জাতীয় সংবাদ

  • ‘অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই আসে বড় সমর্থন’

    ‘অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই আসে বড় সমর্থন’

    ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে হেনস্তা ও হামলার শিকার হওয়ার পর নিজের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ও পাশে থাকা মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তিনি এখনো ভেনিসে অবস্থান করছেন।

    সেখান থেকে সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন- জীবন যখন কঠিন সময়ের মুখোমুখি করে, তখন অন্য প্রান্তে হয়তো আপনার জন্য সুন্দর কিছু অপেক্ষা করছে। অভিনেত্রী বলেন, কী দীর্ঘ এক যাত্রা ছিল এটি! এমন এক যাত্রা; যেখানে ছিল কঠিন সব মুহূর্ত, ছিল অপমান, হয়রানি, শারীরিকভাবে আক্রান্ত হওয়া, এমনকি নিজের মানুষদের কাছ থেকেই পরিত্যক্ত হওয়ার অনুভূতি। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও আমি একটি গভীর সত্য উপলব্ধি করেছি, কখনো কখনো সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই আসে সবচেয়ে বড় সমর্থন।

    কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ও ইতালি সরকার, ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালিয়ান পুলিশ এবং উৎসব কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বাঁধন। তিনি বলেন, যখন বেশি সহযোগিতা ও সমর্থনের প্রয়োজন ছিল, তখন আপনারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজের কিছু মানুষ যখন দূরে সরে গিয়েছিল, তখন এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিই তার শক্তি ও সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছিল বলেও জানান এই অভিনেত্রী।

    পাশাপাশি যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, খোঁজ নিয়েছেন, দোয়া করেছেন কিংবা একটি ভালো কথা বলেছেন- তাদের প্রত্যেকের প্রতিও হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাঁধন। প্রসঙ্গত, ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতেই ইতালিতে গেছেন বাঁধন। গত ৭ই সেপ্টেম্বর রাতে ভাই ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে গেলে সেখানে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বাঁধন।

  • বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই দলীয়করণ করছে: বিরোধীদলীয় হুইপ

    বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই দলীয়করণ করছে: বিরোধীদলীয় হুইপ

    বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই দলীয়করণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলের হুইপ ও সাবেক ইসলামী ছাত্রশিবিরে কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, দেশের সব সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও সরকারি করপোরেশনগুলোতে দলীয় লোকদের বসানো হচ্ছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

    মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করবেন, কিন্তু বাস্তবে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও সরকারি কর্মকমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকদের বসানো হয়েছে।

    গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু তারা সেই রায় মানে না। এখন তারা বলছে, নির্বাচন আদায়ের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছিলাম; গণভোট দেওয়া তাদের পরিকল্পনায় ছিল না।’

    তিনি দাবি করেন, গণভোটের উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা এবং ভবিষ্যতে যেন কেউ স্বৈরাচার হয়ে উঠতে না পারে, সেব্যবস্থা নিশ্চিত করা। গণভোটের রায় না মানা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    গুম ও খুনের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় হুইপ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, যার মধ্যে ২০টি বাতিল করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর একটি ছিল গুম ও খুন কমিশনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ। তিনি অভিযোগ করেন, আইন পরিবর্তন করে এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে পুলিশই তদন্ত করবে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অভিযোগকারীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। এতে মানুষ অভিযোগ করতেই ভয় পাবে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে আবার স্বৈরশাসনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এই সময়ে বাংলাদেশ ইসলাম ছাত্রশিবিরে কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শিক্ষকদের একটা বড় অংশ শুধু রাজনীতি করে বেড়ায়, কোন ছাত্র কোথায় কি করে এবং ভবিষ্যতে কি করবে বা তাকে কোনো বিষয়ে কাউন্সিলিং করা দরকার কি না এসব বিষয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষদের খুব একটা ভাবতে দেখা যায় না।’

    চাকরির ১১-২০ গ্রেডের ভাইভার নাম্বার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী সরকারের আমলে যখন দুইশত নম্বরের ভাইবা দিতে গিয়েছে তখন একটা ছাত্র লিখিততে অনেক কম নাম্বার পাওয়ার পরেও ভাইবাতে তাকে ১৯০ নাম্বার দিয়ে প্রশাসন বা পুলিশ ক্যাডারে পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু একজন ছাত্র লিখিততে অনেক ভালো নাম্বার পাওয়ার পরেও ভাইবাতে তাকে উল্টো পাল্টা প্রশ্ন করে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে যে ছেলেটার প্রশাসন ক্যাডারে যাওয়ার কথা সে ভাইবাতে কম নাম্বার পাওয়ার ফলে চলে গেছে শিক্ষা ক্যাডারে অথবা নন-ক্যাডারে। আজকে আমি এই প্রোগ্রাম থেকে বলতে চাই, পিএসসির সকল পরীক্ষায় ভাইবাতে ৫০ নাম্বারের অধিক থাকাই যাবে না, পিএসসির গঠনমূলক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। বর্তমান সরকার যে আন্দোলনের কারণে ক্ষমতায় এসেছে সেই আন্দোলনের সনদ যদি তারা সংস্কার করতে না পারে তাহলে এই সরকারের কোনো দরকার নাই।’

    সমাপনী বক্তব্যে শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘আমরা বর্তমানে দুইটি ষড়যন্ত্র ও নীলনকশা দেখছি। একটি হলো ৫০ তম বিসিএস সার্কুলার যেটি দেওয়া হয়েছে সেটি পূর্বের মতো অপরিবর্তিত রেখে সার্কুলার দেওয়া হয়েছে। আরেকটি হলো তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে ভাইবার মার্ক বেশি করা হয়েছে। এটির মধ্য দিয়ে পুরাতন সময়ে যেভাবে সরকার দলীয় লোকদের বিভিন্ন জায়গায় নিয়োগ দেওয়ার নীলনকশা করতো ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকার তা করতে চাচ্ছে। আমরা আজকের প্রোগ্রাম থেকে বলতে চাই, ২৪ পরবর্তী প্রজন্ম এটি কখনোই মেনে নিবে না। আজকে প্রয়োজনে আবার দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু দুই হাজার শহিদের রক্তের বিনিময়ে যে কোটা প্রথার কবর রচিত হয়েছে তা নতুন করে ফিরে আসতে দেওয়া যাবে না।’

  • ছাত্রশক্তির সভাপতি হচ্ছেন বাকের, সম্পাদক তাহমীদ

    ছাত্রশক্তির সভাপতি হচ্ছেন বাকের, সম্পাদক তাহমীদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি হচ্ছেন আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরী। প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বছরে প্রথম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ শনিবার। এতে বাকের-তাহমীদের হাতে উঠতে পারে ছাত্রশক্তির দায়িত্ব। বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

    আবু বাকের মজুমদার ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সাবেক নাম বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) আহ্বায়ক ছিলেন। তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রশক্তির শীর্ষ দুই পদে তারা সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এবং তাদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    এর আগে ছাত্রশক্তির নির্বাচন কমিশন গত ৯ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। তালিকা অনুযায়ী সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবু বাকের মজুমদার ও মাহফুজ খান। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরী, লিমন হাছান ও মাহফুজুর রহমান। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবু তৌহিদ মো. সিয়াম, শ্যামলী সুলতানা জেদনী ও জহিরুল ইসলাম।

    ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন হাসিব আল ইসলাম ও সাকিবুল ইসলাম; সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ সাকিব ও রায়হান ফেরদৌস। ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখার প্রথম কাউন্সিল ঘিরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে সাংগঠনিক কাঠামো আরো শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

    ছাত্রশক্তির প্রেস ও মিডিয়া সম্পাদক যাবের বিন নূর জানিয়েছেন, কাউন্সিলের বিভিন্ন পর্বে কাউন্সিলরদের ভোটগ্রহণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‍্যালি এবং অন্যান্য কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে আজ। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখারও প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এছাড়া এনসিপির সব সংসদ সদস্য ও শীর্ষনেতারা উপস্থিত থাকবেন অনুষ্ঠানে।

    অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী সকাল ৯টায় রেজিস্ট্রেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। কাউন্সিলরদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। দুই কমিটির কাউন্সিলে দুই শতাধিক ডেলিগেট ভোটের মাধ্যমে নিজ নিজ শাখার নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতির পর দুপুর ২টার দিকে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ৫টায় র‍্যালি এবং সন্ধ্যা ৭টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নতুন দল এনসিপির ছাত্র সংগঠনটি প্রথমে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) নামে যাত্রা শুরু করে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের একটি অংশের উদ্যোগে গঠিত সংগঠনটি প্রত্যাশিত সাড়া ফেলতে পারেনি। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনেও ভরাডুবি হয় তাদের। এরপর সংগঠনটিকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    আট মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে জাতীয় ছাত্রশক্তি করা হয়, সভাপতি করা হয় জাহিদ আহসানকে। গত ২ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করলে সিনিয়র সহসভাপতি আহসান লাবীবকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

  • শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার

    শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ভোলার লালমোহন উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    স্পিকার বলেন, শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে তাদের স্ত্রী সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতেন। পক্ষান্তরে তার ভেতরেই লুকিয়ে থাকতো গুমে সম্পৃক্ত থাকার হিংস্র মনোভাব। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের শেখ হাসিনা আশ্বস্ত করতেন তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়ার। কিন্তু তিনি নিজেই জানতেন আসলে গুম হওয়া ব্যক্তিরা কোথায় আছেন। তার এসব আচরণ ও অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের সেরা অভিনেত্রীর অভিনয় করেছেন। জনগণ তখন বুঝতে পারেনি। এখন জনগণের কাছে সব পরিষ্কার হয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে গুম ব্যক্তিদের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এখন জনগণের কাছে প্রমাণ হয়ে গেছে শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী ও নিজেই ছিলেন গুমের নির্দেশ দাতা। একজন ব্যারিষ্টারকে আট বছর হাত করা লাগিয়ে আয়না ঘরে বন্দি করে রেখেছেন। কতবড় মির্মম ও জঘন্যতম কাজ করা হয়েছে তার সাথে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি মুক্ত হয়ে এখন সংসদ সদস্য হয়েছেন।

    বিগত সরকারের লুটপাট প্রসঙ্গে ভোলা-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। একটি পর্দার দাম ধরেছে ৪২ হাজার টাকা। তখনকার এক ভূমি প্রতিমন্ত্রী যার লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে। সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রকল্পগুলো কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

    লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সরকারের এখানকার স্থানীয় এমপি ছিলেন একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও খুনি। ২০১০ সালের উপ-নির্বাচনে ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী এনে দিনে দুপুরে আমার নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করেছেন।

  • গণভোটের রায় অবমাননা ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে লংমার্চ অব্যাহত থাকবে: জামায়াত আমির

    গণভোটের রায় অবমাননা ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে লংমার্চ অব্যাহত থাকবে: জামায়াত আমির

    চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকসহ পুরো শিল্প খাত মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে অবিলম্বে কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শনিবার সকালে বগুড়া সার্কিট হাউজে স্থানীয় ও জাতীয় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

    দিনব্যাপী রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়া সফরে এসে তিনি সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

    শিল্প খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা জানান, আমাদের প্রধান রপ্তানি খাত হচ্ছে গার্মেন্টস। বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে জানিয়েছেন, চাহিদামতো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ার কারণে তাদের উৎপাদন শতকরা ৫০ ভাগের নিচে নেমে এসেছে। উৎপাদন কমলে তারা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না, শ্রমিক ছাঁটাই করতে বাধ্য হবে এবং আন্তর্জাতিক বায়ারদের অর্ডার ক্যানসেল হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে চলে যাবে।

    আন্তর্জাতিক সংকট সত্ত্বেও সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান জানান, বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইনের ক্রাইসিস ৬ মাস পার হলেও সরকার বিকল্প ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় দেশে-বিদেশে অভিজ্ঞ আমাদের একটি টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিম রয়েছে, যা আমরা বিনামূল্যে সরকারকে উপহার দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁতারা করছে।

    সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের প্রস্তাব ও সাধারণ মানুষের দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সংসদের ভেতরে কাজ না হওয়ায় আমরা গণতন্ত্রের রায় বাস্তবায়ন, বৈষম্য দূরীকরণ, বেপরোয়া দলীয়করণ বন্ধ, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি প্রতিরোধ, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও কৃষকের সার সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো ৬ দফা দাবিতে কর্মসূচি পালন করছি। প্রথম ধাপের সফলতা শেষে আমরা এখন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে দ্বিতীয় ধাপের লংমার্চ কর্মসূচি পরিচালনা করছি।

    বিগত সরকারের আমলের ফ্যাসিবাদী শাসন এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গে টেনে তিনি জানান, সাড়ে ১৫ বছর স্বৈরাচারের কবলে থেকে দেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু নেতৃত্ব হারিয়েছি, গুম হওয়া মানুষের পরিবারের কান্না আজও থামেনি। চব্বিশের বিপ্লব সফল হওয়ার পর শাসনতন্ত্রের বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশের ৯২ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু সংসদে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে ওয়াদা বরখেলাপ করা হয়েছে, যা সত্তরের আমলের মতো জনগণের রায়কে অবমাননা করার শামিল।

    উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র বগুড়া জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য ও অবহেলার চিত্র তুলে ধরে বিরোধীদলীয় প্রধান জানান, বগুড়া উত্তরবঙ্গের নাভি এবং সাতটি সংযোগ সড়কের কেন্দ্রবিন্দু। একসময় এটি মিনি শিল্পনগরী ও এডুকেশন হাব থাকলেও স্বাধীনতার পরবর্তী ৫৪-৫৫ বছরে এর কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তিন দফায় দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ বগুড়াকে অবহেলিত রেখেছে, এমনকি সাধারণ সড়ক মেরামতের ক্ষেত্রেও চরম বাস্তবতা দেখা গেছে। প্রধান বিরোধী দলের নেতা হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অংশ থেকে আমি বগুড়ার ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়নের জন্য সংসদে জোরালো আওয়াজ তুলব।

    কর্মসূচির শুরুতেই জামায়াতের আমির সকাল ৬টায় ধুনট উপজেলায় ১৯৬৯ সালে শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন। সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় শেষে তিনি দুপুর ১২টায় টিএমএসএস মমইন কনভেনশন সেন্টার ও স্থানীয় টিটু মিলনায়তনে বগুড়া মহানগর ও জেলা জামায়াত আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জামায়াতের বগুড়া মহানগর ও জেলা শাখা এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সভায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘বিদ্যুৎ নিয়ে বারবার কারিগরি ত্রুটি নাশকতা নাকি ষড়যন্ত্র—ভাবতে হবে’ বিএনপি মহাসচিব

    ‘বিদ্যুৎ নিয়ে বারবার কারিগরি ত্রুটি নাশকতা নাকি ষড়যন্ত্র—ভাবতে হবে’ বিএনপি মহাসচিব

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি বন্ধ রয়েছে। সেটি ঠিক করার চেষ্টা চলছে এবং শিগগির স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ায় সেখান থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।’

    শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, ‘একর পর এক কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে, কোথাও একটা ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এটা কেন হচ্ছে? মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটা কি কোনো ঘটনা, কোনো রহস্য, নাশকতা বা ষড়যন্ত্র কি না—সেটিও ভাবতে হবে।’

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা পরিশোধ করছে। ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় তাদের পাওনাও দেওয়া হচ্ছে। এর পরও কেন একের পর এক সমস্যা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন মানুষের মনে তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

  • তরুণেরা চাইলে দেশটাকে পরিবর্তন করতে পারে:প্রধানমন্ত্রী

    তরুণেরা চাইলে দেশটাকে পরিবর্তন করতে পারে:প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণরা পরিবর্তন এনেছিল। তেমনি এবার পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তেও তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তরুণরা চাইলে দেশটাকে পরিবর্তন করা সম্ভব।

    শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শতভাগ না পারলেও ৮০ শতাংশ ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব। তিন মাসে ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে সরকার।

    তারেক রহমান বলেন, প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা নিজের আশপাশ পরিষ্কার করি। রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা না ফেলি। দেশটা সবাই মিলে গড়তে হবে। এ সময় নিজেকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশকে সুস্থ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

  • আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

    আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

    হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সিএমএইচে পৌঁছে আহত সেনা কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী।

    এর আগে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হন।

    দুর্ঘটনার পর আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন—রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের তাসনিম রিফাত এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস।

    এদিকে, ট্যাংকের ফায়ারিং অনুশীলনের সময় কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

  • মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্বোধন হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্বোধন হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা ব্যারেজ একটি মাস্টারমাইন্ড প্রকল্প, যার সুবিধা পাবে দেশের ২৪টি জেলার অন্তত ৭ কোটি মানুষ। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মধ্যে একটি নির্ধারিত তারিখে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকুড়ি এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ, নদীর প্রবাহ পুনরুজ্জীবন, নাব্যতা রক্ষা, মানবসম্পদ ও দক্ষিণ-পঞ্চিমাঞ্চলের পানির নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার।

    শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘এ ব্যারেজটির স্বপ্ন দীর্ঘদিন থেকে। বাংলাদেশের ২৪টি জেলার ৭ কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে আমরা এ স্বপ্নের বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ করছি। এ এলাকার মানুষের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একটা মেঘা প্রকল্প পদ্মা ব্যারেজ অর্থনৈতিক রুপান্তর, বিপ্লবের জন্য ২৪টি জেলার অর্থনৈতিক রুপান্তর, বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি উৎপাদন, মৎস্য উৎপাদনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে। এটা আধুনিক প্রকল্প। ২০০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খলেজা জিয়া পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা করেন। আর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে একটি স্ব-নির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চাই। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে দেশের পানি, বিদুৎ, মৎস্য, কৃষি উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে।’

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থে পানির চুক্তি নিশ্চিত করেছিলেন। একই কায়দায় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সময় পানি ব্যবস্থাপনায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্ত আনতে সচেষ্ট তিনি ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে সারা বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার বৈল্পবিক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে সরকার। সেই সঙ্গে সারাদেশের প্রাণ-প্রকৃতি ফিরিয়ে আনতে খাল খনন করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্যের যে ক্ষতি হচ্ছিল, তা কাটিয়ে উঠতেই এই ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে. প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বর্ষাকালে পদ্মা নদীর উদ্বৃত্ত পানি সংরক্ষণ করা এবং শুষ্ক মৌসুমে তা নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ করা।

    পরে হাবাসপুর কেরাজ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেন অতিথিরা। পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিতি ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি আসলাম মিয়া, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বাবু, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।

    এর আগে গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক কমটির সভায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, ২টি ফিশপাস এবং নেভিগেশন লক সমৃদ্ধ এই ব্যারেজটিতে ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। থাকবে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা। ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজটি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। যার সম্পন্ন অর্থায়ন করবে সরকার।

  • ‘হু ইজ হি হেয়ার?’ এবার অ্যাটর্নি জেনারেলকে তোপ খোকনের

    ‘হু ইজ হি হেয়ার?’ এবার অ্যাটর্নি জেনারেলকে তোপ খোকনের

    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পুরো বেঞ্চ এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি (এসসিবিএ) মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি ওই বক্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে বিচার বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বস্তি উচ্ছেদে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের এই নেতা।

    অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বার সভাপতি বলেন, হু ইজ হি হেয়ার, অ্যাটর্নি জেনারেল তিনি কে? তার বক্তব্যই অপ্রাসঙ্গিক। তিনি আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আপনারা জানেন সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীরা আমাকে ১১ বার নির্বাচিত করেছেন। আমিই তো আইনজীবীদের কথা বলব, বিচারপ্রার্থীদের কথা বলব। অ্যাটর্নি জেনারেলের কোনো কাজ আছে এখানে? তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সেক্রেটারি ছিলেন, তিনি কীভাবে আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নেন!

    তিনি আরো বলেন, হাইকোর্টে এখনো অনেক বিচারপতি আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেন। প্রধান বিচারপতিকে সেসব বিচারকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনে নামবেন আইনজীবীরা। এক মাসের মধ্যে দাবি না মানলে আইনজীবীদের নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সবারই একটা উদ্বেগ বিচার বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে। প্রধান বিচারপতির কাছে এসব বিষয় তুলে ধরা আমার দায়িত্ব। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির কাছে দাবিÑআপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগসহ সারা দেশের প্রত্যেকটি কোর্টকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে এবং তা আগামী এক মাসের মধ্যেই।

    তিনি আরো বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বস্তি থাকবে কেন? আগামী এক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বস্তি উচ্ছেদ করতে হবে এবং আইনজীবীদের বসার জন্য, কর্মপরিবেশ তৈরির জন্য আপাতত টেম্পরারি পর্যায়ের শেড হলেও করে দিতে হবে। পরিকল্পনা নিতে হবে, এই বস্তি উচ্ছেদ করে এখানে আইনজীবীদের বসার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের জন্য চেম্বার করতে হবে, হলরুম করতে হবে।

    গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনের বাদানুবাদে তার আপিল বিভাগের এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) আইনজীবীদের কল্যাণে ও স্বার্থে কিছু কথা প্রধান বিচারপতির কাছে বলেছেন বলে দাবি করেছেন। আসলে এমন কোনো কথা মামলার প্রসিডিংয়ে হয়নি।

  • সরকারি টাকা নষ্ট হবে, তাই প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন: চিফ হুইপ

    সরকারি টাকা নষ্ট হবে, তাই প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন: চিফ হুইপ

    সরকারি অর্থ ব্যয়ে অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই দৃষ্টান্ত তৈরি করছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি জানিয়েছেন, জনগণের করের টাকা কোনোভাবেই যেন অপচয় না হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন। এ ছাড়া সরকারি গাড়ি, খাবার খরচ ও লোকবহরের ব্যবহারেও ব্যয় কমাচ্ছেন তারেক রহমান।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা খেয়েছে এক বছরে ৩৫ কোটি টাকা, উনার (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) ১৫০ টাকা বিল। যে লোন (ঋণ) করে গেছে শেখ হাসিনা এবং তার সরকার, সেই টাকা থেকে ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছি এই গত পাঁচ মাসে।’

    তিনি বলেন, ‘এটা আপনাদের ট্যাক্সের টাকা, এক্সচেকারের (রাজকোষ) টাকা, আপনাদের টাকা সে (শেখ হাসিনা) নিয়ে চলে গেছে। সেই টাকা এখন এই সরকারকে দিতে হচ্ছে। যে কারণে সরকার বলেছে, এমপি-মন্ত্রী যদি কোনো জায়গায় বাইরে যান এবং এসে বলেন যে আমার এত টাকা বিল হয়েছে, তা হবে না। কাগজ দিতে হবে, যাতে এক টাকাও নষ্ট না হয়। এটি হলেন তারেক রহমান।’

    নুরুল ইসলাম মনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মনে করেন—রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে কোনো অবস্থাতেই একটি টাকাও অপচয় করা যাবে না। এ কারণেই তিনি ব্যক্তিগত জীবনযাপনেও ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছেন।

    তিনি বলেন, ‘সরকারের এক্সচেকার থেকে ১০ টাকা—তারেক রহমান সাহেব মনে করেন, কোনো অবস্থাতেই একটা টাকা নষ্ট হতে পারবে না। তার জন্য নিজে সাদা কাপড় পরেন, মোটা কাপড় পরেন।’

    প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কার্যক্রমেও ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, ‘তার জন্য এয়ারপোর্টে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন, তার জন্য নিজের গাড়ি-লোকবহর নেই। তার জন্য উনি উনার অফিসে খান।’

    আগের সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অফিসের খাবারের ব্যয়ের তুলনা তুলে ধরে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা খেয়েছে এক বছরে ৩৫ কোটি টাকা। উনার ১৫০ টাকা বিল, একজনের। উনার অফিসে ১৫০ টাকা দিয়ে আমি টাকা খেতে পারি না—সত্যি কথা।’

    প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের খাবার বিলের বিষয়টি তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, ‘বিরোধী নেতা বলেছেন, যেটা সম্ভব। কিন্তু তারপর খাইতে পারি না।’ ‘এই কাজটা ভদ্রলোক (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) করেন, আর এটা তো দেখাবার জন্য করে না, এটা বাস্তবেই করে,’ যোগ করেন তিনি।

  • আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে ব্যয় ১১১৪২ কোটি, ফলাফল শুন্য

    আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে ব্যয় ১১১৪২ কোটি, ফলাফল শুন্য

    সারা দেশের প্রায় ৫ লাখ ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ও অসহায় পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আশ্রয়ণ-২ নামের প্রকল্প হাতে নিয়েছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। ‘মুজিব শতবর্ষ’ উপলক্ষে ২০২১ সালে শুরু হওয়া ওই প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ হয়েছে আড়াই লাখের বেশি আধাপাকা ঘর। দুই শতক জমিসহ সেসব ঘর পেয়েছিল সুবিধাভোগী পরিবারগুলো। বিভিন্ন এলাকায় রঙিন টিনের সারি সারি ঘরগুলো দেখলেই মনে হতো একেকটি নতুন জনপদ। কিন্তু পাঁচ বছর না যেতেই বহু প্রকল্প এলাকায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বরাদ্দ পাওয়ার পরও এসব ঘরে থাকছেন না অনেকে। কোথাও ঘরে তালা। কোথাও আবার খসে পড়েছে দেয়ালের পলেস্তারা, ভেঙে পড়েছে দরজা-জানালা। কোথাও আবার আগাছা আগ্রাসনে ঘরগুলো কার্যত পরিত্যক্ত। বড় আশার প্রকল্পটি যেন এক আক্ষেপের নাম।১১১৪২ কোটি টাকার এত বড় প্রকল্প কার্যত এখন বিগ জিরো।

    মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পটি দেশের বড় গৃহায়ন কর্মসূচি। কিন্তু চার ধাপের প্রকল্পটির শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে নির্মাণ মান, সুবিধাভোগী নির্বাচন ও ব্যয় নিয়ে। ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে ৬৯ হাজার ৯০৪ পরিবারকে ঘর হস্তান্তরের পর কয়েক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন জেলায় ঘর ভেঙে পড়া এবং ফাটল দেখা দেওয়ার চিত্র গণমাধ্যমে উঠে আসে। সে সময় সরকারি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বাস্তবায়ন হওয়া প্রকল্পের প্রথম ধাপে প্রতিটি ঘর নির্মাণে নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। দ্বিতীয় ধাপে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার, তৃতীয় ধাপে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ এবং চতুর্থ ধাপে তা বেড়ে হয় ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৮৪০ কোটি টাকার বেশি। ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি চতুর্থবার সংশোধনের পর ব্যয় দাঁড়ায় ১১ হাজার ১৪২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যয় বাড়ে ৬ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হয় ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত কিন্তু ওই সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন প্রকল্পটিতে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে। পরে প্রকল্পটি বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার।

    জনশূন্যআশ্রয়ণ: আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল অসহায় পরিবারগুলোকে একটি স্থায়ী জীবনের ঠিকানা দেওয়া। উদ্বোধনের সময় অনেক পরিবারই আনন্দ আর উৎসাহ নিয়ে নতুন ঘরে উঠেছিল। কিন্তু স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সেই আনন্দ ম্লান হয়েছে। গত ৩ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর দেশের ১৮ জেলার ৪০ উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোর সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করেছে আগামীর সময়। এসব এলাকার ১ হাজার ৪১৪টি ঘরের সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করে ৭৭৫টি ঘর ফাঁকা, তালাবদ্ধ বা পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। নমুনাভিত্তিক এ হিসাবে ঘর ফাঁকা থাকার হার ৫৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।

    সরেজমিনে সবচেয়ে শূন্য পাওয়া গেছে শেরপুরের ভোগাইপাড়ায়। এখানকার ৩০টি ঘরের প্রতিটিতেই তালা দেখা গেছে। স্থানীয় ব্যক্তিরা বললেন, কাজের সন্ধানে বাসিন্দারা ঘর তালাবদ্ধ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছেন।

    পটুয়াখালীর বাউফলের ছত্রকান্দার ২২টি ঘরের মধ্যে ২১টি পরিত্যক্ত। স্থানীয়রা এসব ঘর গোয়ালঘর ও খড় রাখার কাজে ব্যবহার করছেন। শরীয়তপুরের নড়িয়ার পদ্মার চরের চরআত্রা খাসবাজার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০০টি ঘরের ৯০টিই শূন্য। মৌলিক সুবিধা ও চরম যোগাযোগ সংকটের কারণে মাত্র তিনটি পরিবার এখানে বাস করছে। চরআত্রা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সামছুদ্দিন ব্যাপারী আগামীর সময়কে বলছিলেন, দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে থাকায় প্রকল্প জুড়ে এখন ভুতুড়ে পরিবেশ। চুরি হয়ে গেছে অধিকাংশ ঘরের চালের টিন, দরজা, জানালা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। রক্ষণাবেক্ষণ করার মতো কেউ নেই।

    অবশ্য এসব নৈরাজ্যের মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম রাঙামাটির কাপ্তাই। উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে ১১০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ঘরের সবকটিতেই বরাদ্দপ্রাপ্ত পরিবারগুলো বসবাস করছে। তবে তারা ভুগছেন নিরাপদ পানি, রাস্তা ও ড্রেনেজ সমস্যায়।

    ত্রুটিপূর্ণনির্মাণ: সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আশ্রয়ণের ঘরগুলো হস্তান্তরের কিছুদিনের মধ্যে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে ওঠে। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানকড়া ইউনিয়নে নির্মিত ঘরগুলোতে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে, যার কারণে বেঁকে গিয়ে ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

    বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার চামরুল ইউনিয়নের জোটাল মাঠাই গ্রামের দিলীপ চন্দ্রের ঘরটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পাশে। ২০২৫ সালে বটগাছ ভেঙে পড়ে ঘরটি পুরোপুরি তছনছ হয়ে যায়। দিলীপ চন্দ্র পরিবার নিয়ে পাশে টিনের ছাপরায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকারি কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসে শুধু আশ্বাস দিয়েছেন।

    এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল বাসেদ খন্দকার বললেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় অফিস পুড়ে যাওয়ায় সব নথিপত্র নষ্ট হয়েছে। সে কারণে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সঠিক পরিসংখ্যান জানা নেই। এটি ছিল বিগত সরকারের আমলের প্রকল্প। বর্তমানে এখানে সরকারের কোনো বরাদ্দ নেই।’

    অনিয়মওসচ্ছলদেরগ্রাস: আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়ম এবং প্রকৃত ভূমিহীনদের বঞ্চিত করার প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ রয়েছে, তখনকার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রভাবে সচ্ছল ও পাকা বাড়ির মালিকদের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারীদের নিয়ে গড়া সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম বললেন, ‘পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও লুৎফর মিয়া নামে এক ব্যক্তি ঘর পেয়েছেন।’

    খুলনার পাইকগাছায় পুটিমারী প্রকল্পের ৯০টি ঘরের মধ্যে প্রায় ৩০টি ঘর ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বললেন, ‘সরকারি বরাদ্দের ঘর বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। তদন্তে প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    অপরাধেরঅভয়ারণ্য: জনশূন্য বা অধিকাংশ ফাঁকা পড়ে থাকা এসব আশ্রয়ণ প্রকল্প এখন মাদক কারবারি, জুয়াড়ি ও বখাটেদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। মেহেরপুরের গাংনীর গোপালনগর ও ভাটপাড়া এলাকায় জনবসতিহীন স্থানে নির্মিত ঘরগুলো এখন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের আড্ডাস্থল। মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বললেন, তদন্ত কমিটির মাধ্যমে খালি ঘরগুলো প্রকৃত ভূমিহীনদের বরাদ্দ দেওয়া হবে। মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে অবগত করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের চর সৈয়দপুর এলাকার তিনটি আশ্রয়ণে ১৫৬টি পরিবারকে ঘর দেওয়া হয়। কিন্তু মাদকসেবী ও চোরের উপদ্রব বাড়ায় পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাসিন্দারা। অবশ্য সরেজমিনে পরিদর্শন করে ওই এলাকায় কী কী সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে একটি দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জানালেন ইউএনও এস এম ফয়েজউদ্দিন।

    আবশ্যিকসুবিধারঅভাব: খুলনার কয়রা উপজেলার লালুয়া বাগালি আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নদীর চরে নির্মিত। এই প্রকল্পে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি বিদ্যুৎ সংযোগ। প্রকল্প এলাকায় স্থাপিত চারটি নলকূপের সবকটিই অকেজো। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো নির্মাণের আগে অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব সম্ভাব্যতা যাচাই বা সঠিক পরিকল্পনা করা হয়নি। অনেক প্রকল্প এলাকা মূল ভূখণ্ড বা বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন দুর্গম চরে বা নিচু এলাকায় করা হয়েছে। কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার মান্দারগাঁও ও নোয়াগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো নিচু এবং প্লাবনপ্রবণ জায়গায় করার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় দিনের পর দিন নোংরা পানি জমে থাকছে। বগুড়ার শাজাহানপুরের চাঁদবাড়িয়া গুচ্ছগ্রামে ১৫টি ঘরের মধ্যে ১১টি পরিবার বসবাস করলেও পানির তীব্র সংকট রয়েছে। তিনটি টিউবওয়েলের একটি নষ্ট এবং একটিতে আয়রন বেশি ওঠায় ১১টি পরিবারের সম্বল মাত্র একটি নলকূপ।

    আশ্বাসেইশেষনাকিসমাধান: আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, শুধু ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ঘর পাওয়ার যোগ্য। বরাদ্দপ্রাপ্ত ঘর বা জমি বিক্রি, ভাড়া বা হস্তান্তর করা যাবে না। এমন প্রমাণ মিললে বরাদ্দ বাতিলের বিধান রয়েছে। চাঁদপুর, গাজীপুর, জামালপুর, মেহেরপুর, পাবনা ও নীলফামারীর মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ফাঁকা ও বেহাত ঘরের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। নীতিমালা ভঙ্গ করে ঘর বিক্রি বা দখলে রাখার প্রমাণ মিললে বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    সার্বিক বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা আগামীর সময়কে বললেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ব্যর্থতার প্রধান কারণ সুবিধাভোগী ও এলাকা নির্বাচনে ভুল। তিনি বললেন, ‘এটি শুরু থেকেই অনেকটা ক্র্যাশ প্রোগ্রাম ছিল। কর্মকর্তারা কাজের মানের চেয়ে ঘরের সুন্দর করে ছবি তুলে দেখানোতে বেশি ব্যস্ত ছিলেন। নির্মাণের আগে কোথায় মানুষের জীবিকা আছে, যোগাযোগ কেমন, পানি ও বিদ্যুতের সুযোগ আছে কি না—এসব বিবেচনা জরুরি ছিল। কিন্তু নেওয়া হয়নি। যেখানে জীবিকার সুযোগ নেই, শুধু খাস বা পরিত্যক্ত জমি পেয়ে সেখানে ঘর করলে মানুষ থাকবে না।’

    গওহার নঈম ওয়ারার মতে, ভাঙা ঘর পুনর্নির্মাণ, মেরামতযোগ্য ঘর সংস্কার, ফাঁকা ঘর পুনর্বণ্টন এবং সুবিধাভোগীর তালিকা যাচাই করতে হবে নতুন করে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ, যোগাযোগ এবং মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানকে সিদ্ধান্ত ও তদারকিতে যুক্ত করতে হবে।

  • ৩৮ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

    ৩৮ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

    রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মসজিদ, মাদ্রাসার পাশাপাশি আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দিরেও এ অনুদান দেওয়া হয়।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত সংশ্লিষ্ট মসজিদ ও মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

    এ সময় ঢাকা-১৭ আসন এলাকার ২৮টি মসজিদে ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেওয়া হয়। পাশাপাশি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১০টি মন্দিরকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৩০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।

    ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে সহযোগিতা এবং শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

  • জাতিকে চারিত্রিক সংকট থেকে উত্তরণ করতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা

    জাতিকে চারিত্রিক সংকট থেকে উত্তরণ করতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা

    জাতি এখন সবচেয়ে বড় সংকট-চারিত্রিক মূলধনের সংকটে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই সংকট থেকে জাতিকে উত্তরণ করতেই হবে।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত জাতীয় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার রাস্তা একটাই, তা হচ্ছে-নবী করিমের (সা.) নকশা কদম অনুসরণ করা। পায়ে পায়ে, অক্ষরে অক্ষরে তাকে অনুসরণ করে চলা।

    তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই প্রিয় নবীকে বিশ্ব মানবতার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত রহমত এবং অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। শিশু, কিশোর, যুবকদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ রাসূল (সা.)। এই সব বয়সে আল্লাহ তাকে নিয়ামত ভরা আখলাক দিয়ে তাকে সৌন্দর্য মণ্ডিত করেছিলেন।

    তিনি বলেন, আজকে মুসলিম বিশ্ব আল্লাহ ও তার রাসূলের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার পরিণতি ভোগ করছে। এই সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিযোগীদের হৃদয় আলোকিত হয়েছে বলে মনে করি। তারা মানবজাতির জন্য রাসুল (সা.) কত বড় নেয়ামত-তা জানার সুযোগ পেয়েছে।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাদের মধ্যে অনেক ট্যালেন্ট আছে, কিন্তু তাদের বেশিরভাগ ‘ইভিল ট্যালেন্টস’। আল্লাহর দেওয়া মেধাকে মানবতার কল্যাণে কাজে না লাগিয়ে এই স্বার্থপর-সংকীর্ণমনা লোকগুলো শুধু বৈধ-অবৈধ সব পথে তার নিজের লাভটা খুঁজে বেড়ায়। এতে সে নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষকে ঠকায়। পরিণতিতে তাদের অবস্থান ভালো জায়গায় হয় না, খাল-বিল নদীতে হয়। আর আল্লাহর কাছে ফিরে গেলে তার পাওনা বুঝে নেবে। সেদিন কেউ কাউকে বাঁচাতে পারবে না। কিছু মানুষ সম্মানিত হয়ে হাজির হবে, আর কিছু মানুষকে অপদস্ত হয়ে হাটুগাড়া করে বেধে আল্লাহর সামনে ফেলে দেয়া হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাসূলের (সা.) ওপর যখন ওহি নাজিল হলো-তখন যারা তার আশ্চর্যজনক বৈশিষ্টের কারণে তাকে আল-আমিন, আস- সাদিক উপাধি দিয়েছিলেন, এসব জানের বন্ধুরাই তখন প্রাণের শত্রুতে পরিণত হয়ে যায়। শুধু সত্যবাহক হিসেবে তার বিরোধিতায় অন্ধভাবে নেমে পড়ে। তবে আল্লাহ তায়ালা তাকে ইনসানিয়াতে কামেলাহ দান করেছিলেন। এজন্য দুনিয়ায় একজন মানুষেরই জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি বিষয় নিখূতভাবে-বিশুদ্ধভাবে লেখা আছে, এতে দ্বিতীয় কোনো মানুষের সন্তান দুনিয়ায় খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেই মানুষ হচ্ছেন-মুহাম্মদ রাসুল্লাহ (সা.)। এমনকি তার জীবনের গোপনীয় বিষয়গুলোও ইন্তেকালের আগে স্ত্রীদেরকে অসিয়ত করে গেছেন যে, এগুলো জনগণকে জানিয়ে দিবে।

    কারণ নবীদের প্রকাশ্য ও গোপন সব আমলের উত্তরাধিকারী আমরা উম্মতরা। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম চরিত্রে বৈশিষ্টমণ্ডিত করেছেন বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। এটা বিশ্ব মানবতার জন্য নেয়ামত। পৃথিবীর যে অংশের মানুষ যতদিন পর্যন্ত এই নিয়ামতকে আঁকড়ে ধরেছে, তারা নিজেরা উপকৃত ও গৌরবান্বিত হয়েছে, নেতৃত্বের শ্রেষ্ঠত্ব তারা ভোগ করেছে। আর যখন আল্লাহর বিধান ও রাসূলের (সা.) সুন্নত থেকে মানুষ সরে গেছে, তখনই তারা বিপথগামী, পরাজিত, লাঞ্ছিত এবং নিজ ভূমিতে এসে পরবাসী হয়েছে।

    শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শামসুল আলম, শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রমুখ। এ সময় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারীকে ওমরাহ সুযোগসহ বিজয়ীদের নানা আকর্ষণীয় পুরস্কার ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

  • ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

    ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির মধ্যে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা যাচাই করে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

    আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

    চিফ হুইপ বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে সেই বন্ধুত্ব কোনোভাবেই দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হতে দেওয়া হবে না।

    চিফ হুইপ বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গ টেনে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে বন্দরে এলে আগে বন্ধুদেশের জাহাজ খালাস করার মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা ও চুক্তি আগের সরকার করে গেছে। দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অসংখ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার।

    ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ভারতের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

    এ সময় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, নয় কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়েছে। সংসদ সদস্যদের ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

    চিফ হুইপ বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত বিলের মাধ্যমে মা-বাবা জীবদ্দশায় সন্তানকে সম্পদ দান করার পরও তাঁদের ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিলের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের নেতারা ওয়াকআউট করায় সরকারি দলের সদস্যরা মর্মাহত হয়েছেন।

    বিদ্যুৎ-সংকট প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, নতুন একটি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। আগের সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বিভিন্ন কেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমান সরকার আগের দায়মুক্তির ব্যবস্থা বাতিল করেছে বলেও জানান তিনি।

  • আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং

    আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং

    ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সংকটে থাকা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপের মুখে পড়ছে। এর সঙ্গে দেশে বাড়ছে লোডশেডিং।

    কয়লা স্বল্পতার কারণে এক মাস ধরে সীমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উৎপাদন বাড়ছিল। কিন্তু গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।

    বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি জানিয়েছে, ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের কেন্দ্রটির সক্ষমতা এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটি উৎপাদন কমিয়েছে। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী প্রায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করছে তারা। ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাতে এক পর্যায়ে সরবরাহ এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও রাত ১২টার পর একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে উৎপাদন ৭৩২ মেগাওয়াটে নেমে আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় আদানি থেকে পাওয়া গেছে ৭৩২ মেগাওয়াট। আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় ৭৩৪, ৯টায় ৭৩৭, ১০টায় ৭২৪ ও সকাল ১১টায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানি পাওয়ার।

    ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। ঝাড়খন্ডের আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারে সমস্যা হয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই, উৎপাদন বাড়তে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল এবং আদানির ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার ফলে আজ তা আরও বাড়তে পারে।

    গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটিতে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে এবং তা দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছে।

    সর্বশেষ উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, পিডিবি গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট, কয়লা থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ফলে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে সামগ্রিক উৎপাদন ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সরবরাহের বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

    আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত সব বিষয় বাস্তবায়ন করা হবে: চিফ হুইপ

    জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত সব বিষয় বাস্তবায়ন করা হবে: চিফ হুইপ

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে স্বাক্ষর হয়েছে, সেগুলো সবই বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য যেখানে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, সেখানে সংবিধান সংশোধন করেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান একদম পরিষ্কার। আমরা দাড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ যা কিছু স্বাক্ষর হয়েছে, তার সবটাই বাস্তবায়ন করব। বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধান সংশোধন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন। এ সময় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) উপস্থিত ছিলেন।

    চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে সংশোধনের নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব এবং বর্তমান সরকারও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সে পথেই এগোতে চায়।

    তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশন মাত্র নয়টি কর্মদিবস চলেছে। ২৭ আগস্ট অধিবেশন শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। এ সময়ে ছয়টি বিল উত্থাপিত এবং ছয়টি বিল পাশ হয়েছে। সংসদের কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধিতে নোটিশ ও আলোচনা হয়েছে। বিধি ৬৮-এ দুটি নোটিশের ওপর আলোচনা, বিধি ৭১-এ ১৪টি বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং দুই মিনিটের বক্তব্যের বিধিতে ১২৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে।

    চিফ হুইপ জানান, প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার জন্য ১৪৪টি প্রশ্নের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টির উত্তর দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা সব মিলিয়ে ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮টির উত্তর দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশনে পাশ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর এবং সম্পত্তিতে আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংক্রান্ত আইন অন্যতম। এ আইন বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    চিফ হুইপ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা সন্তানদের সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পর বৃদ্ধ বয়সে অসহায় হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করতে বাধ্য হন। নতুন আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    এ আইন নিয়ে বিরোধিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও সম্মান নিশ্চিত করার বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। ধর্মীয় বিধানের কথা যারা বলছেন, তাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বাবা-মাকে সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার-সংক্রান্ত আইন নিয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, এসব আইন প্রণয়নের আগে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সংশ্লিষ্ট অংশীজন, আইনজীবী, বিচারক ও সাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার যাতে কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইনগুলোকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলন বা লংমার্চ করে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন বছর সময় প্রয়োজন। এ কারণে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে সরকারকে সময় দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    চিফ হুইপ বলেন, আগের সরকারের সময় বিদ্যুৎ খাতে বিভিন্ন চুক্তি ও ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে না থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। বর্তমান সরকার এসব বিষয় পর্যালোচনা করছে বলেও জানান তিনি।

    তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রেও আগের সরকারের সময়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এসব বিষয়ে বর্তমান সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    কৃষি ও সার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের প্রথম দিকের সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে কৃষিঋণ ও কৃষক কার্ডের বিষয়টি রয়েছে। বিপুলসংখ্যক কৃষক পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় উপকৃত হবে বলে তিনি জানান।

    দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে দাবি করে চিফ হুইপ বলেন, এখন আমাদের কাছে ১৬ লাখ মেট্রিক টন সার অতিরিক্ত আছে। সার ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। তবে সরকার কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দিতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

    এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, বিদেশি ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে সরকার আলোচনা ও পর্যালোচনা করছে। এসব বিষয়ে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে চুক্তিগুলোর আর্থিক দিকও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। কোনো দেশকে শত্রু হিসেবে না দেখে সবাইকে বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করা হলেও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মধ্যে ২২টি কমিটিতে বিরোধী দলের তিনজন করে সদস্য রাখা হয়েছে। অন্য কমিটিগুলোতে দুজন করে বিরোধী দলের সদস্য রাখা হয়েছে।

    চিফ হুইপ বলেন, অতীতে বিরোধী দলের সদস্যকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার নজির খুবই সীমিত। তবে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ওপর নজরদারি করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সভাপতি পদটি বিরোধী দলের সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে দেওয়া হয়েছে।

    সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়েনি, বরং সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিরোধী দলের নেতা ভিন্ন একটি রাজনৈতিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বলেছেন, লংমার্চ করে যদি বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যেত, তাহলে সরকারই সবার আগে লংমার্চ করত।

    চিফ হুইপ সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের ভুল হলে সেটিও লিখতে হবে এবং সরকার সঠিক কাজ করলে সেটিও তুলে ধরতে হবে।

    তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি থাকলে সাংবাদিকরা তা তুলে ধরবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

    চিফ হুইপ বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় ইচ্ছা করলে আইন পাস করতে পারে। তবে সরকার তা না করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন তিনি কোনো একটি দলের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

    দেশকে স্বাবলম্বী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিরোধী দলসহ সবার সহযোগিতা চায় উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

    তিনি বলেন, আমরা সরকার এবং বিরোধীদল সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই। আমরা দেশকে স্বাবলম্বী করতে চাই। দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে চাই। গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে চাই। এর জন্য যা করা দরকার আমরা তা করবো।

  • রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের পুনরুজ্জীবনে সহায়তায় আগ্রহী পাকিস্তান

    রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের পুনরুজ্জীবনে সহায়তায় আগ্রহী পাকিস্তান

    দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের বোঝা টানতে থাকা দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা করতে চায় পাকিস্তান। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর সেকেলে যন্ত্রপাতি এবং চিনি আহরণ কমে যাওয়াসহ নানা সংকট উত্তরণে কারিগরি দক্ষতা ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বেনজীর রিয়াতির সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    শিল্প মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের ধুঁকতে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, জরুরি মেরামত ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে দুদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার আওতায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘হেভি মেকানিক্যাল কমপ্লেক্স (এইচএমসি), ট্যাক্সিলা’ বাংলাদেশের নির্বাচিত চিনিকলগুলোর কারিগরি নিরীক্ষা (অডিট) পরিচালনা করবে। পাশাপাশি, এসব কারখানার জন্য সুনির্দিষ্ট ‘ব্যালেন্সিং, মর্ডানাইজেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন’ (বিএমআর) বা ভারসাম্য রক্ষা, আধুনিকীকরণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক রূপরেখা তৈরি করবে প্রতিষ্ঠানটি।

    প্রতিষ্ঠানটি অতীতে বাংলাদেশের নাটোর ও পাবনা চিনিকল স্থাপনেও কাজ করেছিল। অডিটের পর চিনিকলগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট পুনর্বাসন প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে।

    জানা গেছে, উভয় পক্ষ দেশের প্রচলিত চিনিকলগুলোকে বহুমুখী পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের বিষয়ে একমত হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো আয়ের উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং মিলগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও স্থায়িত্ব বাড়ানো। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আধুনিকায়নের পর এ ধরনের কারখানা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিটাগুড় থেকে বায়ো-ইথানল তৈরি এবং প্রেস-মাড ব্যবহার করে মানসম্মত জৈবসার উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

    সহযোগিতার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তানের একটি বিশেষ কারিগরি প্রতিনিধিদল সরেজমিন মূল্যায়ন ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন চিনিকল পরিদর্শন করবে। জানা গেছে, প্রতিনিধিদলের যাতায়াত ও কার্যক্রমের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করতে সম্মতি জানিয়েছে পাকিস্তান ।

    পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কারখানার কারিগরি বিবরণ পরিচালন-সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক উপাত্ত পাকিস্তানি দলকে সরবরাহ করবে। পাশাপাশি মিলগুলো পরিদর্শন ও আধুনিকীকরণের সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা যাচাই করতে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাবে।

    জানা গেছে, সরেজমিন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার পর পাকিস্তান চিনিকলগুলোর পুনর্বাসন ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন এবং পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগ প্রস্তাবনা প্রস্তুত করবে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই প্রস্তাবনাগুলো আগামী দিনে দুদেশের মধ্যকার ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও অর্থায়নবিষয়ক আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

    জানা গেছে, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) আওতাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো বর্তমানে পুরোনো ও সেকেলে যন্ত্রপাতি, উৎপাদন সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার না হওয়া এবং আখের রস থেকে চিনি আহরণের হার কমাসহ নানামুখী সংকটের মুখোমুখি। চিনি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে অবিলম্বে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং পণ্যের বহুমুখীকরণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

    বর্তমানে বিএসএফআইসির অধীনে ১৫টি চিনিকল থাকলেও এগুলোর সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা কম হওয়ায় অপরিশোধিত চিনি আমদানি করতে হয়।

    বাণিজ্যিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। বর্তমানে বিএসএফআইসির অধীনে ১৫টি চিনিকল থাকলেও এর মধ্যে ৯টি সচল রয়েছে। পুরোনো প্রযুক্তি ও কম চিনি আহরণের হারের কারণে এসব কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। ফলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত চিনি আমদানি করতে হয়। ২০২০ সালে বড় ধরনের লোকসান এড়াতে পাবনা, শ্যামপুর, পঞ্চগড়, সেতাবগঞ্জ, রংপুর ও কুষ্টিয়া—এ ছয়টি চিনিকলে উৎপাদন স্থগিত করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পাকিস্তান সরকারের কারিগরি সহায়তা এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের চিনি খাত পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হয়ে উঠবে।

    শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান আমার দেশকে বলেন, পাকিস্তানের প্রস্তাবনাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

  • নাম বদলে নতুন মোড়কে পুরনো বাহিনী নয় : বিরোধীদলীয় নেতা

    নাম বদলে নতুন মোড়কে পুরনো বাহিনী নয় : বিরোধীদলীয় নেতা

    র‌্যাব বিলুপ্তির নামে জনবল, স্থাপনা, লজিস্টিক, ক্ষমতা ও অবকাঠামো অপরিবর্তিত রেখে একই ধরনের নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল-২০২৬’ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান।তিনি বলেন, ‘জাতি র‌্যাব বিলুপ্তি চেয়েছিল, একই বাহিনীকে শুধু নতুন নামে ফিরিয়ে আনা নয়। জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয়তা ও কাঠামো নতুন করে পর্যালোচনা না করে এমন একটি আইন পাস করা উচিত নয়।’

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শেষ দিনের বৈঠকে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল-২০২৬’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের আওতাধীন বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠনের লক্ষ্যে বিলটি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত আইনে র‌্যাবের জনবল, সম্পদ, নথিপত্রসহ বিভিন্ন বিষয় নতুন ইউনিটে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।

    ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই বিল জাতীয় জীবনের অন্য ১০টি সাধারণ বিলের মতো নয়; এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। র‌্যাব প্রতিষ্ঠার পর এ বাহিনী সম্পর্কে জাতির সামগ্রিক অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও এর নেতিবাচক কর্মকাণ্ড এত ব্যাপক ছিল যে তা দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিকভাবেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।’

    তিনি বলেন, র‌্যাবের হাতে ভুক্তভোগী অনেকেই আজ সংসদে রয়েছেন। তিনি নিজেও এ বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে তিনি বেঁচে আছেন; অনেকেই জীবন হারিয়েছেন, আবার অনেকে গুমের শিকার হয়ে আজও নিখোঁজ রয়েছেন। র‌্যাবের হাতে গুমের শিকার হয়ে পরে ফিরে আসা সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের কথাও উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

    সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারজিয়া বেগমের স্বামীর ওপর নির্যাতন ও তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেয়ার ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা জাতির স্মৃতিতে রয়েছে। এসব কারণেই র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি উঠেছিল। দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এ বিষয়ে কথা বলেছে। কিন্তু র‌্যাব বিলুপ্ত করে একই ধরনের আরেকটি বাহিনী গঠনের দাবি কেউ করেনি।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এখন এমন একটি প্রস্তাব আনা হয়েছে, যেখানে প্রায় একই বাহিনীকে একই জায়গায় রেখে নতুন নামে পরিচালনার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। র‌্যাবের সদস্যরাই থাকবেন, তাদের স্থাপনা থাকবে, লজিস্টিক থাকবে, ক্ষমতার কাঠামোও থাকবে—তাহলে পরিবর্তনটা কোথায়? শুধু একটি নাম বদলে আরেকটি নাম বসালে জাতি সেটি গ্রহণ করবে না।’

    তিনি বলেন, ‘মাত্র কয়েক দিন আগেও একটি ঘটনা ঘটেছে, যা প্রমাণ করে বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত সদস্যদের আচরণ ও মানসিকতায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এসেছে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক ছাত্রীকে তার বাসা থেকে তুলে নিতে যাওয়ার ঘটনায় কোনো সার্চ ওয়ারেন্ট ছিল না বলে তিনি দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লোকজন দ্রুত সেখানে না পৌঁছালে ওই নারীকে নিয়ে যাওয়া হতে পারত।’

    ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘ওই নারী কোনো অপরাধ করেছেন কি না, সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা একটি বড় প্রশ্ন তৈরি করে—যাদের নিয়ে অতীতে এত অভিযোগ উঠেছে, তাদের শুধু এক বাহিনী থেকে অন্য বাহিনীতে স্থানান্তর করলেই কি কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হবে?’

    তিনি বলেন, ‘বিলটি তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের দেয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ও তিনি পর্যালোচনা করেছেন।’

    র‌্যাব প্রতিষ্ঠার সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাহিনীটির হাতে পরবর্তী সময়ে শুধু একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী নয়, গোটা জাতির বিভিন্ন অংশ নিগৃহীত হয়েছে।’

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এসআরবি গঠনের উদ্যোগ সামনে আসার পর দেশের নাগরিক সমাজ থেকেও আপত্তি উঠেছে এবং উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই তাড়াহুড়া করে চলতি অধিবেশনেই বিলটি পাস করার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি আরো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা উচিত।’তার ভাষায়, কেন এমন একটি বিশেষায়িত বাহিনী প্রয়োজন, তার যৌক্তিকতা জাতির সামনে আরো পরিষ্কার করতে হবে। জনগণকে বোঝাতে হবে, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য সত্যিই এ ধরনের একটি নতুন বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে। জাতির মধ্যে আস্থা ও ঐকমত্য তৈরি না করে এমন একটি বিতর্কিত বাহিনীকে নতুন নামে প্রতিষ্ঠা করা হলে জনগণ স্বাভাবিকভাবে তা গ্রহণ করবে না।

    তিনি বলেন, ‘বিলে কিছু ছোটখাটো পরিবর্তন ও নতুন কিছু বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হলেও মৌলিক জায়গাগুলোতে তেমন পরিবর্তন আনা হয়নি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন জবাবদিহিতা ও অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নিয়ে।’

    ‘আমার অপরাধ, আমি নিজেই তদন্ত করব’—এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘র‌্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে তারা একমত। কিন্তু একই ধরনের বাহিনীকে নতুন নামে প্রতিষ্ঠার আগে আরো চিন্তাভাবনা, আলোচনা ও জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মহল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর যে উদ্বেগ ও আপত্তির কারণে র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি জোরালো হয়েছিল, শুধু নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে তার সমাধান হবে না।’

    তিনি বলেন, ‘বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে এ বিল এখনই পাস করা উচিত নয়। জনগণের অনুভূতি ও বাস্তব উদ্বেগের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার বিলটি প্রত্যাহার করুক। পরে প্রয়োজনীয় সংস্কার, বিস্তৃত আলোচনা এবং সবার মতামতের ভিত্তিতে সত্যিকার অর্থে একটি জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ ও জনগণের আস্থাভাজন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের প্রয়োজন হলে নতুন করে আইন আনা যেতে পারে।’বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সরকারের জন্য এটি একটি উদাহরণ তৈরির সুযোগ। জনগণের সেন্টিমেন্ট ও বাস্তব অভিব্যক্তির প্রতি সম্মান দেখিয়ে বিলটি ফিরিয়ে নেয়া হলে সেটিই হবে গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত।’

  • দেশের কল্যাণে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের কল্যাণে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

    জাতীয় ডেস্ক:

    বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায় বর্তমান সরকার, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সংসদের কাছে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি।

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।

    বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে এই সমস্যার কারণে সমগ্র দেশের মানুষকে কিছু ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই জাতীয় সমস্যা সমাধানে তারা বিরোধীদলীয় বন্ধুদের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেছিলেন।

    তবে সংকট সমাধানে রাজপথের কর্মসূচির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অথচ আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কিনা।’

    লংমার্চের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, ‘গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।’

    প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে এবং জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও গঠনমূলক আলোচনার ওপর বিশেষ জোর দেন।

  • শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ শিক্ষক-শিক্ষা কর্মকর্তা

    শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ শিক্ষক-শিক্ষা কর্মকর্তা

    রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে গেলে অভিভাবকেরা তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করলে তিনি পালিয়ে যান।

    পরে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের অফিসকক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে গেলে তাঁকেও অবরুদ্ধ করা হয়। আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলে এই অবস্থা। পরে পুলিশি পাহারায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিদ্যালয়ে থাকা সবাইকে বের করে নেওয়া হয়।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বাইরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন।

    স্থানীয় লোকজন জানান, গত ৩১ আগস্ট ক্লাস চলাকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি অভিভাবকদের জানায়। এরপর ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেননি। আজ সকালে এলে তাঁকে আটকের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে যান।

    পরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা ঘটনাস্থলে আসা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তাঁকে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

    বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ করেছে। তাদের ভাষ্য, শিক্ষকের আচরণে মেয়ে শিক্ষার্থীরা অস্বস্তি বোধ করত। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছে।

    কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, এর আগেও অন্য দুটি বিদ্যালয়ে থাকাকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল।

    গজঘন্টা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বকুল মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সবাইকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে সবাইকে বুঝিয়ে পুলিশি পাহারায় তাঁদের বের করে দেওয়া হয়। আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুটি বিদ্যালয়ে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগের কথা শুনেছি। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তিনি যেন আর শিক্ষকতা পেশায় ফিরতে না পারেন, সে ব্যবস্থা করা উচিত।’

    অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

    বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমি কখনো চিন্তা করতে পারিনি আমার এই শিক্ষক এ ধরনের কাজ করবেন। বিষয়টি জানার পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, ওই ছাত্রীর বাবা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ফোন করে বিদ্যালয়ে তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখার কথা জানানো হয়। পরে পুলিশ সদস্যদের পাঠিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

  • সোনালী ব্যাংকের সেই শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

    সোনালী ব্যাংকের সেই শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে এজিএম কামাল পাশাকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্য হলেন-পিও আতিকুল ইসলাম।

    এর আগে পীরগাছা সোনালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, দুর্ব্যবহার, অনিয়ম ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের অভিযোগ তুলে ঢাকা পোস্টে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

    প্রতিবেদনে ব্যবস্থাপকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘আমি সোনালী ব্যাংকের এজিএম ম্যানেজার, আমি চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। এই উপজেলার ইউএনও আমার দুই গ্রেড নিচে ষষ্ঠ গ্রেডে চাকরি করেন। আমি এই উপজেলার বড় কর্মকর্তা। আমি যা বলি তাই আইন, ব্যাংক আমার কথায় চলে।’ এ বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে এলে অভিযোগগুলো তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়।

    রোববার তদন্ত কমিটির সদস্যরা দিনব্যাপী সোনালী ব্যাংকের পীরগাছা শাখায় গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় তারা সেবা নিতে আসা অসংখ্য গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কেও গ্রাহকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন।

    ‘আমি যা বলি তাই আইন, ব্যাংক আমার কথায় চলে’

    তদন্তের সময় গ্রাহকদের কাছে ব্যাংকের সেবার মান, শাখা ব্যবস্থাপকের আচরণ, হয়রানি, চেকবই প্রদান, সলভেন্সি সার্টিফিকেট, ঋণ-সংক্রান্ত কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় একাধিক গ্রাহক শাখা ব্যবস্থাপকের দুর্ব্যবহার, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ তদন্ত কমিটির কাছে তুলে ধরেন।

    এ সময় ব্যবস্থাপকের কক্ষে সাধারণ গ্রাহকদের প্রবেশাধিকার নিয়েও অভিযোগ ওঠে। একাধিক গ্রাহক তদন্ত কমিটিকে জানান, প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা বা সমস্যা নিয়ে ব্যবস্থাপকের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও সাধারণ গ্রাহকদের সহজে তার কক্ষে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয় না। তবে ব্যবস্থাপকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির নিয়মিত ওই কক্ষে যাতায়াত ও অবস্থানের অভিযোগও করেন তারা।

    তদন্ত কমিটির কাছে কয়েকজন গ্রাহক শাখা ব্যবস্থাপকের ঘনিষ্ঠ মহল তৈরি, তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজে মধ্যস্থতা এবং সাধারণ গ্রাহকদের তুলনায় তাদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন।

    ঋণ বিতরণ ও চেকবই প্রদানের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন অভিযোগের কথা তদন্ত কমিটির কাছে জানান কয়েকজন গ্রাহক। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।

    তদন্ত কমিটির প্রধান এজিএম কামাল পাশা বলেন, জিএম স্যারের নির্দেশে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা সরেজমিনে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন দাখিল করব।

    দিনব্যাপী তদন্ত শেষে কমিটির সদস্যরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও অভিযোগ সংগ্রহ করেন। তদন্ত কার্যক্রম শেষে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানানো হয়।

  • মধ্যপ্রাচ্যে সেনা-ঘাঁটি কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    মধ্যপ্রাচ্যে সেনা-ঘাঁটি কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনা কমানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শেষ করতে পারলে আগামী বছর থেকেই সেনা ও সামরিক স্থাপনা কমানোর কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ছয়টি সূত্র জানিয়েছে। এ নিয়ে সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা নীরবে আলোচনা করছেন বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    এমন পদক্ষেপ কার্যকর হলে নাইন–ইলেভেনের পর মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে এটি হবে আরেকটি বড় পরিবর্তন। গত ২৫ বছরে অঞ্চলটি থেকে সরে যাওয়ার নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন ও লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কারণে বারবার সেখানে ফিরে এসেছে ওয়াশিংটন।

    ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উত্তরে তাজি সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর অনুষ্ঠানের সময় মার্কিন সেনারা।

    বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছেন। এ ছাড়া দুটি বিমানবাহী রণতরি ও এক ডজনের বেশি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ (ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ) বিপুল সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন আছে। তবে ইরানের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধে এসব সামরিক স্থাপনার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    ওই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে কতটা মার্কিন উপস্থিতি রাখা হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু স্থাপনা পুনর্নির্মাণ না করা এবং স্পর্শকাতর কিছু অভিযান স্থায়ী ঘাঁটি ছাড়া পরিচালনার বিষয়ও রয়েছে।

    ইরাকের মসুলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ওপর অভিযানের সময় কাছেই মাখমুর এলাকার এক ঘাঁটিতে অস্ত্র হাতে সতর্ক মার্কিন সেনা।

    ঘাঁটি মাটির নিচে নেওয়ারও পরিকল্পনা

    আলোচনার বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও যেসব মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে থেকে যাবেন, তাঁদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করার বিষয়েও কাজ করছে সামরিক বাহিনী। এর অংশ হিসেবে কিছু সামরিক স্থাপনা মাটির নিচে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এসব ঘাঁটির দুর্বলতা প্রকাশ করার পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘দুর্বলতাগুলো সব সময়ই জানা ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট জরুরি পদক্ষেপ নেয়নি।’

    দুটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েনের কাঠামো পরিবর্তনের জন্য কয়েকটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করেছে সামরিক বাহিনী। তবে ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলমান থাকায় বিমান হামলা পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানগুলো এখনই ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

    মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ভবিষ্যতে সেনা মোতায়েনের কাঠামো নিয়ে তাঁরা কোনো অনুমান করবেন না। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ–ও এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

    সিরিয়ার কামিশলি শহরের কাছে মার্কিন সামরিক যানের একটি বহর।

    ৯/১১-এর পর বেড়েছিল মার্কিন উপস্থিতি

    ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়। ইরাক ও আফগান যুদ্ধ এবং পরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য স্থায়ী ঘাঁটি ও গোয়েন্দা স্থাপনার একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে যুক্তরাষ্ট্র।

    নাইন–ইলেভেনের দুই বছর পর ইরাকে আগ্রাসনের সময় মধ্যপ্রাচ্যে আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন সেনা ছিল। উন্মুক্ত তথ্যের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এ সংখ্যা কখনো এক লাখের নিচে নামেনি।

    ২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তান থেকে সেনা কমানোর ঘোষণা দেন এবং ইরাক থেকেও যুদ্ধরত সেনা প্রত্যাহার করেন। কিন্তু পরে ইরাকে আইএসের উত্থানের পর আবার মার্কিন সেনা পাঠানো হয়। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার সংখ্যা ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজারের মধ্যে ওঠানামা করেছে। একই সময়ে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলাও মার্কিন নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

    যদিও পরিকল্পনাকারীরা এখন সেনা কমানোর সম্ভাব্য বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে ইরানের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তির কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছাতে পেরেছে বলে মনে হচ্ছে না। ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন ঘাঁটি ও বাহিনী লক্ষ্য করে ইরান লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রায় এক মাস পর দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমবারের মতো গোলাগুলি শুরু হয়। গত সপ্তাহে ইরান হামলা চালিয়েছে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে।

    সিরিয়া ও ইরাক সীমান্তে দেখা যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গাড়িবহর

    ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন

    ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদে সিআইএর একটি ঘাঁটি ইরানের হামলায় কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

    বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতেও মার্কিন সামরিক স্থাপনা ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কিছু স্থাপনা পুনর্নির্মাণ না করার কথাও ভাবা হচ্ছে। এর পেছনে সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়ও রয়েছে।

    গত এপ্রিলে পেন্টাগনের শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা তৃতীয় জুলস জে হার্স্ট বলেছিলেন, যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা মেরামতে কত খরচ হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান কেমন হবে, সেটি মূল্যায়নের ওপরও বিষয়টি নির্ভর করছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

    মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি

    আলোচনার সঙ্গে অবগত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন সেনা কমাতে আগ্রহী। একই সঙ্গে আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর প্রতিরক্ষার আরও বেশি দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা তাঁদের আছে।

    তবে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো পর্যালোচনা শুরু হয়নি। সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা বরং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতার বিষয় মাথায় রেখে সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার পুরোনো চেষ্টা

    সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও ইতিহাসবিদদের মতে, নাইন–ইলেভেনের সময় সিআইএ একটি নতুন মিশনের সন্ধানে ছিল। সংস্থাটির প্রধান প্রতিপক্ষ সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়েছিল। সংস্থাটিতে সন্ত্রাসবাদ ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন বিশ্লেষক ছিলেন, তবে তাঁদের সংখ্যা বেশি ছিল না। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস, অস্টিনের ইতিহাসবিদ জেফরি রগের মতে, ওই অঞ্চলে সিআইএর কর্মীর সংখ্যা সম্ভবত মাত্র কয়েক শ ছিল।

    নাইন–ইলেভেনের পর সব বদলে যায়। সংস্থাটি ব্যাপকভাবে সেনা নিয়োগ দিতে শুরু করে এবং আরও বড় একটি আধা সামরিক কর্মকর্তাদের দল গড়ে তোলে। এসব কর্মকর্তা অস্ত্র বহন করতেন এবং ‘সন্ত্রাসী’দের খুঁজে বের করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন।

    তবে দুই সংস্থাই ওই অঞ্চলে গত দুই দশকের সম্পৃক্ততায় উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দুই দলের প্রেসিডেন্টই কখনো কখনো মরিয়া হয়ে এই অঞ্চল থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন। ওবামা এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার একটি পরিকল্পনা করেছিলেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রশাসনও তাঁর প্রথম জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।

    জর্ডানের জারকায় ‘ইগার লায়ন’ যৌথ সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উড়িয়ে এগিয়ে চলছে সামরিক যান।

    কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা মহলে ওই পরিকল্পনা একসময় রসিকতার বিষয়ে পরিণত হয়। কারণ, একের পর এক সংকট ও নীতিগত সিদ্ধান্ত—যার মধ্যে আইএসের অপ্রত্যাশিত উত্থান এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শীর্ষ ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার ঘটনাও ছিল। এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রকে বারবার মধ্যপ্রাচ্যে ফিরিয়ে এনেছে।

    সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা সম্প্রতি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বৃদ্ধির সামরিক পদক্ষেপগুলো তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে সম্ভবত সফল হবে না। ফলে ট্রাম্প অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

    তবে এ কৌশল ফল দিতে কত সময় লাগতে পারে, তার কোনো স্পষ্ট সময়সীমা নেই। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কয়েক মাসের অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতে প্রস্তুত এবং নিকট ভবিষ্যতে তারা আত্মসমর্পণ করবে—এমন সম্ভাবনা কম।

    উত্তর আরব সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি পরিচয়হীন নৌযান থেকে জব্দ করা অস্ত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস মন্টেরে’র ডেকে।

    সিএনএনকে একটি সূত্র জানিয়েছে, পেন্টাগনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ওই অঞ্চলে বড় ও স্থায়ী কিছু সামরিক ঘাঁটি বজায় রাখা হবে। তবে এসব স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, তা নির্ভর করতে পারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো পুনর্নির্মাণের ব্যয়ে অংশ নিতে কতটা আগ্রহী তার ওপর। আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে। সূত্রটি আরও বলেছে, এসব ঘাঁটির অনেকগুলোই যে দেশে অবস্থিত, মূলত সেই দেশই নির্মাণ ও অর্থায়ন করেছিল।

    স্বল্প মেয়াদে প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সেনা ও ঘাঁটিগুলো ইরানের কাছ থেকে অব্যাহত হামলার মুখে পড়বে—এমনটাই প্রায় নিশ্চিত। এ অবস্থায় মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা গত সপ্তাহে বলেছেন, বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা আর ‘শিগগিরই’ ফিরছেন না।

  • অনলাইনে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী

    অনলাইনে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী

    আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও বিবাহসংক্রান্ত জালিয়াতি ঠেকাতে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে।বুধবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

    এদিন আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস : বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

    আইনমন্ত্রী জানান, এই পদ্ধতিটি অন্যান্য সার্ভারের সঙ্গে সমন্বিত হলে এক ক্লিকের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তির বিয়ে সংক্রান্ত তথ্যাবলি জানা সম্ভব হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াতেও এই তথ্যগুলো বিশেষভাবে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

    ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে অনেক অনিয়ম বন্ধ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ রোধের পাশাপাশি বিবাহসংক্রান্ত জালিয়াতিও ঠেকানো সম্ভব হবে।

    বিভিন্ন সার্ভারের সঙ্গে তথ্যব্যবস্থা সংযুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই পাওয়া যাবে। বাল্যবিবাহ রোধ হবে, বহুবিবাহ রোধ হবে, প্লাস জালিয়াতি রোধ হবে। আন্তর্জাতিকভাবে ভিসা নিতে গেলে সেখান থেকেও এক ক্লিকে সব ইনফরমেশন পাওয়া যাবে।’

    প্রকল্পটির আওতায় প্রথমে ১০টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ প্রকল্পে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

    ব্র্যাকের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকারের দুর্বলতার কারণে ব্র্যাককে সম্পৃক্ত করা হয়নি। বরং বিবাহসংক্রান্ত বিষয়ে মাঠপর্যায়ে ব্র্যাকের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে।

    মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ব্র্যাক ইজ ওয়ার্কিং সিন্স ইটস ইনসেপশন। গত ৫৫ বছর ধরে প্রায় সারা বাংলাদেশের গ্রাসরুট লেভেল পর্যন্ত নারীদের এই বৈবাহিক অবস্থানে ব্র্যাক কাজ করছে।

    তাদের একটা এক্সপেরিয়েন্স আছে। আমরা তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেব আমাদের কাজিদের জন্য। এটা সরকারের দুর্বলতার বিষয় না। আমরা শুধু তাদের এক্সপার্টাইজ কাজে লাগাচ্ছি।’

  • রংপুরে ৫ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকারের জরিমানা

    রংপুরে ৫ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকারের জরিমানা

    জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন চিলিং সেন্টার, ফিড ও মাংসের দোকান পরিদর্শন করা হয়।

    অভিযানে রংপুর ডেইরি প্রোডাক্টকে ২৫ হাজার টাকা, প্রাণ ডেইরিকে ১০ হাজার টাকা, মা ট্রেডার্সকে ৭ হাজার টাকা, আবওয়া বাণিজ্য ভান্ডারকে ৬ হাজার টাকা এবং হবিবর গোস্ত ঘরকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় আরোপিত মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।

    অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, রংপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, রংপুর জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    অভিযান শেষে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের বাজার তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • ‘ব্রিজোত উঠলে নড়ে, কখন যে ভাঙ্গি পড়ি যায় আল্লায় জানে

    ‘ব্রিজোত উঠলে নড়ে, কখন যে ভাঙ্গি পড়ি যায় আল্লায় জানে

    ঝুঁকিপূর্ণ সেতু হয়ে গ্রামের মানুষের প্রতিদিনের চলাচলের কষ্ট তুলে ধরে কথাগুলো বলছিলেন ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক কৃষক জহুরুল ইসলাম। তিনি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শাইলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

    শাইলবাড়িসহ পার্শ্ববর্তী ভীমপুর ও ডাংগাপাড়া গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে সরমংলা নদী। এ নদীর বুকে দাঁড়িয়ে আছে ৩৫ বছরের পুরোনো একটি জরাজীর্ণ সেতু। নদী পারাপারে স্থানীয় মানুষের একমাত্র ভরসা ৩৫ বছরের পুরোনো একটি সেতু। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুই এখন আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ৩৫ বছর আগে নির্মিত পুরোনো সেতুটির রেলিং ভেঙে গেছে, কোথাও আবার পুরোপুরি উধাও। সাড়ে তিন ফুট চওড়া এ সেতুর দুই পাশের নিরাপত্তা রেলিংয়ের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। পিলারের পলেস্তারা খসে বেরিয়ে পড়েছে রড। সেতুর বুক-পিটে ছোট ছোট গর্তের ক্ষতচিহ্ন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এখন নড়বড়ে দেহে দাঁড়িয়ে আছে ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুটি। মোটরসাইকেল কিংবা বাইসাইকেল ছাড়া যেতে পারে না কোনো যানবাহন।

    স্থানীয়রা জানান, এই সেতু দিয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ছাড়াও কৃষক, শ্রমিক ও বিভিন্ন পেশাজীবীসহ ২৫ হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে। তবে সরু সেতু হওয়ায় গ্রামের কেউ যদি অসুস্থ হয়ে যায় অ্যাম্বুলেন্স বা মাইক্রোবাস যেতে পারে না। ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুর ওপর দিয়ে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

    শাইলবাড়ী এলাকার বাসিন্দা স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক এশরামুল হক বলেন, ‘ব্রিজটা দিয়ে চলাচল করা যায় না। রিকসা-ভ্যান, মাইক্রো, অটো চলে না। ব্রিজ কেন বানাইছে? একদম চিকন।’

    ডাংগাপাড়া গ্রামের লোকমান হোসেন বলেন, ‘ব্রিজোত উঠলে নড়ে কখন যে ভাঙ্গি পড়ি যায় আল্লায় জানে। ব্রিজের রেলিংগুলা ভাঙ্গি গেইছে। খুঁটিগুলাতো ফাটি গেইছে।’

    স্থানীয় সংবাদকর্মী দিপক রায় বলেন, সেতুটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও মাদরাসার ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা। আশপাশের ১০ গ্রামের কৃষকরা ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে হাট-বাজারে নিতে পারছেন না। ভারী যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, ঝুঁকির কারণে ভ্যান ও অটোরিকশাও সেতুটি পার হতে চায় না। ফলে কৃষকদের বিকল্প দীর্ঘপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে পরিবহন খরচ।

    প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির কোনো কার্যকর সংস্কার হয়নি। ওই সেতুর দৈর্ঘ্য ৯০ ফুট, প্রস্থ সাড়ে ৩ ফুট। সেতু সংস্কার বা কীভাবে নতুন সেতু নির্মাণ করা যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে বলেও জানা গেছে।

    এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী নাফিউর রহমান বলেন, সেতুটির জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুনর্নির্মাণের জন্য জেলা পর্যায়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট ও নতুন প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তবে কবে নাগাদ এটি হতে পারে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

  • জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিয়ে‌ছেন বাংলা‌দে‌শের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। আগামী এক বছর এ দায়িত্ব পালন করবেন তি‌নি।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তি পর্বে খ‌লিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন।

    বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তি পর্বের পর ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে শপথ নেন খ‌লিলুর রহমান। তিনি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

    চলতি বছরের ২ জুন গোপন ব্যালটে খলিলুর রহমান এই পদে নির্বাচিত হন। তিনি পান ৯৯টি ভোট। অন্যদিকে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকুরিস পেয়েছিলেন ৯১টি ভোট।

    জাতিসংঘের আঞ্চলিক পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থা অনুযায়ী এবারের সভাপতি পদটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য সংরক্ষিত ছিল।

  • কমলো স্বর্ণ ও রৌপ্যের দাম

    কমলো স্বর্ণ ও রৌপ্যের দাম

    দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। এক দফা বাড়ানোর পর গত কয়েক দিনে টানা কমার ধারাবাহিকতায় এবার ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ৯০ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে রৌপ্যের দামও।

    বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দেশের বাজারে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণ ও রৌপ্য অলংকারের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

    বুধবার সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-এর সভায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ২০ হাজার ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম হিসাবে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৬০ টাকা।

    এছাড়া ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ১৯ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৬ হাজার ৪৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ১৩ হাজার ৪৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    তবে অলংকারের নকশা অনুযায়ী এর সঙ্গে মজুরি যুক্ত হবে।

    স্বর্ণের পাশাপাশি রৌপ্যের দামও কমিয়েছে বাজুস। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রৌপ্যের দাম ৪৪০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম রৌপ্যের দাম ২৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৮৪৭ টাকা কমিয়েছিল বাজুস। ওই দফায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০৭ টাকা। তখন ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ছিল ২০ হাজার ১৬০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ১৯ হাজার ২৫৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৬ হাজার ৫৩৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১৩ হাজার ৫০৫ টাকা।

    এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৩৫৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। ওই সময় প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০ হাজার ৩৫০ টাকা। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের শুরুতে এক দফা বাড়ানোর পর আবারও কমলো স্বর্ণের দাম।

    এর আগে ২ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তার আগে ৩১ আগস্ট একই মানের স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমানো হয়।

    এছাড়া ২৯ আগস্ট ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমেছিল ৭ হাজার ১১৫ টাকা।

    ফলে আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে কয়েক দফা স্বর্ণের দাম কমার পর সেপ্টেম্বরের শুরুতে এক দফা বাড়ানো এবং আবারও কমানোর সিদ্ধান্ত নিল বাজুস।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রৌপ্য অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

    অলংকার বিনিময়ের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দেওয়ার পর ১২ শতাংশ এবং পুরোনো স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।

    পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত এই দাম কার্যকর থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

  • ভোজ্যতেলের ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর

    ভোজ্যতেলের ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর

    বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৫ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদার ৯০ শতাংশই মেটাতে হচ্ছে আমদানি করা সয়াবিন ও পাম তেল দিয়ে, যা প্রতিবছর দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা শুষে নিচ্ছে। দেশে আজ অবধি যতরকমের ভোজ্যতেল ব্যবহার করা হচ্ছে, তার কাঁচামালের কোনোটিতেই বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তবে দেশে উৎপাদিত ধানের কুঁড়া থেকে বছরে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টন স্বাস্থ্যকর ‘রাইস ব্র্যান অয়েল’ উৎপাদনের সুবর্ণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেড় দশকেও তা সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারেনি। এর বিপরীতে সয়াবিন তেল এক অপরিহার্য উপাদান হয়ে উঠেছে। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে রাতের ডিনার—সবকিছুতেই এর অবাধ ব্যবহার।

    বাজারে বহুল ব্যবহৃত ডাবল রিফাইনড বা ফর্টিফাইড সয়াবিন তেলের মান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আছে অনেক ধরনের প্রশ্ন। ফলে দেশি কাঁচামালের বিপুল সম্ভাবনা কাজে না লাগিয়ে প্রতি বছর বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে আমদানিনির্ভর হয়েই মেটাতে হচ্ছে ভোজ্যতেলের চাহিদা। খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও স্থানীয় বাজারে সরবরাহ হচ্ছে খুবই কম। ফলে একদিকে কারখানাগুলোর বড় অংশের সক্ষমতা অব্যবহৃত থাকছে, অন্যদিকে ভোক্তার রান্নাঘরেও পণ্যটি সহজলভ্য হচ্ছে না।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে বছরে প্রায় ২৫ লাখ টন ভোজ্যতেল প্রয়োজন হয়। এর প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমদানি করা অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেল পরিশোধনের মাধ্যমে। রাইস ব্র্যানসহ দেশি উৎসের তেলের অংশ তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয়-ব্যয় জরিপের তথ্যমতে, ২০২২ সালে মাথাপিছু ভোজ্যতেল গ্রহণের হার ছিল দিনে প্রায় ৩১ গ্রাম, যা ২০১৬ সালে ছিল প্রায় ২৭ গ্রাম। ফলে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবছর মানুষের মধ্যে ভোজ্যতেল গ্রহণ বাড়ছে।

    সাম্প্রতিক আমদানি তথ্যও এই চিত্র স্পষ্ট করে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে ২২ লাখ ২৩ হাজার টন সয়াবিন ও পাম তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও অন্যান্য খরচ যুক্ত করলে মোট আমদানি মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকায়। অন্যদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টন সয়াবিন ও পাম তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৩১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। শুল্ক ও ভ্যাটসহ মোট ব্যয় ছিল প্রায় ৩৪ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা।

    গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ধানের কুঁড়া থেকে তৈরি রাইস ব্র্যান অয়েল বর্তমান বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর ভোজ্যতেল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও) এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এএইচএ) নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী এতে স্যাচুরেটেড, মনো-আনস্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের ভারসাম্য বজায় থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিউট্রাসিউটিক্যাল বা ‘ওষুধের বিকল্প খাদ্য’ হিসেবে বিবেচিত এই তেলে ট্রান্সফ্যাট না থাকায় এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই কমপ্লেক্স, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও গামা-ওরিজানল যুক্ত থাকায় এটি রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, ফ্রি-রেডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) তথ্যমতে, অলিভ অয়েলের পরই এই তেলের পুষ্টিগুণ সবচেয়ে বেশি। এছাড়া নিউ ইয়র্কের রোচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাতেও ক্যানসার প্রতিরোধ ও মেদ নিয়ন্ত্রণে রাইস ব্র্যান অয়েলের বিশেষ ভূমিকার বিষয়টি উঠে এসেছে। অ্যালার্জিমুক্ত ও হালকা স্বাদের এ তেলে রান্নার সময় অন্যান্য তেলের তুলনায় ২০ শতাংশ কম শোষণ ঘটে, যার ফলে খাবার কম ক্যালরিযুক্ত হয়।

    সরকারি ক্রয় বাড়ছে

    সরকারি পর্যায়ে রাইস ব্র্যান অয়েলের চাহিদা বাড়ছে। চলতি বছর সরকার ও টিসিবির জন্য একাধিক দফায় এ তেল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মে মাসে সরকারি ক্রয় কমিটি এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্র্যান অয়েল কেনার অনুমোদন দেয়। এর ব্যয় ধরা হয় ১৭৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর আগে মার্চে আরো বড় পরিমাণ কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

    জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে এক কোটি ৮০ লাখ লিটার রাইস ব্র্যান অয়েল সংগ্রহের সরকারি সিদ্ধান্তের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি ক্রয়ের এই প্রবণতা দেখাচ্ছে পণ্যটির একটি নিশ্চিত বাজার রয়েছে। কিন্তু সাধারণ ভোক্তার দৈনন্দিন বাজারে স্থায়ী চাহিদা তৈরি না হওয়ায় উৎপাদকরা বড় পরিসরে উৎপাদনে ঝুঁকি নিতে পারছেন না।

    মানুষ কী খাচ্ছে

    বর্তমান খাদ্যাভ্যাসে সয়াবিন তেল রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত হয়েছে। দিনের শুরুতে নাশতা থেকে শুরু করে দুপুর ও রাতের প্রায় প্রতিটি রান্নাতেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই তেল। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাকেটজাত অধিকাংশ সয়াবিন তেলই ‘ডাবল রিফাইনড’ বা ‘ফর্টিফাইড’। এগুলো দেখতে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও পাতলা। তেল যত বেশি স্বচ্ছ হবে, তাতে রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাতকরণ তত বেশি হচ্ছে। প্রাকৃতিক তেল সাধারণত একটু গাঢ় ও গন্ধযুক্ত হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণার তথ্যানুযায়ী, সয়াবিন তেলের অতিরিক্ত ও অসচেতন ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। যার অন্যতম প্রধান কারণ এতে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বহুগুণ বেশি ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ২০২১ সালের গবেষণায় দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত সয়াবিন তেলের প্রায় ৬৭ শতাংশ নমুনায় সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড আছে। এ বিষয়ে গবেষণা দলের প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নাজমা শাহিন (এলপিআর) আমার দেশকে বলেন, গবেষণায় দেশের বাজারে পাওয়া সয়াবিন তেলের মান নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনার আলোকে সরকার ভোজ্যতেলে ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা নির্ধারণ করেছে। উৎপাদনের সময় নজরদারি ও তদারকি জোরদার করলে ভোজ্যতেলে ট্রান্সফ্যাটের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

    বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালে খাদ্যদ্রব্যে ‘ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা’ প্রণয়ন করে, যা ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এই প্রবিধানমালা অনুযায়ী খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা দুই শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় সয়াবিন তেলের নমুনায় এ মাত্রার চেয়ে দুই থেকে চারগুণ বেশি ট্রান্সফ্যাট পাওয়া গেছে। এছাড়া সয়াবিন তেল শোধনের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি এবং বাসাবাড়ি বা রেস্তোরাঁয় বারবার একই তেল গরম করে ভাজাপোড়ার কাজে (পোড়া তেল) ব্যবহারের ফলে এই ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা আরো আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রান্সফ্যাট হলো চর্বির এমন এক ক্ষতিকর রূপÑযা রক্তের উপকারী বা ভালো কোলেস্টেরলের (এইচডিএল) মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে দেয় এবং একইসঙ্গে ক্ষতিকর বা খারাপ কোলেস্টেরলের (এলডিএল) মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রক্তে এই খারাপ কোলেস্টেরল জমা হয়ে রক্তনালীকে ব্লক করে দেয়, যা সরাসরি কার্ডিওভাসকুলার জটিলতা সৃষ্টি করে।

    হৃদরোগের পরিসংখ্যান ও মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে প্রায় দুই লাখ ২৪ হাজার মানুষ হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক ও অন্যান্য হার্ট ডিজিজ) আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বর্তমানে দেশে অকাল মৃত্যুর সবচেয়ে বড় একক কারণ হলো হৃদরোগ, আর সয়াবিন তেলে অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি এর অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন তাদের হিসাবে বাংলাদেশে প্রতিবছর দুই লাখ পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ হৃদরোগে মারা যান। অর্থাৎ, দৈনিক ৫৬২ জনের মৃত্যু হচ্ছে হৃদরোগে। সয়াবিন তেল পরিশোধন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং একাধিকবার একই তেল ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে হৃদরোগের এ মারাত্মক ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয় বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন।

    আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ

    দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে আমদানির পরিমাণ কমাতে রাইস ব্র্যান অয়েল গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। কারণ, এর প্রধান কাঁচামাল দেশেই উৎপাদিত ধানের উপজাত। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি চালকল, কৃষক ও স্থানীয় শিল্পের জন্যও অতিরিক্ত মূল্য সংযোজনের সুযোগ তৈরি হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাইস ব্র্যান অয়েলের সম্ভাবনা বাস্তবে কাজে লাগাতে হলে প্রথমে কাঁচামাল সংগ্রহের কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। এরপর কারখানার সক্ষমতা ব্যবহার, উৎপাদন ব্যয় কমানো, ছোট প্যাকের সরবরাহ বাড়ানো এবং খুচরো বাজারে সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা দরকার। তাদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভোক্তার আস্থা অর্জন।

    রাইস ব্র্যান অয়েল স্বাস্থ্যকর—এমন প্রচারের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক ও যাচাইযোগ্য তথ্য দিতে হবে। কোনো তেলকে অযথা ‘সবচেয়ে ভালো’ কিংবা অন্যটিকে ‘ক্ষতিকর’ হিসেবে উপস্থাপন না করে পুষ্টি ও ব্যবহারের সঠিক তথ্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে। কারণ, দেশের কয়েক কোটি মানুষের রান্নাঘরের তেলের প্রশ্নটি শুধু একটি শিল্পের বাজার তৈরির বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িত খাদ্যনিরাপত্তা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কৃষি উপজাতের ব্যবহার; সর্বোপরি ভোক্তার আস্থা।

  • ব্যাংক খাতের মাফিয়া নজরুল, ৩৫ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন যেভাবে

    ব্যাংক খাতের মাফিয়া নজরুল, ৩৫ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন যেভাবে

    নজরুল ইসলাম মজুমদার। নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘসময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিতি পান তিনি। বছরের পর বছর বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যানের পদও ধরে রাখেন। হাসিনাসহ তার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যোগাযোগের বিষয়টি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশের ব্যাংক খাতের অঘোষিত মাফিয়া হয়ে উঠেন নজরুল। ঋণের নামে দেশের ২৬টি ব্যাংক থেকে লুটে নেন প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। যার বড় অংশ দেশে বিনিয়োগ না করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়। লুটের সেই বিদেশে সাম্রাজ্য গড়েছেন তিনি।

    ব্যাংক মালিকদের সংগঠনের শীর্ষ পদে বসে ব্যাংক খাতে যে প্রভাব তৈরি করেছিলেন, সেটিই হয়ে ওঠে তার অন্যতম বড় শক্তি। ব্যাংক মালিকদের ওপর প্রভাব, সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যোগাযোগের অভিযোগ বারবার এসেছে বিভিন্ন অনুসন্ধানে। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও তহবিলের নামে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে ব্যাংক খাতের বড় অংশে তার প্রভাব ছিল দৃশ্যমান। ব্যাংক খাতের অনেকে এ বিষয়ে বলেন, বাস্তবে বলতে গেলে তিনি ছিলেন ওই সময় ব্যাংক সেক্টরের মূর্তিমান আতঙ্ক। প্রকাশ্যে না বললেও বেশির ভাগ ব্যাংকের মালিক আড়ালে তাকে ‘ব্যাংক চাঁদাবাজ’ হিসাবে সম্বোধন করতেন।

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে- যুক্তরাজ্য, ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ আইল অব ম্যান, জার্সি দ্বীপ ও হংকংসহ বিভিন্ন দেশে গেছে সেই অর্থের একটি বড় অংশ। এছাড়া বিদেশে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন কোম্পানি, কেনা হয়েছে বিপুল সম্পদ এবং খোলা হয়েছে ব্যাংক হিসাবও। এবার এসব চাঞ্চল্যকর তথ্যের অনেকাংশ জানতে পেরেছে দুদক। জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার স্ত্রীর প্রকৃত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে থাকা ৫৩ লাখ পাউন্ড জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।

    আবেদনে বলা হয়, নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীরা বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে দেশের ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। এসব অর্থের একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। পাচার করা অর্থের গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে উল্লেখ দেশ ও বিশেষ স্থানের নাম।

    দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে জানায়, নজরুল ইসলাম মজুমদার ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ বের করে বিদেশে নেওয়ার জন্য একাধিক কৌশল ব্যবহার করেছেন। ব্যাংকঋণ, বাণিজ্যিক লেনদেন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের তথ্য পেয়েছে দুদক। পরে এসব অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে থাকা কোম্পানি ও ব্যাংক হিসাবে গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষায়-টাকা সরানো ও পাচারের এই জটিল কৌশলে নজরুল যেন ‘ম্যাজিক মাস্টার’।

    জার্সিতে ৫৩ লাখ পাউন্ড : দুদকের অনুসন্ধানে নজরুলের বিদেশি সম্পদের যে হিসাব সামনে এসেছে, তার অন্যতম হলো ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড নামের আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আইল অব ম্যানের ঠিকানায় নিবন্ধিত এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালের ১৭ মে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ওই বছরের ২ অক্টোবর জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানটির নামে হিসাব খোলা হয়। গত ৬ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, ওই হিসাবে জমা ছিল ৫ দশমিক ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ৫৩ লাখ পাউন্ড। দুদকের অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত মালিকানা নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার স্ত্রী নাসরিন ইসলাম।

    কিন্তু এসব অর্থ সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা এবং সম্পদ হস্তান্তর ঠেকাতে আদালতে এসব অর্থ ও সম্পদ জব্দের আবেদন করে দুদক। আদালত জার্সির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব এবং ওই প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    ঋণের জাল ২৬ ব্যাংকে : নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ বের করে নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নাসা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণের তথ্য উঠে এসেছে দুদকের অনুসন্ধানে। একাধিক ব্যাংকে একই কায়দায় ঋণ নেওয়া হয়েছে। কোথাও গ্রুপের এক প্রতিষ্ঠানের নামে, কোথাও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নামে। আবার কোথাও বিশেষ সুবিধায় ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এভাবে এক ব্যাংকের টাকা দিয়ে আরেক ব্যাংকের দায় সামাল দেওয়ার ব্যবস্থাও চলেছে বলে সংশ্লিষ্ট নথি ও অনুসন্ধানে উঠে আসে। একটি ব্যাংক থেকে নাসা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে দুই হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়া হয়। যে তথ্য এর আগে যুগান্তরে প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৯৯৮ কোটি টাকা বিশেষ বিবেচনায় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনেও এসব ঋণ নিয়ে নানা অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। নাসা গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও সুতা ব্যবসার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে ঋণের বড় অংশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর তালিকায় রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি উভয় ধরনের ব্যাংকই রয়েছে। দুদকের সর্বশেষ অনুসন্ধানে এই ঋণের হিসাব গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকায়।

    ব্যাংকের টাকা লুটে বিদেশে সম্পদ : অভিযোগের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো-ব্যাংক থেকে নেওয়া বিপুল অর্থের একটি অংশ দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের বিভিন্ন পথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসাকে ব্যবহার করে অর্থ সরানোর অভিযোগও এসেছে। পণ্যের মূল্য বেশি দেখিয়ে বিদেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানো, রপ্তানি পণ্যের মূল্য দেশে না এনে বিদেশে রেখে দেওয়া এবং কম মূল্য দেখিয়ে বাকি অর্থ অন্য পথে সরিয়ে নেওয়ার মতো কৌশলের তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।

    অর্থ পাচারের আরেকটি পথ হিসাবে উঠে এসেছে বিদেশি কোম্পানি। যুক্তরাজ্য, হংকং, আইল অব ম্যান ও জার্সিতে নজরুলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক কোম্পানির তথ্য দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া যায়। বিদেশে এসব কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও সম্পদ কেনার তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ অসম্ভব: রাষ্ট্রপতি

    জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ অসম্ভব: রাষ্ট্রপতি

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন ও সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখে অশ্রুসিক্ত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি এবং গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি। রাষ্ট্র কখনোই এই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন আর কোনোদিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে। এ সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

    বুধবার বেলা ১১টায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাদুঘরে পৌঁছালে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি এবং স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

    দর্শনার্থী টিকিট নিয়ে জুলাই জাদুঘরে প্রবেশ করে লংওয়াক-টু-ডেমোক্রেসির (দীর্ঘ গণতান্ত্রিক যাত্রা) ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র অবলোকন করেন রাষ্ট্রপতি। দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে শহীদদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘর ঘুরে দেখেন তিনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন রাষ্ট্রপতি।

    এ ছাড়াও জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনসামগ্রী, জোরপূর্বক গুমের সেকশনগুলো ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় শহীদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও শিক্ষার্থী-জনতার সংগ্রামের অংশগুলো ঘুরে দেখেন তিনি। সবশেষ জুলাই জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম দেখে রাষ্ট্রপতি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরিদর্শন শেষে জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি।

    তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    রাষ্ট্রপতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের ত্যাগ ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

    এ সময় জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন।পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতিকে জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্রের বিষয়ে ব্রিফ করেন জুলাই জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।

  • উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে কঠোর সরকার

    উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে কঠোর সরকার

    সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা রোধ করতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এসব সমস্যা নিরসনে প্রকল্প প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত নিবিড় তদারকি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

    বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    অধিবেশনে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান- বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে সরকারের নির্দেশনা আছে কি না এবং থাকলে সেগুলো বাস্তবায়নে মনিটরিংয়ের কী পরিকল্পনা রয়েছে।

    এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটি মাত্র কারণে হয় না। বরং প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যা তৈরি করে। “

    তিনি আরও বলেন, বিষয়গুলো বর্তমান সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দুর্বল ফিজিবিলিটি স্টাডি, ব্যয়ের সঠিক প্রাক্কলন না হওয়া, প্রকল্প এলাকা নির্বাচনে দুর্বলতা, ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, যথাসময়ে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব।

    সমস্যা নিরসনে সরকারের ১৩ দফা পদক্ষেপ:
    প্রকল্পের এই দীর্ঘসূত্রিতা ও অপচয় রোধে সরকারের নেওয়া উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

    সেগুলো হলো, ১. নতুন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) প্রণয়ন নিশ্চিত করা। ২. প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করা।৩. প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৪. চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন। ৫. নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি বৃদ্ধি করা। ৬. ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর দ্রুত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা। ৭. নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না হলে, বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ নিরূপণ করে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ। ৮. যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলোর উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন বা চলমান রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ। ৯. বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণ না করে সমন্বিত কর্মসূচির অধীনে গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা। ১০. সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপি (e-GP) ব্যবহারের সম্প্রসারণ। ১১. প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান এবং দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ করা হচ্ছে। ১২. সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান। ১৩. সরকারি ক্রয় অধিকতর প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহিতামূলক করতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫’ হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ: সারজিস আলম

    আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ: সারজিস আলম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ খুনি, স্বৈরাচারী ও গণহত্যাকারী। আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে এবং ভারতে গিয়ে তাদের দাফন হয়েছে, সুতরাং এই চ্যাপ্টার ক্লোজ। তাই বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো তুলনা করা যাবে না।

    বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনসিপির ভোলা জেলা শাখা আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    সারজিস আলম বলেন, বিএনপিকে নিয়ে আমাদের কঠোর আলোচনা ও সমালোচনা থাকবে। তারা চাঁদাবাজি বা জমি দখল করলে আমরা সেটাও বলব, কিন্তু বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা করব না।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপির এই ছয় মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে আমরা মোটেও সন্তুষ্ট না। আমরা মনে করি তারা আস্তে আস্তে লাইনচ্যুত হয়ে যাচ্ছে।তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে, আমরা দেখতেছি প্রত্যেকটা জায়গায় তারা দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি করছে, চাকরিতে কেউ রিটেনের টিকলে তাদের কোঠায় চাকরি দেয়া শুরু করেছে। আমরা মনে করি এটা হচ্ছে তাদের পুরনো কায়দা, এখান থেকে তাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা এটা যৌক্তিক সমালোচনা করবো যদি তারা এই জায়গা থেকে বের হয়ে না আসে তাহলে আমরা রাজপথে তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি পালন করবো। পাশাপাশি তারা গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন না করে তাহলে পাঁচ বছর তাদেরকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

    এর আগে তিনি, সমন্বয় সভায় তাদের দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে দল পরিচালনার জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন কমিটি করার আহ্বান জানান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী সালমান, কেন্দ্রীয় সদস্য রায়হানুল ইসলাম ও ভোলা জেলা সভাপতি মাকসুদুর রহমানসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

  • কোটচাঁদপুরে ভুয়া উপ-পরিদর্শক আটক

    কোটচাঁদপুরে ভুয়া উপ-পরিদর্শক আটক

    খালেদুর, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) পরিচয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ানোর অভিযোগে রাকিবুল হাসান (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের তালসার বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়।
    আটক রাকিবুল হাসান উপজেলার শালকোপা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মো. মহসিন আলীর ছেলে।
    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুল হাসান এর আগেও তালসার বাজারে গিয়ে নিজেকে এনএসআইয়ের উপ-পরিদর্শক হিসেবে পরিচয় দিতেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে রূঢ় আচরণ করতেন এবং সুযোগ বুঝে অনৈতিক সুবিধা নিতেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
    মঙ্গলবারও একইভাবে নিজেকে এনএসআই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা বিষয়টি তালসার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জকে জানান।
    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়া গেলে পুলিশের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
    স্থানীয়রা জানান, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একটি গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত কিংবা হয়রানি করা হলে তা উদ্বেগের বিষয়। আটক ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয়, তিনি কী উদ্দেশ্যে এনএসআইয়ের পরিচয় ব্যবহার করতেন এবং কারও কাছ থেকে কোনো অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
    তবে রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
    পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার পরিচয় ও কর্মকাণ্ড যাচাইসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর হিন্দু শিক্ষার্থী আটক

    ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর হিন্দু শিক্ষার্থী আটক

    পাবনা শহরের ইসকন মন্দিরে প্রতিমা ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগে প্রান্থ কুমার দাস (২৫) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।

    গত সোমবার সকালে পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসংলগ্ন মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। পরে মন্দির কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।


    প্রান্থ কুমার দাস পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সুধিরপুর এলাকায়। তিনি প্রশান্ত চন্দ্র ম-লের ছেলে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


    মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে মন্দির খোলার পর প্রান্থ সেখানে প্রবেশ করে মন্দিরে ভাঙচুর করেন। বিষয়টি টের পেয়ে মন্দিরের লোকজন তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করেন। আটকের পর মন্দির কর্তৃপক্ষের লোকজন তাকে মারধর করেন বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।


    পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, প্রান্থ মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে জানো গেছে। মন্দিরে প্রবেশের পর তার মানসিক সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় তিনি ভাঙচুর শুরু করেন বলে পুলিশের দাবি। তবে তার মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে কোনো চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি বা বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।


    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় প্রান্থের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। মামলায় কী কী ধারা দেওয়া হয়েছে এবং মন্দিরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে পাবনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ভাঙচুরের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সময় ওই শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • দুই মাসে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে ৭.৬৭ শতাংশ

    দুই মাসে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে ৭.৬৭ শতাংশ

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রতিবেশী ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি বেড়েছে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এতে দেশটির বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি ভারতে রফতানি আরো বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

    রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক রফতানি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে ভারতে বাংলাদেশ ৩৩ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩১ কোটি ১৩ লাখ ডলার।

    অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে দুই কোটি ৩৯ লাখ ডলার।

    ভারতের বাজারে রফতানি বাড়ার এই প্রবণতা দেশের সামগ্রিক রফতানি আয় বৃদ্ধির সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের মোট পণ্য রফতানি প্রায় ৯১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশের জন্য ভারত গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বাজারগুলোর একটি। ফলে দেশটিতে রফতানি বাড়ার এই প্রবণতা দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ইপিবি’র তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসেই ভারতে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

    ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারেও রফতানি আয় বেড়েছে। প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে ১৮৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্পেনে রফতানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

    তবে ভারতের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি ছিল প্রায় ১৭৫ কোটি ডলার। ফলে ওই অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯২১ কোটি ডলার।

    এই বড় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভারতের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের রফতানি বাড়ানোর সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের জন্য ভারতের বিশাল ভোক্তা বাজারে আরো বেশি প্রবেশাধিকার তৈরি করা গেলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার সুযোগ রয়েছে।

    এ সময়ে যুক্তরাজ্যে রফতানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ, পরিমাণ ৯৭ কোটি ৪ লাখ ডলার। নেদারল্যান্ডসে রফতানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ, পরিমাণ ৪৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। কানাডায় রফতানি ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৭ কোটি ৯৩ লাখ ডলার।

    উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে বাংলাদেশের রফতানি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। দেশটিতে রফতানি ৮৭ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

    এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে রফতানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, পরিমাণ ৭ কোটি ৪২ লাখ ডলার। মেক্সিকোতে রফতানি ১৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

    সুইডেনে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে ১২ দশমিক ০৯ শতাংশ, পরিমাণ ১৩ কোটি ৪ লাখ ডলার। অস্ট্রেলিয়ায় রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা ১৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    সামগ্রিক রফতানি চিত্রও আগস্টে বেশ ভালো ছিল। ওই মাসে বাংলাদেশ ৪৪৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে, যা গত বছরের আগস্টের ৩৯২ কোটি ডলারের তুলনায় ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।

    বড় বাজার, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে রফতানিকারকদের কাছে ভারতের বাজারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সাম্প্রতিক রফতানি প্রবৃদ্ধি বলছে, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি ভারতসহ আঞ্চলিক ও উদীয়মান বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

    বিশেষ করে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি প্লাস্টিক পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্যসহ অপ্রচলিত পণ্যের রফতানি বাড়াতে ভারতের বাজারকে আরো বেশি কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভারতের বাজারে রফতানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বাজারে প্রবেশ এবং পণ্যের বহুমুখীকরণ অব্যাহত রাখতে পারলে বাংলাদেশের সামগ্রিক রফতানি আয় আরো বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সাথে ভারতের সাথে বিদ্যমান বড় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেও রফতানি বৃদ্ধির এই প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • রিজার্ভ বিনিয়োগে তিন বছরে সর্বোচ্চ আয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

    রিজার্ভ বিনিয়োগে তিন বছরে সর্বোচ্চ আয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিনিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় বাড়ছে। গত অর্থবছর রিজার্ভের অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি সুদ আয় করেছে, যা গত তিন অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে গত অর্থবছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিট মুনাফাও বেড়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষামূলক সরকারি বন্ড, সিকিউরিটিজ ও আমানতে বিনিয়োগ করা থাকে। বৈশ্বিক বাজারে কুপন রেট ও সুদের হার বেশি থাকায় বৈদেশিক রিজার্ভের এই বিনিয়োগ থেকে আয় ও রিটার্নের পরিমাণ বেড়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রায় থাকা বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ থেকে মোট সুদ আয় হয়েছে ১২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক বন্ড ও ইউএস ট্রেজারি নোট থেকে ৫ হাজার ৬১১ কোটি টাকার সুদ আয় হয়েছে। এছাড়া বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা ঋণ ও আমানত থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে দেওয়া ঋণ থেকে সুদ আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা। আর বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা স্বল্পমেয়াদি আমানত থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। অন্যান্য বৈদেশিক সম্পদ থেকে এসেছে আরো প্রায় ৮৭১ কোটি টাকা।

    ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার আর্থিক সম্পদ থেকে মোট আয় ছিল ৭ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সুদ আয়ই ছিল প্রায় ৭ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। তার আগের অর্থবছর ২০২৩–২৪-এ এ খাতের মোট আয় ছিল ৬ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা।

    বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ রয়েছে ৩৬.৩৮ বিলিয়ন ডলার। আর গ্রস রিজার্ভ রয়েছে ৩১.৪৭ বিলিয়ন ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ বিনিয়োগের মাধ্যমে শুধু মুনাফা করে না, সরকার ও দেশের ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দিয়েও আয় করে। গত দুই বছর ধরে দেশে উচ্চ সুদহার বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার করেছে। পাশাপাশি সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোও বিপুল পরিমাণ তারল্য সহায়তা নিয়েছে। ফলে গত অর্থবছর অভ্যন্তরীণ খাত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় হয়েছে ২২ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। যদিও ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয়ের পরিমাণ আরো বেশি ছিল। ওই অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে আয় হয়েছিল ২৪ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা।

    গত অর্থবছর অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে সুদ আয় খাত থেকে। তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে টাকা ধার দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আয় করেছে ২১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। কমিশন ও ডিসকাউন্ট আয় হয়েছে ৪৩১ কোটি টাকা। লভ্যাংশ পেয়েছে ২০০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য আয় হয়েছে ৪৭৫ কোটি টাকা।

    সব মিলিয়ে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট পরিচালন আয় বা মোট মুনাফা হয়েছে ৩৫ হাজার ১৬ কোটি টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। ওই সময় মোট মুনাফা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৪০ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। এর মধ্যে নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।

    জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট আয়ের ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে। এর মধ্যে অর্থবছরের মধ্যবর্তী সময়ে ১০ হাজার কোটি টাকা এবং এখন বাকি ১৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক গত অর্থবছর পরিচালনাসহ বিভিন্ন কাজে মোট ৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা খরচ করেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় দুই বছর ধরে নীতিসুদহার ১০ শতাংশে ছিল। গত অর্থবছরের পুরো সময় তা বহাল ছিল। এ কারণে ব্যাংকগুলোকে উচ্চ সুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার করতে হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ আয় বেড়েছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল কাজ মুনাফা করা নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ব্যাংক খাতের তদারকি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এর মূল দায়িত্ব। অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের দুর্দশার কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা এতটা বেড়েছে। তবে মুনাফা করতে গিয়ে কোনোভাবেই যেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়, সেটি নজরে রাখতে হবে।

    জানা গেছে, অর্থনীতিতে মন্দাভাব বিরাজ করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চাঙা ছিল। ব্যাংক খাতে তারল্যসংকট থাকায় বিভিন্ন ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগের চেয়ে বেশি টাকা ধার করেছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ আয়ও বেড়েছে। আবার রিজার্ভের অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করা থাকায় সেখান থেকেও ভালো মুনাফা হয়েছে। এসব কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে।

  • উৎপাদন-সেবায় ধীরগতি, আগস্টে কমল পিএমআই

    উৎপাদন-সেবায় ধীরগতি, আগস্টে কমল পিএমআই

    বাংলাদেশ পারচেজিং ম্যানেজার্স’ ইনডেক্সের (পিএমআই) আগস্ট মাসের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্ট মাসে বাংলাদেশের পিএমআই জুলাই মাসের তুলনায় ৭.৯ পয়েন্ট কমে ৪৯.৯-এ দাঁড়িয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সামান্য সংকোচনকে নির্দেশ করে। এই পতনের প্রধান কারণ ছিল—উৎপাদন ও সেবা খাতের কর্মকাণ্ডে মন্থরতা। উভয় খাতেই সামান্য সংকোচন দেখা গেছে। তবে এই সময়ে উৎপাদন খাতে তীব্র পতন দেখা গেছে। অন্যদিকে, কৃষি খাতের সম্প্রসারণ অব্যাহত ছিল এবং নির্মাণ খাত পুনরায় সম্প্রসারণের ধারায় ফিরে এসেছে।

    মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) মঙ্গলবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পিএমআই প্রকাশের লক্ষ্য হলো—দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সময়োপযোগী ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া, যাতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও নীতি-নির্ধারকেরা অবহিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্ট মাসে কৃষি খাত টানা দ্বাদশ মাসে সম্প্রসারণ রেকর্ড করেছে এবং খাতটির পিএমআই ১ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬.৫-এ উন্নীত হয়েছে। এর কারণ, নতুন ব্যবসা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের ধারায় ছিল। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানও বেড়েছে। উপকরণ ব্যয় শক্তিশালীভাবে বৃদ্ধি অব্যাহত রাখলেও বৃদ্ধির হার সামান্য কমেছে। অন্যদিকে, অর্ডার ব্যাকলগস বা অসম্পন্ন অর্ডারের সূচক সংকোচনের ধারায় রয়ে গেছে।

    উৎপাদন খাত ১৮.০ পয়েন্টের তীব্র পতনের মাধ্যমে ৪৭.৪-এ নেমে সংকোচনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নতুন অর্ডার, নতুন রপ্তানি অর্ডার, উৎপাদন, উপকরণ ক্রয়ের মজুত, আমদানি এবং কর্মসংস্থান—সবগুলো সূচকই সংকোচনের পর্যায়ে ফিরে গেছে। অন্যদিকে, উপকরণের দাম দ্রুততর হারে বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। অর্ডার ব্যাকলগস সংকোচনের ধারায় থাকলেও এর সংকোচনের হার কমেছে এবং সরবরাহকারীদের সরবরাহের সময় অপরিবর্তিত ছিল।

    নির্মাণ খাত আগস্ট মাসে ৫২.৪-এ উন্নীত হয়ে পুনরায় সম্প্রসারণের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নির্মাণ কার্যক্রম এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের পর্যায়ে ফিরে এসেছে, অন্যদিকে নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রে সংকোচনের হার কমেছে। একই সময়ে উপকরণ ব্যয় দ্রুততর হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, আর অসম্পন্ন অর্ডার সংকোচনের পর্যায়ে চলে গেছে।

    সেবা খাত ২২ মাস পর প্রথমবারের মতো সংকোচনের পর্যায়ে প্রবেশ করে আগস্টে ৪৯.২-এ নেমে এসেছে, যা জুলাইয়ের তুলনায় ৬.৮ পয়েন্ট কম। নতুন ব্যবসা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলেও উভয় ক্ষেত্রেই সম্প্রসারণের হার কমেছে। কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য সংকোচন হয়েছে। উপকরণ ব্যয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এর হার কিছুটা কমেছে এবং অসম্পন্ন অর্ডার সংকোচনের হারও কমেছে।

    প্রতিবেদনকালীন উত্তরদাতাদের মতামতে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক হলেও ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা গেছে। অনেক উত্তরদাতা বর্তমান ব্যবসায়িক অবস্থা সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং সামনের মাসগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতির আশা প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে, ব্যবসার ব্যয় কমানো, আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং আরও সহায়ক নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।

    উৎপাদন খাতের উত্তরদাতারা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থপ্রাপ্তিতে জটিলতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি এবং তৈরি পোশাক খাতে অর্ডার কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসার গতি মন্থর হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তারা জ্বালানির মূল্য ও উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সেবা খাতের উত্তরদাতারা আর্থিক সহায়তা, বিদ্যুৎ বিল ও পরিচালন ব্যয় কমানো এবং আয়কর ও অন্যান্য করের চাপ কমানোর দাবি জানিয়েছেন। কৃষি খাতের উত্তরদাতারাও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের মূল্য কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

    সামগ্রিকভাবে, উত্তরদাতাদের মতামত ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে একটি সতর্ক কিন্তু ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহের উন্নতি, সহজতর অর্থায়ন, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসাবান্ধব কর ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়িক আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুনরুদ্ধারের গতি বাড়বে।

    ফিউচার বিজনেস ইনডেক্স বা ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সূচক অনুযায়ী, সব খাতেই ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদের মাত্রায় সামান্য পতন ঘটেছে।

    পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘আগস্টের পিএমআই ৪৯.৯-এ অবস্থান করায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সামগ্রিকভাবে নিরপেক্ষ সীমার কাছাকাছি ছিল, যদিও উৎপাদন ও সেবা খাতে সাময়িক চাপ বিদ্যমান ছিল। কৃষি খাতের সম্প্রসারণ অব্যাহত ছিল এবং নির্মাণ খাত পুনরায় প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে, যা অর্থনীতির অন্তর্নিহিত স্থিতিস্থাপকতার ইঙ্গিত দেয়।’

    মাশরুরু রিয়াজ বলেন, উৎপাদন খাতের মন্থরতা আংশিকভাবে মাসিক রপ্তানি কমে যাওয়া এবং এলএনজি অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত সাময়িক জ্বালানি বিঘ্নের প্রতিফলন। সামনে, জ্বালানির সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি, রপ্তানি চাহিদা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক পদক্ষেপ অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল করতে এবং আরও দৃঢ় প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে।

  • বাংলাদেশকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করল ইসরাইল

    বাংলাদেশকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করল ইসরাইল

    আসন্ন ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে ইসরাইল।

    দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এনএসসি) জানিয়েছে, বিদেশ সফররত ইসরাইলি ও ইহুদিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এই সতর্কতার অংশ হিসেবে ইসরাইলিদের ভ্রমণের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খরব।

    ইসরাইলি সরকারের মূল আশঙ্কা, ইরান ও তাদের বন্ধুপ্রতীম নানা গোষ্ঠী বিদেশে থাকা ইসরাইলিদের ওপর হামলা চালাতে পারে। আগামী অক্টোবরে ইসরাইল-হামাস সংঘাতের বর্ষপূতিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ইসরাইলবিরোধী সহিংস বিক্ষোভ ও হামলা বাড়তে পারে বলে তারা ধারণা করছে।

    এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, লিবিয়া ও আলজেরিয়া সফরে ইসরাইলিদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন ও ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ইরান, সিরিয়া, লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনের মতো দেশগুলোতে ইসরাইলিদের যাতায়াত আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জর্ডান, কাতার, মিসর ও তুরস্ককেও ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে।

    বিদেশে অবস্থানরত ইসরাইলি নাগরিকদের নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। জনসমক্ষে হিব্রু ভাষায় কথা বলা, ধর্মীয় পোশাক বা প্রতীক ব্যবহার করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

    একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ-সমাবেশ এড়িয়ে চলা এবং জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা সাথে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • শরীয়াহর দৃষ্টিতে সম্পত্তি হস্তান্তর বিলে যেসব সমস্যা

    শরীয়াহর দৃষ্টিতে সম্পত্তি হস্তান্তর বিলে যেসব সমস্যা

    সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এ এমন একটি বিধান রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ তাঁদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ ও দখল করার অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। একই ধরনের বিধান নির্দিষ্ট অন্যান্য পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।

    আইনটির উদ্দেশ্য হিসেবে বয়স্ক পিতা-মাতার নিরাপত্তা ও সামাজিক বাস্তবতার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। এমনকি আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই নতুন ব্যবস্থা প্রচলিত হেবা বা মুসলিম আইনের অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তরকে প্রভাবিত করবে না; বরং এটিকে একটি স্বতন্ত্র আইনগত পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।কিন্তু এখানে মৌলিক প্রশ্ন হলো—একটি সম্পত্তির মালিকানা অন্যের কাছে হস্তান্তর করার পর একই সঙ্গে দাতা নিজের জন্য সেই সম্পত্তির জীবনকালীন ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন কি-না? ইসলামী আইনে এর অবস্থান কী?

    এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে প্রথমে ইসলামে মালিকানা হস্তান্তরের প্রকৃতি এবং বিশেষত হেবা (الهبة)-এর শরয়ী সংজ্ঞা ও বিধান বুঝতে হবে।

    ১. ইসলামে হেবার প্রকৃতি : ইসলামী ফিকহে হেবা বলতে বোঝায়—

    تَمْلِيكُ الْعَيْنِ فِي الْحَيَاةِ بِلَا عِوَضٍ

    অর্থাৎ, জীবদ্দশায় কোনো বিনিময়মূল্য ছাড়াই কোনো সম্পদের মূল মালিকানা (عين) অন্যের কাছে হস্তান্তর করাকে হেবা বলা হয়। ফিকহি বিশ্বকোষেও হেবার মূল সংজ্ঞা হিসেবে ‘বিনা বিনিময়ে জীবদ্দশায় কোনো সম্পদের মালিকানা প্রদান’-কে উল্লেখ করা হয়েছে। (তাকমিলা: ৭/১৩, শামী: ৪/৫৩০, বাহরুর রায়েক: ৭/৩০৯)

    এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, হেবার মাধ্যমে শুধু সম্পত্তির ব্যবহারাধিকার দেওয়া উদ্দেশ্য নয়; বরং কবজের মাধ্যমে সম্পত্তির মূল মালিকানা (رقبة) গ্রহীতার কাছে চলে যায়।

    সুতরাং কেউ যদি বলে, ‘আমি এই বাড়িটি তোমাকে দিয়ে দিলাম; কিন্তু যতদিন আমি জীবিত থাকব, ততদিন এর মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও পূর্ণ ভোগাধিকার আমার কাছেই থাকবে’—তাহলে প্রশ্ন দেখা দেবে, এখানে প্রকৃতপক্ষে হেবার মাধ্যমে সম্পূর্ণ মালিকানা হস্তান্তর হয়েছে কি না? উত্তর—না। তার মানে এই শর্তের কারণে হেবা সম্পন্ন হয়নি।

    ২. হেবা, হাদিয়া ও সদকার পার্থক্য:

    হেবা, হাদিয়া ও সদকা—তিনটিই মূলত: বিনিময় ছাড়া সম্পদ প্রদানমূলক চুক্তি। ফিকহি দৃষ্টিকোণে হেবা একটি ব্যাপকতর পরিভাষা; হাদিয়া ও সদকা তার বিশেষ রূপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কাউকে সম্মান ও সৌজন্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হলে তা হাদিয়া, আর আল্লাহর নৈকট্যে বা সাওয়াবের প্রত্যাশায় অভাবীকে দেওয়া হলে তা সদকা হিসেবে পরিচিত।

    অতএব, ‘দান’, ‘গিফট’, ‘হাদিয়া’ ও ‘হেবা’—শব্দের পার্থক্য থাকলেও সম্পত্তির মালিকানা বিনা বিনিময়ে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এগুলোর মূল ফিকহি কাঠামো একই বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। (আল-মওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ: ৪২/১২০)

  • জার্মান সরকারের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের শাকিল সৈয়দ

    জার্মান সরকারের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের শাকিল সৈয়দ

    বাংলাদেশে সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বিশেষ অবদানের জন্য জার্মান সরকারের কাছ থেকে সম্মাননা (এনগেজমেন্ট প্রাইস) পেয়েছেন শাকিল সৈয়দ। তিনি বাংলাদেশ ও জার্মানির দ্বৈত নাগরিক।

    গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জার্মানির ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (বিএমজেড) এই সম্মাননা দেয়। শাকিল সৈয়দসহ মোট সাত ব্যক্তি এবার এই সম্মাননা পেয়েছেন।

    জার্মানির বন শহরে বিএমজেডের দপ্তরে আয়োজিত ‘ওপেন ডে’ অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননা তুলে দেন উন্নয়নমন্ত্রী রিম আলাবালি রাদোভান।

    শাকিল সৈয়দ জার্মানির নুরেমবার্গে থাকেন। তিনি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা-পরিচালনাসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত আছেন। তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘আশা-বাংলাদেশের জন্য প্রত্যাশা’ নামের সংগঠনের মাধ্যমে সমাজসেবামূলক কাজ করে আসছেন।

    বিএমজেডের প্রশংসাপত্রে বলা হয়, শাকিল সৈয়দ তাঁর কাজের মাধ্যমে জার্মানির মানুষের কাছে বাংলাদেশের জনগণের জীবনচিত্র তুলে ধরছেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ বোঝার ক্ষেত্রে জার্মানির সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করছেন।

    উন্নয়নমন্ত্রী রিম আলাবালি রাদোভান বলেন, শাকিল সৈয়দসহ সম্মাননা পাওয়া সাত ব্যক্তি আন্তর্জাতিক সংহতি-সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে এই সময়ে তাঁদের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যখন জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ বাড়ছে। ‘আগে আমরা’ ধরনের মানসিকতা আরও জোরালো হচ্ছে।

    সম্মাননা পাওয়া অন্য ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন জার্মানির কোলনের গ্লোরিয়া নিয়াকুয়ে, ডুসেলডর্ফের ইউলিয়ুস লাটজেল, বার্লিনের বাতিয়া ব্লাঙ্কার্স, কারিন ম্লোডক ও নাতালিয়া ফিব্রিগ। এ ছাড়া মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন বন শহরের ইয়েন্স মার্টেন্স।

  • বাংলাদেশি রোগীরা মুখ ফেরানোয় মন্দায় কলকাতার হাসপাতাল ব্যবসা

    বাংলাদেশি রোগীরা মুখ ফেরানোয় মন্দায় কলকাতার হাসপাতাল ব্যবসা

    কলকাতায় চিকিৎসার জন্য আসা বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা হঠাৎ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে শহরের হাসপাতালগুলো। মালিকদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। রোগীদের ফেরানো না গেলে সামনের দিনগুলোতে ব্যবসায় আরো অবনতি ঘটবে। এ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশে প্রতিনিধিদল পাঠানোর চিন্তাভাবনা করছেন তারা।

    জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ দলগুলো বাংলাদেশে গিয়ে রোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবে। চিকিৎসার্থে আসা রোগী ও স্বজনদের বৈধ কাগজপত্র ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র থাকা হোটেলে বুকিং দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা রোগীদের সাহায্য করবেন।

    সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ নিউমার্কেট এলাকার অধিকাংশ থাকার হোটেল বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা চরম সংকটে পড়েন। অনেক রোগী ও তাদের স্বজনেরা রাস্তায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন। এ অবস্থায় তারা স্বদেশে ফিরে যান। এরপর থেকেই কমতে থাকে বাংলাদেশের রোগীদের কলকাতায় আসা।

    এদিকে শহরের বাস্তব পরিস্থিতি বেশ কঠিন। ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতালের কাছে একটি দোকানের সামনে মশারি পেতে শুয়ে আছেন কুষ্টিয়া থেকে আসা এক ক্যানসার রোগী। সেখানে আছেন রাজশাহী থেকে আসা এক নারীও। চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে ওই নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালগুলোর আচরণও এখন অমানবিক।

    শহরে প্রায় ৭০০ হোটেল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তার অভাব, নোংরা পরিবেশ ইত্যাদি অজুহাতে সম্প্রতি হঠাৎ এসব হোটেল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

    চালু হোটেলগুলোতে থাকার জায়গা খালি নেই। রোগীদের এই চরম দুর্দশা মেটাতে কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার ইতোমধ্যে হোটেল মালিকদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন। খুব শিগগির যাতে বন্ধ হোটেলগুলো খুলে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

    মূলত গত ১৮ আগস্ট কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি গেস্ট হাউসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতজন বাংলাদেশিসহ ৯ জনের মৃত্যুর পর হোটেলগুলোর ওপর কড়াকড়ি শুরু হয়।

    এ পরিস্থিতিতে রোগী ধরে রাখতে এবং তাদের দুর্ভোগ কমাতে হাসপাতালগুলোও উদ্যোগ নিচ্ছে। বিপি পোদ্দার হাসপাতাল বাংলাদেশে প্রতিনিধি পাঠানোর পাশাপাশি নিজেদের প্রাঙ্গণের কাছেই রোগীদের জন্য নিরাপদ থাকার জায়গা তৈরি করছে।

    হাসপাতালে ভর্তি হতে হলে বাংলাদেশিদের মেডিকেল ভিসা লাগে, তবে বহির্বিভাগ বা ওপিডি রোগীদের এটা প্রয়োজন হয় না। জরুরি ভর্তির ক্ষেত্রে অল্প সময়ের নোটিসেই মেডিকেল ভিসা পাওয়া যায়। তবে ওপিডির অধীন থাকা অনেক রোগীকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য হোটেলে থাকতে হয়। তাই এখন রোগীদের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

    শহরের হাসপাতালগুলো মনে করছে, অনেক বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য সড়কপথে যাতায়াত করেন এবং কলকাতার আশপাশে সস্তায় থাকার জায়গা খুঁজতে গিয়ে প্রায়ই অনিরাপদ বাসস্থানে গিয়ে ওঠেন।

    জানা গেছে, বিপি পোদ্দার হাসপাতালের কর্মকর্তাদের একটি দল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে যাবে। পাশাপাশি হাসপাতালটি দক্ষিণ কলকাতায় নিজেদের প্রাঙ্গণের কাছে বাংলাদেশিদের জন্য নিজস্ব থাকার ব্যবস্থা তৈরি করছে।

    হাসপাতালের গ্রুপ উপদেষ্টা সুপ্রিয় চক্রবর্তী জানান, রোগীদের চিকিৎসার যাত্রা আরো সহজ করার জন্য তারা নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ একটি বিনামূল্যে থাকার জায়গা তৈরি করছেন, যা খুব শিগগির চালু হবে।

    উডল্যান্ডস মালটিস্পেশালিটি হাসপাতালও বাংলাদেশে দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে এবং তারা আলিপুর এলাকায় একাধিক গেস্ট হাউস ও হোটেলের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

    রুবি জেনারেল হাসপাতাল ইচ্ছুক রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি আলাদা ডেস্ক খুলেছে। রুবির চিফ জেনারেল ম্যানেজার শুভাশিস দত্ত জানান, তারা ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছেন এবং নিরাপদ জায়গার একটি তালিকা তৈরি করে ভ্রমণের আগেই রোগীদের রুম বুকড করতে সাহায্য করছেন।

  • ১ অক্টোবর যোগ দেবেন প্রাথমিকের ১৪ হাজার ৩৮৪ সহকারী শিক্ষক

    ১ অক্টোবর যোগ দেবেন প্রাথমিকের ১৪ হাজার ৩৮৪ সহকারী শিক্ষক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নিয়োগের জন্য নির্বাচিত ১৪,৩৮৪ সহকারী শিক্ষক আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

    এদিন শিক্ষামন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নের জবাব দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এসময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এ ১৪,৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। নির্বাচিত সহকারী শিক্ষকরা ১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগ দেবেন এবং ৪ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখ তাদের বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে।

    এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য ৩৬,৯৬০টি পদ শূন্য রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ৭৩/২০২৩-এর মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ায় পদোন্নতিযোগ্য প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • হামে প্রায় এক হাজার শিশুর মৃত্যু

    হামে প্রায় এক হাজার শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে এ রোগের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১,১৫৭ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৯ জন। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী ১,২৩৬ শিশু। এনিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে ৯৯৯ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ শিশুর। বাকি ৮৯৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৮৬ হাজার ২৯৬ শিশু।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৬৬ হাজার ৪৬১ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ১৯ হাজার ৮৩৫ জন। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৪৬ হাজার ৩৫৯ শিশু। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার ৮৫০ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২ শিশুর মধ্যে সিলেট ও বরিশাল বিভাগের একজন করে রয়েছে। আর একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪১৭ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৬৬ জন। বিভাগওয়ারি মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত হামে সবচেয়ে বেশি ৪৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৬৩ শিশু এবং সন্দেহজনক হাম মৃত্যু হয়েছে ৪০৩ জনের। এরপরেই রয়েছে সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হামে ৩ জনসহ ১৫৯ জন, রাজশাহীতে ৩ জন মোট ৯৫ জন, ময়মনসিংহে দুইজনসহ ৭৭ জন, বরিশালে ১৯ জনসহ ৭৬ জন, চট্টগ্রামে ১০ জনসহ ৭৫ জন, খুলনাতে হামের উপসর্গে ৩৭ জন এবং রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গু ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার আহ্বান; প্রধানমন্ত্রীর

    ডেঙ্গু ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার আহ্বান; প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান উদ্বোধন করবেন। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি।

    ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

    কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন।

    উপ-প্রেস সচিব জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে।

    প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে— এমন জায়গা চিহ্নিত করা এবং মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    হাসান শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা নিয়মিতভাবে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ট্রেনে স্টারলিংকের ৬০ রাউটারের ৪৫টিই উধাও, অ্যানটেনাও চুরি

    ট্রেনে স্টারলিংকের ৬০ রাউটারের ৪৫টিই উধাও, অ্যানটেনাও চুরি

    দেশে প্রথমবারের মতো চলতি বছরের ১৩ মার্চ চারটি আন্তঃনগর ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয় স্যাটেলাইটভিত্তিক উচ্চগতির স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের এই উদ্যোগে যুক্ত ট্রেনগুলো হলো—পর্যটক এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেস।

    এই ট্রেনগুলোতে প্রায় ৬০টি রাউটার বসানো হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস না পেরোতেই এর মধ্যে ৪৫টি রাউটার চুরি হয়ে গেছে। শুধু রাউটারই নয়, ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচলকারী উপবন এক্সপ্রেসের ছাদ থেকে খুলে নেওয়া হয়েছে একটি স্টারলিংক অ্যানটেনাও।

    বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) নিয়মিত এসব যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে। সম্প্রতি তদারকির সময় বড় ধরনের এই চুরির ঘটনা ধরা পড়ে। উপবন এক্সপ্রেসের একটি অ্যানটেনা থেকে সিগন্যাল বন্ধ পাওয়ার পর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অ্যানটেনা নেই—শুধু রয়ে গেছে সেটি বসানোর হোল্ডার।

    বিএসসিএল কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি রাউটারের দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং একটি অ্যানটেনার দাম দুই লাখ টাকার বেশি। ফলে চুরির ঘটনায় বড় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সেবা ব্যাহত হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ইমাদুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, যন্ত্রপাতি চুরি ঠেকানো না গেলে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

    রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত নয়, কারা এসব রাউটার চুরি করছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী সৈয়দ মো. শাহিদুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে জানান, চলন্ত ট্রেনে চুরি একটি নিয়মিত সমস্যা। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে, ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

    তার মতে, অনেক সময় মাদকাসক্তরা যন্ত্রপাতির প্রকৃত মূল্য না বুঝে ধাতব অংশ ভেবে চুরি করে কম দামে বিক্রি করে দেয়।

    এদিকে, বারবার চুরি ঠেকাতে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত কয়েক মাসে চুরি হওয়া রাউটারগুলো প্রতিস্থাপন করা হলেও চুরি বন্ধ হয়নি। তাই নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, রেলে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন ৫০টি বগিতে রাউটারগুলো বগির ভেতরের কাঠামোর মধ্যে স্থাপন করা হবে। আর অ্যানটেনা সাধারণ বগির ছাদে নয়, বরং ইঞ্জিন বগির ছাদে বসানো হবে, যাতে চুরি ঠেকানো যায়।

  • দেশের সব মুজিব কর্নারকে ‘জুলাই কর্নারে’ রূপান্তরের প্রস্তাব এমপি মারদিয়ার

    দেশের সব মুজিব কর্নারকে ‘জুলাই কর্নারে’ রূপান্তরের প্রস্তাব এমপি মারদিয়ার

    দেশের সব সরকারি-বেসরকারি পাঠাগার ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত ‘মুজিব কর্নার’গুলোকে সংস্কার করে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই কর্নার’-এ রূপান্তর করার প্রস্তাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর কাছে তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

    জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত রূপরেখা ও লাইব্রেরির তালিকা দেওয়ার অনুরোধ করেছেন এবং বিষয়টি আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে একটি প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সরকারি-বেসরকারি পাঠাগার এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘মুজিব কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর এসব কর্নারের নোটিশ বা হেডিংগুলো সরিয়ে নেওয়া হলেও পাঠাগারগুলো বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিভিন্ন সংবাদপত্রের বরাতে জামায়াত দলীয় এ সংরক্ষিত এমপি জানান, এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৬৫ হাজার ৭০০ কপি বই সরবরাহ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধুর প্রিয় খাবার’সহ মাত্র আটটি নির্দিষ্ট বিষয়ের বই রয়েছে।

    মারদিয়া মমতাজ সংস্কৃতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রস্তাব দেন, এই লাইব্রেরি ও কর্নারগুলোকে যদি সংস্কারের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংবলিত ‘জুলাই কর্নার’-এ রূপান্তরিত করা হয়, তবে তা দেশের মানুষের জন্য সুদূরপ্রসারী কল্যাণের কাজ হবে। এ বিষয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা বা চিন্তা রয়েছে কিনা তা তিনি মন্ত্রীর কাছে জানতে চান।

    সংসদ সদস্যের এই প্রস্তাবের জবাবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ইতিবাচক সাড়া দেন। তিনি এমপি মারদিয়া মমতাজকে এ সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এবং সংশ্লিষ্ট লাইব্রেরিগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করে সরাসরি চিঠির মাধ্যমে তার কাছে জমা দেওয়ার অনুরোধ করেন।

    সংস্কৃতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের গ্রন্থাগারের চিত্র তুলে ধরে বলেন, সারা দেশে বিস্তৃত সরকারি গণগ্রন্থাগার ও পাবলিক লাইব্রেরিগুলো জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কাজ করছে। অন্যদিকে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের অধীনে থাকা বেসরকারি লাইব্রেরিগুলো একদম গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

    সংসদ সদস্যের প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী জানান, লিখিত প্রস্তাব ও তালিকা হাতে পেলে দপ্তরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

  • জলে গেল হাজার কোটি, ব্রহ্মপুত্র আগের মতোই

    জলে গেল হাজার কোটি, ব্রহ্মপুত্র আগের মতোই

    ২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকার খনন প্রকল্পে ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও পুরোনো ব্রহ্মপুত্রে শুষ্ক মৌসুমে চর জাগছে, বর্ষায় তীব্র ভাঙন দেখা দিচ্ছে। ফলে প্রকল্পটির সুফল, সফলতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্প বন্ধ এবং দুর্নীতির তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে পাওয়া এসব অভিযোগ নাকচ করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলেছেন, পুরো প্রকল্প শেষ হওয়ার আগে এর সফলতা মূল্যায়ন করা সঠিক হবে না।

    ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হিমালয় পর্বতমালার তিব্বত অংশের কৈলাস শৃঙ্গের কাছে জিমা ইয়ংজং হিমবাহে। ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পে যমুনা নদী তৈরি হওয়ার পর ব্রহ্মপুত্র তার প্রমত্ত রূপ হারাতে থাকে। একবিংশ শতাব্দীতে এসে নদটি মরা খালে পরিণত হয়। শুষ্ক মৌসুমে এর অধিকাংশ অংশ হেঁটে পার হওয়া যায়, আর বর্ষায় শুরু হয় ভাঙন।

    নাব্য সংকট ভয়াবহ হয়ে উঠলে বিআইডব্লিউটিএ গাইবান্ধা, জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার ২২৭ কিলোমিটার নৌপথ খননের প্রকল্প নেয়। ২০১৯ সালের জুনে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১০০ মিটার বা ৩০০ ফুট প্রশস্ত এবং তিন মিটার বা প্রায় ১০ ফুট গভীর

    নৌপথ তৈরির মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রকে দ্বিতীয় শ্রেণির নৌপথে উন্নীত করার কথা, যাতে সারা বছর নৌযান চলতে পারে। প্রথম পর্যায়ের সীমান্ত থেকে জামালপুর পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার এবং পরে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থল থেকে গাইবান্ধার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের সন্ন্যাসীর চর পর্যন্ত আরও ৩৭ কিলোমিটার খনন করা হবে। তিনটি স্তরে খননের পরিকল্পনার প্রথম স্তরের কাজ চলছে। খনন চলার মধ্যেই চলতি বর্ষায় দেওয়ানগঞ্জের খলাবাড়ী মণ্ডল বাজার ও ইসলামপুরের গাইবান্ধা এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে জামালপুর ও গাইবান্ধা অংশে প্রকল্পের অর্থে ১১টি কাজে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। মণ্ডল বাজারে বাস্তবায়িত চারটি তীর রক্ষা কাজ শেষ হওয়ার পর পানি বাড়তেই বাঁধের অধিকাংশ ধসে যায়। ইসলামপুরের গাইবান্ধায় বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে গেছে।

    মণ্ডল বাজারের আব্দুল হক প্রশ্ন করেন, শীতে চর আর বর্ষায় ভাঙন হলে খননের প্রয়োজন কী। কলেজছাত্র রাকিবের প্রশ্ন, সরকারি টাকা ব্যয়ের জন্যই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে কি না এবং এর সুফল কেন দেখা যাচ্ছে না। চর যথার্থপুরের কৃষক স্বপন মিয়া বলেন, নদী থেকে সরকারি বালু তোলা ছাড়া তিনি কিছু বোঝেন না; সেই বালু নেতারা কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করেন, ফলে লাভ হয় তাদের। নরুন্দি বাজারের ব্যবসায়ী কামাল বলেন, সুফলহীন প্রকল্প বাদ দিয়ে দেশের অন্য কাজ করা উচিত; কাজ করলে ভালোভাবে করা প্রয়োজন।

    জামালপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম প্রকল্প বন্ধ ও দুর্নীতির তদন্ত দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, ১ হাজার কোটি টাকা ব্রহ্মপুত্রের পানিতে ভেসে গেছে; বালু বিক্রি ছাড়া সুফল নেই এবং অবশিষ্ট অর্থে দেশের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

    বিআইডব্লিউটিএর জামালপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী শহীদুল্লাহ মজুমদার বলেন, প্রকল্পে পুরোপুরি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা নিয়মিত কাজ করছেন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যুক্ত থাকায় অনিয়মের দাবি অবাস্তব। উৎসমুখ থেকে ৭০ কিলোমিটার খননের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে।

    সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মহসিন মিয়া বলেন, উৎসমুখের খনন সফলভাবে শেষ হলে পানির প্রবাহ বাড়বে এবং পুরো প্রকল্প শেষ হলে সুফল পাওয়া যাবে। প্রায় ৪০ শতাংশ কাজে ১ হাজার কোটি টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। প্রকল্পে অনিয়ম বা স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।

  • সব নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহে অনলাইনে কার্ড দেবে ইসি

    সব নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহে অনলাইনে কার্ড দেবে ইসি

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ দেশের সব নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের অনলাইনে কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য নির্বাচনসংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসিসহ (আরএফইডি) অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দেবে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

    বৈঠকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নির্ভর করে। অতীতে অনেক অপেশাদার ব্যক্তি ও দলীয় নেতাকর্মী সাংবাদিকের কার্ড নিয়েছেন। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগে পেশাদার সাংবাদিকরা যাতে যথাযথভাবে কার্ড পান, সে বিষয়ে তাঁরা অনুরোধ জানিয়েছেন।

    ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়াটি এবার আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমের বিভিন্ন সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে সফটওয়্যার তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে কোনো ধরনের ট্রায়াল ছাড়াই অনলাইনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। এ জন্য তড়িঘড়ি করে একটি ওয়েবসাইটও তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ওই ওয়েবসাইটে আবেদন করার পর প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।

    এ ঘটনায় গণমাধ্যমের আপত্তি ও দেশব্যাপী সমালোচনার মুখে অনলাইনে কার্ড দেওয়ার ওই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে কমিশন। এবার আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপদ ও কার্যকর সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।

    এর আগে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে ইসি সচিব আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক কাজী জেসিন, ইসির অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলম, আরএফইডির সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল, সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ দৌলাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সাইফুর রহমানের মৃত্যু রহস্যের তদন্ত হওয়া উচিত: রিজভী

    সাইফুর রহমানের মৃত্যু রহস্যের তদন্ত হওয়া উচিত: রিজভী

    অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুর রহস্যের তদন্ত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
    সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ‘সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে’ এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
    রুহুল কবির রিজভী বলেন, একটা বিষয় আমার মনের মধ্যে সবসময় উঁকি দেয়, সাইফুর রহমান সাহেব দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে মারা গেলেন। এটা কি কেবলই দুর্ঘটনা ছিল, না কোনো জাতীয় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল? এটাও আমাদের আজকে খুঁজে বের করা দরকার। কারণ তার (সাইফুর রহমান) মতো একটা মানুষ, যিনি এরকম একটি ছোট দারিদ্র পীড়িত দেশকে অর্থনীতির ভিত্তির উপরে যিনি দাঁড় করিয়েছেন, একটা ফাউন্ডেশন দিয়েছেন। এটি অনেক দেশ পছন্দ করেনি।

    তিনি বলেন, অনেক দেশ বা ভেতরের অনেক শক্তি যারা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পছন্দ করে না। বাংলাদেশ নিজের অর্থনীতিতে গড়ে উঠবে, নিজের কৃষি অর্থনীতির উপরে ভিত্তি করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হবে। এটা আমার মনে হয় কেউ কেউ পছন্দ করেনি। তাই একটা সন্দেহ কিন্তু আছে তার মৃত্যুর দুর্ঘটনা নিয়ে? আমরা তখন থেকে শুনেছি যে, সাইফুর রহমান সাহেবের এই দুর্ঘটনা- এটা কি নিছক দুর্ঘটনা? এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা, এটি আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।
    শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে টানা অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী সাইফুর রহমানের কর্মজীবন তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, মরহুম সাইফুর রহমান এই জাতির সম্পদ, বিএনপির গৌরব। তার নানা অবদানের কারণে তিনি জাতির সম্পদ। এত বিস্তৃত তার অর্জন, এই অর্জন আজকে দেশে-বিদেশে স্বীকৃত। উনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল করতেন এই কারণে আমরা গর্ববোধ করি।
    তিনি আরও বলেন, আজকের অনুষ্ঠান পরিচালক একটি গল্পের কথা বলেছেন যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তার স্বামীকে সাইফুর রহমান সাহেবকে দেখিয়ে বলেছেন যে, একজন সাকসেসফুল অর্থমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, শুধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেছেন তা নয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং, তিনি নিজেও অর্থনীতিবিদ। তিনি সাইফুর রহমানের পলিসি, সাইফুর রহমানের প্রণীত নীতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের অর্থনীতির যে উদারীকরণ, যে লিবারলাইজেশন- সেটিকে তিনি অনুসরণ করেছেন এবং ভারতে চালু করেছেন। আমরা সেই সাইফুর রহমানকে অনেক সময় ভুলে যাই। আমাদের ভুলে যাওয়া চলবে না, আমাদেরকে স্মরণ করতে হবে।
    রিজভী বলেন, এম সাইফুর রহমান এমন একজন অর্থনীতির ব্যবস্থাপক ছিলেন, যিনি টাকা পাচার বন্ধ করেছিলেন, ব্যাংক লুট করে টাকা নিয়ে যাওয়ার যে সিন্ডিকেশন, যে লুটপাট তন্ত্র বিগত ১৭ বছরে দেখেছিলাম৷ সাইফুর রহমান যখন এদেশের অর্থমন্ত্রী, উনি যখন এই জাতির অর্থনীতির ব্যবস্থাপক তখন এই লুটপাটের কথা শুনেনি, টাকা পাচারের কথা শুনেনি, ব্যাংক লোপাট হয়ে যাওয়ার কথা শুনেনি এবং ব্যাংকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সরকার তার যে ঘাটতি বাজেট, সেটা পূরণ করার কথা শুনেনি।
    এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কারণ বাজেট তার নিজস্ব অর্থনীতিতেই, তার নিজস্ব ট্যাক্স কালেকশনের মধ্যে দিয়েই সেই বাজেট রচিত করতেন। ব্যাংকের টাকা ব্যাংক থাকতো। ব্যাংক ছিল তার সময় ভায়াবল। গত ১৭ বছর ছিলো তো লুটপাটের অর্থনীতি, ফোকলা করে দেয়ার অর্থনীতি। লুটপাট এবং টাকা পাচার যেন আমাদের অর্থনীতির একটা সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছিলো।
    এম সাইফুর রহমানের জাতীয় অর্থনীতি ভিত্তি তৈরি করতে গিয়ে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন তাও তুলে ধরেন রিজভী।
    সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এম সাইফুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তির তৈরির কারিগর। মুক্তবাজার অর্থনীতির মাধ্যমে কিভাবে দেশকে সামনের দিকে, অগ্রসর পথে নিয়ে যাওয়া যায় তার মহাকর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন তিনি। এজন্য তিনি অর্থনীতি খাতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছিলেন সফলভাবে। সাইফুর রহমান স্যারের সেই অর্থনীতির গতিপথে আজকে বাংলাদেশ এই জায়গা এসেছে।
    এম সাইফুর রহমানের ছেলে সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানের সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সভাপতি হেলাল খানসহ সিলেট ও মৌলীভীবাজারের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় গ্রিন হাউসে ভ্যানিলা চাষ

    চুয়াডাঙ্গায় গ্রিন হাউসে ভ্যানিলা চাষ

    চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো দামি মসলা ও সুগন্ধি ফসল ভ্যানিলা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন কৃষক হুমায়ুন কবীর ফরাজী (৫১)। চার বছর পরিচর্যার পর তার তৈরি গ্রিন হাউসে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে ভ্যানিলা ফল।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর কলোনীপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর ১৮ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন ‘নিউ কামাল এগ্রো’ নামে সমন্বিত কৃষি খামার। ফল চাষ ও পশুপালনের পাশাপাশি খামারের বিশেষ আকর্ষণ ১০ কাঠা জমিতে তৈরি কৃত্রিম জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত ভ্যানিলা বাগান।

    দীর্ঘদিন ফল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হুমায়ুন ২০২২ সালে প্রতিবেশী দেশ থেকে পেনিফোলিয়া জাতের ভ্যানিলার লতা এনে চাষ শুরু করেন। গ্রিন হাউসে ছায়াযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে প্রায় ৭০০টি পিলারে বেড়ে উঠেছে ভ্যানিলার লতা। সেখানে ৮-১০ ইঞ্চি লম্বা বরবটির মতো ফল ধরেছে।

    হুমায়ুন কবীর বলেন, এ পর্যন্ত ভ্যানিলা বাগানে প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১২০ কেজি ভ্যানিলা সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। বাজারে প্রতি কেজি শুকনো ভ্যানিলার দাম ৩০-৪০ হাজার টাকা। প্রক্রিয়াজাতের পর এ বছর ৭-৮ লাখ টাকা বিক্রির লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।

    তাঁর দাবি, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় খোলা জমিতে ভ্যানিলা চাষ কঠিন হলেও গ্রিন হাউসে তাপমাত্রা ১৬-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেখে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এ ফসল উৎপাদন সম্ভব।

    চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, হুমায়ুন কবীরের সাফল্য প্রমাণ করে, উপযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশে ভ্যানিলা চাষ সম্ভব। এ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

  • ভারতের সম্মান, অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ: পরিবেশমন্ত্রী

    ভারতের সম্মান, অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ: পরিবেশমন্ত্রী

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

    সাক্ষাৎকালে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের পরবর্তী সভা এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রটোকলের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় সভা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে দুপক্ষ একমত পোষণ করেন। তবে আন্তঃসীমান্ত এশীয় হাতি সংরক্ষণে পরবর্তী সভা ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, আন্তঃসীমান্ত পরিবেশগত সমস্যা, কার্বন ক্রেডিট, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং সবুজ অর্থনীতির বিকাশ নিয়েও মতবিনিময় হয়।

    পরিবেশমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হওয়ায় দুই দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশগত স্বার্থও পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, খরা, নদী ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয়ের মতো চ্যালেঞ্জ কোনো একক দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পারস্পরিক আস্থা, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী। দুই দেশের জনগণের কল্যাণ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে সহযোগিতা আগামী দিনে আরও গভীর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    মন্ত্রী বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি, জ্ঞান ও সফল অভিজ্ঞতা বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথভাবে কাজ করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    ভারতীয় হাইকমিশনারও বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনসহ বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন প্রতিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, সুন্দরবন দুই দেশের একটি অভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এ ম্যানগ্রোভ বন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে। সুন্দরবনের প্রতিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় গবেষণা, প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা বিনিময় আরও বাড়ানো যেতে পারে।

    বৈঠকে আন্তঃসীমান্ত বায়ুদূষণ ও নদীদূষণ নিয়েও আলোচনা হয়। দুই পক্ষ এ ধরনের পরিবেশগত সমস্যা মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক তথ্য বিনিময়, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমও উপস্থিত ছিলেন।

  • যথাসময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন: দীনেশ ত্রিবেদী

    যথাসময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন: দীনেশ ত্রিবেদী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, ‘আমরা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। সঠিক সময়ে সব আয়োজন হবে।’

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী এসব কথা বলেন।

    ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ভারত সরকারের সবসময়ের জন্য ভারত সফরের আমন্ত্রণ রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি জানেন। দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও সুসম্পর্ক বজায় থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার কাজ থেমে থাকার কোনো কারণ নেই। শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক আজ না হলেও কাল বা পরশু হতে পারে। তবে দুই দেশের উদ্দেশ্য ও কাজের জায়গা একই থাকায় শুধু বৈঠকের অপেক্ষায় না থেকে বাস্তব কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও জোরদার করা জরুরি।’

    পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাতাস, নদী, জলবায়ু কিংবা বন্যপ্রাণীর কোনো সীমান্ত নেই। এসব সীমান্তহীন সংকট যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।’

    দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘পরিষ্কার বায়ু ও নীল আকাশের মতো সুবিধা নিশ্চিত করার পথ এক দিনে তৈরি হয় না। এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিট, সুন্দরবন সংরক্ষণ এবং হাতি চলাচলের করিডোর ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি হওয়া প্রয়োজন।’

    এর আগে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বৈঠকে পরিবেশ, জলবায়ু, প্রাণীসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন ভারতের হাইকমিশনার।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সমীকরণের চেয়ে দুই দেশের জনগণের স্বার্থ এবং বাণিজ্যিক ও পরিবেশগত নির্ভরতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কোনো পক্ষ থেকেই সহযোগিতার পথ থেমে থাকবে না। কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনা ও যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

  • মুসলিম নারীকে পুশইন: আসাম সরকারকে জরিমানা করল ভারতীয় হাইকোর্ট

    মুসলিম নারীকে পুশইন: আসাম সরকারকে জরিমানা করল ভারতীয় হাইকোর্ট

    বাংলাভাষী এক মুসলিম নারীকে জোর করে বাংলাদেশে পুশইন করার ঘটনায় ভারতে আসামের রাজ্য সরকারকে দু’লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে গৌহাটি হাইকোর্ট।

    ভারত থেকে কাউকে বাংলাদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে ডিপোর্টেশন সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য কোনো রাজ্য সরকারকে আদালতের খরচ বা ক্ষতিপূরণ দিতে বলার ঘটনা এই প্রথম।

    মুমতাজ বেগমের পরিবার গৌহাটি হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করার পর জানতে পারে যে তাকে জোর করে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    এই মামলায় হাইকোর্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও পক্ষভুক্ত করে।

    আদালত আরো জানিয়েছে, এই নারীকে বাংলাদেশ থেকে খুঁজে বের করে তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য দেশটির সরকারকে ‘চেষ্টা চালাতে’ নির্দেশ দেওয়া হবে।

    মুমতাজ বেগমকে বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় আসামের নগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের ভূমিকাতেও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।

    হেবিয়াস কর্পাস মামলার ভিত্তিতে শুনানি করতে গিয়ে বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা এবং বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্ডের বেঞ্চ বলেছে, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল যে ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে আদালত মনে করেছে যে আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে বিদ্বেষপ্রসূত পদক্ষেপের বিষয়টি নথি থেকেই স্পষ্ট।

  • এবার অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জব্বার ভুঞার পদত্যাগ

    এবার অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জব্বার ভুঞার পদত্যাগ

    এবার অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে তিনি পদত্যাগপত্র দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    একই দিনে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে আরও তিন আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন—ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মামুন চৌধুরী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জ্বল চাকমা।

    পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বেলা ৩টার দিকে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।’

    এর আগে সম্প্রতি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নূরুল করিম পদত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর তিনি আইনমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞাকে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও মোহাম্মদ অনীক রুশদ হকের সঙ্গে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব পালনের কথা ছিল।

  • ৩৫ বছরে নৌ-দুর্ঘটনায় ৪০৫২ জন নিহত: সংসদে নৌপরিবহনমন্ত্রী

    ৩৫ বছরে নৌ-দুর্ঘটনায় ৪০৫২ জন নিহত: সংসদে নৌপরিবহনমন্ত্রী

    গত ৩৫ বছরে দেশে নৌ-দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৫২ জনের প্রাণ গেছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮০৭ জন। একই সময়ে নৌযানের বিরুদ্ধে ৪৭ হাজার ৬০৬টি মামলা দায়ের করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৯ হাজার ৯৩৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

    আজ সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান।

    মন্ত্রী জানান, গত ৩৫ বছরে নৌযানের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪৭ হাজার ৬০৬টি মামলার মধ্যে ৩৭ হাজার ৬৭১টি মামলা মেরিন কোর্টে বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে ৯ হাজার ৯৩৫টি নৌযানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

    তালিকাভুক্ত ২ লাখ ৫২ হাজার নৌযান

    চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী জানান, প্রথমবারের মতো পরিচালিত নৌযান শুমারি কার্যক্রমে ২ লাখ ৫২ হাজার ৮১৩টি নৌযান তালিকাভুক্ত হয়েছে। নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের সংখ্যা ও ধরন সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ভিত্তিতে নৌযানের নিবন্ধন, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া যাবে।

    জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠন

    ধর্মীয় বিভ্রান্তি নিরসন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা ও সামাজিক সংঘাত প্রতিরোধে বিভিন্ন মত ও পথের আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্ত করে জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

    চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন মত ও পথের প্রখ্যাত আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্ত করে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, ধর্মীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি নিরসন এবং সামাজিক সংঘাত প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ ও মতবিনিময়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক গবেষণা ও ইফতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।

    ধর্মকে ব্যবহার করে উগ্রবাদ, চরমপন্থা ও সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখা এবং ধর্মের অপব্যবহার রোধে সরকার প্রয়োজনীয় আইনগত ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। জুমার খুতবা, ধর্মীয় আলোচনা, প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে শান্তি, সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

    ৭ কোটি টাকা যাকাত সংগ্রহ

    কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে সংগৃহীত যাকাতের পরিমাণ ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা সরকারি যাকাত ফান্ডে জমা রয়েছে। বাকি টাকা বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের যাকাত ফান্ডে জমা রয়েছে।

  • সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করবেন মা-বাবা

    সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করবেন মা-বাবা

    দান করার পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন– এমন বিধান রেখে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী পাস হয়েছে। গতকাল রোববার সংসদে ‘১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামন্ডমেন্ট) বিল’ সংসদে পাস হয়। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। বিলের ওপর আনা বিরোধী সদস্যদের জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করা হয়।

    পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, পিতামাতা বা পিতামহ/মাতামহ তাঁর সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা বিপরীতক্রমে) অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তি ভোগের অধিকার থাকবে এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।

    বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।

    বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই আইনের সঙ্গে শরিয়তের স্পষ্টত কন্ট্রাডিকশন আছে। এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কী কোরআনের মূলনীতি রাখব নাকি বাদ দেব? আমি মনে করি, এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এটি কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই আইন এভাবে উপস্থাপন করায় সমাজে ব্যাপক উচ্ছৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এই আইন দ্বারা হকদারের হকও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।’

    আইনটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী উল্লেখ করে জামায়াতের নাজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল, তারা কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। কিন্তু কোরআন-সুন্নাহ সুস্পষ্ট বিরোধী এই আইন পাস করতে যাচ্ছে। ইসলামিক স্কলারদেরও এই আইনটি নিয়ে ঘোর আপত্তি রয়েছে।

    পাবনা-৩ আসনের আলী আছগার এই বিলকে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে আখ্যায়িত করেন।

    চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘সব সন্তান পিতামাতার সঙ্গে এই আচরণ করছেন না। গুটি কয়েক অপরাধীর সঙ্গে আমাদের মূল চিন্তা ও বিশ্বাসে সাংঘর্ষিক আইন আমরা পাস করতে পারি না।’

    বাগেরহাট-৪ আসনের আব্দুল আলীম বলেন, এই আইন না করে কোরআনে বিধান রয়েছে এক-তৃতীংয়াশের বেশি কেউ দান করতে পারবে না। সেই বিধানটি আইনে পরিণত করা দরকার। ইসলামিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই আইনে ইসলামিক স্কলারদের মতামত দরকার।

    শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ বলে একটি নিয়ম থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, অধিকাংশ সংসদ সদস্য এই আইন পাসের সময় হয় বিরোধিতা করবেন, না হয় চুপ থাকবেন। ইসলামিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি কাঠামো তৈরি হলে তা আমরা মেনে নিতে পারি না।’

    ময়মনসিংহ-৬ আসনের কামরুল হাসান বলেন, ‘এই আইন সংশোধন করতে গিয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে হাত দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকারের কথা বলে কৌশলে এই আইন পাস করা হচ্ছে। এই আইন সব ধর্মের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে যে বিধান যুক্ত করা হয়েছে, তাতে আমাদের চরম আপত্তি রয়েছে। এই আইন পর্যালোচনা করা না হলে জনবিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে।’

    কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের (স্বতন্ত্র) শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘এই আইন দ্রুত পাস করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি। যাতে কোনো কুলাঙ্গার সন্তান দ্বারা কোনো বাবা-মা লাঞ্ছিত না হন।’

    স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মা-বাবার কথা বিবেচনা করে এই বিল আনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

    আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই আইন হেবা বা অন্যভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না। এখানে আমরা মুসলিম ল’কে টাচ করিনি। এই আইনে যে গিফটের (সম্পত্তি হস্তান্তর) কথা বলা হচ্ছে, তা হেবা নয়। এটি হেবার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এই আইনে হেবা বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর বাধাগ্রস্ত হবে না।’

    মুসলিম পারিবারিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে এই বিলটি এনেছি।’

    ইসলামী ব্যাংকিং প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইসলামিক আইনে সুদ নয়, মুনাফা নেওয়া হয়। উনারা মুনাফা নেন কিন্তু লোকসানের ভাগ নেন না। লোকসানের ভাগদান না হলে ইসলামিক এই ব্যাংকিং সিস্টেম অনুমোদিত না, কিন্তু এটা চলছে।

    একাধিক মুসলিম দেশের উদাহরণ টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই আইন অগণিত পিতামাতার শেষ নিঃশ্বাস শান্তিতে নিতে সহায়তা করবে। এই আইন সমাজের চাহিদা পূরণ করবে। মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১-এর তুলনায় ইসলামের সঙ্গে অসাংঘর্ষিক।’

  • স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে বাধা নেই

    স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে বাধা নেই

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জন্য প্রায় অভিন্ন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহেমদের স্বাক্ষরে আলাদা আলাদা আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করা হয়।

    নতুন বিধিমালায় নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ব্যবহার করা যাবে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও সীমিত সংখ্যক বিলবোর্ড। প্রচারের সময় মাইক ও ভ্রাম্যমাণ বাহন ব্যবহারেও সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ।

    নতুন আচরণবিধিতে নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও এগুলোর আকার ও ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। লিফলেট ও হ্যান্ডবিল হতে হবে এ-ফোর আকারের—৮ দশমিক ২৭ ইঞ্চি বাই ১১ দশমিক ৬৯ ইঞ্চি। ফেস্টুনের সর্বোচ্চ আকার ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি। বিলবোর্ডের প্রচার অংশের সর্বোচ্চ আকার ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট।

    সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

    উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে, তবে পুরো নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।

    জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    প্রচারের সামগ্রী হতে হবে সাদা-কালো। ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে পলিথিনের আবরণ বা পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারসামগ্রীতে মুদ্রণের তারিখ থাকতে হবে।

    প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ছয় ফুটের বেশি হতে পারবে না। প্রচারে জীবন্ত প্রাণীও ব্যবহার করা যাবে না।

    নির্বাচনি প্রচারে মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের সময় দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে একটির বেশি মাইক ব্যবহার করা যাবে না।

    একই সময়সীমায় ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনেও প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ থাকলেও এর ব্যয় নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবে দেখাতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য, বিকৃত ছবি বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।

    আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ভোটারের নিজের বা পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না।

    মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) লেনদেনের উদ্দেশ্যেও ভোটারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের এনআইডি ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ ওঠার পর ইসি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি নিষিদ্ধ করা হল।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে।

    তালিকায় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা সমমর্যাদার ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি মেয়রের পাশাপাশি মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রশাসকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    প্রার্থী ছাড়া চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

    নতুন আচরণবিধিতে নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    ইউপি আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা ১০ হাজার টাকা বহাল রাখা রয়েছে।

    পাঁচ ধরনের নির্বাচনে আলাদা বিধি

    ইউনিয়ন পরিষদ: প্রতি ওয়ার্ডে একটি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনী প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যয় নির্বাচনী ব্যয়ের মধ্যে দেখাতে হবে। মাইক ব্যবহার করা যাবে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আগে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ ছিল না; এবার তা সীমিত পরিসরে যুক্ত হয়েছে।

    উপজেলা পরিষদ: প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে এবং পুরো নির্বাচনি এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনি ক্যাম্পের সংখ্যাও সীমিত করা হয়েছে। নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনেও সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, প্রতি ইউনিয়নে একটি এবং পৌরসভা এলাকায় প্রতি তিন ওয়ার্ডের একটির বেশি ক্যাম্প করা যাবে না।

    পৌরসভা: প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক, ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচার চালানো যাবে।

    জেলা পরিষদ: প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। এ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।

    সিটি করপোরেশন: প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ। ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের আকারও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় কমিশন।

  • একজন ডেপুটি ও দুজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

    একজন ডেপুটি ও দুজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

    পদত্যাগ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ৩ আইন কর্মকর্তা। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

    পদত্যাগ করা ওই ৩ আইন কর্মকর্তা হলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মামুন চৌধুরী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জ্বল চাকমা।

    এর আগে সম্প্রতি পদত্যাগ করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নূরুল করিম। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর আইনমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

    তারও আগে গত জুন মাসে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জামায়াত সমর্থিত ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। ওই সময় পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারিকুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানিয়েছিলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা যৌথভাবে পদত্যাগ করেছেন।

  • হানাহানি-সংঘর্ষ নয়, আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

    হানাহানি-সংঘর্ষ নয়, আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

    হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যাতে বজায় থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হানাহানি ও সংঘর্ষ পরিহার করে আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁও অনেকটাই অবহেলিত। এ জেলার মানুষের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। এরই মধ্যে জেলায় মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। বেকারত্ব দূর করতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

    এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

    সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

    সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই তার প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।