাগে বিভক্ত প্রথম ধাপের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের চারটি জেলা ছাড়াও রংপুর, বগুড়া, খুলনা ও বাগেরহাটের মোট ৩৬৭টি ইউনিয়নে ভোট হয়। এবারও প্রথম ধাপে এসব ইউনিয়ন দিয়েই ভোটের তপশিল সাজানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে ইসির।

    এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ সমকালকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ইসির সব প্রস্তুতি আছে। ১৫ সেপ্টেম্বর তপশিল ও নভেম্বরে ভোট শুরুর বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আমরা এগোচ্ছি। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ হচ্ছে।

    ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন কয় ধাপে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে যত ধাপে হয়েছে মোটামুটি সেভাবেই হবে। কোনো ইউনিয়ন পরিষদে মামলা ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা থাকলে সেগুলোতে নির্বাচন হবে না।

    ১৫ সেপ্টেম্বরে তপশিল ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়ে আরেক নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ছয় বা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

    ইসির যত প্রস্তুতি
    স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে ইসির প্রস্তুতির শেষ ধাপে আইন-বিধি এবং আচরণ বিধিমালা সংস্কারের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গত মাসেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন এবং স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আচরণ বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছিল ইসি। সেখান থেকে অনুমোদন হয়ে এগুলো গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত হয়েছে। দেশে মোট ভোটার আছেন ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। ভোটার স্থানান্তরের আবেদন দেওয়ার শেষ সময় ৭ সেপ্টেম্বর ও নিষ্পত্তির শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর বেঁধে দিয়েছে ইসি। এর পরই ভোটার তালিকা মুদ্রণে যাবে।

    সারাদেশে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকাও আগেই তৈরি করে রেখেছে ইসি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের চেয়ে স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দুই থেকে তিন হাজার বেশি হতে পারে। মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নেওয়া হয়। তবে এবার একসঙ্গে দুটি ভোটের জটিলতা না থাকায় গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি করে কেন্দ্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

    এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক পরীক্ষাসহ অন্য পরীক্ষা নভেম্বরের আগেই অথবা দ্রুততম সময়ে শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নির্দেশনা পাঠিয়েছে ইসি। স্কুল ভবনগুলোকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার এবং শিক্ষকদের নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার জন্যই এমন নির্দেশনা পাঠানো হয়।

    ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট তিনটি বাহিনী পুলিশ, বিজিবি এবং আনসার ও ভিডিপি প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষ করেছে ইসি। পুলিশপ্রধানের (আইজিপি) সঙ্গে বৈঠককালে সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই ইসির।

    সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ভোট গ্রহণ সামগ্রী আগেই মজুত রাখা হয়েছিল। স্থানীয় নির্বাচনে সেগুলোর ব্যবহার হবে। এ ছাড়া সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মালাপত্রও কিনে রেখেছে ইসি। সংসদের পর যাতে দ্রুত স্থানীয় সরকারের কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন করা যায়, সে জন্যই এসব মালাপত্র আগেই কেনা হয়েছিল। কেননা নির্বাচনী মালাপত্র কেনার প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক মাস লাগে।

    ইসি সূত্র বলছে, সংসদ নির্বাচনের আগে ছোট হোসিয়ান ব্যাগ ও গানি ব্যাগ প্রতিটি এক লাখ ১৫ হাজার পিস, বড় হোসিয়ান ব্যাগ ৭৫ হাজার পিস, মার্কিং সিল ১৭ লাখ ৫০ হাজার পিস এবং অফিসিয়াল সিল আট লাখ ৪০ হাজার পিসসহ অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী কেনা হয়। ওইসব সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে স্থানীয় নির্বাচনের জন্য।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির ব্যাপারে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, নভেম্বরে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে ইসির প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। যে কোনো সময় তপশিল ঘোষণা হবে।

  • দাবি না মানলে সরকার পতনের আন্দোলন: শফিকুর রহমান

    দাবি না মানলে সরকার পতনের আন্দোলন: শফিকুর রহমান

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, `আপনারা কি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি পান? কৃষকেরা কি সময়মতো সার পান? ব্যবসায়ীরা কি চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করতে পারেন? কুমিল্লায় দুর্নীতি আছে কি না—আছে? এসব সমস্যার সমাধান চান বলেই আমরা রাস্তায় নেমেছি।’

    আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে এ পথসভার আয়োজন করা হয়।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই লংমার্চ দেশের সব বিভাগীয় শহরে যাবে। ছয় দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। সরকার এসব দাবি মেনে না নিলে সরকার পতনের আন্দোলন সফল করেই তাঁরা ঘরে ফিরবেন।

    কুমিল্লাবাসীর উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনারা কুমিল্লা বিভাগ চান। ১৯৯৪ সালে যখন সিলেট বিভাগ হয়, তখন একই সময়ে কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবিও উঠেছিল। কিন্তু ১৯৯৪ সালে কুমিল্লা বিভাগ হয়নি, সিলেট বিভাগ হয়েছে। তাহলে কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী?’

    তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলেছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর টালবাহানা করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ করুন এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুন। পাশের জেলা নোয়াখালীর মানুষও বিভাগ দাবি করছেন, তাঁরাও দাবিদার। তাঁদেরও বিভাগ দিন। তবে কুমিল্লা যেহেতু ১৯৯৪ সাল থেকে বিভাগ দাবি করে আসছে, তাই কুমিল্লা বিভাগ আগে বাস্তবায়ন করুন।’

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘খন্দকার মোশতাকের বাড়ি কুমিল্লায়—এ কারণে কি আপা কুমিল্লার প্রতি বিরাগ দেখিয়েছিলেন? কুমিল্লার নাম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না। কোনো জেলার নামকে কেন্দ্র করে বাড়াবাড়ি করা হলে তা ওই জেলা ও বিভাগের প্রতিটি নাগরিককে অপমান করার শামিল। বর্তমান সরকার বিভাগ দেওয়ার কথা বলেছে। তাহলে দিচ্ছে না কেন? কুমিল্লা বিভাগ দিন।’

    কুমিল্লায় বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে বিমানবন্দর করার বিষয়টি সামনে এসেছে। কুমিল্লায় একটি ইপিজেডও রয়েছে। বিমানবন্দরটি যাচাই-বাছাই করে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করুন। মানুষকে প্রশাসনিক কাজে চট্টগ্রামে যেতে অনেক দূর যেতে হয়। বিভাগ হলে কুমিল্লার মানুষ এখানেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সেবা পাবে।

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আপনারা কি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি চান? সরকার নির্বাচনের আগে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা কি রক্ষা করছে? করেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক না রেখে এবং নিজের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে একসঙ্গে অনেক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যদি নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেই থাকতে চান, তাহলে অন্য সব দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে আগে নিজের মন্ত্রণালয়ের পরিস্থিতি ঠিক করুন। আমাদের যুবসমাজকে রক্ষা করুন, দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন।’

    কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমির কাজী দ্বীনের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আমির মামুনুল হক, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পাটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মন্ঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টি মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী।

  • তিন জন্মসনদে তিন বয়স, নিষিদ্ধ ভারতীয় ক্রিকেটার

    তিন জন্মসনদে তিন বয়স, নিষিদ্ধ ভারতীয় ক্রিকেটার

    একজনেরই তিন জন্মদিন!

    বাস্তবে সম্ভব নয়। তবে কাগজে-কলমে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লেগ স্পিনার রোহিত যাদবের জন্মসাল তিনটি—২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০। মাসখানেক আগেও শ্রীলঙ্কা সফর করে আসা এই ক্রিকেটারকে বয়সের তথ্য জালিয়াতির দায়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই।

    ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) তাদের খেলোয়াড়দের জন্য প্রাক্‌–মৌসুম নথিপত্র যাচাই কর্মসূচি পরিচালনা করার সময় রোহিতের বিষয়ে গরমিল পায়। পিটিআই জানিয়েছে, ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০—এই তিনটি ভিন্ন জন্মসনদ পাওয়া গেছে তাঁর নামে।

    ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, রোহিতের আধার কার্ডের তথ্যেও ছিল গরমিল। সিএবির নিবন্ধনে তাঁর জন্মসাল ২০০৭। অন্যদিকে ২০১৭ ও ২০২০ সালে হালনাগাদ করা আধার রেকর্ডে জন্মসাল ছিল ২০০৬। পরে ২০২১ সালে সেটি পরিবর্তন করে করা হয় ২০০৯।

    বয়স নিয়ে এত রকম তথ্য পাওয়ার পর আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরের ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে রোহিতকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

    রোহিত একা নন। একই ধরনের বয়সের গরমিলের কারণে আরও ৬৪ ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করেছে সিএবি। তাঁদের মধ্যে আছেন ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের পেসার রবি কুমারও। ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তাঁর সব রেকর্ড বাতিল বলে গণ্য হবে। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো জানিয়েছে, রবি কুমারের ক্ষেত্রে বয়সের গরমিল ছিল ৪০ মাসের বেশি।

    বয়স জালিয়াতি ঠেকাতে অতীতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বিসিসিআই। ২০২০ সালে দায়ীদের শাস্তির পাশাপাশি সাধারণ ক্ষমার একটি পরিকল্পনাও প্রস্তাব করেছিল সংস্থাটি। সেই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত খেলোয়াড়েরা স্বেচ্ছায় বয়সের গরমিল স্বীকার করে সঠিক জন্মতারিখ জমা দিলে সাময়িক বরখাস্ত এড়াতে পারতেন। তবে পরে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে তাঁদের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হতো।

  • জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে

    জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

    আজ শনিবার সকালে নগরীর একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধানমন্তীর ভারত সফর ও সম্পর্ক নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতের সাথে হাজার সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ নেই। প্রতিবেশি দেশ হিসেবে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক থাকাই উচিত।’

    হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কীভাবে একটি সাইকোপ্যাথিক দুর্নীতি করা যায়, এনার্জি সেক্টর দেখলে বুঝা যাবে। তবে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন জ্বালানি খাতকে। জ্বালানি খাতের সঙ্কট সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’

    মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক নয়। অনেক দেশই এখন একাধিক নিরাপত্তা জোটে থাকছে। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে ‘

    আমেরিকার কাছ থেকে বোয়িং কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বোয়িং কিনতে হবে এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলের সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রপ্তানি হবে।’

  • দেশে বড় ঋণ খেলাপিরা  শাস্তি পায় না

    দেশে বড় ঋণ খেলাপিরা শাস্তি পায় না

    ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে কিস্তি দিতে দেরি হলেই মোবাইল ফোনে এসএমএস, বাড়িতে নোটিশ, শেষে মামলা; অন্যদিকে হাজার কোটি টাকা নিয়ে বছরের পর বছর ফেরত না দেয়া অনেক ঋণ খেলাপিকে দেয়া হয় নীতি সুবিধা- বাংলাদেশে এমন অভিযোগ শুনতে পাওয়া যায় অহরহই।

    ধাপে ধাপে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বিশাল আকার ধারণ করেছে, যা ক্রমশই আরো বড় হচ্ছে।

    ২০০৯ সালে দেশে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুনে তা দাঁড়ায় দুই লাখ এক হাজার কোটিতে।

    এই সংখ্যা ২০২৬ সালের মার্চে গিয়ে ঠেকেছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটিতে। অর্থাৎ দুই দশকেরও কম সময়ে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের বোঝা সাড়ে পাঁচ লাখ কোটির বেশি বেড়েছে।

    পরিস্থিতি সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তাসহ নানা পদক্ষেপের পরও খেলাপি ঋণের সবশেষ তথ্য আরো ভয়াবহ।

    ২০২৫ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপির স্থিতি ছয় লাখ ছয় হাজার পাঁ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বলেই দাবি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ হয়েছে বাংলাদেশের একাধিক স্থানীয় গণমাধ্যমে।

    তবে খেলাপি ঋণের সমাধান হিসেবে কঠোর বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার বদলে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক আবারো ‘ছাড়’ দেয়ার নীতিতেই হাটছে।

    মূলত, ছাড় দিয়েই খেলাপি ঋণগ্রস্তদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এই যুক্তি কতটা কাজে আসবে?

    অর্থনীতিবিদদের অনেকে বলছেন, বর্তমানে দেশের আর্থিক খাতের যে ভঙ্গুর অবস্থা তাতে খেলাপি ঋণের টাকা উদ্ধারে, খুব বেশি বিকল্প কৌশল নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে।

    কিন্তু যে কৌশল বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়েছে তার সফলতা এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বলেই মনে করেন আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টরা।

    ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে কঠোর মনিটরিং না থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলেই মনে করেন তারা।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বাঁচাতে নীতি সহায়তার পাশাপাশি কঠোর হওয়ার দৃষ্টান্তও জরুরি, নইলে ছয় লাখ কোটি আগামী বছর আট লাখ কোটি হতে সময় লাগবে না।

    শাস্তি কেন হয় না?

    ২০২৪ সালে আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খারাপ অবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।

    সরকার পরিবর্তনের পর খাতাকলমে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমার পরিবর্তে বরং এখনো বেড়েই চলেছে।

    খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

    তারা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাবে অপরিণামদর্শী ঋণ, তদারকির অভাব এবং ব্যাংক পরিচালকদের নামে-বেনামে ঋণ।

    গত দুই দশকে দেশের কয়েকটি শিল্প গোষ্ঠী এবং ব্যাংকের আর্থিক কেলেঙ্কারি খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছে বলেই অভিযোগ।

    পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, খেলাপির বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ প্রভিশন আকারে জমা রাখার যে নিয়ম রয়েছে, সেটিও রাখতে পারছে না অনেক ব্যাংক। ফলে তারল্য সঙ্কট আরো গভীর হচ্ছে।

    পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঋণ খেলাপি নিয়ন্ত্রণে নানা কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার রীতি রয়েছে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বড় খেলাপিদের ক্রেডিট স্কোর শূন্য হয়ে যায়, ফলে তারা নতুন কোনো ঋণ পায় না। চীনেও খেলাপিদের ‘সামাজিক ক্রেডিট ব্ল্যাকলিস্ট’-এ ফেলা হয়।

    আর প্রতিবেশী দেশ ভারতে ‘ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংক্রাপ্টসি কোড’-এর মাধ্যমে বড় খেলাপি কোম্পানির সম্পদ নিলাম করা হয়।

    কিন্তু বাংলাদেশে অর্থঋণ আদালত এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে আইন থাকলেও বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়ার উদাহরণ কম।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট বা বিআইবিএম-এর অধ্যাপক ড. মো: আহসান হাবীব বলছেন, ‘বিদ্যমান আইনে আমরা উইলফুল ডিফল্টারের (স্বেচ্ছায় যারা ঋণ পরিশোধ করে না) ক্ষেত্রে কঠিন পদক্ষেপ এখনো পর্যন্ত নিতে পারিনি, এটা একদম পরিষ্কার।’

    এছাড়া এই ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে বলেও মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

    তারা বলছেন, অর্থঋণ আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে পাঁচ থেকে সাত বছরের দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে ব্যাংকগুলো নিজেরাই মামলা করতে খুব একটা আগ্রহী হয় না। আর মামলা করলে তাদের আর্থিক প্রতিবেদন খারাপ দেখানোর বিষয়টিও রয়েছে।

    এছাড়া বড় খেলাপিরা বেশিভাগই শিল্প গ্রুপ। তাদের কারখানায় লাখো শ্রমিক, রফতানিতে বড় অবদান। সরকার ও ব্যাংক মনে করে, এদের চাপ দিলে কারখানা বন্ধ হবে, বেকারত্ব বাড়বে।

    ফলে এসব প্রতিষ্ঠান বা ঋণগ্রহীতা শিল্পগোষ্ঠীকে ‘বাঁচিয়ে রাখার’ নীতিই বারবার নেয়া হয়। মামলা করলেও তা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। এর মধ্যে তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুনঃতফসিল বা অবলোপনের সুযোগ তৈরি হয়।

    ঋণ খেলাপি দেওয়ানি বিষয় হওয়ায় ব্যাংককে মামলা করে টাকা আদায় করতে হয়। যেখানে বড় খেলাপিরা সেরা আইনজীবী দিয়ে মামলা দীর্ঘায়িত করে।

    বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা হলো, রক্ষকেরই ভক্ষক হওয়ার প্রবণতা। অর্থাৎ অনেক সময় ব্যাংকের পরিচালক নিজেই আত্মীয়দের কোম্পানির নামে ঋণ নেন, যেখানে জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয়।

    ছাড় প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক

    গত ৩১ আগস্ট ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনে নীতি সহায়তা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    যেখানে এক হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণগ্রস্তকে ঋণ পুনঃতফসিল বা নবায়নের পর পরিশোধের জন্য ১৫ বছর সময় দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

    এছাড়া প্রথম দুই বছর কোনো কিস্তি দেয়া লাগবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    যারা এই সুযোগ নিতে চান তাদের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই আবেদন করতে বলা হয়েছে। যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নিষ্পত্তি করবে ব্যাংকগুলো।

    এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরও একটি প্রজ্ঞাপন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে ব্যাংকার ও গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিদ্যমান খেলাপি ঋণের স্থিতির ওপর কমপক্ষে দুই শতাংশ নগদ অর্থ জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছিল।

    ঋণ নিয়মিত হলে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ (ঋণ পরিশোধে বিরতি) তা পরিশোধে ১০ বছর সময় দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল।

    একই সাথে অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভর্তুকি সুদে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে।

    বড় ঋণ খেলাপিদের এসব সুযোগ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা চলছে।

    এ বিষয়ে ব্যাখা দিয়ে, সম্প্রতি একটি বিবৃতিও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে তিনটি বিষয়কে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রথমত, বৈশ্বিক প্রভাব- বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও জ্বালানি সঙ্কটে রফতানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা কমেছে।

    দ্বিতীয়ত, সুদের চাপ- বাজারভিত্তিক সুদহারে ব্যবসায়ীদের সুদ ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু বিক্রি কমায় পরিশোধ কঠিন হয়েছে।

    এবং তৃতীয়ত, ১৮ মাসের রোডম্যাপ- খেলাপি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, তার অংশ হিসেবেই বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের অতিরিক্ত সময় দেয়া হচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যুক্তি, মামলা করে ১০ বছরে যে টাকা আসবে না, আলোচনার মাধ্যমে ৫০ শতাংশ এখনই আদায় হলে ব্যাংকের তারল্য বাড়বে। এছাড়া, কারখানা চালু থাকলে কর্মসংস্থানও বাঁচবে।

    সমালোচনা ও বাস্তবতা

    বড় ঋণ খেলাপিদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক যে ছাড় দেয়ার নীতি গ্রহণ করেছে তা নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে।

    অর্থনীতিবিদদের অনেকেই বলছেন, ঋণ পুনঃতফসিল করা হলে কাগজেকলমে খেলাপি কমলেও ব্যাংকের লকারে কত টাকা ফেরত আসতে পারে এ নিয়ে সংশয় আছে।

    এছাড়া, ভালো ঋণ গ্রহীতাদের সাথে বৈষম্যের পাশাপাশি এর ফলে ‘অপরাধ করে পার পাওয়ার’ সংস্কৃতি তৈরি হতে পারে বলেও মনে করেন অনেকে।

    বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি-এর সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলছেন, ‘এগুলোর সুযোগ নিয়ে ডিফল্টাররা আরো ডিফল্টের দিকে চলে যেতে পারে। এ কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিষয়টিকে ব্যাংক ক্লায়েন্ট রিলেশনের ওপর দিয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকেরও একটা বড় দায়িত্ব থাকবে।’

    এক্ষেত্রে ব্যাংক পরিচালকদের জবাবদিহি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কমিশন, অর্থঋণ আদালতে দ্রুত বিচার, খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণ ও নতুন ব্যবসায় নিষেধাজ্ঞাসহ বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেয়ারও পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট বা বিআইবিএম এর অধ্যাপক ড. মো: আহসান হাবীব বলছেন, ‘আমাদের উইলফুল ডিফল্টারের যে কালচার সেটা ভাঙা খুব সহজ না। খুবই শক্ত হাতে পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন। কিন্তু এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেরকম শক্ত জায়গায় যায়নি।’

    তিনি বলেন, ‘এই বেনিফিটগুলো যেন উইলফুল ডিফল্টাররা অপব্যবহার করতে না পারে। আর এটা যে স্বল্প সময়ের জন্যই দেয়া হয়, লংটার্ম নয়।’

    এই সব পদক্ষেপের পরও যারা ঋণের অর্থ ফেরত দেবে না তাদের ক্ষেত্রে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে সেটিও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঠিক করতে হবে বলেই মনে করে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

    তবে এই পরিকল্পনার সফলতা বা ব্যর্থতা রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বলেই মনে করেন মোস্তাফিজুর রহমান।

    তিনি বলছেন, ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত পলিটিক্যালি ব্যাংকগুলোকে প্রভাবিত করা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত হয়ত এসব পদক্ষেপ একটা সুস্থ ধারায় ফেরার ক্ষেত্রে কিছুটা সহযোগিতা করবে।’

    তার কথায়, ‘কিছু কিছু রিস্কি সিদ্ধান্ত নিতে হবে, খুব শিগগিরই এখান থেকে বের হওয়া যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন লোনগুলো রেগুলারাইজ করার চেষ্টা করছে। মূলত ব্যালেন্সশিটগুলো ক্লিয়ার করার চেষ্টা করছে।’

    কিন্তু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আনার মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বাভাবিক প্রবণতা আনতে আরো সময় লাগবে বলেই মনে করেন তিনি।

  • জাতিসংঘের অধিবেশনের আগে ভারত সফর নয় : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    জাতিসংঘের অধিবেশনের আগে ভারত সফর নয় : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

    তিনি বলেছেন, ‘ভারত সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।’

    আজ শনিবার সকালে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেছেন।

    প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

    ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, দুই দেশের মধ্যে নানা সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ হয়নি। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকা উচিত।

    জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন জানিয়েছেন, অতীতে জ্বালানি খাতে কীভাবে দুর্নীতি হয়েছে, তা এ খাতের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। বর্তমান সরকার জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সংকট সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

    মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘এ নিয়ে আলোচনা চলছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশ একাধিক নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, সেখানেই যাবে।’

    ‘বাংলাদেশকে বোয়িং বিমান কিনতে কেউ চাপ দিচ্ছে না। দেশের প্রয়োজন ও চাহিদা রয়েছে বলেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও বিমান কেনা হবে,’ যোগ করলেন প্রতিমন্ত্রী।

    মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার সিন্ডিকেটের কারণে দেশটিতে শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। এখন ধাপে ধাপে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো হবে।

    কলকাতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে থাকার সুযোগ না পাওয়া এবং রাস্তায় রাত কাটানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জোর দেন, নির্দিষ্ট ঘটনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা হলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    গতকাল শুক্রবার প্রতিমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠান কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হেনস্তার শিকার হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকালে ইমজার নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন তিনি।

    এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ চৌধুরীসহ ইমজার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আগামী ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

  • ‘প্রজেক্ট শিল্ড’-এর সচেতনতামূলক সেশন

    ‘প্রজেক্ট শিল্ড’-এর সচেতনতামূলক সেশন

    কৃষকদের মধ্যে ফসল সুরক্ষা পণ্যের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নকল, ভেজাল ও অনুমোদনহীন কৃষি উপকরণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে যশোরে সচেতনতামূলক সেশন আয়োজন করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর বিশ্বাস। সিনজেনটা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ক্রিস আর্জেন্ট, হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি, এশিয়া, মিডিল ইস্ট ও আফ্রিকা, ব্রুনো আনানিয়াস, হেড অব সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড রেসপনসিবল বিজনেস, এশিয়া, মিডিল ইস্ট ও আফ্রিকা এবং মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি, সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড।

    অনুষ্ঠানে ১০ জন সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ৪০ জন কৃষক, ১০ জন চ্যানেল পার্টনার ও সিনজেনটা বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
    সিনজেনটা বাংলাদেশের ‘প্রজেক্ট শিল্ড’ কৃষি স্টুয়ার্ডশিপ জোরদার, ফসল সুরক্ষা পণ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত এবং নকল, ভেজাল ও অনুমোদনহীন কৃষি উপকরণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ। সেশনটিতে ফসল সুরক্ষা পণ্যের নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার, আসল পণ্য শনাক্তকরণ এবং নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণ ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    এ সময় কৃষকদের কাছে মানসম্মত ও আসল কৃষি উপকরণ পৌঁছে দেওয়া এবং এসব পণ্যের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
    বক্তারা বলেন, নকল ও নিম্নমানের কৃষি উপকরণ শুধু কৃষকের আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়; এর নেতিবাচক প্রভাব ফসলের উৎপাদন, পরিবেশ এবং পুরো কৃষি মূল্যশৃঙ্খলে পড়তে পারে। এ কারণে কৃষক, সরকারি সংস্থা, চ্যানেল পার্টনার ও কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

    তারা বলেন, কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীলভাবে কৃষি উপকরণ ব্যবহার, কার্যকর নজরদারি এবং দ্রুত নকল পণ্য শনাক্ত করতে পারলে কৃষকের স্বার্থের পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতকেও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
    সেশনে অংশ নেওয়া কৃষক, ডিএই কর্মকর্তারা ও চ্যানেল পার্টনাররা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। আলোচনায় নকল পণ্য প্রতিরোধ এবং নিরাপদ কৃষি উপকরণ ব্যবহারে স্থানীয় পর্যায়ে আরও শক্তিশালী সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।

    সিনজেনটা বাংলাদেশ জানিয়েছে, সরকারি সংস্থা, কৃষক, চ্যানেল পার্টনার ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে দেশে আরও নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

  • নেপাল-তিব্বতে বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৩৭৫, নিখোঁজ ৫৫৩১

    নেপাল-তিব্বতে বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৩৭৫, নিখোঁজ ৫৫৩১

    নেপাল-তিব্বতে সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগের ১০ দিন পরও ৫ হাজার ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে শনিবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে।

    নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, দেশটিতে ১ হাজার ৩৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ, যাদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক।

    অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে (তিব্বত) অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। সেখানে এখনও ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    নেপাল ও চীনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দুই দেশে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৫০ জন বিদেশি নাগরিক।

    গত ২৬ আগস্ট নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার (১৭ হাজার ৬০ ফুট) উচ্চতায় একটি হিমবাহ ভেঙে পড়ার মধ্য দিয়ে এই দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। এতে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ নিচে নেমে এসে ব্যাপক ধ্বংসাবশেষের স্রোত তৈরি করে। পরে সেটি সীমান্তবর্তী উপত্যকাগুলো দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে।

    ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও কাভ্রে জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে কাঠমান্ডু উপত্যকাও।

    এদিকে, বন্যা ও ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষে চীনের শিজাং অঞ্চলের গিরং সীমান্ত ক্রসিংও চাপা পড়ে যায়। দুর্যোগের পর থেকে নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন বিল পাসের সুপারিশ

    সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন বিল পাসের সুপারিশ

    ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাসের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

    কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

    বৈঠকে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিলটি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের জন্য বৈঠক সুপারিশ করে।

    বৈঠকে কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মঈনুল ইসলাম খান, মো: শাহাদাত হোসেন, মো: সাইফুল আলম ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন অংশগ্রহণ করেন।

    আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অর্থ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • কুমিল্লা-নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ ঘোষণার দাবি জানালেন জামায়াত আমির

    কুমিল্লা-নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ ঘোষণার দাবি জানালেন জামায়াত আমির

    কুমিল্লা ও নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ধানাই-পানাই করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হোক। পাশের নোয়াখালী, বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষও বিভাগ চাচ্ছেন। তারাও একটি বিভাগ পাওয়ার দাবিদার। তাদেরও দিন। কিন্তু কুমিল্লার দাবি যেহেতু ১৯৯৪ সাল থেকে চলে আসছে, আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করুন।’

    শনিবার (৫ আগস্ট) কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    খন্দকার মোশতাক আহমেদের বাড়ি কুমিল্লায় উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই কারণে গোঁসা করে কুমিল্লার নামে বিভাগ দেওয়া হবে না, আগে এ নিয়ে ধানাই-পানাই করা হয়েছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, কোনো জেলার নাম নিয়ে যদি বাড়াবাড়ি করা হয়, তাহলে সেটা ওই জেলা এবং সেখানে বসবাসকারী প্রত্যেকটি মানুষকে অপমান করার শামিল।’

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারও বলেছে, কুমিল্লা বিভাগ দেওয়া হবে। তাহলে দিচ্ছেন না কেন? এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করুন। বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার যাবতীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করুন।’

    কুমিল্লায় বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখানে বিমানবন্দর হওয়ার যে বিষয়টি আছে, সেটিও দেখতে হবে। এখানে একটি ইপিজেড আছে, একটি বিমানবন্দরও আছে। সেই বিমানবন্দরটি সম্ভাব্যতা যাচাই করে যদি সবদিক থেকে উত্তম হয়, তাহলে জনগণের জন্য সেটিও চালু করা হোক। তবে বিভাগটা আগে দেন। বিভাগের দাবিটা আগে পূরণ করুন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লার মানুষকে এখন প্রশাসনিক কাজের জন্য চট্টগ্রামে দৌড়াতে হয়। এখানে বিভাগ হলে তাদের প্রশাসনিক কাজগুলো এখানেই হবে।’

    লংমার্চ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো। প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে ইনশাআল্লাহ আমাদের লংমার্চ যাবে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সেই মহাসমাবেশ কি শুধু চিড়ামুড়ি খাওয়ার জন্য হবে, নাকি আমাদের দাবি আদায়ের জন্য হবে? কুমিল্লার মানুষ, আপনারা যাবেন। প্রয়োজনে চিড়ামুড়ি হাতে নিয়েই যাবেন। দাবি আদায় করে ইনশাআল্লাহ ঘরে ফিরবেন। আপনারা প্রস্তুতি নেন। আমরা আশাবাদী, জনতার বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।’

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করেন? তিনি তো সংসদের সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন, কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়েরই কোনো খবর নেই।’

    উল্লেখ্য, জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ এবং সারের সংকট সমাধানসহ ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। আজ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চের কর্মসূচি শুরু হয়। চট্টগ্রামের লালদিঘীর মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

  • পোশাক শ্রমিকদের পেনশন নিয়ে বড় উদ্যোগ

    পোশাক শ্রমিকদের পেনশন নিয়ে বড় উদ্যোগ

    বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক আলোচনা সভা হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটরিয়ামে এ সভা হয়। এ সময় পোশাক খাতের শ্রমিকদের দ্রুত সময়ের মধ্যে পেনশন স্কিমে অর্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দেন বক্তারা। পাশাপাশি পেনশন স্কিমটি শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন তারা।

    সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অধীন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান, বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান ও সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।

    স্বাগত বক্তব্যে শেখ কামরুল হাসান বলেন, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃদ্ধ বয়সে যে আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না বিধায় উন্নত দেশের ন‍্যায় বাংলাদেশেও বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন‍্যই সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে।

    আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন ড. মো. সুরাতুজ্জামান। তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছে, যা বার্ধক্যে নাগরিকদের আর্থিক সুরক্ষার একটি বড় অবলম্বন হয়ে উঠবে। স্কিমে জমা দেওয়া অর্থ গ্রাহকদেরই যথাসময়ে ফেরত দেওয়া হবে এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সে উন্নত জীবন ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, পেনশন স্কিমের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করার জন্য সরকার এডিবির অর্থায়নে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তা ছাড়া, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০২৬-এর সর্বশেষ সংশোধনীতে ১০০ জনের বেশি শ্রমিক আছে এমন সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

    পোশাক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের এই স্কিমে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য বিজিএমইকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজনকে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমান সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কমের গুরুত্ব উপলব্ধি করে নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৬ এ পেনশন তহবিল গঠনের কথা বলেছেন, যেটি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার কাজ করছেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সার্বিক কল্যাণ, সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। সে ক্ষেত্রে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে পোশাক খাতের সব শ্রমিককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, যা সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এক ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, এই স্কিমকে শ্রমিকদের মাঝে অধিকতর জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় করতে প্রথম ২ বছরের জন্য বিশেষ সরকারি প্রণোদনা প্রদান এবং পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পেনশনের বয়সসীমা ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই সংস্কারসমূহ বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্কিমে যুক্ত হতে আরও বেশি আগ্রহী হবেন।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করা এবং পরবর্তীতে এর ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকারের এই স্কিম চালুর উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী, যুগান্তকারী এবং প্রশংসনীয়।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আকর্ষণীয় মুনাফার হার বিবেচনা করলে এটি আমাদের শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখবে। তাই পোশাক খাতের সব শ্রমিককে এই যুগান্তকারী স্কিমের আওতায় নিয়ে আসতে বিজিএমইএ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে।

    সভায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা স্কিম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সংশয় তুলে ধরলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বিস্তারিত ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাদের আশ্বস্ত করেন। বক্তারা বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যেই সরকারের এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, এবং পোশাক খাতের মতো বৃহৎ কর্মসংস্থানমুখী খাতের সম্পৃক্ততা এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

    অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সদস্য, বিভিন্ন পোশাকশিল্পের মালিক, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।শাক শ্রমিকদের পেনশন নিয়ে বড় উদ্যোগ