জাতীয় সংবাদ

  • ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত জার্মানির দায়িত্বে ক্লপ

    ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত জার্মানির দায়িত্বে ক্লপ

    ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে জার্মানি ফুটবল। ইউলিয়েন নাগেলসম্যানের বিদায়ের পর জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ৫৯ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ কোচের সঙ্গে চুক্তি নিশ্চিত করেছে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি)।

    এবারের বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপরই নাগেলসম্যানের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতিতে চুক্তি বাতিল করে জার্মানি। এরপর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লপকে দায়িত্ব দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। আগামী ১৫ই আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অধ্যায় শুরু করবেন সাবেক লিভারপুল মাস্টারমাইন্ড।

    জার্মান ফুটবলের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে নিজের উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারেননি ক্লপ। চুক্তি স্বাক্ষরের পর তিনি বলেন, ‘জাতীয় দল জার্মানদের যেভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, অন্য কিছু তা পারে না। আর এটাই এই কাজটিকে আমার কাছে এত বিশেষ করে তুলেছে। আমরা বিনয় এবং ধৈর্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করব। এমন একটি দল তৈরি করবো, যারা একে অপরের জন্য লড়াই করবে এবং ফুটবলের আনন্দ ফিরিয়ে আনবে।’

    জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বার্নড নয়েনডর্ফ নিশ্চিত করেন, শুরু থেকেই ক্লপ ছিলেন তাদের প্রথম পছন্দ। ক্লপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ইয়ুর্গেন ক্লপ আবেগ, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতার রূপক। নাগেলসম্যানের পদত্যাগের পর কোনো দ্বিধা ছাড়াই তিনি আমাদের প্রথম পছন্দ ছিলেন।’

    এছাড়া সংস্থার সহ-সভাপতি হান্স-জোয়াকিম ওয়াটজকে এ বিষয়ে বলেন, ‘আমার কাছে ইয়ুর্গেন বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ। খেলোয়াড়দের বিকাশ ঘটানো এবং পুরো জাতিকে একসূত্রে বাঁধার দারুণ দক্ষতা রয়েছে তার। আর ঠিক এই জিনিসটাই এখন জার্মান দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

    ক্লপের কোচিং স্টাফে সহকারী হিসেবে যোগ দিচ্ছেন পেপিন লিন্ডার্স, পিটার ক্রাভিয়েৎস এবং সভেন বেন্ডার। এর আগে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে ২টি জার্মান বুন্ডেসলিগা জেতান ক্লপ। পরের অধ্যায়ে লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়নস লীগ ও দীর্ঘ ৩০ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা জয়ের স্বাদ এনে দেন তিনি।

    আগামী ২৪শে সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে উয়েফা ন্যাশনস লীগের ম্যাচ দিয়ে জার্মানির ডাগআউটে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হতে যাচ্ছে ক্লপের।

  • চট্টগ্রামে বন্যায় মারা গেছে ১ লাখ ৬১ হাজার গবাদিপশু

    চট্টগ্রামে বন্যায় মারা গেছে ১ লাখ ৬১ হাজার গবাদিপশু

    বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে এক লাখ ৬১ হাজার ৩৯৪টি গবাদিপশু মারা গেছে। টাকার অঙ্কে এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া বন্যায় ১০ হাজার ৯৯১টি খামার। বন্যা-পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলার ৪৫টি উপজেলার ১৯১টি ইউনিয়নে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার ২৪০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম জেলায় ক্ষতি হয়েছে ৬০ কোটি ৬ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ টাকা। এছাড়া কক্সবাজারে ১৩ কোটি ৫৩ লাখ ৯১ হাজার ১১০ টাকা, বান্দরবানে ১৭ লাখ ৪৭ হাজার, রাঙামাটিতে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮২ হাজার এবং খাগড়াছড়িতে মোট ক্ষতি হয়েছে ৩৭ লাখ ১ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।

    চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-পরিচালক (ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ) ডা. মুহাম্মদ ইজমাল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বন্যা-পরবর্তী সময়ে পশু ও হাঁস-মুরগি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা মাঠ পর্যায়ে তথ্য নেওয়া হয়েছে। তাতে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে।

    তথ্যমতে, গবাদিপশুর ৪ হাজার ৭৫৬টি খামারে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা, হাঁস-মুরগির ৬ হাজার ২৩৫টি খামারে ১৯ কোটি ৭২ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা, ৯১০ টন দানাদার খাবারে ৫ কোটি ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা, ১৪ হাজার ২৬৫ টন খড় ২১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, ৯ হাজার ১২৯ টন ঘাস, যার মূল্য ৮ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা। মৃত গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিতে ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার ৭৪০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় মারা গেছে ৭১টি গরু, ১৬৫টি ছাগল, ৫০টি ভেড়া, ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬০০টি মুরগি এবং ২ হাজার ৫০৮টি হাঁস।

    এছাড়া পাঁচ জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৯০টি গরু, ৪ হাজার ৭৫৫টি মহিষ, এক লাখ ৬০ হাজার ৮৭টি ভেড়া, ২৮ লাখ ৪৫ হাজার ৮২৮টি মুরগি এবং ৭০ হাজার ৩৭০টি হাঁস অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ পশু ও হাঁস-মুরগিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

  • কমেছে সামগ্রিক পোশাক রপ্তানি

    কমেছে সামগ্রিক পোশাক রপ্তানি

    চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি আয় সামান্য কমেছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পোশাক রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৯৩৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ের এক হাজার ৯৪৫ কোটি ৯৩ লাখ ডলারের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ কম। এর মধ্যে ওভেন পোশাক রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও নিট পণ্যে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক রপ্তানি কমেছে।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ওভেন পোশাক থেকে রপ্তানি আয় এসেছে ৯১৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৯১৩ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। ফলে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ।

    অন্যদিকে, নিট পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে এক দশমিক ৮০ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে নিট পণ্য রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ১৩ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ আয় ছিল এক হাজার ৩২ কোটি ১৭ লাখ ডলার।

    মাসভিত্তিক হিসাবে বছরের শুরুতেই পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা দেখা যায়। জানুয়ারিতে মোট আরএমজি রপ্তানি হয়েছে ৩৬১ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এক দশমিক ৩৫ শতাংশ কম। ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি কমেছে ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ এবং মার্চে ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ সময় ওভেন ও নিট–দুই ধরনের পোশাকেই রপ্তানি কমেছে।

    তবে এপ্রিল মাসে ঘুরে দাঁড়ায় খাতটি। ওই মাসে মোট পোশাক রপ্তানি ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে ৩১৪ কোটি ৯ লাখ ডলারে উন্নীত হয়। ওভেন রপ্তানি ৩২ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং নিট পোশাক ৩০ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ে।

    এর পরের মাস মে-তে আবার রপ্তানি কমে যায়। এ মাসে মোট আয় হয়েছে ৩৫৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় আট দশমিক ২৯ শতাংশ কম। জুনে অবশ্য প্রবৃদ্ধির ধারায় ফেরে পোশাক রপ্তানি। শেষ মাসে ৩৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা এক বছরের ব্যবধানে ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। জুনে ওভেন পোশাকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ, আর নিটে ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

    বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমার দেশকে বলেন, চলতি বছরের প্রথমার্ধে তৈরি পোশাক রপ্তানির সামগ্রিক চিত্রে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। তবে প্রথম ছয় মাসের এই প্রবৃদ্ধি বছর শেষে থাকবে কি না সন্দেহ আছে।

    তিনি বলেন, বিএনপির আগের আমলে ২০০৫ ও ২০০৬ সালের দিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য তখন বিকেএমইএর সদস্য সংখ্যা ছিল আড়াই হাজার। এরপর দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ায় শিল্প মালিকদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়, বর্তমানে বিকেএমইএর সদস্য সংখ্যা ৮০০-তে নেমে এসেছে।

    খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শুরুতে রপ্তানি কমলেও জুনে এসে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে ওভেন পোশাকে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বাংলাদেশের সক্ষমতার একটি ইতিবাচক দিক। মাত্র শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ রপ্তানি কমা থেকে বোঝা যায়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নানা অনিশ্চয়তা ও বাজার সংকটের মধ্যেও দেশের পোশাক খাত মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ, উৎপাদন সক্ষমতা এবং পরিবেশবান্ধব কারখানার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতাও এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

    তাদের মতে, সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক। বিশ্ব অর্থনীতির মন্থর গতি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে চাহিদার দুর্বলতা, বাড়তি উৎপাদন ব্যয় ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ক্রেতাদের কাছ থেকে কম দামে পণ্য সরবরাহের চাপ–রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে বাধা তৈরি করতে পারে। এর সঙ্গে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকে নতুন প্রতিযোগিতার মুখে ফেলবে। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে প্রচলিত পণ্যনির্ভর ব্যবসা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পোশাক, বৈচিত্র্যময় পণ্য এবং নতুন বাজার তৈরিতে জোর দিতে হবে। এতে একদিকে উৎপাদন দক্ষতা বাড়বে, অন্যদিকে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও আরো শক্তিশালী হবে।

  • ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ

    শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    আজ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান তিনি।

    রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের তথ্য জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছি। পদত্যাগপত্রটি আমি গ্রহণ করেছি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসসিনক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ প্রধান করা হলো।’

    তিনি বলেন, ‘সংবিধানে, ইতোমধ্যেই আপনারা হয়তো জানেন, যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি, সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছি, যদি প্রয়োজন হয়। একইভাবে আমাদের ডেপুটি স্পিকার সাহেব, তিনিও যখন ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ নেন, তখন বলা থাকে, যখন প্রয়োজন হবে কোনো কারণে স্পিকারের চেয়ার শূন্য থাকবে তখন ডেপুটি স্পিকার, স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।’

    প্রসঙ্গত, মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন। পদত্যাগ না করলে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

    ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।’

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির সমর্থনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার পাশে ছিল।’

    প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকার, পরে বিএনপি সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে সরানোর দাবি ওঠে।

  • ৫টায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন স্পিকারের

    ৫টায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন স্পিকারের

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। বিকেল পাঁচটায় এই সংবাদ সম্মেলন হবে।

    জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখার সহকারী পরিচালকের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ পরবর্তী এই সংবাদ সম্মেলন জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

    স্পিকার আজ শুক্রবার দুপুরে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন। গত ১৯ জুলাই তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্যাংককে যান।

    দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।

    এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কী করবেন না করবেন, সেটি আমি জানি না। তিনি দেশের প্রথম ব্যক্তি।’

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করবেন না করবেন, তা আমার জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারব। যদি তিনি পদত্যাগ করেন, তবে স্পিকারের কাছে করবেন। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। এটাই সংসদীয় রীতি।’

    সফর সংক্ষিপ্ত করলেন কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘আমার ঢাকায় কিছু ব্যক্তিগত কাজ আছে। আর গতকাল আমার মেডিকেল চেকআপ যেহেতু শেষ হয়েছে, তাই আমি দেশে ফিরে এসেছি।’

    রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী দায়িত্ব স্পিকারের নেওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটি ট্র্যাডিশনাল বাংলাদেশের সংবিধানে লেখা আছে। যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ, সেটি তিন মাসের মধ্যে করতে হয়। এটাই সংসদের পজিশন।’

    ১৯ জুলাই স্পিকার ঢাকা থেকে ব্যাংককে যান চিকিৎসার জন্য। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই তিনি দেশে ফিরলেন। স্পিকারের আগাম দেশে ফেরা রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের আলোচনাকে আরও জোরদার করেছে। কারণ, নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেন স্পিকারের কাছে। আর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগপর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন স্পিকার।

    কয় দিন ধরেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায়। তিনি আজ-কালের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন বলে বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

  • গুরুতর অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি: বঙ্গভবন

    গুরুতর অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি: বঙ্গভবন

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন। স্পিকার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেন

    আজ বিকেল ৫টার দিকে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদ্‌যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামের রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।’

    রাষ্ট্রপতি আরও লেখেন, ‘এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’

    সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন।

  • রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা

    রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি দু-এক দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খানের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা এক সিনিয়র সচিবের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

    সূত্র জানায়, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।

    আরও পড়ুন

    রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন

    দলীয় সূত্রগুলোর মতে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে, প্রায় ৬০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে দলের বাইরের গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে এ পদে মনোনয়ন দেওয়ার। তবে দলের একাধিক নেতা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে দলীয় নেতৃত্বের অভিজ্ঞ কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

    এদিকে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদে যেসব নাম আলোচনায় আসছে, সেগুলো মূলত অনুমাননির্ভর। বাস্তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু জানেন না বলে ওই সূত্র দাবি করেছে।

    বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা, সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা—এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে।

    উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন। সর্বশেষ এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকার চাইলে দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।

  • ‘আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান’— পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি

    ‘আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান’— পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি

    সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে একটি গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।’

    পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘বলে দিছি, বুঝে নেন।’

    এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে জানাতে বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন স্পিকার।

    রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

    সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলছে।

    আজ দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রবিবার তার ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে তিনি দেশে ফেরেন।

  • কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

    কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

    কুষ্টিয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আটজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শুক্রবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে বিজিবির কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীন জয়পুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৫২/১-এস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর মেঘনা ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাতনামা দুইজন পুরুষ, চারজন নারী ও দুইজন ট্রান্সজেন্ডারসহ মোট আটজনকে নদীপথে সাঁতার কেটে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি টহলরত বিজিবি সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে ওই ব্যক্তিরা নদীপথেই পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

  • পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন মো. সাহাবুদ্দিন

    পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন মো. সাহাবুদ্দিন

    রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।

    পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন লেখেন, ‘আমি মোঃ সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।’

    তিনি লেখেন, ‘নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।’

    পদত্যাগের কারণ নিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন লেখেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।’

    সবশেষে তিনি লেখেন, ‘এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’

    প্রসঙ্গত, মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন। পদত্যাগ না করলে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

    ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।’

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির সমর্থনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার পাশে ছিল।’

    প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকার, পরে বিএনপি সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে সরানোর দাবি ওঠে।

  • জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, আমাদেরও ভুলত্রুটি হয় : শফিকুর রহমান

    জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, আমাদেরও ভুলত্রুটি হয় : শফিকুর রহমান

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন,জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের দল নয়। আমরা মানুষ, আমাদেরও ভুলত্রুটি হয়। আমরা একটা কথা পরিষ্কার বলেছি, অন্যায় আর জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে চলে না।

    আজ শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে দলের রুকন সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, আমরা দাবি করি না যে আমাদের কোনো ভুল হয় না। বরং আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই, আমাদের ভুল ধরিয়ে দিন। আমরা তা সংশোধনের চেষ্টা করব। নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াত কোনো ছাড় দেয় না।

    দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সাদা কাপড়ে যেমন সামান্য দাগও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তেমনি একটি আদর্শিক দলের কর্মীদের সামান্য বিচ্যুতিও মানুষের নজরে আসে। তাই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে, কিন্তু অপরাধের মাত্রা গুরুতর হলে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও দল পিছপা হবে না।

    তিনি বলেন, শয়তান সবসময় মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তাই নেতাকর্মীদের সব বিষয়ে সৎ ও নৈতিক হতে হবে। নেতৃত্বের সততা নিশ্চিত হলে সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

    বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, প্রত্যেক যুগেই কিছু অপরাধপ্রবণ মানুষ ছিল। সে কারণেই যুগে যুগে নবী-রাসুলদের মাধ্যমে মানুষকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা নিজেদের সংশোধনের চেষ্টা করি। তারপরও ধানের মধ্যে যেমন চিটা থাকতে পারে, তেমনি সমাজ বা সংগঠনের মধ্যেও ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

    দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণ-আন্দোলনের চেতনা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্রভাব ফেলছে। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    গণভোট প্রসঙ্গে সরকারের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, গণভোট নিয়ে সরকারের অবস্থান আজ স্পষ্ট হয়ে গেছে। জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ। সংবিধান জনগণের জন্য, জনগণ সংবিধানের জন্য নয়। একটি গণরায়ের ফল মেনে নিয়ে আরেকটি অস্বীকার করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

    তিনি বলেন, যদি সংসদে সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে জনগণ রাজপথেই সমাধান খুঁজে নেবে—যেমনটি ২০২৪ সালে হয়েছিল। একই সঙ্গে সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সংবিধানকে অতিরিক্ত টানাটানি করবেন না। আমরা দেখতে চাই সরকার জনগণের রায়কে সম্মান জানায়। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে খুন, সন্ত্রাস ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েই চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অন্যদের বিষয়ে যতটা সক্রিয়, নিজের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে ততটা মনোযোগী নন। তিনি যেন নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গুরুত্ব দেন এবং দেশের মানুষকে শান্তিতে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করেন।

  • গার্দিওলার আগে আনচেলোত্তির শরণাপন্ন হয়েছিল ইতালি!

    গার্দিওলার আগে আনচেলোত্তির শরণাপন্ন হয়েছিল ইতালি!

    চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির ফুটবলে এখন যেন চরম দুর্দিন! টানা তৃতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে ব্যর্থ হওয়ার পর ফাঁকা পড়ে আছে জাতীয় দলের কোচের পদ। তবে এই শূন্যস্থান পূরণে কোনো ছাড় দিতে নারাজ ইতালি ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)। পেপ গার্দিওলার সঙ্গে যোগাযোগ করার আগে তাদের প্রথম পছন্দ ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ও ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলোত্তি।

    সম্প্রতি ইতালির নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর এবং ক্লাব কিংবদন্তি পাওলো মালদিনি এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি জানান, জাতীয় দলের দায়িত্বে বিশ্বের সেরা কোচদেরই আনতে চান তারা। এসি মিলানের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার মালদিনি বলেন, ‘পেপের (গার্দিওলা) সঙ্গে কথা বলার আগে আমি কার্লো আনচেলোত্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। আমাদের কাছে মনে হয়েছে বিশ্বের সেরা যাদের ভাবা হয়, তাদের দিয়েই শুরু করা উচিত। শুরুতেই তাদের সাধারণ আগ্রহ এবং তারা খালি আছেন কি না, সেটা যাচাই করে দেখা আমাদের দায়িত্ব ছিল।’
    অবশ্য ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছেন আনচেলোত্তি। ফলে এই স্বদেশি মাস্টারমাইন্ডকে পাওয়া ইতালির জন্য সম্ভব হচ্ছে না।
    অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটিতে সফল ১০ বছর কাটানোর পর দল ছাড়ায় পেপ গার্দিওলাকে কোচ করার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রাখছে ইতালি। যদিও গুঞ্জন ছিল স্প্যানিশ এই কোচ বছরে ২০ মিলিয়ন ইউরো পারিশ্রমিক দাবি করেছেন, যা ইতালির বাজেটের দ্বিগুণ। তবে মালদিনি এই তথ্যকে স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘পেপের ক্ষেত্রে আর্থিক বিষয় বা পারিশ্রমিক মোটেও কোনো বাধা বা বড় বিষয় নয়।’

    গত এপ্রিলে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে বাদ পড়ার পর ইতালি। এর পরপর কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান জেনারো গাত্তুসো। বর্তমানে আনচেলোত্তি খালি না থাকায় গার্দিওলার পাশাপাশি সাবেক ইউরো বিজয়ী কোচ রবার্তো মানচিনি এবং ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ম্যাজিশিয়ান আন্দ্রেয়া পিরলোর নামও আলোচনায় রয়েছে। আগামী ২০৩২ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে পুরো ইতালি ফুটবলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর মাস্টারপ্ল্যান নিয়েছে ফেডারেশন।

  • রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন

    রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন

    পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় সংসদ ভবনে ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়ে কথা বলবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরই মধ্যে সংসদে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির প্রটোকল প্রস্তুত করা হয়েছে।

    ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ থাকার কথা ছিল।

    দুদিন ধরেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন চলছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করা হয়নি। এর মধ্যে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। আজ দুপুরের দিকে নির্ধারিত সফরসূচির দুদিন আগেই দেশে ফেরেন তিনি।

  • দুই কারণে আটকে আছে নতুন পে স্কেল

    দুই কারণে আটকে আছে নতুন পে স্কেল

    অর্থনৈতিক চাপ, রাজস্ব ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সতর্ক অবস্থানের কারণে বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকারের বিবেচনায় রয়েছে একবারে পুরো বেতন-ভাতা না বাড়িয়ে দুই ধাপে পে স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা। প্রথম ধাপে মূল বেতন (বেসিক) বৃদ্ধি এবং পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    বর্তমান বিধান অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পুনর্বিবেচনার কথা থাকলেও গত এক দশকে নতুন কোনো পে স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। এ কারণে নতুন সরকারের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন অর্থনীতি ও জনপ্রশাসন বিশ্লেষকরা। যদিও প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হলে এই বিপুলসংখ্যক কর্মচারী নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

    তবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বর্তমান রাজস্ব আহরণের পরিস্থিতিতে এই অর্থের সংস্থান কঠিন হওয়ায় ঘাটতি বাজেটের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

    এদিকে আইএমএফের আশঙ্কা, একসঙ্গে বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ ফেলবে। পাশাপাশি প্রত্যাশিত হারে রাজস্ব আদায় না বাড়ায় দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

    এ পরিস্থিতিতে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের আইনি, আর্থিক ও প্রশাসনিক দিকগুলো নিয়ে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি ইতোমধ্যে কমিশনের সুপারিশ এবং অষ্টম জাতীয় পে স্কেলের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে একাধিক বৈঠক করেছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আরও দুই থেকে তিনটি কারিগরি বৈঠকের পর কমিটি তাদের চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠাবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্টের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় সপ্তাহে নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে।

    যদিও গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবুও বর্ধিত বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা বর্ধিত বেতনের পাশাপাশি বকেয়া অর্থও একসঙ্গে পাবেন।

  • সরকারি প্রাথমিকে আস্থা কমছে!

    সরকারি প্রাথমিকে আস্থা কমছে!

    • এক যুগে শিক্ষার্থী কমেছে ১ লাখ ৩৭ হাজার

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যের বই, উপবৃত্তি, বেতনমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থাসহ নানা সুবিধার পরও কমছে শিক্ষার্থী। শুধু রাজশাহী বিভাগেই গত এক যুগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কমেছে প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার শিক্ষার্থী। অন্যদিকে ওই সময়ে শিক্ষার্থী বেড়েছে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই পরিবর্তন সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

    প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারের বিনিয়োগ প্রতি বছরই বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। এই অর্থ ব্যয় হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বিদ্যালয় পরিচালনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যের পাঠ্যবই, উপবৃত্তি এবং বিভিন্ন শিক্ষাসহায়তা কার্যক্রমে।

    রাষ্ট্রের এই বিপুল বিনিয়োগের পরও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের। অবশ্য অভিভাবকদের বড় অংশের ভাষ্য, তারা এখন শুধু বিনামূল্যের শিক্ষা নয়; সন্তানের শেখার মান, নিয়মিত পাঠদান, পরীক্ষা, শিক্ষক-অভিভাবক যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত নজরদারিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে বাড়তি খরচ হলেও সন্তানকে পাঠাচ্ছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে রাজশাহী বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৯ হাজার ৭৫ জন। ২০২৬ সালে সে সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৯২ জনে।

    অন্যদিকে একই সময়ে কিন্ডারগার্টেন ও অন্যান্য বেসরকারি প্রাথমিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী বেড়েছে। ২০১৪ সালে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৯৬৬ জন। ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪ হাজার ৩০ জনে।

    এদিকে সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের জনসংখ্যা ২ কোটি ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১১৬ জন। ২০১১ সালের জনশুমারিতে এ সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫৮ জন। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে বিভাগে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৮ লাখ ৬৮ হাজার।

    অভিভাবকদের দাবি, নিয়মিত ক্লাস, বাড়ির কাজ, পরীক্ষা, ইংরেজি শিক্ষা, শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সন্তানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাদের কাছে।

    রাজশাহীর শাহীন স্কুলে ছেলেকে পড়ান সাজু নামের এক অভিভাবক। তিনি বললেন, ‘সন্তানকে প্রাথমিকে পড়ানোর কথা চিন্তাই করতে পারি না। সেখানে আধুনিক শিক্ষার বালাই নেই। ইংরেজিতে দক্ষ করে গড়ে তোলাসহ একজন শিক্ষার্থীকে মানসম্মত পাঠদানের জন্য ভালোমানের বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ানোর বিকল্প নেই।’

    সরেজমিনে রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েও শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার চিত্র পাওয়া গেছে। পবা উপজেলার কাটাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি বছর প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে মাত্র ১০ শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আশপাশে কিন্ডারগার্টেন গড়ে ওঠার পর অনেক শিক্ষার্থী সরকারি বিদ্যালয় ছেড়ে সেখানে চলে গেছে।

    উপজেলার আকশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কমেছে শিক্ষার্থী। পাঁচ বছরের ব্যবধানে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫৫০ থেকে কমে প্রায় ৩৫০ জনে নেমে এসেছে। একই সময়ে বিদ্যালয়ের আশপাশে গড়ে উঠেছে একাধিক কিন্ডারগার্টেন।

    তবে সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমার কারণ নিয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি শিক্ষা কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এর পেছনে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, অভিভাবকদের আর্থসামাজিক অবস্থা, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিস্তারসহ একাধিক বিষয় কাজ করতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক গবেষণা।

    প্রাথমিক শিক্ষার রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নূর আখতার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীর সংখ্যা কেন কমেছে, এটি এক কথায় বলা সম্ভব নয়। এটি নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে গবেষণা হলে বিস্তারিত বলা যাবে।’

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. আকতার বানু বললেন, ‘অভিভাবকরা সন্তানের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করেই বিদ্যালয় নির্বাচন করেন। যেখানে তারা বেশি আস্থা পান, সেখানেই সন্তানকে ভর্তি করেন। তাই সরকারি বিদ্যালয়ের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা।’

  • মন্ত্রিসভায় ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের খসড়া অনুমোদন

    মন্ত্রিসভায় ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের খসড়া অনুমোদন

    বগুড়া শহর ও আশপাশের এলাকা নিয়ে পরিকল্পিত আধুনিক নগর গড়ে তুলতে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন এই কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ভবিষ্যতে নির্ধারিত এলাকায় কোনো ধরনের ভবন নির্মাণ বা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না। একই সঙ্গে নদী-নালা, জলাশয়, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান দখল বা ভরাটের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

    এজন্য ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৪তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত আইনের উদ্দেশ্য হলো বগুড়া ও সংলগ্ন অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, অপরিকল্পিত নগরায়ন প্রতিরোধ, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করা।

    খসড়া আইন অনুযায়ী, বগুড়া সিটি করপোরেশন ও সংলগ্ন এলাকা নিয়ে চেয়ারম্যান, সার্বক্ষণিক সদস্য এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠন করা হবে। কর্তৃপক্ষ গণশুনানি ও প্রাক-প্রকাশসহ বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প ও স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। এছাড়া কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো নির্মাণকাজ বা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না। আইনে নদী-নালা, জলাশয়, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণে কঠোর পরিবেশগত বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি ল্যান্ড রিডজাস্টমেন্ট (ন্যূনতম ৬০ শতাংশ ভূমিমালিকের সম্মতিতে) এবং ল্যান্ড রিডেভেলপমেন্টের মতো আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    এ ছাড়া অননুমোদিত নির্মাণ, জলাধার ভরাটসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তহবিল গঠন, উন্নয়ন ফি নির্ধারণ, ঋণ গ্রহণ এবং নিরীক্ষার ব্যবস্থাও আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন–২০২৬ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    আইন অনুযায়ী, গণশুনানি ও প্রাক-প্রকাশসহ নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পর্যায়ভিত্তিক পরিকল্পনা কাঠামো প্রণয়ন করবে কর্তৃপক্ষ। সেই পরিকল্পনার বাইরে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়া ভবন নির্মাণ কিংবা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণও নিষিদ্ধ থাকবে।

    আইনে কর্তৃপক্ষের আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে নিজস্ব তহবিল গঠন, উন্নয়ন ফি আদায়, ঋণ গ্রহণ এবং নিরীক্ষা পরিচালনার বিধানও রাখা হয়েছে।

  • সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার

    সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার

    রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের গুঞ্জনের মধ্যে সফর সংক্ষিপ্ত করে কাল শুক্রবার দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদ সচিবালয়ের সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল থাই এয়ারওয়েজে ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনি।

    গত ১৯ জুলাই চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক সফরে যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৬ জুলাইয়ের জন্য ফিরতি টিকিট কাটা ছিল। কিন্তু সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফিরতে স্পিকারকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয়ের সূত্রে জানা গেছে।

    সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সফর সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই স্পিকারের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরতে অনুরোধ করা হয়েছে। সে কারণে তিনি শুক্রবারই দেশে ফিরবেন।’

    কি কারণে দ্রুত দেশে ফিরছেন স্পিকার এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, গতকাল থেকেই বিভিন্ন গুঞ্জন (রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ) শুনছি। সে কারণে হয়তো সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন। আশা করি সবকিছু কালকেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

    বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সে ক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলেও, সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক।

  • এবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, মোদিকে নতুন সতর্কবার্তা

    এবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, মোদিকে নতুন সতর্কবার্তা

    প্রায় এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা। এরপরও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পূরণ না হওয়ায় এবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের এই কর্মসূচিতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

    বৃহস্পতিবার সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা দেশজুড়ে কর্মসূচির ডাক দিয়ে বলেন, দিল্লির বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে হবে। চলুন এই বিক্ষোভকে জাতীয় স্তরে নিয়ে যাই। অনুগ্রহ করে ২৪ জুলাই (শুক্রবার) সারা দেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করুন।

    এদিকে আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দাবিও বৃহৎ পরিসরে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে অভিজিত বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি উপেক্ষা করা হলে বিক্ষোভ আরও বাড়বে। সরকার ব্যবস্থা না নিলে এই আন্দোলন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

    অভিজিত বলেন, ‘মোদিজিকে আবারও অনুরোধ করছি, আপনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করুন। না হলে বিষয়টা আপনার পদত্যাগের দাবি পর্যন্ত গড়াবে।’

    শিক্ষামন্ত্রীকে অযোগ্য ও ব্যর্থ উল্লেখ করে অভিজিত বলেন, একজন মন্ত্রীকে বাঁচানোর চেয়ে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর স্বার্থ আগে দেখা উচিত। ছাত্রছাত্রীর চেয়ে একজন অযোগ্য মন্ত্রী বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না। যদি ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে মনে রাখবেন, ভারতের নির্বাচনে কেউ আপনাদের ভোট দেবে না।

    এক বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে। ছবি: এএফপি

    পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেছেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আরেক দফায় আলোচনা করতে প্রস্তুত। বৈঠকের স্থান হিসেবে তিনি নিজের অফিস কিংবা বাসভবনের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, পরবর্তী দফার আলোচনা হয় বিক্ষোভস্থলে, নয়তো কোনো নিরপেক্ষ জায়গায় করতে হবে।

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত
    বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দিল্লির সংসদ মার্গ-টলস্টয় লেন এলাকায় বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখেছেন হিন্দুস্থান টাইমসের সাংবাদিকরা। সেখানে বিক্ষোভকারী ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। উভয়ের মাঝে কেবল দড়ির ব্যারিকেড ছিল। এক পর্যায়ে পুলিশের দিকে বোতল ছোড়া হলে উত্তেজনা বাড়ে।

    আন্দোলন দমাতে দিল্লির মধ্যাঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সময়সীমাও বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে মধ্যরাত পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে নিজের বাসভবনে বৈঠকের ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাত দিয়ে হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, বৈঠকে অন্য বিরোধী দলগুলোর নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা। তবে এর আগেই রাহুলের বাসভবনের সামনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

    সম্ভাব্য বাজে পরিস্থিতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখার কথা জানিয়েছেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর যাতে বলপ্রয়োগ না করা হয়, সেজন্য তিনি মোদিকে চিঠি লিখেছেন।

    আন্না হাজারে বলেন, সহিংসতা দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। সহিংসতা কাজ আরও বাড়িয়ে দেবে।

  • বন্যায় ভেসে গেল ফসল, দিশেহারা জসিম

    বন্যায় ভেসে গেল ফসল, দিশেহারা জসিম

    বন্যায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার নয় ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকার ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, আউশ ধান, সবজি ক্ষেত ও পানের বরজ। অতিবৃষ্টিতে আমনের বীজতলা, পানের বরজ ও সবজি ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতি আরো বেশি হয়েছে। হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্নের ফসলি জমি ভাসিয়ে দিয়েছে। তাদেরই একজন পদুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পদুয়ার মালি পাড়ার কৃষক জসিম।তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। পরিবারের দুঃখ ঘোচানোর আশায় বিভিন্ন সমবায় সমিতি, এনজিও ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৮০০ শতক জমিতে লাউ, চিচিঙ্গা, তিতকরলা, বরবটি, পেঁপে, ঢেঁড়স, কলা, চালকুমড়া, আউশ ও আমন ধানের চাষ করেন তিনি।

    সম্প্রতি টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় তার চাষ করা ফসলি জমির পুরো অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বন্যা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক ও সংস্থার ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার ৯ হাজার ৪০০ কৃষকের ১৫০ হেক্টর শস্যক্ষেত, পাঁচ হেক্টর পানের বরজ এবং ৩৬০ হেক্টর আউশ ও আমনের বীজতলা বন্যার পানিতে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জসিম বলেন, পরিবারের সুখের আশায় প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে এক লাখ, পদক্ষেপ থেকে দুই লাখ, মুসলিম এইড থেকে তিন লাখ এবং ইসলামী ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ এবং আউশ ও আমনের বীজতলা করেছিলাম। কিন্তু বন্যার পানি ঢুকে ক্ষেতের সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। একদিকে সংসারের খরচ, অন্যদিকে ঋণ পরিশোধ—এই দুই সমস্যা কীভাবে সামলাব, তা ভেবে হতাশ হয়ে পড়ছি। এ মুহূর্তে সরকার আমাদের পাশে এসে না দাঁড়ালে মরণ ছাড়া কোনো পথ আছে বলে মনে হচ্ছে না।

    স্থানীয় কৃষক চাষী মিয়া বলেন, উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন জসিম। তার কৃষি কার্ড থাকলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো ধরনের ঋণ দেয় না। বন্যার পানিতে তার সবজি ক্ষেতের সবকিছু ধ্বংস হয়ে তিনি সর্বস্বান্ত হয়েছেন। তাই সরকারের উচিত এই বিপদের সময়ে তার পাশে এসে দাঁড়ানো।

    স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আজিম বলেন, এবারের বন্যায় জসিমের সবজি ক্ষেতের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে তার অনেক সময় লাগবে। একদিকে তিনি ঋণগ্রস্ত, অন্যদিকে বন্যায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন। বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক ও সংস্থায় তাকে প্রতি মাস ও সপ্তাহে কিস্তি দিতে হয়। বন্যার পর সেই কিস্তির টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনার মুখে পড়তে হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলছে। সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা এলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নির্বাচন করে তা বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ স্বাভাবিক হলে কৃষকেরা যাতে দ্রুত পুনরায় আবাদ শুরু করতে পারেন, সে জন্য তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

    অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

    বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প ও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়া জাতীয় সম্পদ বাড়ানো সম্ভব নয় এবং সম্পদ সৃষ্টি না হলে টেকসই উন্নয়নও নিশ্চিত করা যাবে না। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য সম্পদ সৃষ্টির পাশাপাশি তার ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস (সিএএসটি) আয়োজিত ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষায় বাংলাদেশের অর্থনীতি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সেমিনার শেষে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনীতির ব্যবচ্ছেদ’ এবং ‘Bangladesh Economy: A Holistic Evaluation’ শীর্ষক দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

    সেমিনারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার আলোকে দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, গত দেড় দশকের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, বৈষম্য, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়।

    ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হলেই সবাই জিডিপি প্রবৃদ্ধির কথা বলেন। কিন্তু সেই সম্পদ কীভাবে মানুষের মধ্যে বণ্টিত হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা খুবই কম। অথচ এই দুই বিষয়কে সমান গুরুত্ব না দিলে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।

    বক্তব্যে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে প্রথম কাজ হওয়া উচিত নতুন সম্পদ সৃষ্টি, আর তা সম্ভব কর্মসংস্থানের মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমার চিন্তাধারা হয়ত অনেকের কাছে পুরোনো মনে হতে পারে। কিন্তু আমি এখনো বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে জব ক্রিয়েশনই একমাত্র কার্যকর পথ। ফ্যামিলি কার্ড কোনো সমাধান নয়; প্রকৃত সমাধান হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

    তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎপাদনশীল শিল্প ও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। গত দেড় দশকে উৎপাদনশীল শিল্পের পরিবর্তে মেগা প্রকল্পকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির সুযোগ বেশি থাকায় উৎপাদনশীল শিল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

    সরকারি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ড. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে বাস্তবতার চেয়ে উন্নয়নের চিত্র বেশি ভালো দেখানো হয়েছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি বিশ্বব্যাংক ও এডিবিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও লিখেছিলেন।

    বিনিয়োগ বোর্ডের সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদনশীল শিল্পে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা গেলে কর্মসংস্থানও বাড়ে। কৃষিকে শুধু জিডিপিতে অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন না করে কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, সরকারের উচিত সব অংশীজনকে নিয়ে জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে উৎপাদন বাড়াতে গ্যাস-বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও দক্ষ মানবসম্পদ নিশ্চিত করা জরুরি। যে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট রয়েছে, সেখানে শুধু বিনিয়োগ সম্মেলন করলেই বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না।

    সেমিনারে বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস অনুষদের ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। তিনি বলেন, গত এক দশকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, সরকারি ঋণ, খেলাপি ঋণ ও আর্থিক খাত নিয়ে তার গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

    তার উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। পুনঃতফসিল, অবলোপন ও আদালতের স্থগিতাদেশে আটকে থাকা ঋণসহ সমস্যাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা। তিনি পুনঃতফসিল করা ঋণকে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে সমস্যার সমাধান হয় না; বরং প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়।

    ড. ওয়ারেসুল করিম বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না এবং গার্মেন্টস শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ও ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাড়েনি।

    তিনি বলেন, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর নামে নেওয়া ২০ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তরুণদের জন্য গবেষণার সুযোগ ও গবেষণা তহবিল বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা, কম্পিউটার ল্যাব, বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশন খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    শিক্ষাখাতে প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প গ্রহণের আগে মৌলিক অবকাঠামো নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষককে ট্যাবলেট দেওয়া বা প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি স্থাপনের আগে বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, টয়লেট ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রযুক্তির পরিবর্তে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি।

    ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, কিন্তু কৃষক তার উৎপাদিত ধান, সবজি বা অন্যান্য কৃষিপণ্য আগের মতোই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়লেও কৃষক সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। একইভাবে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতনও এখনো অত্যন্ত কম। একজন মুয়াজ্জিনকে সাত হাজার টাকার মতো এবং একজন ইমামকে প্রায় দশ হাজার টাকায় সংসার চালাতে হয়। একই অবস্থা পরিবহন শ্রমিক বা অন্যান্য নিম্ন আয়ের মানুষের। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে।

    তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ অল্প অল্প করে যে অর্থ ব্যাংকে সঞ্চয় করেন, সেই অর্থ লুটপাট করে কেউ কেউ বিদেশে পাচার করে। আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক ঋণখেলাপিকে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং তারা সংসদে দাঁড়িয়ে ঋণখেলাপিকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এটি রাষ্ট্র ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা।

    গবেষণা খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যদি সত্যিই দেশের সমস্যার সমাধান করতে হয়, তাহলে তরুণদের গবেষণার সুযোগ তৈরি করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। বরং গবেষণা তহবিল কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী বা সমালোচনামূলক গবেষণা নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আব্দুর রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিন্তক ও গবেষক ফরহাদ মজহার, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ, ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ, ওয়েস্টার্ন নরওয়ে ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. আব্দুল কুদ্দুস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. দ্বীন ইসলাম, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. শিব্বির আহমেদসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও বিশিষ্টজন।

  • বাংলা কিউআরসহ ডিজিটাল লেনদেনে মার্চেন্টের মাশুল তুলে দেওয়ার পরামর্শ আহসান এইচ মনসুরের

    বাংলা কিউআরসহ ডিজিটাল লেনদেনে মার্চেন্টের মাশুল তুলে দেওয়ার পরামর্শ আহসান এইচ মনসুরের

    বাংলা কিউআরসহ সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেনে মার্চেন্টের বিদ্যমান মাশুল তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ক্যাশলেস (নগদবিহীন) ধারণাকে জনপ্রিয় করতে এসব লেনদেন মাশুলহীন করতে হবে। পরে পর্যায়ক্রমে ১০ পয়সা করে মাশুল আরোপ করা যেতে পারে।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বনানীতে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত এক কর্মশালায় আহসান এইচ মনসুর এমন আহ্বান জানান।

    তাৎক্ষণিক লেনদেনের ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার।

    সভায় আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ডিজিটাল লেনদেনে এখন ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ যে মাশুল আছে, তা সরকার ভর্তুকি হিসেবেও দিতে পারে। কারণ, ভারত ও পাকিস্তানে এসব লেনদেনে কোনো মাশুল নেই। তাই আমাদের এই মাশুল শূন্য করে দেওয়া উচিত।’

    প্রবাসী আয়ের জন্য যে প্রণোদনা দেওয়া হয়, সেখানে বরাদ্দ করা টাকা থেকে ডিজিটাল লেনদেনের মাশুলের টাকা জোগান দেওয়ার পরামর্শ দেন সাবেক এই গভর্নর। তাঁর মতে, বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার মতো খরচ হয় প্রবাসী আয়ের প্রণোদনায়। সেখান থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা ডিজিটাল লেনদেনের মাশুলের ভতুকি হিসেবে দিয়ে এটি জনপ্রিয় করা যায়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল লেনদেনে এখন ১০ টাকা বেশি দিতে হয় ১ শতাংশ মাশুল আরোপের কারণে। তাই এই মাশুল কমানোর উচিত বলে মনে করেন তিনি।

    বর্তমানে কী পরিমাণ প্রবাসী আয় অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে আসে, তা নিয়ে একটি সমীক্ষা করবে পিআরআই। কেন প্রবাসীরা অন্য মাধ্যমে টাকা পাঠান, তা–ও সমীক্ষায় উঠে আসবে। এই সমীক্ষা সম্পর্কে আলোচনা করেন পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক বজলুল হক খন্দকার ও পরিচালক এম এ রাজ্জাক।

  • আগস্টেই চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, কারা আগে পাবেন?

    আগস্টেই চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, কারা আগে পাবেন?

    বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রবাসী কার্ড’ আগামী আগস্ট মাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতে যাচ্ছে সরকার। ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে মোট ২ লাখ প্রবাসীর হাতে এই কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ডেবিট কার্ড আকারে এটি বিতরণ করা হবে। পরে ধাপে ধাপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে কার্ডটি সম্প্রসারণ করা হবে।

    সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবাসী কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ব্যাংকিং, সরকারি ও কল্যাণমূলক সেবাগুলো সহজলভ্য করা। একই সঙ্গে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের আরও উৎসাহিত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

    কী হবে প্রবাসী কার্ড?
    প্রবাসী কার্ড হবে এক ধরনের স্মার্ট ডিজিটাল পরিচয়পত্র, যা পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক ও সরকারি সেবা গ্রহণের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করবে। কার্ডে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলে কার্ডধারীর প্রয়োজনীয় তথ্য দেখা যাবে। পাশাপাশি একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল সংস্করণ ব্যবহার করা যাবে, ফলে সবসময় প্লাস্টিক কার্ড বহনের প্রয়োজন হবে না।

    কী কী সুবিধা পাবেন?
    এই কার্ডের বড় একটি দিক হলো এর অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা। প্রবাসীরা এতে যে সমস্ত বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পাবেন-

    • ডুয়েল কারেন্সি ও অনলাইন শপিং: এই কার্ডটিতে আধুনিক ব্যাংকিং পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত থাকবে। ফলে প্রবাসীরা যে দেশে আছেন, সেখানকার মুদ্রায় এবং বাংলাদেশে টাকায় কেনাকাটা বা খরচ করতে পারবেন। এছাড়া প্রবাসে বসেই পরিবারের সদস্যদের জন্য দেশে নির্দিষ্ট সীমার কেনাকাটা করে দেওয়া যাবে।
    • এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ও ডিসকাউন্ট: বিমানবন্দরে বিশেষ প্রটোকল সেবা, এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার, উড়োজাহাজের টিকিট ও হোটেলে ডিসকাউন্ট পাবেন কার্ডধারীরা।
    • প্রবাসী সিটি ও আবাসন সুবিধা: বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে গড়ে তোলা ‘প্রবাসী সিটি’ প্রকল্পে আবাসন বা প্লট কেনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ও বিশেষ সুবিধা পাবেন তারা।
    • বিএমইটি বীমা ও পুনর্বাসন সুবিধা: বিএমইটির বিমা সুবিধা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং রেমিট্যান্সে অতিরিক্ত সরকারি প্রণোদনা বহাল থাকবে।

    কারা আগে পাবেন?
    প্রথম ধাপে যেসব প্রবাসীর জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) নিবন্ধন রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রবাসী কার্ড দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করার পর নতুন নিবন্ধনের মাধ্যমে তারা কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।

    যাদের ইতোমধ্যে বিএমইটি কার্ড রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন করে নিবন্ধন ফি না-ও লাগতে পারে। তবে নতুন আবেদনকারীদের নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করতে হতে পারে।

    কীভাবে বিতরণ করা হবে?
    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রবাসীদের হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

    এদিকে বিদেশে শিক্ষার্থী, নির্ভরশীল বা অন্য ভিসায় গিয়ে পরবর্তীতে কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন কিন্তু বিএমইটি কার্ড নেই—এমন বাংলাদেশিদেরও ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়ে কাজ করছে সরকার।

  • গলফের উন্নয়নে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সাথে বিপিজিএ সভাপতির বৈঠক

    গলফের উন্নয়নে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সাথে বিপিজিএ সভাপতির বৈঠক

    বাংলাদেশের পেশাদার গলফারদের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রফেশনাল গলফার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএ) সভাপতি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহদ শুহাদা ওথমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।

    মঙ্গলবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পেশাদার গলফারদের সার্বিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ক্রীড়া সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে গলফকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আন্তরিকতা ও আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    এ সময় বিপিজিএর সেক্রেটারি জেনারেল সিফাত আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

  • আল-আকসায় বেন-গভিরসহ শত শত ইহুদি, জর্ডান ও হামাসের তীব্র নিন্দা

    আল-আকসায় বেন-গভিরসহ শত শত ইহুদি, জর্ডান ও হামাসের তীব্র নিন্দা

    ইহুদি ধর্মীয় উৎসব ‘তিশা বি’আভ’ শুরু হওয়ার পর থেকেই আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে শত শত বসতি স্থাপনকারী অবৈধভাবে প্রবেশ করতে শুরু করে। বুধবার সন্ধ্যায় ইহুদিদের অনুষ্ঠান শুরু হয়। এসময় ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির নিজেও মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।

    জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বসতি স্থাপনকারীদের সংখ্যা ২,৩০০ ছাড়িয়েছে। তারা ইসরাইলি বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার অধীনে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।

    ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, ইসরাইলি বাহিনী আল-আকসার প্রবেশদ্বারগুলোতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে; ফলে বহুসংখ্যক ফিলিস্তিনি মুসুল্লিকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন মুসুল্লির ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

    জেরুজালেম গভর্নরেটের ফিলিস্তিনি প্রশাসন বেন-গভিরের আল-আকসায় প্রবেশকে একটি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা জানায়, এটি প্রমাণ করে অতীতে চরমপন্থী ডানপন্থীদের করা এসব কাজের পেছনে এখন ইসরাইল সরকারের প্রত্যক্ষ সমর্থন রয়েছে।

    জর্ডান ও হামাসের তীব্র নিন্দা

    এদিকে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইসরাইলিদের অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জর্ডান ও ফিলিস্তিনের গাজার সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস।

    জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাষ্ট্রদূত ফুয়াদ মাজালি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ঐতিহাসিক ও আইনি ‘স্ট্যাটাস কো’ (বিদ্যমান অবস্থা) লঙ্ঘন করে। জেরুজালেমে অবস্থিত ইসলামিক ও খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থানগুলোতে ইসরাইলের এমন ধারাবাহিক লঙ্ঘন বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আম্মান।

    একইভাবে নিন্দা জানিয়ে হামাস বলেছে যে, এই প্রকাশ্য আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া দখলদার বাহিনী ও তার বসতি স্থাপনকারীদের ওপরেই গিয়ে পড়বে।

    এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, আমাদের দেশের মানুষ এবং প্রতিরোধ বাহিনী আমাদের পবিত্র স্থানগুলোর এই অবমাননার মুখে নিশ্চুপ বসে থাকবে না।

  • জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পাচ্ছে সাড়ে ১২ লাখ ইউরো

    জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পাচ্ছে সাড়ে ১২ লাখ ইউরো

    দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা জোরদারে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পাবে ১ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ইউরো।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মধ্যে এ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং আইওএমের পক্ষে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বনডে স্বাক্ষর করেন।

    চুক্তি অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় সাড়ে ১২ লাখ ইউরো)।

    প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হবে।

    এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল, যুগ্ম সচিব ড. কাজী শাহজাহান, সিনিয়র সহকারী সচিব ড. রাজিবুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফাহমিদা হক খান, আইওএমের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার আশফাকুর রহমান খান এবং ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট ড. এস এম মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।

  • কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে জিআরআই ও বিজিএমইএ

    কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে জিআরআই ও বিজিএমইএ

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে টেকসই ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা জোরদারে ‘ইমপ্রুভিং ট্র্যান্সপারেন্সি ফর সাসটেইনেবল বিজনেস’ (আইটিএসবি) উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই)’র মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় এই চুক্তি বিজিএমইএ ও জিআরআই’র দীর্ঘদিনের আইটিএসবি উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিল।

    কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিজিএমইএ পোশাক খাতে স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনার নেতৃত্ব দেবে। এই অংশীদারিত্ব ‘জিআরআই স্ট্যান্ডার্ডস’ ব্যবহার করে ব্যবসার পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবগুলো চিহ্নিত ও প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াবে।

    আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে যুক্ত এ খাতের জন্য বিশ্বস্ত সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখবে।

    আইটিএসবি উদ্যোগটি ছোট, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ সব অংশীদারদের নিয়ে গঠিত একটি সক্ষমতা বৃদ্ধির প্ল্যাটফর্ম। এর অধীনে প্রশিক্ষণ, ওয়েবিনার, কর্মশালা ও সংলাপ আয়োজন করা হবে।

    এছাড়াও, দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জিআরআই-এর বৈশ্বিক মানদন্ড নির্ধারণী পরিষদের কাছে পোশাক খাতের বাস্তব চিত্র ও পরামর্শ তুলে ধরার সুযোগ পাবে।

    বাংলাদেশে এ উদ্যোগের ট্রেইনিং অ্যান্ড আউটরিচ পার্টনার হিসেবে কাজ করছে ‘দ্য সাসটেইনেবিলিটি নেক্সাস’ (সাসনেক্স)।

    ইতোমধ্যেই ২০২৬ সালের মে ও জুলাই মাসে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোতে এ উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যেখানে প্রায় ৩০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। মে মাসের ‘মাস্টারক্লাসে’ পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে ব্যবহারিক ধারণা দেয়া হয়। এরপর জুলাইয়ের গোলটেবিল বৈঠক ও ‘মাস্টারক্লাস-২’-এ অর্থনৈতিক প্রভাব, রেগুলেটরি লিংক ও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে রিপোর্টের মান মূল্যায়নের ওপর জোর দেয়া হয়।

    এই অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গে জিআরআইয়ের চিফ অব স্ট্যান্ডার্ডস, বাস্তিয়ান বাক বলেন, বিজিএমইএ’র সাথে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশে পোশাক খাতের স্বচ্ছতা ও ইমপ্যাক্ট-ভিত্তিক রিপোর্টিং জোরদার করার একটি বড় পদক্ষেপ। আইটিএসবি উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা ব্যবসায়ী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অংশীদারদের সাথে সরাসরি কাজ করে জিআরআই মানদণ্ডের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আগ্রহী। এর ফলে দেশীয় পোশাক খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পৌঁছাবে এবং বিশ্ববাজারে এই খাতের জবাবদিহিতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে।

    বিজিএমইএ’র রেসপন্সিবল বিজনেস হাব ও সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াসিম জাকারিয়া বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প পরিবেশগত স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল উৎপাদনে ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো, এ সাফল্যকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সঠিকভাবে পরিমাপ ও প্রকাশ করা। জিআরআই’র সাথে এই যৌথ উদ্যোগ কারখানাগুলোকে আধুনিক সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিংয়ে দক্ষ করে তুলবে।

    এই স্বচ্ছতা কেবল ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাই বাড়াবে না, বরং নিজস্ব ঝুঁকি ও নতুন সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

  • ব্যাজ পেলেন নৌবাহিনীর নতুন প্রধান

    ব্যাজ পেলেন নৌবাহিনীর নতুন প্রধান

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বৃহস্পতিবার নতুন নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

    তিনি বলেন, র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর পর নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাইস অ্যাডমিরাল মিজবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিজবাহ উল আজীমকে গত ১৬ জুলাই ভাইস অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব দেয় সরকার।

    তিনি সর্বশেষ ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন। নৌবাহিনীর শীর্ষ পদে অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

    রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সপ্তদশ ব্যাচের ছাত্র মিজবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশন পান।

    চাকরি জীবনে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলসহ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ডেন্টের দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন।

  • ‘২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার’

    ‘২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার’

    ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, এ লক্ষ্য অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিকস, ডিজিটাল সেবা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, তৈরি পোশাক খাতের বহুমুখীকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপরও জোর দেয়া হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিভিন্ন খাতের বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে এসে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে সরকারের প্রধান বলেন, নতুন সরকার এমন একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দেশীয় ও বিদেশি উভয় ধরনের উদ্যোক্তাই আস্থা নিয়ে বিনিয়োগ করতে পারবেন। কেউ বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকারও সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিয়ে তাদের পাশে থাকবে। এটি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার।

    তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, তাদের বিনিয়োগের ফলে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে।

    নিজের পেশাগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে প্রবেশের পূর্বে আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। আমার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি- যেকোনো ব্যবসা কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সফল হতে পারে না; ব্যবসার সাফল্যের একটি বড় অংশ নির্ভর করে সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালার ওপর।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্ভাবনার ক্ষেত্র আরও বড়। দ্রুত সম্প্রসারণশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও কর্মক্ষম জনশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসমর্থনপুষ্ট নির্বাচিত সরকার এই চারটি শক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম।

    সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। নির্বাচনী ইশতেহারে এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের সুস্পষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। সরকার শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নযাত্রায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও সম্পৃক্ত করতে চায়।

    তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রস্তুতি শুরু করেছিল। এ সময় বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক সংগঠন, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও নীতিনির্ধারকদের মতামত নেয়া হয়। তাদের পরামর্শে উঠে আসে, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলা, করব্যবস্থা সহজ করা, অর্জিত মুনাফা বিদেশে নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা, শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলা এবং উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি।

    এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা, কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ এবং মুনাফা দেশে-বিদেশে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    একই সঙ্গে পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল করা, স্টার্টআপ খাতে সহায়তা বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তরের কাজও এগিয়ে চলছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো, বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

    থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

    বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি, রয়্যাল থাই দূতাবাসের কর্মকর্তারা, থাইল্যান্ডের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে।

    তিনি বলেন, থাইল্যান্ড বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়লেও এখনো বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিপুল সুযোগ রয়েছে।

    খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ তার কৌশলগত অবস্থান, বড় ভোক্তা বাজার, দক্ষ জনশক্তি এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন, চামড়া, তৈরি পোশাক, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, রাবার পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে থাই বিনিয়োগকে আমরা স্বাগত জানাই।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের বাজারে ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, পাটজাত পরিবেশবান্ধব পণ্য, চামড়াজাত পণ্য ও হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহী।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী শুধু পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ নয়, বরং উৎপাদক, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, পরিবেশক, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরির একটি কার্যকর মাধ্যম।

    তিনি বলেন, ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর মতো আয়োজন দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন সম্পর্ক তৈরি করবে এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি দায়িত্বশীল বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং দেশের শিল্প উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী অংশগ্রহণকারী থাই কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের থাইল্যান্ডের বাজারে দেশীয় পণ্য রপ্তানির নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’ বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।

    উল্লেখ্য, রয়্যাল থাই সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগের (ডিআইটিপি) আয়োজনে এবং ঢাকাস্থ রয়্যাল থাই দূতাবাসের বাণিজ্যিক বিষয়ক কার্যালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে থাইল্যান্ডের ৫৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

  • ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ সফল করুন: গোলাম পরওয়ার

    ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ সফল করুন: গোলাম পরওয়ার

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে আগামী শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বেলা আড়াইটায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

    লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এ সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

    এই সমাবেশ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সিলেট বিভাগ জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সব শাখা এবং এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এই আহবান জানান।

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে আগামী শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বেলা আড়াইটায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

    সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

    লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এ সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

    এই সমাবেশ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সিলেট বিভাগ জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সব শাখা এবং এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এই আহবান জানান।

  • জিয়া হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার

    জিয়া হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যায় অভিযুক্ত আসামি মোজাফফর হোসেনকে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আনা হয় তাকে। সেখানে প্রসিকিউশনের আবদনের প্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে, তদন্ত সংস্থাকে দেওয়া হয় অভিযুক্তকে ২ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে অনুমতি।

    চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে এক এগারোর সরকারের বির্তকিত কর্মকাণ্ড থেকে ২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে নানা অপরাধের প্রমাণ মিলেছে।

    এর আগে, মোজাফফরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে বৃহস্পতিবার হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

    উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই রাতে ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মোজাফফরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে পরদিন বৃহস্পতিবার। ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়।

  • ছড়ার বালু লোপাটে বেপরোয়া চক্র

    ছড়ার বালু লোপাটে বেপরোয়া চক্র

    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক পাহাড়ি ছড়া থেকে বেপরোয়াভাবে সিলিকা বালু লোপাটের হিড়িক শুরু হয়েছে। মানা হচ্ছে না উচ্চ আদালতের রায়। অবৈধভাবে এসব সিলিকা বালু উত্তোলনের ফলে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছড়ার বাঁধ, টিলা, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি। এতে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাপক হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও প্রতিবেশ।

    খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর অনুমোদিত তথ্যমতে, মৌলভীবাজার জেলায় ৩৩টি সিলিকা বালু কোয়ারি রয়েছে। ২০১৩ সালের ১৮ জুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জেলার ৫১টি পাহাড়ি ছড়াকে সিলিকা বালু সম্পৃক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে।

    এর মধ্যে ১৯টি ছড়া অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইজারাদারদের অনিয়ন্ত্রিত ও বেআইনি বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিপর্যয় দেখা দিলে ২০১৬ সালের ৮ মার্চ বেলা জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। শুনানি শেষে ২১ মার্চ হাইকোর্টের ডিভিশন ওই ১৯টি বালুমহালে পরবর্তী ইজারা প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
    উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কমলগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি দেওছড়া, সুনছড়া, জপলাছড়া, লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন ছড়া থেকে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন চালানো হচ্ছে। উত্তোলিত বালুবাণিজ্যের সঙ্গে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল সম্পৃক্ত থাকায় প্রশাসন কার্যত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
    স্থানীয়রা জানান, বালুখেকো চক্রটি খুবই বেপরোয়া। তারা শ্রমিক দিয়ে বালু তুলে ট্রাক, পিকআপ, ট্রলি ও ঠেলাগাড়িতে করে দ্রুত পরিবহন ও বিক্রি করছে। প্রশাসনের লোহজনের আসার খবর আগেভাগেই টের পেয়ে সরে পড়েন সংশ্লিষ্টরা এবং অভিযান শেষ হলেই পুনরায় কাজে নেমে পড়েন।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আক্তার জানান, ইজারা ছাড়া বালু উত্তোলন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এটি ঠেকানোর প্রাথমিক দায়িত্ব প্রশাসনের। যাঁরা এই অবৈধ কাজের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তাঁরা মূলত উচ্চ আদালতের রায় অবমাননা করছেন।
    অভিযানের বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে আসা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি দেওছড়া এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। পরবর্তীকালে সিলিকা বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে প্রশসনের পক্ষ থেকে অভিযানে পাঠানো হলে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। অন্য ছড়াগুলো থেকেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    এ,আর

  • জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতসহ ১১ দল

    জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতসহ ১১ দল

    চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সব মামলার বিচারকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়াসহ সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদল।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

    এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদসহ জোটের শীর্ষ নেতারা ছিলেন। একইসঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যরাও তাদের সঙ্গে ছিলেন।

    সাত দফা দাবিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের প্রধান প্রধান ঘটনাস্থলের অধিকাংশের তদন্ত এখনও সম্পন্ন হয়নি। এসব ঘটনাস্থলের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া অভিযুক্ত অনেক পুলিশ কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এখনও গ্রেফতার হননি। অনেকে সরকারি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন এমন অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এতে আরও বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার ৬১ জেলায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু ঢাকা, রংপুর ও কুষ্টিয়া জেলার বাইরে সংঘটিত বহু ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি। হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগসহ সহযোগী বা অঙ্গসংগঠনের অনেক চিহ্নিত ব্যক্তিকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। ফলে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

    এছাড়া গুম-খুন, লাশ গোপন বা ধ্বংস করার অভিযোগে জড়িতদের সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। তবে এ ধরনের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে অস্বাভাবিক ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। এজন্য বিচারপ্রার্থী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মাঝে ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

  • তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদির

    তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদির

    আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তরফে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রণপত্র ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
    তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে। আমরা সেটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাঠিয়েছি।

    আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
    প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবেচনায় রয়েছে। এ নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

    সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে। ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে তাদের জনগণের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখবে বলে ঢাকা আশা করে।

    এ সময় আগামী ৩০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর সম্ভাব্য ঢাকা সফরের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমান সরকারের আমলে আরও জোরদার হচ্ছে। আসন্ন সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে যাবে বলে সরকার আশা করছে।

    এ ছাড়া প্রেসিডেন্টকে ঘিরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো তথ্য সত্য প্রমাণিত হলে সরকার প্রয়োজনীয় তদন্ত করবে।
    পাসপোর্টের অবনমন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের পাসপোর্টের মান কমেনি। বিভিন্ন দেশে ভিসা-সংক্রান্ত যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো সমাধানে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। অবৈধ অভিবাসন ও জাল কাগজপত্র ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোও সমাধানের চেষ্টা চলছে।

  • রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ তাঁর রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নেই।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে, স্বাস্থ্যগত কারণে বা অন্য যেকোনো কারণে, তাঁর সেই সুযোগ রয়েছে। তবে আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না।’ সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হচ্ছে না। আপনারা পত্রিকায় যা দেখছেন, সেটাই দেখছেন। যদি এমন কিছু ঘটে, তখন আমরাও দেখব।’

    রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে চলা গুঞ্জনের বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনিই তো বললেন, এটি গুঞ্জন। গুঞ্জন তো গুঞ্জনই।’ স্বাস্থ্যগত কারণেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা তাঁকেই (রাষ্ট্রপতি) জিজ্ঞেস করতে হবে।’

    এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে কার্যত কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংকুচিত করায় তিনি অপমানবোধ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁর দুঃসময়ে বিএনপি শতভাগ সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর পাশে ছিল।

  • দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

    দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে কাজ করছে। তিনি দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও ব্যবসা প্রসারের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ তিনি বলেন, আমাদের বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট প্রণোদনা নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য শক্তি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং লজিস্টিকস।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই বা ফিকি) আয়োজিত এফডিআই সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আমরা বিশ্ব দরবারে একটি বৃহৎ উৎপাদন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছি। আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পকে বৈচিত্রময় করছি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতায় অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

    ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬-জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপরই একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়।

    সম্মেলনে বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন করে মূলধন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ উদ্যোগে তাদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন।

    তারেক রহমান বলেন, নতুন ও দূরদর্শী বিএনপি সরকার চায়, আপনারা বাংলাদেশে আসুন, নতুন উদ্যোগ নিন এবং ব্যবসা প্রসারিত করুন।

    তিনি বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তা বা বিদেশি বিনিয়োগকারী যাই হোন, বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে আপনাদের পাশে থাকবে। এটি কেবল আশ্বাস নয়, এটি আমাদের সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে সত্যি। তবে এর পাশাপাশি আমাদের রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা ও সুদৃঢ় ভিত্তি। আমাদের রয়েছে একটি দ্রুত বিকাশমান বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, একঝাঁক তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং নিরঙ্কুশ জনসমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এই শক্তিগুলো একত্রিত হয়ে বাংলাদেশকে এক টেকসই ও স্থায়ী সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য, একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সাথে যুক্ত এবং বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় পরিচালিত অর্থনীতি গড়ে তোলা। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি সুস্পষ্ট সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করে।

    তারেক রহমান বলেন, আমরা আপনাদের কেবল বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি না, বরং এই রূপকল্প বাস্তবায়নে আমাদের সঙ্গে বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ারও উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্ণ করেছে। কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছিল নির্বাচনের অনেক আগেই। আমরা বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক চেম্বার, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নীতি-নির্ধারকদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছি।

    তিনি বলেন, তাদের মূল বার্তাটি ছিল একেবারেই স্পষ্ট। তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগের সুদৃঢ় আইনি সুরক্ষা, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজীকৃত কর ব্যবস্থা, অর্জিত মুনাফা প্রত্যাহারের নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়া, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো।

    তারেক রহমান বলেন, তাই আমরা আপনাদের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করছি। সে অনুযায়ীই কাজ শুরু করেছি।

    তিনি বলেন, আমরা আমাদের আইনি ও রেগুলেটরি কাঠামোর আধুনিকায়ন করছি। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করছি। এছাড়া দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা উন্নত করছি। কর ও ভ্যাট প্রশাসনকে সহজ এবং মুনাফা অর্জনের পর তা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ঝামেলামুক্ত করছি।

    একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা একটি গতিশীল পুঁজিবাজার গঠন, স্টার্টআপগুলোকে উৎসাহিত, অপ্রয়োজনীয় বিধিমালা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াসমূহ সহজ এবং সরকারি সেবাসমূহ ডিজিটালাইজড করছি।

    এছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তিতে অধিকতর বিনিয়োগের পাশাপাশি বন্দর, লজিস্টিকস অবকাঠামো এবং সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

    ঢাকার এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৬শ’ বিশিষ্ট প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীগণ।

    সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন এফআইসিসিআই এর সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী।

    তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর।

    তিনি বলেন, এখানে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যবসায়িক নেতাকে সেই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের অংশ হতে আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা একসঙ্গে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারি যা হবে সুদৃঢ়, ন্যায়ভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক।

    তারেক রহমান বলেন, আজকের এই মিলনায়তনের দিকে তাকালেই আমি দেখতে পাচ্ছি দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবচেয়ে প্রতিভাবান করপোরেট প্রধান, সফল বিনিয়োগকারী এবং বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উজ্জ্বল উপস্থিতি। আপনাদের অনেকেই বাংলাদেশকে আপনাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

    বিনিয়োগকারীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের এই উদ্যোগ নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রবর্তন ঘটিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অভাবনীয় অবদান রেখে চলেছে। এজন্য আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে প্রবেশের আগে আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। আমার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি, যে কোনো ব্যবসা কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সফল হতে পারে না, ব্যবসার সাফল্যের একটি বড় অংশ নির্ভর করে সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালার ওপর।

    তিনি বলেন, আপনাদের সবাইকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন আমরা একসাথে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাই, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি এবং আগামীর বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলি।

    প্রধানমন্ত্রী একটি সমৃদ্ধ ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এই অগ্রযাত্রায় সকলকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

    সম্মেলনে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদ্যমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় হয়। এছাড়া ‘ফিকি এফডিআই’ প্রতিবেদন উন্মোচন করা হয়। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

    সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করেন। এতে তিনি অংশগ্রহণকারী কোম্পানি ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, এফআইসিসিআই এর সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রতিনিধিবৃন্দ।

  • পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, আলোচনায় কে

    পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, আলোচনায় কে

    • অসুস্থতাকে পদত্যাগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে।
    • বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে।
    • সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে সরকার ও দলে আলোচনা।
    • পদ শূন্য হলে স্পিকার সাময়িক দায়িত্ব পালন করবেন।
    • ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন। শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।

    সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের জন্য ইতিমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।

    রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বার্তা পাঠানো সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের সঙ্গে গতকাল বুধবার রাতে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র খুব শিগগির রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

    বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সূত্রের ভাষ্য, পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।

    পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও ক্ষমতাসীন বিএনপির উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে হঠাৎ করে আলোচনায় এসেছে। যদিও এর আগে এ পদের জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় ছিল।

    বঙ্গভবন

    মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে কে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    অবশ্য রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনও এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে প্রথম আলোকে জানান।

    রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বার্তা পাঠানো সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের সঙ্গে গতকাল বুধবার রাতে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র খুব শিগগির রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

    এ পদে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন সচিবের নাম হঠাৎ আলোচনায় আসার বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি একেবারেই অবগত নই। আর এমন কিছু ঘটলে (রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ) শূন্য পদে অনেক নামই আলোচিত হবে, এটাই স্বাভাবিক।’

    যদিও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সূত্রের ভাষ্য, পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সংবিধানে যা আছে

    সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হবে। সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও তাই গুরুত্ব পাচ্ছে।

    সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

    এর মধ্যে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেশি শোনা যাচ্ছে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা—এসব বিবেচনা থেকে তাঁর নাম সামনে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে দল ও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আরও আলোচনা করবেন।

    ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হবে। সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও তাই গুরুত্ব পাচ্ছে।

    গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

    মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

    গণ–অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন হয়

    গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

    একই সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আগ্রহ রয়েছে।

    পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এর ফলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে ভিন্নতা তৈরি হয়। মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলটির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও সরকার গঠনের পর বিএনপি তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে সরানোর পথে যায়নি। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ছিল। তবে সরকার বা বিএনপি প্রকাশ্যে কখনো তাঁর পদত্যাগ দাবি করেনি।

    সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করা নিয়ে আওয়ামী লীগের সময়েই নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতাও প্রকাশ্যে আসে। দুদকের দায়িত্ব পালন শেষে তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তখন এই দুটি ব্যাংকের মালিক ছিল আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলম। ব্যাংক দুটিতে তখন সবচেয়ে ব্যাপক লুটপাট হয়।

    তখন এই রাষ্ট্রপতিকে এস আলমের প্রতিনিধি বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।

    ইসলামী ব্যাংকের পদে থাকা অবস্থায় মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেয় ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ সরকার। ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা মিলে সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে আওয়ামী লীগের ভেতরে আলোচনা ছিল। তখন এই রাষ্ট্রপতিকে এস আলমের প্রতিনিধি বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নিজে থেকে দায়িত্ব ছাড়েন কি না, তা দেখতে ক্ষমতাসীন দল কিছুটা সময় নিয়েছে। সম্প্রতি তাঁকে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের মনোভাব জানানো হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আগ্রহ রয়েছে।

  • দামুড়হুদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    দামুড়হুদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পারভীনা খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কোমরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত গৃহবধূ পারভীনা খাতুন একই গ্রামের আজিজুল হকের স্ত্রী।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরে বাড়িতে কাজ করছিলেন গৃহবধূ পারভীনা খাতুন। এ সময় ঘরের একটি টিন সরাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত সেটি তারের উপর পড়ে তার ছিড়ে যায়। পরে টিনটি বিদ্যুতায়িত হয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দীন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হবে।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের ৫ জনকে পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের ৫ জনকে পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক নারী ও শিশুসহ পাঁচজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক অতিরিক্ত পরিচালক মেজর তোয়াসীন হাবীব হাসান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। এর আগে, একইদিন ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    বিজিবি জানায়, ভোর ৪টার দিকে বিজিবির চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধীনস্থ দর্শনা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৭৬/৪-এস সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গেদে ক্যাম্পের সদস্যরা একজন পুরুষ, তিনজন নারী ও এক শিশুকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিজিবির টহলদল বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করে এবং ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা প্রদান করে। পরবর্তীতে তাদের সীমান্তবর্তী কাঁটাতারের বেড়া-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। ফলে অবৈধ পুশইনের প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের প্রচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

  • সাংবাদিকতা পেশা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

    সাংবাদিকতা পেশা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

    কে সাংবাদিক, আর কে সাংবাদিক নয় তা নির্ধারণ করার জন্য একটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির ৩৪তম এবং নবগঠিত কমিটির প্রথম সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তথ্যমন্ত্রী প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির সদস্যদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে দেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার মানসিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

    পাশাপাশি সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যাতে সবার কাছে সর্বজনগ্রাহ্য হয়, সে বিষয়টিও কমিটিকে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

    মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে সকল নাগরিকের প্রতি সমান দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে।

    গণমাধ্যমকে একটি বহুপাক্ষিক ক্ষেত্র উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এখানে বিভিন্ন মত, দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তার মানুষের সহাবস্থানের কোনো বিকল্প নেই। তাই কোনো সংকীর্ণ বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নয়; বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার নীতি অনুসরণ করতে হবে।

    কঠিন ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতেও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রকৃত সক্ষমতা প্রকাশ পায়।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে রাষ্ট্রের অন্যতম কৌশলগত ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মন্ত্রণালয় হিসেবে অভিহিত করে তিনি আরও বলেন, এখানে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক চিন্তার বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কমিটির সদস্যদের প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার ওপরই সিদ্ধান্তের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে।

    প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির নবগঠিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিশেষ সুবিধার অনুমতি পেলো ন্যাশনাল ব্যাংক

    ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিশেষ সুবিধার অনুমতি পেলো ন্যাশনাল ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসিকে তাদের মালিকানাধীন প্রস্তাবিত প্রধান কার্যালয় ভবন ‘এনবিএল টুইন টাওয়ার’-এর টাওয়ার-২ বাণিজ্যিক স্থাপনা হিসেবে ইজারা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর একটি বিধানের প্রয়োগ থেকে ব্যাংকটিকে ৩১ ডিসেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ (বিআরপিডি-২) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির মালিকানাধীন ‘এনবিএল টুইন টাওয়ার’ (হোল্ডিং নম্বর: ১/সি/১, বীর উত্তম সি. আর. দত্ত রোড, পান্থপথ, ঢাকা) ভবনের টাওয়ার-২ বাণিজ্যিক স্থাপনা হিসেবে ইজারা দেওয়া যাবে।

    এ জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত)-এর ১০ ধারার বিধান ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির ক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে ন্যাশনাল ব্যাংক তাদের প্রধান কার্যালয় ভবনের অব্যবহৃত অংশ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে ভাড়া থেকে অতিরিক্ত আয় করতে পারবে, যা ব্যাংকের সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও আয় বাড়াতে সহায়ক হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ৩০০ তুলাচাষী পেলেন প্রণোদনার কৃষি উপকরণ

    চুয়াডাঙ্গায় ৩০০ তুলাচাষী পেলেন প্রণোদনার কৃষি উপকরণ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় তুলা চাষে উৎসাহ দিতে ৩০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তুলা উন্নয়ন বোর্ড, চুয়াডাঙ্গা জোন এ কর্মসূচির আয়োজন করে। উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র।

    তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম ইজাজুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলায় নিবন্ধিত ৭৫০ জন তুলাচাষীর মধ্যে এবার ৩০০ জনকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিজন কৃষক প্রায় ৮ হাজার টাকা মূল্যের হাইব্রিড তুলাবীজ, বিভিন্ন ধরনের সার ও বালাইনাশক পাচ্ছেন।

    অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর অঞ্চলের কীটপতঙ্গ বিশেষজ্ঞ ড. তাসদিকুর রহমান সনেটসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    উপকারভোগী কৃষকেরা বলেন, এ সহায়তায় তুলা চাষের খরচ কমবে এবং আবাদ বাড়াতে উৎসাহ পাবেন।

  • ঢাকাগামী রয়েল এক্সপ্রেস উল্টে আহত ২৩

    ঢাকাগামী রয়েল এক্সপ্রেস উল্টে আহত ২৩

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় ঢাকাগামী রয়েল এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেছে। এতে নারী-শিশুসহ অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চারজনের অবস্থা গুরুতর।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় রয়েল এক্সপ্রেসের একটি বাস। সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় পৌঁছালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি গাছে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এতে বাসের যাত্রীরা আহত হন।

    স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে একই পরিবারের নারী-শিশুসহ সাতজন রয়েছেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আব্দুর রহমান ও সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. এহসানুল হক তন্ময় জানান, হাসপাতালে ২৩ জন আহত ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

    আহতদের দেখতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে যান চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।

  • রোগ শনাক্তে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    রোগ শনাক্তে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    দেশজুড়ে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং বিভিন্ন জটিল রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে ‘হোম-টু-হোম হেলথ স্ক্রিনিং’ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই নারী।

    বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান লেক পার্কে ‘হাইজিন ফর হেলথ বাংলাদেশ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে এবং সরকার নিশ্চিত করবে যাতে কেউ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন। এ লক্ষ্যেই সারা দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”

    তিনি জানান, “নিয়োগপ্রাপ্ত নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা সাধারণ নারীদের স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রাথমিকভাবে শনাক্তের বিষয়ে সচেতন করবেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার পদ্ধতি শেখাবেন। পাশাপাশি তারা বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কিট নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্তচাপ, ওজন, ডায়াবেটিস, লিপিড প্রোফাইলসহ বিভিন্ন মৌলিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।”

    সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া একটি সুস্থ, দক্ষ ও জ্ঞানভিত্তিক জাতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়।”

    অনুষ্ঠানে তিনি দেশে সিজারিয়ান অপারেশনের হার বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, বর্তমানে অনেক শিশুর জন্ম সিজারের মাধ্যমে হচ্ছে এবং জন্মের পর অনেক ক্ষেত্রে নবজাতক মাতৃদুগ্ধ, বিশেষ করে শালদুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মায়েদের কর্মব্যস্ততা, সচেতনতার ঘাটতি ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পান কমে যাচ্ছে, যা তাদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬-এর বিজয়ী সামানজার সাঈদ, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর আজরা মাহমুদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এবং গুলশান সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মৃধাসহ অন্যান্য অতিথিরা।

  • ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

    ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। পরীক্ষায় মোট উত্তীর্ণ ৬ হাজার ১৬৫ জন।

    পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল পিএসসির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও টেলিটক মোবাইলের এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা।

    পিএসসির পূর্বঘোষিত পরীক্ষা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৫০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারিত ছিল ৩০ জুলাই। তবে নির্ধারিত সময়ের সাত দিন আগেই এই ফলাফল প্রকাশ করল দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। কমিশনের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) শুরু হওয়ার কথা ছিল ১০ আগস্ট থেকে। এখন ১১ আগস্ট থেকে শুরু হবে মৌখিক পরীক্ষা।

    তবে পিএসসি তাদের পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশের গতি বাড়ালেও এর প্রকৃত সুফল পাচ্ছেন না চাকরিপ্রার্থীরা। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর পিএসসি সুপারিশ পাঠালেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ধীরগতির কারণে চূড়ান্ত নিয়োগ আটকে থাকছে। তথ্য অনুযায়ী, ৪৫, ৪৬ ও ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশের পর প্রায় আট মাস পার হয়ে গেলেও ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় প্রার্থীরা চাকরিতে যোগ দিতে পারছেন না। এর মধ্যেই ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে এবং ৫০তম বিসিএসের ফলাফলও দ্রুত প্রকাশ করা হলো। ফলে একদিকে পিএসসির ফলাফলের গতি বাড়লেও অন্যদিকে ভেরিফিকেশনের জটে আটকে থাকছে চূড়ান্ত নিয়োগ।

    উল্লেখ্য, ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে সর্বমোট ২ হাজার ১৫০ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ক্যাডার পদের সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫টি। ক্যাডার পদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে, যেখানে ৬৫০ জন চিকিৎসক নেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ জন এবং পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন কর্মকর্তা নিয়োগ পাবেন।

  • জ্বালানি নিরাপত্তায় কাঠামোগত সংস্কার ও শুল্ক সমন্বয় জরুরি: বিশ্বব্যাংক

    জ্বালানি নিরাপত্তায় কাঠামোগত সংস্কার ও শুল্ক সমন্বয় জরুরি: বিশ্বব্যাংক

    আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় শুল্ক (ট্যারিফ) কাঠামোর বড় ব্যবধানের কারণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব চাপে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেম। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং আঞ্চলিক জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর জোর দেওয়া জরুরি।

    বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন তিনি। কনক্লেভটির আয়োজন করে বণিক বার্তা।

    জ্যঁ পেম বলেন, জ্বালানি কেবল একটি খাতের অগ্রাধিকার নয়; এটি বেসরকারি বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং রাজস্বের টেকসইতার অন্যতম ভিত্তি। সবার কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তবে খাতটি এখনো বড় ধরনের কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলো কতটা গভীর এবং কত দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এর অন্যতম কারণ হলো আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং জ্বালানি সরবরাহের ব্যয় ও গ্রাহক পর্যায়ের শুল্কের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান।

    জ্বালানি আমদানির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের চাহিদার ৩০ শতাংশ, তেলের ৯৫ শতাংশ এবং কয়লার ৯০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। বৈশ্বিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন সরাসরি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে সমস্যা শুধু আমদানিনির্ভরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন চুক্তির পুরোনো ও ব্যয়বহুল দায়বদ্ধতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। এর ফলে রাজস্বের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং আর্থিক দুর্বলতা বাড়ছে। তাই এখনই এমন পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যা খাতটিকে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে আস্থা ফিরিয়ে আনা, রাজস্ব ঝুঁকি কমানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পথ সুগম করবে।

    তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাংক এ সংকট মোকাবেলায় চারটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। প্রথমত, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে জ্বালানি খাত ও শুল্ক (ট্যারিফ) সংস্কার। দ্বিতীয়ত, জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক জ্বালানি বাণিজ্য জোরদার করা। তৃতীয়ত, সবুজ অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং জ্বালানি ব্যবস্থার সহনশীলতা বৃদ্ধি। চতুর্থত, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে গ্যাসের ভ্যালু চেইনকে আরও শক্তিশালী করা।

    জ্বালানি খাতের শুল্ক সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে জ্যঁ পেম বলেন, জ্বালানি ভর্তুকি বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতি ও সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, এ ভর্তুকির পরিমাণ জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশ। তাই একটি নির্ভরযোগ্য ও পর্যায়ক্রমিক শুল্ক সংস্কার রূপরেখা প্রয়োজন, যাতে শুল্ক সমন্বয়ের সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হয় এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

    নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎসের বৈচিত্র্য প্রয়োজন। ভুটান ও নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি সরকারি মালিকানাধীন জমিতে গিগাওয়াট-স্কেলের সোলার পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, গভীর সমুদ্রবন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল কিংবা রেলওয়ের মালিকানাধীন জমি এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে, সঠিক নীতিগত দিকনির্দেশনা, বিনিয়োগবান্ধব ট্যারিফ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন ব্যবস্থা থাকলে খুব অল্প সময়েই বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম একটি সফল উদাহরণ।

  • দেশীয় গ্যাস উৎপাদন না বাড়লে নতুন সংযোগ দেয়া সম্ভব নয়: তিতাসের এমডি

    দেশীয় গ্যাস উৎপাদন না বাড়লে নতুন সংযোগ দেয়া সম্ভব নয়: তিতাসের এমডি

    দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত না হলে নতুন গ্রাহকদের সংযোগ দেয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহনেওয়াজ পারভেজ। তিনি বলেন, বর্তমানে তিতাসের কাছে পাঁচ শতাধিক গ্রাহক ডিমান্ড নোট অনুযায়ী অর্থ জমা দিয়ে অপেক্ষায় থাকলেও সরবরাহ-সংকটের কারণে তাদের সংযোগ দেয়া যাচ্ছে না।

    বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন শাহনেওয়াজ পারভেজ। কনক্লেভটির আয়োজন করে বণিক বার্তা।

    তিতাসের এমডি বলেন, দেশের মোট গ্যাস বিতরণের প্রায় ৬০ শতাংশ তিতাসের মাধ্যমে হয়। প্রতিষ্ঠানটির আওতায় প্রায় সাড়ে চার হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায়ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তবে তিতাস নিজে কোনো গ্যাস উৎপাদন করে না; প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে পেট্রোবাংলার বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র ও আমদানিকৃত এলএনজি থেকে যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যায়, পেট্রোবাংলা তা ছয়টি বিতরণ কোম্পানির মধ্যে বরাদ্দ দেয়।

    তিনি জানান, তিতাসের আওতাধীন ১২ থেকে ১৩টি জেলার শিল্প প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে চালাতে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস প্রয়োজন। অন্তত ১ হাজার ৭০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া গেলে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে তারা পাচ্ছেন মাত্র ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস।

    শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, সম্প্রতি একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় গ্যাস সরবরাহের ওপর আরো চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে সংকট তীব্র। প্রতিদিনই শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ আসছে। আবাসিক গ্রাহকদের অভিযোগও নিয়মিতভাবে মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

    নতুন গ্যাস-সংযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে তিতাসের কাছে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি আবেদন রয়েছে। এর মধ্যে ৫০০টিরও বেশি গ্রাহক ডিমান্ড নোট অনুযায়ী অর্থ জমা দিয়ে গ্যাস-সংযোগের অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় তাদের সংযোগ দেয়া যাচ্ছে না।

    এমডি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশীয় গ্যাস উৎপাদন না বাড়বে কিংবা পর্যাপ্ত গ্যাসের জোগান নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা নতুন গ্রাহকদের গ্যাস-সংযোগ দিতে পারব না।

  • প্রকল্প বাস্তবায়নে সংস্কার ও জবাবদিহিতা জোরদার করবে সরকার : জোনায়েদ সাকি

    প্রকল্প বাস্তবায়নে সংস্কার ও জবাবদিহিতা জোরদার করবে সরকার : জোনায়েদ সাকি

    পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো: জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব কমানো, জবাবদিহিতা জোরদার করা, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, নির্মাণ খরচের রেট শিডিউল সংশোধন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তদারকি বাড়াতে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

    আজ বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে তথ্য অধিদফতরে (পিআইডি) সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    জোনায়েদ সাকি বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রোধ এবং সরকারি বিনিয়োগকে আরো কার্যকর করার লক্ষ্যে এসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যবস্থা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, যেখানে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল সমন্বয়, দায়িত্বের ওভারল্যাপ এবং জবাবদিহির অভাবের কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে এবং বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়েছে।

    তিনি জানান, আজকের একনেক সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

    এছাড়া ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষার একটি প্রকল্প পর্যবেক্ষণসহ ফেরত দেয়া হয়েছে। একনেকের সুপারিশ অনুযায়ী সংশোধন করে প্রকল্পটি পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।

    সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি প্রকল্প বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছেন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং জনগণের করের অর্থের সর্বোচ্চ সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্পভিত্তিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, এখন থেকে অনুমোদিত প্রতিটি প্রকল্প এই নির্দেশনা অনুসারেই বাস্তবায়ন করা হবে।

    তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা প্রকল্প প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করছেন। কোথায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হচ্ছে তা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং জনগণের প্রতিটি টাকা যেন আরো দক্ষতার সাথে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

    প্রতিমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় লাগা সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়।

    তিনি উল্লেখ করেন, প্রচলিত নিয়মে একনেকের অনুমোদনের পরও কেবল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) পেতেই দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যায়। অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কাজ দেরিতে শুরু হওয়ায় উন্নয়ন কাজের গতি কমে যায় এবং প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যায়।

    তিনি বলেন, ‘এই দীর্ঘসূত্রতা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সরকারি বিনিয়োগের প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল পেতে বিলম্ব ঘটায়। উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

    সাকি জানান, সরকার তাই প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করছে।

    তিনি জানান, চলমান প্রকল্প এবং এডিপির ‘গ্রিন পেজ’-এ অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলো ‘রি-স্কোপিং’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রকল্পের বিভিন্ন উপাদান সংযোজন, বিয়োজন, সম্প্রসারণ বা সংকোচন করা হবে।

    এর লক্ষ্য হলো সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার, পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অগ্রাধিকারের সাথে সরকারি বিনিয়োগকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বর্তমানে চারটি বড় সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

    প্রথমত, পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। এর সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর এটি জাতীয় নীতিপত্র হিসেবে প্রকাশ করা হবে।

    দ্বিতীয়ত, প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড তৈরি করা হচ্ছে।

    তৃতীয়ত, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের জন্য দায়ী প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাগুলো পর্যালোচনা করে তা দূর করার সুপারিশ প্রণয়ন করা হচ্ছে।

    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনাধীন।

    সাকি জানান, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগে একটি খসড়া নীতিমালাও প্রণয়ন করা হচ্ছে।

    এই নীতিমালায় স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, যোগ্যতাভিত্তিক নির্বাচন এবং পিডিদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

    এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ মডিউল ও প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার আশা করছে সরকার।

    চতুর্থত, পরিকল্পনা বিভাগ, আইএমইডি, বাংলাদেশ সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষ (বিপিপিএ), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক নাগরিক ডাটাবেজসমূহকে সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে ব্যাপক স্বয়ংক্রিয়করণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্মাণকাজের সংশোধিত রেট সিডিউল প্রণয়নে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতোমধ্যে দুই দফা বৈঠক করেছে এবং আগামীকাল আবার বৈঠকে বসবে।

    ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও কেন ব্যয় বেড়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে সাকি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন, ভ্যাট ও করের হিসাবের পরিবর্তন, মূল ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত না থাকা ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর এবং নতুন পাঁচটি উপাদান সংযোজনের কারণেই ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

    জবাবদিহির বিষয়ে তিনি বলেন, খুলনার রূপসা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে বিলম্বের ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদন একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন হবে বলে সরকার আশা করছে।

    তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে, সরকারি জবাবদিহি জোরদার হবে, এডিপি বাস্তবায়নের গতি বাড়বে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

  • ১২৯ জাতের উচ্চ  ফলনশীল সবজির ক্রপ-শো

    ১২৯ জাতের উচ্চ  ফলনশীল সবজির ক্রপ-শো

    যতদূর চোখ যায়, নানা জাতের সবজির ক্ষেত। ক্ষেতের মাচায় ঝুলছে বাহারি মিষ্টি কুমড়া। জাত ভেদে কুমড়ার ওজন ও সাইজ ভিন্ন। পাশের জমিতে ঝুলছে ছোট, বড়, মাঝারি লাউ। কয়েক পা এগিয়ে দেখা মিলবে বেগুনের ক্ষেত। যত ধরণের বেগুন আছে, তার সব কয়টিই যেন ফলেছে এখানে। পাশাপাশি জমিতে ২৩টি ফসলের ১২৯টি উন্নত জাতের সবজি চাষ করা হয়েছে যশোর সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের এই মাঠে।

    সবজির ভান্ডার খ্যাত যশোরে এসব সবজির বাম্পার ফলেই বলে দেয় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের এইসব সবজির ক্ষেতেই সারাদেশের বীজ পরিবেশক ও কৃষকদের নিয়ে রোববার থেকে শুরু হয়েছে ক্রপ-শো-২০২৬। যার আয়োজক বেসরকারি বীজ কোম্পানী এসিআই সীড।

    ক্রপ-শোতে আসা একজন দর্শনার্থী যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি আব্দুলপুর গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে কৃষি চাষাবাদের সাথে সংপৃক্ত। সারা বছরই কোন না কোন সবজি চাষ করেন তিনি। তবে ক্রপ শোতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ফলন দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ চাষাবাদের জীবনে তিনি এমন উচ্চ ফলনশীল সবজি দেখেননি। বিশেষ করে এখানে এসে টমেটো, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, বেগুনসহ নানান সবজি দেখেছি। তবে আমরা যেসব জাতের চাষ করি, তার চেয়ে অনেক বড়। এখানকার চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, এখানকার জাতের সবজির পোকামাকড়ও আক্রমণ কম। দ্রুত ফলন পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে চাষী উপযোগী চাষাবাদের সবজির জাত দেখছি এখানে। এই ধরণের জাত আগামি মৌসুম থেকে চাষাবাদ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।’

    আয়োজক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের কৃষকদের সম্পদশালী করাই মূল লক্ষ এসিআই সীডের। আবহাওয়া ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় যুগোপযোগী সঠিক জাত নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। এই ক্রপ শো অঞ্চলভিত্তিক বীজ বিক্রেতা ও কৃষকদের সময়োপযোগী জাত নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দেশের সবজির চাহিদা পূরণ ও কৃষি উদ্যোক্তাদের চাষাবাদে সফলতা এনে দিবে।

    যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এই ধরণের গবেষণা ও ফসলের নানান জাতের ক্রপ-শো বেশি বেশি হওয়া দরকার। এতে কৃষকেরা তাদের ফসলের ফার্মার সিলেকশন করতে পারবে। কৃষকেরা তাদের আবহাওয়া অনুযায়ী তাদের ফসলের জাত বাছাই করে চাষাবাদ করে লাভবান হবে। বীজ নিয়ে কৃষকদের নানা প্রতারণার অভিযোগ থাকে। এখানে উচ্চ ফলনশীল যেসব জাতের সবজি দেখলাম; সেটা আমাদের কৃষি সেক্টরে আশাব্যঞ্জক।
    এসিআই সীড বিজনেস পরিচালক সুধীর চন্দ্র নাথ বলেন, ‘বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় যুগোপযোগী সঠিক জাত নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্রপ শো অঞ্চল ভিত্তিক বীজ বিক্রেতা ও কৃষকদের জন্য সময়োপযোগী উপযুক্ত জাত নির্বাচনে কার্যকর সহায়তা প্রদান করবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ক্রপ-শোর পরবর্তী দিন উক্ত প্রদর্শনী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কৃষির সঙ্গে পরিচিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে কৃষি বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হবে। শিশু-কিশোরদের কৃষি সম্পর্কে সচেতন ও আগ্রহী করে তোলা দেশের কৃষি খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ক্রপ-শোর উচ্চ ফলনশীল সবজি কৃষক ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মতামতের ভিত্তিতেই আগামিতে এসব জাতের বীজ বাণিজ্যিকভাবে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।’

  • পরিচালক-এমডির অনিয়মের তথ্য গোপনে জানাতে পারবেন ব্যাংক কর্মকর্তারা

    পরিচালক-এমডির অনিয়মের তথ্য গোপনে জানাতে পারবেন ব্যাংক কর্মকর্তারা

    ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বা ইন্টারনাল অডিট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, কমপ্লায়েন্স ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করা হয়েছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ আগের চেয়ে আরো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো সব ব্যাংকে হুইসেলব্লোয়ার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দুর্নীতি বা গুরুতর অনিয়মে জড়িত থাকলে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষকরা সেই তথ্য গোপনে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনা পর্ষদের অনুমতি লাগবে না।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা (ইন্টারনাল কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম-আইসিএমএস) নির্দেশনা জারি করেছে। এর মাধ্যমে ২০১৬ সালের ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন (গাইডলাইনস অন ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স ইন ব্যাংকস) নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ২০১৬ সালের নির্দেশনা তখনকার তদারকি ব্যবস্থার জন্য উপযোগী ছিল। কিন্তু এখন বাংলাদেশ ব্যাংক ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি (রিস্ক বেইজড সুপারভিশন-আরবিএস) চালু করেছে। তাই নতুন তদারকি ব্যবস্থার সঙ্গে মিল রেখে নির্দেশনা পরিবর্তন করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, নতুন নির্দেশনায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, কমপ্লায়েন্স ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা নির্দেশনা থাকবে, এই নির্দেশনায় মূলত অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স কীভাবে পরিচালিত হবে, তা বলা হয়েছে।

    ওই কর্মকর্তা জানান, নতুন নির্দেশনার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্সকে আলাদা করা। আগে একজন হেড অব আইসিসি দুই বিভাগের দায়িত্ব পালন করতেন। এখন থেকে হেড অব ইন্টারনাল অডিট ও হেড অব কমপ্লায়েন্স আলাদা ব্যক্তি হবেন এবং তাদের পদমর্যাদাও সমান থাকবে। ফলে নিরীক্ষায় কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে সেটি উপেক্ষা করার সুযোগ কমে যাবে।

    তিনি আরো বলেন, হেড অব ইন্টারনাল অডিট সরাসরি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অডিট কমিটির কাছে রিপোর্ট করবেন। আগে তাকে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজ করতে হতো। এখন তিনি আরো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ধরা পড়লে তা গোপনীয়ভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তদারকি বিভাগে জানাতে হবে। ২০১৬ সালের নির্দেশনায় এমন বিধান ছিল না।

    এছাড়া প্রতিটি ব্যাংককে অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন, ই-মেইল, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা সিলগালা লিখিত অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। হুইসেলব্লোয়ারের পরিচয় গোপন রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত তথ্য থাকলে বেনামি অভিযোগও তদন্ত করতে হবে। অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে পদাবনতি, সাময়িক বরখাস্ত বা হয়রানির মতো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    ফরেনসিক, কনকারেন্ট ও ভার্চুয়াল অডিট

    নতুন নির্দেশনায় ফরেনসিক, কনকারেন্ট ও ভার্চুয়াল অডিট চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে জালিয়াতির তদন্ত করে আদালতে ব্যবহারযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। কনকারেন্ট অডিটে লেনদেন চলার সময়ই নিয়মিত নজরদারি করা হবে। আর ভার্চুয়াল অডিটের মাধ্যমে দূর থেকে নিরাপদভাবে অডিট পরিচালনা করা যাবে।

    প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি

    ব্যাংকগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচার শনাক্তকরণ, ঋণ ঝুঁকি, বাজার ঝুঁকি, কাউন্টারপার্টি ঝুঁকি, সাইবার নিরাপত্তা ও জালিয়াতি প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

    সব তফসিলি ব্যাংককে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক পরিবর্তন সম্পন্ন করে নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • ‘ধর্মকে ভিত্তি করে বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়’

    ‘ধর্মকে ভিত্তি করে বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়’

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই বাংলাদেশের সব ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, নৃগোষ্ঠী ও জনগোষ্ঠীকে ধারণ করে গড়ে ওঠা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়। এ দর্শন বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিককে সমানভাবে জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    বুধবার (২২ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, ভারত উপমহাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও, শুধুমাত্র ধর্মকে ভিত্তি করে একটি বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতার ধারাবাহিক প্রকাশ।

    তথ্যমন্ত্রী এ সময় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনবদ্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাহসী সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে যুদ্ধকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

    জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তার নেতৃত্ব ইতিহাসের প্রমাণিত উপাদান বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কেবল ভাষাভিত্তিক পরিচয়ও দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। এ বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন উপস্থাপন করেন, যা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান মর্যাদায় একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।

    জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক- তিনি যে ভাষায় কথা বলুন, যে ধর্ম পালন করুন কিংবা যে নৃগোষ্ঠীরই হোন না কেন- বাংলাদেশি পরিচয়ের মধ্যেই তার মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত হয়। এ অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তাবাদ দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সংহতি এবং বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে।

    তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে জাতীয়তাবাদ কেবল ভাষা, ধর্ম কিংবা বর্ণের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত হয় না; বরং একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থ, ভূখণ্ড, সাংবিধানিক অঙ্গীকার এবং যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনও সেই আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তারই প্রতিফলন।

    কোনো একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য ভাষা বা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

    বাংলাদেশের সব ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৃগোষ্ঠীর পরিচয়কে সম্মান ও ধারণ করেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বিকশিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দর্শনের মাধ্যমেই দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজেকে সমানভাবে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে অনুভব করতে পারেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ভিত্তি হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক এবং ভবিষ্যতেও দেশের অগ্রযাত্রায় পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।

    ইউট্যাব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নাসির আহমাদ।

  • জ্বালানি তেল নিয়ে নতুন বার্তা

    জ্বালানি তেল নিয়ে নতুন বার্তা

    জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ধরনের সংকট নেই। বর্তমানে দেশে ৩১ দিনের ডিজেল, ৩৬ দিনের অকটেন, ২০ দিনের পেট্রল, ২০ দিনের জেট ফুয়েল এবং ২৫ দিনের ফার্নেস অয়েল মজুদ রয়েছে।

    বুধবার (২২ জুলাই) বিকালে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা থেকেই এমন গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    মনির হোসেন জানান, জ্বালানির আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন এবং আগামী আগস্ট মাসে আরও ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসে পৌঁছাবে। ফলে জ্বালানি পণ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে যৌথ সচিব বলেন, বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দৈনিক ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এ ঘাটতি বেশ কিছুদিন ধরেই বিদ্যমান। অতীতে গ্যাস অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত জোর দেওয়া না হলেও বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে।

    সিএনজি স্টেশনগুলোতে সাম্প্রতিক দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে তিনি জানান, একটি এলএনজি ভাসমান টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। কারিগরি টিম ইতোমধ্যে মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী দুদিনের মধ্যেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং সিএনজি স্টেশনের সাময়িক চাপ কেটে যাবে।

    মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি আমদানি প্রসঙ্গে মনির হোসেন চৌধুরী জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রধানত অপরিশোধিত খনিজ তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করা হয়। হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার পর থেকে লোহিত সাগর রুট ব্যবহার করে সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে লোহিত সাগর বন্ধ হয়ে গেলেও বিকল্প রুট ব্যবহারের জন্য আগাম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

  • একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

    একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ের আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প।

    অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বৃহত্তর দিনাজপুরের সমন্বিত উন্নয়ন, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন এবং দেশের মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ।

    বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান।

    পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানায়, অনুমোদিত আটটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা।

    এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে আসবে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হলো—সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (প্রথম সংশোধন), বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প এবং পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প।

    এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধন), সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধন) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধন) অনুমোদন পেয়েছে।

    জ্বালানি খাতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আওতায় বেগমগঞ্জ-৫ মূল্যায়ন কূপ এবং বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২ অনুসন্ধান কূপ খননের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের মাধ্যমে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোর বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার নতুন কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

    সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ইতোমধ্যে অনুমোদিত ১১টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক অফিস স্থাপন, বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন, বিভিন্ন মহাসড়ক উন্নয়ন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো, পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড সম্প্রসারণ এবং বিটাকের নতুন কেন্দ্র স্থাপনের মতো উদ্যোগ রয়েছে।

  • যুগে যুগে পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে, দালালরা ফের সক্রিয় হয়: মঞ্জু

    যুগে যুগে পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে, দালালরা ফের সক্রিয় হয়: মঞ্জু

    আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ৫ মের নৃশংসতা দেখে মানুষ গুমরে মরেছে। মা-বোনেরা ঘরে বসে কেঁদেছেন, দোয়া করেছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের ঘটনা কেন্দ্র করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই রাস্তায় নেমেছেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এটাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতা ও তাৎপর্য।

    বুধবার (২২ জুলাই) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এবি পার্টি আয়োজিত ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুলের সঞ্চালনায় রাজধানীর বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে এবং পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। কিন্তু তাদের দালাল ও প্রেতাত্মারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নিয়ে আবার সংগঠিত হয়। এবারও ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের কিছু দালাল ও প্রেতাত্মা দেশে রয়ে গেছে। তারা এখন নানাভাবে ফ্যাসিবাদকে প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আলেম-ওলামারাও দলে দলে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। আলেম সমাজের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তারা আপসহীন।

    মঞ্জু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, পরে কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যুক্ত হয়। এরপর নারী-পুরুষ, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নামলে গণঅভ্যুত্থান সফল হয়।

    খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী বলেন, আলেম-ওলামারা সবসময় সাহসিকতার সঙ্গে আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন। দেশপ্রেমিক সব শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই এই পরিবর্তন এসেছে।’

    তিনি বলেন, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। জুলাই সনদের বাস্তবায়নের দাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

    ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীজ রোপিত হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, জঙ্গিবাদের অভিযোগ ব্যবহার করে তৎকালীন সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় টিকে ছিল।

    ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কোনো প্রত্যক্ষ স্বার্থ না থাকলেও তারা আবাবিল পাখির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।

    খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে আলেম-ওলামাদের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে।

    আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ, ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান, খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা মাওলানা সাদমান ফুয়াদ এবং মো. আলিফ।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, গণশিক্ষা ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, মহানগর দক্ষিণ যুব পার্টির আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান এবং রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী।

  • ২৪ জুলাই বাউবির এইচএসসি পরীক্ষা শুরু

    ২৪ জুলাই বাউবির এইচএসসি পরীক্ষা শুরু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) পরিচালিত এইচএসসি প্রোগ্রামের পরীক্ষা-২০২৬ পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ জুলাই শুক্রবার থেকে দেশব্যাপী একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে। সারাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্কুল/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সর্বোমোট ২১৬টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।

    ধবার (২২ জুলাই) বাউবি কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    আরো বলা হয়, প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে মোট ৪৭ হাজার ৪১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২৭ হাজার ৭ শত ৯৬ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ২ শত ৩৮ জন ছাত্রী। প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা নেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

    এছাড়াও বাউবি থেকে ভিজিল্যান্স টিম বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন। উল্লেখ্য যে, গত ১৭ জুলাই স্থগিত বাংলা ১ম পত্র (HSC 1851) এবং বাংলা ২য় পত্র (HSC 2851) বিষয়ের পরীক্ষারগুলোর সময় পরবর্তীতে জানানো হবে। বাউবির ওয়েবসাইট www.bou.ac.bd থেকে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

  • গাড়িভর্তি টাকা নিয়ে যেভাবে পালালেন হাসিনার ফুপাতো ভাই মেয়র খোকন

    গাড়িভর্তি টাকা নিয়ে যেভাবে পালালেন হাসিনার ফুপাতো ভাই মেয়র খোকন

    বৈষম্যবিরোধী তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রাক্কালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই সেরনিয়াবাত খোকন আব্দুল্লাহর দেশত্যাগকে ঘিরে সামনে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে— পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি গাড়িভর্তি করে প্রায় ১৬ কোটি টাকা সঙ্গে নিয়ে যান। পরে সেই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ঘুরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ছেলের কাছে পাঠানো হয়।

    ৪ আগস্ট গভীর রাতে বরিশাল ছাড়লেও ২০২৪ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত তিনি খুলনায় প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বাসায় অবস্থান করেন। পরে তামাবিল সীমান্ত দিয়ে প্রথমে আসাম ও পরে কলকাতা যান খোকন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী লুনা আব্দুল্লাহ। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আর পেট্রোল পাম্প খুলে নিজেকে বিনিয়োগকারী প্রমাণ করে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি।

    চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো-খুলনায় পালিয়ে থাকা অবস্থায় বিসিসির বেশ কয়েকজন ঠিকাদারের পাওনা প্রায় ২৭ কোটি টাকার চেকে ব্যাক ডেটে সই করেন খোকন। বরিশাল থেকে চেক খুলনায় নিয়ে সই করিয়ে আবার বরিশালে আনার কাজটি করেন খোকনের তৎকালীন এপিএস রুবেল। তাকে সহায়তা করেন বিসিসির প্রকৌশল (সিভিল) ও হিসাব শাখার দুই কর্মকর্তা। তাদের একজন বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের নেতা। আর চেক সই করার বিনিময়ে মোট বিলের শতকরা ২০ থেকে ৪০ পার্সেন্ট টাকা নেন শেখ মুজিবের ভগিনীপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের পুত্র সাবেক এই মেয়র। টাকা হাতে পাওয়ার পর চেকে সই করেন তিনি।

    আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও কেবল শেখ পরিবারের কোটায় লোকদেখানো নির্বাচন করে মেয়র বানানো হয় খোকনকে। মাত্র ৭ মাসের দায়িত্ব পালনকালে নানাভাবে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করছে দুদক।

    ৪ আগস্ট সকালে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে গুলি ছুড়তে গিয়ে গণপিটুনিতে মারা যান বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা টুটুল চৌধুরী। ওই ঘটনায় ভীত হয়ে পড়েন খোকন। রাতে তার আলেকান্দা সড়কের ভাড়া বাসায় ডেকে নেন আওয়ামী লীগ নেতা তৎকালীন এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগের দুই নেতাকে। তখনই বরিশাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    ওই রাতে খোকনের বাসায় থাকা ওই ৩ নেতার একজন জানান, ‘একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হলেও যাওয়ার সময় কাউকে কিছু না বলে চুপচাপ চলে যান খোকন। রাত ৩টা নাগাদ বিশেষ একটি বাহিনীর দুটি গাড়ি সামনে পেছনে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যায় সাবেক এই মেয়র ও তার স্ত্রীকে বহনকারী গাড়ি। তার বেড়িয়ে যাওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা পর আমরা জানতে পারি যে তিনি চলে গেছেন। বরিশাল থেকে সোজা খুলনায় গিয়ে ওঠেন সোনাডাঙ্গা এলাকায় শ্যালক মিঠুর বাড়িতে। সেখানে কয়েকদিন থাকার পর আশ্রয় নেন খুলনা বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতার বাসায়। আওয়ামী শাসনামলের দীর্ঘ সময় ওই নেতাকে মোংলা বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তা করেছিলেন খোকন। তিনি নিজেও ছিলেন মোংলা বন্দর স্টিভেডর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করতেন সমুদ্রগামী জাহাজে। রাতের বাকিটা সময় আমরা ওই বাসায় থেকে খুব ভোরে চলে আসি।’

    ৪ আগস্ট রাত ১২টায় বরিশাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন খোকন আব্দুল্লাহ। ৩ ঘণ্টা চলে প্রস্তুতি। ওই রাতে তার বাসায় থাকা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘এই ৩ ঘণ্টায় ঘরে থাকা নগদ টাকা আর স্বর্ণালংকার ব্যাগে ভরেন তিনি। তাকে সহায়তা করা তৎকালীন এপিএস রুবেলের কাছে পরে শুনেছি যে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ছিল সেখানে। তবে কোনো কাপড়চোপড় সঙ্গে নেননি তিনি বা তার স্ত্রী। বিপুল অঙ্কের ওই টাকা নিয়েই তারা ওঠেন খুলনায় শ্যালক মিঠুর বাসায়। সেখান থেকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয় ৫ আগস্টের পর মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়া এক যুবলীগ নেতার কাছে। মালয়েশিয়া থেকে পরে তা পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে মেয়র খোকনপুত্র প্রত্যুষের নামে থাকা একাধিক নামসর্বস্ব কোম্পানির হিসাবে। প্রত্যুষ আগে থেকেই মার্কিন নাগরিক।

    যুক্তরাষ্ট্রে টাকা নিতে হলে যেহেতু অর্থের উৎস জানাতে হয়, তাই সিঙ্গাপুরে খোলা নামসর্বস্ব কোম্পানির মাধ্যমে সেখানে টাকা পাঠাতেন খোকন। মেয়র হওয়ার পর থেকে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত যত টাকা হাতিয়েছেন, তার সিংহভাগ এভাবেই পাচার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়া মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য করে আয় করা অর্থও পাচার হয়েছে সেখানে। তবে শেষ চালানের ১৬ কোটি টাকা পাঠাতে গিয়ে ৩ কোটি খোয়ান তিনি। মালয়েশিয়ায় যার কাছে হুন্ডি করে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাঠানো হয়, সিঙ্গাপুরে পাঠানোর ক্ষেত্রে সেখান থেকে ৩ কোটি টাকা মেরে দেন তিনি। এ নিয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ঝগড়াও হয় খোকনের।’

    খুলনায় বিএনপি নেতার আশ্রয়ে থেকে চলে তার দেশছাড়ার চেষ্টা। প্রথমে চারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সবশেষ অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ঢোকেন ভারতের আসামে। গুয়াহাটি বিমানবন্দর থেকে বিমানে পশ্চিমবঙ্গে। কলকাতার নিউ টাউন অ্যাকশন অ্যারিয়া-১-এর কাছে ভাড়া নেওয়া বাসায় ওঠেন স্ত্রীকে নিয়ে।

    কলকাতায় অবস্থানরত বরিশালের এক আ.লীগ নেতা বলেন, ‘এখানে ১ মাসের জন্য একটি গাড়ি ভাড়া নেন খোকন। গাড়ি ও ড্রাইভার তার বাসাতেই থাকত। ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর এই দম্পতিকে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে দেখা গেছে কলকাতার এক্সেস মলে। কলকাতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে থাকা ছেলের কাছে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন খোকন। ছেলে প্রত্যুষ যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেন হওয়ায় খুব একটা কষ্ট হয়নি তাদের। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে স্ত্রীকে নিয়ে কলকাতা থেকে উড়োজাহাজে যুক্তরাষ্ট্র যান খোকন।

    বর্তমানে টেক্সাসে অবস্থানরত বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘ট্রাম্প সরকারের সর্বশেষ গোল্ডেন ভিসা সুযোগের আওতায় খোকন ও তার স্ত্রী প্রায় ১৬ কোটি টাকায় নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা। সেই সুযোগেই টেক্সাসে আছেন তারা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কিনেছেন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরসহ একটি পেট্রোল পাম্প। এসব বিনিয়োগ আর ব্যবসা-বাণিজ্য দেখিয়ে চলছে সেখানে তাদের দুজনের নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা। টেক্সাসে প্রত্যুষ সেরনিয়াবাতের নামে আগে থেকেই কেনা ছিল ২টি বাড়ি। তার একটিতে থাকছেন খোকন ও লুনা।’

    কলকাতায় অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘খোকন আব্দুল্লাহ মেয়র হয়েছিলেন কেবল টাকা কামাইয়ের জন্য। দায়িত্ব পালনের ৭ মাস তিনি সেটাই করেছেন। হাতিয়ে নিয়েছেন শতকোটি টাকা। সেই টাকায় এখন আয়েশ করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। আর আমরা খেয়ে-না-খেয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’

    এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য খোকন আব্দুল্লাহর প্রচলিত সবকটি নম্বরে কল করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়। দলের কারও সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তার একসময়কার ঘনিষ্ঠরা।’

  • ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় দেশে আনা আরও সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় দেশে আনা আরও সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল সেবা রপ্তানি খাতকে আরও গতিশীল করতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়মে বড় ধরনের সহজীকরণ এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারক ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বৈদেশিক আয় দেশে আনা, সংরক্ষণ এবং ব্যবহার-সব ক্ষেত্রেই বাড়ানো হয়েছে নমনীয়তা। ফলে প্রচলিত কাগজপত্রের জটিলতা কমবে, আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে বৈদেশিক আয় আনা সহজ হবে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    আজ বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সেবা বাণিজ্যের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিবান্ধব করা হয়েছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে-ফ্রিল্যান্সাররা এখন প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল, অনলাইন ইনভয়েস কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগকে বৈদেশিক আয়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ, প্রচলিত রপ্তানি নথি বা কাগজপত্রের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যাবে। এতে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে কাজ করা ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য অর্থ দেশে আনতে আর আগের মতো জটিলতার মুখে পড়তে হবে না।

    লেনদেন প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে। পাশাপাশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি)-এর মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এসব অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

    ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে সার্কুলারে ডুয়াল-কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি)-এর ব্যবহারও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে ফ্রিল্যান্সাররা আন্তর্জাতিক আয় গ্রহণ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও সহজ ও আধুনিক সেবা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বৈদেশিক মুদ্রা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়েছে সুযোগ। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটার (ইআরকিউ) আওতায় সংরক্ষণ করতে পারবেন। অন্যদিকে, তথ্যপ্রযুক্তি ছাড়া অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য এ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ শতাংশ। ফলে আন্তর্জাতিক সাবস্ক্রিপশন, সফটওয়্যার, ক্লাউড সেবা কিংবা বিদেশে ব্যবসায়িক ব্যয় নির্বাহে তারা আরও বেশি নমনীয়তা পাবেন।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু ফ্রিল্যান্সারদের জন্য লেনদেন সহজ করবে না; বরং বৈদেশিক আয় আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাহিত হতে আরও উৎসাহিত করবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে, সেবা রপ্তানির স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিকতা জোরদার হবে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবা খাত বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

  • অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ

    অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ

    ২০২৫-২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্নের মাধ্যমে সফলভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। এর ফলে করদাতারা ঘরে বসেই সহজে তাদের বাৎসরিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা দিতে পারছেন।আজ বুধবার এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ২০২৬-২৭ করবর্ষের অনলাইন আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিলের সেবা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নীট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা) প্রণোদনা দেওয়া হবে।

    এনবিআর জানায়, ২০২১ সালে অনলাইন রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থা চালুর পর থেকে এটি করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ২০২৫-২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্নের মাধ্যমে সফলভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। এর ফলে করদাতারা ঘরে বসেই সহজে তাদের বাৎসরিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা দিতে পারছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এনবিআরের বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সব স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার প্রতিনিধিরা এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা কাগজে (পেপার) রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

    এছাড়া ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোনো ব্যক্তি অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

    কর পরিশোধ বিষয়ে এনবিআর জানায়, www.etaxnbr.gov.bd সিস্টেমের মাধ্যমে করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ অন্যান্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন। একই সঙ্গে সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করা যাবে।

    ই-রিটার্ন দাখিলে কোনো সমস্যা হলে সরকারি ছুটি ছাড়া অফিস চলাকালীন সময়ে এনবিআরের কল সেন্টার (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে জুলাই-সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নীট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা) প্রণোদনা পাওয়া যাবে। তবে এ সময়ের পর রিটার্ন দাখিল করলে এ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না। আর ডিসেম্বরের পর রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত কর দিতে হবে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের জন্য করদাতাদের বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

  • প্রশাসন ক্যাডারের ৫০ কর্মকর্তা হলেন এসিল্যান্ড

    প্রশাসন ক্যাডারের ৫০ কর্মকর্তা হলেন এসিল্যান্ড

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড পদে পরবর্তী পদায়নের লক্ষ্যে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ৫০ কর্মকর্তার চাকরি ভূমি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করেছে সরকার। আজ বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    এতে বলা হয়, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাদের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে পরবর্তী পদায়নের জন্য তাদের চাকরি ভূমি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমি মন্ত্রণালয়ে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হলো। তারা ঢাকা ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মৌলিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্স সম্পন্ন করার পর ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মচারীগণের পদায়ন নীতিমালা, ২০২২’ অনুসরণ করে তাদের এসিল্যান্ড পদে পদায়ন করা হবে।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    ৫০ কর্মকর্তার তালিকা নিচে দেওয়া হলো-

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বিদায়ী নৌ বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়েছে।সাক্ষাৎকালে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের কর্মজীবনের সাফল্য, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশাদার বাহিনী হিসেবে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অবদানের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    একই সঙ্গে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতা, দিকনির্দেশনা ও আন্তরিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী পরে বিদায়ী নৌ প্রধানকে নিয়ে মধ্যহ্নভোজ করেন।

    ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই নৌ বাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এম নাজমুল হাসান।নাজমুল হাসান ১৯৮৬ সালের ১ জুলাই কমিশন লাভ করেন। সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে তিনি বিভিন্ন স্টাফ, ইস্ট্রাকশনাল এবং কমান্ড দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

    এছাড়া তিনি নৌ সদরে সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স), সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (পার্সোনেল), পরিচালক নৌ অপারেশন্স ও নৌ গোয়েন্দা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অসামরিক-সামরিক সংযোগ পরিদফতরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধজাহাজ বানৌজা ওমর ফারুকসহ চারটি যুদ্ধজাহাজের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।