জাতীয় সংবাদ

  • চাঁদা না পেয়ে ৮০০ পেঁপেগাছ কেটে দিল

    চাঁদা না পেয়ে ৮০০ পেঁপেগাছ কেটে দিল

    রাঙামাটি শহরের উপকণ্ঠে ১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবি পূরণ না হওয়ায়, ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি পেঁপে বাগানের প্রায় ৮০০ ফলন্ত গাছ কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে । এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে দেওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম নাহরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ রানা ও মহাসচিব সোলায়মান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান। নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অপহরণ, চাঁদার দাবিতে মারধরসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

    প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় সব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। অনতিবিলম্বে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভুক্তভোগী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

  • ঢাবির শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান

    ঢাবির শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ( ঢাবি) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান করায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    বোরবার ( ২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এই ঘটনা হয়।

    বিস্তারিত আসছে….

  • এফবিসিসিআইয়ের নতুন প্রশাসক ফজলুল হক

    এফবিসিসিআইয়ের নতুন প্রশাসক ফজলুল হক

    দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি ও প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক।

    ব্যবসায়ী মহলের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মকর্তার পরিবর্তে বেসরকারি খাতের একজন উদ্যোক্তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হলো।

    রোববার সকালে রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সংগঠনটির পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেন।

    এর আগে গত ২৬ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-১ শাখার এক অফিস আদেশে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ১৭ ধারার আওতায় মো. ফজলুল হককে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। আদেশে সংগঠনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের স্বার্থে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামী ১২০ দিনের মধ্যে বাণিজ্য সংগঠন আইন-২০২২, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা-২০২৫, কোম্পানি আইন-১৯৯৪ এবং এফবিসিসিআইয়ের সংঘস্মারক ও সংঘবিধি অনুসরণ করে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের পর তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশ রয়েছে।

    দায়িত্ব গ্রহণের পর মো. ফজলুল হক বলেন, সরকারের দেওয়া দায়িত্ব অনুযায়ী ১২০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচিত ব্যবসায়ী নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনতে তিনি যথাযথ চেষ্টা করবেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ফেডারেশনের সদস্য, ব্যবসায়ী সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

    এর আগে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান। গত ২৭ জুন তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রায় দেড় মাস পদটি শূন্য ছিল। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ থাকলেও আইনি জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে গত ফেব্রুয়ারিতে তার মেয়াদ আরও চার মাস বাড়ানো হয়, যা ২৬ জুন শেষ হয়।

    এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়াটি শুরু হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর। ওই সময় সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগের দাবিতে সদস্যদের একাংশ আন্দোলনে নামে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম পদত্যাগ করেন। পরে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য মো. হাফিজুর রহমানকে প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

    মো. ফজলুল হক দেশের তৈরি পোশাক খাতের পরিচিত উদ্যোক্তা। নারায়ণগঞ্জভিত্তিক পরিবেশবান্ধব পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এর আগে বিকেএমইএর সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি), বাংলাদেশের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। তৈরি পোশাক শিল্প, রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্পনীতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি।

  • ঢাবির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

    ঢাবির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (আন্ডারগ্র্যাজুয়েট) প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন আগামী ১১ নভেম্বর শুরু হবে। আবেদন গ্রহণ চলবে ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। পাঁচটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৫ ডিসেম্বর, আর শেষ হবে ২৬ ডিসেম্বর।

    রোববার (২ আগস্ট) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    সভায় জানানো হয়, এবারও ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান’, ‘বিজ্ঞান’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা’, ‘চারুকলা’ ও ‘আইবিএ’-এই পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    ভর্তি পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী, আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা হবে ৫ ডিসেম্বর, বিজ্ঞান ইউনিটের ১২ ডিসেম্বর, কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ১৯ ডিসেম্বর, চারুকলা ইউনিটের (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) ২২ ডিসেম্বর এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা হবে ২৬ ডিসেম্বর।

    আইবিএ ইউনিট ছাড়া সব ইউনিটের পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে।

    চারুকলা ও আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্য তিনটি ইউনিটের পরীক্ষা ঢাকাসহ আটটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রগুলো হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ) এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

    এ ছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষের ক্লাস ২০২৭ সালের ২৮ মার্চ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সভায় প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, হল প্রাধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা সুযোগ পেলে দেশকে তছনছ করবে: কৃষিমন্ত্রী

    স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা সুযোগ পেলে দেশকে তছনছ করবে: কৃষিমন্ত্রী

    কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা এখনো ঘাপটি মেরে বসে আছে। সুযোগ পেলে তারা দেশকে তছনছ করে ফেলবে। শনিবার রাতে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতিকথা’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান না হলে আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতাম কি না, জানি না। যারা তখন ক্ষমতায় ছিল, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিল না। তারা জনগণের সঙ্গে প্রহসনের নির্বাচন করেছে। ফ্যাসিস্টদের অনুসারীরা এখনো আমাদের আশপাশে লুকিয়ে আছে। সুযোগ পেলেই তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে।’

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া সবার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আহতদের চিকিৎসার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

    অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির নেতা ইউসুফ মোল্লা টিপু।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক আবু রায়হানের সঞ্চালনায় এবং ফেইস দ্য পিপলের সম্পাদক সাইফুর সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামানসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিরা।

  • সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে স্কুল মিল

    সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে স্কুল মিল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধাপে ধাপে ‘স্কুল মিল’ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা হবে।

    রোববার সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও আবাসিক প্রতিনিধি কোকো উশিয়ামা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।

    সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল মিল কর্মসূচির সম্প্রসারণ, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতকরণ, ভবিষ্যতে পরীক্ষামূলকভাবে রান্না করা গরম খাবার চালুর সম্ভাবনা, কর্মসূচির কার্যকর পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদারসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের প্রধান লক্ষ্য প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর পুষ্টি নিশ্চিত করা।

    স্কুল মিল কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

    আলোচনায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের স্কুল মিল কর্মসূচির অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে তার মিলের বিষয়টি উঠে আসে। পাশাপাশি দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চল, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং আর্থসামাজিক অবস্থার ভিন্নতা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনভিত্তিক পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী।

    বৈঠকে ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, স্কুল মিল কেবল শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করে না; বরং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে, ঝরে পড়া রোধ করতে, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডব্লিউএফপি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুল গার্ডেন, পুষ্টি শিক্ষা এবং স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে স্কুল মিল কর্মসূচির সমন্বয়ের মাধ্যমে ইতিবাচক সাফল্য অর্জন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সাক্ষাৎকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিদ্যমান সমন্বিত প্রাথমিক শিক্ষা তথ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনা তৈরিতে ডব্লিউএফপির কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্কুল মিল কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়াতে উভয় পক্ষই একমত পোষণ করেন।

    বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ডব্লিউএফপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতা নষ্ট হতে পারে: তথ্যমন্ত্রী

    নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতা নষ্ট হতে পারে: তথ্যমন্ত্রী

    সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্যনিষ্ঠা ও বস্তুনিষ্ঠতা উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জনস্বার্থে ইতিবাচক এক্টিভিজমের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা পক্ষপাত সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শেষ পর্যন্ত সত্যের মুখোমুখি সবাইকেই দাঁড়াতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    রোববার (২ আগস্ট) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘রাজনীতি, ক্ষমতা ও সাংবাদিকতার আন্তঃসংশ্লেষ: তত্ত্ব, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি হলো স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম। যেখানে স্বাধীন সাংবাদিকতা অনুপস্থিত, সেখানে গণতান্ত্রিক কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই সংবাদ পরিবেশনে সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, জনমত গঠনে কল্যাণকামী এক্টিভিজম ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সেই ভূমিকা যেন কখনোই সংবাদ পরিবেশনের নিরপেক্ষতা ও পেশাগত মানদণ্ডকে ক্ষুণ্ন না করে।

    রাজনীতি ও গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জনপ্রিয় ভোটে নির্বাচিত অনেক সরকার পরবর্তীতে ক্ষমতা নিজেদের হাতে কেন্দ্রীভূত করেছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ টিকিয়ে রাখতে ভিন্নমত ও বহুমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক সমঝোতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় কিছু সাংবাদিক তৎকালীন সরকারকে সমর্থন দিয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। আবার যারা প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও একাংশের সাংবাদিক অবস্থান নিয়েছিলেন। তার ভাষায়, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাংবাদিকদের প্রধান দায়িত্ব সত্য তুলে ধরা, কারণ শেষ পর্যন্ত সত্যই প্রতিষ্ঠিত হয়।

    তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে অপতথ্য ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার সাংবাদিকতার বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন এবং পেশাগত নৈতিকতা মেনে চলার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে।

    তিনি জানান, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে সরকার একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তার আশা, এই কমিশন গণমাধ্যম খাতকে আরও শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও কার্যকর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

  • অবদান নিয়ে বিতর্ক তুলে যারা অনৈক্য তৈরি করেছে ব্যর্থতার দায় তাদের: এবি পার্টি

    অবদান নিয়ে বিতর্ক তুলে যারা অনৈক্য তৈরি করেছে ব্যর্থতার দায় তাদের: এবি পার্টি

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার, রাজনৈতিক ঐক্য এবং অর্জন-ব্যর্থতার মূল্যায়ন নিয়ে ‘৩৬ জুলাইয়ের অবদান বিতর্ক ও ব্যর্থতার দায় পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সংলাপের আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

    সভায় সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও অর্জনের চেয়ে ব্যর্থতার আলোচনা বেশি হচ্ছে। শেখ হাসিনার পলায়নের পর অবদান নিয়ে বিতর্ক তুলে যারা জাতীয় অনৈক্য সৃষ্টি করেছে, ব্যর্থতার সিংহভাগ দায় তাদেরই নিতে হবে।

    তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দুটি সরকার দায়িত্ব পালন করেছে, প্রথমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরে বিএনপি সরকার। রাষ্ট্র সংস্কার ও মানুষের জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন না এলে উভয় সরকারকেই ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ছয় মাসের সঙ্গে তুলনামূলক মূল্যায়ন করে এবি পার্টি আরেকটি সংলাপের আয়োজন করবে। তখন দেশের অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, আইন-শৃঙ্খলা ও জনজীবনের বাস্তব চিত্র পরিসংখ্যানসহ জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।

    তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শত শত আন্দোলন হলেও বর্তমান সরকারের গত পাঁচ মাসে দাবি-দাওয়া নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আন্দোলন হয়নি। শক্তি প্রয়োগ করে সমালোচনার কণ্ঠরোধের চেষ্টাকে খুবই দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে তা সরকারের জন্য হিতে বিপরীত হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

  • ফ্যাসিস্ট যা করেছে, আপনাদের কর্মকাণ্ড হুবহু এর ফটোকপি, বললেন জামায়াত আমির

    ফ্যাসিস্ট যা করেছে, আপনাদের কর্মকাণ্ড হুবহু এর ফটোকপি, বললেন জামায়াত আমির

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘১৭ বছরের নির্যাতনের কথা যেন সরকার ভুলে না যায়।’

    তিনি বলেছেন, ‘আমরা তো নতুন কিছুই দেখছি না। আগের ফ্যাসিস্ট যা করে গেছে, এখন হুবহু ফটোকপি আপনারা করছেন। বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন আপনারাও আগের মতোই করছেন।রোববার প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, ‘৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে কেন অগ্রাহ্য করছেন? ’৭০-এর নির্বাচন অগ্রাহ্য করার জন্যই তো ৭১ সংঘটিত হয়েছিল।’

    তিনি বলেন, ‘৯৬-এর নির্বাচন নিয়ে মাঝেমধ্যে বিএনপি আমাদের খোঁচা দেয়। অথচ ’৯১-এ নিঃস্বার্থ সমর্থনের কারণেই বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছিল।’

    নির্বাচন কমিশনের মতো নিরপেক্ষ জায়গায় দলীয় লোক বসানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

  • কওমিপিডিয়া প্রভাবশালী আলেমের তালিকায় প্রথম মামুনুল

    কওমিপিডিয়া প্রভাবশালী আলেমের তালিকায় প্রথম মামুনুল

    দেশের কওমি মাদরাসাভিত্তিক তথ্যভান্ডার ‘কওমিপিডিয়া’ দেশের শীর্ষ পাঁচ প্রভাবশালী আলেমের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। ২৯ জুলাই প্রকাশিত এ তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক, দ্বিতীয় স্থানে মাওলানা মাহমুদুল হাসান, তৃতীয় স্থানে মাওলানা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, চতুর্থ স্থানে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছেন ড. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসেন।

    প্রথম স্থানে থাকা মাওলানা মামুনুল হক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির। তিনি একজন প্রখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত, বক্তা ও রাজনীতিবিদ হিসেবে কওমি অঙ্গন এবং দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন।প্রকাশিত তালিকা অনুসারে, দেশের শীর্ষ প্রভাবশালী আলেমদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মাওলানা মাহমুদুল হাসান। তিনি কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সংস্থা আল হাইআতুল উলয়া ও সর্ববৃহৎ শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি এবং জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ার মহাপরিচালক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

    তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন হেফাজতে ইসলামের বর্তমান আমির মাওলানা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি একজন প্রখ্যাত দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত, রাজনীতিবিদ এবং আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরের মহাপরিচালক।

    তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি দেশের একজন বিশিষ্ট ইসলামী পণ্ডিত, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষাবিদ হিসেবে সুপরিচিত।

    এছাড়া পঞ্চম স্থানে জায়গা পেয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত ড. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি অতীতে বিভিন্ন কওমি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    কওমিপিডিয়ার প্রকাশ করা এই প্রভাবশালী আলেমদের তালিকা দেশের ধর্মীয় অঙ্গনে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • ঢাকার চারপাশে নৌপথ সচল করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    ঢাকার চারপাশে নৌপথ সচল করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    বাসস : রাজধানী ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    একইসাথে কীভাবে ঢাকার নদীগুলোর দূষণ প্রতিরোধ করা যায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা যায় এবং নদীর নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকার চারপাশে নৌপথ চালু নিয়ে এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

    রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিশেষ সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানিয়েছেন।

    তিনি জানান, রাজধানী ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সভায়। এছাড়া আগ্রহী বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব বিবেচনা করে নৌপথে তাদের ওয়াটার বাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়।

    উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, সভায় নৌপথ সচল করার পাশাপাশি কীভাবে ঢাকার নদীগুলোর দূষণ প্রতিরোধ করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা যায় এবং নদীর নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নদীর চারপাশে নির্মিত ওয়াকওয়ের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর নির্দেশনা দেন, যাতে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং নদীর তীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

    সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘আগস্টে নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠীর তৎপরতা’, সতর্ক থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    ‘আগস্টে নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠীর তৎপরতা’, সতর্ক থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর বিভিন্ন কার্যক্রম আগস্ট মাসে পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেই জন্য আমরা সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছি।

    রোববার (২ আগস্ট) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত ব্যাগ ঘিরে তৈরি হওয়া ‘বোমা আতঙ্ক’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উদ্ধার হওয়া ব্যাগগুলোতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল যেসব পরিত্যক্ত ব্যাগ পাওয়া গেছে, সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোনো বোমার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মূলত জননিরাপত্তার স্বার্থে কোথাও কোনো পরিত্যক্ত ব্যাগ বা সন্দেহজনক বস্তু দেখা গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা মেনে সেগুলো পরীক্ষা করে থাকে।’

    তবে আশুলিয়ায় প্রেসার কুকারের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তু এবং মতিঝিলে পাওয়া সন্দেহজনক বস্তুর বিষয়ে আলাদাভাবে তদন্ত চলছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসব ঘটনার পেছনে কারা জড়িত বা কোনো ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    গত ৫-৬ মাসের অপরাধপ্রবণতার পরিসংখ্যান টেনে মন্ত্রী বলেন, আনুপাতিক হারে ও তুলনামূলক বিচারে দেশে বর্তমানে এ ধরনের অপরাধ বা নাশকতার পরিমাণ অনেকটাই কম। পরিস্থিতি কোনোভাবেই উদ্বেগজনক নয়। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট’ ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    পাশাপাশি নাশকতার যেকোনো পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

  • শক্তিশালী বিচার বিভাগ ও আইনের শাসনেই টিকে থাকবে গণতন্ত্র: মির্জা ফখরুল

    শক্তিশালী বিচার বিভাগ ও আইনের শাসনেই টিকে থাকবে গণতন্ত্র: মির্জা ফখরুল

    গণতন্ত্রকে স্থায়ী ও কার্যকর করতে বিচার বিভাগ, প্রশাসন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর বাংলাদেশ নতুন এক বাস্তবতায় পৌঁছেছে। এখন প্রয়োজন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও স্বাধীনভাবে গড়ে তোলা।

    রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ, দক্ষ প্রশাসন এবং কার্যকর সংসদীয় কমিটি প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশের গণতন্ত্র আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। গণতন্ত্রের বিকাশে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী থাকলে সেই ব্যবস্থা টিকে থাকে।

    প্রতিবেশী ভারতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংকটের মধ্যেও সেখানে বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশেও নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একটি সমাজকে এগিয়ে নিতে এই দুই বিষয় অপরিহার্য। অতীতে দেশ এ ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হলেও বর্তমান সরকার ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

    তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, মাদক শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, সারা দেশের জন্যই বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধপ্রায় সুগার মিলের কারণে স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই বিকল্প শিল্পায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।

    তিনি আরও জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এর উপাচার্য নিয়োগ ও জমি চূড়ান্ত হয়েছে। পাশাপাশি নতুন মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম আগামী বছর থেকে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া শহরের পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মাস্টার প্ল্যান এবং যানজট নিরসনে রিং রোড নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে একই দিন সকালে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে বাংলাদেশ ও নেপালের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত ‘ফ্রি আই ক্যাম্প-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    ‘সবার জন্য দৃষ্টি, প্রতিটি চোখের যত্ন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিনামূল্যের চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে সীমান্ত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

    অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ডা. আবু মো. খায়রুল কবিরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন প্রতীক কার্কি, এনএনজেএস-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. চেত রাজ পান্ত এবং বিরাটনগর আই হাসপাতালের চেয়ারম্যান পদ্ম নারায়ণ চৌধুরী।

    দিনব্যাপী আয়োজিত এ ক্যাম্পে শত শত মানুষকে বিনামূল্যে চোখের পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও রোগ নির্ণয় সেবা দেওয়া হয়।

  • বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগামী সপ্তাহে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা

    বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগামী সপ্তাহে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা

    বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন শীর্ষ নির্বাহী ও ব্যবসায়ী নেতা বাংলাদেশ সফরে আসছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

    শনিবার (১ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

    মাহদী আমিন জানান, সফররত মার্কিন প্রতিনিধিদল বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। তাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথেও বৈঠকের কথা রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা জানানো হয়েছে। তারা মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে এবং গত প্রায় পাঁচ মাসে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।’

    মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরো গভীর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে কীভাবে এগিয়ে নেয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে এবং এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কীভাবে নীতিগত সহায়তা দেয়া যায়, সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘রফতানি ও আমদানি বাড়ানোর উপায় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একইসাথে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরো বেশি মার্কিন বিনিয়োগ নিশ্চিত করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন ব্যবসায়ী নেতা বা প্রথম সারির কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসবেন।’

    মাহ্দী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) ইতিবাচকভাবে সংশোধিত হওয়াও বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ আরো বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।’

    তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশটি থেকে আরো বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের আশা করছে সরকার, যা দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক হবে।’

    মাহ্দী আমিন আরো বলেন, ‘বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরও সংবাদমাধ্যমকে একই ধরনের ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতের মতোই বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে পাশে থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যে আস্থা প্রকাশ করেছে, তা ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে।

  • সত্য যদি আমার বিরুদ্ধেও যায়, অকপটে প্রকাশ করুন: জামায়াত আমির

    সত্য যদি আমার বিরুদ্ধেও যায়, অকপটে প্রকাশ করুন: জামায়াত আমির

    বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। একটি স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই সমাজকে সজাগ রাখে এবং মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনে। তিনি বলেন, ‘মিডিয়াকে সমাজের আয়না বলা হয়। আয়নার সামনে দাঁড়ালে যেমন কোনো কিছু আড়াল থাকে না, তেমনি একজন প্রকৃত সাংবাদিকও কোনো তথ্য বিকৃত বা পরিবর্তন না করে মানুষের সামনে সত্য তুলে ধরেন। এ কারণেই সাংবাদিকদের সমাজের বিবেক বলা হয়। মিডিয়া যতদিন জাগ্রত থাকে, একটি সমাজও ততদিন জাগ্রত থাকে। আর বিবেকের মৃত্যু হলে সমাজেরও মৃত্যু ঘটে।’

    শনিবার সিলেটের বন্দরবাজারস্থ কুদরত উল্লাহ মসজিদ কমপ্লেক্সে দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার ৩৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জালালাবাদ পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই পত্রিকার প্রতি একটি অনুরোধ রাখব। আমাদের অঙ্গীকার ছিল— জালালাবাদ কোনো রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র হবে না; এটি হবে জনগণের মুখপাত্র। কোন দল কখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে, সেটি আল্লাহ তাআলার ফয়সালা। কিন্তু জালালাবাদকে অবশ্যই নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘এই নীতিগত অবস্থান বজায় রাখতে গিয়ে যদি কোনো রাজনৈতিক দলের রোষানলে পড়তে হয়, তাতেও আপত্তি নেই। এমনকি এ পথে চলতে গিয়ে যদি পত্রিকাটি বন্ধও হয়ে যায়, তবুও নীতির প্রশ্নে যেন কখনো আপস না করা হয়। পত্রিকার পৃষ্ঠাসংখ্যা ছোট হতে পারে, কিন্তু তার সংবাদ অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে এবং জনগণের কথা বলতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে যদি কোনো সংবাদ আমার বিরুদ্ধে যায় কিংবা আমার দলের বিরুদ্ধেও যায়, তবুও জালালাবাদ যেন সত্য প্রকাশে পিছপা না হয়। একটি গণমাধ্যম যখন নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরে, তখন মানুষের আস্থা স্বাভাবিকভাবেই তার প্রতি বৃদ্ধি পায়।’

    বর্তমান সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাসের সংকটের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আজ আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো আস্থার সংকট। মানুষ মানুষকে বিশ্বাস করতে চায় না। আমি প্রত্যাশা করি, দৈনিক জালালাবাদ তার বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে এই আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে সমাজকে সহায়তা করবে।’

    বক্তব্যের শেষে তিনি দৈনিক জালালাবাদ পরিবারের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করেন এবং দেশের গণমাধ্যমে সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার ধারা আরও শক্তিশালী হোক— সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    সুধী সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার বর্তমান সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা মুকতাবিস উন নূর, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং ফিলিপাইন ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওয়াদুদ টিপুসহ সিলেটের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ।

  • মাদারগঞ্জে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করায়,  জরিমানা

    মাদারগঞ্জে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করায়, জরিমানা

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে অতিরিক্ত দামে বোতলজাত পেট্রোল বিক্রির দায়ে এক দোকানদারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।

    শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের আমলীতলা এলাকার একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মাদারগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানদার বোতলজাত পেট্রোল প্রতি লিটার ১৮০-২০০ টাকা দরে বিক্রি করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দোকানদারকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। একইসাথে ভবিষ্যতে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি না করার জন্য তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও বলেন, ‘পেট্রোল, অকটেনসহ যেকোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় বা জ্বালানি পণ্য সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাজারে কেউ যেন কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কেউ অনিয়ম করলে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।’

    উপস্থিত স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির প্রবণতা কমবে এবং সাধারণ ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন।

  • ময়মনসিংহে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ জনের মৃত্যু

    ময়মনসিংহে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ জনের মৃত্যু

    ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও ও নান্দাইল উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামে ও পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলার চর মহিশকুড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— লংগাইর ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের রমিজ উদ্দিনের ছেলে রাতুল (১৯) ও চর মহিশকুড়া গ্রামের ফেরদৌস আলমের ছেলে বাদল মিয়া (৪৯)।

    গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: নাসরিন সুলতানা মুন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগড়া গ্রামের রাতুল একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে তিনি একটি ফিশারিতে মাছের খাদ্য দিতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত ফিশারিতে বিদ্যুতায়িত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা রাতুলকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: নাসরিন সুলতানা মুন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অপরদিকে, একই দিন সকাল ১০টার দিকে চর মহিশকুড়া গ্রামের বাদল মিয়া সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ লাইনের সুইচ চালু করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: নাসরিন সুলতানা মুন তাকেও মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় বিষয়ে নিহত রাতুলের চাচা আনিসুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ফিশারিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান ও পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পৃথক দু’টি ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • শুভেন্দু প্রতিবেশী হিন্দুরা ভারতে আশ্রয় পাবেন

    শুভেন্দু প্রতিবেশী হিন্দুরা ভারতে আশ্রয় পাবেন

    ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (সিএএ) সূত্র ধরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ অনুপ্রবেশকারী নন। তারা শরণার্থী।’ এ আইনে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টানদের শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও মুসলিমদের কথা বাদ দেওয়া হয়েছে।

    বিতর্কিত সিএএ-তে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দুসহ ৬টি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে, তবে মুসলিমদের এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সমালোচক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই আইন ভারতের সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদে থাকা ‘আইনের চোখে সমতা’ ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির পরিপন্থী।

    শনিবার পশ্চিমবঙ্গে ১৬তম ডিজিটাল জনগণনার সূচনা অনুষ্ঠানে এমন কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী।

    অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীদের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট করে দিয়ে শুভেন্দু নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (সিএএ) ধারার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। বলেন, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তারা অনুপ্রবেশকারী নন, যথাযথ আইনি কাঠামোয় তারা শরণার্থী।

    তিনি আরও বলেন, ‘ভারত সরকারের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়ম স্পষ্ট। যে সমস্ত শরণার্থী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর মধ্যে ধর্ম বা প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে এ দেশে এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা যাবে না এবং পুলিশও তাদের কোনো হয়রানি করতে পারবে না।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই রাজ্যে বা দেশে থাকবে না। নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে সতর্কতার সঙ্গে ফেরত পাঠানো হচ্ছে এবং আগামী দিনেও হবে। অনুপ্রবেশকারীদের দেখভাল করার দায়িত্ব ভারতের নয়।’

    এ সময় অতীত ভুলের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘আগের সরকারের আমলে বীরভূমে একটি ত্রুটি ঘটেছিল, যেখানে ভারতীয় নাগরিককে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। যদিও পরে তাকে ফেরানো হয়। আমাদের সরকার নিশ্চিত করবে যাতে এই প্রক্রিয়ায় একজন প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকও বিন্দুমাত্র সমস্যায় না পড়েন।’

  • স্কুলে ছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    স্কুলে ছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি তার পরিবারের।

    গতকাল শুক্রবার রাতে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুরে উপজেলার একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী (১৩)।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনার তিন দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৮ জুলাই ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং তরুণকে তাঁর বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আগের দিন তাঁদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন বলে কয়েকজনের দাবি। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারুগাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাঁদের একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাঁদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

    নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছে।

    এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এ ঘটনায় নয়ন বাড়ৈ, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে নয়ন বাড়ৈয়ের ভাষ্য, ‘আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার কয়েক যুবক আমার বাড়ির ওপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাঁদের বিদ্যালয়ে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিই। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।’

    স্থানীয় লোকজনের দাবি, নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে স্থানীয় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে ওই ছাত্রী সেখানে চিকিৎসাধীন।

    ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে ছিলেন না দাবি করে প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি ফিরে এলে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত 

    প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত 

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আব্দুল আজিজ (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর বাসস্ট্যান্ড বাজারে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত যুবক মথুরাপুর দর্গাতলা এলাকায় খিলাফত আলীর ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে ভিজিএফ’র (দুঃস্থ ভাতা) কার্ডের আবেদন করা ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মথুরাপুর কলেজপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে পলাশের (২৮) সঙ্গে আকরামের ছেলে বিজয় ও তার বন্ধু আজিজের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই সূত্র ধরে দুই বন্ধু বিজয় ও আজিজ মথুরাপুর বাসস্ট্যান্ড বাজারে অবস্থানকালে প্রতিপক্ষ পলাশ সশস্ত্র অবস্থায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

    এ সময় পলাশ ছুরি দিয়ে আজিজের পেটে আঘাত করলে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া পথে মারা যান। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

    দৌলতপুর থানার ওসি নাজমুল হুদা বলেন, অনলাইনে ভাতার কার্ড করা নিয়ে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে একজন নিহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

  • ফরিদপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    ফরিদপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সুমাইয়া শিমু (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বামীর পরিবার দাবি করেছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের শৈলমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত সুমাইয়া ওই গ্রামের মোস্তফা শেখের মেয়ে ও কাঠমিস্ত্রি জসিম কাজীর স্ত্রী। তাদের সাত বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে জসিম কাজী সুমাইয়াকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন। সে সময় সুমাইয়ার পরিবার অপহরণ মামলা করলেও দুই বছর আগে দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হয়।

    নিহতের স্বজনদের দাবি, জসিম নিয়মিত কাজ করতেন না এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শুক্রবার প্রতিবেশীর একটি অনুষ্ঠানে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে আবারও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে সুমাইয়া তার ছেলেকে বড় বোনের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

    সুমাইয়ার মেজ বোন শাহিনুর বলেন, ভাগনেকে একা দেখে সন্দেহ হয়। তিনি জসিমকে ফোন করলে খারাপ ব্যবহার করেন এবং সুমাইয়াকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে সন্ধ্যার আগে ফোন করে জানান, সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছেন।

    নিহতের বড় বোন সুরাইয়া বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সুমাইয়ার মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছে। ঘরের আড়ার উচ্চতা বিবেচনায় সুমাইয়ার পক্ষে ওইভাবে গলায় ফাঁস নেওয়া সম্ভব নয়। তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই জসিম পলাতক এবং মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

    স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর সুমাইয়ার ছোট বোন মিম ঘর তল্লাশি করতে চাইলে জসিম বাধা দেন। পরে ঘরে তালা দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

    অন্যদিকে জসিমের মা ছিয়ারন বেগম জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। খবর পেয়ে জানতে পারে পুত্রবধূ গলায় ফাঁস দিয়েছেন।

    আলফাডাঙ্গা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে শনিবার ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি স্থগিত করল ইতালি

    স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি স্থগিত করল ইতালি

    স্পেনের সেউটা সিমান্তে নজিরবিহীন অভিবাসী ঢলের প্রতিক্রিয়ায় স্পেনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তমুক্ত শেনজেন চুক্তি এক মাসের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি।

    রোম থেকে প্রকাশিত সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ইতালি ভ্রমণকারী স্পেনসহ অন্যান্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে স্পেন থেকে আকাশ বা সমুদ্রপথে ইতালি প্রবেশকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু কড়াকড়ি ও তল্লাশি চালানো হবে।

    জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং দেশের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব প্রতিরোধ করার জন্যই এই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। গ্রীষ্মকালীন পর্যটকদের যাতায়াতে যাতে ন্যূনতম প্রভাব পড়ে, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই কেবল প্রয়োজনীয় সময়ের জন্যই এই ব্যবস্থা বলবৎ রাখা হবে বলে তিনি যোগ করেন।

    স্পেনের সঙ্গে ইতালির কোনো স্থল সীমান্ত না থাকলেও অনিয়মিত অভিবাসীদের দেশটিতে প্রবেশ ঠেকাতে ফরাসি-ইতালীয় সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে প্যারিসের সঙ্গেও ঐকমত্যে পৌঁছেছে রোম। এর আগে প্রতিবেশী মরক্কো থেকে স্পেনের সেউটা ছিটমহলে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রবেশ করলেও, তাদের অধিকাংশই পরবর্তীতে স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছিল স্পেন।

    এদিকে ইতালির ডানপন্থী সরকারের এই পদক্ষেপকে মূলত প্রতীকী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছেন সমালোচকরা। তাদের মতে, সেউটাতে পৌঁছানো অভিবাসীদের ইতালির দিকে যাওয়ার কোনো আগ্রহ বা অভিপ্রায় ছিল না।

    ২০২২ সালে অবৈধ অভিবাসন হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় বসা জর্জিয়া মেলোনির জোট সরকার বর্তমানে সাবেক সেনাপ্রধান রবার্তো ভান্নাকির নেতৃত্বে নতুন এক অতি-ডানপন্থী দলের তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে ভান্নাকির প্রভাব বাড়ায় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে কঠোর অবস্থান জোরালো করতে চাইছে সরকার।

    অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা পিয়েরে দে লুকা সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জনতুষ্টির জন্য নেওয়া একটি লোকরঞ্জক প্রস্তাব, যা আদতে কোনো সমস্যার সমাধান না করে বরং স্পেনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটাচ্ছে।

    উল্লেখ্য, শেনজেন চুক্তির আওতায় ইউরোপের ২৯টি দেশের নাগরিকদের পাসপোর্ট ছাড়াই বাধাহীনভাবে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। তবে যেকোনো সদস্য রাষ্ট্র নিরাপত্তা কিংবা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে সাময়িকভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুনর্বহাল করতে পারে।

  • স্ত্রীর কবর খননের সময় মিলল ২ যুগ আগে দাফন করা স্বামীর অক্ষত মরদেহ

    স্ত্রীর কবর খননের সময় মিলল ২ যুগ আগে দাফন করা স্বামীর অক্ষত মরদেহ

    কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে স্ত্রীর দাফনের জন্য কবর খনন করতে গিয়ে প্রায় ২৪ বছর আগে দাফন করা স্বামী রমজান আলীর মরদেহ অক্ষত অবস্থায় পাওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাটি দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ওই কবরস্থানে জড়ো হন।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) উপজেলার উত্তর হাওলা ইউনিয়নের উলুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রমজান আলীর স্ত্রী মারা যান। পরে স্বামীর কবরের পাশে তার কবর খননের সময় কবর খননকারীরা রমজান আলীর মরদেহ কাফনের কাপড়সহ অক্ষত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে কবরস্থানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

    কবর খননকারীদের ভাষ্য, মরদেহটি কাফনের কাপড়সহ প্রায় আগের অবস্থাতেই ছিল। এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ২৪ বছর আগে রমজান আলীর মৃত্যু হয়। জীবদ্দশায় তিনি ধার্মিক, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন এবং হাটবাজারে চাল-আটার ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

    এলাকাবাসী বলছেন, ঈমানের শক্তি যে এতটা প্রখর তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মরহুম রমজান আলী। আল্লাহর এমন নজির আমাদের জন্য আসলে শিক্ষনীয়।

    উলুপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং কবরের ভেতরে কাফনে মোড়ানো মরদেহ দেখতে পান। পরে মরদেহটি যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থায় রেখেই পাশে তার স্ত্রীর দাফনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

    তবে মরদেহ দীর্ঘদিন অক্ষত থাকার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ বা বিশেষজ্ঞের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

  • বগুড়ায় ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৪ জনের

    বগুড়ায় ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৪ জনের

    বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত চারজনের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে লুৎফর রহমান (৫০)। তিনি পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। নিহত অপর তিনজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁরা পিকআপের চালক, হেলপার ও মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানা গেছে।

    কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ থেকে একটি পিকআপে করে মাছ নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী নওগাঁয় গিয়েছিলেন। ফেরার পথে শনিবার সকালে কাজীপাড়া এলাকায় অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার সময় নওগাঁগামী একটি মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    তিনি জানান, সংঘর্ষে পিকআপের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক, হেলপার ও দুই মাছ ব্যবসায়ী নিহত হন।

    দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কাহালু থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি সরিয়ে নেয় এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।

    ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত লুৎফর রহমানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। নিহত অপর তিনজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গরের বৈঠক: সরকারে আস্থা যুক্তরাষ্ট্রের, বিনিয়োগের ইঙ্গিত

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গরের বৈঠক: সরকারে আস্থা যুক্তরাষ্ট্রের, বিনিয়োগের ইঙ্গিত

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করে দেশের বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশের প্রশংসা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে নতুন করে বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে ভ্রমণ সতর্কতা (টুরিস্ট অ্যাডভাইজরি) ইতিবাচকভাবে পুনর্বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

    আজ শনিবার সকালে ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি সার্জিও গর এসব কথা জানান।

    উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠকে মার্কিন বিশেষ দূত বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং এতে মার্কিন প্রশাসন পূর্ণ আস্থা রাখছে।

    সার্জিও গরউল্লেখ করেন, এই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সতর্কতা ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে, যা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ যে এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছাবে।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে আরও বড় আকারের মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে সয়াবিন, তুলা, গম এবং অন্যান্য কৃষি পণ্যের ওয়্যার হাউজিং বা সংরক্ষণ সুবিধা তৈরিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ কামনা করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এসব খাতে মার্কিন বিনিয়োগ গড়ে উঠলে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) তৈরি করা সম্ভব হবে।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সার্জিও গর জানান, আইটি খাতে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশটি প্যাক্স সিলিকা (PAX Silica) উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হতে পারে।

    দুই পক্ষই যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) সহযোগিতায় বাংলাদেশে ওষুধ ও খাদ্য পণ্যের পরীক্ষাগার চালুর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

    বৈঠকে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মার্কিন প্রতিনিধিদল। আগের দিনই সার্জিও গর কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন।

    সংকটটি মোকাবিলায় এবং বিপুলসংখ্যক মিয়ানমারের নাগরিককে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ায় সার্জিও গর বাংলাদেশ সরকার ও সাধারণ মানুষের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    সার্জিও গর জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

    অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে যে পরিমাণ আর্থিক ও মানবিক সাহায্য আসে, তার অর্ধেকেরও বেশি দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই সহযোগিতার জন্য তিনি মার্কিন সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বাংলাদেশ পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন এবং ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

    মার্কিন প্রতিনিধিদলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক।

  • কুমারখালীতে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

    কুমারখালীতে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পান্টি গোলাবাড়ি বাজারে একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে মো. হাবিবুল্লাহ (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঋণের চাপে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

    শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে দোকান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    পরিবার ও পুলিশ জানান, নিহত হাবিবুল্লাহ পান্টি গোলাবাড়ি বাজার এলাকার আব্দুল হামিদ বিশ্বাসের ছেলে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি আদম ব্যবসার পাশাপাশি ফার্নিচারের ব্যবসা করতেন। গত বুধবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন খোলা থাকলেও তিনি কারও ফোন রিসিভ করছিলেন না।

    নিহতের বাবা আব্দুল হামিদ বিশ্বাস বলেন, সকালে দোকান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখে সবাই ধারণা করছিল কিছু একটা পচে গেছে। পরে শাটার খুলে ভেতরে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের সবাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এবং হাবিবুল্লাহর স্ত্রী বাবার বাড়িতে ছিলেন। চার-পাঁচ দিন ধরে ছেলে বাড়িতে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজিও করা হয়েছে।

    নিহতের স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, বুধবার থেকে স্বামীকে একাধিকবার ফোন করলেও কল রিসিভ করেননি। শনিবার সকালেও ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো সাড়া পায়নি।

    কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের চাপে হাবিবুল্লাহ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মরদেহ অর্ধগলিত হওয়ায় বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • ‘আয়নাঘরে’ যারা দেয়াল টেনেছে তাদের বিচারের আওতায় আনছি: চিফ প্রসিকিউটর

    ‘আয়নাঘরে’ যারা দেয়াল টেনেছে তাদের বিচারের আওতায় আনছি: চিফ প্রসিকিউটর

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘আয়নাঘরের’ অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছে, নতুন করে স্থাপনা করা হয়েছে। যারা এসব আলামত নষ্টের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদরদপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত সংস্থা যখন কাজ শুরু করে তখন একটা ক্যামোফ্লেক্স তৈরি করা হলো। ভিকটিমদের কথার সঙ্গে বন্দিশালার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি খুঁজতে গিয়ে তদন্ত সংস্থা দেখল কিছু জায়গায় দেয়াল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবে সেই দেয়াল সরিয়ে ফেলার পর সেখানে ২৯টি রুমের দেখা মিলল, যা ভয়াবহ। এছাড়াও সেই রুমগুলোর নিচে একটি ডেথ সেল আছে। সেটাও অনেক ভয়াবহ। এ বিষয়ে তৎকালীন অনেকের দায় আছে, সংশ্লিষ্টদের এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। পরবর্তীতে যারা দেয়াল টেনে আয়নাঘর ঢেকে দিয়েছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনছি।

    তিনি বলেন, র‍্যাব-১ ‘আয়নাঘর’ নামে যে টর্চার সেল ছিল সেটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। ছোট বড় মোট ২৯টি কামরা রয়েছে। এখানে ভুক্তভোগীদের অত্যন্ত মানবেতরভাবে রাখা হতো।

    এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন বিচারক, প্রসিকিউটর এবং আসামি পক্ষের আইনজীবীরা এই স্থান পরিদর্শন করেন। ট্রাইব্যাুনালে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের জন্য এই পরিদর্শনে আসেন তারা।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যাদের ধরে নিয়ে আসা হতো তাদের দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর রাখা হতো। কামরাগুলো এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শুয়ে থাকার কোনো ব্যবস্থা ছিল না, বসেই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কাটাতে হতো। এভাবেই তাদের উপর নির্যাতন করা হতো। কাউকে দীর্ঘদিন পর মিথ্যা মামলা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতো। যা প্রসিকিউশনে দেওয়া ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।

    তিনি বলেন, এই সেলে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমানকেও (মীর আহমদ) রাখা হয়েছিল। গুম হওয়া প্রায় ২৫০ ব্যক্তির সন্ধ্যান এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

    আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. তাবারক হোসেন ভূইয়া বলেন, এখানে পরিদর্শন আইন অনুযায়ী হয়েছে। তবে আমরা টিএফআই সেল দেখতে আসিনি। টিএফআই একটি ধারণা, এটি সুনির্দিষ্ট স্থান না।

    পরিদর্শনে মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন, মায়ের ডাকের সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি উপস্থিত ছিলেন। এসময় সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, শুধু ভিন্ন মত ও রাজনীতি করার কারণে মানুষকে গুম করে এখানে নির্দয়ভাবে রাখা হতো।

  • দর্শনায় শিয়ালের আক্রমণে পোল্ট্রি ফার্মের হাজার মুরগির মৃত্যু

    দর্শনায় শিয়ালের আক্রমণে পোল্ট্রি ফার্মের হাজার মুরগির মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় রাতের আধারে বন্য প্রাণীর আক্রমণে একটি পোল্ট্রি ফার্মের প্রায় এক হাজার মুরগির মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) উপজেলার দর্শনা হল্ট স্টেশনের ওপারে হাসান পোল্ট্রি ফার্মে এ ঘটনা ঘটে।

    খামারের মালিক মো: হাসান জানান, তার খামারে বর্তমানে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার বিভিন্ন জাতের মুরগি রয়েছে। শুক্রবার রাতে কোনো এক সময় বন্য প্রাণী খামারের ভেতরে প্রবেশ করে মুরগির ওপর আক্রমণ চালায়। সকালে খামারে গিয়ে তিনি শত শত মৃত মুরগি দেখতে পান। পরে গণনা করে দেখা যায়, প্রায় এক হাজার মুরগি মারা গেছে।

    তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় তার প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এমন ক্ষতির পর খামারটি পরিচালনা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

    স্থানীয়রা জানান, এলাকায় মাঝে মধ্যেই বন্য প্রাণীর বিচরণ দেখা যায়। খামার ও গবাদিপশু রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

  • টানা পঞ্চমবার সাফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন

    টানা পঞ্চমবার সাফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন

    আবারও দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সভাপতি হলেন কাজী সালাহউদ্দিন। শনিবার (১ আগস্ট) ভুটানে হয়ে গেল সাফের কনগ্রেস। সেখানে বিভিন্ন এজেন্ডার মধ্যে ছিল কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনও। সবগুলো পদের নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। সবার মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের বস হলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাবেক এ সভাপতি।

    সাফের গঠনতন্ত্রের ২৪.২ ধারা অনুযায়ী, কোনো পদের জন্য প্রার্থীর সংখ্যা শূন্যপদের বেশি না হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত বলে গণ্য হন।

    কাজী সালাহউদ্দিন ২০০৯ সাল থেকে সাফের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ নিয়ে তিনি পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হলেন।

    ৭০ বছরের ঊর্ধ্ব কেউ সাফের নির্বাহী কমিটির কোনো পদে প্রার্থী হতে পারবেন না- এত দিন এ কথাই বলা ছিল সাফের গঠনতন্ত্রে। তবে নিয়মটা গত বছর কলম্বোয় সাফের বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বয়সের সীমা তুলে দেওয়া হয়। তাতে নির্বাচন করতে আর কোনো বাধা হয়নি সালাহউদ্দিনের জন্য।

    নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিতে বাংলাদেশ থেকেও বাড়ছে প্রতিনিধিত্ব। বাফুফের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরিফ প্রথমবারের মতো সাফের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য হতে যাচ্ছেন। সহ-সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন শ্রীলঙ্কার জাসওয়ার উমারু লাবে। আর কার্যনির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য হিসেবে থাকছেন মালদ্বীপের হুসাইন শাফিউ।

  • সিলেটে এনসিপির গাড়ি বহরে আবারো হামলা

    সিলেটে এনসিপির গাড়ি বহরে আবারো হামলা

    সিলেট অঞ্চলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) টানা কর্মসূচির মধ্যেই আবারও হামলার শিকার হয়েছেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করে সিলেট জেলা সদর ও জৈন্তাপুর উপজেলার মধ্যবর্তী সড়ক দিয়ে সিলেটে ফেরার পথে তার ওপর এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে এই হামলার ভিডিও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন। হামলায় যাত্রীবাহী গাড়িটির কাঁচ ভেঙে গেছে এবং ভাঙা কাঁচের আঘাতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্তত দুজন রক্তাক্ত হয়েছেন।

    একই তথ্য নিশ্চিত করে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও।

    তিনি লিখেছেন, সিলেটের জৈন্তাপুরে জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে আবারও হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী। হামলাকারীরা গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে। ভাঙা কাঁচে আহত হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দুইজন।

    এদিকে বহরের গাড়িতে থাকা এনসিপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রশক্তির সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক জুবায়ের আহমদ বলেন, জৈন্তাপুরে পথসভা শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর হরিপুর বাজার পার হয়ে চিকনাগুল পৌছার আগে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ এনসিপির বহরের চলন্ত গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির গ্লাস ভেঙে নারীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও রেদোয়ান আহত হন।

    উল্লেখ্য, সিলেট বিভাগে এনসিপির রাজনৈতিক সফরকে কেন্দ্র করে পরপর কয়েকদিন ধরে একাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এর আগে হবিগঞ্জে পদযাত্রা শেষে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যাতে জাতীয় ছাত্রশক্তির বেশ কয়েকজন নেতা আহত হন। পরবর্তীতে সিলেটের গোলাপগঞ্জেও এনসিপি নেতাদের বহরে হামলা চালানো হয়। জৈন্তাপুরের এই সাম্প্রতিক হামলার মধ্য দিয়ে সিলেট অঞ্চলে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে টানা তিনবার এনসিপির বহরে হামলার ঘটনা ঘটল।

  • মাইক্রোপ্লাস্টিক কী, কেন বাড়ছে উদ্বেগ

    মাইক্রোপ্লাস্টিক কী, কেন বাড়ছে উদ্বেগ

    প্রতিদিন সকালে দাঁত ব্রাশ করা, বোতলজাত পানি পান, রাস্তায় ধুলাবালির মধ্যে চলাফেরা কিংবা প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা খাবার খাওয়া—এসব স্বাভাবিক অভ্যাসের মাধ্যমেই অজান্তে শরীরে প্রবেশ করছে মাইক্রোপ্লাস্টিক নামে পরিচিত অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। খালি চোখে দেখা না গেলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় মানুষের রক্ত, ফুসফুস, যকৃত, প্লাসেন্টা এমনকি মস্তিষ্কের টিস্যুতেও এর উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

    সম্প্রতি বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কয়েকটি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টুথপেস্ট এই দূষণের একমাত্র উৎস নয়। প্রতিদিনের খাবার, পানি, বাতাস, প্রসাধনী, পোশাক এবং বিভিন্ন প্লাস্টিকজাত পণ্যের মাধ্যমেও এই ক্ষুদ্র কণা মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে।

    মাইক্রোপ্লাস্টিক বলতে সাধারণত ৫ মিলিমিটারের কম আকারের প্লাস্টিক কণাকে বোঝায়। এর একটি অংশ শিল্পকারখানায় ছোট আকারেই তৈরি হয়, অন্য অংশ তৈরি হয় প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাদ্য মোড়ক, টায়ার ও সিনথেটিক কাপড়সহ বিভিন্ন প্লাস্টিকজাত পণ্য সময়ের সঙ্গে ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হওয়ার মাধ্যমে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশে একবার ছড়িয়ে পড়লে এসব কণা সহজে নষ্ট হয় না। বরং নদী, সমুদ্র, মাটি ও বাতাসে দীর্ঘদিন থেকে খাদ্যচক্রের অংশ হয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি, ঝিনুক, লবণ, বোতলজাত পানি, কলের পানি, চা-ব্যাগ এবং কিছু টুথপেস্ট ও প্রসাধনীতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। আবার গরম খাবার প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা বা দীর্ঘ সময় প্লাস্টিকের বোতলে পানি সংরক্ষণ করলেও খাবার ও পানীয়তে মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    কয়েক বছর আগেও বিষয়টি মূলত পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে এটি জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। গবেষকদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থও শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যা হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া প্রদাহ, কোষের ক্ষতি, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, প্রজননস্বাস্থ্যের জটিলতা, অন্ত্রের জীবাণুর ভারসাম্যহীনতা এবং হৃদ্‌রোগের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়েও গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে। তবে মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। বিশেষ করে শিশুদের শরীর বিকাশমান হওয়ায় দূষণের প্রভাব তাদের ওপর বেশি পড়তে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বাস্তবতায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব না হলেও কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এর ঝুঁকি কমানো যায়। প্লাস্টিকের বদলে কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার, গরম খাবার প্লাস্টিকে না রাখা, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানো, নিরাপদ পানি পান, ঘরের ধুলাবালি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, প্রাকৃতিক তন্তুর পোশাক ব্যবহার এবং টুথপেস্ট ও প্রসাধনী কেনার আগে উপাদান সম্পর্কে সচেতন হওয়া এ ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।

    পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহারে কার্যকর নীতিমালা, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিল্পকারখানার ওপর কঠোর নজরদারি এবং নিরাপদ বিকল্প পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের প্রকৃত মাত্রা ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

  • ঢাবিতে জুলাইয়ের গ্রাফিতি সংরক্ষণে পুনর্লিখন শুরু

    ঢাবিতে জুলাইয়ের গ্রাফিতি সংরক্ষণে পুনর্লিখন শুরু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা জুলাইয়ের গ্রাফিতি পুনরায় রং ও প্রয়োজনীয় অংশ পুনর্লিখনের কাজ শুরু হয়েছে। গ্রাফিতির মূল বৈশিষ্ট্য, চেতনা ও বার্তা অক্ষুণ্ন রেখে তিন দিনব্যাপী এ কার্যক্রম চলবে।

    শনিবার (১ আগস্ট) সকালে উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ, প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং, আরবরি কালচার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ১ থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত উপাচার্য ভবন থেকে রোকেয়া হল পর্যন্ত বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা জুলাইয়ের গ্রাফিতিগুলো পুনরায় রং করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু গ্রাফিতি পুনর্লিখনও করা হবে। এ কাজে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের গ্রাফিতিগুলো তৎকালীন সরকারের দুঃশাসন, নির্যাতন ও নিপীড়নের স্মৃতি বহন করছে। এগুলো সংরক্ষণের মাধ্যমে ওই সময়ের ঘটনাগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

    তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজসহ সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকার হামলা ও দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়। একপর্যায়ে সেই আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন।

    উপাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় শিক্ষার্থীরা দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতির মাধ্যমে নিপীড়ন, প্রতিরোধ ও গণআন্দোলনের নানা চিত্র তুলে ধরেছিলেন। সময়ের সঙ্গে এসব গ্রাফিতি দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হয়ে উঠেছে।

    তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসব গ্রাফিতির মাধ্যমে জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশে যেন কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অমর একুশে হল অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

    এ ছাড়া দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে গত ২৯ জুলাই আনওয়ারুল আজীম চৌধুরী লেকচার গ্যালারিতে ‘জুলাই বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীরা আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে নিজেদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

  • যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে কিউবার পাশে থাকব, বলল চীন

    যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে কিউবার পাশে থাকব, বলল চীন

    কিউবায় সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের নানা বিকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন খতিয়ে দেখছে—এমন সংবাদের পর ওয়াশিংটনকে সামরিক হুমকি ও একতরফা নিষেধাজ্ঞা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে চীন।

    শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানান, বেইজিং পুরো বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছে এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান আগেই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। মাও নিং আরও বলেন, ‘কিউবায় বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে এবং দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চীন দৃঢ়ভাবে পাশে থাকবে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করবে বেইজিং।’

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের একটি প্রতিবেদনের পরই মূলত চীনের এই বক্তব্য এলো। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা কিউবায় সামরিক অভিযানের কয়েকটি রূপরেখা খতিয়ে দেখেছেন। যার মধ্যে ১০১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সেনার মাধ্যমে বিমান হামলার একটি পরিকল্পনাও রয়েছে।

    খবরে বলা হয়, সম্ভাব্য সামরিক অভিযান, সেনার প্রয়োজনীয়তা, রসদ সরবরাহ ও এর ঝুঁকি মূল্যায়নে গত জুনের শেষের দিকে প্রাথমিক একটি বৈঠক করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এ ধরনের আক্রমণের কোনো অনুমোদন দেননি এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি।

    সামরিক পদক্ষেপের খসড়া তৈরি করছে ওয়াশিংটন

    ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নজর ও রসদ ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও হাভানার ওপর ওয়াশিংটন যখন চাপ বাড়াচ্ছিল, তখনই এই খসড়া অভিযানের বিষয়টি সামনে আসে।

    মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কিউবায় যুদ্ধবিমান, গোয়েন্দা নজরদারি প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তর করা বেশ কঠিন। পেন্টাগন অবশ্য কাল্পনিক বা সম্ভাব্য কোনো অভিযান নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।

    এদিকে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস আলাদা এক প্রতিবেদনে জানায়, এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক কোনো আক্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে না। তবে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি মার্কিন খসড়ায় রাখা হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো সময় তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন।

    তবে শুধু মুখের কথায় সীমাবদ্ধ না থেকে সামরিক স্তরে এভাবে স্পষ্ট অভিযানের খসড়া তৈরি করা মূল উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ভেনেজুয়েলা ও ইরানের পর কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে বলে ট্রাম্প এর আগেও বেশ কয়েকবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

    গত মার্চ মাসে তিনি সরাসরি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘পরবর্তী লক্ষ্য কিউবা।’ এমনকি দেশটি বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে পরে আবার বলেন, ‘তা হয়তো বন্ধুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে।’ পরবর্তীতে কিউবার শীর্ষ নেতৃত্বকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে দ্বীপটির কাছে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পরামর্শও দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

    অন্যদিকে, গত জুনে গুয়ান্তানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটি পরিদর্শনের সময় মার্কিন যুদ্ধবিষয়ক সচিব পিট হেগসেথ হাভানাকে কড়া সতর্কবার্তা দেন। তিনি জানান, মার্কিন মূল ভূখণ্ড বা ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম এমন কোনো অস্ত্র যেন কিউবা সংগ্রহ না করে। তেমন কিছু করলে এমন সংঘাতের সৃষ্টি হবে, যা সামলানোর ক্ষমতা কিউবার নেই।

  • সৌদির নেতৃত্বে ১৪ দেশের প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ

    সৌদির নেতৃত্বে ১৪ দেশের প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ

    লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক ও জ্বালানি পরিবহন নিরাপদ রাখতে একটি বহুমুখী প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামের এই জোটে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশ একযোগে স্বাক্ষর করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

    ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মুখে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয় বলে জানানো হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে নিরাপদ রাখাই এই প্রতিরক্ষা জোটের মূল লক্ষ্য।

    জোট গঠনের লক্ষ্যে আমন্ত্রণ জানানো ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাড়াও তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কমোরোস এই জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এতে স্বাক্ষর করেনি।


    সৌদি আরবে এই জোটের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হবে। জোটভুক্ত দেশগুলো নিজেদের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং যৌথ নৌ মহড়া পরিচালনা করবে। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই জোটটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং এটি নির্দিষ্ট কোনো দেশকে লক্ষ্য করে গঠিত হয়নি। অন্যান্য দেশের জন্যও এই জোটে যোগ দেওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে। কিছু দেশ অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর জোটে যোগ দিবে বলে জানিয়েছে।


    মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ব বাজারের অর্ধেকের বেশি তেল ও গ্যাস সরবরাহ এখন লোহিত সাগরের এই বিকল্প রুটের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ ভাগ পণ্য এবং প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল এই বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই সংকটাপন্ন স্থানে হুথিদের হামলা বন্ধ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ১৪ দেশের জোট অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • দুর্ঘটনা ঠেকাতে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের ঝোপঝাড় পরিষ্কার

    দুর্ঘটনা ঠেকাতে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের ঝোপঝাড় পরিষ্কার

    সাগরদিঘী-ভরাডোবা এবং সাগরদিঘী-ঘাটাইল সড়ক দু’টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়কের দুই পাশে ঘন ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গেছে মূল সড়কের দুইপাশ। কোথাও কোথাও সড়কের উভয় পাশে বেড়ে ওঠা ঝোপঝাড় আর লতাগুল্ম যেনো সড়কটিকে বেদখলে রেখেছে। এ কারণে সড়ক কিছুটা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সড়কটিতে ঘন ঘন বাঁক থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা এখানে নিত্য নৈমিত্তি ব্যাপার।

    এ পরিস্থিতিতে সড়কের দুই পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে সাধারণের চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে ও সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমাতে উদ্যোগ নেন ঘাটাইল উপজেলার শহরগোপীনপুর এলাকার চার তরুণ। তারা হলেন আবু রায়হান, মো: কবির হোসেন, মো: আছাদুল ও মো: জসিম।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্বেচ্ছাশ্রমে সাগরদিঘী-ভরাডোবা রাস্তার দু’পাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা পরিষ্কার করেছেন এই তরুণরা। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে তারা আশপাশের সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাবেন।

    রায়হান বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ঘাটাইল-সাগরদিঘী, সাগরদিঘী-ভরাডোবা, সখিপুর-কালিহাতি, ঘাটাইল-মধুপুর সড়ক এবং সাগরদিঘী-গারোবাজার সড়কের বিপদজনক সব মোড়ের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করেছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তাই আমাদের দলের নাম রাখা হয় রোড কেয়ার বাংলাদেশ (আরসিবি)। আমাদের ভিডিও ও কার্যক্রম দেখে বিভিন্ন এলাকার মানুষ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোর তথ্য ও ছবি পাঠিয়ে আমাদের জানান। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেই স্থানগুলোতে কাজ করার চেষ্টা করি, যাতে মানুষের চলাচলের ভোগান্তি কমে এবং সবাই নিরাপদে ও সঠিকভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। বর্তমানে আমাদের দলে ৪ জন সদস্য রয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, সবার সহযোগিতা ও দোয়া থাকলে ভবিষ্যতেও মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

    স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সাগরদিঘী-ভরাডোবা সড়কে অসংখ্য বাঁক রয়েছে। তাছাড়া সড়কের দুইপাশের ঝোপঝাড় সড়কটিকে আরো সংকীর্ণ করে ফেলেছে। ফলে এ সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা হতো। বিষয়টি আমলে নিয়ে আরসিবি টিমের সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের দু’ধার পরিষ্কার করেন। এতে সড়কের চিত্র পুরোটাই পাল্টে গেছে।

    আরসিবি টিমকে সাধুবাদ জানিয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল ইসলাম বলেন, ‘যদিও কাজটি আমাদের করার কথা কিন্তু সীমাবদ্ধতার কারণে বৃহৎ আকারে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হয়ে ওঠে না। তরুণদের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রসংশনীয়।’

  • ইউপি নির্বাচনে এসএসসি-এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক: সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো দাবি ভুয়া

    ইউপি নির্বাচনে এসএসসি-এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক: সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো দাবি ভুয়া

    ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং সদস্য (মেম্বার) পদে এসএসসি সনদের মূল কপি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া। নির্বাচন কমিশন এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপন জারি করেনি।

    সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবের বরাতে একটি দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ’ শিরোনামে একটি কথিত পত্রিকার কাটিংও প্রচার করা হয়, যা বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে তোলে।

    ‘Md Mohiuddin’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২৮ জুলাই প্রকাশিত একটি পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টটিতে হাজারো প্রতিক্রিয়া, শতাধিক মন্তব্য ও শেয়ার দেখা যায়। অনেক ব্যবহারকারী দাবিটিকে সমর্থন করলেও অনেকে এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের এমন কোনো সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশিত হয়নি। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও ইউপি চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রার্থিতার জন্য এসএসসি বা এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক করার কোনো প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনা নেই।

    এছাড়া ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন পর্যালোচনায়ও এমন কোনো বিধান পাওয়া যায়নি। আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী, ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।

    তবে গত ২২ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য অন্তত স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না—এ মর্মে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত স্থানীয় সরকারসচিব, আইনসচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দিতে নির্দেশ দেন।

    রিটকারীদের দাবি, ইউপি চেয়ারম্যানরা গ্রাম আদালত আইনের অধীনে বিচারিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। তাই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

    এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, ইউপি চেয়ারম্যান পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে এখনো নির্বাচন কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। হাইকোর্টের রুল, বিদ্যমান আইন, পার্শ্ববর্তী দেশের আইন এবং আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    বর্তমানে কার্যকর আইন অনুযায়ী ইউপি চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি বা স্নাতক পাস এবং সদস্য পদে এসএসসি সনদের মূল কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ফলে সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নামে প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া।

  • পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করবে ভারত সরকার

    পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করবে ভারত সরকার

    বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় কনস্যুলার সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলা উচিত। এ ব্যবস্থার আওতায় নিয়মিত ভিসানীতি পর্যালোচনা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং বৈধ ভ্রমণকারীদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে।কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও সীমিত হওয়া এবং নিরাপত্তা–সংক্রান্ত কড়াকড়ি বৃদ্ধি পেলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

    ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নসংক্রান্ত সরকারি জবাবে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) যেন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশে ভিসা কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে।

    প্রতিবেদনে কমিটি সুপারিশ করেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় কনস্যুলার সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলা উচিত। এ ব্যবস্থার আওতায় নিয়মিত ভিসানীতি পর্যালোচনা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং বৈধ ভ্রমণকারীদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার কমিটিকে জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত তার মানবিক নীতি অনুসরণ করেছে। তবে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

  • বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

    বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

    বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিনদিন বাড়ছে। এই বাণিজ্য চালিয়ে যেতে মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বাড়ছে।

    লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার আজ শুক্রবার বিনিময় হার :

    বৈদেশিক মুদ্রা – বাংলাদেশি টাকা

    মালয়েশিয়ান ১ রিংগিত ৩০ টাকা ৩১ পয়সা

    সৌদির ১ রিয়াল ৩২ টাকা ৮৯ পয়সা

    মার্কিন ১ ডলার ১২৩ টাকা ৩৬ পয়সা

    ইউরোপীয় ১ ইউরো ১৪৪ টাকা ০৩ পয়সা

    ইতালিয়ান ১ ইউরো ১৪৪ টাকা ০৩ পয়সা

    ব্রিটেনের ১ পাউন্ড ১৬৫ টাকা ৬২ পয়সা

    সিঙ্গাপুরের ১ ডলার ৯৬ টাকা ৮০ পয়সা

    অস্ট্রেলিয়ান ১ ডলার ৮৭ টাকা ১৮ পয়সা

    নিউজিল্যান্ডের ১ ডলার ৭২ টাকা ৮১ পয়সা

    কানাডিয়ান ১ ডলার ৮৮ টাকা ১০ পয়সা

    ইউ এ ই ১ দিরহাম ৩৩ টাকা ৭২ পয়সা

    ওমানি ১ রিয়াল ৩২০ টাকা ৫০ পয়সা

    বাহরাইনি ১ দিনার ৩২৮ টাকা ৬৫ পয়সা

    কাতারি ১ রিয়াল ৩৪ টাকা ০১ পয়সা

    কুয়েতি ১ দিনার ৪০২ টাকা ৪৪ পয়সা

    সুইজারল্যান্ডের ১ ফ্রেঞ্চ ১৪৯ টাকা ৯০ পয়সা

    দক্ষিণ আফ্রিকান ১ রান্ড ৭ টাকা ৪৮ পয়সা

    জাপানি ১ ইয়েন ০.৭৮০ টাকা

    ইন্ডিয়ান ১ রুপি ১ টাকা ২৫ পয়সা

  • গণপরিবহনে কাল থেকে জিপিএস বাধ্যতামূলক

    গণপরিবহনে কাল থেকে জিপিএস বাধ্যতামূলক

    দেশের সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে শনিবার (১ আগস্ট) থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এদিন থেকে নতুন নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং মোবাইল অ্যাপে এর কার্যকারিতা দেখাতে হবে।

    সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য গণপরিবহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, রুট ব্যবস্থাপনা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করলেই কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। এর পাশাপাশি কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারও নিশ্চিত করতে হবে।

    দেশের সড়কে প্রতিদিনই গণপরিবহনের নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় বাসের বেপরোয়া রেষারেষি, যেখানে-সেখানে থেমে যাত্রী ওঠানামা এবং একাধিক লেন দখল করে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে প্রায়ই সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক যান চলাচল।

    এ পরিস্থিতিতে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপন ও সচল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির গাড়িতে জিপিএস সংযোজনের বিষয়ে এরই মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে। তবে আগামী ১ আগস্ট থেকেই সব গাড়িতে এটি পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হবে না। এজন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন।

    সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

    বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন কোনো গাড়ি নিবন্ধনের জন্য এলে সেটিতে জিপিএস সংযুক্ত থাকতে হবে। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও জিপিএস থাকা বাধ্যতামূলক। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও তৈরি করছে, যাতে সহজেই কোনো গাড়িতে জিপিএস সংযুক্ত ও সচল রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা যায়।

    এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তবে তাদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও জবাবদিহিও বাড়াতে হবে।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কারও করতে হবে। সুশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেই এর সুফল পাওয়া সম্ভব।

    বিশ্লেষকদের মতে, গণপরিবহনে জিপিএস চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ যানবাহনে জিপিএস সংযোজন কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

  • বিজেপির মুখপাত্রের পদত্যাগ

    বিজেপির মুখপাত্রের পদত্যাগ

    ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্যতম পরিচিত মুখ এবং জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনেওয়ালার আকস্মিক পদত্যাগ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কিনা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেহজাদ পুনেওয়ালা নিজেই। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেন তিনি। সেখানে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র পরিচয়টি সরিয়ে দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আজীবন অনুসারী হিসেবে নিজের পরিচয় বহাল রাখেন। পাশাপাশি তিনি নিজের ধর্ম, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও আদর্শের কথাও উল্লেখ করেন।

    দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন আলোচনায় বিজেপির অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন শেহজাদ। সরকারের নীতি এবং দলের অবস্থান তুলে ধরতে তিনি নিয়মিত সেখানে অংশ নিতেন। তীক্ষ্ণ বক্তব্য এবং আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক ভাষার কারণে তিনি দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন।

    শেহজাদের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল কংগ্রেসের মাধ্যমে। আইনজীবী পেশার পাশাপাশি তিনি দলের তরুণ মুখ হিসেবে পরিচিতি পান। তবে ২০১৭ সালে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলে তিনি আলোচনায় আসেন। সে সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন নিরপেক্ষ ছিল না এবং পুরো প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট নেতৃত্বকে সুবিধা দেওয়ার জন্য পরিচালিত হয়েছে।

    এরপর কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শেহজাদ। অল্প সময়ের মধ্যেই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করে জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব পান। এরপর থেকে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবেই তাকে দেখা গেছে।

    সম্প্রতি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের অংশ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন শেহজাদ। সেখানে তার বক্তব্যে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। সেই জল্পনার মধ্যেই এলো তার পদত্যাগের ঘোষণা। শেহজাদ পুনেওয়ালা পরিচিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক তেহসিন পুনেওয়ালার ছোট ভাই। দুই ভাইয়ের রাজনৈতিক অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই সম্পূর্ণ ভিন্ন। শেহজাদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাদের মধ্যে মতাদর্শিক দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সরাসরি আলোচনায় দুই ভাইকে একে অপরের কঠোর সমালোচনা করতেও দেখা গেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য পারিবারিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।

    এদিকে শেহজাদের পদত্যাগ নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। দলও ব্যক্তিগত কারণের বাইরে অন্য কোনো বিষয় উল্লেখ করেনি। ফলে তার এই সিদ্ধান্ত শুধুই ব্যক্তিগত, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক কারণ রয়েছে- তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত একজন মুখপাত্রের আকস্মিক পদত্যাগ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত এসেছে, যখন বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে বিজেপি বিরোধীদের সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ে রয়েছে।

    শেহজাদ ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন, নাকি অন্য কোনো ভূমিকায় নিজেকে যুক্ত করবেন- সে বিষয়েও এখনো কিছু জানাননি। ফলে তার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

  • আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী ‘জুলাই জাগরণ (সিজন-২)’

    আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী ‘জুলাই জাগরণ (সিজন-২)’

    জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘শিশুদের চোখে জুলাই’ প্রতিপাদ্যে চার দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব ‘জুলাই জাগরণ (সিজন-২)’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী। আগামী ১ থেকে ৪ আগস্ট ঢাকার শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন।

    উৎসবে জুলাই বিপ্লবে নিহত শিশুদের স্মরণ, তাদের আত্মত্যাগ ও স্মৃতিকে শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, নাটক, আবৃত্তি, বিশেষ প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শিশুদের জন্য নানা আয়োজন থাকবে।

    শনিবার (৩১ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজকরা। সংবাদ সম্মেলনে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শহীদ ও

    সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বলা হয়, শহীদ শিশুদের আত্মত্যাগকে জাতির সামনে তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব। সেই লক্ষ্য থেকেই ‘শিশুদের চোখে জুলাই’ শীর্ষক এ আয়োজনের মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, শিশুদের স্বপ্ন, ভয়, সাহস ও আত্মত্যাগকে শিল্প-সংস্কৃতির ভাষায় উপস্থাপন করা হবে।

    বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ২০২৫ সালে অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত ‘৩৬ জুলাই কালচারাল ফেস্ট- জুলাই জাগরণ’ ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পায়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আরও বৃহৎ পরিসরে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হবে ‘জুলাই জাগরণ (সিজন-২)’।

    চার দিনব্যাপী এ উৎসবে থাকবে জুলাই আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও ডকুফিল্ম প্রদর্শনী, মঞ্চনাটক, আবৃত্তি, ‘আয়নাঘর’ বিশেষ প্রদর্শনী, শিশুদের জন্য কিডস জোন, প্রতিদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জুলাই আন্দোলনের ঐতিহাসিক স্থান নিয়ে মিনিয়েচার জোন, স্মৃতি ও শ্রদ্ধার কবরস্থান কর্নার, জুলাই বায়স্কোপ, ধ্বংসযজ্ঞ প্রদর্শনী, ‘বখতিয়ার থেকে জুলাই’ প্রদর্শনী, আইকনিক কর্নার, ক্যারিকেচার, ‘রাজা হবে খান খান’ প্রদর্শনী, জুলাই প্রকাশনা স্টল এবং ১৩৩ শহীদ শিশুর স্মরণে বিশেষ প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন আয়োজন।

    উৎসব প্রতিদিন তিনটি অধিবেশনে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত প্রথম অধিবেশনে চলচ্চিত্র, ডকুফিল্ম ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দ্বিতীয় অধিবেশনে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের স্মৃতিচারণ এবং জুলাইয়ের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হবে। আর সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তৃতীয় অধিবেশনে জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিশুদের পরিবেশনার পাশাপাশি মঞ্চনাটক অনুষ্ঠিত হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উৎসবে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, অভিনেতা, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, আলেম, সামাজিক কর্মী, পরিচালক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা উপস্থিত থাকবেন।

  • বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩, উদ্ধার ১৮

    বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩, উদ্ধার ১৮

    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেরা ১৮ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। নৌকায় থাকা মাঝিমাল্লাসহ আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের দাবি, নিখোঁজদের কেউ কেউ সাঁতরে অন্যত্র উঠেছেন। উদ্ধার হওয়া ১৮ জনকে টেকনাফ-২ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকা ঘাটসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় জেলে এনায়েত জানান, মোট ৩১ জন লোক নিয়ে নৌকাটি শাহপরীরদ্বীপ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে ডুবে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন।

    সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, মিয়ানমারে সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির চলমান সংঘর্ষের কারণে তাঁরা বাংলাদেশে আশ্রয়ের উদ্দেশে পালিয়ে আসছিলেন। শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে পৌঁছার পর নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জীবিতদের উদ্ধার করে।

    উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের এক আত্মীয় নুরুল আমিন দাবি করেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন এবং আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাঁরা পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করলে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

    এ দিকে আজ বিকেল ৫টার দিকে বিজিবি উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের টেকনাফ মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

  • অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক বসাতে ভারতের তদন্তের মুখে বাংলাদেশ, যোগ হলো আরেক পণ্য

    অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক বসাতে ভারতের তদন্তের মুখে বাংলাদেশ, যোগ হলো আরেক পণ্য

    বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হওয়া পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি) ফিল্মের বিরুদ্ধে অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্ত শুরু করেছে ভারত। পিইটি ফিল্ম মূলত খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী ও শিল্পপণ্যের মোড়ক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

    তদন্তের অংশ হিসেবে আগামী ৬ আগস্ট ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে মৌখিক শুনানির আয়োজন করেছে দেশটির বাণিজ্য প্রতিকার মহাপরিদপ্তর (ডিজিটিআর)। ডিজিটিআর ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সংস্থা। বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    ডিজিটিআর ১৩ জুলাই এক চিঠিতে শুনানি আয়োজনের কথা জানিয়েছে। চিঠিতে বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন ও থাইল্যান্ড থেকে ভারতে রপ্তানি হওয়া পিইটি ফিল্মের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

    ভারতীয় উৎপাদকদের অভিযোগ আমলে নিয়ে এ শুনানির আয়োজন করা হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানায়। বাংলাদেশ, চীন ও থাইল্যান্ড থেকে ডাম্পিং মূল্যে পিইটি ফিল্ম ভারতে রপ্তানি হচ্ছে বলে ভারতীয় উৎপাদকদের অভিযোগ। তাদের দাবি, এতে ভারতীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এই পণ্যের ওপর অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা উচিত।

    অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক কী

    অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক হলো এমন একটি অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, যা কোনো দেশ তখন আরোপ করে, যখন ওই দেশের কর্তৃপক্ষের ধারণা হয়, বিদেশি প্রতিষ্ঠান অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রি করে তাদের দেশের শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    তদন্তে কী হয়

    তদন্তের এ পর্যায়ে বাংলাদেশের রপ্তানিকারক, ভারতীয় উৎপাদক, আমদানিকারক ও অন্য অংশীজনেরা নিজেদের অবস্থান ও যুক্তি তুলে ধরবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেডের পাশাপাশি নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন ও ভারতের আবেদনকারী তিন প্রতিষ্ঠান—চিরিপাল পলি ফিল্মস লিমিটেড, ইস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও ভ্যাকমেট ইন্ডিয়া লিমিটেডকে পক্ষ করা হয়েছে।

    ভারতের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, শুনানিতে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আগেই প্রতিষ্ঠানের নাম, দেশের নাম, দেশের কোড নম্বর, ই–মেইল ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, অফিসের নম্বর ও অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা বা আইনজীবীদের পরিচয় জমা দিতে হবে। শুনানিতে উপস্থাপিত বক্তব্য পরবর্তী সময়ে লিখিত আকারেও দাখিল করতে হবে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের জন্য এই তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পিইটি ফিল্ম দেশের সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্যগুলোর একটি এবং ভারত এই পণ্যের অন্যতম বাজার। ভারতীয় উৎপাদকদের অভিযোগের ভিত্তিতেই ডিজিটিআর অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্ত শুরু করেছে। তবে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও হয়নি।

    জানা গেছে, বর্তমান শুনানির উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ গ্রহণ করা। প্রথমে মৌখিক শুনানি হবে। এরপর লিখিত বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য–উপাত্ত পর্যালোচনা করে তদন্ত এগিয়ে যাবে।

    অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্তের ক্ষেত্রে মৌখিক শুনানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ পর্যায়ে অংশীজনদের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে ভারত সরকার প্রয়োজন মনে করলে অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করতে পারে। আবার অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ না পেলে তদন্তও শেষ করে দিতে পারে।

    যোগাযোগ করলে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির গত সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা পিইটি ফিল্মের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য–উপাত্ত নেব এবং ভারত সরকারকে অনুরোধ করব, তারা যেন এর ওপর অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক আরোপ না করে।’ কবে অনুরোধ করা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শিগগিরই করব।’

    ডাম্পিং হয়নি, দাবি আকিজের

    বাংলাদেশ থেকে ভারতে পিইটি ফিল্মের অন্যতম রপ্তানিকারক আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেড। এটি আকিজ বশির গ্রুপের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান, যা ২০১৯ সালে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করে। ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত এ কারখানায় পিইটি ফিল্ম তৈরি হয়। এই ফিল্ম মূলত প্যাকেজিং–শিল্পে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ফিল্ম। বর্তমানে এটি দেশের একমাত্র বড় উৎপাদক এবং ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এই পণ্য রপ্তানি করে।

    পিইটি ফিল্মের পাশাপাশি কোম্পানিটি বাইঅ্যাক্সিয়ালি ওরিয়েন্টেড পলিপ্রোপিলিন (বিওপিপি), কাস্ট পলিপ্রোপিলিন (সিপিপি) ও স্ট্রেস ফিল্ম উৎপাদন করে। কোম্পানিটির দাবি, বছরে প্রায় ১০ হাজার টন পিইটি ফিল্ম রপ্তানি করা হয় এবং বাকি উৎপাদন দেশের বাজারে বিক্রি হয়। যাত্রার সময় প্রতিষ্ঠানটি বছরে ৪২ হাজার টনের বেশি উৎপাদন সক্ষমতার কথা জানিয়েছিল।

    যোগাযোগ করলে আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেডের অন্যতম কর্ণধার শেখ বশিরউদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের রপ্তানি বাজারভিত্তিক এবং কোনো ডাম্পিং হয়নি। শুনানিতে তাঁরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    ভারতভিত্তিক বেসরকারি বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ওরিয়ন মার্কেট রিসার্চের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পিইটি ফিল্মের বাজারের আকার এখন প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০৩০ সাল নাগাদ এই বাজার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস রয়েছে।

    পিইটি ফিল্ম বাংলাদেশি পণ্যের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্ত নয়। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক বহাল রয়েছে। সম্প্রতি এর মধ্যবর্তী পর্যালোচনা শেষে নতুনভাবে শুল্ক বহালের সুপারিশ করেছে ভারতের ডিজিটিআর। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া হাইড্রোজেন পারক্সাইডের ওপরও ভারতের অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক কার্যকর রয়েছে।

    অতীতে বাংলাদেশের রহিমআফরোজের ব্যাটারির বিরুদ্ধেও অ্যান্টি–ডাম্পিং ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ভারত। পরে বিষয়টি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাঠামোয় আলোচনায় গেলে ভারত সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসে। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া ফ্লোট গ্লাস ও ফিশিং নেটের বিরুদ্ধেও ভারত অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্ত সম্পন্ন করেছে। ভবিষ্যতে এগুলোর ওপরও অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক আরোপের আশঙ্কা রয়েছে।

    বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও গ্যাস–সংকটের বাস্তবতায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন খরচের কম দামে ভারতে কোনো পণ্য রপ্তানি করছে, এমনটি বিশ্বাস করা যায় না। রহিমআফরোজের ব্যাটারি নিয়ে ডব্লিউটিওর কাছে যাওয়ার পর আলোচনা পর্যায়ের ৬০ দিনের মধ্যেই ভারত অভিযোগ তুলে নিয়েছিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ডব্লিউটিওর কাছে যাওয়ার আরও উদাহরণ তৈরি করতে পারলে প্রতিকার পাওয়া যাবে বলে আমি আস্থা রাখি।’

  • জুলাই পদযাত্রায় চোখ হারানো কিশোর আলিফকে দেখতে গেলেন জামায়াত আমির

    জুলাই পদযাত্রায় চোখ হারানো কিশোর আলিফকে দেখতে গেলেন জামায়াত আমির

    হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত ও একটি চোখ হারানো কিশোর আলিফকে দেখতে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে গেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে তিনি হাসপাতালে গিয়ে আলিফের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

    এর আগে, হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’য় হামলার ঘটনায় কিশোর আলিফ গুরুতর আহত হন। চোখে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তার একটি চোখ রক্ষা করতে পারেননি।

  • জেলে নিলে জেলে যাব, মেরে ফেললে কবরে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জেলে নিলে জেলে যাব, মেরে ফেললে কবরে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, জেলে নিয়ে গেলে জেলে যাব, আর মেরে ফেললে কবরে চলে যাব। মামলা-হামলা দিয়ে আমাদের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না। মানুষ ভয় পায়, আমরাও ভয় পাই। কিন্তু ভয় পেয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেব না।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পদযাত্রা ও সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার পর এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে দায়ের করা অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এনসিপি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। মামলা দিয়ে কিংবা হামলা চালিয়ে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম থামানো সম্ভব নয়।

    দায়ের করা মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মামলায় হামলা, হয়রানি ও ছিনতাইয়ের মতো যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, আমি মামলাগুলো দেখেছি। সেখানে লেখা হয়েছে আমরা হামলা করেছি, হয়রানি করেছি, ছিনতাই করেছি। এসব কতটুকু সত্য, তা দেশবাসী নিজের চোখেই দেখেছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই এসব মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তার ভাষায়, “তাদের নতুন সরকার যদি মামলাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করতে চায়, করুক। কিন্তু একদিন এসবেরও শেষ হবে।”

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে “গ্যাংবাজির সংস্কৃতি” প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে অভিযোগ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, “রাজনীতির নামে গ্যাংবাজি চলছে। যদি গ্যাংবাজিই করতে চান, তাহলে রাজনীতির নামে না করে সরাসরি গ্যাংবাজির ঘোষণা দিন।”

    মামলায় আইফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “তারা বলছে আইফোন ছিনতাই হয়েছে। সেটি কি জি কে গাউসের আইফোন, নাকি তারেক রহমানের আইফোন ছিল? এমন অভিযোগ অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও অভিযোগ করেন, দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “জি কে গাউস, নুরু, সালাউদ্দিনসহ একটি গ্যাং চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে গুলশানের অফিসে জমা দেয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

    পাল্টা মামলা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। সেই ঘটনায় আমরা মামলা করেছি। এরপর তারা পাল্টা একটি মামলা করেছে। ঘটনাটি এতটুকুই।”

    তিনি আবারও বলেন, “মানুষ ভয় পায়, আমরাও ভয় পাই। কিন্তু ভয় পেয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেব না। মামলা-হামলা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।”

    উল্লেখ্য, হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগ নিয়েই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।টওয়ারী।

  • মরিচ চাষে ধস, দিশেহারা কৃষক

    মরিচ চাষে ধস, দিশেহারা কৃষক

    টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভারী বৃষ্টিতে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার মরিচক্ষেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পচে ও মারা গেছে অধিকাংশ মরিচগাছ। এতে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। কৃষিপ্রধান উপজেলা হিসেবে পরিচিত মধুখালীতে চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ করা হয়েছে।

    কৃষকদের দাবি, টানা বৃষ্টিতে এর মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উপজেলার রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নের মরিচচাষিরা।রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের কৃষক মো. টুকু মণ্ডল জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে তার পুরো ক্ষেতের মরিচগাছ মারা গেছে। এখন মরিচক্ষেত তুলে সেখানে ধানের আবাদ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

    টুকু মণ্ডল বলেন, ‘চাষে যে পরিমাণ খরচ করেছি, তার অর্ধেকও তুলতে পারিনি। সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়, তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।’

    আরেক কৃষক মো. খসরু মিয়া বলেন, ‘সার ও কীটনাশকের দাম অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছি। সরকারের সহযোগিতা পেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।’

    কৃষক মো. শফিক শেখ বলেন, ‘মরিচগাছ আর বাঁচবে না। তাই ক্ষেতের গাছ তুলে এখন ধানের আবাদ করাই একমাত্র উপায়।’

    কৃষক মো. লালচান মোল্লা বলেন, ‘সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা আবার কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে পারব।’

    এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী বলেন, ‘মধুখালী উপজেলায় এ বছর ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ হয়েছে। তবে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অনেক মরিচক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অনেক ক্ষেতের মরিচগাছ মারা গেছে এবং কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’

    তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য কৃষকদেরও সরকারি সহায়তার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • সরকার নিজেই দাবি করছে দুর্নীতি বেড়েছে: জামায়াত আমির

    সরকার নিজেই দাবি করছে দুর্নীতি বেড়েছে: জামায়াত আমির

    দেশে দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি বর্তমান বিএনপি সরকার নিজেই দাবি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মলনে যোগ দিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল ১ আগস্ট। আর তাদের দেশ ছাড়তে হয়েছে ৫ আগস্ট।’

    চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে শ্রমিক সমাজ সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি প্রাণ এই সমাজই হারিয়েছে। এরা কোটার বিরুদ্ধে নয় বরং বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আন্দোলনে নেমেছিল।’

    বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার চেষ্টা করছে সবাইকে চাকরি দিতে। চাকরি তিনি দিয়েছেন ঠিকই, তবে টেম্পু স্টেশনে৷ এই চাকরি বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করে।’

    দুর্নীতি ইস্যুতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নব নির্বাচিত সরকার নিজেই দাবি করছে দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা দেখি তারেক রহমানের ইশারায় সব চলে, তাহলে তার ইশারায় দুর্নীতি বন্ধ হয় না কেন?’

    নৈতিক দিক থেকে সরকার দেশ চালাতে ব্যার্থ হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজদের কাছে বিভিন্নভাবে পরিবহন শ্রমিকরা হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। সরকারি দল থেকে এগুলো করা হচ্ছে।

    জুলাই যোদ্ধাদের প্রাপ্য সম্মান দেয়ার দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘৭০ শতাংশ মানুষ গনভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। সরকার যদি গণতান্ত্রিক হয় তবে তাদের এই রায় মানতে হবে।’

  • জুলাই সনদের আলোকেই আইন সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে: আইনমন্ত্রী

    জুলাই সনদের আলোকেই আইন সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে: আইনমন্ত্রী

    আইন সংস্কার কমিশনের দেওয়া প্রস্তাবনাগুলো ‘জুলাই সনদের’ আলোকেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আজ শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে আয়োজিত এক বৃক্ষমেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

    মন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইন সংস্কার কমিশন ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। যার প্রায় সবগুলোই আমরা গ্রহণ করেছি।’

    একই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন খাত উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে এনসিপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি এনসিপির বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত’ বলে অভিহিত করেন।

    রাশেদ খান বলেন, ‘আমরা এনসিপিকে পরামর্শ দেব নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বাদ দিয়ে তারা দেশের যেখানেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাক না কেন, বিএনপি তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে।’

    ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

  • এখন বিএনপির অবস্থা ব্রেইনলেস আওয়ামী লীগের মতো: সারজিস আলম

    এখন বিএনপির অবস্থা ব্রেইনলেস আওয়ামী লীগের মতো: সারজিস আলম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, বর্তমানে বিএনপি যেভাবে আমাদেরকে বাধা দেওয়ার, প্রতিরোধ করার, গলা টিপে ধরার চেষ্টা করছে, এটা হচ্ছে ব্রেইনলেস আওয়ামী লীগের মতো। মানে তাদের তো ওইটুকু ছিল, এরা ওইটুকুও শো করতে পারছে না।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

    হবিগঞ্জে সাম্প্রতিক মামলা প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, এনসিপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে বিএনপি এমন আচরণ করছে, যা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এনসিপিকে রাজনৈতিকভাবে দমিয়ে রাখতে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে, গলা টিপে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    আমরা শুনলাম আমাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে। আসলে ছিনতাই একটা হয়েছে, তারেক রহমান ও বিএনপির মান-সম্মানের ছিনতাই হয়েছে। কিন্তু ছিনতাই তারা করেছে। তাদের কাজের মাধ্যমে ছিনতাই করেছে। এখন বাংলাদেশের মানুষের সামনে তাদের তো মুখ দেখানোর মতো অবস্থা নেই। এইজন্য মানে তাদের এখন অবস্থা।

    তিনি বলেন, যারা ছাত্রদলের হয়ে এটা করেছে, তারা কতটা অথর্ব হলে এত মান-সম্মান চলে যাওয়ার পরে আবার এমন একটা কাজ করে, যেটা দিয়ে মানুষের কাছে হাসির খোরাক হয়। এটা হচ্ছে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থা।

    সারজিস আলম আরও বলেন, এখন আমি তো শুধু এটাই চিন্তা করি যে যেখানে মামলাটা নেওয়া হলো, যে মামলাটা লিখেছে। সেও হয়তো যারা মামলাটা লিখতে বাধ্য করেছে মনে মনে তাদেরকে গালি দিচ্ছিল।

  • হুতিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযানে যাচ্ছে সৌদি

    হুতিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযানে যাচ্ছে সৌদি

    দক্ষিণ লোহিত সাগরে নিজের তেল রপ্তানির ওপর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দেওয়া অবরোধ ভাঙতে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। মধ্য ইয়েমেনে সমুদ্রপথে এবং সম্ভব হলে স্থলপথে এই অভিযান পরিচালিত হতে পারে বলে ইয়েমেনি সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

    ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে ইতোমধ্যে সৌদি বাহিনীকে সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, স্থল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবেই এই সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। একই সময়ে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্য জাহাজের নিরাপত্তা রক্ষায় একটি বহুজাতিক নৌ জোট গঠনের চেষ্টা জোরদার করেছে রিয়াদ।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের প্রস্তাবিত বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের সমর্থনে বাংলাদেশ, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান ও জিবুতিসহ ১৪টি দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। এ ছাড়া লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রতিরক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালিকে এই জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ।

    উল্লেখ্য, লোহিত সাগরে নৌচলাচল নিরাপদ রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘অ্যাসপিডিস’ নামে একটি নৌ-নিরাপত্তা মিশন আগে থেকেই কার্যকর রয়েছে।

    ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ লোহিত সাগরের বিস্তীর্ণ উপকূল বর্তমানে ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত ২০ জুলাই হুতিরা সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয়। তবে সব ধরনের জাহাজের ওপর কর চাপানোর পরিকল্পনার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেছে।

    হুতিদের দাবি, সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিলেই কেবল তারা নিজেদের এই অবরোধ প্রত্যাহার করবে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকারের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল সৌদি আরব।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে আরব উপদ্বীপের অপর পাশে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় সৌদি তেলের জন্য লোহিত সাগর রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে সৌদি অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। তবে বর্তমানে তাদের অর্ধেকেরও বেশি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়াঙ্কু বন্দরে এনে বাজারজাত করা হচ্ছে।

    সম্প্রতি হুতি বিদ্রোহীরা রিয়াদের বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরদার করেছে। গত ২৫ জুলাই তারা সৌদি আরবের ভেতরের কৌশলগত তেল অবকাঠামোতে হামলার দাবি করে। এর আগে সৌদি বিমানবাহিনী ইয়েমেনের হুদাইদাহ বন্দরে হুতি অবস্থানগুলোতে হামলা চালায় এবং লোহিত সাগরে একটি সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়।

    চলমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক করেছেন। তবে সৌদি আরব স্পষ্ট জানিয়েছে, নিজেদের তেল শিল্প রক্ষায় তারা প্রস্তুত থাকলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাড়াতে চায় না। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিরোধ এখনো কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান সম্ভব বলে মনে করে রিয়াদ।

    একই সঙ্গে ইরাকের তেল অবকাঠামোতে সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার জবাবে গত বুধবার ইরাকে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই যৌথ মার্কিন-সৌদি হামলা ইরাক সরকারের সম্মতিতেই হয়েছে, যদিও বাগদাদ এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

    ইয়েমেনি সূত্রগুলো জানিয়েছে, মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-বায়দা প্রদেশ পুনরুদ্ধারে সৌদি বাহিনী জমায়েত হচ্ছে। ২০২০-২১ সালে অঞ্চলটি দখল করে নিয়েছিল হুতিরা। যদি ওমান ও ইরানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার কোনো সমঝোতা হয়, তবে ইয়েমেনের এই উত্তেজনা কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • কমল নীতি সুদহার, কমবে ব্যাংক ঋণের সুদ

    কমল নীতি সুদহার, কমবে ব্যাংক ঋণের সুদ

    দীর্ঘ ২১ মাস পর নীতি সুদহার বা রেপো রেট কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে নীতি সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় কম সুদে অর্থ ধার নিতে পারবে। এতে গ্রাহক পর্যায়েও ঋণের সুদহার কমবে।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) ১৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। নতুন সুদহার আগামী ২ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, দেশীয় বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নীতি সুদহার কমানোর পাশাপাশি স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) রেট ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) রেট ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    নীতি সুদহার কমানোর মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।

    উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ১১ দফা নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করেছিল। এরপর অতিরিক্ত চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় ধরে এ হার অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি কমেনি। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতেও নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। ওই মুদ্রানীতিতে চলতি অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এমপিসির সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফিরদৌসি নাহার, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।

  • যারা ৭১ ভুলে যেতে চায়, তারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল

    যারা ৭১ ভুলে যেতে চায়, তারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল

    বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ হাজার বছর ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে, তাই এখানে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘যারা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে যেতে চায় কিংবা ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা কখনোই বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না।’

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীতে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের মূল দুর্বলতা হলো আমরা এখনও একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারিনি। বিগত ১৫ বছরে দেশের গণতন্ত্রকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। তবে আমরা অতীতের সেই ক্ষত কাটিয়ে এখন নতুন করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।’

    একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে অনেক সমস্যা ও বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জুলাই আন্দোলনকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তবে যারা ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে ফাটল ধরাতে চায়, তাদের যে কোনো মূল্যে রুখে দিতে হবে।

    যে কোনো উপায়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা বিধান এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।

  • ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি’ সার্জিও গোরের কাছে  রোহিঙ্গারা

    ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি’ সার্জিও গোরের কাছে রোহিঙ্গারা

    রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং ক্যাম্পের মানবিক অবস্থা সরেজমিনে দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শনে আসা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সামনে স্বদেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা। শুক্রবার উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় সার্জিও গোরের গাড়িবহরের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন রোহিঙ্গারা। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘You have your home! We miss our home!’ বাংলায় যার অর্থ, ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি।’ প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তারা মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানান।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশেষ দূতের সফরকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাবাসনের দাবি তুলে ধরেন। অনেকেই নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রহিম জানান, রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি তুলে ধরেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান।

    রোহিঙ্গা নেতা মো. জুবায়ের বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে ক্যাম্পে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছি। আমাদের একটাই চাওয়া- নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আমরা আর শরণার্থী হয়ে জীবন কাটাতে চাই না।’

    তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু কোনো মানুষ চিরকাল নিজের দেশ ছেড়ে অন্যের আশ্রয়ে থাকতে চায় না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আমরা নিরাপদে আমাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে পারি।’

    ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফরে সার্জিও গোর রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

    উল্লেখ্য, তিন দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসা মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান অবস্থা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং প্রত্যাবাসন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার অংশ হিসেবে উখিয়ার আশ্রয়শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন।

  • জর্ডান থেকে মার্কিন সেনা সরানোর দাবি

    জর্ডান থেকে মার্কিন সেনা সরানোর দাবি

    জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতা চুক্তি বাতিল বা অন্তত বিধিনিষেধ আরোপ করার দাবি তুলেছেন দেশটির ১৩০ জনের বেশি বিশিষ্ট নাগরিক। রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শ্রমিক নেতা ও উপজাতীয় প্রতিনিধিরা এক যৌথ বিবৃতিতে সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানান।

    বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডান কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধের পক্ষ নয়। তাই দেশটির ভূখণ্ডকে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি কিংবা আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাক্ষরকারীরা মনে করেন, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে বিদেশি সেনা উপস্থিতি জর্ডানকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।

    তারা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিটি দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা সময়ের অনিবার্য দাবি। প্রয়োজনে চুক্তিটি বাতিল অথবা এমনভাবে সংশোধন করতে হবে, যাতে জর্ডানের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকে।

    এ আহ্বান এমন সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে জর্ডানে বিদেশি সেনা মোতায়েন নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে জনমত আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে বলে মত দিয়েছে বিশ্লেষকরা।

    তবে জর্ডান সরকার এর আগে জানিয়েছিল, দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে কাজ করছে এবং এ উপস্থিতি জর্ডানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখেই পরিচালিত হচ্ছে।

  • বৈশ্বিক বাজারের ১২ শতাংশ দখল করতে পারে বাংলাদেশ

    বৈশ্বিক বাজারের ১২ শতাংশ দখল করতে পারে বাংলাদেশ

    নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পের সক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) পোশাক বাজারের ১২ শতাংশ দখল করতে পারে বাংলাদেশ। এতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তুলার ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব পোশাকশিল্প দ্রুত তুলাভিত্তিক পণ্য থেকে কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাকের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদারের একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এমএমএফ পোশাক বাজারের আকার প্রায় ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি কৌশলের অংশ হিসেবে এ বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

    বিএফটিআইয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জন্য এই পরিবর্তনের সুযোগ হাতছাড়া করার সুযোগ নেই। বৈশ্বিক এমএমএফ বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে পারলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশের পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি আরো শক্তিশালী হবে।

    গবেষণায় বাংলাদেশকে এমএমএফ পোশাক উৎপাদনের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার রোডম্যাপও তুলে ধরা হয়েছে। এতে ধাপে ধাপে নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এমএমএফ কাঁচামালের শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করা, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত করা, দেশে পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার ও সিনথেটিক সুতা উৎপাদন সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো মূলত তুলাভিত্তিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা ক্রমেই সিনথেটিক ও মিশ্র তন্তুর পোশাকের দিকে সরে যাচ্ছে। ফলে এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্য পরিবেশে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এমএমএফ খাতের সম্প্রসারণ অর্থনৈতিক প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।

    ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা এবং সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এমএমএফ উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারবে বাংলাদেশ।

    প্রতিবেদনে এমএমএফ উৎপাদনকারীদের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ, বিশেষায়িত ঋণ কর্মসূচি চালু, প্রযুক্তি স্থানান্তরে উৎসাহ দেওয়া এবং অ্যাকটিভওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের মতো উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে দেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আরও বাড়বে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেন, সরকারের প্রণীত রোডম্যাপ সময়মতো বাস্তবায়ন এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে আগামী এক দশকে কৃত্রিম তন্তুর পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।

  • ভারতে বসে হাসিনা রাজনীতি করতে পারবেনা-মোদি

    ভারতে বসে হাসিনা রাজনীতি করতে পারবেনা-মোদি

    ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশে ফেরার কথা বলার প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের মাটিতে বসে তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না। শুক্রবার দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্য তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরামাত্রই শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

    ভারতের লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী সংসদীয় কমিটিকে দেওয়া বক্তব্যে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার আবেদনের বিষয়টি ভারতীয় আইন ও নিয়মমাফিক পর্যালোচনার অধীন রয়েছে।

    কংগ্রেস এমপি শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন এই সংসদীয় কমিটি উল্লেখ করেছে, গুরুতর বিপদ বা প্রাণসংশয়ে পড়া ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার যে হাজার বছরের মানবিক ঐতিহ্য ভারতের রয়েছে, সেই নীতিতেই শেখ হাসিনাকে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে।

    তবে কমিটি আরও উল্লেখ করে, এই মানবিক আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত সবসময় একটি কঠোর নীতি মেনে চলে—আর তা হলো, ভারতের মাটিকে ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেওয়া যাবে না।

    ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সর্বশেষ প্রতিবেদনে কমিটি সুপারিশ করেছে, ভারতের উচিত এই নীতিগত ও মানবিক অবস্থান ধরে রাখা এবং একইসঙ্গে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে সামাল দেওয়া।

    সংসদীয় এই কমিটি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করার ওপর জোর দিয়েছে। ভিসা সীমিত থাকার কারণে দুই দেশের সুসম্পর্ক ও সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দুই বছর বন্ধ ছিল ভারতীয় পর্যটন ভিসা। এ বছরের ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য আবার ভিসা দেওয়া শুরু করেছে ভারত।

    এদিকে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছরই শেষ হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত কোনো বিলম্ব ছাড়াই ঢাকার সাথে আলোচনা শুরু করার তাগিদ দিয়েছে কমিটি। ২০২৬ সালে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া এই চুক্তির নবায়নে নতুন পানিসম্পদ সংক্রান্ত তথ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এই আলোচনায় পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারকেও যুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছে।

    পাশাপাশি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষার বিষয়টি ভারতের কূটনৈতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে বজায় রাখার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি।

  • আলমডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

    আলমডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মুস্তাকিম (২০) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার হাকিমপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নির্মাণশ্রমিক মুস্তাকিম একই গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী ছিলেন।

    স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাকিমপুর গ্রামে তিওরবিলা গ্রামের ফুরকানের ছেলে সোহাগ মিয়ার একতলা ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সকাল থেকেই মুস্তাকিমসহ একদল শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন। কাজ করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত ভবনের খুব কাছ দিয়ে যাওয়া প্রধান বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে আসে মুস্তাকিম। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।

    পরে সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমানে নিহতের লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুস্তাকিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • ধর্ম-বর্ণ বিবেচনায় কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

    ধর্ম-বর্ণ বিবেচনায় কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ধর্ম বিশ্বাস, ধর্ম চর্চাকে পূঁজি করে কোনো মহল কাউকে পকেটে নেওয়ার চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষ তাদের চিহ্নিত করবে। বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ বিবেচনায় কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বরিশাল পূজা উদযাপন পরিষদ, বরিশাল জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। অতএব কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ ব্যবহার করতে চায়, রাষ্ট্রকে কোনো ধর্মের মাধ্যমে গ্রাস করবে, এ ধরণের সাম্প্রদায়িকতা ধর্মবিরোধী। যখনই ধর্ম বিশ্বাসকে, চর্চাকে কোনো মহল একটি সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার চেষ্টা করবে, সঙ্গে সঙ্গে ধর্মপ্রাণ মানুষ ওই ধর্ম ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করবেন।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের সমস্ত বক্তব্য জনগণের কল্যাণের জন্য। যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণ তা কল্যাণকর মনে করবে ততক্ষণ পর্যন্ত সেই দল, সেই মার্কা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য থাকবে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল আলম ফরিদ, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে, সাদা মনের মানুষখ্যাত বিজয় কৃষ্ণ দেসহ পূজা উদযাপন কমিটির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মানিক লাল মুখার্জি।

  • স্বৈরাচার কোনোভাবেই যেন ফিরে আসতে না পারে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    স্বৈরাচার কোনোভাবেই যেন ফিরে আসতে না পারে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিএনপি সরকার মানবিক সরকার। সরকার প্রতিটি মানুষের পাশে থাকতে চায়, কাছে যেতে চায়। শুধু মাত্র আপনাদের সহযোগিতা দরকার। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিটি গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রায় সবার মাঝেই ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ড পৌঁছে যাবে।

    তিনি আরও বলেন, সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। সেই সঙ্গে মনে রাখতে হবে স্বৈরাচার কোনোভাবেই যেন আবার দেশে ফিরে আসতে না পারে সেই দিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ১১টায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৩ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ ছাড়াও মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উপকারভোগীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

    এ সময় অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুধীজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    ব্যবসায়ী কিংবা প্রবাসীদের মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হতো লাখ থেকে কোটি টাকা চাঁদার জন্য। এরপর বাহকের মাধ্যমে নগদে সংগ্রহ করা হতো চাঁদাবাজির সেই টাকা। চাঁদার টাকা সংগ্রহের জন্য ছিল এলাকাভেদে পৃথক ব্যক্তি। তাঁরা মূলত ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে চাঁদাবাজির সেই টাকা জমা দিতেন। তিনি এসব টাকা হুন্ডি এবং কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিতেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছে।

    পুলিশ ও চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। গত বুধবার সকালে যশোর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইমনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত সোমবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করার পর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এর আগে ১৩ জুলাই ২ কোটি টাকা চাঁদার জন্য নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এই দুটি ঘটনার পর মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ইমনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। যদিও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন ইমন।

    চাঁদা দাবির আগে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ

    পুলিশ জানায়, চাঁদা চাওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির আয়ের উৎস, বর্তমান সম্পদ, নির্মাণাধীন ভবনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন ইমনের লোকজন। পরিবারের সদস্যদের জীবনবৃত্তান্তও সংগ্রহ করা হয়। তথ্য সংগ্রহের জন্য এলাকাভিত্তিক সোর্স রয়েছে ইমনের।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন। নির্ধারিত সময়ে টাকা না পেলে হামলার ঘটনাও ঘটে।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন।

    ইমনকে চলতি মাসের শুরুতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়া এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি নগরের দক্ষিণ পাহাড়তলীর বড় দিঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। ইমন গ্রেপ্তার হলেও এখনো ভয়ে রয়েছেন সেই ব্যবসায়ী।

    গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, জুন মাসের শেষের দিকে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে ডেভিড ইমন তাঁকে ফোন করেন। তাঁর নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ও বিভিন্ন ব্যবসার কথা বলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ইমন। ওই সময় ওই ব্যবসায়ীর ছেলেমেয়েরা কে কোথায় পড়াশোনা করেন, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে ব্যবসায়ীর কলেজপড়ুয়া বড় ছেলেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

    অস্ত্র হাতে ইমনছবি: সংগৃহীত

    ওই ব্যবসায়ী জানান, নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এর মধ্যে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিলেন। কয়েকজনের মাধ্যমে ইমনকে ফোন করা হয়। কিন্তু কারও কথা শুনতে নারাজ ছিলেন ইমন। ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা চালানো হয়। মারধর করা হয় নিরাপত্তা প্রহরীকে।

    ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এরপর আমাকে আবার ফোন করা হয়। চাঁদা দেওয়ার মতো এত টাকা নেই জানিয়ে আমি তাঁকে অনুনয়-বিনয় করে চাঁদা কমানোর অনুরোধ করি। শেষে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা নির্ধারিত হয়। ইমন তখন বলেন, আমার লোকজন নগদে টাকা নেবে। যেখান থেকে বলা হবে, সেখান থেকে নিতে পারবে।’

    ‘তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা দল রয়েছে।’

    কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম

    পরে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি নগরের অক্সিজেন এলাকায় টাকা নিয়ে যেতে বলেন বলে জানান ওই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘আমি যেতে রাজি না হওয়ায় একটি অটোরিকশায় করে দুই যুবক বড় দিঘিরপাড়ে আমার বাসার সামনে আসে। নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তারা আবার একই গাড়িতে করে চলে যায়।’

    এই ব্যবসায়ীর মতো আরও অন্তত পাঁচজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁরা সবাই নগদে বাহকের কাছে চাঁদার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে নাম প্রকাশ করে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে তাঁরা রাজি হননি। কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ইমন জামিনে বেরিয়ে এলে তাঁদের ক্ষতি করতে পারেন। তা ছাড়া ইমনের অনেক সহযোগী এখনো বাইরে রয়েছেন।

    ইউসুফকে খুঁজছে পুলিশ

    পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ইমনের লোকজন চাঁদার নগদ টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে যেতেন নগরের জিইসি মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে। সেখানে ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে জমা দিতেন। পরে তিনি এসব টাকা ইমনের নির্দেশমতো হুন্ডি কিংবা ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন।

    ইমনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য মিলেছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ইউসুফকে ধরার চেষ্টায় রয়েছে পুলিশ। তাঁকে পেলে চাঁদাবাজির টাকা কোথায় যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

    চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে কৌশল হিসেবে নগদে চাঁদার টাকা নিতেন। এসব টাকা যাঁরা সংগ্রহ করতেন, তাঁরা সাধারণত ওই এলাকার নন। অন্য কোনো এলাকা থেকে এসে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করা হতো।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা দল রয়েছে।

    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, রিমান্ডে আনার পর ইমনের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যে পুলিশ তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে। চাঁদাবাজি কিংবা হামলার শিকার ভুক্তভোগী লোকজন পুলিশকে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন।

    ক্রিকেট ছেড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে

    ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা মো. মুসা ওমানপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।

    স্থানীয় লোকজন জানান, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ইমনের। কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে করে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে এসে অনুশীলন করতেন। পরে নগরের অক্সিজেন মোড়ে খালার বাসায় থেকে নিয়মিত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। খেলতেন চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে। অনুশীলন করতেন কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের মাধ্যমে তাঁর দলে যুক্ত হন। সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হয়ে ওঠেন ইমন।

    ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায় আলোচিত হন মোবারক হোসেন ইমন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে অন্তত ১৫টি।

    পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল। পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে দেশে সন্ত্রাসী দলটির নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও রায়হান দলটির নেতৃত্বে আসেন।

    পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন বড় সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন।

    গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল ইমনের কাছে। এ সময় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি টাকা নিই এটা ঠিক, তবে সব বড়লোকদের কাছ থেকে।’ সন্ত্রাসের পথ কেন বেছে নিয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেটার হব, নয়তো বড়লোক হব। বড়লোক হওয়ার জন্য এই পথে আছি।’