জাতীয় সংবাদ

  • ইউক্রেনে রেকর্ডসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া

    ইউক্রেনে রেকর্ডসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া

    ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর ফের ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহারের দাবি, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এক রাতে এটাই ছিল রাশিয়ার সবচেয়ে বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা।

    রোববার ভোরে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা রাশিয়ার এই হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং আরও কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। এনিয়ে ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ জানিয়েছে, কিয়েভের ছয়টি জেলায় হামলার প্রভাব পড়েছে।

    ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভজুড়ে একাধিক স্থানে আগুন লাগে। এতে আবাসিক ভবন, অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, একটি ছাত্রাবাস এবং বেশ কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    স্বিয়াতোশিনস্কি জেলায় আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি ব্যক্তিগত বাড়ি থেকে চারজনকে উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। শেভচেনকিভস্কি জেলায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত তিনতলা একটি ভবন থেকেও বাসিন্দাদের নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে।

    এছাড়া একটি অনাবাসিক ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি সোলোমিয়ানস্কি, দেসনিয়ানস্কি এবং দনিপ্রো জেলাতেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে “ইউক্রেনের রাজধানীর ওপর নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা” বলে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই সন্ত্রাস বন্ধ করতে মস্কোর ওপর সর্বাত্মক ও বিধ্বংসী চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

    অন্যদিকে, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের কর্মকর্তা ওলেক্সান্দর গানঝা।
    এ ছাড়া জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে রাশিয়ার ড্রোন আঘাত হানলে ট্রেনটির একজন কন্ডাক্টর নিহত হন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের জাতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তারা আগুনে পুড়ে যাওয়া রেলকোচের ছবিও প্রকাশ করেছে।

    কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের পঞ্চম বছরে প্রবেশ করা ইউক্রেন প্রায় প্রতিদিনই রাশিয়ার হামলার মুখে পড়ছে। তবে দেশটির হাতে এখন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রয়েছে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত।

    এদিকে, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ করায় দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ হয়েছে এবং ইউক্রেনীয় সেনাদের একটি অংশও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

    সমালোচকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেন যখন কিছুটা গতি ফিরে পাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় মিখাইলো ফেদোরভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়া জেলেনস্কির প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি।

    চলতি জুলাই মাসে রাশিয়া একাধিকবার কিয়েভে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত সাতটি পৃথক হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এমন সময় এসব হামলা হচ্ছে, যখন ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে এসেছে। রোববার ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতে রাশিয়া ছোড়া ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করা হয়েছে।

    এদিকে ইউক্রেন দাবি করেছে, তাদের বাহিনী কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে জ্বালানি ও অন্যান্য সরবরাহ ব্যাহত করার কৌশলের অংশ হিসেবে তারা জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ।

  • তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে, হাসিনাসহ আসামি ৪১

    তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে, হাসিনাসহ আসামি ৪১

    শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    আজ রোববার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে।

    চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতিবেদনটি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়ে এটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

    মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন- তৎকালীন পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি প্রধান, ডিএমপি কমিশনার এবং একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

    এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, নথিপত্রগুলো বর্তমানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে।তবে তদন্তের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

    এদিকে মামলার অগ্রগতি জানতে আজ সকালে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যান হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধিদল। সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের (মধুপুর পীর) নেতৃত্বে এই দলে ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ ১০-১৫ জন শীর্ষ নেতা।

    উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। ওইদিন গভীর রাতে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে বহু মানুষ হতাহতের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে।

  • ফাইনালে ‘জ্যোতিষী’ শান্তর ভবিষ্যদ্বাণী কার পক্ষে?

    ফাইনালে ‘জ্যোতিষী’ শান্তর ভবিষ্যদ্বাণী কার পক্ষে?

    খেলাধুলার জগতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও রোমাঞ্চকর বলা যায় ফুটবলকে। আর এই খেলাটির সবচেয়ে বড় আসর ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল মঞ্চস্থ হতে আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। শিরোপার লড়াইয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ১৬ বছর পর ফাইনালে ওঠা স্পেন।

    বাংলাদেশে ফুটবলের কোটি কোটি ভক্ত। বিশেষ করে ফাইনালে দর্শকদের বড় একটি অংশ পাশে থাকবে আকাশী-নীলদের। দেশের ক্রিকেটাঙ্গনেও বিশ্বকাপের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ক্রিকেটের তারকারাও খেলার ব্যস্ততার ফাঁকে ফাইনালে চোখ রাখছেন। পাশাপাশি বিসিবির পরিচালকরাও সমর্থন দিচ্ছেন নিজেদের পছন্দের দলকে।

    বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আর্জেন্টিনার বড় ভক্ত। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে গ্রুপ পর্বে করা নিজের সবকটি প্রেডিকশনই ঠিকঠাক দিয়ে রীতিমতো সফল ‘জ্যোতিষী’ বনে গেছেন শান্ত। তবে ফাইনাল নিয়ে নিজের প্রেডিকশন দিতে নারাজ তিনি।

    নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচই কষ্টার্জিতভাবে জিতেছে আর্জেন্টিনা। এ নিয়ে শান্ত বলেন, বিশেষ করে প্রথমার্ধটা আইসিইউতে ছিলাম, অপেক্ষায় ছিলাম ম্যাজিক হবে কি না। আলহামদুলিল্লাহ হয়েছে। খেলা দেখে যেরকম টেনশন কাজ করে, চাই না এই টেনশন ফাইনালেও তারা দিক।

    ফাইনালের ফলাফল নিয়ে কৌশলী শান্ত বলেন, আমরা প্রায় প্রতি ম্যাচে খেলছি ৭০ মিনিটের পর গিয়ে! এ কারণে একটু ডিফেন্সিভ উত্তর দেওয়াই ভালো! তবে তার আশা আর্জেন্টিনাই জিতবে। তিনি বলেন, ফাইনালের প্রেডিকশন করব না। দুই দলই খুব ভালো দল। আর্জেন্টিনার ফ্যান হিসেবে এগিয়ে রাখলাম আর্জেন্টিনাকে। আর প্রেডিকশন করায়েন না! ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় আর্জেন্টিনা জিতবে।

    গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের প্রেডিকশন স্কোরসহ হুবহু মিলে যাওয়া নিয়ে শান্ত জানালেন, ক্যাজুয়েলি বলে দিয়েছিলাম। সেভাবে চিন্তা করিনি। তবে আর্জেন্টিনা যেমন দল ছিল, যাদের সঙ্গে খেলা ছিল, জেতা উচিৎ ছিল। ঐ ধারণা করেই করা। ওরকম সিরিয়াস চিন্তাভাবনা করে করেছি তা নয়। এরপর অনেক ফোন এসেছে, ম্যাসেজ এসেছে। বিশেষ করে যারা ব্রাজিলের সমর্থক তারা অনেক জানার চেষ্টা করেছে। এটা শুধু ফান ছিল, ক্যাজুয়েলি বলে দেওয়া।

    আর্জেন্টিনার মহাতারকা মেসিকে নিয়ে শান্ত বলেন, যতদিন ধরে ওর খেলা দেখছি সবসময় উপভোগ করেছি। কাপ পেলে আরও ভালো লাগবে। জানি না ও আরও খেলবে কি না। তবে যতদিন খেলা দেখেছি খুবই উপভোগ করেছি। ও যথেষ্ট অর্জন করেছে।

  • ইসরায়েলিরা কেড়ে নিল ১৭ বছরের ফিলিস্তিনি ফুটবলারের জীবন

    ইসরায়েলিরা কেড়ে নিল ১৭ বছরের ফিলিস্তিনি ফুটবলারের জীবন

    ফাদি হামদাল্লাহ আল-নাসান। ১৭ বছরের টগবগে কিশোর। ফিলিস্তিনের জাতীয় যুব দলের খেলোয়াড়। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সময় গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন ফাদি। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন। তবে সেই লড়াইয়ের অবসান ঘটল মৃত্যুতে।

    ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এবং পরিবারের সদস্যরা ফাদির মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা জানান, পশ্চিম তীরে নিজ গ্রামে ১১ জুলাই ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন ফাদি। গতকাল শনিবার মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

    ফাদি আল-মুঘাইয়ির ক্লাবের হয়ে খেলতেন। সেই সঙ্গে কিশোর এই ফুটবলার ফিলিস্তিনের জাতীয় যুব দলের সদস্য ছিলেন।

    কিশোর ফুটবলারের এই মৃত্যু পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী আর সেনাদের দ্বারা সংঘটিত ক্রমবর্ধমান সহিংসতার দিকে নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ১৯৬৭ সাল থেকে অঞ্চলটি ইসরায়েল দখল করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে বসতি স্থাপনের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে ইসরায়েল।

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের কার্যক্রমকে বর্ণবৈষম্যমূলক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    নিজ গ্রাম আল-মুঘাইয়িরে গতকাল ফাদিকে দাফন করা হয়েছে। কালো পোশাক পরা কয়েক শ শোকাহত মানুষ রামাল্লায় ফিলিস্তিন মেডিক্যাল কমপ্লেক্সে থেকে এই ফুটবলারের মরদেহ তাঁর গ্রামে নিয়ে যান।

    ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা যখন ওই গ্রামে আক্রমণ করেছিল, তখন ইসরায়েলের সেনারা ফাদির ঊরুতে গুলি করেন। এ কারণে পরবর্তী সময়ে ফাদির পা কেটে ফেলতে হয়। এই আঘাত থেকেই ফাদির মৃত্যু হয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কিশোর ফুটবলার ফাদির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের আক্রমণে ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনে শহীদের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনের ফুটবল পরিবারেই ৫৬৮ জন শহীদ হয়েছেন।

    ছেলের বিষয়ে ফুটবলার ফাদির বাবা হামদাল্লাহ আল–নাসান বলেন, গ্রামে হামলার সময়টায় নারী ও মেয়েদের চিৎকার শুনে তাঁর ছেলে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন। ফাদির বাবা বলেন, ‘সে সেখানে গিয়েছিল বলে প্রাণ হারাল।’ ফাদির মা হানান আল–নাসান তাঁর ছেলের সম্পর্কে বলেন, ‘সে খুবই ভালো ছাত্র ছিল। খেলাধুলায়ও দুর্দান্ত ছিল। ফুটবল খেলতে ভালোবাসত। সবাই ওকে পছন্দ করত।’

  • নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি দিদারুলের নামে সড়কের নামকরণ

    নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি দিদারুলের নামে সড়কের নামকরণ

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে নামে সড়কটির নামফলক উন্মোচন করা হয়েছে।

    দিদারুল ইসলাম নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে (এনওয়াইপিডি) কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের পার্ক অ্যাভিনিউয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন ৩৬ বছর বয়সী পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম।

    ওই দিন পার্ক অ্যাভিনিউয়ের একটি বহুতল ভবনে ঢুকে বন্দুকের এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকেন এক তরুণ। সে সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হামলাকারীকে থামাতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন দিদারুল। এ জন্য তাঁকে মরণোত্তর ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে দিদারুলের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ তাঁর নামে সড়কের নামকরণের উদ্যোগ নেয়।

    গতকাল বৃষ্টির মধ্যেই নিউইয়র্ক সিটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা, দিদারুলের পরিবারের সদস্যসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা সড়কের নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কমিশনার জেসিকা টিসও উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে দিদারুল ইসলামের বীরত্ব ও কর্মজীবনের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন টিস। বলেন, এই সড়ক এখন থেকে এমন একজন মানুষের নাম বহন করবে, যিনি নিউইয়র্ককে নিজের ঘর বানিয়েছিলেন এবং এ শহরকে রক্ষা করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন।

    জেসিকা টিস আরও বলেন, দিদারুল ইসলাম ছিলেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা, যাঁর মতো সহকর্মী পাওয়ার আশা প্রত্যেক কমান্ডিং অফিসার করে থাকেন। দিদারুল ইসলামের ছোট বোনের স্বামী এবং নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা কর্মকর্তা কামরুল হাসান নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

    কামরুল হাসান আরও বলেন, ‘ব্যক্তিজীবনে তিনি (দিদারুল) প্রতিটা মুহূর্ত মানুষের উপকার করার মানসিকতা পোষণ করতেন। এ জন্যই তিনি এমন বিরল সম্মান পেয়েছেন। এ জন্য আমরা নিজেরাও গর্ববোধ করতে পারি।’

    অনুষ্ঠানে দিদারুলের স্ত্রী জামিলা ইসলাম তাঁদের তিন সন্তান—আহিয়ান, আজহান ও আরহামকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।

    মৌলভীবাজার জেলার সন্তান দিদারুল ইসলাম ২০০৪ সালে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যান। ২০১৩ সালে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। দিদারুল পরিবার নিয়ে ব্রঙ্কসে বসবাস করতেন।

  • শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত

    শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত

    ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আজ রোববার নিজ কার্যালয়ের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরের নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তারা।

    তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনটি এখন চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। যেন একটি সঠিক তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত হয়। প্রকৃত আসামিরা যেন বিচারের সম্মুখীন হন। হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আজ খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছি। শিগগিরই পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে পাবো বলে আশা করছি।’

    এই মামলায় আসামী কারা হচ্ছেন- সে প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক পুলিশ প্রধান ও বিজিবি প্রধানসহ কয়েকজনের নাম প্রতিবেদন এসেছে। এসব আমরা যাচাই-বাছাই করছি। যাচাই-বাছাই শেষে আসামিদের নাম সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে।’

    শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত নিহত ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। কিন্তু ৫৮ জনের পরিচয় এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।’

    আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসা হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অনেকেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শনে অমিত শাহ

    বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শনে অমিত শাহ

    পশ্চিমবঙ্গে এসে বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শনের পর ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরে নিরাপত্তা জোরদার করতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    অমিত শাহ শুক্রবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির কাছে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে শিলিগুড়ির কদমতলার বিএসএফ হেডকোয়ার্টারের অতিথিশালায় রাত কাটান। গতকাল শনিবার সকালে তিনি উত্তরবঙ্গ সচিবালয় উত্তরকন্যা’র পাশে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘুরে দেখেন। তিনি কাঁটাতার লাগোয়া জামুরিয়া ভিটা ও সন্ন্যাসী কাঁটা সীমান্তও পরিদর্শন করেন।

    এরপর অমিত শাহ শিলিগুড়ির জুমাগাছ সীমান্ত আউটপোস্টে গিয়ে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিএসএফের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপনের পাশাপাশি নতুন ১৪টি সীমান্তচৌকি উদ্বোধন করেন তিনি।

    পরে উত্তরবঙ্গ রাজ্য সচিবালয় ‘উত্তর কন্যা’য় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শাহ। সেখানে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।

    অমিত শাহ বলেন, ভারতের সীমান্তকে দুর্ভেদ্য করতে কেন্দ্রীয় সরকার একটি চতুর্মুখী নিরাপত্তাবলয় তৈরি করছে। অনুপ্রবেশ বন্ধ করা এবং দিনরাত পাহারা দেওয়া জওয়ান ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে বিজেপি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

    ‘চিকেনস নেক’–এর নিরাপত্তার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে অমিত শাহ এই সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে কিছু পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, চিকেনস নেকসহ গোটা উত্তরবঙ্গ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে। অনুপ্রবেশ রুখতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

    ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সংযোগের পথটি শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নেক বলা হয়। বাংলাদেশ ও নেপালের মাঝের ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার এই সরু করিডর ভারতের দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

    বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানের পর ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে বিভিন্ন সময়ই আলোচনায় আসে ‘চিকেনস নেক’। ভারত সরকারও এই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর সীমান্তের নিরাপত্তা ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ১ হাজার একর জমি বিএসএফকে দিয়েছে রাজ্য সরকার।

  • জামালপুরে ট্রলি-সিএনজির  সংঘর্ষে দুই নারী নিহত, আহত ৪

    জামালপুরে ট্রলি-সিএনজির সংঘর্ষে দুই নারী নিহত, আহত ৪

    জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় ইঞ্জিনচালিত ট্রলি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে অজ্ঞাতপরিচয় দুই নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বেতমারী তালতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেওয়ানগঞ্জ থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জামালপুর শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে বেতমারী তালতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    সংঘর্ষে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এতে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই নারীকে মৃত ঘোষণা করেন।

    আহতরা হলেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মজিবর রহমান (৫৫), জীবন মিয়া (৩৫), শফিকুল ইসলাম (৪০) এবং এনজিওকর্মী ফাতেমা আক্তার (৫২)। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. উজ্জল কুমার সরকার জানান, ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত দুই নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

  • টানা বৃষ্টিতে যশোরে সবজির চারা উৎপাদনে কোটি টাকার ক্ষতি

    টানা বৃষ্টিতে যশোরে সবজির চারা উৎপাদনে কোটি টাকার ক্ষতি

    চাষিরা জানান, এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চারা উৎপাদন করেছেন তারা। চারা নষ্টের ফলে কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় মাথার ওপর ঋণের বোঝা বেড়ে চলেছে। তারা অভিযোগ করেন, আব্দুলপুর মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত কালভার্টটি ছোট ও অপ্রশস্ত। ফলে বছরভর জলাবদ্ধতার সংকট থাকে।


    সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের চাষিরা বছরে কমবেশি ১৫ কোটি টাকার চারা উৎপাদন ও বেচাকেনা করেন। চার দশকের বেশি আগে এই সবজির চারা উৎপাদনের কারবার গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও বিনামূল্যের সার, বীজ ও কীটনাশকের আওতায় নেই এখানকার চারা উৎপাদকরা। ফলে উৎপাদনের মূলধনের জন্য এনজিও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যে-কোনো কারণে উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটলে লোকসান ও ঋণের বোঝা নিয়ে দুশ্চিন্তা, দুর্ভোগ ও সংকটে পড়তে হয়।
    সম্প্রতি এই প্রতিবেদক যখন আব্দুলপুর মাঠে গিয়েছিলেন, তখন আকাশজুড়ে হঠাৎই মেঘের ঘনঘটা শুরু হয়। আর তখন চারা বাঁচাতে পলিথিন হাতে ছোটাছুটি শুরু করেন চাষিরা। চারপাশে পুঁতে রাখা বাঁশের চারটি ছোট খুঁটির সঙ্গে পলিথিন বেঁধে শেড বা ছাউনি দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা।
    মাঠটির কৃষকদের সঙ্গে আলাপচারিতার ফাঁকে ঘুরে দেখা যায়, বহু বেড চারা নষ্ট হয়ে খালি পড়ে আছে। যে-সব বেডে এখনও চারাগাছ আছে, সেগুলোরও বেশিরভাগ নষ্টের উপক্রম হয়েছে। মাঠটির চাষি জাকির হোসেন বেডে অবশিষ্ট থাকা চারাগুলোর একটি থেকে আরেকটি হাত দিয়ে সরিয়ে দেখিয়ে বলেন, এগুলোর গোড়া পচে গেছে। দুই-একদিনের মধ্যে মরে যাবে। এই চারা কেউ কিনবে না। তিনি বলেন, ৯০টি বেডের বেশিরভাগ চারার গোড়া জলাবদ্ধতায় পচে গেছে। রোপণ করা সব বীজও নষ্ট হয়ে গেছে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।


    আরেক কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ৪২ শতক জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা ছিল। পাশাপাশি এসব ফসলের বীজও রোপণ করেছিলেন। গত ১০ ও ১১ জুলাইয়ের টানা বৃষ্টিতে বেশিরভাগ চারা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রোপণ করা সব বীজ পচে গেছে। তিনি বলেন, একটি বেড তৈরি করতে শ্রমিক খরচ ছাড়াও সার ও বীজের দাম মিলিয়ে ৪ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। বর্তমানে বীজের দামও অনেক বেশি। পাতাকপির একেক প্যাকেট বীজের দাম ৯০০ টাকা। ফলে সব মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
    আব্দুলপুর গ্রামের সবজির চারা উৎপাদনকারী চাষিরা বলেন, ধান, পাট, গম ও ভুট্টাসহ অন্যান্য চাষাবাদে সরকারি প্রণোদনা সহায়তা মেলে। এসব চাষি বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক সুবিধা পান। কিন্তু এখানকার চাষিরা বছরভর কোটি কোটি টাকার সবজির চারা উৎপাদন করলেও প্রণোদনার আওতার বাইরে রয়েছেন। চারা উৎপাদনের পুঁজি জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে চড়া সুদে এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়। উচ্চমূল্যের সার, বীজ ও কীটনাশকের কারণে উৎপাদন ব্যয়ও অনেক বেড়ে গেছে। এমন অবস্থায় চারা ও বীজ নষ্ট হওয়ায় আর্থিক লোকসানের পাশাপাশি ঋণের বোঝাও বেড়েছে।


    আব্দুলপুরের আরেক চাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৩৩ শতক জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি ও বেগুনের চারা উৎপাদনে নেমেছিলেন। দুদিনের বৃষ্টিতে আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে। চারা নষ্ট ও বীজ পচে আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, কিস্তি ঠিকমতো পরিশোধ করতে না পারায় ঋণের বোঝা বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতি উত্তরণে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে সরকারি ঋণসুবিধা পেলে সবজির চারা উৎপাদনকারীরা উপকৃত হতেন।


    এনজিও থেকে উচ্চ সুদে ঋণ না নিয়ে কৃষি ব্যাংক বা এ ধরনের ঋণ দেয় এমন ব্যাংকের সুবিধা কেন নেন না- এ প্রশ্নের জবাবে সবজির চারা উৎপাদনকারী চাষি আসাদুজ্জামান বলেন, ঋণ নিতে গেলে নানা কাগজপত্র চায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। কাগজপত্র তৈরি ও জমা দিতে দিনের পর দিন ব্যাংকে ঘুরতে হয়। তারপরও ঋণ পাওয়া যায় না। দেখা যায়, এভাবে ঘুরতে ঘুরতে ঋণ মিললেও মৌসুম শেষ হয়ে যায়। তিনি বলেন, এনজিও ঋণ নিয়ে ১০ শতক জমিতে উৎপাদিত ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন ও টমেটোর চারা এবং রোপণ করা সব বীজ নষ্ট হয়ে লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা অবস্থায় রয়েছি। আরেকটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবার নতুন করে শুরুর চেষ্টা করছি।


    ৩৩ শতক জমিতে চারা ও বীজ নষ্টে ক্ষতির শিকার চাষি জাকির হোসেনের ভাষ্য, কৃষি সেক্টরের চারা উৎপাদনের এই খাতটি একদম অবহেলিত। কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এ খাতটি প্রণোদনা ও ঋণসুবিধার আওতায় নেই। সরকারের এদিকে নজর দেওয়া উচিত।
    কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ৬৬ শতক জমিতে চারা উৎপাদন করেছিলাম। বেড তৈরি থেকে শুরু করে বীজ, সার ও পরিচর্যায় লাখ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। তিনি বলেন, মাঠের পানি নিষ্কাশনের কালভার্টটি অত্যন্ত ছোট। সরু ও অপ্রশস্ত হওয়ায় পানি নিষ্কাশন না হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টদের কাছে নতুন করে প্রশস্ত একটি কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানাই।


    এ ব্যাপারে ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, দুদিনের টানা বৃষ্টিতে পানি জমে টমেটো, বেগুন, ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। অন্যান্য সবজি ও ফসলের আবাদ করে কীভাবে এই ক্ষতি দ্রুত পুষিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

  • দেশজুড়ে ৫ দিন বৃষ্টির আভাস

    দেশজুড়ে ৫ দিন বৃষ্টির আভাস

    আবহাওয়া ডেস্ক:

    দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী পাঁচ দিন রাজধানীসহ সব বিভাগেই টানা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    একই সঙ্গে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে দেশের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

    রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির-এর দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    ঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে, এবং সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

  • কচু চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

    কচু চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

    উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের টিটা, নন্দ্রিগ্রাম, কুমুরতিয়া ও টিটা পানাইল গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ছিল মধুমতি নদী। নদীটি এখন বাওড়ে পরিণত হয়েছে। গোপালপুর গ্রামের এক অংশের ওপর দিয়ে মধুমতি নদী ছিল সেখানেও বাওড়ে পরিণত হয়েছে। এসব বাওড়ের দুই পাশের চরাঞ্চলে পড়ে থাকা পতিত জমিতে হচ্ছে কচু চাষ। চরাঞ্চলের চাষ করা কৃষকদের কচুর চাহিদা বেশি। এখানে জমির পলিযুক্ত দোআঁশ মাটিতে কচুর আবাদ ভালো হয়ে থাকে। মাটির গুণাগুন ভালো থাকায় সার, কীটনাশক কম ব্যবহার হয়। এ জন্য কৃষকদের লাভ বেশি হয়। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে কচুর চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাওড়ের পাড়ের কৃষকরা নিচু জমিতে সাদা কচুর আবাদ করছেন।


    মধুমতী বাওড়ের পাশে নন্দ্রীগ্রামের কৃষক খোকন শেখ বলেন, ‘এ বছর ৬০ শতাংশ জমিতে কচুর চাষ করেছি। সর্বমোট আমার খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। প্রায় পাঁচ হাজার পিচ কচু ক্ষেতে বড় হয়েছে। ক্ষেত থেকে ব্যাপারীরা প্রতি পিচ ৫০ টাকা করে নিয়ে যায়। রমজান মাস থেকে কচুর লতি বিক্রি করছি। অর্ধ লক্ষ টাকার বেশি কচুর লতি বিক্রি করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ৬০ শতাংশ জমি থেকে কচু চাষ করে দেড় লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি।’


    গোপালপুর গ্রামের কৃষক আশরাফ খান বলেন, ‘১১ শতাংশ জমি ১১ শত টাকা দিয়ে লিজ নিয়ে কচু চাষ করতে গিয়ে ১২ হাজাট টাকার খরচ হয়েছে। ক্ষেতে প্রায় এক হাজার কচু হয়েছে অধিকাংশ কচু বিক্রি করে দিয়েছি। প্রতি পিচ কচু ক্ষেত থেকে ব্যাপারীর ৩৫-৪০ টাকা করে কিনে নিয়েছে। এ বছর কচু ক্ষেত থেকে ২২-২৫ হাজার টাকা লাভ হবে।’
    আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের সবজি বিক্রেতা সবুজ মিয়া বলেন, ‘সপ্তাহে দুই দিন আলফাডাঙ্গা হাট বসে। নন্দীগ্রাম ও গোপালপুর গ্রাম থেকে কচু ক্রয় করে হাটের দিনে বিক্রি করি। প্রতি পিস কচু গড়ে ৩৫-৫০ টাকা দিয়ে ক্রয় করে ৫০-৮০ টাকা বিক্রি করছি।’


    আলফাডাঙ্গায় বাজার করতে এসে বড় সাইজের একটি কচু ৮০ টাকা দিয়ে ক্রয় করে মাহাতাব উদ্দিন বলেন, ‘বাজারে অন্য সবজির তুলনায় কচুর দাম কম। পরিবারের সবাই কচু খেতে পছন্দ করে।’
    আলফাডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার তুষার সাহা বলেন, ‘মধুমতি চরাঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কচুর চাহিদার পাশাপাশি আবাদি জমির পরিমাণও বেড়েছে। কম পরিশ্রমেই চাষ করা যায় এই সজবি। তাই মধুমতি চরাঞ্চলের কৃষক কচু চাষে ঝুঁকছেন।’

  • ২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছেনা

    ২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছেনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী ২০ জুলাইকে লক্ষ্য ধরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। তবে ফল প্রকাশের সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, সরকারের নির্দেশনা ও নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ফল প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে ফল প্রস্তুতের মূল কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ফলাফল তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তারা দিনরাত কাজ করছেন।

    সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করার রেওয়াজ রয়েছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী এ বছর ২১ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। অন্যদিকে, মাদ্রাসা (দাখিল) ও কারিগরি (এসএসসি ভোকেশনাল) বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।

    এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা বোর্ডে দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

  • বিশ্বকাপ ফাইনালে এক টিকিটের দাম ৭৪ লাখ টাকা!

    বিশ্বকাপ ফাইনালে এক টিকিটের দাম ৭৪ লাখ টাকা!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ শুরুর আগেই টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। ফাইনালকে ঘিরে সেই দাম এখন আরও বেড়েছে। শেষ মুহূর্তে ফাইনালের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারে।

    শনিবার ফিফার অফিসিয়াল টিকিটিং ওয়েবসাইটে গোলপোস্টের পেছনের গ্যালারির সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্য ছিল ৬ হাজার ৪১১ দশমিক ২৫ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ লাখ টাকা। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়।

    এরপর সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্যও প্রায় ১০ হাজার ডলারে পৌঁছে যায়। স্টেডিয়ামের আপার ডেকের কর্নার অংশের এসব টিকিটের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ লাখ টাকা।

    মাঠের কাছাকাছি আসনের টিকিট কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৬ হাজার ডলার। আর বিশেষ হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিটের মূল্য উঠেছে প্রায় ৬০ হাজার ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৪ লাখ টাকার সমান।

    টিকিট পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম সিটগিক ও স্টাবহাবেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে আপার ডেকের টিকিটের দাম শুরু হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ডলার থেকে। লোয়ার বোলের কিছু আসনের মূল্য পৌঁছেছে প্রায় ৩৫ হাজার ডলারে।

    এবারের ফাইনাল ঘিরে সমর্থকদের আগ্রহের বড় কারণ, বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। পাশাপাশি এটি বিশ্বকাপে মেসির সম্ভাব্য শেষ ম্যাচ বলেও ধরা হচ্ছে।

    ফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলবে তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্যে। একই সঙ্গে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগও রয়েছে তাদের সামনে। সর্বশেষ ব্রাজিল ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে টানা দুটি বিশ্বকাপ জিতেছিল।

    অন্যদিকে, ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে স্পেন। চলতি আসরে মেসি এখন পর্যন্ত ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছেন। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল।

    বিশ্বকাপের আগে গত মার্চে কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মধ্যে ফিনালিসিমা হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ম্যাচটি বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত দুই দলের লড়াই হচ্ছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে।

  • ব্রিজ ভেঙ্গে কাউখালী-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    ব্রিজ ভেঙ্গে কাউখালী-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    অতিরিক্ত ইটবোঝাই ট্রাকের ভারে বেইলি ব্রিজ বিধ্বস্ত হয়ে কাউখালী থেকে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটির সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

    শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ২টার কিছু পর সড়কের সাহেবনগর এলাকায় ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চি করে বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। ট্রাকটি সরিয়ে নেয়ার পর দ্রুততার সাথে ব্রিজের পাটাতন ঠিক করে সড়ক যোগাযোগ পুনঃ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

    জানা যায়, কাউখালী উপজেলা সদর থেকে রাঙ্গামাটি জেলা সদর ও চট্টগ্রামের সাথে একমাত্র সড়ক যোগাযোগ স্থাপনকারী কাউখালী-রাণীরহাট সড়ক। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক থেকে কাউখালী উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এ সড়কের চারটি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ রয়েছে। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ এসব বেইলি ব্রিজ অকেজো হলেও জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে সড়ক যোগাযোগ চলমান রয়েছে।

    এ সড়কের চারটি বেইলি ব্রিজের মধ্যে দুটিতে কংক্রিটের ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও তা চলছে মন্থর গতিতে। শনিবার সকালে সাহেবনগর এলাকা থেকে অতিরিক্ত ইটবোঝাই একটি ট্রাক বেইলি ব্রিজটি অতিক্রম করার সময় ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে ট্রাকসহ ধসে পড়ে। এতে বন্ধ হয়ে যায় সড়ক যোগাযোগ।

    কাউখালী উপজেলাসহ রাঙ্গুনীয়া উপজেলার একটি এলাকার লোকজন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। উপরন্তু কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কোনো রোগী রাঙ্গামাটি বা চট্টগ্রাম আনা-নেয়ার একমাত্র সড়ক এটি। ফলে ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে ট্রাক আটকে যাওয়ায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শত শত যানবাহন দু’পাশে আটকে পড়ে। এতে মারাত্মক দুর্ভোগের মধ্যে সড়কে চলাচল করা যাত্রীরা।

    এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৩-৫ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার এসব বেইলি ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৩৫ মেট্রিক টন গাছ, বাঁশ ও ইটবোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। ফলে বছরের বেশির ভাগ সময়ই এ জাতীয় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

  • বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

    বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

    বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিনদিন বাড়ছে। এই বাণিজ্য চালিয়ে যেতে মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বাড়ছে।

    লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার আজ শনিবার বিনিময় হার

    বৈদেশিক মুদ্রা – বাংলাদেশি টাকা

    মালয়েশিয়ান ১ রিংগিত ৩০ টাকা ২২ পয়সা

    সৌদির রিয়াল – ৩২ টাকা ৮৯ পয়সা

    মার্কিন ডলার – ১২৩ টাকা ১৬ পয়সা

    ইউরোপীয় ইউরো – ১৪৩ টাকা ৫৫ পয়সা

    ইতালিয়ান ইউরো – ১৪৩ টাকা ৫৫ পয়সা

    ব্রিটেনের পাউন্ড – ১৬৬ টাকা ৩৪ পয়সা

    সিঙ্গাপুরের ডলার – ৯৫ টাকা ৭৩ পয়সা

    অস্ট্রেলিয়ান ডলার – ৮৬ টাকা ৭৪ পয়সা

    নিউজিল্যান্ডের ডলার – ৭২ টাকা ৩১ পয়সা

    কানাডিয়ান ডলার – ৮৭ টাকা ৯১ পয়সা

    ইউ এ ই দিরহাম – ৩৩ টাকা ৬৪ পয়সা

    ওমানি রিয়াল – ৩১৯ টাকা ০৫ পয়সা

    বাহরাইনি দিনার – ৩২৭ টাকা ৮৫ পয়সা

    কাতারি রিয়াল – ৩৩ টাকা ৯৩ পয়সা

    কুয়েতি দিনার – ৪০২ টাকা ০৬ পয়সা

    ইন্ডিয়ান রুপি – ১ টাকা ২৪ পয়সা

    ।

  • গাংনীতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

    গাংনীতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার বিকেলে গাংনী মিনি স্টেডিয়াম (সাহারবাটি) মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।

    গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন এবং যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে তিনি বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামছুল আলম সোনা, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, মেহেরপুর জেলা সমন্বয়কারী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট শাকিল আহমাদ, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আখেরুজ্জামান, গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।

    এছাড়াও কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইন, সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমা তারা, ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মুন্টুসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা উপভোগ করতে স্টেডিয়ামে বিপুলসংখ্যক দর্শকের সমাগম ঘটে। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি, মেডেল ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

  • চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তায় বিজিএমইএ

    চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তায় বিজিএমইএ

    চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমানের উদ্যোগে এবং ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি এনামুল আজিজ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য এ ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

    কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১৪ ও ১৬ জুলাই যথাক্রমে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিপিএম-এর নিকট বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে ২০০ বস্তা করে ত্রাণসামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়, যাতে সেগুলো দ্রুত বন্যাকবলিত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।

    ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করেন বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি এনামুল আজিজ চৌধুরী, পরিচালক ও প্রাক্তন প্রথম সহ-সভাপতি এস. এম. আবু তৈয়ব, পরিচালক এমডি. এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, প্রাক্তন পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন এবং বিজিএমইএ’র বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ওদুদ মোহাম্মদ চৌধুরী, কাজী শফিকুল ইসলাম (টিটু), আরশাদ-উর-রহমান, রিয়াজ ওয়ায়েজ ও বশির উদ্দিন আহমেদ। এ সময় সিএমপি, জেলা পুলিশ এবং বিজিএমইএ’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ত্রাণ গ্রহণকালে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিপিএম বিজিএমইএ’র এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, ত্রাণসামগ্রী দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    এর আগে, গত ১৫ জুলাই বিজিএমইএ’র বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

    বিজিএমইএ’র নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের যে কোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। তারা বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বিজিএমইএ তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • চোরাই মোটরসাইকেলসহ দুই চোর  গ্রেপ্তার

    চোরাই মোটরসাইকেলসহ দুই চোর গ্রেপ্তার

    নোয়াখালীতে বিডিনিউজের জেলা প্রতিনিধি আবু নাছের মঞ্জুর চুরি হওয়া মোটরসাইকেলসহ দুটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তাররা হলেন হাতিয়া উপজেলার শূণ্যের চর এলাকার মিরাজ উদ্দিনের ছেলে মো. ফয়সাল (৩৫) এবং সুবর্ণচর উপজেলার চর আলাউদ্দিন এলাকার রফিক উল্লাহর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩২)।

    সুধারাম মডেল থানার পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কাঞ্চন মেম্বারের পুল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই রাতে নোয়াখালী জেলা শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিডিনিউজ ও ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আবু নাছের মঞ্জুর মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরদিন তিনি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

    এদিকে, প্রায় দুই মাস আগে সোনাপুর এলাকা থেকে জয়দেব নামে এক যুবকের মোটরসাইকেল চুরি হয়। শুক্রবার গ্রেপ্তার ফয়সাল মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার কথা বলে জয়দেবের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেন। পরে মোটরসাইকেল ফেরত দিতে গড়িমসি করলে জয়দেব ও তার বন্ধুরা কৌশলে ফয়সাল ও জাহাঙ্গীরকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে পুলিশকে খবর দেন।

    খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানার এসআই ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে প্রথমে আবু নাছের মঞ্জুর মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। পরে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই জয়দেবের চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়।

    সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ফয়সাল ও জাহাঙ্গীর আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এক জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে অন্য জেলায় পাচার করে আসছিল। সম্প্রতি নোয়াখালী থেকেও তারা আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরি করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • লালমনিরহাটে সতি নদী থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

    লালমনিরহাটে সতি নদী থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় সতি নদী থেকে শিশু বর্মন (৫০) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার হররাম এলাকার তারক নাথ চন্দ্রের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ধানের চারা রোপণের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন শিশু বর্মন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে হররাম পূর্বপাড়া গ্রামের সতি নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল রানা জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই শিশু বর্মন নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকালে নদীতে তার লাশ ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ধারণা, নদী পার হওয়ার সময় পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ওসমান গনি বলেন, স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • কুয়েত প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের জরুরি নির্দেশনা

    কুয়েত প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের জরুরি নির্দেশনা

    বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কুয়েতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকার বিভিন্ন ভবন থেকে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সরিয়ে নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এছাড়া উচ্ছেদ হওয়া প্রবাসীদের জন্য হাসাবিয়া এলাকার একটি সরকারি বিদ্যালয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

    স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল। দূতাবাসের কাউন্সেলর ও মিশন প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং শ্রম কল্যাণ শাখার কাউন্সেলর শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেয়। পাশাপাশি স্থানীয় কুয়েতি কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করে তারা।

    কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র থাকা প্রবাসীদের যাচাই-বাছাই শেষে আশ্রয়কেন্দ্র ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের ডিপোর্টেশন সেন্টারের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

    কুয়েতি কর্মকর্তারা প্রতিনিধি দলকে জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ এবং অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই ধরনের অভিযান দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও চালানোর প্রস্তুতি চলছে।

    এ ছাড়া, সাময়িক আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র দেখিয়ে সেখানে অবস্থান করতে পারলেও কর্মস্থলে যাওয়া বা অন্য কোনো কারণে বাইরে বের হতে পারবেন না।

    পরিস্থিতি বিবেচনায় কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের আবাসনসংক্রান্ত সব বৈধ কাগজপত্র হালনাগাদ রাখার এবং বাইরে চলাচলের সময় অবশ্যই সিভিল আইডি বা বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

  • ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা হতে পারে ২৪০০০ মেগাওয়াট

    ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা হতে পারে ২৪০০০ মেগাওয়াট

    দেশে আগামী পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ চাহিদা ২৪ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। প্রতি বছর এই চাহিদা বাড়লেও সেই বৃদ্ধির গতি ২০৩০ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যেই থাকার কথা।

    আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী জরুরি পরিস্থিতি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা রাখা হয়, যাকে স্পিনিং রিজার্ভ বলা হয়।

    সেই হিসাবেও ২০৩০ সালে দেশের মোট প্রয়োজন ৩০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হচ্ছে।

    বাস্তবে বর্তমানে নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলো শেষ হলে এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে এলে সক্ষমতা প্রায় ৩৭ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। যদিও এর মধ্যে কিছু পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে। তবু থেকেই যাবে প্রয়োজনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত সক্ষমতা।

    দেশে এখন ৩১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন, যেগুলোর কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। এসব কেন্দ্রের বেশিরভাগই জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক এবং মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট।

  • ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার না বুঝে, বিনিয়োগ করেন’

    ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার না বুঝে, বিনিয়োগ করেন’

    পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, বিগত চার দশকে পুঁজিবাজারের প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। কিন্তু, তাদের অধিকাংশের পুঁজিবাজার নিয়ে জ্ঞান নেই। অথচ, তারা মনে করেন যে, তারা শেয়ারবাজার বোঝেন।

    তিনি বলেন, এসব বিনিয়োগকারী শুনে শুনে বিনিয়োগ করেন। তারা গেম্বলারদের পেছনে ছোটেন। তারা যখন কোনো শেয়ার কেনেন, তারা সবাই একটি শেয়ারই কেনেন। এতে তারা বারবার মার্কেট ম্যানুপুলেটারদের মাধ্যমে প্রতারিত হন।

    শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক ছায়া সংসদে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী।

    বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের বিনিয়োগকারীরা দ্রুত বড়লোক হতে চান। তারা সেজন্য ভালো শেয়ারে না গিয়ে দুর্বল শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। আমাদের দেশে তো বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজার নিয়ে জ্ঞান নেই। এখানে কী করতে হবে? বিনিয়োগকারীদের গাইড করার লোক থাকতে হবে। এজন্য মিউচুয়াল ফান্ডের গুরুত্ব বাড়াতে হবে।

    তিনি বলেন, আমরা যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছি, তাতে বাজার ঘুরে দাঁড়াবেই। ভবিষ্যতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ওপর তদারকিও অনেক বাড়িয়ে দেব। ফলে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর হাতে সিগনেচার প্রক্রিয়া রাখবো না। এটিকে ডিজিটালাইজড করা হবে। এতে ব্রোকারেজ হাউজগুলো যে প্রক্রিয়ার দুর্নীতি করে থাকে, সেটির আর সুযোগ থাকবে না।

    শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই প্রধান আরো বলেন, রেগুলেটর ও মার্কেট— দুটো দিকই দেখতে হবে। একটা দেখলে হবে না। গতবছর যে মার্জিন রুলস হলো, সেটি বাজারে বিনিয়োগকারীদের অনেকটা নিরাশ করেছে। তাই, আমরা এটিকে পুনরায় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি।

    শীর্ষক ছায়া সংসদে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে প্রাইম ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন- অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক ফারুক মেহেদী, সাংবাদিক ইকবাল আহসান ও সাংবাদিক হোসাইন শাহাদাত।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো: নাহিদ ইসলাম   

    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো: নাহিদ ইসলাম   

    সরকার গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে তাহলে গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে আমরা বাধ্য হবো। শনিবার (১৮ জুলাই) বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা এখানো কোনো কঠোর কর্মসূচি দেই নাই। আমরা হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দেই নাই। কিন্তু যেকোনো সময় সেই ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। আমরা বাংলাদেশে এই মুহূর্তে এই ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে ছিলাম না। কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রমশ পরিস্থিতি কে সেই দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।

    এনসিপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা। কারণ আমরা দেখলাম যেই গণভোটের পক্ষে, যেই জুলাই সনদের পক্ষে তিনি হ্যাঁ এর প্রচারণা করলেন, নির্বাচনের ফলাফলের পরে ৭০ শতাংশ জনগন গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দেওয়া সত্ত্বেও তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। অন্যদিকে মুখে বলে যাচ্ছেন জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো। গণঅভুত্থানের সময় আমাদের একটা স্লোগান ছিল নাটক কম করো পিও। তারেক রহমানকেও বলে দিচ্ছি নাটক কম করেন পিও। বাংলাদেশের জনগন আপনাকে ক্ষমতা দিয়েছে মানে এই নয়, আপনি যা খুশি করবেন, যেরকম খুশি ছলনা, প্রতারণা এদেশের জনগণের সাথে করবেন।

    বিএনপি গত ১৬ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, কিন্তু দুঃখের বিষয়, ৫ আগস্টের পর থেকে তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে লড়াই করে যাচ্ছে। আসলকথা বিএনপি কখনই গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলনা । তারা লড়াই করেছে ক্ষমতার জন্য। তারা গণঅভ্যুত্থানে আমাদের সাথে কাধ মিলিয়েছিল ক্ষমতার জন্য। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে এখন তারা সংস্কারের কথা বলে না।

  • চুয়াডাঙ্গায় খাবারে কেওড়া জল ব্যবহারের অভিযোগে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় খাবারে কেওড়া জল ব্যবহারের অভিযোগে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গা শহরে বিরিয়ানি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পরিচালিত তদারকিমূলক অভিযানে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় ঢাকা কাচ্চি বাড়ি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর থানা রোডের বিভিন্ন বিরিয়ানি হাউজে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরিয়ানি খেয়ে কয়েকজন অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর জনস্বার্থে এই তদারকি অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানটি পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান।

    তিনি জানান, ডিজে স্কুলের সামনে অবস্থিত আনিছজ্জামানের মালিকানাধীন ঢাকা কাচ্চি বাড়িতে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহারের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।’

    একই অভিযানে, শাহী নান্না বিরিয়ানি হাউজ ও বিসমিল্লাহ বিরিয়ানি হাউজ পরিদর্শন করা হয়। সেখানে নিষিদ্ধ কেওড়া জল বা ক্ষতিকর ফুড কালারের ব্যবহার পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত হালনাগাদ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো ধরনের নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করা হয়।

    অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন পৌর স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নার্গিস জাহান, জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ, সাধারণ সম্পাদক সুমন পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহলদার ইমরান রিন্টু, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম এবং সদর থানা পুলিশের একটি টিম।

  • আজ থেকে ‘গৃহযুদ্ধ’

    আজ থেকে ‘গৃহযুদ্ধ’

    বাশার সাহেব একজন সফল ব্যবসায়ী। ঢাকা শহরে তার গাড়ি-বাড়ি, টাকা-পয়সার অভাব নেই। তবে এসবই তার শ্বশুরের কাছ থেকে পাওয়া। তাই ঘরজামাই হিসেবে বউকে ভয় পেয়ে চলে সে। বউ জুলেখা তাকে কড়াকড়ি নজরে রাখে। বাশার সাহেব কোনো মেয়ের দিকে তাকালেও সেটা নিয়ে তুমুল ঝগড়া বেঁধে যায় ঘরে।

    এর মধ্যেই হঠাৎ গ্রাম থেকে তাদের বাসায় আসে কুদ্দুস, তার মা জামেলা ও তার বোন রাবেয়া। কুদ্দুস নিজেকে বাশার সাহেবের ছেলে হিসেবে দাবি করে, কুদ্দুসের মা নিজেকে বাশার সাহেবের স্ত্রী হিসেবে দাবি করে। বাশার সাহেবের সম্পত্তির ভাগের জন্যই তারা ঢাকায় এসেছে বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এরপর বাড়ির মধ্যে শুরু হয় লঙ্কাকাণ্ড। এমন গল্প নির্মাণ হয়েছে ধারাবাহিক নাটক ‘গৃহযুদ্ধ’।

    মহিন খানের রচনা ও পরিচালনায় নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সালাউদ্দিন লাভলু, চিত্রলেখা গুহ,আরফান আহমেদ, শেলী আহসান, রকি খান, ফাতেমা-তুজ-জোহরা, সাব্বির অর্ণব, হায়দার আলী, জুলফিকার চঞ্চল, সীমান্ত আহমেদ, হানিফ পালোয়ান,জ্যোতি ইসলাম, অনন্যা ইসলাম, সুমাইয়া অর্পা, হিরা মনি, রিমু রোজা খন্দকার প্রমুখ।

    নির্মাতা জানান, আজ শনিবার থেকে ‘গৃহযুদ্ধ’ প্রচার হবে বৈশাখী টেলিভিশনে। সপ্তাহের প্রতি শনি, রবি ও সোমবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে দেখা যাবে এটি।

  • ক্ষমতাসীনদের দুর্বলতায় আবারো গণঅভ্যুত্থান হতে পারে: সেলিম উদ্দিন

    ক্ষমতাসীনদের দুর্বলতায় আবারো গণঅভ্যুত্থান হতে পারে: সেলিম উদ্দিন

    ৩৬ জুলাই’ স্মরণে রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন সড়কে ‘জুলাই গ্রাফিতি আর্ট’ কর্মসূচি শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর। শনিবার সকালে নর্থ টাওয়ার হাউজবিল্ডিং এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

    এ সময় তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনদের দুর্বলতা ও জনগণের গণভোটের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষার কারণেই ভবিষ্যতে আবারও জুলাইয়ের মতো একটি গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এমন পরিস্থিতি যেন না হয়, সেদিকে সরকারের সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিত। এছাড়া কেউ কেউ আওয়ামী লীগের ভাষ্য অনুসরণ করে তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    ডিএনসিসির এই মেয়র প্রার্থী আরও বলেন, জুলাইয়ের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নেবে, তারা জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হবে। জুলাই নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র কিংবা অপমানজনক বক্তব্য দেশের মানুষ মেনে নেবে না। জুলাইকে নিয়ে অপপ্রচারের পরিণতি ভালো হবে না।

    তিনি বলেন, কোটি মানুষের অংশগ্রহণে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই ‘৩৬ জুলাই’-এর সফলতা অর্জিত হয়েছে। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেই বাংলাদেশ পরিচালিত হতে হবে। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন জুলাইয়ের স্মৃতি ও গ্রাফিতি রাষ্ট্রের উদ্যোগে সংরক্ষণ করা উচিত।

    সেলিম উদ্দিন বলেন, জুলাই আন্দোলনে উত্তরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখানে অসংখ্য মানুষ শহীদ ও আহত হয়েছেন। সে সময় তৎকালীন সরকারের বাহিনী ঘরে ঘরে অভিযান চালিয়ে নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়েছে। তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে যেভাবে আওয়ামী লীগের পুরনো বয়ান তুলে ধরা হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। জুলাইয়ের ইতিহাস বিকৃত বা অপমানের কোনো প্রচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।

    আয়োজকরা জানান, আগামী ২০ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত ‘স্মৃতিতে জুলাই’ শীর্ষক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘তুলিতে জুলাই’ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। একই সঙ্গে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত চলবে গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি। কর্মসূচি শেষে শহীদ মুগ্ধ মঞ্চে সেরা গ্রাফিতি শিল্পীদের পুরস্কৃত করা হবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের উত্তরা পূর্ব অঞ্চলের পরিচালক জামাল উদ্দিন, উত্তরা মডেল থানা আমির ইব্রাহিম খলিল, পশ্চিম থানা আমির মাজহারুল ইসলাম, তুরাগ দক্ষিণ থানা আমির মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, তুরাগ মধ্য থানা আমির গাজী মনির হোসাইন, দক্ষিণখান পূর্ব থানা আমির আবু সাঈদ, উত্তরখান পশ্চিম থানা আমি নিজাম উদ্দিন, মহানগর যুব বিভাগের সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, তুরাগ মধ্য থানা নায়েবে আমির কামরুল হাসান, ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তরের দপ্তর সম্পাদক তাহমিদ হুজাইফা প্রমুখ।

  • বায়ু-শব্দদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    বায়ু-শব্দদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ইটভাটাজনিত দূষণ রোধ, রাজধানী থেকে ফিটনেসবিহীন ও পরিবেশ দূষণকারী যানবাহন অপসারণ এবং অতিরিক্ত হর্নের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

    শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে দেশের বায়ু ও শব্দদূষণের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তা নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    সভায় ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

    রাজধানীতে যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারের কারণে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এ বিষয়ে আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    বৈঠকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরার আদলে হর্ন নিয়ন্ত্রণেও এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও পরিবেশ দূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

    নগরীর যানজট কমানো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ঢাকার আরও অন্তত ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম চালুর নির্দেশ দেন তিনি।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • প্রাথমিক বদলি কমিটিতে নতুন ৭ শর্ত

    প্রাথমিক বদলি কমিটিতে নতুন ৭ শর্ত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি ও পদায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের সংশোধন এনেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিতর্কিত ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার বিধান বাতিল করে এবার যুক্ত করা হয়েছে শিক্ষানুরাগী বা বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিদের। একই সঙ্গে জাতীয় কমিটি গঠনে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি শিক্ষক বদলিতে সাতটি নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২১ জুন চারস্তরের কমিটির মাধ্যমে সনাতন পদ্ধতিতে বদলির নতুন নিয়ম চালু করা হলে শিক্ষা প্রশাসন ও শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের একাংশের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেই বিতর্কের মুখেই অবশেষে নীতিমালায় এ পরিমার্জন আনল মন্ত্রণালয়।

    সমালোচনার কারণ ‘গণমান্য ব্যক্তি’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছিল, তা স্পষ্ট ছিল না। এতে আশঙ্কা করা হয়, সরকারি শিক্ষকদের বদলির মতো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বাইরের ব্যক্তিদের যুক্ত করা হলে স্বচ্ছতার পরিবর্তে তদবির ও প্রভাব খাটানোর সুযোগ বাড়তে পারে।

    গত মাসে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বদলি কমিটিতে সভাপতির মনোনীত দুজন করে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ সদস্য রাখার বিধান করা হয়েছিল। তবে জাতীয় পর্যায়ের কমিটিতে অবশ্য এ ধরনের কোনো সদস্য রাখা হয়নি।

    এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর গত বৃহস্পতিবার বদলির নীতিমালা পরিবর্তন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    পরিবর্তিত নীতিমালাতেও উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয়—এই চারস্তরের কমিটির মাধ্যমেই বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে উপজেলা, জোলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কমিটিতে সভাপতির মনোনীত দুজন করে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’র পরিবর্তে বিদ্যোৎসাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

    বিভাগীয় কমিটির সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা বা থানা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থাকবেন।

    এ ছাড়া জাতীয় কমিটির সভাপতির পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় কমিটির সভাপতি হবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিদ্যালয়) ও সদস্য সচিব হবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন)। গত মাসের নীতিমালায় জাতীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবকে।

    বদলিতে যুক্ত হলো সাত শর্ত

    বদলির আবেদনের প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা কী হবে, তা আগের নীতিমালায় বলা হয়নি। ওই নীতিমালায় বলা হয়েছিল, কমিটিগুলো প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেবে। একই উপজেলা, জেলা বা বিভাগের মধ্যে বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে আদেশ জারি করা হবে।

    অন্যদিকে আন্তঃবিভাগ ও সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে বদলির আবেদন জাতীয় কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। এ ছাড়া নতুন নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পদায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা কমিটিকে। এসব নিয়মের অধিকাংশই রয়েছে।

    তবে পরিবর্তিত নীতিমালায় সাত ধরনের শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এক. চাকরির মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ না হলে কোনো সহকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকা বদলিযোগ্য হবেন না। যে ক্ষেত্রে বদলির পর তিন বছর অতিক্রম না হলে কোনো শিক্ষক পুনঃবদলির জন্য বিবেচিত হবেন না। দুই. সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে কেবল শূন্য পদের বিপরীতে বদলি করা যাবে। তিন. কোনো শিক্ষকের আবেদন ছাড়া নিজ বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা যাবে না। তবে জনস্বার্থে বা প্রশাসনিক কারণে জাতীয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে বদলি করা যাবে। চার. যেসব বিদ্যালয়ে পাঁচজন বা তার কমসংখ্যক শিক্ষক কর্মরত আছেন কিংবা শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০-এর বেশি, সেসব বিদ্যালয় থেকে বদলি করা যাবে না। পাঁচ. একই বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষক আবেদন করলে যথাক্রমে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা অগ্রাধিকার পাবেন। ছয়. একটি বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ তিনজন শিক্ষককে ‘সংযুক্তি’ পদায়ন করা যাবে। সাত. বদলির ক্ষেত্রে সব শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে শিক্ষিকারা স্থায়ী ঠিকানা বা স্বামীর ঠিকানার নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

  • হাসিনাকে দিয়ে এক ঢিলে বহু পাখি মারতে চাই দিল্লি

    হাসিনাকে দিয়ে এক ঢিলে বহু পাখি মারতে চাই দিল্লি

    প্রায় দুই বছর ধরে ভারতের মাটিতে থাকা হাসিনা নেতা-কর্মীদের নিয়ে ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে চান। দেশে ফিরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। তার এই বক্তব্য সামনে আসার পর বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেও তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে দিল্লির পর্যবেক্ষকেরা একে ‘দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা’ হিসেবে দেখার চেয়ে ‘জল মাপার চেষ্টা’ হিসেবেই বেশি দেখছেন।

    শেখ হাসিনার ভারতে থাকা নিয়ে দিল্লির অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে অপরিবর্তিত রয়েছে। গত কয়েক দিনে ভারতের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারত শেখ হাসিনাকে নিজে থেকে ডেকে এনে আশ্রয় দেয়নি, আবার এখন জোর করে তাড়িয়েও দিচ্ছে না।

    সাউথ ব্লকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, ‘পরিস্থিতি যাচাই করে তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, ফিরবেন। আর যদি মনে করেন ভারতেই থাকবেন, তাহলে তাই।’

    গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানান, তিনি আগামী ডিসেম্বরে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। তিনি আরো বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি ফাঁসিও দেওয়া হতে পারে, এটা জেনেও তিনি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    শেখ হাসিনার এই বক্তব্য নিয়ে দিল্লির শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিক এবং ভারতে আশ্রিত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। এই আলোচনা থেকে প্রধানত দুটি বিষয় উঠে এসেছে—

    প্রথমত, শেখ হাসিনা এ কথা বলেছেন মানেই তিনি ডিসেম্বরেই ভারত থেকে ঢাকায় ফিরবেন—এমনটা নাও হতে পারে। মাঝের এই পাঁচ মাসে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, বাংলাদেশ সরকার কী প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ব হাসিনাকে নিয়ে কী মনোভাব পোষণ করে—এই সব বিষয়ের ওপরই তার প্রত্যাবর্তন নির্ভর করবে।

    দ্বিতীয়ত, হাসিনা এই সিদ্ধান্ত কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে না নিলেও, তিনি যে ভারতের প্রচ্ছন্ন সম্মতি ছাড়া এই বক্তব্য দেননি, সে বিষয়ে পর্যবেক্ষকরা একমত। ভারত সরকারও মনে করছে, এই ঘোষণায় তাদের ক্ষতি নেই, বরং লাভ বেশি। হাসিনা ফিরে গেলে ভারত দু-বছরের কূটনৈতিক অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাবে। আর যদি না-ও ফেরেন, তাহলেও দিল্লি বলতে পারবে যে হাসিনা তো ফিরতেই চেয়েছিলেন, কিন্তু বাংলাদেশ সরকার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। ফলে এই বক্তব্যকে ‘এক ঢিলে অনেকগুলো পাখি মারা’র শামিল বলে মনে করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে বলটা বাংলাদেশ সরকারের কোর্টে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

    ঢাকায় ভারতের সাবেক হাই কমিশনার পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী মনে করেন, শেখ হাসিনা সত্যিই ফিরতে সিরিয়াস, কারণ আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে তার ফেরা দরকার।

    তিনি বলেন, হাসিনা ঢাকায় ফিরলে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করবেন এবং বিচার চলাকালীন তাকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হতে পারে। সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্দার আড়ালে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে দরকষাকষি হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

    দিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক জয়ন্ত রায়চৌধুরীর মতে, শেখ হাসিনা বিএনপির কাছে বার্তা দিতে চান যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে অপ্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা তিনি নিজে গিয়ে রুখবেন।

    ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ভারতে আশ্রয় নিয়ে থাকা কয়েক হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর মধ্যে হাসিনার এই বক্তব্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক নেতা মনে করেন, বর্তমান জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হাসিনা ফিরে আসুক, তা বিএনপি সরকার চাইবে না।

    হাসিনা দেশে ফিরলে কতজন তার সঙ্গী হবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, তারা নেত্রীর সঙ্গে বিমানে করে ফিরতে প্রস্তুত।

    তবে সাবেক এক ক্যাবিনেট সদস্য জানান, শেখ হাসিনার বিচারের দিকে আন্তর্জাতিক নজর থাকবে, কিন্তু সাধারণ নেতা-কর্মীরা দেশে ফিরলে তাৎক্ষণিক মিথ্যা মামলায় জেলে চলে যাবেন, যা কেউ জানতেও পারবে না। ফলে শেষ পর্যন্ত কতজন তার সঙ্গী হবেন, তা এখনই বলা মুশকিল।

  • বিশ্বকাপে অজেয় ম্যাক অ্যালিস্টার

    বিশ্বকাপে অজেয় ম্যাক অ্যালিস্টার

    আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কথা উঠলেই সবার আগে উচ্চারিত হয় লিওনেল মেসির নাম। পাশাপাশি কখনও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বীরত্ব আর লাউতারো মার্টিনেজের গোল। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার টানা সাফল্যের নেপথ্যে এমন এক সৈনিক আছেন, যার নাম গ্ল্যামারের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। তিনি অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সেমিফাইনাল জয়ের মাধ্যমে তিনি দারুণ এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন।

    পরিসংখ্যান বলছে, ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘসময় অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি এখন ম্যাক অ্যালিস্টারের দখলে। অপটা জো’র তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে নিজের খেলা ১৩টি ম্যাচের একটিতেও হারেননি এই মিডফিল্ডার। এর মধ্যে জয় পেয়েছেন ১১টি ম্যাচে এবং ড্র করেছেন দুটি। সেই দুটি ড্র হওয়া ম্যাচও শেষে টাইব্রেকারে জিতে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২৬ বিশ্বকাপেও চলছে ম্যাক অ্যালিস্টারের এই অজেয় যাত্রা।

    ডিফেন্স ও অ্যাটাকের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখায় ম্যাক অ্যালিস্টারের জুড়ি নেই। কাতার বিশ্বকাপ থেকেই কোচ লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি। স্কালোনি যেন তার ওপর অন্ধ আস্থা রাখেন, যার প্রমাণ—আর্জেন্টিনার গত চারটি ম্যাচেই তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেছেন, কোনোবারই তাকে তুলে নেওয়া হয়নি। ফাইনালে মেসি বা ইয়ামালের মতো তারকাদের দিকে সবার নজর থাকলেও, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে ম্যাক অ্যালিস্টারই হতে পারেন আর্জেন্টিনার আসল ‘তুরুপের তাস’।

    ম্যাক অ্যালিস্টার নিজেও মনে করেন, আধুনিক ফুটবল এখন অনেক বেশি শারীরিক। আর সেই শারীরিক শক্তির সঙ্গে মেধার সমন্বয় ঘটিয়েই তিনি আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নিতে চান শিরোপার পথে। এনজো ফার্নান্দেজ বা রদ্রিগো ডি পলের সাথে তার রসায়ন আর্জেন্টিনা দলকে দারুণ এক ভারসাম্য এনেছে। ১৩ ম্যাচে ২ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট—এই পরিসংখ্যান হয়তো খুব বেশি কিছু বলবে না, কিন্তু আর্জেন্টিনার এই অজেয় যাত্রায় ম্যাক অ্যালিস্টার ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন আড়াল থেকেই।

  • শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, শিক্ষার্থীরা কেউ অটোপাসের দাবিতে বা পরীক্ষা বাতিলের উদ্দেশ্যে রাজপথে নামেনি। তারা নেমেছে যেন বন্যা, জলাবদ্ধতা ও চরম দুর্ভোগের মধ্যে সাঁতার কেটে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে না হয়। তারা নেমেছে যেন বারবার পরিবর্তিত পরীক্ষা-পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ‘গিনিপিগ’ না হতে হয়। এটি একটি যৌক্তিক, মানবিক এবং ন্যায্য আন্দোলন।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা সরকার পতনের আন্দোলন করতে রাজপথে যায়নি। অথচ কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তি দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হামলা, গ্রেফতার, হয়রানি ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

    এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক আরও বলেন, বিভিন্ন শিক্ষার্থীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের ফোনে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক।

    তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানো, গ্রেফতারের হুমকি দেওয়া এবং হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। শক্তি প্রয়োগ নয়, সংলাপের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। সরকারকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে তাদের বক্তব্য শুনে যৌক্তিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করার আহ্বান জানান তিনি।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মনে রাখতে হবে, শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী নয়। ভিন্নমত প্রকাশ করলেই তাদের নানা রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে সামাজিক ও মানবিকভাবে হেনস্তা করা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় হতে পারে না।

    তিনি আরও বলেন, সরকারকে সংযম, সংলাপ ও সমাধানের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় একটি সমাধানযোগ্য সংকট অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে নাগরিকের পরামর্শকে ‘উসকানি’ বা ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত না করে দায়িত্বশীল রাষ্ট্র পরিচালনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

  • সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশদূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    একইসঙ্গে রাজধানীতে আরও অন্তত ৫০টি পয়েন্টে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করারও নির্দেশ দেন তিনি।

    শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বৈঠকে বায়ু ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে, ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    রাজধানীতে যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারের কারণে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এ বিষয়ে আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের হর্নের অতিরিক্ত ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে আজ থেকে

    কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে আজ থেকে

    সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারাদেশে কৃষক ও কৃষিজমির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই)।

    আজ শনিবার থেকে দেশের সব উপজেলায় একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে ব্লক নির্বাচন করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সব ব্লকে সম্প্রসারণ করা হবে।

    সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, একই দিন কৃষি মন্ত্রণালয়ে কৃষিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘কৃষক কার্ড কারিগরি ওয়ার্কিং কমিটির দ্বিতীয় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের প্রতিটি উপজেলায় একযোগে কৃষক ও জমির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

    আদেশে আরো বলা হয়, প্রথম ধাপে প্রতিটি উপজেলার একটি করে নির্বাচিত ব্লকে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে পরীক্ষামূলক এ কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে উপজেলার অন্যান্য সব ব্লকেও পর্যায়ক্রমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

    কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ১৪ থেকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘তথ্য সংগ্রহ অ্যাপ’ ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

    প্রশিক্ষণ শেষে ১৮ জুলাই থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষক ও কৃষিজমির তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে।

    অফিস আদেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সকল পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক, উপপরিচালক এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ ও নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বিষয়টিকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে উল্লেখ করে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কৃষকদের একটি নির্ভুল ও সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে সরকারের প্রতিশ্রুত ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্তকরণ, কৃষি প্রণোদনা, ভর্তুকি, ঋণ সুবিধা এবং অন্যান্য সরকারি সেবা আরো দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।

  • চীনের সঙ্গে জিও পলিটিক্যাল ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে: মির্জা ফখরুল

    চীনের সঙ্গে জিও পলিটিক্যাল ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে: মির্জা ফখরুল

    চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে চায় বিএনপি। এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুদেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন’ আয়োজিত আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক চীন সফরের পর ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের তরুণরা চীনে যাচ্ছে এবং সম্পর্ক গড়ে তুলছে। তারেক রহমানের সফর দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করেছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী নির্যাতনের সময়ও আমরা দলটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি।’

    তিনি বলেন, চীন শুধু আওয়ামী লীগকে নয়, বরং বিএনপিসহ অন্যান্য দলের সঙ্গেও সম্পর্ক রেখেছে। বিএনপি চীনের সঙ্গে জিও পলিটিক্যাল ইন্টারেস্টে সম্পর্ক রাখতে চায়। আবার ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক রাখতে চাই।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন বেশ উপরে। চীনের প্রযুক্তির সহায়তা চায় বাংলাদেশ। আবার চীনের কারিগরি শিক্ষায় বাংলাদেশের তরুণদের শিক্ষিত করতেও দেশটির সহায়তা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণ, সোলার এনার্জি ও গ্রিন এনার্জির ব্যবহারে চীনা প্রযুক্তির সহায়তা বাড়াতে পারলে লাভবান হবে বাংলাদেশ।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আশাবাদী, কারণ চীনের সঙ্গে বিএনপির আদর্শিক মিল আছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক সম্পর্কও আছে। আমরা চীন থেকে আমদানি ও রপ্তানি করব। চীনও আমাদের দেশ থেকে আমদানি-রপ্তানি করবে। আধিপত্যবিরোধী শক্তি হিসেবে চীনের নেতৃত্ব চায় বাংলাদেশ।

    সভায় ইয়াও ওয়েন বলেন, চীনে বিদ্যমান হাইস্পিড ট্রেন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কার্যকর করতে আগ্রহী তারা। চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেটকে এই হাইস্পিড ট্রেন প্রযুক্তির আওতায় আনা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

    এ সময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত। তারেক রহমানের সফরে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

    অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জান মিল্লাতসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু।

    আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, সম্মান, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

    তারা আশাবাদ প্রকাশ করেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আগামী দিনে আরও সম্প্রসারিত হবে।

  • এসএসসির ফল প্রকাশ হচ্ছে না ২০ জুলাই

    এসএসসির ফল প্রকাশ হচ্ছে না ২০ জুলাই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় রয়েছেন লাখ-লাখ শিক্ষার্থী। শিগগির ফল প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিতে আরো এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সে অনুযায়ী ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

    শনিবার (১৮ জুলাই) আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির কর্মকর্তারা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছে।

    আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, আমাদের প্রস্তুতি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করা হবে। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলেই এ ফল প্রকাশ করা হবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করবো। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই যাবতীয় আয়োজন শেষ করবো বোর্ডের পক্ষ থেকে।

    চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত।এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩১৮, মাদরাসা বোর্ডে (দাখিল) ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৬ এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

  • খোকসায় মাদক-আধিপত্যের জেরে জোড়া খুন

    খোকসায় মাদক-আধিপত্যের জেরে জোড়া খুন

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মাদক বেচাকেনা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধে সশস্ত্র হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর ব্রিক ফিল্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আরও অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    নিহতরা হলেন, ওসমানপুর ইউনিয়নের হিজলাবট ব্রিক ফিল্ড এলাকার মৃত চাঁদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০) এবং একই ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে আব্দুল শেখ (২৫)। আহতদের মধ্যে মুল্লুক মণ্ডল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে গ্রামপুলিশ মিন্টু চৌকিদার ও নূর আমিন নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় বরাতে জানা যায়, এলাকায় মাদক বেচাকেনা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ছালিম হোসেন ও মিন্টু চৌকিদার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ১৩ জুলাই ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসান শেখ নামে একজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর রাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    স্থানীয়দের দাবি, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৮০ থেকে ১০০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছালিম হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় ছালিম হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাড়িতে থাকা ফারুক হোসেন, আব্দুল শেখ ও মুল্লুক মণ্ডল হামলাকারীদের কবলে পড়েন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের গুরুতর আহত করে। ঘটনাস্থলেই ফারুক ও আব্দুল শেখের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা আহত মুল্লুক মণ্ডলকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

    নিহত ফারুকের স্ত্রী রাহেলা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ তার স্বামীকে মাদক বেচাকেনায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। রাজি না হওয়ায় এক মাস আগে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এরপর থেকে প্রাণভয়ে ফারুক দেবীনগরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    অন্যদিকে নিহত আব্দুল শেখের মা ময়না খাতুন বলেন, প্রতিপক্ষের ভয়ে তার ছেলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার স্বামীকে কুপিয়ে আহত করার পর গভীর রাতে ছেলেকেও হত্যা করা হয়।

    তবে পুলিশ বলছে, স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, স্থানীয় মিন্টু চৌকিদার ও ছালিম হোসেন গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

    পুলিশ জানায়, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

  • হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু নেই। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৪ জনের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৬৯৯ জনের।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬৮৯ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরো ৯৫ জনের। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনজন সিলেট বিভাগের। আর একজন ঢাকা বিভাগের।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭১০ জনে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১৪ হাজার ৩১৮ জন। একই সময়ে ৯৯ হাজার ২৪৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৯৫ হাজার ৫২৯ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।

  • কাশিমপুর কারাগারে নারী কয়েদি উধাও: সাময়িক বরখাস্ত ৭ কারারক্ষী

    কাশিমপুর কারাগারে নারী কয়েদি উধাও: সাময়িক বরখাস্ত ৭ কারারক্ষী

    গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাতজন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে একজন সিনিয়র জেল সুপারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন।

    সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাতজনের মধ্যে রয়েছেন তিনজন মেট্রন ও চারজন নারী কারারক্ষী। তারা হলেন—মেট্রন লায়লা আঞ্জুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা আক্তার।

    সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ সমকালকে বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় শুক্রবার তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    কারাগার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে ইট বহনের কাজ চলছিল। এ সময় দায়িত্বে থাকা মেট্রনের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি মোছা. রিম্পা (২১) কারাগারের অফিস ভবনের পাশের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরে বন্দী গণনার সময় তাঁর অনুপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁর পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় কারা কর্তৃপক্ষ।

    মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, পলাতক কয়েদিকে গ্রেপ্তারে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগার থেকে কীভাবে একজন বন্দি পালাতে সক্ষম হয়েছেন, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    পলাতক রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুর গ্রামের মো. হাসান হাবিবের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কাশিমপুর পার্ট-৩ (মহিলা) কারাগারে বন্দি ছিলেন।

    ঘটনার পর কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ঘটনায় আরও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে কারা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

  • বন্যায় বান্দরবানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিখাত

    বন্যায় বান্দরবানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিখাত

    টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানি নেমে যেতে শুরু করলেও বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে কৃষিখাতের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। জেলার সদর ছাড়াও লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, সবজিক্ষেত ও ফলের বাগান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে।

    শুধু কৃষিজমিই নয়, বন্যার তীব্র স্রোতে সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর দুই তীরজুড়ে গড়ে ওঠা বিস্তীর্ণ মৌসুমি চাষাবাদও ভেসে গেছে। নদীতীরবর্তী সবজি, ভুট্টা, মরিচ, আদা, হলুদ, কলা, পেঁপে, শসা, ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষকের আমন ধানের বীজতলা ও ফলের বাগানও নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে অনেক কৃষকের।

    ক্ষতি থেকে কাটিয়ে উঠতে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।

    বান্দরবানের ছাইঙ্গ্যা এলাকার কৃষক মংমং মারমা জানান, হঠাৎ বৃষ্টি আর নদীর পানি এসে আমার তিতকরলা আর শসার বাগান পঁচে গেছে। অনেক টাকা লোন নিয়েছি, এখন কেমনে কিস্তি দেব জানি না।

    বান্দরবানের বালাঘাটা ভরাখালীর কৃষক জসীম জানান, এমন বৃষ্টি আর বন্যা হয়েছে যে, আমাদের কৃষকেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের এই ক্ষতি এখন কে পুষিয়ে দেবে?

    আলীকদমের পানবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবদুর রহমান জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টি আর বন্যায় ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। বেশিরভাগ শসার বাগান ও সবজিবাগান পানিতে ডুবে শেষ। বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সব শেষ হয়ে গেছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বান্দরবানের উপপরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, বান্দরবানে কৃষিখাতের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত আমরা বান্দরবানের সাত উপজেলার যে তথ্য পেয়েছি, সে অনুযায়ী ২ হাজার ১০৪ হেক্টর কৃষিজমি ও বাগান দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং ৩৬৮ হেক্টর কৃষিজমি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৫ হাজার ৩২৩ জন কৃষক।

  • ইশতেহার ও জুলাই জাতীয় সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে

    ইশতেহার ও জুলাই জাতীয় সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে

    ‘নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করছে সরকার। একই সঙ্গে যেভাবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর হয়েছে, তাও বাস্তবায়ন হচ্ছে।’

    আজ শনিবার বর্তমান সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

    প্রেস সচিব বললেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় উন্নয়নের গালগল্প হয়েছে অনেক। কিন্তু কোথায় সেই উন্নয়ন? অনেক স্থানে অবনতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধে।’

    ‘যতক্ষণ মানসিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের উন্নয়ন না হবে, ততক্ষণ কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

    তিনি বললেন, ‘কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে দেশের গুণগত পরিবর্তনে নিজেই কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। যে দলেরই হোক, যে মতের হোক, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন। মতের পার্থক্য ব্যালটে হতে পারে, কিন্তু দেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে হতে হবে।’

    আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ জানালেন, প্রধানমন্ত্রী অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসেছেন। কোথাও কারো বন্দনা করেন না। আগে যা অহরহ দেখা যেত। প্রধানমন্ত্রী জনবিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না। মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করছেন। প্রতি মাসেই জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ঢাকার বাইরে কোনো না কোনো জেলায় যাচ্ছেন।’

    ‘এবারের বাজেট সরকারের একটা অর্জন। এবার বাজেট পাস হওয়ার পর কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি, জনজীবনে অস্থিরতা বাড়েনি। এটা একটা জীবনবান্ধব বাজেট’, যোগ করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের অন্য সদস্যরা ছিলেন।

    চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার।

  • গাংনীর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কর্মচারিকে মারধরের ঘটনায় মামলা

    গাংনীর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কর্মচারিকে মারধরের ঘটনায় মামলা


    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের সহায়ককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অফিসের রেজিষ্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।এঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

    এঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত সেবা গ্রহিতারা পড়েছেন ভোগান্তিতে। সেবা গ্রহিতা কয়েকজন জানান, গ্রাম থেকে কাজ কামায় করে এসে জানতে পারলাম রেজিষ্ট্রি বন্ধ। তাছাড়া জরুরী প্রয়োজনে অনেকে জমি বিক্রয় করতে এসে অফিস বন্ধ থাকায়
    অনেকে পড়েছেন বিপাকে। জমি বিক্রি করে বিদেশ যাওয়া, চিকিৎসা করা ছাড়াও অতি জরুরী কাজ বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবা গ্রহিতারা।


    সম্প্রতি দলিল প্রতি রেজিষ্ট্রি করতে ফাইলিং এর জন্য ১ হাজার ও বিবিধ খরচ ২’শ টাকা দেখিয়ে অতিরিক্ত ১২’শ টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার সময় পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন হোসেন লোকজন নিয়ে অফিস থেকে টেনে হেঁচড়ে বাইরে নিয়ে এসে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে আজাদ আলিকে। এঘটনায় আজাদ আলির বাম চোখ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

    এ ব্যাপারে ইমন হোসেন সাংবাদিককে বলেন, দলিল রেজিষ্ট্রি করতে ফাইলিং ও বিবিধ খরচের নামে সাধারন মানুষের সাথে দলিল প্রতি ১২’শ টাকা অবৈধ ভাবে কেন নেওয়া হয় তার কোন উত্তর দিতে পারেনি আজাদ আলি। তিনি আরও বলেন বর্তমান সময়ে কোন অনিয়ম দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া হবেনা।

    তাকে অনেকবার নিষেধ করা হয়েছে,সে কোন কথা না শুনাই তাকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছিল,পরে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু আজাদ আলিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

    এদিকে ভুক্তভোগী আজাদ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমাকে সন্ত্রাসী কায়দায় অফিস থেকে তুলে নিয়ে এসে মারধর করা হয়েছে,আমার নামে মিথ্যা টাকা উত্তোলনের অভিযোগ করা হয়েছে, আমি এঘটনায় হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

    এ বিষয়ে উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার মাহফুজ রানা জানান, আমার অফিস স্টাফকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করায় জেলা রেজিষ্ট্রারের নির্দেশে অফিস বন্ধ রয়েছে। তিনি আরো বলেন আজাদ আলি যদি অনিয়ম করে তার জন্য অথরিটি আছে, এক্ষেত্রে বহিরাগতরা অফিসে ঢুকে একজন সরকারী কর্মরত অফিস সহায়ককে কেন লাঞ্ছিত করবে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে।জেলা রেজিষ্ট্রার মনিরুজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

    এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, যারা এ কাজ করেছে তারা বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করে যা আমার দল বিএনপি কোন ভাবেই সমর্থন করেনা। এ ধরণের কর্মকান্ডকে তীব্র নিন্দা জানাই ও এর সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি।তবে যদি কেউ অনিয়ম করেই থাকে তার জন্য প্রচলিত আইন আছে তার অথরিটি রয়েছে তারা ব্যবস্থা নেবে এক্ষেত্রে তারা মব সৃষ্টি করে সরকারি অফিসের কর্মরত ব্যাক্তিকে টেনে হেঁচড়ে বের করে মানুষের সামনে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করার কোন ভাবেই গ্রহন যোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন দলীয়ভাবে কী সিদ্ধান্ত নেবে সে বিষয়ে নেতারা ভাল বলতে পারবেন।

    এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারি যেই হোক তাদেরকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করা উচিৎ নয় আমাদের দল এধরণের কর্মকান্ড সমর্থন করেনা যদি এ ধরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

    এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মোহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, আজাদ আলি নিজে বাদী হয়ে অভিযোগ করেছেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • কওমিপন্থি সাত দলের নতুন জোট গঠন নিয়ে নানা আলোচনা

    কওমিপন্থি সাত দলের নতুন জোট গঠন নিয়ে নানা আলোচনা

    কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি দল নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের তৎপরতা শুরু হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে এ বিষয়ে প্রথম বৈঠকেই ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে দলগুলোর। এখন নতুন জোট গঠনের বিষয়ে রূপরেখা প্রস্তাব করবে সংশ্লিষ্টরা। সে অনুযায়ী শিগগির পরবর্তী প্রক্রিয়া ও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

    এদিকে কওমিপন্থিদের হঠাৎ নতুন জোট গঠনের এ উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াত জোটে বিভক্ত হওয়া দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বকীয় অবস্থান গড়ার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা নিয়ে শরিক ইসলামি দলগুলোর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে একসঙ্গে নির্বাচন করলেও আনুষ্ঠানিক জোট না হওয়ায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা বা না করা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইসলামি দলগুলোর তেমন কোনো বাধা দেখছেন না কেউ কেউ।

    সূত্রমতে, গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি নিবন্ধিত ইসলামি দলের নেতারা জড়ো হন। সেখানে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলাম পার্টির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এসব দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করে অংশ নেয়।অন্যদিকে ইসলামী ঐক্যজোট ছাড়া বাকি পাঁচটি দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক ছিল। তবে নির্বাচনের আগে ইসলামী আন্দোলন ওই ঐক্য থেকে বেরিয়ে যায়। আর অঘোষিতভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় খেলাফত আন্দোলন (নির্বাচনের পর ঐক্য ছাড়ার ঘোষণা দেয়)।

    ওই বৈঠক শেষে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে উপস্থিত সাত দলের নেতারা আগামীতে ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী গতকাল শুক্রবার আমার দেশকে বলেন, জোট গঠনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, তবে এটি বাস্তবে রূপ নিতে সময় লাগবে। হঠাৎ এ উদ্যোগ কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই এ ধরনের উদ্যোগ ছিল। তবে দুটি জোটে বিভক্ত হয়ে পড়ায় সেটি সম্ভব হয়নি। এখন ইসলামি দলগুলোর স্বকীয়তা রক্ষা করে আলাদা শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সাতটি দল ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে অন্য কোনো জোটে থাকা না থাকার বিষয়ে এখনো আলোচনা হয়নি।

    বৈঠকে উপস্থিত আরেক নেতা বলেন, নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের রূপরেখা কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে ৩ আগস্টের মধ্যে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানসহ সাত সদস্যের একটি কমিটি এসব প্রস্তাব নিয়ে পর্যালোচনার জন্য পরবর্তী বৈঠক ডাকবে। দ্রুত এ কাজ করা হবে।

    তিনি আরো বলেন, এ জোটের মূল লক্ষ্য কওমি ঘরানার নিবন্ধিত সাতটি দলকে স্বতন্ত্র ধারায় ঐক্যবদ্ধ করা। তবে এ জোট হলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অন্য কোনো জোটে থাকার সুযোগ থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    নতুন এ উদ্যোগের কারণে ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা বা না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ আমার দেশকে বলেন, বৃহস্পতিবারের বৈঠকের উদ্দেশ্য কওমি ধারার দলগুলোর দূরত্ব ঘুচিয়ে কাছাকাছি হওয়া। ভবিষ্যতে একসঙ্গে পথচলার বিষয়েও নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে এই চলার পথ কী হবে, তা সামনে ঠিক হবে। বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা বা না থাকা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বৈঠকে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক, সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন মিসবাহ উল আজীম

    নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন মিসবাহ উল আজীম

    রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম, এনবিপি, এনপিপি, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল, পিএইচডি-কে ১৮তম নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

    আজ বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখ অপরাহ্ন থেকে ভাইস এডমিরাল পদে পদোন্নতি পূর্বক বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন এবং আগামী ২২ জুলাই ২০২৯ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    উল্লেখ্য, তিনি বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, ওএসপি, এনপিপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি এর স্থলাভিষিক্ত হবেন।

    প্রসঙ্গত, নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ০১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি রয়েল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনী হতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে নৌ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ০১ জুলাই ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি তাঁর ব্যাচের (৮৭-এ) জ্যেষ্ঠতা ও মেধায় প্রথম স্থান অধিকারী।

    তিনি রিয়ার এডমিরাল আজীম বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্স সম্পর্কিত বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি এমফিল ডিগ্রির পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক, ডিফেন্স এবং অপারেশনাল স্ট্যাডিজ বিষয়ে দেশ ও বিদেশ হতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রথম শ্রেণিসহ তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) আওতাভুক্ত আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিউসি) এর একজন কৃতি গ্র্যাজুয়েট। ছাত্র জীবনে তিনি মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) উভয় পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান লাভ করায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট হতে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।

    প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে রিয়ার এডমিরাল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও নেতৃত্বমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন। গৌরবময় সামরিক জীবনে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল (কমচিট), কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল (কমঢাকা), কমান্ডার সাবমেরিন (কমসাব) এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি (বিএনএ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    এছাড়া তিনি নৌবাহিনী সদর দপ্তরে পরিচালক, নৌ অপারেশন্স এবং পরিচালক, নৌ পরিকল্পনা হিসেবেও নিয়োজিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট বানৌজা ওমর ফারুক-সহ বানৌজা এস আর আমিন, বানৌজা নির্ভয়, বানৌজা সৈকত এবং নৌ ঘাঁটি বানৌজা তিতুমীর-এ অধিনায়কত্ব করেছেন। তিনি বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি)-এ প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রিয়ার এডমিরাল আজীম লেবানন এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ-ওমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

    রিয়ার এডমিরাল আজীম নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন পদক ‘নৌবাহিনী পদক’ (এনবিপি), ‘নৌ-পারদর্শিতা পদক’ (এনপিপি), ‘জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার’ এবং ‘জাতীয় স্কাউট পুরস্কার’ (রৌপ্য ইলিশ পদক) অর্জন করেন। এছাড়া, তিনি তিনবার নৌবাহিনী প্রধানের প্রশংসাসূচক ইনসিগনিয়া লাভ করেন। তিনি ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন’ পুরস্কার, ‘সেরা ব্যক্তিগত গবেষণাপত্র পুরস্কার’ এবং এন্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে সেরা শিক্ষার্থী পুরস্কার অর্জন করেন। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি রিয়ার এডমিরাল আজীম একজন মননশীল পাঠক, লেখক ও গবেষক। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং সামরিক ও নৌ-কৌশলগত বিষয়ে সমাদৃত জার্নাল ও সাময়িকীতে তাঁর বেশ কিছু প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। খেলাধুলায় তাঁর ব্যক্তিগত আগ্রহের মধ্যে রয়েছে গলফ, বাস্কেটবল, দাবা ও টেবিল টেনিস। তিনি বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সাবলীল এবং মালে ও ফরাসি ভাষায় তার ব্যবহারিক দক্ষতা রয়েছে।

    দীর্ঘ চার দশকের কর্মজীবনে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে অসাধারণ পেশাদারিত্ব ও সামরিক সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সর্বদা দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ।

    ব্যক্তিগত জীবনে রিয়ার এডমিরাল আজীম বেগম নুরতাজ আজীমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তারা দুই কন্যা সন্তানের জনক-জননী।

  • ঢাবিতে অপরাজনীতি ফিরতে দেওয়া হবে না: সাদিক কায়েম

    ঢাবিতে অপরাজনীতি ফিরতে দেওয়া হবে না: সাদিক কায়েম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে আর কখনো অপরাজনীতি ফিরতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

    শুক্রবার (১৭ জুলাই) ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘লীগ ধর’ ম্যারাথন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। কর্মসূচি শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ২০২৪ সালের এই বিশেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও প্রতিটি আবাসিক হল চরমপন্থী ছাত্রলীগমুক্ত হওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়।

    ম্যারাথন শেষে ঢাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েম গণমাধ্যমের সামনে আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ বার্তা তুলে ধরে বলেন, আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই এই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের যে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি, ক্ষমতার অন্যায় দাপট এবং গণরুম-গেস্টরুমের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাসের মতো ব্যবহার করে নির্মম নির্যাতন চালানোর অন্ধকার অপরাজনীতি ছিল, তা আর কখনো এখানে ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি মজবুত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই আমাদের এই ‘লীগ ধর’ ম্যারাথনের আয়োজন।

    বর্তমান সময়ের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে কেউ যেন আর কখনো পেশিশক্তির নোংরা রাজনীতিতে লিপ্ত না হয়। সবাই যেন জ্ঞান, আদর্শ ও সুস্থ ধারার ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

    এদিকে ম্যারাথনের পাশাপাশি পুরো জুলাই মাসজুড়ে ঘোষিত ‘৩৬ দিনের কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে আজ থেকে ঢাবিতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

    এই বিশেষ প্রদর্শনীতে জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ, বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা, আন্দোলনে নারীদের অনবদ্য সাহসী ভূমিকা এবং আলেম-ওলামাদের ঐতিহাসিক অবদানের নানা চিত্র তুলে ধরা হবে।

  • মুছে ফেলেছিলেন আসল পরিচয়, শেষ মুহূর্তে যেভাবে ধরা খেলেন জিয়ার খুনি মোজাফফর!

    মুছে ফেলেছিলেন আসল পরিচয়, শেষ মুহূর্তে যেভাবে ধরা খেলেন জিয়ার খুনি মোজাফফর!

    দীর্ঘ ৪৫ বছর নিজের পরিচয় গোপন রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন। তবে শেষ মুহূর্তে নিজের পরিচয় জানাতে গিয়ে করা একটি ভুলই তার ছদ্মবেশের অবসান ঘটায়। সেই সূত্র ধরে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

    মোজাফফর হোসেন তার আসল পরিচয় পুরোপুরি মুছে ফেলেছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ নতুন একটি ছদ্মনাম ধারণ করেন এবং নিজের চেহারা ও বেশভূষায় পরিবর্তন আনেন। দীর্ঘ ৪৫ বছরে তার পারিবারিক যোগাযোগ এবং পুরোনো চেনা পরিমণ্ডলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন, যাতে কোনোভাবেই কল ট্র্যাকিং বা নজরদারির মাধ্যমে তার সন্ধান না মেলে। জীবনের শেষভাগে এসে তিনি অত্যন্ত গোপনে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বসবাস শুরু করেন রাজধানীর সবচেয়ে সুরক্ষিত ও অভিজাত এলাকাগুলোর একটি বনানী ডিওএইচএসে।

    একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসাবে ডিওএইচএস এলাকাটি তার চেনা পরিবেশ হলেও, সেখানে তিনি নিজেকে একজন সাধারণ, বয়োবৃদ্ধ এবং রাজনীতিবিমুখ নাগরিক হিসাবে পরিচিত করে তুলেছিলেন। আশপাশের মানুষ বা প্রতিবেশীরা কেউই কল্পনাও করতে পারেনি যে, তাদের পাশে বসবাসকারী এই বৃদ্ধই আসলে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম চাঞ্চল্যকর রাষ্ট্রপতি হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান ঘাতক।

    এতদিন পর কীভাবে ধরা পড়ল ইতিহাসের এই খলনায়ক— জানতে চাইলে অভিযানে থাকা ডিবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অপরাধীরা কত ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে পারে, তার অন্যতম উদাহরণ এই মোজাফফর। নিজের অবয়ব, চালচলন, এমনকি পেশা ও বাসস্থান পরিবর্তন করে সে দীর্ঘদিন একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয়ে ছদ্মবেশে অবস্থান করছিল। এ কারণে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ক্লু ছিল না। তবে অপরাধ যতই নিখুঁত হোক না কেন, অপরাধীর কোনো না কোনো চিহ্ন বা সূত্র থেকেই যায়। এটাই নির্মম নিয়তি। আর সেই সূত্র ধরেই এত বছর পর তাকে ডিবি গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

    গ্রেফতারের সূত্র জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, ডিবির বিশ্বস্ত টিম জানতে পারে, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে তার মেয়ের কর্মস্থলের সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করেন। জানা যায়, তার মেয়ে একটি বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে (এয়ারটেল) চাকরি করেন। কয়েক মাস ধরে মেয়ের কর্মস্থল এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে গোয়েন্দারা একটি সম্ভাব্য বাড়ির ঠিকানা চিহ্নিত করেন। বাড়িটি চিহ্নিত করার পর ডিবি কর্মকর্তারা বেশ কিছুদিন ধরে দূর থেকে লক্ষ্য রাখেন এবং ছদ্মবেশে সার্বিক পরিবেশ ও মোজাফফরের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। গোয়েন্দাদের কাছে মোজাফফরের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের একটি ক্লু আগে থেকেই নথিবদ্ধ ছিল। তার নাকের ঠিক নিচে একটি আঁচিল বা তিল সদৃশ কালো দাগ রয়েছে। চেহারা পরিবর্তন করলেও এই জন্ম চিহ্নটি পরিবর্তনের সুযোগ তার ছিল না। অভিযানে যাওয়ার আগে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই চিহ্নটিকে তাদের প্রধান শনাক্তকরণ সূত্র হিসাবে নির্ধারণ করেন।

    বুধবার গভীর রাতে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। করা হয় অভিযানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা। গোয়েন্দা দল ছদ্মবেশে বাসার দরজায় কড়া নাড়ে। ভেতর থেকে দরজা খোলার পর অত্যন্ত নাটকীয় ও সুকৌশলে এগোয় পুরো প্রক্রিয়া। দরজা খোলার পর গোয়েন্দারা সরাসরি কোনো অভিযান বা গ্রেফতারবিষয়ক কোনো ভয়ভীতি না দেখিয়ে অতিথির মতো স্বাভাবিক আচরণ করেন। মেয়ের নাম ধরে জানতে চান অমুক (তার মেয়ে, যিনি এয়ারটেলে কাজ করেন) বাসায় আছেন কিনা। এ সময় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিজেদের ‘এয়ারটেল অফিস’ থেকে আসা কর্মী হিসাবে পরিচয় দেন।

    তবে এত রাতে অফিসের লোক বাসায় আসায় স্বাভাবিকভাবেই ঘরের ভেতর থেকে কৌতূহল ও কিছুটা সন্দেহ তৈরি হয়। এজন্য বাসার ভেতর থেকে একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি দরজা খুলে এগিয়ে এসে জানতে চান, ‘এত রাতে অফিসের কাজ কেন? আমাকে বলুন কী বিষয়। গোয়েন্দারা তখন কৌশলগতভাবে বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটির চেহারা পর্যবেক্ষণ করেন। বাড়ির অল্প আলোতেও কর্মকর্তাদের চোখ এড়ায়নি তার নাকের নিচে থাকা সেই পরিচিত তিল বা আঁচিলটি। এ সময় কর্মকর্তারা বলেন, ‘মুরব্বি, আমরা তো আপনাকে চিনি না, আপনি কে? আমরা যার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি, তার সঙ্গে দেখা করতে দিন।’ সরল বিশ্বাসে এবং কিছুটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই ব্যক্তি উত্তর দেন ‘আমি মোজাফফর। মেয়ের বাবা’।

    মোজাফফরের মুখ থেকে একথা শোনার পর আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করেনি ডিবির চৌকশ দল। পলকের মধ্যে পকেট থেকে বের হয়ে আসে হ্যান্ডকাফ। অতঃপর মোজাফফরের দুই হাত বন্দি হয়ে যায় ডিবির শিকলে। চোখের পলকে দীর্ঘদিনের ছদ্মবেশী ও সুচতুর পলাতক আসামির হাতজোড়া অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে আইনের খাঁচায়। এরপর হতভম্ব চাহনি আর অপ্রস্তুত আত্মসমর্পণ বুঝিয়ে দেয়, ডিবির এই নিখুঁত অপারেশন কতটা নিঁখুত ও পরিপক্ব ছিল।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন ১৯৮১ সালের ৩১ মে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি ছিলেন কিলিং স্কোয়াডের সক্রিয় সদস্য।

  • সিরিজ রক্ষার ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

    সিরিজ রক্ষার ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

    টি-টোয়েন্টি সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। আজ একই ভেন্যু বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। টসে জিতে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    বাংলাদেশ একাদশ
    তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন, তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), নুরুল হাসান (উইকেটরক্ষক), ইয়াসির আলী, মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা।

  • ২৪ জুলাই সম্মাননা পাচ্ছেন রুনা লায়লা, বন্যার্তদের সহায়তায় গাইবেন গান

    ২৪ জুলাই সম্মাননা পাচ্ছেন রুনা লায়লা, বন্যার্তদের সহায়তায় গাইবেন গান

    ১৮ জুলাই রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লাকে সম্মাননা দেওয়ার অনুষ্ঠান। তবে দেশের বন্যা পরিস্থিতির কারণে পিছিয়ে দেওয়া হয় সেই অনুষ্ঠান। গতকাল বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, ২৪ জুলাই বসবে বিশেষ এই আসর। শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রুনা লায়লাকে সম্মাননা প্রদানের পাশাপাশি এ অনুষ্ঠান থেকে বন্যার্ত মানুষের জন্য তহবিল গঠন করা হবে।

    শিল্পকলা একাডেমি এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, রুনা লায়লার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে এবং সংগীতের ভুবনে তাঁর অবদানকে জাতীয়ভাবে সম্মানিত করার লক্ষ্যে তাঁকে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৪ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছে রুনা লায়লাকে সম্মাননা প্রদান ও একক সংগীতানুষ্ঠান। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এই অনুষ্ঠানে বন্যার্তদের সাহায্যার্থে গাইবেন রুনা লায়লা। ছয় দশকের বেশি সময়ের সংগীত ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম শিল্পকলায় একক সংগীতানুষ্ঠানে গান শোনাবেন রুনা লায়লা।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)।

    সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় গত বছর থেকে দেশবরেণ্য শিল্পীদের সম্মাননা ও একক গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনকে দিয়ে শুরু হয় এই আয়োজন। সবশেষ গত জুনে সম্মাননা দেওয়া হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীকে।

  • দুর্গত মানুষের সেবায় আলেমসমাজ

    দুর্গত মানুষের সেবায় আলেমসমাজ

    ইসলামের ইতিহাসে আলেমদের মানবসেবার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ক্ষুধার্তকে খাদ্য দিয়েছেন, এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, অসুস্থদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সমাজের দুর্বল মানুষের আশ্রয়স্থল হয়েছেন। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) গোপনে অসংখ্য দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতেন। ইমাম নববি (রহ.) ও অন্যান্য মনীষীও ইলমের পাশাপাশি সমাজকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের জীবন প্রমাণ করে, প্রকৃত আলেম কখনো সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নন; বরং তিনি সমাজের কল্যাণকামী অভিভাবক।

    বাংলাদেশেও আলেমসমাজ দীর্ঘদিন ধরে মানবসেবার অনন্য নজির স্থাপন করে আসছেন। দেশের হাজারো কওমি মাদরাসায় লক্ষাধিক এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থী বিনা খরচে বা অতি স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষা, আবাসন এবং খাবারের সুযোগ পাচ্ছে। এটি শুধু শিক্ষাসেবা নয়; বরং একটি বিশাল মানবিক কর্মযজ্ঞ। জাকাত, সদকা, ফিতরা ও মানুষের দানের অর্থে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠান সমাজের অসহায় মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আছে।দুর্যোগকালীন সময়েও আলেম সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড কিংবা শীতপ্রবাহে তারা ত্রাণ সংগ্রহ ও বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। দেশের বিভিন্ন ইসলামি দাতব্য সংস্থা ও আলেমদের পরিচালিত ফাউন্ডেশনগুলো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, শীতবস্ত্র এবং নগদ সহায়তা পৌঁছে দিয়ে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করছে। বর্তমান সময়ে আলেমদের পরিচালিত মানবসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন একটি উল্লেখযোগ্য নাম। শায়খ আহমাদুল্লাহর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটি দাওয়াতি কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যাপক পরিসরে মানবকল্যাণমূলক কাজ পরিচালনা করছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ, রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসামগ্রী ও নগদ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া এতিম প্রতিপালন, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের পুনর্বাসন, ঘর নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন, মসজিদ নির্মাণ, কোরবানির মাংস বিতরণ, রমজানে ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা মানবিক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবকের সমন্বয়ে পরিচালিত এসব উদ্যোগ প্রমাণ করে, আলেমদের নেতৃত্বে আধুনিক ও সুসংগঠিত মানবসেবা কতটা কার্যকর হতে পারে।

    আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি দেশের আরো উলামায়ে কেরাম পরিচালিত অনেক প্রতিষ্ঠান নীরবে মানবকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। যেমন মাওলানা গাজী ইয়াকুব পরিচালিত তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশন, মাওলানা রজীবুল হক পরিচালিত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) সেবা ফাউন্ডেশন, মাওলানা ইমরান হাবিবি পরিচালিত পিপলস ইমপ্রুভমেন্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং হাফেজ্জী চ্যারিটি ফাউন্ডেশনসহ অর্ধশতাধিক ইসলামি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন মাদরাসাকেন্দ্রিক ট্রাস্ট, এতিমখানা, দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্র ও ত্রাণসংস্থা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। প্রচারের আলোয় না এলেও তাদের অবদান বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহমর্মিতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আলেম সমাজের মানবসেবা শুধু ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা নৈতিক অবক্ষয় রোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা, পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি, যুবসমাজকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের উপদেশ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ সঠিক পথে ফিরে আসে, যা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।

    বর্তমান বিশ্বে মানবসেবাকে আরও কার্যকর করতে আলেম সমাজের উচিত আধুনিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ করলে মানবকল্যাণের পরিধি আরো বিস্তৃত হবে। এতে ইসলামের দয়া, ন্যায় ও সহমর্মিতার শিক্ষা মানুষের সামনে আরো উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠবে।

    আলেম সমাজ শুধু ধর্মীয় নেতা নন; তারা সমাজের বিবেক, নৈতিকতার পথপ্রদর্শক এবং মানবকল্যাণের অগ্রদূত। তাদের পরিচালিত মানবসেবামূলক কার্যক্রম ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরে। আজকের সমাজে এমন আলেম ও এমন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন আরো বেশি, যারা মানুষকে শুধু কথায় নয়, কর্মের মাধ্যমেও ইসলামের মহান আদর্শের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেবে। মানবসেবায় নিবেদিত আলেম সমাজই পারে একটি সহমর্মী, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে।

  • ঠান্ডা মাথায় রাষ্ট্রপতি জিয়াকে প্রথম গুলিটি করেন মোজাফফর!

    ঠান্ডা মাথায় রাষ্ট্রপতি জিয়াকে প্রথম গুলিটি করেন মোজাফফর!

    ঠান্ডা মাথায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে লক্ষ্য করে প্রথম গুলিটি করেছিলেন মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন—মামলার নথিতে এমনটাই উল্লেখ রয়েছে। প্রায় সাড়ে চার দশক ছদ্মবেশে পলাতক থাকার পর রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে ডিবি।

    গোয়েন্দাদের দাবি, মেয়ের কর্মস্থল ও নাকের নিচের একটি তিলকে সূত্র ধরে পরিচালিত অভিযানে ধরা পড়েন জিয়া হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন ১৯৮১ সালের ৩১ মে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি ছিলেন কিলিং স্কোয়াডের সক্রিয় সদস্য। ১৯৮১ সালের ৩০ মে গভীর রাতে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের সামরিক তদন্তের পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় যে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, মোজাফফর হোসেন ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। ঘটনার পর থেকেই তিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ফেরারি ছিলেন।

    মামলার নথি, তদন্তের বিবরণী থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সেই কালরাতে মেজর মোজাফফরের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর। আক্রমণের সময় সার্কিট হাউজে হানা দিয়ে মেজর মোজাফফর ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন সরাসরি রাষ্ট্রপতির কক্ষের দিকে অগ্রসর হন। মোজাফফরই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি সশরীরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কক্ষের বাইরে এনে শনাক্ত করেন। শুধু শনাক্ত করাই নয়, ঠান্ডা মাথায় তিনি রাষ্ট্রপতিকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পরপরই মোজাফফর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ফোনে ইংরেজিতে একটি ঐতিহাসিক বার্তা দেন, ‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড’। ১৯৮১ সালের ৩১ মে যখন সরকারি বাহিনী পুনরায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়, তখন বিদ্রোহের মূল হোতা মেজর জেনারেল মঞ্জুরসহ অনেকেই গ্রেফতার হন এবং পরে মঞ্জুর নিহত হন। তবে মেজর মোজাফফর হোসেন এবং মেজর এসএম খালেদ কৌশলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

    এতদিন পর কীভাবে ধরা পড়ল ইতিহাসের এই খলনায়ক, জানতে চাইলে অভিযানে থাকা ডিবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অপরাধীরা কত ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে পারে, তার অন্যতম উদাহরণ এই মোজাফফর। নিজের অবয়ব, চালচলন, এমনকি পেশা ও বাসস্থান পরিবর্তন করে সে দীর্ঘদিন একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয়ে ছদ্মবেশে অবস্থান করছিল। এ কারণে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ক্লু ছিল না। তবে অপরাধ যতই নিখুঁত হোক না কেন, অপরাধীর কোনো না কোনো চিহ্ন বা সূত্র থেকেই যায়। এটাই নির্মম নিয়তি। আর সেই সূত্র ধরেই এত বছর পর তাকে ডিবি গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

    গ্রেফতারের সূত্র জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, ডিবির বিশ্বস্ত টিম জানতে পারে, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে তার মেয়ের কর্মস্থলের সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করেন। জানা যায়, তার মেয়ে একটি বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে (এয়ারটেল) চাকরি করেন। কয়েক মাস ধরে মেয়ের কর্মস্থল এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে গোয়েন্দারা একটি সম্ভাব্য বাড়ির ঠিকানা চিহ্নিত করেন। বাড়িটি চিহ্নিত করার পর ডিবি কর্মকর্তারা বেশ কিছুদিন ধরে দূর থেকে লক্ষ্য রাখেন এবং ছদ্মবেশে সার্বিক পরিবেশ ও মোজাফফরের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। গোয়েন্দাদের কাছে মোজাফফরের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের একটি ক্লু আগে থেকেই নথিবদ্ধ ছিল। তার নাকের ঠিক নিচে একটি আঁচিল বা তিল সদৃশ কালো দাগ রয়েছে। চেহারা পরিবর্তন করলেও এই জন্ম চিহ্নটি পরিবর্তনের সুযোগ তার ছিল না। অভিযানে যাওয়ার আগে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই চিহ্নটিকে তাদের প্রধান শনাক্তকরণ সূত্র হিসাবে নির্ধারণ করেন।

    বুধবার গভীর রাতে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। করা হয় অভিযানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা। গোয়েন্দা দল ছদ্মবেশে বাসার দরজায় কড়া নাড়ে। ভেতর থেকে দরজা খোলার পর অত্যন্ত নাটকীয় ও সুকৌশলে এগোয় পুরো প্রক্রিয়া। দরজা খেলার পর গোয়েন্দারা সরাসরি কোনো অভিযান বা গ্রেফতারবিষয়ক কোনো ভয়ভীতি না দেখিয়ে অতিথির মতো স্বাভাবিক আচরণ করেন। মেয়ের নাম ধরে জানতে চান অমুক (তার মেয়ে, যিনি এয়ারটেলে কাজ করেন) বাসায় আছেন কিনা। এ সময় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিজেদের ‘এয়ারটেল অফিস’ থেকে আসা কর্মী হিসাবে পরিচয় দেন।

    তবে এত রাতে অফিসের লোক বাসায় আসায় স্বাভাবিকভাবেই ঘরের ভেতর থেকে কৌতূহল ও কিছুটা সন্দেহ তৈরি হয়। এজন্য বাসার ভেতর থেকে একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি দরজা খুলে এগিয়ে এসে জানতে চান, ‘এত রাতে অফিসের কাজ কেন? আমাকে বলুন কী বিষয়। গোয়েন্দারা তখন কৌশলগতভাবে বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটির চেহারা পর্যবেক্ষণ করেন। বাড়ির অল্প আলোতেও কর্মকর্তাদের চোখ এড়ায়নি তার নাকের নিচে থাকা সেই পরিচিত তিল বা আঁচিলটি। এ সময় কর্মকর্তারা বলেন, ‘মুরব্বি, আমরা তো আপনাকে চিনি না, আপনি কে? আমরা যার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি, তার সঙ্গে দেখা করতে দিন।’ সরল বিশ্বাসে এবং কিছুটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই ব্যক্তি উত্তর দেন ‘আমি মোজাফফর। মেয়ের বাবা’। মুখ থেকে একথা শোনার পর আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করেনি ডিবির চৌকশ দল। পলকের মধ্যে পকেট থেকে বের হয়ে আসে হ্যান্ডকাফ। অতঃপর মোজাফফরের দুই হাত বন্দি হয়ে যায় ডিবির শিকলে। চোখের পলকে দীর্ঘদিনের ছদ্মবেশী ও সুচতুর পলাতক আসামির হাতজোড়া অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে আইনের খাঁচায়। এরপর হতভম্ব চাহনি আর অপ্রস্তুত আত্মসমর্পণ বুঝিয়ে দেয়, ডিবির এই নিখুঁত অপারেশন কতটা নিঁখুত ও পরিপক্ব ছিল।

    গোয়েন্দা সূত্রে মোজাফফরের সাড়ে চার দশকের পলাতক জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে। গ্রেফতার এড়াতে মোজাফফর দীর্ঘদিন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ছদ্মনামে আত্মগোপন করেছিলেন। নিজেকে আড়াল করতে তিনি নিজের আসল পরিচয় সম্পূর্ণ মুছে ফেলেন। বছরের পর বছর ধরে তিনি ভুয়া নাম, পরিচয় এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে চলতেন। এতদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ বনানী ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

    ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘তিনি একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিলেন। তাই প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে সেনাবাহিনীর নিজস্ব জুডিশিয়াল প্রসেস বা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

    ১৯৮১ সালের ৩১ মে যখন সামরিক অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয় এবং সেনাবাহিনীর তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর নিহত হন, তখন মোজাফফর বুঝতে পারেন তার বাঁচার কোনো পথ নেই। তাই তিনি তার আরেক সহযোগী মেজর এসএম খালেদ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কৌশলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রবেশ করেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে তিনি দীর্ঘ সময় কাটান। ১৯৯৭-১৯৯৮ সালের দিকে তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকেই পরবর্তী জীবনের ছক আঁকেন।

    মোজাফফর হোসেন তার নিজস্ব আসল পরিচয় পুরোপুরি মুছে ফেলেছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ নতুন একটি ছদ্মনাম ধারণ করেন এবং নিজের চেহারা ও বেশভূষায় পরিবর্তন আনেন। দীর্ঘ ৪৫ বছরে তার পারিবারিক যোগাযোগ এবং পুরোনো চেনা পরিমণ্ডলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন, যাতে কোনোভাবেই কল ট্র্যাকিং বা নজরদারির মাধ্যমে তার সন্ধান না মেলে। জীবনের শেষভাগে এসে তিনি অত্যন্ত গোপনে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বসবাস শুরু করেন রাজধানীর সবচেয়ে সুরক্ষিত ও অভিজাত এলাকাগুলোর একটি বনানী ডিওএইচএসে। একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসাবে ডিওএইচএস এলাকাটি তার চেনা পরিবেশ হলেও, সেখানে তিনি নিজেকে একজন সাধারণ, বয়োবৃদ্ধ এবং রাজনীতিবিমুখ নাগরিক হিসাবে পরিচিত করে তুলেছিলেন। আশপাশের মানুষ বা প্রতিবেশীরা কেউই কল্পনাও করতে পারেনি যে, তাদের পাশে বসবাসকারী এই বৃদ্ধই আসলে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম চাঞ্চল্যকর রাষ্ট্রপতি হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান ঘাতক।

    পলাতক অবস্থায় তিনি কেবল ভারতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। ভারতের ভুয়া নাগরিকত্ব বা জাল নথির সাহায্যে তিনি পাসপোর্ট তৈরি করেছিলেন। এই ভুয়া আন্তর্জাতিক নথির ওপর ভর করে তিনি বিশ্বের একাধিক দেশ সফর করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) বা বাংলাদেশের গোয়েন্দারা তার আসল নামে খোঁজ করেও দীর্ঘদিন কোনো হদিস পাননি।

  • জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব

    জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব

    জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব

    জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর সরকারই বাস্তবায়ন করবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    তিনি বলেন, বিরোধীদল শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাইকে ব্যবহার করতে চায়। আমরা চাই না জুলাই শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার আরেকটি হাতিয়ারে পরিণত হোক।

    শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্মরণসভাটির আয়োজন করে প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টার।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিরোধীদল থেকে বলা হচ্ছে, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি, সংস্কার আদায় না হলে রাজপথে ফায়সালা হবে’। অথচ জুলাই সনদে আমরা একসাথেই স্বাক্ষর করেছি। যে দলগুলো আন্দোলন করেছি, সবাই মিলেই স্বাক্ষর করেছি। আমরা বারবার বলছি, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব।

    গণভোটের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, গণভোটের একটা অংশ নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই হয়নি। উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমরা কখনোই একমত হইনি। সেখানেই এখন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সংস্কার কমিশন আমাদের সম্মতি ছাড়াই সেদিন বিষয়গুলো যেভাবে নিয়ে এসেছিল, তা নিয়ে আমি নিজেই স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম যে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

    তিনি আরো বলেন, জুলাই সনদের বইটা পড়লে দেখবেন, সেখানে বলা আছে—যে ম্যানিফেস্টো দিয়ে দলগুলো নির্বাচিত হবে, প্রতিটি দল তাদের সেই ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়ন করবে। আমরা ৩১ দফাতে যেমন কমিটেড, তেমনিভাবে জুলাই সনদেও কমিটেড। কিন্তু সেটা আমরা যেভাবে চেয়েছি সেভাবে। এখানে সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে যে আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই না।

    বিরোধীদল সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন বিরোধী দলের অনেকে বিভিন্ন মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন। জনগণ কিন্তু সবচেয়ে ভালো বোঝেন। তারাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা বরাবরই বলে এসেছি যে আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই, সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের যে ম্যানিফেস্টোকে জয়ী করেছে, সেই টু-থার্ড মেজরিটি নিয়ে বিএনপি আজকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। ওই জায়গায় কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।

    মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন শুধু জুলাই মাসেরই আন্দোলন নয়। জুলাই আন্দোলন হলো দীর্ঘকাল ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৮ বছর ধরে চলা লড়াইয়ের পরিণতি।

    স্মরণসভায় মরহুম অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘মরহুম এমাজউদ্দীন স্যার ছিলেন আমাদের লিবারেল ডেমোক্রেসির বাতিঘর। কোনো প্রাপ্তির আশা ছাড়াই তিনি আজীবন গণতন্ত্র ও স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ে পথ দেখিয়েছেন। ১৯৭১ ও ২০২৪-এর চেতনা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই হবে তার প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।’

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, জাবি উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের সভাপতি ও আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক আবুল কাশেম হায়দার প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক আবদুল লতিফ মাসুম।

  • সরকার দলীয় এমপিরা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ লঙ্ঘন করেছেন: আইনজীবী শিশির

    সরকার দলীয় এমপিরা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ লঙ্ঘন করেছেন: আইনজীবী শিশির

    সরকার দলীয় এমপিরা ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ লঙ্ঘন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, বিরোধী দলের এমপিরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিলেও, সরকারি দলের এমপিরা তা নেননি।

    বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বারের শহীদ শাফিউর রহমান মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতের আইনজীবী সংগঠন ‘বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল’ আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনের বিষয় ছিল ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি, গণভোট, জুলাই সনদ ও পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায়: বর্তমান বাস্তবতা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন–ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন এমপি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান এমপি, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ব্যারিস্টার এ. এস. এম. শাহরিয়ারসহ আরও অনেকে।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত।

    শিশির মনির অভিযোগ করেন, সম্প্রতি সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বর্তমান সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গণভোটের বিধান অনুসারে সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-কে অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে এবং মানবাধিকার কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে, যদিও সরকার এগুলো সংশোধন করে পুনরায় প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

    সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ভোটদানের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। বিরোধী দলীয় জোটের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দ্বৈত শপথ নিলেও সরকার দলীয় নির্বাচিতরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান। এর মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫-এর বিধান লঙ্ঘন করেন তারা।

    বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গুম-খুন, নির্যাতন ও আয়নাঘর ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। এছাড়া একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী যুক্ত করা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পুনর্লিখিত হয়। বিলুপ্ত করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। গণভোটের ব্যবস্থাও বিলুপ্ত করা হয়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বছরের পর বছর ক্ষমতার চরম অপব্যবহারে মানুষের মনে হতাশা ও গভীর ক্ষোভের জন্ম হয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিস্ফোরিত হয় দীর্ঘদিনের সেই চাপা ক্ষোভ। জনতার স্রোতে ভেঙে যায় ১৬ বছর ধরে গড়ে ওঠা একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে পথ চলতে শুরু করে এ সরকার। এর মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হলেও বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রসংস্কার এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।’

  • ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ঢাবিতে লীগ ধর ম্যারাথন ও চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধন

    ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ঢাবিতে লীগ ধর ম্যারাথন ও চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধন

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭ জুলাই ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এ উপলক্ষে তারা ‘লীগ ধর’ ম্যারাথন এবং ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ নামের তিন দিনব্যাপী চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করে।

    ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাবি ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগকে তাড়ানোর ঘটনাকে স্মরণ করতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়।

    শুক্রবার ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘লীগ ধর’ ম্যারাথনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। ম্যারাথনের রুট নির্ধারণ করা হয় কার্জন হল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, টিএসসি, তোরণ, মহসিন হল ও সূর্যসেন হল হয়ে কলাভবন পর্যন্ত।

    ম্যারাথন শেষে সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তিন দিনব্যাপী বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনী ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ১৭, ১৮ ও ১৯ জুলাই পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁনসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং আন্দোলনের চেতনা ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘১৭ জুলাই সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস থেকে তাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নয়া আজাদির সূচনা করেছিল, যার চূড়ান্ত রূপ আসে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে। জুলাইয়ের শহীদদের বিচার নিশ্চিত করতে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।’

    তিনি আরো বলেন, জুলাই আন্দোলন শুধু একটি ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তা দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই ইতিহাসকে জীবন্ত রাখার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের।

    ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘গণপরিসর থেকে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিকে ভুলিয়ে দেওয়ার নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। কিছু ব্যক্তি পুনরায় ফ্যাসিবাদের বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জুলাইয়ে বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ, আন্দোলন এবং ফ্যাসিবাদের জুলুম-নিপীড়নের ইতিহাসকে বারবার জনপরিসরে নিয়ে আসতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ইতিহাস বিকৃতির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, দুই সহস্রাধিক শহীদ ও অসংখ্য গাজীর আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যেই ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ শীর্ষক এই বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

    তিনি জানান, প্রদর্শনীতে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিচারণ, বিভিন্ন আলোকচিত্র,ও ফ্যাসিবাদী শাসনামলের বিভিন্ন নিপীড়নের দলিল স্থান পেয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের নানা স্মারক, ইনকিলাবি সংগীত এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন রয়েছে। দর্শনার্থীরা আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের ঘটনাপ্রবাহ ও দমন-পীড়নের চিত্র দেখতে পারবেন।

    কাজী আশিক বলেন, ‘আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত আমাদের এই আয়োজন চলবে, ইনশাআল্লাহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিককে প্রদর্শনীটি পরিদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

    আয়োজকরা জানান, ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনীর তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে। এ ছাড়া প্রতিদিন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও স্মৃতিচারণমূলক পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

  • আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের রক্তপাত থেমে নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের রক্তপাত থেমে নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের অস্ত্রের ঝনঝনানী ও রক্তপাত থেমে নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃস্পতিবার এক শোকবার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের অস্ত্রের ঝনঝনানী ও রক্তপাত থেমে নেই। গতকাল জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা সেটিরই ধারাবাহিকতা। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করতে তাদের প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু এভাবে খুন-জখমের মাধ্যমে আওয়ামী লুটপাটের রাজত্ব আবারও ফিরে আসবে না।

    তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর নীতি ও আদর্শ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনে গভীরভাবে আস্থাশীল ছিলেন জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। তিনি মিঠামইন উপজেলা বিএনপিকে শক্তিশালী, গতিশীল ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি ছিল তার অবিচল আস্থা। তাদের নেতৃত্বে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে মরহুম জাহাঙ্গীর সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করি তিনি যেন জাহাঙ্গীরকে জান্নাত নসীব এবং শোকাহত পরিবারবর্গকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন।


    বিএনপি মহাসচিব জাহাঙ্গীরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গ, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে জাহাঙ্গীরকে হত্যাকারী দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।

  • বাগেরহাটে নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটে নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটের শরণখোলায় নিজ ঘর থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রাজৈর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে মো. কবির হোসেন ও তার স্ত্রী হালিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত কবির হোসেন রাজৈর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি পেশায় একজন জেলে ছিলেন। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। একজনের বয়স পাঁচ বছর ও আরেকজনের দুই মাস।

    পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করে স্বেচ্ছায় পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার কথা লেখা রয়েছে।

    স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

    শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • চৌগাছায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত

    চৌগাছায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত

    যশোরের চৌগাছায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১ টায় চৌগাছা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম।

    সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি, এম, এ , মুনীব, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন, চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ পিপিএম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশীদ, চৌগাছা পৌর বিএনপির সেক্রেটারি আব্দুল হালিম চঞ্চল, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চৌগাছা উপজেলা আহবায়ক রাশিদুল ইসলাম রিতম, প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানের শেষে চৌগাছার জুলাই শহীদ আল্ আমীনের পিতাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই শহীেদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভার শেষে জুলাই শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আহদের জন্য এবং দেশ ও জাতীর উন্নতি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা শাহজান আলী।

    বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাঁদের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

  • গাংনীতে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা

    গাংনীতে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা


    যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১ টায় গাংনী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আব্দুল্লাহ আল মাসুম।

    সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোরশেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম সোনা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদাসম্পন্ন অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমীর মোঃ রবিউল ইসলাম, কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও তৎকালীন আইইউবিএটির শিক্ষার্থী তানভীর মেহেদী ইমন, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা, এনসিপির গাংনী উপজেলা সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, গাংনী প্রেস ক্লাবের সভাপতি তৌহিদ উদ দৌলা রেজা, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার আলী কানন, গাংনী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন এবং সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম অল্ডাম।

    বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাঁদের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

  • সাপের দংশনে ইমামের মৃত্যু

    সাপের দংশনে ইমামের মৃত্যু

    ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় সাপের দংশনে হাফেজ আবদুল কাদের জিলানী (৫৫) নামে এক মসজিদের ইমামের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার মাগরিবের নামাজ শেষে নিজ কক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন হাফেজ আবদুল কাদের জিলানী। পরে এশার আজানের সময় ঘুম থেকে উঠে মেঝেতে পা রাখলে সেখানে থাকা একটি গোখরা সাপ তাকে দংশন করে।

    সাপের দংশনে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে সাপের বিষের প্রতিষেধক (অ্যান্টি-স্নেক ভেনম) না থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত হাফেজ আবদুল কাদের জিলানী দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করে আসছিলেন। পাশাপাশি তিনি মক্তবে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষাও দিতেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের বিষের প্রতিষেধক না থাকায় জরুরি চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা উপজেলা পর্যায়ে অ্যান্টি-স্নেক ভেনমের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

  • নোয়াখালীতে আলোচিত শিবলু হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

    নোয়াখালীতে আলোচিত শিবলু হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

    নোয়াখালীর চাটখিল থানার বহুল আলোচিত আতিকুর রহমান শিবলু (২৯) হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি শাহপরান ওরফে রুদ্রকে (২৭) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। পরে তাকে চাটখিল থানায় সোপর্দ করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক প্রেস রিলিজে এই তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১১-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিথুন কুমার কুন্ড। এর আগে, বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে সোনাইমুড়ী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার শাহপরান নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের সাহাপাড়া এলাকার মো: রবিউল আলম চৌধুরীর ছেলে।

    র‌্যাব-১১, নোয়াখালী ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে সোনাইমুড়ী থানাধীন আমিশাপাড়া বারাহীনগর এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের সামনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আসামি শাহপরান ওরফে রুদ্রকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

    মামলার এজাহার ও প্রাথমিক পর্যালোচনা থেকে জানা যায়, চাটখিল উপজেলার মোস্তাফিজুর রহমানের (৫৬) ছেলে কাতারপ্রবাসী আতিকুর রহমান শিবলু ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ২টার দিকে শিবলুর মোবাইল থেকে তার বাবাকে ফোন করে জানানো হয়, তার ছেলে আহত অবস্থায় হিটারলাইনের দোকানের পশ্চিমে রাস্তার উপর পড়ে আছে।

    শিবলুর বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে না পেয়ে ওই নম্বরে পাল্টা ফোন করলে ১ নম্বর আসামি বলেন, শিবলুকে নিয়ে আসছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ১ নম্বর আসামি আহত শিবলুকে টেনেহিঁচড়ে তার বাবার সামনে নিয়ে এসে দ্রুত পালিয়ে যান। রক্তাক্ত শিবলু চিৎকার করে জানান, আসামিরা তার বাম হাত ভেঙে ফেলেছে।

    মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিবলুকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পরে চাটখিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।

    অবশেষে র‌্যাব-১১ এর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এক বছরেরও বেশি সময় পর এই মামলার অন্যতম আসামি শাহপরানকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলো।

  • নোয়াখালীতে ৮০ হাজার ইয়াবা পাচারকালে আটক ২

    নোয়াখালীতে ৮০ হাজার ইয়াবা পাচারকালে আটক ২

    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ৮০ হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি জিপ গাড়িও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন।

    এর আগে একই দিন ভোরে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর এলাকার রূপসা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় বেহুলা ইউনিয়নের ইটমুনি হেতালিয়া পাড়ার মৃত মোজাফফর আহমদ সিকদারের ছেলে মো. পারভেজ (৪২) এবং একই গ্রামের শেখ চাঁন মিয়ার ছেলে মো. বিপ্লব (৪৮)।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এএনএম ইমরান খান ও বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন কালো রঙের একটি হার্ডজিপে তল্লাশি চালিয়ে পেছনের ডান পাশের দরজার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ইয়াবার চালান উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাদা স্কচটেপে মোড়ানো ৪১টি প্যাকেটের মধ্যে থাকা ১৯৬টি নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিব্যাগে মোট ৮০ হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবা রাখা ছিল।

    পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার পারভেজের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে নয়টি মামলা রয়েছে।

  • নৌকাডুবিতে ৫ শতাধিক রোহিঙ্গার মৃত্যুর শঙ্কা

    নৌকাডুবিতে ৫ শতাধিক রোহিঙ্গার মৃত্যুর শঙ্কা

    মিয়ানমার উপকূলে জুনের শেষ দিকে দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। যৌথ বিবৃতিতে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও এর শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ।

    বিবৃতিতে বলা হয়, নৌযান দুটি জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা করেছিল। আরোহীদের বেশির ভাগই ছিল দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের কক্সবাজারে শরণার্থী শিবির থেকেও যাত্রা করেছিল।

    জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় ২৫০ আরোহী বহনকারী একটি নৌকা সমুদ্রে যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে প্রায় ২৮০ জন আরোহী নিয়ে যাত্রা করা আরেকটি নৌকা গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াডি উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, নৌকাডুবির এসব ঘটনা এবং হতাহতের সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে সম্ভাব্য এই ভয়াবহ প্রাণহানিতে আইওএম ও ইউএনএইচসিআর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।