জাতীয় সংবাদ

  • চৌগাছায় ক্ষেতে গরু ঢোকায় নারীকে পিটিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ

    চৌগাছায় ক্ষেতে গরু ঢোকায় নারীকে পিটিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ

    যশোরের চৌগাছায় ক্ষেতে গরু ঢোকায় তাসলিমা খাতুন (৩৫) নামে এক নারীকে পিটিয়ে আহত করেছেন ক্ষেত মালিকরা।

    রোববার (২৬ জুলাই) এ ঘটনায় আহত তাসলিমা খাতুন চৌগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

    ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের দুলালপুর গ্রামে। আহত তাসলিমা খাতুন বর্তমানে চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন তাসলিমা খাতুন গ্রামের মাঠ থেকে তার গরু বাড়িতে নিয়ে আসছিলেন। এ সময় গরুটি দুলালপুর গ্রামের গোলাম গাজীর ছেলে হাসান হোসেনের ক্ষেতে ঢুকে পড়ে।

    ক্ষেতের কোনো ক্ষতি করার আগেই তাসলিমা খাতুন গরুটি ক্ষেত থেকে বের করে নিয়ে আসেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুলালপুর গ্রামের গোলাম গাজীর ছেলে হাসান হোসেনের (৪২) নেতৃত্বে তার ভাই আলী হোসেন (৪৫) ও আমছার গাজীর ছেলে নুর ইসলাম গাজী (৪৮) হামলা চালান।

    এ সময় তারা বাঁশের লাঠি, লোহার রড ইত্যাদি দিয়ে পিটিয়ে তাকে মারাত্মক আহত করেন। তাসলিমা জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলে মৃত ভেবে ফেলে রাখা হয়।

    একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় তাসলিমা বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু সোমবার, যেতে পারবেন না যারা

    হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু সোমবার, যেতে পারবেন না যারা

    ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন আগামীকাল সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে। আর এ নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

    এ সময়ের মধ্যেই হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদেরকে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে যে কেউ নিবন্ধন করতে পারবেন। অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে।

    সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের অবশ্যই মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট থাকতে হবে। জটিল রোগে আক্রান্ত বা শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা হজে যেতে পারবেন না।

    নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ

    সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো মাধ্যমে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধিত ব্যক্তিদেরকে চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের পূর্বে হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে।

    যে সকল স্থানে নিবন্ধন করা যাবে

    সরকারি মাধ্যমে ই-হজ সিস্টেমে (hajj.gov.bd) ইউজার তৈরি করে যে কেউ নিজেই নিবন্ধন করতে পারবে। এ ছাড়া, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে।

    সরকারি মাধ্যমে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদেরকে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে।

    তবে, বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদেরকে হজ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এজেন্সির নির্ধারিত হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।

    যে সকল ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না

    ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ হজে যেতে পারবে না। এছাড়া, দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন: হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, স্নায়ুবিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও ডিমনেশিয়া রোগী, কেমোথেরাপি বা বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন-এমন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী হজে যেতে পারবেন না।

    এ ছাড়া জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ যেমন- যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কোনো মহিলা হজযাত্রী ফিটনেস সনদ পাবে না।

    উল্লেখ্য, প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদেরকে আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরণ ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।

  • সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আজ রোববার বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।

    অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এত মানুষ মারা গেলেও রাষ্ট্রের তিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারতেন, কিন্তু সে সময় তিনি কোনো ভূমিকা রাখেননি। ৫ আগস্ট পর্যন্ত আয়নাঘর, গুম-খুন ইত্যাদির বিষয়ে তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। এসব অপরাধে তার মৌন সম্মতি ছিল, তাই এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’

    এদিন ট্রাইব্যুনালে ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির নেতারা জানান, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের সহিংসতা, গুম, খুনসহ বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার সময় আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।

    তারা আরও জানান, আইনজীবীরা প্রায়ই একটি কথা বলে থাকেন- সুপিরিয়র রিসপনসিবিলিটি। অর্থাৎ, একটি গণহত্যার সময় সেখানে রাষ্ট্রের বা দলের সর্বোচ্চ যে ব্যক্তি থাকেন, তার ওপর মূলত ওই অপরাধের দায় বর্তায়। তৎকালীন সময়ের রাষ্ট্রপতিরা তিন বাহিনীর প্রধান হয়েও যারা ফ্যাস্টিস্ট সরকারকে সহায়তা দিয়েছেন, নিরাপত্তা দিয়েছেন, অন্যায়গুলোর প্রতিবাদ করেননি এবং ক্ষমতার সুবিধাভোগী হয়েছেন সেজন্য তারা এসব অন্যায়ের দায় এড়াতে পারে না। এ কারণে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    এদিকে, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ এনে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম। আজ রোববার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ অভিযোগের আবেদন জমা দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।

  • স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যা  স্ত্রী আটক, লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ

    স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যা স্ত্রী আটক, লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ

    বরগুনায় পরকীয়ার জেরে স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী ও তার মাকে অবরুদ্ধ করে আটকের দাবিতে লাশ নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্ত্রী ও তার মাকে আটক করে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার বরগুনা-পুরাকাটা আঞ্চলিক সড়কের কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আফাং শিকদার (৪৫) কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাতলা গ্রামের প্রয়াত খবির শিকদারের ছেলে।

    স্বজনদের অভিযোগ, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন আফাং শিকদার। এর মধ্যেই রাবেয়া অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। দেশে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আফাং ও রাবেয়ার মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।

    পরে এ ঘটনা কেন্দ্র করে, শনিবার (১৯ জুলাই) রাবেয়া হত্যার উদ্দেশ্যে তার স্বামীকে ইঁদুর মারার বিষ খাইয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন নিহত আফাংয়ের স্বজনরা। ঘটনার পরদিন রোববার (২০ জুলাই) আফাং শিকদারকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৪ জুলাই) মৃত্যু হয় আফাং শিকদারের। শনিবার (২৫ জুলাই) ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বাড়িতে আনা হলে ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এসময় তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে রাবেয়া ও তার মাকে আটক করা হয়।

    এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ঝিনাইদহে খাল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    ঝিনাইদহে খাল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভবনগর গ্রামের একটি খাল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২৬ জুলাই) সকালে উপজেলার ভবনগর গ্রামের ভাওনের খালে সড়কের একটি সেতুর নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় লাশটি দেখতে পান স্থানীয়রা।

    খবর পেয়ে মহেশপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হাসান জানান, সকালে খালের পানিতে এক ব্যক্তির লাশ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান বলেন, পানিতে ভাসমান অবস্থায় একজনের হাত দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। লাশের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

  • বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ

    বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ

    বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে গেট কারপাস জটিলতায় ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা গেট কারপাস না করার কারনে শনিবার থেকে আমদানি বানিজ্য বন্ধ রয়েছে। আমদানি বানিজ্য বন্ধ থাকার কারনে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। যার অধিকাংশই বাংলাদেশের শতভাগ রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের কাচামাল।

    শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে সিএন্ডএফ এজেন্টের সদস্যরা আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রাখে।

    বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, এত দিন ধরে আমরা কোনো অবৈধ মালামালের দায়ভার না নিয়ে ভারতীয় আমদানিকৃত পন্যবাহী ট্রাকের কারপাস (গেটপাস) দিয়ে গ্রহণ করে আসছি। গতকাল শনিবার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হঠাৎ নির্দেশনা জারি করেন, স্ব-স্ব সিএন্ডএফ এজেন্টের কর্মচারিদের দায়িত্ব নিয়ে ভারতীয় আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক গ্রহণ করতে হবে। ওই ট্রাকে কোনো অবৈধ মালামাল থাকলে সিএন্ডএফ প্রতিনিধিকে দায়ভার নিতে হবে। এ সংক্রান্ত কোনো দায়ভার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নেবে না। এ সংক্রান্ত কোনো দায়ভার না নেয়ার শর্তে সিএন্ডএফের পক্ষ থেকে আমরা কোনো গেটপাশ ইশ্যু করছি না। যার কারনে আমদানি বানিজ্য বন্ধ রয়েছে।

    বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাকদ জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, ভারতীয় ব্যাবসায়ীরা বাংলাদেশে মালামাল রফতানি করেন। তারাই ভালো জানেন পন্যের ভিতরে কি আছে? ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভাররা পথিমধ্যে কোনো অবৈধ মালামাল তুললে তার দ্বায়ভার কোনো সিএন্ডএফ এজেন্ট বা স্টাফরা নিতে পারে না। কাস্টমসের এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বানিজ্য বন্ধ রয়েছে।

    বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন জানান, কারপাশ জটিলতার কারনে শনিবার থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি বানজ্য বন্ধ রযেছে। তবে রফতানি ও চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রী পারপার স্বাভাবিক রয়েছে।

  • হাসিমুখে বঙ্গভবন ছাড়লেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

    হাসিমুখে বঙ্গভবন ছাড়লেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

    হাসিমুখে বঙ্গভবন ছেড়েছেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ রবিবার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে তিনি বঙ্গভবন ছেড়ে যান।

    মো. সাহাবুদ্দিন এখন তার গুলশানের বাড়িতে উঠবেন বলে জানা গেছে।

    বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন গতকাল শনিবারই বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন।

    গত শুক্রবার অপরাহ্ণে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতির পদকে বিদায় জানান মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগে সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেও জাতীয় সংসদে অবস্থিত স্পিকারের বাসভবনেই থাকবেন হাফিজ উদ্দিন। তবে তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ করবেন।

    নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি সম্ভব হবে।

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী সংসদ অধিবেশন বিবেচনায় নিয়েই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে তারা।

    এ বিষয়ে দুয়েক দিনের মধ্যেই কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

    তিনি আরও বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ২৪ অক্টোবরের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে।

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাসের মেয়াদে আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপি এই তিনটি ভিন্ন সরকারের শপথ পড়িয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি মনোনীত হওয়া থেকে পদত্যাগ পর্যন্ত নানা কারণে রাজনৈতিক আলোচনায় ছিলেন তিনি।

  • হ্যাঁ ভোটের বাস্তবায়নে কোনো ‘ধানাই-পানাই’ শুনতে চাই না

    হ্যাঁ ভোটের বাস্তবায়নে কোনো ‘ধানাই-পানাই’ শুনতে চাই না

    বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ পরিবর্তনের জন্য, সংস্কারের জন্য গণভোটে হ্যাঁ বলেছে। গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষের হ্যাঁ-কে আমরা অপমান করতে দেবো না। হ্যাঁ ভোটের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। কোনো ধানাই পানাই শুনতে চাই না।

    তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশের মানুষের একই দাবি- গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেই আমাদের আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছবে। বংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ আমরা চাই না।

    শনিবার বিকেল সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলীয়া মাদরাসা মাঠে ১১ দলের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পথ ধরেই হাঁটা শুরু করেছেন। তারা সকল পর্যায়ে দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করতে যাচ্ছেন। আমরা এটি মানব না। হাসিনাকে তাড়িয়েছি, যদি তারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেন জনগণ তাদেরও তাড়াবে।

    গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন বিষয়ে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ভালোয় ভালোয় মেনে নিন। আমরা আমাদের জুলাইযোদ্ধা, জুলাইশহীদ ও ১৮ কোটি মানুষের সাথে বেঈমানি করব না। আমরা কথা রাখব। জীবন দিয়ে হলেও লড়াই করে কথা রাখব।

    সিলেটবাসীকে পরবর্তী আন্দোলনের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, ঢাকার জন্য ডাক আসবে। প্রস্তুতি নিন। ঘরে ঘরে লড়াইয়ের দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও দুঃশাসন দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। আমরা থামব না, বলেন তিনি।

    সিলেটের বঞ্চনা ও ভোগান্তি তুলে ধরে সরকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সিলেটের কিছু ন্যায্যদাবি ঝুলে আছে যুগ যুগ ধরে। সিলেট এমএ জি ওসমানী বিমানবন্দরকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করুন। অবিলম্বে সিলেটের ৬ লেনের রাস্তা সম্পন্ন করে জনগণকে স্বস্তি দেয়া হোক। সিলেটের দীর্ঘ দিনের দাবি- এখানে ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি হবে। কলেজটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কেন? এটিকে ইউনিভার্সিটিতে রূপান্তর করে প্রাণ দেয়া হোক। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামে মাত্র একটি ঘর, আর একজন ভিসি। এর বাইরে তেমন কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অবিলম্বে এটাকে পূর্ণাঙ্গতা দেয়া হোক, বলেন তিনি।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লব দেশ থেকে দেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে। আর আমাদের সরকার উল্টো পথে হাঁটছে। আমরা আশা করেছিলাম, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু দুঃখের সাথে দেখতে হচ্ছে- সেই সরকার গণভোটে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে। বিএনপি যদি জুলাই, তরুণদের ভুলে যায়, ১৪শ’ শহীদকে ভুলে যায়- তাহলে এর পরিণতি বিএনপিকে বরণ করতে হবে, সতর্ক করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর বিএনপি সংস্কারকে ভুলে গেছে। তারা এখন শুধু সংবিধান সংশোধনের কথা বলছে। কিছু দালাল বুদ্ধিজীবীই বলছে সংশোধন প্রয়োজন, সংস্কার প্রয়োজন নেই। নাহিদ সতর্ক করে বলেন, সরকার সংস্কার না করলে জনগণের মাঝে যে আস্থা তৈরি হয়েছিল, তারেক রহমান সেই আস্থা ধরে রাখতে পারবেন না। জুলাই সনদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার করতে হবে, বলেন নাহিদ।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ আরও বলেন, বিএনপি দেশের নির্বাচন কমিশনসহ সকল প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করছে। যার কারণে আমরা যে উন্নতি চেয়েছিলাম- তা হবে না। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না কবরলে এই সরকারকে আর আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে না। যদি জুলাই সনদ, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে এই সরকার ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না। সেজন্য গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নইলে তাকে তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আমাদের ঐক্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য। সরকারি দল বা ১১ দলের মধ্যে ক্ষমতার ভাগ বাটোয়ারার জন্য নয়। যতদিন পর্যন্ত জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য অর্জিত না হবে, ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। নেতাকর্মীরা হত্যা, খুন গুমের শিকার হয়েছে। আমাদের ভাইয়েরা জুলাই বিপ্লব, শাপলায় রক্ত দিয়েছে। অনেক ভাই-বোনেরা চিরদিনের জন্য পঙ্গত্ববরণ ও চোখ হারিয়েছেন।

    সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আমরা সরকারকে বলতে চাই, আপনারাও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছিলেন। আমরা আপনাদের বন্ধু মনে করি। আমরা যেমন দেশের কল্যাণ চাই। যে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছেন, যদি সেই জুলাই বিপ্লবের সাথে গাদ্দারি করেন, তাহলে আপনাদের ঘাড় ধরে ধাক্কা দিতে আমাদের বাঁধবে না। গণভোটের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে যদি ছিনিমিনি করেন, বিশ্বাসঘাতকতা করেন- তাহলে আপনাদের পরিণাম শেখ হাসিনার মতো হবে।

    মামুনুল হক আরও বলেন, গণভোটের গণরায় মেনে নিন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করুন। গণভোটের গণরায়ের আলোকে গণপরিষদ গঠন করুন। তা না হলে আন্দোলন করে তা বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে। আমাদের আন্দোলন ৩০ হাজার আহত জুলাইযোদ্ধার অধিকার আদায়ের আন্দোলন।

    এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আমরা বর্তমান সরকারকেও বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের যে অঙ্গীকারের ভিত্তিতে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন, তার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল বিচার ও সংস্কার। কিন্তু গত দেড় বছরে আমরা দেখেছি, আপনারা নির্বাচন নিয়ে যতটা আগ্রহী ও তৎপর ছিলেন, বিচার ও সংস্কারের ক্ষেত্রে ততটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। শুধু জুলাই জাতীয় সনদ, গণভোট বা গণরায়ের কথা বললেই হবে না। জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর করা প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করতে হবে। জনগণ জানতে চায়—যে দল নিজের প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করতে পারে না, তাদের ওপর জনগণ কীভাবে আস্থা রাখবে?

    লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. ইরান অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছে এবং নির্বাচনে প্রকৌশল করে অনেক প্রার্থীকে পরাজিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী ডা. হামিদুর রহমান আজাদ, মাওলানা মামুনুল হক এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সরকার যদি মনে করে থাকে যে, তারা পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবে, তাহলে তারা ভুল করছে। অতীতের সরকারগুলোও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু জনগণের আন্দোলনের মুখে তা সম্ভব হয়নি। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোট কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

    জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, যারা ৫ মাসে জাতির জন্য কিছু করতে পারে না, তারা আগামী ৫ বছরেও কিছুই করতে পারবে না। আমরা ভারতীয় আধিপত্যবাদ আর দেখতে চাই না। ভারতের নির্দেশে ইলিয়াস আলীর মতো আর কাউকে গুম হতে দেখতে চাই না। টিপাইমুখ বাঁধের কারণে সিলেটের জনগণকে আর বঞ্চিত হতে দেখতে চাই না। ইনসাফের বাংলাদেশ কায়েম করতে চাই। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার যদি গণরায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ঢাকায় মহাসমাবেশ করে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন শুরু করা হবে।

    নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, তা বাস্তবায়নে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায়কে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। জনগণের রায় ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারবে না। জনগণ যেভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে অবস্থান নিয়েছিল, ভবিষ্যতে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো অপচেষ্টা হলে- তা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে বিরোধীদলীয় নেতা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আগামী দিনের আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

    বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা মানতে না চাইলেও তারা ১৯৯৬ সালে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। বিএনপি ২০০৪ সালে আবার জাতির সাথে প্রতারণা করে চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতির বয়স বাড়িয়ে জাতীয় সংকট সৃষ্টি করেছিল। ফলে এক-এগারোর সরকার এসেছিল। বিএনপির এই গোয়ার্তুমির কারণেই জাতি ১৭ বছরের গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ হয়েছিল। একইভাবে বিএনপি আবার গণভোটের রায় না মেনে জাতিকে নতুন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমি হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, জনগণের রায় অস্বীকার করা যায়, কিন্তু সে রায়ের ফলাফল মেনে না নেয়ার পরিণতি অস্বীকার করা যায় না। ক্ষমতা বদলায়, চেয়ার বদলায় কিন্তু জনগণের রায় বদলায় না। সময় থাকতে গণরায় মেনে নিন।

    সভাপতির বক্তব্যে এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ তখনই সম্ভব হবে, যখন দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতি মুক্ত করা সম্ভব হবে। তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে হবে, বিএনপির না। আপনি দালাল, চাটুকারদের কথা না শুনে নিজের বিবেক দিয়ে বিবেচনা করে সংস্কার বাস্তবায়ন করুন। প্রয়োজনে ১১ দলের নেতাদের সাথে কথা বলেন। জাতিকে মুক্ত করেন।

    তিনি বলেন, জনগণ যে সংস্কার চায় সেই সংস্কার করেন। আপনি বাংলাদেশের মানুষের কথা চিন্তা করেন। আপনি চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেননি। আপনাকে ভুলপথে পরিচালিত করছে। আপনি বাহিরে থাকায় আপনি বাস্তবতা এখনো উপলব্ধি করতে পারছেন না। জনগণের প্রধানমন্ত্রী হতে হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। আমাদের সরকার পতনের এক দফায় ধাক্কা দিবেন না। সংস্কারগুলো সংসদের মাধ্যমে পাস করে দেন। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি জনগণকে ফাঁসির রশি নিয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জনান।

    বিভাগীয় সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মো. ফখরুল ইসলাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর জনাব মো. সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়েজ আহমেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (জাগপার) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহনগরীর সভাপতি জিয়াউল আনোয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিলেট জেলা সভাপতি জুনায়েদ আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগরীর সাবেক নায়েবে আমির হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা এমরান আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিলেট মহানগরীর আমীর মাওলানা মোজ্জামেল হক তালুকদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা মো. ইকবাল হুসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সিলেট মহানগরীর সভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সিলেট মহানগরীর সভাপতি শহিদুল ইসলাম সাজু।

  • ছাত্র ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করলেন মেঘমল্লার বসু

    ছাত্র ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করলেন মেঘমল্লার বসু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মেঘমল্লার বসু সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেছেন।

    একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাঈন আহমেদও পদত্যাগ করেছেন।শনিবার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেঘমল্লার বসু ও মাঈন আহমেদের দাখিল করা পদত্যাগপত্র কেন্দ্রীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় একই সঙ্গে দুটি রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করলে সাংগঠনিক মতদ্বৈধতা বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) সৃষ্টি হতে পারে। এ বিবেচনায় তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    এতে আরও বলা হয়, তাদের পদত্যাগের কারণ ও রাজনৈতিক অবস্থান পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটি পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই প্রেক্ষাপট ও সাংগঠনিক বাস্তবতার কারণে কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি নাজিফা জান্নাতকেও ছাত্র ইউনিয়নের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ইউনিয়ন জানায়, সংগঠনের আদর্শ ও সাংগঠনিক স্বচ্ছতা রক্ষার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক কাঠামো ও নীতির পরিপন্থি।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ছাত্র ইউনিয়ন বিদায়ী নেতাদের দায়িত্ব পালনকালীন অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের সফলতা কামনা করছে। পাশাপাশি সংগঠনটি শিক্ষার অধিকার, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং বৈষম্যহীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগের মতোই দৃঢ় প্রত্যয়ে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

  • ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভ চালু

    ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভ চালু

    উচ্চশিক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণাকে আরো সমৃদ্ধ করতে আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভ চালু করেছে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ডব্লিউইউবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য উন্মুক্ত এ ডিজিটাল আর্কাইভে একাডেমিক তথ্য ও গবেষণাসামগ্রীর সমৃদ্ধ সংগ্রহ রাখা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল আর্কাইভে ৩ হাজারের বেশি ই-বুকের পাশাপাশি দেশী-বিদেশী বিভিন্ন একাডেমিক জার্নাল, গবেষণাপত্র, প্রবন্ধ ও ডিজিটাল প্রকাশনা সংযোজন করা হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা একই প্ল্যাটফর্ম থেকে সহজেই নির্ভরযোগ্য একাডেমিক তথ্য ব্যবহার করতে পারবেন।

    ডিজিটাল আর্কাইভের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো পৃথক ইউজার প্রোফাইল ও লগইন সুবিধা। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা অ্যাকাউন্টের ব্যবস্থা থাকায় প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ ও সহজভাবে এই সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রম, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, প্রকল্প ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও রেফারেন্স সংগ্রহ করতে পারবে এ প্ল্যাটফর্ম থেকে। একই সাথে আন্তর্জাতিক মানের জার্নাল ও গবেষণা প্রকাশনার মাধ্যমে শিক্ষকদের পাঠদান, কোর্স পরিকল্পনা, গবেষণা ও একাডেমিক তত্ত্বাবধানে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    এ ছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব, দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত জ্ঞানসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকাশনা ব্যবহার করে নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।

    ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে আধুনিক ডেস্কটপ কম্পিউটারসমৃদ্ধ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত একটি ডিজিটাল আর্কাইভ রুমও স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে নিরিবিলি পরিবেশে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা গবেষণা, তথ্য অনুসন্ধান এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, ডিজিটাল আর্কাইভ কেবল একটি তথ্যভাণ্ডার নয়; এটি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চা সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে আরও সহজলভ্য, গবেষণাকে আরও গতিশীল এবং জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

  • ‘হ্যাঁ’ ভোট বাস্তবায়নে ধানাইপানাই চাই না-জামায়াত আমির

    ‘হ্যাঁ’ ভোট বাস্তবায়নে ধানাইপানাই চাই না-জামায়াত আমির

    ‘‘নির্বাচনের সময় সবাই জনগণের কাছে ভোট চাইতে গেছে। জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোটে সমর্থন দিয়েছে। তাই এখন সেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। কোনো ধানাইপানাই চাই না।’’ আজ শনিবার নগরীর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বললেন এমনই।

    তিনি জানাচ্ছিলেন, ‘বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ চাই না। যদি আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে যান, তাহলে শেখ হাসিনার মতো পরিণতি হবে। আমরা জুলাইয়ের সঙ্গে বেইমানি করব না। দেশ থেকে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসন দূর না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না। জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে। জনগণের পাশে থেকে আমরা আমাদের আন্দোলন ও সংগ্রাম অব্যাহত রাখব।’

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট।

    এ সময় সিলেটের রাস্তাঘাট নিয়ে জামায়াত আমির মন্তব্য করেন, ‘সিলেটের রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে নড়াচড়া হচ্ছে, কিন্তু কোনো কিনারা লাগছে না। সমুদ্রের ঢেউ দেখতে সমুদ্রে যেতে হবে না, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে গেলেই তা দেখা যাবে।’

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।

    বিশেষ অতিথি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক তার বক্তব্যে সংবিধান সংস্কার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ ছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চান।

    এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে সিলেট জুড়ে ব্যাপক প্রচারণা চালায় জামায়াতে ইসলামী ও জোটভুক্ত দলগুলো। সমাবেশে বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেন। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ এবং আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জনসমাগম দেখা যায়।

    এর আগে শুক্রবার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১-দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বললেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।

  • দুই নারী শহীদের উপাখ্যান

    দুই নারী শহীদের উপাখ্যান

    ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় ও স্বতঃস্ফূর্ত গণবিপ্লব। এটি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদ পর্যন্ত দেশের সর্বস্তরের, সব ধর্মের মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছিল স্বৈরশাসক হাসিনার পতনের দাবিতে। আর সর্বস্তরের মানুষের জেগে ওঠার এই লড়াইয়ে নারীদের বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ ছিল অনস্বীকার্য। তাদের অকুতোভয় অংশগ্রহণ আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। জুলাই বিপ্লবে নারীদের অবদান ছিল বহুমাত্রিক। শুরু থেকেই তারা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আন্দোলনে সহযোদ্ধা ভাইদের আড়াল করে রাখাসহ নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্দোলনকে বেগবান করতে সহায়তা করেছেন। স্বৈরাচারীর ‘দেখামাত্র গুলি’ নীতি এতটাই নির্মম ছিল যে, তা যেমন রাজপথের লড়াকু তরুণীদের স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল, তেমনি ঘরের নিরাপদ বারান্দা কিংবা ছাদে অবস্থানরত নিষ্পাপ শিশু ও

    মা-বোনদেরও প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। ২৪-এর ডিসেম্বর মাসে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আমরা ১০ জন নারী শহীদের পরিচয় জানতে পারি। তারা হলেন— মায়া ইসলাম (৬০), শাহিনুর বেগম (৫৫), নাছিমা আক্তার (২৪), মেহেরুন নেছা (২২), লিজা আক্তার (২১), সুমাইয়া আক্তার (২০), নাঈমা সুলতানা (১৯), নাফিসা হোসেন মারওয়া (১৭), রিতা আক্তার (১৭) ও রিয়া গোপ (৬)। তাদের মধ্য থেকেআজ আমরা দুজন নারী শহীদের বীরত্বগাথা ও অবিস্মরণীয় অবদান তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

    নাঈমা সুলতানা

    জুলাইয়ের প্রথম নারী শহীদ ১৬ বছর বয়সি নাঈমা সুলতানা। সে ছিল মাইলস্টোন স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাঈমাদের পরিবার উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় ভাড়া থাকত। বাবা ছিলেন একজন পল্লী চিকিৎসক। তিনি গ্রামের বাড়ি ও ঢাকার মধ্যে যাতায়াত করতেন। শুধু নাঈমার পড়াশোনার জন্যই মা সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় থাকতেন।

    নাঈমার অবসর কাটত আঁকাআঁকি করে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুতে সে বাসায় বসে খাতায় নানা স্লোগানসংবলিত প্রতিবাদী ছবি এঁকে সময় কাটিয়েছে। মারা যাওয়ার আগের দিন, ১৮ জুলাই ২০২৪, উত্তরায় পুলিশের গুলিতে প্রায় ৩০ জন ছাত্র-জনতা নিহত হন। ওইদিন রাতে নাঈমা আন্দোলনের পোস্টার আঁকছিল এবং মায়ের সঙ্গে গল্প করছিল। একপর্যায়ে সে মাকে বলল, ‘আম্মু, ধরো আমি যদি আন্দোলনে গিয়ে মারা যাই, তুমি মানুষকে কী বলবা?’ মাকে জবাব দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে আবার নিজেই বলে উঠল, ‘বলবা যে শহীদ হয়েছে। আমার মেয়ে শহীদ হয়েছে।’

    ১৯ জুলাই ২০২৪, শুক্রবার। তাদের বাসা থেকে একটু দূরে উত্তরা আধুনিক মেডিকেলের সামনে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশ এবং তাদের সহযোগী ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও কিছু পুলিশ আশপাশের গলিতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে নাঈমা তার রুমে বসে ‘বয়কট ছাত্রলীগ’, ‘কোটা সংস্কার চাই’সহ নানা স্লোগানসংবলিত প্রতিবাদী পোস্টার রঙিন কালিতে আঁকছিল। একটু পর বাসার সামনে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে সে দৌড়ে বারান্দায় আসে। তার বাসার নিচে তখন আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি ছুড়ছিল। সে হাতে থাকা মোবাইলে ভিডিও অন করে নিচের দিকে তাক করতেই তাকে লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি ছোড়ে। গুলির আঘাতে মুহূর্তেই মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে নাঈমা।

    নাঈমার মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। মেঝেতে তার মস্তিষ্কের অংশ ছিটকে পড়ে। গুলি লাগার সঙ্গে সঙ্গে ‘মা’ বলে চিৎকার করে ওঠে নাঈমা। পেছনের রুমে থাকা মা ও বড় বোন তার চিৎকার শুনে দৌড়ে বারান্দায় এসে দেখেন, নাঈমা মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছে। মাথা থেকে রক্ত ঝরছে। সারা বারান্দায় ছড়িয়ে গেছে তার রক্ত। মেয়ের এ অবস্থা দেখে মা জ্ঞান হারান। বোনের কান্নার আওয়াজে আশপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ও নিচে থাকা ছাত্ররা এসে নাঈমাকে ধরে উত্তরা আধুনিক মেডিকেলে নিয়ে যান। কিন্তু তার আগেই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেয় নাঈমা।

    সেদিন রাতেই নাঈমার মরদেহ নেওয়া হয় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার আমুয়াকান্দা গ্রামে, তাদের গ্রামের বাড়িতে। পথে পুলিশের নানা হয়রানির শিকার হতে হয় পরিবারকে। মরদেহ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, কোথায় নেওয়া হচ্ছে—এমন নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাদের। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় নাঈমাকে। মাইলস্টোনের মেধাবী ছাত্রী নাঈমা পড়ালেখায় খুব ভালো ছিল। প্রতিদিন তার ডায়েরি লেখার অভ্যাস ছিল। বড় বোন প্রতিবছর জন্মদিনে কীভাবে তাকে সারপ্রাইজ দেন এ কথাও পাওয়া যায় নাঈমার ডায়েরিতে। বেঁচে থাকলে সে এ বছর ২৫-এ জুলাই ১৭ বছরে পা রাখত। জুলাইয়েই মায়ের কোলজুড়ে পৃথিবীতে এসেছিল নাঈমা, সেই জুলাইয়েই তাকে হারালো। প্রতিবছর জুলাই এলে তার পরিবারের দুঃসহ যন্ত্রণা আরো বেড়ে যায়।

    রিতা আক্তার

    রিতা আক্তার, বয়স মাত্র ১৭ বছর। স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে দরিদ্র বাবা-মায়ের অভাব-অনটন ঘোচাবে। কিন্তু স্বপ্নপূরণের আগেই তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হলো। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের তালখুর গ্রামে রিতাদের বাড়ি। বাবা আশরাফ আলী একজন রিকশাচালক, মা রেহেনা বিবি গৃহিণী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রিতা ছিল মেজো। বড় ভাই খুব বেশি পড়াশোনা করেননি; তিনি দিনমজুরের কাজ করেন। ছোট ভাই মাত্র প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়েছে। পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় রিতাই ছিল পরিবারের একমাত্র আশা-ভরসা।

    অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা-মা অদম্য রিতাকে বাল্যবিয়ে দিতে চাইলে সে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, সে বিয়ে করতে চায় না। বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায়। বাবা-মাকে উপার্জন করে খাওয়াতে চায়। পরিবারের হাল ধরতে চায়। তাই মেয়েকে ভালোভাবে পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে বাবা-মা সাধ্যমতো সব চেষ্টা করেছেন। মা রেহেনা বাসাবাড়িতে কাজ করে যে আয় করতেন, সেই টাকা দিয়েই মেয়ের পড়ালেখার খরচ চালাতেন।

    গ্রামের মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করার পর উচ্চমাধ্যমিকে শহুরে প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করানোর জন্য বাবা সপরিবারে ঢাকায় আসেন। মিরপুর দুয়ারীপাড়া সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করান মেয়েকে। মেয়ের পড়ালেখার সুবিধার জন্য কলেজের পাশেই মিরপুর-২ এইচ ব্লকে কম ভাড়ায় একটা ছোট্ট বাসা ভাড়া নেন। বাবা মিরপুর এলাকায় রিকশা চালাতেন। আর মা বাসাবাড়িতে কাজ করতেন।

    ৫ আগস্ট সকালে বাবা-মা তাদের কাজে বের হন। এ সুযোগে রিতা বেলা ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যায়। দুপুরে মা ঘরে ফিরে দেখেন, মেয়ে নেই। তিনি খুঁজতে বের হন। আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও মেয়েকে কোথাও পাননি। সন্ধ্যা পর্যন্ত মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের মর্গে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

    এক মেডিকেল থেকে আরেক মেডিকেলে দৌড়াদৌড়ি করে রাত ১০টার পর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মেয়ের মরদেহ খুঁজে পান তারা। গায়ের জামাকাপড় দেখে মেয়েকে শনাক্ত করেন। আহত রিতাকে মেডিকেলে নিয়ে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিবার জানতে পারে, তার মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিল। তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নিয়ে আসার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা মেলেনি; চিকিৎসা দিতে বিলম্ব হয়। চিকিৎসকরা যখন রিতার চিকিৎসা শুরু করেন, ততক্ষণে সে আর বেঁচে ছিল না। পরদিন মেয়ের মরদেহ নিয়ে বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে চলে যান। গ্রামের কবরস্থানে রিতাকে দাফন করা হয়।

    ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিল রিতা। ইসলামি গান, হামদ ও নাতে রাসুলবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে কয়েকবার প্রথম হয়েছে সে। শিক্ষকদেরও স্বপ্ন ছিল, রিতা একদিন অনেক বড় হবে। মেধাবী এই ছাত্রী আদর্শ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। কিন্তু অকালেই ঝরে গেল আরেকটি ফুল।

  • বিশ্বস্ত কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে চায় বিএনপি

    বিশ্বস্ত কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে চায় বিএনপি

    বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে বসাতে চায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। এক্ষেত্রে দলটি আমলা অথবা শিক্ষকের বদলে বেছে নিতে পারে দলের অভিজ্ঞ কোনো রাজনীতিককেই। ক্ষমতাসীন দলটির নেতাদের পর্যবেক্ষণ— রাজনৈতিক সংকটময় মুহূর্তে চাপ নিতে পারেন, এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তির বাইরে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করে অতীতে তারা পড়েছিলেন সংকটের মুখে। দলের নেতারা উদাহরণ টানলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের। তারা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে বিএনপির নিয়োগ করা রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন বিদায় নিয়েছিলেন চাপের মুখে। এতে করে পথ প্রশস্ত হয়েছিল ওয়ান ইলেভেনের। যার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ এক রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে যায় বিএনপি। অতীতের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এবার অত্যন্ত সতর্ক বিএনপি।

    দলটির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব পর্যায়ে অভিমত, যিনি দলের প্রতি বিশ্বস্ত, দলের নীতি-আদর্শ-দর্শন ধারণ করেন, রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সংকটে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম— রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন ব্যক্তিকেই বেছে নেওয়া উচিত। তারা বলছেন, সবকিছু বিচার-বিবেচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই সে সিদ্ধান্ত নেবেন।

    পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গতকাল শুক্রবার পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির এই হঠাৎ পদত্যাগের ক্ষেত্রে জানা গেছে, সরকারের কাছ থেকে ‘সবুজসংকেত’ পেয়েই তিনি পদত্যাগ করেছেন। সরকার চাইছিল যে তিনি পদত্যাগ করুক। কেননা, গত কয়েক মাস রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরকারের সম্পর্কে এক ধরনের শিথিলতা তৈরি হয়, যেটা দৃশ্যমানও হয়।

    সাধারণত প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতিকে তার সফরের বিষয়ে অবহিতের রেওয়াজ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। দেশে ফিরে ২৭ জুন তিনি জাতীয় সংসদে সফরের অর্জন নিয়ে কথা বলেন। তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বা অন্য কোনোভাবে সফরের ফল তাকে অবহিত করেছেন— এমন কোনো তথ্য বঙ্গভবন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশ করেনি। তাই অনেকেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের দূরত্ব তৈরি হওয়ার কথা বলছিলেন।

    বিএনপির ভেতর থেকে কেউ কেউ বলছেন, গত মে মাসে রাষ্ট্রপতি (সদ্য সাবেক) মো. সাহাবুদ্দিন যখন চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান, তখন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ফোনালাপ হয়। এরপর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মারফতে ওই ফোনালাপের বিষয়টি সরকারের কাছে চলে আসে, যেটাকে গুরুত্বসহকারে আমলে নেয় সরকার। এরপরই মূলত সরকার থেকে তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়। বিএনপি নেতাদের ধারণা, সেই সূত্র ধরেই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও মো. সাহাবুদ্দিন ওই ফোনালাপের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে এটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেছেন।

    অনেকের ধারণা, ওই ফোনালাপই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের অন্যতম কারণ। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করেছেন যে মো. সাহাবুদ্দিনের ওপর তাদের যে আস্থা ছিল, ওই ফোনালাপের মধ্য দিয়ে চিড় ধরেছে তাতে। তবে এটাও ঠিক, মো. সাহাবুদ্দিন নিজেও শারীরিকভাবে অসুস্থ। পদত্যাগপত্রে সেটি তিনি উল্লেখও করেছেন।

    সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে। জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসতে পারে। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলটি মনে করছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তাদের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ চার নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। তবে কেউ কেউ বলছেন, তাদের বাইরে থেকেও চমক আসতে পারে। সেটি একান্তই নির্ভর করছে তারেক রহমানের ওপর।

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলাম মনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। সংসদের আগামী অধিবেশনে সেটি হতে পারে।’

    এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বললেন, ‘সংসদের একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসতে হয়। সে হিসেবে সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে অধিবেশন বসতে হবে। এতে করে হাতে এখনো যথেষ্ট সময় আছে।’

    ‘রাষ্ট্রপতি পদে দল কাকে মনোনয়ন দেবে, সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরিই বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্ভর করছে। এক্ষেত্রে তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে হয়তো কথা বলবেন’— যোগ করেন নূরুল ইসলাম মনি।

  • বন্যায় নষ্ট ১৪০ কোটি টাকার সবজি, উত্তরবঙ্গের ভরসায় চট্টগ্রাম

    বন্যায় নষ্ট ১৪০ কোটি টাকার সবজি, উত্তরবঙ্গের ভরসায় চট্টগ্রাম

    চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বন্যায় পুরোপুরি নষ্ট সবজি ক্ষেত। মাঠে নেই কোনো সবজি। একসপ্তাহ ধরে এই অঞ্চলের সবজি চাহিদা মেটাচ্ছে উত্তরবঙ্গ। তাই চড়াদামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাকে। কৃষকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকুল থাকলে নতুন সবজি বাজারে আসতে লাগবে কমপক্ষে দুই মাস। ততদিন উত্তরবঙ্গের সবজির ওপর নির্ভর করেই চলতে হবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষদের।

    কৃষি বিভাগের হিসাব, বন্যায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ৯ হাজার ২০৮ হেক্টর জমির শাক-সবজি নষ্ট হয়ে মোট ৫৬ হাজার ৭৩০ টন সবজির উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অংকে যা প্রায় ১৪০ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এই খাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭৩ হাজার ৮৭৫ কৃষক পরিবার। অর্থাৎ সাড়ে ৫৬ হাজার টন সবজি মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে। এই বিপুল পরিমাণ সবজি দিয়ে চট্টগ্রাম অন্তত দুই মাস চলত।

    চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানিয়েছেন, ‘কৃষি ক্ষতির হিসাব করে ক্ষতিপূরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অপেক্ষায় আছি অনুমোদনের।’

    ক্ষেত বিলীন হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আড়ত থেকে খুচরা বাজারে সবজির দাম অনেক বেড়েছে। বন্দরনগরী রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তে সবচেয়ে কমদামি সবজি হচ্ছে পেঁপে। কেজি ২২ টাকা। আর দামি সবজি ঝিঙা ১০০ টাকা।

    এছাড়া বেগুন ৮০ টাকা, পটল ৫০, লাউ ৪০, চিচিঙ্গা ৩৫-৪০, কচুর ফুল ৩৫, বরবটি ৯০, ঢেড়স ৭০, করলা ৮০, কাকরোল ৯০, ঝিঙা ১০০ টাকা, কচুর ছড়া ৫০ টাকায় আড়তগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে আমদানি করা টমেটো কেজি ১০০ টাকা। মরিচ ২০০ টাকা। কেজি ২০০ টাকার লেটুস পাতা এখন ১৬০০ টাকা। ১৫০ টাকা পেঁয়াজ পাতা ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আড়ত থেকে অন্তত দেড় থেকে দ্বিগুণ দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।

    রিয়াজউদ্দিন বাজার একতা বাণিজ্যালয়ের মালিক নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘একসপ্তাহ ধরে সবজির সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার থেকে কোনো সবজি আসছে না। উত্তরবঙ্গের সবজিই এখন চট্টগ্রামের চাহিদা মেটাচ্ছে। তাই দাম চড়ে গেছে। এভাবে কতদিন চলবে জানি না।’
    রিয়াজউদ্দিন বাজার আড়তে দুই ধরনের সবজি আসে। চট্টগ্রাম, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া থেকে। এগুলো টাটকা, দাম কিছুটা বেশি, স্বাদও বেশি। বাকিটা উত্তরবঙ্গ থেকে। ‘লাইনের সবজি’ হিসেবে পরিচিত এই সবজির দাম কিছুটা কম। আড়তে আগে প্রতিদিন শুধু উত্তরবঙ্গ থেকে ৬০ ট্রাক সবজি আসত। এখন সেটি অর্ধেকে নেমে ৩০ ট্রাকে নেমেছে। ৩০ ট্রাক মানে ৪৫০ টন সবজি। এর বাইরে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের আশপাশের উপজেলা ও চকরিয়া-পেকুয়া থেকে আসত ১-৩ টনের ট্রাকে। এই সবজির পরিমাণও দিনে ২৫০ টন। এই ২৫০ টন পুরোটাই বাজারে সরবরাহ বন্ধ। এতেই মূলত দাম চড়ে গেছে।

    চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ সবজিক্ষেত এখন বন্যায় বিলীন। শুধু সবজির মাচা দেখা মিলছে। কৃষক আবু তাহের জানিয়েছেন, ‘আজকে সবজি রোপণ করলে ফলন আসতে সময় লাগবে ৫০ দিন। তাও যদি নতুন করে বন্যা না হয়। আবহাওয়া অনুকুলে থাকে। কিন্তু আজকে রোপণের জন্য তো চারা তৈরি নেই। ফলে চারা রোপণ করে সবজি বাজারে আসতে সময় লাগবে দুই মাস।’

    আগে চকরিয়া ও পেকুয়া থেকে উৎপাদিত সবজি কক্সবাজারেও সরবরাহ দেওয়া হত। এখন উত্তরবঙ্গের সবজি সেখানকার চাহিদা মেটাচ্ছে।

    পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের অধ্যাপক মোস্তফা জামান খারেচ জানালেন, ‘বন্যায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৩ হাজার ৮৭৫টি কৃষক পরিবারকে উঠে দাঁড়াতে বীজ, চারা, কৃষি উপকরণসহ আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করতে না পারলে এই ধকল কাটানো কঠিন হবে।’

  • শিশুকে ধমক দেওয়ায় বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ দম্পতির বিরুদ্ধে

    শিশুকে ধমক দেওয়ায় বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ দম্পতির বিরুদ্ধে

    কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাড়ির আঙিনা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করার সময় বাইসাইকেলের চাকা পায়ে লাগার প্রতিবাদ করায় রেহানা বেগম লিলি (৭০) নামের এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রেহানা বেগম লিলি জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়ার গাইনহাটি এলাকার হাজী ধন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন। তাঁর স্বামী মৃত সুরত আলী মিয়া।

    অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর মিয়া ও তাঁর স্ত্রী রিমা বেগম একই এলাকার আনু মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে রেহানা বেগম বাড়ির আঙ্গিনা ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে আলিফ আঙিনায় বাইসাইকেল চালাতে গিয়ে কয়েকবার বৃদ্ধার পায়ের ওপর চাকা তুলে দেয়। এতে তিনি শিশুটিকে ধমক দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর ও তাঁর স্ত্রী ঘরে ঢুকে বাঁশের লাঠি দিয়ে রেহানা বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতের বড় মেয়ে সৌরভী বলেন, ‘আমার মা ঘরের সামনে উঠান ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। প্রতিবেশীর ছেলে সাইকেলের চাকা আমার মায়ের পায়ে লাগায়। ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর ও তাঁর স্ত্রী রিমা আমাদের ঘরে ঢুকে আমার মাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ আজ সকালে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    ফিচার, স্বাস্থ্য

    দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় সাধারণ জ্বর ও ডেঙ্গু জ্বরের পার্থক্য বুঝে সতর্কতার সঙ্গে ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন মেডিসিন ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তাদের মতে, শরীরে সাধারণ জ্বর হলে শুধু প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা উচিত। জ্বরের সঙ্গে মাথা ব্যথা, সমস্ত শরীর ব্যথা, গিরায় গিরায় ব্যথা এবং গায়ে রেশ দেখা দিলে তা ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার লক্ষণ।

    এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ না খাওয়া পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    ডেঙ্গু ইস্যুতে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টরা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের প্রধান চাবিকাঠি হলো সতর্কতা ও জনসচেতনতা। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ, মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা এবং ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হলো ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

    রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৫৯টি ওয়ার্ডকে ইতোমধ্যে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২৩ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ২০ জন। চলতি বছরে এ যাবৎ মোট ১০ হাজার ৯১১ জন ডেঙ্গুরোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    ডেঙ্গু চিকিৎসার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বাসস’কে বলেন, জ্বর হলে শুধু প্যারাসিটামল ওষুধ সেবন করতে হবে। জ্বরের সঙ্গে মাথা ব্যথা, সমস্ত শরীর ব্যথা, গিরায় গিরায় ব্যথা, গায়ে রেশ দেখা দিলে ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার লক্ষণ। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।

    তিনি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসাব্যবস্থা নেওয়া নিরাপদ। নিজেরা ওষুধের দোকান থেকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত কোনো ওষুধ ক্রয় করে খাবেন না। শিশুদের জ্বর হলে ডাবের পানি, শরবতসহ বেশি বেশি পানি পান করাবেন। এছাড়া বাইরে বের হলে শিশুদের ফুলপ্যান্ট ও ফুলহাতা শার্ট, পায়ে মোজা পরানোর পরামর্শ দেন তিনি।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে একসঙ্গে একাধিক ভাইরাস বাড়ছে— করোনা, ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ইত্যাদি। সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে যে কোনটা কোন রোগ। এজন্য ভয়ের কিছু নেই, সচেতনতা জরুরি। লক্ষণ দেখা দিলেই পরীক্ষা ও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

    সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন এ বিষয়ে বাসস’কে বলেন, প্রতি বছরই ডেঙ্গু হচ্ছে, ভাবছি আগামী বছর হবে না। একটা সাময়িক ব্যবস্থা করে সন্তুষ্ট থাকছি। সিটি কর্পোরেশনের এত কম জনবল দিয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা যাবে না। সিটি কর্পোরেশনের লোকজন শুধু কীটনাশক প্রয়োগ করছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারকে মূল উদ্যোগ নিতে হবে।

    বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এডিস মশা সাধারণ মশার তুলনায় কিছুটা ভিন্ন স্বভাবের। এটি গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলে বেশি বসবাস করতে পছন্দ করে। এর অন্যতম কারণ হলো প্রজননের জন্য এডিস মশা অল্প গভীর ও স্বচ্ছ পানিকে বেছে নেয়। কাদা বা ময়লাযুক্ত পানিতে এটি ডিম পাড়ে না। ফলে ফুলের টব, ছাদ বা বারান্দায় রাখা পাত্র, টায়ার কিংবা অন্যান্য ছোট পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানি এডিস মশার আদর্শ প্রজননস্থল হয়ে ওঠে।

    তিনি বলেন, এডিস মশার একটি নির্দিষ্ট জৈবিক ছন্দ রয়েছে। সূর্যোদয়ের পরের প্রথম দুই ঘণ্টা এবং সূর্যাস্তের আগের দুই থেকে তিন ঘণ্টা এদের সবচেয়ে সক্রিয় সময়। এ সময়ই এডিস মশার কামড়ানোর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এই সময়ে বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত এবং প্রয়োজনে মশা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

    আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, ডেনভ-৩ সেরোটাইপের কারণে রোগীদের মধ্যে দ্রুত ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো জটিলতা দেখা দেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে। এতে রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে। পাশাপাশি বাসাবাড়ির আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

  • ভাঙ্গায় জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৬

    ভাঙ্গায় জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৬

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে জুয়ার আসর থেকে ছয় জুয়াড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    শনিবার ভাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) দেওয়ান শামীম খানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

    এ সময় জুয়া খেলায় ব্যবহৃত দুই বান্ডিল তাস এবং নগদ ২৪ হাজার ২৩০ টাকা জব্দ করা হয়।

    অভিযানের একপর্যায়ে তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দী গ্রামের মো: আবুল হোসেনের মুদি দোকানের পেছনের একটি ছাপড়া ঘরে অর্থের বিনিময়ে তাস দিয়ে জুয়া খেলার সময় ছয়জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন মো: হাসান (৩০), ওবায়দুর (৪০), মো: ইবরাহিম (৩০), আলীম শেখ (৪৫), শাকিল মাতুব্বর (৩০) ও শহিদুল মোল্লা (৪৫)। তারা সবাই ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

    ভাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ ছাড়াল

    কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ ছাড়াল

    রাজধানীতে বাজারে শাক-সবজির পাশাপাশি হুহু করে বাড়ছে কাঁচামরিচের দাম। বেশ কিছুদিন ধরে ২০০ টাকার ওপরে থাকলেও টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় এখন ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। কাঁচামরিচ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কোথাও কেজি ৩২০ টাকা, কোথাও ৩১০ কিংবা ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে মরিচ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য সবজির সরবরাহ অনেক কম। এ কারণে দাম বাড়ছে। এতে বেকায়দায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

    শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

    বিক্রেতারা বলেন, বাজারে নতুন কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি, আর পুরোনো কাঁচামরিচ ৩২০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন তারা, যা এক সপ্তাহ আগেও দাম ছিল ১২০-১৩০ টাকা।

    এক সবজি বিক্রেতা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুধু সবজি না অনেক কিছুরই দাম বেড়েছে। এ নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে ঝগড়াও হচ্ছে।

    ওই বিক্রেতার দাবি, তাদের বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। এখন কীভাবে কমে বিক্রি করবেন- এ প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।

    বাজার করতে আসা অনেক ক্রেতা জানান, কাঁচামরিচ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। কিন্তু এটার দাম এখন নাগালের বাইরে। দাম বেড়েই চলছে। কাঁচামরিচ ছাড়া রান্না করব কীভাবে।এছাড়া শাক-সবজির দামও বেশি। দুই-তিন রকমের সবজি অল্প করে কিনলেও ২০০-২৫০ টাকা লাগে। এভাবে তো চলা যায় না।

  • ‘ইত্যাদি’ এবার লক্ষ্মীপুরে

    ‘ইত্যাদি’ এবার লক্ষ্মীপুরে

    লোকজ ইতিহাস, সভ্যতা, সংস্কৃতি, পুরাকীর্তি, অনন্য পর্যটন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের অজানা সব বৈচিত্র্যময় গৌরবগাথাকে দর্শকের সামনে তুলে ধরে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের পর্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে নদীঘেরা উপকূলীয় জনপদ লক্ষ্মীপুরকে। স্থানীয় ইতিহাস ও সৌন্দর্যকে উপজীব্য করে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছিল শতবর্ষ প্রাচীন দালাল বাজার জমিদারের স্মৃতিবহনকারী নবীন কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে।

    ইত্যাদির ধারণকে ঘিরে পুরো লক্ষ্মীপুরজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। দুপুরের পর থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন দর্শকরা। প্রতিবারের মতো এবারও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমেই দর্শকদের জন্য আমন্ত্রণপত্র বিতরণ করা হয়। দেখতে দেখতে নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। জেলা সদরে আয়োজিত হলেও দূর-দূরান্তের উপজেলা, এমনকি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকেও ছুটে এসেছিলেন নানা শ্রেণী-পেশার দর্শক।

    এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে দুটি বিশেষ গান। একটিতে কণ্ঠ মিলিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের কণ্ঠশিল্পী তানজিনা রুমা এবং ফেনীর কণ্ঠশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুল। গীতিকার কবির বকুলের কথায় দরদী সুরে গানটি সৃষ্টি করেছেন আকাশ মাহমুদ।

    অন্যদিকে, প্রতিবারের মতো এবারও থাকছে জেলা-পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর-সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। তানজিনা রুমা ও রাজিবের কণ্ঠে সুরের মূর্ছনায়, এস কে জাহিদের কোরিওগ্রাফিতে মঞ্চ মাতিয়েছেন স্থানীয় নৃত্যশিল্পীরা।

    দর্শকপর্বে লক্ষ্মীপুরকে ঘিরে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকের মধ্যে থেকে চারজনকে নির্বাচন করা হয়। তারপর এই নির্বাচিত দর্শকরা তাদের জেলারই কৃতিসন্তান জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা জামানের সঙ্গে অভিনয় করেন।

    পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টজয়ী প্রথম বাংলাদেশি নারী, লক্ষ্মীপুরের সন্তান নিশাত মজুমদারের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার। বলেছেন পর্বতারোহণ ও ইত্যাদি নিয়ে তার অনুভূতির কথা।

    প্রতিবারের মতো এবারের পর্বেও থাকছে কয়েকটি অনবদ্য প্রতিবেদন। লক্ষ্মীপুরের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য বিস্তৃত মাঠজুড়ে সয়াবিনের সমারোহ, নারিকেল ও সুপারিগাছের সারি। এসবের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান-স্থাপনার ওপর রয়েছে একটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। শিক্ষা ও উদ্দীপনার অনন্য এক উদাহরণ হিসেবে সেখানকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর রয়েছে উদ্দীপনামূলক প্রতিবেদন।

    এ ছাড়াও রয়েছে নদী আর ভাগ্যের সঙ্গে অবিরাম লড়াই করা লক্ষ্মীপুরের এক নিঃস্ব মাঝিকে নিয়ে একটি মানবিক প্রতিবেদন। একসময় নদী যার আয়ের উৎস ছিল, আজ সেই নদীই তাদের নিঃস্ব করেছে।

    এবারের বিদেশি পর্বে রয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-ফেরত সৈনিকদের তৈরি অন্যতম জনপ্রিয় ও চোখধাঁধানো উপকূলীয় পথ বিশ্বের দীর্ঘতম যুদ্ধস্তম্ভ ‘গ্রেট ওশান রোড’।

    থাকছে কাশেম টিভির রিপোর্টার ও নাতির প্রাণবন্ত আলাপ। এ ছাড়াও ইত্যাদির নিয়মিত আয়োজন চিঠিপত্র পর্ব ছাড়াও রয়েছে বেশকিছু সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক প্রসঙ্গনির্ভর তীক্ষ্ম ও তীর্যক নাট্যাংশ। তৈল টিভি, মুখোশের অন্তরালে, স্ক্রিনবন্দি জীবন, উন্নয়ন প্রতারণা, বিয়ে যন্ত্রণা, সবাই ডাক্তার, ইউটিউব ফিভার, ডিজিটাল চিকিৎসা, খাঁটি সোনা ও নকল সোনাসহ বেশ কয়েকটি নাট্যাংশ।

    এবারের ইত্যাদিতে উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন সোলায়মান খোকা, আজম খান, সুভাশিষ ভৌমিক, আবদুল্লাহ রানা, মীর নাসিমুল ইসলাম সেলিম, জিল্লুর রহমান, আব্দুল আজিজ, বড়দা মিঠু, শরাফ আহমেদ জীবন, হারুন রশিদ বান্টি, আশরাফুল আলম সোহাগ, সুমন পাটোয়ারী, আমিন আজাদ, মুকিত জাকারিয়া, আনন্দ খালেদ, সাইদুর রহমান পাভেল, এমএনইউ রাজু, আনোয়ারুল আলম সজল, আনোয়ার শাহী, জামিল হোসেন, সাবরিনা নিসা, জাহিদ শিকদার, কামাল বায়েজিদ, সাজ্জাদ সাজু, নূরে আলম নয়ন, সুজাত শিমুল, সুবর্ণা মজুমদার, তারিক স্বপন, মুকুল সিরাজ, নজরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, সূচনা শিকদার, নিপু, বেলাল আহমেদ মুরাদসহ আরও অনেকে। শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মুকিমুল আনোয়ার মুকিম।

    আগামী শুক্রবার বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর প্রচার হবে দর্শকপ্রিয় ইত্যাদির এই পর্ব। রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।

  • ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে দুই দিনে ডিএমপির ৩২৫৭ মামলা

    ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে দুই দিনে ডিএমপির ৩২৫৭ মামলা

    রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে গত দুই দিনে ৩ হাজার ২৫৭টি মামলা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। একই সময়ে ৯০৮টি যানবাহন ডাম্পিং এবং ৪২৬টি যানবাহন রেকার করা হয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার (২৩ ও ২৪ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে এসব মামলা করা হয়। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) ডিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    ডিএমপি জানায়, ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৯২টি এবং ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৪৫০টি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৪৫৮ টি, ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৪০১টি, ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ৬৭০টি, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ৩৭২টি, ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ২৪৬টি এবং ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ১৬৮টি মামলা করা হয়েছে।

    অভিযানে বিভিন্ন বিভাগের আওতায় বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • শ্রীনগরে কোরেক্স ও ৩২ রাউন্ড গুলিসহ যুবক গ্রেফতার

    শ্রীনগরে কোরেক্স ও ৩২ রাউন্ড গুলিসহ যুবক গ্রেফতার

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১১০ বোতল মাদকদ্রব্য কোরেক্স ও ৩২ রাউন্ড গুলিসহ তুষার শেখ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার ভোর ৪টার দিকে শ্রীনগর থানার দেলভোগ দয়হাটা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    গ্রেফতার তুষার শেখ দেলভোগ দয়হাটা এলাকার মরহুম শেখ করিমের ছেলে।

    জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মোহাম্মদ কামরুল হাসান (পিপিএম) সঙ্গীয় ফোর্সসহ ভাড়া করা একটি বসতবাড়ির উঠানে অভিযান চালান। এ সময় তুষার শেখকে গ্রেফতার করা হয়।

    অভিযানকালে তার কাছ থেকে ১১০ বোতল ‘উইন কোরেক্স’ (ফেনসিডিল জাতীয় মাদক) এবং ৩২ রাউন্ড পিতলের তৈরি কার্তুজ (গুলি) উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একইসাথে তার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো: কামরান হোসেন বলেন, গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি তার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এ,আর

  • পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং

    বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী ভারত

    বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী ভারত। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেছেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

    ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ভারতে দু’জন প্রেস কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ। অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ভারতবিরোধী পোস্ট নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া জানতে চান ওই সাংবাদিক। জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি যে, একজন নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    আমরা এখানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে কাজ করে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না। এমন প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে এই মুহূর্তে আমাদের পক্ষ থেকে জানানো মতো কোনো তথ্য নেই। উপযুক্ত সময়ে এ বিষয়ে ঘোষণা করা হবে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ব্রিফিংয়ে গৌতম লাহিড়ী নামের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত শিগগিরই ঢাকা সফরে আসছেন। তিনি কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে জানিয়েছেন? তার সফরের উদ্দেশ্য কী হবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবগত রয়েছে কিনা? জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফর প্রসঙ্গে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

    ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল কেবল পাকিস্তান, আসিয়ান, সিন্ধুর পানি চুক্তি এবং অন্যান্য বিষয়েই বক্তব্য দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের অভিযোগ, সিন্ধু পানি চুক্তি, চেনাব নদীর বন্যা, চীন, বাংলাদেশ এবং ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতে নিহত ভারতীয় নাবিকদের প্রসঙ্গ উঠে আসে ।

    আসিয়ান ফোরামে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান যে অভিযোগ তুলেছে, তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত ইতিমধ্যেই একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পাকিস্তানের উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগের জবাব দিয়েছে। তিনি বলেন, ফিতনা আল-হিন্দুস্তানের মতো শব্দ ব্যবহার করে পাকিস্তান ধর্মীয় বয়ানকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছে।

    সিন্ধুর পানি চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র। তিনি বলেন, পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে সীমান্তপাড়ের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।
    চীনের সার্বভৌমত্ব ইস্যুতে এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ভারত কখনও চীনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেনি। বরং ১৯৬৩ সাল থেকে চীন ভারতের জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের কিছু এলাকা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া ভারতের দাবি করা ভূখণ্ডে চীনের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েও আপত্তি পুনর্ব্যক্ত করেন।

    চেনাব নদীতে পানি ছেড়ে পাকিস্তানে ইচ্ছাকৃতভাবে বন্যা সৃষ্টি করেছে- পাকিস্তানি গণমাধ্যমের এমন অভিযোগও নাকচ করেছে ভারত। জয়সওয়াল বলেন, ২০ থেকে ২৩ জুলাই জম্মু ও আশপাশের উজান এলাকায় ভারী বর্ষণের কারণেই চেনাব নদীর পানি বেড়েছে। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের লাহোরভিত্তিক ফ্লাড ফোরকাস্টিং ডিভিশন-ও তাদের ২২ জুলাইয়ের বন্যা সতর্কতায় একই ব্যাখ্যা দিয়েছে।

    তার ভাষায়, নদীর পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি ছিল স্বাভাবিক জলবিদ্যাগত প্রতিক্রিয়া, ভারতের কোনো ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপের ফল নয়।
    ভারত বন্যা সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছে- এ অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, ওই সময় নদীর পানিপ্রবাহ এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি, যাতে বিশেষ বন্যা সতর্কতা জারি করার প্রয়োজন হতো।

    তবে মানবিক কারণে, গত বছরের মতো ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে বন্যা সংক্রান্ত তথ্য ভাগাভাগি করবে ভারত।
    ভারতে চলমান ছাত্র বিক্ষোভে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে শেয়ার করার মতো কোনো তথ্য নেই।

  • ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

    ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

    ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় আন্তঃজেলা দস্যুতা চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া একটি ইজিবাইক, আটটি মোবাইল ফোন এবং ইজিবাইক বিক্রির ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি সেল এ তথ্য জানায়।

    পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুলাই বিকেলে কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের ১৪ বছর বয়সী ইজিবাইকচালক মিশকাতের গাড়িতে যাত্রীবেশে চারজন ওঠে। পরে তাকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা মাঠ এলাকায় নিয়ে গিয়ে মুখ ও হাত-পা বেঁধে ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

    এ ঘটনায় ২১ জুলাই ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও সদর থানা পুলিশ চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকাশ সর্দার ওরফে ডাকাত আকাশ এবং কুষ্টিয়ার জিয়ারুল ওরফে জিয়া (৪৪), সিরাজুল ইসলাম (৪০), আখতার মোল্লা (৪০), রাশিদুল ইসলাম ওরফে বল্টু (৫০), লিটন আলী (৫০), সজীব শেখ (২৪), মাসুদ রানা (৩২), ইসলাম খান ওরফে তাহের (৬৫) ও আশরাফুল ইসলাম (৪২)।

    পুলিশ জানায়, প্রথমে ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই ইজিবাইক ও মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত আরও ছয়জনকে কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী ও মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • চৌগাছায় সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধিতে শঙ্কায় কৃষক

    চৌগাছায় সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধিতে শঙ্কায় কৃষক

    যশোরের চৌগাছায় চলতি আমন মৌসুমে ১৭ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি প্রস্তুত ও রোপণ কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। তবে সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ধান চাষিরা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় এবার বিআর-৫১, বিআর-৮৭, বিআর-৭৫, প্রতীক, লাল স্বর্ণ, কাশ্মিরী স্বর্ণ, ইন্ডিয়ান মিনিকেটসহ বিভিন্ন জাতের আমন ধানের আবাদ হবে।

    উপজেলার আন্দারকোটা গ্রামের আশাদুল ইসলাম, সিংহঝুলি গ্রামের সাইফুল ইসলাম ও সাবের আলী সরদার, স্বরূপদাহ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, সাগর খান, সামছুল হুদা দফাদার, ইছাহাক আলী দফাদার এবং মিজানুর রহমান কাটু বিশ্বাসসহ একাধিক কৃষক জানান, মাঠে এখন আমন ধান রোপণের ব্যস্ত সময় চলছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। তবে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

    চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষক মাওলানা সুলাইমান হোসেন বলেন, জমি প্রস্তুতের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চারা রোপণ নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরিসহ প্রায় সব কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে গেছে। ফলে ধান চাষ করেও কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারছেন না। ধারাবাহিক লোকসানে অনেকেই চাষাবাদ কমিয়ে দিচ্ছেন।

    রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আশাদুল ইসলাম বলেন, আগে নিজের সব জমিতেই ধান চাষ করতাম; কিন্তু লোকসানের কারণে এবার মাত্র এক বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছি। গরীবপুর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন মুজাম বলেন, তিনি প্রতি মৌসুমে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেন। এবারো ভালো ফলনের প্রত্যাশায় আমনের চাষ করবেন; কিন্তু উৎপাদন ব্যয় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসাইন বলেন, উপজেলার প্রতিটি আবাদযোগ্য জমি চাষের আওতায় আনার লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে যোগাযোগ রাখছেন এবং কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ মৌসুমে আমনের ভালো ফলন হবে।

  • পে স্কেল নিয়ে নতুন দুঃসংবাদ, বাড়ছে হতাশা

    পে স্কেল নিয়ে নতুন দুঃসংবাদ, বাড়ছে হতাশা

    দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আবারও আলোচনা তুঙ্গে। গত ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকরের প্রত্যাশা থাকলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে চাকরিজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

    নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নতুন পে স্কেল সময়ের দাবি। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থানই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    সরকারের রাজস্ব আয় এখনো প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতির চাপও রয়েছে। এ অবস্থায় বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি সরকারি ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি বাজারে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও সংস্থাটির আশঙ্কা।

    আইএমএফ

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হলে তাদের বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার জন্য প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

    এ ছাড়া ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণ করা হয়েছে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য। এ অর্থ সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হবে।

    তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারি ব্যয় বাড়লেও রাজস্ব আদায় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে একসঙ্গে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে বাজেট ঘাটতি বাড়তে পারে এবং দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতেও তারল্য সংকটের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

    সরকারি সূত্রগুলোও ইঙ্গিত দিচ্ছে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এক ধাপে পুরো পে স্কেল বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে মূল বেতন (বেসিক) বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুক্ত করা হতে পারে।

    এদিকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    আইএমএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারের রাজস্ব আয় এখনো প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতির চাপও রয়েছে। এ অবস্থায় বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি সরকারি ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি বাজারে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও সংস্থাটির আশঙ্কা।

    বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশলই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত হতে পারে।

    এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টি সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দিকে।

  • বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরির আঘাতে আইনজীবী নিহত

    বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরির আঘাতে আইনজীবী নিহত

    বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিজাম উদ্দিন শান্ত নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে শহরের হাড়িখালী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    শান্ত বাগেরহাট সদর উপজেলার পশ্চিমবাগ এলাকার বাসিন্দা।

    বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকবদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়েছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে তাল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টায় পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

    নিহত শান্তর পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা জনায়, শান্ত প্রতিদিনের মতো চেম্বারে কাজ শেষে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তার মোটরসাইকেল গতিরোধ করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত। তারা তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তিনি আহত অবস্থায় পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জেলা ২৫০ বেড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

    আইনজীবী নিহতের খবর পেয়ে শনিবার সকালে বাগেরহাট ২৫০ বেড হাসপাতালের মর্গের সামনে জড়ো হন আইনজীবী নেতারা। তারা নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়।

  • নির্বাচন কমিশনের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত, নির্বাচিত ২৭২০

    নির্বাচন কমিশনের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত, নির্বাচিত ২৭২০

    বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও এর আওতাধীন মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচিত প্রার্থী ২ হাজার ৭২০ জন। এই প্রার্থীরা ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত হয়েছেন।

    প্রার্থীদের জন্য পরবর্তী নির্দেশনাবলি

    লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান পরবর্তী সময় আবেদনকারীর মুঠোফোন নম্বরে এসএমএসের (SMS) মাধ্যমে জানানো হবে। এ ছাড়া ফলাফল–সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে।

    ফলাফল দেখুন এখানে https://asset.ecs.gov.bd/media/uploaded_files/notices/2026/07/3167fcab-6b03-401a-a09e-abcccd17a5ba.pdf

  • পরিত্যক্ত ধানক্ষেতে ‘সম্ভাবনার ঢেঁড়শ’

    পরিত্যক্ত ধানক্ষেতে ‘সম্ভাবনার ঢেঁড়শ’

    যে ধানক্ষেতে কৃষক সবজি লাগিয়েছেন, এই ক্ষেত আসলে ধানের জমি। বছরের অন্যান্য সময়ে কৃষক এখানে চাষ করেন ধান। কিন্তু ধান কাটার পর যখন এই ক্ষেত ধানহীন বা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে তখনই কৃষক এই জমিটি ফেলে না রেখে জমির সদ্ব্যবহার ঘটিয়েছেন। এর ফলেই এসেছে সাফল্য। পাতার নিচে নিচে ধরে আছে শত শত ঢেঁড়শ।

    স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে চাষি বিষু রঞ্জন কপালি দু-তিন মাস আগে ঢেঁড়শ লাগিয়েছিলেন। সেই ঢেঁড়শই এখন ‘সম্ভাবনার ঢেঁড়শ’। ফলন সাফল্য হয়ে ফিরে এসেছে তার কাছে।

    সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল উপজেলার টিকরিয়া কপালিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই ধারেই ঢেঁড়শের ফলন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ঢেঁড়শের এই জাতের নাম ‘দুরন্ত’। এটি নতুন জাত সম্প্রসারণ পর্যায়ের আওতাভুক্ত কৃষিপণ্য।

    চাষি বিষু জানান, দুই কিয়ার (বিঘা) জমিতে অগ্রহায়ণ মাসে ঢেঁড়শ লাগিয়েছিলাম। চারা বের হওয়ার প্রায় ৪৫/৪৬ দিন পর ঢেঁড়শ ধরা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি কিয়ারে প্রায় ৭০/৮০ হাজার টাকার মতো লাভ থাকবে।

    তিনি বলেন, এই গাছগুলোর বয়স এখন প্রায় দেড়-দুই মাস এবং এর ফলনক্ষমতা থাকবে প্রায় তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত। মাস খানেক ধরে ঢেঁড়শ বাজারে বিক্রি করছি। আরও দুই-আড়াই মাস বিক্রি করতে পারবো। একদিন পরপর প্রায় দেড় থেকে দুইশ কেজি পর্যন্ত ঢেঁড়শ এখন তোলা হচ্ছে। বর্তমানে কেজি প্রতি পাইকারী মূল্য ২৫ থেকে ২৮ টাকায় বিক্রি করছি। শুরুতে আমরা বিক্রি করেছিলাম কেজি প্রতি ৯০ টাকা। তারপর কেজি প্রতি দাম ৪০/৪৫ টাকায় নেমে এসেছে। আসলে বাজারের এই দাম উঠানাম করে।

    এখানে টিএসপি, পটাশ, পিজসাম এগুলো সার ব্যবসার করা হয়েছে বলে জানান বিষু।

    আশ্বিস মাসে এই জমিতে আমরা ধান রোপণ করবো। তার জন্য শ্রাবণ মাসের শেষের দিকে এই ঢেঁড়শগুলো আমরা কেটে ফেলবো। পরবর্তীতে ধান কাটা শেষ হলে এই জমিতে অন্য কোনো সবজি লাগবো।

    অপর ঢেঁড়শ-চাষি অমর কপালি বলেন, আমরা যে ঢেঁড়শগুলো আজ কেজি প্রতি ২৫ টাকায় পাইকারী বিক্রি করে এসেছি, এটাই ব্যবসায়ীরা ডাবল দামে, কখনো কখনো ডাবল থেকে বেশি দামেও বিক্রি করে। সবজি পাইকার আর বিক্রিতারা সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত দাম বাড়ায়।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমরজিৎ সিং বলেন, এই এলাকার কৃষকদের ঢেঁড়শসহ অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য আমরা নানাভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। উপজেলা কৃষি অফিস কৃষির উন্নয়নের জন্য প্রত্যেক কৃষকের পাশে আছে।

    শ্রীমঙ্গলের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোণ ইউনিয়নের কপালিপাড়া গ্রামটি কৃষির জন্য খুবই সমৃদ্ধ। এই গ্রামকে ঢেঁড়শ গ্রাম বলা হয়। এলাকার প্রায় ২শ বিঘা জমিতে ধানের পরিবর্তে কৃষকরা ঢেঁড়শ আবাদ করছেন। এতে করে কৃষকরা আর্থিকভাবে খুবই লাভবান হয়ে থাকেন। সব খরচ বাদে বিঘাপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ থাকে।

  • মহেশপুর সীমান্তে ছয়জন পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করলো বিজিবি

    মহেশপুর সীমান্তে ছয়জন পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করলো বিজিবি

    ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ছয়জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে ওই চেষ্টা প্রতিহত করেছে।

    শনিবার মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: রফিকুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এর আগে, সকাল আনুমানিক ৫টা ১০ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অধীন সামন্তা বিওপির সীমান্ত পিলার ৫৫/এমপি সংলগ্ন গেটে এ ঘটনা ঘটে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিপক্ষ ৫৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সিঙ্গামোড়া ক্যাম্পের সদস্যরা চারজন পুরুষ ও দুইজন মহিলাসহ মোট ছয়জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করে। ঘটনাটি সামন্তা বিওপির টহলদলের নজরে আসার সাথে সাথে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় অবস্থানের ফলে বিএসএফের পুশইনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, বর্তমানে ওই ছয়জন ব্যক্তি সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে বিএসএফকে অবহিত করা হয়েছে।

    মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: রফিকুল আলম জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল, নজরদারি ও অপারেশনাল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • জেন-জি আন্দোলনের মুখে ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

    জেন-জি আন্দোলনের মুখে ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

    ভারতে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ব্যাপক আন্দোলনের জেরে পদত্যাগ করেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    শনিবার তৃতীয় দফার বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি ।

    দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসের বেশি সময় ধরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

    পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এক্সে দেওয়া বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘দেশের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি ও ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। ভারতের নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের নেতৃত্বে দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

    পদত্যাগের খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলে উল্লাসে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত কয়েক দিনে ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়। দেশটির বিরোধী দলগুলোর সমর্থন আন্দোলনকে আরো জোরালো করে তোলে, যার ফলে সরকারকে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়।

  • ‘একবারে চোখ তুইল্লালবাম’—খেলাফতের এমপিকে বিএনপির কর্মীর হুমকি

    ‘একবারে চোখ তুইল্লালবাম’—খেলাফতের এমপিকে বিএনপির কর্মীর হুমকি

    ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য (এমপি) মুহাম্মদুল্লাহর চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি দিয়েছেন বিএনপির এক কর্মী। হুমকির একটি ভিডিও গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

    ভিডিওতে তারাকান্দা উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আটাদার গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে গালাগাল করতে এবং তাঁকে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির হুমকি দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি বিএনপির নেতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের নামও উল্লেখ করেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আন্দোলন করো এমপি সাব? ওই যে ওয়াহাবি এমপি সাব, রাজাকারের বাচ্চা। আজকে কইতাছে তারে বুলে পিটাইছে মোতাহার তালুকদারের লোকে। এই…মোতাহার তালুকদারের লোকে পিটাইলে তুই এলাকায় থাকতারবি? এলাকায় আন্দোলন করো? রাস্তায় না, আন্দোলন…দেয়াম। দেশটা ভালোভাবে চলতাছে, তোর সহ্য হয় না রাজাকারের বাচ্চা? এই সরকার খারাপভাবে চালাইতাছে দেশ?’

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। পরে মোতাহার হোসেনকে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

    ভিডিও বক্তব্য অনুযায়ী হুমকিদাতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের লোক। মোতাহার হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে কথা বললে আমার চোখ তুলে লাইবো। এটা নিয়ে আর বুঝার কিছু নাই।

    মুহাম্মদুল্লাহ, সংসদ সদস্য, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা)

    বিএনপির কর্মী সোহরাব হোসেনকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘দেশের মধ্যে কত সংকট, জ্বালানি তেলের অভাব, অন্য দেশে যুদ্ধ চলতেছে—এসব বাদ দিয়া তুই আন্দোলন করস। আর কোনো দিন যদি রাস্তায় নামছস, একটারেও ঘরে ফিরে যাইতে দিতাম না। তুই এমপির যোগ্য? তোরে এমপির মতো লাগে? রাজনীতি করতে সবকিছু মিলায়া যোগ্যতা লাগে। রমজান মাস আইলে টুপি পইরা দাওয়াত খাইছস, এখন এমপি হইয়া গেছস। ভোট চুরি কইরা নির্বাচন কইরা এখন আবার আন্দোলন মারাও? তোমারে কেউ কিছু করতে পারবো না?…দেখছস কী, একবারে চোখ তুইল্লালবাম…। আজকে লাস্ট কথা কইয়া দিলাম—আর কোনো দিন যদি লাইভে আইয়া তালুকদারের বিষয়ে কথা কইছস, তোর অবস্থা খারাপ কইরালবাম।’

    স্থানীয়রা জানান, সোহরাব হোসেন স্থানীয় বিএনপির কর্মী। তাঁর বাড়ি রামপুর ইউনিয়নের আটাদার গ্রামে। ভিডিও বার্তার বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোহরাব হোসেনের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

    এ ঘটনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তারাকান্দা উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন ফয়েজী আজ বেলা তিনটার দিকে কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেনছবি: প্রথম আলো

    হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ। তাঁরা এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি ও সংঘাত বাধানোর চেষ্টা করছেন। তবে এ ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে আতঙ্কিত নন বলেও জানান। তাঁর ভাষ্য, ‘জীবন-মৃত্যু আল্লাহর হাতে। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করে। উসকানি দিয়ে ঝগড়া লাগানোর চেষ্টা করছে। ভিডিও বক্তব্য অনুযায়ী হুমকিদাতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের লোক। মোতাহার হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে কথা বললে আমার চোখ তুলে লাইবো। এটা নিয়ে আর বুঝার কিছু নাই।’

    সংসদ সদস্যকে হুমকি বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের কোনো পদধারী নন; সর্বোচ্চ একজন সমর্থক হতে পারেন। বিষয়টি জানার পরই তিনি ভিডিওটি ডিলিট করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং এমন আচরণ বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে আমার ধারণা। আমি এ ধরনের আচরণ অ্যালাউ করি না। যে কেউ হতে পারে, আমার শত্রু হতে পারে—তার ব্যাপারে এমন কথা কেন বলবে? ভিডিও না মুছে ফেললে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে জানিয়ে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাশিদ বলেন, সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারীর (পিএস) সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ ঘটনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তারাকান্দা উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন ফয়েজী আজ শনিবার বেলা তিনটার দিকে কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য একজন উপপরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • কলকাতায় ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচ নিশ্চিতের পথে, আলোচনায় বাংলাদেশও!

    কলকাতায় ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচ নিশ্চিতের পথে, আলোচনায় বাংলাদেশও!

    ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক খবর। ভারতের মাটিতে প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর এই ম্যাচটির সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে উঠে আসছে কলকাতার নাম। ‘ইএসপিএন ব্রাজিল’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েই ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের (সিবিএফ) এবং ভারতীয় আয়োজকদের মধ্যে এই আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নামও!

    বিশ্বকাপে ভারতীয় সমর্থকদের অভূতপূর্ব উন্মাদনা দেখে মুগ্ধ হয় ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই সমর্থনের ছবিগুলোই মূলত ব্রাজিল দলকে ভারতে আসার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে। আসন্ন সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের শুরুর দিকে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে সেলেসাওদের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর টাউন্সভিল এবং ২৯শে সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে এই ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় ম্যাচটির জন্য ভারতকে বেছে নিতে আলোচনা চালাচ্ছে সিবিএফ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই ম্যাচের প্রতিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর ও কাতারে ম্যাচটি আয়োজনের আলোচনা ছিল। তবে এই মুহূর্তে শুধু ভারতের সঙ্গেই আলোচনা অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়েছে।
    সবকিছু চূড়ান্ত হলে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা আরও একবার চাক্ষুষ করবেন বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের। এর আগে ১৯৭৭ সালে মোহনবাগানের বিপক্ষে নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে ইডেন গার্ডেনসে খেলেন কিংবদন্তি পেলে। সেই ঐতিহ্যবাহী শহরেই এবার পা রাখতে পারে সেলেসাওরা।

    চলতি বিশ্বকাপটা অবশ্য ভালো কাটেনি ব্রাজিলের। শেষ ১৬তে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় কার্লো আনচেলোত্তির দলকে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও দলকে টিকিয়ে রাখতে পারেননি। ১৯৯০ সালের পর এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে দ্রুততম বিশ্বকাপ বিদায়।

    তবে বিশ্বকাপের ক্ষত ভুলে নতুন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। নতুন ‘সুপার ফিফা উইন্ডো’-র অধীনে এই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই আন্তর্জাতিক উইন্ডোটি ১৬ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। ফলে দলগুলো কয়েকটি প্রীতি বা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।

    বিশ্বকাপ চলাকালীন কলকাতার উত্তরপাড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন অলিগলি সেজে ওঠে নেইমার ও ভিনি জুনিয়রের ম্যুরালে। কলকাতার মানুষের এই ফুটবল উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, তবে কলকাতার সবুজ ঘাসে খুব শীঘ্রই দেখা মিলবে হলুদ জার্সির সাম্বা তারকাদের।

  • পাঠদানের অনুমোদন বাতিলের মুখে ৬২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

    পাঠদানের অনুমোদন বাতিলের মুখে ৬২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দির্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না করায় দেশের ৬২১টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। কেনো এসব প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত এবং পাঠদান পরিচালনার অনুমোদন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না তা আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে এসএসসি ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমে ৪৪৩ টি এবং দাখিল ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমে ১৭৮ টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে জানানো হয়েছে।

    বলা হয়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের যেসব প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ দিন যাবৎ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে না সে সকল প্রতিষ্ঠানকে আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল/প্রত্যাহার করা হবে না মর্মে গত ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য ওয়েব সাইটে নোটিশ প্রদান করা হয়। কিন্তু এই বিষয়ে কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলেও, বাকি প্রতিষ্ঠান অদ্যবধি কোনো প্রকার ব্যাখ্যা প্রদান করেননি।

    আরও বলা হয়, তালিকাভুক্ত যেসব প্রতিষ্ঠান অদ্যাবধি ব্যাখ্যা প্রদান করেননি তাদেরকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে উল্লিখিত বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

    কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৪ এর উপবিধি ৪.২, ৪.৪ এবং ৫.৪ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি, পাঠদানের অনুমতি প্রদানকালে আরোপিত এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্তাবলি পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহার করতে পারবে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা দেখুন এখানে…

  • মেসির অবসর নিয়ে নতুন তথ্য আর্জেন্টিনা ফুটবলারের

    মেসির অবসর নিয়ে নতুন তথ্য আর্জেন্টিনা ফুটবলারের

    আর্জেন্টিনা দলে লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দশ নম্বর জার্সিধারী।

    মেসির খুব কাছের মানুষদের একজন পারেদেস। এলএমটেনের জাতীয় দলে দীর্ঘদিনের সতীর্থ বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডার। পিএসজিতেও দুজন একসঙ্গে খেলেছেন। তাই পারেদেসের মুখ থেকে মেসির অবসর ভাবনার কথা উঠে আসায় তা বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।

    সাংবাদিকদের পারেদেস বলেন, ‘এটা কষ্ট দেয়, কারণ বিশ্বকাপজুড়েই আমরা বলেছিলাম, আমরা চাইনি মেসি শেষ ম্যাচটি আসুক। আমার মনে হয়, সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে জাতীয় দলের হয়ে সেটিই (বিশ্বকাপ ফাইনাল) ছিল তার শেষ ম্যাচ।’

    তবে পারেদেসের আশা, আপাতত অবসরের বিষয়টি একপাশে রেখে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন মেসি, ‘আশা করি, এমনটা হবে না। আশা করি, সে আরও খেলতে পারবে। সিদ্ধান্তটা তারই হবে। সে যা করলে খুশি থাকবে, সেটাই আমাদের জন্যও আনন্দের হবে।’

    মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিশ্চিত নন পারেদেস। আর্জেন্টিনার হয়ে সাম্প্রতিক সাফল্যের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে সময় প্রয়োজন বলে জানালেন তিনি, ‘আমি জানি না, এটা একটা প্রক্রিয়া। আমাদের বিষয়টি হজম করতে হবে, ভাবতে হবে। তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। অবশ্যই এ নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

    পারেদেস আরও যোগ করেন, ‘অনেকের জন্যই চালিয়ে যাওয়া বা না যাওয়ার সিদ্ধান্ত কঠিন হবে। এটা ছিল সুন্দর, অসাধারণ একটি প্রক্রিয়া। আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু অর্জন করেছি। এই পর্যায় ধরে রাখা এবং দলকে এভাবে কার্যকর রাখা কঠিন হবে। আমাদের অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হবে, কোচের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে এবং শান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

  • অনেক কেঁদেছিলাম: ভাবনা

    অনেক কেঁদেছিলাম: ভাবনা

    সম্প্রতি ওমরাহ পালন করে দেশে ফিরেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। যা তিনি নিজেই জানিয়েছেন সামাজিক মাধ্যমে। প্রকাশ করেছেন একাধিক ওমরাহ সফরের ছবিও। এবার ফেসবুকে জানালেন ওমরাহর পেছনের গল্প।

    গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক পোস্টে ভাবনা লিখেছেন, ‘আমাদের ওমরাহ করতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা হুট করে হয়। যদিও হুট করে বললে ঠিক হবে কি না। কারণ বাবা-মা সবসময় যেতে চাইতেন। আমিও যেতে চেয়েছি গত তিন বছরে, তবে সত্যি কথা হলো আমি সিদ্ধান্তে অটুট ছিলাম না। কারণ যাব ভেবেছি তারপর আর হয়নি। এবার ঈদের পর ব্যাংককে যাই। তারপর যেদিন ব্যাংককে আমার শেষ রাত পরদিন বাংলাদেশে চলে আসব। জুনের ৬ তারিখ। আমি রাতে অনেক কাঁদছিলাম আর দিয়াকে (আমার বান্ধবী) বলছিলাম আমি আল্লাহর ঘরে যেতে চাই, যত দ্রুত সম্ভব। আমার যেন কিছুতেই মন মানছিল না। মনে হচ্ছিল আমি অনেক কাঁদব আল্লাহর ঘরে গিয়ে। জুনের ২৫ তারিখ আমরা সবাই ওমরাহ করতে রওনা হই।’

    এরপর লিখেছেন, ‘আমি ফেসবুকে ততটুকুই বলি, যতটুকু বলতে চাই। এই কথাটা এজন্যই বললাম যে, আল্লাহ আমাকে তার ঘরে আসার সুযোগ দিয়েছেন। ৬ তারিখ রাত থেকে ২৫ তারিখ, কয়েকদিনের মধ্যেই আমি আল্লাহর মেহমান হতে পেরেছি।’

    নেটিজেনরা অভিনেত্রীর ওমরাহ’র ছবিগুলো দেখে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। যারা সমালোচনা করেছেন তাদের উদ্দেশে ভাবনা লিখেছেন, ‘আমার ওমরাহ নিয়ে আপনারা অনেক উত্তেজিত (সবাই না কিছু মানুষ)। আমার ওমরাহ হবে কি হবে না? আজেবাজে মন্তব্য করা, এটা নতুন কিছু নয়। আপনারা যারা বাজে মন্তব্য করেন তারা সংখ্যায় খুবই কম। তবে এতটুকু আপনারা নিশ্চিত জানেন, আল্লাহ যদি না চায় আপনি কি তার ঘরে যেতে পারবেন?’

    অভিনেত্রীর কথায়, ‘আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাকে অনেক ভালোবাসেন, আল্লাহ তার সব বান্দাদের ভালোবাসেন। জানি না আমার ওমরাহ কবুল হয়েছে কি না। আমি কিছু জানি না। তবে এতটুকু জানি আল্লাহ আছেন। আল্লাহ সব দেখেন। আমার মনে কি আছে, আমার নিয়ত কি আল্লাহ সব বোঝেন। আমি অন্য কাউকে প্রমাণ দেব না আমি কে? আমার আল্লাহ ছাড়া আমি আর কাউকেই কিছু প্রমাণ করতে চাই না।’

    সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘অনেকে বলতে পারেন, ফেসবুকে কেন ওমরাহর ছবি দিলাম। আমি মক্কা-মদিনায় প্রতিটি মুহূর্ত কী কী অনুভব করেছি তা আমি আপনাদের বলতে পারিনি। তবে যারা আমাকে ফলো করে, যারা পজিটিভ মানসিকতার মানুষ তারা আমার এই সময়টা আমাকে দোয়া দিয়েছেন। সে কারণে ছবি দিয়েছি, যাতে আমাকে দেখে আরও কেউ যদি অনুপ্রাণিত হয় সেখানেই আমার সার্থকতা হবে।’

  • অফিস করবেন বঙ্গভবনে, থাকবেন স্পিকারের বাসভবনে

    অফিস করবেন বঙ্গভবনে, থাকবেন স্পিকারের বাসভবনে

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তিনি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বঙ্গভবনে, তবে বসবাস করবেন জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবনে। আজ শনিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

    এরই মধ্যে সংসদ প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবন এবং আশপাশের এলাকায় রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকেই এ নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

    এর আগে গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    এদিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, আগামীকাল রোববার বেলা ১১টায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জিয়ারত করবেন।

  • স্বপ্ন যখন ‘কর্পোরেট কফিন’

    স্বপ্ন যখন ‘কর্পোরেট কফিন’

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মুন্সীপাড়া এলাকা। দিগন্তজোড়া সবুজ আর পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকার কথা ছিল যে উদ্যান, সেখানে আজ কেবলই শ্মশানের নীরবতা। তিন বিঘা জমিতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শত শত কঙ্কালসার মৃত পেয়ারা গাছ। দিনমজুর থেকে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর কৃষক আতাউল্লাহর ২০ লাখ টাকার স্বপ্ন এখন মাটির সাথে মিশে ছাই। আর এই সুপরিকল্পিত ধ্বংসলীলার নেপথ্যে উঠে এসেছে একটি বহুজাতিক কোম্পানির ‘হরমোন-সন্ত্রাস’ ও স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতা।


    গত ২০ শ্রাবণ। সেঞ্চুরি এ্যাগ্রো লিঃ-এর এরিয়া ম্যানেজার মেহেদী হোসেন অধিক ফলনের প্রলোভন দেখিয়ে আতাউল্লাহকে প্রলুব্ধ করেন তাদের প্যাকলোবিউট্রাজল উপাদান সমৃদ্ধ হরমোন ‘টনটন’ ব্যবহারে। অভিজ্ঞ কৃষক আতাউল্লাহ বারবার ডোজ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তাকে আশ্বস্ত করা হয়। যেখানে ১০ এমএল প্রয়োগই যথেষ্ট, সেখানে কোম্পানির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সরাসরি গাছের গোড়ায় ঢেলে দেওয়া হয় ৫০ এমএল বিষ। ফলশ্রুতিতে পহেলা আশ্বিন থেকেই শুরু হয় মড়ক। সতেজ গাছগুলো মুহূর্তেই রূপ নেয় একেকটি মৃত কাঠে।


    পেয়ারা বাগান ধ্বংসের পর শুরু হয় কোম্পানির নতুন নাটক। প্রথমে ‘গাছের বয়স’ আর পরে ‘ভাইরাস’- নানা অজুহাতে দায় এড়ানোর চেষ্টা চলে। তবে আতাউল্লাহর হাতে থাকা অডিও-ভিডিও রেকর্ড বলছে ভিন্ন কথা। এরিয়া ম্যানেজার মেহেদী হাসান স্বীকার করেছেন তাদের নির্দেশনার ভুল। কিন্তু ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মাত্র কয়েকশ চারা কিনে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তিনি, যা এক ‘নিষ্ঠুর রসিকতা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
    সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো : মিরপুর ও ভেড়ামারা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা সশরীরে বাগান পরিদর্শন করে অতিরিক্ত ডোজের প্রমাণ পেয়েছেন। তবুও অজানা কারণে রহস্যময় নীরবতা পালন করছে কৃষি বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে, কোম্পানির প্রভাবশালী মহলের সাথে মাঠ পর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার ‘গোপন আঁতাত’ রয়েছে। ফলে একজন কৃষকের ২০ লাখ টাকার সম্পদ ধ্বংস হওয়া সত্ত্বেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘সেঞ্চুরি এ্যাগ্রো’।
    কান্নাভেজা চোখে আতাউল্লাহর প্রশ্ন- ‘আমার সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ, ঋণের কিস্তিতে আমি দিশেহারা। কোম্পানি শিক্ষিত অফিসারদের কথায় বিশ্বাস করা কি আমার অপরাধ ছিল?’ আতাউল্লাহর এই দীর্ঘশ্বাস আজ কুষ্টিয়ার কৃষি খাতের এক বিরাট লজ্জা।


    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় আছেন। অথচ তার মাঠ কর্মকর্তারা সব জেনেও কেন এখনো নীরব, সেই প্রশ্ন এখন স্থানীয় সচেতন মহলের মুখে মুখে।
    সেঞ্চুরি এ্যাগ্রো লি.-এর ম্যানেজার (প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট) ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, পেয়ারা বাগান ক্ষতিগ্রস্তের কথা জানতে পেরে আমরা কোম্পানির রাজশাহীর দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কৃষিবিদ পাঠিয়েছিলাম। তিনি সরেজমিনে দেখেছেন, উপজেলা কৃষি অফিসারের সাথেও কথা বলে এসেছেন। সে সময় ওই কৃষকের সাথে কথা হয়েছিল, ওই প্রোডাক্ট দিয়ে কৃষি অফিস এবং কোম্পানি আলাদা আলাদাভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ট্রায়াল দেবে। যদি ডোজের কারণে এমনটা হয় তখন প্রোডাক্টের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের কোম্পানির একই প্রোডাক্ট সারাদেশে ব্যবহার হচ্ছে, কোথাও এ ধরনের অভিযোগ আসেনি। তিনি মনে করেন, এটা ডোজের জন্য হয়নি, বরং গাছের বয়স, পরিচর্যাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা দায়ী। তিনি এ বিষয়ে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে, আগে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের সাথে পরামর্শ করার অনুরোধ জানান।

  • সেমিকন্ডাক্টর হতে পারে অর্থনীতির সম্ভাবনাময় পরবর্তী চালিকা শক্তি: প্রধানমন্ত্রী

    সেমিকন্ডাক্টর হতে পারে অর্থনীতির সম্ভাবনাময় পরবর্তী চালিকা শক্তি: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সম্ভাবনাময় পরবর্তী প্রধান এই চালিকা শক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার ইতিমধ্যে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।’

    আজ শনিবার রাজধানীর নভোথিয়েটারে ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬ এর আয়োজন করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যা হবে স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর।

    সেমিকন্ডাক্টরকে চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা প্রযুক্তি, মুঠোফোন থেকে শুরু করে মহাকাশ প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের আকার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের জন্যও উল্লেখযোগ্য সুযোগ আছে। তাঁর বিশ্বাস, ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে নির্ধারিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

    সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশকে শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়, বরং একটি জাতীয় মিশন হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পমালিক, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    এ খাতকে ত্বরান্বিত করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর থেকে সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদান বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর বিতরণপ্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

    বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগ আকর্ষণে বন্ডেড সুবিধা এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান হাইটেক পার্কগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি নতুন একটি বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

    ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ ঢাকার নভোথিয়েটারেছবি: বাসস

    আন্তর্জাতিক বাজারের কঠিন প্রতিযোগিতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা রয়েছে। আমাদের মেধা, দক্ষ তারুণ্য এবং উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভর করেই আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করব। সরকার আপনাদের স্বপ্ন ও অদম্য ইচ্ছাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাধ্যের সবটুকু দিয়ে পাশে থাকবে।’

    প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন অংশীদারত্ব, গবেষণা উদ্যোগ এবং বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

    অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

    ‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’—প্রতিপাদ্যে দুই দিনের এ সামিটের আয়োজন করেছে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ।

    সামিটের পাশাপাশি আয়োজিত বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬-এ ৩৫টি স্টলে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য ডিপ-টেক উদ্ভাবন প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

  • ধামরাইয়ে ৩ খুন: এক খটকায় ঘোরে তদন্তের মোড়

    ধামরাইয়ে ৩ খুন: এক খটকায় ঘোরে তদন্তের মোড়

    এক বছর আগে ঢাকার ধামরাইয়ে নারগিস বেগম ও তাঁর দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর খাবারে বিষক্রিয়ার কথাই আসছিল। সেই কারণে মামলাটি হয়েছিল অপমৃত্যুর। কিন্তু একটি তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তার মনে লাগে খটকা। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জট খোলে এই হত্যাকাণ্ডের। এখন আসামি হয়ে বিচারের মুখোমুখি ওই নারীর জামাতা মো. রবিন।

    রবিন (২২) এখন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তিনি বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১৪ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপপরিদর্শক (এসআই) মনজুর রহমান ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। মামলাটি এখন বিচারের জন্য ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রয়েছে।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘরজামাই রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটের ব্যবসা দেখভাল করতেন। শাশুড়ির সেই ব্যবসাটি বিক্রি করে দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন তিনি।

    তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে এই মামলার কোনো ক্লু ছিল না। রবিন খুবই সুকৌশলে হ্যান্ডেল করছিলেন। মূলত একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পুরো রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়।

    যে তথ্যে খটকা

    ২০২৫ সালের ২ জুন দিবাগত রাতে ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে নিজেদের ঘর থেকে মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী নারগিস (৪২) এবং তাঁর দুই ছেলে মো. শামীম (১৭) ও সোলাইমানের (৮) লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নারগিসের মেয়ে নাসরিন আক্তার তখন জানিয়েছিলেন, ঘরের ভেতরে বিছানার ওপর কাঁথা জড়ানো অবস্থায় পড়ে ছিল তাঁর মা ও ভাইদের মরদেহ। নারগিসের পরিবার থেকে তখন ধারণা দেওয়া হয়েছিল, খাবারে বিষক্রিয়া এই মৃত্যুর কারণ।

    আবার এই অভিযোগ তোলা হয়েছিল, সম্পত্তির বিরোধ থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন খাবারে বিষ মিশিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নাসরিনের স্বামী রবিনও তখন এই দাবি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, রাতে ডিম-ভাত কিংবা জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে তিনজনকে মারা হয়েছে।

    পুলিশ খাবারে বিষক্রিয়ার সন্দেহে সেদিন অপমৃত্যুর মামলা নিয়েছিল। দুই দিন পর ৪ জুন মামলার তদন্তভার নেন ঢাকা জেলা পিবিআই কর্মকর্তা মনজুর রহমান।

    ২০২৫ সালের ২ জুন ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় নারগিস বেগম ও তাঁর দুই ছেলের মরদেহ। তখন খাবারে বিষক্রিয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে তদন্তে উদ্‌ঘাটিত হয়, শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল তিনজনকে।

    তদন্ত শুরু করে বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মনজুর রহমান জানতে পারেন, সেদিন রবিন ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানও নারগিসের বাড়িতেই রাতের খাবার খেয়েছিলেন। তখন তাঁর মনে প্রশ্ন আসে, একই খাবার খেয়ে কেউ মারা গেলেন, আবার কেউ বেঁচে থাকলেন কীভাবে?

    মনজুর রহমান বলেন, ‘শুরু থেকেই বিষক্রিয়ার তত্ত্ব বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। মোবাইল ফোনের অবস্থান, ঘটনাস্থলের আলামত, জব্দ করা মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর রবিনকে সন্দেহের তালিকায় আনা হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।’

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, সন্ধ্যা রাতে খাওয়াদাওয়ার পর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন রবিন। কিন্তু তাঁর মুঠোফোনের অবস্থান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এরপর রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের আবার শ্বশুরবাড়িতে যান তিনি।

    তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে শ্বশুরবাড়ি ছাড়ার পর গভীর রাতে রবিনের আবার ঘটনাস্থলে উপস্থিতির তথ্যই তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে ওঠে।

    শুরুতে এই মামলার কোনো ক্লু ছিল না। রবিন খুবই সুকৌশলে হ্যান্ডেল করছিলেন। মূলত একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পুরো রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়।

    মনজুর রহমান, উপপরিদর্শক, পিবিআই

    ক্ষোভ থেকে হত্যা

    রবিন ছিলেন ঘরজামাই। শ্বশুর রাজা মিয়া মারা যাওয়ার পর পরিবারের ডেকোরেটর ব্যবসা তিনি দেখাশোনা করতেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রবিন কোনো হিসাব শাশুড়িকে দিতেন না। তাই শাশুড়ি তাঁকে না জানিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ব্যবসাটি বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় রবিন খুব ক্ষুব্ধ হন এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে চলে যান এবং দীর্ঘদিন যোগাযোগ রাখেননি। বেশ কিছুদিন পরই সেদিন শাশুড়ির দাওয়াতে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন রবিন।

    ঢাকার ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে ২০২৫ সালের ৩ জুন ঘরের ভেতর থেকে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর ভিড় জমিয়েছিল গ্রামের মানুষ

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, সেদিন ব্যবসা বিক্রির টাকা নিয়ে রবিনের স্ত্রী নাসরিনের সঙ্গে তাঁর মায়ের কথা–কাটাকাটি হয়। এই ঘটনায় শাশুড়ির ওপর রবিনের ক্ষোভ আরও বাড়ে। রাতে খেয়ে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও মধ্যরাতে আবার শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রবিন বলেন, তখনই তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মাঝেমধ্যে ব্যবসা নিয়ে তাঁর সঙ্গে বড় শ্যালক শামীমের ঝগড়া হতো। তাই শ্বশুরবাড়ির সবার ওপরই তাঁর ক্ষোভ ছিল।

    মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘরজামাই রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটর ব্যবসা দেখাশোনা করছিলেন। তা নিয়ে বিরোধ থেকে একপর্যায়ে শাশুড়ি ব্যবসা বিক্রি করে দেন। তার প্রতিশোধ নিতেই শাশুড়ি ও শ্যালকদের হত্যা করেন রবিন।

    জবানবন্দিতে হত্যার বর্ণনা

    স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রবিন বলেন, গভীর রাতে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রথমে বড় শ্যালক শামীমের মুখে বালিশ চেপে ধরে তাঁকে হত্যা করেন তিনি। পরে একই কায়দায় শাশুড়ি নারগিস ও সোলাইমানকে হত্যা করেন। এরপর তিনজনের মরদেহ একই খাটে কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখেন, যাতে কারও দেখে মনে হয় যেন তাঁরা ঘুমিয়ে আছেন। তিনজনকে হত্যার পর ভোর চারটার দিকে তিনি বেরিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে যান।

    রবিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি বালিশ ও মুঠোফোন উদ্ধারের কথা জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

    রবিনের গ্রাম থেকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব বেশি নয়; মাঝে দুটি গ্রাম। তাই সহজেই তাঁর যাতায়াত করার সুযোগ ছিল।

    লাশ উদ্ধারের পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন রবিন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিজেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিষক্রিয়ার গল্প বলতে থাকেন। শ্বশুরের সৎভাইকেও দোষারোপ করেন।

    তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উদ্দেশ্য ছিল তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং নিজেকে সন্দেহের বাইরে রাখা।

    আমি ওই খুনির ফাঁসি চাই। আমার বোন ওই খুনিরে খুব ভালোবাসত। কিন্তু ওই (রবিন) আমার বোন-ভাগনেরে খুন করে ফেলল।

    আবদুর রশীদ, মামলার বাদী

    স্ত্রী এখনো সন্দিহান

    স্বামী রবিনই মা-ভাইদের হত্যা করেছেন কি না, তা নিয়ে এখনো সন্দিহান নাসরিন আক্তার।

    নাসরিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘রবিন মেরেছে কি না, আমি জানি না। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছি। সে আমাকে বলেছে যে সে আমার মা ও ভাইকে মারেনি। রবিন মেরেছে, এটা আমার বিশ্বাস হয় না। সে (রবিন) বলেছে, পুলিশের ভয়ে সে জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে।’

    তবে ব্যবসা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে মা ও ভাইয়ের দ্বন্দ্ব ছিল বলে স্বীকার করেন নাসরিন। তিনি বলেন, এ কারণেই তাঁর মা ডেকোরেটরের ব্যবসা বন্ধ করে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

    নাসরিনের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান বলেন, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে করেছিলেন নাসরিন ও রবিন। নাসরিন শুরু থেকেই রবিনকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। তবে তদন্ত ভিন্ন তথ্যই দিচ্ছে।

    মামলাটি করেছিলেন নিহত নারগিসের ভাই আবদুর রশীদ। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ওই খুনির ফাঁসি চাই। আমার বোন ওই খুনিরে খুব ভালোবাসত। কিন্তু ওই (রবিন) আমার বোন-ভাগনেরে খুন করে ফেলল।’

    এই মামলার একজন সাক্ষী শাহিনুর রহমান দোষীর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ‘একসঙ্গে একই পরিবারের তিনজন খুন হওয়ার ঘটনা এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে পড়ে সেই সময়। দোষীর শাস্তি হওয়া দরকার।’

    তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান বলেন, ১৪ জনের সাক্ষ্য এবং তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১৪ জানুয়ারি তিনি আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে রবিনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

  • ভৈরবে বৃদ্ধাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    ভৈরবে বৃদ্ধাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    কিশোরগঞ্জের ভৈরবে লিলি বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী স্বামী-স্ত্রীর উপর। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে ভৈরব থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

    এর আগে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া (গাইনহাটি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত লিলি বেগম জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া গাইনহাটি এলাকার মরহুম সুরুত আলীর স্ত্রী ও হাজী ধন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া।

    অভিযুক্তরা একই এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৫) ও তার স্ত্রী লিমা বেগম (৩০)। জাহাঙ্গীর মিয়া ওই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর জাহাঙ্গীর ও তার পরিবার বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে।

    থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির উঠান ঝাড়ু দিচ্ছিলেন ষাটোর্ধ্ব নারী লিলি বেগম। এ সময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মিয়ার ১০ বছর বয়সী ছেলে আলিফ সাইকেল চালাচ্ছিল। এ সময় আলিফ লিলি বেগমের শরীরে সাইকেল লাগিয়ে দিলে বিষয়টি নিয়ে আলিফের পরিবারের সাথে বাগ্বিতণ্ডা হয় লিলি বেগমের। একপর্যায়ে লিলি বেগমকে মারধর করে জাহাঙ্গীর মিয়া ও তার স্ত্রী লিমা বেগম।

    মারধরে বাঁশের একাধিক আঘাতে ও ইটের আঘাতে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন লিলি বেগম। স্থানীয়রা লিলি বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    প্রতিবেশীরা বলেন, লিলি বেগম ও তার সন্তানরা এলাকার নিরীহ মানুষ। জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলের সাইকেল চালনোর ঘটনায় তর্ক-বিতর্কের মধ্যে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে ও ইট দিয়ে আঘাত করে লিলি বেগমকে হত্যা করেছে জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী। আমরা প্রতিবেশীরা চাই, জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারকে খুঁজে বের করে বিচার করা হোক।

    তারা আরো বলেন, লিলি বেগমের স্বামী মারা গেছে তিন সন্তান রেখে। মেয়ে দুইটার বিয়ের বয়স হয়েছে। একমাত্র ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী। লিলি বেগম মানুষের বাড়িতে কাজ করে তাদের সংসার চালাতো।

    এ বিষয়ে নিহতের মেয়ে সৌরভি বলেন, আমার মা আমাদের লালন পালন করতেন। আমাদের এখন কী হবে। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। জাহাঙ্গীর আমাদের এতিম করে দিয়েছে।

    এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিমন বোস বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কাজ, স্পিকারের বাসভবনেই থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

    বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কাজ, স্পিকারের বাসভবনেই থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে তিনি বসবাস করবেন জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই।

    শনিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান।

    এদিকে, সংসদ প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবন এবং এর আশপাশের এলাকায় রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুক্রবার বিকাল থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত শুক্রবার স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির কর্মসূচি সম্পর্কে শায়রুল কবির খান জানান, আগামীকাল রোববার সকাল ১১টায় হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জিয়ারত করবেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নবনিযুক্ত নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নবনিযুক্ত নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নবনিযুক্ত বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।

    আজ শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌবাহিনীর পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নৌবাহিনীর ভূমিকা এবং বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন।

    একই সঙ্গে তিনি নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব পালনে সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

  • জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে: মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

    জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে: মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

    জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। রাজধানীতে আয়োজিত এক আর্ট প্রতিযোগিতায় তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে—অন্যথায় সরকারকে এর চড়া মূল্য দিতে হবে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর উত্তরার আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন কমিটি, উত্তরা আয়োজিত জুলাই শহীদদের স্মরণে ‘তুলিতে জুলাই’ শীর্ষক আর্ট প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও জুলাই উদযাপন কমিটি, উত্তরার আহ্বায়ক রোকেয়া বেগম এমপির সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, জামাল উদ্দিন, ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, ইব্রাহিম খলিল, মাজহারুল ইসলাম, আবু বকর সিদ্দিক, গাজী মনির হোসাইন, ইসরাফিল হোসেন, সুরুজ্জামান, জাকির হোসাইন, তাহমিদ হুজাইফা, তালহা জোবায়ের সজিব ও ইমরান হোসাইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের প্রতীক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক ব্যর্থতা, সদিচ্ছার অভাব এবং ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণের কারণে সেই অর্জন আজ ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও বলেন, জুলাইকে কোনোভাবেই ভূলুণ্ঠিত হতে দেওয়া যাবে না। এটি ব্যর্থ হলে দেশ ও জাতিসত্তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

    সরকারের উদ্দেশে সেলিম উদ্দিন বলেন, নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করে ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চায় ফিরে আসা প্রয়োজন। অন্যথায় ইতিহাস সরকারকে ক্ষমা করবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংবিধানের ব্যাখ্যা দিয়ে সনদ বাস্তবায়ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তার দাবি, এ ধরনের অবস্থান পরিহার করে অবিলম্বে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা উচিত।

  • জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস।

    শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাজধানীর পুরানা পল্টনে মজলিস কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকবে। তবে ভবিষ্যতে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন হলে বিষয়টি তারা বিবেচনা করবে।

    বৈঠক শেষে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘১১ দলীয় ঐক্য ছিলো মূলত নির্বাচনী সমঝোতা। নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ায় এ ঐক্যের কার্যকারিতা বস্তুত শেষ হয়ে যায়। তবুও নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ১১ দলীয় কিছু কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নেয়। এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের জন্য প্রয়োজন হলে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়াস-প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

    এর আগে, গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশের পর খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে জোটকে জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে কোনো সমাবেশের ব্যানার বা প্রচারণায় যেন দলের নাম কিংবা নেতাদের নাম ব্যবহার না করা হয়। পরে রংপুরের একটি সমাবেশে নাম ব্যবহার করা হলে আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে জোটের কোনো কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিসের নাম ব্যবহার করা হয়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    সম্প্রতি কওমি ঘরানার ইসলামি দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে কওমি ধারার কয়েকটি ইসলামি দলের নেতাদের বৈঠকের পর থেকেই ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে খেলাফত আন্দোলন ঘোষণা দিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য ত্যাগ করেছে। এবার খেলাফত মজলিসও সে পথেই হাঁটল। তবে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এখনো জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই ঐক্যে বহাল আছে।

  • জেন-জি আন্দোলনের মুখে ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

    জেন-জি আন্দোলনের মুখে ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

    ভারতে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ব্যাপক আন্দোলনের জেরে পদত্যাগ করেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    শনিবার তৃতীয় দফার বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি ।

    দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসের বেশি সময় ধরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

    শনিবার সকালে ককরোচ জনতা পার্টি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণে সরকার রাজি না হলে কোনো আলোচনায় তারা অংশ নেবে না।

    আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো ছিল—

    • শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

    • আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া।

    • নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ।

    এর আগে শুক্রবার কেন্দ্র সরকার শেষের দুটি দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো অবস্থান জানায়নি।

    পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এক্সে দেওয়া বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘দেশের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি ও ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। ভারতের নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের নেতৃত্বে দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

    পদত্যাগের খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলে উল্লাসে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা।নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত কয়েক দিনে ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়। দেশটির বিরোধী দলগুলোর সমর্থন আন্দোলনকে আরো জোরালো করে তোলে, যার ফলে সরকারকে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়।

  • রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে ‘স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেছে’: জামায়াত আমির

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে ‘স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেছে’: জামায়াত আমির

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেরিতে হলেও জাতির ওপর থেকে স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    এসময় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে অভিনন্দন জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    একইসঙ্গে তিনি নিরপেক্ষতা, সততা ও সংবিধানসম্মতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি ছিল, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু রাষ্ট্রপতির পদে থাকবেন না। তিনি একসময় স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরে সেই বক্তব্য অস্বীকার করে মিথ্যাচার করেছেন, যা রাষ্ট্রপতি হিসেবে নেয়া শপথের লঙ্ঘন। দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ছায়া সরে গেল।

    তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এ দায়িত্ব পালনে জামায়াতে ইসলামী তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আমরা চাই, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি এমন কেউ হোন, যিনি কোনো তোষামোদকারী নন।

    এসময় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণহত্যায় তিনি নীরব সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছেন।

  • উজিরপুরে বাসে পিষ্টে অটোর চালক নিহত

    উজিরপুরে বাসে পিষ্টে অটোর চালক নিহত

    বরিশালের উজিরপুরে বেপরোয়া গতির বিএমএফ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দ্বিখণ্ডিত হয়ে মোসারফ বালি (৬১) নামে এক রিকশাচালক নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের জয়শ্রী এলাকার সাজু পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিকশাচালক মোসারফ বালি উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের বাসিন্দা।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় মহাসড়ক দিয়ে অটোরিকশা চালিয়ে যাচ্ছিলেন মোসারফ বালি। এ সময় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী বিএমএফ পরিবহনের একটি বাস বেপরোয়া গতিতে এসে রিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশাটি দুই দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। এবং বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন রিকশাচালক মোসারফ।

    গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মহসীন হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে।

  • মাদারগঞ্জে নাস্তা খেয়ে একই পরিবারের ৫ জন অচেতন

    মাদারগঞ্জে নাস্তা খেয়ে একই পরিবারের ৫ জন অচেতন

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে সকালের নাস্তা খেয়ে এক প্রবাসীর পরিবারের পাঁচ সদস্য অচেতন হয়ে পড়েছেন। অচেতন ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের চরনাংলা গ্রামের প্রবাসী শাহ আলমের স্ত্রী রিনা আক্তার (৪০), ছেলে রিপন ইসলাম (২৩) ও রিমন (১৭), মেয়ে সাথী আক্তার এবং তিন বছরের নাতনি হুমাইরা।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টার দিকে তাদের সবাইকে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাঁধের মাথা বাজারে প্রবাসী শাহ আলমের বড় ছেলে রিপন ইসলামের একটি দোকান রয়েছে। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও দোকান খোলার কথা থাকলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকান বন্ধ দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হয়। পরে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা শাহ আলমের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। রাত ৯টার দিকে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

    পরে জ্ঞান ফিরলে রিনা আক্তার বলেন, সকালে খাবার ও টিউবওয়েলের পানি পানের পর থেকেই সবার মাথা ব্যথাসহ গভীর ঘুম আসে। এরপর কী হয়েছিল বলতে পারি না।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ডা: জাকিয়া জানান, বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবার বা পানির সাথে চেতনানাশক কিছু মেশানো ছিল।

    এ,আর

  • জোরপূর্বক শ্রম – বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক

    জোরপূর্বক শ্রম – বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক

    বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর করছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত জোরপূর্বক শ্রম রোধে ব্যর্থতার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    কয়েকটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ এবং বাকিগুলোর ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাজ্য, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশও রয়েছে তালিকায়।

    চলতি বছরের শুরুতে অস্থায়ীভাবে আরোপ করা ১০ শতাংশ করের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন, অর্থাৎ শুক্রবার থেকেই এই শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর ক্ষমতায় আসার পর বিশ্ব বাণিজ্যে যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, এটি তারই সবশেষ সংযোজন।

    চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, জরুরি ক্ষমতার আওতায় ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে যে শুল্ক আরোপ করেছিল, তার আইনি বৈধতা ছিল না।

    এরপর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার প্রধান বাণিজ্য নীতি বাস্তবায়নের জন্য অন্যান্য আইনি পথ খুঁজতে শুরু করেন। গত মাসেই হোয়াইট হাউস ডজনখানেক দেশ থেকে মার্কিন উপকূলে পৌঁছানো পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের একটি ধারাবাহিক প্রস্তাব দিয়েছিল।

    কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল যে, দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রম মোকাবিলায় পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বৃহস্পতিবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার, ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী জানান যে এই শুল্কগুলো এখন থেকে কার্যকর হবে।

    তার এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আজকের এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বাণিজ্য বিকৃতির মতো বিষয়গুলোর সংশোধন শুরু করবে, যা সব সময় শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।”

    গ্রিয়ার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১ প্রয়োগ করেছেন, যা মার্কিন বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত বা ক্ষুণ্ণ করে এমন অনুশীলনের বিরুদ্ধে মার্কিন বাণিজ্য ব্যবস্থাপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে।

    এর আগে চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে ১৯৩০ সালের শুল্ক আইনের সেকশন ৩৩৮ বিধানের আশ্রয় নিয়েছিল।

    বৃহস্পতিবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় জানায় যে, বাণিজ্য অংশীদাররা “জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ” হওয়ার কারণে এই নতুন শুল্কগুলো আরোপ করা হচ্ছে।

    এতে আরও বলা হয়, নতুন এই শুল্কগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর প্রযোজ্য হবে, যা মার্কিন আমদানির ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পূর্ণ করে।

    কার্যালয়টি জানিয়েছে যে, ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে অন্যান্য দেশের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ অংশ হিসেবে জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞাকে বাধ্যতামূলক করেছেন।

    যেসব বাণিজ্য অংশীদার দেশ জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে “অঙ্গীকার করেছে এবং কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়ন করেছে”, তাদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

    আর যারা তা করেনি, তাদের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ উচ্চ হার প্রযোজ্য হবে, জানিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়।

    ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় যেসব দেশ পড়েছে তার মধ্যে আছে- আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং যুক্তরাজ্য।

    কমপ ১০ শতাংশ, যদি তারা: (i) জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে; (ii) পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেয়; অথবা (iii) এমন একটি আংশিক ব্যবস্থা চালু করে যা নির্দিষ্ট কিছু জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি প্রতিরোধের প্রভাব ফেলে।

    যেসব পণ্য অন্য কোনো ছাড়ের আওতায় পড়ে না, সেসব ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, কোরিয়া এবং সুইজারল্যান্ডের নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের জন্য সেকশন ৩০১ শুল্কের উপযুক্ত হার হবে সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের (এমএফএন) হারের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ অথবা ১২.৫ শতাংশ, যার আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য সব তদন্তভুক্ত অর্থনীতির জন্য ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে।

    গ্রিয়ার তার বিবৃতিতে বলেন, যেসব বাণিজ্য অংশীদার জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত দ্রুত গ্রহণ করেছে, তাদের দেখে তিনি “উৎসাহিত বোধ করছেন” এবং তাদের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি দেখতে অপেক্ষা করছেন।

    ট্রাম্পের বিশেষ নীতি

    ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তি দিয়ে আসছেন যে, শুল্ক মার্কিন শ্রমিকদের সুরক্ষা দেয়, উৎপাদন খাতে আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে।

    গত বছর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর, বৈশ্বিক বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন যে, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের দ্বারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুগের পর যুগ ধরে যে অন্যায় আচরণের শিকার হয়েছে, তা মোকাবিলা করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয় এবং জানায় যে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন না নিয়েই তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। ওই সময় কোম্পানিগুলোকে শুল্ক বাবদ পরিশোধ করা কয়েক হাজার কোটি ডলার ফেরতও দেওয়া হয়েছিল।

    তবে, তখন থেকেই আমদানি শুল্ক আরোপের বিকল্প উপায়গুলো খতিয়ে দেখতে শুরু করে হোয়াইট হাউস। যার মধ্যে একটি অস্থায়ী সমাধান হিসেবে এই ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    এদিকে, ব্রাজিল ও কানাডার মতো দেশগুলোর ওপরও বিভিন্ন ধরনের একগুচ্ছ শুল্ক আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি বর্তমানে স্থগিত থাকলেও পাল্টাপাল্টি শুল্ক যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনও।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন যে, উচ্চ শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কফি এবং মাইক্রোওয়েভের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।

    যেহেতু আমদানিকারক কোম্পানিগুলোকেই কর পরিশোধ করতে হয়, তাই সেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই উচ্চমূল্যের মাধ্যমে ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপিয়ে দেয়।

    শ্রম বিধিমালার মতো বাণিজ্যবহির্ভূত বিষয়ের মাধ্যমে মেক্সিকোর মতো অন্যান্য দেশের ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে এই শুল্কগুলো ব্যবহার করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

    এর জবাবে অনেক বাণিজ্য অংশীদার দেশ ইতোমধ্যে সম্ভাব্য আইনি লড়াই অথবা পাল্টা শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

    মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি বর্তমানে ১৬টি দেশের ওপর তদন্ত পরিচালনা করছেন- যা মার্কিন আমদানির সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে- এবং এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে উৎপাদন সক্ষমতা অতিরিক্ত বাড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে, যা চলতি বছরের শেষের দিকে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পথ প্রশস্ত করতে পারে।

    অন্য দেশগুলো কী বলেছে?

    ব্রাজিলসহ কয়েকটি দেশ এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

    ব্রাজিলের সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘অন্যায্য’ এবং ‘খামখেয়ালিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে নিজেদের সুরক্ষাবাদী বাণিজ্য নীতির সমর্থনে ব্যবহার করার জন্য ওয়াশিংটন বেছে নিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ১২.৫ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়া ব্রাজিল আরও জানিয়েছে, তারা তাদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে এবং পণ্য বিক্রির জন্য অন্যান্য বাজারও বিবেচনা করবে।

    এর আগে এ মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিল থেকে আমদানি করা আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, চিনি এবং অন্যান্য পণ্যের ওপর পৃথকভাবে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। তবে গরুর মাংস ও কফিসহ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে অব্যাহতি বহাল রাখা হয়।

    জাপান সরকার শুক্রবার জানিয়েছে, নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপের ঘটনায় তারা “দুঃখ প্রকাশ” করছে। তাদের বক্তব্য, জাপানের বাণিজ্য আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পরিচালিত হয়।

    অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফ্যারেল বলেছেন, এই শুল্ক আরোপ “সম্পূর্ণভাবে অন্যায্য”। তিনি আরও বলেন, তার দেশের পণ্যের ওপর আরোপিত সব শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য তিনি ওয়াশিংটনের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবেন।

    চীন এর আগেও বলেছে যে তারা যেকোনো ধরনের একতরফা শুল্ক আরোপের বিরোধী। একই সঙ্গে দেশটি জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগও অস্বীকার করেছে।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, “চীনে তথাকথিত কোনো জোরপূর্বক শ্রম নেই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রভাব খাটানোর অজুহাত হিসেবে এ বিষয়টি ব্যবহার করার আমরা বিরোধিতা করি।” তবে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন বলেছে, চীনে জোরপূর্বক শ্রমের অস্তিত্ব রয়েছে, বিশেষ করে শিনজিয়াং অঞ্চলের মুসলিম জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে।

  • কুষ্টিয়ায় বাঁশের মাচা থেকে চা বিক্রেতার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ায় বাঁশের মাচা থেকে চা বিক্রেতার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ এলাকায় বাঁশের মাচা থেকে সামিরুল শাহ (৬০) নামে এক চা বিক্রেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীর ও মুখে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত সামিরুল শাহ উপজেলার তেকালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত বিশারদ শাহের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চা বিক্রির পাশাপাশি ধর্মদহ এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ব্যাংগাড়ি-ধর্মদহ সড়কের পাশে একটি মাঠের বাঁশের মাচার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে তেকালা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • আলমডাঙ্গায় কৃষকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার

    আলমডাঙ্গায় কৃষকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার একটি মাঠ থেকে হাসেম আলী (৫৫) নামে এক কৃষকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সার দিতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তার লাশ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হারদী ইউনিয়নের উসমানপুর বিশ্বাসপাড়া এলাকার কাটাখালী মাঠ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত হাসেম আলী উসমানপুর বিশ্বাসপাড়ার মৃত রস্তম মণ্ডলের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে কৃষিজমিতে সার দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন হাসেম আলী। রাতে তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

    শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা কাটাখালী মাঠে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • টানা বর্ষণে সবজির সরবরাহ কম, দাম বৃদ্ধি

    টানা বর্ষণে সবজির সরবরাহ কম, দাম বৃদ্ধি

    টানা বর্ষণের কারণে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই এর প্রভাব পড়েছে।

    উপজেলার ইটাখোলা হাট, বটতলী হাট ও থানা বাজার মনজার বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে কিছুটা দাম বাড়লেও খুচরা বাজারে আরও বেশি দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে আলু, পটল, বেগুন, কাঁকরোল, করলা, ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন সবজির দাম বেড়েছে।শুক্রবার ইটাখোলা বাজারে প্রতি কেজি আলু ২৫-৩৫ টাকা, বেগুন ১০০-১২০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০টাকা করলা ৮০-১০০ টাকা, কচুরলতি/কচুর বই ৬০-৭০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২০০-২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রতি পিস লাউ ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    সবজি বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় সবজি সংগ্রহে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি ফলনও কমেছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে।

    অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, একই বাজারে একই ধরনের সবজির দামে ভিন্নতা রয়েছে। কেউ স্বাভাবিক দামে বিক্রি করলেও কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।

    বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বৃষ্টি কমে মাঠ থেকে স্বাভাবিকভাবে সবজি উত্তোলন ও বাজারে সরবরাহ শুরু হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সবজির দাম কমে আসবে।

  • এ কেমন শত্রুতা?

    এ কেমন শত্রুতা?

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় শত্রুতার জেরে একটি আমবাগানের ২৯৬টি আমগাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নন্দনপুর গ্রামের মাজেদুর রহমানের মালিকানাধীন একটি আমবাগানের ২৯৬টি আমগাছ রাতের আঁধারে কে বা কারা কেটে ফেলে। সকালে বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করে।

    নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান জানান, শুক্রবার সকালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, “নন্দনপুর গ্রামের মাজেদুর রহমানের একটি আমবাগানের ২৯৬টি আমগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। রাতের আঁধারে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শত্রুতাবশত এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

    তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • মিরসরাইয়ে তক্ষকসহ ২ পাচারকারী আটক

    মিরসরাইয়ে তক্ষকসহ ২ পাচারকারী আটক

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তক্ষকসহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৩টার দিকে উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। পরে শুক্রবার (২৪ জুলাই) তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

    আটকরা হলেন- খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার গুচ্ছবিল এলাকার মরহুম আলাল হোসেনের ছেলে মো: মামুন হোসেন প্রকাশ ইমন (৩৭) ও একই উপজেলার গবমারা এলাকার পরলোকগত আচই মারমার ছেলে ঞোলাপ্রু মারমা (২৭)।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বারইয়ারহাট পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড থেকে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে ও চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগ ধুমঘাট বন শুল্ক ও পরীক্ষণ ফাঁড়ি, করেরহাট রেঞ্জের সহযোগী স্টেশন কর্মকর্তা কামাল হোসেনের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এসময় তাদের সাথে থাকা ব্যাগে তল্লাশি করে দু‘টি জীবিত তক্ষক উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর বাজারমূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।

    জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুল হালিম বলেন, ‘আটকদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শুক্রবার তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

  • সোনার দাম ভরিতে কমল ৩,৩২৪ টাকা

    সোনার দাম ভরিতে কমল ৩,৩২৪ টাকা

    দুই দিনের ব্যবধানে সোনার দাম ভরিতে কমল সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৪ টাকা। একই সঙ্গে রুপার দামও কমেছে সামান্য। নতুন দাম আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় কার্যকর হয়েছে।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে দাম কমলেও বরাবরের মতো সোনার দাম সমন্বয়ের কারণ হিসেবে সমিতি বলেছে, দেশের বাজারে তেজাবি (খাঁটি) সোনার দাম কমেছে। সর্বশেষ গত বুধবার সোনার দাম বেড়েছিল ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা।

    চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সেদিন সকালে একলাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। তবে বর্তমানে সেই দামের তুলনায় ৬৫ হাজার টাকা কম সোনার দাম।

    নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।

    গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের ভরি ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা। তার মানে আজ ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনায় কমেছে ২ হাজার ২১৬ টাকা।

    সোনার দামের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় সোনার গয়নার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদা করে ভ্যাট আদায় করবে না জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান। চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রতি ভরি সোনার গয়নার ওপর ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। তার আগে ভ্যাট ছিল গয়নার মোট দামের ওপর ৫ শতাংশ।

    গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের তথ্যানুসারে, বিশ্ববাজারে স্পটমার্কেটে সোনার দাম আজ কিছুটা কমেছে। আজ দুপুর পৌনে ১২টায় প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ২৪ ডলার, যা গতকালের চেয়ে দশমিক ৫৫ শতাংশ কম।

    এদিকে সোনার পাশাপাশি রুপার দামও কিছুটা কমেছে। আজকে ২২ ক্যারেট রুপার দাম ভরিতে ১৭৫ টাকা কমে হয়েছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। অন্যদিকে ২১ ক্যারেট রুপার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।

  • ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার

    ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার

    ফেনীর পরশুরামে একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারহানা আক্তার প্রিয়া (১৬) নামে এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা গেট-সংলগ্ন কাদের টাওয়ারের তৃতীয়তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত প্রিয়া নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট এলাকার সাইফুল ইসলাম ও ফারজানা আক্তারের মেয়ে। পারিবারিক সমস্যার কারণে প্রায় তিন বছর আগে পরশুরামে একটি স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জাহেদা আক্তার তিমুর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে শুরু করে প্রিয়া।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান জাহেদা আক্তার তিমু। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি ও দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেও সাড়া না পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় প্রিয়ার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি ধাতব ‘লাভ’ আকৃতির বস্তু এবং ডায়েরির একটি পাতায় ইংরেজি অক্ষরে ‘কে+পি’ লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আলামতের সাথে মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

    গৃহকর্ত্রী জাহেদা আক্তার তিমু বলেন, সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে প্রিয়াকে ভাত রান্না করে খেয়ে নিতে বলেছিলাম। তাকে আমি নিজের পরিবারের সদস্যের মতোই দেখতাম।

    পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। এটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা প্ররোচনা রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ৮০০ কোটি টাকায় জমি ও বহুতল ভবন কিনবে পূবালী ব্যাংক

    ৮০০ কোটি টাকায় জমি ও বহুতল ভবন কিনবে পূবালী ব্যাংক

    ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    তথ্যানুযায়ী, ব্যাংকটি ৯৫ দশমিক ১০ শতাংশ বা ৫৭ দশমিক ৬৪ কাঠা আয়তনের জমির সঙ্গে ‘সুইস টাওয়ার’ নামে ২৬ তলাবিশিষ্ট নির্মাণাধীন ভবন অধিগ্রহণ করবে, যেখানে তিনটি বেজমেন্ট ফ্লোর রয়েছে। ভবনটি রাজধানীর ২০৮, বীর উত্তম মীর শওকত সড়কে (তেজগাঁও লিংক রোড) অবস্থিত।

    এ সম্পদ অধিগ্রহণে ব্যাংকটির মোট ব্যয় হবে ৮০০ কোটি টাকা। এ ব্যয়ের মধ্যে আয়কর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে জমি ও নির্মাণাধীন ভবনটি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে পূবালী ব্যাংক।

    সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৩৮ পয়সা। আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ৫ টাকা ৯৯ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ৩২ পয়সায়।

    ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে পূবালী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৭৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৮ পয়সায়।

    ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে পূবালী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৭৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৪৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৩৩ পয়সায়।

    ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে পূবালী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৪৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ২৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৯৬ পয়সায়।

    পূবালী ব্যাংকের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ২০২৬ হিসাব বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (সিআরআইএসএল)।

    ১৯৮৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পূবালী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৫৬১ কোটি ৭২ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫ হাজার ৫০৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫৬ কোটি ১৭ লাখ ২১ হাজার ৮৪২। এর ৩১ দশমিক ৮৭ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৪ দশমিক ৫৭, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ৫ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪৩ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

  • বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন একঝাঁক তারকা

    বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন একঝাঁক তারকা

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু নতুন চ্যাম্পিয়ন কিংবা রোমাঞ্চকর ম্যাচের জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে না বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলের এক যুগের অবসানের সাক্ষীও হয়ে থাকবে এই আসর। বিশ্বকাপ শেষে ব্রাজিলের নেইমার, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার, আর্জেন্টিনার নিকোলাস ওতামেন্দি, মেক্সিকোর গিয়ের্মো ওচোয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একাধিক অভিজ্ঞ ফুটবলার জাতীয় দলের জার্সিকে বিদায় জানিয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ, মহাদেশীয় শিরোপা ও অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া এই তারকারা নিজেদের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা ছেড়ে দিলেন।

    ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার ২০১৪ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত অভিষেকের পর দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় জাতীয় দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন। তবে ইনজুরির কারণে এবারের বিশ্বকাপে তার খেলার সুযোগ সীমিত ছিল। নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের বিদায়ের ম্যাচে মাত্র ৫৫ মিনিট খেলেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, ‘সবকিছুর শুরু হয়েছিল মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’ ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ তাকে ‘অসাধারণ প্রতিভাবান ফুটবলার’ বলে অভিহিত করে বলেন, তার বিদায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের জন্য দুঃখের মুহূর্ত।

    জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ২০১০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন এবং ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম নায়ক ছিলেন। ইউরো ২০২৪-এর পর অবসর নিলেও এবারের বিশ্বকাপের আগে সিদ্ধান্ত বদলে দলে ফেরেন। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হারের পর ২৩তম ও শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি। পরে নয়্যার বলেন, ‘শেষটা তিক্ত হলেও ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই।’

    চেক প্রজাতন্ত্রের স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেললেও দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। শেষ ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ জাতীয় দলের সঙ্গে আমার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।’ চেক ফুটবল ফেডারেশন তার অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

    মেক্সিকোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া, যিনি ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন, এবারের আসরে সীমিত সময় খেললেও শেষ ম্যাচে সতীর্থদের কাছ থেকে বিশেষ সম্মান পান। বিদায়বার্তায় তিনি বলেন, ‘মেক্সিকোর হয়ে খেলতে পারা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।’

    আলজেরিয়ার অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ ১২ বছর পর আবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করলেও শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে শেষ ৩২ থেকেই বিদায় নেয় আলজেরিয়া। অবসরের ঘোষণা দিয়ে মাহরেজ বলেন, ‘নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করা সবসময়ই আমার স্বপ্ন ছিল।’

    ইকুয়েডরের সর্বোচ্চ গোলদাতা এনার ভ্যালেন্সিয়া ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ছয় গোল করলেও এবারের আসরে আর গোলের দেখা পাননি। মেক্সিকোর বিপক্ষে বিদায়ের পর তিনি জানান, জাতীয় দলের হয়ে এটাই ছিল তার শেষ ম্যাচ। ইকুয়েডর ফুটবল ফেডারেশন তাকে দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেছে।

    ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম স্তম্ভ নিকোলাস ওতামেন্দিও বিশ্বকাপের আগেই জানিয়েছিলেন, এটিই হবে তার শেষ আসর। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে বেশিরভাগ ম্যাচ খেললেও এবার শিরোপা ধরে রাখতে পারেননি। বিদায়বার্তায় তিনি বলেন, ‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। এরপর থেকে আমি শুধু একজন সমর্থক।’

    অস্ট্রিয়ার অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মার্কো আরনাউটোভিচ নিজের প্রথম ও শেষ বিশ্বকাপেই দুটি গোল করেন। স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রিয়ার হয়ে খেলাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এখন থেকে দ্বিতীয় পরিবারের সঙ্গে আর দেখা হবে না এটাই সবচেয়ে কষ্টের।’

    সেনেগালের তারকা সাদিও মানে ২০১৮ বিশ্বকাপে খেললেও চোটের কারণে ২০২২ বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন। এবারের বিশ্বকাপ শেষে তার অবসরের খবর প্রকাশ পেলেও সেটির সত্যতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে। তবুও সেনেগাল ফুটবল মহলে তার অবদানকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানো হয়েছে।

    স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর ৮৪টি ম্যাচ খেলেছেন। প্রথম বিশ্বকাপে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও বিশ্বকাপ শেষে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক দুই ধরনের ফুটবল থেকেই অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।

    আইভরি কোস্টের মিডফিল্ডার জ্যঁ মিশেল সেরি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলে ১১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি অবসরের ঘোষণা দিলে সতীর্থ ও অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসিয়েসহ অনেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    বিশ্বকাপ শেষে একসঙ্গে এতগুলো অভিজ্ঞ ফুটবলারের বিদায় আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি যুগের সমাপ্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা জাতীয় দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেও, নেইমার, নয়্যার, ওচোয়া কিংবা ওতামেন্দিদের স্মরণীয় অবদান ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে।

  • নড়াগাতীতে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

    নড়াগাতীতে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

    নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানা এলাকায় মো. মনি মিয়া শেখ (৪৫) নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগ উঠেছে।

    বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জয়নগর ইউনিয়নের পানিপাড়া গ্রামের কামরুল ঠাকুরের বাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত মনি মিয়া শেখ নড়াগাতী থানার জয়নগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং চর-জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে পুঠিমারি বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন মনি মিয়া। পথে পানিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।

    পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে পথেই তিনি মারা যান।

    নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

  • বাংলাদেশসহ ৬০ বাণিজ্য অংশীদারের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

    বাংলাদেশসহ ৬০ বাণিজ্য অংশীদারের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-সহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের পণ্যের ওপর ১০ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে নতুন শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্পের প্রশাসন। আজ থেকে কার্যকর হওয়া এ শুল্কের আওতায় বাংলাদেশও রয়েছে। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে শিথিলতার অভিযোগ এনে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী আরোপ করা অস্থায়ী ১০ শতাংশ মার্কিন শুল্কের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

    হোয়াইট হাউজের এ পদক্ষেপকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বৈশ্বিক শুল্কব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা আইনের আওতায় গত বছর আরোপ করা ট্রাম্পের ১০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত তথাকথিত রেসিপ্রোকাল শুল্ক বাতিল করে দেয় মার্কিন উচ্চ আদালত। ওই শুল্কের উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো।

    গতকাল ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া মোট পণ্যের ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে জ্বালানি তেল-গ্যাস, সার এবং কিছু খাদ্যপণ্যসহ বেশ কিছু পণ্য এর বাইরে থাকবে।

    ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এর ফলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র কার্যত প্রায় সব আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ন্যূনতম শুল্ক বজায় রাখতে পারবে। এছাড়া সেকশন ৩০১ অতীতে আদালতে টিকে যাওয়ায় নতুন শুল্কের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জের ঝুঁকিও তুলনামূলক কম বলে মনে করা হচ্ছে।

    মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং আমরা তা কঠোরভাবে কার্যকর করি। এখন সময় এসেছে আমাদের বাণিজ্যিক অংশীদাররাও একইভাবে ব্যবস্থা নেবে। আজকের পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যচর্চা সংশোধনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।

    এর আগে গ্রিয়ার জানিয়েছিলেন, যেসব দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বাণিজ্য চুক্তিতে মার্কিন শুল্কের সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয়েছে, নতুন ‘জোরপূর্বক শ্রম’ শুল্ক সেই সীমার ওপরে যাবে না।

    বাংলাদেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক

    চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, একুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হবে।

    অন্যদিকে ইইউ, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট-ফেভার্ড-নেশন’ শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হবে।

    বাকি ৩৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে। এর মধ্যে রয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, দেশটি উইঘুর সংখ্যালঘুদের শ্রমশিবিরে আটক রেখে কাজ করায়। যদিও বেইজিং এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা চীনা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে যে ২০ শতাংশ শুল্কহারে সম্মতি হয়েছিল, সেটিই পুনর্বহাল করা হবে। এর বেশি বাড়ানো হবে না। শুক্রবারের নতুন ব্যবস্থা কার্যকরের আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শিল্পপণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক বাদ দিলে চীনা পণ্যের ওপর কার্যকর শুল্ক ছিল ১০ শতাংশ।

    ইউএসটিআরের নথিতে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ-সংক্রান্ত তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিবেচনা করা হয়েছে এআরটি (এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড)-এর অধীনে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতা। একইসঙ্গে জনমত, সাক্ষ্য, সেকশন ৩০১ কমিটি এবং উপদেষ্টা কমিটিগুলোর পরামর্শও বিবেচনা করা হয়েছে। এর পর প্রেসিডেন্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী নোটিশের অ্যানেক্স-১ এবং অ্যানেক্স-২, পার্ট এ ও জে অংশে উল্লিখিত ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিনিধি ।

    আরো বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী বাণিজ্য প্রতিনিধি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, তদন্তে ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত কার্যকলাপ, নীতি ও চর্চা দূর করার লক্ষ্যে নির্ধারিত শুল্কহার, শুল্কের আওতা এবং অব্যাহতিগুলো উপযুক্ত।

    উল্লেখ্য যে নোটিশের অ্যানেক্স-১ এবং অ্যানেক্স-২, পার্ট এ ও জে অংশে কোনো দেশের জন্য আলাদা করে কিছু লেখা নেই। বরং সেখানে যেসব পণ্য ১০ শতাংশ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে, সেগুলোর তালিকা (এইচটিএসইউএস কোড অনুযায়ী) দেয়া হয়েছে।

    বিভিন্ন দেশের প্রতিবাদ

    নতুন শুল্ক ঘোষণার পরপরই কয়েকটি দেশ এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

    নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইদে বলেন, নরওয়ের বিরুদ্ধে এ শুল্ক আরোপের কোনো ভিত্তি নেই। কারণ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য ঠেকাতে আমাদের আগে থেকেই সুস্পষ্ট নিয়ম রয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল এ শুল্ককে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। চলতি সপ্তাহে ২ হাজার কোটি ডলারের পণ্যের ওপর নতুন ট্রাম্প শুল্কের মুখে পড়া কানাডা তুলনামূলক সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে ‘একতরফা’ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করে।

    ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট গভর্নর মওরা হিলিও এ শুল্কের সমালোচনা করে বলেন, ‘এতে ব্যয় বাড়বে, ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দুর্বল হবে। এর বোঝা বহন করার সামর্থ্য কারো নেই।’

    একই হার, ভিন্ন আইনি ভিত্তি

    ওয়াশিংটনের আইন প্রতিষ্ঠান উইলি রেইনের বাণিজ্য আইনজীবী টিম ব্রাইটবিল বলেন, প্রত্যাশিতভাবেই জোরপূর্বক শ্রমভিত্তিক শুল্ক বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তিতে নির্ধারিত বর্তমান শুল্কহারই মূলত বহাল রাখছে এবং শুক্রবার শেষ হওয়া সেকশন ১২২-এর ১০ শতাংশ শুল্কের জায়গা নিচ্ছে।

    তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ ধারণা নাকচ করে বলেন, সময়, হার ও প্রায় সব আমদানিপণ্যের ওপর প্রযোজ্য হওয়ার কারণে এটি আগের শুল্কের সরাসরি বিকল্প— এমন ধারণা সঠিক নয়।

    তার ভাষ্য, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় কঠোরভাবে কার্যকর হয়। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে অন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা পেয়ে থাকে।

    সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও বর্তমানে বাণিজ্য আইনজীবী রায়ান মেজেরাস বলেন, সেকশন ৩০১ অতীতে আদালতে টিকে থাকায় নতুন শুল্ককে আইনি চ্যালেঞ্জে বাতিল করা আরো কঠিন হতে পারে।

    যেসব পণ্য শুল্কমুক্ত থাকবে

    প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি তেল ও গ্যাস, সার, কিছু খাদ্যপণ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সেকশন ২৩২-এর আওতায় আগে থেকেই শুল্কের মুখে থাকা গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার মতো পণ্য নতুন শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।

    এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত পূরণকারী পণ্যও শুল্কমুক্ত থাকবে। কারণ উত্তর আমেরিকার সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা এবং এসব পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমাত্রার উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।