জাতীয় সংবাদ

  • ধামরাইয়ে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    ধামরাইয়ে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    ঢাকার ধামরাই উপজেলায় ট্রাকচাপায় মো: বজলুর রশীদ নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার কালামপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুডাংগা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মো: বজলুর রশীদের বাড়ি ধামরাই উপজেলার কাঁঠালিয়া এলাকায়। তিনি পেশায় একজন পল্লী পশু চিকিৎসক ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে মধুডাংগা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ইটবোঝাই ট্রাকের সাথে বজলুর রশীদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাকটি মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই বজলুর রশীদ মারা যান। পরে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে যায় এবং মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের হেলপারও আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

  • চোখ হারানো আলিফকে দেখতে হাসপাতালে খেলাফত মজলিসের আমির

    চোখ হারানো আলিফকে দেখতে হাসপাতালে খেলাফত মজলিসের আমির

    সম্প্রতি হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় ছাত্রদলের হামলায় এক চোখ হারানো আলিফ চৌধুরীকে দেখতে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হাসপাতালে গিয়ে তিনি অসুস্থ আলিফের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।

    এ সময়ে খেলাফত মজলিসের আমিরের সাথে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, ইসলামী যুব মজলিস সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সোহাইল আহমদ, শ্রমিক মজলিস কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা খালেদ সানোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • ডিএসইতে সূচকের পতন, কমেছে শেয়ারদর

    ডিএসইতে সূচকের পতন, কমেছে শেয়ারদর

    সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতন হয়েছে। পাশাপাশি অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদরও কমেছে। তবে এক হাজার ১৪৭ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।

    ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ডিএসইতে মোট ৩৯২টি কোম্পানির ৪১ কোটি ১৮ লাখ এক হাজার ৫৭০টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। দিন শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৪৭ কোটি ৭৪ লাখ ১৪ হাজার ১১২ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৮৮টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ২৬৩টির কমেছে এবং ৪১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

    দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩৩ দশমিক ১৭ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৮৬০ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এছাড়া ডিএস-৩০ সূচক নয় দশমিক ৯০ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ১৯১ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) পাঁচ দশমিক ২৭ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১৮০ দশমিক ৭১ পয়েন্টে নেমে আসে।

    লেনদেনের পরিমাণের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি ছিল শাইনপুকুর সিরামিকস, সেনা ইন্স্যুরেন্স, একমি পেস্টিসাইডস, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, মালেক স্পিনিং, সায়হাম টেক্সটাইল, বেক্সিমকো লিমিটেড, ফারইস্ট নিটিং, মুন্নু ফেব্রিকস এবং বরাকা পতেঙ্গা পাওয়ার।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি হলো নিটল ইন্স্যুরেন্স, সমতা লেদার, প্রাইম ফাইন্যান্স প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, বিডি অটোকার্স, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, এমএল ডাইং, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স এবং সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স।

    অন্যদিকে, দর পতনের শীর্ষে ছিল সেনা ইন্স্যুরেন্স, প্রিমিয়ার লিজিং, শাইনপুকুর সিরামিকস, সিএনএ টেক্সটাইল, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, আইসিবি সোনালী ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, আর্গন ডেনিমস, এআইবিএল প্রথম ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, নিউলাইন ক্লোথিং এবং আইসিবি প্রথম অগ্রণী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড।

    দিন শেষে ডিএসই’র বাজার মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাত লাখ সাত হাজার ৯১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২০ টাকা।

  • নবীনগরে অনাবাদি জমিতে আউশ আবাদে নতুন সম্ভাবনা

    নবীনগরে অনাবাদি জমিতে আউশ আবাদে নতুন সম্ভাবনা

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দীর্ঘদিনের অনাবাদি জমিতে এবার সৃষ্টি হয়েছে আউশ ধান চাষের নতুন সম্ভাবনা। আধুনিক সোলার সেচ ব্যবস্থা, কৃষি বিভাগের পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কৃষকদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশ গ্রহনে চলতি মৌসুমে নবীনগর পৌর এলাকার দোলাবাড়ি, সাতমোড়া, রতনপুর ও উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রথমবারের মতো প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।

    তিতাস নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফ্রিপ প্রকল্পের অর্থায়নে স্থাপিত সোলার সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি ব্যবহার করে উন্নতমানের ভূগর্ভস্থ বারিড পাইপলাইনে কৃষি জমিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেচের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। ফলে এক সময় অনাবাদি পড়ে থাকা জমি এখন সবুজে ভরে উঠেছে। এখন মাঠজুড়ে দুলছে পাকা আউশ ধানের সোনালি শীষ। সেখানে প্রথমবারের মতো প্রায় ৭৫ বিঘা জমিতে ব্রিধান-৯৮ ও ব্রিধান-৪৮ জাতের আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।

    নবীনগর পৌর এলাকার দোলাবাড়ি গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, সরকারের সোলার সেচ স্কিমের কারনে অল্প খরচে সেচ সুবিধা পাচ্ছি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে আউশ চাষ করেছি। ফসলের অবস্থা খুব ভালো, আশা করছি বাম্পার ফলন হবে।

    চুওরিয়া গ্রামের কৃষক মন্নান মিয়া বলেন, গত বছরের ভালো ফলনের কারণে সংরক্ষিত বীজ ব্যবহার করেছি। আমার কাছ থেকে আরো কয়েকজন কৃষক বীজ সংগ্রহ করে আউশ চাষ করেছেন। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত থাকায় এবার ফলনের সম্ভাবনাও অনেক ভালো।

    সাতমোড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহ জানান, গত মৌসুমে কৃষক মন্নান মিয়ার ক্ষেতে বিনাধান-১৯ এর প্রদর্শনী সফল হওয়ায় তিনি বীজ সংরক্ষণ করেন। চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ কৃষি পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রদর্শনী ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে চুওরিয়া গ্রামে নতুন করে প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ সম্প্রসারিত হয়েছে।

    পৌরসভা বøকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসারের সার্বিক নির্দেশনায় দোলাবাড়ি বøকে নতুন করে আউশ আবাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কৃষকদের নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ দেয়া হয়েছে। আধুনিক সোলার সেচ প্রযুক্তির কারনে আগামীতে আরো অনাবাদি জমি আউশ চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

    এ ব্যাপারে নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার করে সোলার সেচ স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো দোলাবাড়িতে ৭৫ বিঘা জমি এক সাথে আউশ আবাদের আওতায় আনা হয়েছে। উন্নতমানের বারিড পাইপলাইনের মাধ্যমে সেচের পানি সরবরাহ করায় পানির অপচয় কমেছে এবং কৃষকদের সেচ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলায় প্রায় ১৫০ বিঘা অনাবাদি জমিতে নতুন করে আউশ আবাদ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বোরো মৌসুম শেষে বন্যামুক্ত অনাবাদি জমিগুলোকে স্বল্পমেয়াদি আউশ ধানের আওতায় এনে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

    নবীনগরের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োগ এবং কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এক সাথে মিললে অনাবাদি জমিও সোনালি ফসলে ভরে উঠতে পারে। মাঠ জুড়ে দুলতে থাকা আউশ ধানের শীষ আজ শুধু একটি সফল মৌসুমের প্রতীক নয়, বরং টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে

    কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বুধবার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন। দিনের শুরুতে হাইকমিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেছেন বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো: খালেদ।

    হাইকমিশনের বাংলাদেশ গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, এর তাৎপর্য এবং দেশ গঠনে এর প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন। আলোচনা পর্বে স্বাগত বক্তব্য দিয়েছেন কনস্যুলার (রাজনৈতিক) ও দূতালয় প্রধান মিস আয়েশা আক্তার।

    অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। পরে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক কয়েকটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। এদিনের আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন প্রথম সচিব (কনস্যুলার) মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান এবং সোনালী ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রাশেদুজ্জামান রঞ্জু।

  • আগস্টের প্রথম ৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৬০ কোটি ২০ লাখ ডলার

    আগস্টের প্রথম ৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৬০ কোটি ২০ লাখ ডলার

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাসের ধারাবাহিকতায় আগস্টের প্রথম পাঁচ দিনেও প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ সময় দেশে ৬০ কোটি ২০ লাখ (৬০২ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৩ দশমিক সাত শতাংশ বেশি।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এ কথা জানানো হয়।

    এদিকে, ৪ ও ৫ আগস্ট এই দুই দিনেই প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে তিন দশমিক ৪৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল দুই দশমিক ৮০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত এক বছরের ব্যবধানে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৩ দশমিক তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রবণতা অব্যাহত থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ আরো শক্তিশালী হচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

  • সালথায় আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

    সালথায় আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

    ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় লিচু বাগান মালিক আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো: শাকিল মুন্সীকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোররাতে র‌্যাব-১০-এর সহায়তায় ডিএমপির চকবাজার থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সালথা থানা পুলিশ।

    গ্রেফতার আসামি শাকিল মুন্সী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সির ছেলে।

    গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বাবলুর রহমান খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লিচু বাগান মালিক আজিজুর হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি শাকিল মুন্সীকে র‌্যাব-১০-এর সহায়তায় ডিএমপির চকবাজার থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে সালথা থানা পুলিশ। দুপুরে তাকে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আজিজুর তার লিচু বাগান পাহারা দেয়ার জন্য একটি টংঘর তৈরি করেন। সেখানে বসে নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং জোর করে লিচু পেরে খেতেন পার্শ্ববর্তী সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সির ছেলে শাকিল মুন্সী ও তার সহযোগীরা।

    গত ১৩ মে বিকেলে তাদের মাদক সেবন ও লিচু পারায় বাধা দেন বাগান মালিক আজিজুরের ছেলে আকরাম মোল্লা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আকরামকে মারধর করেন শাকিল ও তার সহযোগীরা। এর জের ধরে বাগান মালিক আজিজুরের ওপর হামলা চালান শাকিল ও তার সহযোগীরা। পরে স্থানীয়রা হামলার শিকার আজিজুরকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় ১৫ মে নিহতের ভাই ফজলুল হক মোল্লা সালথা থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

  • দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে মিরাজের দাপুটে সেঞ্চুরি

    দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে মিরাজের দাপুটে সেঞ্চুরি

    দুশ্চিন্তা ছিল অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের নিয়ে। কিন্তু স্বাগতিকরা দাপট দেখালেন স্পিনে। অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে অফ-স্পিনার কোরি রকিচিওলি একাই ৬ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে ধসিয়ে দেন। প্রথম দিনে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন ব্যাটিং বিপর্যয়ে ধুঁকছিল, তখন ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়ান মেহেদী হাসান মিরাজ। হাঁকান দারুণ এক সেঞ্চুরি। ১৪১ বলে ১১ ছক্কা ও ৪ চারের ওপর ভর করে ১০৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে যান। তাতে অতিথিরা পেয়েছে সম্মানজনক স্কোর। মিরাজের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৬৩ রানের পুঁজি গড়েছে বাংলাদেশ।

    অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুতে তিন দিনের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ দুর্দান্ত বোলিং করে। আক্রমণের মুখে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা পড়ে যায় ব্যাটিং বিপর্যয়ে। প্রথম দিনের চা বিরতি পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান তুলে চাপে পড়ে গিয়েছিল সফরকারীরা।

    তার আগে ডারউইনের মারারা ওভালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। দলীয় মাত্র ৭ রানে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে সাজঘরে ফেরান হান্নো জ্যাকবস। ওপেনার তানজিদ বিদায় শূন্য রানে। এরপর সাদমান ইসলাম এবং মুমিনুল হক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও রানের গতি ছিল বেশ মন্থর।

    অধিনায়ক শান্ত ৫৩ বলে ৭টি বাউন্ডারির সাহায্যে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৩৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন। সাদমান করেন ৪৭ বলে ৩১ রান। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক (১৬) ও টেস্টে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা অমিত হাসান (১৫) উইকেটে থিতু হলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। মিডল অর্ডারে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন মুশফিকুর রহিম। লাঞ্চের আগেই চার উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। যথারীতি শুরুর ছয় ব্যাটসম্যান প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হন এই প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন।

    অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কোরি রকিচিওলি ২৪ ওভারে ৮৩ রান দিয়ে ৬টি উইকেট নেন। এছাড়া হান্নো জ্যাকবস, জাভিয়ার ক্রোন, ক্যাম্পবেল থম্পসন ও জারসিস ওয়াদিয়া ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৬৩/১০, ৭৫.৫ ওভার

    (মিরাজ ১০৯*, শান্ত ৩৭, সাদমান ৩১, মুমিনুল ১৬, সৌম্য ১৬; রকিচিওলি ৬/৮৩, জ্যাকবস ১/২৮, ক্যাম্পবেল ১/২৬ ক্রোন ১/৪৮ ও ওয়াদিয়া ১/২৬)।

  • ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধে দ্রুত একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।

    বৈঠকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা এবং রাজধানীসংলগ্ন অন্যান্য নদীর বর্তমান পরিবেশগত অবস্থা, দূষণের উৎস, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে নিঃসরণ, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খালগুলোর নাব্যতা হ্রাস এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতাকে নদীদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    এসময় নদীদূষণ রোধে শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) কার্যকরভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা, খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, বিদ্যমান পরিবেশ আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    এছাড়া বৈঠকে পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), রাজউক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী এই কার্যক্রমে পরিবেশবাদী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেন।

    বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, রাজধানীর চারপাশের নদীদূষণ রোধে একটি সমন্বিত ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয় করবে এবং নির্ধারিত সময় অন্তর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নদীদূষণ এখন দুর্বিষহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। তাই দূষণ রোধে কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।’

    বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা নৌ এলাকার কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ-আল-মাকসুস, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে গাজীপুরে জামায়াতের মানববন্ধন

    গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে গাজীপুরে জামায়াতের মানববন্ধন

    জনস্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, অযৌক্তিক বিল প্রত্যাহার, জ্বালানির মূল্য কমানো এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে গাজীপুরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলা ও মহানগর শাখা।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রাজবাড়ী সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

    মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগরের আমীর অধ্যাপক মুহা. জামাল উদ্দীন, মহানগর সেক্রেটারি আ. স. ম. ফারুক, গাজীপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শফিউদ্দিন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আজহারুল ইসলাম মোল্লা, গাজীপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান খান, মেট্রো সদর থানা আমীর অ্যাডভোকেট ছাদেকুজ্জামান খান ও সেক্রেটারি মো. রবিউল হকসহ জেলা ও মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, গাজীপুরের অধিকাংশ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট বিরাজ করছে। এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আবাসিক এলাকায় রান্নার কাজে গ্যাস না থাকায় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে, অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে শ্রমিক, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

    বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণ একটি জনকল্যাণমুখী সরকারের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং জনভোগান্তি দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অবিলম্বে জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    প্রধানমন্ত্রীর বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—আবাসিক ও শিল্পখাতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, লোডশেডিং বন্ধ করে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের অযৌক্তিক ও ভুল বিল প্রত্যাহার ও সংশোধন করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য কমানো এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

    স্মারকলিপিতে বলা হয়, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। জনস্বার্থে উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

    মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

  • বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্যে নতুন গতি

    বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্যে নতুন গতি

    বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষে বাণিজ্য আলোচনা (Trade Negotiation) সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষা, কৃষি, পশুসম্পদ এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-এর আইন ও বাণিজ্য আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি গবেষণা ও স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালকদের (Project Directors) দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    জবাবে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল জানান, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহযোগিতা করতে অস্ট্রেলিয়া আগ্রহী। তিনি বলেন, অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এবার আরও পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এসব কর্মসূচিতে বাণিজ্য আলোচনা, আন্তর্জাতিক চুক্তির আইনগত বিষয় এবং নীতিনির্ধারণী দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকেও এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

    আলোচনায় বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) মর্যাদা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষই এ বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষা, ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগের মতো খাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চমানের গরুর মাংস বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা এবং এ লক্ষ্যে হালাল সার্টিফিকেশন, পশুর ট্রেসেবিলিটি (Traceability) ও আধুনিক লাইভস্টক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক, টেকসই ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলায় সাকিবসহ ১৫ জনের নামে চার্জশিট শিগগির

    শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলায় সাকিবসহ ১৫ জনের নামে চার্জশিট শিগগির

    শেয়ারবাজারে কারসাজি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের নামে দ্রুতই চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    বৃহস্পতিবার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের নামে দ্রুতই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

    এর আগে, ২০২৫ সালের ১৭ জুন দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

  • সচিবালয়ের সামনে ১১-দলীয় ঐক্যের অবস্থান, পুলিশি বাধা

    সচিবালয়ের সামনে ১১-দলীয় ঐক্যের অবস্থান, পুলিশি বাধা

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন জাময়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা। সেখানে আসার পথে পুলিশি বাধার মুখে পড়ার পর কিছুটা ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।

    জ্বালানি তেল ও গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে রওয়ানা হন।

    মিছিলটি জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করার পরই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়।

    প্রায় ২০ মিনিট সেখানে অতিবাহিত হওয়ার পর অবস্থান কর্মসূচিতে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জনগণের দাবি জানাতে এসেছি। তারা আমাদের ডাকে সাড়া দিলেন না। সচিবালয় থেকে আসতে তাদের পাঁচ মিনিটও সময় লাগে না, কিন্তু তারা এলেন না।

    এসময় তিনি আরও পাঁচ মিনিট সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন এবং এসময়ের মধ্যে না এলে সরকারের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়ে কর্মসূচি শেষ করবেন বলে জানান।

    কর্মসূচিতে ডা. শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত আছেন।

    এর আগে জ্বালানি তেল ও গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল ও মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বৃষ্টির মধ্যেই অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে ১১ দলীয় ঐক্য।

  • ৩ দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানিমন্ত্রী

    ৩ দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানিমন্ত্রী

    গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে দুই থেকে তিনদিনের মতো সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘এখনো ফ্রিজিং চলছে এবং এটা শেষ হয়ে গেলে বিকাল থেকে গ্যাস সঞ্চালন আবার শুরু হবে।’

    ‘সঞ্চালন শুরু হয়ে গেলে আস্তে আস্তে আমাদের যেখানে প্রেসার কমে গেছে, সেটা উন্নত হবে। মোটামুটি যে সমস্যার মধ্যে পড়েছি, সেই মতো উত্তোলন করতে পারবো।’—উল্লেখ করেন তিনি।

    এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে অন্তত দুই থেকে তিন দিন লাগবে। এটা বন্ধ হওয়ার আগে যেমন ছিলো, তেমনই হবে।’

  • ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট, ৪ বছরে কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

    ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট, ৪ বছরে কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে ১৬ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবে সরকার। পর্যায়ক্রমে ৪ বছরের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করে প্রকৃত দরিদ্রদেরই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

    কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এরপর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়নে এর কার্যক্রম শুরু হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ডসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

    সমাজকল্যামন্ত্রী জানান, ৪ বছরের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন (ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি) ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। ফলে কেউ দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত হলে কিংবা আবার দারিদ্র্যে নেমে এলে সেটিও নিবন্ধনে প্রতিফলিত হবে।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগী যেন বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যেন তালিকায় ঢুকতে না পারেন, সে জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে বিদ্যমান দুর্বলতা কমিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

    মন্ত্রী আরও বলেন, এ কর্মসূচিতে ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ থাকবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছালে তা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, গাছ লাগানো, কুটির শিল্প, সেলাই ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে বেশি কাজে লাগবে। এতে নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি গ্রামীণ দারিদ্র্য কমাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ৫৬টি এলাকায় পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও তা সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি এবং ত্রুটির হার ৩ শতাংশের কম ছিল।

    জানানো হয়, ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও নতুন পদ্ধতিতে পুরোপুরি অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। এরপর প্রতি মাসে তথ্য হালনাগাদ করা হবে, যাতে মৃত্যু, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন বা অন্য কোনো পরিবর্তন দ্রুত নিবন্ধনে যুক্ত করা যায়।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউনিয়নে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা তথ্য সংগ্রহ তদারকি করবেন। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর নেতৃত্বে, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি কাজ করবে। জাতীয় পর্যায়েও একটি কমিটি থাকবে, যার সভাপতি অর্থমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত কর্মসূচির অগ্রগতি তদারকি করবেন।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করবে, যাতে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা বা সুবিধা নিতে না পারেন। একই সঙ্গে অর্থ বিভাগ, আইএমইডি ও দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে স্বাধীন মূল্যায়নও করা হবে, যাতে কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানোর প্রকৃত প্রভাব পরিমাপ করা যায়।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণের তারিখ ২০ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে ওই দিন বেলা ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

    ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট। আর ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট।

  • জ্বালানি-গ্যাস সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় ১১ দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি

    জ্বালানি-গ্যাস সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় ১১ দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    গ্যাস সংকট, ভয়াবহ লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ভুতুড়ে বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে ১১ দলীয় ঐক্য, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এর আগে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মসূচি পালন করেছেন।

    স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, শিল্প-কারখানার উৎপাদন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে দফায় দফায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও ভুতুড়ে বিল আদায়ের ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় শ্রমজীবী ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছে।

    স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব

    আলমগীর হোসেন খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা শফিকুল ইসলাম। জামায়াতের জেলা যুব বিভাগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু,তালিমুল কুরআন বিভাগের সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিন,সাবেক জেলা আমির আনোয়ারুল হক মালিক,আইন বিষযক সম্পাদক দারুস সালাম,চুয়াডাঙ্গা পৌর আমির অ্যাড. হাসিবুল ইসলামস-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    স্মারকলিপি প্রদান-পূর্ব সমাবেশে জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বক্তব্যে বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের কারণে শিল্প, কৃষি এবং জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ ভোক্তারা ভূতুড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের শিকার হচ্ছেন, যা মানুষের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। সম্প্রতি বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, ভূতুড়ে বিল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

    এই সময় বক্তারা অভিযোগ করে আর ও বলেন, এসব কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠলেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ কমাতে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সমাবেশ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা জ্বালানি সংকট নিরসন, বিদ্যুতের মূল্য ও বিলসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

  • জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৬

    জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৬

    দেশে গত জুলাই মাসে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত এবং ৬২৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৭ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু রয়েছেন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, যেখানে ১৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট নিহতের ৩৩ দশমিক ১৭ শতাংশ।

    বুধবার প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মাসিক সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সংস্থাটির নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১০৬ জন পথচারী এবং ৫১ জন চালক ও পরিবহন সহকারী ছিলেন। একই সময়ে দেশে ১৩টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ২৯টি রেলপথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন।

    সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬৯টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৫৫টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬১টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৬৬টি শহরের সড়কে ঘটেছে। সংস্থাটি দুর্ঘটনার পেছনে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ চালক, সড়কের দুর্বল অবকাঠামো, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, মোটরসাইকেলের বেপরোয়া ব্যবহার এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৩৩টি দুর্ঘটনায় ১২৫ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৪৭ জন।

    সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ১২ দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি।

    সংস্থাটির মতে, সময়োপযোগী নীতিমালা, উন্নত অবকাঠামো, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বয়েই দেশে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব।

  • ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ঘোষণা; ১৪ নভেম্বর মহাসমাবেশ

    ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ঘোষণা; ১৪ নভেম্বর মহাসমাবেশ

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

    ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম সড়কপথে লংমার্চ।

    ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর সড়কপথে লংমার্চ। ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা সড়কপথে লংমার্চ। ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট রেলপথে লংমার্চ। ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ।

    ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঘোষিত এসব কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।

  • পুড়ে যাওয়া এলএনজি টার্মিনাল চালু, স্বাভাবিক হবে গ্যাস সংকট

    পুড়ে যাওয়া এলএনজি টার্মিনাল চালু, স্বাভাবিক হবে গ্যাস সংকট

    এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল গত রাত ৩.১০ এ চালু হয়েছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি ( আরপিজিসিএল) আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্টিত করেছেন।

    সকাল সাড়ে ৯ টায় ৯ টার্মিনাল ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রেডে সরবরাহ করছিল। এই সময় আর এলএনজি থেকে সর্বমোট ৬৬২ মিলিয়ন গ্যাস হচ্ছিল। বিকেল নাগাদ টার্নালকে সরবরাহ ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হতে পারে।

    আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে টার্মিনালটির গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে দেশে ভয়াবহ গ্যাস এবং বিদ্যুতের সংকট শুরু হয়েছে। আরপিজিসিএল এর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের ডিজিএম নাসির উদ্দিন জানান, টার্মিনালটি গত রাত ৩টা ১০ মিনিটে চালু হয়েছে।

  • ঢাকার প্রতিক্রিয়া; দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্য: সার্বভৌমত্বের অবমাননা

    ঢাকার প্রতিক্রিয়া; দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্য: সার্বভৌমত্বের অবমাননা

    ভারতে পলাতক মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ওই অনুষ্ঠানে হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আগেই ভারত সরকারকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এ ধরনের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা ঢাকা গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে।

    এতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাংলাদেশের জনগণ যখন শহীদদের স্মরণ করছে, ঠিক সেই দিন ভারতীয় মাটিতে শেখ হাসিনার এ ধরনের গণমাধ্যমে উপস্থিতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অসম্মান।

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিশু-সহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড অস্বীকার করে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। তবে বাংলাদেশের জনগণ অতীতের মতো এবারও এমন প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা করবে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ যে দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকারে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনোই অন্য কোনো রাষ্ট্রের অধীনস্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। একই সঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা ও তার সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর কোনো স্থান নেই।

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক লাভজনক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ।

    তবে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশের একাধিক অনুরোধের বিষয়ে ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং তাকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে নয়াদিল্লি বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। এটি দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।

  • ‘বিএনপি নেতাদের ডাকে যারা আসছিল, ওদের জন্য হাসিনাকে কোনোদিন পালাইতে হয় নাই’

    ‘বিএনপি নেতাদের ডাকে যারা আসছিল, ওদের জন্য হাসিনাকে কোনোদিন পালাইতে হয় নাই’

    অনলাইন একিক্টভিস্ট সাদিকুর রহমান খান বলেছেন,বিএনপি নেতাদের ডাকে যারা আসছিল, ওদের জন্য হাসিনাকে কোনোদিন পালাইতে হয় নাই।

    বুধবার সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘তারেক রহমানের ডাকে সরকার পড়লে হাসিনা সরকার পড়ার কথা ছিল ২৮ অক্টোবর। তারেক রহমানের ডাকে ১০ লাখ লোক ঢাকা আসলো। পুলিশ বাঁশি বাজানোর সাথে সাথে ১০ মিনিটে ১০ লাখ পালাইয়া গেল। নেতা নাকি কর্মীরা আগে পালাইসিল, সেটা একটা বড় প্রশ্ন। আরও বড় প্রশ্ন, ১০ লাখ লোক কেমনে ১০ মিনিটে পালাইয়া যায়? এরা এসেছিল ক্ষমতার জন্য।

    একজন মানুষও তারেক রহমানের ডাকে মরতে রাজি হয় নাই। একজনও না। নেতাও না। কর্মীও না। জুলাই আগস্টে মির্জা ফখরুলকে বারবার বলতে হইছে এই আন্দোলন আমাদের আন্দোলন না। আমরা এর সাথে জড়িত না। কারণ জুলাই বিএনপির আন্দোলন হইলে কোটি কোটি মানুষ এই আন্দোলনে আসতই না।

    ১৭ বছরে এক দফা কি কম দিসে?

    একটা মানুষ পাত্তা দিসে?

    দেয় নাই।

    মানুষ যাইয়া শুনলো নাহিদ ইসলাম নামের অপরিচিত, অরাজনৈতিক একটা ছেলের কথা। ৩ আগস্ট নাহিদ ইসলামের এক দফাতেই সরকারের নৈতিক পতন হয়ে যায়। হাসিনা পরিবারের সবাই পালাতে শুরু করে ৩ তারিখ থেকেই। আর ৪ আগস্ট আসিফ মাহমুদ ঢাকা দখলের ডাক দেন। ৫ আগস্ট মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে ঢাকার রাজপথ দখলে নেয়। শহীদ হয় দুইশরও বেশি মানুষ। বিএনপি নেতাদের ডাকে যারা আসছিল, ওদের জন্য হাসিনাকে কোনদিন পালাইতে হয় নাই। কারণ হাসিনা জানত, পুলিশের বাঁশি শুনলেই এরা পালাবে। ১৭ বছর তো তাই পালাইসে।

    জুলাইয়ে কারা রাজপথে ছিল, সেটা ডকুমেন্টারিতে দেখানোর কিছু নাই। মানুষ দেখেছে জুলাইয়ে কে লন্ডনে ছিল, কে শিলং এ ছিল আর কে ঢাকায় ছিল। এই জেনারেশনের সাথে তামাশা করে লাভ নাই। জুলাইয়ের নেতা কারা, জুলাইয়ের ইমাম কে, বাংলাদেশের একেবারে প্রত্যন্ত এলাকায় যাইয়া ক্লাস ফাইভের বাচ্চাদের জিজ্ঞেস করেন, যান, ১০ সেকেন্ডে এই দেশের বাচ্চারা সাক্ষ্য দেবে নাহিদ, আসিফ, হাসনাত আর আখতারদের নাম।

    জুলাইয়ের ইতিহাসে এই প্রজন্মের অন্তরে লেখা আছে। দুই পয়সার ডকুমেন্টারি দিয়ে সেই লেখা মুছতে পারবেন না। আপনাদের কর্মীরা হইলো ১০ মিনিটে সব রাইখা পালাইয়া যাওয়া বিড়ালের দল,

    আর নাহিদের ডাকে যারা আসছিল, তাদের ব্যাপারে হাসিনার শুনতে হয়েছিল, একটা গুলি করি। একটা মরে, ঐ একটাই যায় স্যার। বাকিডি যায় না।

    গুলি করে যেই জেনারেশনের সাথে হাসিনা পারে নাই, মিথ্যা ইতিহাস আর মিথ্যা ডকুমেন্টারি দিয়ে সেই জেনারেশনকে মুছে ফেলতে চাওয়ার দু:সাহস কেমনে হয় আপনাদের?’

  • ছাত্রদলের ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয়েছে: শিবির সভাপতি

    ছাত্রদলের ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয়েছে: শিবির সভাপতি

    ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গতকাল ক্যাম্পাসগুলোতে যারা হামলা করেছে, তারা প্রকৃত ছাত্র নয়, বরং ছাত্র সন্ত্রাসী ও টোকাই। ছাত্রদল ক্যাম্পাসগুলোতে যাদের দিয়ে কমিটি দিয়েছে, তাদের অনেকের ছাত্রজীবন ১৫ থেকে ২০ বছর আগেই শেষ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বুধবার (৫ আগস্ট) রাজু ভাস্কর্যে আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে তিনি এসব কথা বলেন।

    নূরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও অভিযোগ করেন, এসব ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ থেকে ভাড়া করা টোকাই সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে আনা হয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়ায় সশস্ত্র হামলা এবং রাতে ঘুমন্ত শিক্ষার্থী ও ঢাকা গ্রাফিক্স আর্টস কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের লাগাম না ধরা হলে এবং বিএনপির টোকাই বাহিনীর লাগাম না টানা হলে রাজপথে তাদের সন্ত্রাস প্রতিহত করা হবে। তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সহনশীলতার পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। বারবার তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ক্যাম্পাস শান্ত রাখার কথা বলা হচ্ছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছ, পূর্বের ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্ত ফিরিয়ে আনতে তারা ক্যাম্পাসগুলোতে আবার হল দখল, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়।

    তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এই ‘সন্ত্রাসী দলের’ লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসীদের লাগাম টানতে ব্যর্থ হলে ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি সন্ত্রাসীর লাগাম টেনে ধরবে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহনশীলতা দুর্বলতা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের কার্যকর ভূমিকা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বারবার বলা হলেও এবং ডিএমপি পুলিশ কমিশনার সন্ত্রাস কর্মকাণ্ড বন্ধের আশ্বাস দিলেও হামলাকারীদের হাতে চাপাতি, গ্রিজ, কোদাল ও রিভলভার দেখা গেছে। তাদের পাশে পুলিশ অবস্থান করেছে এবং ছাত্রলীগকে যেভাবে শেল্টার দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ বাহিনী আবারও নব্য ফ্যাসিবাদের আশ্রয়দাতায় পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পাসে সহাবস্থান চলবে। এরপর কোনো ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরলে এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। জাতীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি ফোঁটা রক্তের জবাব নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ এবং সংগঠনের বিপুলসংখ্যক জনশক্তিও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’-এর প্রকাশনা উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ইলমি সেমিনার অনুষ্ঠিত

    ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’-এর প্রকাশনা উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ইলমি সেমিনার অনুষ্ঠিত

    বিশিষ্ট হাদিসবিশারদ ও গবেষক মাওলানা আব্দুল মতিন রচিত ‘কিফায়াতুল মুগতাযি ফি শারহি জামে তিরমিযি’-এর ১৭ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশনা উপলক্ষে রাজধানীতে আন্তর্জাতিক ইলমি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান আলেম, মুহাদ্দিস, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সেমিনারে গ্রন্থটির গবেষণামূল্য, আন্তর্জাতিক গুরুত্ব এবং হাদিসশাস্ত্রে এর অবদান তুলে ধরা হয়।

    বুধবার ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘হাদিস অনুসরণে সালাফের কর্মপন্থা: প্রসঙ্গ জামে তিরমিযি ও কিফায়াতুল মুগতাযি’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। হাজারো আলেম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে মিলনায়তন পরিণত হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী ইলমি সমাবেশে।

    সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী। তিনি বলেন, “বহু বছরের নিরলস পরিশ্রম ও গবেষণার ফল এই গ্রন্থ। জামে তিরমিযি–এর ব্যাখ্যা রচনার মাধ্যমে লেখক এমন একটি কাজ সম্পন্ন করেছেন, যা উম্মাহর জন্য দীর্ঘদিন উপকারী হয়ে থাকবে।” তিনি আরও বলেন, কুরআন-সুন্নাহর খেদমতে নিবেদিত এ ধরনের গবেষণাকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ এবং আল্লাহ তাআলা যেন এ গ্রন্থকে উম্মাহর জন্য কবুল করেন।

    সভাপতির বক্তব্যে শায়খুল হাদিস, লেখক ও গবেষক মাওলানা আবুল বাশার বলেন, প্রায় তিন দশকের নিবিড় সাধনা ও গবেষণার মাধ্যমে রচিত এই গ্রন্থ হাদিসশাস্ত্রে বাংলাদেশের এক অনন্য অবদান। তিনি বলেন, “হাদিস পাঠদান ও গবেষণার ক্ষেত্রে এ গ্রন্থ নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দরসের মান ও পদ্ধতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”

    স্বাগত বক্তব্যে মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশের পরিচালক শায়খ তাহমিদুল মাওলা জানান, গ্রন্থটির প্রথম চার খণ্ড প্রকাশের পর থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আলেম মুফতি হোসাইন কাদুদিয়া গ্রন্থটির উচ্চ প্রশংসা করেছেন। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আরব বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনার সমমানের মুদ্রণ ও সম্পাদনার মাধ্যমে গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    গ্রন্থের রচয়িতা, জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া মোহাম্মদপুর ঢাকার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল মতিন বলেন, “এটি আনন্দের নয়; বরং শুকরিয়া ও দোয়ার মজলিস।” তিনি জানান, ২০০১ সালে জামে তিরমিযি–এর দরসদান শুরু করার পর থেকেই এ গ্রন্থের গবেষণাকাজ শুরু হয়। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মূল রচনা সম্পন্ন হলেও এর পেছনে রয়েছে প্রায় ২৬ বছরের গবেষণা, হাজারো গ্রন্থ অধ্যয়ন এবং অসংখ্য নির্ঘুম রাতের শ্রম। তিনি এ কাজে সহযোগিতার জন্য বিশেষভাবে মাওলানা আব্দুল মালেকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং গ্রন্থটি উম্মাহর জন্য কল্যাণকর হওয়ার দোয়া কামনা করেন।

    সেমিনারে ‘হাদিস অনুসরণে সালাফের কর্মপন্থা: প্রসঙ্গ জামে তিরমিযি ও কিফায়াতুল মুগতাযি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, জামে তিরমিযি–এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মতভিন্নতার মধ্যেও ইলমি শিষ্টাচার ও আদবের সংরক্ষণ, যা এ ব্যাখ্যাগ্রন্থেও অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

    জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়ার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আব্দুল গাফফার বলেন, প্রায় ২৬ বছরের গবেষণার ফসল এই গ্রন্থ। একটি শব্দের ব্যাখ্যার জন্যও লেখক শত শত মূল গ্রন্থ পর্যালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে হাদিস গবেষণার ইতিহাসে এ গ্রন্থ বাংলাদেশের এক গৌরবময় অবদান হিসেবে বিবেচিত হবে।

    দক্ষিণ আফ্রিকার আলেম শায়খ ইসহাক বানা, সিলেটের প্রবীণ মুহাদ্দিস মাওলানা শফিকুল হক সুরাইঘাটি, মক্কার আলেম ড. শায়খ আব্দুল আজিজ আলহাজ এবং দারুল উলুম দেওবন্দের শুরা সদস্য শায়খ হাসান মাহমুদ রাজস্থানী বক্তব্যে গ্রন্থটির গবেষণামূল্য, পূর্ণাঙ্গতা ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, জামে তিরমিযি–এর পূর্ণাঙ্গ আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে এটি সমকালীন হাদিসচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

    এ ছাড়া মালিবাগ জামিয়ার শায়খুল হাদিস মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ, ফরিদাবাদ মাদ্রাসার প্রধান মুফতি আবু সাঈদ, আকবর কমপ্লেক্সের প্রধান মুফতি দিলাওয়ার হোসাইনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম-উলামা বক্তব্য দেন।

    অনুষ্ঠানে হাদিস গবেষণার ধারা বিস্তারে নির্বাচিত ১০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’-এর ১৭ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ সেট বিনামূল্যে তুলে দেওয়া হয়।

    সবশেষে বিশিষ্ট আলেম, সিনিয়র মুহাদ্দিস এবং জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকার মুহতামিম মাওলানা মাহমুদুল হাসান দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। তাঁর দোয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক এ ইলমি সেমিনারের সমাপ্তি ঘটে।

    উল্লেখ্য, ‘কিফায়াতুল মুগতাযি ফি শারহি জামে তিরমিযি’ একজন বাংলাদেশি আলেমের কলমে রচিত জামে তিরমিযি–এর পূর্ণাঙ্গ আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। ১৭ খণ্ডে প্রকাশিত এ গ্রন্থকে হাদিস গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে আখ্যায়িত করছেন দেশ-বিদেশের বহু আলেম, গবেষক ও ইসলামী শিক্ষাবিদ।

  • শান্তির বাংলাদেশ চাই: আজহারী

    শান্তির বাংলাদেশ চাই: আজহারী

    সংঘাত, বিভাজন ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক মিজানুর রহমান আজহারী।

    বুধবার (৫ আগস্ট) সামাজিক মাধ্যম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে আজহারী লিখেছেন, শান্তির বাংলাদেশ চাই, সংঘাতের নয়।

    তার এই সংক্ষিপ্ত বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই পোস্টটি শেয়ার করে শান্তি, সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের পক্ষে নিজেদের মত প্রকাশ করেন।

    সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার পর তার এই বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের মানুষ তার এই শান্তির বার্তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে দেশের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েই তার এই পোস্টটি আলোচনায় এসেছে।

  • ছাত্রদল নেতার অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল,থানায় অভিযোগ

    ছাত্রদল নেতার অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল,থানায় অভিযোগ

    নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা ছাত্রদল নেতা এ এইচ সৌরভকে নিয়ে একটি অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

    এটি এ আই দিয়ে বানানো ভুয়া ভিডিও দাবি করে চাটখিল থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, ছাত্রদল নেতা এ এইচ সৌরভ বলেন, আমার সুনাম নষ্ট করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এ আই দিয়ে ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

    এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় অভিযোগ করছেন বলে তিনি জানান।

  • বিএনপি নেতাদের ফুল দিয়ে মঞ্চে উঠলেন আ.লীগ নেতা

    বিএনপি নেতাদের ফুল দিয়ে মঞ্চে উঠলেন আ.লীগ নেতা

    ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতাদের ফুল দিয়ে বরণ করে দলীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠলেন আওয়ামীলীগ নেতা আবদুর রহিম মিয়া। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

    মঙ্গলবার বিকেলে কীর্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে ইউনিয়ন বিএনপির এক সাংগঠনিক সভায় এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম এজাজ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিকসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ আবদুর রহিম মিয়াকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। পরে মঞ্চেই বিএনপি নেতৃবৃন্দের পাশে তাকে আসন গ্রহণ করতে দেখা যায় । তিনি কীর্তিপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এ সময় কৃীর্ত্তীপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিসুজ্জামান চপল ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক মিঞাও উপস্থিত ছিলেন।

    আওয়ামীলীগ নেতাকে ফুল নিয়ে বরণ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এজাজ হাসান আমার দেশকে বলেন, আমরা রহিম মিয়াকে দলে নেইনি। তাকে বিএনপিতে নেওয়ার খবর সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।

  • শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর চায় পরিবার

    শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর চায় পরিবার

    জুলাই শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো: মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগমসহ পরিবারের সদস্য এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই এই হত্যা মামলার রায় আদালতে দ্রুত কার্যকর হতে দেখতে চান।

    তারা বর্তমান সরকার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রতি তাদের দৃঢ আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং রায়গুলো বাস্তবায়িত হবে।

    সারাদেশে ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন এবং তার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপিত হওয়ার এক সাক্ষাৎকারে তারা এই আশা প্রকাশ করেন।

    আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তারা বলেন, আবু সাঈদকে হারানোর পর পরিবারের সদস্যদের মনে কোনো শান্তি ও সুখ নেই।

    বিচার শেষে আবু সাঈদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন ও সাধারণ মানুষের মনে শান্তি আসতে পারে।

    রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবানপুর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া আবু সাঈদ ছয় ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন। তার তিন বোন রয়েছেন।

    ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, শহরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিআরইউআর) ১ নম্বর গেটের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম ছাত্র সমন্বয়কারী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

    তার শাহাদাত তাৎক্ষণিকভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে উজ্জীবিত করে এবং এটিকে দেশব্যাপী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে পরিণত করে, যা তীব্র জনরোষের মুখে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়তে বাধ্য করে।

    আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আইসিটি’র রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে বর্তমান সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তার বাবা মো: মকবুল হোসেন বলেন, ‘তার প্রিয় পুত্র আবু সাঈদ পুরো পরিবার ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের জন্য আশার আলো ছিল।’

    তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদের শাহাদাতের দুই বছরেরও বেশি সময় কেটে গেছে। আবু সাঈদকে ছাড়া বেঁচে থাকা আমার ও আমার পরিবারের জন্য এখনো খুব কঠিন। পুলিশের গুলিতে আমার পরিবারের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।’

    ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার মৃত্যুর আগে আমি আমার ছেলের হত্যাকারী এবং জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের অন্য সব শহীদদের হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখতে চাই।’

    আবু সাঈদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আইসিটি’র রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তার বাবা, ভাই, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা এবং তিনি নিজে আর এই যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছেন না।

    তিনি অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আদালতের রায় কার্যকর এবং জুলাই শহীদদের অন্য সব হত্যা মামলার বিচার বর্তমান সরকার শিগগিরই সম্পন্ন করবে।’

    আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন তার ভাইয়ের হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং অন্যান্য সব জুলাই শহীদদের হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, আমার ভাই আবু সাঈদ আমাদের বাড়ির উঠোনে চিরনিদ্রায় শায়িত। যখনই ভাইয়ের কবর দেখি, আমার চোখে পানি চলে আসে।

    এই কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    তিনি বলেন, আমার পরিবারের সদস্যদের মতো আমিও আশা করি যে বর্তমান সরকার দ্রুত আবু সাঈদ হত্যা মামলার আইসিটির রায় কার্যকর করবে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যান্য সব শহীদ হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করে তাদের আত্মীয়দের জ্বলন্ত হৃদয়কে শান্ত করবে।

    বিআরইউআর-এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক ছাত্র সমন্বয়ক মো: রহমত আলী বলেন, ‘আমরা আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ন্যায়বিচার এবং এই হত্যা মামলায় আইসিটি রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।’

    আবু সাঈদের সহযোগী ছাত্র সমন্বয়কারী এবং বিআরইউআর-এর বাংলা বিভাগের ছাত্র শামসুর রহমান সুমন বলেন, আবু সাঈদকে হত্যার দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বুলেটের সামনে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের দৃশ্যটি জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আইসিটি প্রায় চার মাস আগে আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে। আমরা আশা করি, খুব শিগগিরই আইসিটির রায় কার্যকরের মাধ্যমে জুলাই হত্যাকাণ্ড মামলার বিচারকার্যের মাইলফলকটি চিহ্নিত হবে।’

    যেহেতু বর্তমান সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তাই শামসুর রহমান দৃঢভাবে বিশ্বাস করেন যে বর্তমান সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের অন্য সব শহীদের বিচার সম্পন্ন করা এবং আদালতের রায় কার্যকর করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

    কেবল তখনই আমার শহীদ ভাই আবু সাঈদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মা শান্তি পাবে, যখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং সেদিনটি হবে জাতির জন্য প্রকৃত আনন্দের দিন।

    শামসুর রহমান বলেন, ‘কেবলমাত্র ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলেই আমার শহীদ ভাই আবু সাঈদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মা শান্তি পাবে এবং সেদিনটি হবে জাতির জন্য প্রকৃত আনন্দের দিন।’

  • ‘জুলাইয়ের পক্ষে আমরা আপসহীন, এখানে নমনীয়তার কোনো সুযোগ নেই’

    ‘জুলাইয়ের পক্ষে আমরা আপসহীন, এখানে নমনীয়তার কোনো সুযোগ নেই’

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক রচিত নতুন গ্রন্থ ‘জুলাই কেন আমাদের লড়াই?’ প্রকাশিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয় দারুল খিলাফাহ মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব‌ইটি প্রকাশ হয়।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রাজনৈতিক অবস্থান, গণভোট, সংবিধান সংস্কার, ইসলামপন্থীদের ভূমিকা এবং সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক এই গ্রন্থে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক এর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট লেখক ও ইতিহাসবিদ মাওলানা মনজুর আহমাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মুসা আল হাফিজ।

    আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আমরা কেন জুলাইয়ের পক্ষে ছিলাম, আছি এবং থাকতে হবে, এটাই ব‌ইয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জুলাইয়ের পক্ষে আমরা আপসহীন। এখানে নমনীয়তার কোনো সুযোগ নেই।

    তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের উপর ক‌ওমি আলেম সমাজের অবদান ও আকাঙ্ক্ষা আমাদের‌ই কিছু কিছু মানুষের‌ই দুর্বল করার যে অপচেষ্টা, তার প্রতি আমরা চূড়ান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করছি‌।

    তিনি আরো বলেন, বিগত নির্বাচনে বিএনপির সাথে আমাদের জোট না হ‌ওয়ার সবচে শক্তিশালী কারণ ছিল, জুলাইয়ের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান। তারা কোনোভাবেই চায় না জুলাই প্রতিষ্ঠা পাক।

    আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাসকে পরিবর্তন করে ফেলা হচ্ছে। জুলাই জাদুঘরকে বিকৃত করে উদ্বোধন করা হয়েছে। এজন্য‌ই আমরা জুলাই যে যেভাবে দেখেছি সেটা লিপিবদ্ধ করে রাখা দরকার।

    মুসা আল হাফিজ বলেন, জুলাই গণ‌অভ্যুত্থানে যারা ভূমিকা রেখেছেন তাদের লিখিত ব‌ইগুলোর মধ্যে এই ব‌ইটি প্রথম সারিতে থাকবে। জুলাইয়ের যতগুলো পক্ষ সবার‌ই এই ব‌ইকে জুলাইয়ের টেক্সটবুক হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।

    মাওলানা আল আবিদ শাকের এর পরিচালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা কুরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হুসাইন মিয়াজি, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদ, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা এনামুল হক মুসা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনী, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুর্শিদ সিদ্দিকী, সহ-সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক, জামিয়াতুত তারবিয়াহ আল ইসলামিয়ার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহিম জামিল প্রমুখ।

  • শহীদ আনাসের চিঠি পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত করার দাবি জানালেন তার মা

    শহীদ আনাসের চিঠি পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত করার দাবি জানালেন তার মা

    আমি চাই, আমার ছেলের চিঠিটি জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত করে পাঠ্যপুস্তকে পড়ানো হোক। আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানুক, কতটা আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের সন্তানরা এই ফ্যাসিস্টমুক্ত দেশ গড়তে সক্ষম হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে এভাবেই নিজের দাবি তুলে ধরেন জুলাই আন্দোলনে নিহত আনাসের মা। আনাস বাসা থেকে যাওয়ার আগে একটা চিঠি লিখে গিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা গণহত্যার ন্যায়বিচার, শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা আহতদের উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারের মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শাহারিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান বলেন, “দুই বছর আগে এই দিন, এই সময় আমার আনাস পৃথিবীতে ছিল। আনাস খুব স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী ছিল। তার মতো শহীদ ও আহত সন্তানের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকে আমরা এই ফ্যাসিস্টমুক্ত দেশ পেয়েছি। আমি ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ, আমরা যেন এই গণহত্যার ন্যায়বিচার পাই। আমাদের এই ভিক্টিম পরিবারগুলোর জন্য যেন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়। জুলাই যোদ্ধাদের যেন যথাযথ রক্তের মূল্যায়ন করা হয়।”

    আনাস বাসা থেকে যাওয়ার আগে একটা চিঠি লিখে গিয়েছিল জানিয়ে তিনি দাবি তুলে বলেন, “আমি চাই, আমার ছেলের চিঠিটি জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত করে পাঠ্যপুস্তকে পড়ানো হোক। আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানুক, কতটা আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের সন্তানরা এই ফ্যাসিস্টমুক্ত দেশ গড়তে সক্ষম হয়েছিল।”

    নিহত আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, “আমার ছেলে শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাবো, ওই কলেজের লাইব্রেরিটি যেন আমার ছেলের নামে করা হয়। আমি তো আর আমার সন্তানকে ফিরে পাবো না। অন্তত ওই স্মৃতিটা দেখে মনে করতে পারবো, আমার ছেলে এই কলেজে পড়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমি আরও অনুরোধ করবো, যেসব সন্তান এদেশের জন্য যুদ্ধ করেছে, এদেশের জন্য স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, তাদের যেন ন্যায্য বিচার ও সম্মান নিশ্চিত করা হয়। তাদের হত্যার বিচার যেন হয়। সেই ফ্যাসিবাদ যেন আর কোনোভাবেই এদেশে ফিরে না আসে। আমি তাকে (প্রধানমন্ত্রী) বলবো, জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই শহীদ পরিবারগুলো যেন উপযুক্ত সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারে। জুলাই যোদ্ধাদের চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক, তাদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।”

    অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা রাজপথে নেমেছিলাম কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। আমরা নেমেছিলাম একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে। পরবর্তীকালে যখন এই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়, তখন আমরা অনেকেই নীরবে সরে দাঁড়িয়েছি। কারণ আমাদের বিশ্বাস, দেশের জন্য কাজ করতে পারাটাই আমাদের সম্মানের বিষয়। ব্যক্তিগত পরিচিতি বা স্বীকৃতির চেয়ে দেশের কল্যাণ আমাদের কাছে অনেক বড়।”

    তিনি বলেন, “আজও রাষ্ট্রের কাছে আমার ব্যক্তিগত কোনও দাবি নেই। আমার একমাত্র প্রত্যাশা, বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত হোক, যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, মানুষের মর্যাদা রক্ষা পাবে এবং প্রতিটি নাগরিক সমান সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে।”

    তিনি আরও বলেন, “আজ আমি রাষ্ট্রের কাছে দুটি বিনীত দাবি জানাতে চাই। প্রথমত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, আহত এবং সকল সংগ্রামীকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মান ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হোক। দ্বিতীয়ত, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও বাংলাদেশিকে ন্যায়বিচারের জন্য রাজপথে জীবন দিতে না হয়।”

    প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “জুলাই আমাদের শুধু একটি আন্দোলনের স্মৃতি দেয়নি, এটি আমাদের একটি দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছে। সেই দায়িত্ব হলো এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষিত তরুণ বেকার থাকবে না, যোগ্যতার মূল্যায়ন হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, দুর্নীতির সুযোগ ও জনভোগান্তি হ্রাস পাবে, পরিবেশ রক্ষা পাবে এবং প্রতিটি মানুষ নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারবে। সবশেষে শুধু একটি কথাই বলতে চাই, জুলাই যেন ইতিহাসের একটি অধ্যায় হয়ে না থাকে; জুলাই যেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠনের প্রেরণা হয়ে থাকে।”

  • চৌগাছায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস  শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

    চৌগাছায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস  শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

    এম এ রহিম , চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

    বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি. এম. এ. মুনীব। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ (পিপিএম), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোর্শেদ।

    আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান আল মামুন, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল, প্রেস ক্লাব চৌগাছার যুগ্ম সম্পাদক এম. এ. রহিম, ক্রীড়া সম্পাদক সাংবাদিক এম এ মান্নান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রাশেদুল ইসলাম রিতম, কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা হাসানুজ্জামান, শহিদ আল আমিনের পিতা আনোয়ার হোসেন, ইয়াসিন আরাফাত, সম্রাট হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চৌগাছা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি অদীপ ফারহান, ছাত্রশক্তি নেতা জুবায়ের ও এনসিপি নেতা সিনবাদ।

    অনুষ্ঠানে জুলাই শহিদদের স্মরণে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রেস ক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শহিদ পরিবারের সদস্য এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে বিকেলে শহরের প্রেসক্লাব মোড়ে ১১ দলের উদ্যোগে সমাবেশ ও উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি বিজয় মিছিল করা হয়।

  • খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী প্রদানকারী সাবেক যুগ্মসচিব জগলুল পাশা গ্রেপ্তার

    খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী প্রদানকারী সাবেক যুগ্মসচিব জগলুল পাশা গ্রেপ্তার

    সাবেক যুগ্মসচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃত আসামি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা একটি মামলার (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট) জাল নথি প্রস্তুতকারক ও আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।

    মঙ্গলবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    ডিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, কক্সবাজার থেকে বিমানযোগে ঢাকায় ফিরছেন সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা। পরে বিমানবন্দর এলাকায় নজরদারি চালিয়ে রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    জানা গেছে, সৈয়দ জগলুল পাশা রাজধানীর গুলশান থানার একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা, যাত্রাবাড়ী থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পারভেজ হত্যা মামলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানায় অপারেশন ‘ঈগল হান্ট’ সংক্রান্ত মামলা এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় বিএনপি নেতা আলতাব হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

    এ ছাড়া ডিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১৩ সালে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ঘটনায় দায়ের করা মামলার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • জবির আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা

    জবির আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে গেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দেখতে যান এবং তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

    হাসপাতাল পরিদর্শনকালে বিরোধীদলীয় নেতা চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজ ও বাংলা কলেজসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

    তিনি দাবি করেন, এসব হামলায় ছাত্রশিবিরের বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত জিএসসহ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন। হামলার ধরনকে তিনি ‘ফ্যাসিবাদী কায়দার’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আহতদের হাসপাতালে গিয়েও হামলার শিকার হতে হয়েছে।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীদের হয়রানি করা হলে জনগণ ভুল বার্তা পাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরসহ তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থী প্ল্যাকার্ড হাতে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের বাইরে অবস্থান নিলে প্রক্টরিয়াল টিম ও শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এই সংঘর্ষে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

  • সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী হবে শতাব্দীর ঐতিহাসিক পরিবর্তন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী হবে শতাব্দীর ঐতিহাসিক পরিবর্তন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী এ শতাব্দীর একটি ঐতিহাসিক সাংবিধানিক পরিবর্তন হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন।

    বুধবার ৫ আগষ্ট রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সে লক্ষ্যেই সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে চলছে।

    তিনি আরও বলেন, “আমরা এই জুলাইকে নিয়ে রাজনীতি কেন করব?… একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি, ‘জুলাই কার, জুলাই কার?’ তাহলে জুলাই আমাদের কারোরই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে।”

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পৃথিবীর অনেক জাতি শতবর্ষ সংগ্রাম করেও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশ এমন একটি ঐতিহাসিক সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে কয়েক সপ্তাহেই যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে।

    ভ্লাদিমির লেনিনের একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো দশক আছে যেখানে কিছুই ঘটে না, আবার কোনো কোনো সপ্তাহ আছে যেখানে কয়েক দশকের ইতিহাস রচিত হয়। আমরা সেই ইতিহাসের সাক্ষী।’

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আমাদের সবার। বাংলাদেশের ১৮ কোটি, ২০ কোটি মানুষের, সবার। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা কেউ কেউ হয়তো নেতৃত্ব দিয়েছি, কিন্তু সামনের সারিতে যারা শহিদ হয়েছেন, তারাই আসল জুলাই যোদ্ধা, আসল নেতা। তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করাই হবে আমাদের জন্য ফরজ।’

    তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সব রাজনৈতিক পক্ষকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    তার ভাষায়, ‘জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’

    সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই হচ্ছে অ্যামেন্ডমেন্ট। প্রত্যেকটা অ্যামেন্ডমেন্ট হচ্ছে এক একটি সংস্কার।… সেটা গ্রহণ করতে হবে পার্লামেন্টে।’

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংস্কার কমিশন বা রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বাস্তব পরিবর্তনের জন্য সংসদে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী গ্রহণ করা প্রয়োজন। এটি হবে শতাব্দীর সবচেয়ে ঐতিহাসিক সংশোধনী। যেটার প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের শহিদরা শহিদ হয়েছেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, যার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি…তাকে আমি বৃথা যেতে দেব না।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন আগামী সংসদে উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, ‘গুম কমিশন আমরা অধ্যাদেশ পাস করি নাই, কিন্তু গুমের ওপর প্রতিকার ও গুম প্রতিরোধ আইন নিয়ে এসেছি। আগামী পার্লামেন্টে আসবে ইনশাআল্লাহ।…সিস্টেমেটিক এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের জন্য মৃত্যুদণ্ডসহ কড়া শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।’

    জুলাই আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরে তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান ৩৬ দিনের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফল।

    তিনি আরও বলেন, ‘এই মুক্তির মন্দিরের সোপান এক দিনে নির্মিত হয়নি। এই সোপান নির্মিত হয়েছে ২০০৯ থেকে শুরু করে ২০২৪ পর্যন্ত।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রকামী মানুষ গুম, খুন, নির্যাতন ও মামলার শিকার হয়েছেন। সেই ইতিহাস বাদ দিয়ে জুলাইকে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

    তিনি আরও বলেন, ‘কোনো আন্দোলন রক্তাক্ত হবে কি হবে না, সেটা সাধারণ মানুষ নির্ধারণ করে না। সেটা নির্ধারণ করে দিয়েছে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা। আমাদের ছেলেরা-মেয়েরা শূন্য হাতে প্রতিবাদ করেছে, শহিদ হয়েছে, তারপর গণঅভ্যুত্থান হয়েছে।’

    জুলাইয়ের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৭১-এর চেতনাকে বিক্রি করতে করতে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে।…আমরা যেন জুলাইয়ের এই চেতনাকে কোনোদিন অসম্মান না করতে হয়, সেই রকম রাজনীতি করি।’

    জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক বন্ধুদের প্রত্যাশা কী, আইনজীবীদের প্রত্যাশা কী, বিশেষজ্ঞদের মতামত কী—সবাইকে নিয়ে আমরা এমন একটি সংবিধান সংশোধনী আনতে চাই, যেটা নিয়ে আমরা অনেক বছর চলতে পারব। কারণ বারবার জুলাই আসে না, বারবার ৭১ আসে না, বারবার বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হবে না।’

    জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আহতদের ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী পৃথক শ্রেণিবিন্যাস করে সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা এখনও তালিকাভুক্ত হতে পারেননি, তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

    আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচার সুগম করার জন্য কনস্টিটিউশন আর্টিকেল ৪৭-এর অনুসরণে আমরা আইন সংশোধন করেছি।…ব্যক্তির মতো সংগঠনেরও বিচার করা যায়। আদালত নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের পরিণতি কী হবে।’

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়ায় অবশ্যই আদালত নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের কী হবে।…ইনশাআল্লাহ, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণহত্যাকারী কোনো মাফিয়া শক্তিকে এই দেশে রাজনীতি করার জন্য আর অনুমতি দেবে না।’

    শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা পরস্পর তর্ক করব, বিতর্ক করব। জাতীয় সংসদে সরকারি দল-বিরোধী দল বাহাস করব। কিন্তু যখন আওয়ামী লীগের প্রশ্ন আসবে, তখন সমগ্র জাতি এক থাকবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জীবন্ত সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। ‘কোনো সরকার যাতে ফ্যাসিবাদী আচরণ না করে, সেই জন্য জুলাই জাদুঘর রেখে এসেছি। ওখানে গিয়ে সবাই শিক্ষা নিয়ে আসবে। সেটাকে আমরা জীবন্ত জাদুঘর হিসেবে রেখে দেব।’

  • গণ-অভ্যুত্থান দিবসে গাংনীতে আলোচনা সভা, জুলাই চেতনায় দেশ গড়ার আহ্বান

    গণ-অভ্যুত্থান দিবসে গাংনীতে আলোচনা সভা, জুলাই চেতনায় দেশ গড়ার আহ্বান

    জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেহেরপুরের গাংনীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

    বুধবার (৫ আগস্ট) গাংনী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আনোয়ার হোসেন।

    সভায় বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

    আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিদ হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মতিয়র রহমান, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মূর্শেদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা, পৌর জামায়াতের আমির আহসানুল হক, এনসিপি নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মেহেরপুর জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, গাংনী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন এবং গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার আলী কানন।

    এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বজ্রপাতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

    বজ্রপাতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

    জমিতে ধান লাগাতে গিয়ে সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে এইচএসসি পরিক্ষার্থী মারা গেছেন।

    বুধবার (৫ আগষ্ট) সকালে বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চর সমেশপুর গ্রামের এই ঘটনা ঘটেছে।

    নিহত শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সিয়াম (১৮) চর সমেশপুর গ্রামের মো. সুরুজ্জামানের ছেলে। সে এবারের এইচএসসি পরিক্ষার্থী।

    তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাম জাফর জানান, সকালে তাদের নিজ জমিতে ধান লাগাতে গিয়ে হঠাৎ বৃষ্টি নামে। পরে সে দৌড়ে বাড়ি যাওয়ার সময় বিকট শব্দে দুই-তিনটি বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

  • ফিডিং কর্মসূচি: সব স্কুলের শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

    ফিডিং কর্মসূচি: সব স্কুলের শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ফিডিং কর্মসূচির আওতায় থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জুন ও জুলাই মাসের গড় শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রমিক, বিদ্যালয়ের নাম, প্রধান শিক্ষকের নাম, প্রধান শিক্ষকের মোবাইল নম্বর, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাঠাতে হবে। এক্সেল ও পিডিএফ ফরমেটে নির্ধারিত ইমেইলে ১৩ আগস্টের মধ্যে এই তথ্য পাঠাতে হবে।

    সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ চিঠি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সব উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি নামের প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮টি বিভাগের ৬২টি জেলার প্রকল্পভুক্ত ১৫০টি উপজেলার, উপজেলা ভিত্তিক সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যালয় ক্রমিক, বিদ্যালয়ের নাম, প্রধান শিক্ষকের নাম, প্রধান শিক্ষকের মোবাইল নম্বর, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জুন ও জুলাই মাসের গড় উপস্থিতি সংযুক্ত নির্ধারিত এক্সেল শিটে সঠিকভাবে এন্ট্রি করা প্রয়োজন। তথ্যের সঠিকতা ও যথাসময়ে তথ্য পাঠানো অত্যাবশ্যক কেননা এ তথ্যের ওপর ভিত্তিকরে তার উপজেলার খাদ্য সরবরাহের পরবর্তী কল অব নোটিশ, কার্যাদেশ দেয়া হবে।

    উল্লেখ্য, পাঠানো এক্সেল শিটে ফন্ট হবে (NikoshBan), ফন্ট সাইজ ১২, মার্জিন ৪ দিকে হাফ ইঞ্চি, A4 সাইজ ল্যান্ডস্কেপ। এক্সেল শিটের রো, কলাম, কলাম নম্বর, মার্জিন, ফন্ট ও ফন্ট সাইজ পরিবর্তন করা যাবে না। ১ থেকে ১৭ নং কলামের তথ্য অবশ্যই পূরণ করতে হবে এবং শতকরা হারের ঘরে সংখ্যার পরে শতাংশ (%) চিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না।

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পিটিআই সংযুক্ত পরীক্ষণ বিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোনো বিদ্যালয় তালিকাভুক্ত করা যাবে না।

    এমন অবস্থায় নির্দেশনা অনুসরণ করে উপজেলার তথ্য এক্সেল শিটে এন্ট্রি করে, এক্সেল ও পিডিএফ ফরমেটে আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে আবশ্যিকভাবে ইমেইল (gpsfpdpe@gmail.com) এবং WhatsApp Group (School Feeding UEO 150) এর মাধ্যমে পাঠানোর জন্য তাকে অনুরোধ করা হলো।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক  গণতন্ত্রকামী জনগণ; প্রধানমন্ত্রী

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক গণতন্ত্রকামী জনগণ; প্রধানমন্ত্রী

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বুধবার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধন করে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ জাদুঘর কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।

    তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। তাই এ আন্দোলনের শহীদদেরও জাতি কখনো ভুলবে না। তিনি বলেন, জাদুঘরটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরবে এবং ইতিহাস সংরক্ষণে সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

    তারেক রহমান জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং গেজেটভুক্ত ১৩ হাজারের বেশি জুলাইযোদ্ধাকে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের প্রতিটি ঘটনার বিচার আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে অযথা ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানের শেষে জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতারণা করছে; ডা. শফিকুর রহমান

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতারণা করছে; ডা. শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার জুলাই ও জনগণের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা করছে। গণভোট নিয়ে সরকার ‘ফ্যাসিবাদী আচরণ’ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ‘এই সরকারের কাছে জুলাই এবং আহত ও শহীদ পরিবারের কোনো মূল্য নেই। সরকার যদি স্বৈরাচারী আচরণ থেকে সরে না আসে, তাহলে আরেকটি জুলাই আসন্ন।’

    বুধবার ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত গণসমাবেশে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

    জামায়াত আমির বলেন, জুলাইয়ের যোদ্ধারা জাতীয় সম্পদ। তাদের নিয়ে রাজনৈতিক খেলা বন্ধ করতে হবে। এখনো অনেক যোদ্ধা ব্যাংককের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অনেকে বিছানায় কষ্ট পাচ্ছেন। কিন্তু সরকার তাদের দিকে নজর দিচ্ছে না।

    তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের কোনো একক মাস্টারমাইন্ডে আমরা বিশ্বাস করি না। দিনমজুর থেকে শুরু করে দেশের সব নাগরিকই জুলাই আন্দোলনের অংশীদার।’

    শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের আগে প্রধানমন্ত্রী জাতিকে অনেক আশার কথা শুনিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সেই আশার বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। এসব আশা কোন চোরাবালিতে হারিয়ে যাচ্ছে, তার জবাব প্রধানমন্ত্রীকে দিতে হবে।

    জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা করছে। এমনকি সংসদেও বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘এখন শুধু আপনারা (বিএনপি) জাতির সামনে প্রতারক হিসেবে নিজেদের নিবন্ধিত করবেন।’

    বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেন, সরকার ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে বলেই ফ্যাসিবাদ বলা হচ্ছে। এই আচরণ বন্ধ করলে জনগণ ফুল দিয়ে বরণ করবে।

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের রায় মেনে নিতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশের মাটিতে ফ্যাসিবাদ মেনে নেওয়া হবে না।

  • জুলাই সংবর্ধনা বয়কট এনসিপির

    জুলাই সংবর্ধনা বয়কট এনসিপির

    জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনার পর এবার অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।

    বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

    অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বক্তব্য দেওয়ার পর দলটির নেতারা অনুষ্ঠান বয়কট করে বেরিয়ে যান।

    এ সময় আখতার হোসেনের সঙ্গে ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, মুনিরা শারমিনসহ দলটির আরও কয়েকজন নেতা।

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদর্শিত ভিডিও ডকুমেন্টারিতে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার, ৯ দফা এবং ১ দফা ঘোষণার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়নি। এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্যও উপস্থাপন করা হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সারা দেশে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে তারা এই অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    এর আগে, জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের পর উপস্থিত আহত জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের একাংশ ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করলে অনুষ্ঠানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মঞ্চ থেকে একাধিকবার শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

  • শহীদ আবু সাঈদ ছাড়া ডকুমেন্টারি হতে পারেনা; ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

    শহীদ আবু সাঈদ ছাড়া ডকুমেন্টারি হতে পারেনা; ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, যে ডকুমেন্টারিতে শহীদ আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়। বিপ্লবের প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের কোনো ছবি না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।

    বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি এবং এখন ৮২ বছর বয়সে বাংলাদেশের জনগণের শাসন ও গণতন্ত্রকে চিরস্থায়ী করার জন্য প্রয়োজনে আরো একবার লড়াই করবো।’

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতীয় অনুষ্ঠানে এমন হট্টগোল দুঃখজনক ও লজ্জার। জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে এই অনুষ্ঠানে যা দেখলাম, তা দুঃখজনক। যে প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়েছে, তাতে অসঙ্গতি আছে। এজন্য দুঃখপ্রকাশও করা হয়েছে। তারপরও বিষয়টি নিয়ে বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়।’

    হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধাদের অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। তাদের যদি অধিকার আদায়ের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ঘুরতে হয়, তাহলে সেটি লজ্জাজনক।’

    তিনি বলেন, ‘এই সরকারের মূল দায়িত্ব হলো জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে তাদের জন্য কাজ করা।’

  • জুলাই হত্যাকাণ্ডের দুই বছরে রায় মাত্র ছয় মামলার

    জুলাই হত্যাকাণ্ডের দুই বছরে রায় মাত্র ছয় মামলার

    জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। এ সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। এ পর্যন্ত ছয় মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এসব মামলায় গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

    দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো শহীদ ওয়াসিম, মীর মুগ্ধ, গোলাম নাফিজ ও আসহাবুল ইয়ামিনসহ আলোচিত অনেক হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়নি। এছাড়া অসংখ্য মামলার তদন্ত এখনো ঝুলে আছে। বিচার বিলম্বিত হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার, আহত জুলাইযোদ্ধা ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে বেড়েছে উদ্বেগ আর হতাশা। ন্যায্য সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। সরকারের কাছে দ্রুত সময়ে বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

    ট্রাইব্যুনাল রেজিস্টার সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দুই ট্রাইব্যুনালে জুলাই হত্যাকাণ্ডের সাত মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। এসব মামলায় শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকসহ ৬১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করা মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে।

    যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কর্মকর্তা ইমাম হোসেন তায়িম হত্যা মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। শহীদ ওয়াসিম ও শহীদ মীর মুগ্ধ হত্যার ঘটনায় করা দুটি চার্জ গঠন শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া দুই ট্রাইব্যুনালে মিসকেস হিসেবে ৪৬ মামলা তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।

    প্রসিকিউশন সূত্রে গেছে, জুলাই বিপ্লবে সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫৯০ মামলার মধ্যে ১০৯টি যাচাই-বাছাই শেষে তদন্তের জন্য তদন্ত সংস্থায় পাঠানো হয়েছে।

    দুবছরে বিচারের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, একটি মামলার শুরুতে তদন্তে উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় হয়। এরপর প্রতিটি মামলায় ২০ জনের বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষেই তা রায়ের পর্যায়ে যায়। যে ছয় মামলার রায় হয়েছে, আমি মনে করি অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে এবং স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে বিচারকাজ শেষ হয়েছে। আরো তিন মামলার রায় আগামী মাসে হতে পারে।

    তিনি বলেন, আমাদের এখানে বিগত আমলের গুম ও নির্যাতনের বেশ কয়েকটি মামলার বিচার চলছে। তবে আমরা জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা যেন জুলাই হত্যাকাণ্ডের সব মামলা তদন্ত ও বিচার শেষ করতে পারি, সে প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমরা এগোচ্ছি।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমি মনে করি অসংখ্য মামলার মধ্যে যেগুলো আমাদের ট্রাইব্যুনালে হওয়া উচিত, সেগুলো এখানে হবে। আর যেগুলো নিম্ন আদালতে হলে ভালো হবে, সেগুলো সেখানে হওয়া উচিত। আমরা কাউকেই ছাড় দেব না; আবার কাউকে ন্যায়বিচার থেকেও বঞ্চিত করব না।

    তিনি আরো বলেন, আমরা সারা দেশে জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫৯০ অভিযোগের মধ্যে ১০৯টি যাচাই-বাছাই শেষে তদন্ত সংস্থায় পাঠিয়েছি। বিচারের বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার জায়গা থেকে কাজ করছি। আশা করছি বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশিত সময়েই বিচারকাজ সম্পন্ন করতে পারব।

    স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখতে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে বর্বরতম পথ বেছে নেয় ফ্যাসিস্ট হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী সরকার। হাসিনার সরাসরি নির্দেশে পুলিশ, বিজিবি এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মারণাস্ত্র এবং দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাধারণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের নির্বিচার গুলি ও হামলায় এক হাজার ৪০০ জন শহীদ হন এবং কয়েক হাজার ছাত্র-সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হন। এতে ৫৩৭ জন তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। এর মধ্যে ৪৪ জন চিরদিনের জন্য দুচোখের দৃষ্টি হারান এবং এক চোখের দৃষ্টি হারান ৪৯৩ জন।

    জুলাই বিপ্লবে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন হলে এই গণহত্যার বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। এরপর চাপ বাড়লে গত বছরের ৮ মে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়। দুই ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত তিনটি করে ছয় মামলার রায় হয়েছে। এসব মামলায় সাজা হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬১ জনের। প্রথম রায় হয় গত বছরের ১৭ নভেম্বর।

    সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের ওই মামলায় ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি হাসিনা-কামালের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহীদ ও আহত পরিবারের মধ্যে বণ্টন করা নির্দেশ দেওয়া হয়।

    একই ট্রাইব্যুনাল রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায়ে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের তিন সাবেক কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ওই ছয় শহীদ পরিবারে বণ্টনেরও আদেশ দেওয়া হয়।

    রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় একই ট্রাইব্যুনাল গত ২৮ জুন হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের তিন সাবেক কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন ও একজনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

    সাভারের আশুলিয়ায় গুলি করে হত্যা ও লাশ পোড়ানো মামলার রায়ে ট্রাইব্যুনাল-২ চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, সাতজনকে যাবজ্জীবন ও দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেয়। রাজসাক্ষী হওয়ায় ক্ষমা পান পুলিশের সাবেক এএসআই আবজালুর রহমান। এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আশুলিয়ার সাইফুল ইসলামের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবারের মধ্যে বণ্টনের আদেশ দেওয়া হয়।

    জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় এই ট্রাইব্যুনাল ৯ এপ্রিল পুলিশের সাবেক দুই কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়। এই ট্রাইব্যুনাল কুষ্টিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলার রায়ে ৩০ জুন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

    ছয় মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ৬১ আসামির মধ্যে ৪০ জনই বর্তমানে পলাতক। কারাগারে আছেন ২১ জন। এর মধ্যে হাসিনাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১১ জনই পলাতক।

  • জুলাই ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ

    জুলাই ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ

    জাতীয়তাবাদ আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক ধারণা। রাষ্ট্রের জন্ম, তার বৈধতা, জনগণের রাজনৈতিক আনুগত্য এবং জাতীয় পরিচয়—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জাতীয়তাবাদ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বেনেডিক্ট অ্যান্ডারসন জাতিকে ব্যাখ্যা করেছেন একটি ‘কল্পিত রাজনৈতিক সম্প্রদায়’ হিসেবে, যেখানে সদস্যরা একে অপরকে ব্যক্তিগতভাবে না চিনলেও অভিন্ন পরিচয়ের ভিত্তিতে একই সম্প্রদায়ের অংশ মনে করেন। আর্নেস্ট গেলনার একে যুক্ত করেছেন আধুনিক সমাজের কাঠামোগত পরিবর্তনের সঙ্গে, আর অ্যান্থনি ডি. স্মিথ গুরুত্ব দিয়েছেন ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির ওপর। বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের বিকাশও এই বৈশ্বিক বাস্তবতার বাইরে নয়, তবে আমাদের পথচলা ছিল আরো রক্তক্ষয়ী ও জটিল।২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি পুরোনো প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে—রাষ্ট্রের পরিচয় কী? আমরা কি কেবল ভাষাভিত্তিক একটি জাতি, নাকি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক/জাতি? পৃথিবীর ইতিহাস আমাদের শেখায়, কেবল মানচিত্রে জন্ম নিলেই একটি রাষ্ট্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিপক্ব জাতিতে পরিণত হয় না। এক দিনে মানচিত্র আঁকা যায়, কিন্তু জাতীয় পরিচয়, নাগরিক আস্থা ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য গড়ে ওঠে প্রজন্মের পর প্রজন্মের অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক-সামাজিক চুক্তির মধ্য দিয়ে।

    আমাদের ভাষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রাম, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের প্রথম বিকাশ ঘটে। বাঙালি জাতীয়তাবাদ ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত মূল সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অনুঘটক, যা একটি জাতিকে উপনিবেশবিরোধী সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পরপরই একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে—যুদ্ধবিধ্বস্ত এই রাষ্ট্রের পরিচয়ের ভিত্তি কী হবে? একটি সার্বভৌম ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব ধর্ম, গোষ্ঠী ও নৃগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক পরিচয় গড়ে তোলাই হয়ে দাঁড়ায় নবজাত রাষ্ট্রের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

    ১৯৭৫ সাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ, যা নিয়ে ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে আজও ভিন্নমত রয়েছে—কেউ একে দেখেন রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস হিসেবে, কেউ গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে। এরপর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্রদর্শন হিসেবে সামনে আসে, যেখানে ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব, সংবিধান ও

    নাগরিকত্বকে পরিচয়ের কেন্দ্রে আনা হয়। এই সময় বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি ও বহুমুখী কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যদিও এই কালপর্ব নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে বাঙালি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে প্রায়ই পরস্পরবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু ইতিহাসের গভীর বিশ্লেষণ ভিন্ন চিত্র দেখায়—বাঙালি জাতীয়তাবাদ আমাদের দিয়েছে স্বাধীনতার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ভিত্তি; আর বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দিয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনার নাগরিক ও সার্বভৌম কাঠামো। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে এই দুই উত্তরাধিকারকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, পরিপূরক হিসেবে দেখাই যুক্তিসংগত।

    ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের ওপর ছররা গুলি বর্ষণ কেবল একটি গণআন্দোলনকে একদফায় রূপ দেয়নি; বরং তরুণ প্রজন্মের এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক জাগরণ ঘটায়। দেশের গড় বয়স মাত্র ২৬ বছরের কিছু বেশি এবং প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ ৩৫ বছরের নিচে—এই বাস্তবতায় রাজপথের জাগরণ প্রমাণ করে, পুরোনো আদর্শিক বিভাজন দিয়ে এই ডিজিটাল প্রজন্মের নাগরিক চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা কেবল সরকার পরিবর্তন নয়; রাষ্ট্র সম্পর্কে নাগরিকের প্রত্যাশার পরিবর্তন।কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সূচিত এই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি, কারণ ও তাৎপর্য নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ রয়েছে—কেউ একে দেখেছেন গণতান্ত্রিক অধিকারের আন্দোলন হিসেবে, কেউ রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি হিসেবে, আবার কেউ নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক জাগরণ হিসেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে, তরুণ প্রজন্ম কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, চায় জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান, ন্যায়বিচার ও সুযোগের সমতা।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে প্রণীত হয় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় গণভোটে এই সনদ ও সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পড়ে। একদল বিশ্লেষকের মতে, এটি ত্রুটিপূর্ণ রাজনৈতিক-সাংবিধানিক কাঠামো সংশোধনের ঐতিহাসিক সুযোগ; আবার অন্যরা মনে করেন, তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক আবেগনির্ভর এই সংস্কার-প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষিত কি না, তা নিয়ে আরো সতর্ক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। এ বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে সারা দেশে পালিত জুলাই শহীদ দিবস প্রমাণ করে, ১৯৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রশ্ন এবং ২০২৪-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্ন একই ধারাবাহিকতার অংশ হয়ে উঠেছে।

    জাতীয় পরিচয়ের পুনর্নির্মাণ নতুন কোনো ঘটনা নয়। ১৮৭১ সালে অটো ভন বিসমার্ক শুধু সামরিক শক্তিতে নয়, বিশ্বের প্রথম সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করে জার্মান জাতির আনুগত্য সুদৃঢ় করেছিলেন। ১৯৬৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাত্রা শুরু করা সিঙ্গাপুরকে লি কুয়ান ইউ গড়ে তুলেছিলেন শূন্য-সহনশীল দুর্নীতি ও মেধাভিত্তিক শাসনের ওপর ভর করে। তুরস্কের মুস্তফা কামাল আতাতুর্কও অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর গড়ে তুলেছিলেন নাগরিক অধিকারভিত্তিক আধুনিক প্রজাতন্ত্র। বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তার বিবর্তনও এই বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ।

    জাতীয়তাবাদের বিতর্ক আজ কেবল রাজনৈতিক মঞ্চে সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রতিফলন দেখা যায় অর্থনীতিতেও। বাংলাদেশ আজ প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের উদীয়মান অর্থনীতি। স্বাধীনতার সময় ৮০ শতাংশের ওপরে থাকা দারিদ্র্যের হার নাটকীয়ভাবে নেমে এসেছে পাঁচ শতাংশের ঘরে। তৈরি পোশাক খাতের বিপুল রপ্তানি, প্রবাসী আয় এবং কৃষির সাফল্য অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রমাণ। তবু মানবসম্পদ সূচকে নিম্ন স্কোর, দুর্নীতির ধারণা সূচকে পিছিয়ে থাকা এবং বিপুলসংখ্যক তরুণের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকা কঠিন সত্য মনে করিয়ে দেয়—অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আর প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন এক বিষয় নয়।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল হান্টিংটনের ভাষায়, রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব কেবল রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ওপর নয়, বরং সেই অংশগ্রহণকে সুসংগঠিত রাখার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। আর ম্যাক্স ভেবারের ভাষায়, রাষ্ট্র তখনই দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীল হয়, যখন জনগণ তার প্রতিষ্ঠান, আইন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখে। যদি রাষ্ট্র তার চাকমা, সাঁওতাল, বাঙালি, হিন্দু, মুসলিম কিংবা প্রবাসী—প্রতিটি নাগরিককে সমঅধিকার ও নিরাপত্তা দিতে না পারে, তবে জাতীয়তাবাদ কেবল একটি ফাঁকা রাজনৈতিক স্লোগানে পরিণত হয়।বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার টানাটানির মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের নতুন রূপ হওয়া উচিত ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’—কোনো একক পরাশক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে ভারসাম্য বজায় রাখা। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হলেও তার অর্থ বিচ্ছিন্ন থাকা নয়; বরং ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করা।

    জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদকে একটি আধুনিক ও রাষ্ট্রকেন্দ্রিক দর্শনে রূপ দিতে হলে তা দাঁড়িয়ে থাকতে হবে পাঁচটি স্তম্ভের ওপর—প্রথমত, ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক বহুত্ববাদ, ধর্ম, ভাষা বা জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাংবিধানিক সম-অধিকার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনা—১৯৫২, ১৯৭১ ও ২০২৪-এর গণতান্ত্রিক চেতনাকে একত্রিত করে অভিন্ন রাষ্ট্রীয় গৌরবগাথা নির্মাণ। তৃতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা—ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতির বদলে প্রতিষ্ঠাননির্ভর রাষ্ট্র গড়ে তোলা। চতুর্থত, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি ও মানবসম্পদ—প্রবৃদ্ধির সুফল প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। পঞ্চমত, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও পররাষ্ট্রনীতি—জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে মর্যাদাশীল বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা।

    সমালোচকেরা বলতে পারেন, জাতীয়তাবাদ নিয়ে নতুন বিতর্ক ঐক্যের বদলে বিভক্তি তৈরি করতে পারে। এটি যৌক্তিক শঙ্কা। তবে প্রকৃত প্রশ্ন জাতীয়তাবাদ থাকবে কি না, তা নয়; বরং এটি কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নাগরিকবান্ধব হবে। বিভাজন তৈরি হয় যখন জাতীয়তাবাদকে দলীয়করণের হাতিয়ার করা হয়; কিন্তু যখন তা সুশাসন, আইনের শাসন ও সমান সুযোগের নিশ্চয়তা দেয়, তখন তা ঐক্যের সেতু তৈরি করে।

    বাংলাদেশের সামনে এখন প্রয়োজন একটি নতুন সামাজিক চুক্তি, যার ভিত্তি হতে পারে তিনটি বিষয়—শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, যেখানে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চেয়ে আইন গুরুত্বপূর্ণ হবে; অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, যেখানে প্রতিটি নাগরিক উন্নয়নের সুযোগ পাবে; এবং জাতীয় ঐক্য, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সবাই অভিন্ন স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার-প্রক্রিয়াকে এই সামাজিক চুক্তি পুনর্গঠনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়াস হিসেবে দেখা যেতে পারে, যদিও এর প্রকৃত সফলতা প্রমাণিত হবে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে

    শেষ পর্যন্ত একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয় তার জনগণের জীবনমান দিয়ে। একটি পতাকা, একটি ভূখণ্ড ও একটি রাজনৈতিক দর্শন তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তা সাধারণ মানুষের জীবনে আশা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে আসে। ইতিহাস প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ বারবার সংকট থেকে নতুন পথ বের করেছে। ১৯৫২ আমাদের ভাষা শিখিয়েছে, ১৯৭১ স্বাধীনতা দিয়েছে, আর ২০২৪ আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে—রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি বন্দুকের নল থেকে নয়, নাগরিকের বিশ্বাস থেকে আসে। আগামী বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা হবে সেই বিশ্বাস রক্ষার সক্ষমতার ওপর।

  • জুলাই শহীদ-আহতদের জন্য ২,৩৬৪ ফ্ল্যাট সেপ্টেম্বরে

    জুলাই শহীদ-আহতদের জন্য ২,৩৬৪ ফ্ল্যাট সেপ্টেম্বরে

    জুলাই বিপ্লবে আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে শহীদদের পরিবারের জন্য ৮০৪টি এবং আহতদের জন্য ১ হাজার ৫৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এ কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটির দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে মূল্যায়নের কাজ চলছে। গেজেটভুক্ত নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য এসব আবাসিক ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর আমার দেশকে এসব তথ্য জানান।

    প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর বলেন, আমরা আগামী মাসে সুবিধাজনক সময়ে অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করব। আশা করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। তিনি বলেন, জুলাই শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য রাজধানীতে আবাসনের ব্যবস্থা করা সরকারের একটি বড় দায়িত্ব।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে তাদের আবাসন। ঢাকার মতো একটি ভালো স্থানে তাদের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু করতে পারি, তাহলে সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে পারব বলে আশা করছি।

    তিনি জানান, গেজেটভুক্ত জুলাই শহীদ ও আহতদের পরিবারকে আবাসিক ফ্ল্যাট দিতে সরকার মিরপুরের কালশীতে মোট ৩৩টি ভবন নির্মাণ করবে। এর মধ্যে নিহতদের পরিবারের জন্য ১০ তলাবিশিষ্ট ১২টি ভবন এবং ১৪ তলাবিশিষ্ট আরো ছয়টি ভবন নির্মাণ করা হবে। আর আহতদের জন্য ১৪ তলাবিশিষ্ট ১৫টি ভবন নির্মাণ করাসহ মোট ১ হাজার ৫৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।

    গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর বলেন, জুলাইয়ে আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই সরকারের এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের তুলনায় এটি হয়তো খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু আমরা এটিকে সম্মানের একটি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করি। সরকার শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য ভাতা দিচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।

    প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, তিনি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবেও তার এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছেন। পিরোজপুরে যারা নিহত এবং আহত হয়েছেন তাদের পরিবারের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনের খোঁজখবর নিচ্ছি।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান রাতারাতি সৃষ্টি হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেক আন্দোলন হয়েছে। নির্বাচন নামে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত নির্বাচন ছিল না। বিএনপি শুরু থেকেই আন্দোলন শুরু করে এবং তাদের প্রথম বড় দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবদ্দশায়ও এই আন্দোলন চলেছে এবং বিতর্কিত নির্বাচনের ধারাবাহিকতার কারণে পরবর্তী সময়ে তা আরো জোরদার হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরে যখন কোটা আন্দোলন শুরু হয়, তখন বিএনপির ছাত্রনেতারাও সেই আন্দোলনে যুক্ত হন। বর্তমানে এনসিপির নেতা সারজিস ও নাহিদসহ অনেকে পরে স্বীকার করেছেন যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন লন্ডনে ছিলেন, তখন তিনি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যোগাযোগ রেখেছেন এবং পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।

    সোহেল মনজুর বলেন, আজকের জুলাই বিপ্লব একদিনে হয়নি। এটি দীর্ঘ আন্দোলনের ফল। প্রতিটি সংগ্রামেরই একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত থাকে, যখন সবকিছু একত্রিত হয়।

    মাহেন্দ্রক্ষণটা সময় আল্লাহর রহমত বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে ওই দিনটা তখন ৫ আগস্ট হলো। কিন্তু এই আন্দোলনের মূল সেই জুলাই আন্দোলন অবশ্যই আমাদের ছাত্র-জনতা বিশেষ করে দেশের সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে এটাকে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং এর কারণে আমরা সেই ফল ঘরে তুলতে পেরেছি।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি, দমন-পীড়ন, ‘আয়নাঘর’ এবং গুমের ঘটনায় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।

    তিনি বলেন, মানুষ তাদের দুর্নীতি, দমন-পীড়ন, ‘আয়নাঘর’ এবং গুমের কারণে কষ্ট পাচ্ছিল। ধীরে ধীরে মানুষ সবকিছু জানতে পারে। বিতর্কিত নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদের প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত জুলাই আন্দোলনে রূপ নেয়।

    জুলাই সনদ নিয়ে সংসদে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর পালন করবে সরকার। এটা নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সময়ে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, আমরা যখন সংসদে জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা করেছি, তখন বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী বিভিন্নভাবে বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

  • বায়তুল মোকাররমে ১১ দলের গণসমাবেশে ব্যাপক উপস্থিতি

    বায়তুল মোকাররমে ১১ দলের গণসমাবেশে ব্যাপক উপস্থিতি

    গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে’ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে বিশাল গণসমাবেশ করছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

    বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে এই সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। তবে তার আগেই ১১ দলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।

  • জুলাই জাদুঘর ঘুরে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

    জুলাই জাদুঘর ঘুরে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

    ২৪ শের জুলাই আন্দোলনকে স্মৃতিচারণ করতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে ঘুরে দেখছেন।

    বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এই জাদুঘরে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী।

    এ সময় আরও উপস্থিত রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

  • ৫ আগস্ট ইতিহাসে যুগান্তকারী মাইলফলক: প্রধানমন্ত্রী

    ৫ আগস্ট ইতিহাসে যুগান্তকারী মাইলফলক: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের দিন বাংলাদেশের যুগান্তকারী গণতান্ত্রিক ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। নতুন দেশ গড়তে নতুন যাত্রাপথ রচনা করবে।

    বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশক ফ্যাসিবাদী শাসনে গুম-খুনের শিকার হয়েছিল দেশের জনগণ।

  • শহীদদের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি: ডা. শফিকুর রহমান

    শহীদদের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি: ডা. শফিকুর রহমান

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ইনসাফভিত্তিক ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই শহীদদের রক্ত যেন কোনোভাবেই বৃথা না যায়, সে লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

    আজ বুধবার (৫ আগস্ট) ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

    বার্তার শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসী এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে এক গৌরবময় ও অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী, শিশু-বৃদ্ধ, নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অভিন্ন দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছিলেন।

    তিনি বলেন, ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন একপর্যায়ে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের এক দফা আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলন দমনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়। কিন্তু দেশের মুক্তিকামী মানুষ গুলি, বোমা ও দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হন এবং দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছরের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আন্দোলনে জাতিকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির একাংশের গুলিতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। এছাড়া কয়েক হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

    তিনি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ আন্দোলনে নিহত সকলকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং নির্যাতিত সবার প্রতি সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জানান।

    জামায়াত আমির বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, একটি মহলের কারণে সেই প্রত্যাশা আজও পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এজন্য এখনো লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

    তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে হলে বৈষম্যহীন, পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটাই হবে তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত সম্মান।

    বার্তার শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসীর প্রতি অতীতের সব বিভেদ ভুলে একটি বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ, মানবিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

  • বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

    বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ খাতে সৌদি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ খাতে সৌদি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এল-খেরেইজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, বৈঠকে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এল-খেরেইজি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে সৌদি আরব আন্তরিকভাবে আগ্রহী।

    তিনি বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সৌদি সরকারের আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

    এছাড়া সৌদি আরবের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    শাহরিয়ার পামির জানান, সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে একটি কৌশলগত, বহুমাত্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়।

    জবাবে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, সি-ফুড, ট্রপিক্যাল ফুড, কৃষিভিত্তিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।

    বৈঠকের শেষে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান।

    প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আশা প্রকাশ করেন বলে সহকারী প্রেস সচিব জানান।

    সৌদি প্রতিনিধি দলে ছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুলাইমান বিন আবদুল আজিজ আল-ইয়াহইয়া, কনস্যুলার বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল-শাম্মারি, মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ইসা, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ এবং দেশটির পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

    বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

  • গরমকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করল দক্ষিণ কোরিয়া

    গরমকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করল দক্ষিণ কোরিয়া

    দক্ষিণ কোরিয়ায় রেকর্ড তাপপ্রবাহে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট লি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তীব্র গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে চরম পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অববাহিকায় অবস্থিত ইয়াংসান শহরে গত রোববার তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। ১২২ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে এটিই শহরটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

    গতকাল সোমবার প্রথমবারের মতো রাজধানী সিউল ও পার্শ্ববর্তী গিয়ংগি অঞ্চলের কিছু এলাকায়ও তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়। মঙ্গলবার পুরো সিউলজুড়ে সতর্কতা সম্প্রসারিত করা হয়েছে। সতর্কতার আওতায় কৃষিকাজ, খেলাধুলা ও নির্মাণশ্রমসহ খোলা জায়গায় কাজ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    সিউলের ইয়ংদেউংপো এলাকায় নিম্নআয়ের মানুষের বসবাসের জন্য পরিচিত একটি আবাসিক এলাকায় বাসিন্দাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, জীবনে এমন তীব্র গরম আগে দেখেননি। সরকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অস্থায়ী আবাসনে কিছু বাসিন্দাকে সরিয়ে নিয়েছে। তবে ওই এলাকায় অনেক গৃহহীন মানুষও রাস্তায় বসবাস করছেন।

    দুর্যোগ মোকাবিলায় দমকলকর্মী ও কর্মকর্তারা রাস্তায় পানি ছিটানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৫ মে থেকে দেশজুড়ে ২ হাজার ২৫ জন তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত ১৯ জনের মধ্যে ১৩ জনের বয়স ৮০ বছর বা তার বেশি।

    তীব্র গরমের কারণে মঙ্গলবার সিউল ও গোয়াংজুতে পূর্বনির্ধারিত দুটি বেসবল ম্যাচও বাতিল করা হয়েছে।

  • আবার লড়ছেন লুলা !

    আবার লড়ছেন লুলা !

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা আনুষ্ঠানিকভাবে চতুর্থ মেয়াদের জন্য নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে এটিই হবে তাঁর শেষ মেয়াদ। এবারের নির্বাচনী প্রচারে অর্থনীতি বা সামাজিক কর্মসূচির চেয়ে জাতীয় সার্বভৌমত্ব, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন লুলা দা সিলভা।

    গত রোববার ব্রাজিলের সাও পাওলোতে ওয়ার্কার্স পার্টির (পিটি) সমর্থকদের এক সমাবেশে ৮০ বছর বয়সী লুলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর আগে তিনি ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদ এবং ২০২৩ সাল থেকে বর্তমান মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। এবার নিয়ে তিনি সপ্তমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছেন।

    সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে লুলা বলেন, ব্রাজিলের প্রতিরক্ষাসক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে বিরল খনিজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ ঠেকানোর অঙ্গীকার করেন তিনি।

    লুলা বলেন, ‘আমি চাই, আমাদের দেশ এমনভাবে প্রস্তুত থাকুক, যাতে কেউ এখানে হস্তক্ষেপ করার সাহস না পায়।’ তিনি আরও বলেন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র বা ফ্রান্স—কোনো দেশই ব্রাজিলের সার্বভৌমত্বকে সম্মান না করে দেশটির খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার পাবে না।

    ট্রাম্প–ইস্যু সামনে আনছেন লুলা

    লুলার এ অবস্থান এমন এক সময়ে এল, যখন ব্রাসিলিয়া ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের বিভিন্ন পণ্যের ওপর দুই দফা শুল্ক আরোপ করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ব্রাজিল অন্যায্য বাণিজ্যনীতি অনুসরণ করছে। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রাজিল সরকার।

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। জইর বলসোনারোর বড় ছেলে ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো এখন ডানপন্থীদের প্রধান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। ২০২২ সালের নির্বাচনের ফল উল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় জইর বলসোনারো নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।

    সমাবেশে লুলা বলেন, ‘ব্রাজিলে আমরা কাউকে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাতে দিই না।’ তিনি ফ্লাভিও বলসোনারোকে ‘জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা ব্যক্তি’ বলেও মন্তব্য করেন। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফ্লাভিও।

    গেতুলিও ভার্গাস ফাউন্ডেশনের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক লিওনার্দো পাজ বলেন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি লুলার জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সামনে এসেছে। তিনি বলেন, এই বার্তার মাধ্যমে লুলা দেশের বিভিন্ন সমস্যার জন্য বাইরের একটি পক্ষকে দায়ী করার সুযোগ পাচ্ছেন। রাজনৈতিক দিক থেকে এটি তাঁর জন্য সুবিধাজনক।

    সাম্প্রতিক ডেটাফোলহা জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে লুলা ৪৮ শতাংশ এবং ফ্লাভিও বলসোনারো ৪৩ শতাংশ সমর্থন পেতে পারেন। তবে ব্যবধান এখনো খুব বেশি নয়। দেশটি এখনো বামপন্থী ও বলসোনারো–সমর্থকদের মধ্যে স্পষ্টভাবে বিভক্ত।

    লুলা তাঁর সরকারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও সামাজিক কর্মসূচিগুলোকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁর সমর্থকদের দাবি, এসব কর্মসূচির ফলে দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নত হয়েছে।

    সমাবেশে সমাজকর্মী ক্রিস্তিয়ানে রোসা হুলিও বলেন, লুলার নীতির কারণেই তাঁদের পরিবার প্রথমবারের মতো বাড়ির মালিক হতে পেরেছে।

    তবে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া, বাজেট ঘাটতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের প্রভাব বেশি, সেখানে নির্বাচনের অন্যতম বড় ইস্যু হতে পারে নিরাপত্তা।

    এ ছাড়া দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ। ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যাংকারের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করার অভিযোগ তদন্ত হচ্ছে। অন্যদিকে লুলার এক ছেলের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তদন্তাধীন।

    নিজের বয়স নিয়েও সমালোচনার জবাব দিয়েছেন লুলা। তিনি বলেন, নিয়মিত হাঁটা ও শরীরচর্চার কারণে তিনি এখনো ‘দারুণ ফিট’ আছেন। এমনকি ২০০২ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সময়ের চেয়ে নিজেকে বেশি সুস্থ বলে দাবি করেন তিনি।

    বিশ্লেষকদের মতে, লুলা এবার অভিজ্ঞতাকে নিজের বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরবেন। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীরা জীবনযাত্রার ব্যয়, জননিরাপত্তা ও সরকারের বিতর্কিত বিষয়গুলোকে নির্বাচনের মূল ইস্যু করতে চাইবেন।

  • কঠিন পরীক্ষায় তরুণ নেতা ইব্রাহিম ত্রাওরে

    কঠিন পরীক্ষায় তরুণ নেতা ইব্রাহিম ত্রাওরে

    মাত্র ৩৮ বছর বয়সী সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে আফ্রিকার অন্যতম আলোচিত নেতা হয়ে উঠেছেন। ২০২২ সালের এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর সমর্থকদের কাছে তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

    তবে দেশের বাইরে তার জনপ্রিয়তা বাড়লেও নিজ দেশ বুরকিনা ফাসোয় তার শাসন নিয়ে প্রশ্নও বাড়ছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিধিনিষেধ, অব্যাহত নিরাপত্তা সংকট এবং জাতীয় পুনর্জাগরণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আনতে পারবে—এসব বিষয় এখন তার নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এপ্রিল মাসে ত্রাওরে বুরকিনা ফাসোর জনগণকে ‘গণতন্ত্র ভুলে যেতে’ বলেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, দেশ এখন গণতান্ত্রিক পর্যায়ে নয়, বরং একটি বিপ্লবী সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

    এই মন্তব্যের পর তার সরকার সামরিক নেতৃত্বাধীন রূপান্তরকাল আরো বাড়ায় এবং রাজনৈতিক দলগুলো বিলুপ্ত করে। এতে স্পষ্ট হয়, দ্রুত বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর তার সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার নয়।

    ত্রাওরের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এবং দেশের অভ্যন্তরের বাস্তব পরিস্থিতির এই পার্থক্যই এখন তার নেতৃত্বের অন্যতম বড় প্রশ্ন।

    কেন জনপ্রিয় ত্রাওরে?

    বুরকিনা ফাসোর বাইরেও ত্রাওরের জনপ্রিয়তা রয়েছে। আফ্রিকার অনেক দেশে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ, অর্থনৈতিক নির্ভরতা এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক অভিজাতদের বিরুদ্ধে যে অসন্তোষ রয়েছে, ত্রাওরে সেই অনুভূতিকে কাজে লাগিয়েছেন।

    ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর তিনি বুরকিনা ফাসো থেকে ফরাসি সেনা প্রত্যাহার করেন, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন এবং স্থানীয় শিল্প ও কৃষিকে গুরুত্ব দেন।

    তার সরকার অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে। সাহেল অঞ্চলের অন্যান্য সামরিক সরকারগুলোর মতো বুরকিনা ফাসোও পশ্চিমা নিরাপত্তা অংশীদারদের থেকে দূরে সরে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলছে।

    ত্রাওরের বক্তব্যে প্রায়ই উঠে আসে দেশটির সাবেক বিপ্লবী নেতা থমাস সাঙ্কারার উত্তরাধিকার। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বুরকিনা ফাসোর শাসক থাকা সাঙ্কারা আফ্রিকায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

    সমর্থকদের দাবি, ত্রাওরে দেশের জাতীয় গর্ব ফিরিয়ে এনেছেন এবং বাইরের শক্তির ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

    নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বেকন কনসালটিং লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা কবির আদামু আল–জাজিরাকে বলেন, ‘বুরকিনা ফাসোয় যা ঘটছে, তা হলো জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে কার্যকারিতার সম্পর্কের পরিবর্তন।’

    তার মতে, ত্রাওরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যকারিতার চেয়ে সার্বভৌমত্বের ধারণার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে পুনর্গঠন করেছেন।

    কী পরিবর্তন এনেছেন ত্রাওরে?

    ত্রাওরে তার সার্বভৌমত্বের বার্তাকে নীতিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার সরকার স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো, কৌশলগত খাতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি অংশীদারদের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

    সরকারের দাবি, কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে চাল ও ভুট্টার মতো খাদ্যশস্য উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত শিল্প বিকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া অবকাঠামো প্রকল্প এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে দেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    সরকার সমর্থকদের মতে, এসব উদ্যোগ অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ভিত্তি তৈরি করছে এবং দেশের সম্পদ দেশের উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করছে।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সরকার ‘ভলান্টিয়ার্স ফর দ্য ডিফেন্স অব দ্য হোমল্যান্ড’ কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করেছে। এটি একটি বেসামরিক বাহিনী, যা নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে সহায়তা করে।

    নিরাপত্তা পরিস্থিতি

    এটাই ত্রাওরের নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

    ক্ষমতায় আসার সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলা করবেন। কিন্তু বুরকিনা ফাসো এখনো সাহেল অঞ্চলের অন্যতম সহিংসতাপ্রবণ দেশ।

    আল-কায়েদা ও আইএসের সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বছরের পর বছর ধরে দেশটির বড় অংশে প্রভাব বিস্তার করেছে।

    ২০২২ সালের পর সেনাবাহিনী দেশজুড়ে অভিযান জোরদার করেছে এবং সরকার বিভিন্ন শহর ও কৌশলগত এলাকা পুনর্দখলের দাবি করেছে।

    তবে ঘানার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মুস্তাফা বাতুরে সাল্লামা আল–জাজিরাকে বলেন, ত্রাওরের প্রেসিডেন্সি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা উন্নত হয়েছে, তার ওপর।

    তিনি বলেন, বুরকিনা ফাসো এখনো আল-কায়েদার সাহেল শাখা জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) এবং আইএসের পশ্চিম আফ্রিকা শাখার হুমকির মুখে রয়েছে।

    সাল্লামার মতে, দেশটিতে লাখো মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে। ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি নিরাপত্তা দাবির স্বাধীন যাচাইও কঠিন হয়ে পড়েছে।

    সাংবাদিক, গবেষক ও মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকার সীমিত হওয়ায় পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র জানা আরো কঠিন হয়ে উঠেছে।

    রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    ত্রাওরের সরকার ধীরে ধীরে সামরিক রূপান্তরকাল থেকে ক্ষমতা আরো কেন্দ্রীভূত করার পথে এগোচ্ছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

    জানুয়ারিতে দেশটির কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো বিলুপ্ত করে এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করে। সরকারের যুক্তি ছিল, জাতীয় সংকটের সময়ে এসব কর্মকাণ্ড বিভাজন তৈরি করছে।

    এর আগে সামরিক রূপান্তরকাল বাড়ানো হয়, যা বেসামরিক শাসনে ফেরার প্রক্রিয়াকে আরো পিছিয়ে দেয়। ফলে ত্রাওরের সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ—একদিকে নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলা, অন্যদিকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য রাখা।

  • যুদ্ধ ছড়াতে চায় না ইরান: পেজেশকিয়ান

    যুদ্ধ ছড়াতে চায় না ইরান: পেজেশকিয়ান

    ইরান তার সীমান্ত রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে চলমান যুদ্ধ আরো বিস্তৃত করার কোনো ইচ্ছা দেশটির নেই বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    জাতীয় পরিবার চিকিৎসা ও রেফারেল ব্যবস্থা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পেজেশকিয়ান। এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানকে অভ্যন্তরীণ শক্তি ও জাতীয় ঐক্যের দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমাদের এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে, যেখানে শত্রু লোভ দেখানোর সুযোগ না পায়, অনুপ্রবেশ করতে না পারে এবং এই সামাজিক কাঠামোকে বিভক্ত বা ধ্বংস করতে না পারে।’

    পেজেশকিয়ান আরো বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনগণের ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ।

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তার এই মন্তব্য এলো। তেহরান এর আগে বারবার জানিয়েছে, তারা নিজেদের ভূখণ্ড ও স্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ নেবে। তবে আঞ্চলিক সংঘাত আরো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য তাদের নেই।

  • হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যে ভারতের সংশ্লিষ্টতা নেই: নয়াদিল্লি

    হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যে ভারতের সংশ্লিষ্টতা নেই: নয়াদিল্লি

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

    আগামী ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান জানতে নয়াদিল্লির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল বাংলাদেশ।

  • ৮ ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে মাত্রাতিরিক্ত মার্কারি, মারাত্মক ঝুঁকিতে কিডনি-স্নায়ুতন্ত্র ও অনাগত শিশু

    ৮ ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে মাত্রাতিরিক্ত মার্কারি, মারাত্মক ঝুঁকিতে কিডনি-স্নায়ুতন্ত্র ও অনাগত শিশু

    দেশের বাজারে অবৈধভাবে বিক্রি হওয়া একাধিক ত্বক ফর্সাকারী (ফেয়ারনেস) ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রার বিষাক্ত ধাতু মার্কারির উপস্থিতি পেয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটির পরীক্ষায় ৮টি ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে বাংলাদেশ মানদণ্ডে অনুমোদিত মাত্রার বহু গুণ বেশি মার্কারি শনাক্ত হয়েছে। এসব প্রসাধনী বিক্রি, বিতরণ, মজুদ ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএসটিআই।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, বাজার থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করে এসব উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ মান (বিডিএস-১৩৮২) অনুযায়ী প্রসাধনীতে মার্কারির সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১.০০ পিপিএম হলেও পরীক্ষায় কয়েকটি পণ্যে এর চেয়ে শতগুণেরও বেশি মার্কারি পাওয়া গেছে।

    বিএসটিআই জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজারে বিভিন্ন বিদেশি ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের বিক্রি বেড়েছে। এসব পণ্যের বড় একটি অংশ বৈধভাবে আমদানি না হয়ে যাত্রীদের লাগেজ কিংবা চোরাইপথে দেশে প্রবেশ করছে। ফলে এসব পণ্যের মান ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের সুযোগ থাকছে না। এ অবস্থায় বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা চালায় সংস্থাটি।

    পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, পাকিস্তানের এস.জে. এন্টারপ্রাইজের চাঁদনি হোয়াটেনিং ক্রিমে ১২০.৩৯ পিপিএম মার্কারি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ডিউ বিউটি ক্রিমে ১২৩.৩৭ পিপিএম, নুর এন্টারপ্রাইজের নুর হোয়াটেনিং ক্রিমে ৮২.৭৬ পিপিএম, লোয়া ইন্টারন্যাশনালের নাভিয়া হোয়াটেনিং ক্রিমে ৭৯.৭০ পিপিএম এবং নাভিয়া বিউটি ক্রিমে ৫৯.৮২ পিপিএম মার্কারি শনাক্ত হয়েছে।

    এ ছাড়া পাকিস্তানের কিউসিআই কোম্পানির নিউ ফেস বিউটি ক্রিমে ৪৪.৭২ পিপিএম, গৌরি কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গৌরি বিউটি ক্রিমে ৫৬.৯৩ পিপিএম এবং চীনের জিএলডিজেবি (হারবিন) কসমেটিকস কোম্পানির ন্যাচারাল পার্ল স্কিন ক্রিমে ৬৭.৪৯ পিপিএম মার্কারি পাওয়া গেছে।

    বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, ‘‘জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনও ধরনের আপসের সুযোগ নেই। ভোক্তার জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাই বিএসটিআইয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি কিংবা বাজারজাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

    তিনি জানান, বাজারে নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করতে বিএসটিআই নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ, বাজার তদারকি, সার্ভিল্যান্স এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

    একই সঙ্গে ভোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘অজ্ঞাত উৎস বা অনুমোদনহীন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম কেনা ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রসাধনী কেনার আগে অবশ্যই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও পণ্যের বৈধতা যাচাই করতে হবে। কোনও সন্দেহজনক পণ্য সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা বিএসটিআইকে জানানোরও আহ্বান জানান তিনি।

    কেনবিপজ্জনকমার্কারি?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কারি একটি অত্যন্ত বিষাক্ত ভারী ধাতু। দীর্ঘদিন মার্কারিযুক্ত স্কিন ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে ত্বক অস্বাভাবিকভাবে পাতলা হয়ে যায়, স্থায়ী দাগ, অ্যালার্জি ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।

    শুধু ত্বকই নয়, শরীরে ধীরে ধীরে জমতে থাকা মার্কারি কিডনির মারাত্মক ক্ষতি, স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা এবং স্মৃতিশক্তি ও শারীরিক সক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই বিষাক্ত উপাদান অনাগত শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত করার ঝুঁকি তৈরি করে।

    এ কারণে বিএসটিআই সংশ্লিষ্ট ৮টি ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিম ব্যবহার না করার পাশাপাশি অবৈধভাবে আমদানি হওয়া প্রসাধনী কেনা থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

  • প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

    প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

    বাংলাদেশের খাদ্যতালিকায় ডিম অন্যতম জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর খাবার। সহজলভ্য, তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং রান্না সহজ হওয়ায় অনেকেরই প্রতিদিনের খাবারে থাকে ডিম। তবে নিয়মিত ডিম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে কি না—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে।

    হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জানিয়েছেন, টানা দুই সপ্তাহ প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কয়েকটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

    তিনি বলেন, ডিম উচ্চমানের ‘সম্পূর্ণ প্রোটিন’-এর অন্যতম উৎস। একটি ডিমে প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন, খনিজ, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে। তাঁর মতে, একটি ডিমের কুসুমে প্রায় ২ দশমিক ৫ গ্রাম এবং সাদা অংশে প্রায় ৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে।

    চোখের সুরক্ষায় সহায়ক

    ডা. শেঠির মতে, ডিমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এসব উপাদান বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং ছানিপড়া (ক্যাটারাক্ট) হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    মস্তিষ্ক ও লিভারের জন্য উপকারী

    ডিমে থাকা কোলিন স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    কোলেস্টেরল নিয়ে প্রচলিত ধারণা

    ডিম নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ধারণা হলো এটি কোলেস্টেরল বাড়ায়। তবে ডা. শেঠির দাবি, অধিকাংশ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ডিম শরীরের উপকারী বা এইচডিএল (ভালো) কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এ ছাড়া সকালের নাশতায় ডিম খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে যাদের হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ডিম খাওয়া উচিত।

    যারা ডিম খান না, তাদের জন্য টোফু ভালো বিকল্প হতে পারে। এতে উচ্চমানের উদ্ভিজ্জ প্রোটিন রয়েছে, যা শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।

  • ছাত্রদলের হামলায় আহত শিবির নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক

    ছাত্রদলের হামলায় আহত শিবির নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক

    ঢাকা কলেজ ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকের ওপর হামলা করেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে দুপুর দেড়টায় ক্যাম্পাসে মিছিল করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

    ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহম্মদ মামুন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কলেজের গ্যালারি-২তে শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়েছিল। অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক ভাইয়ের নেতৃত্বে ৫/৬ গ্যালারি ডেকেরেশনের কাজ করছিল। এমন সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে অতর্কিত আব্দুল মালেক ভাইসহ অন্যান্যদের মারধর করে।

    তিনি আরও বলেন, আব্দুল মালেক ভাইয়ের মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করেছে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা। তাকে চিকিৎসার জন্য পপুলার মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। ভাইয়ের চিকিৎসা চলছে।

    ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ‘সকাল থেকে ক্যাম্পাসে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা চলছিল আর ছাত্রদলের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বড় ধরনের সংঘর্ষের কোনো ঘটনার খবর এ পর্যন্ত আমার কাছে জানা নেই। তবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।’

  • টানা পঞ্চমবার পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

    টানা পঞ্চমবার পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

    বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। ডব্লিউটিওর ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৫ অনুযায়ী, বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানি কিছুটা কমলেও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে চীন। তালিকায় তৃতীয় স্থানে ভিয়েতনাম, চতুর্থ স্থানে ভারত এবং পঞ্চম স্থানে তুরস্ক রয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশ ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের তুলনায় এ রপ্তানি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বেশি।

    ২০২০ সালে অতিমারি করোনাকালে বাংলাদেশকে টপকে দ্বিতীয় স্থানটি দখল করে নিয়েছিল ভিয়েতনাম। পরের বছর ২০২১ সালে ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলে হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার করে বাংলাদেশ। তৃতীয় অবস্থানে চলে যায় ভিয়েতনাম। ২০২৪ সালেও পোশাক রপ্তানিতে তৃতীয় ছিল ভিয়েতনাম। ২০২৫ সালেও একই অবস্থানে রইল দেশটি। পোশাক রপ্তানিতে বরাবরের মতো এবারও প্রথম স্থানে আছে চীন।

    আগের বছরের হিস্যা ছিল ৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশে নেমেছে। এ নিয়ে টানা দুই বছর বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের হিস্যা কমল। ২০২৩ সালে হিস্যা ছিল ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ২০২২ সালে ছিল ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

    বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনামের হিস্যা গত বছর আরও বেড়েছে। ডব্লিউটিওর তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, গত বছর ভিয়েতনামের হিস্যা দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে ছিল ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত তিন বছরের মধ্যে ২০২৩ সালে দেশটির হিস্যা ছিল ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে তিন বছর ধরে ভিয়েতনামের হিস্যা বাড়ছে। বিপরীতে হিস্যা কমছে বাংলাদেশের।

  • মান খারাপ হওয়ায় ভারতের ১১,৫০০ টন চাল ফেরত পাঠাল বাংলাদেশ

    মান খারাপ হওয়ায় ভারতের ১১,৫০০ টন চাল ফেরত পাঠাল বাংলাদেশ

    ভারত থেকে আসা ১১ হাজার ৫০০ টন সেদ্ধ চালের একটি চালান বাংলাদেশ গ্রহণ করেনি। বিষয়টি নিয়ে ভারতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই চালান প্রত্যাখ্যানের পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন ভারতের সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য মহলের অনেকে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বিজনেসলাইনের খবরে বলা হয়, চালানটি গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। এরপর চালের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে ২২ জুলাই চালানটির যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা পরীক্ষার পর মানবদেহের জন্য নিরাপদ বা ‘মানুষের খাওয়ার উপযোগী’ বলে সনদ দেওয়া হয়। চালটি ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত সরকার টু সরকার চুক্তির আওতায় আনা।চাল খাওয়ার উপযোগী বলে সনদ পাওয়ার পর জাহাজটিকে চাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়। ২৩ ও ২৪ জুলাই চালের একটি অংশ খালাস করা হয়। খালাস করা চালের কিছু অংশ ঢাকার তেজগাঁও, হালিশহর ও দেওয়ানহাটের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারে (সিএসডি) পাঠানো হয়। এর পাশাপাশি কিছু চাল জয়দেবপুরের স্থানীয় সংরক্ষণাগারেও পাঠানো হয়।

    এরপর, গত ২৫ জুলাই তেজগাঁও ও হালিশহরের কর্মকর্তারা জানান, ‘চালের মান ভালো নয় এবং এটি মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়।’ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়।

    ভারতীয় চাল নিয়ে বাংলাদেশ হঠাৎ করে কেন সমস্যায় পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। এক ভারতীয় ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর বাংলাদেশে চাল সরবরাহ করে আসছি। গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ যখন পাকিস্তান থেকে চাল কিনতে গিয়েছিল এবং সেটি ব্যয়বহুল বলে মনে হয়েছিল, তখন তারা আবার আমাদের কাছেই ফিরে আসে। এখন তারা খেলায় নেমেছে।’

    আরেক ব্যবসায়ী বলেন, এ ধরনের ‘রাজনৈতিক খেলা’ আরও কিছুদিন চলতে পারে। তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখন যখন একটি এল নিনো বছর চলছে এবং এর স্থায়িত্ব আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে, তখন এ ধরনের রাজনীতির জন্য বাংলাদেশকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে।’ বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে চাননি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমভি এইচটি পাইওনিয়ার নামের জাহাজটি থেকে মাত্র ৩ হাজার ৫০০ টন চাল খালাস করা হয়েছে। বাকি চাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রথম ভারতীয় ব্যবসায়ী বলেন, ‘পুরো চালানটিই এখন ভারতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।’ তবে তিনি মনে করেন, এই একটি চালান প্রত্যাখ্যানের কারণে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।

    এদিকে, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এই সরকার টু-সরকার চাল আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এক ভারতীয় রপ্তানিকারক একটি বহুজাতিক কোম্পানির মজুত থেকে চাল সংগ্রহ করেছিলেন। তৃতীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে খাদ্য অধিদপ্তরের ভেতরে থাকা কিছু সংস্থাকে ঘিরে, যারা শেখ হাসিনা সরকারের আমলে একচেটিয়া বা একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল।

    তাঁর দাবি, ওই প্রতিষ্ঠানের বিরোধীরা এখন একজোট হয়ে তাদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আর এর পরোক্ষ শিকার হয়েছে ভারতীয় চালের এই চালান।প্রসঙ্গত, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ১৩ লাখ ৬০ হাজার টন বাসমতী নয়, এমন জাতের চাল রপ্তানি করেছে। এর বেশির ভাগই ছিল সেদ্ধ চাল। এসব চালের মোট রপ্তানি মূল্য ছিল ৫৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ৮ লাখ ৯ হাজার টন নন-বাসমতী চাল রপ্তানি করেছিল, যার মূল্য ছিল ৩৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ভারত ১ লাখ ৬০ হাজার টন চাল রপ্তানি করেছে। এর মোট মূল্য ছিল ৮ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

  • পর্ষদবিহীন ইসলামী ব্যাংকে সিদ্ধান্তে ধীরগতি

    পর্ষদবিহীন ইসলামী ব্যাংকে সিদ্ধান্তে ধীরগতি

    বিতর্কের মুখে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর বর্তমানে ব্যাংকটির পর্ষদের দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন। তবে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান ও নিয়মিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) না থাকায় বড় ধরনের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন করপোরেট গ্রাহকেরা। এর প্রভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানের আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা, ঋণ নবায়ন এবং চলতি মূলধনের (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) অনুমোদন বিলম্বিত হচ্ছে। যদিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, সংকট কাটিয়ে উঠতে সতর্কতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠিত হলে কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এখনো কয়েকশ পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এলসি খোলা এবং চলতি মূলধনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়ন পাচ্ছে না। কেউ কেউ এলসি খুলতে গিয়ে বিলম্বের মুখে পড়ছেন। এতে ব্যাংকটির দীর্ঘদিনের ভালো গ্রাহকদের একটি অংশও ব্যবসায়িক ঝুঁকিতে পড়েছেন।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বড় শিল্প উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমার চারটি গার্মেন্টস কারখানার বেতন-ভাতা পরিশোধ ও এলসি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে চার হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে যেসব কর্মকর্তা আমার ফাইল দেখতেন, তারাও নিজেদের অসহায় বলে জানাচ্ছেন।’

    তিনি বলেন, ‘এমনিতেই গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর ব্যাংকের সহযোগিতা না পাওয়ায় চাপ আরো বেড়েছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে যাবে। বেতন না পেলে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে পারেন, যা সরকারের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।’

    ব্যাংকটির একাধিক বড় করপোরেট গ্রাহক জানান, বড় অঙ্কের ঋণ, এলসি অনুমোদন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্তের জন্য কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ নির্বাহীর প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে এসব পদে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব না থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে রপ্তানিমুখী ও শিল্প খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা পরিচালনায় সমস্যায় পড়ছে। আবার পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ ও নিয়মিত এমডি না থাকায় অনেক উদ্যোক্তাও বড় ধরনের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় রয়েছেন।

    ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকের পরিস্থিতি এখন আগের তুলনায় অনেক ভালো। আমানত (ডিপোজিট) আবার ফিরতে শুরু করেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য (ক্যাশ লিকুইডিটি) সহায়তা নিতে হচ্ছে না।’

    করপোরেট গ্রাহকদের এলসি ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে জটিলতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব কথা ঠিক নয়। প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে। বড় যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলোও আমরা সমাধান করছি। তবে অতিরিক্ত চাহিদা বা সুদ মওকুফের মতো সিদ্ধান্ত এখন নেওয়া সম্ভব নয়। যৌক্তিক যেসব আবেদন আসছে, সেগুলো অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। অযৌক্তিক কোনো দাবি পূরণ করা হবে না। আমার বোর্ডে অযৌক্তিক কিছু হবে না।’

    ইসলামী ব্যাংকের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকের তারল্য সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। পরিচালনা পর্ষদ পূর্ণাঙ্গ না থাকলেও নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সব সিদ্ধান্ত এক সদস্যবিশিষ্ট বোর্ডই অনুমোদন দিচ্ছে। এ জন্য তাকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি নিয়মিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’

    তিনি বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ না থাকায় বাইরে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক। কারণ সাধারণভাবে বোর্ড বলতে একাধিক সদস্যকে বোঝানো হয়। ফলে একজন সদস্য দায়িত্ব পালন করায় কিছু গ্রাহক ও ব্যবসায়িক অংশীদার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দ্বিধায় পড়তে পারেন।’

    ব্যাংকটির একটি শাখার প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে তারল্য সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে, তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। ওই টাকা দিয়ে নতুন বিনিয়োগ বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেওয়া যায় না। ফলে ইচ্ছা করলেই এ অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত মেনেই এ অর্থ ব্যবহার করতে হচ্ছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এগোতে হচ্ছে। একসঙ্গে কয়েকজনকে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে দিলে হাতে থাকা তারল্য দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। এরপর যদি কাউন্টারে হঠাৎ গ্রাহকদের চাপ বেড়ে যায়, তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।’

    অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় শীর্ষ নেতৃত্বের শূন্যতা থাকলে একটি ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে করপোরেট গ্রাহকরা দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সেবা প্রত্যাশা করেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা থাকলে তারা বিকল্প ব্যাংকের দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসার জন্য দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরী বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে এখনো নিয়মিত বোর্ড ও এমডি নিয়োগ হয়নি। ব্যাংকের স্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং একজন নিয়মিত ও দক্ষ এমডি নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। এতে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের আস্থা আরো শক্তিশালী হবে এবং ব্যাংকের কার্যক্রমও স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে। দীর্ঘ সময় পূর্ণাঙ্গ বোর্ড ও নিয়মিত এমডি না থাকলে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

    নতুন পর্ষদ গঠন কতদূর

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত এলেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ ঘোষণা করা হবে।’

    কেন সংকট

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে নামে-বেনামে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব অনিয়মের তথ্য প্রকাশের পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ থেকে ব্যাংকটিকে মুক্ত করা হয়। এরপর নানা সংকটের মধ্যেও ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

    তবে গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম. জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তাকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হলে তার অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে একদল গ্রাহক আন্দোলন শুরু করেন। জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল আলোচনা হয়। পাশাপাশি রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে টানা বিক্ষোভ চলতে থাকে। এর প্রভাবে ব্যাংকটিতে আমানত উত্তোলনের চাপ বেড়ে যায় এবং তারল্য সংকট তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তারল্য সহায়তা দেয়। পরে পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালককে পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।